Monster [রিভিউ] — Ripon W. Mahmud

Monster

Monster: Not just some artwork. A huge suspenseful creation of drama and thrill combined with uncertainty.

ছোটবেলায় রূপকথার গল্পের বইয়ে নানা রকম দৈত্য দানবের কথা পড়ে আমরা বড় হয়েছি। না খেতে চাইলে, কোন কথা না শুনলে আমাদেরকে দৈত্য দানোর ভয় দেখানো হত। বেসিক হিউম্যান ইন্সটিংক্ট আমাদেরকে ছোটকালেই সাবধান করে দিয়ে অনুগত ভদ্রটি হতে বাধ্য করতো। কেন? কী এই দৈত্য দানব?

বড় হয়ে জানলাম আসলে এগুলো সব ভুয়া ছিলো। দৈত্য দানব বলতে আমাদেরকে যে ইমেজারি চিন্তা ভাবনায় ফেলা হতো তা এক্সিস্ট করেনা। শৈশবের দানো গেল। এবার ম্যাচুরড কংক্রিট রিয়েলিটিতেও আমাদের ভয় পেতে হয়। সেই দৈত্য দানবের ভয় আবার ফিরে আসে। কীভাবে? এই দৈত্য দানবের বড় বড় শিং বা চোখা ছুরির মত দাঁত নেই। তারা মানুষের মতই হাত পা নাক চোখ কান নিয়ে আমাদের চারপাশেই বসবাস করে। কিন্তু তাদের ধ্বংসাত্মক চিন্তাভাবনা ও কার্যকলাপের কারণে কখনও কখনও দানবের পর্যায়ে তাদের ফেলা যায়।

Monster অ্যানিমে নিয়ে লেখার ইচ্ছে হল। চাইলে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু তা না করে যারা এখনও দেখেনি তাদের জন্যে কীভাবে গুছিয়ে বলে দেয়া যায় তার চেষ্টাই করব। এই সিরিজটা অনেকগুলো টুকরো টুকরো ইভেন্ট ও আইডিয়োলজির মিশেল। যেখানে কেন্দ্রে বসে থাকা নামহীন এক দানবের গল্প আমাদেরকে নিশ্চিতভাবেই পুরো ৭৪টা পর্ব দেখতে বাধ্য করবে।

অ্যানিমেটা দেখতে দেখতে ডার্ক নাইট ট্রিলজিতে আলফ্রেড পেনিওয়ার্থের একটা কথা মনে পড়ে গিয়েছিলো। Some men just want to watch the whole world burn. তাদের কোন কারণ লাগেনা, কোন উদ্দেশ্য লাগেনা অ্যানার্কি সৃষ্টি করতে। তবে শেষবেলায় কাইবুতসু ইয়োহান লিবের্তের উদ্দেশ্যটা একটুখানি ভিন্ন লাগে বৈকি। সাইকোলজিক্যাল ড্রামার এক চমৎকার এক্সাম্পল এই অ্যানিমে।

অ্যানিমেটার টাইমলাইন একটু বেশিই গভীর। কোল্ড ওয়ার রেফারেন্স, ঐসময়কার ব্ল্যাক ভার্সাস হোয়াইট ওয়ার/রেসিজম, বার্লিন ওয়াল ও দুই জার্মানির প্লট রিলেশনগুলো বুঝতে গেলে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। কে, কেন, কোথায়, কীভাবে, কখন এই টার্মগুলো মাথায় রেখে বুঝে বুঝে এগোলে সিরিজটার পুরোটা নেয়া সম্ভব। কিন্তু আমি মাঝে মাঝেই ইন্ট্রা-পারসন ইন্সিডেন্ট, প্লেস, টাইম আর অব্জেক্টিভিটির খেই হারিয়েছি ব্যস্ততার জন্য বা একটানা না দেখার কারণে। একটানা এবং এর মাঝে অন্য কিছু না দেখে শুধু কেনজো তেনমা, ইয়োহান লিবের্ত, নিনা ফোর্তোনার, ইন্সপেক্টর লুঙ্গের সাথে বুঝে বুঝে এগোলে ভাল হয়। এরা তাদের মাথার ভেতরে কোথায় কী হচ্ছে কেন হচ্ছে কী হতে পারে সে বিষয়ে সম্যক ধারণা দিয়ে দিয়ে নিয়ে যাবে মন্সটারের গভীর থেকে গভীরে।

মিনিট ডিটেইল যাকে বলে এই অ্যানিমে সিরিজ তার ষোল আনাই তুলে ধরেছে। কোথাও এতটুকু ঢিলেঢালা ভাব নেই। সাইকোলজিক্যাল ড্রামার যে পরিবেশ তার অলমোস্ট শতভাগ, প্লট টুইস্ট আর চেঞ্জিং এর গতিটা বজায় রেখে মাঝেমাঝে মাথা খারাপ করে দেবার জোগাড় করে দেবে এই অ্যানিমে। কেন? যখন দেখা যাবে যে চারপাশে এক দানবের অঙ্গুলি হেলনে কেবল অনাসৃষ্টিই হচ্ছে! কিন্তু কি তার উদ্দেশ্য, কী তার আদর্শ, কেন সে পর্দার আড়ালে থেকে সব করে যাচ্ছে এমন শত প্রশ্ন মাথার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

যখন কোন একটা ক্রিয়েশন মাঝপথে অসম্ভব ভালো লাগার পরিবেশ তৈরি করে তখনই একটা সন্দেহ জাগে যে এর সমাপ্তি বা এন্ডিং কেমন হবে। অ্যাপ্রোপ্রিয়েট হবেতো? শেষে আবার কেলো করে দেবেনাতো? না। এন্ডিং ভালোই। ইনসেপশনে নোলান যেমন শেষে একটা ধাঁধা লাগিয়ে শেষ করেছেন, এই অ্যানিমেও অনেকটা সে রাস্তায়ই হেঁটেছে। তবে ভাল একটা ড্রামা থ্রিলারের বৈশিষ্ট্য হল ভিউয়ার যেন আগে থেকে অনুমান করতে না পারে যে কী হবে। ধাক্কাটা খায় সেভাবেই প্রি কন্সেপশনকে বুড়ো আঙুল দেখানো সিরিজ এটা। ইয়োহান লিবের্তের অত মায়ামাখা মুখ দেখেও অত আইডিয়া করে নেবার কিছু নেই। গুরু উচিহা ইতাচি বলে গেছেন – Do not judge others simply by their preconceptions, and judgement based on their appearance.

ম্যাচুরড এবং খুব অ্যাট্রাক্টিভ একটা সিরিজ। যার কয়েকটা রোল নিয়ে রীতিমত কিছুদিন ভাবা যায়। চিন্তা করা যায়। অনেক দেরি করে দেখার জন্য আফসোস নেই তবে আরেকবার নোটখাতা হাতে নিয়ে দেখার ইচ্ছে আছে। এই সিরিজটা নিয়ে বিবিসি বা নেটফ্লিক্স কিছু একটা করলে ভাল হত। ড. তেনমা আর ইয়োহান লিবের্তের দ্বৈরথটা অন্যভাবে দেখতে পেতাম।

Comments

comments