“শিনরেই তানতে ইয়াকুমো” – Psychic Detective Yakumo review by Shafiul Munir

 

shinrei 1

কেউ যদি বলে সে ভূত দেখতে পায়, তাদের সাথে কথা বলতে পারে, বিশ্বাস করবেন তাকে? নিশ্চয়ই কোন ভাওতাবাজি করে মানুষ ঠকানোর পায়তারা! আপনার সবচেয়ে আপনজন, আদরের ছোট্ট মেয়েটা না ফেরার দেশে চলে গেছে, কেউ যদি এসে বলে তার আত্মাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে সে, কিন্তু তার জন্য একটা কমপেটিবল মিডিয়াম দরকার, তাই খুন করতে হবে তার বয়সী মেয়েদের… কি করবেন? এভাবেই অলৌকিকতার মোকাবেলায় বিভ্রান্ত হয় সাধারণ মানুষ…

ইয়াকুমো অদ্ভুত এক ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে, তার একটা চোখ রক্তলাল রঙের, ঐ চোখ দিয়ে সে দেখতে পায় মৃত মানুষের আত্মা, কথা বলতে পারে তাদের সাথে। এটা কোন আশীর্বাদ না, একটা অভিশাপ, যেখানেই যায় মৃত আর অতৃপ্ত আত্মাদের দুর্দশা দেখতে পায়, শুনতে পায় তাদের হাহাকার। The essence of dead soul is darkness…কিন্তু ইয়াকুমো এক্সরসিসম পছন্দ করে না, তার মনে হয় এই মৃতের আত্মাগুলো যেন মানুষগুলোর রেখে যাওয়া স্মৃতি, সে তাদের সাথে কথা বলে, তাদের কষ্ট আর অনুভূতির কথা শুনে বিভিন্ন অসামঞ্জস্যপূর্ণ, অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার সমাধান করতে থাকে একের পর এক। আর সাইকিকদের দুনিয়ায় এই চোখ শুধু ইয়াকুমোর একার নয়, এই লালচোখের রহস্যটা আসলে কি? মৃত আর অশুভের অন্ধকার জগত থেকে এই রক্তচক্ষু কি ইয়াকুমোকে আলোর পথে নিয়ে আসবে, নাকি ঠেলে দিবে আরো গাঢ় অমানিশায়?

মিস্ট্রি আর সুপারন্যাচারাল জনরার মিক্সচার একটা বেশ মজার একটা এনিমে। মাত্র ১৩ পর্বের, কাহিনী বেশ ভাল, মিস্ট্রিগুলো বেশ স্ট্যান্ডার্ড, ডায়ালগ বেশ চমৎকার, স্মার্ট হিউমার আছে। গানগুলাও ভালো, না দেখার কোন কারণ নেই।
আমার রেটিং সাড়ে ৮…

shinrei 2

shinrei 3

shinrei 4

 

 

 

Fate/Zero – Review by Farsim Ahmed

বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্রতর স্বার্থ বিসর্জন- এই দর্শন অনেক পুরনো, এবং বিতর্কিত। দুটো জাহাজে যদি ৩০০ আর ২০০ জন লোক থাকে, আর যদি কাউকে যদি বলা হয় এর মধ্যে যে কোন একটা জাহাজের মানুষ বাঁচতে পারবে, আর এই জাহাজ বেছে নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয় তাঁর উপর, তাহলে তাঁর চয়েস কি হওয়া উচিত? ৩০০ জনের জাহাজ? কিন্তু সে কিভাবে ২০০ লোকের মৃত্যু পরোয়ানা লিখতে পারবে? ওই ২০০ লোকের জীবনও তাঁর হাতে ছিল, এই চিন্তাটা কি তাকে পীড়া দেবে? 

উড়োবুচি গেন এর ডাক নাম হয়ে গেছে উড়োবুচার। কারন ভদ্রলোক যে আনিমেরই স্ক্রিপ্ট লেখেন তার সবগুলোতেই শেষে ভয়াবহ একটা টুইস্ট থাকে, যা পুরো আনিমের ব্যাপারেই দর্শকের পার্সপেকটিভ পুরো ১৮০ ডিগ্রি চেঞ্জ করে দেয়[মাদোকা ম্যাজিকাতে উইচদের আসল পরিচয়, সাইকো পাসে সিবিল সিস্টেম এর পিছনের রহস্য বা সুইসেই নো গারগান্তিয়াতে হিদিয়াজদের অরিজিন]। তো এহেন উড়োবুচার যখন টাইপ মুনের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ভিজুয়াল নভেল ফেইট/স্টে নাইটের প্রিকুয়েল ফেইট/জিরোর লাইট নভেল নিখলেন, শেষমেশ ভয়াবহ কোন টুইস্ট থাকবে তা জানা ছিল, হয়েছেও তাই, তবে সমস্যাটা হল এই টুইস্ট সম্পর্কে যারা ফেইট/স্টে নাইট অলরেডি দেখে ফেলেছে তারা সবাই অবগত ছিলেন। এখানেই ফেইট/জিরোর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, এর এন্ডিঙ সম্পর্কে সবাই জানে। এ যেন লুলুচ সবার লাস্ট পর্বে মারা যাবে জেনে কোড গিস দেখতে বসা। তাহলে এত বড় দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে ফেইট/জিরো পরিণত হল ইনস্ট্যান্ট ক্লাসিকে? 

