Hirunaka no Ryuusei [মাঙ্গা রিয়্যাকশন] — Trisha Islam

Hirunaka no Ryuusei 1

Manga Name: Hirunaka no Ryusei; The Daytime Shooting Star 
Author: Yamamori Mika
Genre: Shoujo 
Status: Completed

ব্রাউজ করতে করতে হঠাৎ চোখে পড়ে গেলো আর আর্টস্টাইল দেখে আটকে গেলাম মাঙ্গাটায়… পুরো রাত জেগে না ঘুমিয়ে শেষ করে ফেললাম। অন্যসব শোজো মাঙ্গার মতোই স্কুল বেসড। সংক্ষেপে বলতে গেলে,
গ্রাম থেকে শহরে আসা এক মেয়ের (Yosano Suzume) শহুরে জীবনের সাথে খাপ খায়িয়ে নেয়া, এক ইকেমেনের (Shishio Satsuki) প্রেমে পড়া আর প্রেম সংক্রান্ত চড়াই-উতরাই এই নিয়েই মাঙ্গাটার পরিসর।

টিপিক্যাল মনে হলেও গল্পের নতুনত্ব আছে। প্রথমত, যে ব্যাপারটা চোখে পড়েছে এবং শেষ করার পর আরো জোড়ালো ভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি তা হলো গল্পটার রিয়েলিজম। সুজুমের জীবনের সাথে অনেকাংশেই রিয়েলিটির যোগাযোগ দেখা যায়। অনেক সময়ই আমার পড়তে পড়তে মনে হয়েছে আরে সত্যি তো এমনটা হয়, তাহলে জীবন কি আসলেই শোজো মাঙ্গা? অন্য সব শোজো এনিমে দেখে বা মাঙ্গা পড়ে সাধারন যেটা মনে হয় জীবন তো শোজো মাঙ্গা নয় যে তিন তলা থেকে লাফ দিয়ে মোটামুটি কিছুই হবে না বা আরো যা যা আছে আর কি।

Hirunaka no Ryuusei 2

[Spoiler Warning]

আর দ্বিতীয় হলো মাঙ্গাকার strength, প্রচন্ড আকারের একজন সেডিস্ট। পুরা প্রথম হাফ ধরে একটা লাভস্টোরি কে বিল্ডাপ করে তারপর তা ছুড়ে ফেলা সাধারন মানুষের কাজ নয়। আমি যদিও প্রথম থেকেই মামুরার দলে ছিলাম কিন্ত সেনসেই কেও অপছন্দ করার মত কিছু ছিল না। চাচ্ছিলাম মামুরার সাথেই সম্পর্কটা হোক, কিন্ত সেনসেই এর হার্টব্রেক মেনে নিতে অনেক কষ্ট হয়েছে। আর এখানেই হয়ত মাঙ্গাটা অন্যসব থেকে আলাদা।

আর্টস্টাইল নিয়ে বলতে গেলে আগেই বলে নি, Sawako-chan এতো দিন পর্যন্ত আমার কাছে সবচেয়ে কিউট শোজো হিরোইন ছিল কিন্ত সুজুমে-চান আসার পর তা হয়ত বদলে গেছে। সুজুমে খুউবই এক্সপ্রেশনলেস (most of the time) কিন্ত তার মধ্যে দিয়ে মাঙ্গাকা এতো বেশি এক্সপ্রেশন ফুটিয়ে তুলেছে… আর প্রতিটাই কেমন যেন কোকোরো তে গিয়ে লাগে। আর যে হাসি গুলা সেনসেই বা মামুরা দেয় উফফফ kokoro no doki doki. তবে সবচেয়ে বেশি জোস লেগেছে তার চোঁখ আঁকার ধরন। এতো প্রশান্তি লাগে চোঁখ গুলার দিকে তাকালে।

তবে ভালোর মধ্যেও কিছু খারাপ ছিল। যেমন, মাঝে যখন সেনসেইর সাথে সুজুমের সম্পর্কের রাইজিং একশন থেকে ক্লাইমেক্স পয়েন্টে যাচ্ছিল তখন মামুরার সাথে সুজুমের সম্পর্কের বিল্ডাপ তেমন ভাবে দেখানো হয়নি… আরো ভালো ভাবে তা এক্সিকিউট করা যেত… বিধায় কেমন যেন খাপছাড়া লেগেছে। এই কারনেই আমার কাছে মনে হয়েছে এটা হয়ত মাঙ্গাকার ইনিশিয়াল এন্ডিং ছিল না। হয়ত মাঝপথে এসে তা চেঞ্জ করা হয়েছে।

Story: 9
Art: 9.5
Overall: 9

P.S. এটার এনিমে Adaptation দরকার। একটা মুভি আছে কিন্ত সত্যি বলতে তিন লিড ক্যারাক্টার এর কাউকেই আমার মাঙ্গার ক্যারাক্টার এর মত মনে হয়নি… কেমন যেন ফানি লাগে জাপানিদের অভিনয়গুলো… খুব বেশি মেকি।

Hirunaka no Ryuusei 3

Le Portrait de Petit Cossette [রিভিউ] — Krista King

Cossette no Shouzou 1

Anime Name– Cossette No Shouzou/ Le Portrait De Petit Cossette
Genre– Drama, Supernatural, Romance, Psychological, Horror
Demographic– Seinen
Type– OVA
Episode– 3
Author– Asuka Katsura
Director– Akiyuki Shinbo
Music– Kajiyuri Yuki
Aired– 2004

সারসংক্ষেপ-
এইরি কুরাহাশি(Eiri Kurahashi) একজন শিল্পী ও একটা প্রত্নতত্ত্বের দোকানের মালিক। সে হঠাৎ-ই একটা সুন্দর রঙিন গ্লাসের প্রতি টান অনুভব করে। গ্লাসটির মধ্যে সে এক পুতুলের মত মিষ্টি মেয়ের আত্মা আবদ্ধ, যে এইরিকে সঙ্গ দেয়, দেখায় তাকে নিজের ভালো-খারাপ অতীত। কোসেটী(cosette), মেয়েটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল এমনই একজন শিল্পী ও তার প্রেমিক। তার আত্মার মুক্তি পাওয়ার এখন একটাই উপায়, হত্যাকারীর সমচরিত্রের কাউকে তার শাস্তিভোগ করতে হবে। অতঃপর এইরিইও সৌন্দর্য পিপাসু ও কোসেটীর প্রেমে পরে যায়, এখন সেই পারে অসহ্য যন্ত্রণাকে অতিক্রম করে কোসেটীকে নরক থেকে মুক্তি দিতে।

