Movie Time With Yami – Pseudo Episode (টিং টং মুভি টাইম)

টিং টং, সিউডো মুভি টাইম উইথ ইয়ামি

আজকে মুভি দিবস পালন করলাম, তাই মেলাদিন পরে মুভি নিয়ে আবার কিছু লিখতে ইচ্ছা হল। রিভিউ টিভিউ দেয়া ধাতে পোষাবে না, কোনটা কেমন লাগল খালি সেটা লিখতেসি।

Penguinhighway

১. পেঙ্গুইন হাইওয়ে –

খুবই ভাল লেগেছে। বাচ্চাকাচ্চা পোলাপানের ইঁচড়েপাকা গবেষণা, ট্যান্ট্রাম থেকে শুরু করে শহরের মাঝখানে পেঙ্গুইনের আবির্ভাব, সবমিলিয়ে মোটামুটি উদ্ভট একটা প্লটকে খুব এঞ্জয়েবল ভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। একটা মুহূর্তের জন্যও স্লো বা বোরিং লাগেনি। অ্যানিমেশন, ওএসটি খুবই সুন্দর। যেকোনো আনিমেতে আমি ব্যাকগ্রাউন্ড, বাড়িঘর, গাছপালা, আকাশ বাতাসের দিকে আলাদা করে নজর দেই, এইখানে সেগুলো খুবই যত্ন নিয়ে বানিয়েছে, so I’m happy!!

Kimitonamininoretara

২. কিমি তো নামি নি নোরেতারা –

আমি খুবই খুশি যে সিনোপসিস না পড়ে বা কোনোরকম গবেষণা ছাড়া শুধুমাত্র পোস্টার দেখে এই মুভি দেখতে বসেছিলাম। এইজন্য শুরুর ২৪ মিনিটের মিষ্টি অংশটুকু খুব ভাল লেগেছে দেখে। এরপরে মোটামুটি ইমোশনের আপ ডাউনের উপর দিয়ে পার করেছি। প্লট মোটেও নতুন না, এর আগে এরকম প্লট নিয়ে আরও মুভি হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে, এক্সিকিউশনের কারণে কাহিনিটা আপন আপন লেগেছে। এন্ডিং পছন্দ হয়েছে। অ্যানিমেশন, ওএসটি ভাল, আমার মাথায় এখন মুভিতে অতি ব্যবহৃত গানটা কন্টিনিউয়াস ঘুরপাক খাচ্ছে।

Ninokuni

৩. নি নো কুনি –

উপরেই রাইড ইওর ওয়েভ নিয়ে যেটা বললাম, সেটার উল্টা ভার্সন এখানে বলব। ইসেকাইতে যাতায়াত, এই টাইপ প্লট মনে হয় তেমন আনকমন না, ওয়েল রিসিভড বলেই হয়ত, কিন্তু আমার মুভিটা তেমন ভাল লাগে নি। 30 minutes into the movie I got bored. পেসিং বাজে লাগল, একেবারেই টানছিল না আমাকে। অন্তত ২০/৩০ বার বোরড হয়ে উঠে গিয়ে অন্য কাজ করে এসে আবার বসেছি। কাহিনী বেশিই প্রেডিক্টেবল, ওয়েল প্রেডিক্টেবল হলে আমার কোনো সমস্যা হয় না ইউজুয়ালি, এটার এক্সিকিউশন ভাল লাগে নি। মেদেতাশি মেদেতাশি মার্কা এন্ডিংটা আমি দুই মাইল দূর থেকে চারচোখো হওয়া সত্ত্বেও দেখতে পাচ্ছিলাম, খুব পেইনফুল ভাবে সেটাই ঘটল। অ্যানিমেশন আহামরি লাগেনি, ওএসটি আদৌ শুনসি কিনা মনে পড়ে না

(নোট – এককালে কোনো কিছু বেশি ভাল লাগলে বলতাম “অতিরিক্ত ভাল লেগেছে”। Today this award goes to Penguin Highway )

Run with the Wind [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Run with the Wind 1
তখন হয়তবা ক্লাস সেভেন নাকি এইটে পড়ি, ভোরবেলায় খালি রাস্তায় শহর যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন কানে ইয়ারফোন দিয়ে খালি পথে দিব্যি দৌড়িয়ে যাওয়া অনেক প্রিয় ছিলো। দৌড়িয়ে যাবার সময় বাতাস নিজের পাশ দিয়ে যাচ্ছে তখন যেই অনুভূতিটা আসে তা আসলেই খুব বিশেষ ধরণের। Run with The Wind এনিমেটা দেখে আবার স্মৃতিগুলো মনে পড়লো।
এনিমের কাহিনীটা হাকোনে একিদান প্রতিযোগিতামূলক ম্যারাথনের উপর। প্রতিটি ভালো স্পোর্টস এনিমের মতো এখানেও এটা দৌড়ের প্রতিযোগিতা নিয়ে যতটুকু তার চেয়ে বেশি এর চরিত্রদের নিয়ে বিশেষ করে হকোনের কষ্টসাধ্য পথে ঝড় হোক কিংবা বৃষ্টি হোক সেই ২১৭.৯ কিলোমিটার পথে দৌড়িয়ে যাওয়ার পিছে তাদের প্রত্যেকের নিজেদের প্রেরণা নিয়ে। এনিমেটা শুরু হয় মুল চরিত্র হাইজি তার ডর্মের সবাইকে ব্লেকমেইল করে হাকোনে দলগত ম্যারাথনে অংশগ্রহণের জন্য। যে যতই অনিচ্ছুক হোক, একে একে সবাই শেষমেশ রাজি হয় অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও। সবচেয়ে চমৎকার বিষয়টি হচ্ছে সিরিজ শেষে যখন সবাই হাকোনের রেইসে অংশগ্রহণ করে ততদিনে সবার জন্যই ওখানে দৌড়ানোর প্রেরণা ভিন্ন। কারো জন্য তা হাইস্কুলের অনুশোচনা মেটানো আবার কারো জন্য এটা নতুন এক পথ খোঁজার প্রচেষ্টা। সিরিজটার সাউন্ডট্র্যাক বিশেষ করে প্রতিটি বিশেষ মুহূর্তকে আরো স্মরণীয় করে রাখে। গতকাল থেকে সারাদিন “We Must Go” আর “Mutual” বার বার শুনছি।
সিরিজটার একটা হতাশার বিষয় হচ্ছে সাকাকি কউস্কে চরিত্রটি। এই সিরিজে সে নতুন ট্রান্সফার স্টুডেন্ট কাকেরুর পুরনো ট্র্যাকটিমের একজন সদস্য। দুঃখজনক ভাবে তার চমৎকার এক বেকস্টোরি এবং কুরাহারার প্রতি তার বিতৃষ্ণা থাকার এতো চমৎকার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যাবহার করা হয়েছে এই সিরিজে। এটাই সম্ভবত পিং পং এর মতো এনিমের সাথে রান ইউথ দ্যা ইউন্ডের মতো এনিমের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য। সাকাকি যদি পিং পং এনিমেশনে থাকতো তাইলে সে নিঃসন্দেহে সিরিজের সেরা চরিত্রগুলোর মধ্যে থাকতো। ভালো বেকস্টোরি, জাস্টিফাইড মোটিভেশন সবই ছিলো কিন্তু রান ইউথ দ্যা ইউন্ড তাকে কেবল গতানুগতিক এক সস্তা পার্শ্ব-চরিত্র হিসেবেই ব্যাবহার করেছে।
সিরিজটা যদিও কোনো কিছু একদম নতুন নিয়ে এসেনি স্পোর্টস জন্রার এনিমের জন্য তাও এর গল্পবলার মৌলিক জিনিসগুলো এতো চমৎকার ভাবে দেখিয়েছে যে অন্যকিছুর প্রয়োজন হয়নি। হ্যাঁ সাকাকি কিংবা ফুজিয়ামার মতো পার্শ্ব-চরিত্র গুলো আরো সময় পেলে প্রতিযোগিতাটা আরো ভালো লাগতো কিন্তু তাও এই সিরিজ যা দিয়েছে তা কোনক্ষেত্রে কম নয়। হয়তবা এটা মাসাকি ইয়ুয়াসার পিং পং দ্যা এনিমেশনের মতো টপ টিয়ার লেভেলের না কিন্তু ছুটির দিনে ল্যাপটপটা ছেড়ে একদিন দেখতে বসলে দেখবেন আপনি বোঝার আগেই এনিমেটার এই উদ্ভট সব চরিত্রগুলোর সাথে জড়িয়ে যাবেন। ২৩ পর্বের সময় যেনো নিমিষেই ফুরিয়ে যাবে।
Run with the Wind 2

Gankutsuou: The Count of Monte Cristo [রিভিউ] — Siam Maksud

Gankutsuou 1

Gankutsuou: The Count of Monte Cristo

Episodes: 24
Genre: Sci-fi(!)
MAL Rating: 8.4

আলেকজান্ডার দ্যুমার “দ্যা কাউন্ট অফ মন্টে ক্রিস্টো” বইটি হয়ত অনেকের পড়া। পড়ে না থাকলে বলব কপাল অনেক ভাল। পুরোপুরি এঞ্জয় করতে পারবেন এনিমেটি। বইটির প্লটকেই স্কেলেটন ধরেই এগিয়ে গেছে গল্প। একজন দুর্ভাগা মানুষের চূড়ান্ত প্রতিশোধের গল্পই এটা। এখন জনরায় সাই ফাই দেখে অনেকের চোখ কপালে উঠতেই পারে। ১৮০০ সালের প্লটকে রূপ দেয়া হয়েছে ৫০৫৩ সালের মহাকাশে বিস্তৃত সভ্যতার গল্পে। এখানেই জাদু-কোনো আবেদনই কমেনি তাতে, বরং বেড়েছে।

অল্প কথায় প্লট বলতে গেলে, ৫০৫৩ সালে পৃথিবীর বাইরে লুনায় (সম্ভবত আমাদের চাঁদই) বেড়াতে যায় ফরাসী এরিস্টোক্র‍্যাট ফ্রাঞ্জ ও তার বন্ধু আলবার্ট। তাদের পরিচয় হয় অদ্ভূত রহস্যময় চরিত্রের লর্ড কাউন্ট অফ মন্টে ক্রিস্টোর সাথে। সে পরিচয়ের জের ধরেই প্যারিসে আসেন তিনি। সম্ভ্রান্ত ফরাসী সমাজের অনেক উচ্চমহলে জায়গা করে নেন তিনি। ধীরে ধীরে বুনতে থাকেন বিশাল এক জাল । এরপর বললে স্পয়লার হয়ে যাবে।

