King Golf [মাঙ্গা রিভিউ] — Arnab Basu

King Golf

মাঙ্গাঃ King Golf
MAL Rating: 7.87/10
Personal Rating: 8/10
গলফ খেলাটা ঠিক আর দশটা খেলার মত না। সব দিক থেকেই এটা বেশ বিলাসবহুল খেলা। গলফ টুর্নামেন্টগুলোর প্রাইজমানিও অনেক বেশি। এরকম একটা খেলা নিয়েই এই মাঙ্গা। হাই স্কুলের ছেলে-মেয়েরা এই খেলা খেলছে, টুর্নামেন্ট হচ্ছে এটা দেখে প্রথমে বেশ অবাক লেগেছে। জাপানে হাই স্কুলগুলোতে গলফ খেলার সুযোগ আসলে আছে কিনা জানি না, তবে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

প্রোটাগনিস্ট ইয়ুকি সৌসকে(aka Predator) তার স্কুলের সবচাইতে বড় Delinquent, মারামারিতে অপরাজেয়। একই স্কুলের কাজুমি নামকরা Amateur গলফার, এক দিন ইয়ুকিকে দেখে পাত্তা না দিয়ে চলে যায়। এতে নায়কের বেশ গায়ে লাগে। কাজুমিকে খুঁজতে খুঁজতে সে চলে আসে স্কুলের গলফ ক্লাবে। এখান থেকেই শুরু হয় ইয়ুকির গলফের রাজা হওয়ার পথচলা।

মাঙ্গার গল্প আসলে আহামরি কিছু না। টিপিকাল স্পোর্টস-শোউনেন গল্পগুলো যেমন হয় আর কি। তাহলে বারবার এই টিপিকাল জিনিসগুলো কেন পড়ি বা দেখি? আসলে এ ধরণের গল্পগুলোর মজা ছোট ছোট মোমেন্টগুলোতে। কিং গলফও তার ব্যতিক্রম না। ইয়ুকির গলফ ক্লাবের সুইং, তার ডায়লগ বা এমন জিনিসগুলোই এই মাঙ্গার আকর্ষণ। তাছাড়া দারুণ আর্ট তো আছেই।

ড্রেডলক চুলের প্রোটাগনিস্ট আমি প্রথম এই মাঙ্গাতেই দেখেছি। ইয়ুকির আচরণ অনেকটাই স্ল্যাম ডাঙ্কের হানামিচির মত। তবে একটা জিনিস আমাকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। গল্পে ইয়ুকির যে প্রোগ্রেস দেখানো হয়েছে, সেটা বেশ অবিশ্বাস্য। তবে এমন না যে সে ট্রেইনিং বা পরিশ্রম ছাড়া সেটা করছে। কিন্তু সে এত দ্রুত এত ভাল খেলোয়াড় হয়ে গেল, যেটা আসলে আমার চোখে লেগেছে। আমি জানি না গলফ বেশ সহজ কোন খেলা কিনা, তা যদি না হয়, তাহলে ইয়ুকি আমার দেখা এখন পর্যন্ত সবচাইতে প্রোডিগাল প্রোটাগনিস্ট।

স্পোর্টস ভক্তদের জন্য মাস্ট রিড এই মাঙ্গাটা পড়ে ফেলুন। গলফ নিয়ে নতুন মাঙ্গা Robot x Laserbeam কেমন হবে জানি না। তবে কিং গলফ এর সমপর্যায়ে আসা বেশ কঠিন হবে।

Paranoia Agent [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Paranoia Agent

কিছু কিছু এনিমে দেখার পর মনে হয় এনিমেটা না দেখাই হয়তো স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গলকর ছিল। বিখ্যাত পরিচালক সাতোশি কনের একমাত্র টিভি সিরিজ হওয়ায় অনেকদিন ধরেই প্যারানয়া এজেন্ট ওয়াচলিস্টে ছিল। তের পর্বের এনিমেটা দ্রুত গতিতেই শেষ করেছি কিন্তু তারপরও মনে হয়েছিল এনিমেটা আরো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলেই ভাল হত।
*
কাহিনীর শুরুটা কিছুটা আর্বান লেজেন্ড ঘরানার। টোকিও শহরে Lil’ Slugger (জাপানিজে Shonen Bat) নামের এক কিশোর অপরাধীর আবির্ভাব ঘটে। একাধিক নগরবাসী লিটল স্লাগারের আক্রমণের শিকার হয়। লিটল স্লাগার কে এবং কোথা থেকে কি উদ্দেশ্য নিয়ে আক্রমণ করে তা কেউ জানে না।শুধুমাত্র ভিক্টিমরা এটাই বলতে পারে যে আনুমানিক সিক্সথ গ্রেডে পড়া এক কিশোরই আক্রমণকারী। কিশোরের মাথায় একটা লম্বা ক্যাপ পড়া থাকায় চেহারা ঠিকমত দেখা যায় না। ভিক্টিমরা আরো মনে করতে পারে যে লিটল স্লাগার সোনালি রঙের রোলার স্কেটে করে পেছন থেকে সোনালি রঙেরই একটা বাঁকানো বেসবল ব্যাট দিয়ে আক্রমণ চালায়। লিটল স্লাগারের প্রথম আক্রমণের শিকার হয় সুকিকো সাগি নামের একজন ক্যারেকটার ডিজাইনার। তারপর বিভিন্ন পেশার, বিভিন্ন বয়সের মানুষ র‍্যান্ডমলি রাস্তাঘাটে লিটল স্লাগারের আক্রমণের শিকার হয়। লিটল স্লাগারের পরিচয় উদঘাটনের জন্য পেছনে লাগে দুই গোয়েন্দা ইকারি আর মানিওয়া।
*
প্যারানয়া এজেন্টের কাহিনী প্রথমদিকে ডিটেকটিভ উপন্যাসের মতই আগাচ্ছিল। জিজ্ঞাসাবাদ, অপরাধের স্থানে ক্লু খোঁজা ইত্যাদি আরকি। তবে আক্রমণের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত জীবনে যখন আলোকপাত করা শুরু হয় তখনই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হই। কিছু চরম অসুস্থ মানুষের চরম অসুস্থ চিন্তাভাবনার চিত্রায়ন হল প্যারানয়া এজেন্ট। লিটল স্লাগারের ভিক্টিমদের মধ্যে কোন আন্তঃসম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে তদন্ত এগোনোর সময় আবিষ্কৃত হয় যে লিটল স্লাগারের আক্রমণের সময় ভিক্টিমরা সবাই কোন না কোনভাবে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিল। একেকজন ভিক্টিমের মানসিক অস্থিরতাকে কাভার করে কয়েকটা পর্ব রচিত হয়েছে। আবার লিটল স্লাগারের আবির্ভাবের গুজব আর সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাব নিয়ে কয়েকটা পর্ব বানানো হয়েছে। তবে লিটল স্লাগারের একেকজন ভিক্টিমের আত্মকাহিনী দেখলে ঘৃণায় গা রি রি করে উঠতে বাধ্য। ভদ্রলোকের মুখোশ পড়ে রাখা পশুর সংখ্যা সমাজে উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়াকে সাতোশি কন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। এই মুখোশ পরে রাখা লোকের মধ্যে রয়েছে স্কুলশিক্ষিকা থেকে শুরু করে পুলিশ অফিসার থেকে এলিমেন্টারি স্কুলবালক পর্যন্ত। জাপানের নাগরিক জীবনের অন্ধকার দিক যেগুলো কখনোই অন্য এনিমেতে সচরাচর দেখানো হয় না তারও চিত্রায়ন করেছেন সাতোশি কন উনার মুভিগুলোর মতই। পারফেক্ট ব্লু মুভিতে অনেক ডার্ক মুহূর্ত থাকলেই প্যারানোয়া এজেন্টে এর চেয়ে অনেক বেশি ডার্ক ডেভেলপমেন্ট আছে। তাই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে এনিমেটা দেখা উচিত।

