কোইযোরাঃ সেতসুনাই কোইমোনোগাতারি [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

koizora-setsunai-koimonogatari

কোইযোরাঃ সেতসুনাই কোইমোনোগাতারি
ইংরেজি নামঃ স্কাই অফ লাভ, লাভ স্কাই-স্যাড লাভ স্টোরি
জানরাঃ স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, রোমান্স, শৌজো, ট্র্যাজেডি
চ্যাপ্টারঃ ৩০
ভলিউমঃ ১০
মাঙ্গাকাঃ হানেদা ইবুকি (অঙ্কন), মিকা (গল্প)
মাইআনিমেলিস্ট স্কোরঃ ৮.১৩
ব্যক্তিগত স্কোরঃ ৯/১০

শৌজো মাঙ্গা নিয়ে কমবেশি সবারই বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যায়। যার মাঝে উল্লেখযোগ্য একটি হল আর যাই হোক, এসব মাঙ্গার কাহিনীতে বাস্তবতার ছোঁয়া নেই বললেই চলে। গল্প যখন অনেক দূর যাওয়ার পরে তাতে নাটকীয়তা আসে ঠিক ওই অংশগুলোর জন্যই স্লাইফ অফ লাইফ বলা হয়। কিন্তু কোইযোরা এমন একটি শৌজো মাঙ্গা যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বাস্তব জীবনের ঘটনা তুলে ধরে গেছে। শুরুটুকু পড়ে অন্তত মনে হয় যেন একটি বাংলাদেশী মেয়েরই সুপরিচিত প্রেমকাহিনী নিয়ে মাঙ্গাটি তৈরি করা হয়েছে। এই একটা মাঙ্গা পড়ে আমার মনে হয়েছে হয়ত আমাদের দেশের কোন মেয়েও এই গল্পের সাথে নিজের জীবনের সাথে মিলে খুঁজে পাবে। যদিও মাঝ থেকে শেষ পর্যন্ত যা হয়েছে তার সাথে মিল খুঁজে পাবে কম মানুষ এবং এই সংখ্যাটা যত কম ততই আসলে ভালো…

তাহারা মিকা খুব সাধারণ একজন মেয়ে। হাইস্কুলে উঠার পর সেও আর দশটা মেয়ের মত স্বপ্ন দেখে তার একটা বয়ফ্রেন্ড হবে, তার সাথে ঘুরতে যাবে এবং আর বাকি যা যা নিয়ে ভাবতে পারে একজন টিনএজার মেয়ে। মিকার বান্ধবী আয়া তাদের স্কুলের প্লেবয় নোযোমির সাথে ফোন নাম্বার বিনিময় করে। কিন্তু নোযোমির মিকার প্রতি আগ্রহ তাই সে আয়ার কাছে থেকে মিকার নাম্বার নেয়। মিকার সাথে সে যোগাযোগ করলে মিকা ব্যাপারটা খুব অপছন্দ করে। তাও নোযোমি মিকাকে ঘনঘন মেসেজ দিতেই থাকে। এদিকে আয়াও তার বান্ধবীর উপর অসন্তুষ্ট হতে থাকে মিকা তার পছন্দের ছেলেকে কেড়ে নিচ্ছে বলে। এরকম এক টানাপোড়নের মধ্যে একদিন আরেকটি নাম্বার থেকে মিকার ফোনে কল আসে। নোযোমি মাতাল অবস্থায় মিকাকে তার বন্ধুর বাসা থেকে ফোন দেয়। ফোন কাড়াকাড়ি করে নোযোমির বন্ধু সাকুরাই হিরোকি মিকার সাথে কথা বলে। হিরোর কণ্ঠ মিকার কাছে অনেক শান্ত আর নম্র মনে হয়, যেটা নোযোমির পুরো উল্টা। একদম স্বেচ্ছায় মিকা হিরোকে ফোন নাম্বার দেয়, ফোনে কথা বলা শুরু করে এবং একপর্যায়ে দেখাও করে। দেখা করার সময় মিকা বুঝতে পারে যেহেতু হিরো নোযোমির বন্ধু তাই সেও অবশ্যই নষ্ট ধরণের ছেলে হবে। হিরোকে দেখে সে আবিষ্কার করে এই সেই ছেলে যে জুনিয়র হাইস্কুলে একজন ডেলিনকুয়েন্ট ছিল এবং যার বোন ইয়ানকী বলে গুজব শোনা যায়। হিরোকে দেখে মিকা অনেক ভয় পেয়ে গেলেও হিরোর কিছু স্নেহশীল আচরণ দেখে সম্পর্ক রাখবে ঠিক করে। ওই সময়ের ছোট্ট একটা সিদ্ধান্তই যে পরে তার জীবনটায় আমূল পরিবর্তন আনবে মিকা কি তা ঘুণাক্ষরেও টের পেয়েছিল?

অবশ্যই মিকা এটা তখন জানত না। জানলে হয়ত এই মাঙ্গাটাই আর আমরা পেতাম না। আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন তাহলে অন্য গল্প হত এখানে, আর তো কিছু না। কিন্তু তাহলে সেই গল্প নিয়ে মাঙ্গা তৈরি হওয়ার সম্ববনা থাকত না। কেননা মিকা তো এই মাঙ্গাতে সীমাবদ্ধ কোন চরিত্র না। সে যে রক্ত-মাংসেরই একজন সত্যিকারের মানুষ! জ্বী, কোইযোরা কোন লেখকের কল্পনায় মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখা কোন গল্প না। এটি মিকা নামের একটি মেয়ের জীবনের সত্যিকারের ঘটনা অবলম্বনে লেখা। এ কারণেই শুরুতে “স্লাইফ অফ লাইফ” কথাটা তুলেছিলাম। তবে ভুলেও ভাববেন না এতে বাস্তবধর্মী উপাদান অনেক বেশি তাই নাটকীয়তা কম। এটায় যে পরিমাণ নাটকীয়তা আছে তা ১০টা কেন ১০০টা স্লাইফ অফ লাইফ, ড্রামা কিংবা শৌজো সিরিজ খুঁজলেও পাবেন না। সাধারণের তুলনায় এখানে এসব ১০ গুণ বেশি। আমার কষ্টের গল্প খুব ভালো লাগে কারণ তা মানুষের সত্যিকারের কষ্টগুলোকে তুলে ধরে। অনেকেই এসবকে “মেলোড্রামা” বলে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু বাস্তবে যে এমন ঘটনা অল্প হলেও ঘটে তার সাক্ষাৎ উদাহরণ এই মাঙ্গাটি। একটা কথা আছে- “life is more than drama”। জীবন নাটকের চেয়েও বেশি কিছু। মিকার জীবনের গল্পটা এমনই যে সেটাকে বাস্তবের না বলে কোন নাটক কিংবা সিনেমার গল্প বলাটাই বেশি উপযুক্ত হত। এতদিন অনেক সিরিজকেই “ড্রামাটিক” উপাধি দিয়ে এসেছেন। তবে এই শব্দটার অর্থ আসলেই বুঝতে চাইলে কোইযোরা পড়ে দেখতে পারেন।

