অ্যানিমের ইতিহাস (অথবা অমরত্বের অপ্রত্যাশিত বর্ত্ম) – ১.৯৮৯ তম পর্বঃ আমরা কী নিয়ে কথা বলি, যখন আমরা কথা বলি ওসামু তেজুকাকে নিয়ে

শিন তাকারাজিমার সাফল্যের পর তেজুকা পেশাদার মাঙ্গাকা হওয়ার পথে পা বাড়ালেন।
১৯৪৯ সালে তেজুকা লিখলেন এক সাই-ফাই, গোয়েন্দা গল্প। Metropolis. যা পরবর্তীতে হয়েছে ২০০১ সালের একই নামের অ্যানিমে ফিল্ম এর অনুপ্রেরণা।

পরবর্তী বছর বেরোল তার অন্যতম জনপ্রিয় কাজ, Jungle Emperor. আমেরিকায় যা Kimba The White Lion নামে পরিচিত। এটাই ছিল তেজুকার সর্বপ্রথম “সিরিয়ালাইজড” মাঙ্গা। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪, চার বছরে এই মাঙ্গার বের হয়েছিল তিনটি ভলিয়্যুম। কিম্বা হয়ে উঠল আইকনিক এক চরিত্র।

১৯৫১ সালে তেজুকা লিখলেন Captain ATOM. এই মাঙ্গাতেই প্রথম আবির্ভাব ঘটে তেতসুয়ান অ্যাটমের। পরবর্তী বছর তিনি লিখলেন এর সিক্যুয়েল, Tetsuwan Atom. তেতসুয়ান অ্যাটমের সাফল্য ছাড়িয়ে গেল তাঁর আগের সব কাজকে। যেকোন মাঙ্গার আগের সব সাফল্যকে। অনেকটা হঠাৎ করেই মাঙ্গা হয়ে ঊঠল যেন জনসাধারনের গ্রহনযোগ্য একটি বিনোদনের মাধ্যম। ছোটবড় সবাই অপেক্ষা করত সপ্তাহের সেই দিনের জন্য যখন নতুন চ্যাপ্টার মুক্তি পাবে। এই সাফল্যের জোয়াড়ে চড়েই তেতসুয়ান অ্যাটম প্রকাশিত হয়েছে টানা ১৬ বছর ধরে।

প্রায় একই সময়, ১৯৫৩ সালে প্রথম প্রকাশ হওয়া শুরু হয় তেজুকার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ, Princess Knight. তাকারাজুকা গীতিনাট্যের কথা মনে আছে? যেখানে নারী-পুরুষ সব চরিত্রে অভিনয় করত মহিলারা? মেয়েদের ছেলের মত পোশাক পড়া, রাজকন্যা আর রাজপুত্রের গল্প, প্রিন্সেস নাইট হল সর্বপ্রথম শৌজো মাঙ্গার। প্রিন্সেস নাইটে তেজুকা বললেন এক “জেন্ডার বেন্ড”
প্রোটাগনিস্ট প্রিন্সেস স্যাফায়ারের গল্প, যার দেহে ছিল একই সাথে দুটো আত্নার সহাবস্থান, একটি ছেলে এবং একটি মেয়ের। যার প্রভাব লক্ষনীয় তার অনুগামী জনপ্রিয় শৌজো মাঙ্গায়, অ্যানিমেতে।

সময় যত যেয়েছে তেজুকার চোখ বড় বড় চরিত্রের, “কার্টুনীয়”, সাধারণ বিনোদনের গল্প গুলো হয়েছে আরো গভীরতা পূর্ণ, কখনো ডার্ক, আর তাঁর আঁকা হয়েছে আরো বাস্তবিক।
১৯৫৬ সালে তেজুকা আঁকা শুরু করলেন, তাঁর নিজের মতে যা তাঁর সেরা এবং সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী কাজ, Hi no Tori(Phoenix). নিজের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যা তেজুকা লিখে গেছেন এবং তা এখনো অসম্পুর্ণ। ফিনিক্সের গল্প; স্থান-কালের এক অনবদ্য যাত্রা, ভিন্ন যুগ আর ভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন সব মানুষের গল্প; যাদের যোগ সূত্র অমরত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষা।

