Toujuushi Bestialious [মাঙ্গা সাজেশন] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

Toujuushi Bestialious 2

আপনার কি সেই গল্পের কথা মনে আছে? এক রোমান ক্রীতদাস কলোসিয়াম থেকে পালিয়ে গুহায় আশ্রয় নেয়, কিন্তু সেই গুহায় আশ্রয় নেয় এক আহত সিংহ, সেই সিংহের ক্ষত সারিয়ে দেবার ফলে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে এক বন্ধুত্ব,। পড়ে সেই ক্রীতদাস আবার ধরা পড়ে, তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় সিংহের সামনে। কিন্তু সিংহ তাকে মারে না, কেননা সে চিনেছে তার বন্ধুকে। তাদের এই বন্ধুত্ব দেখে সম্রাট তাদের মুক্ত করে দেয়।

তো এই মাঙ্গা পড়ার সময় সেই টাইপের ভাইব পেয়েছি। মাঙ্গাটা ওয়ানশট টাইপের, দুই চ্যাপ্টারে কাহিনী শেষ। বাট কাহিনী খুবই সুন্দর। এক এতিম গ্ল্যাডিয়েটর আর এক দানবের বন্ধুত্ব নিয়ে খুবই সুন্দর মাঙ্গা।

এই মাঙ্গা পড়ার প্রধান কারন হচ্ছে এর আর্ট। আপনাদের যারা আর্টের ভক্ত তাদের জন্য আদর্শ মাঙ্গা। প্রায় বার্সাকা লেভেলের আর্ট যদিও প্যানেলগুলো বেশি ডার্ক। তো চট করে মাত্র দুই চ্যাপ্টারের এই মাঙ্গা পড়ে ফেলুন! ভালো লাগবে আশা করি!

Toujuushi Bestialious 1

The Anthem of the Heart [মুভি রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Anthem of the Heart 1

মুভি: The Anthem of the Heart (Kokoro ga Sakebitagatterunda)
জনরা: মিউজিক, ইয়ুথ ড্রামা
স্টুডিও: A-1 Pictures
দৈর্ঘ্য: ১২০ মিনিট
MAL রেটিং: ৮.৩

অ্যানথেম অফ দ্যা হার্ট।
একটি মুভির জন্য খুবই সুন্দর একটি টাইটেল। মূলত নামের জন্যই মুভি দেখার আগ্রহ জন্মেছিল। এনিমের পোস্টারের সুন্দর আর্ট সেই আগ্রহকে আরো তরান্বিত করে। অবশেষে বহুদিন পরে একটা নন-জিনবি আর নন-শিনকাই মুভি দেখা হল। মনের কথা দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখার দরুন পরিস্থিতি কেমন হতে পারে তার একটা ভাল উদাহরণ মুভিটা।
*
মুভির প্লট আরো বেশি আকর্ষণীয়। কথা বলায় সদাব্যস্ত কিশোরী নারুসে জুনের শৈশবকালে এমন একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যার কারণে সে রীতিমত আশেপাশের মানুষের সাথে কথা বলাই বন্ধ করে দেয়। আশেপাশের মানুষ বলতে নিজের মা-ক্লাসমেট থেকে শুরু করে আত্মীয়-প্রতিবেশী পর্যন্ত কারোর সাথেই নারুসে কথা বলে না। ঘটনাক্রমে স্কুলের এক সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের কমিটির সাথে নারুসেকে যুক্ত করা হয়। প্রতিবাদ করার জন্য নারুসে মুখ খোলার প্রচেষ্টা চালায় কিন্তু তার মুখ থেকে দুই-তিনটার বেশি শব্দ বের হতে পারে না। মজার ব্যাপার হল এই ঘটনার পর ক্লাসের অনেক ছেলেমেয়ে নিশ্চিত হয় যে নারুসে আসলে বোবা নয়, এতদিন অনেকে তাকে বোবাই মনে করে এসেছে। তারপর কমিটির আরেক সদস্য তাকুমি সাকাগুমির সাথে পরিচয় হয় হয় নারুসের এবং তাকুমিই প্রথম জানতে পারে নারুসে একটি অভিশাপে আক্রান্ত এবং এই অভিশাপের কারণে কথা বললেই তার পেটে মারাত্মক ব্যাথা হয়। তবে তাকুমি আবিষ্কার করে ফেলে যে, গান গাইলে নারুসের উপর এই অভিশাপ কাজ করে না আর সাথে এটাও লক্ষ্য করে যে, নারুসের কণ্ঠস্বর ভারী মিষ্টি। তাই কমিটির অন্য সদস্য আর ক্লাসমেটদের সাথে অনেক আলোচনার চড়াই-উৎরাই পার হবার পর একটি মিউজিকাল থিয়েটার (কাব্যনাট্য) আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আস্তে আস্তে অনুষ্ঠানের কাজ এগিয়ে যেতে থাকে এবং নারুসে সবার সাথে আরো বেশি সামাজিক হয়ে উঠতে থাকে। কিন্তু সেই অভিশাপ দিনে দিনে করাল থাবা বাড়াতে থাকে নারুসের হৃদয়ের উপর। কারণ নারুসের মুখ হয়তো এতদিন বন্ধ ছিল, কিন্তু তার অন্তর কখনোই চুপ করে ছিল না। এখন সঙ্গীত আর বন্ধুত্বের ছোঁয়া কি পারবে নারুসের অভিশাপ দূর করতে?
*
মুভি রিলিজ হয়েছে ২০১৫ সালে কিন্তু খোঁজ পেয়েছি অনেক দেরীতে। মুভির অ্যানিমেশন দেখেই টের পাচ্ছিলাম এটা A-1 Pictures এর তৈরি। অনেকটা আনোহানা+হিউকার স্টাইলের ছাপ ছিল মুভিটার ভিজুয়ালে। রাস্তাঘাট, গাছপালা, দিনের বিভিন্ন সময়ের আকাশের দৃশ্যগুলাতে সৌন্দর্য ছিল। নাইট সিনগুলাও মন্দ লাগে নি।
*
মুভিতে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো মুভিটাকে নারুসে জুনের মানসিক পরিবর্তনের চিত্র হিসেবে সহজেই অভিহিত করা যায়। এছাড়া কমিটির বাকী তিন সদস্যের মানসিক টানাপোড়েনের চিত্রায়নও খুব ভাল হয়েছে। আমার বেশি ভাল লেগেছে ইনজুরির কারণে বেসবল টিম থেকে ছিটকে পড়া দাইকি-কুনের চরিত্রটি। নিতো আর তাকুমির মিথস্ক্রিয়ার জায়গাগুলো প্রথম দিকে ভাল না লাগলেও পরে খারাপ লাগে নি। আর মুভির শেষের দিকের ঘটনাটা(শিপিংটা) একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। মাত্র চারটি চরিত্রকে ঘিরে কাহিনী চিত্রায়িত হলেও বিরক্তি লাগে নি কখনো।

