শুরুর কথা……..
আমি কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন দোচালাতে ভুগছি ।প্রথমে ভাবলাম একটা সেগমেন্ট নামাই,ফ্রেঞ্চ নিউওয়েভের বিভিন্ন টেকনিকের সঙ্গে আনিমের মিল সম্পকে ।কিছু গদার ,ত্রুফো,শাব্রল,রিভেট, রোমার আচ্ছাশে রিওয়াচও দিলাম ।তারপর একটা ভোরে লিখতে আরম্ভ করলাম সেগমেন্টের প্রথম পর্ব, কিছুটা লেখার পরই বুঝলাম সিনেমা দেখা আর সিনেমা বোঝার মধ্যে কী দুঃসহ পার্থক্য ! তো,তখনকার মতো লেখা শেষ ।
এরপর বিকেলে একটা পুরোনো সেগমেন্টের পরিকল্পনা করতে করতে চা নিয়ে বসলাম ,মাসখানেক আগে দেখা নব্বই দশকের ওএভিগুলোর কথা মনে পড়ছে,নব্বই দশক যেহেতু বেশ ভালোই লাগে ( নষ্টালজিক টাইপের আরকি) ,তখনই ভিডিও গান আই এর কথা মনে পড়ল ।(খুব তারাতারিই নব্বই দশকের ওএভি নিয়ে একটা সেগমেন্ট নামাবো )।এই ভিডিও গার্ল আই নিয়েই আজকে আমার আলোচনা ।

প্রথমে ,আপনি গান কেন শোনেন ? কিছু সুন্দর শব্দ এবং কিছু ভাষার অর্থ আপনার কর্ণকুহর হয়ে মস্তিকে প্রবেশ করে আপনাকে আবেশ করে রাখে(আর আমার মতে আবেশ করে রাখাই যেকোনো আর্টের মূল বৈশিষ্ট্য ),সেখানে গানের লেখক এবং গায়ক- গায়িকার উভয় সমান অবদান থাকে ।কিন্তু ইংরেজি ছাড়া বিদেশি গানের ক্ষেত্রে জিনিসটা আলাদা হয় ।যারা নিয়মিত জে পপ,কে পপ বা স্প্যানিশ পপ গান নিয়মিত শোনেন তারা বিষয়টি আরো ভালো বুঝবে ।প্রথমে গানের সুরে আবেশ থাকা ,তারপর লিরিকের অর্থ উদ্ধার করে আর একবার গানের গভীরে প্রবেশ করা ।গান আপনাকে নষ্টালজিক করে দিতে পারে ,বিশেষ করে পুরোন দিনে যে গানটা আপনার শুনে প্রচণ্ড পছন্দ হয়েছিলো ,বহুবছর পরে আবার শুনলেন ,নতুন করে আবিষ্কার করলেন ।যেমন কদিন আগে একটা সূত্রে পেয়ে গেলাম 2002 এর “লেস কেচাপের” বিখ্যাত স্প্যানিশ পপ দ্যা কেচাপ সং।শূন্য দশকের প্রথম দিকে বিখ্যাত হওয়া এই গানটা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম ।আবিষ্কার করলাম নতুন ভাবে ।
কিন্তু কিছু গান হয়ত কোন দিনও শোনেননি , কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ড এনিমেশনের আর সুরের জন্য নব্বই দশকের প্রতি নষ্টালজিক করে তুললো ।সেই গ্রানজ পোষাক,এমটিভি,মম জিনস,জ্যিন সুট আর নীল -কমলার এক আশ্চর্য দুনিয়া।ভিডিও গার্ল আই তে এইরকমই কিছু গানের সন্ধান পেয়ে এই সিরিজটার প্রতি আমার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিলো ।
গল্পের আরম্ভ…..
