কোইযোরাঃ সেতসুনাই কোইমোনোগাতারি [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

koizora-setsunai-koimonogatari

কোইযোরাঃ সেতসুনাই কোইমোনোগাতারি
ইংরেজি নামঃ স্কাই অফ লাভ, লাভ স্কাই-স্যাড লাভ স্টোরি
জানরাঃ স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, রোমান্স, শৌজো, ট্র্যাজেডি
চ্যাপ্টারঃ ৩০
ভলিউমঃ ১০
মাঙ্গাকাঃ হানেদা ইবুকি (অঙ্কন), মিকা (গল্প)
মাইআনিমেলিস্ট স্কোরঃ ৮.১৩
ব্যক্তিগত স্কোরঃ ৯/১০

শৌজো মাঙ্গা নিয়ে কমবেশি সবারই বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যায়। যার মাঝে উল্লেখযোগ্য একটি হল আর যাই হোক, এসব মাঙ্গার কাহিনীতে বাস্তবতার ছোঁয়া নেই বললেই চলে। গল্প যখন অনেক দূর যাওয়ার পরে তাতে নাটকীয়তা আসে ঠিক ওই অংশগুলোর জন্যই স্লাইফ অফ লাইফ বলা হয়। কিন্তু কোইযোরা এমন একটি শৌজো মাঙ্গা যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বাস্তব জীবনের ঘটনা তুলে ধরে গেছে। শুরুটুকু পড়ে অন্তত মনে হয় যেন একটি বাংলাদেশী মেয়েরই সুপরিচিত প্রেমকাহিনী নিয়ে মাঙ্গাটি তৈরি করা হয়েছে। এই একটা মাঙ্গা পড়ে আমার মনে হয়েছে হয়ত আমাদের দেশের কোন মেয়েও এই গল্পের সাথে নিজের জীবনের সাথে মিলে খুঁজে পাবে। যদিও মাঝ থেকে শেষ পর্যন্ত যা হয়েছে তার সাথে মিল খুঁজে পাবে কম মানুষ এবং এই সংখ্যাটা যত কম ততই আসলে ভালো…

তাহারা মিকা খুব সাধারণ একজন মেয়ে। হাইস্কুলে উঠার পর সেও আর দশটা মেয়ের মত স্বপ্ন দেখে তার একটা বয়ফ্রেন্ড হবে, তার সাথে ঘুরতে যাবে এবং আর বাকি যা যা নিয়ে ভাবতে পারে একজন টিনএজার মেয়ে। মিকার বান্ধবী আয়া তাদের স্কুলের প্লেবয় নোযোমির সাথে ফোন নাম্বার বিনিময় করে। কিন্তু নোযোমির মিকার প্রতি আগ্রহ তাই সে আয়ার কাছে থেকে মিকার নাম্বার নেয়। মিকার সাথে সে যোগাযোগ করলে মিকা ব্যাপারটা খুব অপছন্দ করে। তাও নোযোমি মিকাকে ঘনঘন মেসেজ দিতেই থাকে। এদিকে আয়াও তার বান্ধবীর উপর অসন্তুষ্ট হতে থাকে মিকা তার পছন্দের ছেলেকে কেড়ে নিচ্ছে বলে। এরকম এক টানাপোড়নের মধ্যে একদিন আরেকটি নাম্বার থেকে মিকার ফোনে কল আসে। নোযোমি মাতাল অবস্থায় মিকাকে তার বন্ধুর বাসা থেকে ফোন দেয়। ফোন কাড়াকাড়ি করে নোযোমির বন্ধু সাকুরাই হিরোকি মিকার সাথে কথা বলে। হিরোর কণ্ঠ মিকার কাছে অনেক শান্ত আর নম্র মনে হয়, যেটা নোযোমির পুরো উল্টা। একদম স্বেচ্ছায় মিকা হিরোকে ফোন নাম্বার দেয়, ফোনে কথা বলা শুরু করে এবং একপর্যায়ে দেখাও করে। দেখা করার সময় মিকা বুঝতে পারে যেহেতু হিরো নোযোমির বন্ধু তাই সেও অবশ্যই নষ্ট ধরণের ছেলে হবে। হিরোকে দেখে সে আবিষ্কার করে এই সেই ছেলে যে জুনিয়র হাইস্কুলে একজন ডেলিনকুয়েন্ট ছিল এবং যার বোন ইয়ানকী বলে গুজব শোনা যায়। হিরোকে দেখে মিকা অনেক ভয় পেয়ে গেলেও হিরোর কিছু স্নেহশীল আচরণ দেখে সম্পর্ক রাখবে ঠিক করে। ওই সময়ের ছোট্ট একটা সিদ্ধান্তই যে পরে তার জীবনটায় আমূল পরিবর্তন আনবে মিকা কি তা ঘুণাক্ষরেও টের পেয়েছিল?

অবশ্যই মিকা এটা তখন জানত না। জানলে হয়ত এই মাঙ্গাটাই আর আমরা পেতাম না। আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন তাহলে অন্য গল্প হত এখানে, আর তো কিছু না। কিন্তু তাহলে সেই গল্প নিয়ে মাঙ্গা তৈরি হওয়ার সম্ববনা থাকত না। কেননা মিকা তো এই মাঙ্গাতে সীমাবদ্ধ কোন চরিত্র না। সে যে রক্ত-মাংসেরই একজন সত্যিকারের মানুষ! জ্বী, কোইযোরা কোন লেখকের কল্পনায় মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখা কোন গল্প না। এটি মিকা নামের একটি মেয়ের জীবনের সত্যিকারের ঘটনা অবলম্বনে লেখা। এ কারণেই শুরুতে “স্লাইফ অফ লাইফ” কথাটা তুলেছিলাম। তবে ভুলেও ভাববেন না এতে বাস্তবধর্মী উপাদান অনেক বেশি তাই নাটকীয়তা কম। এটায় যে পরিমাণ নাটকীয়তা আছে তা ১০টা কেন ১০০টা স্লাইফ অফ লাইফ, ড্রামা কিংবা শৌজো সিরিজ খুঁজলেও পাবেন না। সাধারণের তুলনায় এখানে এসব ১০ গুণ বেশি। আমার কষ্টের গল্প খুব ভালো লাগে কারণ তা মানুষের সত্যিকারের কষ্টগুলোকে তুলে ধরে। অনেকেই এসবকে “মেলোড্রামা” বলে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু বাস্তবে যে এমন ঘটনা অল্প হলেও ঘটে তার সাক্ষাৎ উদাহরণ এই মাঙ্গাটি। একটা কথা আছে- “life is more than drama”। জীবন নাটকের চেয়েও বেশি কিছু। মিকার জীবনের গল্পটা এমনই যে সেটাকে বাস্তবের না বলে কোন নাটক কিংবা সিনেমার গল্প বলাটাই বেশি উপযুক্ত হত। এতদিন অনেক সিরিজকেই “ড্রামাটিক” উপাধি দিয়ে এসেছেন। তবে এই শব্দটার অর্থ আসলেই বুঝতে চাইলে কোইযোরা পড়ে দেখতে পারেন।

কোইযোরা কোনভাবেই স্বাভাবিক শৌজো মাঙ্গা ভেবে পড়তে যাবেন না। আর শৌজো হলেও কারও বয়স যদি ১৪/১৫ এরকম হয় তাহলেও এটা পড়া উচিৎ হবে না বলে আমি মনে করি। একটু ম্যাচিউরিটি আসার পরে এবং একটু বড় হলে পড়াটাই ভালো হবে। তার গুরুত্বটা উপরের কথা থেকে বুঝা সম্ভব না। এই মাঙ্গা পড়ার আগে কিছু বিষয়ে জেনে রাখা উচিৎ। তাই স্পয়লার হলেও সেগুলো বলতেই হচ্ছে। এখানে শারীরিক সম্পর্ক, ধর্ষণ, মাদক, প্রেগন্যান্সি এর মত অনেক বয়ঃপ্রাপ্তদের জিনিস রয়েছে। অতএব বুঝতেই পারছেন, এটা পড়তে হলে বুঝেশুনেই পড়তে হবে। আর আপনার নিতীবোধ যদি বেশি থাকে এবং টিনএজদের উল্টাপাল্টা পাগলামি, ছাগলামি দেখে বিরক্ত হন তবেও সাবধান থাকবেন। কেননা আমার মত আপনারও একদম শুরুতেই তাহলে মাঙ্গাটা ড্রপ করতে ইচ্ছা হবে। তবে এই মাঙ্গার এসব বড়দের জিনিসপাতি বিবেচনা করলে একে শৌজোর চেয়ে জোসেই বলাটাই ভালো হত। মিকা গল্পের শুরুতে হাইস্কুলে থাকে বলেই একে শৌজো ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। যদিও পরে “জোসেই বয়সের” সময়ও আসবে।