Diamond no Ace: বেসবল সমাচার! — Mithila Mehjabin

জনরা যদি হয় স্পোর্টস, আর দর্শক যদি হয় আমার মত খুতখুতে, তাহলে স্পোর্টস না বুঝে এনিমের আনন্দ উপভোগ করাটা তাকে দিয়ে হয় কম! :’)
আহামরি খুব বেশী স্পোর্টস এনিমে দেখা হয়নি, কিন্তু যে কয়টা দেখেছি তন্মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় হলো দাইয়া নো এস তথা ডায়ামন্ড নো এস।  এনিমেটা দেখার সময় রীতিমত খাতা-কলম নিয়ে বসে গেছিলাম, বেসবলের সকল রহস্য বুঝে ছাড়ব!  বিপুল পড়াশুনা (!) করে মোটামুটি একটা ধারণা আনতে পেরেছিলাম বেসবল সম্বন্ধে, আর বাকিটা দাইয়া দেখেই বুঝেছি! :’) তাই, যারা খেলাটা না বোঝার কারণে দাইয়া বা বেসবল সংক্রান্ত অন্য কোনো এনিমে দেখতে পারছেন বা চাইছেন না, তাদের জন্য লিপিবদ্ধ করে ফেললাম আমার সকল বেসবল জ্ঞান! আশা করি উপকৃত হবেন!
ইয়াকিউ তথা বেসবল…পশ্চিমা বিশ্বে বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয় একটি খেলা, ঠিক আমাদের দেশে ক্রিকেট যেমন। ক্রিকেটের সাথে বেসবলের মিলও বেশ, দুটোই ব্যাটে বলে রান তোলার দৌড়!
দুদিক থেকে দুটি তীর্যক রেখা উঠে যাওয়া একটি বিন্দুকে কেন্দ্র করে একটি বৃত্ত আঁকলে, তীর্যক রেখা দুটির অন্তভূক্ত অর্ধবৃত্ত, যেখানে বিন্দু থেকে অর্ধবৃত্ত পর্যন্ত একটা হীরকখন্ড বা ডায়ামন্ডের মত মনে হয়…এই ডায়ামন্ডই বেসবল খেলার মাঠ। আবার বিন্দু থেকে অর্ধবৃত্তের ভেতর দিকে একটি তাস পাতার ডায়মন্ড কল্পনা করলে, এই ডায়ামন্ডের চারটি কোণা হচ্ছে চারটি বেস। প্রথম বিন্দু, যেখান থেকে দুটি তীর্যক রেখা উঠে গেছে, সেটি হচ্ছে হোম বেস, এই হোম বেস থেকে ডানের বেসটি ফার্স্ট, বিপরীত বেসটি সেকেন্ড, এবং বামের বেসটি থার্ড বেস। বড় ডাযামন্ডের ভেতর ছোট ডায়ামন্ড, বেসবল খেলায় দুটোকেই ডায়ামন্ড বলা হয়।
ছোট ডায়ামন্ডটির কেন্দ্রে একটু উচুঁ জায়গাটা হচ্ছে পিচার’স মাউন্ড, যেখান থেকে বল ছোড়ে পিচার। পিচারের মাউন্ড বরাবর প্রথম বিন্দু, তথা ফার্স্ট বেস থেকে উঠে যাওয়া তীর্যক রেখা দুটি ফাউল লাইন। হোমবেস থেকে ছোট ডায়ামন্ডের বাইরের খানিকটা অংশ জুড়ে ইনফিল্ড, ইনফিল্ড থেকে বড় ডায়ামন্ডের আউটার ফেন্স পর্যন্ত জায়গাটুকু হচ্ছে আউটফিল্ড। কল্পনা করতে কষ্ট হলে নেট ঘেটে বেসবল ফিল্ডের একটা ছবি দেখে নিলে বুঝতে পারা খুবই সহজ।
একেকটি দলে নয়জন করে দুটি টিমের মধ্যে খেলা হয়। ক্রিকেটের মতই, এট এ টাইম একদল ব্যাটিং এবং বিপক্ষ দল বলিং এবং ফিল্ডিং করে। এভাবে পালা করে একটি ব্যাটিং ও একটি ফিল্ডিং নিয়ে হয় এক ইনিং; বেসবলে নয়টি ইনিং নিয়ে খেলা হয়। টাই হলে ইনিং বাড়তে পারে।
ব্যাটিং দলের লক্ষ্য থাকে ফিল্ডিং দলের পিচারের ছোড়া বল পিটানো, এবং পিটিয়ে যদ্দুর সম্ভব দূরে ফেলানো। ব্যাটার বল পিটিয়েই ব্যাট ফেলে দৌড় দেবে প্রথম বেস এ। এভাবে একজন ব্যাটার হোম বেস থেকে ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড এবং ব্যাক হোম, অর্থাৎ পুরো চারটা টা বেস ঘুরে হোম বেস এ ফেরত আসলে তখন ব্যাটিং দলের জন্য একটি রান কাউন্ট হয়।
বলিং বা ফিল্ডিং দলের লক্ষ থাকে ব্যাটারকে যেকোনোভাবে আউট করা এবং রান করা থেকে বিরত রাখা।
ব্যাটিংদলের তিনজন খেলোয়াড় আউট হলে ব্যাটিং টিমের ব্যাটিংয়ের পালা শেষ, তারপর ব্যাটিং টিম ফিল্ডিং এবং ফিল্ডিং টিম ব্যাটিংয়ে নামবে। এভাবে করে নয় ইনিং শেষে যে দলের রান বেশী হবে, সে-ই জয়ী!
কত সহজ, তাই-না?! :’) AS IF!
লক্ষণীয়:
* বেসবল খেলায় “বল” শব্দটা একটা বিশেষ অর্থ বহন করে, তাই এখানে “বল” এর বদলে “পিচ” ব্যাবহার করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
** কোনো খেলাই শতভাগ নিয়ম অনুসরণ করে না। রুল ফ্লেক্সিবেল্, আবার নিয়ম তৈরী হয় এবং ছাঁটাই হয়। তাই খেলা দেখার সময় আরও অনেক ব্যাপারেই চোখে পড়বে। এখানে অনুক্ত কিছু চোখে পড়লে নেটের সাহায্য নিতে পারেন; অথবা প্রশ্ন থাকল উত্তর বের করে দেয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করব।
***অপরিচিত লাগতে পারে, এমন সকল শব্দ “ফ্যাক্টস” অংশে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
****দাইয়া নো এস এর একটা প্রসঙ্গ যেহেতু, দাইয়ার রেফারেন্স ব্যাবহার করা হয়েছে টুকটাক জায়গায়,; সেগুলোকে কোনোভাবেই স্পয়লার বলা যায় না।
প্রত্যেক হাফ-ইনিংয়ের শুরুতে ফিল্ডিং টিম এর নয়জন প্লেয়ার নিজেদের পজিশন অনুযায়ী ফিল্ডে দাড়িয়ে যাবে। পিচার, যার কাজ বল ছোড়া বা পিচ করা, থাকবে মাউন্ডের ওপর। ক্যাচার থাকবে হোম বেসে, যেখানে ব্যাটার দাড়াবে, তার ঠিক পেছনে, বসা অবস্থায়, পিচারের দিকে মুখ করে। পিচার ও ক্যাচারের মধ্যে সাংকেতিক চিহ্ণের আদান-প্রদানের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে থাকে কি ধরণের বল, কোথায় ছোড়া হবে। হোমবেসের দায়িত্বে থাকা বেসম্যানও ক্যাচার। তিনটা বেস এ চারজন ফিল্ডার অবস্থান নেয়, যাদেরকে ইনফিল্ডারও বলা হয়। প্রথম বেসপ্লেট থেকে কয়েক পা বামদিকে অবস্থানকারী হচ্ছে ফার্স্ট বেসম্যান, সেকেন্ড বেসের ডানদিকে অবস্থানকারী সেকেন্ড বেসম্যান, সেকেন্ড বেসের বামদিকে অবস্থানকারী শর্টস্টপ, এবং থার্ডবেসের কয়েক পা ডান দিকে হচ্ছে থার্ড বেসম্যান।
আউটার ফিল্ডের বাম দিকে লেফট ফিল্ডার, মাঝখানে সেন্টার ফিল্ডার, ডানে রাইট ফিল্ডার।
ক্যাচারের পেছনে একজন নিরপেক্ষ আম্পায়ার থাকে, প্রতিটা বেসেও একজন করে আম্পায়ার থাকতে পারে। গেম এর গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে একটি বেসবল ম্যাচে ১-৬ জন আম্পায়ার থাকতে পারে।
খেলার শুরুতে একজন ব্যাটার হোম বেস এ এসে দাড়াবে ব্যাট হাতে, হোমপ্লেটের দিকে পিচারের ছোড়া বল হিট করার উদ্দেশ্যে। পিচারের ছোড়া সেসকল পিচ যা ব্যাটার চেষ্টা করেও হিট করতে পারে না অথবা ইচ্ছে করেই করে না, গিয়ে ক্যাচারের মিট বা গ্লাভসে ধরা পড়ে, এবং ক্যাচার বল ফেরত পাঠায় পিচার কে। একজন ব্যাটার, যে বল পিটিয়ে খেলার মাঠে গড়াতে পারে, তাকে অবশ্যই বল গড়ানো মাত্র ব্যাট ফেলে প্রথম বেসের উদ্দেশ্যে দৌড়াতে হবে, সে বল দূরেই গড়াক, আর কাছেই গড়াক।
ব্যাটার বল গড়িয়ে হাত থেকে ব্যাট ফেলামাত্রই ব্যাটার হিসেবে তার দায়িত্ব শেষ, তখন সে একজন রানার তথা ব্যাটার- রানার। আউট না হয়ে যে ব্যাটার প্রথম বেস এ পৌছে যেতে পারে, সে হচ্ছে “সেফ”, মানে তাকে প্রথম বেস এ থাকা অবস্থায় আর আউট করা যাবে না। একজন ব্যাটার-রানার চাইলে প্রথম বেস এ থাকতে পারে, অথবা দ্বিতীয় বেস, কিংবা এর পরের বেসেও পৌছানোর সিন্ধান্ত নিতে পারে, যত বেস পর্যন্ত সে বিশ্বাস করে যে আউট না হয়ে পৌছাতে পারবে।
একজন ব্যাটার যদি পিচারের ছোড়া পিচ মাঠে গড়িয়ে নিরাপদে প্রথম বেস এ পৌছাতে পারে, সেটাকে বলা হয় “সিঙ্গেল”। যদি সে বল গড়িয়ে প্রথম প্রচেষ্টায়ই দ্বিতীয় বেস পর্যন্ত পৌছাতে পারে, তাহলে সেটা “ডাবল”, তৃতীয় বেস পর্যন্ত পৌছে গেলে সেটা “ট্রিপল”। ব্যাটার যদি পিচারের ছোড়া বল পিটিয়ে পুরো আউটফিল্টের ওপর দিয়ে আউটার ফেন্স পর্যন্ত উড়াতে পারে, তাহলে সেটাকে বলে “হোম রান”। এক্ষেত্রে ব্যাটার সহ বেস এ থাকা প্রতিটা রানার বিনা বাঁধায় সকল বেস ঘুরে হোম বেস এ পৌছানোর অধিকার পায়। ব্যাটার সহ তিন রানারের রান মিলে হয় চারটি রান- যেটা যেকোনো সিচুয়েশনে ব্যাটিং দলের জন্য সবচেয়ে প্রত্যাশিত ফলাফল।
বেস এ থাকা যেকোনো রানার ফেয়ার টেরিটোরিতে ব্যাটারের পিটানো পিচ মাটিতে গড়ানোর আগমুহুর্ত থেকে, পিচ মাটি স্পর্শ করা মাত্র বা পিচ গড়ানোর পরমুহুর্ত থেকে, তথা ব্যাটার পিচের গায়ে আঘাত করা মাত্রই যেকোনো অবস্থা থেকেই দৌড়িয়ে পরবর্তী বেস এ পৌছানোর চেষ্টা করতে পারে। প্রথম বেসের রানারকে পিচ গড়ানো মাত্র অবশ্যই দৌড় দিতে হবে, কারণ পিচ গড়ালে ব্যাটার ব্যাট ফেলে দৌড়াতে বাধ্য, সেক্ষেত্রে প্রথম বেস রানারকে প্রথম বেস খালি করে দিতে হবে। কিন্তু পিচ যদি গড়িয়ে ফাউল লাইনের বাইরে চলে যায়, তাহলে যেকোনো বেস এর রানার আবার পূববর্তী বেসে ফেরত আসবে। ব্যাটারের পিটানো পিচ যদি বাতাসে উড়ে যায়, এবং মাটিতে গড়ানোর আগে ফিল্ডার তালুবন্দী করে ফেলে, তাহলে ব্যাটার আউট। এক্ষেত্রে যে কোনো রানারকে পরবর্তী বেসে এডভান্স হবার হন্য বর্তমান বেস কে ট্যাগ বা টাচ করতে হবে। কারণ বেস রানাররা কিন্ত মোটেই ভালোমানুষের বাচ্চার মত বেসপ্লেটের ওপর দাড়িয়ে থাকে না! তারা পরবর্তী বেসের দিকে, অবস্থানকৃত বেসপ্লেট থেকে খানিকটা এগিয়ে দাড়িয়ে থাকে, যেন ব্যাটার পিচ হিট করা মাত্রই যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বেস এ পৌছুতে পারে। কিন্তু এগিয়ে থাকা একজন বেসম্যান যদি বুঝতে পারে যে ব্যাটার কতৃক উড়ে যাওয়া পিচ ফিল্ডারের হাতে পড়তে যাচ্ছে, তাহলে তাকে এগিয়ে থাকা অবস্থান থেকে অবশ্যই বেসপ্লেটে ফিরে এসে প্লেট টাচ করতে হবে, তারপর পিচ ফিল্ডারের তালুবন্দী হওয়া মাত্রই পরবর্তী বেসের দিকে দৌড়াতে পারবে। পিচার ব্যাটারের দিক পিচ ছোড়া অবস্থায়ও একজন রানার পরবর্তী বেসের উদ্দেশ্যে দৌড় দিতে পারে, কারণ পিচ যেহেতু ব্যাটারের দিকে যাচ্ছে, রানারকে আউট করতে পারার সুযোগ তখন কম। এক্ষেত্রে রানারের প্রচেষ্টা সফল হলে সেটাকে বলে বেস চুরি, বা “স্টোলেন বেস”। আমাদের কুরামোচি সেনপাই একেবারে পরিষ্কার চেহারায় অনায়াসে বেস চুরি করে, কারণ এই চুরির জন্য তো আর তার শ্বাস্তি হচ্ছে না!  মিয়ুকি আবার এককাঠি বাড়া, ও ক্যাচার হলে, বিপক্ষ দলে এমনকি কুরামোচি থাকলেও বেস চুরি করার সাহস দেখাবে না, কারণ বেস চুরির ফন্দী বানচালের দায়িত্ব কিন্তু আবার ক্যাচারের!
