Nobunaga Concerto: জাপানের এক টুকরো ইতিহাস – আসিফুল হক

horriblesubs-nobunaga-concerto-07-720p-mkv_snapshot_12-32_2014-08-31_10-33-24

“If the cuckoo does not sing, kill it.”

সেনাপতি বসে আছেন চিন্তিতমুখে। পিছনে তার অনুগত ৩০০০ সৈনিক। প্রত্যেকেই তার জন্য জান কুরবান। কিন্তু ভদ্রলোকের চিন্তার কারণ সামনে। বিপক্ষদলের সৈনিকের সংখ্যা হাজার ২৫ এর কিছু বেশি। তিনি জানেন তিনি জিতবেন; কিন্তু তার সৈনিকরা খুব একটা সাহস পাচ্ছে না আক্রমণের।

যুদ্ধের যাত্রাপথে একটা মন্দির পড়ে। সেনাপতি মন্দিরের সামনে আসতেই বলে উঠলেন, আমি এখন ভেতরে গিয়ে প্রার্থনা করব। তারপর বের হয়ে একটা মুদ্রা নিক্ষেপ করব। মাথা উঠলে জিতে গেসি; আর লেজ পড়লে কিছু করার নেই। আজকে সব কিছু ভাগ্যের হাতেই ছেড়ে দিলাম।

প্রার্থনা শেষ হল। সেনাপতি সাহেব বের হয়ে সবার সামনে মুদ্রা নিক্ষেপ করলেন। মাথা উঠল। সব সৈনিক এমনভাবে চিৎকার করতে লাগলো যেন তারা ইতিমধ্যেই যুদ্ধ জিতে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা-ই হয়েছিল।

যুদ্ধ শেষে তার সহকারী তাকে বললেন, ভাগ্যকে তো কেউ বদলাতে পারে না !
তিনি জবাব দিলেন, অবশ্যই। বলেই দুই পাশেই মাথাওয়ালা মুদ্রাটা বের করে সহকারীকে দেখালেন।

সেনাপতির নাম নবুনাগা।

ep_561192_2 (1)

পুরো জাপানকে এক পতাকাতলে আনার জন্য যে কয়জনের নাম ইতিহাসে লেখা নবুনাগা (১৫৩৪ – ১৫৮২) তাদের মধ্যে অন্যতম। জাপানের ইতিহাসে নবুনাগা অবশ্য সবসময়েই কম বেশি ভিলেনিয়াস চরিত্র হিসেবেই খ্যাত; যার অন্যতম প্রধান কারণ ১৫৭১ এ একটা বৌদ্ধ মন্দির এবং এর ভিতরে থাকা বহু সন্ন্যাসীকে পুড়িয়ে মারা।

নবুনাগা ইতিহাসের পাতা ছেড়ে উঠে এসেছে জাপানের সাহিত্য উপন্যাস কিংবা এনিমের জগতে। সেই রকমই একটা সিরিজ “nobunaga concerto” যা মুলত “সাবুরো”র সময় ভ্রমণের মাধ্যমে অতীতে চলে যাওয়ার গল্পের মাধ্যমে নবুনাগার গল্প শোনায় আমাদের।

সাবুরো বর্তমান সময়ের জাপানের এক স্কুলের অমনোযোগী এক ছাত্র; ইতিহাসে বরাবরই দুর্বল। একদিন হটাত করেই তার জীবনে ঘটে যায় এক অদ্ভুত ঘটনা। হটাত করেই সাবুরো সময় ভ্রমণের মাধ্যমে নিজেকে আবিস্কার করে মধ্যযুগের জাপানে; নবুনাগার সমসাময়িক সময়ে। তারপর কি ঘটল তাই নিয়েই এই সিরিজ।

ভাল দিকঃ ক্লিশে নাই; সেন্স অফ হিউমার চমৎকার; পছন্দনীয় চরিত্র; দুর্দান্ত ভয়েস এক্টিং; অনেকটা ইতিহাসকে অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ; ভাল সাউন্ডট্র্যাক।

খারাপ দিকঃ ব্যাতিক্রমী এনিমেশন; সময় অগ্রগতির সামঞ্জস্যহীন গতি।

যদিও খুব একটা হইচই নেই; কিন্তু নবুনাগা কন্সার্ট ইতিহাস আর কমেডির মিশেলে চমৎকার একটি সিরিজ।

রিকমেন্ডেড।

CIWuOFs

ভিডিও গার্ল আই :গান আর নব্বই দশকের রঙিন স্বপ্ন — Anirban Mukherjee

Video Girl Ai 1

শুরুর কথা……..

আমি কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন দোচালাতে ভুগছি ।প্রথমে ভাবলাম একটা সেগমেন্ট নামাই,ফ্রেঞ্চ নিউওয়েভের বিভিন্ন টেকনিকের সঙ্গে আনিমের মিল সম্পকে ।কিছু গদার ,ত্রুফো,শাব্রল,রিভেট, রোমার আচ্ছাশে রিওয়াচও দিলাম ।তারপর একটা ভোরে লিখতে আরম্ভ করলাম সেগমেন্টের প্রথম পর্ব, কিছুটা লেখার পরই বুঝলাম সিনেমা দেখা আর সিনেমা বোঝার মধ্যে কী দুঃসহ পার্থক্য ! তো,তখনকার মতো লেখা শেষ ।
এরপর বিকেলে একটা পুরোনো সেগমেন্টের পরিকল্পনা করতে করতে চা নিয়ে বসলাম ,মাসখানেক আগে দেখা নব্বই দশকের ওএভিগুলোর কথা মনে পড়ছে,নব্বই দশক যেহেতু বেশ ভালোই লাগে ( নষ্টালজিক টাইপের আরকি) ,তখনই ভিডিও গান আই এর কথা মনে পড়ল ।(খুব তারাতারিই নব্বই দশকের ওএভি নিয়ে একটা সেগমেন্ট নামাবো )।এই ভিডিও গার্ল আই নিয়েই আজকে আমার আলোচনা ।

Video Girl Ai 2
প্রথমে ,আপনি গান কেন শোনেন ? কিছু সুন্দর শব্দ এবং কিছু ভাষার অর্থ আপনার কর্ণকুহর হয়ে মস্তিকে প্রবেশ করে আপনাকে আবেশ করে রাখে(আর আমার মতে আবেশ করে রাখাই যেকোনো আর্টের মূল বৈশিষ্ট্য ),সেখানে গানের লেখক এবং গায়ক- গায়িকার উভয় সমান অবদান থাকে ।কিন্তু ইংরেজি ছাড়া বিদেশি গানের ক্ষেত্রে জিনিসটা আলাদা হয় ।যারা নিয়মিত জে পপ,কে পপ বা স্প্যানিশ পপ গান নিয়মিত শোনেন তারা বিষয়টি আরো ভালো বুঝবে ।প্রথমে গানের সুরে আবেশ থাকা ,তারপর লিরিকের অর্থ উদ্ধার করে আর একবার গানের গভীরে প্রবেশ করা ।গান আপনাকে নষ্টালজিক করে দিতে পারে ,বিশেষ করে পুরোন দিনে যে গানটা আপনার শুনে প্রচণ্ড পছন্দ হয়েছিলো ,বহুবছর পরে আবার শুনলেন ,নতুন করে আবিষ্কার করলেন ।যেমন কদিন আগে একটা সূত্রে পেয়ে গেলাম 2002 এর “লেস কেচাপের” বিখ্যাত স্প্যানিশ পপ দ্যা কেচাপ সং।শূন্য দশকের প্রথম দিকে বিখ্যাত হওয়া এই গানটা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম ।আবিষ্কার করলাম নতুন ভাবে ।
কিন্তু কিছু গান হয়ত কোন দিনও শোনেননি , কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ড এনিমেশনের আর সুরের জন্য নব্বই দশকের প্রতি নষ্টালজিক করে তুললো ।সেই গ্রানজ পোষাক,এমটিভি,মম জিনস,জ্যিন সুট আর নীল -কমলার এক আশ্চর্য দুনিয়া।ভিডিও গার্ল আই তে এইরকমই কিছু গানের সন্ধান পেয়ে এই সিরিজটার প্রতি আমার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিলো ।

Video Girl Ai 3

গল্পের আরম্ভ…..

আমাদের গল্পের “বেচারা” নায়ক ইয়োটা প্রচণ্ড ভালোবাসে তারই স্কুলমেট মোয়েমি কে , কিন্তু মোয়েমির নজর অন্যদিকে ,তাকাশি,স্কুলের “টল , ডার্ক,হ্যান্ডস্যাম পপুলার গাই” ।কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার ,তারা তিনজনেই প্রচণ্ড ভালো বন্ধু, তাকাশি ইয়োটাকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতো দেখে ।অন্যদিকে তাদের অজান্তেই তিনজনের মধ্যে ত্রিভুজ প্রেমের সম্পক তৈরি হচ্ছে ।
ওভিএর প্রথমে দেখব ইয়োটা যেনে যায় মোয়েমির আগ্রহ তাকাশির প্রতি,তার প্রিয় বন্ধু ।সেইদিনই ইয়োটা সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে একটা রহস্যময় ভিডিও শপ দেখে,যেটা আগে কখনও সেখানে ছিলো ছিল না ।সেই ভিডিও শপের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে “ভিডিও গার্ল” ভিডিও টেপ ।যে কোন একটা ভিডিও টেপ থেকে একটা মেয়ে বেরিয়ে আসবে,যখন সেই ভিডিও টেপটা চালানো হবে ।”এ আবার হয় নাকি” এই ধরনের মনোভাব নিয়ে ইয়োটা ভাড়া নিয়েই ফেলল একটা ভিডিও ।সেদিন রাতেই তার ভিডিও রেকর্ডারে চালালো ভিডিওটা ,এবং যথারীতি ঘর কাঁপিয়ে বেরিয়ে এল “আই আমানো “।যে ইয়োটার দূঃখের সময়ে সঙ্গী হবে,তাকে চিয়ার করবে এবং “অন্যান্য”।
কিন্তু ইয়োটার ভিডিও রেকর্ডার ভাঙা থাকার কারনে আই এর মধ্যে চলে এলো “অনুভূতি “।ফলে সে আর চিয়ার ডল না থেকে পরিনত হলো ইয়োটার অন্যতম বন্ধু, পরামর্শদাতা এবং পরবর্তীতে প্রেয়সী ।

Video Girl Ai 4
জাতে কমেডি এবং ইচি হলেও এখানে আইএর মাধ্যমে ইয়োটার মধ্যে নারী সম্পকে অনেক ধারনার পরিবর্তন আসে ।বিশেষ করে মেয়ে মাত্রই কিছু বিশেষ অঙ্গসর্বস্ব পুতুল বা বস্তু নয়,এই ধরনের বার্তাই মাঙ্গাকার এবং ওভিএ পরিচালক দিতে চেয়েছেন ।
তবুও এই ওভিএর শেষ এপিসোড অতটা ভালো লাগেনি আমার।
কিন্তু কনসেপ্টটা ভালো লেগেছে। আই একজন এনার্জি বিইং ,আমাদের পদার্থগত অস্তিতের বিপরীতে ।
ওভিএতে টার্মেনটর টু সিনেমার একটা একটা ইস্টার এগ আছে,আগ্রহী দর্শকরা খুঁজে বার করতে পারেন ।সিনেমাটাও মুক্তি পেয়েছিলো 1991 এ ।

Video Girl Ai 5

এবং গানের কথা ও নব্বই এর স্বপ্ন…..

1992 সালে প্রচারিত এই ছয় পার্ট ওভিএর মধ্যে এর অন্যতম প্রধান সম্পদ হলো দুটো ওপেনিং এন্ডিং সং আর আটটা অন্যান্য গান ।ওপেনিং সং “উরেশি নামেদা” শুরু হয়েছে গ্রীষ্মের এক ছটফটে রঙীন দিন রাত্রের মধ্যে ,নব্বই এর চিহ্ন এখানে সব জায়গায়, তার মধ্যে আই নিজের পৃথিবীকে উপভোগ করছে ।এন্ডিং সং “আনো হি নি” বা “টু দ্যাট ডে” একটা বিগত দিনের নষ্টালজিয়ার স্বাদ নিয়ে আসে ।একদিকে একটা জানালার ছায়ার সামনে চার বন্ধু (আই সমেত)র “জীবন্ত”ফ্রেমে বাধানো ছবি আর তার চারপাশে কখনও গ্রীষ্ম বা বসন্তের লাল -হলুদ পাতাঝড়ার ছবি বা কখনও রাতের নীল বা গাঢ় নীল আবরন ।একেবারে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট।একেবারে শেষ এপিসোডে এন্ডিং ভিডিওটা পাল্টাবে আর দর্শকদের মনে একটা প্রশ্ন রেখে যাবে ।
অথবা ম্যাসেজ গানটা, ইয়োটার আর মোয়েমির বিমর্ষ নীল রাত্রের সঙ্গী হতে পারি আমরাও ,যেখানে আই শেষে ইয়োটাকে ভরসা দেবে ।ব্যাকগ্রাউন্ড অসাধারণ, একটা ক্যান পর্দার মধ্যে থেকে বেরিয়ে হাওয়ার তোরে দূরে চলে যাচ্ছে বা ছোট হিরের মত উজ্জ্বল শহর চীরে চলে যাচ্ছে ট্রেন এবং সেই সঙ্গে মোয়েমির হলুদ ঘরের বিমর্ষতা খুবই ক্যাচি ।প্রধানত সুন্দর গানের সঙ্গে সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ডের আধিক্য দেওয়ার জন্যই আমার এখানে ডিরেক্টর মিজুহো নিশিকুবোকে মাপ করা যায়,শেষ এপিসোড দুটো যতই খারাপ হোক না কেন ।হয়ত অন্যদের খারাপ নাও লাগতে পারে বা আমারই মত পরে বদলে যেতে পারে ।
মাঙ্গা পড়েও ভালো লাগবে ,বিশেষত এর ড্রয়িং গুলোর জন্য।

