Kotonoha No Niwa – অসম ভালবাসার নান্দনিক প্রকাশ [মোঃ আসিফুল হক]

A faint clap of thunder
Clouded skies, perhaps rain comes
Will you stay here with me?

KNN

আমার পূর্বের কোন এক লেখায় একজন আমার লেখার ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে গিয়ে বলেছিলেন; আমি কোন কিছু দেখার সাথে সাথে সেটা নিয়ে লেখতে বসে যাই; এবং সেই কারণে অধিক আবেগে অনেক কিছুকেই অভাররেটেড করে ফেলি। উনার কথাকে গুরুত্তের সাথে নিয়েই দেখার বেশ অনেক দিন পর kotonoha no niwa নিয়ে লিখতে বসলাম।

মাকোতো শিনকাই নামটা জাপানের এনিম ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ জোরেসোরেই উচ্চারিত হয় তার ভিজুয়ালি সাউন্ড মুভিগুলোর জন্য। ২০০৭ এ তার প্রথম কাজ 5 centimeter per second দিয়ে আমারও এনিম মুভি দেখার যাত্রা শুরু। তার মুভিতে অসম্ভব সুন্দর এবং ডিটেইলড ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে ইমোশনাল এবং খানিকটা ট্রাজিক কিন্তু রোমান্টিক গল্পের চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়।

Kotonoha no niwa কি এই ক্যাটাগরিতে পড়ে? হুম; অবশ্যই। বরং অন্য মুভিগুলোর চেয়ে খানিকটা বেশিই। তবে আপনি যদি একটা খুব সুন্দর গল্প আশা করে থাকেন; তবে আপনাকে হয়ত খানিকটা হতাশই হতে হবে। এই মুভি তার ভিজুয়াল এফেক্ট বা আর্ট এর প্রতি যতটা গুরুত্ব দিয়েছে; একটা অসাধারণ গল্পের অসাধারণ সমাপ্তির কথাটাকে ততটাই অবহেলা করেছে।

KNN 2

১৫ বছর বয়সী এক হাই স্কুল ছাত্র তাকাও এবং ২৭ বছর বয়সী ইউকিনোর ভালবাসাই গল্পের মুল উপজীব্য । তাকাও; যার জীবনের লক্ষ এবং উদ্দেশ্য জুতো বানানোর কারিগর হওয়া; সুন্দর সুন্দর জুতার ডিজাইন করা; নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই অনিশ্চিত। ইউকিনো নিজের সমাজে; নিজের পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারে না এবং নিজেকে খুজে ফেরার তাগিদে পার্কে বসে সময় কাটায়। তাদের জীবনের এই অনিশ্চয়তা; একাকীত্ব; অসহায়তা-ই তাদেরকে পরস্পরের কাছে এনে দেয়।

KNN 3

চিরাচরিত ৮-১০টা মুভি প্লট থেকে একদমই আলাদা এবং বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হওয়া এই গল্পের শেষটা হয় খানিকটা হিন্দি সিনেমার মেলোড্রামাটিক স্টাইলে। গল্পে মুল চরিত্র দুজনের আবেগ অনুভুতির জগতে খুব কমই প্রবেশ করা হয়েছে। একজন নিরপেক্ষ দর্শকের দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে; তাদের দেখা হল; তারা কথা বলল; একে অপরকে ভালবেসে ফেলল !!! কিন্তু কেন? সেই সম্পর্কের ভিত্তিটাই বা কি আর গভীরতাটাই বা কতটুকু? ঠিক কি কি ফ্যাক্টর গল্পের শেষ দিকে তাদের সম্পর্ককে এতটা তীব্র করে তুলেছে? এইরকম অনেকগুলো প্রশ্নেরই উত্তর দেয় না এই মুভিটি।

KNN 4

এখন তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে; এই মুভিটার সফলতাটা তাহলে কোথায়? প্রথম যেই জিনিসটা মাথায় আসে সেটা হল; সংলাপ। এক কথায় অসাধারণ। সংলাপে কি বলা হচ্ছে তার চেয়ে চমকপ্রদ বিষয় কি বলা হচ্ছে না সেটা। এর সংলাপ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব সহজ; সীমিত এবং চরিত্রগুলোর দৈনন্দিন স্বাভাবিক একঘেয়ে আলাপচারিতায় সীমাবদ্ধ। কিন্তু এই মুভি কোন কিছু বলার চেয়ে তা দেখানোতেই বেশি বিশ্বাস রেখেছে। তাকাওর খাতায় একের পর এক স্কেচ দেখে আমরা বুঝতে পারি; তার প্যাশন কি। অল্প দু’চারটে কথায় আমরা তাকাওর ফ্যামিলির পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া খুব সহজেই বুঝে যাই। একান্তই যখন সংলাপের প্রয়োজন তখন খুব সহজ এবং স্নিগ্ধ সংলাপ এবং সেই সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক; ঝি ঝি পোকার ডাক; সংলাপের মাঝে খানিক নিরবতা; বৃষ্টি – আমাদেরকে পুরো পরিবেশটার সাথে একাত্ম করে ফেলে।

ভিজুয়াল পারস্পেক্টিভ থেকে “kotonoha no niwa” একটা মাস্টারপিস। যারা 5 centimeter per second দেখেছেন তারা এর সাথে অনেকটাই পরিচিত থাকার কথা। মুভির অন্যতম মুল থিম হচ্ছে বৃষ্টি। সাধারণত গল্পে বৃষ্টি একাকীত্ব প্রকাশ করে। কিন্তু এখানে বৃষ্টিকে সুখ এবং মানসিক প্রশান্তির প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে ব্যাবহার করা হয়েছে।

 KNN 5

মুলত পিয়ানোর সাথে প্রাকৃতিক শব্দ; বৃষ্টি আর ঝি ঝি পোকা – এক মাতাল করা অনুভুতির সাথে পরিচয় করে দেবে এই মুভিটি।

 

সুতরাং; এক বাক্যে যদি সাম আপ করতে হয়; তবে বলা যায় – অসম্ভব সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হওয়া কিন্তু শেষ দিকে খানিক ব্যর্থ গল্পের এই মুভিটি চোখ এবং কানের জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা !!!

 

শুরু করেছিলাম; তিনটে লাইন দিয়ে; তাকাওকে ইউকিনোর জিজ্ঞেস করা তিনটে লাইন। শেষ করি প্রশ্নের জবাবে তাকাওর উত্তর দিয়ে –

 

A faint clap of thunder
Even if the rain comes not,
I will stay here, together with you

KNN 6

 

Mars of Destruction: ভয়াবহতার এক চমৎকার নিদর্শন !!!

MoDমাঝে মাঝেই মাথায় আউল ফাউল জিনিসপত্রের ভুত চাপে। কয়েকদিন আগে এনিমখোর গ্রুপে জনৈক বড় ভাই জানাইলেন; আমরা সকলে সেরা সেরা এনিম দেখসি বটে; কিন্তু উনি সবচেয়ে বাজে রেটিংওয়ালা এনিমখানি দেখে ফেলেছেন। উনার কথায় আগ্রহ জন্মাইল; দেখি তো কি জিনিস !!! এই সাইট সেই সাইট ঘুরে ফিরে কোথাও পাইলাম না – এমনই সে জিনিসের মাহাত্ত !! তো আর কি; সর্বশেষ ভরসা ইউটিউব থেইকা নামায় Mars of destruction – দেখে ফেললাম। দেইখা শুধু একটা কথাই মাথায় আসতেসে; “I don’t have a fudging clue about how to describe this s*** !!!”

আল্লায় দিলে মিনিট বিশেকের মইদ্ধে ইন্ট্রো; একাধিক ফাইট; কিউট নারীজাতি; শক্তিমান পুরুষ; আম্রিকা জাপান – কি দেখায় নাই এইটাতে !!! তয় একটা জিনিস চিন্তা কইরা কুল পাইলাম না; এইরকম সুন্দরী এবং এনিমে বর্ণনা করা শক্তিমান নারীরা এইরকম খেলনা টাইপ পিস্তল লইয়া দৌড়াদৌড়ি কইরা কি উদ্ধার করল !!! আর একদম শুরুর দিকে একেবারে ক্লিন মাথা উড়ে যাওয়া আপ্পিটারে হাস্পাতালেও নিয়া গেল; সেইখানে আবার ডাক্তার মৃত্যু কনফার্মও করা লাগ্লো !!! আমি ফিজিক্স; কেমিস্ট্রি বায়োলোজি – যা যা জানতাম এই জিনিস দেইখা সব ভুইলা গেসি !! আর স্টোরিলাইনের চেয়েও পেথেটিক ছিল সাউন্ডট্র্যাক; সিম্পলি মইরা যাইতে ইচ্ছা হইসে সাউন্ড শুইনা !!! একটা কুশ্চেন শুধু; এইটা কি কোন স্কুলের বাচ্চাদের এনিম বানানোর কন্টেস্টের ফসল নাকি? তাতেও তো এইরকম ভয়াবহতার কোন জবাব পাওয়া যায় না !!!