Anthem of the Heart 2
*
মুভির মিউজিকের কথা বলতেই হবে। যেহেতু চরিত্রগুলোর প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল একটা মিউজিকাল থিয়েটার করার তাই অনেকগুলা শ্রুতিমধুর গান পরিবেশিত হয়েছে মুভির শেষাংশে একই সাথে। মোট সাতটার মত সঙ্গীতের সাহায্যে পুরো কাব্যনাট্যটি মঞ্চায়িত করা হয়। পুরো মুভিতে মোট গান ছিল এগারটা। তবে বেশিরভাগই মৌলিক নয়, বিভিন্ন ট্র‍্যাডিশনাল গানের পরিমার্জিত সংস্করণ। কাহিনীর সাথে গানগুলো এত সুন্দর করে মিশে গিয়েছিল যে আলাদা করে খেয়াল করার সুযোগ পাই নি। পুরো মুভির অনেক কাহিনীই বর্ণিত হয়েছে শুধুমাত্র গানের কথার মাধ্যমে যা অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটা দিক ছিল। পরবর্তিতে সাউন্ডট্র‍্যাক অ্যালবাম নামানোর পর পুরো মজাটা পাই তবে ঝামেলাও পোহাতে হয়েছে অনেকটা। অ্যালবামের সব গুলো ট্র‍্যাকের নাম জাপানিজ অক্ষরে দেওয়া হয়েছিল তাই বারবার গুগল ট্রান্সলেটে কপি-পেস্ট করে ইংরেজি অর্থ জেনে নিতে হয়েছে। তাই মিউজিক ইনফরমেশন এডিটের পেছনে ভাল সময় দিতে হয়েছে তবে লাভই হয়েছে। কারণ অনেকগুলা গানই গেয়েছেন আমাদের কিছু পরিচিত আর প্রিয় সেইয়ু এবং মিউজিশিয়ানরা। kiyoura natsumi এর গাওয়া Over the Rainbow গানটা অনেক শ্রুতিমধুর ছিল। তবে সবচেয়ে ভাল লেগেছিল খোদ নারুসের সেইয়ুর গাওয়া ‘Watashi no koe’ (My Voice) গানটা। এই গানের সুর আবার নেওয়া হয়েছে ইংরেজি লোকগান ‘Greensleeves’ থেকে। একই গানের সুর The last Naruto the movie এর প্রোলোগে ব্যবহৃত হয়েছিল তাই চেনা চেনা লাগছিল মিউজিকটা। গান গাইতে গাইতে ক্লোকে আবৃত নারুসের স্টেজে উঠার জায়গাটা অনেকদিন মনে থাকবে।
*
সব মিলিয়ে খুবই এনজয়েবল একটা মুভি। হয়তো মুভির শেষের জায়গাটা কিছুটা ক্লিশে ছিল তবে আবেগের জায়গাগুলো ভালভাবেই ছুঁয়ে গেছে। এবং মুভিটা ভাল রকমের শিক্ষণীয়ও বটে। নিজেকে প্রকাশ না করার অক্ষমতার অসুবিধা সম্পর্কে ভাল ভাবেই অবগত করে দেয় মুভিটা। নারুসের ভয়েস অ্যাক্টিং খুব উপভোগ করেছি। বিশেষ করে কথা বলতে না চাওয়া নারুসের আকার-ইঙ্গিত, জোরে জোরে মাথা নাড়ানো আর অস্ফুট অব্যক্ত ধ্বনিগুলোর ব্যবহার খুবই কিউট(দুঃখিত, এখানে কোন জুতসই ভারী শব্দ ব্যবহার করতে পারছি না ছিল। সেন্সেইয়ের একটা কথা খুব ভাল লেগেছিল,
“Music and miracles go hand in hand”.Anthem of the Heart 3

আর মুভির শেষের এই স্বগোতক্তিগুলো ভাল ছিল,
“What’s inside the egg?
All kinds of feelings locked inside…
Then, unable to keep them locked in…
It explodes…
And the world that’s created then…
It is more beautiful than I ever thought”.

রেটিং: ৮/১০

Steins;Gate [রিএকশন] — Iftekhar Irafat Ifti

Steins;Gate Reaction

Steins gate: রিঅ্যাকশন পোস্ট
এপি ১: গ্র্যান্ড ওপেনিং
১ম এপিতেই হুকড। যা শুনছিলাম তাই। খুব সিরিয়াস ওপেনিং। মাথা নষ্ট কিছু দেখার জন্য রেডি হয়ে গেলাম।
এপি ২-১১: বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার
পরের এপিগুলা দেখি। এমন হওয়ার কথা ছিল নাকি? এটা কি মাইন্ড ফাক সাইফাই নাকি ফানি সাইফাই অ্যানিমে? অবশ্য মন্দ না। জাফর ইকবালের কিছু কমিক সাইফাই বই আছে না? বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার। ওকাবেকেও তেমন মনে হচ্ছিল। পাগলা সায়েন্টিস্ট। মাথার ভেতর কন্সপিরেসি থিওরি। অদ্ভুত সব জিনিসপত্র বানায় যেগুলার কেমনে কাজ করে নিজেও জানে না। মানুষজন ইচ্ছেমতন আবদার নিয়ে আসতেছে অতীত চেঞ্জ করার জন্য। আর বাটারফ্লাই ইফেক্টকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সেও কাউকেই ফিরিয়ে দিচ্ছে না।
এক স্টুডেন্ট বলেছিলো এই সময়টা বোরড লাগবে। আমার তেমন কিছু হয়নি। মোটামুটি মজা নিয়েই এই স্টেজ পার করলাম। কিছু কথাবার্তা শুনে হাসতে হাসতে শেষ। যখন কুরিসু আর মায়ুরি রান্না করতে বসে দারু আর ওকাবের রিঅ্যাকশন মনে আছে?
-It seems I’ve released the seals that bound a dark god.
-When this meal over, I’m going to retire and get married.