কোইযোরা কোনভাবেই স্বাভাবিক শৌজো মাঙ্গা ভেবে পড়তে যাবেন না। আর শৌজো হলেও কারও বয়স যদি ১৪/১৫ এরকম হয় তাহলেও এটা পড়া উচিৎ হবে না বলে আমি মনে করি। একটু ম্যাচিউরিটি আসার পরে এবং একটু বড় হলে পড়াটাই ভালো হবে। তার গুরুত্বটা উপরের কথা থেকে বুঝা সম্ভব না। এই মাঙ্গা পড়ার আগে কিছু বিষয়ে জেনে রাখা উচিৎ। তাই স্পয়লার হলেও সেগুলো বলতেই হচ্ছে। এখানে শারীরিক সম্পর্ক, ধর্ষণ, মাদক, প্রেগন্যান্সি এর মত অনেক বয়ঃপ্রাপ্তদের জিনিস রয়েছে। অতএব বুঝতেই পারছেন, এটা পড়তে হলে বুঝেশুনেই পড়তে হবে। আর আপনার নিতীবোধ যদি বেশি থাকে এবং টিনএজদের উল্টাপাল্টা পাগলামি, ছাগলামি দেখে বিরক্ত হন তবেও সাবধান থাকবেন। কেননা আমার মত আপনারও একদম শুরুতেই তাহলে মাঙ্গাটা ড্রপ করতে ইচ্ছা হবে। তবে এই মাঙ্গার এসব বড়দের জিনিসপাতি বিবেচনা করলে একে শৌজোর চেয়ে জোসেই বলাটাই ভালো হত। মিকা গল্পের শুরুতে হাইস্কুলে থাকে বলেই একে শৌজো ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। যদিও পরে “জোসেই বয়সের” সময়ও আসবে।

চরিত্রগুলোর মধ্যে ইয়ূকে খুব ভালো লেগেছে। ইয়ূ অসাধারণ একজন মানুষ! এছাড়া আর কাউকে তেমন ভালো লাগেনি ওভাবে। কিন্তু ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট বেশি ভালো ছিল। মাঙ্গাটা একদম প্রথম চ্যাপ্টারেই গল্পের মধ্যে ঢুকে যায় এবং পুরা ৩০ চ্যাপ্টার জুড়েই একের পর এক ঘটনা চলতে থাকে। দম ফেলার সময় দেয় কম। তারপরেও কাহিনীতে তাড়াহুড়া লাগেনি। তার একটা কারণ এর চ্যাপ্টারগুলো (সব কিনা মনে নেই) সাধারণ শৌজো মাঙ্গার একেকটা চ্যাপ্টারের চেয়ে অনেক বড়। যেহেতু এই মাঙ্গাটি তৈরিই হয়েছে মিকার গল্পটা সবার সামনে তুলে ধরার জন্য শুধু বিনোদনের জন্য তৈরি করার বদলে তাই এখানে সাধারণ মাঙ্গার মত কেয়ার-ফ্রি, মজার অপ্রয়োজনীয় চ্যাপ্টার তেমন একটা ঢুকায়নি। কিন্তু গল্পের গভীরতা বুঝার জন্য এবং চরিত্রগুলোকে বুঝার জন্য যখন যেমন সিরিয়াস বা মিষ্টি মুহূর্ত দেখানো দরকার তার সবই দেখিয়েছে। তবে পড়ার সময় বিভিন্ন জায়গায় এত রাগ উঠে চরিত্রগুলোর কিছু কিছু আচরণে যে মনে হয় এটা পড়ার কোন মানে নেই। কিন্তু সময় হলে তাদের আচরণগুলোর পেছনের কাহিনী জানতে পারবেন। এজন্যই ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট বেশ পছন্দ হয়েছে। তারা নিজেদেরকে ব্যাখা করার সুযোগ পেয়েছে। আর তাই তাদের সাথে ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট কাজ করে। ভালো লাগুক আর না লাগুক, তাদেরকে অনুভব করতে পারবেন।

এমন সিরিয়াস মাঙ্গাতে বড় বড় জ্বলজ্বলে চোখ আর চকচকে ব্যাকগ্রাউন্ড মানাবে না ঠিক। কিন্তু এর আর্ট যে একটু বেশিই বাজে! আর্ট নিয়ে খুঁতখুঁতে হলে আপনি ভুল জায়গায় চলে এসেছেন। দারুণ শারীরিক গঠন, সুন্দর চোখ, এলোমেলো চুল, ডিটেইল্ড ব্যাকগ্রাউন্ড এবং অন্যান্য মনোরম দৃশ্য এসবের কিছুই নেই এতে। একটা অ্যাভারেজ মাঙ্গার আর্টও এর থেকে ভালো হয়। তাই একটু কষ্ট করে আর্ট সয়ে নিতে হবে। শুধু গল্পটার স্বার্থে ব্যাপারটা মেনে নিয়ে পড়া চালিয়ে যেতে পারলে ভালো।

কোইযোরা প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে সেল ফোন নভেল হিসেবে। শুধুমাত্র মোবাইলে পড়া যায় এমন এক ওয়েবসাইটে মিকা নিজেই তার আত্মজীবনী উপন্যাস হিসেবে লেখা শুরু করে। তখনই এটি জাপানের বেস্ট-সেলিং কামিং অফ এজ এবং রোমান্স উপন্যাসের খেতাব পায়। ২০০৬ এ এটি বই আকারে প্রকাশ হয় এবং এরপরে এর জনপ্রিয়তা এতই বেড়ে যায় যে এর একটি লাইভ অ্যাকশন মুভি, টিভি সিরিজ এবং মাঙ্গা আসে। উয়িকিপিডিয়াতে আবার মাঙ্গা ডেমোগ্রাফিক দেওয়া রয়েছে সেইনেন। যেটাই হোক এটার আনিমে আসেনি এটাই যা দুঃখ! লাইভ অ্যাকশন মুভিটি আমি দেখেছি। এখানে সব ঠিক থাকলেও মাঝে মিকার জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দেখাতে পারেনি। তাই মুভি দেখতে ইচ্ছুক হলেও মাঙ্গাটাই আগে পড়ে ফেলবেন। কিন্তু অবশ্যই এটা সবার জন্য নয়। বিচার-বিবেচনা করে যদি আপনার রুচির সাথে মিলে বা মানিয়ে নিতে পারেন তাহলে পড়বেন। তবে হ্যাঁ, এত জনপ্রিয়তা তো শুধু শুধু পায়নি কোইযোরা। ট্র্যাজিক গল্প বলে না, এরকম সত্যিকারের ভালোবাসার দেখলে যে কারোরই মন ছুঁয়ে যাবে। মিকাকে কি আসলে দুর্ভাগ্যবতী না সৌভাগ্যবতী বলে উচিৎ কে জানে! তবে এরকম ভাগ্য ১০০০ এ ১ জনেরও যে হয় না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মিকা, তুমি যেখানেই থাকো আশা করি সুখেই আছো।

ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

faster-than-a-kiss

ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস
জাপানী নামঃ কিস য়োরি মো হায়াকু
জানরাঃ রোমান্স, স্কুল, কমেডি, ড্রামা, শৌজো
চ্যাপ্টারঃ ৫৮
ভলিউমঃ ১২
মাঙ্গাকাঃ তানাকা মেকা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.১২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০

নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেশি কথাটা আমরা সবাই জানি। আনিমে এবং মাঙ্গা জগতে এসব নিষিদ্ধ জিনিস বলতে সাধারণত ইয়াওই, ইয়ুরি বা এ ধরণের এহেম এহেম মার্কা জিনিসই বোঝানো হয়। তবে এমন কিছু পেলে কেমন হয় যেটা কোন এক নিষিদ্ধ সম্পর্ক নিয়েই তৈরি কিন্তু পড়ার সময় বারবার মনে হবে না আপনি উল্টাপাল্টা কিছু পড়ছেন বরং খুব বেশি মিষ্টি আর নিষ্পাপ একটি গল্প বলেই মনে হবে? এমনই এক মাঙ্গা হল “ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস” যা গড়ে উঠেছে শিক্ষক-ছাত্রীর নিষিদ্ধ সম্পর্ককে নিয়ে।

বাবা-মা হারা অনাথ মেয়ে কাজি ফুমিনো। শেষ সম্বল বলতে আছে ফুমিনোর পিচ্চি ভাই তেপ্পেই যার বয়স আবার মাত্র ৪ বছর। যেই বয়সে বাবা-মায়ের আদর আর শাসনে বেড়ে ওঠার কথা সেখানে ফুমিনোর চিন্তা কিভাবে হাই স্কুল পাশ করবে আবার একই সাথে ছোট্ট ভাইটির দেখাশুনা করবে। এক আত্মীয় থেকে আরেক আত্মীয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কারো বাড়িতে ঠাই হয় না এই দুই ভাইবোনের। হয়তবা পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে ভাইকে বড় করে তোলাই ছিল ফুমিনোর একমাত্র উপায়। কিন্তু কোন এক বিকেলে পালিয়ে গিয়ে পার্কে তেপ্পেইকে নিয়ে বসে থাকতে গিয়েই ভাগ্যটা পরিবর্তন হয়ে গেল। তার স্কুলের শিক্ষক ওজিরো কাযুমা-সেন্সেই ফুমিনোকে তার বাড়িতে আসতে বললেন। ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত ফুমিনো সেন্সেইয়ের এই করুণা দেখে তো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল। সে বলেই বসলো, সেন্সেইয়ের যদি এতই সহানুভূতি হয় তো ফুমিনোকে বিয়ে করে উনি ফুমিনো আর তেপ্পেইয়ের দেখভাল করার দ্বায়িত্ব নিয়ে দেখাক না কেন!! সেন্সেইও তার ছাত্রীর কাছে হারতে রাজি নন। উনি সাথে সাথেই ফুমিনোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন! সেন্সেই ঠাট্টা করছে না করুণা দেখাচ্ছে তা ভাবার মত অবস্থা নেই বলে ফুমিনো শুধু হাতখরচ পাওয়া আর তেপ্পেইকে বড় করার লক্ষ্যে সুযোগটা লুফে নিল। ব্যস, ফুমিনোর নতুন বাসস্থান হল ওজিরো-সেন্সেইয়ের বাসা। স্কুলে সর্বদা শিক্ষক-ছাত্রীর ভূমিকা পালন করলেও বাসায় এখন তারা স্বামী-স্ত্রী। তেপ্পেইসহ ৩ জনের এই ছোট্ট পরিবার এবং তাদের আশেপাশের মানুষদের নিয়েই ফ্যাস্টার দ্যান এ কিসের গল্প।

অনেকটা ঝোঁকের বশেই আমি এই মাঙ্গাটা পড়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু একটা ব্যাপারে শুরুতে আমি সন্দিহান ছিলাম। বিয়ের কারণে এই জুটির সম্পর্ক কতদূর নিয়ে যাবে এটা নিয়ে আমার প্রশ্ন ছিল। ভিতরে ভিতরে বিবাহিত হলেও এই সম্পর্কটা বেশি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যাবে কিনা এ নিয়ে সংকোচে ছিলাম। কিন্তু ওজিরো-সেন্সেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শিক্ষক হিসেবে তার অবস্থানটার কথা কখনোই ভুলে যাননি। অনুভূতির বশে এখানে কোনভাবেই একজন শিক্ষক আর তার ছাত্রীর মাঝে যে সম্পর্ক থাকে তার মর্যাদাটা পুরোপুরি হারিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। তাদের আসল সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই সেন্সেই তার একজন ছাত্রীকে পড়ালেখা থেকে ঝরে পড়া থেকে রক্ষা করেছিলেন। সেন্সেই নিজের ইচ্ছা আর অনুভূতিগুলোকে দমিয়ে রাখতেন ফুমিনো তার ছাত্রী এবং ফুমিনো যাতে কোন সমস্যায় না পড়ে শুধু এজন্যে। মাঙ্গাটির এই দিকটির প্রশংসা না করলেই নয়। আমার ভয়ের আরেকটি কারণ ছিল এই মাঙ্গার নামটি। নাম শুনে এতে কি না কি আছে ভেবেছিলাম! বিশ্বাস করেন, এই রকম ভুল ধারণা দেওয়া নাম খুব কমই আছে! একটা কিস যে এখানে কত বড় একটা বিষয় তা পড়লেই বুঝবেন। অন্যান্য স্বাভাবিক জুটিগুলোও ওজিরোx ফুমিনো’র মত এতটা “নিষ্পাপ” হয় না! এই নামের একমাত্র কারণ এত ঝড়ের গতিতে স্বামী-স্ত্রী হয়ে যাওয়া। তাই সাধারণত এ ধরণের নিষিদ্ধ সম্পর্কের গল্প আমার পছন্দ না হলেও এই মাঙ্গাটি যথেষ্ট ভালো লেগেছে।

বদমেজাজি, সহজেই মারামারিতে জড়িয়ে যাওয়া ফুমিনোর ধীরে ধীরে একজন সাধারণ টিনএজ মেয়ে থেকে মানসিকভাবে বেড়ে উঠা, দ্বায়িত্বশীল হওয়া এই ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টটা ছিল চোখে পড়ার মত। ওজিরো-সেন্সেই আর ফুমিনো দুজনেরই কষ্টের পেছনের গল্প রয়েছে যা নিত্যদিনের ঘটনা না বলে বরং সত্যিকার অর্থেই গল্পটিকে ভালোভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এছাড়া শৌমা, মার্গারেট, কুরোসাওয়া, কাজি পরিবার, ওজিরো পরিবার, র‍্যিঊ-সেন্সেই প্রভৃতি চরিত্র ড্রামা এবং কমেডি যোগ করেছে। জায়গায় জায়গায় বেশ ভালোই হাসিয়েছে চরিত্রগুলো। ড্রামার পরিমাণও সঠিক ছিল বলে মনে হয়েছে। বিরক্ত হওয়ার সম্ভবনা অনেক কম। মার্গারেট বা মেগ নায়িকার চিরচেনা শত্রু হতে গিয়েও হয়নি উল্টা শেষে বেশ ভালো একটা সাপোর্টিভ মেয়ে ছিল। যদিও মাঝে মাঝে শৌমাকে ধরে পিটাতে ইচ্ছা করবে আবার শৌমার জন্যই খারাপ লাগবে। সেই চিরাচরিত “থার্ড হুইল” ছেলে। আসলে আর ৮/১০টা শৌজো মাঙ্গার মতই সবকিছু আছে এখানে বলতে গেলে। সেই “স্পার্কলিং”, “বাবলি”, “ফ্লাফি” রোমান্টিক মুহূর্ত; স্কুলের বার্ষিক উৎসব, সমুদ্রে যাওয়া, পিকনিকে যাওয়া, ক্রিস্টমাস, নিউ ইয়ার ইত্যাদি। কিন্তু তারপরেও মাঙ্গাটি অনেক বেশি রকমের উপভোগ্য লাগে। এখানেই মাঙ্গাকার সার্থকতা।

