প্রাচীনকালে যখন এক দেশের রাজা অন্য রাজ্যের সাথে সন্ধিতে আবদ্ধ হতে চাইতেন তখন ভোজসভায় আহবান করাই ছিল পন্থা।অর্থাৎ ভোজনরস মন জয় করার সর্বোত্তম উপায়।বাস্তবিকই খাবারের স্বাদের কাছে পৃথিবী অসহায়।আর যখন এই খাবার বানানোর কৌশল শিল্পে রূপ নেয় তখন তার চেয়ে মোক্ষম অস্ত্র আর কি হতে পারে!!
তাই বছর ২০১৫ কে নিজের করে নিতেই বোধহয় J.C. Staff বেছে নিল ইয়ুতো সুকুদা’র মাঙ্গা শোকুগেকি নো সোমা’কে।আর তাদের হাত ধরেই এল বছরের কমবেশি সবার দেখা,সবারই ভালো লাগা আর ক্ষুধা উদ্রেক এক এনিমে সিরিজ “Shokugeki no Souma:Food Wars”
২৪ এপিসোডের এই এনিমেটির এয়ারিং শেষ হয় ’১৫ এর সেপ্টেম্ব্রে।বের হওয়ার পর পরই বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়।যদিও এচ্চি হেটাররা এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি,কিন্ত পরবর্তীতে তারাও স্বীকার করেছেন “এনিমেটা মন্দ নয়”
গল্প শুরু এক বরাবরই এক ছেলে যে সেই ছোট্টবেলা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত রান্নার মাধ্যমে তার ফ্যামিলি রেস্টুরেন্টের ক্রেতাদের খুশি করাকেই জীবনের মূলমন্ত্র বলে শেখে।আর বাবার কাছে রান্না শেখা,কিন্তু বাবার সাথে প্রতি সপ্তাহে রান্নার লড়াই করত সে,যদিও একবারও বাবাকে হারানো হয়নি তার।
এই ছেলের নাম ইউকিহিরা সোউমা।বাবা ইউকিহিরা জোউইচিরো।শহরতলীর একপ্রান্তে থাকা তাদের ফ্যামিলি রেস্তোরাঁ ইউকিহিরা থেকে বাবার সাহচর্যে(চাপে বলাই ভাল) পাড়ি জমায় সোউমা ততসুকি কালিনারি একডেমিতে,যা কিনা জাপানের সবচেয়ে বিখ্যাত রন্ধন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এই একাডেমি কে ঘিরেই গল্প অন্য দিকে মোড় নেয়,একডেমিতে প্রবেশের পরপরই আলোড়ন সৃষ্টি করে সে।তবে বাধা-বিপত্তিও কম ছিল না এই পথে।আর এভেবেই শুরু হয় সোউমার ততসুকিতে টিকে থাকার যাত্রা……
রান্না নিয়ে এনিমে – খাবারের লোভনীয় উপস্থিতির মধ্যেই কেবল সীমাবদ্ধ নয়,প্রতিটি ডিশের প্রণালী ও এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োগও দেখানো হয়েছে এতে।আর “Shokugeki” বা রান্নার প্রতিযোগিতাই পুরো এনিমের উল্লেখযোগ্য হাইপ হওয়ার মত অংশ।রান্নায় বিশ্বভ্রমণের দেখাও মেলে এতে, শুধু জাপানি নয় আমেরিকান হার্ডকোর বিফ কুকিং,ইটালিয়ান পরিছন্ন রেসিপি,ফ্রেঞ্চ কুইসিনের জাদুকরি ছোঁয়া এমনকি ভারতবর্ষের মসলা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর উপস্থাপনা এক কথায় অতুলনীয়………
চরিত্রের বাহারি সমাহারও আছে।নাকিরি এরিনা(যার নাম অনেক এনিমেখোরের ক্রাশলিস্টে উঠে আছে),তাদোকোরো মেগুমি(২০১৫ এর সেরা ওয়াইফু),নাকিরি এলিস,আরাতো হিসাকো(২য় ওয়াইফু)ইত্যাদি……
আর ইউকিহিওরা সোউমা ছাড়াও ইশিকি সাতোশি(দ্যা Cool Dude অফ ২০১৫),আলদিনি ব্রাদার্স,দোউজিমা গিন এর মত কিছু হেভিওয়েট চরিত্র দেখা গেছে।
আর আর্ট ও এনিমেশন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।এনিমেশন ও আর্টের ব্যাপারে পুরো সিরিজে ব্রিলিয়ান্সি ও Consistency থাকায় সিরিজটিকে প্লাস পয়েন্ট দিতেই হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল খাবারগুলো এমন সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে দেখে সত্যিকারের খাবার মনে হয়েছে।তবে একটা জিনিসই Awkward লেগেছে আর তা হল ক্যারেক্টারগুলোর শরীরে রেড স্পট।
আর এনিমেটি খুবই খুবই এন্টারটেইনিং,আর চরিত্রগুলোর Interaction এত ভালোভাবে স্টোরিলাইনের সাথে খাপ খেয়েছে যে যতক্ষণ এনিমেটি দেখবেন বোর হবেন না অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায়……
এচ্চি নিয়ে অনেকেই এনিমেটাকে কিছু মাইনাস পয়েন্ট দিয়েছেন আবার অনেকে বলছেন “এচ্চির জন্যই বেশি ভালো লেগেছে”।যাই হোক আমি মধ্যমপন্থীর মত দিয়েই বলি—“শুরুতে এচ্চি বেশি থাকলেও গল্প যতই এগিয়েছে এচ্চি গল্পের সাথে একাকার হয়ে গেছে”
আর ওপেনিং এর সময় জানিনা কয়জন খেয়াল করেছেন রাইস প্লেটের কারি’র ডিজাইন প্রায় প্রতি এপিসোড অন্তরই চেঞ্জ হয়ে যায়,আর এ কারণেই আমি আর আমার ছোট বোন একবারও ওপেনিং স্কিপ মারতাম না,এনিমের চেয়েও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত আজ প্লেটে কি ডিশ দেখায় সেটা।১ম ওপেনিং টা এক নজরে দেখে ফেলুন—
https://www.youtube.com/watch?v=rCvvjpzQkyY
ব্যাকগ্রাঊন্ড মিউজিক খুবই ভাল, বিশেষ করে শোকুগেকি চলার সময় ওস্তাদের শেষ মার(অর্থাৎ লড়াই এর উইনিং মুভ) এর সময় যে মিউজিক টা দেয় তা এখনো কানে বাজে।
MAL রেটিং – ৮.৬৭
ব্যক্তিগত রেটিং – ৯.২
যদি এখনো দেখে না থাকেন তবে এখনই দেখে ফেলুন বছরের অন্যতম সেরা এনিমে Shokugeki no Souma