তেজুকার আরেকটি সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত কাজ হল, Buddha. বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্টাতা গৌতম বুদ্ধের জীবনি, যাতে অবশ্যই ছিল তেজুকার নিজস্ব ছোঁয়া। ২০০৪-২০০৫, টানা দুই বছর বুদ্ধ জিতেছে আইসনার অ্যাওয়ার্ডস, আন্তর্জাতিক বিভাগে।
ড.ওসামু তেজুকা তার চিকিৎসা বিদ্যার জ্ঞান কাজে লাগালেন তার পরবর্তী কাজে। Black Jack, এক প্রতিভাবান শল্য চিকিৎসকের গল্প। ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত টানা দশ বছর ব্ল্যাক জ্যাক প্রকাশিত হয়েছে।
আশির দশকের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ, Adolf. ত্রিশের দশকের জার্মানীর তিন অ্যাডলফের গল্প; যাদের একজন এক সাধারণ জার্মান, একজন ইহুদী আর একজন স্বয়ং স্বৈরশাসক!

তেজুকা কাজ করতেন সপ্তাহে ৫ দিন, তার নিজস্ব এক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে;যেখানে ঢুকতে পারত কেবল তার স্ত্রী। এমনকি তার এডিটরও না। বছরে মাত্র গড়ে ৬০ দিন থাকতেন নিজের বাসায়, পরিবারে সাথে। তিনিই শুরু করেন মাঙ্গাকাদের অ্যাসিটেন্ট রাখার প্রচলন, যা একই সাথে যেমন সাপ্তাহিক সিরিয়ালাইজেশনের কাজ সহজ করে দিলো, তেমনি উদীয়মান মাঙ্গাকাদের পেশাদার কাছ থেকে শেখার সু্যোগ করে দিলো। যা আজো অনুসরন করা হয়।

১৯৮৯ সালে পাকস্থলীর ক্যান্সারে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত ওসামু তেজুকা লিখেছেন ৭০০ ভলিয়্যুম আর প্রায় দেড় লাখ পৃষ্ঠার মাঙ্গা! ১৯৮৫ তে তার ৪০ বছরের মাঙ্গাকা জীবন উপলক্ষে এনএইচকে তে প্রচারিত এক ডকুমেন্টারিতে তিনি বলেছিলেন তিনি লিখে যেতে চান আরো চল্লিশ বছর। কারণ তার এখনো অনেক, অনেক গল্প বলা বাকি। ওসামু তেজুকা আরো চল্লিশ বছর বাঁচেন নি, ফিনিক্সের অমরত্বের গল্পও শেষ করে যেতে পারেননি, কিন্তু তার মাত্র ৬১ বছরের জীবনে তিনি মাঙ্গার ইতিহাসকে যতটা বদলে দিয়েছেন, তাতে কি তিনি নিজে অমরত্ব নিশ্চিত করে যাননি?

“Foreign visitors to Japan often find it difficult to understand why Japanese people like comics so much. One explanation for the popularity of comics in Japan is that Japan had Osamu Tezuka, whereas other nations did not.”

10959489_913106612054490_6674192471629459510_n

 

অ্যানিমের ইতিহাস যোকু শৌ – ১.৯৪৮ তম পর্বঃ ওসামুশি(-শি)

“You should work doing the thing you like most of all.”

২০ বছর বয়সে যখন ওসামু তেজুকা জীবনের এক সন্ধিক্ষনে পৌছলেন, চিকিৎসক না মাঙ্গাকা, কোন নেশাটাকে পেশা হিসেবে নিবেন তা নিয়ে দোদুল্যমান, তখন এটাই ছিল তাঁর মায়ের উপদেশ। দুই পেশার প্রতিই তার ভালোবাসা আর সম্মান ছিল। যদিও সামাজিকভাবে মাঙ্গাকা হওয়া সেসময় যেমন খুব একটা সম্মানের পেশা ছিল না, আর সম্মানীটাও ছিল সেরকমই কম। কিন্তু যদি আসলেও পারিবারিক চাপে তুলনামূলক ভালো আর্থিক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মাঙ্গাকা হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিতেন, তাহলে ভাবুন তো মাঙ্গার ইতিহাসটা কতটা বদলে যেত?
অ্যানিমের ইতিহাস?
জাপানের ইতিহাস, তাদের পুরো সংস্কৃতিও কি না?