(তবে বিরক্ত করেছে মিউ মিউ আর তার ভয়েস। এই ঢং গুলা অসহ্য।)
এপি ১২-২২: এটা জানতাম/টাইম ট্রাভেল নিয়ে ছিনিমিনি খেলে ইতিহাসে কেউ আজ পর্যন্ত সুখী হতে পারে নাই। তারপরেও প্রথম যখন মোয়েকা পিস্তল বের করে এবং সত্যি সত্যি ট্রিগার টেনে বসে সেটা দেখে বিশ্বাস করতেও সময় লাগে। হঠাৎ হালকা মুড থেকে এমন সিরিয়াস টার্ন নেয়ায় শক ইনটেনসিটি থাকে বেশি।
এইসময়ে ওকাগেকে আর চেনাও যায় না। আগের মতন ফাজলামি করে না। তাকে শুরুতে ওইরকম পাগল দেখা হয়েছে বলেই কিন্তু এই সময় তার পরিবর্তনগুলো বেশি চোখে লাগে।
মাঝখানে অকাবে কুরিসুর কেমিস্ট্রি। আবেগী ডায়ালগ।তারা দুজন একসাথে হলেই মনে হয় রোমান্টিক সাই ফাই।
-No matter what world line you’re in, you aren’t alone. I’m here.
২২ নং এপিতে সিরিজটা শেষ করে দিলেও চমৎকার একটা ডার্ক এন্ডিং হতো। দেখলাম আরো দুইটা এপি বাকি।

এপি ২৩-২৪: শ্রোডিঞ্জারের বিড়াল = কুরিসু (জীবিত নাকি মৃত?)
শেষ দুই এপি দেখে কোয়ান্টাম লেভেলের আনন্দ পেলাম। টাইম ট্রাভেল নিয়ে কিছু দেখলেই যা আশা করি লুপ ক্লিয়ার, কোয়ান্টাম হাবিজাবি,নেটে কিছুক্ষন গবেষণা করার মতন টপিক সবই পেলাম।
আর শেষে ওকাবের এই কথাগুলো। প্লেটোনিক ভালবাসা। রোমিও দেখলেও চোখ বড় বড় করে বলবে, কেমনে পারো ম্যান?!
-You don’t remember the three weeks we spent together. But that’s okay. Right now you’re breathing, speaking, thinking your hardest about something. That’s enough. You’re watching the same world as I am.

মুভি:
অবশ্য শেষে হ্যাপি এন্ডিং দেখেও মনে হয় আরো কিছু বাকি। আরো কিছু দেখার আছে। পুরা সিরিজটা আসলে দেখা হয়েছে ওকাবের চোখে। সে সবাইকে অবজার্ভ করে গেছে। কিন্তু অন্য কারো চোখে? কুরিসুর ফিলিংস? ডেজাভু মুভিতে সব পেলাম।তবে একটা ব্যাপার আশা করিনি।মুভিটা অনেকগুলা ইমো খাইয়ে দিলো।
-Remembering something that no one else can is a painful thing. You can’t talk to anyone about it. No one will understand you. You’ll be alone.

তাই জাস্ট হারিয়ে গেলে কেমন হয়? সেই মানুষগুলো কি মনে রাখে?

আবারো হ্যাপি এন্ডিং। কিন্তু তাও ইমোশনাল করেই রাখলো শেষ পর্যন্ত।
সিরিজ, ওভিএ আর মুভির শেষের তিনটা প্রিয় দৃশ্য একসাথে জোড়া লাগালাম।তিনবারই শেষ হয়েছে এই দুইজনকে দিয়ে।অ্যানিমে দেখা বেস্ট কাপল লিস্টে এদের না রেখে উপায় নেই। মিস করি এই দুইজনের ঝগড়া।

Children Who Chase Lost Voices (Hoshi wo Ou Kodomo) [মুভি রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Children Who Chase Lost Voices - 1

মুভি: Children Who Chase Lost Voices ( Hoshi o Ou Kodomo)
জনরা: অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি
সাল: ২০১১
স্টুডিও: CoMix Wave Films
দৈর্ঘ্য: ১১৫ মিনিট
MAL রেটিং: ৭.৮
IMDB রেটিং: ৭.৩

মৃত্যুর পরের দুনিয়া নিয়ে আমাদের বরাবরই একটা নিষিদ্ধ আগ্রহ রয়েছে। ছোট বেলায় এই নিষিদ্ধ সত্য থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বাবা-মা আমাদের মানুষ মারা যাওয়ার পর তারা অথবা চাঁদে চলে যায় এধরণের গল্প শোনাতেন। বড় হওয়ার পর যখন এই ছেলেভুলানো কথার ভ্রান্ততা সম্পর্কে অবগত হই তখন আবার মৃত মানুষকে ইহধামে ফিরিয়ে আনার অনিয়ন্ত্রিত ফ্যান্টাসি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এই সারমর্মকেই কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে Fullmetal Alchemist এর মত কালজয়ী এনিমে।
শিল্প-সাহিত্য-কল্পকথায় প্রিয় মানুষকে ফিরিয়ে আনার জন্য অনেকবারই মানুষের পাতালে যাওয়ার কথা বর্ণিত আছে। যেমন: সাপের দংশনে মারা যাওয়া স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য অর্ফিয়ুসের পাতাল গমন এবং সন্তান জন্মদানের সময় পরলোকগামী হওয়া স্ত্রী ইজানামিকে ফিরিয়ে আনার জন্য দেবতা ইজানাগির পাতাল অভিযান। তো ডিরেক্টর মাকাতো শিনকাই সাহেব বরাবরই তার সিনেমাতে দুটো মানুষের দূরত্বকে আলোকপাত করেন। কিন্তু Children Who Chase Lost Voices এ তিনি সেই দূরত্বকে দুনিয়াবি সীমানা থেকে বের করে এনেছেন। অন্য সিনেমাগুলোতে তিনি মানুষের মধ্যে দূরত্বের মাধ্যম হিসেবে টেনে এনেছেন মহাকাশ, শারীরিক অসক্ষমতা, যোগাযোগব্যবস্থার অপ্রতুলতা, বয়স ও মানসিকতার পার্থক্য এবং খোদ টাইম ও স্পেসকে। কিন্তু এই মুভিতে শিনকাই সাহেব দুটো মানুষের মধ্যে দূরত্ব হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন ইহকাল ও পরকালের মধ্যের সীমাকে!