এনিমেটির সবচেয়ে সুন্দর দুটি বস্তু হচ্ছে ভিজুয়াল আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। এত কালারফুল সাররিয়েল আর্টস্টাইল, আভিজাত্য আর প্রযুক্তির এত সুন্দর মিশেল আমি অন্য কোনো এনিমেতে পাইনি। দেখতে দেখতে কিছুক্ষণের জন্য ধুলোমাখা আর ধূসর পৃথিবী থেকে দূরে চলে যাওয়া যায়। কাহিনীবিন্যাস বেশ ভাল। যদিও শেষের দিকে এসে কয়েক এপিসোড বেশি টানা হয়ে গেছে লাগে৷ কিন্তু শেষটা বেশ সুন্দর আর ভাল লাগার মতো৷ রাজনীতি, মানুষের অভ্যন্তরীণ লোভ, আভিজাত্যের মুখোশে ঢাকা পরা পাপ, বন্ধুত্ব আর বিশ্বাসঘাতকতার এক অনিন্দ্যসুন্দর মিশেল পাওয়া যায় এতে।

যারা এনিমেতে ম্যাচিউরড গল্প খোঁজে আর ভালবাসে ভিন্ন ঘরানার ভিজুয়াল, তাদের জন্য মাস্টওয়াচ।

বিঃদ্রঃ হাই রেজ্যুলিউশনে দেখার অনুরোধ করব।

Gankutsuou 2

Kimetsu no Yaiba [রিয়্যাকশন/সাজেশন] — Shifat Mohiuddin

KnY 1

সত্যি বলতে এই সিজনে এই এনিমেটা যে বের হচ্ছে তা আমি জেনেছি অনেক পরে। AOT আর OPM এর উপরেই মনযোগটা নিবদ্ধ ছিল বেশী, সিজনের নতুন জিনিস হিসেবে কোন এক কারণে Fairy Gone ই দেখছিলাম শুধু। কারণ ছিল ইন্টারনেট হাইপ আর শিল্প বিপ্লব পরবর্তী ঘরানার পটভূমি। অথচ যে কয়টা পর্বই দেখলাম আপাতত, ফেয়ারি গন পুরোই হতাশ করছে আমাকে এপর্যন্ত। তখনই আসলে কিমেতসু নো ইয়াইবা নিয়ে গ্রুপের বিভিন্ন পোস্ট বিশেষ করে গ্রুপের কাভার ফটোর সুন্দর পোস্টটা চোখে পড়লো। সেখান থেকেই জানতে পারলাম এনিমেটা ইউফোটেবলের, আমি মোটামুটি ইউফোটেবলের ফ্যানবয় হিসেবেই দাবী করি নিজেকে, এখন এত বড় খবর মিস হয়ে যাওয়ায় নিজের কাছে নিজেরই লজ্জায় মাথা কাটায় যোগাড়!

তো প্রথম পর্বটা প্লে করার সাথে সাথেই হুকড হয়ে গেলাম বরফে আচ্ছাদিত ল্যান্ডস্কেপ দেখে। তাতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখতে অসাধারণ সুন্দর দেখাচ্ছিল যদিও মনে মনে বিশাল অমঙ্গলের আশা করছিলাম। শেষমেশ কী যে বিশাল অমঙ্গল হয়েছে তা তো দর্শকদের সবার জানাই! তারপর বলতে গেলে একটানেই দশটা পর্ব দেখে ফেললাম। সেই ডিসেম্বরে গুরেন লাগান দেখার পর আর কোন এনিমে এভাবে একটানা দেখতে পারি নি। সে হিসেবে জিনিসটা খুব স্বস্তির ছিল, ভয় পাচ্ছিলাম যে এনিমের প্রতি আগের সেই অনুরাগ হারিয়ে ফেলছি বুঝি।

তো এনিমেটার যেসব জিনিস ভাল লেগেছে তা সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরছি:

প্রথমেই এনিমের শুরুটা, প্রথম পর্বেই যথেষ্ট পরিমাণে ভায়োলেন্স আর গোর দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে এনিমেটা ডার্ক ফ্যান্টাসি ঘরানার। এটাতে যে দর্শকদের অনেক আশার প্রতিফলন হবে না তাও যেন জানান দেয়া হল। প্রথম পর্ব হিসেবে যথেষ্ট ক্লাইমেটিক ছিল যা দর্শকদের এনিমেটা আরো দেখাতে আগ্রহী করেছে বলতেই হবে।

দ্বিতীয়ত ইউফোটেবলের অসাধারণ ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের কাজ। বিশেষ করে তানজিরোর মুভমেন্টের সাবলীলতা। জানি না কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ফ্লুয়েন্সিটা আনা হয়, সম্ভবত মোশন সেন্সর জাতীয় কিছু দিয়ে। এ ঘরানার ফ্লুয়েন্ট মুভমেন্ট দেখেছিলাম Kara no Kyoukai সিরিজের মুভিগুলাতে। সবার নিশ্চয়ই শিকির করিডোর ফাইটের কথা মনে আছে! তানজিরোর থ্রি ডাইমেনশনাল নাড়াচাড়ার সাবলীলতা মুগ্ধ করার মত। অন্যকোন স্টুডিও হলে নিশ্চিত ভজকট পাকিয়ে ফেলতো, ভিডিও গেইম অ্যাডাপ্টেশনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ইউফোটেবলকে এখানে অনেক সাহায্য করেছে মনে করি।

KnY 2

আরেকটা ভাল লাগা ছিল এনিমেতে সুন্দর সিজিআইয়ের ব্যবহার। সাথে সাথে এটাও স্বস্তিদায়ক ছিল মানুষ ও বিশেষ করে ডিমনগুলাকে পরিশ্রম বাঁচানোর জন্য সিজিআই দিয়ে অ্যানিমেট না করাটা! আসলে চলন্ত আর নাড়াচাড়া করা জিনিস অ্যানিমেট করার বেলায় হাতে আঁকা ফ্রেমই এখনো শ্রেষ্ঠ। অথচ সেই জায়গায় ফেয়ারি গনের ফেয়ারিগুলাকে সিজি দিয়ে বীভৎস বানানো হয়েছে।  ইউফোটেবল খুব বুদ্ধিমানের মত অন্ধকার জঙ্গল, গাছপালা, বাড়িঘর ইত্যাদিকেই শুধু সিজি দিয়ে তৈরি করেছে। আর আমরা তো সবাইই জানি ইউফোটেবল রাতের দৃশ্য বানানোর ওস্তাদ! (UBW দ্রষ্টব্য) সেই হিসেবে KNY এনিমেটার বলতে গেলে সব মেজর দৃশ্যই রাতে, (যেহেতু শুধু রাতের বেলাতেই ডিমন আসে) ইউফোটেবলের অ্যাডাপ্ট করার জন্য একেবারে পারফেক্ট এনিমে ছিল এটা।

এনিমেটার স্টোরি আর ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংয়েরও প্রশংসা করতে হবে। নেজুকোকে ডিমন বানানোর কারিগরকে বেশ তাড়াতাড়ি স্টোরিতে দেখানোটা খুব ভাল হয়েছে আমার মতে। আবার এটাও জানান দেয়া হয়েছে যে তার বারোজন ঘনিষ্ঠ সহচরও আছে, মানে তাদের মুখোমুখি না হওয়ার আগ পর্যন্ত বস ফাইট হবে না। আবার Demon Slayer Corps. এর অর্ডারেরও বেশী কিছু খোলাসা করা হয়নি। তারমানে অনেক চমকপ্রদ জিনিস এখনো আছে মাঙ্গাকার ঝুলিতে। শুধু নেজুকোকে নিয়ে তানজিরোর একা একা জার্নি করাটাই ভাল লাগছে বেশী আপাতত। শীঘ্রই মনে হয় কমরেড পেতে যাচ্ছে তানজিরো, দেখি তারা কেমন ক্যারেকটার হয়।

এনিমেটাতে যথেষ্ট শৌনেন এলিমেন্ট আছে। যেমন পাওয়ারের নাম মুখে এনে পাওয়ার ব্যবহার করা ইত্যাদি। তানজিরোর সোর্ডের স্কিলগুলা দেখার মত। ওর সোর্ডের পানির যে অ্যানিমেশন সেরকম অ্যানিমেশন আমি এর আগে দেখি না কোনখানে। দারুণ অ্যাস্থেটিক স্কিলগুলা আর নামগুলাও খুব সুন্দর। তানজিরো একদমই মাথা গরম ঘরানার প্রোটাগনিস্ট না, সেটা আরো বড় স্বস্তির। আর তার পাওয়ারফুল হওয়ার কাজটাও হচ্ছে ধীরে ধীরে, আশা করি এই মাঙ্গার মাঙ্গাকা হুটহাট পাওয়ার বাড়ানোর ভুলটা করবেন না। (যেটা নারুতোসহ অনেক ভাল শৌনেন মাঙ্গার বিশাল একটা সমস্যা ছিল।)

এই এনিমের আরেকটা অত্যন্ত আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর মিউজিক, শুনেই বুঝেছিলাম কাজিউরা ইউকির কাজ! বিশেষ করে ডিমন আসার ক্রিটিকাল মোমেন্টে যে অশরীরী choir টা বাজে সেটা পুরোই গায়ের লোম দাঁড় করিয়ে দেয়। এই মিউজিকটা আবার প্রতি পর্বের নাম দেখানোর জায়গাটাতেও দেয়া হয় যেটা দারুণ একটা ভৌতিক আবহ তৈরি করে। প্রতিটা পর্বের নাম যে ক্যানভাসের উপর স্ক্রিপ্ট আকারে আসে সেই জিনিসটাও ভাল লাগে, এনিমেটা যে সম্রাট হিরাহিতো আমলের পটভূমিতে রচিত তা টের পাওয়া যায়।

শেষমেশ এনিমেটার এন্ডিং সংয়ের পর যে ফান সেগমেন্টটা হয় সেটা অনেক প্রশান্তি দেয়। পুরো পর্বের ভয়ানক ভয়ানক ঘটনার পর যখন নেজুকোর মৃদু মৃদু কণ্ঠস্বর শুনি তখন আসলে মন ভাল না হয়ে উপায় থাকে না।

KnY 3

Haikara-san ga Tooru Movie 1: Benio, Hana no 17-sai [রিভিউ] — Trisha Islam

Haikara-san 1

Haikara-san ga Tooru Movie 1: Benio, Hana no 17-sai
Genres: Comedy, Historical, Romance, Shoujo

এই এনিমে মুভিটির প্লট আসলে ১৯৭৫ সালের একটা বিখ্যাত মাঙ্গার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। মুভিটির নামের ট্রান্সলেশন করলে দাঁড়ায় Here Comes Miss High-Collar বা Here Comes Ms. Modern.