ফেইট/জিরোর প্লট এক কথায় দারুন ইনোভেটিভ, ৭ জন ম্যাজিশিয়ান[মাস্টার] ইতিহাসের পাতায় বিখ্যাত হয়ে থাকা চরিত্রদের[সারভেনট] জাদুর সাহায্যে ডেকে আনবে। এরা সাতটা ক্লাসে বিভক্ত, প্রতিটি ক্লাসের রয়েছে ডিফরেন্ট ট্রেইট। তাদের মধ্যে হবে ব্যাটল রয়্যাল, যাকে বলা হচ্ছে হলি গ্রেইল ওয়ার, আর এতে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা মাস্টার-সারভেনট জুটি হবে বিজয়ী। তাদের পুরস্কার? স্বয়ং হলি গ্রেইল, যা কিনা পুরন করবে তাদের যে কোন একটা ইচ্ছা। ৭+৭ জন নেমে পড়ল ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধে, যে যুদ্ধের মধ্যে কোন সৌন্দর্য নেই, কোন মহত্ত্ব নেই, আছে শুধু জেতার তাগিদ, আর এর জন্য যা দরকার হয় তাই করা। আইঞ্জবারন পরিবারের প্রতিনিধি মেইজ কিলার এমিয়া কিরিতসুগু, অভিজাত আর্চিবোল্ড পরিবারের কেনেথ, তার আন্ডারএচিভিং ছাত্র ওয়েভার ভেলভেট, তোসাকা পরিবারের তকিয়মি, বিকৃত রুচির এক খুনি উরিউ রিউনোসকে, মাতউ পরিবারের কারিয়া, তকিওমির শিস্য কতোমিনে কিরেই-সবারই নীতি একটাই, বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী। 

ক্যারেক্টার ডিসাইন সম্ভবত আনিমেটার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। ২৫ পর্বের এমন খুব বেশি আনিমে দেখা যায় না যেখানে ৬-৭টা আইকনিক এবং প্রচণ্ড রকম জনপ্রিয় ক্যারেক্টার আছে, ফেইট/ জিরো এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। যেখানে বাংলাদেশে খুব বিখ্যাত আনিমেগুলো ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট করতে ২৫ পর্বের বেশি নেয়, সেখানে ফেইট/জিরো নিপুণভাবে সবগুলো চরিত্রের এম্বিশন, তাদের মনের অন্ধকার জায়গাটুকু, তাদের আশা-আকাঙ্খা-অনুভূতি প্রকাশ করেছে। এমিয়া আর কতোমিনের ইয়িন-ইয়াং পার্সোনালিটি, গিল্গামেশের এরোগেন্স, রাইডারের বক্তৃতা, সেবারের অতীতের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাওয়া, এই সব সবকিছুই ছোটখাটো কিন্তু শক্তিশালী সিকোয়েন্স, আর সেই সাথে উপযুক্ত ডায়লগ থ্রোইং দিয়ে দেখানো হয়েছে। 

ফেইট/জিরোর এনিমেশনে ইউফোটেবল যে কাজ দেখিয়েছে, এক কথায় আমার দেখা বেস্ট, এর কাছাকাছি কাজ দেখেছিলাম কারা নো কিওকাই(এটাও ইউফোটেবলের) আর কতোনোহা নি নিওয়াতে। অবশ্যই কমপক্ষে ৭২০ পিতে দেখবেন।

ওপেনিং আর এন্ডিং সংগুলো পারফর্ম করেছে কালাফিনা আর হারুনা লুনা, যথেষ্ট শ্রুতিমধুর কাজ, আর ব্যাকগ্রাউনড মিউজিকগুলো ইয়ুকি কাজিউরার করা। ভদ্রমহিলার কাজ নিয়ে আশলে বলার আর কিছু নেই, শুনলেই বোঝা যায় এগুলো তাঁর তৈরি, এবং যে কোন দৃশ্যকে মিউজিকগুলো কমপ্লিমেন্ট করে গেছে দারুনভাবে। কয়েকটা লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি-

http://www.youtube.com/watch?v=e499spqrIwU
http://www.youtube.com/watch?v=aHPXTnCSzJw
http://www.youtube.com/watch?v=mhK9Xt2rxes

ভয়েস একটিং হয়েছে অসাধারন, বিশেষ করে এমিয়া আর কতোমিনের। গিল্গামেশের রাজকীয় এক্সেনট শোনা বরাবরই খুব বড় ট্রিট ছিল, আর তকিওমির ভয়েস দিয়েছে স্বয়ং আইজেন, একদম কেইকাকু মত[আসলেই কি তাই?]

শুরু করেছিলাম ফেইট/জিরোর দুর্বলতা দিয়ে। সম্ভবত এন্ডিঙ এর সবচেয়ে দুর্বল দিক। কিন্তু একই সাথে এটাও সত্যি, যেহেতু গেনকে মনে রাখতে হয়েছে যে এর পরে একটা সিকুয়েল আছে যেটা আগেই রিলিজ পেয়ে গেছে, উনি এর চেয়ে ভাল আর কোন ফিনিশিং টাচ দিতে সম্ভবত পারতেন না। 