Cossette no Shouzou 3

My View-
গল্পটি সাধারণ কিন্তু এতে যেটা দেখানো হয়েছে সেটা হল দৃশ্যমান করার কৌশল। OVAটির প্রতিটি দৃশ্যে শিল্পত্বের ছোঁয়া। যেহেতু এটি একটি শিল্পীর গল্প তার ভাবনা, আবেগ ও অনুভূতিতে অসামান্য সৌন্দর্য, যা চমৎকার রঙিন চিত্রকল্প প্রকাশিত। আলো-আঁধো ভাবছায়ায় কখনো মিশেছে এইরি ও কোসেটীর আবেগ ও প্রেম, কখনোবা আক্রোশ প্রতিশোধ চাঞ্চল্যতা ও ভয়। দৃশ্যের সাথে সুরের উপযুক্ত মিশ্রণ দর্শককে প্রভাবিত করার মত।

Character
Eiri Kurahashi- শিল্প ও সৌন্দর্যের পূজারি এইরি নিজে একজন উৎকৃষ্টমানের শিল্পী। কোসেটীর প্রতি অগাধ প্রেম, তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সারা জীবন যন্ত্রণা ও শাস্তি ভোগ করতে পারে। কোসেটীর থেকে বিরহের চেয়ে যন্ত্রণা অনেক ভালো। তার বলিদানের মানসিকতায় কোসেটীও উপলব্ধি করে সে তার পুর্ব প্রেমিকের মত নিষ্ঠুর নয়।

Cossette- আঠারোশো শতাব্দীর সম্ভ্রান্ত পরিবারের কিশোরী। যার রঙ, রূপ ও সৌন্দর্য শিল্পীকে বানিয়েছে উন্মত্ত নেশারু। পরীর মত মিষ্টি কোসেটীর জীবনটাও ছিল রূপকথার মত, হিংসা ভয় প্রতিকূলতা কী সে জানত না। রূপ তার জীবনে এনেছে যেমন অসীম প্রেম তেমনই এনেছে করাল ছায়া। শিল্পীর প্রেমে তার জীবন হয়ে গিয়েছিল মিথ্যে, সে রয়ে গিয়েছিল শুধুই শিল্পীর তুলির টানে জীবন্ত।

Cossette no Shouzou 2

Listen to Me, Girls. I Am Your Father! [রিয়্যাকশন] — Md. Anik Hossain

Papa no Iukoto wo Kikinasai!

সিরিজটা তেমন জনপ্রিয় কিনা বা খুব বেশি মানুষ দেখেছেন কিনা জানি না, তবে এটা নিয়ে এনিমেসমাজে তেমন আলাপ করতে দেখিনি কখনো। কোনো এক Random সাজেশনে সিরিজটার নাম পেয়েছিলাম অনেক দিন আগে ।এতদিন লিস্টে জমিয়ে রেখেছিলাম।অতঃপর গত পড়শু Wikipedia তে সিরিজের সিনোপসিস টা পড়ে সব পর্ব ডাউনলোড দিলাম । অবশেষে গতকাল দেখা শেষ করলাম।

যারা দেখেননি তাদের জন্য কাহিনী সারসংক্ষেপ: Yuuta মাত্র ভার্সিটি তে ঢুকেছে। এতিম Yuuta কে খুব কষ্ট করে মানুষ করেছে ওর বড় বোন Yuri… তো একবার Yuri আর তার হাজব্যান্ড এক বিজনেস ট্যুরে বিদেশে যাবে। এমন সময় Yuri এর মেয়ে আর তার সতীনের ঘরের আরো দুই মেয়েকে কিছুদিন দেখা শুনার দায়িত্ব পড়ে Yuuta এর উপর।১৪ বছর বয়সের বড় মেয়েটার নাম Sora, মেজো মেয়ের নাম Miu আর সবচেয়ে ছোটোজন মানে Yuuta এর আপন ভাগ্নীর নাম Hina. কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত Yuri আর তার স্বামী যে Plane এ ছিল সেটা বিধ্বস্ত হয়ে যায়। যাতে ধারনা করা হয় তারা মারা গেছে। এমন সময় Yuuta তার তিন ভাগ্নীকে একাই লালন পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় বাকি আত্মীয়দের মতামত উপেক্ষা করে। মূলত এই অবিবাহিত ছাত্র কীভাবে তার বোনের মেয়েদের পেলে বড় করে এবং যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয় তা নিয়েই কাহিনী আবর্তিত হয়।

দেখার পর আমার প্রতিক্রিয়া(তেমন স্পয়লার থাকার কথা নয়):
প্রথমত, অনেক বেশি আশা নিয়ে দেখতে বসেছিলাম। বাচ্চা পালা নিয়ে জিনিস-পাতি আমার এমনিতে খুব পছন্দ। কিন্তু এনিমের ভেতরটা আমার কাছে ছিল “UNEXPECTEDLY AWKWARD”……….. Pewdiepie এর স্টাইলে বলতে হয়, “My expectation was totally shattered!!!!!”

সবার আগে বলব ফ্যানসার্ভিসিং এর কথা। এচ্চি ট্যাগ ছিল নাকি চেক করিনি কিন্তু কিছু জিনিসে এচ্চি একেবারে বেমানান লাগে। এক্ষেত্রেও তাই।
ছোটো ছোটো মেয়েদের উপর সেক্সুয়াল ফ্যানসার্ভিসিং এক্কেবারে ফালতু একটা ব্যাপার। হার্ডকোর এচ্চি ছিল না তবে যেটুকু ছিল সেটুকুও মোটেই মানানসই লাগেনি আমার কাছে। সাথে প্লট এর তুলনায় কিছু dirty(?) কথা বার্তা ছিল। বেশি পাঁকনা মেয়ে হইলে যা হয় আরকি।

দ্বিতীয়ত, হা বুঝলাম আপন রক্তের সম্পর্ক নাই। কিন্তু তারপরেও “মামা X ভাগ্নী” রোমান্টিক সম্পর্কের উপর ফোকাস! ক্যাম্নে কি!

এখানে Yuuta আর Raika (Yuuta এর ভার্সিটির বড় আপু) এর রিলেশনশিপের মাঝে বেশি ফোকাস করলে ভালো হতো বলে মনে করি। আমি হলে স্টোরিলাইনটা এইভাবে সেট করতাম – “Sora এর তার সত্‍ মামা Yuuta এর উপর সিক্রেট ক্রাশ আছে। ওকে ব্যাপার না। ছোটোমানুষ অনেকসময় আকাশ কুসুম কল্পনা করতেই পারে। কিন্তু সময় যাওয়ার সাথে সাথে Yuuta আর Raika এর মাঝে সম্পর্কটা আরো গভীর হতে থাকবে। খালি ফ্রেন্ডশিপের মাঝেই আবদ্ধ থাকবে না।ওরা সিরিয়াসলি ডেটিং করা শুরু করবে এরকম কিছু”। কিন্তু না! সিরিজে মামাজানের প্রতি tsundere বড় ভাগ্নীর এত্ত বেশি দূর্বলতা দেখিয়েছে যে শেষ পর্যন্ত জিনিসটা বিরক্তিকর ঠেকেছে। লেবু বেশি কচলালে তিতা হয়ে যায় ।

এমনকি আরো গভীরভাবে একটু গবেষণা করতে গিয়ে আমি তো একেবারে ওয়াদ্দাপাক হয়ে গেছি… অরিজিনাল লাইট নোভেলে এই মামা আর ভাগ্নি নাকি সত্যি সত্যি বিয়ে করেছে! পুরাই Usagi Drop 2.0।

সিরিজটা আসলে ললিকন দের কথা মাথায় রেখে তৈরি নাকি তা জানি না। কিন্তু আমার আশানুরুপ হয়নি। বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে। যদিও এনিমের অন্যান্য দিকগুলো নিয়ে আমার তেমন অভিযোগ নেই।

আমি বরাবর ই সব এনিমে কে বেশি বেশি রেটিং দেওয়ার চেষ্টা করি। এই সিরিজটাকেও আমি অন্তত 8/10 দেওয়ার চেষ্টা করলাম অনেক। কিন্তু মন থেকে 7/10 এর বেশি দিতে ইচ্ছে করছে না এই মূহুর্তে।

আপনাদের কি মতামত সিরিজটা নিয়ে?