মুভিটার সেটিং হল ১৯১৭ অর্থাৎ ১ম বিশ্বযুদ্ধের টাইম পিরিয়ডকে কেন্দ্র করে কাহিনির বিচরন। ঐ সময়টাতে জাপান আস্তে আস্তে একটা আইসোলেটেড আইল্যান্ড থেকে মডার্ন জাপানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সে সময়টা তে ট্রাডিশন আর মডার্নিজম এর মধ্যে যে কনফ্লিক্ট কাজ করছিলো, কিভাবে ট্রাডিশনাল রোলস গুলো পরিবর্তন হচ্ছিল আর বিভিন্ন বয়স এবং শ্রেনীর মানুষ এই পরিবর্তনকে কিভাবে নিচ্ছিলো তা এই এনিমেতে বেশ সুন্দর করে দেখানো হয়েছে। আবার যেহেতু ১ম বিশ্বযুদ্ধে জাপান মিত্রপক্ষের একটা দেশ ছিল, তাই যুদ্ধের ব্যাপারটাও কিছুটা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে এইসব কঠিন কঠিন হিস্টোরিক্যাল বিষয়গুলোর থেকেও বড় কথা হচ্ছে, এটি একটি লাভ-কমেডি। তাই অনেকটা হাসতে হাসতে শেখার মত ব্যাপার আছে।

এখন কাহিনিতে চলে যাই, আমাদের Haikara-san বেনিও হানামুরা (Benio Hanamura) নিজেকে Modern লেডি হিসাবে ভাবেন এবং কিছুতেই ট্রাডিশনাল অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করতে রাজি নন। কিন্তু তার ভ্যাগেই যেন কার সাথে বিয়ে হবে দুই জেনারেশন আগে ঠিক করে রাখা হয়েছে। Modern লেডি, বিদ্রোহি কন্যা তোহ ঝাসির রানি। সে কিছুতেই বিনা যুদ্ধে হার মানবে না।

Haikara-san 2

কাহিনির শুরু হয় এভাবে। এরপর চলতে থাকে বিভিন্ন টুইস্ট অ্যান্ড টার্নের মাধ্যমে তার প্রেমে পড়ার কাহিনি। অনেক ধরনের বাধা আর বিপত্তির মধ্যে কি পারবে বেনিও হানামুরা তার নিজের পছন্দ করা কাউকে জীবন সঙ্গী পেতে? নাকি সে বাধ্য হবে দুই জেনারেশন আগে ঠিক করে রাখা মানুষটার সাথেই ঘর বাধতে? এমনটাও হতে পারে “Fate has some other plans for our miss High-collar”.

এই মুভির আসলে দুইটা পার্ট, যার প্রথমটা হলো এইটা। শেষ পার্ট এখনো আসেনি। বেশ উপভোগ্য একটা মুভি আর আপনার যদি History নিয়ে আগ্রহ থাকে তাহলে তোহ কথাই নেই – ভালো লাগতে বাধ্য। আর্ট ওয়ার্ক বেশ ভালো। আমার নিজের পুরান আর্টের প্রতি এলার্জি আছে তাই অনেক ভালো ভালো সিরিজ দেখা হয় না। কিন্তু এরকম ক্লিন আর্ট দিয়ে সব পুরান এনিমে গুলা রিমেক করলে বেশ হয়।

বেনিও হানামুরা ভয়েস এক্টর হচ্ছে Hayami Saori যার করা Yukinoshita Yukino কে অনেক বেশি ভালো আর Shiba Miyuki কে অনেক বেশি বিরক্তিকর লেগেছিলো। কিন্তু এখানে আবার বেশ উপভোগ করেছি তার কাজ। আর লিড মেইল এর ভয়েস এক্টর হচ্ছে Miyano Mamoru, যার কাজ বেশ ভালো লাগে।

আমার কাছে বেশ লেগেছে আর রেটিং হচ্ছে: ৮।

Kimetsu no Yaiba / Demon Slayer [সাজেশন] — Kazi Rafi

Kimetsu no Yaiba

গল্পের নামঃ কিমেতসু নো ইয়্যাইবা ( ডিম্যান স্লেয়ার)

শ্রেষ্ঠাংশেঃ কয়লা বিক্রেতা তাঞ্জিরো কামাদো, তাঞ্জিরোর আদরের ছোট বোন নেযুকো, পিশাচদেব মাইকেল জ্যাকশন ওরফে মুযান কিবুতশুশি ও প্রমুখ।

কাহিনিঃ কয়লা বেঁচে মোটামোটি দিন চলে যাচ্ছিল তাঞ্জিরো ও তার পরিবারের। কিন্তু কোন পিশাচের জানি ক্যাড়া উঠসিল, সহ্য হইচ্চিল নাহ তাঞ্জিরোর পরিবারের সুখ দেখতে, এক রাত্রে এসে খতম করে দিয়ে গেল পুরো পরিবারকে। ওহ আচ্ছা, তাঞ্জিরো সেদিন আবার কোন এক গ্রামে গেছে কয়লা বেঁচতে, এসে দেখে এই হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। এদিকে পুরো পরিবার ইন্তেকাল করলেও দেখা যায় তাঞ্জিরোর ছোট বোন নেযুকো, মৃত্যুর পরিবর্তে পিশাচ এ পরিণত হইছে কিন্তু এখানেও আবার আরেক জিলাপির প্যাঁচ, বেঁচে থাকা বড় ভাইয়ের প্রতি মায়ার টান আর পরিবারের মর্মান্তিক পরিনাম ভুলতে নাহ পেরে পিশাচ হয়েও কিছুটা মনুষ্যত্ব নিজের মধ্যে ধরে রাখতে পারছে; আচ্চা বড়ই ভাল কথা। এদিকে তাঞ্জিরোর তখন মাথা খারাপ অবস্থা, পরিবার হারায়ে এই বোনরে নিয়ে কেমনে কি করবে কিছুই বুঝতে পারতেছে নাহ। পরে, পিশাচ নিধন করে বেড়ায় এমন এক কোম্পানির বড় ভাইয়ের রেফারেন্সে, পিশাচঘাতক পদে চাকুরী নেয় তাঞ্জিরো। সেইখানেই সেই বড় ভাইয়েরই প্রাক্তন বসের কাছে তাঞ্জিরো জানতে পারে যে ওর পরিবার আর নেযুকোর এই পরিণতির পিছে হাত থাকার ষোলআনা সম্ভাবনা আছে পিশাচদেব মাইকেল জ্যাকশন ও তার কোম্পানির। সাথে সাথে তাঞ্জিরো ঠিক করে ফালায় ওর ‘Aim in Life’- বোনের রোগ সারায় তুলার অ্যান্টিবায়োটিক খুজে বের করতে হবে, আর মাইকেল জ্যাকসন ও তার কোম্পানিকে ব্যাবসায়ে লাল বাত্তি দেখানোর ব্যাবস্থা করবে। এই মূলমন্ত্রে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে চাকুরী শুরু করে তাঞ্জিরো। একি টীমে পরে আরও দুইজন সহকর্মী যোগ দেয় তাঞ্জিরোর সাথে।

তো এই হইল এই গল্পের কাহিনী। আর এইটা এনিমেতে রুপ দেবার দায়িত্ব নিছে ফেট সিরিজ ভাঙ্গায় খাওয়া Studio Ufotable. কুনো একটা ফেট যদি দেখে থাকেন, তাইলে নিশ্চয় বুঝতেই পারতেছেন অতিযত্ন সহকারে পুরো এনিমেটা বানাচ্ছে Ufotable. ব্যাকগ্রাউন্ড সিনসিনারি, অ্যাকশন সিক্যুয়েন্স থেকে শুরু করে সাউন্ডট্র্যাক বলেন, সব কিছুই এতো নিখুঁত, দেখলে চোখ, কান, দিল সব জুড়ায়ে যাবে। এখন কথা হচ্ছে Ufotable হঠাৎ শৌনেন জাম্প সিরিজের দিকে হাত বাড়াইল কেন? সোজাসাপ্টা উত্তর হচ্ছে এই মাঙ্গার ঐতিহাসিক পটভূমি, কাহিনী, মাঙ্গার ইউনিক আর্টস্টাইল সবকিছু বিবেচনা করে স্টুডিয়োর মনে হইছে এই সিরিজ তাদের সাথে যায়। আরও সোজা উত্তর হচ্ছে- এখন মোটামোটি সব নামকরা স্টুডিও যখন একটা/ দুইটা করে শৌনেন জাম্পের সিরিজ বাগায় নিচ্ছে তখন Ufotable এর মতন বনেদি স্টুডিওই বা কেন পিছায়ে থাকবে? সারাজীবন গেম বেসড এনিমে বানায়লে চলবে? অন্যদিকেও তো একটু মনোযোগ দেওয়া লাগে মাঝেমধ্যে, আর তাছাড়া শৌনেন জাম্পের একটা সিরিজের মাধ্যমে চারিপাশ থেকে বিভিন্ন পন্থায় ট্যাকা আসতেই থাকে, এগুলা কি মিস করা যায়?
যাইহোক, কথা হচ্ছে আপনি যদি শৌনেনভক্ত হয়ে থাকেন, শুরু করে দেন এটা দেখা, কারন দিনশেষে নেযুকো Best Girl!!

Paradox Paradigm (Kara no Kyoukai, EP 5) [অ্যানালাইসিস] — Amor Asad

KnK 5

গার্ডেন অফ সিনারস দেখতে গিয়ে মনে হলো এটা নিয়ে big pile of shit লিখবো কোন এক সময়, তবে পাঁচ নম্বর এপিসোড Paradox Paradigm বিশেষ নজরে আসায় স্থগিত করতে মন চাইলো না। সিরিজটা দেখে ফেলেছি এবং পুরো সিরিজে এটা সবচেয়ে পছন্দের এপিসোড। কারণ সমেত এটা তাই—মাঝারি pile of shit.

প্রথমত, পুরো সিরিজে এটা সম্পূর্ণ একটা গল্প। এর আগের এপিসোডগুলো একটার সাথে একটা জড়িত মনে হয়েছে, স্বতন্ত্র মনে হয়নি। প্যারাডক্স প্যারাডাইম ওই গল্পগাথার সাথে জড়িত হলেও, একে আলাদা ভাবে দাঁড় করানো যায়। অন্যতম মূল চরিত্র Tomoe-এর পরিচয় পর্ব, মূল গল্পের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা, তাঁর সাথে Shiki-র যোগাযোগ পর্ব এবং একই সময়কালে Tauko এবং Kokutou এর অবস্থান, শিকির উধাও পর্বের সাথে তাঁর কমরেডদের পদক্ষেপ, মূল অ্যান্টাগনিস্টের পরিচয় পর্ব ও পুরো ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা সবকিছু একটা গল্পের নানা অংশ যা অন্য এপিসোডগুলোর উপর নির্ভরশীল না। শিকি হয়তো সিরিজের প্রোটাগনিস্ট কিন্তু এই গল্পের চাবিকাঠি ছিলো Tomoe.
এছাড়া গল্পটা যে চমৎকার, এটা আলাদা করে বলছি না।

মেকার নন-লিনিয়ার স্টোরিটেলিং ব্যবহার করে ভালো কাজ করেছেন। সোজা সাপ্টাভাবে গল্প এগোলে ভালো লাগতো ঠিকই, কিন্তু এখন যেমন মনে হয়েছে, অতটা হয়তো লাগতো না।

দ্বিতীয়ত, মন্টেজ এর সঠিক ব্যবহার। মন্টেজ ফিল্মমেকিং এর একধরনের টেকনিক, যেখানে একাধিক এলোমেলো ছবি যোগ করে কোন অর্থ প্রকাশ করা হয়। যেমন, কারো পা দেখা গেলো, এর পর একটা রোড দেখানো হলো, ক্লোজ শটে একটা গাড়ি দ্রুত বেগে ধেয়ে আসা দেখানো হলো, আরেকটা শটে দেখান হলো একজন রাস্তায় পড়ে আছে, গায়ে রক্ত। এই এলোমেলো শটগুলো দিয়ে বোঝানো যায় রোড-অ্যাকসিডেন্ট ঘটেছে।