পিচারের ছোড়া পিচ যদি ব্যাটার কতৃক হিট না হয়, তাহলে সেটা হয় “বল” নাহয় “স্ট্রাইক”। তিনটা স্ট্রাইক হলে ব্যাটার আউট। পিচারের ছোড়া পরপর চারটা পিচ যদি “বল” হয়, তাহলে ব্যাটারকে একটা “ফ্রি ওয়াক” দ্বারা পুরষ্কৃত করা হয়। অর্থাৎ পরপর চারটা পিচ “বল” হলে ব্যাটার ব্যাট ফেলে বিনা বাঁধায় প্রথম বেস এ চলে যাবে। (পিচারের পিচ যদি ব্যাটারকে হিট করে, অর্থাৎ ছোড়া পিচ ব্যাটারের গায়ে লাগে, তাহলেও একটা “ফ্রি ওয়াক” পাবে ব্যাটার, এই শর্তে যে, ব্যাটার ঐ পিচের দিকে ব্যাট সুইং করেনি।) অনেক সময় অনেক ভালো ব্যাটার পিচ স্লটে পেলে হোম রান করতে পারে, এই ভয়ে পিচার ইচ্ছা করেই চারটা “বল” করে, যেন ব্যাটার বেস এ চলে যায়। তাহলে ঐ ব্যাটারকে আপাতত ফেইস করতে হচ্ছে না তার। পিচারের ছোড়া বল কি স্ট্রাইকজোনের মধ্য দিয়ে গিয়ে “স্ট্রাইক” হয়েছে, না স্ট্রাইকজোনের বাইরে দিয়ে গিয়ে “বল” হয়েছে, তা হোমবেস আম্পায়ার নির্ধারণ করেন।
নিম্নোল্লেখিত কারণগুলোর কোনোটি ঘটলে একটা পিচ কে “স্ট্রাইক” ধরা হয়:
১. ব্যাটার স্ট্রাইকজোনের মধ্য দিয়ে পিচ করা একটি বল এ সুইং না করে তা ক্যাচারের কাছে যেতে দিলে।
২. ব্যাটার যেকোন পিচ (এমনকি সে পিচ যদি “বল” ও হয়) এর দিকে ব্যাট সুইং করলে, কিন্তু লাগাতে না পারলে সে পিচ যদি গিয়ে ক্যাচারের হাতে পড়ে।
৩. ব্যাটারের পেটানো পিচ যদি কোনোভাবে ফাউল লাইনের বাইরে গড়ায়, তাহলে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, ব্যাটারের যদি অলরেডি দুটো স্ট্রাইক হয়ে থাকে, তাহলে তৃতীয় স্ট্রাইক হিসেবে ফাউল টেরিটোরিতে গড়ানো বল গণ্য করা হবে না, অর্থাৎ তৃতীয় স্ট্রাইকের সময় পেটানো পিচ ফাউল টেরিটোরিতে গড়ালেও সেটা “স্ট্রাইক” হিসেবে গণ্য হবে না, যদি না সে পিচ টা বান্ট করা হয়। ফাউল বান্ট যদি তৃতীয় স্ট্রাইকও হয়, তবুও স্ট্রাইক হিসেবে গণ্য হবে।
একটা পিচ কে “বল” হিসেবে গণ্য করা হয় যখন পিচারের ছোড়া পিচ স্ট্রাইকজোনের বাইরে দিয়ে যায়, যদি না ব্যাটার ঐ পিচের দিকে ব্যাট সুইং করে থাকে তো। ব্যাট সুইং করা হলে সেটা স্ট্রাইক হিসেবে গণ্য হবে।
ব্যাটিং টিম যখন রান করার চেষ্টা করে, ফিল্ডিং টিম এর লক্ষ থাকে ব্যাটারদের আউট করা এরং রান করা থেকে বিরত রাখা। সাধারণত নিম্নোল্লেখিত পাঁচটি উপায়ে একজন ব্যাটার বা ব্যাটার-রানার আউট হয়ে থাকে:
১. স্ট্রাইকআউট: উপরে যেমন বলা হয়েছে, তিনটা স্ট্রাইক হলে, অর্থাৎ পিচারের ছোড়া বল স্ট্রাইকজোনের মধ্য দিয়ে যাওয়া সত্বেও ব্যাটার সে পিচ না পেটাল বা পেটাতে না পারলে, অথবা “বল” হওয়া সত্বেও সুইং করলে স্ট্রাইক কাউন্ট হবে। আর তিনটা স্ট্রাইক মানে ব্যাটার আউট।
২. ফ্লাইআউট: পেটানো বল যদি মাটিতে পড়ার আগে ফিল্ডার তালুবন্দী করে ফেলে, তাহলে সেটা ফেয়ার টেরিটোরি, ফাউল টেরিটোরি বা যে অবস্থায়ই হোক না কেন, ব্যাটার আউট হয়ে যাবে।
৩. গ্রাউন্ডআউট: ব্যাটারের পেটানো পিচ ফেয়ার টেরিটোরিতে গড়ানোর পর যদি সে পিচ ফিল্ডারদের হাত হয়ে ব্যাটার বা কোনো ব্যাটার-রানারের আগে বেসপ্লেট টাচ করে, তাহলে সেই ব্যাটার বা ব্যাটার রানার আউট। যেমন: ব্যাটারের পেটানো পিচ গড়িয়ে সোজা শর্টস্টপের হাতে গেলে শর্টস্টপ যদি সে পিচ ব্যাটারের ফার্স্ট র্বেস এ পৌছানোর আগে ফার্স্ট বেসে অবস্থানকারী বেসম্যান কে ছুড়ে দেয়, তাহলে ব্যাটার আউট হয়ে যাবে। একই ব্যাপার অন্যন্য বেস রানারদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। গ্রাউন্ডআউট দেখা টা আসলে শ্বাসরুদ্ধকর, কারণ শুধু একজন ব্যাটার বা একজন রানারকেই যে গ্রাউন্ডআউট করা যায় তা-ই না, মাঝেমাঝে দুজন, এমনকি তিনজন ব্যাটার-রানারকেও আউট করে ফুল বেস মুহুর্তে শুণ্য করে দেয়া যায়! উদাহারণস্বরুপ: ধরুন ব্যাটিং টিম এর তিনজন ব্যাটার তিনটা বেস এ এডভান্স করতে পেরেছে! বেস ফুল, এমন সময় চতুর্থ ব্যাটার এসে পিচারের ছোড়া পিচ পেটাতে গিয়ে ব্যাটে-বলে মেলাতে পারল না! অথচ পিচ ফেয়ার টেরিটোরিতে গড়ানো মানে কিন্তু দৌড়াতে হবে ব্যাটারকে, স্বাভাবিকভাবেই আর বাকি বেস রানারদেরও দৌড়াতে হবে আগের বেসের বেসম্যানকে জায়গা করে দেয়ার জন্য। অথচ পিচ ধুলোয় কিছুটা লুটোপুটি খেয়ে সোজা গড়ালো সেকেন্ড বেসম্যানের হাতে, মানে ফার্স্ট থেকে সেকেন্ড বেসের উদ্দেশ্যে দৌড় শুরু করা রানার আউট! সেকেন্ড বেসম্যান পিচটা ধরেই আবার ছুড়ে দিল ক্যাচার বা হোমবেসম্যান এর হাতে, অর্থাৎ থার্ড বেস থেকে হোমবেসের দিকে দৌড় শুরু করা রানার আউট! ক্যাচার আবার সেই বল ছুড়ে দিল ফার্স্ট বেসম্যানের হাতে, মানে ব্যাটার, যে হোম থেকে ফার্স্টবেসের দিকে দৌড়াচ্ছিল, সে-ও আউট!  ট্রিপল্ প্লে অর্থাৎ তিনজন প্লেয়ার আউট! এবং জ্বী! ঠিক এমনই একটা ট্রিপল প্লে দেখতে পাই আমরা দাইয়া তে! বলদ পিচারের কন্ট্রোলবিহীন পিচ দিয়েও কিভাবে একটা ট্রিপল প্লে খেলা যায়, তারই একটা চমৎকার প্ল্যান বানিয়েছিলেন জিনিয়াস ক্যাচার!
উল্লেখ্য যে: ব্যাটার বা রানারকে আউট করার জন্য পিচ বেসম্যানের হাতেই থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। মাঠের সব ফিল্ডারই অবস্থা বুঝে নিজেদের পজিশন ছেড়ে অন্য যেকোনো পজিশন খেলার অধিকার রাখে। সেকেন্ড বেসম্যান যেমন পেটানো পিচ ধরার জন্য নিজের পজিশন ছেড়ে অন্য কোথাও ছুটতে পারে, তেমনি সেকেন্ডের পজিশনে লেফ্ট ফিল্ডারও বেসম্যান হিসেবে দাড়িয়ে যেতে পারে সেকেন্ডের ছোড়া বল রানারের আগে বেসপ্লেটে টাচ করানোর জন্য। আউটের জন্য বল রানারের বেসপ্লেট টাচ করলেই হলো, কার হাত দিয়ে টাচ হচ্ছে, তা বড় কথা না। ঠিক ক্রিকেটে যেমন উইকেটরক্ষক না হয়েও উইকেট ভাঙতে পারে অন্য যেকোনো ফিল্ডার, তেমনই।
৪. ফোর্স আউট: যখন ব্যাটারের পেটানো পিচ ফেয়ার টেরিটোরিতে গড়ানোর কারণে রানার দৌড়াতে বাধ্য হয় বেস খালি করার জন্য, পরবর্তী বেসে পৌছানোর আগেই গ্রাউন্ডআউট হয়ে যাবে জেনেও। যেমন: ফেয়ার টেরিটোরিতে ব্যাটারের পেটানো পিচ দূরে না গড়ালেও; পিটিয়েছে যখন, দৌড়াতে হবে ব্যাটারকে। তখন ফার্স্ট বেসের রানার সরে গিয়ে সেকেন্ড বেস এ যেতে বাধ্য হবে, কিন্তু বল ইতোমধ্যে পৌছে গেছে সেকেন্ড বেসম্যানের হাতে, অর্থাৎ রানার আউট।
৫. ট্যাগ আউট: পেটানো পিচ ট্যাগ বা স্পর্শ করানোর মাধ্যমে যখন আউট করা হয়। রানার দৌড়াতে থাকা অবস্থায়, বা অন্যমনষ্কভাবে বেসপ্লেট থেকে দূরে দাড়িয়ে থাকলে পেটানো পিচ হাতে ফিল্ডারদের কেউ যদি সেই পিচ রানারের গায়ে স্পর্শ করে ফেলে, তাহলে সেই রানার আউট।
উদাহারণে যেমন বললাম, ব্যাটিং টিমের একইসাথে দুইজন, এমনকি তিনজন প্লেয়ারকেও আউট করা যায় ডাবল্ বা ট্রিপল্ প্লে খেলে- যদিও এধরণের সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়। আউট হওয়া প্লেয়ারকে অবশ্যই মাঠ ত্যাগ করে বেঞ্চ বা ডাগআউটে ফিরে যেতে হবে। রানার বেসে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় যদি টিমের তৃতীয় ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যায়, তাহলে রানারসহ ব্যাটিং টিমের ব্যাটিং খেলার পালা শেষ, তারপর ফিল্ডিংয়ে নামবে ব্যাটিং টিম। প্রত্যেক ব্যাটিং ইনিং শূণ্য বেস নিয়ে শুরু হবে, আগের ইনিংয়ে রানারদের পজিশন পরের ইনিংয়ে কোনো কাজে আসবে না।
একেকজন ব্যাটারের ব্যাটিং পালা, বা প্লেটে অবস্থান পূর্ণ হয়ে যায় যখন সে হোম রান করে, বেস ঘুরে হোম বেস এ ফেরত আসে, আউট হয়ে যায়, বা রানার অবস্থানে থাকাকালে টিমের তৃতীয় ব্যাটার আউট হযে যায়, তখন। একজন ব্যাটার ব্যাটিংলাইনে একবারই ব্যাটিংএ আসবে; আবার আসবে যদি শুধু তিনজন ব্যাটার স্ট্রাইক হওয়ার আগেই বাকি আটজন ব্যাটারের প্লেটে উপস্থিতি পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে- যেটা হয়না সাধারণত।
কোন প্লেয়ার কখন ব্যাটিং করবে, সেটা ব্যাটিং অর্ডারে সুনির্দিষ্ট করা থাকে, কারণ ব্যাতীত অর্ডার পরিবর্তন হয় না সাধারনত। প্রত্যেক এট ব্যাটে আগের ইনিঙয়ে ব্যাটিং এর সময় যে ব্যাটার পর্যন্ত শেষ হয়েছিল, তার থেকেই পুনরায় ব্যাটিং শুরু হয়; এভাবে সব প্লেয়ারই ব্যাটিং করতে পারে।
ব্যাটিং অর্ডারে সাধারণত প্রথম ব্যাটারকে লিডঅফ হিটার বলা হয়, যার কাজ বল কোনোমতে ঠেলে দিয়ে আগে বেস দখল করা!
দ্বিতীয় ব্যাটারকে বলা হয় কন্ট্যাক্ট হিটার, যার কাজ সাধারণত বান্ট বা নিজেকে স্যাকরিফাইসের মাধ্যমে লিডঅফ হিটারকে স্কোরিং পজিশন তথা থার্ড বেস পর্যন্ত চলে আসার সুযোগ করে দেয়া।
তৃতীয় ব্যাটার হলো থ্রি-হোল্, যাকে সাধারণত ভালো ব্যাটিং এবং বেস দখল করতে হয়; বল পিটিয়ে যেন অন্তত এতদূর নিতে পারে যা বেস রানারদের এডভান্স হওয়ার সুযোগ করে দেয়।
চতুর্থ ব্যাটার হচ্ছে টিমের সবচেয়ে যোগ্য ব্যাটার, যাকে বলা হয় ক্লিনাপ-ব্যাটার। নামের মতই, ওর কাজ হলো বেস ক্লিন করা, অর্থাৎ পিচ পিটিয়ে সম্ভব হলে চাঁদে পাঠাবে, যেন রানাররা সবাই বেস ক্লিন করে হোমবেস এ ফিরে আসে।
পরবর্তী ব্যাটাররা যথাক্রমে ফিফথ-হোল্, সিক্সথ-হোল, সেভেন্থ, এইটথ ও নাইন্থ-হোল।
উল্লেখ্য যে, ব্যাটিং অর্ডার কোনো স্ট্রিক্ট ডিসিপ্লিন নয়, অবস্থা অনুযায়ী ব্যাটারদের ভূমিকা ও কাজ অনেকভাবে পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হতে পারে।
