নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 2] — Rahat Rubayet

 

————-Naruto Fan Fiction — Part: 2————————-
—————————————————————————-
(১৬ বছর আগে)
নাইন টেইল ফক্স কে উচিহা ক্লানের বিশেষ এক সিলিং জ্যুতসু দিয়ে এক বাচ্চার ভেতরে সিল করে দেয় ক্ল্যান লিডার ফুগাকু। এই সিলিং জ্যুতসুর বৈশিষ্ট হল তা প্রায় বাড়তি কোন চাকরা ছারাই নাইন টেইল বিস্ট চাকরাকে সিল করে রাখবে। বলাবাহুল্য, উপায়ন্তর না দেখেই এ কাজ করতে হয়েছে ফুগাকুর। কারন, ডানযো আর ৩য় হোকাগে মিলে আধডজন টেইল বিস্ট বম্ব সিল করে পৌঁছে গেছে ক্লান্তির সীমায়। শেষে তাই, বাধ্য হয়েই নিজের ছোট্ট ছেলে সাস্কের ভেতর নাইন টেইল সিল করে দেন ফুগাকু।
সাস্কের ভেতর টেইল বিস্ট সিল করতে দেখেই যেন বাতাসে উড়ে এল ডানযো। উদ্দেশ্য- শিশু সাস্কে, তথা উচিহাদের কাছ থেকে নাইন টেইলকে ছিনিয়ে নেয়া। আরেক অর্থে সাস্কে কে খুন করা। মরিয়া ফুগাকুর সাথে সেখানে লড়াইয়ে বেঘোড়ে মারা পড়ে ডানযো। এর পর ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকে। সাস্কের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করেন লর্ড হোকাগে। উচিহারাও সব বিবেচনা করে তা মেনেই নিয়েছিল। প্রায় ৯ বছরের মত সময় সব ভালমতোই কাটে।
তবে ধীরে ধীরে উচিহাদের ভেতর চাপা ক্ষোভ আর অসন্তোষ দেখা দিতে থাকে। নাইন টেইলের জিনঝুরিকি সাস্কে বড় হতে থাকলে ঘটনা আরও খারাপের দিকে মোড় নেয়। এর মাঝে অভ্যন্তরীণ ক্যু ঘটাবার জন্যে প্ল্যান করতে থাকে তারা। উপায়ন্তর না দেখে, শিসুই উচিহা তাদের ক্ল্যান লিডার ফুগাকুর ওপর কোতো-আমাত্সুকামি নামক গেনজ্যুতসু কাস্ট করে,। এরপর সবকিছুই শান্ত হয়ে আসে।
এসবের প্রায় ৭ বছর হতে চলল। আজ আবার সেই উচিহাদের থেকেই সঙ্কটের উৎপত্তি। উচিহাদের থেকে ক্যু এর নেতৃত্ব দিচ্ছে ১৭ বছর বয়স্ক সাস্কে উচিহা। এরই মাঝে সে ফুল-নাইন টেইল এর চাকরার ওপর কন্ট্রোল নিয়ে নিয়েছে। এতে তার শারিঙ্গান আর ওই বিশেষ সিলিং জ্যুতসুর কৃতিত্বই বেশি। তাই বিজু মোডেও যেতে পারে সে।
আজকের এই ক্যু এর কারন একটাই। উচিহাদের দাবি, গ্রামের শাসন ব্যবস্থা উচিহারা কন্ট্রোল করবে। অন্য যেকোন ক্ল্যানের থেকে তারা শারিঙ্গানের জন্যে অনেক বেশি শক্তিশালী। উপরন্তু তাদের মাঝে ফুল নাইন টেইল কন্ট্রোলিং জিনঝুরিকি , শিসুই দ্য বডি ফ্লিকার, ইটাচি উচিহা রয়েছে। কাজেই তারা গ্রাম পরিচালনা করলে অন্য গ্রামের কেউ ভুলেও আক্রমন করার স্পর্ধা দেখাবে না। শিসুই আর ইতাচি প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করায়, তারা সাস্কের নেতৃত্বে ক্যু ঘটাবার প্ল্যান করেছে।
এতক্ষন ধরে সেই উচিহাদের ব্যাপারেই ব্রিফ করছিলেন জিরাইয়া সেন্সে। তিনি থামতেই মিনাটো বলল,
“নারুটো তোমাকে না মাকে নিয়ে বাড়ি যেতে বললাম। আমরা এখনো জানি না, ওরা কি প্ল্যান করছে। তুমি কুশিনা কে এ………”
মিনাটো কথা শেষ করতে পারলো না, তার আগেই নারুটো বাতাসে মিলিয়ে গেছে যেন।