Miyori No Mori [আনিমে ও মাঙ্গা রিভিউ] — Krista King

Name: Miyori No Mori
Genre: fantasy, drama, spiritual (nature).
Demographic: All
Anime Duration: 1hr 47min
Manga: vol2, ch.8
Author: Hideji Oda
Director: Nizo Yamamoto
Aired: 2007

সারসংক্ষেপ–
একদা মিয়োরি নামক একটি মেয়ে শৈশবে খেলতে খেলতে অরণ্যের গভীরে হারিয়ে গিয়েছিল। সেখানে ডিভাইন ট্রী-এর স্পিরিট তাকে অরণ্যের রক্ষী হিসাবে নির্বাচন করে। এখন মা ও বাবার মধ্যে অনবরত কলহের মাঝে ছোট্ট মিয়োরি একা হয়ে যায়। বড় হওয়ার সাথে সাথে সে মানুষের চেয়ে প্রকৃতিকে বেশি আপন করে ফেলত। মা বাবার বিচ্ছেদের দরুন এগারো বছরের মিয়োরি থাকতে শুরু করে ঠাকুমা-ঠাকুরদার সাথে সেই অরণ্য সংলগ্ন গ্রামে। প্রথমে অসুবিধা হলেও পরে গ্রামের মানুষ ও অরণ্যের স্পিরিটদের সাথে মিশে যায়। ইতিমধ্যে গ্রামে একদল মানুষের আবির্ভাব হয় যারা সেখানকার নদীতে বাঁধ বানাতে চায় কিন্তু সেটা হলে গ্রামসহ অরণ্য ডুবে যেতে পারে। সমস্ত অরণ্যের স্পিরিটদের একত্রিত করে তাদের এমন চমকায়, যাতে তারা আর ফেরত না আসে। এইভাবেই ছোট্ট মিয়োরি সকলকে বাঁচিয়ে নেয়।

Miyori No Mori 1

My View-
অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলি। বেশ একটা গিবলি সিনেমাগুলোর মত অনুভব হয়। ক্যারেকটার ডিজাইন বাস্তবিক যেটা সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে আমার। মিয়োরির চরিত্রটি সবচেয়ে আকর্ষক। ছিচকাঁদনে অতিমিষ্টি চরম উৎসাহী নয় বরং শান্ত-শিষ্ট, নম্র অথচ দৃঢ়-মনস্কা, বাস্তবিক। শৈশব থেকে মা-বাবা, সহ-পাঠীদের কাছে তিরস্কৃত হওয়ার পরও, সবকিছু ভুলে মানসিকভাবে আরো দৃঢ় হয়ে ওঠার পরিণতিটি দেখার মত। মানুষের চেয়ে প্রকৃতির প্রতি এত টান, কোথায় একটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “বলাই”এর কথা মনে করিয়ে দেয়। সবমিলিয়ে গল্প শেষে বেশ একটা ভালো লাগা থেকে যায়।

(আপনি এর মাঙ্গাটাও পড়ে দেখতে পারেন, মাত্র আটটি চ্যাপ্টারের, সেখানেও চিত্রগুলো খুব সুন্দর ও বাস্তবিক, মাঙ্গাতে আরোকিছু details আছে ঘটনাতে।)

Miyori No Mori 2

Hisone & Maso-Tan [রিভিউ] — Md. Anik Hossain

কাহিনী সারসংক্ষেপঃ গল্পটা এমন এক কাল্পনিক পৃথিবীতে যেখানে ড্রাগনের অস্তিত্ব আছে। তবে প্রাচীনকাল থেকেই এগুলোকে সরকারিভাবে আমজনতার চোখ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়ে আসছে।তো একবিংশ শতকের এই আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ড্রাগনদের দেখাশোনা ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় বিমানবাহিনীর হাতে।সিরিজের মূল চরিত্র Hisone হচ্ছে বিমানবাহিনীতে কর্মরত এক অবুঝ(?) মেয়ে। মনের ভিতর কোনো প্যাঁচগোছ নেই। মেয়ে ৯৯% ফিটফাট…খালি একটু খুঁত আছে। মুখ পাতলা স্বভাবের। মনের অজান্তেই মুখের উপর মানুষের সমালোচনা করে দেয়। একদিন ভাগ্যক্রমে বিমানঘাঁটিতে গোপন হ্যাঙ্গারে থাকা একটা ড্রাগনের সাথে দেখা হয়ে যায়। এবং আরো কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে সে এই ড্রাগনের পাইলট হয়ে উঠে। মূলত বিমানঘাঁটির লোকবল ও তার মতো অন্যান্য ড্রাগন পাইলটদের নিয়েই এনিমের কাহিনী আবর্তিত হয়।
Hisone & Maso-Tan
দেখাশেষে আমার প্রতিক্রিয়াঃ অনেক দিন ধরে নতুন একটা “Cute girls doing cute things with cute cute military toys” ধাঁচের সিরিজ খুঁজছিলাম। অবশেষে মজার কিছু পেয়ে আমিতো বেজায় খুশী! আর Studio Bones এর অন্ধভক্ত হিসেবে পুরো সিরিজটা একদম গোগ্রাসে গিলে খেয়েছি। Chibi(?) ক্যারেক্টার ডিজাইনগুলো বেশ অন্যরকম একটা মজাদার অভিজ্ঞতা দিল। টিভি তে বাচ্চা-কাচ্চাদের চিবি মার্কা বাদে আর কোনো এরকম এনিমে দেখা হয়ে উঠেনি আসলে। কাহিনীর কথা বললে তেমন বিশেষ কিছু পাইনি এবং পাবার আশাও করিনি প্রথম থেকে। তবে কিছুটা অন্যরকম কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ মনে হয়েছে আমার নিকট। মোট কথা বললে, বিনোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে মোটেও আশাহত হইনি দেখা শেষে।

কিছু জিনিসে আমার মতে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ভুল ধরতে যাওয়া বা সমালোচনা করা উচিত নয়। দেখবেন, হাসবেন, বিনোদিত হইবেন- ব্যাস। ভালো একটা শান্তিময় সময় কাটাবেন বাসার সব বয়সীদের নিয়ে। Hisone & Maso-Tan ঠিক সেরকম একটা এনিমে ছিল। Mind refreshing কিছু দেখতে চাইলে সবাইকে দেখতে বলবো সিরিজটা।