Video Girl Ai 6

Studio Monogatari: Episode 03

Kyoto Animation (KyoAni)

1. Kyoto Animation Logo

এই সময়ের সেরা কয়েকটি আনিমে স্টুডিওর নাম বলতে গেলে একদম উপরের সাড়িতে যেসব নাম চলে আসবে তার মধ্যে কিয়োঅ্যানি অন্যতম। মুশি-প্রো ছেড়ে আসবার পর ১৯৮১ সালে Hideaki Hatta ও তার স্ত্রী Yoko Hatta মিলে এই স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন। তখন এর নাম ছিল Kyoto Anime Studio. লোগোর ভিত্তি হিসাবে kyō-এর কাঞ্জি (京) ব্যবহার করা হয়। শুরুর দিকে তারা বিভিন্ন আনিমে মুভি ও অন্যান্য আনিমে সিরিজের জন্যে cell painting ও বিভিন্ন কমিশন কাজ করতো। এরকম চলতে থাকার পর ১৯৮৫ সালে তারা একটি লিমিটেড কম্পানি হিসাবে এবং ১৯৯৯ সালে কর্পোরেশন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে, আর তাদের অফিশিয়াল নাম হয় Kyoto Animation. এই সময়ে কিছু বড় প্রোজেক্টের সাথে তারা কাজ করে, যেমন Cowboy Bebop, গান্দাম সিরিজ, এমনকি কিছু জীবলি মুভিতেও তারা সাহায্য করেছে।

১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এই ৩০+ বছর সময়ে তাদের কাজ মাত্র ২২টি টিভি সিরিজ ও ৯টি ফিল্ম। এর কারণ তাদের প্রথম নিজস্ব কাজ আসে ২০০৩ সালে, যখন স্টুডিও গনজোর Full Metal Panic! এর সিকোয়েল সিরিজ Full Metal Panic! Fumoffu তৈরির দায়িত্ব পায় তারা। অবশ্য রিলিজ পাওয়া হিসাবে তাদের সর্বপ্রথম নিজস্ব কাজ OVA সিরিজ Munto. Munto তৈরি করেছিল তারা স্টুডিও হিসাবে নিজেদের ক্ষমতা দেখাবার জন্যে, আর Full Metal Panic! Fumoffu এর সাফল্যের কারণে সিরিজটির পরবর্তী এন্ট্রিগুলিও তৈরির দায়িত্বও তাদেরকে দেওয়া হয়।

কিয়োঅ্যানির অধীনে ২০০০ সালে Animation Do নামের একটি সাবসিডিয়ারি অ্যানিমেশন স্টুডিও তৈরি হয়, এই স্টুডিও কিয়োঅ্যানিরই একটি অংশ হিসাবে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে থাকে।

আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে কিয়োঅ্যানির রয়েছে অভূতপূর্ব সাফল্য। এই সাফল্য প্রমাণ করার জন্যে একটি মজার তথ্য দেওয়া যাক-

২০০৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে কিয়োঅ্যানির চেয়ে বেশি সফল হতে পারে নি অন্য কোন স্টুডিও। এই সময়ের মধ্যে ২০টি সিরিজ রিলিজ দেয় কিয়োঅ্যানি, যার ১৮টিরই DVD-Bluray বিক্রয়ের সংখ্যা ৩০০০ ছাড়িয়ে যায়। শতকরা হিসাবে ৯০% সাফল্যের হার, যা ২য় স্থানে থাকা ৬৯% সাফল্য নিয়ে Shaft-এর সাথে পার্থক্যটা চোখে পরার মত!

2. 2005-2014 success

আনিমে স্টুডিও হলেও জাপানের তথাকথিত আনিমে স্টুডিও হতে কিয়োঅ্যানি অনেক আলাদা। এই আলাদাভাবে কাজকর্ম এগিয়ে নিয়ে যাবার কারণে তাদের সাফল্যের ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়-

  • আভ্যন্তরীণ কাজ: সবচাইতে বড় কারণ হল, কিয়োঅ্যানি তাদের সব কাজ আভ্যন্তরীণভাবে করে থাকে। ডিরেক্টিং, অ্যানিমেশন, রাইটিং – সবকিছু কিয়োঅ্যানি নিজেদের স্টুডিওর ভেতরেই করে থাকে। অন্যান্য আনিমে স্টুডিওগুলির ক্ষেত্রে যেখানে ডিরেক্টর কিংবা অ্যানিমেটর-এর জন্যে ফ্রিল্যান্স কিংবা অন্য কোন স্টুডিওর কাছে যেতে হয়, সেখানে কিয়োঅ্যানি সবকিছু নিজেরা নিজেরাই করে থাকে। আর এর সুফলও পায় কিয়োঅ্যানি – যেহেতু নিজেদের মধ্যেই সব কাজ হয়ে থাকে, তাই আনিমে প্রস্তুতকর্তাদের মধ্যে একটা ভাল যোগাযোগ থাকে। একজন আরেকজনকে ভালমত বুঝতে পারে, ঠিকমত জেনে যায় কে কেমন কাজ চাচ্ছে, কেমন ফলাফল আশা করছে।
  • অ্যানিমেশন স্কুল: অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে নিজেরা নিজেরা করবে – এই ব্যাপারটা নিয়ে কিয়োঅ্যানির এতই কড়াকড়ি যে তারা নিজেরাই একটি স্কুল খুলেছে যেখানে অ্যানিমেটরদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিয়োঅ্যানির Kyoukai no Kanata-এর প্রায় সবটুকু অ্যানিমেশনই কিয়োঅ্যানির সেই স্কুলের গ্র্যাজুয়েটদের করা।
  • পারিশ্রমিক: একটি বড় কারণ কিয়োঅ্যানির পেমেন্ট সিস্টেম। কিয়োঅ্যানি তাদের স্টাফদেরকে বেতন হিসাবে পারিশ্রমিক দেয়, যেখানে অন্যান্য স্টুডিওর ক্ষেত্রে  স্টাফদেরকে কমিশন হিসাবে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এই কাজটা কিয়োঅ্যানির নিজেদের সাফল্যেরও একটা অন্যতম বড় কারণ, যেহেতু মাসিক বেতনের কারণে স্টাফরা নিজেদের কাজ ঠান্ডা মাথায় চিন্তাহীনভাবে করতে পারে। কোন এক আনিমে তৈরির জন্যে কাজে তাড়াহুড়া করা লাগে না, নিজেদের সময় নিয়ে সুন্দরমত কাজ শেষ করতে পারে।
  • অ্যানিমেশন প্রস্তুতি: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিয়োঅ্যানি তাদের কোন আনিমের অ্যানিমেশনের সব কাজ সিরিজটি টিভিতে প্রচার শুরুর বেশ আগেই প্রস্তুত করে ফেলে। এর ফলে তারা সময় নিয়ে অনেকরকমের ডিটেইলস নিয়ে কাজে লেগে যেতে পারে – যে কারণে কিয়োঅ্যানির সব সিরিজই দেখতে খুবই সুন্দর হয়ে থাকে।
  • LN প্রকাশণাস্বতন্ত্র স্টুডিও হিসাবে তাদের সাফল্যের আরেকটি বড় কারণ বিভিন্ন লাইট নোভেল প্রকাশনা। নিজেদের প্রতিষ্ঠান হতে প্রতিবছর একটি লাইট নোভেল কম্পিটিশনের আয়োজন করে তারা, এবং এখান থেকে উঠে আসা ভাল লাইট নোভেলের উপর ভিত্তি করে আনিমে বের করে তারা। এই ব্যাপারটি অন্য সব আনিমে স্টুডিও থেকে তাদেরকে অনেক উপরে নিয়ে রেখেছে একটি ব্যাপারে – কাজের নিশ্চয়তা। অন্যান্য আনিমে স্টুডিওগুলিকে কোন এডাপশনের জন্যে একধরণের নিলামে জিতে নিতে হয়, প্রতিপক্ষ স্টুডিওগুলিকে হারিয়ে দখল করতে হয় কোন LN, VN বা মাঙ্গা এডাপশনের অধিকার। এরকম কাজ না পেতে থাকলে এক সময়ে স্টুডিওটি বিলুপ্তির পথেও পরতে হতে পারে [খুব সাম্প্রতিক এমন ঘটনা দেখা হয়েছে Studio Manglobe-এর ক্ষেত্রে, বেশি কাজ না পেতে পেতে দেউলিয়া হয়ে যায় তারা]। কিয়োঅ্যানির এখানে সবচেয়ে বড় বাজিমাত – নিজেদের প্রকাশণা থেকে LN বের হয় বলে তাদের হাতে সবসময়েই কোন না কোন এডাপশনের সত্য থাকে, কাজ ফুরিয়ে যাবার চিন্তা থাকছে না আর [অবশ্য নিজেদের LN বাদেও বাইরের কোন LN থেকেও তারা এডাপশন নিয়ে আসে মাঝেমধ্যে, যেমন Amagi Brilliant Park, Hibike! Euphonium]। আবার এই সুযোগে নিজেদের LN-এরও বিজ্ঞাপন হয়ে যায় – সবদিক থেকেই Win-Win অবস্থা কিয়োঅ্যানির।
  • Visual Storytelling: কিয়োঅ্যানির একটি স্ট্রং পয়েন্ট হল ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং। একজন ন্যারেটর বা কোন ক্যারেক্টার কথার মাধ্যমে কোন ঘটনা কিংবা কারও চরিত্রের কোন দিক বুঝিয়ে দেওয়ার থেকে বরং দর্শকদেরকে চাক্ষুষরূপে একটা ঘটণা বা চরিত্রের দিক তুলে ধরা হল ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং। কোন ক্যারেক্টারের নরণ-চরণ, আচার-আচরণ, ইন্ট্যার‍্যাকশন, সিনেমাটোগ্রাফি ইত্যাদির মাধ্যমে কোন একটা ব্যাপার দর্শকদের অবচেতন মনে ঢুকিয়ে দেবার এই কাজটা কিয়োঅ্যানি অনেক ভালভাবে করতে পারে। যার জন্যে Moe চরিত্র দিয়ে আনিমে ভরিয়ে রাখলেও এবং কোন বিশেষ ঘটনা না থাকলেও একটা গল্প অনেক মন ছোঁয়ার পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে কিয়োঅ্যানি।

এক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন আসে, কিয়োঅ্যানি এরকম সব পদক্ষেপ নিয়ে এত সফল হলে অন্যান্য স্টুডিও কেন এরকম করছে না?

  • ভাগ্য। কিয়োঅ্যানির সৌভাগ্য যে তাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলি ঠিকমত সফল হতে পেরেছে।
  • কিয়োঅ্যানিও একসময়ে অন্যান্য স্টুডিওর মত কাজ করতো, প্রায় ১০ বছর ধরে তারা Kadokawa-এর সাথে পার্টনারশিপে ছিল। এ সময়ে তারা বেশ কয়েকটি VN এর key adaption করে, নিয়ে আসে অন্যান্য প্রোজেক্টের এডাপশন যেমন Haruhi Suzumiya, Lucky☆Star ।
  • ২০০৯ সালে তারা এক বিশাল জুয়াখেলা খেলে। নিজেদের নামে একটি কম্পিটিশনের আয়োজন করে যাতে বিজয়ী LN-এর আনিমে আডপশন করবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এই প্রোজেক্ট সাফল্যের মুখ দেখতে পাওয়ায় পরবর্তীতে এই কন্টেস্টের এন্ট্রিগুলির মধ্য থেকে Chuunibyo, Tamako Market, Free! এর এডাপশন নিয়ে আনে কিয়োঅ্যানি।