রিকমেন্ডেশনঃ জীবনের প্রতি যদি বেশি মহব্বত জন্মায়; সকলের হতাশ হতাশ অবস্থা দেখতেসেন কিন্তু নিজে খুব ভাল আছেন; আনন্দে আছেন এবং এই জিনিস যদি সহ্য না হয় এবং সেই অবস্থা থেইকা নিজের মধ্যে সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি আনতে চান; তবে এই এনিম আপনারই জন্য !!! তবে দেইখা একটা লাভ হইসে অবশ্য; এইটা দেখার পর জগতের কোন এনিম আমার কাছে খারাপ লাগার চান্স নাই; সেইটা বকু নো পিকু হোক; স্কুল ডেইজ হোক; কিংবা অন্য কিছুই হোক !!!

Character Review – Makunouchi Ippo from Hajime no Ippo [মোঃ আসিফুল হক]

“Hard work doesn’t always pay off.
But the ones who succeed are the ones who worked hard!!“

জেনারের মধ্যে স্পোর্টস জেনার আমার সবচেয়ে প্রিয়; সেটা যত পেথেটিক এনিমই হোক না কেন – এটা অবশ্য এতদিনে সবার জানা হয়ে যাবার কথা !!! এর পেছনে একটা কারণও অবশ্য আমি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি – বাইরে থেকে আমি যতটা আশাবাদী ভিতরে হয়ত ততটা নই; হয়ত আমি কিছুটা হলেও নৈরাশ্যবাদি। সেক্ষেত্রে “লুজার”, “পেথেটিক” ট্রাজিক হিরো যারা প্রবল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শেষমেশ বিজয়ী হয় – এই থিমের হিরোরাই হয়ত আমার বেশি পছন্দ। কিছু ফাইটিং এনিম হিরো যেমন নারুতো বা অন্যরা হয়ত এই ক্যাটাগরিতে পড়ে; কিন্তু আমি তাদেরকে বাস্তব জীবনের সাথে তেমন রিলেট করতে পারি না। ঠিক সেই কারণেই শিনোজাকি মিকোতো এবং মাকুনৌচি ইপ্পোরা আমার ফেভারিট ক্যারেকটারের বা ফেভারিট এনিমের স্থান দখল করে রাখে; যেখানে প্রিন্স অফ টেনিস বা “বিশেষ কিছু রোমান্টিক এনিম” বা তাদের হিরোরা আমাকে তেমন আকৃষ্ট করে না।

যাই হোক; ভুমিকাতেই বিশাল জায়গা নিয়ে নিচ্ছি। এই রিভিউ লেখার সময়েও টানাপোড়েনে ছিলাম; মিকোতোকে নিয়ে লিখব না ইপ্পোকে নিয়ে। মিকোতোই মনে হয় একমাত্র ক্যারেক্টার যে আমাকে আনন্দে কাদাতে পেরেছে; কিন্তু সেটা খুব অল্প সময়ের জন্য। বড় ইমপ্যাক্ট চিন্তা করলে আমার প্রথম পছন্দ মাকুনৌচি ইপ্পোই।

 

হাজিমে নো ইপ্পো এর কেন্দ্রীয় চরিত্র মাকুনৌচি ইপ্পো; যে কি না বর্তমানে জাপানের ফেদারওয়েট ক্লাসের চ্যাম্পিয়ন। পিতার মৃত্যুর পর শাই; ভদ্র এবং বিনয়ী এই চরিত্রটি তার মায়ের সাথে তাদের পারিবারিক ফিশিং বোট বিজনেসে দিন রাত খেটে সাহায্য করে। চিরদিন বুলির শিকার ইপ্পো বক্সিং সমন্ধে জানতে পারে তাকামুরা মামোরু এর মাধ্যমে। সেই সময়েই সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয় সে তার জীবনকে বক্সিং এর দিকে নিয়ে যাবে এবং শত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে সে শেষ পর্যন্ত জাপান চ্যাম্পিওন হয়।

 

ইপ্পোর যেই দিকগুলো আমার অত্যন্ত প্রিয় সেগুলা হল – সে খানিকটা ইন্ট্রোভার্ট এবং চুপচাপ স্বভাবের হলেও সে যেটা স্থির করে সেটার শেষ দেখেই তবে তার শান্তি। যার প্রমাণ মোটামুটি প্রথম দিকের পর্বেই পাওয়া যায় যখন সে তাকামুরার শর্ত মেনে নিয়ে ৭ দিন একা একা পরিশ্রম করে হাত দিয়ে ১০ টা পাতা ধরতে সক্ষম হয়।

 

ইপ্পো বুদ্ধিমান; সে তার মাথাকে ব্যাবহার করতে ইচ্ছুক; সে ভেবে চিনতে ডেম্পসি রোলের মতন জটিল মুভ আবিষ্কার করে এবং অত্যন্ত সাহসের সাথে কোন প্র্যাকটিস ছাড়াই রিয়েল ম্যাচে তার প্রয়োগ ঘটায় এবং সেটা খুব সফলভাবেই ( এই পর্বটা আমার অল টাইম ফেভারিট এনিম এপিসোডগুলার একটা J )। কামোগাওয়া কোচকে যখন ইপ্পো জিজ্ঞেস করে “what does it means to be strong?” এবং এর জবাবে যখন কামোগাওয়া রিপ্লাই দেয় “go and find it out finding” আমি সেখানে অনুপ্রেরণা পাই; এইজির কাছে ম্যাচ হারার পর দুই মাস অসম্ভব মনঃকষ্টের পর ফিরতি ম্যাচেই যখন সে পুরো ক্রাউডকে স্তব্দ করে দিয়ে “ডেম্পসি রোল” ইউজ করে আমি সেখানেও অনুপ্রেরণা খুজে বেড়াই; প্রবল লড়াই শেষে জয়ী হবার পরেও যখন ইপ্পোর মাঝে কোন ঔদ্ধত্য দেখা যায় না; বরং দর্শকদের মাথা নিচু করে সে অভিবাদন জানায় তখনও আমি শিক্ষা নিতে চেষ্টা করি।

 

শুরুতে যেই কোটটা করা সেটা কামোগাওয়ার; শেষ করি সেনডো তাকেশির একটা কোট দিয়ে –

Hit, and get hit by a strong man. And win! Only then, can I truly believe that I’m strong. I….love that moment!

BTOOOM! – [সেমি রিভিউ] লেখক তাহসিন ফারুক অনিন্দ্য

এই আনিমেটা নিয়ে এত বেশি রিভিউ বা এত মিশ্র প্রতিক্রিয়া কেন, দেখার পর বুঝলাম।
আর সাথে এইটাও বুঝলাম যে আরেকটা “রিভিউ” লিখলে সবাই ধৈর্য নিয়ে পড়বেও না, পাত্তাও দিবে না। তারচেয়ে কয়েকটা পয়েন্ট অভ ভিউ থেকে হাল্কা পাতলা আলোচনা টাইপ এই সেমি রিভিউ 🙂

6 Btooom

# SAO বা Mirai Nikki এর কম্বিনেশন টাইপ একটা আনিমে মনে হবে, Massively Multiplayer Online gaming এর Online বাদ দিন, আরে Mirai Nikki এর survivor is the winner – ব্যাস, পেয়ে গেলেন BTOOOM! এর আইডিয়া! নিজের জীবন বাজি রেখে এই ভার্চুয়াল নয়, বাস্তব গেমে নিজেকেই অংশগ্রহণ করে শেষ পর্যন্ত বেঁচে থেকে জিততে হবে।

# The +’s

– টান টান উত্তেজনা
– সার্ভাইনিং এর একশন
– এনভায়রনমেন্ট ডিজাইন, এক কথায় অসাধারণ!!!
– হালকা পাতলা ফ্যান-সার্ভস (:P )

# The -‘s

– নায়ক-নায়িকাকে বাঁচিয়ে দেওয়ার ধরণ + কিছু হাস্যকর লজিক
– হালকা পাতলা ফ্যান-সার্ভিসগুলি কাহিনিতে আনার ধরণ 🙁

# The “Should have these”s

– আরও বেশি এপিসোড
– আরও বেশি একশন
– শুনতে খারাপ শুনালেও, আরও বেশি ভায়োলেন্স [প্লটটি ভয়ংকর সব ভায়োলেন্সের জন্য আদর্শ]
– অবশ্যই একটা Season 2!!! 😀

আমার মতামত:

FMA/FMAB, Death Note, Code Geass এগুলির মতন এক্যুরেট [কিছুক্ষেত্রে প্রায় এক্যুরেট] কাহিনি/লজিকের আনিমে দেখার পর সব আনিমেকে এদের সাথে তুলনা দিতে যাওয়া ঠিক না, একদমই না। সবার আগে একটা আনিমের মূল লক্ষ দর্শকদের বিনোদন দেওয়া, সেটা করতে গিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই আনিমে সফল 😀