জানি না কেন সিরিজটা খুব একটা জনপ্রিয়তা পেল না। হয়ত এনিমেশন আর ক্যারেক্টার ডিজাইন সংখ্যাগরিষ্ঠ দর্শকের ভালো লাগেনি। মনে হয় বাজেট একটু কম ছিল। দু-একটা পর্ব দেখে অপছন্দ হলে ড্রপ মারবেন না হয়। আর আগেই যেমনটা বলেছিলাম যে কাহিনী বেশ সাদামাটা। মাথা একেবারে খালি করে দেখতে বসবেন।

হাবিজাবি রেটিং:
কাহিনী: ৩/৫
ক্যারেক্টার ডিজাইন: ৪/৫
এনিমেশন: ৩.৫/৫
সামগ্রিকভাবে: +-৩.৯/৫

And Yet The Town Moves/Circles [সাজেশন] — Prottoy Rahman

and yet the town moves circles

১৬৩৩। গালিলেও গালিলেইকে সদ্য বাধ্য করা হয়েছে তার অলক্ষুণে বাণী অস্বীকার করতে: পৃথিবী নাকি সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। তা সে জীবন বাঁচাতে নাহয় করল। কিন্তু পরে আসমানের দিকে অতঃপর জমিনের দিকে তাকিয়ে সে ঠিকই চিন্তামগ্ন স্বরে বলল “Eppur si muove”, ইংরেজিতে যা দাঁড়ায় “And yet it moves”। যেন সেই সুশীল সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জানায় ‘তোমরা যা খুশি বিশ্বাস করো, সত্যের এতে কিছু যায় আসে না’। তা এসব অনেক আগের কথা, তখন আমার দাদার দাদা, বা তার দাদারও জন্ম হয় নি। প্রত্যক্ষ না করায় এর শুদ্ধতা যাচাই করাও আমার সাধ্যের বাইরে।

সাল এবার ২০১০। এনিমে মিডিয়ামটা কৈশরের গন্ডি পেরিয়েছে অনেক আগেই। পরিপক্কভাবে ভিত গেঁথে কয়েক দশক থেকেই অনেক শিল্পকর্ম উপহার দিয়ে এসেছে যা বিশ্বসেরা গল্পগুলোকেও টেক্কা দিতে পারে। এমন সময় আবির্ভাব ঘটে ২০০৫ সাল থেকে চলে আসা এক মাঙ্গার অ্যাডাপটেশন, স্টুডিও হলো Bakemonogatari-এর টানে সদ্য উঠে আসা শ্যাফ্ট। নতুন এই এনিমের নামটি ছিল ‘সোরেদেমো মাচি ওয়া মাওয়াত্তেইরু’, যার ইংরেজি করলে দাঁড়ায় And Yet The Town Moves/Circles. কিন্তু এ যুগে তো কোনো ধর্মালয় এসে কোনো কিছুতে বাঁধা দিচ্ছিলো না। তবে কার উদ্দেশ্যে এই নগর ঘুরানো নামটি এল?

এনিমটির মূল চরিত্র কাজের জন্য গর্ধভ, অকাজের জন্য চতুর; এর কমেডি slapstick ধাঁচের, কৌতুকগুলো ক্লিশে, ঘটনাচক্র কোনো এক দুনিয়ার নিয়ম মানে না, একেক অংশ একেক রকমের গল্প ধারণ করে, আর সাথে আছে উদ্ভট সব ক্যামেরা দৃষ্টিকোণ। সূক্ষ্মদর্শীতার দৃষ্টিতে এসব ধর্মকে একটু নিচু চোখেই দেখা হয়, প্রস্তুতিতে অলসতার চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়। সাধারণত তা-ই বাস্তব। কিন্তু তা যে যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য তা অনেকেই উপলব্ধি করতে পারে না। সঠিকভাবে ও অনুরাগের সাথে বাস্তবায়ন করলে যেকোনো কিছুই শিল্পের পর্যায়ে অধিষ্ঠিত হতে পারে। এই নতুন এনিমটি সেটিই প্রমাণ করে অসাধারণ নৈপুণ্যের সাথে। প্রকৃতপক্ষে এটি কাঁচকলা দেখায় convention জিনিসটাকেই। এর সকল দিক যে শুধু চমৎকার কারুকর্মের নিদর্শন তাই না, সকলের সমষ্টিতে এর সৌন্দর্যের বহুগুণ বৃদ্ধিও লক্ষ্য করার মতো।

অবশ্য সে যুগের এনিমে দর্শক না হওয়ায় ও এর লেখক ও অন্যান্য প্রস্তুতকারকদের না চেনায় এর নামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে করা সকল উক্তিই আমার ব্যক্তিগতভাবে ধরে নেওয়া। যাই হোক, প্রচলিত ধারা ভঙ্গ করে ধারণা পাল্টানো এনিমের অভাব এসময় ছিলো না। বরং গত শতকেই বেশ কিছু ব্যাপক রকমের ভিন্ন ধাঁচের এনিমে পুরো ইন্ডাস্ট্রি কাঁপিয়েছে। কিন্তু সোরেমাচির মতো খাঁটি সোনা বেশ কমই পরখ করেছি গত ৬-৭ বছরের অভিজ্ঞতায়। তবুও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এটি খুব একটা দৃষ্টি আকর্ষণ করে নি। যদি আপনার সর্ব প্রকার কমেডি ও প্যারোডি একটি মোহনীয় ন্যারেটিভের ভেতর মজাদার ও প্রাণবন্ত চরিত্রের মধ্য দিয়ে অসম্ভব নৈপুণ্যের সাথে উপস্থাপনের প্রতি কৌতুহল থাকে… you know it.

চটপট দেখা শুরু করুন, শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামতে পারবেন না। যদিও মাঙ্গা পুরো এডাপ্ট করে নি, থামার জন্য বেশ ভালো জায়গাই বেছে নিয়েছে। মাত্র ১২ পর্বের, তাই বেশি সময় লাগবে না।

Overlord [লাইট নোভেল সাজেশন] — আতা এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Overlord