ফেইট/জিরো আসলে কেন ইউনিক? এটা একটা পরিপূর্ণ প্যাকেজ, বিখ্যাত আনিমেগুলো যেখানে মাঝে মাঝে বিরক্তিকর মনে হয়[মনস্টার, ডেথ নোট(লাইটের স্মৃতি হারানোর পর) ইত্যাদি], সেখানে ফেইট/জিরোর প্রতিটি পর্ব প্রচুর ম্যাটেরিয়ালে ভরপুর, আর উত্তেজনায় ঠাসা। ক্যারেক্টারদের ফিলসফি, অসাধারণ সব ফাইটিং সিকোয়েন্স[সোরড ফাইট তো আছেই, সেই সাথে মোটরসাইকেলের সাথে রথের রেস, গানফাইট, জলপথে যুদ্ধ, এমনকি ডগফাইটও আছে], ঐতিহাসিক ক্যারেক্টারদের মোটামুটি একুরেট রেফারেন্স[পুরোপুরি একুরেট নয়], যথেষ্ট সিরিয়াস কাহিনি হওয়া সত্ত্বেও কাহিনি কোথাও অবোধ্য মনে হয়নি, যে কোন বয়সের দর্শক এটা উপভোগ করতে পারবে।

ফ্র্যাঙ্কলি, ইদানিং একটা বাজে ট্রেনড চালু হয়েছে, মাঙ্গার একটা চ্যাপ্টার বের হলেই বলা হচ্ছে এপিক চ্যাপ্টার, এর মাধ্যমে এপিক শব্দটা তাঁর আসল অর্থ হারিয়ে ফেলছে। আনিমে জগতে যদি লিটারালি কোন এপিক কাহিনি থাকে, তাহলে সেটা হচ্ছে বারসারক, আর ফেইট/জিরো। 

আর একটা কথা অবশ্যই পয়েন্ট আউট করতে হবে, ফেইট/ জিরো খুব ভাল টিভি সিরিয়াল ম্যাটেরিয়াল। গেম অব থ্রনস এর মত খরচ করলে আর পাকা অভিনেতা/অভিনেত্রি থাকলে এটা সর্বকালের সেরা সিরিয়ালগুলোর একটা হতে পারে। 

তো হাতে যদি কোন আনিমে থাকে, আপাতত সেটা অন হোলড রেখে ফেইট/জিরো দেখা শুরু করে দিন। যদি দেখা শেষ করে কমপক্ষে ৮ না দিতে পারেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনি এর চেয়ে অনেক বেশি ভাল কিছু আনিমে দেখেছেন, কষ্ট করে আমাকে মেসেজ করবেন বা এই পোস্টে কমেন্ট করে যাবেন। অনেক দিন ভাল আনিমে দেখা হচ্ছে না। আপনার সাজেশনগুলো দিয়ে আমাকে চিরকৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করবেন।

রিভিউর এখানেই শেষ, এবার আমার নিজস্ব কিছু রানটিং। 

আমি আসলে রিভিউ লিখতে পারি না, কারণ মূলত এত বড় কিছু লেখার মত তেল নেই। কিন্তু যখন কোন বাংলাদেশী আনিমে গ্রুপের থ্রেডে দেখি ১০ এ ১০ ম্যাটেরিয়াল আনিমে নিয়ে আলাপ চলছে, আর তাতে কোড গিস, মনস্টার, ডেথ নোট, ফুল্মেতাল আল্কেমিষ্ট এর রাজত্ম(কিছু বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আবার এখানেও লাফিয়ে এসে বলে নারুতো/ব্লিচ/ড্রাগনবল জি সর্বকালের সেরা, এবং আশঙ্কার কথা হল এদের সংখ্যাটা রীতিমত বড়), ফ/জ এর তেমন কোন উল্লেখ নেই(কোন এক অজানা কারনে ফ/জ বাংলাদেশে তুলনামুলকভাবে কম আলোচিত) তখন হতাশ দৃষ্টিতে মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। তো তাদের জন্যই, Please do yourselves a favor, watch the epicness that is Fate/Zero, “epic” in both literal meaning and the meaning used in daily life these days.

fate zero

 

Grave of the Fireflies – Reactional Post by Monirul Islam Munna

এনিমে দেখেও মন খারাপ হয়ে যাবে, এমনটা হয়তো সাধারণত কেউ চিন্তা করে না। কিন্তু প্রচুর এমন অনেক মুহূর্ত রয়েছে মনটা যেন ভালো হতেই চায় না। মনে ঘুরে ফিরে একই প্রশ্ন জাগে, একটু ভিন্ন কিছু না হয় হতো। এমন একটা অনুভূতির মধ্যে ফেলে দেওয়ার মত একটা মুভি ‘Grave of fireflies’

স্টুডিও গিব্লির মুভি ‘গ্রেভ অফ ফায়ার ফ্লাইস’, এমন একটা স্টুডিওর নাম শুনলেও ১ম এই আমরা ধরেই নি, ভালো কিছু একটা আছে। হ্যাঁ, এই মুভিটাতেও আছে, শুধু আছেই যে তা নয়, হয়তো আপনার চোখ দিয়ে নিজের অজান্তে ছলছল করে পানি পরবে!!!

২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানে বসবাসরত ২ ভাই বোন ‘সেতস্কু’ and ‘সেইতা’কে নিয়ে মুভিটা। যুদ্ধের দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে মাকে হারিয়ে, আর সৈনিক বাবার কোন খোঁজ না পেয়ে এক নিকট আত্মীয়ের বাসায় ঠাই নে ২জন। কিন্তু সেই আত্মীয়ের কাছে বেশ অবহেলিত হল ২ ভাই বোন। সৈনিকের ছেলে বলে, সেতস্কু অবহেলা মেনে না নিয়ে বোনকে নিয়ে পরিত্যক্ত এক স্থানে আশ্রয় নেয়। কিন্তু নিজের কাছে সম্বল বলতে কিছু নেই, কোন মতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করার চেষ্টায় লিপ্ত সেতস্কু আর সেইতা। আর সাথে রাতের তারার মত আলো ছড়ানো জোনাকি পোকাগুলা যেন ছোট প্রান ২টাকে আবার সতেজ আর সজিব করে তুলে। 