শৌজো মাঙ্গার মোয়ে মোয়ে চোখের আর্ট এখানে শুধু তেপ্পেইয়ের জন্য প্রযোজ্য। বাকিদের ক্ষেত্রে এতটা মোয়ে ব্যবহার করা হয়নি। তবে দেখলে বুঝা যায় যে এটি শৌজো মাঙ্গা। আর্ট মোটামোটি ভালোই আছে। শুরুতে কাজ চালিয়ে নেওয়ার মত হলেও শেষের দিকে আরও বেশি গাঢ়, ঝকঝকে এবং বেশ সুন্দর ছিল। আর শৌজো মাঙ্গার “কিরা কিরা” ভাবের উপস্থিতিও আছে ভালমতো।

উম… কিছু কি বলতে ভুলে গেলাম? সবই তো বলেছি… ও হ্যাঁ! কিউটনেসের কথা বলা হয়নি। এই মাঙ্গার কিউটনেস! সেটা কিন্তু রোমান্সের কিউটনেস না। পুচকি তেপ্পেইয়ের কিউটনেস! ফুমিনোর স্কুলের বন্ধুরাই তেপ্পেইকে অ্যাঞ্জেল ডাকে। এই অ্যাঞ্জেলকে দেখে তারাই গলে যায় আর আপনি গলবেন না তা কি করে হয় বলেন! এতটুকু পিচ্চি যেভাবে তার বোনকে কেউ বিরক্ত করলে বাঁচাতে যায়, “মা-কুন” আর “বুন-চানের” জন্য কাগজের আংটি বানিয়ে দেয় আর ফুমিনো আর সেন্সেইয়ের মাঝের বন্ধনটাকে আরও দৃঢ় করে তা দেখলেই তেপ্পেইকে শক্ত করে জড়িয় ধরে চুমু দিতে ইচ্ছে করবে! এই ছোট্ট মানুষটাও গল্পে বেশ ভালোই ভূমিকা পালন করেছে।

সবমিলিয়ে ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছে। ভালো না লাগলে অনগোয়িং অবস্থায় ড্রপ করে শেষ হওয়ার পর আবার পুরোটা নতুন করে পড়তাম না। একজন শৌজো ভক্তকে সন্তুষ্ট করতে যা যা দরকার তার সব উপাদানই এতে আছে। তাই শৌজো ভক্ত হলে বা শিক্ষক আর ছাত্রীর মাঝে সম্পর্ক নিয়ে গল্প ভালো লাগলে মাঙ্গাটি পড়ে ফেলবেন অবশ্যই।

দা ক্লিফ [মানহোয়া রিভিউ] — Rumman Raihan

the-flick

দুই বন্ধু মিলে গিয়েছিল এক পাহাড়ে হাইকিং করতে। সেখানে পাহাড়ের রাস্তা পেরিয়ে এক সংকীর্ণ চূড়ায় দাঁড়িয়ে দুজনে ক্যামেরা সেট করে ছবি তুলতে চাইলো। কিন্তু তাদের দুজনের ভারে পাহাড়ের ক্লিফ গেল ভেঙ্গে। দুজনে গিয়ে পড়ল নিচে।

নিচে বলতে পাহাড়ের পাশের এক কিনারে তারা গিয়ে পড়ল। সেই উঁচু কিনার থেকে না আছে নিচে নামার কোনো পথ, নেই উপরে উঠবার কোনো উপায়। এদিকে দুজনের মোবাইলে সিগন্যাল নেই, সাথে খাবার নেই। তাদের ২ সপ্তাহের জন্য পাহাড়ে ঘুরবার কথা ছিল, তাই কেউ তাদের খোঁজও করবে না। প্রচন্ড ক্ষুদা, তৃষ্ণা, ক্লান্তি, তার উপর অসহনীয় শীত। সবকিছু মিলে জন্ম দেয় এক ভয়ঙ্কর পেরানয়ার। এই দুই বন্ধু কিভাবে বাঁচবে এখানে?

মাত্র ৯ চ্যাপ্টারের ছোট এই ভুতের গল্পে স্বল্প আঙ্গিকে ভয়, স্বার্থপরতা, অপরাধবোধ আর কাপুরুষতার উপস্থিতি পাওয়া যাবে। গল্পের শেষ অবধি অনিশ্চয়তা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। গল্পটা তাহলে পরে ফেলুন, মাত্র কয়েক মিনিটই তো লাগবে 🙂

•Name: The Cliff
•Alternative Name: 절벽귀
•Genre: Horror, Suspense,Thriller, Webtoon, Manhwa
•Art and Story: Seongdae Oh
•Chapters: 09
•Status: Completed
•Similar Recommendations: Tales of the Unusual, The Red Book
•Published: July 1st, 2014 to August 3, 2014 in English Webtoons website. Formerly from July to August 2011
•Publisher: Line Webtoon/Naver corporation
•MAL Score: Not documented on MAL yet
•ট্রিভিয়াঃ এই লেখকের লেখা চলচ্চিত্র “হরর স্টোরিস ২” এ এই গল্পটির লাইভ অ্যাকশন দেখানো হয়েছে। মুভি লিঙ্কঃ https://youtu.be/Q53nx8iA69U

•ওয়েবটুন/মানহয়াটি পড়ুন এখানেঃ http://www.webtoons.com/en/thriller/the-cliff/ep-1/viewer?title_no=80&episode_no=1

Movie Time With Yami – প্ল্যানেটারিয়ানঃ নক্ষত্রের স্বপ্ন (টিং টং মুভি টাইম)

Screenshot_2016-09-01-20-35-04

জীবনে দুবার প্ল্যানেটোরিয়ামে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে; একবার দেশে ভাসানী নভোথিয়েটারে (সম্ভবত নামটা পালটে অন্য কিছু রাখা হয়েছে এখন, আমার মনে নেই), আরেকবার কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামে। এর মাঝে ভাসানী নভোথিয়েটার এর কথা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। ঋতুর পালাবদল, রাতের আকাশে কন্সটেলেশন, গ্রহ নক্ষত্রের আবর্তন, বা ডায়নোসর যুগ- সবটাই এত সুন্দর ও বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল সেই অর্ধগোলাকার থিয়েটারে, মনে হচ্ছিল যেন আমি আসলেই সেই জায়গাগুলোতে পৌছে গেছি। খুবই চমৎকার অভিজ্ঞতা ছিল।