চরিত্রগুলোর মধ্যে ইয়ূকে খুব ভালো লেগেছে। ইয়ূ অসাধারণ একজন মানুষ! এছাড়া আর কাউকে তেমন ভালো লাগেনি ওভাবে। কিন্তু ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট বেশি ভালো ছিল। মাঙ্গাটা একদম প্রথম চ্যাপ্টারেই গল্পের মধ্যে ঢুকে যায় এবং পুরা ৩০ চ্যাপ্টার জুড়েই একের পর এক ঘটনা চলতে থাকে। দম ফেলার সময় দেয় কম। তারপরেও কাহিনীতে তাড়াহুড়া লাগেনি। তার একটা কারণ এর চ্যাপ্টারগুলো (সব কিনা মনে নেই) সাধারণ শৌজো মাঙ্গার একেকটা চ্যাপ্টারের চেয়ে অনেক বড়। যেহেতু এই মাঙ্গাটি তৈরিই হয়েছে মিকার গল্পটা সবার সামনে তুলে ধরার জন্য শুধু বিনোদনের জন্য তৈরি করার বদলে তাই এখানে সাধারণ মাঙ্গার মত কেয়ার-ফ্রি, মজার অপ্রয়োজনীয় চ্যাপ্টার তেমন একটা ঢুকায়নি। কিন্তু গল্পের গভীরতা বুঝার জন্য এবং চরিত্রগুলোকে বুঝার জন্য যখন যেমন সিরিয়াস বা মিষ্টি মুহূর্ত দেখানো দরকার তার সবই দেখিয়েছে। তবে পড়ার সময় বিভিন্ন জায়গায় এত রাগ উঠে চরিত্রগুলোর কিছু কিছু আচরণে যে মনে হয় এটা পড়ার কোন মানে নেই। কিন্তু সময় হলে তাদের আচরণগুলোর পেছনের কাহিনী জানতে পারবেন। এজন্যই ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট বেশ পছন্দ হয়েছে। তারা নিজেদেরকে ব্যাখা করার সুযোগ পেয়েছে। আর তাই তাদের সাথে ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট কাজ করে। ভালো লাগুক আর না লাগুক, তাদেরকে অনুভব করতে পারবেন।

এমন সিরিয়াস মাঙ্গাতে বড় বড় জ্বলজ্বলে চোখ আর চকচকে ব্যাকগ্রাউন্ড মানাবে না ঠিক। কিন্তু এর আর্ট যে একটু বেশিই বাজে! আর্ট নিয়ে খুঁতখুঁতে হলে আপনি ভুল জায়গায় চলে এসেছেন। দারুণ শারীরিক গঠন, সুন্দর চোখ, এলোমেলো চুল, ডিটেইল্ড ব্যাকগ্রাউন্ড এবং অন্যান্য মনোরম দৃশ্য এসবের কিছুই নেই এতে। একটা অ্যাভারেজ মাঙ্গার আর্টও এর থেকে ভালো হয়। তাই একটু কষ্ট করে আর্ট সয়ে নিতে হবে। শুধু গল্পটার স্বার্থে ব্যাপারটা মেনে নিয়ে পড়া চালিয়ে যেতে পারলে ভালো।

কোইযোরা প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে সেল ফোন নভেল হিসেবে। শুধুমাত্র মোবাইলে পড়া যায় এমন এক ওয়েবসাইটে মিকা নিজেই তার আত্মজীবনী উপন্যাস হিসেবে লেখা শুরু করে। তখনই এটি জাপানের বেস্ট-সেলিং কামিং অফ এজ এবং রোমান্স উপন্যাসের খেতাব পায়। ২০০৬ এ এটি বই আকারে প্রকাশ হয় এবং এরপরে এর জনপ্রিয়তা এতই বেড়ে যায় যে এর একটি লাইভ অ্যাকশন মুভি, টিভি সিরিজ এবং মাঙ্গা আসে। উয়িকিপিডিয়াতে আবার মাঙ্গা ডেমোগ্রাফিক দেওয়া রয়েছে সেইনেন। যেটাই হোক এটার আনিমে আসেনি এটাই যা দুঃখ! লাইভ অ্যাকশন মুভিটি আমি দেখেছি। এখানে সব ঠিক থাকলেও মাঝে মিকার জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দেখাতে পারেনি। তাই মুভি দেখতে ইচ্ছুক হলেও মাঙ্গাটাই আগে পড়ে ফেলবেন। কিন্তু অবশ্যই এটা সবার জন্য নয়। বিচার-বিবেচনা করে যদি আপনার রুচির সাথে মিলে বা মানিয়ে নিতে পারেন তাহলে পড়বেন। তবে হ্যাঁ, এত জনপ্রিয়তা তো শুধু শুধু পায়নি কোইযোরা। ট্র্যাজিক গল্প বলে না, এরকম সত্যিকারের ভালোবাসার দেখলে যে কারোরই মন ছুঁয়ে যাবে। মিকাকে কি আসলে দুর্ভাগ্যবতী না সৌভাগ্যবতী বলে উচিৎ কে জানে! তবে এরকম ভাগ্য ১০০০ এ ১ জনেরও যে হয় না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মিকা, তুমি যেখানেই থাকো আশা করি সুখেই আছো।

ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

faster-than-a-kiss

ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস
জাপানী নামঃ কিস য়োরি মো হায়াকু
জানরাঃ রোমান্স, স্কুল, কমেডি, ড্রামা, শৌজো
চ্যাপ্টারঃ ৫৮
ভলিউমঃ ১২
মাঙ্গাকাঃ তানাকা মেকা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.১২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০

নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেশি কথাটা আমরা সবাই জানি। আনিমে এবং মাঙ্গা জগতে এসব নিষিদ্ধ জিনিস বলতে সাধারণত ইয়াওই, ইয়ুরি বা এ ধরণের এহেম এহেম মার্কা জিনিসই বোঝানো হয়। তবে এমন কিছু পেলে কেমন হয় যেটা কোন এক নিষিদ্ধ সম্পর্ক নিয়েই তৈরি কিন্তু পড়ার সময় বারবার মনে হবে না আপনি উল্টাপাল্টা কিছু পড়ছেন বরং খুব বেশি মিষ্টি আর নিষ্পাপ একটি গল্প বলেই মনে হবে? এমনই এক মাঙ্গা হল “ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস” যা গড়ে উঠেছে শিক্ষক-ছাত্রীর নিষিদ্ধ সম্পর্ককে নিয়ে।

বাবা-মা হারা অনাথ মেয়ে কাজি ফুমিনো। শেষ সম্বল বলতে আছে ফুমিনোর পিচ্চি ভাই তেপ্পেই যার বয়স আবার মাত্র ৪ বছর। যেই বয়সে বাবা-মায়ের আদর আর শাসনে বেড়ে ওঠার কথা সেখানে ফুমিনোর চিন্তা কিভাবে হাই স্কুল পাশ করবে আবার একই সাথে ছোট্ট ভাইটির দেখাশুনা করবে। এক আত্মীয় থেকে আরেক আত্মীয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কারো বাড়িতে ঠাই হয় না এই দুই ভাইবোনের। হয়তবা পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে ভাইকে বড় করে তোলাই ছিল ফুমিনোর একমাত্র উপায়। কিন্তু কোন এক বিকেলে পালিয়ে গিয়ে পার্কে তেপ্পেইকে নিয়ে বসে থাকতে গিয়েই ভাগ্যটা পরিবর্তন হয়ে গেল। তার স্কুলের শিক্ষক ওজিরো কাযুমা-সেন্সেই ফুমিনোকে তার বাড়িতে আসতে বললেন। ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত ফুমিনো সেন্সেইয়ের এই করুণা দেখে তো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল। সে বলেই বসলো, সেন্সেইয়ের যদি এতই সহানুভূতি হয় তো ফুমিনোকে বিয়ে করে উনি ফুমিনো আর তেপ্পেইয়ের দেখভাল করার দ্বায়িত্ব নিয়ে দেখাক না কেন!! সেন্সেইও তার ছাত্রীর কাছে হারতে রাজি নন। উনি সাথে সাথেই ফুমিনোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন! সেন্সেই ঠাট্টা করছে না করুণা দেখাচ্ছে তা ভাবার মত অবস্থা নেই বলে ফুমিনো শুধু হাতখরচ পাওয়া আর তেপ্পেইকে বড় করার লক্ষ্যে সুযোগটা লুফে নিল। ব্যস, ফুমিনোর নতুন বাসস্থান হল ওজিরো-সেন্সেইয়ের বাসা। স্কুলে সর্বদা শিক্ষক-ছাত্রীর ভূমিকা পালন করলেও বাসায় এখন তারা স্বামী-স্ত্রী। তেপ্পেইসহ ৩ জনের এই ছোট্ট পরিবার এবং তাদের আশেপাশের মানুষদের নিয়েই ফ্যাস্টার দ্যান এ কিসের গল্প।