ইসেকাই জন্রা জাপানে বেশ জনপ্রিয়। এক দুনিয়া থেকে আরেক দুনিয়াতে ট্রান্সফার যেখানে সবকিছু RPG স্টাইলে। লেভেল আপ হওয়া, ডিমন লর্ডের বিপক্ষে বা শয়তান রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ। তবে এই জন্রা কিছুটা একই রকম রিপিটেড কাহিনী ভর্তি যেমন মেইন ক্যারেক্টার ওভারপাওয়ার্ড, ফট করে ৫-১০ টা মেয়ে নিয়ে হারেম বানিয়ে ফেলা বা ক্লিয়ার কোন গোল না থাকা। এর মধ্যে এন্টিহিরো টাইপ কাহিনী থাকলেও পুরো শয়তান বা ডিমনিক পার্স্পেক্টিভ থেকে কাহিনী একদম নেই। আর সেটার অভাবই পুরন করেছে ওভারলর্ড। মেইন নায়ক ওভারপাওয়ার্ড কিন্তু সে ফট করে জিরো থেকে হিরো হয়নি। আর সে গেমের দুনিয়ায় প্রবেশ করেছে ওভারলর্ড হিসেবে, কোন হিরো হিসেবে না, এবং একজন ওভারলর্ডের যে উপায়ে দুনিয়া দখল করা উচিত সেভাবেই সে ওয়ার্ল্ড ডমিনেশন এর দিকে আগাচ্ছে।
এনিমে আর নভেলে বিস্তর ফারাক। এনিমে আমার অনেক ভালো লেগেছে! নাহলে আমি কখনোই কোন লাইট নভেল পড়িনি। কিন্তু ওভারলর্ড দেখে ওয়েট করতে না পেরে নভেল পড়া শুরু করে দিয়েছি। এটা আমার পড়া প্রথম ও একমাত্র লাইট নভেল। নভেল অনেক ডিটেইল। যে সিন এনিমেতে ২ বা ৫ সেকেন্ড দেখায় তা নভেলে ৫ পেইজে বলা। অনেক ডিটেইল বাদও দিয়েছে। এইখানে প্রায় প্রত্যেকটা ক্যারেকটার ডিটেইলের সাথে গড়া হয়েছে। নচ্ছার ভিলেনে বা ছোট ক্যারেক্টারেরও ব্যাকস্টোরি দেওয়া আছে। কমেডি, রোমান্সও আছে। তো যারা ওভারলর্ড এনিমে পছন্দ করেছেন তারা নভেল পড়া ধুরু করে দিন।

Steins;Gate 0 [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Steins Gate 0

Steins;Gate 0
জনরা: সায়েন্স ফিকশন
পর্ব: ২৩
স্টুডিও: White Fox
ম্যাল রেটিং: ৮.৮

স্পয়লার অ্যালার্ট!!!
(যারা ২০১১ সালে বের হওয়া Steins;Gate সিরিজটি দেখেন নি তারা পোস্টটি এড়িয়ে চলুন)

স্টাইন্স গেইট দেখেছিলাম সেই ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে। অন্য সবার মতই দেখার সাথে সাথে এনিমেটা একেবারে সবচেয়ে প্রিয় এনিমের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ঢুকে যায়৷ সে অবস্থান এখনও এনিমেটা দারুণ শক্তভাবে দখল করে আছে৷ স্টাইন্স গেইটের সিকুয়েল আসছে তার প্রথম খবর পাই ২০১৭ সালের প্রথম দিকে। সত্য কথা বলতে গেলে অত বেশী প্রত্যাশা ছিল না। ভেবেছিলাম মূল এনিমের এত ভাল একটা সমাপ্তি থাকার পরেও আরেকটা কিস্তি বানানোর কীইবা দরকার আছে! তাই এপ্রিলে যখন স্টাইন্স গেইট জিরো এনিমের সম্প্রচার শুরু হয় তখন অতটা পাত্তা দেই নি৷ টনক নড়ে 23বেটা এপিসোডটা দেখার পর৷ বেটা টাইমলাইনের ভয়াবহ ভবিষ্যতের আঁচ টের পাই পর্দার এপাশে বসেই। ম্যাড সায়েন্টিস্টের বদলে স্যাড সায়েন্টিস্ট হওয়িন কিয়োমাকে দেখে রীতিমত আঁতকে উঠি! তাই কালবিলম্ব না করে দেখে ফেললাম স্টাইন্স গেইট জিরো! দেরী করে দেখার আরেকটা কারণ ছিল অনগোয়িং দেখাটাকে এড়ানো৷ কারণ স্টাইন্স গেইটের মত এনিমে অনগোয়িং দেখার মত পেইনফুল কাজ করতে আমি মোটেই রাজী ছিলাম না! তো আজকে শেষ করে ফেললাম মহাকাব্যিক এই এনিমের সিকুয়েল৷ যা প্রত্যাশা করেছিলাম তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশী ভাল জিনিস পেয়েছি এনিমেটার কাছ থেকে৷

প্লট:
স্টাইন্স গেইট জিরোর কাহিনী আবর্তিত হয়েছে বেটা টাইমলাইনকে ঘিরে৷ যাদের বেটা টাইমলাইন কোনটি তা মনে নেই তাদের স্বার্থে বলছি, বেটা টাইমলাইন হল সেই টাইমলাইন যেখানে ওকাবে মাকিসে কুরিসেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়৷ বিনিময়ে মায়ুরি বেঁচে থাকে। অন্যদিকে আলফা টাইমলাইনে কুরিসু বেঁচে যাওয়ায় মায়ুরিকে প্রাণ দিতে হয়৷ এই দুই টাইমলাইনের মাঝেই অবস্থান করে স্টাইন্স গেইট টাইমলাইন যেখানে কুরিসু এবং মায়ুরি দুজনেই বেঁচে থাকে ও বিশ্বের পরাশক্তিগুলো টাইম মেশিনের দখল পাওয়ার জন্য বিশ্বযুদ্ধেও জড়িয়ে পড়ে না।

স্টাইন্স গেইট এনিমে সিরিজে আমরা ওকাবেকে দেখি স্টাইন্স গেইট টাইমলাইনে সফলভাবে পৌছুতে। কিন্তু জিরো এনিমেটি জগতের বেটা টাইমলাইন দেখায়। জিরো প্রদর্শন করে বেটা টাইমলাইনের জগতের ভয়াবহতা যেখানে কুরিসুর বিনিময়ে মায়ুরিকে বাঁচালেও মানবজাতির উপর অশুভ শক্তির কালো ছায়া ঠিকই বিদ্যমান থাকে। ভবিষ্যত থেকে আসা সুজুহা বারবার ওকাবেকে মনে করিয়ে দেয় যে বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন। ৫-৭ বিলিয়ন মানুষের জীবন ওকাবের হাতে, সে একটু সাহস প্রদর্শন করতে পারলেই এত মানুষের জীবন বেঁচে যায়। ওকাবে দৃঢ়ভাবে আবার টাইম ট্রাভেল করতে অস্বীকৃতি জানায়, সে আবারও তার প্রিয় কারোর মৃত্য দেখার যন্ত্রণা ভোগ করতে চায় না। সে বলে স্টাইন্স গেইট টাইমলাইন বলতে কিছুই নেই, সবই তার অলীক কল্পনা ছিল। ম্যাড সায়েন্টিস্ট ওকাবে রিনতারো হয়ে যায় স্বল্পভাষী স্বাভাবিক যুবক যে কিনা নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় আর বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করে। ফিউচার গ্যাজেট ল্যাবরেটরির ০০১ নাম্বারধারী মেম্বারের আর পা পড়ে না ল্যাবে। যে মায়ুরির জন্য এতকিছু সে নিজেও ল্যাবে আসলে ফাঁকা ফাঁকা বোধ করে।