তো সেই নভোথিয়েটার এর কাহিনী অ্যানিমে গ্রুপে কেন বলছি? বলার কারণ হল, কাল রাতে দেখে শেষ করেছি ৫ এপিসোডের ওএনএ, “প্ল্যানেটারিয়ানঃ চিসানা হোশি নো ইউমে”।

মেলোড্রামা সাধারণত আমাকে অতটা টানে না, কেঁদেকেটে ভাসিয়ে ফেলার মত তো অবশ্যই না। কেই এর ভিজ্যুয়াল নভেল অ্যাডাপ্টেশন কয়েকটা দেখেছি, ভালই লেগেছে, তাই প্ল্যানেটেরিয়ান দেখা শুরু করেছিলাম। এবং এই অ্যানিমের যে পার্টটা আমাকে মুগ্ধ করেছে, সেটা হল ওই নভোথিয়েটারে ইউমেমির পারফরমেন্স। হঠাৎ দেখে মনে হচ্ছিল, যেন আমি নিজেই বসে আছি ওই থিয়েটারে দর্শকের আসনে। পুরনো মুগ্ধতাটা নতুন করে ফিরিয়ে এনে দিয়েছে এই অ্যানিমেটা।

অ্যানিমের কাহিনী পোস্ট অ্যাপোক্যালিপ্টিক পৃথিবী, যেখানে বোমা হামলার কারণে বেশিরভাগ শহরই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এমনই এক শহরের একটি প্ল্যানেটোরিয়ামে ইউমেমিকে একা ফেলে তার মালিকেরা সবাই চলে গিয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। ইউমেমি খুবই লয়াল, তাই সে সেই পরিত্যক্ত নভোথিয়েটারেও রুটিন মেনে তার দায়িত্ব পালন করে যায়; কাস্টোমার আসুক, বা না আসুক।

এমন অবস্থায় হঠাৎ একদিন প্ল্যানেটোরিয়ামে একজন কাস্টোমার এসে হাজির হয়। প্রাণ বাঁচানোর লড়াইয়ে ব্যস্ত সেই কাস্টোমারকে কী ইউমেমি দেখাতে পারবে তারাভরা আকাশ?

ডেভিড প্রোডাকশন নামটা শুনলে আমার মাথায় সবসময় যে অ্যানিমেটার নামটা আসে, তা হল জোজোর অদ্ভুতুড়ে কীর্তিকলাপ। জানা নেই, তাদের অন্য কোন মোয়ে অ্যানিমে আছে কিনা, কিন্তু প্ল্যানেটেরিয়ানের আর্ট দেখে কেন যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না, এই স্টুডিওই জোজো বানায়! জোজোর আর্ট ভালই লাগে আমার, আর্টটা ওভার দ্য টপ বলেই একই স্টুডিওর করা মোয়ে ডিজাইন দেখে অবাক হয়েছি। ইউমেমিকে অতিরিক্ত কিউট লেগেছে, যদিও শুরুতে তার একঘেয়ে গলায় টানা কথা বলে যাওয়া শুনতে অতিরিক্ত বিরক্ত লাগছিল, কিন্তু পারফরমেন্স এর সময় তার গলাটা অতিরিক্ত সুন্দর আর সাবলীল লাগছিল। আর সেটাকে যোগ্য সাপোর্ট দিয়েছে অ্যানিমের মনোমুগ্ধকর আর্ট। অ্যানিমেটার সেরা মুহূর্ত নিঃসন্দেহে ইউমেমির পারফরমেন্স। আর শেষটা আমি যেমন আশা করেছিলাম হুবহু তেমন হয়েছে, তবে ভাল লেগেছে।

মাত্র ৫ পর্বের অ্যানিমে, গড়ে ১৮ মিনিট করে পড়ে একেক পর্বে, দেড় ঘন্টা হাতে থাকলে দেখে ফেলতে পারেন এই সুন্দর ওএনএ টা।

planetarianfeat

Freedom [রিভিউ] — Tahsin Faruque Aninda

Freedom 0

Freedom
Type: OVA
Episode: 7 + 1 Prologue
Genre: Action, Adventure, Sci-Fi, Space

পোস্ট অ্যাপোক্যালিপ্টিক সময় + স্পেস ট্রাভেল + Akira, এই ধরণের একটা আনিমের কম্বিনেশন খুঁজছেন? অপেক্ষা না করে দেখে ফেলুন “ফ্রিডম” নামের ৭ পর্বের এই ওভিএ। আকিরার মাঙ্গাকা/ডিরেক্টর Katsuhiro Otomo-এর আরেক কাজ এটি, তবে এখানে তাঁর ভূমিকা শুধুমাত্র Storyboard, Mechanical Design আর Character Design-এই সীমাবদ্ধ। তবে এর কারণেই আনিমেটিতে আকিরার ছাপ পাওয়া যায়।

Freedom 2

মানুষ চাঁদে মানব-কলোনি তৈরির পরে কোন এক সময়ে এক দুর্ঘটনার কারণে একটি স্পেস স্টেশন পৃথিবীতে পতিত হয়, আর পৃথিবীতে মানবসভ্যতা ধ্বংসকারী এক বিপর্যয় ঘটে। চাঁদে থেকে যাওয়ারা তৈরি করে ‘ইডেন’ নামের এক মেগালোপোলিস।
এখানেই আমাদের গল্পের নায়ক তাকেরুকে দেখা যায় অন্যান্য স্ট্রিট গ্যাং-এর সদস্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে হোভারক্রাফট রেস চালাতে। একদিন ঘটনাক্রমে ‘ইডেন’-এর আসল রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে সে, আর সেখান থেকে গল্প ভিন্ন এক মোড় নিয়ে ফেলে।

Freedom 3

আকিরার সাথে ক্যারেক্টার ডিজাইনই শুধু নয়, বরং বাইক রেসের সাথে এখানে হোভারক্র্যাফট রেস, স্ট্রিট গ্যাং – ইত্যাদি কিছু কিছু ব্যাপারও আকিরার মত লাগে। তবে গল্পের ধরণটা একদমই অন্যরকম হবার কারণে সেই ব্যাপারগুলি উপভোগ্যই হয়ে উঠে।

3D আর 2D-এর অদ্ভুত সুন্দর মিশ্রণ আর ব্যবহার অ্যানিমেশনকে চমৎকার করে তুলেছে। ক্যারেক্টারগুলি সব CGI-এর, তবে CGI-এর ভাল ব্যবহার হয়েছে এই আনিমেতে, যার কারণে দেখতেও আরাম লেগেছে। অন্যদিকে ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট মুগ্ধ করার মত।

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুবই খুবই সুন্দর, আর ওপেনিং ও এন্ডিং গান দুইটা আমার অনেক পছন্দের।