কিয়োঅ্যানির কিছু জনপ্রিয় আনিমে-

3. KyoAni Collage

কিয়োঅ্যানির এই সাফল্যের পথটার একটা ছোট্ট বিবরণ দেওয়া যাক-

  • ২০০৫ সালকিয়োঅ্যানির জন্যে বছরটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এই বছরই তারা নিয়ে আসে তাদের প্রথম VN adaption: Air. এয়ার আনিমেটি ছিল সেই সময়ের নতুন বাড়ন্ত Moe ট্রেন্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং একই সাথে VN adaptation-এর জনপ্রিয় হয়ে উঠার সময়ের অন্যতম এন্ট্রি। এয়ার আনিমেটি কিয়োঅ্যানিকে আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে শক্ত স্থানে নিয়ে আসতে সাহায্য করে।
  • ২০০৬ সালআরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বছর কিয়োঅ্যানির জন্যে, এ বছর তারা নিয়ে আসে তাদের ২য় VN adaption: Kanon. তবে ২০০৬ সালে কিয়োঅ্যানি স্পটলাইট কেড়ে নেয় যেই সিরিজটি দিয়ে তা হল The Melancholy of Haruhi Suzumiya. এমনিতেই হারুহি সুজুমিয়ার ফ্যানবেজ বেশ বড় ছিল তখন, তার উপর অল্প কয়েকটি আনিমে নিয়ে আসা কিয়োঅ্যানির জন্যে ব্যাপারটি ছিল অনেক বড় চাপের। বলাই বাহুল্য, চাপকে উড়িয়ে দিয়ে সাফল্যের মুখ দেখতে পায় তারা।
  • ২০০৭ সাল৩য় VN adaption নিয়ে আসে কিয়োঅ্যানি: Clannad, একই সাথে আরেকটি জনপ্রিয় Moe Comedy সিরিজLuckyStar নিয়ে হাজির হয় তারা। দুটি সিরিজই কিয়োঅ্যানির জন্যে ব্যবসাসফল ছিল।
  • ২০০৯ সালহারুহি সুজুমিয়া ফিরে আসে এই বছর, এবং নতুন সিরিজটির কুখ্যাত/বিখ্যাত Endless Eight-এর জন্যে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় কিয়োঅ্যানির উপর দিয়ে। কন্ট্রোভার্শিয়াল হয়ে থাকলেও সিরিজটির ব্লুরে বিক্রয় বেশ ভাল হয়। একই সাথে এই বছর থেকেই তারা LN এর পাবলিশার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে বছরটি কিয়োঅ্যানির জন্যে বিশেষ কিছু ছিল কারণ এই বছরেই তারা নিয়ে আসে K-On! যার ব্লুরে বিক্রয় সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়!
  • ২০১১ সালNichijou এই বছরে আসে, এবং এর ব্লুরে বিক্রয় ৩০০০ ছাড়ালেও তা কিয়োঅ্যানির জন্যে খুব বেশি ছিল না। তবে তারপরেও সংখ্যাটা অন্যান্য স্টুডিওর হিসাবে বেশ বড় একটা সংখ্যা।
  • ২০১২: পরবর্তী বছরগুলিতেও একই ট্রেন্ড দেখা যায়। Hyouka, Chuunibyo বেশ ভাল বিক্রয় হলেও কিয়োঅ্যানির জন্যে সেটা খুব বেশি ছিল না।
  • ২০১৩ সালTamako Market বেশ বড় ধরণের হতাশার কারণ হয় কিয়োঅ্যানির জন্যে। তবে এই বছরই এমন এক সিরিজ নিয়ে আসে কিয়োঅ্যানি যা তাদের অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজে পরিণত হয়: Free!. সিরিজটি রিলিজ পাবার আগে থেকেই হিট হয়ে যায় একদম, আর এর ২য় অ্যাড মুক্তি পাবার পর তা একদম ভাইরাল হয়ে যায় নেটজুড়ে।
  • ২০১৪ সাল: বছরটা তেমন ভাল ছিল না কিয়োঅ্যানির জন্যে। Kyoukai no Kanata তেমন ভাল ব্যবসা করতে পারে না, আর Amagi Brilliant Park তার চাইতে অল্প কিছু ভাল ব্যবসা করতে পারে।
  • ২০১৫ সালHibike! Euphonium অনেকটা K-On ধাঁচের বানানোর চেষ্টা করা হয়, সিরিজটা বেশ জনপ্রিয় হয়।
  • ২০১৬ সালএ বছরে এই মুহুর্তে এয়ার হচ্ছে Musaigen no Phantom World, সিরিজটি নিয়ে এই মুহুর্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

কিয়োঅ্যানির কাজকর্মের ধরণ নিয়ে কয়েকটি মজার তথ্য-

  • Snarky Male Leads: কিয়োঅ্যানির আনিমেগুলিতে খামখেয়ালী, মুডি ধরণের নায়ক চরিত্র রাখবার একটা প্রবণতা দেখা যায়: Air-এর Yukito, Haruhi Suzumiya-এর Kyon, Kanon-এর Yuuichi, Clannad-এর Tomoya, Hyouka-এর Houtarou এবং কিছুক্ষেত্রে Free! এর Haruko ও Kyoukai no Kanata-এর Akihito.
  • Carbon-Copy: কিয়োঅ্যানির বিপক্ষে একধরণের নালিশ আছে যে তারা একই রকম দেখতে সব চরিত্র তৈরি করে থাকে। চুলের স্টাইল বাদ দিলে মুখের গড়ণ, চোখের স্টাইল, সবকিছু হুবহু একইরকমের হয়ে থাকে কিয়োঅ্যানির আনিমেগুলিতে।

4. Carbon Copy

শুধু তাই নয়, বরং তাদের আনিমের চরিত্রগুলির ডিজাইন দেখতে গেলে একটা মজার ব্যাপার দেখা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের সময়টাতে তাদের সবগুলি সিরিজের চরিত্র দেখতে প্রায় একইরকম ছিল:

5. Evolution

  • Cute Girls Doing Cute Things: Moe চরিত্র, কোন প্লট বা গল্প নাই, খালি cute girls doing cute things – এরকম কারণ দেখিয়ে অনেক দর্শকই কিয়োঅ্যানির আনিমে দেখতে চায় না, তবে এই ট্রেন্ডটা এখন অনেক জনপ্রিয়। আর একে জনপ্রিয় করার পিছনে কিয়োঅ্যানিই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। Lucky☆Star, K-On!, Nichijou ইত্যাদি এই ধরণের আনিমে শুধু বড় সাফল্যই পায় নি কিন্তু, বরং পরবর্তীতে একই ঘরানার অনেক আনিমের জন্যে পথ দেখিয়ে গিয়েছে। Non Non Biyori, Gochuumon ধরণের সিরিজগুলি এই জাতীয় আনিমের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। অবশ্য এরকম আনিমে তৈরি করে কিয়োঅ্যানি যে পরিমাণ সাফল্য পেয়েছে অন্যান্য স্টুডিও তার খুবই সামান্য অংশ অর্জন করতে পেরেছে মাত্র!
  • 1st Doesn’t Win: কিয়োঅ্যানি ঘটা করে তাদের LN কন্টেস্ট আয়োজন করে থাকলেও সেখান থেকে আনিমে এডাপশন করার ক্ষেত্রে বিজয়ী এন্ট্রিকে তারা গ্রহণ করে নাই!! Chuunibyo, Kyoukai no Kanata, Free!, Musaigen no Phantom World – সব ক্ষেত্রেই যেগুলি আনিমে এডাপশন পেয়েছে তা হল কন্টেস্টের Special Mentionগুলি।

 

কিয়োঅ্যানির কাজ নিয়ে সমালোচনা যতই হোক, একটা জিনিস অবশ্যই মানতে হবে – তাদের তৈরি আনিমেগুলি বেশ ভালই সফল। তারা জানে কিভাবে জনপ্রিয় আনিমে তৈরি করতে হয়, এবং সেটাই তারা করে আসছে।

School Days [রিভিউ] — Zakaria Mehrab

ড়িভিউ! ড়িভিউ!! ড়িভিউ!!! 😀 😀 😀

আজ একটু আগে পড়ন্ত বিকেলে একটি সুন্দর এনিমে শেষ করিয়া আমি যারপরনাই ইম্প্রেসড । ইম্প্রেশনের ঠেলায় আমার হাত একটু পরপর ই কেঁপে কেঁপে উঠছে । কাজেই কিছু বানান ভুল টুল হলে একটু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি তে দেখবেন ।

Anime: ইশকুলের দিনগুলি / School days (কি কিউট নাম , আসলেও কিউট একটা এনিমে)

Genre: ইয়ে আসলে এমন কোন জানরা নাই যেটা এই এনিমে কভার দেয় নাই । পুরাই মাস্টারপিস একখান ।

School Days 2
প্লটঃ
জাপানের ছোট একটি স্কুল । সেইখানে ছোট ছোট বাচ্চারা পড়ে । তাদের মধ্যে কিউট একটি বাচ্চা হল মাকোতো শিশিও থুক্কু মাকোতো ইতো । সে পছন্দ করে আরেক কিউট বাচ্চা কাটাছিড়া থুক্কু কাতসুরা রে (ইয়ে আসলে একটু ভূমিকম্প হইতেসে মেবি , তাই হাত টা বেশি ই কাঁপতেসে) । কিন্তু ইতো এরশাদের থেকেও লাজুক কিনা , সরাসরি কিছু বলতে পারে না । তাই এ বিষয়ে তার আরেক কিউট বান্ধবীর সাহায্য নেয় (হুম সে ও আরেক কিউট বাচ্চা) । এভাবেই একটি কিউট প্লটের ভিতর দিয়ে গল্পের কাহিনী আগাতে থাকে । আসলে আমার লেখায় তো আর বুঝা যাবে না এইটা কি একটা মাস্টারপিস । বরং কাছাকাছি ধারনা পাওয়ার জন্য আসিফুল হক ভাই এর একটি উক্তির কথা স্মরণ করতে পারি —

“স্টোরিটা হয়ত একেবারে ইউনিক কিছু না; কিন্তু যেভাবে পুরো গল্পটা সাজানো হয়েছে; উপস্থাপনা, দৃষ্টিকোণ এবং সম্পাদনা – তা আসলেই চমৎকারিত্বের দাবি রাখে। একটা টিপিকাল কিউট প্লটের মাঝেও অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বে পূর্ণ চরিত্রগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, লড়াই এবং একত্রে একে অপরের পাশে থাকার যে প্রবণতা এবং নাকামার জন্য যে আত্মত্যাগ – তা এই সিরিজকে দিয়েছে অন্য এক মহিমা।”

চরিত্রঃ
কি আর বলব চরিত্রের কথা !! একটি কিউট ছেলে আর অনেক গুলা কিউট মেয়ে । প্রত্যেকের অবদান ই সমান গুরুত্বপূর্ণ । আর মেইন ক্যারেক্টার এর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট তো অসাধারণ । শুরুতে মেইন ক্যারেক্টার একটু ঘুমিয়ে থাকে, কিন্তু গল্পের মাঝামাঝি সময়ে সে জেগে উঠে । আর সে কি জাগরণ !! সেই জাগরণের পর সে নিজে তো আর ঘুমায় ই না , অন্য কাউকেও আর ঘুমাতে দেয় না । আমার প্রায় ই মনে হচ্ছিল “এমুন জাগরণ ই কি আমরা চেয়েছিলুম ?” অন্যান্য ক্যারেক্টার গুলার ও ডেভেলপমেন্ট উল্লেখযোগ্য । বলা যায় সকল চরিত্রের পারস্পরিক সহযোগিতায় ( কিংবা আবারও আসিফুল হক ভাইয়ের ভাষায় “মিথস্ক্রিয়ায়”) ক্যারেক্টার গুলা ডেভেলপমেন্টের এক চরম শিখরে আরোহণ করেছে ।

School Days 1

ওএসটি/গানঃ ইয়ে আসলে হয়েছে কি , প্লট দেখে এত ই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম , যে এ দিকে আর কোন খেয়াল ই ছিল না । (প্লিজ মাইরেন না আমারে ) । তবে এত মাস্টারপিস এনিমের গান গুলাও তো মাস্টারপিস ই হবে, কি বলেন ?

এন্ডিংঃ সবচেয়ে পারফেক্ট এন্ডিং কোন এনিমের বলেন তো ? ফুলমেটাল ? আরে নাহ । কোডগিয়াস ? হাসাইলেন । স্টেইন্স গেট ? ধুর মিয়া, মজা লন ক্যা ? অবশ্য ই ইস্কুল ডেজ । কিউট একটু একশন এর এন্ডিং কে এমন এক পূর্ণতা এনে দিয়েছে যে এটি দেখার পর আপনার দেহ মন সবকিছু পরিপূর্ণ হয়ে যাবে এবং আপনি আক্ষরিক অর্থেই একজন নতুন মানুষে রূপান্তরিত হবেন ।

একটাই কথা । মাস্ট ওয়াচ !! এই জিনিস যারা দেখবে , তারাই অনুভব করতে পারবে , জীবন কত কিউট !!

ম্যাল রেটিং জানার দরকার নাই । আমার রেটিং ? এত মাস্টারপিস এনিমেকে রেটিং দিব ? আমার ঘাড়ে আর কটা মাথা ?

পরিশেষে দুটি কথা বলতে চাই

১)এনিমে টি এত ই কিউট যে এটা বাচ্চাদের দেখানো উচিত না । কারণ কিউটনেস ওভারলোড হয়ে বাচ্চা হাঁ করে ফেলতে পারে এবং তখন তার মুখে মশা মাছি ইত্যাদি ঢুকে নানারকম রোগ সঞ্চার করতে পারে

২) এনিমে টি দেখার সময় আপনি পুরাপুরি perplexed হয়ে যাবেন এবং আপনার স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে । এজন্য এনিমে টি দেখার সময় অন্যান্য কাজ যেমনঃ খাওয়া দাওয়া ইত্যাদি না করা ই ভালো (গলা দিয়ে খাবার না নামতে পারে , কারণ আপনার গলা তো perplexed)

School Days 3

Behind the Voices – 15

নামিকাওয়া দাইসকে

নামিকাওয়া দাইসকে তার কূল ভয়েস এবং সেই ধরনের পার্সোনালিটির চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্যই বিশেষ ভাবে পরিচিত । এমনে আমার দেখা সেরা সেইয়ূদের মধ্যে তিনি একজন এছাড়া আমার প্রিয় সেইয়ূদের তালিকায় তার নাম আছে । এছাড়া তার কণ্ঠ দেওয়া চরিত্রের সংখ্যাও ১০০ এর উপরে ।

যাই হোক, তার এত্তগুলো রোলের মাঝে বেশ কয়েকটা রোল সবারই শোনা এবং এদের মাঝে প্রিয় অনেকের চরিত্রও আছে । কেননা ব্লিচ, হান্টার হান্টার এবং ফেইরি টেইল এই ৩ টি সিরিজের অন্যতম কূলেস্ট চরিত্র উলকিয়োরা, জেলাল とমিস্টোগান, হিসোকা এই ৩ জনেরই কণ্ঠ দিয়েছেন এই এক ব্যক্তি । সুধু তাই নয় আরও অনেক পরিচিত আনিমেরই সেরা চরিত্রগুলোর কণ্ঠ তার দেওয়া ।

আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল কাতেকিয়ো হিটমান রিবর্নের ভঙ্গোলা প্রিমো ( জিওট্টো ), ব্ল্যাক লেগুনের রক, পার্সোনা ৪-এর নারুকামি ইয়ূ , ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্ট ব্রাদারহুডের ভন হোয়েনহাইম, কে-প্রোজেক্টের শিরো, এস অফ ডায়ামন্ডের ক্রিস সেনপাই, হাইকিয়ুর ওইকায়া তোরু, মেদাকা বক্সের আকুনে কৌকি, আর্স্লান সেঙ্কির নার্সাস এবং শিনসেকাই ইয়োরির ইয়াকোমারু । আর এ যে সবসময়ই ব্যডঅ্যাস পার্সোনালিটির চরিত্রের কণ্ঠ দেয় তা কিন্তু নয় কেননা হেতালিয়া ইতালি এবং ফেট জিরোর ভেলভেট ওয়েভার এর কণ্ঠ এর দেওয়া, যদিও দুটা চরিত্রকেই খুব ভালো লেগেছে ।