কাহিনীর মোড় ঘুরে যায় যখন এক সেমিনারে একটি AI (আর্টিফিশিয়াল ইনটিলিজেন্স) এর উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে ওকাবে হাজির হয়। সেখানে তরুণী বিজ্ঞানী হিয়াজো মাহো (আমাদের লিগাল ললি!) এবং অধ্যাপক লেনস্কিনের সাথে ওকাবের পরিচয় হয়। মাহো আর লেনস্কিন Amadeus নামের এক AI সিস্টেমের আবিষ্কর্তা। ওকাবে জানতে পারে যে মাহো আর কুরিসু একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল এবং তারা একই বিষয়ের উপর গবেষণা করেছে৷ ওকাবে এটা জেনে দারুণ অবাক হয় যে আমাডেউস সিস্টেমটি তৈরি করা হয়েছে কুরিসুর মেমরির উপর ভিত্তি করে৷ কম্পিউটারের স্ক্রিনে জলজ্যান্ত কুরিসুকে দেখে ওকারিন তো প্রায় পাগলপ্রায়। প্রফেসর আর মাহো ওকাবেকে অনুমতি দেয় AI টির সাথে নিয়মিত কথাবার্তা বলে সিস্টেমটির উন্নতি ঘটাতে৷ ওকাবের ফোনে আমাডেউস ইনস্টল করে দেওয়া হয় আর সেখান থেকেই ওকাবে আবার টাইম ট্রাভেল জগতের ভয়ংকর বেড়াজালে আটকা পড়ে।

প্রতিক্রিয়া:
স্টাইন্স গেইট এনিমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ নিঃসন্দেহে এর স্টোরি আর সেই স্টোরির টুইস্ট। জিরোর স্টোরিতে সেটা ভালভাবেই বিদ্যমান ছিল। আগের সিরিজের প্রথম কয়েকটা পর্ব ছিল বেশ ধীরগতির। ইউনিভার্স আর চরিত্রগুলাকে ব্যাখা করতে গিয়ে এরকম হয়েছিল বলে মনে করি৷

জিরোতে মোটামুটি ভালরকমভাবে সবকিছু আগে থেকে গোছানো থাকায় প্রথম পর্ব থেকেই পেসিং বেশ সুন্দর মনে হয়েছে। বেশ কয়েকটা নতুন চরিত্র ছিল, তাদেরকে বেশ ভালভাবেই কাহিনীতে জায়গা দেয়া হয়েছে৷ তাছাড়া পুরনো চরিত্রগুলোকেও নতুন ডেভেলপমেন্ট দেয়া হয়েছে৷ ওকাবের নতুন রূপকে কেন জানি একটু বেশীই ভাল লেগে গিয়েছে। সারাদিম আকাশ-কুসুম কল্পনা করার ওকাবের বদলে শান্ত-সৌম্য, ধীরস্থির, স্বাভাবিক ওকাবেকেই বেশী মনে ধরেছে।
তাই বলে হওয়িন কিয়োমার রিটার্নের জায়গাটা খারাপ ছিল এটা কোনভাবেই বলা যাবে না৷ মুহাহাহা করে সেই শয়তানি হাসিটা দেওয়ার পর তো গায়ের রোম পুরো খাড়া হয়ে গিয়েছিল, রক্ত চলাচলও সম্ভবত বেড়ে গিয়েছিল তিন বছর পর হাসিটা শোনার কারণে৷ পলকের মধ্যে শার্ট-প্যান্টের উপর ওকারিনের ল্যাবকোট গায়ে দেয়ার দৃশ্যটা সম্ভবত এনিমেটার সেরা জায়গা ছিল।

অন্য চরিত্রগুলার মধ্যে দারুণ উন্নতি হয়েছে দারু আর মায়ুশির৷ বিশেষ করে মাথাঠাণ্ডা দারুর এরকম দারুণ আকর্ষণীয় দিক আছে তা কে জানতো! আগের সিরিজে তো দারুর পার্ভার্টনেসটাকেই বেশী দেখিয়েছে। এখানে বোঝা গেছে কেন দারু ভবিষ্যতে টাইম মেশিন আবিষ্কার করতে সমর্থ হয়েছে। সুজুহার ব্যাপারটা জানা থাকায় দারুর পিতৃসুলভ আচরণ অনেক দেখা গেছে যা অনেক নান্দনিক ছিল। ইউকির সাথে ডেইটের পর ছাদের উপর বিষণ্ণ দারুকে দেখে অনেক খারাপ লেগেছিল।

অন্যদিকে জিরোতে মায়ুশির কাজকর্মের পরিধি ছিল অনেক বিস্তৃত। মায়ুশির চিন্তাভাবনার অনেক গভীর দিক দেখিয়েছে সিরিজটা। আগের সিরিজে অনেকটাই সাক্ষী গোপাল থাকায় অনেকের হয়তো মায়ুশিকে মনে ধরে নি। এবার তাদের আগের চেয়ে মায়ুশিকে বেশী লাগবে আশা করি। আর এতদিন পর ‘তুত্তুরু’ শোনার আনন্দ তো আছেই।

সুজুহা চরিত্রটা এ সিরিজে আরো বেশী গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটা অ্যাকশন সিন দুর্দান্ত হয়েছে সুজুহা আর কাগারির কল্যাণে। আগের সিরিজে সেরকম কোন অ্যাকশনই ছিল না। এবার তো মিলিটারি অ্যাকশন দেখিয়ে আরো ডার্ক হয়ে উঠেছিল সিরিজটা।

নতুন চরিত্রগুলার মধ্যে কাগারিকে অতটা ভাল লাগে নি আমার৷ ওর ‘মমি’, ‘মমি’ শুনতে বেশ বিরক্তই হয়েছিলাম। তবে কাহিনীর সাথে চরিত্রটা বেশ মিশেছিল। আর মাকিসের মত চেহারা হওয়ায় তো রীতিমত বুকটা ধকই করে উঠেছিল প্রথমবার তাকে দেখে।

বেশী ভাল লেগেছে হিয়াজো মাহো চরিত্রটা। মেয়েটা এতই ছোট যে পাঁচ ফুটও লম্বা হবে কিনা সন্দেহ!মাহোর প্রতিনিয়ত নিজেকে মাকিসের সাথে তুলনা করার জায়গাগুলা well written ছিল। সালিয়েরি আর মোজার্টের তুলনাকে রূপক হিসেবে দেখানোটা দুর্দান্ত ছিল। স্টায়েন্স গেইট একটা কল্পবিজ্ঞান এনিমে হলেও এতে যেন জ্ঞানের সব শাখার ছোঁয়া থাকে একটু হলেও৷ তো মাহোর প্রসঙ্গে ফিরে আসি।
মাহোর সাথে ভাল একটা ডেভেলপমেন্টই দেখানো হল ওকাবের৷ আমি ভাবছিলাম ক্যানন লেভেলের একটা শিপিংই কি শুরু করেছি নাকি! জিনিসটার মীমাংসা যেভাবে হয়েছে সেটা আমার খারাপ লাগে নি। মাহো খুব সুন্দর করে মিশে গিয়েছিল ফিউচার গ্যাজেট ল্যাবরেটরির সাথে।

আগের সিরিজের মত রুকাকোর সাথে ভাল একটা মোমেন্ট ছিল ওকাবের৷ দেখে বেশ আবেগপ্রবণই হয়ে পড়েছিলাম। মাঝে মাঝে মনে হয় রুকাকোর সাথেই মনের মিল হোক ওকাবের! (সমস্যা নেই, ভিজুয়াল নভেলে একটা রুট শুধুমাত্র এই দুজনের জন্যই!)