অনেকটা ঝোঁকের বশেই আমি এই মাঙ্গাটা পড়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু একটা ব্যাপারে শুরুতে আমি সন্দিহান ছিলাম। বিয়ের কারণে এই জুটির সম্পর্ক কতদূর নিয়ে যাবে এটা নিয়ে আমার প্রশ্ন ছিল। ভিতরে ভিতরে বিবাহিত হলেও এই সম্পর্কটা বেশি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যাবে কিনা এ নিয়ে সংকোচে ছিলাম। কিন্তু ওজিরো-সেন্সেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শিক্ষক হিসেবে তার অবস্থানটার কথা কখনোই ভুলে যাননি। অনুভূতির বশে এখানে কোনভাবেই একজন শিক্ষক আর তার ছাত্রীর মাঝে যে সম্পর্ক থাকে তার মর্যাদাটা পুরোপুরি হারিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। তাদের আসল সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই সেন্সেই তার একজন ছাত্রীকে পড়ালেখা থেকে ঝরে পড়া থেকে রক্ষা করেছিলেন। সেন্সেই নিজের ইচ্ছা আর অনুভূতিগুলোকে দমিয়ে রাখতেন ফুমিনো তার ছাত্রী এবং ফুমিনো যাতে কোন সমস্যায় না পড়ে শুধু এজন্যে। মাঙ্গাটির এই দিকটির প্রশংসা না করলেই নয়। আমার ভয়ের আরেকটি কারণ ছিল এই মাঙ্গার নামটি। নাম শুনে এতে কি না কি আছে ভেবেছিলাম! বিশ্বাস করেন, এই রকম ভুল ধারণা দেওয়া নাম খুব কমই আছে! একটা কিস যে এখানে কত বড় একটা বিষয় তা পড়লেই বুঝবেন। অন্যান্য স্বাভাবিক জুটিগুলোও ওজিরোx ফুমিনো’র মত এতটা “নিষ্পাপ” হয় না! এই নামের একমাত্র কারণ এত ঝড়ের গতিতে স্বামী-স্ত্রী হয়ে যাওয়া। তাই সাধারণত এ ধরণের নিষিদ্ধ সম্পর্কের গল্প আমার পছন্দ না হলেও এই মাঙ্গাটি যথেষ্ট ভালো লেগেছে।

বদমেজাজি, সহজেই মারামারিতে জড়িয়ে যাওয়া ফুমিনোর ধীরে ধীরে একজন সাধারণ টিনএজ মেয়ে থেকে মানসিকভাবে বেড়ে উঠা, দ্বায়িত্বশীল হওয়া এই ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টটা ছিল চোখে পড়ার মত। ওজিরো-সেন্সেই আর ফুমিনো দুজনেরই কষ্টের পেছনের গল্প রয়েছে যা নিত্যদিনের ঘটনা না বলে বরং সত্যিকার অর্থেই গল্পটিকে ভালোভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এছাড়া শৌমা, মার্গারেট, কুরোসাওয়া, কাজি পরিবার, ওজিরো পরিবার, র‍্যিঊ-সেন্সেই প্রভৃতি চরিত্র ড্রামা এবং কমেডি যোগ করেছে। জায়গায় জায়গায় বেশ ভালোই হাসিয়েছে চরিত্রগুলো। ড্রামার পরিমাণও সঠিক ছিল বলে মনে হয়েছে। বিরক্ত হওয়ার সম্ভবনা অনেক কম। মার্গারেট বা মেগ নায়িকার চিরচেনা শত্রু হতে গিয়েও হয়নি উল্টা শেষে বেশ ভালো একটা সাপোর্টিভ মেয়ে ছিল। যদিও মাঝে মাঝে শৌমাকে ধরে পিটাতে ইচ্ছা করবে আবার শৌমার জন্যই খারাপ লাগবে। সেই চিরাচরিত “থার্ড হুইল” ছেলে। আসলে আর ৮/১০টা শৌজো মাঙ্গার মতই সবকিছু আছে এখানে বলতে গেলে। সেই “স্পার্কলিং”, “বাবলি”, “ফ্লাফি” রোমান্টিক মুহূর্ত; স্কুলের বার্ষিক উৎসব, সমুদ্রে যাওয়া, পিকনিকে যাওয়া, ক্রিস্টমাস, নিউ ইয়ার ইত্যাদি। কিন্তু তারপরেও মাঙ্গাটি অনেক বেশি রকমের উপভোগ্য লাগে। এখানেই মাঙ্গাকার সার্থকতা।

শৌজো মাঙ্গার মোয়ে মোয়ে চোখের আর্ট এখানে শুধু তেপ্পেইয়ের জন্য প্রযোজ্য। বাকিদের ক্ষেত্রে এতটা মোয়ে ব্যবহার করা হয়নি। তবে দেখলে বুঝা যায় যে এটি শৌজো মাঙ্গা। আর্ট মোটামোটি ভালোই আছে। শুরুতে কাজ চালিয়ে নেওয়ার মত হলেও শেষের দিকে আরও বেশি গাঢ়, ঝকঝকে এবং বেশ সুন্দর ছিল। আর শৌজো মাঙ্গার “কিরা কিরা” ভাবের উপস্থিতিও আছে ভালমতো।

উম… কিছু কি বলতে ভুলে গেলাম? সবই তো বলেছি… ও হ্যাঁ! কিউটনেসের কথা বলা হয়নি। এই মাঙ্গার কিউটনেস! সেটা কিন্তু রোমান্সের কিউটনেস না। পুচকি তেপ্পেইয়ের কিউটনেস! ফুমিনোর স্কুলের বন্ধুরাই তেপ্পেইকে অ্যাঞ্জেল ডাকে। এই অ্যাঞ্জেলকে দেখে তারাই গলে যায় আর আপনি গলবেন না তা কি করে হয় বলেন! এতটুকু পিচ্চি যেভাবে তার বোনকে কেউ বিরক্ত করলে বাঁচাতে যায়, “মা-কুন” আর “বুন-চানের” জন্য কাগজের আংটি বানিয়ে দেয় আর ফুমিনো আর সেন্সেইয়ের মাঝের বন্ধনটাকে আরও দৃঢ় করে তা দেখলেই তেপ্পেইকে শক্ত করে জড়িয় ধরে চুমু দিতে ইচ্ছে করবে! এই ছোট্ট মানুষটাও গল্পে বেশ ভালোই ভূমিকা পালন করেছে।

সবমিলিয়ে ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছে। ভালো না লাগলে অনগোয়িং অবস্থায় ড্রপ করে শেষ হওয়ার পর আবার পুরোটা নতুন করে পড়তাম না। একজন শৌজো ভক্তকে সন্তুষ্ট করতে যা যা দরকার তার সব উপাদানই এতে আছে। তাই শৌজো ভক্ত হলে বা শিক্ষক আর ছাত্রীর মাঝে সম্পর্ক নিয়ে গল্প ভালো লাগলে মাঙ্গাটি পড়ে ফেলবেন অবশ্যই।

দা ক্লিফ [মানহোয়া রিভিউ] — Rumman Raihan

the-flick

দুই বন্ধু মিলে গিয়েছিল এক পাহাড়ে হাইকিং করতে। সেখানে পাহাড়ের রাস্তা পেরিয়ে এক সংকীর্ণ চূড়ায় দাঁড়িয়ে দুজনে ক্যামেরা সেট করে ছবি তুলতে চাইলো। কিন্তু তাদের দুজনের ভারে পাহাড়ের ক্লিফ গেল ভেঙ্গে। দুজনে গিয়ে পড়ল নিচে।

নিচে বলতে পাহাড়ের পাশের এক কিনারে তারা গিয়ে পড়ল। সেই উঁচু কিনার থেকে না আছে নিচে নামার কোনো পথ, নেই উপরে উঠবার কোনো উপায়। এদিকে দুজনের মোবাইলে সিগন্যাল নেই, সাথে খাবার নেই। তাদের ২ সপ্তাহের জন্য পাহাড়ে ঘুরবার কথা ছিল, তাই কেউ তাদের খোঁজও করবে না। প্রচন্ড ক্ষুদা, তৃষ্ণা, ক্লান্তি, তার উপর অসহনীয় শীত। সবকিছু মিলে জন্ম দেয় এক ভয়ঙ্কর পেরানয়ার। এই দুই বন্ধু কিভাবে বাঁচবে এখানে?

মাত্র ৯ চ্যাপ্টারের ছোট এই ভুতের গল্পে স্বল্প আঙ্গিকে ভয়, স্বার্থপরতা, অপরাধবোধ আর কাপুরুষতার উপস্থিতি পাওয়া যাবে। গল্পের শেষ অবধি অনিশ্চয়তা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। গল্পটা তাহলে পরে ফেলুন, মাত্র কয়েক মিনিটই তো লাগবে 🙂

•Name: The Cliff
•Alternative Name: 절벽귀
•Genre: Horror, Suspense,Thriller, Webtoon, Manhwa
•Art and Story: Seongdae Oh
•Chapters: 09
•Status: Completed
•Similar Recommendations: Tales of the Unusual, The Red Book
•Published: July 1st, 2014 to August 3, 2014 in English Webtoons website. Formerly from July to August 2011
•Publisher: Line Webtoon/Naver corporation
•MAL Score: Not documented on MAL yet
•ট্রিভিয়াঃ এই লেখকের লেখা চলচ্চিত্র “হরর স্টোরিস ২” এ এই গল্পটির লাইভ অ্যাকশন দেখানো হয়েছে। মুভি লিঙ্কঃ https://youtu.be/Q53nx8iA69U

•ওয়েবটুন/মানহয়াটি পড়ুন এখানেঃ http://www.webtoons.com/en/thriller/the-cliff/ep-1/viewer?title_no=80&episode_no=1

Freedom [রিভিউ] — Tahsin Faruque Aninda

Freedom 0

Freedom
Type: OVA
Episode: 7 + 1 Prologue
Genre: Action, Adventure, Sci-Fi, Space