মন্টেজের ব্যবহার অ্যানিমেতে প্রচুর দেখা যায়। বিশেষ করে মাকোতো শিনকাই একদম খামোখা ব্যবহার করেন। স্রেফ একটা বিশেষ আবহ আনতে। এই কাজ অবশ্য Garden of Sinners-এও আছে, হাবিজাবি শট এক করে একটা আবহ আনার চেষ্টা। কিন্তু এর মাঝেও একটা অংশ আছে যখন মন্টেজের ভালো ব্যবহার ছিলো।

Tomoe শিকির ঘরে থাকা শুরু করলো, দিন পার হয়ে যাওয়া বোঝাতে দরজার হ্যান্ডেল ঘোরানো, বেসিনে কাপের পর কাপ আইসক্রিম জমা হওয়া আবার ফাঁকা হওয়া এরকম একগাদা সদৃশ ফ্রেম ব্যবহার করা হয়েছে।

এখানে সফলতাটা হচ্ছে, যে সময়ের ভিতর দেখানো হয়েছিলো সেই সময়ে স্রেফ কোন একটা চরিত্রকে দিয়ে বলানো যেত, ‘অনেকদিন পার হয়ে গেছে।’— কিন্তু মন্টেজ দিয়ে আক্ষরিকভাবে সময়পার হবার একটা আপেক্ষিক রূপ দর্শককে দেখানো হচ্ছে। এতগুলো আইসক্রিম খেতে কতদিন সময় লাগতে পারে একটা খসড়া হিসেব হয়ে যায় মনে মনে।

তৃতীয়ত, পয়েন্ট অফ ভিউ শট। প্রথমার্ধের শেষে যখন শিকি বন্দি হলো আরায়া সৌরেন এর দেহরুপী ইমারতে, তার পরের কিছু অংশে সরাসরি শিকি-কে না দেখিয়ে পয়েন্ট অফ ভিউ স্টাইল ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাপারটা অনেকটা ফার্স্ট-পার্সন-শুটার গেম এর ভিউ এর মতো। শিকির চোখ এখানে ক্যামেরা, তাঁর চোখে দর্শক দেখছে, কথা শুনছে, কিন্তু তাঁকে দেখতে পাচ্ছে না। প্রথমার্ধের পর শিকিকে না দেখিয়ে কেবল পয়েন্ট অফ ভিউতে দর্শকের মধ্যে এক ধরণের প্রবল কৌতুহল আর টেনশন সৃষ্টি করা হয়। আমি জানি না গল্পের এই পর্যায়ে কাজটা ইন্টেনশনাল ছিলো কিনা, ইনটেনশনাল হলে সত্যিই ব্রিলিয়ান্ট কাজ।

চতুর্থত, ম্যাচ কাট। প্রথমার্ধে বেশ কটা ম্যাচ কাট ছিলো, বিশেষ করে আপাত মূল চরিত্র Tomoe-কে নিয়ে। ম্যাচ কাট বিশেষ ধরণের সিন-ট্রানজিশন, যেখানে একটা দৃশ্যপটের সাথে ভিন্ন আরেকটা দৃশ্যের মিল করা হয় পারিপার্শ্বিকতা মিল করে। এই কাজটা সুচারুরূপে অ্যানিমেতে প্রথম এবং শেষ যাকে করতে দেখেছি, তিনি ক্ষণজন্মা মাস্টারমাইন্ড, সাতোশি কন। ম্যাচ কাট নিয়মিত ব্যবহার করে অনেকেই, কিন্তু স্টাইলিস্ট সিন ট্রানজিশন এর উপায় হিসেবে খুব কমই করে। প্যারাডক্স প্যারাডাইমের কয়েকটা অংশ হুট করে কন-এর কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলো।

এটা অবশ্য অ্যানিমের পক্ষে খুব শক্তিশালী কোন প্রমাণ নাও হতে পারে, হতে পারে কেবলই কনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে অযথাই মেলাচ্ছি।

যাই হোক, কেবল এই এপিসোডের জন্যে আমার রেটিং ৯/১০
ভালো থাকুন, ভালো অ্যানিমে দেখুন।

Bloom Into You [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Bloom Into You

দুঃখজনক ভাবে এনিমে কমিউনিটির খুব বড় একটি অংশ এনিমেতে ইয়ুরি কিংবা ইয়াওয়ি ট্যাগ দেখলেই এনিমেগুলোকে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেয় অর্থাৎ কখনোই দেখে না এবং সত্যি কথাতে তাদের দোষ দেয়া যায় না। বেশিরভাগ সময় এসব শৌজো এ আই মার্কা শোগুলি নির্লজ্জ ফ্যানসার্ভিস দিয়ে কিছু টাকা বাগানোর জন্যই বানানো হয়। গত বছরের (২০১৮) শুরুর সিটরাস তার একটি উদাহরণ। কিন্তু যখন আসলেই একটা ভালো ইয়ুরি কিংবা ইয়াওয়ি এনিমে আসে যেখানে তাদের সেক্সুয়্যালিটি কোনো ফ্যানসার্ভিস নয় বরং চমৎকার চরিত্রায়ন এবং গল্প বলার মাধ্যমে ফোটানো হয় তখন সেটা আর কেউ দেখে না।

গত বছরের (২০১৮) জমজমাট ফলের এনিমের মধ্যে এই রত্নটা প্রায় হারিয়েই গেছে। এর বড় একটি কারণ সিটরাস মোটামুটি ইয়ুরি জিনিসটাকেই একটি হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করেছে। ব্লুম ইন্টু ইয়ু কেবল আমার দেখা সেরা শৌজো এ আই এনিমেই নয় বরং আমার প্রিয় রোমান্টিক এনিমে হবার দাবি রাখে যদিও ওই ক্যাটাগরিতে কারে কানো আর টোরাডোরা ছাড়া কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেবার মতো নেই। সিরিজটার পরিচালনা থেকে শুরু করে দৃশ্য পরিকল্পনা, সিনেমাটোগ্রাফি, মিউজিক্যাল স্কোর প্রতিটি অংশই প্রশংসার দাবীদার।

খুব কম টিভি সিরিজ তরুণ বয়সের রোমান্সের বিষয়টা বুঝে। বাইরে থেকে সবার কাছেই মনে হয় যে যখনই তোমার “সউল মেট”কে দেখবে তখন সময় তোমার জন্য থেমে যাবে কিংবা সবকিছুই তখন মধুর মনে হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সত্যিতে ওই মুহূর্তটা ডিজনির জমকালো রূপকথার তুলনায় কিছুটা হতাশজনক। সিরিজটি যতটুকু রোম্যান্টিক তার চেয়ে বেশি বেশি ইয়ুই এবং অন্যান্য চরিত্রের আত্মবোধ নিয়ে। এখানে নানামি ইয়ুইকে মেয়ে বলে ভালোবাসে নি বরং ভালবেসেছে কারণ সে মনে করে যে ইয়ুই তাকে বুঝতে পারবে এবং কেবল ইয়ুই এর সাম্নেই সে তার সত্যিকারের নিজেকে প্রকাশ করতে পারবে। এই জিনিসটার আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে যে এখনে হোমোসেক্সুয়্যালিটির বিষয়টা কোনো আচরণ-ধর্ম নয় বরং দুইজন “মানুষের” দুইজন “মানুষ”কে ভালোবাসা দিয়ে প্রকাশ করেছে। এখানে আমি মানুষ শব্দটিতে গুরুত্ব দিচ্ছি কারণ এরকম অন্যসব এনিমের মতো এটা নির্লজ্জ সেক্সুয়াল এপিলে ভর করে না।

সত্যি কথাতে এনিমেতে রোমান্সজিনিসটা এতোই স্ল্যাপস্টিক কমেডি নির্ভর যে এরকম লীলায়িত এবং সিরিয়াস ধরণের গল্পবলাটা অপ্রত্যাশিত ছিলো আর এনিমেটা যখন ইয়ুরি তখন জিনিসটা আরো ইম্প্রেসিভ। এই সিরিজের টোন অন্যসব রোমান্স নয় বরং কিছু স্লাইস অফ লাইফ জন্রার সিরিজ যেমন কিডস অন দ্যা স্লোপ কিংবা মার্চ কামস ইন লাইক এ লায়ন এর সাথে সদৃশ।

Otoyomegatari [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Otoyomegatari

ডিসকভারি চ্যানেলে প্রায়ই নানা উপজাতিদের নিয়ে ডকুমেন্টারি দেখাত। আমাজনের উপজাতি, এস্কিমোদের জীবন আরও নানা কিছু। তো আমার সবচেয়ে পছন্দের ছিল কিরিগিজ জাতি, যারা যাযাবর টাইপের। রুক্ষ পরিবেশে বাস, অসাধারন তাদের জীবন ও সংস্কৃতি!!
তো ভালো আর্টের মাঙ্গা খোজ করতে গিয়ে পেয়েছিলাম Otoyomegatari মাঙ্গা আর পড়ার পর আমি মুগ্ধ!!
মাঙ্গার কাহিনী এক প্যারালালে না, বিভিন্ন লোকের কাহিনী নিয়ে এই মাঙ্গা। মাঙ্গার কাহিনী শুরু হয় কারলুক আর আমিরা হালগাল এর বিয়ের কাহিনী দিয়ে। বউ আমিরার চাইতে স্বামী কারলুক ৮বছরের ছোট। এইরকম এইজগ্যাপ ম্যারিজ ওদের সমাজে চালু আছে। এখন মনে হতে পারে যে এরা কি মানিয়ে নিতে পারবে! কিন্তু তাদের মত মিষ্টি রোমান্স বেশি দেখি নাই। কারলুক, আমিরা ও তাদের জীবনের দিনগুলো নিয়ে শুরু হয় মাঙ্গা, এরপর আছে দুই জমজ বোনের, শয়তানি, তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে এক গল্প। এই পার্ট অনেক কমেডির আর আমাদের দেশের বিয়ের অনুষ্ঠানের সাথে রিলেট করতে পারবেন!! আছে আরও ছোট ছোট নানা সুন্দর গল্প।

মাঙ্গা সেইনেন, সুতরাং কোন রকমের ন্যাকামি এই মাঙ্গাতে নেই। কাহিনীর পেসিং অসাধারন। রোমান্স আছে, কমেডি আছে, সংঘাত আছে। এখন আসি আসল কথায়! এই মাঙ্গার আর্ট আমার দেখা অলটাইম বেস্ট আর্টগুলার একটা। ড্রেসের ডিজাইন, কানের দুল, চাদর, ব্যাকগ্রাউন্ড, কভার আর্ট এত সুন্দর তা বলার মত না। মাঙ্গা পড়ার সময় প্যানেলের দিকে তাকিয়ে কল্পনায় হারিয়ে যাবেন!! এত সুন্দর। কাওরি মরি সেন্সেই একটা জিনিয়াস!!!
সুন্দর আর্ট সাথে সুন্দর কাহিনী। না পড়ার কোন কারন নাই। এই মাঙ্গা হল একটা আর্টিস্টিক জার্নাল বই! এই বেদুঈনদের জীবন, তাদের চিন্তাধারা, ভাবনা সব দেখতে পারবেন, বুঝতে পারবেন! অনুভব করতে পারবেন!! এই মাঙ্গার ক্ষেত্রে একটা কথাই খাটে! অতিরিক্ত অসাধারন!!!
তো আজকেই পড়া শুরু করে দিন মাঙ্গা Otoyomegatari!!

