Naruto Fan Fiction: ৪র্থ হোকাগে: সাকুমো হাতাকে — Rahat Rubayet

———–Naruto Fan Fiction——
———-৪র্থ হোকাগে: সাকুমো হাতাকে———

বোরুটো আজ তার প্রথম মিশন শেষ করেছে। সেই উপলক্ষে আজ পারিবারিক ভোজের আয়োজন করেছে মিনাটো। ফ্যামিলির সবাই বলতে, মিনা-কুশি, নারুটো, বরুটো, হিনাটা আর হিমাওয়ারি ছাড়াও আরেকজন রয়েছেন খাবার টেবিলে। মাউন্ট ওবুকুর সেইজ জিরাইয়া। এরো সেন্নিন বলেই যাকে চিনি আমরা। হাসি-ঠাট্টা আর খোশগল্পে পুরোটা সময় মাতিয়ে রাখলো সবাইকে। মাত্র সাত বছর বয়সেই অন্য গ্রামের ৫ জন জোউনিন শিনোবির হাত থেকে কিভাবে মিনাটো একা কুশিনাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে সে গল্প করতেই কুশিনা লজ্জায় লাল হয়ে যেতে থাকে। আড় চোখে একবার মিনাটোর দিকে তাকাল নারুটো আর বোরুটো দু’জনে। অপ্রভিত হাসি হাসছে মিনাটো।
নারুটো বলতে থাকে, “বাবা, তুমি কি তখন থেকেই মাকে ফলো করতে? না হলে জানলে কিভাবে যে…”
উত্তরে কিছু না বলে তার ভুবনভোলানো হাসি দিয়ে উদ্ধার পাবার চেষ্টা করে মিনাটো। জিরাইয়া সেন্সেই শেষমেশ উদ্ধার করলেন ওকে। এবার বলতে শুরু করলেন, কিভাবে নারুটো ওরোচিমারুকে ঘোল খাইয়ে ছেড়েছিল সে বর্ণনা। এসব শুনতে শুনতেই বোরুটো মনে মনে ভাবতে থাকে তার বাবা আর দাদা দু’জনেই কত বড় মাপের শিনোবি। ও জানে, নাইন টেইল সমেত মাদারা উচিহাকেও হারিয়েছে মিনাটো আর নারুটো মিলে। তাও আজ থেকে ১৫ বছর আগের কথা। এসব কথা ভাবতে ভাবতেই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে ও, “i will surpass both of you, Grandpa, Papa”
খাওয়া দাওয়া শেষ হতেই হিনাটা আর কুশিনা থালাগুলো রান্নাঘরে নিয়ে যেতে থাকে। বাকি সবাই তখনো খাবার টেবিলেই আড্ডায় মেতে আছে। প্রায় বিকেল পর্যন্ত চলল আড্ডা।
এর পর নেজী এসে বোরুটো আর হিমাওয়ারিকে নিয়ে মেলা দেখতে বেরুলো। বোরুটোর হাতটা এক হাতে ধরে হিমাওয়ারিকে কাধে নিয়ে হাটছে ও। একগাল হাসি আর নীলরঙা চোখে তাকিয়ে মেলার রঙবেরঙের জিনিষ দেখছে বোরুটো। হটাতই, দাঁড়িয়ে পরে নেজি। একপাশে সরে গিয়ে একটা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“কি খবর, সাতোশি? মিশন শেষ করে ফিরলে কবে?”