অবশেষে আমার রেটিং: 7.5/10

[কয়েকজনের একটা বিষয় নিয়ে বিরক্তি দেখে লিখতে গেলাম:

[[Contains Spoilers]]

# বোম্ব বাস্ট হল, মানুষ মারা গেল, অথচ সাথে থাকা বোম্বের বক্স আর তার ভিতর থাকা বোম্ব অক্ষত, এমনকি খাবারের স্যুটকেজটাও অক্ষত
~ যারা এই গেমের অর্গানাইজ করেছে, তারা অবশ্যই এইটা মাথায় রেখেছে যেন তাদের কন্টেস্ট্যান্টদের জিনিসপত্র অক্ষত থাকে, কারণ গেমের নিয়ম যে মারা গিয়েছে তার বোম্ব + জিনিসপত্র বিজয়ী দখল করবে। এখন সেই জিনিসপত্র কিভাবে BIM-proof করেছে, সেই science দেখতে চাইতে গেলে আরেকটা আনিমে করা উচিৎ, এই ১২ এপিসোডের ছোট্ট আনিমেতে এত কিছু দেখানো যাবে না এইটা বুঝাই যায় 😀 ]

Armored Trooper Votoms – এক নির্দয় সৈনিকের গল্প – লেখক রেড এলার্ট

[Writers Note : With little editing and cropping writer directly translated this from an English version of this review which belongs to him as well as the Bangla version. So you may find some English word/sentence in between. Writer begs pardon for this inconvenience.]

5411910721_f8a516429d_b

Even if it’s God, I will not obey. — Chirico Cuvie

ভূমিকা

পরিচালক, স্ক্রিনরাইটার, উপন্যাসিক ও এনিমেটর ইওশিইউকি তমিনো তার গুন্দাম (Gundam) ফ্র্যানচাইজ এর মাধ্যমে আশির দশকে মেকা (Mecha) আর স্পেস অ্যাডভেঞ্চার ধারার আনিমেগুলোর মধ্যকার ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলেন। তার কয়েক বছর পরে আরেক পরিচালক ও লেখক রিওসুকে তাকাহাসি সেটাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান, যার ফলাফল হচ্ছে তার অনন্য সৃষ্টি আরমর্ড ট্রুপার ভিওটিএমএস আনিমেটি। মেকা ধারার আনিমে হিসেবে সিরিজটি কিছুটা অদ্ভুতই। সমলোচক হিসেবে আনিমেটির মূল্যায়ন করাও কঠিন কাজ। এক দিকে আনিমেটি এর সমজাতিও অন্যান্য রোবট/মেশিন ভিত্তিক ফিকশন থেকে অত্যন্ত বাস্তবমুখী এবং এতে প্রদর্শিত মেকাগুলোর চলাফেরা ও লড়াই অত্যন্ত রিয়ালিস্টিক। অন্য দিকে পুরো সিরিজটাই একরকম যান্ত্রিক ও নির্জীব; আবেগ ও অন্যান্য মানবিক অনুভূতি বলতে গেলে অনুপস্থিত; যা আছে তাও আবার সামরিক প্রকৃতির: নিরুত্তাপ ও কঠিন বাস্তবতা, শীতল ক্রোধ এবং জীবন নিয়ে নিহিলিস্টিক (Nihilistic) ধ্যানধারণা। আনিমেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সোভিয়েত ইউনিওনের কথা মনে করিয়ে দেয়। কুকুরের মতো খেদিয়ে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র ছাড়াই সাধারণ জনগণকে সস্তা পণ্যের মতো স্টালিন যেভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে লেলিয়ে দিয়েছিলেন (Conscription) এবং সোভিয়েত সৈন্যরা যেমন অমানুষিক ক্রোধ ও ঘৃণা নিয়ে থার্ড রাইখের উপর ঝাপিয়ে পড়েছিল, সেই অনুভূতির সাথে আরমর্ড ট্রুপার ভিওটিএমএস এর মিল আছে।

VOTOMS একটি সত্যিকারের অনন্য সিরিজ। শুধু জাপানিজ এনিমেশন নয়, পুরো ফিকশনাল জগতেই আনেমিটির কনসেপ্ট এক ও অদ্বিতীয়। কার্যত সকল মেকা তথা শোওনেন আনিমের মূল কনসেপ্ট রঙ্গিন চিত্তবিনোদন, অবাস্তব সমস্ত সুপার অ্যাটাক (Gomu Gomu no Pistoruuuuuuuuuu! :p) এবং অতি আবেগপ্রবণ চরিত্রসমূহ যাদের অর্ধেকের কাছে মানবজীবন অমূল্য, এরা হলেন আমাদের হিরো এবং তার বাহিনী আর বাকি অর্ধেকের কাছে ঠিক এর বিপরীত। না বলে দিলেও চলে এই বাকিরা ভিলেইন প্রজাতির। কিন্তু VOTOMS একটি বাস্তব দুনিয়ামুখী আনিমে, যার চরিত্রগুলো শীতল ও সুযোগসন্ধানী এবং যুদ্ধবিগ্রহ যেখানে সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক এজেন্ডার অনুষঙ্গ মাত্র। এই দিকটির জন্যই VOTOMS রিওসুকে তাকাহাসির একটি দুর্লব ম্যাচিউর সৃষ্টি হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার একই কারণে আনিমেটি খুবই নির্দয় ও নির্মম মনে হয়, ফলে Moe দেখে অভ্যস্ত সংখ্যাগুরু আনিমে ফ্যানদের জন্য আনিমেটি পছন্দ করা কষ্টের বিষয়।

Chirico Cuvie

 

প্রোডাকশন ভ্যালু

আরমর্ড ট্রুপার ভিওটিএমএস এর প্রোডাকশনাল ভ্যালুর ব্যাপারে একেক জনের মতামতের মধ্যে দুই মেরু ব্যবধানও দেখা যায়। আমার মতে এনিমেশন আর আর্টওয়ার্ক সামগ্রিক ভাবে বাস্তবমুখী এবং রিয়ালিস্টিক ফিজিক্স মেনে চলে (This is realism, this is physics, this is not.)। কিছু খুঁত থাকলেও তা হয়েছে মূলত সে যুগের সীমিত প্রযুক্তি আর বাজেটের কারণে। সেগুলো বাদ দিলে এনিমেশন যথেষ্ট উন্নত। চরিত্রগুলোর চলাফেরা বাস্তবানুগ, বিশেষ করে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে। সাউন্ডট্র্যাক তেমন ভাল নয়, সহজেই ভুলে যাবার মতো, তবে ওপেনিং থিমটা আকর্ষণীয়। ভয়েস এক্টিং এত বেশী সিরিয়াস, আবেগহীন আর মিলিটারি-মিলিটারি ভাব আছে যে অত্যন্ত নীরস এবং যান্ত্রিক মনে হবে, পছন্দ করাটা কিছুটা কষ্টকর। যদি সামরিক বাহিনীর সাহচর্যে থাকবার সুযোগ আপনার হয়ে থাকে তাহলে বুঝতে পারবেন আমি কি বলতে চাইছি।

votoms_alone_gg_3

 

স্টোরি এবং কাস্ট

আনিমেটির প্লট নিয়েও রয়েছে মতবিভেদ। যদিও প্লট সেটিং ভালই মনে হয় তবে কিছু অসামঞ্জস্যতাও আছে। হিরোয়িক চরিত্রগুলো প্রায়সই অস্বাভাবিক রকম দ্রুত কোন দুর্ঘটনা, ইনজুরি ইত্যাদি থেকে কামব্যাক করে। আবার কোন ঘটনা কেন ঘটল কিংবা কিভাবে ঘটল ইত্যাদি তারা তদন্ত না করেই বা কোনও উৎস থেকে তথ্য না পেয়েও জেনে বসে থাকে, অথচ কিভাবে জানল সে ব্যাপারে কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয়না। আনিমেটির কাস্ট অনেক বড়, কিন্তু তাদের মাঝে মূল চরিত্র চিরিকো কুভিয়ে বলতে গেলে একমাত্র কৌতূহলোদ্দীপক ও স্মরণীয় চরিত্র। চিরিকো একজন নিষ্ঠুর প্রকৃতির সৈনিক। আশির দশকের খাটি পুরুষ বলতে যা বোঝায় চিরিকো তাই। মডার্ন যুগের আনিমে, যেখানে হাইস্কুল পড়ুয়া মেয়েলি (GAY) লুকিং হিরো একটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে (Rin Okimura, Kirito Kirigaya, Usui Takumi anyone?), চিরিকো সে যুগের নয়। চিরিকো কুভিয়ে আশি ও নব্বইর দশকের সেইসব পৌরুষদীপ্ত আইডলদের একজন যাদের হাইস্কুল ছাত্ররা দেবতাজ্ঞান করত (Spike Spiegel, Arnold Schwarzenegger, Bruce Willis হল কিছু উদাহরণ)। তার উদ্ধত মনোভাব ও আচরণ, দৃঢ়তা, শীতলতা, শত বিপদ ও মৃত্যুর মুখ থেকে বারবার বেঁচে ফিরে আসতে দেখা খুবই উপভোগ্য। সে একজন অ্যান্টিহিরো, নিষ্ঠুর মারসেনারি, একজন স্বার্থপর সুযোগসন্ধানী যে আগে কপালের মাঝ বরাবর গুলি ছুড়ে, তারপর প্রশ্ন করে। চরিত্র হিসেবে সে দারুন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আনিমেটির অন্যান্য চরিত্রগুলো ক্ষণস্থায়ী কিংবা তার মতো দুঃসাহসী ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের নয়। এছাড়া, আনিমেটি পুরো মানবজাতিকেই EXPENDABLE / DISPOSABLE হিসেবে বিবেচনা করে এবং কেউ যদি নির্মমভাবে মৃত্যুবরণও করে (এবং সত্যিই এমনটা হয়) তবে দর্শকদের মাঝে কোনরকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির চেষ্টাও আনিমেটিতে দেখা যায়না।

shmain

 