Children Who Chase Lost Voices - 2

প্লট: কাহিনী আবর্তিত হয়েছে পনের বছর বয়সের বালিকা আসুনা ওয়াতাসেকে ঘিরে। অন্য অনেক এনিমে মুভির মত আসুনাও মফস্বল এলাকার মেয়ে। আসুনা পিতৃহীন, তার মাও নার্সিং পেশার কারণে মেয়েকে বেশি সময় দিতে পারেন না। স্কুল ছুটির পরের অবসর সময়গুলা আসুনা কাটায় পাহাড়ের গায়ে আবিষ্কৃত তার সিক্রেট প্লেসে। আসুনার বাবার উপহার দেওয়া একটা ক্রিস্টাল রেডিওর মাধ্যমে শুধুমাত্র ঐ হাইডআউটেই আসুনা একটি রহস্যময় সুর শুনতে পায়। একদিন স্কুল থেকে হাইডআউটে ফেরার সময় আসুনা এক ভয়ংকর জন্তুর আক্রমণের শিকার হয়। কিন্তু রহস্যময় এক কিশোর এসে ঘটনাক্রমে আসুনাকে ঐ জন্তুর হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে ঐ কিশোর নিজেকে Shun নামে পরিচয় দেয় এবং জানায় যে সে Agartha নামক এক ভিনদেশ থেকে এসেছে। শুন আসুনাকে আশীর্বাদ করে এবং বলে যে তার ইচ্ছা যে, আসুনা যেন দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। শুনের অদ্ভুত আচরণে লজ্জিত আসুনা প্রতিশ্রুতি দেয় দেয় যে সে পরের দিন একই জায়গায় দেখা করবে শুনের সাথে। শুন তারার দিকে তাকিয়ে থাকে এবং পাহাড়ের ঢাল থেকে ঝাপ দেয়!
পরের দিন আসুনা তার মার কাছ থেকে জানতে পারে পাহাড়ি নদীর তীরে এক ছেলের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। অবিশ্বাস আর দুশ্চিন্তাভরা চাহনি নিয়ে আসুনা স্কুলের দিকে রওয়ানা দেয়। ক্লাসে আসুনার নতুন শিক্ষক মিঃ মোরিসাকি পরকালের কিছু স্থানের নাম উল্লেখ করেন। সেই স্থানগুলোর নামের মধ্যে Agartha নাম দেখে আসুনা যারপরনাই অবাক হয় এবং ক্লাস ছুটির পরই মিঃ মোরিসাকির সাথে দেখা এই বিষয় নিয়ে আলাপ করার জন্য। আলাপ শেষে আসুনা পাহাড়ের হাইড আউটে গিয়ে আসুনা শুনকে আবিষ্কার করে আশ্বস্ত হয়। কিন্তু এই শুন আসুনাকে চিনতে পারে না এবং পূর্ব সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। তখনই সেখানে আক্রমণ করে একদল সশস্ত্র যোদ্ধা এবং তারা ধাওয়া করে আসুনা আর শুনকে। তারা পাহাড়ের তলদেশে লুকায় একপর্যায়ে আগার্থার প্রবেশপথে চলে আসে। শুন জানায় যে সে আগার্থার নাগরিক এবং আগার্থার মধ্যেই আছে Gate of death and life যার মধ্য দিয়ে মৃত মানুষকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা যায়। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে সশস্ত্র দলের কমান্ডার আসুনাকে জিম্মি করে আগার্থার গেইট দিয়ে প্রবেশ করে। কে এই কমান্ডার? কিবা তার উদ্দেশ্য? সে কি শুধুমাত্র আগার্থার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের সংস্থার শক্তিবৃদ্ধি করতে চায় নাকি তার অন্য কোন
লক্ষ্য আছে? আর আসুনারই বা কি হবে এই পাতাল জগতে!

Children Who Chase Lost Voices - 3

এটি মাকাতো শিনকাইয়ের চতুর্থ মুভি এবং আমার দেখা তার বানানো মুভিগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। শিনকাইয়ের বানানো ছয়টি মুভির মধ্যে এই মুভিটি যথেষ্ট স্বতন্ত্র। বরাবরের মত এই মুভির ভিজুয়ালও ঝকঝকে ছিল। তবে এই মুভির দৃশ্যগুলাতে কিছুটা জিবলি জিবলি ভাব রয়েছে। বিশেষ করে আগার্থার দৃশ্যগুলার অ্যানিমেশনে এক টুকরো জিবলিকে খুঁজে পেয়েছি। শিনকাইয়ের মুভিতে যেইরকম কিছু কমন দৃশ্যপট থাকে তা এই মুভিতেও রয়েছে। ফিনিস টেরার যে ছবিটা আপলোড করেছি সেটার সাথে কিমি নো নাওয়ার গোধূলিলগ্নের দৃশ্যের সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়। এই মুভির ক্যারেকটার ডিজাইনও বরাবরের মত চকচকে তবে আসুনার ডিজাইনে জিবলির ছাপ আবারো খুঁজে পেলাম। খেয়াল করে দেখলাম When Marnie Was There(2014) এর Annar এর চেহারার সাথে আসুনার চেহারার ভাল মিল আছে। মুভির মিউজিক আগেরগুলার মতই ভাল ছিল। অন্য মুভিগুলোর মতই এই মুভির শেষেও ছিল একটি অসাধারণ থিম সং ‘Hello Goodbye & Hello’.

আর এই মুভির ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও বলার কিছু আছে। মানে আমি কাহিনী কোনদিকে যাবে তা নিয়ে যে সিদ্ধান্তেই পৌছেছি, কাহিনী ঠিক তার উল্টোদিকে গড়িয়েছে। জায়গায় জায়গায় ধরা খেয়ে আমি শেষপর্যন্ত প্রিডিকশন করা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিছু জায়গায় এসে ঠাহর করতে পারছিলাম না যে এই মুভির এন্ডিং দেওয়া যাবে কী করে!

তাই এই মুভির এন্ডিং নিয়ে কিছু কথা বলা যেতে পারে। শিনকাইয়ের অনেক মুভিতে অস্পষ্ট এন্ডিং দেওয়া হয় এবং প্রধান চরিত্রগুলোর নিয়তি দর্শকদের উপরে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই মুভিতে একটি সলিড এন্ডিং রয়েছে যা না হলে আমি কম খুশি হতাম না। মানে, সেন্সেইয়ের ইচ্ছা পূরণ হলেই আমি বেশি খুশি হতাম। কিন্তু কাহিনী অন্যদিকে চলে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষুদ্ধই হয়েছি। তবে শেষে সেন্সেইয়ের উদ্দেশ্যে শিনের বলা কথাগুলো ভাল ছিল।

এই মুভিতে Shakana Vimana (রাবণের পুষ্পরথ) বা Quetzalcoatl (মেসোআমেরিকান/অ্যাজটেক দেবতা) এর মত কিছু পৌরাণিক টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাপারটা ডিরেক্টর হিসেবে শিনকাইয়ের অগাথ জ্ঞানেরই পরিচয় দেয়। জিনিসগুলা একেবারেই অপরিচিত ছিল আমার কাছে তবে মুভিটা দেখার মাধ্যমে কিছু জিনিস জানারও সুযোগ হল।