এনিমখোর এডমিনদের চয়েস — ২০১৮ এর সেরা আনিমে

২০১৮ সাল শেষ হয়ে এল। বছরটিতে যেমন ছিল অনেক বড় বড় নামের আনিমের সিকুয়েল, তেমনই ছিল অনেক চমক জাগানিয়া নতুন সিরিজ। এত এত সিরিজের মধ্য থেকে একেকজনের একেক ধরণের সিরিজ পছন্দ হয়ে উঠে, আর তাই বিভিন্নজনের পছন্দের বছর সেরা আনিমের নামের মাঝেও অনেক তারতম্য খুঁজে পাওয়া যায়। এনিমখোরের এডমিনদের জন্যে ২০১৮ সালের সেরা বিভিন্ন আনিমে নিয়ে থাকছে আজকের লেখাটি।

Zahura Chowdhury Abonti

Runner-Up: Yuru Camp△

২০১৮ আমার জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত একটা বছর গিয়েছে। অ্যানিমে দেখার সময়ও খুব একটা করতে পারিনি। ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক এপিসোড করে দেখার চেষ্টা করতাম। আর অনেক ব্যস্ততার মাঝে এজন্য রিলাক্সিং কিছু খুঁজছিলাম। ফুয়াদ আমাকে ইয়ুরু ক্যাম্প দেখতে সাজেস্ট করে। দেখা শুরুর সময়ে আমি ভাবিনি আমার কাছে অ্যানিমেটা এত ভাল লাগবে। অনেকটা নন নন বিয়োরির কথা মনে পড়েছে। ইয়ুরু ক্যাম্পে দেখানো জায়গা গুলার অনেক গুলার সাথেই আমি পরিচিত বলে কেমন যেন একটা নস্টালজিক ফিলিং কাজ করেছে দেখার সময়ে। আর অ্যানিমেটা আসলেই অনেক রিলাক্সিং ছিল। সাদামাটা স্লাইস অফ লাইফ আমার খুবই পছন্দ। তাই ২০১৮তে দেখা অ্যানিমের মাঝে এটা আমার মনে অনেক দাগ কেটেছে। আমার ব্যস্ত জীবনে সত্যি বলতে স্ট্রেস রিলিফের একটা পথ হয়ে গিয়েছিল এই অ্যানিমেটা দেখা। আর অ্যানিমেটার ক্যারেক্টার আর ওএসটিও অনেক ভাল লেগেছে। কোন অ্যানিমের ওএসটি ভাল হলে দেখা যায় ঐ অ্যানিমেটা আমার ভাল লাগার চান্স বেশি হয়। এই ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। অনেকের কাছে হয়ত এই অ্যানিমেটা আহামরি কিছু ছিল না। কিন্তু সব কিছু মিলিয়ে পারসোনালি আমার জন্য এটা বিশেষই ছিল বলতে হবে।

Anime of the Year: 3-gatsu no Lion 2nd Season

২০১৮ তে খুব বেশি অ্যানিমে দেখার সময় বা সুযোগ কোনটাই হয়নি। কিন্তু তারপরেও যেকোনভাবে হলেও ৩-গাতসু নো লায়নের দ্বিতীয় সিজনের প্রতিটি এপিসোড রিলিজের সাথে সাথেই দেখেছি যেভাবেই হোক। ৩-গাতসু আমার কাছে শুধু এই বছরের না, রিসেন্ট কয়েক বছরে আমার দেখা সেরা অ্যানিমে। প্রতিটা চরিত্র কিভাবে করে যেন আপন করে নেয়। কাহিনীটাও কেমন যেন মনে হয় খুব পরিচিত। এই অ্যানিমেটা আমার কাছে গল্প, ক্যারেক্টার ডেভেলাপমেন্ট, হিউমার, ওএসটি–সব দিক থেকে অসাধারণ লেগেছে। তাই আমার জন্য AOTY চুজ করা আসলে খুব সহজ। চিকা উমিনোর অসাধারণ এই কাহিনীকে শ্যাফট যেভাবে প্রাণ দিয়েছে, এর থেকে ভাল মনে হয় এটা হতে পারত না। আজ পর্যন্ত অনেক অ্যানিমে দেখেছি। তার মধ্যে কিছু কিছু সারা জীবনের জন্য মনে দাগ কেটে গিয়েছে। ৩-গাতসু তাদেরই একটা।

1. Abonti - 3gatsu

Farsim Ahmed

আমার কাছে “ভালো” আনিমের সংজ্ঞা হচ্ছে যেটার নতুন পর্ব বের হবার সাথে সাথেই দেখে ফেলতে মন চায়. কাজেই এই লিস্টে “শিল্পোত্তীর্ণ” গোছের কিছু নাও থাকতে পারে।
প্রথমেই অনারেবল মেনশন: Baki ONA, Chio’s School Road, Grand Blue, Lupin III [Part 5], Shingeki no Kyojin 3, Violet Evergarden.

Runner-Up: Banana Fish

প্রথমে এই আনিমেটা দেখার ইচ্ছাই ছিল না অদ্ভুত নামের কারণে। ৫-৬ পর্ব প্রচার হবার পরে দেখেছিলাম। তখন থেকেই হুকড। ব্যানানা ফিশ হলো এক ধরণের মাদক, যেটা ব্যবহার করে ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যায়, আর এই মাদকের দখল নেয়ার জন্য কয়েক পক্ষের দ্বন্দ্ব নিয়েই আনিমের কাহিনী। সিরিজের মূল চরিত্র ক্যারিশমাটিক অ্যাশ লিঙ্কসের সাথে একেবারেই সরল সোজা এইজি এর সম্পর্ক, অ্যাশের সাথে তার পালক পিতার সম্পর্ক, অ্যাশের সাথে তার প্রিয় বন্ধু শর্টার এর সম্পর্ক, অ্যাশের সাথে তার শিক্ষক সের্গেইয়ের সম্পর্ক, যে তাকে হাতে কলমে শিখিয়েছে কিভাবে কয়েকশো গজ দূর থেকে স্নাইপিং করে ফেলে দেয়া যায় হেলিকপ্টার – এই সব কিছুকে পুঁজি করেই এই ক্রাইম ড্রামা। শেষের দিকে মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। আর যে জিনিসটার কথা না বললেই না, বেশ কয়েকটা পর্বের সমাপ্তির এন্ডিং গানে কিভাবে ট্রানজিশন হয়, বিশেষ করে ২২তম পর্ব।

Anime of the Year: Sora yori mo Tooi Basho

কয়েকটা টিনেজ মেয়ে এন্টার্কটিকায় যাবে। এইই। তাহলে হোকাগো টি টাইমের ইংল্যান্ড ট্যুরের সাথে এর তফাৎ কোথায়?
দেখার সময় সারাক্ষণই মনে হয়েছে মূল চরিত্ররা যেন আমার উদ্দেশ্যেই কথা বলছে। সব সময়ই কি নিজের আরামদায়ক একটা পরিবেশে থাকবো? কি করলাম জীবনে? কেন একটা ঝুঁকি নিচ্ছি না? কেন অভিজ্ঞতা অর্জন করছি না? অবশ্যই এটা ঠিক যে পাসপোর্ট এতো শক্তিশালী না বা যথেষ্ট টাকাপয়সা নেই, কিন্তু দিন শেষে এগুলোও তো অজুহাত। নতুনকে দেখার যে এক অসাধারণ অনুভূতি, সেটা থেকে তো আমি নিজেকে বঞ্চিত করছি।
শেষমেশ আনিমের একটা দৃশ্য এখনো দাগ কেটে আছে, “সবাই অরোরা বোরিয়ালিস দেখতে পারে না।”

2. Farsim - Sora yori mo Tooi Basho

Md Asiful Haque

Runner up: Baki (2018)

দুনিয়ার ৫ দেশে থাকা মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ৫ আসামী একদিন হঠাৎ করেই জেল ভেঙ্গে পালায়; লক্ষ্য টোকিও। তাদের জীবনের শেষ ইচ্ছা এক্টাই — পরাজিত হতে চায় তারা। তারা খুঁজে বেড়ায় আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইটিং হিরো এবং চ্যাম্পিয়ন Baki-কে। কিন্তু কেন? Baki-কে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে আন্ডারগ্রাউন্ড একদল ফাইটার। Baki এবং তার বন্ধুদের সাথে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ কয়েদীর এপিক শো-ডাউন শুরু হয়, যে লড়াইয়ে এক্টাই রুল — যে কোনভাবে যে কোন উপায়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল কর। কেউ কি বেঁচে ফিরবে এই লড়াই থেকে?

Anime of the Year: Megalo Box

-It’s your name. You pick it.
— Me? Joe.
– Joe. Has a nice ring to it.
I guess that’s your new ring name.

দূর ভবিষ্যতের কোন একটা সময় যখন বদলে গিয়েছে অনেক কিছুই। বদলে গিয়েছে বক্সিং খেলার ধরণধারনও, খালি হাতের কসরতের বদলে নানান রকম মেকানিক্যাল গিয়ার খেলোয়াড়দের কার্যকারিতা বাড়াচ্ছে; নাম বদলে হয়ে গিয়েছে মেগালো বক্সিং।

বনেদী ঘরের সন্তান শিরাতো মিকিও। মেগালোমেনিয়ার ৪র্থ জায়গার দাবিদার; ৩টে জায়গা আগেই স্থির হয়ে আছে। সুগার হিলকে হারিয়ে সেই জায়গা নিশ্চিত করে ফেলার পরেও কোথায় যেন কি একটা কিন্তু রয়ে গেছে। কারণ দৃশ্যপটে জনতার ফেভারিট – ‘গিয়ারলেস জো’।

মিকিও নিজ থেকেই জো’কে চ্যালেঞ্জ জানায় ৪র্থ পজিশনের জন্য। কিন্তু পর্দার আড়ালে মিকিও কী চাল চালছে? মিকিও; যার গিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের চাল আগেই বুঝে ফেলতে পারে; সে কি নাম-না-জানা গিয়ারলেস জো’কে ভয় পাচ্ছে? কেন?

মেগালোমেনিয়ার কর্ণধার শিরাতোর সাথেই বা তার ঝামেলা কি নিয়ে? মেগালোমেনিয়ার ফলাফলই বা কি হয়?