Namikawa Daisuke 1

সে একজন কণ্ঠ-অভিনেতার পাশাপাশি গায়কও । সে একটা ব্যন্ডে আছে যার নাম Jin-Ger PARADISE । এছাড়া তিনি ৪ টা মিনি-অ্যালবামও রিলিজ করেছেন । এছাড়া কয়েকটা আনিমেতে তিনি ওপেনিং/এন্ডিং/ইন্সার্ট সংও গেয়েছেন । তার গাওয়া গানগুলোর মাঝে হেতালিয়ায় ইতালির এন্ডিংটা (https://goo.gl/VIq43S ) আমার বেশ মজা লাগে শুনতে ।

তার আসল জন্মদিন মার্চ ২৯, ১৯৭৬ কিন্তু রেজিস্ট্রিতে দেওয়া এপ্রিল ২, ১৯৭৬ ( তাও ভালো আমাদের মত ২ বছর কমায় না :3 ) । ১৯৯৩ থেকে কণ্ঠ অভিনয় করেন তিনি । তার ভয়েস বরাবরই ভালো লাগে এবং চাই সে সামনে আরও রোল করুক ।

Namikawa Daisuke 2

 

কানেমোতো হিসাকো

কানেমোতো হিসাকো আমার দেখা এক্সেপশনাল সেইয়ূগুলার মধ্যে একজন । তিনি সাধারণত বেশ চঞ্চল-হাইপার অ্যাক্টিভ অথবা একেবারেই চুপচাপ চরিত্রের রোল করে । এ পর্যন্ত তার মুল চরিত্রের রোলে যে কয়টা আনিমে দেখেছি সবগুলো ভালো লেগেছে, তার রোলের জন্য না বরং আনিমেগুলোর কাহিনী একটু আলাদা ধাঁচের হয় যেমন কোকোরো কানেক্ট, গেট, সুইসেই নো গার্গানটিয়া, কোতোউরা-সান, সোরা নো ওতো, জুঙ্কেৎসু নো মারিয়া এগুলো ।

তার কণ্ঠ প্রথম বার শুনেই ধরে ফেলার মত এমন না, কিন্তু আস্তে আস্তে তার বেশ কয়েক রোল দেখলেই পরে আর তাকে ধরতে অসুভিধা হয় না । তার যে রোলগুলো দেখেছি প্রত্যেকটি আমার ভালো লেগেছে । সর্ব প্রথম তার যে রোলটা ভালো লাগে তা হল কোকোরো কানেক্টের ইয়ুই । এবং তার পর ভালো লেগেছিল দুরারারার ওরিহারা কুরুরি, যদিও চরিত্রটাকে কথা বলতে খুব সময়ই দেখেছি । এই রোল দেখার পরপরই নেট ঘেটে দেখি তার বেশ কিছু রোল আগেই দেখেছি এবং চরিত্রগুলোও ভালো লেগেছিল, সেগুলো হল ব্লিচের নোযোমি যে ঠিক ওই ৩১১-৩৪০ পর্যন্ত ফিলার আর্কটির প্রধান একটি চরিত্র হিসেবে থাকে এবং টোকিয়ো রাভেন্সের সৌমা তাকিকো । এরপর তার আরও রোল দেখেছি এবং সবকটিই ভালো লেগেছে । তার কিছু পছন্দের রোলগুলো হল সোরা নো ওতোর কানাতা, গার্লস উন্ড পান্জার এর কাতিয়ুশা, কোরে ওয়া জোম্বি দেস কা-এর ইয়োশিদা ইয়ুকি, স্ট্রাইক দি ব্লাডের মিনামিয়া নাৎস্কি, গেট-এর টুকা, জুঙ্কেৎসু নো মারিয়ার মারিয়া, কোতোউরা-সান এর কোতোউরা, আকুমা নো রিডেল-এর ইচিনোসে হারু এবং সুইসেই নো গার্গানটিয়ার এইমি ।

Kanemoto Hisako 1

কণ্ঠ-অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন গায়িকা । ২০১৪ সালে তার প্রথম অ্যাল্বাম বের করেছিলো, অ্যালবামটির নাম ছিল Fantastic Voyage । সে প্রায় তার কণ্ঠ দেওয়া আনিমেগুলার ওপেনিং/এন্ডিংগুলো নিজে অথবা গ্রুপ পার্ফমেন্সে গায় । যেমন বোকুরা ওয়া মিন্না কাওয়াইসৌ, গেট, কোতোউরা-সান, ওরেশুরা, শিনরিয়াকু ইকা মুসুমে এগুলোর ওপেনিং/এন্ডিং এ তার কণ্ঠ ছিল । এছাড়া আরো বেশ কিছু আনিমেতে ইনসার্ট সং পর্যন্ত গেয়েছেন তিনি ।

তার জন্ম ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৭ । কণ্ঠ-অভিনয় করে আসছেন ২০০৯ থেকে এবং প্রথম প্রথম স্টেজ নেম হিসেবে জুরি আইকাওয়া নামটি ব্যবহার করতেন । সে স্পট লাইটে আসে প্রথম ২০১০ সালে সোরা নো ওতোতে কানাতা রোলটি করে এবং তারপর থেকে আজ পর্যন্ত একের পর এক অসাধারণ রোল পেয়ে যাচ্ছেন এবং তার সেরা পার্ফরমেন্স দিয়ে যাচ্ছে ।

Kanemoto Hisako 2

Cat Soup-এ মৃত্যু-ভাবনাঃ ভালোবাসা এবং অনিবার্যতা — Fahim Bin Selim

মানুষের জ়ীবনের সবচেয়ে বড় ভয়গুলোর মধ্যে একটা সম্ভবত পরিবর্তন; চেনা-পরিচিত জগৎটার পালটে যাওয়া। তা পরিস্থিতির বদলে হতে পারে, স্থান-কালের বদলে হতে পারে, হতে পারে পাত্রের বদলে; কিংবা অনুপস্থিতিতে। এক্ষেত্রে পরিবারের কথাই কি সবার আগে মাথায় আসে না, যেখানে মোটামুটি পরিবারকে ঘিরেই পরিচিত জগৎ-টার শুরু, এবং বড় একটা সময় জুড়ে সেটাই পুরো জগৎ হয়ে থাকে? শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরো বেশি।

নিয়াত্তার যুদ্ধটা এই পরিবর্তনের বিপক্ষে – পরিণতি আর অনিবার্যতার বিপক্ষে। স্রষ্টা-সর্বপরিচালকের বিপক্ষেও কি না? Cat Soup-এর শুরুটা মাসাকি ইউয়াসার[১]  ট্রেডমার্কড পারস্পেকটিভ শট দিয়ে। ক্যামেরা বাথটাবের ভিতর পরে থাকা, তার উপরে জলের আবরণ – স্থির – আপাত পরিস্থিতির মত। কিন্তু এরপরই নিয়াত্তার আগমন, খেলনা নিয়ে পানির ভেতর হাত ডুবিয়ে খেলতে থাকা, অতঃপর তাতে উপুড় হয়ে পরে যাওয়া, জলের আবরণে আন্দোলন এবং হ্যালুশিনেশনের শুরু। পরাবাস্তবতারও।

vlcsnap-2016-02-21-18h04m26s131

একটা মরা পোকার খোলস দেখা যায়, দেখা যায় বাইরের ঘরে শুয়ে থাকা অসুস্থ নিয়াকোকে। এবারের পারস্পেকটিভ শটটা তার চোখ দিয়ে দেখা – উপরের সিলিং, ক্রমশ জট পাকিয়ে যাওয়া, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, ক্রমশ অন্ধকার হয়ে যাওয়া দৃষ্টি। বারান্দায় মৃত্যু দেবতার আগমন। কাছাকাছি দুটি মৃত্যু এবং মহাবৈশ্বিক চিন্তাভাবনায় কোনটাই কোনটার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিয়াত্তার যুদ্ধটা এখান থেকেই শুরু। সে মৃত্যু দেবতার হাত থেকে নিজের বোনের আত্নাকে একরকম টানাটানি করেই ফিরিয়ে আনে। তারপর তার মৃতদেহের ভেতর তা পুরে দেয় – আর জাদুর মত তার বোনও মৃত্যুর কোল থেকে ফিরে আসে! জাদুবাস্তবতা অথবা শিশুমনের অলীক কামনা। কিন্তু এভাবেই তাদের অভিযাত্রার সূত্রপাট।

তাদের প্রথম বিরতি এক রঙ্গমঞ্চে – দ্য বিগ হোয়াইট সার্কাস। আরো ভালোভাবে বলতে গেলে স্রষ্টা -‘র সার্কাসে। সবার সামনে একটা মেয়েকে কেটে টুকরো টুকরো করা হয় এবং তার হাতের ছোঁয়ায় তারপর ভোঁজ়বাজির মত তা আবার জুড়েও দেওয়া হয়! দর্শকদের মধ্য থেকে এবার অনুরোধ নেওয়া পালা, প্রথমে চেয়ার, তারপর মাছ, এবং সবশেষে এক হাতি – এবং আর্শ্চর্যজনকভাবে এবারও জাদুর মত সে শুধু বলে – এবং তা হয়ে যায়! তবে দর্শকদের মনোরঞ্জনের পর্ব শেষ হলে স্রষ্টা-‘রটা শুরু। এক প্রবল স্রোতের বন্যায় সবার ভেসে যাওয়া, “নোয়া’হ ফ্লাড” যেন। চারিদিক যতদুর চোখ যায় কেবল পানি আর পানি, কিন্তু নিয়াত্তা আর নিয়াকোর “আর্ক”-এ প্রাণীকূলের প্রতিনিধি হিসেবে কেবল তারা ভাইবোন দুজন বিড়াল আর তাদের “প্রিয়” পোষ্য শুকর(Cat Soup Original দ্রষ্টব্য)। লৌহ-পাখার এক প্রজাপতি উড়ে যায়। নিয়াত্তা আবারো বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকায় তার বোনের পরিচর্যা করা শুরু করে, তাকে খাইয়ে দেয়, এমনকি পোষ্য শুকরের ক্ষতি করে হলেও – নৈতিকতা আর ভাবাদর্শ চুলোয় যাক(আক্ষরিকভাবেই!), পরিবারই সবার আগে অবশ্যই!

Screenshot_2016-02-21-11-00-12

এই নৌকায়ই নিয়াত্তার দেখা পানিতে ভাসতে থাকা মৃত পশুর জীবনচক্র – তার মৃতদেহের পাখিদের পেটে যাওয়া, শিশুপাখির মল হিসেবে পানি-বাতাস পেরিয়ে আবার ভুপৃষ্ঠে ফিরে আসা, অতঃপর পুষ্টি হিসেবে কাজ করে গাছের ডালে ফুল হিসেবে ফোটা। “Adventure Time” কার্টুন সিরিজের মাসাকি ইউয়াসা পরিচালিত পর্ব Foodchain-এ এই থিম পরবর্তীতে আরো বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়েছে।

Screenshot_2016-02-21-11-02-09

অনেক তো সুখের সময় গেল – এপর্যায়ে স্রষ্টা-‘র পুনরাগমন। এবং তার খাওয়ার দৃশ্য। এবং অনেকটা তার খামখেয়ালীপনার কারণেই চারিদিক পানিতে ভেসে যাওয়া জায়গাগুলোরই এখন ধুঁ ধুঁ মরুভূমি হওয়ার পালা। “নোয়া’স ফ্লাড” হয়েছে আর “জোসেফ’স ফেমাইন” হবে না? প্রথমে পোষ্য-শুকর এবং পরে মরুভুমির নিচ থেকে বের করা জল-হস্তীর মৃত্যুর পর জলের অভাবে ধুঁকতে থাকা দুই ভাইবোনের এবার আশ্রয় হয় এক স্যাডো-ম্যাসোকিস্ট বুড়োর দূর্গে। আর এখানেই মুভির অন্যতম সেরা দৃশ্যের অবতারনা। খাবার টেবিলে বুড়ো নিয়াত্তা আর নিয়াকোর জন্য আয়োজন করে রাজকীয় ভোজ়ন আর তার পূর্বের রন্ধনদৃশ্যও! মৃত্যু নিয়ে Cat Soup-এর গাঢ়-রসিকতার চূড়ান্ত প্রদর্শনী। নিশ্চিতভাবেই নিয়াত্তার জন্য তা বেশ উপভোগ্যও ছিলো। যতক্ষন পর্যন্ত না তারা নিজেই আবার এর অংশ হয়ে যায় – ক্যাটস্যুপ-এর উপকরণ হিসেবে বিড়ালই তো লাগবে সবার আগে! নিয়াত্তা আর নিয়াকো কোনমতে বেঁচে ফিরে। তবে এবার স্রষ্টা-‘র খামখেয়ালীপনার দ্বিতীয় পর্বের শুরু।
Screenshot_2016-02-21-11-10-34

গড-এর হাত থেকে পরে যাওয়া খাবারের টুকরো ঘড়ির কল-কব্জা আটকে দেয়। আটকে যায় সময়ও। নিয়াত্তার নিজের বোনকে ফিরিয়ে আনার যুদ্ধটা যতটাই স্রষ্টা-‘র বিপক্ষে হোক না কেন, এক্ষেত্রে তাঁর ভ্রুক্ষেপ নেই বললেই চলে – পুরোটাই তার উপভোগের বিষয়, এখানে কেউ তাঁর সহযোগী নয়, কেউ তার শত্রু নয়। আটকে থাকা সময়ে নিয়াত্তা ঘুরে বেড়ায় পৃথিবীর বুকে। তার দেখা হয় আপাতত সময়ে আটকে থাকা, শীঘ্রই ট্রেনের নিচে চাপা পরে মরতে যাওয়া এক নারীর সাথে। নিয়াত্তা তার চোখে লেগে থাকা শক্ত হয়ে যাওয়া দুঃখ মুঁচড়ে খুলে নেয় এবং নিচে আছড়ে ফেলে। তা ভেঙ্গে চুরমার হয়। জীবনের সব সৌন্দর্য আর ভালোলাগার দেখা পাওয়ার জন্য কষ্টগুলো পার হওয়া খুবই তুচ্ছ। যাত্রাটা দুর্গম কিন্তু অসম্ভব নয়। লজ্জা, অপমান, ব্যর্থতা – সবকিছুর কষ্ট সহ্য করে হলেও কি বেঁচে থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ না?