গল্পের কাহিনী গিলগামেশ কনফেডারেশন আর বালারান্ট ইউনিয়নের মধ্যে চলা শতাব্দী বছরের পুরনো, সূচনা ভুলে যাওয়া এক যুদ্ধ নিয়ে। যে যুদ্ধে আস্ত্রাগিয়াস গ্যালাক্সির প্রায় ২০০ গ্রহ ভস্মীভূত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও গল্পের নায়ক স্পেশাল আরমার্ড ফোর্সের সৈনিক চিরিকো কুভিয়েকে তার অজান্তে তার নিজ সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে এক গোপন মিশনে পাঠানো হয়। মিশনের এক পর্যায়ে তার সহযোদ্ধারা তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং মহাশুন্যে মৃত্যুর মুখে ফেলে চলে যায়। কিন্তু ভাগ্যগুনে বেঁচে যাওয়া চিরিকো সেই গোপন মিশনের উদ্দেশ্য ও এর পিছনে কলকাঠি নাড়া ব্যক্তিদের পরিচয় উম্মোচনের সংকল্প করে। কিন্তু তার পিছনে লেগে আছে মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স আর ষড়যন্ত্রকারিরা, যারা কোনমতেই তাদের রহস্যময় এজেন্ডা উম্মোচিত হতে দেবেনা।

শেষকথা

আরমর্ড ট্রুপার ভিওটিএমএস সর্বকালের সেরা মিলিটারি অ্যাকশন আনিমেগুলোর একটি। এর মেকা রোবটগুলোর ডিজাইন ও স্টোরিলাইন স্বতন্ত্র ও অদ্বিতীয়। যেসব দর্শকেরা খুবই বাস্তবমুখী যুদ্ধ ও নিহিলিসম পছন্দ করেননা এই আনিমে তাদের জন্য নয়। মেইনস্ট্রিম আনিমে ফ্যানদের কাছে VOTOMS এর কাহিনী নিস্প্রভ ও ধরাছোঁওয়ার বাইরে মনে হবে। আমার নিজেরও যে অনেক পছন্দ হয়েছে তা নয়। আমার পরামর্শ জানতে চাইলে এই আনিমেটা বিনোদনের উৎস হিসেবে নয়, স্পেশাল ও অন্য রকম একটা আনিমে হিসেবে দেখতে সুপারিশ করবো।

Now for some half-assed rating:

STORY SECTION : 7/10

ANIMATION AND ARTWORK : 8/10

SOUND & VOICE ACTING : 5/10

CHARACTER SECTION : 7/10

ENJOYMENT SECTION : 5/10

OVERALL : 7/10

 

votoms

Panty & Stocking with Garterbelt – REPENT, YOU MOTHAFUCKA! – লেখক রেড এলার্ট

[Writers Note: Huge text of random stream of thought follows. Consider yourselves warned. With little editing and cropping writer directly translated this from an English version of this review which belongs to him as well as the Bangla version. So you may find some English word/sentence in between. Writer begs pardon for this inconvenience.]

5 Panty-and-Stocking-transformation

 

“O pitiful shadow lost in the darkness, O evil spirit born of those drifting between Heaven and Earth. May the thunderous power from the garments of these holy, delicate maidens strike down upon you with great vengeance and furious anger, shattering your loathsome impurity and returning you from where you once came! REPENT, YOU MOTHAFUCKA!” – Panty & Stocking Anarchy

যখন প্রথম আনিমেটার টাইটেল দেখলাম, ধরেই নিয়েছিলাম শত আনিমের মাঝে আরও একটা নিম্ন মানের এনিমেশন আর জঞ্জাল মার্কা স্টোরিলাইনে আপাদমস্তক ভরা এচ্চি কমেডির সামনে পড়ে গেছি। কয়েকদিন ফেলে রাখবার পর কৌতূহলবশত দেখতে বসলাম এবং উপলদ্ধি করলাম আনিমেটি সম্পর্কে আমার ধারণা ভুল ছিল। তবে এই অর্থে নয় যে Panty & Stocking with Garterbelt তথা PSG আমার ধরে নেয়া genre এর মধ্যে পড়েনা; আনিমেটি আসলেই একটি নিম্ন মানের এনিমেশন আর জঞ্জাল মার্কা স্টোরিলাইনে আপাদমস্তক ভরা এচ্চি কমেডি। যে জিনিষটা আনিমেটাকে অন্য সবার থেকে ভিন্ন করে তুলে তা হল এই যে… আনিমেটি ভিন্ন লোল।

আমি বলতে চাইছি যে একটি ভাল আনিমে, হোক কমেডি কিংবা অ্যাকশন, “ভাল আনিমের” খেতাব পায় তখন যখন তা দর্শকদের বিস্মিত ও উদ্দিপ্ত করতে সক্ষম হয়। কোন আনিমে দেখতে বসে আগামীতে ঘটতে যাওয়া কমেডি কিংবা অ্যাকশন দৃশ্যে কি হতে যাচ্ছে তা যদি ঘটার আগেই আপনি বুঝে ফেলেন তাহলে আপনি পেলেন একটি মাঝারি মানের আনিমে। কোন উঁচুদরের আনিমের কৌতুক দৃশ্য অথবা যুদ্ধের শেষ পরিণাম আগে থেকেই দর্শক ভবিষ্যদ্বাণী করে বসে থাকতে পারেনা বলেই সেটি আর দশটা আনিমে থেকে আলাদা। PSG-র সাফল্য এখানেই। আপনি কখনই ধরতে পারবেন না পর মুহূর্তে যা হতে যাচ্ছে তা বিয়োগান্তক নাকি হাস্যকর।

বেশীর ভাগ শো এক বা একাধিক ফর্মুলা অনুসরণ করে, PSG এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। গড়পড়তা শোওনেন অ্যাডভেঞ্চার আনিমের সূচনা পর্বগুলো দেখে আগে থেকেই আপনি মোটামুটি একটা ধারণা পেয়ে যাবেন বাকি ৫০০টি পর্ব কেমন হতে যাচ্ছে (দয়া করে আমায় বলবেন না যে নারুতো ও ওয়ান পিসের ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য নয়)। প্লটের বিষয়বস্তু পরিষ্কার, সর্বশেষ পরিণামটাও স্পষ্ট, এখন আপনি শুধু এর মাঝেই ফ্যানসার্ভিস আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলো থেকে কিছু বিনোদন আরোহণ করার চেষ্টা করতে পারেন। শুরুতে এবং মাঝে মাঝে এগুলো উপভোগ্য হলেও, প্রায়শই আনিমেগুলো দেখতে দেখতে নিজেকে নিস্তেজ মনে হয় এবং গ্র্যান্ড ফিনালে দেখে বলতে হয়, “Ok, it ended as I expected; now where is my popcorn?”