সেই ১৯৮৮ সালের মুভি কিন্তু মুভিটার আর্ট দেখে সত্যিই মুগ্ধ। এতো ভালো লেগেছে শুধু আর্টওয়ার্কের জন্য ১০ এ ১০ দিয়ে দিতে ইচ্ছে করবে। সাথে ভয়েস অ্যাক্টরগুলোর অ্যাক্টইং আর ওএসটিগুলোও বেশ ভালো। মাঝে মাঝে এনিমের কাল্পনিক জগত থেকে বাস্তব জগত যে কতটা কঠিন বা কষ্টের হতে পারে, সেই অনুভূতি সৃষ্টির জন্য ভিন্ন কিছুর মধ্যে খুজতে যেতে হবে না, এমন একটা এনিমে দেখেই সেটা ফীল করতে পারবেন।

Grave of the Fireflies

 

Pokemon Rants by Monirul Islam Munna

১. Metapod vs metapod একটি অমানবিক, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।

খুব বেশী এনিমে দেখি নাই। কিন্তু কত ফাইট দেখতে গিয়ে যে হাতের লোম দাঁড়িয়ে গেছে, শরীর কেপে উঠেছে, নিশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে, সে ফাইট গুলার একটা লিস্ট করতে গেলে হয়তো, পেইজ ফুঁড়িয়ে যাবে। তবে এইরকম এপিক লেভেলের ব্যাটেল আজ পর্যন্ত দেখতে পারেনি,কোন এনিমেতে। আজ পর্যন্ত কেউ ধারের কাছে যেতে পারেনি এইরকম অমানবিক, রক্তক্ষয়ী, একশনে ভরপুর ব্যাটেলে!!! পকেমনের এই ব্যাটেলটা আমার জীবন ধন্য করেছিল ছোট বেলায়,আজও ঘুমাতে জাবার আগে একবার চিন্তা করি, আমি এতো লাকি কেমনে হলাম?? এমন একটা যুদ্ধ দেখতে পারে আমি চিরদন আনন্দিত।
Metapod Vs Metapod!! ওহ মাই, এখনই হাত কাপছে এটা লিখে লিখতে!!!

Pokemon 1

 

২. নিকি মিনাজের ইন্সপিরেশন ‘জিনক্স’

গোপন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, বিখ্যাত, মেধাবী, সুরেলা, সুশীল সঙ্গীতশিল্পী এবং নর্তকী ‘নিকি মিনাজ’ পোকেমনের অনেক বড় ফ্যান। ছোটবেলায় অনেক সুইট, কিউত থাকার পরও, পোকেমনের প্রতি তার গভীর টান থাকার কারণে এবং তার সব চেয়ে প্রিয় পকেমন ‘জিনিক্স’ এর রূপে প্রবাভিত হয়ে উনি সব সময় জিনিক্সের মত সেজে থাকতে পছন্দ করেন। মার্স গ্রহে দাঁড়িয়ে এমন একটা ফ্যানের জন্য আমার পক্ষ থেকে স্যালুট
#রিয়াল_এনিমে_লাভার

Pokemon 2

 

৩. একজন মেজিকারপের মনের কথা

অত্যন্ত ব্যাডএস একটা চরিত্র, পুরা এনিমেটা মাতিয়ে রেখেছে। কত কিছু শিখিয়েছ এই ছোট্ট মাছটি। ছোট বলে নীরবে সহ্য করে গেছে সকল অপমান। ছোট বলে কত না অধিকার খুন্ন করেছে, বড় বড় পকেমন গুলো। কিন্তু ছোট্ট মেজিকারপ কোন অপমান, কোন দিন ভুলেনি। তিলে তিলে মনের মধ্যে বেঁধে রেখেদে, কে কখন হেয় করেছে তাকে!!! শত আঘাত দিয়ে ক্ষত বিক্ষত শরীরে হয়ত সেই অত্যাচারের প্রতিবাদ করে উঠতে পারেনি মেজিকারপ। কিন্তু ঠিকই জেগে উঠবে একদিন ও, ধ্বংস করে দিবে চারপাশ, প্রতিশোধের আগুনে ছাড় খার করে অত্যাচারী সেই পকেমনদের!!!
~ছোট বলে কাউকে অপমান করা উচিৎ না। মনে রাখবেন ঘুমিয়ে আছে সকল পিতা সব শিশুদের অন্তরে!!!
#Magikarp

Pokemon 3

৪. কেউ জিগ্লিপাফকে বালুবাসে না

কত সংগ্রাম, কত সাধনা, কত পরিশ্রম করে সঙ্গীত জগতের সান্নিধ্য পেতে নিরলশ খেটে গেছেন এই পোকেমন। রাতের পর রাত জেগে, আবার কখনও কাক ডাকা ভোর থেকে সময়ের দিকে না চেয়ে রেওয়াজ করে গেছেন। এতো সাধনার পরও ২টা লাইন গান শুনতে চায় না কেউ, মধুর সুকণ্ঠি স্ত্রাগ্লিং এই পোকেমনের। এইভাবে কত প্রতিভা হারিয়ে যাচ্ছে, এই পোকেমন জগত থেকে, কে জানে। জিগ্লিপফকে কেউ বালুবাসে না, ভ্যাআআআআআআআআআআআআআআ

 