পোস্ট অ্যাপোক্যালিপ্টিক সময় + স্পেস ট্রাভেল + Akira, এই ধরণের একটা আনিমের কম্বিনেশন খুঁজছেন? অপেক্ষা না করে দেখে ফেলুন “ফ্রিডম” নামের ৭ পর্বের এই ওভিএ। আকিরার মাঙ্গাকা/ডিরেক্টর Katsuhiro Otomo-এর আরেক কাজ এটি, তবে এখানে তাঁর ভূমিকা শুধুমাত্র Storyboard, Mechanical Design আর Character Design-এই সীমাবদ্ধ। তবে এর কারণেই আনিমেটিতে আকিরার ছাপ পাওয়া যায়।

Freedom 2

মানুষ চাঁদে মানব-কলোনি তৈরির পরে কোন এক সময়ে এক দুর্ঘটনার কারণে একটি স্পেস স্টেশন পৃথিবীতে পতিত হয়, আর পৃথিবীতে মানবসভ্যতা ধ্বংসকারী এক বিপর্যয় ঘটে। চাঁদে থেকে যাওয়ারা তৈরি করে ‘ইডেন’ নামের এক মেগালোপোলিস।
এখানেই আমাদের গল্পের নায়ক তাকেরুকে দেখা যায় অন্যান্য স্ট্রিট গ্যাং-এর সদস্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে হোভারক্রাফট রেস চালাতে। একদিন ঘটনাক্রমে ‘ইডেন’-এর আসল রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে সে, আর সেখান থেকে গল্প ভিন্ন এক মোড় নিয়ে ফেলে।

Freedom 3

আকিরার সাথে ক্যারেক্টার ডিজাইনই শুধু নয়, বরং বাইক রেসের সাথে এখানে হোভারক্র্যাফট রেস, স্ট্রিট গ্যাং – ইত্যাদি কিছু কিছু ব্যাপারও আকিরার মত লাগে। তবে গল্পের ধরণটা একদমই অন্যরকম হবার কারণে সেই ব্যাপারগুলি উপভোগ্যই হয়ে উঠে।

3D আর 2D-এর অদ্ভুত সুন্দর মিশ্রণ আর ব্যবহার অ্যানিমেশনকে চমৎকার করে তুলেছে। ক্যারেক্টারগুলি সব CGI-এর, তবে CGI-এর ভাল ব্যবহার হয়েছে এই আনিমেতে, যার কারণে দেখতেও আরাম লেগেছে। অন্যদিকে ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট মুগ্ধ করার মত।

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুবই খুবই সুন্দর, আর ওপেনিং ও এন্ডিং গান দুইটা আমার অনেক পছন্দের।

ক্যারেক্টার তৈরি অনেক ভালমত হয়েছে এই আনিমেতে। ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট সময় নিয়ে হয়েছে বলে খুব ভালমত ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে সবাইকে।

Freedom 5

গল্পটি অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার হলেও স্লাইস অভ লাইফ উপাদানও আছে অনেক, আর Space সম্পর্কিত আনিমেতে যেটা আসলে অনেক বেশি দরকার বলে মনে হয়। ধীরস্থির মুহুর্তগুলা মনে শান্তি দেবার মত, আবার অ্যাকশনের মুহুর্তগুলি অস্থিরতা উপহার দিতে পারে।

সব মিলিয়ে বলবো, ৭টি মাত্র পর্বের এই ওভিএ সিরিজ দেখার জন্যে অবশ্যই সময় বের করে নিবেন। এরকম হিডেন জেম দেখার জন্যে সময় না থাকলেও সময় বের করে নেওয়া উচিৎ।

Freedom 4

Koutetsujou no Kabaneri [রিঅ্যাকশন পোস্ট] — Tahsin Faruque Aninda

toty 1

Koutetsujou no Kabaneri (Kabaneri of the Iron Fortress)
Genres: Action, Drama, Fantasy, Horror
Episodes: 12
Source: Original
Studios: Wit Studio

“SnK Clone” নামে পরিচিত এই সিরিজ গত সিজনের শুরুর দিকে বেশ ভাল হাইপ তৈরি করেছিল। এরপর শেষের দিকে এসে কেমন যেন এর আর খোঁজ পাওয়া গেল না তেমন। সব হাইপ পরে গিয়ে শুরু হয়েছে একের পর এক সমালোচনা। অবশ্য ফ্যানবেজও ভালই তৈরি হয়েছে এটার। After all, যেই উপকরণ নিয়ে SnK তৈরি হয়েছিল সেই একই উপকরণ নিয়ে Kabaneri তৈরি হল। প্রশ্ন থাকে, কেমন সফল/ব্যর্থ এই সিরিজ?

প্রোডাকশন টিমে যেমন একগাদা পরিচিত নাম [ডিরেক্টর তেতসুরৌ আরাকি, প্রোডিউসার জর্জ ওয়াদা, মিউজিক কম্পোজার হিরোয়ুকি সাওয়ানো, অ্যানিমেশন স্টুডিও হিসাবে উইট স্টুডিও ইত্যাদি], তেমনই ভাবে গল্পের সাধারণ থিমটাও প্রায় একই রকমের। মানবজাতি হুমকির মুখে, মানবখেকোদের হাত থেকে রক্ষার জন্যে বিশাল দেওয়াল-ঘেরা জায়গার মধ্যে বসবাস করছে তারা, এরই মাঝে গল্পের প্রথম পর্বেই তাদের শহরে মানবখেকোদের আক্রমণ, মৃত্যু হয় শত শত মানুষের। মানবখেকোদের হাতে পরিবার হারানো রক্তগরম নায়ক তাদের নির্মূল করার শপথ নেয়, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে নিজেই হয়ে উঠে মানুষ আর মানবখেকোদের হাইব্রিড, অতএব প্রচন্ড শক্তিশালী হয়ে উঠে। সাথে থাকে ওভারপাওয়ার্ড নায়িকা, যে একাই সব শত্রুদের কাত করে দিতে পারে। ও হ্যাঁ, পুরা গল্পটা হয় এক স্টিম্পাঙ্ক সেটিং-এ।

এত কিছু একই রকম মনে হলেও শেষ পর্যন্ত গল্পটা SnK থেকে অনেক আলাদা হয়ে যায়, বিশেষ করে প্রথম কয়েক পর্ব পরেই গল্পের ধরণ অন্যরকম হয়ে যায়। সমস্যা হল, SnK এর ছায়া থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করতে না করতেই বাগিয়ে নেয় এই ধরণের গল্পের হাজারখানেক ক্লিশে!

আনিমেটার কিছু ভাল দিক উল্লেখ করছি এখানে:

+ ফাইট কোরিওগ্রাফি
তেতসুরৌ আরাকির সিরিজের ফাইট কোরিওগ্রাফিগুলি অসম্ভব সুন্দর হয় দেখতে। প্রত্যেকটা মারামারির দৃশ্য উপভোগ…

+ মিউজিক
হিরোইউকি সাওয়ানোর মিউজিক, নতুন করে এখানে বলার কিছু নাই। প্রত্যেকটা ফাইটিং মুহুর্তকে ইমোশনাল বানানো তার পক্ষে আসলেই সহজ কাজ।

+ ভিজুয়াল
উইট স্টুডিওর একের পর এক সফল সিরিজ তৈরির কারণে তাদের বাজেট এখন বেশ ভালই হয়। তাই CG ট্রেন সিরিজের একটা বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালেও সেটা আলাদাভাবে চোখে পরে না। ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট আর অ্যানিমেশন চমৎকার মানের।

+ নায়কের পাওয়ারাপ / পরের লেভেলে যাওয়া
ক্লিশে ব্যাপার, এরকম একটা কিছু এই ধরণের গল্পে হয় এটা জানা থাকার পরেও আগ্রহ থাকে দেখার জন্যে। আর সেই মুহুর্তটা খুবই ভাল লেগেছে আসল…

এবার থাকছে সিরিজটা নিয়ে অপছন্দের ব্যাপারগুলি:

— নির্বোধ জনগণ, নির্বোধ সব ডিসিশন
ব্যাপারটা দেখে এমন মনে হয়েছে যে, শুধু গল্পে অতিনাটকীয়তা আনতে কিংবা SnK ভাব ধরে রেখে massacre দেখানো দরকার বলেই যেন জনগণের নির্বোধ সব ডিসিশন নিয়ে যাওয়া একের পর এক। সিরিজে যত মানুষ মরতে দেখিয়েছে, তার ৮০% হয়েছে সেই জগতের মানুষের IQ লেভেল ৫০-এর নিচে থাকার কারণে।

— ইমোশনাল ব্যাপার আনার ক্লিশে চেষ্টা, এবং একটুও মন খারাপ করতে না পারা
Shingeki no Kyojin-এর একটা বড় দিক ছিল সেখানে চেনা জানা বা অজ্ঞাত সব চরিত্রের মৃত্যুও মন খারাপ করে দিয়ে যেত। এর কারণ ছিল ভাল ক্যারেক্টার বিল্ডাপ, যা এমনকি দুই তিন দৃশ্যে উপস্থিত থাকার পরেও তাদের মৃত্যু কষ্ট দিয়ে যেত। এখানে একইরকমের কাজ করার চেষ্টা হয়েছে, এবং বেশ বাজেভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

