Fullmetal Alchemist Brotherhood (FMAB) ফ্যান ফিকশন #1 — Rahat Rubayet

——Fullmetal Alchemist brotherhood (FMAB) ফ্যান ফিকশন ——–
Part 1
———————————-
উইনরি রান্নার কাজে ব্যস্ত। বাচ্চাকে তাই এডওয়ার্ডই স্কুলড্রেস পড়িয়ে রেডি করছে। ঘাসপাতা রঙের ব্যাগে বইখাতাগুলো আগেই ভরে নিয়ে টেবিলের পাশে নামিয়ে রেখেছে। যদিও তাতে আরও একটা জিনিষ নেয়া বাকি। তাই ব্যাগের চেইনটা আটকায়নি এড। দেরি দেখে রান্নাঘরের উদ্দেশ্যে হাঁক ছাড়ে আরেকবার।
-‘উইনরি, আমরা বের হব’খন।
সস্প্যান আর বড় এক কাঠের চামচ হাতে ছুটতে থাকে উইনরি। টিফিন বক্সে খাবারটা পুরে দিয়েই ছুটে গেল হ্যাঙ্গারে ঝোলানো ওভারকোটটার দিকে। তারপর ওয়ারড্রব থেকে বাবুর গলার মাফলার। ঘরের একোন থেকে ওকোন- প্রজাপতির মতো উড়ছে যেন ও। বাবুর গলায় মাফলার জরিয়ে এসেই ওভারকোট টা নিয়ে এডের পিছনে গিয়ে দাঁড়ায়। এড হাত পিছনে বাড়িয়ে দিতেই তা গলে ওর গায়ে চড়িয়ে দেয় ওভারকোটটা।
তারপর গিয়ে দাঁড়াল এডের ঠিক সামনেই। শেলীকে বলে দিতে হল না। তার আগেই সে রূটিন মাফিক চোখ বন্ধ করেছে দু’হাত দিয়ে। উইনরি দাঁড়িয়ে থাকলেও মাথা নিচু করল না এড। এক কালে ওর হাইটের খোঁটা দেয়ার পূর্ণ শোধ তুলছে এখন ও। মুখ টিপে হাসছে সেই সাথে। কপট রাগে চোখ পাকায় উইনরি। একটু হেঁসে ওর ঠোঁটে ঠোঁট নামায় এডওয়ার্ড, তারপর সোজা হয়ে দাঁড়ায়। দেখল, ঝলমল করছে উইনরির চোখ। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে একটা গাঢ় শ্বাস ফেলে। নাহ, কোন অপ্রাপ্তি নেই আর ওর জীবনে অপ্রাপ্তির জায়গাটুকু পূরন করে দিয়েছে উইনরি। ওর জীবনের সবথেকে আনন্দময় মুহূর্তও ও-ই ওকে উপহার দিয়েছে। শেলিকে সেদিন প্রথমবার কোলে নিয়ে আনন্দে কেঁদেই ফেলেছিল এড।
জীবনে এর থেকে আর বেশি আর কিছু কি আশা করতে পারত ও? বোধ হয় না। প্রশান্তির একটা উপলব্ধি নিয়েই শেলির ব্যাগটা এক হাতে নিয়ে অন্য হাতটা বাড়িয়ে দেয়। ওদিকে তখনও ওর মা স্কুলে কিভাবে থাকবে তা নিয়ে ওকে ছোটখাট এক লেকচার দিয়ে চলেছে। লেকচার শেষ হতেই হাসিমুখে ওদের বিদায় জানায় দোরগোড়ায় গিয়ে। এক হাতে ওর বাবার তর্জনী মুঠো করে ধরে রেখে পিছনে ফিরে হাত নাড়তে থাকে শেলি। চোখমুখ ঝলমল করছে ওর, আনন্দে।
ওদের বিদায় দিয়ে হাতের কাজগুলো সেরে ফেলে।
তারপর রেডিও সেটটা নিয়ে এসে ঠাস করে বাড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলে। ভাঙ্গা টুকরোগুলো মেঝে থেকে কুড়িয়ে এনে নিজের সামনে জড়ো করল। তারপর হাত সামনে প্রসারিত করে মনযোগ কেন্দ্রিভূত করল রেডিওর অবশিষ্টাংশের ওপর। ট্রান্সমিউটেশান সার্কেল তার আগেই একেছে মেঝের ওপর। উইনরি এডের কাছে থেজে এল্কেমি শিখলেও কখনও ইলেকট্রিক কোন যন্ত্রে এল্কেমি প্রয়োগ করে নি এর আগে। একটু নার্ভাস থাকলেও ভালভাবেই রেডিওটা তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে নিয়ে গেল।
ঝকঝকে রেডিওটা নিয়ে চেরেচেরে দেখলো। খুশিতে ভরে গেছে মনটা। প্রথম চেষ্টায়ই পেরেছে ও। ঝকঝকে টেবিলটার ওপর নামিয়ে রেখে পুরো ঘরটার দিকে তাকায় একবার। কোথাও কোন আসবাবে ময়লা কিছু চোখে পড়ছে কি না,… না। সবকিছুই নতুনের মতো লাগছে। প্রতিটা জিনিষপত্রই ও মাসে অন্তত একবার করে হলেও ট্রান্সমিউট করিয়ে নতুনের মতন করবে।
মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার ওদের উইনরির মা গত হয়েছেন আজ প্রায় আড়াই বছর। ওদিকে আলফন্সও বিয়ে থা করে অন্য শহরে ঘর বেধেছে। ওদের ঘর আলো করেও ফুটফুটে একটা বাবু এসেছে। ওরাও সুখে শান্তিতে আছে। মাসে অন্তত একবার বেড়াতে আসে ওরা। সেই সময়টা অসম্ভব আনন্দে কাটে ওদের। হাসি ঠাট্টা আর গল্পে মশগুল হলেও ওরা প্রত্যেকেই উপলব্ধি করতে পারে কত অদ্ভুত শান্তি আর ভারসাম্য বিরাজ করছে ওদের ফ্যামিলিতে।
এসব ভাবতে ভাবতেই এডের কথা ভাবতে শুরু করে উইনরি। মানুষটাকে কি ও সুখী করতে পেরেছে? ওর এল্কেমি হারানোর পর উইনরি নিজে কিছুটা শঙ্কিত ছিল। যে এল্কেমির পিছনে এত এত পড়াশুনা আর পরিশ্রম করেছে তা বিসর্জন দিয়ে ওর লাইফ কতটা এফেক্টেড হবে?
তবে উইনরি নিজের কাছে করা প্রমিজ রেখেছে। এডকে এ নিয়ে বিন্দুমাত্র আফসোস করবার অবকাশ ও দেয় নি। ওকে ঘিরে গড়ে তুলেছে দু’জনের ছবির মতন সুন্দর একটা সংসার। শুরুর দিকে মাঝে মাঝেই দেখতে পেত এড পুরোনো বইপত্র খুলে বসে আছে। শেষে তাই ওর ক্ষতে প্রলেপ লাগাবার জন্যেই এদের কাছে এল্কেমি পড়া ও শেখা শুরু করে ও। প্রবল উৎসাহে ওকে শেখাতে শুরু করে এড।
ওর উৎসাহ দেখে ধীরে ধীরে এল্কেমি শিখতে থাকে উইনরি। এখন ওর নিজেরও ভালোই লাগে। এক ধরণের মজার খেলা যেন। এসব চিন্তা করতে করতেই বাইরের থেকে কাপড়গুলো নিয়ে আসতে থাকে ও। আজ শীত একটু মনে হচ্ছে। খেয়াল করল, বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতন কুয়াশা পড়ছে । কিছুক্ষনের জন্যে থমকে দাড়াল যেন। লোপ পেল ওর সময় জ্ঞান। হটাত ঘোর ভাংলো। সম্বিৎ ফিরে পেল শেলির ডাকে। পেভমেন্ট ধরে ছুটে আসছে ও। স্কুল ছুটি হতেই এডওয়ার্ড ওকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আবার ওর কাজে চলে গেছে।
শেলিকে নিয়ে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে জিগ্যেস করতে থাকে আজ স্কুলে কি কি ঘটল- ক্লাস শুরুর আগেই বা কি কি মজা করল- কে কে পড়া শিখে আসে নি বলে স্যরের বকুনি খেয়েছে, সব গড়গড় করে বলে যায় ও। হাসিমুখে সব শুনতে শুনতেই সাথে কথা জোগাতে থাকে উইনরি। কিন্তু থেকে থেকেই কি যেন খোচাতে থাকে ওর মনে। কি যে-তা ঠিক ধরতে পারে না ও। কিন্তু সারাদিন আর কোন কাজে মন দিতে পারল না।
ওর মা মারা যাবার আগেও এমন অনুভূতি হয়েছিল ওর থেকে থেকে।
জোর করে মাথা থেকে চিন্তাটা ঠেলে দূরে সরিয়ে দিতে চাইল। কিন্তু থেকে থেকে কি এক অমঙ্গলের আশঙ্কা যেন ওকে তাড়া করতে থাকে। সেদিন রাতেও ভাল ঘুম হয় না ওর। এডওয়ার্ডের নজর এড়ায় নি উইনরির অস্থিরতা। কিন্তু, পরিষ্কার করে কিছুই জানতে পারেনি ও। তবে, ওর মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম এনে দেয়। ঠিক যেমন করে ঘুম পাড়িয়ে দেয় ছোট্ট শেলিকে।
সেদিন রাতে ঘুমের ভেতর এক ভয়ঙ্কর বিষণ্ণ এক দুঃস্বপ্ন দেখে ও। উইনরি দেখে চারিদিকে কোথাও কিছু নেই, ও একা একা এক বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে পা মেলে বসে আছে। ডুবে যাবার কথা থাকলেও ও ডুবে যাচ্ছে না। হটাত, একটু দূরেই ঝপ করে কিছু একটা শব্দ হতেই অবাক হয়ে লক্ষ্য করল শেলি পানিতে ছটফট করছে আর ডাকছে, মাম্মি মাম্মি বলে। উইনরি কাছে যেতে পারে না, তার আগেই ডুবে যেতে থাকে ও। এ অবস্থায় ঘুম ভাঙ্গে ওর। ঘুম ভেঙ্গে দেখে জামা পুরোটাই ঘামে ভিজে জবজব করছে। দ্রুত চশমা গলিয়ে ডিম লাইটের আবছা আলোয় শেলির খোঁজে তাকাতেই দেখল, এড্‌কে জড়িয়ে ধরে ঘুমুচ্ছে শেলি।
———————-
(বিঃদ্রঃ মূল কাহিনীতে এডওয়ার্ডের ১ টি ছেলে ও ১টি মেয়ে দেখানো হয়। আমি আমার গল্পের প্রয়োজনে সেখানে ১ টি মেয়ে দেখিয়েছি।)

Comments

comments