তিন সন্তানের সবচেয়ে বড়, ওসামু তেজুকার জন্ম ৩ নভেম্বর, ১৯২৮; ওসাকা প্রিফেকচারের তোয়োনাকা শহরে। কিন্তু তাঁর বেড়ে ওঠা হিয়োগো প্রিফেকচারের তাকারাযুকা শহরে। ছোট ওসামু তেজুকার ভালোবাসার বিষয় ছিল তিনটি।

পোকা সংগ্রহ।
থিয়েটার। তার মায়ের সাথে তাকারাযুকা থিয়েটারে তাকারাযুকা গিতীমঞ্চনাটক দেখতে যাওয়া। তাকারাযুকা থিয়েটারের মঞ্ছস্থ হত রোমান্টিক সব গল্প, রাজকন্যা আর রাজপুত্রের গল্প। কিন্তু মজার বিষয় এর অভিনেত্রী-“অভিনেতা” সবাই ছিলেন মেয়ে। এমনকি পুরুষ চরিত্রেগুলোতেও।
আর বাসায় তার বাবার সংগ্রহের কমিকস আর কার্টুন। তেজুকার আগ্রহী চোখ নিবিদ্ধ থাকতো ওয়াল্ট ডিজনী আর ম্যাক্স ফ্লাইসার(পপাই, বেটি বুপ, সুপারম্যান) এর অনবদ্য অ্যানিমেশনে। তার দুই অনুপ্রেরণা।
জ্বলজ্বল করা বড় বড় সব চোখের চরিত্রের কার্টুন।
বাম্বি, মিকি মাউস, পপাই।

তেজুকা কমিকস দ্বারা এতটাই মুগ্ধ হলেন যে এলিমেন্টারি স্কুলের দ্বিতীয় বর্ষেই নিজে তা আঁকা শুরু করলেন। কিন্তু বাদ সাধল ভাগ্য। যে হাত দুটো দিয়ে তিনি বছর বছর পরে আঁকবেন Black Jack, সেই হাতদুটোই সংক্রমণের ফলে এত ফুলে গেল যে তা হারানোর যোগাড়। চিকিৎসকের নিবিড় পরিচর্যায় তেজুকা সুস্থ হয়ে উঠলেন। তবে এ ঘটনা তার মনে বড় একটা প্রভাব ফেলল। তেজুকা মাঙ্গা লেখা চালিয়ে গেলেন ঠিকই, কিন্তু একই সাথে ভর্তি হলেন ওসাকা ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টিতে। কলেজের প্রথম দিকেই, মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার প্রথম মাঙ্গা প্রকাশ পেল ছোটদের পত্রিকায়, চার-প্যানেলের এক মাঙ্গা, The Diary of Ma-chan.
[http://i.imgur.com/OqWZzNk.jpg]

তার কাজে পশ্চিমের অনুপ্রেরণা ভালোভাবে প্রকাশ পেল তার পরবর্তী মাঙ্গায়, ১৯৪৭ এ। ছোটবেলায় যেসব ধ্রুপদী গল্প পড়ে বড় হয়েছেন, তেমনই একটি, Tressure Island এর গল্পে নিজের ছোঁয়া লাগিয়ে তিনি লিখলেন The New Tressure Island/Shin Takarazima। যা আগের সব মাঙ্গার থেকে আলাদা ছিল তার অসাধারন গল্পবুঁনট, সিনেমাটিক দৃশ্যায়ন আর দ্রুতগতির কাহিনীর কারণে। Shin Takarazima জনপ্রিয়তা জাপান জুড়ে ছড়াল, তা বিক্রি হল হটকেকের মত। প্রায় ৪ লাখ কপি!
[http://i.imgur.com/DWoL60k.jpg]