ভিন্টেজ কিন্তু ব্রিলিয়ান্ট আর্টস্টাইল; শিরদাঁড়া সিউরে উঠা মিউজিক ট্র্যাক আর ফিয়ারলেস ফাইট – এই বছর সেরা সিরিজের যোগ্য দাবিদারই Megalo Box.

3. Asif - Megalo box

Gourab Roy

Runner-Up: Saiki Kusuo no Ψ-nan 2 / 3-gatsu no Lion 2nd Season

রানার আপ হিসেবে সাইকির ডিজাস্ট্রাস লাইফ আর 3-gatsu no Lion দুটো অবশ্য দু ঘরানার।কমেডি হিসেবে সাইকির তুলনা নেই। হয়ত আমার দেখা সেরা কমেডি এনিমে এটাই, আর সাম্প্রতিক্কালের স্লাইস অফ লাইফ ও স্পোর্টস এর মিশেলে একদম অনুভূতি নিয়ে খেলে করে যাওয়া এনিমে হল 3-gatsu no Lion. আর বোনাস হিসাবে ছিল আসোবি আসোবাসে, Sword Art Online Alternative: Gun Gale Online, Shingeki no Kyojin 3rd season ইত্যাদি ইত্যাদি (একান্ত ব্যাক্তিগত মতামত,ভুলেও কেউ ট্রিগার্ড হবেন্না)।

Anime of the Year: Boku no Hero Academia 3rd Season

Boku no Hero Academia যতক্ষত অপশনে থাকবে, এটাই আমার কাছে AOTY. মিউজিক, এনিমেশন, ভয়েস এক্টিং সব টু দি পয়েন্টে পার্ফেক্ট। নারুতো, ব্লিচ এগুলোর পরে সম্ভাবনাময় শৌনেন শুধু এটাকেই দেখি।

4. Gourab - My Hero Academia 3

Pasha Yap

Runner-Up: Grand Blue

এই পজিশন টা নিয়ে আসলে চিন্তায় পরেছিলাম। Megalo Box এর সাথে টাই ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটাকেই বেছে নিয়েছি।বিভিন্ন মানুষের টেস্ট বিভিন্ন রকম, কমেডি জনরাটা তার অন্যতম উদাহরণ আমার কাছে। এবছর আরও কিছু ভালো কমেডি থাকলেও আমার এবছর দেখা সেরা কমেডি আনিমে এটি। এই আনিমে এর হিউমার আমার কাছে এই বছর সেরা লেগেছে। দারুণ সব চরিত্র আর তাদের কাজকর্ম দেখে প্রচুর হেসেছি আর অনেক মজা পেয়েছি। এদের টেনিস ম্যাচ,গউকন এর অংশগুলা দারুণ ছিল। ন্যুডিটি আর ড্রিংকিং নিয়ে অনেক প্রচুর কমেডিক সিন আছে তবে সেগুলাও আমার কাছে মজাই লাগছে। ডাইভিং সেই তুলনায় কম ফোকাস পেলেও যা দেখিয়েছে ভালই। মাঙ্গা দেখে মনে হয়েছে আরও ভালো হতে পারত তবে তারপরেও অনেক ভালো লেগেছে।

Anime of the Year: 3-gatsu no Lion 2nd Season

সান গাতসু আমার দেখা সেরা আনিমে গুলোর একটা। রেই, হিনা, নিকাইদো, মোমো এর মতো মন জয় করে ফেলা অনেক চরিত্র, স্পোর্টস আর স্লাইস অফ লাইফ মিলিয়ে ভীষণভাবে টেনে নেয়া গল্প, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের মানসিক অবস্থা, তাদের অনুভূতি যেভাবে দেখান হয়েছে আর সাথে শাফট এর দারুন ভিজুয়াল। এবার সাথে অন্যান্য চরিত্র এর উপরেও অনেক ফোকাস করা হয়েছে সেগুলোও ভালো লেগেছে বিশেষ করে হিনা এর টা। আগের মতই এখনও শোগি এর কিছু বুঝি না তারপরেও এই আনিমে যেভাবে দেখায় তাতে আকর্ষিত না হয়ে উপায় থাকে না। সব মিলিয়ে সান গাতসু এর মত হৃদয় স্পর্শ করতে খুব আনিমেই পারে।

5. Pasha - 3gatsu

Fahim Bin Selim

Anime of the Year: Karakai Jouzu no Takagi-san

ইউটিউবে কোবাসোলোর “চিইসানা কোই নো উতা” গানটার কভার শুনেই এই অ্যানিমে দেখতে বসা। সিনোপসিস দেখে ভেবেছিলাম এটার কাহিনী কয়েকবছর আগে বের হওয়া Tonari no Seki-kun এর মত হবে। পাঁচ-ছয় মিনিটের ছোট ছোট কমেডি স্কেচ থাকবে। আলাদা করে ওভার আর্চিং কোন প্লট থাকবে না। কিন্তু প্রথম পর্ব…পর্বাংশ “ইরেজার” দেখেই ধারণা বদলে গেলো। ছোট ছোট কমেডি স্কেচ ঠিকই কিন্তু খুবই সূক্ষ্মভাবে একটা গল্পও দেখি বলা হচ্ছে!

সাইড-স্টোরি বাদ দিলে পুরো অ্যানিমেটাই মূলত দুইজন চরিত্র নিয়ে – তাকাগি আর নিশিকাতা। আচ্ছা, এই অ্যানিমের কথা বলতে গেলে দুই মূল চরিত্রের ভয়েস এক্ট্রেস, এক্টর রিয়ে তানাহাশি আর ইউকি কাজি-‘র কথাও আলাদা করে বলা উচিৎ, মনে হয়। হিউমার বাদ দিলেও – যা আমার দেখা গত কয়েকবছরের মধ্যে অন্যতম সেরা – নিশিকাতা আর তাকাগির সখ্য ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে দেখা; পরীক্ষা আর বৃষ্টির দিন, আর গ্রীষ্মের ছুটি আর সাইকেল চালানো শেখা, আর নতুন মোবাইল পার হয়ে শেষের চিঠিতে আসা, সেটাও তো আর অন্য সব রম-কমের সাথে পাল্লা দেওয়ার মত। এ দুজনের সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্তই তো উপভোগ্য!

তাই Karaki Jouzu no Takagi-san আমার এবছরের সবচেয়ে প্রিয় অ্যানিমে।

6. Fahim - Karakai Jouzu no Takagi-san 2

Nudrat Mehraj Sadab

Runner-Up: Sora yori mo Tooi Basho

রানার আপের জন্য অনেক চিন্তা করতে হয়েছে। এবার যেহেতু বেশি এনিমে দেখা হয়নি তাই Violet Evergarden এবং A place Further Than The Universe এ দুটোর মধ্য থেকেই বাছাই করতে হয়েছে। Violet Evergarden এর প্রতিটা পর্বই টিয়ার জার্কার। প্রতিটা পর্ব দেখে চোখে পানি এসেছে। কিন্তু দিনশেষে আসলে একটা ব্যাপারই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। Was it able to move my heart? এর উত্তর দিয়েছে A place Further Than The Universe. এই এনিমে দেখেছি দুদিন আগে। প্রথমে ভেবেছিলাম cute girls doing cute things on their journey. কিন্তু চারটা মেয়ের চরিত্র চার রকম আর এই জার্নিতে যাবার কারণও ভিন্ন। মনে হবে এদের চারজনের সাথেই কিছু মিল আছে নিজের। আমি সবসময় ভাবতাম প্রতিদিনের পরিচিত রাস্তার বদলে বরং নতুন কোন রাস্তা দিয়ে আসি। এছাড়া নতুন কোন জায়গায় ঘুরতে যাবার একটা থ্রিল থাকে সবসময়। কিন্তু তার সাথে একটা আতংকও কাজ করে। যার কারণে Kimari’র সাথে নিজেকে খুব বেশিই রিলেট করতে পারি। বন্ধুত্ব আর ভালবাসা একজনের আউটলুক পরিবর্তন করে দিতে পারে, তা-ই এই এনিমে দেখিয়েছে। আর সবচেয়ে পছন্দের মুহূর্ত ছিল শেষে চারজন যখন খোলা আকাশের নিচে শুয়ে আকাশ দেখতে থাকে। এক ধরণের গুজবাম্পস কাজ করছিল তখন। এই শীতের রাত ৩টায় যখন এই অরোরা অস্ট্রালিস দেখি হোক না সেটা মোবাইল স্ক্রিনে, তার চেয়ে তৃপ্তির কিছু আর নেই।

Anime of the Year: Banana Fish

আমার কাছে একটা এনিমে তখনই সেরা যখন এটি আমার অনুভূতি নিয়ে খেলা করবে, হয়ত এটি দেখে ইউফোরিয়া হবে নয়ত একদম ধরাশায়ী করে দিবে। অর্থাৎ এর ইম্প্যাক্ট টা হবে ভয়াবহ। Banana Fish আমার কাছে এমনই লেগেছে। নিজেকে খুব শক্ত ভাবতাম কিন্তু এই এনিমের এমন কিছু ট্রিগার পয়েন্ট আছে যেগুলো আমাকে বাধ্য করেছে চুপচাপ বসে চোখের পানি ঝরাতে। মাফিয়া সম্রাট Golzine’র ছায়ায় থাকা Ash Lynx আন্ডারগ্রাউন্ডের অন্ধকার জীবনে কীভাবে জড়িয়ে পড়েছিল এবং এই জীবন টা যে কত ঝুঁকিপূর্ণ তা যেন প্রতি পর্বেই একবার করে মনে করিয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে জাপানিজ জার্নালিস্ট Eiji Okumura একটা কেসের জন্য আমেরিকায় এসে পরিচিত হয় Ash এর সঙ্গে। কীভাবে যেন সেও জড়িয়ে পড়ে Ash এর এই ভয়ংকর জীবনের সাথে। আর সবকিছুর মূলে থাকে Banana Fish নামের এক ড্রাগ, অবশ্য ড্রাগ না বলে বায়োলজিক্যাল উইপন বলাই ঠিক হবে। বিশ্বনেতারা ক্ষমতার জন্যে কী যে করতে পারে এবং কর্তৃপক্ষের প্রতিটা ইউনিটে যে কী পরিমাণ দুর্নীতি আর বিশ্বাসঘাতকতা কাজ করে তার ভয়াবহ চিত্র এই এনিমেতে ফুটে উঠেছে। আমি বানানা ফিশ দেখা শুরু করেছি যখন সেকেন্ড কোর শুরু হয়। বানানা ফিশের আরেকটি আকর্ষন হল প্রতিটি পর্বের ক্লিফ হ্যাঙ্গারগুলি আর তার সাথের এন্ডিং। অনগোয়িং এনিমে খুব একটা দেখা হয়না কিন্তু এর প্রতিটা পর্বের জন্য বসে থাকতাম। তবে এই এনিমে নিয়ে অনেকের ভুল ধারণা আছে যে এটা শৌনেন আই। কিন্তু এটার প্লট যে কত গভীর আর বিস্তৃত তা না দেখলে আসলে বোঝা যাবে না। এই এনিমে পুরো ফ্যানবেজকে ঠিকই কাঁদিয়ে ছেড়েছে।