একটি টিমের নয়জন প্লেয়ার খেলবে, তারমানে কিন্তু এই না যে একেকটা টিম এ মাত্র নয়জন করে খেলোয়াড় থাকবে! গেমের ইম্পরট্যান্স লেভেলের ওপর ডিপেন্ড করে রোস্টারে বিভিন্ন সংখ্যায় খেলোয়ার থাকতে পারে; মেজর লীগগুলোতে একেকটা রোস্টারে সাধারণত ২৫ জন করে খেলোয়াড় থাকে। একেকটা পজিশনের জন্য ব্যাকআপ প্লেয়ার সহ বিশেষ পজিশন, যেমন: পিঞ্চ হিটারের মত অনেকজন প্লেয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হয় একটি রোস্টার বা টিম। প্লেয়ার ছাড়াও টিমে থাকেন কোচ এবং ম্যানেজার। মেইন কোচ ছাড়াও সর্বোচ্চ লেভেলের খেলাগুলোতে ব্যাটিংয়ের সময় মাঠে দুজন কোচ উপস্থিত থাকে; ফার্স্ট বেস কোচ, এবং থার্ড বেস কোচ। ফাউল লাইনের বাইরে কোচে’স বক্সে অবস্থান নেয় এ দুজন, সাধারণত বল খেলার মাঠে গড়ালে বেস-রানারদের দৌড়ের ব্যাপারে এসিস্ট করাসহ মাঠে ফিল্ডারদের পজিশন অনুসারে পরিস্থিতি যাচাই করে নির্দেশনা দেয়া, মেইন কোচ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে নির্দেশ আদান-প্রদান করা এদের কাজ। অন্যন্য খেলা থেকে ভিন্ন, বেসবল টিমের কোচ এবং ম্যানেজাররা সাধারণত দলীয় পোশাক বা ইউনিফর্ম পরে থাকেন, কোনো কারণে খেলার মাঠে আসতে হলে কোচকে অবশ্যই ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় আসতে হবে।
ম্যাচের গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে একটা বেসবল ম্যাচে ১-৬ জন আম্পায়ার থাকতে পারেন। একজন হলে ক্যাচারের পেছনে, হোমবেসের কাছাকাছি অবস্থান নেন। ছয়জন হলে চারজন চারটি বেস, বাকি দুজন ফাউল লাইনের কাছাকাছি অবস্থান নেন।
ফ্যাক্টস:
#স্ট্রাইকজোন: ব্যাট হাতে ব্যাটিং করার ভঙ্গিতে দাড়ালে ব্যাটারের কনুই থেকে হাটু পর্যন্ত যদি একটি নয়ঘর বিশিষ্ট চারকোনা বাক্স কল্পনা করা যায়, তাহলে সেটি হচ্ছে স্ট্রাইকজোন। স্ট্রাইকজোনের ভেতর দিয়ে যাওয়া পিচে হিট না করা হলে ব্যাটারের বিপক্ষে স্ট্রাইক কাউন্ট হয়। স্ট্রাইকজোনের বাইরে দিয়ে যাওয়া পিচ কে “বল” বলা হয়। পিচারের ছোড়া পরপর চারটা পিচ “বল” হলে ব্যাটসম্যান প্রথম বেস পর্যন্ত ফ্রি-ওয়াক পায়।
#বান্ট: বান্ট একটা স্পেশাল ধরণের ব্যাটিং টেকনিক যেখানে ব্যাটার হাতের ব্যাটটির দুইমাথা আলতো করে ধরে পিচারের ছোড়া বল আস্তে করে, এমনভাবে ঠেলে দেয় যেন বল মাটিতে গড়িয়ে খুব বেশী দূরে না যেতে না পারে। সাধারণত নো-ম্যানস ল্যান্ডে, যেখানে কোনো ফিল্ডার নেই, সেখানে পিচ গড়ানোর মাধ্যমে ফিল্ডারদের কনফিউজ করে রানারদের বেস এডভান্সের সুযোগ করে দেয়ার একটি কৌশল হলো বান্ট। এ কৌশলে ব্যাটারের পেটানো পিচের গতি যেহেতু খুব কমে যায়, ইনফিল্ডের ভেতর খুব বেশীদূর গড়ায় না পিচ, এবং সেটা তোলার জন্য নিজেদের অবস্থান ছেড়ে সরে আসতে হয় ইনফিল্ডারদের; উপরন্তু, পিচ্টা কে তুলবে, তা নিয়ে দ্বিধা দেখা দেয় ফিল্ডারদের মাঝে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত এডভান্স করতে পারে বেস রানাররা।
#শর্টস্টপ: বেসবলে শর্টস্টপ একটি বিশেষ ফিল্ডিং পজিশন যার অবস্থান সেকেন্ড ও থার্ডবেসের মাঝখানে। বেশীরভাগ ব্যাটার বা হিটার ডানহাতি হয়ে থাকে, এবং ডানহাতি ব্যাটারের পেটানো পিচ সাধারণত সেকেন্ড ও থার্ড বেসের মধ্য দিয়ে গড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। শর্টস্টপের কাজ হলো ডানহাতি ব্যাটারের ব্যাটিং এক্সপেরিয়েন্স খানিকটা বিষিয়ে দেয়া! সোজা কথায়, ব্যাটারকে সাবধান করা, যে, “চাঁদ, তুমি যদি ভেবে থাকো আমাকে ফাঁকি দিতে পারবে তোমার পিচ, তাহলে ভুল করছ! অতএব বুঝেশুনে পেটাও, বাপু!”   এজন্য শর্টস্টপকে প্রচন্ড দ্রুতগতির একজন প্লেয়ারও হতে হয় বটে, তাছাড়া ট্রিপল, এবং ডাবল্ প্লে তে শর্টস্টপের বড় ভূমিকা রয়েছে।
#ব্যাটারী: বেসবলে ব্যাটারী বলতে পিচার এবং ক্যাচারের পার্টনারশিপ কে বোঝানো হয়। উল্লেখ্য যে, ক্যাচারের নির্দেশ অনুযায়ী পিচ করে পিচার, যেটার ওপর ফিল্ডিং দলের ফলাফল অনেকটাি নির্ভর করে। তাই এই পার্টনারশিপকে ফিল্ডিং টিমের সঞ্জীবনী শক্তি হিসেবে ধরা হয়।
#বুলপেন: খেলায় নামার আগে পিচারদের ওয়ার্ম-আপ হওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট এরিয়া হচ্ছে বুলপেন। আমাদের সম্মানিত পিচারের বড়ই প্রিয় জায়গা এই বুলপেন! :’)
# বেসবল ম্যাচের ধারাভাষ্য বিবরণকারীদের বলিং এর অবস্থা বিবরণের সময় মাঝে মাঝে “1-2”, “2-3” বলতে শোনা যায়। প্রথম সংখ্যাটা দ্বারা “বল”, এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটা দ্বারা “স্ট্রাইক” এর সংখ্যা বোঝানো হয়। যেমন: “2-2” মানে হচ্ছে 2 “বল” 2 “স্ট্রাইকস্”।
# ডাবল্ প্লে এর বর্ণনার সময় ধারা বিবরণকারীরা “6-4-3 ডাবল্ প্লে”, বা “5-4-3 ডাবল প্লে” বলে থাকে; এর অর্থ হলে এ সকল জার্সি নম্বরের প্লেয়ারদের দ্বারা খেলাটা সংঘটিত হয়েছে। যেমন: “6-4-3 ডাবল্ প্লে” কথাটার অর্থ হলো, ব্যাটারের পেটানো পিচ গড়িয়ে সোজা শর্টস্টপের (জার্সি 6) হাতে ধরা খেয়েছে, শর্টস্টপ সে পিচ সেকেন্ড বেসম্যানের (জার্সি 4) হাতে ছুড়ে দিয়েছে, অর্থাৎ ফার্স্ট থেকে সেকেন্ড বেসের দিকে দৌড়াতে থাকা ব্যাটার আউট। সেকেন্ড বেসম্যান আবার সে পিচ ফার্স্ট বেসম্যানেে (জার্সি 3) দিকে ছুড়ে দিয়েছে, মানে হোম বেস থেকে ফার্স্ট বেসের দিকে দৌড়াতে থাকা ব্যাটার আউট, অর্থাৎ ডাবল্ প্লে।
বিভিন্ন ধরণের পিচ:
পিচার কতটা ভালো পিচ, কতটা কন্ট্রোলের সাথে এবং ব্যাটারের জন্য কতটা কঠিন করে ছুড়তে পারে, তার ওপর ফিল্ডিং টিমের সাফল্য অনেকখানিই নির্ভর করে। এস অফ ডায়ামন্ডের মেইন প্রোটাগনিস্ট যেহেতু একজন পিচার, বিভিন্ন ধরণের পিচ সংক্রান্ত আলোচনা প্রায়ই চলে আসবে এনিমেতে। কিন্তু, বেসবলে পিচের ধরনসংখ্যা অনেক, এতগুলো নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। তাই মোটামুটি কমন কতগুলো পিচ নিয়ে প্রাথমিক ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছি।
একটা পিচ কে বিভিন্ন দিক থেকে বিচার করে অনেকগুলো সংজ্ঞায় ফেলানো যায়। হাতে পিচ ধরার বা গ্রিপিংয়ের স্টাইল, ছোড়ার স্টাইল, গতি, ইত্যাদির ভিত্তিতে প্রধানত তিন ধরণের পিচ বেশী দেখা যায়:
#ফাস্টবল: ফোর-সিম, টু-সিম, কাটার, স্প্লিটার, ফর্ক।
#ব্রেকিং বল: কার্ভ, স্লাইডার, স্ক্রু।
#চেঞ্জআপ।
ফাস্টবল হচ্ছে সবচেয়ে কমন পিচ, প্রায় সব পিচারেরই প্রথম আয়ত্ত করা পিচ ফাস্টবল। নামের মতই, প্রচন্ড গতিতে ছোড়া হয় এই পিচ, গতিই এর অস্ত্র। বেগের পরিবর্তন এবং ধরার ভঙ্গির ভিত্তিতে কয়েক ধরণের ফাস্টবল রয়েছে। আমাদের Eijun এর বহুল ব্যাবহৃত একটা পিচ হচ্ছে টু-সিম ফাস্টবল, তথা মুভিং ফাস্টবল; প্লেটের ওপর বেশ নড়াচড়া করে এই পিচ, এবং দূরত্বের সাথে সাথে গতি বৃদ্ধির কারণে ব্যাটারের পক্ষে টাইমিং করা মুশকিল।
ব্রেকিং বল হচ্ছে সেই পিচ যেটা চলার সময় এর গতিপথ থেকে যেকোন দিকে ভেঙ্গে যায় বা বেঁকে যায়। গতিপথ থেকে টার্ন নিলে স্বাভাবিকই পিচের গতিতেও প্রভাব পড়ে, তাই ব্যাটারের জন্য এ পিচ ব্যাটিং করা যেমন কঠিন, তেমনি ক্যাচারের জন্যও এ পিচ ক্যাচ করা কঠিন। গ্রিপ, গতির পরিবর্তন এবং বেঁকে যাওয়ার দিকের ভিত্তিতে কার্ভ, স্লাইডার, স্ক্রু ছাড়াও আরেকটি ব্রেকিং বল হচ্ছে স্লার্ভ।
চেঞ্জআপ হচ্ছে এমন একধরণের পিচ, যেটা পিচারের হাত থেকে ছোড়ার মুহুর্তে দেখতে ফাস্টবল বলে মনে হয়, কিন্তু প্লেটের ওপর পিচের গতি নেমে যায়, এবং অনেক ধীরে এগিয়ে আসে বল। বেসিক ফাস্টবল গ্রিপ আর চেঞ্জআপের গ্রিপের মধ্যে পার্থক্য হলো; চেঞ্জআপের সময় আঙ্গুলের ডগার বদলে হাতের অনেকটা ভেতর থেকে ছোড়া হয় পিচ, ফলে সেটা দেখতে ফাস্টবলের মত মনে হলেও আসলে ফাস্টবলের তুলনায় খানিকটা পরে মুক্ত হয় পিচারের গ্রিপ থেকে, যেহেতু হাতের ভেতর থেকে মুক্ত হতে খানিকটা সময় লাগে। মানুষের চোখ এ পার্থক্য ধরতে পারে না, কারণ একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে না আসলে চোখ দিয়ে প্রচন্ড বেগে চলন্ত বস্তুর গতি ঠাওর করা যায়না। পিচ প্লেটের কাছাকাছি আসার পর বোঝা যায় যে সেটার গতি আসলে ফাস্টবলের তুলনায় বেশ ধীর, কিন্তু ততক্ষণে ব্যাট সুইং করে ফেলে ব্যাটার, কিন্তু পিচ আসে আরও পড়ে। ঠিকভাবে ছোড়া গেলে একটি চেঞ্জআপ তাই ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করতে বাধ্য, বিশেষত সেটা যদি হয় আমাদের সম্মানিত পিচারের চেঞ্জআপ! :’) ব্যাটার তো ব্যাটার, এমনকি আমাদের জিনিয়াস ক্যাচারসহ ফিল্ডে এবং গ্যালারিতে উপস্থিত প্রত্যেকটা মানুষ জিনিসটা দেখে বিভ্রান্ত হবেই হবে! XD
এই তো, আর কি! :’) পাঠকের বেসবল বোঝার জন্য প্রয়োজন হতে পারে, এমন সকল বিষয় সম্বন্ধে মোটামুটি একটা ধারণা পেয়েছেন আশা করি! :’) এবার থিওরি ইন প্র্যাকটিকাল দেখতে চাইলে দেখে ফেলুন দাইয়া নো এস!
সকল তথ্যই কয়েকবার করে চেক করে শেয়ার করা হয়েছে, তারপরও কোনো তথ্যে ভুল পাওয়া গেলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে সঠিক তথ্য শেয়ার করলে কৃতজ্ঞ থাকব। পোস্টটা পড়ে যদি পাঠক দাইয়া নো এস দেখতে প্রলুব্ধ হন…থুড়ি, মানে উপকৃত হন, তো আমার পরিশ্রম স্বার্থক। :’D
ধন্যবাদ সবাইকে!
বি:দ্র: পোস্টের ভীতিকর সাইজের জন্য লেখিকা ক্ষমাপ্রার্থী, এর চেয়ে ছোট করা সম্ভব বলে মনে হয়নি।

