Mind Game review by Fahim Bin Selim

মাইন্ড গেম[Mind Game](২০০৪)
অ্যানিমে ফিল্ম
১ ঘন্টা ৪৪ মিনিট
জনরাঃ অ্যাডভেঞ্চার, কমেডি, রোমান্স, সাইকোলজিক্যাল, দেমেন্তিয়া
মূল(মাঙ্গা): রবিন নিশিকি
প্রযোজকঃ স্টুডিও ফোর সি
পরিচালকঃ মাসাকি ইউয়াসা

ছোটবেলা থেকেই নিশি মিয়নকে পছন্দ করে। আর এখন এই ২০ বছরের জীবনে তার স্বপ্ন দুটো – নামকরা মাঙ্গাকা হওয়া আর মিয়নের ভালোবাসা পাওয়া করা।
কিন্তু সমস্যাও দুটো – বড়, নামকরা মাঙ্গাকা হওয়ার পথটা অনেক বন্ধুর; পদে পদে মুখ থুবড়ে পরা। আর এক বর্ষাস্নাত সন্ধ্যায় ছোটবেলার ভালোবাসা মিয়নের সাথে দেখা হওয়ার পর যখন সে অবশেষে তার অস্ফুট ভালো লাগার কথা ব্যক্ত করল, তখন জানতে পারল যে মিয়ন ইতিমধ্যেই আরেকজনের বাগদত্তা! ব্যার্থতা আর গ্লানিতে অভিভূত নিশির রাতটা এখানে শেষ হলেও চলত।
মিয়নদের ইয়াকিতোরি রেস্টুরেন্টে যাওয়ার পর ঘটনাচক্রে সে মুখোমুখি হয়ে গেল দুই ইয়াকুজার সাথে।
তারপর “কামিসামা”-র সাথে।
আর এক বৃদ্ধ লোকের সাথে। এমন এক জায়গায় যেখানে সাধারনত বৃদ্ধ লোকেরা থাকে না। কোন মানুষই থাকে না…

“হার মেনো না; বাঁচো!” – এটা হল মাইন্ড গেমের উপজীব্য। খুবই পরিচিত লাগছে? পরিচিত লাগারই কথা। সেই আশির দশকের ফ্রিজার সামনে দাঁড়ানো গোকু আর হালের পেইনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নারুতো; আর মাঝখানে শ’খানেক গতানুগতিক অ্যানিমে হার না মানার জয়গান গেয়ে গেছে; আর জীবলীর ফিল্মগুলো জীবনের সৌন্দর্য দেখিয়েছে বারবার। কিন্তু মাইন্ড গেম আর যাই হোক গতানুগতিক না। ধারেকাছেও না। বরং যদি আপনি “এঞ্জেল’স এগ” বা “তেক্কোন কিনক্রেট” দেখে না থাকেন, তাহলে বলতে হবে এর মত অ-গতানুগতিক, ভিন্নধারার ফিচার লেংথ অ্যানিমে ফিল্ম হয়তো আপনি দেখেননি।

মাইন্ড গেম হয়তো জীবন পাঠ শেখাবে;সূক্ষ্ণভাবে। আর তার মূল কাহিনীর আবহ ডার্ক। কিন্তু এটা আর যাই হোক কোন গুরু-গম্ভীর ফিল্ম না। বরং ইতিমধ্যেই যদি তাতামি গ্যালাক্সিতে ইউয়াসার ডার্ক হিউমারের সাথে পরিচিত হয়ে থাকেন, তবে জানুন এক দশক আগেও তার রসাত্ববোধ কোন অংশে কম ছিল না। এই মুভিতে মানুষ মারা যাবে, ইয়াকুজাদের তাড়া খাবে আর নিগির্ণ হবে বড় এক তিমি দ্বারা – কিন্তু আগাগোড়া এর কৌতুকাবহ বজায় থাকবে। সবসময়।