Screenshot_2016-02-21-11-12-19

ঘড়ির কাঁটা সামনে এবং তারপর পিছে আগায়। এবার একগাদা অসংযুক্ত ভিনিয়েট পর্দায় খেলা করে। Mind Game[৩]-এর অনুরূপ! বিড়াল-সহোদর সময়ের চক্রে বুড়ো হয়ে যায়, আবার ফিরে আসে। মানুষেরা পেছনে দুপায়ে হাঁটতে হাঁটতে আদি-বানরের চারপায়ে নেমে আসে, সরীসৃপেরা ডাঙ্গা ছেড়ে নেমে যায় প্রাগৈতিহাসিক জলে। ডাইনোসরদের নির্বংশ করা উল্কাপিন্ড তার অধিবৃত্ত পথে অভিকর্ষ ত্যাগ করে ফিরে যায় মহাকাশে। “উন্নত” মানুষের হিংস্রতার খন্ডচিত্র দেখা যায় – মানুষ মারা যায়; যুদ্ধের মিসাইলে, বন্দুকের গুলিতে, দালানের ধ্বসে, গাড়ি দূর্ঘটনায়। আর এ সবকিছুই হয় নিস্পৃহ স্রষ্টা-‘র ভোজনামোদের অংশ। বিড়াল-সহোদর আবার তাদের নৌকায় ফিরে আসে। কর্দমাক্ত নোংরা জলে যান্ত্রিক মানুষের দেখা মেলে। পুনরাগমন ঘটে লৌহ-ডানার প্রজাপতির। ভাইবোনকে সে পথ দেখায়। আর দেখা মেলে সেই ফুলের, চক্রশেষে যার জন্ম হয়েছিল তাদের থেকেই। নিয়াকো তার প্রাণ ফিরে পায়। সুখী সমাপ্তী!

Screenshot_2016-02-21-11-18-05

অথবা শিশুমনের অলীক কামনা। নিয়াত্তার জীবনের সুখের স্মৃতিগুলো হারাতে থাকে একেক করে – তার বাবা, তার মা, সব শেষে তার বোন। এমনকি সে নিজেও হারিয়ে যায়। মৃত্যুর পর সবই সমান। অন্ধকার।

তাই প্রতিটি মূহুর্তই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে টিকে থাকা, তা যত কষ্ট সহ্য করেই হোক, সবসময়ই তা বিলিয়ে দেওয়ার চেয়ে সুন্দর। কারণ জীবনের প্রতিটি স্মৃতিই, প্রতিটি মূহুর্তই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের অংশ হও। তা এমনকি ছোটবেলায় পরিবারসহ সৈকতে গিয়ে তোলা কোন ছবিতে হলেও

vlcsnap-2016-02-21-17h47m20s104

 

 

[১] – [https://en.wikipedia.org/wiki/Masaaki_Yuasa]

[২] – [http://kisscartoon.me/Cartoon/Adventure-Time-with-Finn-Jake-Season-06/Episode-007-008?id=3768]

[৩] – [https://en.wikipedia.org/wiki/Mind_Game_(film)]

নাইনটিন 19 — Anirban Mukherjee

“নাইনটিন 19”

রিভিউ নয়,সামান্য আলোচনা….

আশির বা নব্বই এর দশকগুলোতে আনিমের ওভিএ এর সবচেয়ে উন্নতি হয়েছিলো এটা মোটামুটি সবাই জানে। এই দশক গুলোতে হোমভিডিও টেকনোলজির প্রচুর উন্নতিই এটাকে সম্ভব করেছিলো ।1978 এ লেজার ডিস্কের বাজারজাতকরন অথবা তারও পরে 1995 এর ডিভিডির আবিষ্কার , ওভিএ বুমের জন্ম দিয়েছিলো ।সাধারনত একটা সিএলভি লেজার ডিস্কে ষাঠ মিনিট আর একটা সিএভি লেজার ডিস্কে ত্রিশ মিনিটের ভিডিও ধরত (কিছু লেজার ডিস্ক আমার কালেকশনে ছিলো)।সেজন্যই সম্ভবত আশির দশকের শেষ আর নব্বই দশকের শুরুতে ওভিএগুলো চল্লিশ থেকে ষাঠ মিনিটেই সীমাবদ্ধ থাকতো, এখনও রীতিটা কিছুটা থেকে গেছে ।সাধারনত এইসময় আনিমের দর্শক পাল্টায় ,যেটা আগে সাধারনত ছোটদের এবং কিশোর কিশোরীদের মাধ্যম ছিলো সেটাতে এবার বড়রাও চোখ রাখতে শুরু করে ।সেইসময় অফিসফেরত রাতে কোন লেজার ডিস্ক ভাড়া করে চল্লিশ মিনিটের একটা ওভিএ দেখার লোকের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছিলো ।সেই সঙ্গে তাদের রুচির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন ম্যাচুয়র সাবজেক্ট দিয়ে ওভিএ বানানোও চলছিলো।
এই আশির দশকের শেষ আর নব্বই দশকের শুরুর দিকে কিছু ওভিএ আশির হলিউড পপুলার সিনেমা, সোপ ওপেরা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়,যেগুলোর আর্ট কোয়ালিটি এবং সেই সঙ্গে নতুন নতুন এনিমেশন আর গল্প বলার পদ্ধতির জুরি আজও তৈরি হয়নি ।সেইরকম একটা ওভিএ সঙ্গে পরিচিত হবো,এর ব্লু রে ভারসন বেরিয়েছে কীনা জানি না ,তবে বার না করাটা অন্যায় ।ওভিএ এর বিষয়বস্তু আলাদা হলেও স্টাইলটা ওয়াঙ-কার-উই এর মাস্টারপিস চ্যাঙকিং এক্সপ্রেসের সমতুল্য লেগেছে।

উনিশ বছরের “ভার্জিন”……..

Nineteen 1

ডিরেক্টর কোইচি চিগিরার (ভেনাস ওয়ার,টোকিও ব্যাবিলন) করা নাইনটিনের সমতুল্য কিছু এখন আছে কিনা জানি না,বিশেষ করে এখন মোয়ে আর হারেম শাসিত আনিমে জগতে ,যেখানে গল্প অথবা এনিমেশন বা ম্যাচুয়ারিটিকে অতিক্রম করে কিউটনেস ,আর তাই দেখে আনিমে ফ্যানরা ওয়াইফু খুঁজে রাতে পাশবালিশের মাজা ভাঙে ।
প্রথমেই বলা দরকার এটা রোমান্টিক জঁরের কাজ,স্কুলবয়- গার্ল টাইপের নয়,বরং এখানকার মূল চরিত্র কোবুটা ,স্কুল থেকে অনেক আগেই গ্রাজুয়েট হওয়া একজন তরুন,বয়স উনিশ ,একটা রেস্টোরেন্টে কাজ করে ।বয়স উনিশ হলেও সে এখনও কোন মেয়ের সঙ্গে সিরিয়াস রিলেশনে জড়ায়নি(সবাই ধরে নিয়েছে বেচারা ভার্জিন) ।সেটা নিয়ে তার যতটা চিন্তা ,তার চেয়েও তার দুই বন্ধু আর বসের চিন্তা আরও বেশি ।বন্ধুরা কোবুটার জন্য বান্ধবী ধরার চেষ্টা চালায় , কিন্তু বেচারা কোথাও পাত্তা পায় না ।একসময় একটা বারে দেখা পায় তার পুরোনো জুনিয়র স্কুলের বান্ধবী মাসানার সঙ্গে ,যে এখন একজন উঠতি মডেল ,সদ্য এসেছে টোকিওতে ।কোবুতা এবার তার সঙ্গে একটা রিলেশন তৈরির চেষ্টা করে,সফলও হয় ।প্রথমে হোটেলের রাত ,তারপর মাসানার ফ্লাট..রিলেশনটা অনেক দুর গড়ালেও মাসানার ফ্লার্টে এ তার প্রাক্তন বয়ফ্রেনডের সঙ্গে কোবুতার ছোট হাতাহাতি টাইপের ঘটনা গল্পটা অন্যদিকে মোড় নেয়,এরপর আর পাঁচ মিনিট বাকী থাকতে ওভিএটা শেষ হয়ে যায় ।ফলে গল্পের পরিনতিটা দর্শককে একটু চিন্তা এবং কল্পনা করে নিতে হবে ।ফলে ওভিএটা দর্শকের প্রথম থেকে মনোযোগ অবশ্যই দাবী করে।

এবং রাতের টোকিওর লাল নীল আলো আর গান……

এই ওভিএ এর সবচেয়ে বড়ো সম্পদ এর এনিমেশন পরিচালনা আর সাউন্ডট্রাক ।এনিমেশন এর মধ্যে 2:13-15 মিনিটে কোবুটার এক্সপ্রেশন,2:22 মিনিটে আরম্ভদৃশ্য,3:28 এ কোবুটার কল্পনা,4:44 মিনিটে পাবের ভেতরে আলো আর নাচের দৃশ্য ,সঙ্গে অবশ্যই সাউন্ডট্রাক,16:00 মিনিটে কুবোটা আর মাসানার দেখা , 26:37 মিনিটে সী বিচের দৃশ্য,29:27 মিনিটে এ ভোরের শহরের দৃশ্য,21:42 এবং 22:20 মিনিটে মাসানার এক্সপ্রেশন ,37:20 মিনিটে রাতে চেরি ব্লসমের গোলাপি বৃষ্টি …এইরকম ভাবে আপনিও অনেক নতুন দৃশ্য খুঁজতে পারবেন ।
রঙের ব্যাবহার,পরিচালকের দেখার এবং দেখানোর দৃষ্টিকোন অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য ।রঙের ব্যাবহার কে আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করা যাবে এর একটা ব্লু রে ট্রিটমেন্টের পর ।তবে সেটা সময়ের অপেক্ষা ।

Nineteen 2

চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান – Angra Mainyu [Fate series] — Shifat Mohiuddin