বোরুটো বড় বড় চোখে সাতোশির দিকে তাকিয়ে থাকে। বয়সে বোরুটোর থেকে মাস দুয়েকের বড় সাতোশি। কিন্তু, এরই মাঝে চুনিন হয়ে গেছে। শুধু তাই না। চারিদিকে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে, রিসেন্ট পারফরমান্স বিবেচনায় এনে তাকে আরেক ধাপ প্রোমোশন দেয়া হবে। ভাবা যায়? বোরুটো যেখানে কেবল নিনজা একাডেমী থেকে গেনিন হয়ে বের হল, ওর বয়সেই জৌনিন হতে চলেছে সাতোশি। অবশ্য ওর দাদা সাকুমো হাতাকে গ্রামের ৪র্থ হোকাগে। সেক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা নিশ্চয়ই ও পায়, ভাবতে থাকে বোরুটো।
হিমাওয়ারি আর বোরুটোর সাথে কুশল বিনিময় শেষে নিজের ছেলেকে নিয়ে লাইব্রেরির দিকে এগোয় কাকাশি। কথা ছিল, চুনিন এক্সামের মার্কে কাকাশিকে(কাকাশির নিজের চুনিন এক্সামের মার্ক) পেছনে ফেলতে পারলে, ছেলে সাতোশিকে জিরাইয়া সেন্সের নতুন বই কিনে দেবে ও। সাতোশি চুনিন এক্সামের ইতিহাসে রেকর্ড মার্ক তুলে পেছনে ফেলেছে কাকাশিকে। এখন চুনিন এক্সামের ইতিহাসের ২য় সেরা স্কোরধারি সে। ১ম স্থান যৌথভাবে মিনাটো আর ইটাচির দখলে।
ওয়েল, সাতোশির কাছে জিরাইয়া সেন্সের ‘মেক আউট ট্যাক্টিক্স’ এর শেষ খন্ড বিক্রি করবে না লাইব্রেরিয়ান। তাই, কাকাশিই কিনে দেয় বাধ্য হয়ে।
দ্রুত পা চালায় কাকাশি। রাতে সপরিবারে রিন-অবিতোর বাসায় দাওয়াত আছে ওর ।
—-
হোকাগে অফিস। সাকুমো হাতাকে অফিসের জানালা ধরে দাড়িয়ে আছেন। ধূসর চোখে বাইরের শান্ত পরিবেশ দেখছেন। বয়সের সাথে সাথে মন্থর হয়ে আসছে তার শরীরও। কিছুদিন পর হয়তো মস্তিষ্কেও দানা বাধবে স্থবিরতা-ভাবতে লাগলেন তিনি। তার আগেই সবকিছু গুছিয়ে নিতে হবে। তারপর এই চেয়ারে কাউকে বসিয়ে দিয়ে অবসর নেবেন তিনি। লর্ড থার্ড অবসর নেবার পর প্রায় ২৫ বছর গ্রামে শান্তি বজায় রেখেছেন। একের পর এক উদ্ভট সমস্যার জট খুলে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর মধ্যেও সাম্যাবস্থা বজায় রেখেছেন। যেকোন গ্রামের যেকোন বিপদেই পাশে দাড়িয়েছেন। এই তো সেদিনও হিডেন রেইন ভিলেইজ আক্রমণ করে বসে আকাটসুকিরা। সঙ্গে সঙ্গেই তিনজনের একটা ফুলস্কেল ব্যাটেল টিম পাঠিয়ে দিলেন-যদিও তা হিডেন লিফের জন্যে মোটেই মাথা ব্যাথার কারন ছিল না। তবুও, গ্রামগুলোয় শান্তি বজায় রাখতে যে কোন মূল্য দিতে প্রস্তুত তিনি। তাই, ফুলস্কেল ব্যাটেল হবে জেনেও হাজার খানেক শিনোবির সামনে- অনেকটা নিশ্চিত মৃত্যুর দিকেই ঠেলে দেন নিজ গ্রামের সব থেকে চৌকশ ৩ জন শিনোবিকে। মিনাটোকে ইনচার্জ করে কাকাশি আর শিসুইকে সে মিশনে পাঠান তিনি।

ভয়ঙ্কর এক বাজিই ধরেন তিনি। এমন মিশনে যাবার জন্যে কাউকে অর্ডার করা যায় না। কিন্তু, মিনাটোর ওপর আস্থা ছিল তার। যে শিনোবি, নাইন টেইল আর মাদারাকে তার ১৭ বছরের ছেলেকে নিয়ে আটকে দিতে পারে, অন্তত তার প্রতিটা কথার গুরুত্ব বোঝেন সাকুমো। তাই, মিনাটো যখন একাই এই নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঝাপ দেবার জন্যে ওর ডিসিশান জানাল, বাধা দেন নি তিনি। তবে, নিজের ছেলে অর্থাৎ, কাকাশিকেও সাথে দিয়ে দেন ওর। কাকাশিকে আগুনে ঝাপ দিতে বলার অধিকার তিনি রাখেন। নিজের ছেলেকে ভালই চেনেন সাকুমো।
ওদিকে একেবারে শেষ সময়ে আরো দু’জন স্বেচ্ছাসেবক জুটে যায়-ইটাচি আর শিসুই। কিন্তু, ইটাচিকে লিস্ট থেকে বাদ দেন সাকুমো কারন, শিসুই আর ইটাচির কেউই না ফিরলে, উচিহাদের ভেতর অসন্তোষ দানা বাধবে, সেই সাথে দূরত্বও তৈরি হবে- যেটা তিনি চান না।
এক হাজার এর বিরুদ্ধে মাত্র ৩ জন। এক অসম আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মারা পড়ে প্রায় ছয়শোর ওপর শিনোবি। আশ্চর্য জনক হলেও সত্য মিনাটো, শিসুই, কাকাশি কেউই সিরিয়াসলি ইঞ্জুরড পর্যন্ত হয় নি। কিভাবে এই মরণপণ যুদ্ধে স্রোতের মতো আসতে থাকা শত্রুকে হারিয়ে প্রায় অক্ষতভাবেই গ্রামে ফিরলো ওরা, সে গল্প আরেকদিন।
এসব কথা ভাবতে ভাবতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। পরবর্তীতে কাকে তার চেয়ারে বসাবেন। দরোজায় নক হতেই পিছন ফিরলেন সাকুমো। জিরাইয়া ঢুকছে রুমে। হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলেন,
“তারপর, কি খবর তোমার? সাহিত্যচর্চা কেমন চলছে?”