ক্যারেক্টার তৈরি অনেক ভালমত হয়েছে এই আনিমেতে। ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট সময় নিয়ে হয়েছে বলে খুব ভালমত ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে সবাইকে।

Freedom 5

গল্পটি অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার হলেও স্লাইস অভ লাইফ উপাদানও আছে অনেক, আর Space সম্পর্কিত আনিমেতে যেটা আসলে অনেক বেশি দরকার বলে মনে হয়। ধীরস্থির মুহুর্তগুলা মনে শান্তি দেবার মত, আবার অ্যাকশনের মুহুর্তগুলি অস্থিরতা উপহার দিতে পারে।

সব মিলিয়ে বলবো, ৭টি মাত্র পর্বের এই ওভিএ সিরিজ দেখার জন্যে অবশ্যই সময় বের করে নিবেন। এরকম হিডেন জেম দেখার জন্যে সময় না থাকলেও সময় বের করে নেওয়া উচিৎ।

Freedom 4

Movie Time With Yami – Nerawareta Gakuen (টিং টং মুভি টাইম)

tumblr_np3536OnP71tdyyjco1_500

আজ সকালে দুই ঘন্টা ক্লাস সাসপেন্ড ছিল (যা ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পাওয়ার মত বিরল ঘটনা আমাদের জন্য), ভাবলাম দুই ঘন্টা লেন্থের কোন মুভি দেখে ফেলি। ফোনের গ্যালারি ঘেটে পেলাম নেরাওয়ারেতা গাকুয়েন, ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিটের অ্যানিমে মুভি। তো শুরু করলাম দেখা।

শুরুতেই মার্কিং দিয়ে দেই, বাকি পোস্টে কী আছে হিন্ট পেয়ে যাবেন।
ভিজ্যুয়াল- ৯/১০
ওএসটি- ৮/১০
ক্যারেক্টার ডিজাইন- ৯/১০
ভয়েস অ্যাক্টিং- ১০/১০
স্টোরি- ৩/১০
ক্যারেক্টার- ০/১০

গ্রাফিক্স /ভিজ্যুয়াল/আর্টওয়ার্ক, জিনিসটাকে যাই বলা হোক না কেন, মোদ্দা কথা হল অসম্ভব সুন্দর। মাকোতো শিনকাই ফিল্ম ভেবেছিলাম শুরুতে, পরে দেখি সেটা নয়। সাকুরার গাছ ন্যাড়া করে ঢেলে ঢেলে পাঁপড়ি ছেড়ে দিয়েছে কিছুক্ষণ পরপর, স্কুল, বাড়ি, সমুদ্র বা তাদের আজগুবি জায়গা গুলা, সব দেখে চোখে ধাঁধাঁ লেগে গেছে। ক্যারেক্টার ডিজাইন খুবই সুন্দর, ছেলেগুলো হ্যান্ডসাম, মেয়েগুলো কিউট। ব্যাকগ্রাউন্ডে যাই বাজছিল, কর্ণকুহরে ভালই লেগেছে।

গেল প্রশংসা। এখানেই শেষ। আর কিছুই নাই প্রশংসা করার মত। এবার বিরক্তির পালা শুরু।

আমি অ্যানিমে মুভির ব্যাপারে মোটামুটি সর্বগ্রাসী। ছাইপাঁশ যাই হোক গিলে ফেলি। তাই এই মোটামুটি ছাইপাঁশ লেভেলের মুভিটাও গিললাম। আই মিন সিরিয়াসলি?!! কাহিনীটা আসলে কী ছিল? আদৌ কি কোন কাহিনী ছিল? সারাক্ষণ তো দেখলাম “কেতাই কেতাই” করেই সময় পার করে দিল। তাও যদি কারণটা বলত। আগের বছর কোন এক ঘটনা ঘটেছিল স্কুলে, সেজন্য স্কুলে ফোন আনা নিষিদ্ধ। ঠিক আছে, কোন সমস্যা নেই, আমাদের যুগে বাই ডিফল্ট এটাই নিয়ম ছিল। কথা হচ্ছে যে কাহিনীটা কী হয়েছিল যে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল? পুরো মুভিতে আমি এটা জানার জন্যই বসে ছিলাম; আফসোস, কারণ বলার ধার দিয়েও গেল না। কোন কারণে সো কল্ড ফিউচার আর্থলিং এলিয়েনদের টেলিপ্যাথিতে কিছু একটা সমস্যা হয়, সেজন্য তারা এসে একটা স্কুলে সেলফোন ব্যান করতে লেগে গেল, হাউ প্যাথেটিক ক্যান ইউ গেট?

অ্যানোয়িং ক্যারেক্টার লাইফে কম দেখিনি, কিন্তু একটা মাত্র ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিটের মুভির প্রতিটা ক্যারেক্টারকে এত বেশি বিরক্তিকর লাগবে, কোনদিন ভাবিনি। নাতসুকি মেয়েটার প্রব্লেমটা কী?!!
স্টেটমেন্ট ১- জাপানী ছেলেরা হয় বেশি ভাল।
স্টেটমেন্ট ২- না হলে জাপানী মেয়েরা বেশি শয়তান।
স্টেটমেন্ট ৩- ওভাররেটেড সুন্দেরে একটা দেয়া লাগবে তাই দিয়ে রেখেছে স্টোরিতে।

আই মিন, এই মেয়ে তার ছোটবেলার “বন্ধু” সেকিকে যেভাবে জ্বালিয়ে গেছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, এরকম প্রতিবেশী থাকলে আমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বাড়ি ঘিরে রাখতাম। ছেলেটা আবার সেগুলা সহ্য করে মেয়েটাকেই স্যরি বলে, ঢঙের শেষ নাই।

আর শেষ পর্যন্ত কাহিনী কী দাঁড়াল? বাবা তোমরা তোমাদের মাদার মুন ছেড়ে মাদার আর্থের কেতাই ব্যান কইরা কী হাসিল করলা? এ বিগ ফ্যাট জিরো -_-

যাই হোক, আমার মেজাজ খারাপ হয়েছে, তাই একটু র‍্যান্টিং করলাম, এমনও হতে পারে যে আমি আসলে কাহিনী বুঝিনি তাই না বুঝে কথা বলছি, তবে আমার মনে হয়না এই কাহিনীর আগামাথা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। কেউ পেয়ে থাকলে কমেন্ট সেকশনে আমার কনফিউশন গুলো ক্লিয়ার করে দেবেন অনুগ্রহ করে।

Koutetsujou no Kabaneri [রিঅ্যাকশন পোস্ট] — Tahsin Faruque Aninda

toty 1

Koutetsujou no Kabaneri (Kabaneri of the Iron Fortress)
Genres: Action, Drama, Fantasy, Horror
Episodes: 12
Source: Original
Studios: Wit Studio

“SnK Clone” নামে পরিচিত এই সিরিজ গত সিজনের শুরুর দিকে বেশ ভাল হাইপ তৈরি করেছিল। এরপর শেষের দিকে এসে কেমন যেন এর আর খোঁজ পাওয়া গেল না তেমন। সব হাইপ পরে গিয়ে শুরু হয়েছে একের পর এক সমালোচনা। অবশ্য ফ্যানবেজও ভালই তৈরি হয়েছে এটার। After all, যেই উপকরণ নিয়ে SnK তৈরি হয়েছিল সেই একই উপকরণ নিয়ে Kabaneri তৈরি হল। প্রশ্ন থাকে, কেমন সফল/ব্যর্থ এই সিরিজ?