— মানবজাতিকে ধ্বংস করে ফেলার মত থ্রেট, যেটা আসলে তেমন কোন থ্রেটই হয় নাই
SnKএর একটা বড় ব্যাপার ছিল যে টাইটানরা আসলেই ভীতিকর ছিল এই অর্থে যে, সেনাবাহিনীর অনেকদিনের ট্রেইন্ড কোন সেনাও যেকোন সময়ে টাইটানদের হাতে মারা পরতে পারে। ঐ দুনিয়ায় টাইটানদের সাথে বেঁচে থাকতে হলে হয় খুব বেশি ভাল ভাগ্য থাকা দরকার, নাইলে নামের শেষে Ackerman থাকতে হবে। আর এই Kabane-এর দুনিয়াতে একমাত্র স্বাভাবিক জনগণ বাদে সবাই একেকজন ২০-৩০টা করে কাবানে মেরে ফেলা কোন ব্যাপারই না। ট্রেইন্ড সোলজার হলে তো কথাই নাই! একমাত্র বেকুব হবার কারণেই মানবজাতি এই দুনিয়ায় ধ্বংসের মুখে।

— মেইন ভিলেইন
এরকম uninspiring ভিলেইন অনেক বছর দেখি নাই।

— Asspull
এগুলার কথা আর ডিটেইলসে বলতে ইচ্ছা করছে না। ভাল লাগে নাই সেই অংশগুলি।

— গল্পের প্রয়োজন, তাই সবাই বেকুব
আবারও এই টপিক আনলাম। কেন? — প্রথম পর্বের শুরুর আর শেষের দিকের দুইটা দৃশ্য [নিচের ছবি লক্ষ্য করুন] খেয়াল করলেই বুঝবেন কেন বলছি।

Toty
যদি বুঝে উঠতে না পারেন, তাহলে বলে রাখি:
সকালে যেই সময়ে দৃষ্টিসীমায় সমস্যা হয় না, তখন বাইরে থেকে আসা ট্রেইন ঢুকবার আগে ট্রেইন থামিয়ে দেওয়া হয়, সিকিউরিটির জন্যে চেক করা হয় কেউ ইনফেক্টেড কিনা। আর পর্বের শেষের দিকে এসে রাত্রবেলায় কী হল? — সবাইকে মারা দরকার, তাই ট্রেইন দেখেই আগে থেকে ব্রিজ নামিয়ে দেওয়া হয়। কই গেল সেই চেকিং? কই গেল সিকিউরিটির কারণে ট্রেইন থামিয়ে তল্লাশি করা??
এটা হল খুবই লো-কোয়ালিটির গল্প লিখন।

Bittersweet এন্ডিং এই ভীতিকর দুনিয়ার গল্পে স্বস্তির ইতি টেনেছে বলে কিছুটা ভাল লেগেছে। কিন্তু সব মিলিয়ে গল্পের কিছুদূর যাবার পরেই যে আগ্রহের পারদ নিচের দিকে নামতে শুরু করে, সেটা আর উপরে তুলে আনতে পারে নাই।

তবে এটা যে কাউকে দেখতে বারণ করছি তা না। Honestly speaking, SnK ripoff কিনা তাতে যায় আসে না আমার, জিনিস ভাল হলে সবই ভাল। সমস্যা হচ্ছে, জিনিসটা তেমন ভাল হয় নাই। TOTY না হলেও, AOTY হবার প্রশ্নই উঠে না।

তবে পুরাটাই আমার নিজস্ব মতামত। অনেকের কাছে এটা হয়তো এই বছরের সেরা আনিমে। তাই নিজে দেখুন কিছুদূর, ভাল লাগলে কন্টিনিউ করতে থাকেন।

Joker Game [রিঅ্যাকশন পোস্ট] — Tahsin Faruque Aninda

joker game 1

Joker Game
Genres: Drama, Historical, Military, Seinen
Episode: 12
Source: Novel
Studios: Production I.G

গত সিজনে যেসব আনিমে দেখার প্ল্যান ছিল, তার মধ্যে সবচাইতে বেশি হাইপওয়ালা সিরিজগুলির মধ্যে এইট আমার কাছে একদম উপরে ছিল। কারণ এই না যে গল্প কী হবে তা জানি, সত্যি বলতে গেলে আনিমেতে কী হতে পারে না পারে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। হাইপ ছিল যে দুইটা কারণে – স্পাই গল্প, এবং নোভেল অ্যাডাপশন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ মুহুর্তের সময়কালের গোয়েন্দাদের নিয়ে গল্প, এরকম লোভনীয় প্লট দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে যথেষ্ট।
আর হাজার হাজার লাইট নোভেল থেকে আনিমে অ্যাডাপশনের ভিড়ে সত্যিকারের নোভেলের আনিমে অ্যাডাপশন অনেক বেশি করে চাচ্ছিলাম, সেটাও এই সিরিজের মাধ্যমে সত্যি হয়ে এল।

প্রশ্ন হল, সিরিজটা কি এক্সপেক্টেশন পুরন করতে পেরেছে আমার?
উত্তর দিতে গেলে বলতে হবে, কী ধরণের জিনিস হতে পারে এটা সেটা নিয়ে একদমই ধারণা ছিল না তাই সেই অনুযায়ী এক্সপেক্টেশনও তেমন শক্তপোক্ত ছিল না। যা ছিল তা উপরের দুইটা পয়েন্টে উল্লেখ করা জিনিসগুলাই ছিল। আর সে হিসাবে, দেখে বেশ মজা পেয়েছি বলতে গেলে। আনিমেটার যেসব ব্যাপার ভাল লেগেছে সেগুলি কিছু উল্লেখ করি:

+ ম্যাচিউর স্টোরি [যেটা আজকাল বের হওয়া সব আনিমের মধ্যে খুব বেশি করে অনুপস্থিত বলে মনে হয়]।
+ গোয়েন্দা গল্প আর চমৎকার একেকটি জোকার-গেম; এই অংশগুলি খুব বেশি করে উপভোগ করেছি।
+ একেক পর্বে একেকজন নিয়ে গল্প, তবে আলাদা সব গল্প একটি সেন্ট্রাল গল্প নিয়ে গড়ে উঠে
+ ইউকি আর তার ব্যাডাস সব ব্যাপারস্যাপার! [This guy’s a monster] এই বছরের অন্যতম সেরা Male Character.
+ OST

তবে এত ভাল কিছু জিনিসের ভিড়েও নেগেটিভ পয়েন্ট বের করতে বাধ্য হচ্ছি:

— অসম্ভব কনফিউজিং ক্যারেক্টার ডিজাইন
এই ব্যাপারটা নিয়ে মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছা করছিল এক পর্যায়ে। ৯ জন গোয়েন্দার ১-২ জন বাদে কারওই মনে রাখার মত ক্যারেক্টার ডিজাইন ছিল না। আর এই সিরিজটাতে যেখানে একেক পর্বে একেক গোয়েন্দার গল্প দেখানো হয় আর কোন জন কে সেটা মনে রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেখানে এই আইডিয়াটা মুখ থুবড়ে পরে। চেহারা তো মনে রাখা যায়-ই না, নামও মনে রাখার মত না। শেষমেশ এই চার্ট সাথে নিয়ে দেখতে হয়েছে একেকটা পর্ব [ছবিটি বড় করে দেখতে অন্য ট্যাবে ওপেন করে দেখুন]:

joker-game-characters

কেউ দেখার সময়ে এই চার্টটা সাথে রেখে দেখলে অনেক সুবিধা পাবেন। আর নিচে উল্লেখিত character appearance serial-টা মিলিয়ে নিবেন।
— সিজন ফিনালে পর্বটা দেখে মনে হয় না যে এইটা কোন সিরিজের শেষ পর্ব। ওপেন এন্ডেড ভাবে রেখে দেওয়া এক জিনিস, আর দেখে যেন বুঝা যায় যে এই পর্বের পর গল্প আপাতত শেষ – সেটা আলাদা ব্যাপার। অবশ্য আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ডিভিডি/ব্লুরের সাথে দুইটি এক্সট্রা পর্ব বের হবে, তারপরেও সেটা সিরিজের বাইরের পর্ব, এন্ডিং পর্ব না।
— এতগুলা আলাদা আলাদা ছোট গল্প যে একটি সেন্ট্রাল গল্পকে ঘিরে গড়ে উঠলো, সেই মূল গল্পটি কী সেটা বুঝে উঠতে পারা একটা হ্যাপা।

গতানুগতিক আনিমের মত না এটি, তাই অনেকেরই বুঝতে কষ্ট হতে পারে। তবে আপনি যদি ম্যাচিউর স্টোরির আনিমে খুঁজে থাকেন, আর ছোট ছোট চমৎকার কিছু গোয়েন্দাগিরি দেখার ইচ্ছা রাখেন, সিরিজটি অবশ্যই দেখে নিবেন যত জলদি সম্ভব।

*************************************************************************************************

দেখার সুবিধার জন্যে কোন পর্বে কোন প্রধাণ চরিত্রকে দেখানো হয়েছে তা উল্লেখ করে দেওয়া হল:

