
Alchemy, পদার্থের গঠন বোঝার, ভেঙ্গে ফেলার এবং নতুন করে ভিন্ন কিছু গড়ার বিজ্ঞান। বেশ ছোটবেলা থেকেই এই রহস্যময় বিজ্ঞানে পারদর্শী হয়ে উঠেছিলো দুই ভাই, এডওয়ার্ড এলরিক (বয়স-১১) এবং এলফনস এলরিক (বয়স-১০). ছোটবেলায় বাবা তাদেরকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো, আর এখন জটিল কোন এক রোগে ভুগে মা মারা গেলো……
দুই ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রতিজ্ঞা করলো, যে কোনভাবেই হোক, মা-কে মৃত্যুর ওপার থেকে হলেও ফিরিয়ে আনতে হবে। শুরু হলো আলকেমির মাধ্যমে তাদের কঠিন সাধনা। কিন্তু বিধি বাম, বিক্রিয়া শুরু করার পর একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল। মা ফিরে আসা তো দূরের কথা, বড় ভাইয়ের বাম পা আর ছোট ভাইয়ের পুরো শরীরটাই চলে গেলো ওপারে। নিজের ডান হাত বিসর্জন দিয়ে হলেও ছোটা ভাইয়ের আত্মাটা একটা বর্মের সাথে এটাচ করে ধরে রাখলো এডওয়ার্ড……

বিধ্বস্ত, পরাজিত, মেটাল হাত-পা লাগানো এডওয়ার্ড; কিন্তু চোখে আগুন। রক্ত-মাংসের শরীরবিহীন ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে শপথ নিলো সে- যে করেই হোক, নিজেদের আসল শরীর ফেরত পেতে হবে। এই প্রতিজ্ঞায় যাত্রা শুরু করলো দুই ভাই……

শরীর হারানোর কয়েক দিন পর Roy Mustang নামে এক স্টেট আলকেমিস্ট ওদের বাড়িতে আসে এবং এডওয়ার্ড-কে স্টেট আলকেমিস্ট হিসেবে মিলিটারিতে জয়েন করতে পরামর্শ দেয়, যেন সে নিজের এবং এল-এর আসল শরীর ফিরে পাবার উপায় খুঁজে পায়। স্টেট আলকেমিস্ট হচ্ছে Military Certified Alchemist, যারা দেশের বিভিন্ন মিলিটারি ইমার্জেন্সিতে তাদের আলকেমি-কে কাজে লাগাতে বাধ্য। বিনিময়ে তারা রাষ্ট্রের সকল লাইব্রেরি, গবেষণাগারে যাওয়ার অনুমতি পেয়ে যায়। কঠিন পরীক্ষায় উতরে যায় এডওয়ার্ড, রাষ্ট্রের সবচাইতে কমবয়সী স্টেট আলকেমিস্ট হিসেবে মিলিটারিতে যোগ দেয় সে, এবং ধারণ করে তার নতুন উপাধি, ফুলমেটাল আলকেমিস্ট !!
দুই ভাই জানতো, থিওরেটিক্যালি একটা উপায় আছে যার মাধ্যমে ওরা নিজেদের শরীর ফেরত পেতে পারে, ফিলোসফার স্টোন। কিন্তু এটা কি আসলেই বাস্তবে আছে কোথাও? নাকি এটা কেবলই একটা কিংবদন্তী? যাত্রার শুরু এখানে…………… কোথায় যে গিয়ে ঠেকবে, নিঃসন্দেহে কল্পনার বাইরে !!
About the Second Season : FULLMETAL ALCHEMIST BROTHERHOOD
দুটো সিজন আছে এটার। প্রথমটা Fullmetal Alchemist (৫১ পর্ব), দ্বিতীয়টা Fullmetal Alchemist Brotherhood (৬৪ পর্ব). দুটোই একই জায়গা থেকে শুরু হয়, তাই সেকেন্ড সিজনের প্রথম দিকে একটু হোঁচট খেতে পারেন। কিন্তু এগিয়ে যান, ১৪তম পর্বেই কাহিনীর মোড় ঘুরে যাবে, একেবারে ভিন্নভাবে শেষ হবে কাহিনী।

ব্যাপারটা হচ্ছে এমন- এই এনিমে বানানো হয়েছে manga (comics) থেকে। অরিজিনাল লেখিকা Hiromu arakwa যখন চল্লিশটি চ্যাপ্টার লিখেছে, তখন এক এনিমে কোম্পানি ওকে অফার করলো এটা থেকে এনিমে বানানো যায় কিনা। তখন আরাকাওয়া বললো যা তার লেখা এখনো অনেক বাকি, অবশ্য ইচ্ছা করলে ওরা এই চল্লিশ চ্যাপ্টার নিয়ে বাকিটা নিজেরা লিখে বানাতে পারে, কিন্তু সে তার নিজস্ব লেখা চালিয়ে যাবে। এভাবেই প্রথমটা বানানো হলো।
কিন্তু অরিজিনাল রাইটার এর মাথায় যা ছিলো, সেটা যখন বের হলো, তখন দেখা গেলো যে এটা আরো বেশি ভালো এবং এটা নিয়ে আরেকটা এনিমে বানানো যায়। আরাকাওয়া মোট ১০৮ চ্যাপ্টার লিখেছিলো, তার সময় লেগেছিলো সর্বমোট নয় বছর, প্রতিমাসে একটা চ্যাপ্টার। ফার্স্ট সিজনে যদি ৫১টা পর্ব থাকে, তাহলে ব্রাদারহুডে ৫১টা নতুন পর্ব আছে (প্রথম ১৩ টার পর)……
আমার কাছে (এবং এ পর্যন্ত যাকেই দেখিয়েছি, তাদের সবার কাছেই) “ব্রাদারহুড” মাত্রাতিরিক্ত রকম জোস লেগেছে। সেকেন্ড সিজনটা আমার জীবনের দেখা ONE OF THE BEST THINGS. ফ্যামিলিয়ার হওয়ার কারণে প্রথম ১৩টা পর্ব দেখতে দেখতে একটু দ্বিধা লাগলেও ১৪তম পর্ব থেকেই মাথার চুল ছিঁড়বেন উত্তেজনায়।
প্রতিটা চরিত্রের একটা আলাদা tone আছে। সেকেন্ড সিজনের সব কয়টা চরিত্রই মূল্যবান (জাস্ট আসলো আর গেলো, এমনটা নয়), তবে আমার পার্সোনাল ফেভারিট হচ্ছে ROY MUSTANG. He has the most powerful Alchemy (Flame Alchemy), and oh my god, WHAT A BRAIN !! Brainy is definitely the new sexy. আক্ষরিক অর্থেই তুড়ি মেরে সমস্যা সমাধান করার সামর্থ্য আর কার আছে, শুনি?

অসাধারণ গল্প, অতিরিক্ত ভালো screenplay, amazing background music (মিউজিক এর জন্য আমি আকিরা সেনজু-এর ভক্ত হয়ে গেছি)- প্রশংসা করতে গেলে শেষ হবেনা……… সব মিলিয়ে এক কথায় বলতে গেলে, এটাই আমার দেখা সবচেয়ে বেস্ট এন্টারটেইনমেন্ট। কোনো সিনেমা, কোনো গান, কোনো বই পড়ে এখন পর্যন্ত এতো নিখুঁত এন্টারটেইনমেন্ট আমি পাইনি। If you are not entertained, it’s a money and time back guarantee.