প্রোডাকশন টিমে যেমন একগাদা পরিচিত নাম [ডিরেক্টর তেতসুরৌ আরাকি, প্রোডিউসার জর্জ ওয়াদা, মিউজিক কম্পোজার হিরোয়ুকি সাওয়ানো, অ্যানিমেশন স্টুডিও হিসাবে উইট স্টুডিও ইত্যাদি], তেমনই ভাবে গল্পের সাধারণ থিমটাও প্রায় একই রকমের। মানবজাতি হুমকির মুখে, মানবখেকোদের হাত থেকে রক্ষার জন্যে বিশাল দেওয়াল-ঘেরা জায়গার মধ্যে বসবাস করছে তারা, এরই মাঝে গল্পের প্রথম পর্বেই তাদের শহরে মানবখেকোদের আক্রমণ, মৃত্যু হয় শত শত মানুষের। মানবখেকোদের হাতে পরিবার হারানো রক্তগরম নায়ক তাদের নির্মূল করার শপথ নেয়, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে নিজেই হয়ে উঠে মানুষ আর মানবখেকোদের হাইব্রিড, অতএব প্রচন্ড শক্তিশালী হয়ে উঠে। সাথে থাকে ওভারপাওয়ার্ড নায়িকা, যে একাই সব শত্রুদের কাত করে দিতে পারে। ও হ্যাঁ, পুরা গল্পটা হয় এক স্টিম্পাঙ্ক সেটিং-এ।

এত কিছু একই রকম মনে হলেও শেষ পর্যন্ত গল্পটা SnK থেকে অনেক আলাদা হয়ে যায়, বিশেষ করে প্রথম কয়েক পর্ব পরেই গল্পের ধরণ অন্যরকম হয়ে যায়। সমস্যা হল, SnK এর ছায়া থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করতে না করতেই বাগিয়ে নেয় এই ধরণের গল্পের হাজারখানেক ক্লিশে!

আনিমেটার কিছু ভাল দিক উল্লেখ করছি এখানে:

+ ফাইট কোরিওগ্রাফি
তেতসুরৌ আরাকির সিরিজের ফাইট কোরিওগ্রাফিগুলি অসম্ভব সুন্দর হয় দেখতে। প্রত্যেকটা মারামারির দৃশ্য উপভোগ…

+ মিউজিক
হিরোইউকি সাওয়ানোর মিউজিক, নতুন করে এখানে বলার কিছু নাই। প্রত্যেকটা ফাইটিং মুহুর্তকে ইমোশনাল বানানো তার পক্ষে আসলেই সহজ কাজ।

+ ভিজুয়াল
উইট স্টুডিওর একের পর এক সফল সিরিজ তৈরির কারণে তাদের বাজেট এখন বেশ ভালই হয়। তাই CG ট্রেন সিরিজের একটা বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালেও সেটা আলাদাভাবে চোখে পরে না। ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট আর অ্যানিমেশন চমৎকার মানের।

+ নায়কের পাওয়ারাপ / পরের লেভেলে যাওয়া
ক্লিশে ব্যাপার, এরকম একটা কিছু এই ধরণের গল্পে হয় এটা জানা থাকার পরেও আগ্রহ থাকে দেখার জন্যে। আর সেই মুহুর্তটা খুবই ভাল লেগেছে আসল…

এবার থাকছে সিরিজটা নিয়ে অপছন্দের ব্যাপারগুলি:

— নির্বোধ জনগণ, নির্বোধ সব ডিসিশন
ব্যাপারটা দেখে এমন মনে হয়েছে যে, শুধু গল্পে অতিনাটকীয়তা আনতে কিংবা SnK ভাব ধরে রেখে massacre দেখানো দরকার বলেই যেন জনগণের নির্বোধ সব ডিসিশন নিয়ে যাওয়া একের পর এক। সিরিজে যত মানুষ মরতে দেখিয়েছে, তার ৮০% হয়েছে সেই জগতের মানুষের IQ লেভেল ৫০-এর নিচে থাকার কারণে।

— ইমোশনাল ব্যাপার আনার ক্লিশে চেষ্টা, এবং একটুও মন খারাপ করতে না পারা
Shingeki no Kyojin-এর একটা বড় দিক ছিল সেখানে চেনা জানা বা অজ্ঞাত সব চরিত্রের মৃত্যুও মন খারাপ করে দিয়ে যেত। এর কারণ ছিল ভাল ক্যারেক্টার বিল্ডাপ, যা এমনকি দুই তিন দৃশ্যে উপস্থিত থাকার পরেও তাদের মৃত্যু কষ্ট দিয়ে যেত। এখানে একইরকমের কাজ করার চেষ্টা হয়েছে, এবং বেশ বাজেভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

— মানবজাতিকে ধ্বংস করে ফেলার মত থ্রেট, যেটা আসলে তেমন কোন থ্রেটই হয় নাই
SnKএর একটা বড় ব্যাপার ছিল যে টাইটানরা আসলেই ভীতিকর ছিল এই অর্থে যে, সেনাবাহিনীর অনেকদিনের ট্রেইন্ড কোন সেনাও যেকোন সময়ে টাইটানদের হাতে মারা পরতে পারে। ঐ দুনিয়ায় টাইটানদের সাথে বেঁচে থাকতে হলে হয় খুব বেশি ভাল ভাগ্য থাকা দরকার, নাইলে নামের শেষে Ackerman থাকতে হবে। আর এই Kabane-এর দুনিয়াতে একমাত্র স্বাভাবিক জনগণ বাদে সবাই একেকজন ২০-৩০টা করে কাবানে মেরে ফেলা কোন ব্যাপারই না। ট্রেইন্ড সোলজার হলে তো কথাই নাই! একমাত্র বেকুব হবার কারণেই মানবজাতি এই দুনিয়ায় ধ্বংসের মুখে।

— মেইন ভিলেইন
এরকম uninspiring ভিলেইন অনেক বছর দেখি নাই।

— Asspull
এগুলার কথা আর ডিটেইলসে বলতে ইচ্ছা করছে না। ভাল লাগে নাই সেই অংশগুলি।

— গল্পের প্রয়োজন, তাই সবাই বেকুব
আবারও এই টপিক আনলাম। কেন? — প্রথম পর্বের শুরুর আর শেষের দিকের দুইটা দৃশ্য [নিচের ছবি লক্ষ্য করুন] খেয়াল করলেই বুঝবেন কেন বলছি।