Children Who Chase Lost Voices - 4

Kino’s Journey [রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

Kino's Journey

Don’t judge a book by it’s cover বলে কথা আছে। ব্যাপারটা সব মিডিয়ামের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এনিমেতেও এরকম ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। যেমন মুশি শি, মাদোকা ম্যাজিকা, কাটানাগাতারি। প্রথমে আর্ট স্টাইল বা সিনোপসিস পড়ে মনে হবে আহামরি কিছু না, কিন্তু দেখার পর মন্ত্রমুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই! কিনোর যাত্রা সেইরকম এক এনিমে। আর্ট স্টাইল বেশ পুরানো, ৮০-৯০ দশকের আর্ট যদিও ২০০৩ এ মুক্তি পেয়েছে। সিনোপসিস এক পিচ্চির যাত্রা আর তার অভিজ্ঞতা কিন্তু আসলে এইটা কত বড় মাস্টারপিস তা না দেখলে বোঝা যাবে না।
কাহিনী কিনোকে নিয়ে, এক কিশোর? ও তার মোটরবাই হের্মেসকে ঘিরে। তারা এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরে বেড়ায়, নতুন নতুন সংস্কৃতি, নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হয়।
কিউট লাগছে না!? আসল কাহিনী বহু দূরে!
এই এনিমের মত হাসিখুশি ডার্ক এনিমে দেখি নাই। এই এনিমের এটমোস্ফিয়ার প্রাঞ্জল টাইপের, কাহিনী শুরুও হয় সুন্দরভাবে। এই এনিমেকে ডার্ক বললে ভুল হবে, বলা যায় নির্মম দর্শনের এনিমে। এই এনিমে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব কিছুকেই দেখিয়েছে, তা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। এই এনিমে আপনার আমার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে, আমাদের উত্তর না জানা প্রশ্ন নিয়ে ভাবায়, আপনার আমার বিবেকে আঘাত হানে। অসাধারণ, অসাধারণ!!!
এই এনিমের। মেইন চরিত্র আসলে কিনো না, মেইন চরিত্র হল দর্শক। আপনিই ভ্রমন করছেন! প্রশ্ন করছেন, কখনো উত্তর পাচ্ছেন, কখোনো পাচ্ছেন না।
এপিসোড সংখ্যা মাত্র ১৩। প্রতি পর্বে এক বা দুইটা করে কাহিণী, ক্যারেক্টার অনেক। কিন্তু তাদের সবাইকে কি মনে রাখা যায়? কিন্তু এই এনিমের সব ক্যারেক্টার কোন,না কোন,ভাবে আপনার মনে দাগ কাটবে। যাদের আপনার কাছে খারাপ বা ভিলেন মনে হবে তাদের মোরাল বা যুক্তিও আপনাকে ভাবাবে যে সে ভিলেন কিনা।
৯০-এর দশকে এনিমেতে বলা যায় একটা গোল্ডেন এইজ টাইপের কিছু ছিল। Cyborg 009, Serial Experiments Lain, UFO baby, Cowboy Bebop এরপর Heidi, Little Women এর মত ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক লিটারেচার নিয়েও অনেক এনিমে হয়েছে। ২০০০-এর দিকে বের হওয়া তাদের মতই এক রত্ন হল কিনো’স জার্নি।
১৩ টা এপিসোড মাত্র। ওপেনিং আর এন্ডিং শ্রুতিমধুর। আর্ট স্টাইল পুরানো কিন্তু ফ্লুইড। অসাধারন কাহিনী। সব মিলিয়ে এই এনিমে না দেখে আপনি কি মিস করছেন তা জানেন না।
তো তাড়াতাড়ি দেখা শুরু করুন কিনোর যাত্রা আর এক আবেগময় রাইডের জন্য প্রস্তুত হন।
আমার নম্বর: 10/10!

Majin Tantei Nougami Neuro [রিএকশন/রিকমেন্ডেশন] — Bashira Akter Anima

Majin Tantei Nougami Neuro

গত কয়দিনে রাতে মশার কামড় খেয়ে-ঘুম মেরে এবং নানান হাবিজাবি করে Majin Tantei Nougami Neuro এনিমে টা দেখলাম। আমার আবার রিকমেন্ডেশন দেখে এনিমে বের করার হালকা অভ্যাস আছে আর নতুন এনিমে দেখলে সিনোপসিস বা রিভিউ একটু পড়ে ফেলি হয়তো সেটা ভালো অভ্যাস না তাও পড়ে ফেলি। এইটার রিভ্যু ভালো দেখলেও কাহিনী কেমন জানি সাদামাটা লাগতেছিলো। এনিমে এর ঘটনা হইলো নেওরো নামের এক ডেমন হেল এর সকল মিস্ট্রি সল্ভ করে পৃথিবীতে আসছে পৃথিবীর মিস্ট্রির আশায়। তার রহস্যের ক্ষুধা মিটছিলোই না যেনো। এখানে এসে সে এক হাইস্কুলের মেয়ের সাথে পার্টনারশীপ করে কারণ এখানে সে নিজের পরিচয় রিভিল করবে না। তাই সকল রহস্য সমাধানে সে মূলে থাকলেও সবাই জানে যে হাইস্কুল ডিটেকটিভ ইয়াকো ই সব রহস্যের সমাধান করে। দুনিয়ার সবার সামনে সে সেনসেই সেনসেই করে আহ্লাদ করলেও পিছনে মেয়েটারে কিলাইয়া, ঘুষাইয়া, পিডাইয়া সে অস্থির। এভাবে ঘটনা আগায় প্রতি পর্বেই নতুন রহস্য তবে একটা চলমান বিশাল রহস্যের উপস্থিতি ও পাওয়া যায় যার সাথে জড়িয়ে যায় সবাই।

আমি ভাবলাম কি না কি, দেখি এমনে এক-দুই পর্ব। এই এনিমে থেকে যদি এটা আশা করা যায় যে এখানে নানান ক্লু থাকবে এরপর সেগুলা ধরে অপরাধী ধরবে সেটা এখানে নাই। অনেক অপরাধীকে আগে থেকেই বুঝা যায়, বা নেওরো বিভিন্ন হেল থেকে আনা টুল ব্যবহার করে ধুম ধাম করে সব ধরে ফেলে। কিন্তু মজার ব্যাপার হয় যখন অপরাধী ধরা পরে তখন সে তার আসল সত্ত্বার রূপ ধারণ করে। একটা সময় খেয়াল করলাম আমি এই পার্ট টার জন্য বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতেছি। আমার ১২ পর্বে আঁটকা পড়ার অভ্যাস আছে, অনেক এনিমে দেখতে পারি না কিন্তু দেখলাম কেমনে জানি এটা আমি ২৫ পর্ব দেখে ফেলছি। রিভ্যু পড়ে দেখলাম অনেকের ই এই অবস্থা হইছে, প্রথমে কাহিনী পড়ে লেইম লাগলেও দেখতে গিয়ে বেশ মজা পাইছে। উইকি তে পরে দেখলাম এটার মাঙ্গা টা বেশি জনপ্রিয় ছিলো, এনিমেটা এত না। অবশ্য মাঙ্গা মনে হয় না পড়বো। ভালো লাগছে এটাই আসল। আর ২৫ পর্বের এনিমে দেখে আমার সফলতা এই যে আমি নারুহোদো মানে যে I see এটা শিখছি। 😐 এরপর এনিমে শেষের দুঃখে তাদের নানান ফ্যান আর্ট ডাউনলোড করে স্বান্তনা দিছি নিজেকে।