Pokemon 4

রিভিউ নয়, ব্যক্তিগত অনুভূতি_ বাকুমান – লিখেছেন সাদিয়া হুমায়রা মৌনতা

1558622_10201703298878787_1222419740_n

Baku(chi) Man(ga)- Gambling Manga
রাইটারঃ অহবা সুগুমি
আর্টিস্টঃ অবাতা তাকেশি
আনিমে জেনারে স্লাইস অফ লাইফের উৎকৃষ্ট উদাহরণ ‘বাকুমান’ আনিমেটি। জীবনের প্রতিটা দিকই এই আনিমেতে সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ডেথ নোট এর পরেই অহবা সুগুমি আর অবাতা তাকেশি কম্বোর আরেকটি সৃষ্টি এই মাঙ্গা। যদিও ডেথ নোট নামটাই একটা সেলিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে দেখার আগেই, কিন্তু যা পাবেন তাতে আশাহত হবেন না, বরং বিস্মিত ও মুগ্ধ করবে মাঝে মাঝে। তারা তাদের জনপ্রিয়তা ও মানদন্ড অক্ষুণ্ন রেখেছেন।

প্লট সংক্ষেপঃ মাশিরো মরিতাকা ও আকিত তাকাগি দুই নাইন গ্রেডের ছাত্র। তাকাগির প্রেরণায় ও আগ্রহে মাশিরো রাজি হয় তাকাগির লেখা কাহিনীকে মাঙ্গার রূপ দিতে। তাকাগি-রাইটার ও মাশিরো-আর্টিস্ট, এভাবেই একদিন ওদের জীবনের যুদ্ধ শুরু হয় এমন এক মাঙ্গা সৃষ্টির যা মাস্টারপিস হিসেবে আলোচিত হবে, এবং পরবর্তীতে আনিমে হবে। প্রেরণা হিসেবে করেছিল মাশিরোর চাচা এবং আযুকি মিহোর সাথে তার প্রতিশ্রূতি এবং অনুঘটক হিসেবে ছিল তাকাগির উচ্ছাভিলাষ। এইযাত্রার শুরু থেকে শেষ নিয়েই এই আনিমেটা।
প্রেরণা, প্রতিদ্বন্দিতা, প্রতিযোগিতা, সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা, অনুরাগ, ভালোবাসা সবই খুঁজে পাওয়া যায়। কিছু অংশে আলোকপাত করা হলো-

1512349_10201703181475852_2092669348_n

প্রেরণাঃ three rule of being mangaka if you arn’t genius
1. be conceited (believe you can do better than anyone else)
2. work hard
3. be lucky
এই কথাটি আসলে যেকোন লক্ষ্য পুরণ করার জন্য সত্যি, শুধু মাঙ্গাকা হওয়ার জন্যই না। সবসময়ই আমরা লক্ষ্য তৈরি করি, পরিশ্রম করি। কিন্তু ভুলে যাই সৌভাগ্যও একটা বড় অবদান আছে। তাছাড়া আমাদের হীনমন্যতাই মাঝে মাঝে আমাদেরকে পিছিয়ে নিয়ে যায়, সামনে আগাতে হলে কিছু দাম্ভিকতা থাকতেই হবে। তাকাগি ও মাশিরোর মাঙ্গা এডিটর কে নিয়ে আমরা ভাগ্যের উদাহরণ দেখতে পাই। একটা ভালো মাঙ্গা সৃষ্টী করার জন্য একজন ভালো এডিটর ও দরকার। এবং একজন উইনার এডীটর পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার। আর দেখা যাবে তাদের দুজনের একগুয়েমি সিদ্ধান্ত তাদের এগিয়ে নিয়ে গেছে! তাদের পরিশ্রম তাদেরকে সহয়তা করেছে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগের কারণেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছে।

1531599_10201703200756334_1864367_o

অনুরাগঃ Love has many different types of form
এই আনিমেতে অনেক ধরনের রোমান্স দেখতে পাই। প্রতিটাই প্রতিটা থেকে আলাদা এবং অনন্য। মাশিরো-মিয়োর প্ল্যাটোনিক ভালোবাসা যেমন আপনাকে বিস্মিত করবে তেমন তাকাগি-কায়া’র সহজ সম্পর্ক আপনাকে আনন্দিত করবে। তাছাড়া পার্শ্ব চরিত্রের প্রেমের একটা বিরাট ভূমিকা আছে এই আনিমেতে। আইকো, হিরামারু, নাকাই, আওকি এদের প্রত্যেকের অনুভূতির গভীরতা, উত্থান-পতন, কৌতুক, হাস্যরস, দৃঢ়তা, কলহ খুব সুন্দর ভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

 

1537414_10201703198116268_1552219425_o

প্রতিদ্বন্দিতাঃ “Eternal rivals, it should be written as formidable enemy but pronounced friend.”
শক্তিশালী ও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দির উপস্থিতি এই আনিমেতে এক আকর্ষিত ও ভিন্ন দিক। ততকালীন মাঙ্গাকাদের নিয়ে গঠিত ফুকুদা টিম এর যেকাউকেই পছন্দ হবে,তারা তাদের পরস্পরের কাজকে সম্মান করে, অনুপ্রেরণা দেয়, সাহায্য করে আবার প্রতিযোগিতাও করে।এইযি দ্য জিনিয়াস ও তাকাগি-মাশিরো দুই পক্ষই অপর পক্ষকে দেখে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে যায়। নাকামা শব্দের নতুন এক দিক তুলে ধরা হয়েছে। টিপিকাল শৌনেন এর মত ব্যাটেল ফিল্ড না থাকলেও নিজেদের দক্ষতা দিয়ে তাদের মাঝের যে এগিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ, সেটা কোন অংশে কম না।