Macross: Do You Remember Love? (1984) [মুভি রিকমেন্ডেশন] — Tahsin Faruque Aninda

Macross Do You Remember Love

সেই ৩৩ বছর আগের একটা মুভি, অথচ এখনও দেখলে দর্শকেরা সেই যুগের মতই উপভোগ করে যায়। এটাই কি “কালজয়ী” কথাটার একটা ব্যাখ্যা ধরে নেওয়া যায়? যায় কি যায় না, সেটা না হয় দর্শকদের উপরেই ছেড়ে দিব। মুভিটি নিয়ে কথা বলতে গেলে বলবো, ‘মেকা’ এবং ‘স্পেস’ জনরা নিয়ে স্বল্প জ্ঞানের অধিকারী হয়েও একটা জিনিস পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় – এই মুভিটি অন্যান্য ‘মেকা’ ও ‘স্পেস’ গল্প থেকে আলাদা বেশ। কীরকম, তার অল্পস্বল্প বর্ণনা দেই।

সাধারণত অন্যান্য মেকা জনরার আনিমেগুলি আমরা দেখি বিশাল বিশাল একেকটি মেকা নিয়ে বিভিন্ন চরিত্রদের মারামারি, আর এসব মারামারির পিছনে অনেক অনেক কলাকৌশল, থাকে রাজনৈতিক প্রভাব। থাকে সাইকোলজিকাল ব্যাপার, আবার থাকে মাইন্ড-গেম। উল্লেখ্য, যেসব ব্যাপার এখানে বললাম, সেগুলি “সাধারণত” দেখা যায়, কারণ ব্যাতিক্রম তো থাকেই। ম্যাক্রসের এই মুভিটিও তেমন একটি ব্যাতিক্রম।

এই মুভিটিতে ‘মেকা’ একটি সাইড জনরা হিসাবেই ধরে নেওয়া যায়। এর মূল জনরা হল রোমান্স ও স্পেস। হ্যাঁ, এটি নিখাদ একটি প্রেমকাহিনী, যার পুরা গল্পটি ঘটেছে মহাকাশীয় পটভূমির উপর ভিত্তি করে। মুভিটির আরও একটি ব্যাপার দেখা যায়, তা হল এখানে একটু পরপরই বিভিন্ন গানের ব্যবহার। ‘মিউজিক’-ও একটি বড় জনরা মুভিটির।

গানের ছন্দে ছন্দে প্রেমকাহিনীর আবর্তন, শুনতে কি আমাদের সেই পুরান যুগের বাংলা বা হিন্দি মুভির মত শুনাচ্ছে? অনেকটা সেরকমই। আবার একদম সেরকমও না। এক নায়ক ও দুই নায়িকার ত্রিভুজ প্রেমের গল্প এটি, যা মহাকাশীয় যুদ্ধের সাথে সাথে গল্পক্রমে বিভিন্ন দিকে মোড় নেয়। মানবজাতি, ‘জেনত্রায়েদি’ নামের শুধু পুরুষদের নিয়ে গঠিত এক এলিয়েন জাতি ও ‘মেলত্রান্দি’ নামের শুধু নারীদের নিয়ে গঠিত আরেক এলিয়েন জাতি – এই ৩ পক্ষের যুদ্ধ হল গল্পটির পটভূমি। এরই মধ্যে ৩ প্রধাণ চরিত্রের সম্পর্ক নিয়েই গল্পটি এগিয়ে যেতে থাকে।

৩৩ বছরের পুরানো মুভি হয়ে থাকলেও এর অ্যানিমেশন চোখ ধাঁধানো। চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টের সাথে সাথে স্পেসশিপের যুদ্ধ দেখার মত। কিছুক্ষণ পরপর গানের ব্যবহার অনেকটা আমাদের চেনাজানা হিন্দি সিনেমার ধারণা দিবে, নায়ক-নায়িকা গানের তালে তালে ঘুরে বেড়াবে। তবে গানগুলি সুন্দর হবার কারণে বেশ চমৎকারভাবে মানিয়ে গিয়েছে সবকিছু। আর শুধু এটুকুতেই গানের ব্যাপারটি সীমাবদ্ধ থাকছে না, কারণ “গান” জিনিসটি গল্পটার একটা বেশ বড় অংশ, বেশ বড় এক প্লট পয়েন্ট, যেই ব্যাপারে কিছু বলতে গেলে হয়তো স্পয়লার হয়ে যাবে।