Ep. 1, 2: Lt. Sakuma
Ep. 3: Hatano
Ep. 4: Fukumoto
Ep. 5: Kaminaga
Ep. 6: Tazaki
Ep. 7: Amari
Ep. 8: Jirou Gamou
Ep. 9: Jutsui
Ep. 10: ~
Ep. 11: Miyoshi
Ep. 12: Odagiri (main) + everyone else

ERASED – প্রজাপতিকথন, স্মৃতিকথন, কমপ্লেক্স হিউম্যান সাইকোলজি — অনন্য রায়হান

Erased

[জানালা খোলা,হঠাৎ নীল প্রজাপতি] ……
আর্ট প্রতিযোগিতার ডেট কি আর বাড়ানো হবে না ভাইয়া? আমার বোনের ছবিটা এখনো স্ক্যান করা হয়নি
……
এই মুরগিটায় আরেকটু তেল লাগবে মাহি ভাই,ব্রাশটা এদিকে……
……
ওয়ান পাঞ্চ ম্যান সেরা এনিমেশন – এজন্যই গণতন্ত্র ভাল্লাগে না ……
………
[জানালা খোলা,হঠাৎ নীল প্রজাপতি] ……
………
ব্যাপারটা কি বারবার অতীতে ফিরে যাচ্ছি কেন?
সপ্তাহ করে করে তো প্রায় গত বছর চলে গেলাম ……
টাইমলাইন আর মানুষের স্মৃতি নিয়ে আগ্রহ-গবেষনার অন্ত নেই – আপেক্ষিকতার তত্ত্ব পড়ে অনেকে আলোর বেগে গতিশীল হলে সময় তার জন্য ধীরে ধীরে আগাবে এমন Hypothesis এ অনেকে আস্থা রাখেন ……
তবে এর পেছনে সায়েন্টিফিক কারণ ছাড়াও সাইকোলজিক্যাল একটা প্রণোদনা আছে।অতীতে ফিরে গিয়ে আবার নতুন করে আগের কাজটা করা – ভবিষ্যতে গিয়ে পরিণাম সম্পর্কে জানা – এ দুটি কাজ করার স্বপ্ন আমরা জানতে অজান্তে দেখি – Sub Consciously হলেও দেখি । এর মধ্যে ভবিষ্যতে যাওয়ার চেয়ে অতীতে যাওয়ার কামনা টাই বোধহয় প্রকট।আর সেই দুর্বলতার সুযোগ নিতে ছাড়েনি লেখক,গল্পকার,কমিক আর্টিস্ট কেউই ………
বলছি ERASED এর কথা –
প্রথমত দীর্ঘ জাপানি নাম হল Boku Dake ga Inai Machi যা মাঙ্গা টির অরিজিনাল পাবলিশিং নেইম – যেখানে সাতোরু নামের এক চরিত্র [বছরের সেরা চরিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম] কিভাবে সময়ের সাথে লড়াই করে পুরো টাইমলাইনের চাল উলটে দেয় সেটাই দেখানো হয়েছে……
প্রথমত রিভাইভাল বা টাইম রিওয়াইন্ডিং এর কথায় আসি – সিরিজটিতে প্রোটাগোনিস্ট সাতোরুর একটি Sub Conscious এবিলিটি – [এবিলিটি কি? সে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না] – এর মাধ্যমে সে জাম্প করে চলে যেতে পারে অতীতের কোন টাইমে – ব্যাপারটা ঠিক জাম্পকৃত টাইম কেটে ফেলা না – যে টাইম টা জাম্প করা হয়েছে সে টাইম টাও তাকে অতিবাহিত করতে হবে যদি নেক্সট কোন রিভাইভাল না হয় এর মাঝে –
অর্থাৎ এটা King Crimson এর স্ট্যান্ডের মত নয় [রেফারেন্স : Vento Aureo]
এই এবিলিটি তার হাতে কেন আর এটা কি হুটহাট ই এক্টিভেট হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে?
না সেটা হলে কোন Stable গল্প বানানো সম্ভব না – কারণ কারণে অকারণে রিভাইভাল হলে সেটা Meaningless আর সাতোরুর বয়স এ জীবনে বাড়বে না ……
টপ টু বটম সিরিজটি নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই –
প্রথমত সিরিজটিতে সাতোরু ও হিনাজুকি – দুটি চরিত্রকে নিয়ে বিতর্ক
এ বিতর্ক হাস্যকর তো বটে Childish – গল্প যেখানে হালকা সাসপেন্স ভাইব [সাসপেন্স হিসেবে ব্যর্থ],টাইম ট্রাভেলিং আর সাইকোলজিক্যাল সেখানে রোমান্স নিয়ে ভাবলে মুশকিল! – বাঙ্গালিরা ছোটবেলার খেলার বান্ধবী বা বন্ধু মানেই ভবিষ্যতের স্ত্রী বা প্রেমিকা এটা মনে করার একটা ট্রেন্ড বাংলা সিনেমার মাধ্যমে আমাদের শিরায় Push করে দিয়েছে – তাই Realistic শব্দটা কথায় কথায় উচ্চারণ করলেও আমাদের চিন্তাভাবনা অনেক্ষেত্রেই Realistic না ……

গেলো প্রথম বিতর্ক – দ্বিতীয় টি হল এটা নট স্যাটিসফেক্টরি
হুম গল্প যে পরিমাণ রহস্য ডিমান্ড করেছে প্লট সাপেক্ষে সে পরিমাণ ঘটনার ধূম্রজাল ছিল না , Predictibility অনেক বেশি ……
তবে সাইকোলজিক্যাল সিরিজ হিসেবে আমার কাছে অন্তত এটা মাস্টারপিস না হলেও কাছাকাছি ……
আমরা অতীতে ফিরে যেতে চাই , সাতোরুও চেয়েছে – অতীতে গিয়ে সহপাঠীর প্রান বাঁচাতে চেয়েছে – সেখান থেকে কিছু “ইন্টারেস্টিং” চরিত্র এসেছে যাদের মানসিক অবস্থা ছিল জটিল কমপ্লেক্সিটিতে ভরা ……
উদাহরণ স্বরূপ হিনাজুকির মায়ের কথাই ধরুন [আর কিছু বলা যাচ্ছে না স্পয়লারের কারণে]
[জানালা খোলা,হঠাৎ নীল প্রজাপতি] ……
আমি রক্তের স্বাদ ভালোবাসি – তোমার চিৎকার আমার প্রাণ জুড়িয়ে দেয় – এরকম Psycho টাইপ চরিত্র ভালো না লেগে পারে [যদি আপনি অতিমাত্রায় Conservative না হন]
কিন্ত বেশ অন্যরকম একটা ভিলেইন আছে এ গল্পে –
একটা চড়ুই কে বেঁধে রাখুন –
চড়ুইটির সাথে কি করা যেতে পারে –
চড়ুইটিকে মেরে ফেলুন [Void]
চড়ুইটিকে মেরে মরা চড়ুইএর ব্যবচ্ছেদ করুন [Violent]
চড়ুইটির পা দুটো কিছু একটার সাথে বেঁধে চোখের সামনে এমন দূরত্বে খাবার রাখুন যাতে হাজার চেষ্টা করলেও সে খাবারের নাগাল না পায় [Villain of ERASED]
একটা গল্পের শুরুটা যতটা ভালো হলে তা দর্শকদের এক পায়ে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে তার পুরোটাই ছিল সিরিজটির শুরুতে যদিও গল্পের আগানোর সাথে সাথে ঠিক আশানুরুপ অগ্রসরতা দেখা যায়নি ……
তবে Realistic বিশেষণ টা থেকে ERASED কে বঞ্চিত করা যাবে না –
১৫ বছর কোমায় থাকলে কি কি হতে পারে ভাবাই দুষ্কর
রেস্কিউ রিভাইভালে কোন সমস্যা না হওয়া [প্রাপ্তবয়স্ক কোন লোকের পক্ষে যেটা স্বাভাবিক]
পরিচ্ছন্ন ও পারফেক্ট এন্ডিং …
এ এনিমে এক রোলার কোস্টার –
প্রথম দিকে দেবে রহস্য আর সাই ফাই এর সুবাস কিন্ত ফুল ঘেটে এনিমখোরগণ সাইকোলজি আর হালকা ড্রামা ছাড়া রহস্য তেমন একটা পাবেন না আবার শেষে এসে আরেকটু রহস্যের গন্ধ আর তারপর ……
[জানালা খোলা,হঠাৎ নীল প্রজাপতি] ……
বছরের অন্যতম সেরা দুটি গান আর সাইকোলজিক্যাল এনিমের প্রধান অস্ত্র ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক নিয়ে তর্ক করার কিছুই নেই ………
বছরের সেরা এন্ডিং বিচার করলে ERASED এর এন্ডিং টা মোটেও পিছিয়ে থাকবে না ……
গানের কথা গুলো সিম্পল অথচ অর্থবহ – মিউজিক টপ নচ
https://www.youtube.com/watch?v=4WwsLGf-vGI
Sore wa Chiisana Hikari no Youna – গেয়েছে সায়ুরি
আর এশিয়ান কুংফু জেনারেশন তাদের নামের মর্যাদা রেখেছে Re:Re দিয়ে
https://www.youtube.com/watch?v=vyM4h4iVeFo
ভয়েস এক্টিং ও খুব ভালো হয়েছে – যদিও বিজনেস সেন্স কম মনে হয়েছে – পপুলারিটি বাড়ানোর জন্য আইরিকে কোন MOE কন্ঠে পারদর্শী সেইয়ু দিলে ওটার জন্যই পসরা বেড়ে যেত :-p
সাতোরু কন্ঠ অভিনেতা শিনোসুকে আর সুচিয়া কে না চিনলেও – সাতোরুর কন্ঠ বিশেষ করে ছোটবেলার কন্ঠ দারুন লেগেছে!
আর আওয়ি ইউকি বরাবরের মত পারফেক্ট! তার কন্ঠ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই! “বাকা নানো?” কথাটা এনিমের মাঝখানে যে কতবার রিপিট করে শুনেছি ইয়ত্তা নেই …
একটা পর্যায়ক্রমিক ডিফারেনশিয়েশন কল্পনা করুন –
যেখানে ফাংশনের অন্তরীকরণে এক জায়গায় একটা প্লাস মাইনাস চিহ্নের ভুল পুর অঙ্কটাকেই গুবলেট করে দিতে পারে ……
টাইম লাইন তার চেয়েও সেন্সিটিভ –
আমি যদি এটা করি = তাহলে ওটা হবে
সুতরাং , আমি যদি এটা না করি = তাহলে ওটা হবে না