Higurashi no Naku Koro ni [রিভিউ] — Mohammad Abir Hassan Sarker

Higurashi no Naku Koro ni

Anime Review: Higurashi no Naku Koro ni
Genre: Mystery, Horror, Psychological, Supernatural, Thriller
Status: Finished Airing
Premiered: Spring 2006
Source: Visual Novel
Sequel: Higurashi no Naku Koro ni Kai
Side Story: Higurashi no Naku Koro ni Special: Nekogoroshi-hen,
Higurashi no Naku Koro ni Kaku: Outbreak
Alternative Setting: Umineko no Naku Koro ni
Other: Higurashi no Naku Koro ni Kira

২০০৬ এ মুক্তি পায় Higurashi no Naku Koro ni অ্যানিমেটি। তাই প্রথমেই বলে নিই Graphics Resolution নিয়ে আশাহত হবেন না।
অ্যানিমেটির প্রেক্ষাপট হিনামিজাওয়া নামক পাহাড় ঘেরা এক গ্রাম নিয়ে। যেখানকার লোকেরা “ওয়াশিরোর অভিশাপ” নামক একটি রীতিতে বিশ্বাসী। যে বিশ্বাসের ফলশ্রুতিতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যা এই অ্যানিমেকে একইসাথে Mystery, Horror, Psychological, Supernatural ও Thriller সবকটি Genre এর আওতাভুক্ত করে, এবং অবিশ্বাস্যভাবে অ্যানিমেটি সবগুলো Genre এর সুন্দর প্রতিফলন ও যোগসূত্র স্থাপন করে।
রহস্যপ্রেমীদের কাছে এই অ্যানিমেটি আরও আকর্ষণীয় হবে। Another এর মত শুধু রহস্য দিয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বা Shikki এর মত ট্র্যাজিডি দিয়ে শেষ করেনি। রহস্যের খোলশ উন্মোচন, ঘটনা প্রবাহের Thrill, মনস্তাত্ত্বিক Climax ও শেষে Happy Ending; সবকিছু মিলিয়ে অ্যানিমেটি অনন্য।
“সনেট”ধর্মী কবিতায় যেমন অষ্টকে ভাবের প্রবর্তনা আর ষটকে ভাবের পরিণতি থাকে, তেমনি এই অ্যানিমেতে ঘটনার সূত্রপাত ও রহস্যসমূহ এবং এর Sequel এ সবরকম রহস্যের জাল ভেদ করা হয়েছে।
অ্যানিমেটি প্রথমে খুবই খাপছাড়া ও বিরক্তিকর মনে হলেও, ধৈর্য্যের সাথে দেখতে থাকলে মূল ঘটনা অব্দি পৌছতে পারলে অ্যানিমেটি খুবই আকর্ষণীয় লাগবে। অ্যানিমেটির প্রতিটি ঘটনায় ও দৃশ্যে রহস্য সম্পর্কিত কিছু clue দেয়া আছে। কাহিনির পরিণতি নিয়ে যদি ভবিষ্যদ্বানী করেনও, তারপরও অ্যানিমেটি আপনাকে আশ্চর্যান্বিত করবে নিশ্চিত থাকুন।

অ্যানিমেটি সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত রেটিং ৯/১০। তাহলে আর দেরী কেন, পরবর্তী অ্যানিমে হিসেবে এই অ্যানিমেটিই দেখার পরিকল্পনা করে ফেলতে পারেন।

সৌল ইটারঃ রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

SOUL.EATER.full.350803

কেনযেন নারু তামাশি ওয়া,
কেনযেন নারু সেইশিন তো,
কেনযেন নারু নিকুতাই নি ইয়াদোরু।

আনিমেটার প্রতি এপিসোডের শুরুতে মাকা আলবার্ন এর কণ্ঠে এই তিনটে কথা শোনা যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত আনিমেটায় এই কথাগুলোর কোন রকম গুরুত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না, একটা পরীক্ষার শূণ্যস্থান পূরণের মার্ক তোলা বাদে।

পুরো আনিমেটাই আসলে এরকম। সিরিয়াস বিপদের মধ্যেও যখন ব্ল্যাক স্টার “I’m going to transcend Gods” বলে চিল্লাচিল্লি করবে, বা কিড পলায়নপর শত্রুর পিছু নেওয়া বাদ দিয়ে সিমেট্রির পেছনে দৌড়িয়ে বেড়াবে, এদের ইউজলেস কাজকারবার দেখে একদিকে প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হবে, আবার হাসিও এসে যাবে।

আমি সাধারণত কোন আনিমের রানটাইম দুই সিজনের বেশি হলে সেটাকে ওয়াচলিস্ট থেকে বের করে দেই। তাও চার সিজন ধরে চলা ৫১ এপিসোডের এই আনিমেটা দেখা শুরু করি মূলত দুটো কারণে; প্রথমত বোনস এর আনিমে, ভাল না হোক, অন্তত খারাপ হবে না- এই আশা ছিল, দ্বিতীয়ত সেইয়্যু কাস্টে মামোরু মিয়ানো ছিল। মামোরু মিয়ানোর ক্যারেক্টারগুলো সাধারণত পাগলাটে হয়, দেখতে মজাই লাগে, আশা ছিল ডেথ দ্য কিড যদি সেই ক্যারেক্টারগুলোর ৫০% পাগলামিও করে, ভালই লাগবে। দুই দিক থেকেই আশা পূরণ হয়েছে ষোল আনা!! কথা বলছি সৌল ইটার নিয়ে।

2656-soul-eater-maka-and-soul

আনিমের কাহিনী বলা খুব সহজ, কারণ শুরুটা দেখে যে কারও মনে হবে যে ব্লিচ দেখছে, আরও ভাল আর্টওয়ার্ক এ। সেই পৃথিবীতে দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ানো পথভ্রষ্ট আত্মা, তাকে পাকড়াও করবে শিনিগামীর দূত। তবে মিল এখানেই শেষ, কাজেই নিশ্চিন্তে সামনে আগানো যাবে, রিপ অফ দেখব কিনা এই দুশ্চিন্তা না করে।