চরিত্রঃ Angra Mainyu
এনিমে: Fate/stay night, Fate/Zero, Fate/stay night: Unlimited Blade Works
ভূমিকাঃ খলনায়ক
উপাধি/অপর নামঃ আহিরমান, Source of all evil in the world, Destructive spirit, Daeva of Daevas.
উপস্হিতিঃ জরুথ্রস্টবাদ, মানিবাদ এবং অন্যান্য খ্রিষ্টোত্তর ধর্ম।
¤
অ্যাংগ্রা মাইনয়ু আসলে এমন একটা চরিত্র যাকে কল্পনা করতেই যোগ্যতা লাগে।মূলত ফেইট সিরিজের এনিমেগুলোর শেষ এপিসোডে এর উপস্হিতি লক্ষ করা যায়।এর উপস্হিতি পঙ্কিল এবং বীভৎস(অনেকটা সাউরনের মত)।কাদার মত থকথকে বস্তু দ্বারা এর পুরো দেহ আবৃত।তো,এই চরিত্রটির আমদানি ঘটেছে জরুথ্রুস্টবাদ ধর্ম থেকে।তাদের ধর্মগ্রন্হ আবেস্তার অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু অ্যাংগ্রা মাইনয়ু যার আসল নাম আহিরমান(পার্সি ভাষায় অ্যাংগ্রা মাইনয়ু বলা হয়)।আমি এই লেখায় আহিরমান শব্দটিই ব্যবহার করবো।
¤
অ্যাংগ্রা মাইনয়ু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ধ্বংসাত্মক আত্মা।জরুথ্রুস্টের মতে নামটি এখনো পরিপূর্ণতা লাভ করে নি।এখানে এমন এক মনকে চিহ্নিত করা হয়েছে যার মন কলুষতায় পরিপূর্ণ এবং ধ্বংসই যার টিকে থাকার একমাত্র উদ্দেশ্য।
¤
আবেস্তার প্রথম অংশে আহিরমানকে ডেভাদের (daeva) প্রধান হিসেবে অভিহিত করা হয়।জরুথ্রুস্টের মতে ডেভারা হল fallen angel দের মত,পুরোপরি ডিমন না।ডেভারা অন্ধকার জগতে বাস করে এবং আহিরমান তাদের সর্বময় কর্তা।আহিরমান যাবতীয় নেগেটিভ ইমোশন যেমনঃদুঃখ,কষ্ট,বেদনা,ঘৃণা,হিংসা ইত্যাদির প্রতিনিধিত্ব করে।ধারণা করা হয় যে,আহিরমানই ডেভাদের ভেতরে অন্ধকারের প্রবেশ ঘটিয়েছে,যদিও সে ডেভাদের স্রষ্টা নয়।
¤
জরুথ্রুস্টবাদে আহিরমানের উৎপত্তি নিয়ে সেইরকম কোন তথ্য নেই।যেন,সৃষ্টির প্রথম থেকেই আহিরমান ছিল।আর আহিরমানের বিপরীত সত্ত্বা হল ওহরমাজদা।ওহরমাজদা হল আলোর প্রতীক এবং সে ইয়াজদাদের (creature of light) নিয়ন্ত্রন করে।তবে ইয়াসনার ৩০.৩ স্লোক অনুযায়ি দুইজন পবিত্র যমজের উৎপত্তির কথা বলা হয়েছে যাদের একজনের নাম অ্যাংগ্রা মাইনয়ু এবং অপরজনের নাম স্পেনটা মাইনয়ু।এই স্লোকটি চিরকালীন ওহরমাজদা-আহিরমান বিশ্বাসে চিড় ধরায়।তবে আহিরমানের উৎপত্তির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে জুরভানিজম ধর্মে।
¤
জুরভানিজম (zurvanism) হল জরুথ্রুস্টবাদের একটি শাখা ধর্ম যা ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়।পরে অবশ্য শাসকদের রক্তচক্ষুর প্রভাবে এই ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে যায়।তবুও আধুনিক জরুথ্রুস্টবাদে এখনও জুরভানিজমের প্রভাব দেখা যায়।
জুরভানিজম অনুসারে,বিশ্বজগতে প্রথম উপাদান ছিল জুরওয়ান(time) নামের একজন উভলিঙ্গ দেবতা।জুরওয়ান বংশবৃদ্ধিতে আগ্রহী ছিল এবং চাইতো যে তার পক্ষ থেকে কেউ যেন স্বর্গ আর নরক তৈরি করে।সন্তান লাভের জন্য জুরওয়ান ১০০০ বছর ধরে সাধনা করে।এই দীর্ঘ সাধনার ফল না পাওয়ায় জুরওয়ানের মনে সামান্য সন্দেহ দেখা দেয় এবং তৎক্ষনাৎই সে যমজ সন্তানের অধিকারী হয়।এই সন্তানদ্বয় ছিল ওহরমাজদা এবং আহরিমান।বলা হয় যে,সেই সাধনার ফসল ছিল ওহরমাজদা এবং সেই সূক্ষ সন্দেহের ফসল ছিল আহরিমান।
জুরওয়ান সিদ্ধান্ত নেন,যে সন্তান আগে গর্ভ ভেদ করবে তাকেই তিনি সার্বভৌম ক্ষমতা দান করবেন।ওহরমাজদা এই কথা বুঝতে পারে এবং তার ভাই আহিরমানকে এই ব্যাপারে অবহিত করে।আহিরমান এই কথা শুনে জুরওয়ানের উদর বিদীর্ন করে বাইরে বের হয়ে আসে।জুরওয়ান তার কথা মতো,আহিরমানকে সার্বভৌম ক্ষমতা দান করেন তবে তা ৯০০০ বছরের জন্য।তিনি বলে দেন যে,৯০০০ বছর পরে ওহরমাজদাই এই মহাবিশ্ব শাসন করবে।
আহিরমান আর ওহরমাজদা পরষ্পরের সাথে বেশ কয়েকবার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।অবশ্য সব ধর্মগ্রন্থের শেষেই বলা হয়েছে শেষমেষ আহিরমানই পরাজিত হবে এবং নরকে পতিত হবে।যেহেতু,নরক তার নিজেরই সৃষ্টি।
আহিরমান এবং ওহরমাজদা উভয়েই একে অপরকে চ্যালন্জের মাধ্যমে পৃথিবীকে বৈচিত্র্যময় বানিয়েছে।যেমনঃওহরমাজদার ষোলটি শুভ শক্তির বিপক্ষে আহিরমান ষোলটি অশুভ শক্তির ব্যবহার করেন।এই অশুভ শক্তি গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল মহামারি,দুর্ভিক্ষ,শীত ইত্যাদি।মানুষ নিয়মিতই তাদের যুদ্ধের কেন্দ্রে থাকত এবং তাদের কাজ হতো চারিদিকের এই অন্ধকারের মধ্যে অন্তরের সততা বজায় রাখা।কলুষতার ছোঁয়া পেলেই ডেভারা মানুষের আত্মাকে অপবিত্র করে ফেলতে পারতো।
¤
আধুনিক যুগে অবশ্য আহিরমানের উৎপত্তি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করা হয়।১৮৬২ সালে মার্টিন হগ নামক একজন ব্যক্তি আহিরমানের উৎপত্তির নতুন ব্যাখা দেন।তাঁর মতে,আহিরমান,ওহরামাজদার সমসাময়িক কেউ নয়।বরং ওহরামাজদারই নিজস্ব দুই সৃষ্টি হল অ্যাংগ্রা মাইনয়ু এবং স্পেনটা মাইনয়ু,যারা যথাক্রমে ওহরামাজদার ‘সৃষ্টি’ এবং ‘ধ্বংস’ বৈশিষ্ট্যের প্রতিনিধিত্ব করে।এইখানে স্পেনটা মাইনয়ু নামক নতুন এক সৃষ্টির অস্তিত্ব ঘোষণা করা হয়।হগের মতে এটাই জরুথ্রুস্টবাদের মূলনীতি এবং কালেক্রমে এটাই বিকৃত হয়ে প্রচলিত রূপ নিয়েছে।
হগের এই তত্ত্ব ইয়াসনার ৩০.৩ স্লোকের যমজ সন্তান তত্ত্বকে মারাত্মক ভাবে সমর্থন করে।সমকালীন পন্ডিতেরাও হগের তত্ত্বে সমর্থন দেন এবং তাদের মতে হগের তত্ত্ব জরুথ্রুস্টবাদকে আধুনিক যুগের সাথে মানানসই করেছে।
মজার ব্যাপার হল,রুডলফ স্টাইনার নামক প্রখ্যাত একজন দার্শনিকের মতে আহিরমানের পূর্নজন্ম হবে।তাঁর মতে ৩০০০ খ্রিষ্টাব্দের পর আহিরমানের আবির্ভাব ঘটতে পারে।বর্তমান পৃথিবীতে বিদ্যমান অস্হিতিশীলতাই হবে তার আবির্ভাবের কারণ।তিনি আহিরমানকে মাত্র দুইজনের একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা কিনা যীশুর মৃত্যুর পর যীশুর ফোকাস নিজেদের দিকে টেনে নিতে সক্ষম হয়েছে।
¤
রেফারেন্সঃ সাহিত্য,সংষ্কৃতি এবং মিডিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আহিরমানকে প্রচুরভাবে উপস্হাপন করা হয়েছে।তবে একটি উদাহরন না দিলেই নয়।বাংলাদেশের সুলেখক তানজীম রহমানের থ্রিলার-হরর উপন্যাস ‘আর্কনে’ অ্যাংগ্রা মাইনয়ুর(আহিরমান) কথা উল্লেখ আছে।আর্কন উপন্যাসের একটি প্রধান খল চরিত্র হল আর্কনেরা।জানলে খুশি হবেন যে এই আর্কনেরা হল ডেভাদের অনুরূপ।তাদের শাসনকর্তাও হল আহিরমান।লেখক আর্কন উপন্যাসে মানিকেয়িজম নামক এক ধর্মের আশ্রয় নিয়েছেন যা জরুথ্রুস্টবাদের অনুরূপ ধর্ম।এমনকি বইয়ের কয়েক জায়গায় আহিরমান লেখাও আছে।বইটির পাঠকেরা নিশ্চয়ই ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন।যারা ফেইট সিরিজের ভক্ত তারা অবশ্যই আর্কন বইটা পড়ে দেখতে পারেন।
¤
স্পয়লার অ্যালার্ট
Fate/hollow ataraxia অনুযায়ি (আমি hollow ataraxia খেলি নাই।অনিন্দ্য ভাইয়ের পোস্ট এবং পরে উইকিতে কাহিনী জানতে পারি।)অ্যাংগ্রা মাইনয়ুকে অ্যাভেন্জার ক্লাস হিসেবে থার্ড হোলি গ্রেইল ওয়ারে সামন করার চেষ্টা করা হয়।কিন্তু যে সামন হয় সে নাকি একজন সাধারন বালক ছিল যার জন্ম নাকি মধ্যপ্রাচ্যে।এক্ষেত্রে টাইপ মুনের প্রশংসাই করতে হয় কারণ জরুথ্রুস্টবাদের উৎপত্তি ঘটেছিল ইরাকে।মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে উপুযুক্ত কোন জায়গায় অ্যাভেন্জারের জন্ম নেওয়া সম্ভব ছিল না।
¤
source:all hail wikipedia 😛

Angra Mainyu

Studio Monogatari: Episode 02

MADHOUSE Inc. (Madhouse)

1. madhouse

 

দর্শকমহলে সবচেয়ে পছন্দের আনিমে স্টুডিও কোনটি জিজ্ঞেস করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যেই নামটি শুনা যাবে তা হল ম্যাডহাউজ স্টুডিও! এমনও সম্ভাবনা আছে, আপনি আপনার পছন্দের সেরা আনিমে লিস্টের দিকে তাকালে তার মধ্যে একটি বড় অংশ জুড়ে ম্যাডহাউজের তৈরি সিরিজের রাজত্ব দেখতে পাবেন। স্টুডিওটির এত বেশি জনপ্রিয়তার কারণও আছে অনেক, আর আনিমে তৈরির ক্ষেত্রে innovation ও চমৎকার strategy তাদের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ।

১৯৭২ সালে মুশি-প্রো ছেড়ে চলে আসেন চারজন বিখ্যাত আনিমে ডিরেক্টর মাসাও মারুইয়ামা, ওসামু দেজাকি, ইয়োশিয়াকি কাওয়াজিরি ও শিগেইয়ুকি হায়াশি (রিন্তারো) এবং প্রতিষ্ঠা করেন ম্যাডহাউজ। ম্যাডহাউজের সর্বপ্রথম কাজ Ace wo Nerae! (Aime for the Ace!) [1973].

2. Founders

আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে ম্যাডহাউজের দাপটের সাথে টিকে থাকার জন্যে তাদের নেওয়া কিছু চমৎকার স্ট্র্যাটেজি অনেক কাজে দিয়েছিল-

ম্যাডহাউজ শুরু থেকেই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে কাজ করতো। প্রথম কাজ একটি টিভি সিরিজ হয়ে থাকলেও তারা এরপর কোন টিভি সিরিজের দিকে না গিয়ে বরং একের পর এক আনিমে মুভি নির্মাণ করতে শুরু করে। ৮০’র দশকে গান্দাম ও ম্যাক্রসের সাফল্যের কারণে অন্যান্য স্টুডিও যেখানে টিভি সিরিজ নির্মাণের দিকে ঝুঁকে পরে সেখানে ম্যাডহাউজ অনেক বেশি পরিমাণ মুভি তৈরি করতে থাকে, এমনকি বছরে ৪-৫টি করে মুভি রিলিজ দিতে থাকে। এখানে খেয়াল রাখতে হবে যে এই সময়টা এমন ছিল যখন আনিমে মুভি ভাল ফান্ডিং পেত না। ম্যাডহাউজের তখনকার এই মুভিপ্রীতির ফলাফলে আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে মুভি নির্মাণের সাফল্যের পথ তৈরি হয়ে যায়।

  • ৮০’র দশকের শেষের দিকে গিয়ে দেখা যায় অন্য এক চিত্র। মুভি নির্মাণের পিছনে যা খরচ হয় তা মুভির তৈরির লাভের পরিমাণের তুলনায় বেশি। তবে ব্যাপারটি ম্যাডহাউজকে তেমন সমস্যায় ফেলে নি, কারণ তারা অন্যান্য স্টুডিও থেকে এক ধাপ এগিয়ে ছিল – অন্যান্য স্টুডিও হয় টিভি সিরিজ, কিংবা মুভি বা ওভিএ যেকোন একটা লক্ষ্য করে এগিয়ে যেতে থাকলেও ম্যাডহাউজ শুধু এক নির্দিষ্ট ধরণের জিনিস তৈরির পিছনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এসময়ে তারা মুভি থেকে মুখ সরিয়ে তৈরি করা শুরু করে OVA সিরিজ। বছরে একাধিক OVA তৈরি করতে থাকে তারা, আর মাঝেমধ্যে অল্প কিছু মুভি রিলিজ দিত। আনিমের তৈরির ধরণে পার্থক্য আসলেও তাদের কোয়ালিটিতে একটুও পতন ঘটে নি। OVA নির্মাণ তাদেরকে আর্থিক সমস্যার মুখ থেকেও তুলে আনে।
  • বিভিন্ন সিরিজের সাফল্যের ক্রেডিট তখন যেত প্রধাণত এদের ডিরেক্টরদের বা প্রোডিউসারদের কাছে, কিন্তু ম্যাডহাউজ এসে সিস্টেমটার পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়। বিভিন্ন প্রোজেক্টের জন্যে ম্যাডহাউজ সব ট্যালেন্টেড নির্মাতাদের যোগাড় করতো। ডিরেক্টরদের দিত তাদের এসব প্রোজেক্টের উপর পূর্ণ ক্ষমতা। এমন উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার কারণে তখন থেকে সিরিজের সাফল্যের ক্রেডিট দিতে দেখা যেত আনিমেটির সুডিওকে।
  • ম্যাডহাউজের বিভিন্ন প্রোজেক্টের জন্যে বিভিন্ন নির্মাতাদের পিছনে ছুটে চলার ফলে এমন সময়ে সাতোশি কনের মত অনেক গুণী নির্মাতা উঠে আসেন।
  • ৯০’র দশকের শেষের দিকে তাদের স্ট্র্যাটেজিতে আবার পরিবর্তন আসে, এবার তারা টিভি সিরিজ নির্মাণের দিকে দৃষ্টিপাত করে। অল্প কিছু মুভি তৈরির ব্যাপারটি তখনও চলতে থাকে।
  • ম্যাডহাউজের আনিমে তৈরির ধরণের পিছনে এরপর বড় পরিবর্তনটা আসে ২০০৮ সালের দিকে, যখন জাপানে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়। সমগ্র আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতেই বিশাল পরিবর্তন চলে আসে এবং প্রায় সব স্টুডিওকেই তাদের কৌশল পরিবর্তন করতে হয়। আর এই ২০০৮ সাল থেকেই ম্যাডহাউজের সোনালী যুগের শেষের শুরু হয়। ২০১১ সালে ওসামু দেজাকির মৃত্যুর পর এবং এরই মাঝে অনেক নামকরা স্টাফ ম্যাডহাউজ ছেড়ে চলে যাবার সাথে সাথেই ম্যাডহাউজের সোনালী যুগের সমাপ্তি হয়।
  • নতুন চেহারার ম্যাডহাউজ অবশ্য তাদের পুরানো কৌশল অবলম্বন করতে থাকে, বিভিন্ন গুণী নির্মাতাদের নিয়ে এসে অনেক অনেক টিভি সিরিজ তৈরি করে। সোনালী যুগের সব নামকরা নির্মাতারা ম্যাডহাউজ ছেড়ে চলে যাবার পরেও ম্যাডহাউজ ধীরে ধীরে তাদের নতুন স্টাফদের মধ্য থেকেই অনেক ভাল কিছু ডিরেক্টরদের পেয়ে আসছে এখন।