যতদূর শুনেছি, এই মুভিটি এর আগে মুক্তি পাওয়া টিভি সিরিজ SDF Macross-এরই এক অল্টারনেট ভার্শন। হয়তো সে কারণেই মুভির বেশ অনেক চরিত্রের ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট ব্যাপারটি তেমন ভালমত হয়ে উঠে নি। তবে সেটা খুব বেশি বড় সমস্যার ব্যাপার হয়ে উঠে নি। মুভিটির খারাপ দিক বলতে গেলে এটুকুতেই থেমে থাকবো।

আরেকটি দিক অবশ্য সতর্ক থাকা দরকার হয়তো, যেই সময়ের মুভি, সেই সময়ে টিভি মিডিয়াতে নারী চরিত্রদের কীভাবে উপস্থাপন করা হত চরিত্র হিসাবে সেইটা মাথায় রাখা উচিৎ। এখন কিছু কিছু ব্যাপার যেগুলি অশভোনীয় বা অসম্মানজনক লাগে শুনতে, তখন সেগুলি স্বাভাবিক কথা হিসাবেই হয়তো বলা হত। এরকম কয়েকটি ডায়লগ হয়তো শুনতে পাওয়া যাবে, সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নিবেন না ক্রোধান্বিত হয়ে গ্রহণ করবেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাপার।

ম্যাক্রস ফ্র্যাঞ্চাইজের ভক্তমহল বাংলাদেশে খুবই ছোট হয়তো, কারণ এর মুভি বা সিরিজ নিয়ে কথা শুনা যায়ই না একদম। আমি নিজেও যে দেখেছি তা না, বরং এই মুভি দিয়ে শুরু করলাম। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজটির অন্যান্য সিরিজ ও মুভিগুলি যদি এই মুভিটির মানের দিক থেকে কাছাকাছি হয়ে থাকে, আমার মনে হয় এটি বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠবে অনেক দর্শকদের কাছে।

One Outs [আনিমে/মাঙ্গা রিভিউ] — Pritom Saha

One Outs

ONE OUTS
No one wins, but I!

Anime Episodes: 25
Manga Chapters: 175
Genres: Sports, Psychological, Seinen

গল্পের মূল আকর্ষণ তোকচি তোউয়া নামক এক জুয়াড়ি যুবক, যে দীর্ঘ সময় ধরেই জুয়ার দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত। তার মানুষের চরিত্র এবং আচরণ বোঝার ক্ষমতা এতই ভালো ছিল যে অনেক সময় মনে হবে সে তার প্রতিপক্ষের মন পড়তে পারে। যা তার প্রতিপক্ষের উপর প্রচন্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করত। তোকচি তখন সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করত। এভাবেই সে একজন সফল জুয়াড়ি হয়ে ওঠে। তার আরও এক প্রতিভা ছিলঃ অসাধারণ বল কন্ট্রোল, যা তাকে অপরাজেয় পিচার (বোলার) হিসাবে পরিচিত করে। তার ফাস্টবলের গড় গতি ছিল মাত্র ১২৫ কি.মি./ঘন্টা কিন্তু বলের উপর অসাধারণ কন্ট্রোল থাকায় সে বলের স্পিন নিয়ন্ত্রণ করতে পারত, যাতে বলের এলিভেশন পরিবর্তন হত। এতে ব্যাটে বল লাগানোই কঠিন হয়ে যেত। এছাড়াও সে ব্যাটারদের বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করত। ওকিনাওয়ার আমেরিকান আর্মি ক্যাম্প এর কাছে একধরণের খেলা হত, ওয়ান আউটস। এটা বেসবলেরই সংক্ষিপ্ত রূপ যেখানে শুধুমাত্র একজন পিচার এবং ব্যাটার মুখোমুখি হয়, ব্যাটার বল ইনফিল্ডের বাইরে পাঠাতে পারলে জিতবে, আর ব্যাটার আউট হয়ে গেলে, বা ৬ বলের মধ্যে জিততে না পারলে পিচার জয়ী। এই খেলাও ছিল স্থানীয়দের কাছে জুয়া খেলা, যেখানে তোকচি ছিল টানা ৪৯৯ ম্যাচ অপরাজিত। এছাড়াও এই ম্যাচগুলোয় একজনও তোকচির পিচ ব্যাটেও লাগাতে পারেনি!

ঘটনাক্রমে তোকচি জাপানের প্রথম বিভাগের বেসবল লীগে লিকেয়ন্স টিমে পিচার হিসাবে যোগদান করে যেই দল কিনা হাজার বছরের পরাজিত দল হিসেবে পরিচিত। দলের মালিক তোকচির প্রতিভা সম্পর্কে অবহিত না থাকায় তোকচিকে বিনা বেতনে খেলার পরামর্শ দেয়। তোকচি তখন ওয়ান আউটস কন্ট্রাক্ট নামক পাল্টা কন্ট্রাক্ট এর প্রস্তাব দেয়। কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী প্রতি আউটের জন্য তোকচি পাবে ৫ মিলিয়ন ইয়েন, কিন্তু প্রত্যেক হারানো পয়েন্টের জন্য তোকচি দলের মালিককে ৫০ মিলিয়ন ইয়েন করে দিবে। স্ট্যাটিকস্টিকস বিবেচনা করে দলের মালিক কন্ট্রাক্টে রাজি হয়, কারণ কোন কিংবদন্তি পিচার না হলে তোকচি সহজেই দেনায় পড়ে যাবে। তোকচি কীভাবে নিজের বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে প্রফেশনাল বেসবল দুনিয়ায় টিকে থাকে, এটিই মূল গল্প।
ওয়ান আউটসের মূল কথা এর নামেই রয়েছে।
No one wins, but I!
তোকচি সবসময় জিতবে, এটাই হবে। কিন্তু যদিও ফলাফল নিশ্চিত তবুও কীভাবে জিতবে এটাই মূল আকর্ষণ। তোকচির জয় নিশ্চিত, কিন্তু শুরুর পরিস্থিতি এমন হবে যে এই বাধা কাটিয়ে কীভাবে জেতা সম্ভব তা মাথায় আসবে না। কিন্তু তাই বলে ব্যাখ্যা ছাড়া অবাস্তব পথে কোন সমাধান আসবে না, সমাধান হবে সুপরিকল্পিত। ওয়ান আউটস প্রফেশনাল বেসবল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে যেখানে বেশিরভাগ এনিমেই হাইস্কুল লেভেলের স্পোর্ট কেন্দ্রিক। এদিক থেকে ওয়ান আউটস ব্যাতিক্রম। এজন্য এখানে ফেয়ার প্লে দেখবেন না সবসময়, দেখবেন বেসবলের উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করা মানুষের জেতার জন্য যেকোন কিছু করার মানসিকতা। দেখবেন খেলার ব্যবসায়িক এবং রাজনৈতিক দিক, খেলার পেছনের অন্ধকার দুনিয়া। এছাড়াও অন্যান্য এনিমের মতো জিনিয়াস কিছু চরিত্র তো থাকছেই।
এনিমের সাউন্ডট্র্যাক যথেষ্ট ভালো এবং সিরিয়াস মোমেন্টে ভালো আবহ তৈরি করতে পারে।
ক্যারেক্টার এর কথা বলতে হলে তোকচি সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র, তোকচির নিজের দলের বাকি খেলোয়াড়রা যেন তোকচির পুতুল। প্রতিপক্ষে বেশ কিছু ভালো ডেভেলপড ক্যারেক্টার আছে, যারা না থাকলে লড়াই জমত না।
ওয়ান আউটস এনিমে দেখার পর মাংগা পড়া রেকমেন্ডেড। এনিমে মাংগার অর্ধেক পর্যন্ত কভার করে। ওয়ান আউটস এর এনিমে এডাপ্ট করেছে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্টুডিও ম্যাডহাউস। এনিমে মাংগা পুরোপুরিভাবে ফলো করে, তাই মাংগা চ্যাপ্টার ৮২ থেকে শুরু করলেই হবে। আবার মাংগা না পড়লে চলবে না, এমন নয়। শেষ এপিসোডের শেষ দশ মিনিট কিছুটা পরিবর্তন করে ফিনিশিং দেওয়া হয়েছে। তবে এনিমে যে পর্যন্ত কভার করে এই অংশটুকু মাঠের লড়াই আর এনিমে পরবর্তী অংশে মাঠের বাইরের লড়াই দেখানো হয়। তবে সেখানেও মাঠের খেলা বাদ দেওয়া হয়নি, দুইদিকই সমানভাবে দেখানো হয়। কিন্তু জাপানিজ জানা না থাকলে এনিমে বাদ দিয়ে মাঙ্গা পড়তে পারবেন না। কারণ শুরুর দিকে ভলিউম ৫,৬,৮ এবং ৯ এর স্ক্যানলেশন হয়নি এখনও। তবে এনিমে পরবর্তী বাকি সব চ্যাপ্টার কমপ্লিট।
কোনো এনিমেই পার্ফেক্ট না। ওয়ান আউটস এর মূল আকর্ষণ যেমন তোকচি তেমনি এর ফ্ল্যও তোকচি। তোকচি কখনও হারে না। সে এতই বুদ্ধিমান এবং সবকিছুই তার আগে থেকে পরিকল্পনা করা যে তার চরিত্র বাস্তব বিমুখী মনে হয়। তাই কেউ যদি শতভাগ বাস্তবতা আশা করে তাহলে হতাশ হতে হবে। তবে তোকচির ক্ষমতা এবনর্মালিটি হিসেবে ধরে নিলে বাকি এনিমে যথেষ্টই বাস্তবিক।

পরিশেষে বলতে চাই প্রিয় খেলার তালিকা করলে বেসবল আমার তালিকায় নিচের দিকে থাকবে। এরপরও আমার সবচেয়ে প্রিয় স্পোর্ট এনিমেটাই হল কিনা বেসবল নিয়ে! এর মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছি যে আপনার যদি বেসবল ভালো নাও লাগে তাও এই এনিমে দেখতে পারেন, আশা করছি হতাশ হবেন না। আরও একটা ফ্যাক্ট হল এইটা সাইকোলজিকাল + স্পোর্টস জ্যানরার যেই দুইটিমাত্র এনিমে আছে তার একটি। তাই সাইকোলজিকাল ফ্যান হলে দেখে ফেলুন।

আমার রেটিংঃ
এনিমে – ৯/১০
মাঙ্গা – ১০/১০

JoJo’s Bizarre Adventure Part 5: Vento Aureo [মাঙ্গা সাজেশন] — Arnab Basu

JoJo 5

জোজোদের অদ্ভুত অভিযানের পঞ্চম কিস্তি। সাধারণত জোজোর প্রতিটা কিস্তির নাম মূল চরিত্রের স্ট্যান্ডের সাথে মিল রেখে দেওয়া হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইটালিয়ান Vento Aureo এর অর্থ Golden Wind, যা মূল চরিত্র Giorno Giovanna এর স্ট্যান্ড Gold Experience এর সাথে মিল রেখে দেওয়া হয়েছে।