আমার সাধারণত আনিমে মনে থাকে কাহিনী দিয়ে, ক্যারেক্টারের নাম বা অন্যান্য খুঁটিনাটি কিছুদিন পর ভুলে যাই। সৌল ইটার এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যতিক্রম, কারণ এর কাহিনীর তুলনায় এর আর্ট, ওএসটি এবং অদ্ভুত ক্যারেক্টারগুলো আমাকে বেশি টেনেছে। শুরু থেকে আর্ট দেখে বারবার ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্ট এর কথা মনে পড়ছিল, আর মাকা আলবার্ন এর সাথে উইনরির স্বভাবে মিল পাচ্ছিলাম। ডেথ দ্য কিডকে নিয়ে আমি আসলে বেশি উৎসুক ছিলাম, কারণ মামোরু মিয়ানোর ক্যারেক্টার, এবং সে আমার উৎসাহের আগুনে বালতি বালতি ঘি ঢেলেছে; তাকে যতটা তারছিড়া আশা করেছিলাম সে তারচেয়েও বড় তারছিড়া! নরমালি সিমেট্রি নিয়ে পাগলামি করে বেড়ানো, অথচ কাজের সময় সেইরকম কুল, কিডকে দেখে বারবার বুঙ্গো স্ট্রে ডগস এর দাযাই ওসামুকে মনে পড়ছিল।

death_the_kid_b_and_w_vector_by_x__zero__x

ছেলের কথা যখন এল, বাপের কথাও বলা উচিৎ! শিনিগামী সামার নাকিসুরের কথা আমার মাথায় ঢুকে গেছে, অস্বীকার করব না, গত কয়েকদিন ধরে তার মত নাকিসুরে কথা বলতে চেষ্টা করেছি মাঝেমধ্যেই, যদিও তা আলটিমেটলি ব্যর্থ প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই হয়নি। ;-;

পছন্দের ক্যারেক্টারের লিস্ট আসলে শেষ করা সম্ভব না। সৌল ইভান্স (যে নাকি কুল না হলে কোন কাজ করেনা), ব্ল্যাক স্টার (যে বিধাতাকে অতিক্রম করে যাবে), ৎসুবাকি (সব তারছিড়ার মাঝে একমাত্র নরমাল ক্যারেক্টার), লিয-প্যাটি (এদের যেকোনো একজন কখনোই যথেষ্ট না, সবসময় জোড়ায় আসতে হবে, কারণ “symmetry is beautiful!”), স্পিরিট, স্টাইন হাকাসে, সিড সেন্সেই, মারি সেন্সেই, জাস্টিন (এর থিমটা জোস, সাথে কথা বলার স্টাইলও); এছাড়া আরও অনেক ক্যারেক্টার মনে রাখার মত লেগেছে। ওএসটি খুবই ভাল ছিল, নরমালি ফাইট সিন আমাকে তেমন টানে না, কিন্তু সৌল ইটারের ফাইটগুলোর জন্য আমি অপেক্ষা করে বসে থাকতাম, যাতে ফাইট মিউজিকগুলো শুনতে পাই। স্পেশালি কিড আর জাস্টিনের থিম সং আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। ওভার অল কাহিনীর পেসিং কিছুটা বুঙ্গোর মত লেগেছে (এমনকি লাস্টের ফাইটটাও বুঙ্গোর লাস্ট ফাইটের মত ফুড়ুৎ করে শেষ হয়ে গেল :p), আর একটা দুটা ফাইট সিন দেখে মবের কথা মনে হয়েছিল, যদিও এখন জিজ্ঞেস করে লাভ নেই, মনে করতে পারব না।

সবমিলিয়ে সৌল ইটার বেশ ভাল একটা আনিমে, দেখে বেশ এঞ্জয় করেছি।

strana manga tapety soul+eater walpapers pozadia anime

AIKI [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

AIKI

আপনি কি অতিরিক্ত শক্তিশালী মেইন ক্যারেক্টার এর ভক্ত? আপনি কি গড়াগড়ি খাওয়া কমেডির ভক্ত? আপনি কি কুস্তি থুক্কু মার্শাল আর্টের ভক্ত?? এবং সবশেষে ইচি ভক্ত? তাইলে আপনার জন্যই AIKI মাঙ্গা 😀 !!!
মাঙ্গা সাজেশন: AIKI
Beelzebub এর Oga এর কথা মনে আসে? সেই শয়তানি কলিজাকাপা হাসির সাথে ধুম ধারাক্কা ঘুষি!! এক কথায় পিউর Badass!!! এইরকম চরিত্র দেখলেই অস্থির লাগে। কোন মিন মিনে ভাব নাই, আসলাম, দেখলাম, ঘুষাইলাম!! সবকিছুরে তুচ্ছ কইরা দেয়। এ খারাপ না কিন্তু সাধুও না!!
তো আমাদের এই মাঙ্গার নায়ক জোকিয়ুউ। দেখতে পাড়ার বখাটে ছেলের মত। আসলেও তাই। গায়ে গতরে নরমাল। দেখলে মনে হয় হাইস্কুলে পড়ে। আসলে কি তাই?? অবশ্যই না !!! দুনিয়ার সেরা মার্শাল আর্টিস্ট সে, হ্যাঁ সেরা। তার উপরে আর কেউ গুরু নাই। তার এই বিশাল ক্ষমতা, With great power comes great responsibility. কিন্তু সে তার এই ক্ষমতা নিয়ে মেয়েদের পিছনে ছুকছুক করে বেড়ায় এবং বাপমায়ের অন্ন ধ্বংস করে। ছেলের ক্ষমতার বহর দেখে তার বাপ, এমন সিস্টেম করে যাতে জোকিয়ুউ তার শরীরের ১০ পারসেন্ট ক্ষমতাও ব্যাবহার করতে না পারে!! তাও তার সাথে কেউ পারে না । যেই মারামারি করতে যায় , লিটারেলি উড়ে যায়!! এখন দূর দুরান্ত থেকে লোক আসে তাকে দলে টানার জন্য, অথবা মার্শাল আর্ট শেখার জন্য!! আর টাকা বা নারীর ছলাকলা দেখলেই সে মাখনের মত গলে যায়। কিন্তু তার এই বজ্জাতির মধ্যেও আছে বুদ্ধির খেল , আরও জানতে হলে মাঙ্গা পড়া স্টার্ট করা দেন!!!
এই মাঙ্গা অতিরিক্ত অস্থির, এর ইচ্চিটুকু বাদ দিলে এইটা মাস্ট পড়ার মত মাঙ্গা। মাঙ্গার আকা খুব সুন্দর, এক্সপ্রেশন গুলা সেই!!!! যারা এক্সপ্রেশন এর ভক্ত তারা এই মাঙ্গা মাস্ট পড়বেন!!! ইচ্চিটা একটু বেশি কিন্তু তা বলে এই মাঙ্গা বাদ দেবার মত না। ওয়ানপাঞ্চ ম্যান, Beelzebub এর ভক্ত হয়ে থাকলে এই মাঙ্গা পড়া মাস্ট। তবে ইচ্চি কিন্তু অনেক বেশি!
চ্যাপ্টার মাত্র ৯৮টা। এর একটা সিকুয়াল ও আছে। নাম Aiki S. সেটা অনগোয়িং!!
আমার রেটিং: ৯/১০

