“নাইনটিন 19”
রিভিউ নয়,সামান্য আলোচনা….
আশির বা নব্বই এর দশকগুলোতে আনিমের ওভিএ এর সবচেয়ে উন্নতি হয়েছিলো এটা মোটামুটি সবাই জানে। এই দশক গুলোতে হোমভিডিও টেকনোলজির প্রচুর উন্নতিই এটাকে সম্ভব করেছিলো ।1978 এ লেজার ডিস্কের বাজারজাতকরন অথবা তারও পরে 1995 এর ডিভিডির আবিষ্কার , ওভিএ বুমের জন্ম দিয়েছিলো ।সাধারনত একটা সিএলভি লেজার ডিস্কে ষাঠ মিনিট আর একটা সিএভি লেজার ডিস্কে ত্রিশ মিনিটের ভিডিও ধরত (কিছু লেজার ডিস্ক আমার কালেকশনে ছিলো)।সেজন্যই সম্ভবত আশির দশকের শেষ আর নব্বই দশকের শুরুতে ওভিএগুলো চল্লিশ থেকে ষাঠ মিনিটেই সীমাবদ্ধ থাকতো, এখনও রীতিটা কিছুটা থেকে গেছে ।সাধারনত এইসময় আনিমের দর্শক পাল্টায় ,যেটা আগে সাধারনত ছোটদের এবং কিশোর কিশোরীদের মাধ্যম ছিলো সেটাতে এবার বড়রাও চোখ রাখতে শুরু করে ।সেইসময় অফিসফেরত রাতে কোন লেজার ডিস্ক ভাড়া করে চল্লিশ মিনিটের একটা ওভিএ দেখার লোকের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছিলো ।সেই সঙ্গে তাদের রুচির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন ম্যাচুয়র সাবজেক্ট দিয়ে ওভিএ বানানোও চলছিলো।
এই আশির দশকের শেষ আর নব্বই দশকের শুরুর দিকে কিছু ওভিএ আশির হলিউড পপুলার সিনেমা, সোপ ওপেরা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়,যেগুলোর আর্ট কোয়ালিটি এবং সেই সঙ্গে নতুন নতুন এনিমেশন আর গল্প বলার পদ্ধতির জুরি আজও তৈরি হয়নি ।সেইরকম একটা ওভিএ সঙ্গে পরিচিত হবো,এর ব্লু রে ভারসন বেরিয়েছে কীনা জানি না ,তবে বার না করাটা অন্যায় ।ওভিএ এর বিষয়বস্তু আলাদা হলেও স্টাইলটা ওয়াঙ-কার-উই এর মাস্টারপিস চ্যাঙকিং এক্সপ্রেসের সমতুল্য লেগেছে।
উনিশ বছরের “ভার্জিন”……..
ডিরেক্টর কোইচি চিগিরার (ভেনাস ওয়ার,টোকিও ব্যাবিলন) করা নাইনটিনের সমতুল্য কিছু এখন আছে কিনা জানি না,বিশেষ করে এখন মোয়ে আর হারেম শাসিত আনিমে জগতে ,যেখানে গল্প অথবা এনিমেশন বা ম্যাচুয়ারিটিকে অতিক্রম করে কিউটনেস ,আর তাই দেখে আনিমে ফ্যানরা ওয়াইফু খুঁজে রাতে পাশবালিশের মাজা ভাঙে ।
প্রথমেই বলা দরকার এটা রোমান্টিক জঁরের কাজ,স্কুলবয়- গার্ল টাইপের নয়,বরং এখানকার মূল চরিত্র কোবুটা ,স্কুল থেকে অনেক আগেই গ্রাজুয়েট হওয়া একজন তরুন,বয়স উনিশ ,একটা রেস্টোরেন্টে কাজ করে ।বয়স উনিশ হলেও সে এখনও কোন মেয়ের সঙ্গে সিরিয়াস রিলেশনে জড়ায়নি(সবাই ধরে নিয়েছে বেচারা ভার্জিন) ।সেটা নিয়ে তার যতটা চিন্তা ,তার চেয়েও তার দুই বন্ধু আর বসের চিন্তা আরও বেশি ।বন্ধুরা কোবুটার জন্য বান্ধবী ধরার চেষ্টা চালায় , কিন্তু বেচারা কোথাও পাত্তা পায় না ।একসময় একটা বারে দেখা পায় তার পুরোনো জুনিয়র স্কুলের বান্ধবী মাসানার সঙ্গে ,যে এখন একজন উঠতি মডেল ,সদ্য এসেছে টোকিওতে ।কোবুতা এবার তার সঙ্গে একটা রিলেশন তৈরির চেষ্টা করে,সফলও হয় ।প্রথমে হোটেলের রাত ,তারপর মাসানার ফ্লাট..রিলেশনটা অনেক দুর গড়ালেও মাসানার ফ্লার্টে এ তার প্রাক্তন বয়ফ্রেনডের সঙ্গে কোবুতার ছোট হাতাহাতি টাইপের ঘটনা গল্পটা অন্যদিকে মোড় নেয়,এরপর আর পাঁচ মিনিট বাকী থাকতে ওভিএটা শেষ হয়ে যায় ।ফলে গল্পের পরিনতিটা দর্শককে একটু চিন্তা এবং কল্পনা করে নিতে হবে ।ফলে ওভিএটা দর্শকের প্রথম থেকে মনোযোগ অবশ্যই দাবী করে।
এবং রাতের টোকিওর লাল নীল আলো আর গান……
এই ওভিএ এর সবচেয়ে বড়ো সম্পদ এর এনিমেশন পরিচালনা আর সাউন্ডট্রাক ।এনিমেশন এর মধ্যে 2:13-15 মিনিটে কোবুটার এক্সপ্রেশন,2:22 মিনিটে আরম্ভদৃশ্য,3:28 এ কোবুটার কল্পনা,4:44 মিনিটে পাবের ভেতরে আলো আর নাচের দৃশ্য ,সঙ্গে অবশ্যই সাউন্ডট্রাক,16:00 মিনিটে কুবোটা আর মাসানার দেখা , 26:37 মিনিটে সী বিচের দৃশ্য,29:27 মিনিটে এ ভোরের শহরের দৃশ্য,21:42 এবং 22:20 মিনিটে মাসানার এক্সপ্রেশন ,37:20 মিনিটে রাতে চেরি ব্লসমের গোলাপি বৃষ্টি …এইরকম ভাবে আপনিও অনেক নতুন দৃশ্য খুঁজতে পারবেন ।
রঙের ব্যাবহার,পরিচালকের দেখার এবং দেখানোর দৃষ্টিকোন অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য ।রঙের ব্যাবহার কে আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করা যাবে এর একটা ব্লু রে ট্রিটমেন্টের পর ।তবে সেটা সময়ের অপেক্ষা ।