আর যার কথা না বললেই নয় সে হল মাকিসে কুরিসু। কাহিনীতে সশরীরে উপস্থিত না থাকার পরেও প্রেতাত্মার মত আমাকে তাড়িয়ে বেরিয়েছে চরিত্রটা৷ ওকারিনের মতই সিরিজটার প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে মাকিসের অভাব অনুভূত করছিলাম। আবার আমাডেউসের স্ক্রিনে তাকে দেখে দুধের স্বাদ বিন্দুমাত্র ঘোলে মিটছিল না। উল্টো বারবার মনে পড়ছিল মাকিসে এখন মৃত৷ ভাল রকমের ইমোশানাল ব্ল্যাকমেইল করে ছেড়েছে মাকিসে আমাকে বলতে হবে। ওকারিন যে পর্বে কিছুক্ষণের জন্য আলফা টাইমলাইমে চলে যায় সে পর্বটা এত বেদনাবিধুর ছিল! মাকিসে যেভাবে বেটা টাইমলাইনের ওকাবেকে শান্ত করে ওকে ভবিষ্যতে কী করতে হবে তা বুঝিয়ে দিয়েছিল সেটা খুব ভাল লেগেছিল৷ এর মাধ্যমে মাকিসে কুরিসু আবারও বুঝিয়ে দিল সে কেন এত জনপ্রিয় হওয়ার যোগ্য। ভাল থাকুক আমাদের ওয়াইফু সে যেখানেই থাকুক না কেন!

স্পয়লার অ্যালার্ট 
*
*
*
*
*
জিরোর একটা ভাল দিক ছিল যেখানে স্টায়েন্স গেইটের দুনিয়াটা খুব বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছে। ২০২৫ আর ২০৩৬ সালের দুনিয়াকে খুব ডিটেইলড দেখানোতে আমরা আরেকটা বিশ্বযুদ্ধের।ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরেছি। ওকারিনের ৩০০০ বার টাইম লিপের জায়গাটা অসাধারণ ছিল। সেই ২০৩৬ থেকে ২০১১ তে ফিরে আসা, তারপর আমাডেউসকে মুছে দিয়ে convergence মোচন করা, তারপর সফলভাবে টাইম মেশিনকে রক্ষা করা; সবই খুব দারুণভাবে দেখানো হয়েছে। আরেকটা চমৎকার দিক ছিল শেষে ওকাবে স্টাইন্স গেইট খুঁজে পেয়েছে কিনা তা পরিষ্কার না দেখানো। লেখকরা বেটা টাইমলাইনের দায়িত্ব দর্শকদের হাতে ছেড়ে দিয়ে দারুণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। অবশ্য স্টাইন্স গেইটের মত এনিমের কাছ থেকে এমন সমাপ্তি আশা করাই যায়!

আর ম্যাড সায়েন্টিস্ট হওয়িন কিয়োমার পূর্ণাঙ্গ আগমন সমাপ্ত হয় ২৩ নং পর্বের শেষ দুই মিনিটে। স্পয়লার অ্যালার্ট থাকার পরেও কেউ যদি এই জায়গাটা পড়ে ফেলেন তাই কিছু লিখলাম না এই ব্যাপারে৷ শুধু বলবো 18000 B.C এর জায়গাটা আমার জীবনে দেখা অন্যতম সেরা এনিমে মোমেন্ট ছিল।
*
*
*
স্পয়লার অ্যালার্ট সমাপ্ত

স্টাইন্স গেইটের ওএসটি নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। স্টাইন্স গেইট মানেই যেন Ito Kanko, এবারও একগাদা গান ছিল ভদ্রমহিলার। ওপেনিং সং Fatima দারুণ লেগেছে, পরে জানলাম লিরিকের দিক দিয়ে এটা Hacking to the Gate এর উত্তরসূরি। ভালই লেগেছে পুরো সিরিজ ধরে একটা মাত্র ওপেনিং সং রাখায়৷ এন্ডিং দুটোই ভাল ছিল। Last Game, Amadeus সবগুলা গানই ভাল ছিল।

আর নতুন সাউন্ডট্র‍্যাকগুলা অত খেয়াল করি নি তেমন। তবে বরাবরের মত Gate Of Steiner আর Christina ট্র‍্যাক দুটো শুনে শিহরিত হয়েছি৷ শেষের পর্বে আবার Hacking to the Gate ও বেজে উঠেছিল কিছুক্ষণের জন্য! লিরিকসহ Gate Of Steiner এর একটা ইংরেজি বোনাস ট্র‍্যাকও আছে৷ এখনো কানে বাজছে গানটা, লুপ সরাতে পারছি না একদম!

যদিও জানি জাপানি ভয়েস অ্যাক্টিং সবসময়েই উৎকৃষ্ট তারপরেও ২১ পর্ব পর্যন্ত ডাবেই দেখেছি এনিমেটা৷ ফলাফল আবারও কানা হানাজাওয়া আর মামোরু মিয়োনোর ভয়েস মিস! তবে সেটা কোন ব্যাপার না। যে গুটিকয়েক এনিমের ডাব, সাবের সাথে তুলনা করতে পারে তার মধ্যে স্টাইন্স গেইট একটা৷ আমার আবার মায়ুশির ইংরেজি ভয়েসটা বেশী ভাল লাগে কিনা! কানা হানাজাওয়ার ভক্তরা আমাকে মেরে বসবেন না কিন্তু!