ম্যাডহাউজ স্টুডিওতে আনিমে ইন্ডাস্ট্রির অনেক জিনিয়াস মস্তিষ্ক কাজ করেছে। তাদেরই অল্প কয়েকজন-

  • Masao Maruyama: ম্যাডহাউজের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম, তিনি স্টুডিও হেড হিসাবে একের পর এক নতুনত্ব নিয়ে আসা সব আনিমে প্রোজেক্টের সূচনা করেন। [শিরোবাকো আনিমেটি যদি দেখে থাকেন, তাহলে মারুইয়ামার আনিমে ভার্শনকে দেখতে পাবেন কিন্তু। সিরিজে Musashino Animation-এর প্রেসিডেন্ট হিসাবে দেখানো হয়েছে তাকে। স্টুডিওটি ঠিক কোন সত্যিকারের অ্যানিমেশন স্টুডিওকে তুলে না ধরলেও ধারণা করা হয় ম্যাডহাউজ এবং আরও কয়েকটি আনিমে স্টুডিওর বিভিন্ন জিনিস একত্রিত করে আনিমেটিতে দেখানো এই স্টুডিওকে সাজানো হয়েছে।]
  • Satoshi Kon:  নিজস্ব ধাঁচের সিনেমাটোগ্রাফির জন্যে বিশ্ববিখ্যাত এই ডিরেক্টর ম্যাডহাউজ থেকে রিলিজ দেন Perfect Blue [1997], Millennium Actress [2001], Tokyo Godfathers [2003], Paranoia Agent [2004], Paprika [2006]
  • Takeshi Koike: Afro Samurai pilot [2003] দিয়ে নজর কাড়েন, এরপর নির্মাণ করেন Redline [2009]
  • Hiroshi Hamasaki: ডিরেক্টর হিসাবে প্রথম নির্মাণ করেন Texhnolyze [2003], এবং এরপর নিয়ে আসেন Shigurui [2007]
  • Masayuki Kojima: জনপ্রিয় এই ডিরেক্টর নিয়ে আসেন Magical Shopping Arcade Abenobashi [2002], Monster [2003], Piano no Mori [2007]
  • Mamoru Hosoda: তোয়েই অ্যানিমেশন ছেড়ে এসে ম্যাডহাউজে যোগ দেন ২০০৫ সালে, নির্মাণ করেন The Girl Who Leapt Through Time [2006], Summer Wars [2009]
  • Tetsurou Araki: Death Note [2006], ও Highschool of the Dead [2010] তৈরি করেন এই বিখ্যাত ডিরেক্টর
  • Masaaki Yuasa: Kaiba [2008], Tatami Galaxy [2010] এর মত কিছু জনপ্রিয় অন্য ধাঁচের আনিমে তৈরি করেন
  • Satoshi Nishimura: Trigun [1998], Hajime no Ippo [2000], Trigun: Badlands Rumble [2010] পরিচালনা করেন

3. Genius

এত এত জনপ্রিয় সব মুখ ম্যাডহাউজকে আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে বিশেষভাবে উঠিয়ে নিয়ে আনলেও ম্যাডহাউজ বেশ কঠিন একটা সময় পার করে কয়েক বছর আগে। ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের এই সময়টিতে ম্যাডহাউজের সোনালী যুগের সমাপ্তি ঘটে যায়। সবার মুখে মুখে ম্যাডহাউজের যেসব বিখ্যাত কাজ নিয়ে প্রশংসার ফুল ফুটে বেড়ায়, সেই সব কাজ উপহার দেওয়া স্টাফদের অধিকাংশই এই কঠিন সময়টাতে ম্যাডহাউজ ছেড়ে চলে যায়।

  • শুরুটা হয় ২০০৮ সালে জাপানের অর্থনৈতিক মন্দা দিয়ে। এই সময়টাতে পুরা আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতেই এক বিশাল পরিবর্তনের ঢেউ খেলে যায়। এর ধাক্কা এসে লাগে ম্যাডহাউজের গায়েও। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পরে তারা।
  • ২০১০ সালে সাতোশি কনের মৃত্যু শুধু আনিমে ইন্ডাস্ট্রিই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের অ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রির জন্যে দুঃখের এক সংবাদ নিয়ে আসে। Dream Machine নামের নতুন এক মুভির কাজ অসমাপ্ত রেখেই বিদায় নেন তিনি।
  • মাসাও মারুইয়ামার সাথে ম্যাডহাউজের স্টাফদের মধ্যে বিভিন্ন কারণে সম্পর্ক খারাপ হয়ে আসছিল অনেকদিন ধরে। এরই জেড় ধরে ২০১১ সালে ম্যাডহাউজ ছেড়ে দিয়ে মারুইয়ামা তৈরি করেন তার নিজস্ব স্টুডিও MAPPA, এবং সাতোশি কনের অসমাপ্ত কাজ Dream Machine মুভির সব স্বত্বাধিকার নিয়ে চলে যান তার নতুন স্টুডিওতে।
  • মাসাকি ইউয়াসা এই সময়ের পর থেকে আর ম্যাডহাউজের সাথে কোনরকমের কাজে জড়িত হন নি।
  • তেতসুরৌ আরাকি ২০১১ সালে ম্যাডহাউজ ছেড়ে দিয়ে Production I.G-তে যোগ দেন, হিরোশি হামাসাকি একই বছর যোগ দেন White Fox-এ। মামোরু হোসোদা সে বছর ম্যাডহাউজ থেকে বের হয়ে এসে তৈরি করেন Studio Chizu.
  • মাসায়ুকি কোজিমা ম্যাডহাউজের হয়ে ২০১১ সালেই তার শেষ কাজ The Tibetan Dog সম্পন্ন করে এরপর Kinema Citrus-এ কাজ করেছেন।
  • সাতোশি নিশিমুরা ২০১০ সালে ম্যাডহাউজের সাথে শেষ কাজ হিসাবে Trigun: Badlands Rumble নির্মাণ করেন। এরপর এখন তিনি মারুইয়ামার সাথে MAPPA-এ গিয়ে Ushio to Tora তৈরিতে ব্যস্ত আছেন।
  • তাকেশি কোইকে-কে ২০১০ সালে বহিস্কার করা হয়। কারণ হিসাবে মারুইয়ামা টুইটারে উল্লেখ করেন রেডলাইন সিনেমা নির্মাণে অনেক বেশি সময় নেবার কারণেই তাকে এই সমস্যার মুখে পরতে হয় [৭ বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল মুভিটি নির্মাণের জন্যে]।
  • এছাড়াও ম্যাডহাউজ থেকে অনেক গুণী Key Animator, Photographer, Director, Animation Director, Storyboard Artist ম্যাডহাউজ ছেড়ে চলে যায় MAPPA, J.C. Staff, Studio Khara, Tezuka Production, T2 Studio ইত্যাদি অন্য অনেক স্টুডিওতে, অনেকে আবার ম্যাডহাউজ ছেড়ে দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কাজে ব্যস্ত আছেন।

ম্যাডহাউজকে ম্যাডহাউজ বানানো এসব নির্মাতা, অ্যানিমেটর চলে যাবার পরে এখন ম্যাডহাউজের কী অবস্থা?

  • ২০১১ সাল থেকে এখন যেই ম্যাডহাউজকে আমরা চিনি তা আসলে সেই আগের যুগের ম্যাডহাউজের ছায়ামাত্র বলা যায়। সোনালী দিনের মত সাফল্য পাওয়া একমাত্র সিরিজ Hunter x Hunter (2011).
  • এই সময়ে Marvel-এর কিছু আনিমে অ্যাডাপশন, Mahou Sensou [2014], Hunter x Hunter এর দুটি মুভি সহ আরও কিছু সিরিজ চরমভাবে ব্যর্থ হয় এবং ম্যাডহাউজকে এ কারণে অনেক সমালোচনা শুনতে হয়।
  • BTOOM! [2012], Photo Kano [2013]-এর মত কয়েকটি Hit or Miss সিরিজ ম্যাডহাউজকে ভয়াবহ বিপদ থেকে কিছুটা মুক্তি দেয়।
  • ডিরেক্টর Morio Asaka তৈরি করেন Chihayafuru [2011], Ore Monogatari!![2015], যা বেশ সুনাম অর্জন করে দর্শকমহলে।
  • ডিরেক্টর Atsuko Ishizuka তৈরি করেন Hanayamata [2014], No Game No Life [2014] এবং এই মুহুর্তের অনগোইং সিরিজ Prince of Stride: Alternative [2016]. তার ট্রেডমার্ক ভিজুয়াল স্টাইলের জন্যে অল্প সময়েই ক্ষ্যাতি ছড়িয়ে পরে তার কাজের।
  • The Ambition of Oda Nobuna [2012], Sunday Without God [2013] নিয়ে আসেন Yuuji Kumazawa.
  • ২০১১ সালের পর প্রথম অরিজিনাল আনিমে হিসাবে ম্যাডহাউজ নিয়ে আসে Death Parade [2015], পরিচালনা করেন Yuzuru Tachikawa.
  • সাম্প্রতিক সময়ে ম্যাডহাউজের সবচাইতে বড় হিট সিরিজ One Punch Man-এর সাফল্য আনিমে ইন্ডাস্ট্রির জন্যে অনেক বড় এক অর্জন হলেও ম্যাডহাউজের জন্যে দুঃখজনক ব্যাপার হল, নিজস্ব স্টাফদের অবদান এতে সামান্যই ছিল। এই সিরিজ তৈরির পিছনে Key Animator হিসাবে ছিলেন Yoshimichi Kameda (Bones), Yuki Watanabe (Doga Kobo), Se Jun Kim (Sunrise/Bones), Gosei Oda (Bones/Gainax), Arifumi Imai (Wit Studio/Production I.G), Shuhei Handa (Trigger), Yutaka Nakamura (Bones), এবং ডিরেক্টর হিসাবে ছিলেন Shingo Natsume. ম্যাডহাউজের অবদান বলতে যেন ছিল এদেরকে এক টেবিলে বসিয়ে কাজ করানো।

তবে সোনালী প্রজন্মের চলে যাবার পরেও ম্যাডহাউজ এখন আবার মুখ তুলে দাঁড়াচ্ছে ধীরে ধীরে। স্টুডিওটির নিজস্ব কৌশলে পরিবর্তন তেমন আসে নি, গুণী নির্মাতাদের একত্রিত করে এখনও বেশ ভাল সিরিজ উপহার দিয়ে আসছে, অন্যদিকে স্টুডিওর ডিরেক্টররা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে এখনও অন্তত ৫-১০ বছর রাজত্ব করার মত সব অস্ত্রই তাদের হাতে আছে!

এতক্ষণ তো গেল স্টুডিওটির ছোটখাট ইতিহাস, এর আনিমেগুলির ব্যাপারে এবার আলোচনা করা যাক। এই এক স্টুডিও থেকে এত বেশি নামকরা সব আনিমে এসেছে যে শুধু বিখ্যাত আনিমেগুলির নাম একের পর এক বলে যেতে থাকলেও ধৈর্য্যের বাধ ভেঙ্গে যেতে পারে! জনপ্রিয় সব নামগুলির মধ্যে অল্প কিছু নাম উল্লেখ করছি, দেখুন এবং মিলিয়ে নিন এদের কতগুলি আপনি বিভিন্ন আনিমে রিকমেন্ডেশন পোস্ট/ডক/ফোরামে সাজেশন হিসাবে দেখেছেন-

70’s-80’s: Ace wo Nerae!, Barefoot Gen, Legend of the Galactic Heroes MOVIE (1988)

  • Early 90’s: Bio Hunter, The Cockpit, Cyber City Oedo 808, DNA², Memories, Record of Lodoss War
  • Late 90’s: Cardcaptor Sakura, Master Keaton, Perfect Blue, Petshop of Horrors, Trigun, Vampire Hunter
  • 2000-2003: Afro Samurai Pilot, Beyblade [1st Season], Boogiepop Phantom, Chobits, Galaxy Angel, Gungrave, Gunslinger Girl, Hajime no Ippo, Metropolis, Millennium Actress, Space Pirate Captain Herlock: The Endless Odyssey, Texhnolyze, Tokyo Godfathers, Vampire Hunter D (2000), X the Series
  • 2004-2007: Ani*Kuri15, BECK, Black Lagoon, Claymore, Death Note, Dennou Coil, The Girl Who Leapt Through Time, Ichigo 100%, Kaiji, Kemonozume, Monster, Nana, Paprika, Paradise Kiss, Paranoia Agent, Piano no Mori, Shigurui, Strawberry Panic
  • 2008-2010: Aoi Bungaku Series, Needless, Highschool of the Dead, Kaiba, One Outs, Redline, Summer Wars, The Tatami Galaxy, Trigun: Badlands Rumble
  • 2011-Present: Btooom!, Chihayafuru, Death Billiards, Death Parade, Hanayamata, Hunter x Hunter (2011), Mahouka Koukou no Rettousei, No Game No Life, Oda Nobuna no Yabou, One Punch Man, Ore Monogatari!!, Overlord, Parasyte -the maxim-, Photo Kano, Prince of Stride: Alternative, The Tibetan Dog, The Wolf Children Ame and Yuki