“পোকা সংগ্রাহক” তেজুকা অবশ্য তার এই ভালোবাসাটাও ভুললেন না। Osamushi বা Ground Beetle এর নামে রাখলেন নিজের ছদ্মনাম।
মেডিকেল স্কুলের পাঠ শেষ হল। কিন্তু “ডক্টর ওসামু তেজুকা” চিকিৎসাবিদ্যা বাদ দিয়ে যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের মানুষের জীবনকে পরিবর্তনের দায়িত্ব নিলেন।
মাঙ্গার প্যানেলে।

10451023_911098545588630_673127875041019372_n

 

All Fiction 2 (Eid Special Edition): Top 5 Anime Duo Review

ঈদ উপলক্ষে স্পেশাল কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল। সবাই কত আর্টওয়ার্ক আর ঈদ মোবারক পোস্টাচ্ছে, তাই আমিও আর চুপচাপ থাকতে পারলাম না। অল ফিকশন ২য় ইস্যু পুরোপুরি পোস্ট করতাম, কিন্তু লেখালেখিই এখনো শেষ হয়নি, ইমেজ+হাইপারলিঙ্ক ইন্সারটিং তো পরের কথা। স্পর্শ গেছে গ্রামের বাড়ি, ও না আসলে অল ফিকশনের কাজও আগানো যাচ্ছে না, মূল ইস্যু প্রকাশ করতে দেরি হবে। তাই ঈদ উপলক্ষে আমার ‘টপ ৫ অ্যানিমে Duo রিভিউ’ পোস্ট করছি, অল ফিকশনের ২য় ইস্যুর ঈদ স্পেশাল হিসেবে। পরে এই লিস্টটাকে আরও সম্প্রসারিত করে স্পর্শকে নিয়ে টপ মাঙ্গা Duoদের সহ ডকটাকে সমৃদ্ধ করবো।

প্রথমেই বলে নিই, অনেকেই Duo বলতে Couple মনে করে ভুল করে, কিন্তু Duo আর Couple পুরাপুরি ভিন্ন ব্যাপার। এ বিষয়ে আর বিস্তারিত নাহয় আরেকদিন বলবো। খুবই অল্প অ্যানিমে দেখেছি, তাই বেশি ক্যারেক্টার চিনিনা, অনেক বস ডূও ক্যারেক্টার বাদ পড়লে দুঃখিত। মেইন্সট্রিম অ্যানিমে ক্যারেক্টারদের এই লিস্টের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

1. Vash the Stampede and Nicholas D. Wolfwood
Anime: Trigun

ট্রাইগানের ভক্তদের কাছে এই ডূওর নাম উচ্চারণ করা মানেই একগাদা ফিলস ট্রিপ। বহু চড়াই-উৎরাই এবং লড়াইয়ে এই ডূওর ব্যাক টু ব্যাক ফাইট ভোলা যায় না। ওয়েস্টার্ন সাই-ফাই অ্যানিমে ট্রাইগানে এই দুই দোস্তর অতুলনীয় বন্দুকবাজি আর মানুষ খুন না করে বিশাল বিশাল ফাইট জেতার অ্যাবিলিটি সবসময় চোখে লেগে থাকার মত। ভাশের চিরহাস্যোজ্জল মুখ এবং প্যাসিফিজম, আর নিকের বিশাল ক্রুশ, যার মধ্যে থাকতো পিস্তল থেকে শুরু করে রকেট লঞ্চার এবং আরও নানাজাতের অস্ত্র, এমন এক্সেন্ট্রিক() ডূও খুব কমই আছে।তাই আমার তালিকায় এই দুজনের স্থান সবার উপরে।