আর এই উদ্ভট, অ-সাধারন অ্যানিমের সাথে ইউয়াসার উদ্ভট, অ-সা্ধারন আর্টস্টাইল যেন নিঁখুত সামঞ্জস্যতাপূর্ণ। ইউয়াসার পরিচালনার প্রথম অ্যানিমে। আর সময়ে সময়ে সেই আর্টস্টাইলও বদলাবে; নন-অ্যান্থোলজিক্যাল অ্যানিমে বা স্পেস ড্যান্ডির মত ব্যতীক্রম বাদে যা কল্পনাও করা যায় না; তাও আবার একটি নির্দিষ্ট কাহিনী নিয়ে গড়ে ওঠা ফিচার লেংথ ফিল্মে! স্টূডিও ফোর ডিগ্রি সেলসিয়াসের জগতে স্বাগতম!

মাইন্ড গেম শুরু হবে জমকালো ভাবে আর শেষ হবে – সম্ভবত অ্যানিমে ফিল্মের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তগরম আর অ্যাড্রেনালিন তুঙ্গস্পর্শী করা – এক ফিনালে দিয়ে। আর এর মাঝখান সময়টা জুড়ে এক ভূতূড়ে জগৎ। হয়তো কিছুটা ধীর গতির। আর লাইভ-অ্যাকশন ছাড়িয়ে অ্যানিমেশনে সিনেমাটোগ্রাফির অসাধারনত্ব আর বাক্স ভরা সৃজনশীলতায় পূর্ণ।
এড আর অ্যালের ট্রুথের সাথে দেখা হওয়ার দৃশ্য দেখেছেন – এখানে দেখবেন খুব আলাদা, কৌতুকপ্রদ আর চিন্তাদ্দীপক এক সাক্ষাত, ‘দ্য ওয়ান’-এর সাথে। অনেক “ভালোবাসা”-‘র দৃশ্য দেখেছেন, আদিমতার – আর এখানে তার উপস্থাপনা সৌন্দর্য, শৌল্পিকতার।

মাইন্ড গেম সবার ভালো লাগার মত জিনিস না। ইউয়াসা সবার ভালো লাগার মত জিনিস না। আর তাই তার অন্যান্য সব কাজের মতই মুক্তির ১০ বছর পরও এটার কোন ডাব বের হয়নি। বিগত দশকের অন্যতম প্রভাব রাখা অ্যানিমে ফিল্ম হওয়ার পরও, অন্যতম শ্রেষ্ট ডেব্যু ফিল্ম হওয়ার পরও। মাইন্ড গেম – তার নামের যথার্থতা পুরণে অবশ্য আপনার মাথার সাথে কোন জটিল দাবা খেলায় নেমে পরবে না; মাইন্ড গেমের কাহিনী জটিলতা নিয়ে না। বরং মাইন্ড গেম জীবন নামক খেলার গল্প, বেঁচে থাকার গল্প – স্বপ্ন ভাঙা, ভালোবাসা হারানো, ইয়াকুজাদের হাতে পরা…মরে যাওয়া এবং তারপরও বেঁচে থাকার গল্প।

সম্মাননাঃ
* ওফুজি নোবুরো অ্যাওয়ার্ড – মানচিনি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড
* গ্র্যান্ড প্রাইজ – জাপান মিডিয়া আর্টস ফেস্টিভাল (হাউল’স মুভিং ক্যাসলকে হারিয়ে)
* সেরা ফিল্ম, সেরা পরিচালক, সেরা স্ক্রিপ্ট (জ্জুরি) – ফ্যান্টাসিয়া ফিল্ম ফেস্টিভাল ২০০৫, কানাডা
* সেরা ফিল্ম, সেরা গ্রাউন্ডব্রেকিং ফিল্ম (অডিয়েন্স) – ফ্যান্টাসিয়া ফিল্ম ফেস্টিভাল ২০০৫, কানাডা

রেটিংঃ
মাইঅ্যানিমেলিস্টঃ ৭.৯৫
রটেন টমেটোসঃ ৯৪% ফ্রেশ
আমার রেটিংঃ ৮২/১০০

‪#‎ইউয়াসা‬

Comments

comments