Studio Monogatari: Episode 01

প্রথম পর্বেই থাকছে এমন একটি স্টুডিওর কথা যেটি বর্তমান যুগের আনিমের পথ মসৃণ করে তুলবার পিছনে রেখেছে যুগান্তকারী অবদান। আজকের স্টুডিও হল-

Mushi Production (or Mushi Pro)
1. mushi

 

আনিমে জগতে মুশি প্রোডাকশনের অবদান অনস্বীকার্য। স্টুডিওর শুরুটি হয় আনিমে/মাঙ্গার গডফাদার ওসামু তেজুকার হাত ধরে, যখন ১৯৬১ সালে চুক্তি শেষ হয়ে যাবার কারণে তিনি তোয়েই অ্যানিমেশন ছেড়ে চলে আসেন এবং নিজের মত করে তৈরি করেন এই মুশি প্রোডাকশন। আর হ্যাঁ, এই তোয়েই অ্যানিমেশন সেই স্টুডিও যেটি বিশাল পর্বের অনেক জনপ্রিয় কিছু আনিমে এখনও আমাদের উপহার দিয়ে আসছে। তবে এর গল্প আরেকদিন হবে। তোয়েই অ্যানিমেশনের সাথে পাল্লা দেবার জন্যে প্রতিপক্ষ স্টুডিও হিসেবেই গড়ে উঠে মুশি প্রোডাকশন, এবং এরপর স্টুডিওটি এমন কিছু জিনিস উপহার দেয় আমাদের যা পুরা আনিমের ধারণাকেই পালটে ফেলে!

2. Osamu Tezuka[ওসামু তেজুকা]

আসুন এক নজরে দেখে ফেলি আনিমে জগতকে কিছু “প্রথম” উপহার দেওয়া তাদের কাজগুলি-

  • Astro Boy (1963-1966): বর্তমান যুগের আনিমে বলতে আমরা যা বুঝে থাকি তারই শুরুটা হয় এই সিরিজ দিয়ে। বিশাল বিশাল চোখ ও চোখা চোখা গুচ্ছ চুলের স্টাইলের আনিমে ক্যারেক্টার দেখা যায় এতে, যা কিনা এখনও আনিমে চরিত্রদের আঁকার ধরণের একটা কমন স্টাইল হয়ে আছে। মুশি প্রোডাকশনের আরও কয়েকটি সিরিজের সাথে এটিও প্রথমবারের মত অ্যামেরিকান দর্শকদেরকে আনিমে জিনিসটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
  • Kimba the White Lion [Jungle Taitei] (1965-1966): জাপানের টিভিতে দেখানো প্রথম রঙিন আনিমে সিরিজ। শুধু তাই নয়, এই সিরিজ থেকে অনেক কিছু “inspiration” নিয়ে ভবিষ্যতে তৈরি হয় ডিজনির বিখ্যাত Lion King মুভিটি। দেখার মত এসব inspiration-এর কিছু অংশ-
    3. Kimba - Simba
  • Princess Knight [Ribbon no Kishi] (1967-1968): ম্যাজিকাল গার্ল বা মাহৌ শৌজো আনিমের প্রোটোটাইপ সিরিজ, অর্থাৎ এক কথায় এটি প্রথম ম্যাজিকাল গার্ল আনিমে।
  • 1001 Nights (1969) ও Cleopatra [Cleopatra: Queen of Sex] (1970): নাম দেখেই হয়তো আন্দাজ করতে পারছেন কিছুটা। এগুলি ছিল একদম প্রথম দিকের X-rated animated film [শুধু আনিমে নয় কিন্তু!]। অবশ্য তখনকার যুগে হেন্তাই হবার যা “যোগ্যতা” ছিল তা এখনকার যুগের স্বাভাবিক এচ্চি সিরিজের থেকেও অনেক কম। তাই এখনকার হিসাবে এগুলিকে হয়তো এচ্চি আনিমে বলে ধরে নেওয়া যায়।
  • Belladona of Sadness [Kanashimi no Belladonna] (1973): এই মুভিটিকে প্রথম avant-garde আনিমে হিসাবে ধরে নেওয়া যায়। ধরে নেওয়া যায় – এই কথা বলার কারণ সেই সময়ে স্বাভাবিক আনিমে টিভিতে নিয়ে আসাই বিশাল বড় যুদ্ধ ছিল, সেখানে একটা uncommercial কাজ নিয়ে এসে অনেক বড় সাহসের পরিচয় ছিল। এরকম সাহস দেখানো কাজ তখনও কোন স্টুডিও করে উঠে নাই। বাণিজ্যিকভাবে চরম ব্যর্থ হয় এটি, আর এই মুভির ব্যার্থতা মুশি প্রোডাকশনের বন্ধ হবার অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটিও মুশি প্রোডাকশনের আরেকটি X-rated আনিমে।