 

এখানেই PSG আমার ভাল লেগেছে। আগামীতে ঘটতে যাওয়া প্লট টুইস্ট ও কৌতুকগুলো আগে থেকেই আন্দাজ করে প্লটের মজাটা একরকম জোর করে নষ্ট করতেও ব্যর্থ হয়েছি। আজকাল আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপদ ও পরীক্ষিত ফর্মুলার ব্যবহার বেশী, কেউ আর বাক্কানো কিংবা ঘোস্ট ইন দ্য শেল জাতিও ভিন্ন ধরনের আনিমে তৈরি করে ঝুকি নিতে চায়না। যখন অন্যেরা আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত-সফল-ঝুঁকিহীন-বাঁধাধরা ধাঁচের চরিত্র এবং ছকে বাধা প্লটেই বেশি আগ্রহী, PSG তখন অনেকটা “Screw it, let’s just have fun” জাতিও ছোট ছোট গল্পতে পরিপূর্ণ। এ সময়ের সিরিজগুলোয় এটারই খুব অভাব; একটি আনিমে যখন দেখি তখন সেই আগের অনুভূতিটি পাইনা যে লেখক আনিমেটি যত্ন ও অনুরাগ দিয়ে লিখেছেন, ব্যবসায়িক সাফল্য পাবে কিনা কিংবা নির্বোধ ওতাকুর দলকে সন্তুষ্ট করবার জন্য যথেষ্ট moe আর কাওয়াই হয়েছে কিনা এধরনের দুশ্চিন্তা নিয়ে লিখেননি, যেমনটা অনুভূত হয়েছিল কাউবয় বিবপ, প্ল্যানেটিস কিংবা মাই নেইবর তোতোরো দেখে।

তবে আমি এটা পরিস্কার করে দিতে চাই যে Panty and Stocking with Garterbelt মোটেও ওরিজিনাল কিংবা যুগান্তকারী আনিমে নয়। এতেও ওতাকুগণের সন্তুষ্টির জন্য প্রচুর sexy/moe stereotype রয়েছে, কিন্তু সেগুলোও আবার অত্যন্ত খোলামেলা এবং উগ্র, বোঝাই যায় লেখক মহাশয় R-Rated সিল-ছাপ্পর এবং সেন্সরশিপের ভয় করেননি। অধুনা কালে শতশত কার্বন-কপি করা হারেম এবং এচ্চি কমেডি আনিমে গুলোতে একটি বিশেষ দৃশের অবতারণা বহুবার ঘটেছে, some dork gets to score with a chick and the chick may want it too but something really lame always happens every time to stop it. কেন? Why? এটা কি ওতাকুদের জন্য হতাশাজনক নয় যে “juicy part” গুলোতেই বারংবার থামিয়ে দেয়া হয়? আমি বলছি কেন, কারণ সেটাই হল লিমিট। এই লিমিট পার হয়ে “ওটা” পর্যন্ত যাওয়া আর হয়ে ওঠেনা ফলে ওতাকুবৃন্দ “ওটা” ছাড়াই সন্তুষ্ট থাকবার চেষ্টা করে, আর সেই “ওটা” হলঃ সেক্স। আমার যতদূর মনে পড়ে এর সাম্প্রতিক একটি নমুনা হল “বি গাতা এইচ কেই ইয়ামাদাস ফার্স্ট টাইম” আনিমেটি। এর সেলিং পয়েন্ট হচ্ছে এরকমটা, একটি হাইস্কুল পড়ুয়া মেয়ে যথেচ্ছ ভাবে বেছে নেয়া হাজারো ছেলের সাথে হাজারো নচ্ছার উপায়ে সেক্স করবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু আনিমেটি শুধু আজেবাজে স্বাদহীন সেক্স জোক এবং “বিশেষ মুহূর্তে” মেয়েটি ভয় পেয়ে যাচ্ছে অথবা কেউ এসে সমস্ত কিছু ভণ্ডুল করে দিচ্ছে এ জাতিও হাবিজাবি দেখিয়েই ক্ষান্ত থেকেছে। কেন? কারণ ওই যে, লিমিট।

তো PSG আবার এদিক দিয়ে বিদ্রোহী। গল্পের মূল দুই হিরোইনের একজন Panty (জী, নামটা ঠিকই শুনেছেন) এই মাত্র পরিচয় হওয়া ব্যক্তিটির সঙ্গে সেক্স করতে মোটেই ভীত নয়। শুনতে তেমন “জটিল” মনে হয় না এবং বাস্তব জীবনে হয়ত এমন চরিত্র পাওয়াটা অসম্ভব নয়, কিন্তু এক নন-হেন্তাই আনিমেতে? IMPOSSIBRU!! ধারণাতীত!! অন্য কোন শোর মতো হিরোইন শেষ মুহূর্তে এখানেও ভয় পেয়ে বসবে এই ধারণা যদি করে থাকেন তাহলে তা ভুল। এই শো অসম্ভব পরিমাণে শিট, পিউক, সেমেন, নগ্নতা, গালিগালাজ এবং অন্যান্য সকল উগ্র জিনিষ দেখাতে মোটেও ভীত নয়। যাইহোক, আনিমেটি ওরিজিনাল না হোক, এর আগে আর কেউই এমন উগ্রতা দেখাবার সাহস করেনি।

 

আর পুরোটাই সাধারণমানের এনিমেশনের দ্বারা দেখানো হলেও অপছন্দ করবার মতো নয়; বরঞ্চ কারোকারো কাছে আবার এটাকে ন্যাক্কারজনক রকম হাস্যোদ্রেককর মনে হবে। আনিমেটির এনিমেশনে লক্ষ করবার মতো আরেকটি বৈশিষ্ট্য আছে। সেটি হল এর পশ্চিমা ভঙ্গি যেটি আনিমেটিকে স্মরণীয় করে তোলে। শুধু তাই নয়, চরিত্রগুলো পাওয়ার পাফ গার্ল এর মতো সাধারণ ডিজাইনের হলেও আর দশটা আনিমের চরিত্র থেকেও বেশি জীবন্ত মনে হয়।

শুধু এনিমেশনই যে স্পেশাল তা নয়। এর সাউন্ডট্র্যাকও বিশেষত্ব পূর্ণ। বেশিরভাগ ব্রেককোর/ডাবস্টেপ ধারার মিউজিক। ব্যক্তিগত ভাবে আমি ডাবস্টেপ অপছন্দ করি। কিন্তু PSG এর সাউন্ডট্র্যাক এতই অসাধারণ যে শত ঝামেলা-ঝক্কি পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত আমাজন.কম থেকে কিনেই ফেললাম। Fly Away, Chocolate, Anarchy, Fallen Angel, Beverly Hills Cock, D-City Rock; এই গানগুলো অত্যন্ত মনোরম (unlike most anime OSTs) ও স্মরণীয়।

তো এবার প্লট এবং চরিত্র মূল্যায়নের পালা, আরেকবার পরিস্কার করে নেই Panty & Stocking with Garterbelt এর কনসেপ্ট ওরিজিনাল ও স্বতন্ত্র নয়। গল্পের চরিত্রসমূহ অন্যান্য আনিমের চরিত্রগুলোর মতই প্রচলিত ধাঁচের। কিন্তু তবুও তারা কখন কি করবে তা সম্বন্ধে আগে থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করা যায়না এবং তাদের কাজকারবার কিছুটা মানে ইয়ে কি বলবো, এক্সট্রিম, বাকিটা নিজেরাই বুঝে নিবেন। আর তাদের এই সকল কর্মকাণ্ডই তাদের স্মরণীয় ও পছন্দনীও করে তোলে। সবসময় তারা কোন না কোন ধরনের অদ্ভুত কাজ করে যাচ্ছে ফলে আপনাকে একঘেয়েমিতেও ভুগতে হবেনা। আনিমেটির প্লট ছোট ছোট অনেকগুলো গল্পে বিভক্ত। প্রথম দৃষ্টিতে গল্পগুলোকে একেওপরের সাথে সম্পর্কহীন মনে হলেও আসলে তা নয়। আর প্রত্যেকটি গল্প কমবেশি ১৫ মিনিটের, একঘেয়েমিতে ভোগার সময় কই? I sure prefer this form to that of silly shows like Gintama, where they literally tell you when it is ok to laugh by making a reference to another show and YELLING THEY JUST MADE A REFERENCE!

আনিমেটির কাহিনী দুই বোন, স্বর্গের এঞ্জেল Panty Anarchy এবং Stocking Anarchy-কে ঘিরে। অপরিমার্জিত ব্যবহারের কারণে ঈশ্বর তাদের স্বর্গ থেকে বহিস্কার করে নরক ও স্বর্গের ফল্টলাইনে অবস্থিত দাতেন সিটিতে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন। স্বর্গের টিকেট কিনে আবার ফিরে যেতে হলে তাদের প্রিষ্ট Garterbelt এর তত্ত্বাবধানে দাতেন সিটিতে আক্রমন চালানো দানবীয় সব “ভূত (spirit)” ধ্বংস করে যথেষ্ট হেভেন কয়েন আয় করতে হবে। গল্পের দুই হিরোইনের একজন Panty তার অন্তর্বাস Backlace নামক পিস্তলে রূপান্তরিত করতে সক্ষম। স্বর্গে ফিরে যাওয়া ছাড়াও তার আরেকটি লক্ষ্য হচ্ছে এক হাজার পুরুষের সাথে মিলিত হওয়া (!)। গল্পের দ্বিতীয় হিরোইন গথিক এঞ্জেল Stocking তার মোজা এক জোড়া কাতানায় রূপান্তরিত করতে সক্ষম। মিষ্টি খাবারের প্রতি তার অবিশ্বাস্য রুচি। Stocking এর ভাষ্য অনুযায়ী, “All the fat I gain goes to my breasts, allowing me to eat sweets to my heart’s content”। প্রিষ্ট Garterbelt তাদের দেখাশোনা করেন, তার বিশেষ কিছু fetish আছে যেগুলো সম্পর্কে এখানে বলতে আমি অপারঙ্গম। এছাড়াও আছে স্বঘোষিত ঘোস্ট হান্টার Brief Rock এবং অদ্ভুত ধরণের কুকুর Chuck।

আনিমেটি দেখে দর্শকদের তিন রকমের রিঅ্যাকশন হতে পারে। এর বাহিরে অথবা মাঝামাঝি অন্য কোন রিঅ্যাকশন হবার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করিনা। যথাঃ
1)THIS IS THE BEST FUCKIN’ ANIME I’VE EVER SEEN IN MY LIFE!!
2)WTF DID I JUST SEE?!
3)THIS IS THE WORST SHIT I’VE EVER ENCOUNTERED IN MY WHOLE GODDAMN LIFE!!