দুঃখিত কিন্ত সময় ও পরিণতির হিসাব টা যে ঢের জটিল- এত সহজে কাজ করে না । আপনাকে ছুরি দিয়ে ফল কাটা অবস্থায় কেউ ডাক দিলে রুমে আপনি ছুরি হাতে গেলে তার কেটে যাবে কিন্ত তার মানে এই না যে না নিয়ে গেলে সব ঠিক থাকবে । দেখা যাবে আপনার যাওয়ার আগেই সে ডাক দিতে দিতে এসে আপনার ছুড়ির ওপর অসাবধানতাবশত হাত রেখে ………
আর ঠিক এখানেই ERASED এর সার্থকতা – অতীতে ফিরে যাওয়া তো কেবল শিরোনাম – এর মাঝে গল্পে সময়ের সামনে আগানো – ঘটনার প্রবাহ ও সাতোরু-ভিলেইনের নিজ নিজ লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টার পদ্ধতি পরিবর্তন – খুব বেশি সোজা ক্যালকুলেশন ফলাফল শূন্য করে দিতে পারে [সাতোরুর ১ম রিভাইভালে ব্যর্থতা]
[জানালা খোলা,হঠাৎ নীল প্রজাপতি] ……
মা হিসেবে একজন মা কি করতে পারেন – তার রেফারেন্স ও দেখা যাবে এখানে
এব্যাপারে ফুজিনুমা সাচিকো বেশ Inspirational চরিত্র! (y)
যখন কেউ জীবন এর স্বাভাবিক যাত্রাটাকে একটা চিরাচরিত যাত্রা মনে করতে শুরু করে – লাইফ টা এতটাই বোরিং – তখন কিন্ত ঘটতে পারে সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার – কোন কারণ ছাড়াই কাউকে খুন করে আনন্দ পেতে পারেন – একটা পিঁপড়ার কামড় খেয়েও হিংস্র জানোয়ারের মত রেগে যেতে পারেন – পুরো জীবনটাকে একটা গেমের মত করে ভাবতে পারেন
কিন্ত যদি এই গেম খেলার প্রতিযোগীই না থাকে তখন?
তখন কি করবেন আপনি?
সাইক্রিয়াটিস্টের ওষুধ খেয়ে সুস্থ্য হয়ে যাবেন?
নাকি? …………
[জানালা খোলা,হঠাৎ নীল প্রজাপতি] ……
এ এনিমে এক রোলার কোস্টার –
প্রথম দিকে দেবে রহস্য আর সাই ফাই এর সুবাস কিন্ত ফুল ঘেটে এনিমখোরগণ সাইকোলজি আর হালকা ড্রামা ছাড়া রহস্য তেমন একটা পাবেন না আবার শেষে এসে আরেকটু রহস্যের গন্ধ আর তারপর ……
আচ্ছা এই লেখাগুলো লিখছি কিন্ত খুব চেনা চেনা লাগছে, কেন বলুন তো?
যা হোক যা বলছিলাম –
বছরের অন্যতম সেরা দুটি গান আর সাইকোলজিক্যাল এনিমের প্রধান অস্ত্র ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক নিয়ে তর্ক করার কিছুই নেই ………
এক মিনিট! কি হচ্ছে – I’m repeating the Same thing!

Anime : Boku Dake ga Inai Machi [ERASED]
Genre : Mystery,Seinen,Psychological,Mystery
Studio : A-1 Pictures
Best Character : Fujinuma Satoru
MAL Score : 8.71
My Score : 7.8
যদি কোন প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে থাকেন তবে তা এনিমেতেই আছে,দেখে ফেলবেন

Welcome to the NHK [রিভিউ] — Prottoy Rahman

স্বাগতম এক অতি সাধারন বাস্তবতার উপর নির্মিত এক সাধারন গল্পের অসাধারন উপস্থাপনায়। জাপানের হিকিকুমোরি অর্থ্যাৎ কর্মবিমুখী shut-in জনগণ, বিষয়টি খুব সাধারনই বটে। কিন্তু স্বাভাবিক না। এরা দেশের বোঝাবৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেদেরও যে ক্ষতি করে, তা একটি ভালো রকমের সমস্যা।

এই এনিমটি এরকমই এক NEET shut-in সাতৌ তাতসুহিরো কে অনুসরণ করে একটি গল্প তুলে ধরে। তো, কেমন কাজ করে এই এনিম, তারই একটু ছোট বর্ণনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই পোস্ট।

প্রথমেই যা চোখে পড়ার মতো, তা হলো সাতৌর জীবনযাপনের পরিবেশন। মাত্র কয়েক মিনিটে তার মানসিক, আচরণগত এবং জীবনযাপনমূলক বৈশিষ্ট পরিষ্কার হয়ে ওঠে। এক সামাজিক সমস্যার উপর তৈরি, সমস্যাটি তুলে না ধরলে কেমন দেখায়? হ্যা, এনিমটি এই hikikumori-র আগা, গোড়া, কান্ড, চূড়া, সব চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছে। সমস্যার উৎপত্তি, কারণ, প্রভাব, উত্তরণের উপায়, কোনো কিছুই বাদ দেওয়া হয় নি। তবে শুধু এই বিষয়টি তুলে ধরেছে, তা বললে আমার জীবনে বলা অন্যতম বিশাল ভুল হবে। এই এনিমকে সামাজিক সমস্যার অ্যালবাম বললেও কম হবে। সাতৌর হিকিকুমরি অবস্থার উন্নতির প্রচেষ্টায় সে মুখোমুখী হয় সমাজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আরো অনেক সমস্যার। যদিও এটি বেশ repetitive, তবুও এর গল্পলিখনে মোটামুটি সামঞ্জস্য আছে। প্রতিটি ঘটনার অবতারনা করতে পূর্বের ঘটনাবলী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে যা এটিকে ভালোই উপভোগ্য করে তোলে।

এর মূল গল্পের সাথে সাথে চলে চরিত্রায়ন। ঘটনার স্রোতে আমরা দেখতে পাই চরিত্রদের জীবনের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের মধ্যবর্তী খুঁতগুলোকে পুঁজি করে চমৎকারভাবে একে অপরের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা এবং চরিত্রের ডেভলপমেন্ট দেখানো হয়েছে। একে অনায়াসে অন্যতম সাইকোলজিকাল এনিম এর কাতারে ফেলা যায়। এটি শুধু যে চরিত্রগুলোর মানসিক অবস্থা ফুটে তোলে তা নয়, এই এনিম বিভিন্ন mental phenomena ও পরিবেশন করে।

এই এনিমের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর বাস্তবতা। বেশ কিছু জায়গায় অবিশ্বাস্য আচরণ দেখা গেলেও সর্বোপরি এটি বাস্তবতাকে তুলে ধরে। এটি দেখায় মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে চমৎকার কাজ করলেও নিয়তির কাছে মাঝেমাঝে হার মানতে হয়। তবে তার থেকেও বেশি এই এনিমের আকর্ষণীয় দিক হলো মন্তব্য দেওয়ার সাহসিকতা। Welcome to the NHK বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য প্রদান করে যার মধ্যে ধর্মীয় চিন্তাধারাও পড়ে।

এই এনিমটির আর্ট বেশ চমৎকার। এর এনিমেশনও উল্লেখযোগ্য। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুলো অতি চমৎকার এবং এনিমটিকে উপভোগ্য করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ওপেনিং সং একদিকে বেশ এন্জয়েবল্ এবং দৃশ্যগুলো দেখতে অসাধারণ, অপরদিকে অনেক অর্থবহ। YouTuber “Mother’s basement” এর চ্যানেলে এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সহ একটি ভিডিও আছে।

যাই হোক, বাংলা টাইপ করার খুব একটা অভ্যাস নেই বলে আর বেশিকিছু বলব না। এটা অত্যন্ত ভালো একটি এনিম এবং আমার দেখা সেরাদের মধ্যে একটি। স্কোর দেব ১০ এর মধ্যে দৃঢ় ৯।