-“তা তোমার ছেলেকেই জিগ্যেস করো না। সে-ই ভালো বলতে পারবে।”
খোঁচাটা হাসিমুখেই হজম করলেন সাকুমো। তারপর, শান্তস্বরে বললেন, “সারাটা জীবন কি এমন ভবঘুরে হয়েই কাটিয়ে দেবে নাকি?”
-“এই বয়সে বিয়ে থা করতে বলছ নাকি?”
সাকুমো কিছু বললেন না। তিনি জানেন জিরাইয়া বিয়েশাদি করে থিতু হওয়ার মানুষ না, ভবঘুরে টাইপ। যে’কদিন বাঁচবে, এভাবেই কাটিয়ে দেবে। দীর্ঘশ্বাস টা চাপা দিয়ে কাজের কথা পারলেন তিনি, “আকাটসুকির হালচাল কেমন, কোন খবর পেলে?”
-“ওরা আপাতত রেডিও সাইলেন্স মেইন্টেইন করছে। ”
“তাহলে তো ভালই”, বলে উদাস চোখে গ্রামের যেখানটায় পাথরে খোদাই করে হোকাগেদের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে সেদিকটায় তাকিয়ে থাকলেন। ভাবতে লাগলেন, তার অবসর নেবার সময় এসে পরেছে।
—-
ওদিকে সারাদাকে কুনাই-জ্যুতসু শেখাচ্ছে ইটাচি। ইতিমধ্যে ফায়ার বল জ্যুতসু আয়ত্তে নিয়ে এসেছে ও। কুনাই জ্যুতসুও খুব তাড়াতাড়িই রপ্ত করছে। এতো দ্রুত শিখে ফেলার ক্ষমতা দেখে বিস্মিত হল ইটাচি। কিছুক্ষন কি যেন ভাবল, তারপর সারাদাকে জিগ্যেস করল,
“আচ্ছা সারাদা, তোমার জীবনের লক্ষ্য কি?”
-“আমি? আমি বড় হয়ে হোকাগে হব”, বলেই দু’হাতে থাকা আটটা কুনাই ছুড়ে মারলো। লক্ষ্য- গাছের সাথে লাগোয়া আটটা হিট পয়েন্ট, সবগুলোই লক্ষ্যভেদ হল।তারপর, ঘুড়ে দেখল, ইটাচি উঠে দাঁড়িয়েছে।
“আজকের মতো ট্রেইনিং শেষ। চলো, বাড়ি ফেরা যাক। দেরি হলে আবার তোমার মা রাগ করবেন”, স্মিতহেসে বলল ইটাচি।
-“কিন্তু, তুমি না আজ বুনশিন জ্যুতসু শেখাবে….”
ইটাচি মুখে হাসিটা ধরে রেখেই ইশারায় কাছে ডাকে সারাদাকে। কাছে আসতেই কপালে টোকা দেয়ার মতো আলতো করে আঙুল ছোঁয়ালো যেন। তারপর, ওকে নিয়ে বাড়ির পথ ধরে।
————————————————
এ পর্যন্ত লিখেই থামলেন এ গল্পের লেখক। তিনি তার গল্পের স্বল্প পরিসরে সবাইকে সুখি একটা জীবন দেয়ার চেষ্টা করেছেন। চেষ্টা করেছেন, দুঃখ-কষ্ট ব্যাধি-মৃত্যুহীন একটা সুখি লিফ ভিলেজেইর ছবি আঁকতে, যেখানে সবাই মিলে শান্তিতে বাস করতে পারবে।

Comments