আনিমেটির নির্মাতা হল GAINAX, এই ধরনের গাঁজাখুরি জিনিষ বানাতে আবার তারা সিদ্ধহস্ত। ১৯৯৫ সালে নিওন জেনেসিস এভানগেলিওন বানানোর মাধ্যমে আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে এক বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছিল তারা। এভানগেলিওন সে সময়ের আনিমেগুলোর প্লট এবং চরিত্রের ছকেবাধা প্যাটার্নটাকে এক রকম হাস্যকর এবং তুচ্ছ করে তুলেছিল। মেকা (mecha) Genre-টাকে ভেঙ্গেচুড়ে নতুন করে সাজিয়েছিল। এমনকি ভিন্ন কিছু তৈরি করবার ঝুঁকি থেকে অন্যান্য নির্মাতাদের পলায়ন প্রবৃত্তিকেও পরোক্ষ ভাবে ব্যঙ্গ করেছিল GAINEX এর এভানগেলিওন।

তৃতীয়বারের মতো পরিস্কার ভাবে বলে নেই, Panty & Stocking with Garterbelt নিওন জেনেসিস এভানগেলিওন নয় এবং এর মধ্যে বিপ্লবী কিছু নেই। তবে এই আনিমেটি এভানগেলিওনের মতো আরও একবার মনে করিয়ে দেয় নতুন কিছু দেখানোর ঝুঁকি থেকে পালাবার কিছু নেই, যেটা গত ৫ বছর ধরে জাপানিজ আনিমে ইন্ডাস্ট্রি করে আসছে। প্রত্যাশা করা যায় আগামীতে আনিমে নির্মাতারা অত্যাধিক moe ও এচ্চির বদলে ভিন্ন ধাঁচের কিছু আনিমে তৈরিতে উদ্যোগী হবে। মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষমতা অসীম এবং নতুনত্বতে তার নেশা, তবে কেন আমরা সাধাসিধেতেই সন্তুষ্ট থাকব? We can always strive for something different. The sky is the limit… and even that can be pierced by Guren Lagann.

 

Now for some excused scoring:

  • ART SECTION: 10/10

General Artwork 2/2 (looks special)
Character Figures 2/2 (perky and sexy)
Backgrounds 2/2 (lots of sex innuendos)
Animation 2/2 (minimal but highly artistic)
Visual Effects 2/2 (you actually read the sounds)

  • SOUND SECTION: 10/10

Voice Acting 3/3 (bonus for profanity)
Music Themes 4/4 (go buy the OST)
Sound Effects 3/3 (cartoony and as I said, you also read them)

  • STORY SECTION: 7/10

General Scenario 2/2 (Bitch angel in a deprived city sounds uncommon to me)
Pacing 2/2 (mostly fooling around but doesn’t let you be fed up with the dead time)
Side Stories/Extra Spices 1/2 (present but rushed and superficial)
Believability/Reasoning/Realism 1/2 (the action makes little sense but it’s themes are constant)
Conclusion 1/2 (a cliffhanger, believe it or not)

  • CHARACTER SECTION: 4/10

Presence 2/2 (Attractivene and cute)
Personality 2/2 (A bitch, a hard to get goth, a gay afro priest, a Kenny dog; sounds interesting to me)
Backdrop 0/2 (um… what?)
Development 0/2 (who?)
Catharsis 0/2 (where?)

  • VALUE SECTION: 8/10

Historical Value 2/3 (very special amongst other anime of its time but not all time classic)
Rewatchability 2/3 (works only the first time but still gets kicks when you show it to others)
Memorability 4/4 (extreme enough not to be forgotten)

  • ENJOYMENT SECTION: 9/10

The epitome of guilty pleasure

  • TOTAL: 8/10

কিছু কিছু অংশ মোটেও কৌতুককর মনে হয়নি, এছাড়া অত্যন্ত উপভোগ্য। যদি এ ধরণের হাস্যরসে কোন আপত্তি না থাকে তাহলে আনিমেটি দেখতে পারেন। আর যদি আপত্তি থাকে এই আনিমে আপনার জন্য নয়। HATERS GONNA HATE!

Btooom! – অনলাইন গেমিং; ভার্চুয়াল বাস্তবতা এবং একটি সম্ভাবনাময়তার করুণ মৃত্যু…

রিয়োতো সাকামোতো – বয়স ২২। হতাশ; বিষণ্ণ এবং বেকার এই যুবকের দিন কাটে সারাদিন ঘরে বসে btooom নামক থার্ড পারসন শুটিং গেম খেলে। বর্তমানে সে এই গেইমে ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং এ ১০ নাম্বার এবং তার জীবনের সব হিসেব নিকেশ এই গেইমের স্টেট নিয়ে। কিন্তু এই জীবনের ছেদ ঘটে যখন একদিন সে নিজেকে আবিষ্কার করে একটা গাছের ডালে প্যারাসুটের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায়। সাকামোতো রিওতোর প্রিয় গেইম কি তাহলে বাস্তবতায় রুপ নিল? ভার্চুয়াল লাইফ যখন বাস্তবতায় মিশে যায় তখন কি সে তাতে কুলিয়ে উঠতে পারবে?

 

এই পর্যন্ত পরার পর বেশ অনেকেই একটু থমকে দাঁড়াবেন; ইতি উতি চাইবেন; তারপর প্রশ্ন করে বসবেন; “মিয়া; ফাইযলামি কর? কয়দিন আগে sword art online দেখসি কি করতে? আর তুমি এইডা কিসের রিভিউ লেখতে বসছ? পইরাতো sword art online এর মতন লাগতেসে। অইটা আর এইটার মধ্যে পার্থক্য কি?”

প্রথমেই এই ব্যাপারটা ক্লিয়ার করা যাক। sword art online এর মত এখানে জগতটা কাল্পনিক না; বরং সকল প্লেয়ারদের ছেড়ে দেওয়া হয় একটা বিশেষ ভাবে তৈরি দ্বীপে। সুতরাং; সেই দিক দিয়ে btooom অনেক বেশি রিএলিস্টিক যদিও লেখক উরাধুরা লেভেলের বোম আর তার মালিকানা এবং ব্যাবহার নিয়ে এইরকম ফিকশন জুড়ে দিয়েছেন যে এইটা যে কোন ফ্যান্টাসিকে হার মানাতে বাধ্য; তবে সেই বিষয়ে পরে আলোচনা আসতেসে। আর দুই নাম্বার হইল; btooom টা SAO এর মতন “লাভ লাভ গুডি গুডি বিপন্ন নায়িকাকে বাচাতে নায়কের অভিযান” ধরণের না; বরং মানব প্রকৃতির অন্ধকার দিককে বেশ গভীরে গিয়ে পর্যালোচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। btooom দেখার সময় বরং আমার mirai nikki এর কথা বার বার মনে আসছে; যারা দেখেছেন তার তো বুঝতেই পারতেসেন বিষয়টা কি !!!