স্পাইস অ্যান্ড উলফ [নোভেল রিভিউ ও ডিসকাশন] — Saqib Shadman

Spice and Wolf

অবশেষে শেষ করলাম স্পাইস অ্যান্ড উলফের সবকটা ভলিউম (১৭ ভলিউমের short story গুল এখনও বাকি আছে, কিন্তু সিরিজের উপর মন্তব্য করার জন্য যথেষ্ট পরা হয়েছে)। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চমৎকার একটা যাত্রা হল।

গল্পের শুরুতে ভ্রমণকারক বনিক লরেন্সের সাথে পরিচয় হয় নেকড়ে ঈশ্বর হলোর সাথে। লরেন্স হলোকে তার ভস্মভূমিতে ফিরিয়ে দেবার জন্য রাজি হয়। যাত্রার পথে প্রত্যেক গ্রাম ও শহরে আমাদের দুই প্রধান চরিত্র জায়গার সমস্যায় জরিত হয়ে যায়।

স্পাইস অ্যান্ড উলফ এক অনন্য সিরিজ। যারা এর আগে এনিমে দেখছেন কিংবা নভেলগুলো পরেছেন জানেন যে প্রত্যেক গল্পের এক কেন্দ্রিয় বিষয়বস্তু হচ্ছে ব্যাবসা, অর্থনীতি, এবং কিছু রাজনীতি। প্রথম প্রথম পুর ব্যাপারটা বুঝতে বেশ অসুবিধা হত, কিন্তু শেষে মানতে হল যে এই বিষয় সিরিজে একটা অনন্য বুদ্ধিমত্তা দেয়।

দুনিয়াটাও বেশ বিশদ ও জটিল। আগেরকালের দিনকালের ঘটনাবলি বর্তমানে এখনও বেশ প্রভাবিতও করেছে। প্রত্যেক শহর ও গ্রামের পরিস্থিতি সংযুক্ত। যুদ্ধ বাতিল হবার কারনে এক শহরে অর্থনিতিক অবস্থা একদম কাহিল হয়ে থাকে, অন্যদিকে অর্থের মান কমার কারনে শত শত ব্যবসা দেউলিয়া হয়ে যায়। অর্থনীতিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আছে ধর্মের ও রাজপদের প্রতিষ্ঠান, যার ক্ষমতাও প্রচুর। এবং দুনিয়ার পরিস্থিতি যাত্রা ও চরিত্রদের উপর বেশ প্রগাঢ় ভাবে প্রভাব করে।

প্রধান দুই চরিত্র বাদেও সিরিজের বাকি চরিত্রগুলকেও বেশ ভাল লেগেছে। প্রত্যেক চরিত্র অপ্রতিম। কোন চরিত্রকে জেনেরিক বা সাধারণত বিরক্তিকর মনে হয় নাই। আছে লুদ্ধ মহিলা বণিক ইভ, আছে নরম মনের কিন্তু বুদ্ধিমত্তা কল। চরিত্রের ইতিহাস আলচনা করে চরিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি ও ব্যবহারের কারন উঠিয়ে আনা হয়। সিরিজের কিছু কিছু শর্ট স্টোরির অন্যান্য চরিত্রদের জন্যই নিবেদিত।

শর্ট স্টোরিগুলও বেশির ভাগ সময় ভাল লেগেছে, কোনটাই অপ্রয়জনিয় মনে হয় নায়। বরং প্রধান গল্পটাকে বেশ সুন্দর করে পূরক করে।

লরেন্স এবং হলোর সম্পর্কটা কিছুটা আলাদা ভাবে আলচনা করি। হইত শুরু থেকেই হইত বুঝেছেন যে এই দুইজন শেষমেশ প্রেমে পরে একসাথেই বাস করবে। ঠিক ওইটাই হয়। এবং জিনিষটা ঠিক মতন না করলে ফলাফল টা বেশ cheezy হয়। সৌভাগ্যক্রমে, ১৭ ভলিউমে character development টা বেশ ধিরে-সুস্তে নেওয়া হয়। দুজনের মধ্যেই বেশ টেনশন থাকে গল্পের বেশির ভাগ সময়। গল্প বাস্তবতাকে বেশ সুন্দর ভাবে সম্মান করে। লরেন্স এবং হলো দুজনই বেশিরভাগ সময় মাথায় রাখে যে পেশার বিনিময়ে হৃদয়ের ইচ্ছা পুরন করা যাবে না। এবং শেষে যাত্রার বিপদ থেকে উঠে আসতে পারায় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় একশাথে বাশ করার। দুই চরিত্রের ডেভেলপমেন্ট বেশির ভাগ সময় আশে একজন আরেকজনের থেকে। হলো পরিস্থিতি ও বিপদের মুখে জয়ি হওয়ার অনুপ্রেরণা ও জ্ঞান দেয়, মাঝে মাঝে কিছু রীতিবিরুদ্ধ ভাবে। লরেন্স হলকে সাহায্য করে নতুন দুনিয়ার বদলের সাথে, এবং হলোর স্বদেশ, পুরনো দিনকালের কিংবদন্তী ও সৌন্দর্য রক্ষা করার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

……………………………………………………

পুরো সিরিজটা শেষ করতে লাগল ৯ মাস (যদিও প্রথম ভলিউম পরেছিলাম ২০১৫ সালে)। আমি বেশ সন্তুষ্ট যে গত মার্চে কৌতূহলে সিদ্ধান্ত নিলাম ভলিউম ২ এবং ৩ কিনার। যারা নভেল পরেন, আমি পরামর্শ করলাম এইটা সিরিজটা পরে নিতে। যারা এনিমে দেখেছেন এবং নভেল পরার আগ্রহ আছে, তাদেরকে উপদেশ করলাম প্রথম থেকে পড়তে (এনিমে এডপশন হচ্ছে ভলিউম ১, ২, ৩ ও ৫)।