স্টুডিওটি নিয়ে কয়েকটি তথ্য-

  • পোকা সংগ্রহের প্রতি ছোটকাল থেকেই মারাত্মক ঝোঁক ছিল ওসামু তেজুকার, আর এর প্রভাগ তার কাজকর্মেও দেখা যেত। ওসামুশি [গ্রাউন্ড বিটল] এর নামের সাথে তার নামের মিল – এই ব্যাপারটা তার এত মনে ধরে যে নিজের ছদ্মনাম হিসেবেই ওসামুশি শব্দটি বেছে নেন তিনি। মুশি প্রোডাকশনের নামকরণের কারণটাও কিছুটা আন্দাজ করা যায় এ থেকে।
  • ওসামু তেজুকার বিপক্ষে একটা বড় অভিযোগ রয়েছে যে তিনি অকল্পনীয় রকমের অল্প বাজেট নির্ধারণ করতেন আনিমে নির্মাণের ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র আনিমে তৈরির কম্পিটিশনে প্রতিদন্দ্বীদের পরাস্ত করা যায় যেন। আর তার এই অল্প বাজেট নির্ধারণের ব্যাপারটিই মডেল হিসাবে নিয়ে নিয়েছে ভবিষ্যতের আনিমে স্টুডিওগুলি। আনিমে তৈরির পিছনের মানুষদের ধুঁকে ধুঁকে এগিয়ে যাবার পিছনে এটিকে অনেক বড় কারণ হিসাবে দেখা হয়। 
  • মুশি প্রোডাকশন ছেড়ে দেবার পর কয়েকজন প্রাক্তন স্টাফ এরপরে নির্মাণ করেন কয়েকটি বিখ্যাত আনিমে স্টুডিও। এগুলি হল Madhouse [ওসামু দেজাকি, মাসাও মারুইয়ামা, ইয়োশিয়াকি কাওয়াজিরি, রিন্তারো], Kyoto Animation [হিদেয়াকি হাত্তা, ইয়োক হাত্তা] এবং Tezuka Productions [ওসামু তেজুকা]।
  • প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবার জন্যে অল্প বাজেটে আনিমে তৈরি, আনিমের ইন্ডাস্ট্রি ঠিকমত উঠে না দাঁড়ানো অবস্থায় একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট হাতে নেওয়া এবং এসব প্রজেক্টের চরম ব্যার্থতা – এসব কিছুই কাল হয়ে দাঁড়ায় মুশি প্রোডাকশনের জন্যে। ১৯৬৮ সালে মুশি প্রোডাকশন ছেড়ে চলে যান ওসামু তেজুকা এবং তৈর করেন তেজুকা প্রোডাকশন। অবশেষে ১৯৭৩ সালে দেউলিয়া ঘোষিত হয়ে বন্ধ হয়ে যায় এই স্টুডিও। অবশ্য এরপর ১৯৭৭ সালে আবার নতুন করে মুশি প্রোডাকশন চালু হয় এবং আজ অবধি তা কাজ করে আসছে, কিন্তু ততদিনে সোনালী দিন অনেক পিছে ফেলে এসেছে মুশি প্রোডাকশন।

মুশি প্রোডাকশনেই কর্মজীবনের শুরু হয় ৭০-এর দশকে আনিমের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া নামকরা কয়েকজন আনিমে নির্মাতাদের। বেশ কিছু আইকনিক আনিমে নির্মাণ করেন এদের অনেকেই-

  • 4. Yoshiyuki TominoYoshiyuki Tomino: বিখ্যাত আনিমে ফ্র্যাঞ্চাইজ Gundam-এর জনক, অবশ্য সেই কাজ তিনি শুরু করেন স্টুডিও সানরাইজে গিয়ে। তার কাজের একটি বড় অংশের মধ্যে “Everybody Dies” এই আইডিয়াটার বাস্তবায়ন দেখা যায়।

 

 

 

 

 

  • 5. Osamu DezakiOsamu Dezaki: বক্সিং আনিমের মধ্যে কাল্ট ক্লাসিক সিরিজ Ashita no Joe এর ডিরেক্টর তিনি, সিরিজটি মুশি প্রোডাকশন থেকেই তৈরি হয়। এছাড়াও আরেকটি বিখ্যাত সিরিজ The Rose of Versailles এর একটি বড় অংশের ডিরেক্টর তিনি। নিজস্ব ধরনের অ্যানিমেশন স্টাইল ও আর্টস্টাইলের জন্যে তিনি বিখ্যাত- split screen, stark lighting, pastel-chalked freeze frame ইত্যাদি। তার অনেক ট্রেডমার্ক অ্যানিমেশন স্টাইল এরপর অনেক নামকরা অ্যানিমেটররা ব্যবহার করেছেন।

 

 

  • 6. RintaroRintaro: সাই-ফাই জনরার ভক্ত নামকরা ডিরেক্টর রিন্তারোর বিখ্যাত কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে Metropolis, Galaxy Express 999, The Dagger of Kamui ইত্যাদি।

 

 

 

 

 

মুশি প্রোডাকশনের কিছু জনপ্রিয় আনিমে-

7. Mushi-Pro anime

যদিও এখনকার মুশি প্রোডাকশন বিভিন্ন আনিমে তৈরিতে সহায়তা করে থাকে (প্রোডাকশন কাজ, অ্যানিমেশন কাজে সহায়তা, ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট, ফটোগ্রাফি ইত্যাদি) তারপরেও নিজস্ব কাজ হিসাবে তেমন কিছুই করে না তারা। ১৯৭৩ সালেই আসলে সত্যিকার মুশি প্রোডাকশন শেষ হয়ে যায়, এখন যা আছে তা খোলসমাত্র।

Comments