2. Edward Elric and Alphonse Elric
Anime: FMA and FMAB

মৃত মাকে ফিরিয়ে আনার প্রয়াসে বড় ভাই এডওয়ার্ড হারায় এক হাত, আর ছোটভাই আলফনসে হারায় তার সম্পূর্ণ দেহ। ছোটভাইয়ের হারানো দেহ ফিরে পাওয়া এবং অনেক অজানা প্রশ্নের জবাব পাবার লক্ষ্যে স্টেট অ্যালকেমিস্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে কিশোর এডওয়ার্ড। পুরো অ্যানিমেজুড়েই আমরা দেখতে পাই দুই ভাইয়ের সংগ্রাম, মন উথালপাথাল করা এক অনবদ্য কাহিনী। হমুনকুলাসদের সাথে ফাইট, অ্যালকেমির হাজারো রহস্য উদঘাটন, তাদের পিতার অতীত, মায়ের মৃত্যু… এবং হমুনকুলাসদের ফাদারের সাথে শেষযুদ্ধ, অন্তঃপ্রাণ এলরিকভাইদ্বয় নিঃসন্দেহে সর্বকালের সেরা অ্যানিমে ডূওদের তালিকায় সবচেয়ে উপরের দিকে থাকবে।

3. Natsume and Madara
Anime: Natsume Yuujinchou

নাতসুমের মৃত্যুর পর তার ‘ইউজিনচো‘ পাবার লক্ষ্যে তার আমরণ দেহরক্ষী হতে রাজি হয় ভয়ঙ্কর শক্তিশালী ইয়োকাই মাদারাইউজিনচো হল ইয়োকাইদের নামসম্বলিত এক বই, যে বইয়ের সত্যিকার মালিক ওই ইয়োকাইদের ডাকলে সাথে সাথেই ইয়োকাইরা হাজির হয়। আর মাদারা হল গোলগাল বিড়ালের ছদ্মবেশী প্রচণ্ড শক্তিশালী বিশাল এক নেকড়েসদৃশ ইয়োকাই। সারাক্ষণই নাতসুমেকে মৃত্যুহুমকি দিতে থাকা মাদারার খুনসুটি আর আশ্চর্য রকমের শান্ত, অনাথ কিশোর নাতসুমের সাথে ইয়োকাইদের নানা কাহিনী, নাতসুমে এবং তার দাদির অতীত উন্মোচনের মাধ্যমে এগোতে থাকে গল্প। নাতসুমেকে ক্ষতিকর ইয়োকাই ও তাদের শাপশাপান্ত থেকে রক্ষা করা, সময়ে সময়েনাতসুমের সাথে রাগ-অভিমান করা আহ্লাদী বিড়াল মাদারার দুষ্টামি… এ যেন ‘অন্তরে মধু, মুখে বিষ’। স্লাইস অফ লাইফের বেস্ট ডূওদের মধ্যে এই ডূও অবশ্যই থাকবে, এবং তারা স্থান করে নিয়েছে আমার লিস্টের ৩ নম্বরে।

4. Isaac Dian and Miria harvent
Anime: Baccano!

আইজ্যাক এবং মিরিয়া। যতটা না কাপল, তার চেয়ে বেশি ‘ডূও’ এই স্যাটায়ারিক জুটি তাদের প্রাণবন্ত কার্যকলাপের দ্বারা বাকানো’ অ্যানিমের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মাতিয়ে রেখেছে। তাদের কাণ্ডকারখানা বাচ্চাদের মত মনে হতে পারে, কিন্তু এর মাঝে লুকিয়ে আছে গভীর কিছু অর্থ(স্যাটায়ার এক্সপ্লেইন করার মত বোকামি আমি করতে চাইনা, নিজ যোগ্যতায় বুঝে নিন)। সামান্য ব্যাপারকে অসামান্য লেভেলে নিয়ে যাওয়া, আবার ছোটোখাটো বিষয়গুলো বুঝতে ভুল করে ‘তিলকে তাল করা, তালকে মাকাল করা’ এই জুটি বেদম হাসাবে আপনাকে, তাদের আদিখ্যেতা আর ফালতু কাজ করার উদ্দীপনা তাদেরকে রেখেছে আমার ডূও লিস্টের ৪ নম্বরে।