7. Nudrat - Banana Fish

Mehedi Hasan Himel

Anime of the Year: 3-gatsu no Lion 2nd Season

প্রথম সিজনের রেশ কাটতে না কাটতেই ৬ মাস পর শ্যাফট নিয়ে আসে সানগাতসু এর ২য় সিজন। প্রথম সিজনের মত এই সিজনেও অসাধারণ ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন উমিনো চিকা সেন্সেই। তবে সিজন ১ যেখানে ছিলো রেই এর নিজের সমস্যা কাটিয়ে উঠার গল্প নিয়ে, সিজন ২ ঠিক তারই বিপরীত থিম। এইখানে সে কিভাবে মানসিকভাবে শক্ত হয়েছে তার ই ফলাফল দেখা যায়। খুব বড় সময় ধরে রেই, হিনাটার বুলিং কে যেভাবে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে সামাল দিয়েছে এতেই রেই এর দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। এছাড়াও অন্যান্য শোগি প্লেয়ারদের উপর ও ভালো আলোকপাত করা হয়েছে। সাথে অসাধারণ ভিজুয়াল আর সাউন্ডট্র্যাক তো আছেই। মোট কথা, অসাধারণ প্রথম সিজনের উপর ভিত্তি করে আসা 3-gatsu no Lion 2nd Season-ই আমার AotY. ধন্যবাদ চিকা সেন্সেই, ধন্যবাদ শ্যাফট।
এখন ৩য় সিজনের জন্য অপেক্ষা।

8. Pasha - 3gatsu

Fuad Hassan

আমার জন্য AOTY হচ্ছে সেইসব আনিমে যেইগুলা কোয়ালিটি এর দিক থেকেও ভাল এবং মনে বেশ ভালভাবে দাগ কেটে যায় যেন অনেকদিন পরেও আনিমেটার দেখা কন্টেন্ট মনে পড়লেও আনিমেটা দেখার সময় কেমন ফিল হয়েছিল তা মনে করতে পারি।

Honorable Mention: Violet Evergarden (great animation and OST), Koi wa Ameagari no You ni, Steins;Gate 0, Seishun Buta Yarou wa Bunny Girl Senpai no Yume wo Minai, Hataraku Saibou.

3rd place: Sora yori mo Tooi Basho

Shirase Antarctica তে হারিয়ে যাওয়া তার মা কে খুঁজার জন্য যেকোনভাবেই এন্টার্কটিকা তে যেতে চায় এবং তার সাথে এন্টার্কটিকা যাওয়ার জার্নি যে যুক্ত হয় আরও ৩ জন। এই আনিমেটা অনেক বেশি ইমোশনাল ছিল শেষের দিকে। সবার নতুন নতুন জিনিস দেখতে দেখতে জার্নি করে যাওয়া, ৩০-৬০ ফিট ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে, বরফ ভেঙ্গে অবশেষে Antarctica তে যেতে পারা আর সেখানে থকে Aurora, রাতের তারা আর সূর্যাস্ত দেখা সব মিলিয়ে পুরাটা মনে রাখার মত এক অভিজ্ঞতা। শেষের দিকে যখন Shirase তার মা যেখানে হারিয়ে গেছে সেখানে যায় তখনকার মুহূর্তটা বেশ ইমোশনাল ছিল। OST, story সব মিলিয়ে ইমোশনাল করে দেয়ার মত একটা আনিমে। এইটা দেখে নিজের ই এইরকম কোথাও ঘুরতে যেতে ইচ্ছা হয়েছে, মনে হয়েছে এইটা ঘরে বসে দেখার মত আনিমে না বাইরে কোথাও ঘুরতে যেতে যেতে এইটা দেখলে আরও ভাল হত।

Runner-Up: 3-gatsu no Lion 2nd Season

আমার কাছে এই আনিমের মূল আকর্ষণ হচ্ছে মানুষের সাইকোলজিক্যাল এসপেক্ট টা ফুটিয়ে তুলা বিভিন্ন কাহিনির মধ্যে দিয়ে আর এই আনিমের ক্যারেক্টারদের ইন্টাররিলেশনশিপ। এই আনিমেটা আমার কাছে অনেক বেশি রিয়ালিস্টিক লেগেছে আর SHAFT যেইভাবে অ্যানিমেশন, এফেক্ট আর ওএসটি দিয়ে পারফেক্টলি সবকিছু তুলে ধরেছে তা বলে বুঝানো যাবে না। এখানে শুধু main character Rei এর ই না অন্য সব ক্যারেক্টারদেরকেও এত ইন ডেপথ এ দেখানো হয়েছে যে তাদেরকেও মেইন ক্যারেক্টার এর চাইতে কোন অংশে কম মনে হয়নি। প্রত্যেকটা এপিসোড বারবার চিন্তা করিয়েছে এপিসোডটার ব্যাপারে। বুলিং এর মত সামাজিক ইস্যু, সেইটা কে কিভাবে নিচ্ছে শুধু ভিক্টিম এর না যে পারপেট্রেটর তার পয়েন্ট আভ ভিউ কি তাও দেখানো হয়েছে আর এইরকম প্রত্যেকটা জিনিস এ এতটাই স্মুথভাবে করা হয়েছে যে এই আনিমে ভাল না লেগে উপায় নাই।

Anime of the Year: Yuru Camp△

এইটা AOTY বলার কারণ হচ্ছে এইটা অনেক বেশি হিলিং একটা আনিমে আর আমার দেখা অন্যতম সেরা স্লাইস আভ লাইফ আনিমে। কয়েকটা মেয়ে বিভিন্ন যায়গায় যেয়ে ক্যাম্পিং করে, এই একটা সিম্পল কন্সেপ্ট ই এত সুন্দর ভাবে আনিমে আর ওএসটির ব্যবহার দিয়ে রিপ্রেসেন্ট করেছে যে এই আনিমেটা বেশ ভালভাবেই মনে দাগ কেটে গেছে, এইটা দেখার সময় সময় কেমন ফিল হয়েছিল কি করছিলাম এখনও সবকিছু মনে আছে। Rin এর মনোলোগ, Nadeshiko এর করা মজার সব কাজ, রিন এর নাদেশিকো কে বলা “Munya Munya”, মানিয়ে যাওয়া Ending song টা সবকিছুই বেশ ভালভাবে উপভোগ করেছিলাম। এই আনিমের নাম বলার সময় একই সিসনে এয়ার হওয়া আরেকটা আনিমের নাম না বললেই না যেটার নাম হচ্ছে Sora yori mo Tooi Basho. Yuru Camp△ আর Sora yori mo Tooi Basho এই দুইটা আনিমে যেন একটা আরেকটাকে কমপ্লিমেন্ট করছিল, দুইটা আনিমেই কম্ফি লেভেল বাড়িয়ে দিচ্ছিল একসাথে। Yuru Camp△ is the perfect slice of life anime for Winter season. এইটা দেখে এতটাই ভাল লেগেছিল যে ওদের যাওয়া যায়গায় তখনই যেয়ে ক্যাম্পিং করতে ইচ্ছা করছিল এবং এখনও ইচ্ছা আছে।

9. Fuad - Yuru Camp

Abir Mohammad

Honorable Mention: Rascal Does not Dream of Bunny Girl Senpai, Attack on Titan Season 3, Grand Blue, Boku no Hero Academia Season 3, Wotakoi, Hinamatsuri, Karakai Jouzu no Takagi-san

Runners-Up: Asobi Asobase

All girl middle school এ পড়া তিন মেয়ে Hanako, Kasumi আর Olivia এর করা প্রতিদিনের হাসির সব কাজ নিয়েই এই আনিমে। এই আনিমেতে সবচাইতে বেশি মজা লেগেছে Hanako এর করা চিৎকারগুলা, এমন জোরে চিৎকার করেছে কয়েক জায়গায় দেখে মনে হয়েছে যে হানাকো এর সেইয়ু এর ভোকাল কর্ডই ছিড়ে যাবে। হানাকো এর ভয়েস এক্ট্রেস নতুন হলেও তার এই ভয়েস এক্টিং আমার মতে এই বছরের সেরা সেইয়ু পারফরমেন্স। আনিমেটার শুরুর অংশ অত হাসির না হলেও পরবর্তীতে প্রায় পুরো এপিসোড দেখেই হাসতে হয়েছে। বিশেষ করে “Sugoroku Game”, “Trial of Shame”, “Daniel”, “Paper Game”, “Face of Mass Destruction”, “Heart go boing boing” এরকম বেশ কয়েকটা পার্ট যে কয়বার রিভিশান দিয়েছি তা গুনে শেষ করা যাবে না।”My ass got destroyed!” এই লাইনটা এখনো কানে ভাসে। সাথে বোনাস হিসেবে আছে মাইদা সানের বাট-বিম আর অসাধারণ একটি এন্ডিং সং।

Anime of the Year: Violet Evergarden

মূল নভেল পুরো পড়া না হলেও ২০১৪ সালে Fifth Kyoto Animation Award এর novel category বিজয়ি এই লাইট নভেলের এডাপ্টেড আনিমে নিয়ে আমার নিজের মাঝে হাইপ কম ছিল না।

কাহিনির প্রধান চরিত্রের নাম Violet Evergarden। সে যুদ্ধের সময় তার কমান্ডার এর বলা শেষ কথা “Aishiteru” (I love you) এর “Ai” (love) এর অর্থ বুঝতে চায়। আর এই উদ্দেশ্যে সে চিঠি লেখার আর ডেলিভারি করার কাজের সাথে যোগ দেয়। এখানে এসে সে মানুষের অনুভূতি বুঝার চেষ্টা করে আর তাতেই বের হয়ে আসে বিভিন্ন মানুষের ইমোশনাল সব কাহিনি। একই সাথে তার সেলফ রিয়ালাইজেশন বাড়তে থাকে, তার মাঝে সাধারণ মানুষের মত ইমোশান জন্ম নেয়। এই আনিমে studio Kyoani এর বানানো আরেকটা মাস্টারপিস। প্রতিটা এপিসোড এর অ্যানিমেশন যেন একেকটা হাই বাজেট মুভি এর অ্যানিমেশন, এতটাই নিখুঁত। আর ভায়োলেট এর মত সুন্দরী কোন আনিমে চরিত্র আমি দেখেছি বলে মনে হয় না। তার ছবি আমার ফোনের ওয়ালপেপার ছিল কয়েক মাস। Violet এর করা প্রতিটা ছোটখাট ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন ই অনেক বেশি প্রেশাস লেগেছে। এই আনিমের আরেকটা মনে রাখার মত দিক হচ্ছে এর ওএসটিগুলো, বেশিরভাগ ওএসটিই বেশ সুন্দর। এই বছরে বের হওয়া আনিমে খুব দেখা হয়নি, আর যা দেখেছি তার অনেকগুলো শেষ করা হয়নি। যা দেখেছি তার মাঝে থেকে আমার জন্য AOTY হচ্ছে এই Violet Evergarden.