 

এবার আসা যাক তবে আসল রিভিউতে; তবে তার আগে একটা কাজ করতে হবে; সেইটা হল ব্রেইন খাটানো একেবারে অফ করে দিতে হবে। এনিমখানি দেখতে দেখতে “সবার এক দুই মাইলের মধ্যে বোম পড়লে বাচনের আশা নাই; আর নায়কের দুই হাতের মইদ্ধে বোম পড়লে নায়ক সুন্দর হাসিমুখে V পোজ দিতে দিতে কেম্নে ধোঁয়ার ভিতর থেইকা বাইর হয়?” টাইপ প্রশ্ন করা একেবারে হারাম। সে নায়ক; সারা জীবন ঘরের কোনায় ভিডিও গেইম খেইলা কাটায় দিলেও তার রিফ্লেক্স এবং athleticism অসাধারণ এবং পৃথিবীর কুনু বোম তারে কিচ্ছু করতে পারবে না – এই জিনিসের উপর ঈমান আইনা দেখা শুরু করতে হইব। বাকি কাহিনী বা ক্যারেকটার  গুলা বেশ ভাল এবং রিএলিস্টিক – সুতরাং তারা পোষায় দিতে পারবে বলে আমি গ্যারান্টি দিতেসি; আপনে টেনশন না নিয়ে বসেন।

 

এনিমের কাহিনী যদি সংক্ষেপে বলি – একটা ভার্চুয়াল গেইমের কিছু প্লেয়ারকে হাতে একটা ডিভাইস পার্মানেন্টলি খোদাই করে এবং কিছু বোম এবং খাবার সহ ছেড়ে দেওয়া হয় একটা দ্বীপে। হাতের ডিভাইসগুলো একমাত্র প্লেয়ারের হার্টবিট বন্ধ হলেই খুলে যায় ( এই জিনিস বাস্তবে করতে গেলে খবরই আছে !!! ); এবং দ্বীপ থেকে মুক্তির উপায় ৮ টা এইরকম ডিভাইস কালেক্ট করা; সোজা বাংলায় ৮ টা প্লেয়ারকে খুন করা। ৮ টা ডিভাইস কালেক্ট হইলেই একটা হেলিকপ্টার এসে সেই প্লেয়ারকে বাইর করে নিয়ে যাবে। আর সবাইকে বাচায় রাখার জন্য প্রতিদিন দুপুরে হেলিকপ্টার থেকেই খাবার দাবার সাপ্লাই দেওয়া হয়; তবে সেই খাবারের জন্য ফাইট করতে হয় প্লেয়ারদের। সকলের বোম এক রকম না; একেক জনের টা একেক রকম; এর মধ্যে এক ধরণের বোম আছে যা কিনা হোমিং টাইপ !!! ( পুরাই আম্রিকান মিলিটারি মিলিটারি ভাব !!! )

যাই হোক; বেশ মজবুত প্লট। এর উপর দাড়িয়ে যে সকল জিনিস এনিমটাকে আসলে রিভিউ লেখার যোগ্য করে তুলেছে তা হল –

১) নিজের বেচে থাকার জন্য আরেকজনকে মেরে ফেলা – এই দর্শন বা সহজ বাংলায় বললে “survival of the fittest” এ মানুষ যে কত সহজেই গ্রাস হয়ে যায় তার নমুনা !!!

২) বেঁচে থাকার জন্য বৃদ্ধ এবং দুর্বল শরীর এবং মনের মানুষের দ্বারা নেওয়া ছল ছাতুরি এবং প্রতারণা

এবং শেষ মেশ – প্রেডিক্টেবল যেইটা – মানবতা এবং মনুষ্যত্বের জয়।

 

খুব কঠিন কথা হয়ে যাচ্ছে মে বি। আমরা সহজ কথায় ফিরে আসি। কাহিনী অনেক্তাই বলে দিলাম; এবার কিছুটা বদনাম করি সিরিজের। উপরে এক দফা আলচনা হয়েছে; এর পরেও আরো কিছু আছে। আমার জানামতে মাঙ্গা ৯ ভলুমের; সেইটাকে এনিমে কেন জানি না ১২ পর্বে ঠেসে জায়গা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে !!! ফলে বহু প্রশ্নের জবাব অজানাই থেকে গেসে। আর অনেকটাই “শেষ হইয়াও হইল না শেষ” ধরণের ওপেন এন্ডেড ফিনিইশিং দর্শকের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে; আমি ব্যাক্তিগতভাবে যা পছন্দ করি না !!!

 

সাউন্ড এবং এনিমেশন নিয়ে বলতে হয় বলে বলা; এক কথায় “চলে”। খুব আহামরি কিছু না হলেও কোথাও খাপছাড়া লাগে নি।

 

এইবার বারনিং প্রশ্ন; “দেখুম? এত্ত যে দোষ আর দোষ বইলা গেলেন; লাভ কি হইল?” আমার উত্তর; অবশ্যই দেখবেন; না দেখলে মিস। গল্পের প্লট আর পর্ব সংখ্যায় গন্ডোগোল থাকতে পারে; কিন্তু গল্পে কোন গন্ডোগোল নাই; অত্যন্ত উপভোগ্য একটা গল্প; সেই সাথে মানব মনের অন্ধকার গলিতে হাতড়ে বেড়ানোর অংশটা “এপিক” না হোক; নিদেনপক্ষে “ব্রিলিয়ান্ট।” সুতরাং; দেখে ফেলেন; হতাশ হবেন না। 🙂 🙂

 

age restriction: হাল্কা নূডিটি এবং বেশ ভাল ভায়োলেন্স আছে; সুতরাং একেবারে ছোটদের না দেখাই ভাল। 🙂 🙂

6 Btooom

কোড গিয়াস – Asif V bangladeshia Orders you… watch it :D :D

code geass দেইখা শেষ করলাম; কেমন লাগসে বুঝতেসি না; সময় লাগবো মনে হয়। তয় পুরাডা সিরিজ ধইরা শারলির লাইগা খারাপ লাগসে; মাইয়াডারে বড়ই ভালা পাইসিলাম; কিউট আছিল। আর ইউফেমিয়ার ফাইনাল কাহিনীর সময় তোমনে হইসে আমি নিজে যাইয়া যদি কিছু করতে পারতাম !!! সেই লেভেলের খারাপ লাগসিল !!! তয় লাস্টে যেইটায় বেশি শক খাওয়ার কথা; ওইটা মেলা আগেই স্পয়লার খাইয়া বইসা ছিলাম; তাই ততটা শক লাগে নাই !!! (এই কারনেই আসলে এতদিনেও না দেখে থাকার কারণ !!! )

আর দুইটা সিরিজ তুলনা করা আসলেই খুব বাজে জিনিস। সারাটা সিরিজ ধরে লুলু মামু রে লাইতো কুনের সাথে মিলানোর ট্রাই করসি এবং যেহেতু লাইতো কুন মাচ মোর কুলার এবং মাচ মোর টেলেন্টেড (অন্তত আমার মতে) – সারাটা সিরিজ কেমন যেন লাগসে। যদিও যদি কোন তুলনা না করে দেখতাম; তাইলে এট্টুক শিওর যে এইটা আমার অন্যতম প্রিয় সিরিজ হইত !!! (এখনও যথেষ্ট প্রিয়; লুলু মামুর ফ্যানরা আমারে আবার মারতে চইলা আইসেন না !!! )

 

নো অফেন্স টু রুরুশ; কিন্তু মাঝখানে তার একরকম নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়; তার প্ল্যান এর জন্য একবার তাকে ব্রিটানিয়ান আরেকবার ব্ল্যাক নাইটের সাহায্য নিতে হয়; সে তার গিয়াসের উপর কন্ট্রোল হারায় ফেলে; সে তার প্রিয় কাউকেই দিন শেষে রক্ষা করতে পারে না – সব দিক বিবেচনায় রুরুশ হয়ত অনেক বেশি ট্রাজেডি হিরো হইতে পারে; কিন্তু কম্পোজার এবং কুলনেস এবং বাকি সব দিক বিবেচনাত আমার কাছে সে লাইটের ধারে কাছেও নাই।

7 Code Geass

Neon Genesis Evangelion – Anime Nostalgia Series – লেখক রেড এলার্ট

12 Evangelion
“Even though a hedgehog may wish to get close to another hedgehog, the closer they get the more they injure each other with their spines.” – Ritsuko Akagi

নিওন জেনেসিস এভানগেলিওন, আনিমে ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং ইন্ডাস্ট্রিয়ালি influential আনিমেগুলোর একটি। আনিমেটিকে ঘিরে নানানরকম সাইকোলজিক্যাল এবং সাইয়েন্টিফিক mambo-jumbo রয়েছে। কিন্তু রিভিউ সংক্ষিপ্ত করবার জন্য আমি তা এড়িয়ে যাব। প্রশ্ন হল, কেন জাপানিজ এনিমেশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এভানগেলিওন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

For a huge number of reasons. Here is a nice list for you to follow.