5. Mashiro Moritaka and Takagi Akito
Anime: Bakuman

মাশিরো মোরিতাকা, তাকাগি আকিতো, দুই মাঙ্গা আর্টিস্ট বন্ধুর মাঙ্গাকা হয়ে ওঠার অনবদ্য কাহিনী বাকুমান। প্রতিভাবান আর্টিস্টমাশিরোকে প্রচুর জোরাজুরি করে তার টীমআপ করতে রাজি করায় মাশিরোর ক্লাসমেট তাকাগি। ধীরে ধীরে তারা ‘আশিরোগি মুতোউ‘ নামে একের পর এক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে থাকে, ওয়ান শট মাঙ্গা সাবমিট করতে থাকে। এবং প্রচুর চেষ্টার পর তারাশউনেন জ্যাকের(জাম্পের বাকুমান ভার্শন) রেগুলার মাঙ্গাকা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। শত প্রতিকুলতার মোকাবিলা করে তারা তাদের স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যায়, এবং শেষ পর্যন্ত তাদের নিরলস পরিশ্রম সফলতার মুখ দেখে। মাশিরো এবং তাকাগি হল পারফেক্ট ডূওর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্বপ্নপূরণের পথে নিরন্তর কাজ করে যাওয়া, মাঙ্গাকাদের জীবনের নানা দিক অতীব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে এই ডূও।

Once Again [Manhua] Review

review poster 4

 

Genre: Drama, Romance, Slice of Life, Josei
Chapter: 7
Volume: 1
Author: Feng Xi, Shen Lei, BUDDY

 

Yuan Ge তার কর্মজীবনে এত বেশি সময় দেয় সারাক্ষণ, সাংসারিক জীবন বলতে যেন কিছুই নেই।
ঘুম থেকে উঠে অফিসে চলে যায় স্ত্রীর ঘুম ভাঙবার আগে, রাত্রে বাসায় ফেরত আসে স্ত্রী ঘুমিয়ে যাবার পরে। সকাল বেলায় আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা ঠান্ডা নাস্তাই যেন তাকে মনে করিয়ে দেয় তার একজন স্ত্রী আছে। দুই জন ঘুমায় দুই আলাদা রুমে। এইটুকু বাদ দিলে Yuan Ge এর জীবনের বাকি অংশ দখল করে রাখে অফিসের ব্যস্ততা। নিজেকে উজাড় করে দিয়ে অফিসে সাফল্যের আদর্শ উদাহরণ হিসাবে গড়ে তুলে নিজেকে। এমন সময়ে একদিন অফিসে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার নিকট স্ত্রীর মৃত্যুর খবর চলে আসে।

বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকা স্ত্রীর অসুস্থতার কথা যেন সেই সময়ে মনে পড়ে তার। স্ত্রীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে যেন বৈবাহিক জীবনের সব দায়িত্ব পালন করেছে বলে মনে করে, এবং আবার তার কর্মজীবনে ফেরত চলে যায় – এতটুকু সারা ফেলে না তার মনে।

Yuan Ge দক্ষতার কারণে যেকোন মানুষের চেহারা বা চালচলন দেখেই তাকে একদম পড়ে ফেলতে পারে, বুঝে নিতে পারে তার দক্ষতা কিরকম, কিংবা তার সাথে খাতির জমালে লাভ হবে না লোকসান। এমন অবস্থায় একদিন ট্রেনে চলার সময়ে এক স্কুলপড়ুয়া মেয়ের দিকে তার দৃষ্টি পড়ে যায়। মেয়েটিকে কোনভাবেই যেন বুঝে উঠতে পারে না সে, খোলা বইয়ের মত সবাইকে পড়তে পারতো যেই Yuan Ge, সে কিনা এই অচেনা মেয়েটিকে দেখে কোন হিসাব মিলাতে পারে না! টিনেজ মেয়েটির মধ্যের শিশুসুলভ ব্যাপার-স্যাপার যেন তাকে আরও বেশি অবাক করে তুলে। বউ থাকার পরেও যেখানে বউকে কিংবা অন্য কোন মহিলার প্রতি বিন্দুমাত্র দৃষ্টি দিত না, সেই Yuan কিনা এখন প্রতিদিন ট্রেনে চড়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে কখন মেয়েটি ট্রেনে উঠবে, তার দিকে এক পলক তাকাতে পারবে! ধীরে ধীরে একসময়ে Yuan টের পায় নিজের বয়সের প্রায় অর্ধেক বয়সী এই মেয়ের প্রতি তার অন্যরকম এক আকর্ষণ তৈরী হয়। বুঝতে পারে সে মেয়েটির প্রেমে পড়ে যায়।