আমাদের গল্পের “বেচারা” নায়ক ইয়োটা প্রচণ্ড ভালোবাসে তারই স্কুলমেট মোয়েমি কে , কিন্তু মোয়েমির নজর অন্যদিকে ,তাকাশি,স্কুলের “টল , ডার্ক,হ্যান্ডস্যাম পপুলার গাই” ।কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার ,তারা তিনজনেই প্রচণ্ড ভালো বন্ধু, তাকাশি ইয়োটাকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতো দেখে ।অন্যদিকে তাদের অজান্তেই তিনজনের মধ্যে ত্রিভুজ প্রেমের সম্পক তৈরি হচ্ছে ।
ওভিএর প্রথমে দেখব ইয়োটা যেনে যায় মোয়েমির আগ্রহ তাকাশির প্রতি,তার প্রিয় বন্ধু ।সেইদিনই ইয়োটা সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে একটা রহস্যময় ভিডিও শপ দেখে,যেটা আগে কখনও সেখানে ছিলো ছিল না ।সেই ভিডিও শপের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে “ভিডিও গার্ল” ভিডিও টেপ ।যে কোন একটা ভিডিও টেপ থেকে একটা মেয়ে বেরিয়ে আসবে,যখন সেই ভিডিও টেপটা চালানো হবে ।”এ আবার হয় নাকি” এই ধরনের মনোভাব নিয়ে ইয়োটা ভাড়া নিয়েই ফেলল একটা ভিডিও ।সেদিন রাতেই তার ভিডিও রেকর্ডারে চালালো ভিডিওটা ,এবং যথারীতি ঘর কাঁপিয়ে বেরিয়ে এল “আই আমানো “।যে ইয়োটার দূঃখের সময়ে সঙ্গী হবে,তাকে চিয়ার করবে এবং “অন্যান্য”।
কিন্তু ইয়োটার ভিডিও রেকর্ডার ভাঙা থাকার কারনে আই এর মধ্যে চলে এলো “অনুভূতি “।ফলে সে আর চিয়ার ডল না থেকে পরিনত হলো ইয়োটার অন্যতম বন্ধু, পরামর্শদাতা এবং পরবর্তীতে প্রেয়সী ।

জাতে কমেডি এবং ইচি হলেও এখানে আইএর মাধ্যমে ইয়োটার মধ্যে নারী সম্পকে অনেক ধারনার পরিবর্তন আসে ।বিশেষ করে মেয়ে মাত্রই কিছু বিশেষ অঙ্গসর্বস্ব পুতুল বা বস্তু নয়,এই ধরনের বার্তাই মাঙ্গাকার এবং ওভিএ পরিচালক দিতে চেয়েছেন ।
তবুও এই ওভিএর শেষ এপিসোড অতটা ভালো লাগেনি আমার।
কিন্তু কনসেপ্টটা ভালো লেগেছে। আই একজন এনার্জি বিইং ,আমাদের পদার্থগত অস্তিতের বিপরীতে ।
ওভিএতে টার্মেনটর টু সিনেমার একটা একটা ইস্টার এগ আছে,আগ্রহী দর্শকরা খুঁজে বার করতে পারেন ।সিনেমাটাও মুক্তি পেয়েছিলো 1991 এ ।
এবং গানের কথা ও নব্বই এর স্বপ্ন…..
1992 সালে প্রচারিত এই ছয় পার্ট ওভিএর মধ্যে এর অন্যতম প্রধান সম্পদ হলো দুটো ওপেনিং এন্ডিং সং আর আটটা অন্যান্য গান ।ওপেনিং সং “উরেশি নামেদা” শুরু হয়েছে গ্রীষ্মের এক ছটফটে রঙীন দিন রাত্রের মধ্যে ,নব্বই এর চিহ্ন এখানে সব জায়গায়, তার মধ্যে আই নিজের পৃথিবীকে উপভোগ করছে ।এন্ডিং সং “আনো হি নি” বা “টু দ্যাট ডে” একটা বিগত দিনের নষ্টালজিয়ার স্বাদ নিয়ে আসে ।একদিকে একটা জানালার ছায়ার সামনে চার বন্ধু (আই সমেত)র “জীবন্ত”ফ্রেমে বাধানো ছবি আর তার চারপাশে কখনও গ্রীষ্ম বা বসন্তের লাল -হলুদ পাতাঝড়ার ছবি বা কখনও রাতের নীল বা গাঢ় নীল আবরন ।একেবারে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট।একেবারে শেষ এপিসোডে এন্ডিং ভিডিওটা পাল্টাবে আর দর্শকদের মনে একটা প্রশ্ন রেখে যাবে ।
অথবা ম্যাসেজ গানটা, ইয়োটার আর মোয়েমির বিমর্ষ নীল রাত্রের সঙ্গী হতে পারি আমরাও ,যেখানে আই শেষে ইয়োটাকে ভরসা দেবে ।ব্যাকগ্রাউন্ড অসাধারণ, একটা ক্যান পর্দার মধ্যে থেকে বেরিয়ে হাওয়ার তোরে দূরে চলে যাচ্ছে বা ছোট হিরের মত উজ্জ্বল শহর চীরে চলে যাচ্ছে ট্রেন এবং সেই সঙ্গে মোয়েমির হলুদ ঘরের বিমর্ষতা খুবই ক্যাচি ।প্রধানত সুন্দর গানের সঙ্গে সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ডের আধিক্য দেওয়ার জন্যই আমার এখানে ডিরেক্টর মিজুহো নিশিকুবোকে মাপ করা যায়,শেষ এপিসোড দুটো যতই খারাপ হোক না কেন ।হয়ত অন্যদের খারাপ নাও লাগতে পারে বা আমারই মত পরে বদলে যেতে পারে ।
মাঙ্গা পড়েও ভালো লাগবে ,বিশেষত এর ড্রয়িং গুলোর জন্য।