Vento Aureo এর পটভূমি ইটালিতে। এবারের জোজো Giorno Giovanna এর মা জাপানিজ, সে ছোট থাকতে তার মা ইটালিতে এসে নতুন একজনকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে। Giorno জানে না তার আসল বাবা কে। ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন গ্যাংস্টার হওয়া। সে সময় ইটালির সবচাইতে বড় এবং কুখ্যাত গ্যাং হল Passione, যাদের বিভিন্ন ব্যাবসার মধ্যে একটি হল ড্রাগ চোরাচালান। এই ড্রাগের নেশায় মত্ত যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য Giorno সিদ্ধান্ত নেয় সে Passione গ্যাঙের বস হবে। কিন্তু সে কি পারবে? কারণ গ্যাঙের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য স্ট্যান্ডধারী, যারা পদে পদে Giorno কে রুখবার জন্য তার উপর হামলা করে। তার উপর আছে Passione এর বস, যার স্ট্যান্ডের অমিত শক্তি এবং যার পরিচয় গ্যাঙের মধ্যেও এক বিশাল রহস্য। এই আপাত অসম্ভব অভিযানে Giorno এর সঙ্গী হয় Bruno Bucciarati এবং তার দলের সদস্যরা। Bruno Bucciarati নিজেই Passione এর সদস্য, কিন্তু সে Giorono এর মত গ্যাঙ্গের নেশার ব্যাবসার প্রতি বিদ্বেষের কারণে Giorno এর পক্ষ নেয়। শুরু হয় তাদের Passione গ্যাঙের বসকে খুঁজে বের করা এবং তাকে হারানোর অভিযান যার বিস্তার প্রায় পুরো ইটালিজুড়ে।

Diamond is Unbreakable শেষ করার পর আসলে Vento Aureo এর এনিমের অপেক্ষা করার ধৈর্য হচ্ছিল না, তাই মাঙ্গা পড়ে ফেলা। মাঙ্গা পড়ার পরে যেটা মনে হচ্ছে, Vento Aureo এর এনিম যদিও বা আসে, তবে সেস্নরশিপের কাঁচিতে অনেক কিছুই বাদ যেতে পারে। এই পর্বের প্রতিটা ফাইট বেশ ব্রুটাল, আর ফাইটের সঙ্খ্যাও আগের যে কোন পর্বের তুলনায় অনেক বেশি। আরাকি সেন্সেই তার Bizzare ফ্যাশন Vento Aureo তে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। Vento Aureo এর মাঙ্গার অর্ধেকের মত কালার হয়েছে, এ কারণে শেষের দিকে একটু পড়তে কষ্ট হলেও, যারা এনিমের আশায় বসে থাকতে না চান, তারা মাঙ্গা পড়ে ফেলতে পারেন।

JoJo’s Bizzare Adventure (2012) [রিভিউ] — Zahin Mobashshir

JoJo

JoJo’s Bizzare Adventure (2012)
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
জনরা: একশন, অ্যাডভেঞ্চার, সুপারন্যাচারাল, শৌনেন

সাধারণ এনিমের সুথিং ব্যাপারটা থেকে বের হয়ে একটু বোল্ড কিছু দেখতে চাইলে এই এনিমের বিকল্প হয় না। সৌনেন এনিমে মানেই একটু ফ্ল্যাশি কিছু, রুড ডায়োলগ, আর ফাইটের সময় টাইম ল্যাপ্সের ব্যাপার স্যাপার। কিন্তু এই এনিমে সৌনেনকেই মনে হয় নতুন রূপ দিয়েছে। এর মাঝে সাধারণ সৌনেন এনিমের সব তো আছেই বরং একটু বেশি করেই আছে।

এই এনিমের আর্ট আমার দেখা আজ পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যতিক্রম আর সুন্দর আর্ট। মাঙ্গাকা ঠিক যেভাবে তার কাহিনীতে বলতে চেয়েছিল মনে হয়েছে এনিমেটা ঠিক সেভাবেই বানিয়েছে। এই এনিমের আর্ট দেখে যাতে কারওই চোখ ঝলসাতে বাদ না থাকে, সে ব্যাপারটা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে এমন সব রঙের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছে যা আসলেই কোন এনিমেতে দেখা যায় না। এনিমেটা দেখার সময়ে আমার বারবার Cadillacs and Dinosaurs গেমটার কথা মনে হয়েছে কারন এনিমেটার আর্ট স্টাইলের সাথে খানিক মিল খুজে পেয়েছি আবার ক্যারেক্টারগুলাও দেখতে প্রায় একই রকম।

Jojo’s Bizzare Adventure এর সবচেয়ে যেই জিনিসটা আমার কাছে ভাল লেগেছে তা হল এর সাউন্ডট্রাক এবং সেটার যথাযোগ্য ব্যবহার। এটার ওপেনিং এর সিড়ির উপরে নায়ক আর নিচে ভিলেন দাড়ানোর সিনটা দেখে বাংলা সিনেমার কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। এর কাহিনীতেও ঐরকম কিছুটা মিল আছে, সেটা উল্লেখ করতে একটা কথা না বললেই নয়। ভিলেনকে না মেরে আগেই উদযাপন না করলেই কি হইতো না।
যাই হোক এটার সাউন্ডট্রাকের মধ্যে সেরা হলো Roundabout। এই অসাধারণ একটা সাউন্ডট্রাক ঠিক কোথায়, কিভাবে ব্যবহার করলে এটার মর্যাদা আরও বেড়ে যাবে সেটা খুবই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খেয়াল করা হয়েছে। প্রতিটা ক্লিফহ্যাঙ্গার মানেই Roundabout। এই এনিমের সবচেয়ে সেরা মুহুর্ত ছিল এক Jojo এর খুবই ঘনিষ্ট একজন মারা যাওয়ার পরে তারা আএ এন্ডিংই দিল না। আমি জানি এটা তেমন আহামরি কিছু না তাও মৃত মানুষকে শ্রদ্ধা দিতে এতটুকু করেছে বলে আমার মনে হওয়ায় এটাই আমার দেখা সেরা মুহুর্ত।

এনিমেটার কাহিনী সম্পর্কে কিছু বলার আসলে কোনই দরকার পড়ে না কারন এর নামই এই এনিমের কাহিনীর বহিঃপ্রকাশ। ২৬ এপিসোডে দুইটা আর্ক শেষ হয় এবং প্রতি আর্কে একেকটা JoJo অর্থাৎ Joestar পরিবারের একেকজন কর্ণধারের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। প্রতিটা কাহিনীই খুবই সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে আর এখানের ফাইট এবং সুপারন্যাচারাল জিনিসপাতির ব্যাখ্যাও খুবই সুন্দরভাবে দেওয়া হয়েছে।
সর্বপরি আমার কাছে এই এনিমেটা খুবই ভালো লেগেছে। আপনাদেরও যদি ব্যতিক্রম ধাচের কিছু দেখার ইচ্ছা থাকে তাহলে এটা দেখে ফেলুন।

Yowamushi Pedal [রিভিউ] — Farah Faruque

YowaPeda 1

আনিমে: এক দুর্বল দ্বিচক্রযানচালক (সোজা বাংলায় Yowamushi pedal)
পর্বসংখ্যা: ৩৮ +২৪ (দুটো সিজনে)

(একটি রিভিউ অথবা রিয়েকশন অথবা অন্য কিছু ছাতামাথা)

গল্পের শুরু আপনার আমার মত এক আনিমেখোর কে নিয়ে, নিতান্ত নিরীহ শান্তশিষ্ট বালক সাকামিচি ওনোদা ( যার নামের অর্থই পাহাড়ি পথ) আনিমে বড্ড ভালোবাসে, এতই ভালোবাসে যে ভালোবাসা সব আনিমের পিছে খরচ করায় বেচারা মিডল স্কুলে একটা বন্ধুও যোগাড় করতে পারেনি, তাই হাইস্কুলে এসে সে ঠিক করে এবার সে বন্ধু বানিয়েই ছাড়বে কিন্তু কেস হচ্ছে এখানেও তার আনিমুখোর বন্ধুই চাই! আর সেজন্য সে টার্গেট হিসাবে ঠিক করে আনিমে ক্লাবকে! কিন্তু কপালে না থাকলে কি আর হয়?? বেচারা মনে বড় কষ্ট নিয়ে ফেরত আসে, স্কুলের আনিমে ক্লাব যে লোকের অভাবে বন্ধই হয়ে গেছে! এমনি সময়ে স্কুলের হটশট ইমাইজুমি এসে এই নিতান্ত হাবুটাকেই কিনা চ্যালেঞ্জ করে বসে স্কুলের পিছন গেটের নিচে খাড়া পাহাড়ি ঢালে বাইক রেস লাগানোর! ওনোদার সম্বল বলতে একটা পুরোনো মামাচারি, অর্থাৎ কিনা গ্র‍্যানি বাইক, আর ইমাইজুমি রেসের পর রেস দাপিয়ে বেড়ায় তার রেসার বাইকে! তা হঠাৎ এমন রেসার খোকার এমন নিরীহ শিশুর পিছে লাগার কারণই বা কি? কারণ খোকাবাবু ইমাইজুমি যে বেচারা ওনোদা কে ওই ঢালেই “হিমে হিমে” গাইতে গাইতে বাইক চালিয়ে স্কুলে আসতে দেখে ফেলেছিল! (এবং এরপর এই গান আর সে মাথা থেকে বেরই করতে পারছিল না বুঝুন অবস্থাটা! প্রথমে কিছুতেই রাজি না হওয়া ওনোদা ইমাইজুমির ফাঁদে পা দেয় যখন ইমাইজুমি হেরে গেলে আনিমে ক্লাবে জয়েন করার প্রস্তাব দেয়! এই রেস দিয়েই শুরু হয় সাইক্লিং এর দুনিয়ায় ওনোদার যাত্রা

পুরো আনিমে জুড়ে যে জিনিসটা চোখে পড়েছে তাহল ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট, যে চরিত্রটাকে প্রথমেই সাইড ক্যারা বলে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলাম তার গল্প, তার ডেভেলপমেন্ট ও মুগ্ধ করেছে শেষে, আর দশটা আনিমের মত শুধু মেইন ক্যারেক্টার বা তার টিমের উপরেই আলো ধরে রাখেনি, প্রতিপক্ষের ছেলেরাও নজর পেয়েছে ভালোই, আরো মজা হচ্ছে এই ডেভেলপমেন্ট গুলোও হয়েছে কিন্তু চরম উত্তেজনায় ভরা একেকটা রেসের মাঝেই! তাতে রেসগুলি স্লো হয়ে গিয়েছে অনেক, কিন্তু চরিত্রগুলো ফুটে উঠেছে ভালোভাবে, এই ডেভেলপমেন্ট এর জন্য এই স্লো পেসিং কে মাপ করে দেওয়াই যায়। পুরো সিরিজ দেখার সময় মনে হয়েছে “মেইন টিম” হিসেবে সোহোকুর প্রতি একচোখামি করা হয়েছে এখানে অনেক কম, এতই কম যে মাঝপথে এসে প্রতিদ্বন্দ্বী হাকোগাকু টিম কেই মেইন টিম বলে মনে হচ্ছিল এবং নিজের অজান্তেই হাকোগাকুর জন্যেই চিয়ার করে যাচ্ছিলাম!! (যারা দেখবেন তাদেরও এমন হবে বলেই বিশ্বাস) হাকোগাকু টিমের মাঝেই তোদোউ এর মাকি-চান অবসেশন দেখে যেমন মজা পাবেন, তেমনি মানামির (সানগাকু মানামি, খোকার নামটাও সুন্দর, নামের অর্থ ঢেউ পাহাড়ের প্রেম!) মুক্ত স্বাধীন যেন ডানা মেলে উড়ে চলা বাইক চালানোও ভাল্লাগবে অনেক, (তার হাসিটাও কিন্তু সুন্দর!) তবে এদের সবার চেয়ে যার ডেভেলপমেন্ট মুগ্ধ করেছে সে হল টিমের মুখখারাপ সেনপাই আরাকিতা-সান, তার গল্প নাহয় তুলেই রাখি, সবাই বরং দেখুক সেনপাই এর ব্যাডঅ্যাসনেস দ্বিতীয় সিজনে

তবে এতজনের পরেও টিকটিকি আকিরা মিদোসুজির (ওরফে কিমোসুজি) কথা না বললেই নয়! এই এক ব্যাটাই বুঝি আছে পুরো সিরিজে যাকে দেখলেই মনে হত পুঁতে ফেলি নিচে, গা গুলাতো রীতিমতো তার চেহারা টা দেখলেই! যদিও দ্বিতীয় সিজনে তার পেছনের গল্প মন খারাপ করে দেয় কিছুটা

গল্পের উত্তেজনার সাথে মানানসই ওপেনিং-এন্ডিং আনিমে টা ভালো লাগাতে হেল্প করেছে অনেক, প্রথম সিজনে তৃতীয় ওপেনিং আর এন্ডিং শুনতে গিয়ে মজাও পেয়েছি অনেক, ওপেনিং টা যে টিম সোহকু আর এন্ডিং যে টিম হাকোগাকুরই গাওয়া! এখানেও হাকোগাকুর জিত! ওদের গানই ভালো লেগেছে বেশি!!