সবশেষে, এই আনিমে থেকে আপনি ইন্সপায়ার হওয়ার প্রচুর কারণ ও সুযোগ পাবেন। আপনার জীবন বদলে যাওয়া টাইপ অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।এবং স্বাগতম আপনাকে এই দুই তরুণের মাঙ্গাকা হওয়ার সফর-যাত্রায়। 🙂

 

Animekhor top-chart 2013 – Best male seiyu – Kamiya Hiroshi

বেস্ট মেইল সেইয়ু পোলে কামিয়া হিরোশির জয় ছিল বিশাল ব্যবধানে, মোট ভোটের অর্ধেকের বেশি পেয়ে। হিরোশি এই বছর দারুন জনপ্রিয় আর মেজর কিছু রোল করেছেন, যার মধ্যে আছে আরারাগী কয়োমি, লেভি, ট্রাফালগার ল, আকাশী সেইজুরোর মত ক্যারেক্টাররা. কাজেই তার জয়ের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ ছিল না. নবুহিকো ওকামতো আর সুগিতা তমোকাজু শুধুই ব্যবধান কমিয়েছেন।

kamiya-hiroshi

 

Animekhor top-chart 2013 – Best Opening Theme – Guren no Yumiya (Shingeki no Kyojin)

২০১৩ সাল যেন Shingeki no Kyojin-এ মাতাল হওয়া এক বছর। আর সবাইকে মাতিয়ে রাখার জন্যে এই আনিমের যেসব দিক সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে, তার একটি হল এর প্রথম ওপেনিং ট্র্যাক Guren no Yumiya। Linked Horizon-এর পারফর্ম করা এই ট্র্যাকটি এবারের এনিমখোর বেস্ট ওপেনিং সং (২০১৩) পোলে ৩৫.৭১% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা Psycho-Pass এর ওপেনিং সং Abnormalizeকে (১৬.০৭% ভোট) বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে।

দেড় মিনিটের এই ওপেনিং ট্র্যাকটির জনপ্রিয়তা বুঝিয়ে উঠানো সহজ নয়। একটি সুন্দর উদাহরণ হল, Shingeki no Kyojin-এর ওপেনিং ট্র্যাক হিসাবে দর্শকদের কানে পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যেই ইউটিউবে এই গানের বিভিন্ন জনের পারফর্ম করা কভার আপলোডের হিড়িক উঠে যায়। গানটির লিরিক্সে পুরো আনিমে সিরিজটির আবহ ফুটিয়ে তুলা হয়েছে। অসম্ভবকে সম্ভব করে জয় ছিনিয়ে আনার মানসিকতা প্রকাশের লিরিক্স এবং সাহস জাগানোর সুর ও ছন্দ পুরো গানটিকে সবার পছন্দের তালিকায় উপরের দিকে তুলে আনে। যারা আনিমে সিরিজটি খুবই পছন্দ করে তাদেরকে তো বটেই, এমনকি যারা এই সিরিজটিকে তেমন পছন্দ করে না, তাদেরকেও গানটির তালে তালে মাথা দুলাতে দেখা গিয়েছে!  

আনিমে সিরিজ শেষ হবার বেশ কিছুদিন আগেই Linked Horizon তাদের এই গানের ফুল ভার্শন রিলিজ দেয়, এবং আবারও গানটি নিয়ে একটি ক্রেজ ছড়িয়ে পরতে দেখা যায় সবার মধ্যে।গানটি এতই জনপ্রিয় হয়ে উঠে, এই গানের সুরে অন্যান্য অনেক আনিমের AMV তৈরির প্রতিযোগিতা দেখা যায় অনলাইনে। এমনকি বিভিন্ন দেশের সিনেমার নাচের অংশে এই গানের সুর ঢুকিয়ে AMV তৈরিও হয় বেশ কিছু!

২০১৩ সালটি দেখেছে বেশ কিছু দুর্দান্ত ওপেনিং সং। Psycho-Pass এর Abnormalize, Log Horizon-এর Database, Amnesia-এর Zoetrope, এমনকি Shingeki no Kyojin-এরই আরেক ওপেনিং সং Jiyuu no Tsubasa। তবে সব কিছু ছাপিয়ে দাপটের সঙ্গে প্রথম স্থানটি দখল করে নেয় আনিমে দর্শক এবং আনিমে দেখে না এমন সব মানুষের কাছেও বিখ্যাত হয়ে উঠা Guren no Yumiya গানটি। অভিনন্দন Linked Horizon ও Team Shingeki no Kyojinকে!

https://www.youtube.com/watch?v=kKzum5xCGjQ

Shingeki.no.Kyojin.full.1474341

Animekhor top-chart 2013 – Best soundtrack – Shingeki no Kyojin

বীরের বেশে জয় বোধহয় এটাকেই বলে! Shingeki no Kyojin প্রথম হয়েছে ৫০ ভোট পেয়ে, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে Kill la Kill এবং Psycho-Pass উভয়ে পেয়ছে ৭টি করে ভোট!মোট ভোটের ৭১%-এরও বেশি ভোট পেয়ে জিতে যাওয়া এটাই বুঝিয়েছে যে Shingeki no Kyojin এবার শুধু আনিমে হিসেবেই নয়, এর সাউন্ডট্র্যাকও এ বছরের সব আনিমের সাউন্ডট্র্যাককে ছাপিয়ে অন্য উচ্চতায় উঠে গিয়েছে!