রেটিং: ১০/১০

Bakuman [লাইভ অ্যাকশন রিভিউ] — Farhad Mohsin

Bakuman live

দেখে ফেললাম বাকুমান লাইভ একশান মুভি।

কদিন আগে গ্রুপেই ডেথ নোটের আম্রিকান লাইভ একশন মুভি নিয়ে কথা হচ্ছিল। কিভাবে মুভিতে মূল আনিমে/মাঙ্গার গল্প তো বটেই, আনিমের “soul” ও ধ্বংস করে ফেলেছে। এর উল্টোটাও যে হয় না, তাও অবশ্য না। রুরৌনি কেনশিনের মুভি ট্রিলজি আমার বেশ লেগেছিল। মনে হয়েছিল, হ্যাঁ ঠিক ঠাকই তো আছে সব। শিশিওর থেকে আসা ভীতিকর আভা পর্যন্ত মনে হয় আনিমের কাছাকাছি যেতে পেরেছিল।

বাকুমানের ক্ষেত্রে চিন্তাটা বেশি, কারণ এর “মূল উপাদান” ও বেশি। একদিকে যেমন বাকুমান চিরকালের জন্য ‘The manga about making manga’ উপাধিটা নিজের করে নিয়েছে, অপরদিকে এটি নাকামা পাওয়ার, রাইভালরি, deplorable antagonists দিয়ে সাজানো বেশ উপভোগ্য ব্যাটল মাঙ্গাও বটে। আর সাথে মাশিরো-আজুকি’র রোমান্স এলিমেন্ট তো আছেই; ব্যাকড্রপে রেখেও শোনেন মাঙ্গার “Final Villain” হিসেবে কিভাবে রোমান্সকে ব্যবহার করা যায়, তার একটা আদর্শ উদাহরণ এই বাকুমান। মুভি করতে গেলে আসলে গুরুত্ব দিবে এই তিন এলিমেন্টের কোনটিকে?

শেষমেশ রোমান্সের দিকে না গিয়ে শোনেন পথটাই বেছে নেয় ফিল্মমেকাররা। এমন না যে রোমান্স নেই, আছে এবং বেশ ভালো ভূমিকাও আছে। তাও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমার মতে বাকুমানের সবচেয়ে রোমান্টিক সিন (স্পয়লারহীন থাকার স্বার্থে বলছি না কোনটা) ব্যবহার না করা, বরং উলটা মুভির এন্ডে সাফল্যের কৃতিত্ব শোনেন এলিমেন্টের দিকে দিয়ে দেওয়াটায় মনে হয়েছে, conscious decision হিসেবেই রোমান্সকে de-priorotize করা হয়েছে। নিজুমা এইজি’র সাথে রাইভ্যালরিকে মুভিতে ভিজুয়ালি একটা ফিজিক্যাল রূপ দিয়ে একটা লম্বা সময় কাটানোটাও এর দিকেই নির্দেশ করে। আর মাঙ্গার প্রোডাকশনের ব্যাপারটা সময়স্বল্পতার কারণেই হয়তো কেটে দিতে হয়েছে। Shonen Jump সম্পর্কে, আর্টিস্টদের প্র্যাক্টিস ও জীবন নিয়ে যা একটু জানি, তা ন্যারেশন থেকে। গল্পের প্রবাহ থেকে না। মূল মাঙ্গাতে অনেক বেশি সময় পেয়েছিল সব flesh out করার জন্য, যা এখানে অনুপস্থিত। তার পরেও, যা করেছে মন্দ করে নি।
ভাল্লাগে নি যা যা: মাশিরোকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে তাকাগির যথেষ্ট ডেভেলপমেন্ট হয় নাই। তাকাগিকে যে ফোকাস দেয় নি, সেটা অবশ্য তার ব্যাকস্টোরি চেঞ্জ করে ফেলা থেকে প্রথমেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মাঙ্গা/আনিমেতে আশিরোগি মুতো’র সাফল্যের জন্য মাশিরোর সমপরিমাণ কৃতিত্বের দাবিদার তাকাগি। এইটা পোর্ট্রে না করায় কিঞ্চিত মেজাজ গরম হয়েছে।

সব মিলিয়ে আমার রেটিং 6.5/10।
বাকুমান ফ্যানদের জন্যও Must watch না।

The Red Turtle [মুভি রিভিউ] — Torsha Fariha

Red Turtle 3

মুভির নামঃ Red Turtle
Production Company: স্টুডিও জিবলি ও ওয়াইল্ড বাঞ্চ। 
IMDb Rating: ৭.৬
Personal Rating:

২০১৭ সালের অস্কারের best animation feature film এর ক্যাটাগরিতে নমিনেশন পাওয়া।

খুব ছিমছাম সুন্দর ৮০ মিনিটের একটা মুভি। জটিল কোন কাহিনী না, স্নায়ুতে টান ধরানো কোন ক্লাইম্যাক্স না, খুব খুব খুব সাধারন একটা মুভি। এবং খুব চুপচাপ। হাসি আর কিছু চিল্লানো ছাড়া এখানে আর একটা কথাও নেই। মুভির সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং জিনিস মনে হয় এটাই। একটা কথাও না বলে কিভাবে এত সুন্দর একটা কাহিনী ফুটিয়ে তোলা যায়!

কাহিনী খুবই সরলরেখার। জাহাজভাঙ্গার পর এক লোকের জ্ঞান ফিরে নাম না জানা এক দ্বীপে। কয়দিন ধাতস্ত হওয়ার পর প্রথম সুযোগেই সে ভেলা বানায় দ্বীপ ছাড়তে যায়। কিন্তু প্রতিবারই একটু কিছুদূর যাওয়ার পর ভেঙ্গে যায় ভেলাটা। কয়েকবার চেষ্টার পর সে আবিষ্কার করে একটা লাল রঙের কচ্ছপের কাজ এটা।

গল্পটা বেশ ছোটই তাই আর বলতে গেলে এক-দুইটা যে টুইস্ট আছে সেগুলাও বলা হয়ে যায়। তাই বাকিটুকু জানতে দেখতে হবে মুভিটা।

Red Turtle 1

এবার আসি সৌন্দর্যের কথায়। মুভিটা এককথায় চোখের শান্তি। ধূ-ধূ সাগরতট, সবুজ বন, নানা শেডের নীল পানি, উঁচু উঁচু ঢেউ দেখতে খুব ভাল লাগে। কিন্তু সাথে একটা একাকীত্বের অনুভূতি আসে। আমার দেখতে গিয়ে মনে হয়েছে, খাবার-পানি ছাড়া যেমন বাঁচা যায় না, তেমনি বি-শা-ল একটা জায়গায় একা থেকেও বাঁচা যায় না।

এবার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। ডায়ালগের ঘাটতি আসলে এখানে অনেকখানিই মিটিয়ে দিয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। খুব সুদিং।

Red Turtle 2

এমনিতে ড্রব্যাকের কথা যদি খুঁজে খুঁজে বলতে হয়, তবে বলব মুভিটা একটু স্লো। যারা এক্সাইটিং কিছু খুঁজছেন তারা মনে হয় কিছুটা হতাশই হবে। তবে এটা ঠিক ড্রব্যাক না। মুভির জানরাই এমন। স্লাইস অফ লাইফ- সুপার ন্যাচারাল যাদের পছন্দ কিংবা বেশ কিছুদিন ধরে যারা একশন-থ্রিলার দেখছেন, অথবা আমার মত আনিমে দেখা থেকে প্রায় অবসর নিতে বসেছেন- মোট কথা সবারই এই মুভি পছন্দ হবে।

মুভিটা আমার কাছে অনেকটা ছুটি কাটানোর মত রিল্যাক্সিং লেগেছে।

তাই, না দেখে থাকলে দেখে ফেলতে পারেন। সময়টা সুন্দর কাটবে।

Red Turtle 4