Madhouse Anime

ভাল ভাল সিরিজগুলির মধ্যে অল্প কয়েকটি নাম বলাতেই এই অবস্থা! তবে ম্যাডহাউজ যে শুধু আনিমেতেই ব্যস্ত ছিল না নয়, অন্যান্য স্টুডিওর আনিমে নির্মাণেও সাহায্য করেছে বেশ, এমনকি অনেক ওয়েস্টার্ন অ্যানিমেশন, কার্টুন ও বিভিন্ন গেমের সিরিজ নিয়ে আসাতেও সাহায্য করেছে-

 

  • The Animatrix: অধিকাংশ অ্যানিমেশনই ম্যাডহাউজ করেছিল, সাথে ছিল Studio 4°C
  • Batman: Gotham Knight: “In Darkness Dwells” আর “Deadshot”, সাথে ছিল  Production I.G, Studio 4°C ও Bee Train
  • Peanuts: ২০১২ সালে তারা ঘোষণা দেয় এই জনপ্রিয় কমিক স্ট্রিপের অ্যানিমেশন সিরিজ নিয়ে আসবে
  • Wakfu: Wakfu নামের MMORPG গেমের ফ্রেঞ্চ কার্টুন ভার্শন তৈরিতেও ম্যাডহাউজ সহযোগিতা করে
  • Marvel Anime: মার্ভেলের বিভিন্ন সিরিজের আনিমে ভার্শন এনেছে ম্যাডহাউজ, যেমন- Avengers Confidential: Black Widow to Punisher, Blade, Iron Man, Wolverine, X-Men
  • Supernatural The Animation: জনপ্রিয় টিভি সিরিজ Supernatural-এর উপর ভিত্তি করে এই আনিমে নিয়ে আসে ম্যাডহাউজ
  • Collaboration with Studio Ghibli: স্টুডিও জিবলীর কিছু জনপ্রিয় মুভিতে অ্যানিমেশনে সাহায্য করে। এসব মুভি হল- My Neighbor Totoro (1988), Spirited Away (2001), Howl’s Moving Castle (2004), Ocean Waves (1993), Tales from Earthsea (2006).
  • Collaboration with Disney: ডিজনির সহযোগিতায় Stitch! এর আনিমে নিয়ে আনে ম্যাডহাউজ।
  • Game-based Anime: Square Enix-এর Last Order: Final Fantasy VII (OVA), Capcom-এর Devil May Cry এর আনিমে তৈরিতে সাহায্য করে ম্যাডহাউজ।

 

পরিশেষে বলা যায়, সবচেয়ে ভাল সময়টা পিছনে ফেলে এলেও ম্যাডহাউজ এখনও একদম পথে বসে যায় নি, বরং তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে একের পর এক চমক এখনও দিয়ে যাচ্ছে। আর ম্যাডহাউজের সাফল্য তো আসলে আনিমে দর্শকদের জন্যেই খুশির খবর! যদিও ২য় সিজন আনে না বলে একটা অপবাদ গায়ে লেগে গিয়েছে [অল্প কয়েকটা সিরিজ বাদে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কথাটা সত্য], তাও আনিমেভক্তরা আশায় বসে থাকে তাদের পছন্দের সিরিজের আরেকটি সিজন হয়তো এই চলে এল বলে!

xxxHOLiC, একটি অলীক দিবাস্বপ্নের গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

কখনো চিন্তা করেছেন, আমাদের সাথে প্রতিদিন যে বিভিন্ন ধরণের ঘটনা ঘটে, সেগুলোর পেছনে ভাগ্যের হাত না থেকে অন্যকিছুর হাত থাকতে পারে? হয়ত আমাদেরই অসতর্কতাবশত করা কোন ভুলের মাশুল এই ঘটনাগুলো! কর্মফলের কথা না ভেবে আপনি যে পিঙ্কি প্রমিসটা অতি সহজে ভেঙে ফেললেন, তা কিন্তু ডেকে নিয়ে আসতে পারে জীবন সংশয়ে ফেলার মত বিপদ! কিংবা খুব চেনা একটা প্রবচন – “রাতে নখ কাটলে আপনি আপনার বাবা মায়ের ফিউনারেলে উপস্থিত থাকতে পারবেন না”; কখনো কল্পনা করেছেন যে এই বাক্যটার পেছনে কোন গূঢ় অর্থ থাকতে পারে? ইচিহারা ইউকো সান কিন্তু তাই বলেন- “There is no such thing as coincidences in this world. There is only the inevitable.”

হলিকের পৃথিবীটা খুবই আজব। এখানে রয়েছেন ইচিহারা ইউকো সান, সৌন্দর্য ও জ্ঞানের সংমিশ্রণ একইসাথে যার মাঝে বিদ্যমান। পৃথিবীর সব ধরণের সুপারন্যাচারাল ঘটনার ব্যাখ্যা মিলবে ইউকো সানের ইচ্ছাপূরণ দোকানে; যে দোকানের দেখা শুধু তারাই পায়, যাদের কোন অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। যে কোন আশা পূর্ণ করতে পারবেন ডিমেনশনাল উইচ ইউকো সান, যদি আশার সমপরিমাণ মূল্য তাকে দেয়া হয়। এবং সেই মূল্য কখনোই অর্থ দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। এমনও হতে পারে, আপনার মৃত দাদার রেখে যাওয়া একমাত্র স্মৃতিটা, কিংবা আপনার মাথার প্রিয় চুলগুলোই হল আপনার আকাঙ্ক্ষার মূল্য!

635814093931043176

এই আজব পৃথিবীর এক আজব বাসিন্দা ওয়াতানুকি কিমিহিরো। ছোটবেলায় বাবা মা হারানো হাইস্কুল পড়ুয়া এই ছেলেটির দুর্ভাগ্য, সে ইয়োকাই দেখতে পায়। ইয়োকাইরা তাকে তাড়া করে প্রায়ই, আর তাই প্রাণের ভয়ে দৌড়াতে থাকা ওয়াতানুকিকে দেখে সাধারণ মানুষের তাকে পাগল বলে মনে হয়।

এভাবে এক সকালে দৌড়াতে দৌড়াতে ওয়াতানুকি পৌছে যায় ইউকো সানের দোকানে; কে জানে, হয়ত ইয়োকাইয়ের হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষাই তাকে টেনে নিয়ে যায় ওখানে!

অ্যানিমেটির কাহিনী আবর্তিত হতে থাকে ওয়াতানুকিকে ঘিরে। শান্তশিষ্ট, সোজা সরল, কর্মঠ এবং কিছুটা শর্ট টেম্পার্ড এই ছেলেটিকে বড় বোনের মত আগলে রাখেন ইউকো সান, অ্যানিমে যত সামনে আগায়, তত তা স্পষ্ট হয়। সবসময় বিভিন্নভাবে ওয়াতানুকির সাথে খুনসুটি করতে থাকা ইউকো সানের ব্যক্তিত্ব পুরোপুরি পালটে যায়, যখন তিনি আশা নিয়ে দোকানে পা রাখা কাষ্টোমারদের ইচ্ছা পূরণ করেন। তার সাথে আরও রয়েছে মারু-মোরো এবং মোকোনা, যাদের ছাড়া হলিক অ্যানিমেটি অপূর্ণ রয়ে যেত।

এছাড়া হলিকে আরও দুজন ইমপর্ট্যান্ট ক্যারেক্টার রয়েছে, দৌমেকি শিজুকা এবং ওয়াতানুকির ক্রাশ হাসিখুশি এবং মিশুক হিমাওয়ারি কুনোগী। দৌমেকিকে বলা যায় ওয়াতানুকির বিপরীত; অ্যাভারেজ মানুষের আইডিয়াল অ্যানিমে ক্যারেক্টার। ওয়াতানুকিকে জ্বালানো তার অন্যতম প্রধান কাজ, কিন্তু তা তো ভাল বন্ধুত্বেরই একটা সাইন! তিনজনেই একে অন্যের বিপদে নিজের জীবন বিপন্ন করতে কখনো পিছপা হয়না।

হলিক অ্যানিমেটির সিজন ১ এর কাহিনী এপিসোডিক, দেখে মনে হতে পারে যে এই অ্যানিমেটার মূল থিম হল “ডেইলি লাইফ অফ ওয়াতানুকি অ্যান্ড ইউকো”। কোন একজন মানুষের উইশ এবং সেটার সাথে জড়িত ঘটনা বা দুর্ঘটনা একটা এপিসোডেই শেষ হয়ে যায়। এতে ঘটনাগুলো অনেক ইন্টারেস্টিং, কিন্তু অনেকের মনে হতে পারে, “when does the story actually kick off?” তাদের জন্য বলছি, এপিসোডিক ব্যাপারটা সিজন ১ এই শেষ। হলিকের দুনিয়ার সাথে সিজন ১ এ পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর সিজন ২ তে শুরু হয় ওয়াতানুকিকে ঘিরে সব টুইস্ট। এই সিজনে কাহিনীটা বেশ ডার্ক একটা মোড় নেয়, বেশ বড় একটা ধাক্কা ছিল সেটা আমার জন্য। সব ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্ট শুরু হয়, আর সেটার পরিণতি দেখা যায় এর ওভিএ, রৌ তে। ওয়াতানুকির ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আমার দেখা অন্যতম সেরা। দুই পর্বের ওভিএটি শুরু হয় একটি দুঃখের সংবাদ দিয়ে, আর শেষ হয় একটি আশার আলো দেখিয়ে।

হলিক অ্যানিমের দূটি স্ট্রং পয়েন্ট হল এর আর্ট এবং ওএসটি। ক্ল্যাম্পের ডিজাইন করা চিকন চিকন হাত পা দেখে অনেকেরই হয়ত অদ্ভুত লাগে, কিন্তু এই বৈশিষ্ট্যটির জন্যেই ক্ল্যাম্পের আর্ট আমার পছন্দ। সিজন ১ এর শুরুর দিকে আর্টে কিছুটা ঘাটতি ছিল, এটা অস্বীকার করব না, তবে প্রোডাকশন আইজি সেটাও পরে ঠিক করে নিয়েছে, সিজন ২ এবং ওভিএগুলোর আর্ট নিখুঁত; মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকার মত। আর ওএসটির যত প্রশংসা করা যায় কম হয়ে যায়, সুগা শিকাও এর পার্ফরম্যান্সে প্রতিটা ওপেনিং সুন্দর এবং সেইসাথে এন্ডিং গুলোও পাল্লা দিয়ে সুন্দর, এমনকি ওভিএগুলোর ওএসটিও একটাও স্কিপ করার মত না। প্রতিটা দৃশ্যের সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পারফেক্টভাবে মানিয়ে গিয়েছে, আর ওপেনিং এন্ডিং গুলোর সুর আর ভিজ্যুয়াল যে রহস্যময় ভাইবটা দেয়, এককথায় অসাধারণ!

আরেকটা কথা উল্লেখ করাটা এখানে আবশ্যক, তা হল সেইয়্যু কাস্ট, অর্থাৎ কণ্ঠশিল্পীদের অবদান। ওয়াতানুকি চরিত্রটিকে প্রাণ দিয়েছেন জুন ফুকুয়ামা; আমার দেখা তার সেরা চরিত্র এটি। প্রথম এপিসোডের শুরুতেই ওয়াতানুকি যখন আয়াকাশিদের হাত থেকে পালাতে থাকে, এই একটা সিনই কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ফুকুয়ামা সানের দক্ষতা প্রমাণ করে দেয়। চঞ্চল হাইস্কুল পড়ুয়া কিশোর এবং পরিণত যুবক; দুটি রূপকেই তিনি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়া ইউকো সান চরিত্রে ওহারা সায়াকা, দৌমেকি শিজুকা চরিত্রে নাকাই কাজুয়া, হিমাওয়ারি কুনোগী চরিত্রে ইতোও শিজুকা, মোকোনা চরিত্রে কিকুচি মিকা; সবাই চমৎকার কাজ করেছেন।

xxxHOLIC 3

হলিকের মাঙ্গাটি পুরোটা পড়া হয়নি, তবে যেটুকু পড়েছি, তাতে বলতে পারি, মাঙ্গাটি আর্ট ও স্টোরির দিক থেকে অনন্য। তবে একে প্রাণ দিয়েছে অ্যানিমেটি।

সবমিলিয়ে সাইকোলজিক্যাল, মিস্ট্রি এবং সুপারন্যাচারাল জনরার এই অ্যানিমেটি আমার জীবনে দেখা অন্যতম সেরা অ্যানিমেগুলোর একটি; হিওকার সাথে যদি কোন অ্যানিমেকে স্থান দেই, তবে সেটা হলিক। আপনারা যারা দেখবেন, তাদের জন্য একটি সাজেশন, সিজন ১ এ থেমে যাবেন না, কারণ সিজন ২ থেকে কাহিনী জমে উঠতে শুরু করে। এই সিরিয়ালে দেখবেন –
xxxHOLiC – ২৪ এপিসোড
xxxHOLiC Kei – ১৩ এপিসোড
xxxHOLiC Shunmuki – ২ এপিসোড
xxxHOLiC Rou – ২ এপিসোড

এছাড়া এটির একটি মুভি আছে, xxxHOLiC Movie: Manatsu no Yoru no Yume; এটি সিজন ১ দেখার পরই চাইলে দেখতে পারবেন। এখানেও কিছু টুইস্ট আছে, যার রিভিউ আমি “মুভি টাইম উইথ ইয়ামি” তে দিয়েছিলাম।