রক্ত গরম করা ওপেনিং ট্র্যাক Guren no Yumiya এবার এতটাই মাতিয়ে রেখেছিল সবাইকে, পুরা সিরিজের যে কয়টি পর্বে এই ট্র্যাক ওপেনিং হিসেবে ছিল, সেসব কয়টি এপিসোড দেখবার সময় প্রায় অধিকাংশ দর্শকই ওপেনিং ট্র্যাক স্কিপ না করেই পুরা এপিসোড দেখেছে!!! আনিমের ইতিহাসে খুব কম আনিমের ওপেনিং-ই এরকম ছাপ রাখতে পেরেছে দর্শকের মনে। Guren no Yumiya-এর সাফল্যের হাত ধরেই আসে দ্বিতীয় ওপেনিং ট্র্যাক Jiyuu no Tsubasa, এ বছরের আরেকটি বিখ্যাত ওপেনিং ট্র্যাক।

 

শুধু ওপেনিং ট্র্যাকই নয়, এই সিরিজের দুটি এন্ডিং Utsukushiki Zankoku na Sekai ও Great Escapeও এবার অসাধারণ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এনিমখোরের অন্যান্য পোলগুলিতে ওপেনিং এবং এন্ডিং ট্র্যাকে এই ৪টি গানের প্রত্যেকটির পাওয়া ভোট দেখলেই বলে দেওয়া যায় দর্শকদের শুধু নির্মম রক্তাক্ত উত্তেজনাই উপহার দেই নি Shingeki no Kyojin, দিয়েছে মন ছুঁয়ে দেওয়া কিছু মারাত্মক সুন্দর কিছু গানও!

Shingeki no Kyojinএর এবার দুটি OST Album এসেছে, প্রথম এলবামে ছিল ১৬টি ট্র্যাক, দ্বিতীয়টিতে ছিল ১১টি, যার অধিকাংশই প্রথম এলবামের রিমিক্সড ভার্শন। প্রথম এলবামে Bauklotze -এর মতন হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গান ছিল, তেমনই ছিল টাইটানদের সামনে এনে দেবার মত মনে ভয় জাগানিয়া ট্র্যাক XL-TT। চোখে পানি এনে দেওয়ার মত ট্র্যাক Vogel im Kafig যেমন ছিল, আবার ছিল বুকে সাহস এনে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরার মন্ত্র দেওয়া ট্র্যাক Rittai Kidou কিংবা Counter Attack Mankind। ছিল DOA, The Reluctant Heroes ও Call Your Name নামের আরও তিনটি গান, যা শুনে শ্রোতার মনে হবে তিনি এখন টাইটানদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন নিজের কোন এক বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে, পাশে আছে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্যে লেভি আর মিকাসা, আছে টাইটানফর্মে থাকা এরেন ও বুদ্ধি বাতলে দেওয়া আরমিন!!!

 

আরও একটি ট্র্যাকের কথা না বললেই নয়, মোট ২৭টি ট্র্যাকের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় ট্র্যাক Attack on Titan, পুরো আনিমে সিরিজের প্রায় সব পর্ব মাতিয়ে রাখা এই ট্র্যাক শেষ পর্বে এসে এক বিশেষ মুহুর্তে এমন সময়ে বেজে উঠে যা শুনে রীতিমত লাফিয়ে উঠতে হয় উত্তেজনায়!  

মনের অবস্থা যাই থাকুক না কেন, শ্রোতাকে মুহুর্তেই টাইটানদের সাথে যুদ্ধের জন্যে কল্পনায় আনিমে জগতে নিয়ে যেতে সক্ষম Shingeki no Kyojinএর সব ট্র্যাকগুলি।আর শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁতে পারার এমন সাফল্যই এনে দিয়েছে এবছরের সেরা সাউন্ডট্র্যাক-এর খেতাব জিতে নিতে পারার সৌভাগ্য!

ধন্যবাদ Sawano Hiroyukiকে এমন দুর্দান্ত সব ট্র্যাক উপহার দেবার জন্যে! ধন্যবাদ Mika Kobayashi, Yoko Hikasa ও Cyuaকে, কয়েকটি মন ছুঁয়া গান আমাদেরকে উপভোগ করতে দেবার জন্যে! ধন্যবাদ Linked Horizon, mpi & CASG, Cinema Staff, Aimee Blackshlegerকে, পুরো বছর তাদের ট্র্যাক দিয়ে আমাদের মাতিয়ে তুলবার জন্যে!ধন্যবাদ Team Shingeki no Kyojinকে!  

Shingeki.no.Kyojin.full.1474341

 

মাঙ্গা- ওয়াতাশিতাচি নো শিয়াওয়াসে না জিকান/ Watashitachi no Shiawase na Jikan রিভিউ by Asfina Hassan Juicy

(Our Happy Hours/Our Happy Time)
ভলিউম- ১টি (৮ চ্যাপ্টার- মাত্র !!)
জেনরা- স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্স, সেইনেন, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা

রোমান্স মাঙ্গা পড়তে গেলেই বেশিরভাগ সময় মাথায় প্রথম যে ধারণা আসে তা হল স্কুল সেটিং-য়ে একটা একটু অন্যরকম মেয়ে আর বেশ সুদর্শন একটা ছেলের ভালোবাসার কাহিনি।তবে রোমান্স জেনরারই এই মাঙ্গা আপনাকে নিয়ে যাবে এর থেকে সম্পূর্ণ অন্য এক জগতে…বাস্তবতার অনেক কাছে কিন্তু অনেক গভীরে…উপলব্ধি করাবে জীবনের কিছু পরম সত্য, কিছু নিষ্ঠুর দিক ও কিছু সুন্দর আশাপূর্ণ মুহূর্ত…