ওহ হ্যা, এতকিছুর মধ্যে প্রশ্ন জাগতে পারে যে NHK জিনিসটা কি? খায় না মাথায় মাখে? NHK তেমন বিশেষ কিছু না, তবে একই সাথে এটি অনেক কিছু। এটা খেতে পারেন, মাথায় মাখতে পারেন, উপাসনা করতে পারেন, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা, এর দ্বারা মনের ভার কমাতে পারেন। যেমন এই পোস্ট আমার এন এইচ কে।

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero (Part-2); Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction — Rahat Rubayet

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero Part-2
[Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction]

হান্টার এ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড মিটিং চলছে। চেয়ারম্যান আইজ্যাক নেতেরো ছাড়া বাকি উপস্থিত ১২ জন হল জোডিয়াক। বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনে জরুরী কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে তখন এমন বোর্ড মিটিং এর ডাক দেয় নেতেরো। আজ তেমন একটি বিশেষ প্রয়োজন। প্রয়োজন জরুরী এক সিদ্ধান্ত নেবার। হুম, ডার্ক কন্টিনেন্ট এক্সপ্লোর করার ব্যপারে সিদ্ধান্ত।
বোর্ড মিটিং এর শুরু থেকেই বেশিরভাগ সময়ই Dog, Pig আর Monkey (জোডিয়াক) তর্ক করে চলেছে। Dog আর Pig এর বক্তব্য মোটামোটি এমন যে- যেহেতু ডার্ক কন্টিনেন্ট এক্সপ্লোর করার জন্য না গেলে সরকার হান্টার এ্যাসোসিয়েশন বিলুপ্তির প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছ, কাজেই এছাড়া তাদের হাতে খুব একটা উপায়ও যে আছে এমন কিন্তু না। তার থেকে ডার্ক কন্টিনেন্ট এক্সপ্লোর করে সরকার কেও সন্তুষ্ট করা সম্ভব আবার তা থেকে কিছুটা বেনিফিট হান্টার এসোসিয়েশনও পাচ্ছে।
কিন্তু, Monkey বাধা দিয়ে বলে ওঠে, .”নিনজা ভিলেজগুলো কে এটাক করা মানে শুধু শুধু প্রাণহানি”
Pig অধৈর্যসুরে বলে, “আহা, ওদেরকে আক্রমণ করতে হবে কেন? ওদের কে একটা প্রপোজাল দিতে যাচ্ছি আমরা শুনলেই তো”
-“কিন্তু নিনজা ভিলেইজ গুলো তা হতে দেবে কেন? ওয়েস্টারন এন…. ”
–“যদি ওরা কিছুতেই আপোষে না আসে,ওয়েল….” কথা শেষ না করে কাধ ঝাঁকায় Dog. Pig ওর অসমাপ্ত কথাটা শেষ করলো যেন, “আসলে, কথা হচ্ছে গিয়ে- আমাদের হাত বাঁধা, কাজেই অন্য কোন উপায়ও খোলা নেই আমাদের কাছে।”
বাকিদের দিকে তাকাতেই দেখলো সবাই সম্মতি জানাচ্ছে, আসলেই আর কোন উপায় নেই ওদের সামনে খোলা। মাথা ঘুরিয়ে টেবিলের একেবারে শেষের আর মাঝখানের চেয়ারে বসে থাকা নেতেরোর দিকে তাকায় সবাই, কিছু শুনবার আশায়। মিটিং এর শুরু থেকে একটা কথাও বলে নি, চেয়ারম্যান।
কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর, নিস্তব্ধতা ভাংলো Rabbit, “তুমি যেহেতু তোমার ডিসিশান আগেই নিয়ে রেখেছো, সেক্ষেত্রে শুধু শুধু এই বোর্ড মিটিঙ এর কি কোন প্রয়োজন ছিল?”
উত্তরে নেতেরো এবারেও নিশ্চুপ। স্মিত একটা হাসি স্বভাবসুলভ ভাবে এটে রয়েছে তার মুখে। মিটিং শুরু হবার আগেই, হাশিরামার কাছে চিঠিটা পাঠিয়ে দিয়ে এসেছে সে। কি বলবে সে?

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero (Part-1); Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction — Rahat Rubayet

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero Part-1
[Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction]

লেকের শান্ত পানিতে নীল আর সাদা আকাশের প্রতিবিম্ব ভাসছে। ছোট ছোট ঢেউ একটা আরেকটার গায়ে ভাংতেই তাতে আকাশের প্রতিচ্ছবি কাঁপতে থাকে। থেকে থেকে টুপ করে শব্দ হচ্ছে একটু পর পর এখানে সেখানে। লেকের পাশেই একসারি ওক গাছের সবুজ পাতা ডালপালা মেলে বাতাসের তালে নাচছে যেন। মাথার ওপর পরিষ্কার আকাশ থাকলেও মেঘের সাদা ছোটোখাটো স্তুপ এখানে সেখানে ছুটে যেতে থাকে ধীরে। অদ্ভুত সুন্দর একটা পরিবেশ, সবকিছুই যেন কেমন গোছানো আর পরিপাটি করে রাখা।
লেকের ধারে পাটাতনে পা মেলে বসে আছে হাশিরমা সেঞ্জু। একটু ব্যবধানেই ছালতোলা এক গাছের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওর প্রানপ্রিয় বন্ধু মাদারা উচিহা। কেউ কিছু বলছে না-চুপ করে আছে বহুক্ষণ। পাটাতনে মর্মর শব্দ হতেই পিছনে ফিরে ছোট ভাই টোবিরামাকে দেখতে পায় হাশিরামা। কিছু না বললেও বড় ভাই-হাশিরামার দিকে তাকিয়ে একটু মাথা ঝাঁকাল সে। উঠে দাঁড়িয়ে মাদারার দিকে একবার তাকাল কি মনে করে। তারপর ধির পায়ে নিজের অফিসকক্ষের দিকে ফিরতে উদ্যত হয়। সেখানেই বাকি ৪ গ্রামের কাগেরা উপস্থিত হয়েছেন।
হাশিরামা ভেতরে ঢুকে নিজের হ্যাটটা খুলে টেবিলে রাখল। তারপর চেয়ারে বসে বাকি ৪ কাগের দিকে তাকায় শান্ত চোখে। সবার চোখেই কিছুটা উৎকণ্ঠা দেখতে পেল। কাঁধের পাশেই টোবিরামা দাড়িয়ে।
প্রথমেই সুচিকাগে কথা বলে ওঠে,”আমাদের আজকের এই মিটিংএর বিষয়ের সাথে যেহেতু পুরো নিনজা ওয়ার্ল্ডের স্বার্থ জড়িত, আমার মনে হয় না এ বিষয়ে আমাদের কোন বিভেদ থাকতে পারে।”
হাশিরামার মুখের স্বভাবসুলভ হাসি মুছে গিয়ে অস্বাভাবিক গম্ভিরতা ভর করেছে। কি বলতে গিয়েও বলল না, মিজুকাগে কথা বলতে শুরু করায়। “আমরা মূল প্রসংগে যাই। আমি আমার গুপ্তচরের কাছে খবর পেয়েছি হান্টার এ্যাসোসিয়েশন ডার্ক কন্টিনেন্ট এক্সপ্লোর করতে চায়। আর আমার মনে হয় আমরা সবাই জানি তার অর্থ কি।”
এবারে কাজেকাগে কথার যোগান দেয় তার সাথে “তার অর্থ ডার্ক কন্টিনেন্টের ওয়েস্টার্ন সাইড ওপেন করলে ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে নিনজা ওয়ার্ল্ড তথা আমাদের গ্রাম গুলোর ওপর”, এর আগে ডার্ক কন্টিনেন্টের ইস্টার্ন সাইড দিয়ে এক্সপ্লোর করতে চাইলে যে নারকীয় তাণ্ডবলীলার সূচনা হয় তার দিকেই ইঙ্গিত করল বুঝি।
এবারে হাশিরামা কথা বলতে শুরু করে,”আমার মনে হয় না নেতেরো থাকাবস্থায় ‘তেমন কিছু’ হবে নিনজা ওয়ার্ল্ডে নেতেরোকে আমি চিনি ও……।”
থামিয়ে দিয়ে রাইকাগে বলতে থাকে, “তখনো কিন্তু নেতেরো হান্টার এ্যাসোসিয়েশনেই ছিল।”
“‘তেমন কিছু’ যদি হয় তবে বিষয়টা আমি হ্যান্ডেল করবো”,কথা শেষ করতে পারে না হাশিরামা- তার আগেই টোবিরামা হাতে এক কাগজ নিয়ে আসে ওর কাছে। চিঠি পাঠিয়েছে নেতেরো। হান্টার এ্যাসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে একটা প্রপোজাল পাঠিয়ে চিঠি। শিনোবি ভিলেজ গুলো যদি তাদের পাশের ডার্ক কন্টিনেন্টের ওয়েস্টার্ন সাইড ওপেন করতে বাধা না দেয়, সেক্ষেত্রে তাদেরকে প্রযুক্তিগত ভাবে ‘ব্যাপক উন্নতি’র ব্যবস্থা করবে হান্টার এ্যাসোসিয়েশন।
তাছাড়াও ছোট্ট আরেকটা চিরকুটে নেতেরো তার হিডেন লিফ সফরের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।