সব মিলিয়ে সদ্য শেষ হওয়া হাইকিউ এর মজা মিস করতে থাকলে দ্রুত দেখে ফেলুন এর দুটো সিজন, নতুন সিজন যে এই জানুয়ারি তেই চলে আসছে!!! ২০১৭ তে ইওয়ামুশির নতুন সিজনের পাশাপাশি হাইকিউ এরও যদি নতুন সিজন আসে, তাহলে বেস্ট স্পোর্টস ক্যাটেগরি তে ভোট দিতে মাথা চুলকে সারা হওয়াই লাগবে!

রেটিং: ৮.৫ / ১০

YowaPeda 2

বোকুরা ওয়া মিন্না কাওয়াইসৌ; সাজেশন দিয়েছেন ইশমাম আনিকা

77590

আমার সবসময় যেটা মনে হয়, জাপানী আনিমে আসলে একটা “Double Edged Sword”. আপনার কখন কোনটা ভাল লাগবে, কিছুই বলা যায় না। দেখা যাবে যে একটা আনিমে আপনার আজ ভাল লাগল না, কিন্তু কয়েক বছর পর সেটা আবার ট্রাই করার সাথে সাথে প্রচণ্ড ভালোলাগা শুরু হয়ে গেল। আমার ক্ষেত্রে জিনিসটা হয় যখন আমি কমেডি বা ডেইলি লাইফ টাইপ কোন আনিমে দেখি।

আজ দেখে শেষ করলাম “বোকুরা ওয়া মিন্না কাওয়াইসৌ”। স্লাইস অফ লাইফ – আমার প্রিয় জনরা। অথচ বছর তিনেক আগে এই আনিমের প্রথম এপিসোড দেখে খুবই বিরক্ত হয়েছিলাম। গত পরশু স্লাইস অফ লাইফ খুঁজতে খুঁজতে নামটা আবার চোখে পড়ল, ভাবলাম এটাই শেষ করে ফেলি। এবং শেষ করার জন্য দেখতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম, আনিমেটা আমার খুবই ভাল লাগছে; almost as if I was searching for this exact anime!!

তো এই নিজের সাথে কন্ট্রাডিকশন দেখে আমার মাথায় ব্যাপারটা ঘুরপাক খেতে থাকল তিনদিন ধরে। ভাবতে ভাবতে মনে হল ঠিকই আছে। কারণ আনিমের প্রভাবটা বাদ দিয়ে দিলে “ফান” সম্পর্কে আমার নিজের যে আইডিয়া, বা আমি যেগুলোতে মজা পাই বা পেতাম, জাপানী আনিমের সাথে তা অনেকাংশেই মেলে না। জাপানী আনিমেতে এটা একটা কমন সিনারিও যে একটা ছেলে থাকবে, তাকে দুনিয়াশুদ্ধ মেয়ে যেভাবে ইচ্ছা অ্যাসাল্ট করবে, আর সে মেয়েগুলোকে কিছুই বলবে না, উলটো তাদের এসব অত্যাচার সিম্পলি শ্রাগ অফ করে তাদের সব ডিমান্ড পূরণ করবে, সেটাও তাদের প্যানপ্যান শুনতে শুনতে। এই সিনারিও যে আসলে ফানি, এটা মেনে নেওয়ার জন্য আসলেই কিছুটা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়, আর সেটার ভুক্তভোগী হয় এই টাইপের প্রথম যে আনিমেটা দেখা হয়, সেটা; আমার ক্ষেত্রে সেটা প্রোবাবলি ছিল বোকুরা ওয়া মিন্না কাওয়াইসৌ (যদিও কোনোসুবাতে এই টাইপ কমেডি দেখে হাসতে পারিনি)।

77596

যাহোক, আজাইরা বক্তৃতা শেষ, আসল কথা খুব কম। ভাল করেছিলাম যে তখন এক এপিসোড দেখে এই আনিমে হোল্ডে রেখেছিলাম, কারণ বাকি এপিসোড দেখলে আমি নিশ্চিত তখন এতটা মজা পেতাম না। ছোট করে বললে আনিমের কাহিনী “কাওয়াই কমপ্লেক্স” নামের বোর্ডিং হাউস এর বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে, এবং এই বোর্ডিং এর সব বাসিন্দার মাথায় প্রব্লেম আছে। তাও দিনশেষে তারা একজন আরেকজনের বিপদে ঠিকই একজোট হয়ে এগিয়ে আসে সাহায্য করতে, কাজেই মেদেতাশি মেদেতাশি।

আনিমের আর্ট বেশ সুন্দর, ব্রেইন্স বেইজকে আমি চিনি তাদের কম কালার দেয়া শান্তিময় সতেজ আর্টের জন্য, কিন্তু এই আনিমেতে তারা রঙ ঢালতে কোন কার্পণ্য করেনি। ওএসটি খারাপ না, আবার উল্লেখযোগ্য কিছুও না। স্লাইস অফ লাইফ ভাল লাগলে এই আনিমে ভাল লাগার কথা।

কেউ দেখতে চাইলে দেখতে পারেন, তবে নতুন নতুন আনিমে দেখছে, এমন কাউকে এটা সাজেস্ট না করাই ভাল, অন্তত আমার মনে হয়।

77597

Kimi ni Todoke [রিভিউ] — Arafin Shanto

Kimi ni Todoke 1

Kimi ni Todoke
Genre: Romance/Drama
Format: 25 episodes+13 episodes
MAL Rating: S1: 8.19 and S2: 8.17
Personal Rating: 8.0 and 9.0

কুরোনোমা সাদাকো। দু;খিত নামটা কি ভুল বলে ফেললাম? মনে হচ্ছে না। সবাই তো তাকে এই নামেই ডাকে।
যার সাথে চোখাচোখি হলে আপনার জীবনে দুর্যোগ নেমে আসবে, যার চোখের দিকে তিন সেকেন্ডের বেশি তাকিয়ে থাকলে তৎক্ষণাত ডায়রিয়া-আমাশয় সহ নানাবিধ ব্যাধি আপনাকে আক্রমণ করবে,যে মহা মহা তান্ত্রিকদের মত ভূত দেখতে পারে,ভূতের সাথে কথা বলতে পারে তাকে আপনি সাদাকো না ডেকে সাওয়াকো ডাকবেন কেন! বরং তার সাথে দেখা হওয়া মাত্রই আপনার উচিত তৎক্ষণাত তার কাছে ক্ষমা চাওয়া।

কিন্তু কেউ একজন মনে হয় জনসাধারণের এই থিওরিতে বিশ্বাস করেননি। কারণ থিওরি শোনার আগে উনি সম্ভবত প্র্যাকটিকেলি সাদাকোর ভুবন ভোলানো হাসি দেখতে পেয়েছিলেন।আর প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে গেলেন। কিন্তু তিনি কে!
তিনি আর কেউ নন, ক্লাসের সবচাইতে জনপ্রিয় চরিত্র কাজেহায়া। প্রথম দেখাতেই তিনি বুঝে ফেলেন ভূত টুত কিছু নয়, সাদাকো সরি সাওয়াকো আসলে অতিমাত্রায় সহজ-সরল। ফ্রেন্ডশীপ করা তো দূরে থাক, সকল প্রকার জোকস তার মাথার উপর দিয়ে যায়। যার পরিণতি তো শুরুতেই দেখলেন।
তো সাদাকো সরি সাওয়াকোর প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া কাজেহায়া সিদ্ধান্ত নেয় যেভাবেই হোক সাওয়াকোকে টিপিক্যাল নারী চরিত্রে পরিণত করতে হবে। মূলত তার চেষ্টায় সাওয়াকো বন্ধু-বান্ধবী পেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ঈদের বাজারের লিস্টের মত বাড়তে থাকে সেই সংখ্যা।
আচ্ছা কাজেহায়া যে সাওয়াকোর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে? সেটার কি হবে?
যেই মেয়ে সামান্য স্যারকাজম বুঝে না, সে আবার প্রেমের কি বুঝবে! Example:
Kazehaya: Will you go out with me, Sawako?
Sawako: Where?
বাদ দিন। এনিমেটা দেখে নিজেরাই বুঝে নিন এদের ফিউচার কি!

Kimi ni Todoke 3

এটা কি টিপিক্যাল শৌজো? হ্যা অবশ্যই। আমার তো শৌজো ভাল্লাগে না। দেখব কেন? সাদাকোর হাসির জন্য দেখবেন। নোতো মামিকোর কণ্ঠের জাদু শোনার জন্য দেখবেন। কাজেহায়ার মাথায় হাত দেয়া দেখার জন্য দেখবেন। চিজুর পাগলামির জন্য দেখবেন। রিয়ুর স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড উত্তর শোনার জন্য দেখবেন। চরিত্রগুলোকে আপনি ভালবাসতে বাধ্য। সেটা কুরুমিজাওয়ার মত ডাবল-মাইণ্ডেড চরিত্র হলেও। সব বাদ দিন একমাত্র সাওয়াকো চরিত্রটি আপনাকে এতটাই মোহিত করে রাখবে, ড্র্যাগ ডাউন করা হিন্দি সিরিয়ালের মত হওয়া সত্ত্বেও এনিমেটা আপনাকে একটুও বোর করবে না।

Kimi ni Todoke 2এই এনিমের সবচাইতে স্ট্রং পয়েন্ট হল মিউজিক। যদি বলেন ওপেনিং-ইন্দিং ভাল্লাগে নাই তাহলে আর কী বলব। এত ফিলস দেয়া ওপেনিং-এন্ডিং সহজে পাওয়া যায় না এনিমেগুলোতে। বিজিএম গুলো অস্থির লেভেলের।

আর্টওয়ার্ক সাধারণ। শৌজো এনিমেগুলোর মতই আকাশ থেকে বাবল(bubble) পড়ার দৃশ্য অহরহ।