মুতোউ জুরি একজন মাঝবয়সী ফর্মার পিয়ানিস্ট যিনি ৩ বার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছেন। জুরির মা তার কন্যার এরূপ আচরণ সহ্য করতে না পেরে তাকে তার আন্টি মনিকার তত্ত্বাবধানে রেখে আসেন, যিনি একজন চার্চের পাদ্রী। আন্টি মনিকার সাথে জুরি আগে থেকেই পরিচিত এবং বলা যায় তিনিই জুরির সবচেয়ে আপনজন, এমনকি তার নিজের মা থেকেও। আন্টি মনিকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মানসিক সাহায্য করত। জীবনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য জুরিকে তিনি তার সাথে জেলে নিয়ে যান তেমনি এক আসামীর সাথে দেখা করতে। সেখানে জুরি পরিচিত হয় ইয়ু নামের সেই আসামীর সাথে যে তিনজন মানুষকে একবারে খুন করেছে এবং তার দন্ডের দিনগোনার সময় আবার বেশ কয়েকবার নিজেকেই খুন করতে চেষ্টা করেছে ! কি ধরনের নিষ্ঠুরতা জুরি আর ইয়ুকে ফেলে দিয়েছে এমন আশাহীন কষ্টকর জীবনে? কি তাদের পেছনের কাহিনী? এবং কিভাবে তারা রক্ষা পাবে পৃথিবীর এই ঘৃণা ও কষ্টের বেড়াজাল থেকে?

ডার্ক থিমের হলেও মাঙ্গাটির প্রতিটি চ্যাপ্টার রিফ্রেশিং ! সবার জীবনেই এক ধরনের কষ্ট, না পাওয়া থেকে থাকে কিন্তু আবার সবার জীবনেই থাকে একটু সুখ। স্বল্পক্ষণের জন্য হলেও প্রত্যেকের জীবনেই আসে একটু আশা, একটু ভালোবাসা, একটু মুক্তি। কষ্টের জন্য জীবনের প্রতি, মানুষের প্রতি ঘৃণা থেকে মুক্তি দিতে পারে সামান্য এসব জিনিসই। মাত্র ৮ চ্যাপ্টারের মধ্যে জীবনের এই বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে চমৎকারভাবে! এই মাঙ্গাতে আপনি পাবেন না কোনো মাথা উল্টানো প্লট টুইস্ট, জটিল অ্যাকশন বা থ্রিল…এমনকি পাবেন না কোন মন ছুঁয়ে যাওয়া রোমান্টিক মুহূর্ত, গভীর ভালোবাসার বন্ধন বা তীব্র আকাঙ্ক্ষা… শুধু পাবেন দুইজন মানুষের অতি সাধারণ কিন্তু একইসাথে অসাধারণ জীবনের এক অধ্যায়।

মাঙ্গার আর্টের কথা বলতে গেলে সহজভাবে বেশ সিম্পল কিন্তু সুন্দর। কাহিনীর সাথে বেশ ভালই সমন্বয় করেছে। কাহিনির জন্য একদম পর্যাপ্ত ও পারফেক্ট করে এভাবে আঁকা তবে অভাব না রাখা আসলে খুব কম মাঙ্গাকাই পারেন।

শেষে বলা যায়, এক কথায়, চমৎকার স্লাইস অফ লাইফ। ৮ চ্যাপ্টার- একদিন বসলেই খতম! মাঙ্গা পড়েন আর না পড়েন ট্রাই করে দেখতে পারেন। দিনশেষে হয়ত দিতে পারে আপনার জীবনেরই কোন প্রশ্নের উত্তর, করে তুলতে পারে আবেগি ও অনুপ্রেরণা দিতে পারে এগিয়ে যাওয়ার পথে

পরিশেষে রেটিং-
মাল রেটিং – ৯.১০
আমার রেটিং – ১০ (কাটার কিছু পাইলাম না )

 

Persona 4-Short anime review by ইশমাম আনিকা

Persona-4-p4-animation-anime-series-watch-online

 

Anime: Persona 4
Genre: action, mystery, fantasy

হাইস্কুল লাইফে ফ্রেন্ড দিয়ে ঘিরে থাকা এবং তাদের সাথে সময় কাটানো যেকোন মানুষের সবচেয়ে সুন্দর সময়। এনিমের শুরুতেই Yu Narukami কে টোকিও ছেড়ে ইনাবা নামক ছোট্ট, শান্ত শহরে আসতে হয় কারণ তার বাবা মা ট্যুরে যাচ্ছিল। সেখানে স্কুলে ভর্তি হয়ে আস্তে আস্তে যখন দু একজনের সাথে কথা শুরু হয় তার, ঠিক তখনই হঠাত্‍ অদ্ভুতভাবে মানুষ মারা যেতে শুরু করে। ইয়্যু তার নতুন বন্ধুদের কাছ থেকে মিডনাইট চ্যানেলের কথা জানতে পারে এবং ওরা মৃত্যুর সাথে এই চ্যানেলের সম্পর্ক খুঁজতে গিয়ে আজব এক দুনিয়ায় গিয়ে হাজির হয় ও সেই দুনিয়ার বাসিন্দা “কুমা” র সাহায্য নিয়ে একে একে রহস্যভেদ করতে থাকে এবং হত্যাকারীকে খুঁজতে থাকে।

N. B. – প্রথম ২ ৩ টা পর্ব মনোযোগ দিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক! ইগরকে কখনো ইগনোর করা যবে না, তাকে পাওয়া যাবে প্রতি এপিসোডের শুরুতেই!