ওদিকে হোকাগের বাড়ির দরোজার ঠিক বাইরে হাজির সাস্কে। কুশিনাকে জিজ্ঞেস করে মিনাটো আর নারুটো কোথায়। ওর উদ্দেশ্য পরিষ্কার। হোকাগে কে সপরিবারে খুন করে গ্রামের দায়িত্ব হাতে নেবে। আর তারপর ঢেলে সাজাবে কলুষিত এই নিনজা সিস্টেমকে।
তাই, হোকাগে বাসায় নেই শুনে সাস্কে বলল, “কি আর করা, তোমাকে সপরিবারে মারা যাওয়ার আনন্দ দিতে না পারায় দুঃখিত, লেডি কুশিনা।’
কুশিনা কিছু বুঝতে পারে না। শুধু বলতে গেল, “নারুটো সম্ভবত ইরুকার সাথে আছে।”
কিন্তু বলতে পারল না। তার আগেই দেখল, সাস্কের চোখের চাহনি পাল্টে গেছে হটাত করে। কিছু বুঝে উঠার আগে শুধু শুনলো, “আমাতেরাসু”।
ওদিকে সাস্কে আমাতেরাসু ইয়ুজ করেই তাজ্জব বনে গেছে। হটাতই উধাও হয়ে গেছে কুশিনা। শারিঙ্গান দিয়ে খুঁজেও কোন চাকরার অস্তিত্বই খুঁজে পেল না। হটাত, কানের কাছে নারুটোর গলা শুনতে পায়।
“ফ্লাইং রাইজিন, লেভেল ৩”
পরক্ষনে পিঠে প্রচন্ড ধাক্কা খায় সাস্কে। ইতিমধ্যে হাফবডি সুসানো বের করে ফেলেছিল সে। তাই রাসেঙ্গানের ঝড় টা তার ওপরই গেছে। শব্দ লক্ষ্য করে সোরড চালাতেই অবাক হয়ে দেখল, নারুটো তার ৫গজ সামনে দাড়িয়ে আছে।
নারুটোই মুখ খোলে প্রথমে, “আমি জানি না, তুমি নিনজা সিস্টেম চেঞ্জ করবে কি করবে না। কিন্তু এই মুহূর্তে তুমি আমার বাড়ির সদর দরজায় দাড়িয়ে আমার মাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করতে যাচ্ছিলে। তুমি আমার বন্ধু হতে পারো। কিন্তু, এই মুহূর্তে তুমি আমার শত্রু। আর এর ফয়সালা করতে যা করা প্রয়োজন আমি তা নির্দ্বিধায় করবো।”, বলে এক মুহূর্ত থামল ও। তারপর বলল,”তুমি জান, আমাদের কোথায় যাওয়া উচিৎ”
বলতে বলতেই হাওায় মিলিয়ে যায় নারুটো। তার বাবার কাছ থেকে শেখা, স্পেস-টাইম নিনজ্যুতসু ইয়ুজ করেছে সে। আর এদিকে সাস্কেও ফাইনাল ভ্যালির পথ ধরে।
ওদিকে, উচিহা ক্ল্যানের সকলে গ্রাম আক্রমন করে বসেছে। তাদের আক্রমনের ধরনটা খুবই সিম্পল-কিন্তু ভয়ঙ্কর। অন্য ক্ল্যানের লোকজনের ওপর গেনজ্যুতসু কাস্ট করে তাদের দিয়েই আক্রমন করছে তারা। আর তা ঠেকাতেই, গ্রামের আনবু, জৌনিন-চুনিনদের জলদঘর্ম অবস্থা। উপায়ন্তর না দেখে, ৩য় আর ৪র্থ হোকাগে ছুটে গেছে ক্যু থামাতে। কিন্তু নাইন টেইলের জিনঝুরিকি সাস্কেকে কোথাও না পাওয়া যাওয়ায় ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে ওঠে ৪র্থ হোকাগে। সে নিজে সেন্সরি-টাইপ নিনজা। কাজেই নাইন টেইল চাকরা ইনফিউজ করতে শুরু করলেই ধরতে পারবে তা।
হটাতই, নাইন টেইলের বিশাল চাকরার ভর সেন্স করতে পারে সে, সেই সাথে নারুটোর সেইজ চাকরা-আসছে ফাইনাল ভ্যালী থেকে। এদিকের কাজ ফেলে যাওয়াও অসম্ভব। অগত্যা, তার হাইলি কোওালিফাইড আর বিশ্বস্ত দুই নিনজা কে পাঠাল, নারুটোকে সাহায্য করতে।
ওদের উদ্দেশ্যে বলল,” শিসুই, ইতাচি! সাস্কে আর নারুটো ফাইনাল ভ্যালী তে। বিজু মোডে সাস্কেকে থামাতে পারবে না, নারুটো। আমি চাই, ওকে তোমরা এসিস্ট কর।”
“জী, লর্ড হোকাগে”, বলে বডি ফ্লিকার দিয়ে উধাও হয়ে যায় ওরা।
মিনাটো ভাবতে থাকে, খুব কি দেরি করে ফেলবে ওরা পৌঁছতে?
———————————————————————————–

Comments

comments