১) যখন এভানগেলিওন ব্রডকাস্ট করা হল তখন জাপানসহ তৎকালীন বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় জরাজীর্ণ। জাপানের বহু নাগরিক অসচ্ছল ও বেকার জীবনযাপন করছিল। এছারাও খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় মিলেনিয়াম শেষ হতে যাচ্ছিল ফলে বিশ্বে THE END IS NEAR জাতিও হট্টগোল শুরু হয়েছিল। Nostradamus’ prediction, মিলেনিয়াম ভাইরাস, টোকিও সাবওয়ের সারিন গ্যাস টেররিসম কিংবা পৃথিবী “ধ্বংস” হয়ে যাবার পূর্বেই সোলার সিস্টেমের কাছ দিয়ে যাওয়া ধূমকেতুর মাঝে “আত্মা বপণের” উদ্দেশ্যে জাপানে দলে দলে গ্রুপ সুইসাইডের ঘটনা ইত্যাদি মিলিয়ে সে দেশে অর্থনৈতিক এবং মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। NGE এক বিধ্বস্ত নিকটবর্তী ভবিষ্যতের কথা বলে যেখানে মানুষকে অর্থনৈতিক সঙ্কট, ব্যাপক জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বহিরাগত শত্রুর সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়। এই ডার্ক থিমটা জাপানিজ অডিয়েন্স পছন্দ করে। তাদের ভবিষ্যৎ যেন তারা এভানগেলিওন এর আয়নায় দেখতে পাচ্ছিল।

বাজে সাব-ডাব ও ইকনমিকাল বিস্ফোরণের কারণে সে সময় বাকি বিশ্ব আনিমেটির মূল কনসেপ্ট ধরতে না পারলেও ১৫ বছর পর বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন আবারো মন্দায় আক্রান্ত এবং “2012 marks the end of the world” জাতিও হাবিজাবি নিয়ে হইরই চলছে ঠিক তখনি এভানগেলিওনের পরিমার্জিত ভার্সন “Renewal” বের হবার পর আনিমেটি আলোচনার তুঙ্গে উঠে আসে।

২) Great production values. অর্থাৎ আনিমেটি KEWL VIUSAL এ পরিপূর্ণ। শুনতে যতই অপরিপক্ক মনে হক না কেন অধিকাংশ ওতাকু একটি সিরিসে সবার আগে এটিই খুজে এবং এভানগেলিওনের প্রমোশনাল মেথড হিসেবে এর ভিসুয়াল এফেক্ট ভালই কাজে দিয়েছে। আমি এমন অনেক আনিমের নাম করতে পারি যেগুলোর ভাল স্টোরিলাইন এবং ইন্টারেস্টিং cast থাকা সত্ত্বেও COOL VISUAL ওয়ালা আনিমের সাথে প্রতিযোগিতায় ব্যর্থ হয়েছে। তবে এভানগেলিওন মোটেও তেমনটি নয়। আনিমেটির এনিমেশনে ভাল-খারাপ দুটো দিকই রয়েছে, সাথে রয়েছে এর দুই ফাইনাল এপিসোড যেগুলোকে এনিমেশন না বলে badly drawn caricatures এবং random image flashing বললে মানাবে ভাল। আমরা সহজেই ধারণা করে নিতে পারি শেষের দিকে আনিমেটির ডিরেক্টর Hideaki Anno-র বাজেট ফুরিয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে জগাখিচুড়ি প্লট আর দায়সারা এন্ডিং ছুড়ে মারেননি। বাজেটকে মধ্যম অঙ্গুলি প্রদর্শন করে একটি ক্রিয়েটিভ এন্ডিং প্রদর্শন করেছেন। অরিজিনাল এন্ডিং যদি কারো পছন্দ না হয় তবে তাদের জন্য The End of Evangelion নামক দু পর্বের আলটারনেটিভ এন্ডিংও তৈরি করেছেন তিনি। Bravo my good man.

৩) Interesting action scenes. Meaning, KEWL CRASHIN’ AN’ BLOWIN’ AN’ LAZERIN’ AN’ THE SHITZ! প্রত্যেকটি অ্যাকশন দৃশ্যে প্রতিপক্ষ হিসেবে ইউনিক দানবীয় হানাদার বায়োলজিক্যাল লাইফ ফর্ম তথা এঞ্জেল ব্যবহার করা হয়েছে। একেকটি এঞ্জেলের ডিজাইন এবং attitude একেক রকম এবং একেক জনকে মোকাবিলায় একেক রকমের সমরকৌশল প্রয়োজন। আনিমেটিতে SAO এর মতো কোন kill-em-all-magic-sword কিংবা রিপিটেড strategy নেই।

13 Asuka

 

৪) Deconstruction of the genre. এভানগেলিওনের শুরুটা হয় আর দশটা Mecha আনিমের মতই। বিশাল বিশাল সব মনস্টার ধেয়ে আসছে পৃথিবী তথা টোকিও ধ্বংস করতে আর একদল kawaii টিনেজার জায়ান্ট রোবটে চড়ে লড়াই করছে মানবজাতি রক্ষার্থে। ১৯৭২ সালে রিলিস পাওয়া আনিমে Mazinger Z এর পর থেকে Mecha genre অনেকটা এই ধরাবাঁধা নিয়মেই আটকে ছিল। আশির দশকের আনিমের ধাঁচটাই ছিল সহজ-সরল। কিন্তু Hideaki Anno-র নিওন জেনেসিস এভানগেলিওন এক ফুঁয়ে তৎকালীন Mecha genre এর এই mainstream ধাঁচটাকে উড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম স্টোরিলাইন পরিবেশন করে। NGE এর স্টোরিলাইনে নানান রকম গোপন এজেন্ডা রয়েছে, many things that were not what they seemed, রয়েছে দর্শকের আন্দাজ এবং ধারণাকে বারবার ভুল প্রমাণিত করে মাথা ঘুরিয়ে দেয়া প্লট টুইস্ট, এবং এত সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত পুরো গল্পটিই একটি রহস্যে পরিণত হয়েছে, অনেক প্রশ্নের উত্তর রয়ে গেছে অনুচ্চারিত। তবুও এমন দক্ষতার সাথে সেটি করা হয়েছে যে দর্শক মোটেও অসন্তুষ্টবোধ করবেনা। যেমনটি এর আগে কখনো করা হয়নি এবং এখনও বলতে গেলে করা হয়না। And even when it’s done, it’s usually around the mystery exposition quality of Bleach; so frakk it!

৫) Cute girls and fan service. Yep, NGE has that too. Happy you perverted freak? আনিমেটির প্রত্যেকটি নারী চরিত্র আকর্ষণীও এবং তাদের উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কিংবা সেক্সুয়াল দৃষ্টিভঙ্গিতে ভাগ বসানোর সুযোগ দর্শকদের দেয়া হয়েছে। Hell! স্কাইরাইজ বিল্ডিং সমান উচু রোবটের সাথে আকাশ ছোঁওয়া দানবের লড়াই যেগুলো আবার আধা থার্মোনিউক্লিয়ার বিস্ফোরকের (N² or non-nuclear weapon as said in NGE. Strongest conventional weapon ever created by humankind which are as powerful as nuclear bombs and generate an electro-magnetic pulse, but produce no radioactive fallout.) মুখেও দিব্যি হেঁটে বেড়ায়, ফ্যানসার্ভিস হিসেবে এগুলোই বা কম কিসে। Sure, স্মার্ট Hideaki আমাদের নতুন ধরনের Mecha আনিমে দেখালেও সকল ধরনের দর্শক এবং তাদের আকাঙ্খিত ফ্যানসার্ভিসের কথা ভুলে জাননি। আবার বেশীর ভাগ ডিরেক্টরের মতো টাকা কামানোর সস্তা উপায় হিসেবে ফ্যানসার্ভিসের মাধ্যমে পুরো সিরিসটি পরিপূরণও করে তুলেননি। NGE এর প্রত্যেকটি নারী সেক্সুয়াল আইকনের চেয়েও বেশী কিছু। তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ও অনন্য mindset, দৃষ্টিভঙ্গি, চালচলন এবং পটভূমি রয়েছে।

Asuka এবং Rei, এভানগেলিওনের অন্যতম দুই চরিত্র, যথাক্রমে tsundere ও kuudere archetype এর আদি ও প্রথম উৎস (actually Urusei Yatsura did it first but it was Asuka who made it mainstream)।

৬) Complicated characters. যেমনটা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে প্রত্যেকটি ক্যারেকটারের অনন্য মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি, চালচলন এবং পটভূমি রয়েছে। This is again something that was never done before in such a degree (হয়তোবা Legend of Galactic Heroes-কে এর বাহিরে ফেলা যায়)। এর আগ পর্যন্ত অন্যান্য আনিমেগুলোর প্লট মূলত দুয়েকটা প্রধান চরিত্র কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো এবং বাকিরা ব্যাকগ্রাউন্ড ডেকোরেশন হিসেবে পড়ে রইত। কিন্তু এভানগেলিওনে প্রত্যেকেরই কোন একটি এজেন্ডা আছে এবং তারা কাহিনীকে প্রভাবিত করছে।

 

7) You won’t forget it. No matter how many anime you know of, old or new, this show will forever be remembered… even if you end up hating it. Because there are many series you may like while you watch them but one week later you end up forgetting them or have no reason to rewatch them later on. But not with this show; it is so controversial, many elements of it are still discussed and affect other anime today, and Hideaki keeps changing some details himself just to keep the spice flowing.

Now for some rating:

STORY SECTION : 9/10

ART AND ANIMATION : 9/10

SOUND SECTION : 10/10

CHARACTER SECTION : 9/10

ENJOYMENT SECTION : 8/10

OVERALL : 9/10

Have a nice day before the Third Impact turns you to orange goo.