10. Abir - Violet 2

Rokeya Sharmin Orin

Anime of the Year: Shingeki no Kyojin 3rd Season

আমি এবছর অল্প কয়টা এনিমে দেখছি তার মধ্যে সবই প্রায় আগের সিজনের কন্টিনিউয়েশন। শিনগেকি নো কিওজিন ৩, বোকু নো হিরো একাডেমিয়া ৩, সাইকি কুসুও নো সাই নান ২, সান গাতসু নো লায়ন ২, নানাতসু নো তাইজাই: ইমাশিমে নো ফুক্কাতসু। এইগুলা সবই অনেক ভাল্লাগছে।তবে সবথেকে বেশি ভাল ছিল SnK.

শিনগেকি নো কিওজিন এর এই সিজন অনেক বেশি ভাল লাগার কারণ হল একশন তো আমার সবসময় ভালই লাগে আর এই সিজনে কাহিনীও অনেক ডেভেলপ করছে। আর প্রতিটা ক্যারেক্টারই আগের থেকে ম্যাচিউর হইছে।

তবে একদম নতুন যেগুলা দেখছি সেগুলা হল সোরা ইয়োরি মো তোওই বাশো, ইউরু ক্যাম্প, হিনামাতসুরি। এগুলার মধ্যে ১ম দুইটা অনেক বেশি ভাল্লাগছে। লাস্টের টা মোটামুটি।

সোরা ইয়োরি মো তোওই বাশো দেখতে বসে এক্সপেকটেশন থেকে অনেক বেশি ভাল্লাগছে। চারটা মেয়ে নানকিওকু যাওয়ার গল্প টা যেভাবে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করছে আসলেই মুগ্ধ হওয়ার মত এনিমে আর জাপান আসার পর ইউরু ক্যাম্প দেখতে বসে ইউরু ক্যাম্পে দেখানো জায়গা গুলা বাস্তব জীবনে দেখা জায়গার সাথে মিলাতে পেরে আমার অন্যরকম ফিল হইছে। এনিমেটাও অনেক মনোমুগ্ধকর ছিল।

10. Orin - Snk3

Tariqul Islam Ponir

Runner-Up: Full Metal Panic! Invisible Victory

আমি ফুলমেটাল প্যানিক দেখি ২০১০ এর দিকে। শ্বাস বন্ধকরা এক ক্লিফহ্যাঙ্গার দিয়ে শেষ হয়েছিল সেকেন্ড রেইড। পরের সিজন পাবো ইটা আশা করি নাই! ২০১৮ এর শুরুতে শুনি নতুন সিজন আসছে; শুধু এটার না, ফুলীকুলি এরও! কক্ষ ছানাবড়া হবার যোগাড়। নতুন সিজন হতাশ করলো না. আগের চাইতে অনেক সিরিয়াস মোড শুরু হলো. মাত্র ১২ পর্বে বেশ বড়সড়ো একটা গল্প দেখালো। তাই অনেক রাস্ড আর মিনিমাল ক্যারেক্টার ইন্টার্যাকশন। এরপরও, ওয়ারর্থ ইট!

Anime of the Year: Hinamatsuri

আনিমে পছন্দ হওয়ার একটা কারণ হলো অদ্ভুত সব গল্প। অনেক ক্লিশের মাঝেও মাঝে মাঝে এরকম কিছু প্লট এসে পরে যে অবাক হয়ে জিতে হয় যে লেখক কিভাবে এসব চিন্তা করতে পারে। আমার কাছে হিনমতসুরি এরকমই অদ্ভুতূড়ে এক গল্প হয়ে হাজির হয়েছিল। এক ইয়াকুজার উপর যদি হঠাৎ এক অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা সম্পন্ন বচ্চা ভর করে তাহলে কেমন হবে? এরকম সামান্য এক চিন্তা থেকেই হয়তো গল্পের শুরু। ব্যাট গল্পটির চার্ম হলো, কুশীলব সবার গড়পরতা(!) সমস্যা নিয়েই গল্পটি এগিয়ে যেতে থাকে। দেখতে দেখতে একসময় আনজু আর হিনার দুইজনের জন্যই চিয়ার করতে শুরু করেছিলাম। আর হিতোমীর বারের ঘটনাগুলো কমেডিক ভ্যালুর কথা আর নাই বললাম।

11. Ponir - Hinamatsuri

Kazi Rafi

Runner Up: Chio’s School Road

Anime of the Year: Asobi Asobase

২০১৮ ছিল কমেডি এনিমের বছর। প্রত্যেক সিজনেই এক বা একাধিক স্ট্যান্ডআউট কমেডি এনিমে স্পটলাইট কেড়ে নিয়েছিল। কিন্তু এতো সব দারুন কমেডি এনিমের ভিড়েও আসোবি আসোবাছে আমার কাছে এই বছরের সেরা এনিমে, এর কারন একটাই- আসোবি আসোবাছে আমাকে সম্পুর্ণরূপে চমকে দিয়েছে। আসোবি আসোবাছে দেখার আগ্রহ জাগে প্রথম যখন এর ট্রেলার দেখি। অবাক লাগে সিনোপসিস আর প্রোমো ইমেজ এর সাথে ট্রেলারের ভিন্নতা দেখে।
ইউকিপিডিয়া আর ম্যালের কাহিনী সংক্ষেপ আর প্রোমো ইমেজ দেখে মনে হবে এ তো আর অন্য দশটা ‘কিউট হাই স্কুল বান্ধবীদের কিউট কাহিনী’ নিয়ে এনিমে। এরপরে আসল প্রথম পর্ব। ট্রেলারের কৌতূহল নিয়ে দেখতে বসলাম; এবং দশ মিনিটের মাথায় উপলব্ধি করলাম, এই এনিমে আমাকে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে ভবিষ্যতে, ২০১৮’র প্রিয় সব এনিমেকে বাদ দিয়ে এটিই হতে যাচ্ছে আমার বছরের সেরা এনিমে। এই ১০ মিনিটের মধ্যে সিরিজের মূল ৩ চরিত্র বুঝিয়ে দিয়েছে, একেকজন দেখতে কিউট হলে কি হবে, একেকজন পুরাই একেকটা পাগল। হানাকো, কাসুমি, অলিভিয়া, ৩ বান্ধবী; সময় কাটানোর জন্য নিজেরা নিজেরাই স্কুলে একটা ক্লাব খুলে বসে, যেখানে তারা তাদের যা খুশি মনে চায় করবে। এবং এইখানেই তারা সম্পুর্ণ সাধারন একটা ঘটনা কে তারা যতটা উদ্ভট ভাবে সম্ভব জগাখিচুরি পাকিয়ে কিম্ভুতকিমাকার বানিয়ে এক অসামান্য কাহিনীতে রুপ দেয়। আসতে থাকে এক্টার পর একটা মেটা জোকস, রেফারেন্স, ট্রলিং, অসাধারণ কমিক টাইমিং এ দম বন্ধ করা হাস্যকর জোক ডেলিভারি। আর একেকজনের ফেস রিয়েকশন তো দেখার মতন, শুধু মাত্র ফেস রিয়েকশন দিয়েও যে হেসে কুটিকুটি করে ফেলা যায় সেটা আসোবি আসোবাছেতে এসে আবারো প্রমাণিত। তবে…এই সিরিজের সবচেয়ে সেরা সম্পদ কি জানেন? এর ভয়েস এক্ট্রেসরা, বিশেষ করে হানাকোর ভয়েস এক্ট্রেস হিনা কিনোর কথা নাহ বললেই নয়। এক হিনা কিনোর পারফর্মেন্সেই মুগ্ধ নাহ হয়ে আপনি পারবেন নাহ। মুখ হা করে দেখার মতন দুর্দান্ত সাহসী পারফরমেন্সের মাধ্যমে পুরা ভয়েস অ্যাক্টিং ইন্ডাস্ট্রির জন্যই এক নতুন উচ্চতা তৈরি করে দিয়েছে সিরিজের ভিএরা।
সিরিজটি নির্মানের দায়িত্বে ছিল স্টুডিও লার্চে, ডিরেক্টরের দায়িত্বে আর কেও নন, লার্চের একমাত্র ঝানু ডিরেক্টর সেইজী কিশি।
প্রতি সপ্তাহে আসোবি আসোবাছের ‘Over the top, bizzare’ কমেডী গ্যাগ আর মনোমুগ্ধকর ভয়েস এক্টিং পারফর্মেন্স দেখার সময় মনে হত এই এনিমে আমার বছরের সেরাতে পরিনত হওয়া শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার মাত্র।

12. Kazi Rafi - Asobi Asobase

Tahsin Faruque

Runner-Up: 3-gatsu no Lion 2nd Season

3-gatsu no Lion আসলে শুধুই একটি আনিমে নয়, এটি একটি আর্ট। শুধুই ভিজুয়াল আর্টই নয়, এটিকে আমি বলবো সাইকোলজিকাল আর্ট। সিরিজটি সাইকোলজিকাল নয় বটে, তবে দর্শকের মনের উপর একটি অস্বাভাবিক গভীর ছাপ ফেলে যাবার ক্ষমতা রয়েছে এটির। যেমন সুন্দর অ্যানিমেশন, তেমন মুগ্ধ করা মিউজিক। শুধুই আরেকটি স্লাইস অভ লাইফ সিরিজ নয় এটি, শুধু আরেকটি খেলা নিয়ে আনিমে নয় এটি; গল্পের একেকজন ক্যারেক্টারের জীবনকে স্ক্রিনের ভিতর থেকে বের করে এনে দর্শকের মনের মধ্যে গেঁথে দিতে পারার মত সিরিজ এটি।

এরকম একটি সিরিজকে রানার-আপে রাখলাম, কারণ এটিকে পিছনে ফেলে আমার জন্যে বছরের সেরা আনিমে হতে পেরেছে যেটি তা হল-

Anime of the Year: Devilman: Crybaby

গো নাগাইয়ের ক্লাসিক এই মাঙ্গাটি এতদিন বিভিন্ন কারণে পুরাপুরিভাবে আনিমের অ্যাডাপ্টেশন পায় নি। প্রচন্ড রকমের সমালোচনা তৈরি করা গল্পের এই সিরিজ আসলে টিভিতে নিয়ে আসার মত সাহস পায় নাই অনেকেই। অবশেষে নেটফ্লিক্সের উপস্থিতি একটি সুন্দর সংকেত দিল যেন। যেকোনরকমের সেন্সরিং করা ছাড়াই গল্পটি পুরাপুরিভাবে, এবং চাইলে আরও নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগটি এক লাফে লুফে নিয়েছে মাসাকি ইয়ুসারার মত ব্রিলিয়ান্ট একজন আনিমে ডিরেক্টর ও অ্যানিমেটর। আনিমের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ আনিমের পিছনে প্রেরণা হিসাবে কাজ করা ডেভিলম্যান মাঙ্গার একটি সফল অ্যাডাপ্টেশন হয়েছে এই আনিমেতে। সেই সাথে সিন্থওয়েভ মিউজিকের অসাধারণ ব্যবহার আনিমেটিকে একটি ইন্সট্যান্ট ক্লাসিক বানিয়ে ফেলতে পেরেছে।

13. Devilman Crybaby