একদিন আর ধৈর্য্যের বাঁধ ধরে রাখতে না পেরে মেয়েটির পিছু নেয় সে, উদ্দেশ্য তার সাথে একটু কিছু কথা বলা, তাকে আরেকটু জানা। মেয়েটির পিছু পিছু আসতে আসতে Yuan এসে পরে মেয়েটির স্কুলে – এবং অবাক হয়ে লক্ষ্য করে এটি সেই স্কুল যেখানে সে ছোটবেলায় পড়তো। হঠাত করে সে নিজের স্কুল জীবনের স্মৃতিতে চলে যায়, এবং সাথে সাথে যেন তার পুরা দুনিয়া ওলট-পালট হয়ে যায়! যে স্ত্রীকে জীবিত থাকাকালে একটুও সময় দিতে পারতো না, মৃত্যুর পরেও যেই স্ত্রীর জন্যে তার মন ভারাক্রান্ত হয় নি, এখন এতদিন পর স্ত্রীর সাথে জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত চোখের সামনে ভেষে উঠে। পুরানো দিনগুলি জাপটে ধরে তাকে, এবং Yuan আবিষ্কার করে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহুর্তটুকু কিভাবে তার হাতছাড়া হয়ে যায়।

চরিত্র: ৯/১০

৭ চ্যাপ্টারের এই মানহুয়াটির মূল চরিত্র Yuan Ge, যাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে সমগ্র কাহিনীটি। অল্প কয়েকটি চ্যাপ্টার হলেও এরই মধ্যে তার চরিত্রের দিকগুলি সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে, প্রত্যেক চ্যাপ্টারের সাথে সাথে তার উপলব্ধি ও চারিত্রিক বিস্তৃতি চোখে পরার মত।

এছাড়াও গল্পের মূল চরিত্রের মধ্যে পরে স্কুল পড়ুয়া মেয়েটি, এবং Yuan-এর সদ্য অতীত স্ত্রী।

আর্ট: ৮/১০

শৌজো বা জোসেই ধাঁচের মাঙ্গার মতই আর্টস্টাইল, খুব বিশেষ কিছু নয়। তবে মূল চরিত্র বাদে বাকি কারও চেহারাই তেমন দেখানো হয় না, দেখালেও সেখানে Yuan তাদেরকে কী হিসাবে দেখছে সেটাই উল্লেখ থাকে শুধু।

গল্প: ৯/১০

অল্পের মধ্যে মন ছুঁয়ে যাবার মত একটি রোমান্টিক গল্প। বিশেষ করে শেষ দিকে এসে গল্পের টুইস্ট মনে সাড়া জাগাবে সহজেই।

উপভোগ্যতা: ৯.৫/১০

গল্পের আবর্তনের সাথে সাথে নায়কের প্রতি সমর্থন, সহমর্মিতা, বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও একটি করুণ পরিসমাপ্তি – একটি সফল উপভোগ্য ছোট রোমান্টিক গল্পে পরিণত করেছে একে।

MyAnimeList রেটিং: ৭.৯৬/১০
আমার রেটিং: ৯.০/১০

আমার পড়া সবচেয়ে সুন্দর রোমান্টিক গল্পগুলির মধ্যে পরবে unique এই গল্পটি।

MyAnimeList Link: http://myanimelist.net/manga/65923/Once_Again

মাঙ্গাটি পড়ুন এখানে: http://mangafox.me/manga/once_again/