Toty
যদি বুঝে উঠতে না পারেন, তাহলে বলে রাখি:
সকালে যেই সময়ে দৃষ্টিসীমায় সমস্যা হয় না, তখন বাইরে থেকে আসা ট্রেইন ঢুকবার আগে ট্রেইন থামিয়ে দেওয়া হয়, সিকিউরিটির জন্যে চেক করা হয় কেউ ইনফেক্টেড কিনা। আর পর্বের শেষের দিকে এসে রাত্রবেলায় কী হল? — সবাইকে মারা দরকার, তাই ট্রেইন দেখেই আগে থেকে ব্রিজ নামিয়ে দেওয়া হয়। কই গেল সেই চেকিং? কই গেল সিকিউরিটির কারণে ট্রেইন থামিয়ে তল্লাশি করা??
এটা হল খুবই লো-কোয়ালিটির গল্প লিখন।

Bittersweet এন্ডিং এই ভীতিকর দুনিয়ার গল্পে স্বস্তির ইতি টেনেছে বলে কিছুটা ভাল লেগেছে। কিন্তু সব মিলিয়ে গল্পের কিছুদূর যাবার পরেই যে আগ্রহের পারদ নিচের দিকে নামতে শুরু করে, সেটা আর উপরে তুলে আনতে পারে নাই।

তবে এটা যে কাউকে দেখতে বারণ করছি তা না। Honestly speaking, SnK ripoff কিনা তাতে যায় আসে না আমার, জিনিস ভাল হলে সবই ভাল। সমস্যা হচ্ছে, জিনিসটা তেমন ভাল হয় নাই। TOTY না হলেও, AOTY হবার প্রশ্নই উঠে না।

তবে পুরাটাই আমার নিজস্ব মতামত। অনেকের কাছে এটা হয়তো এই বছরের সেরা আনিমে। তাই নিজে দেখুন কিছুদূর, ভাল লাগলে কন্টিনিউ করতে থাকেন।

Sket Dance – মাস্ট ওয়াচ এনিম রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

SKET Dance.

নাম থেকেই আসলে সিরিজের মেইন স্টোরির একটা আইডিয়া করে নেওয়া যায়। SKET এর পুরো রুপ হচ্ছে – Support, Kindness, Encouragement, Troubleshoot. হাইস্কুলের ক্লাব স্কেট ডান্সের গড়ে ওঠার উদ্দেশ্য ছিল স্টুডেন্টদের ছোট বড় নানা সমস্যায় সাহায্য করা। যদিও বেশিরভাগ সময়েই তারা ক্লাব রুমে বসে ঝিমায় এবং গল্প করে; যে কোন সমস্যা তাদের কাছে এলে সেটা সমাধানে তারা তাদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে। সিরিজের মুল চরিত্র তিনটা – বসসুন, হিমেকো আর সুইচ।

প্রথমেই ছোট একটা জিনিস ক্লিয়ার করে নেয়া যাক। এই সিরিজটাকে অনেকেই গিন্তামার রিপ-অফ বলে দাবি করেন। যদিও সিরিজের মাঙ্গাকা এককালে গিন্তামার মাঙ্গাকার এসিস্ট্যান্ট ছিলেন এবং সেখান থেকে কিছুটা ইনফ্লুয়েন্সড হওয়াটাই স্বাভাবিক (এর ওর পোস্ট মারফত জানসি 😀 ) এবং সিরিজের সেটিং এও হয়ত কিছু মিল আছে; কিন্তু সেটা ও পর্যন্তই। দু’টো জিনিসের স্টাইল, টোন, টার্গেটে অনেক ভিন্নতা। গিন্তামা যেমন সবকিছুকে এক্সট্রীমে নিয়ে গিয়েছে; হোক সেটা কমেডি বা সিরিয়াসনেস; স্কেট ডান্স চেষ্টা করেছে পুরো সিরিজজুড়েই হাল্কা একটা ভাব ধরে রাখতে; যে কারণে কিছু ব্যাকস্টোরি ছাড়া পুরো সিরিজে তেমন সিরিয়াস কোন আর্ক বা স্টোরি নেই আসলে; এবং এই জায়গাটাই আমার কাছে মনে হয়েছে এই সিরিজের স্ট্রেংথ।

সিরিজের কোর স্টোরিলাইন খুব সিম্পল এবং এপিসোডিক। কিছু মাল্টিএপিসোড স্টোরি আছে; তবে সেগুলোর লেংথও খুব বেশি না। কমেডির পাশাপাশি ড্রামা এবং অন্যান্য এলিমেন্টগুলোও যত্ন নিয়েই ইঙ্কলুড করা হয়েছে।

সিরিজের প্রথম হাফে এপিসোডগুলো ছিল একদমই “ষ্টুপিড”; মানে যার যা খুশি করতেসে; আউটরেজিয়াস জিনিস আসতেসে একের পর এক (লাভ-লাভেন-লাভ জেনারেশন- মাই জেনারেশন – জেনারেশন গ্যাপ – জেনারেল জেনারেটর জেনারেশন- জেনেভা – এই সিকুয়েন্স আমি বহু দিন ভুলবো না; পৈশাচিক একটা এপি ছিল); ওইটাই বেশি ভাল ছিল। শেষঅর্ধে এরা ক্যারেক্টারগুলার মধ্যে কিছু রিলেশনশীপ ক্রিয়েট করতে গিয়েছে; এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেইটা অনেকটা ফোর্সড ছিল (পারসোনালিটি চেইঞ্জের এপিটা – রেয়ার এপিগুলার একটা যেইটা বিরক্ত লাগসে রীতিমতন :/ ); তবে সিরিজের খাতিরে সেটারও দরকার ছিল হয়তবা।

পুরো সিরিজে লক্ষ কোটি ক্যারেক্টার আসছে; থেকেও গেসে; আবার কিছু কিছু হারায়েও গেসে। সবারই কিছু না কিছু ইউনিক ট্রেইট ছিল; ইন্টারেস্টিং ছিল। কিছু কিছু এপিতেতো মেইন ক্যারেক্টারদের উপস্থিতি ছিল সাইডশো হিসেবে। মোমোকা, জো কুসারাগি ( :v ) , আগাতা, রোমান – সবগুলো ক্যারেক্টারই ইন্টারেস্টিং ছিল।

একটা সার্টেইন এপিসোডে সবাই মিলে উনিয়ুর বাসায় যায়। ওই এপিটা সম্ভবত সবচেয়ে উরাধুরা এপি ছিল আমার কাছে। লজিক মজিকরে গাট্টি বোঁচকায় বাইন্ধা তাকের উপর তুইল্লা রাইখা এপিটা বানাইসে। তাছাড়া জেনেসিস এর এপি, অনিহিমের মায়ের দাবড়ানি – পুরো সিরিজটাই জোস জোস এপিসোডে ভর্তি ছিল।

তবে পুরো সিরিজে সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র ছিল সুইচ ( অনেকেরই তাই হবার কথা 😀 )। ইউকির সাথে তার হেড-টু-হেড এঙ্কাউন্টারগুলা এবং তাদের আনউইজুয়াল রিলেশনশীপ খুবই এঞ্জয়েবল ছিল। প্লাস সুইচের উইটি কমেন্টগুলা অলওয়েজই এঞ্জয়েবল ছিল।

মিউজিক, আর্ট – এইগুলা মোটামুটি ভালই ছিল। ভয়েস এক্টিং আমার বেশ ভাল্লাগসে (সেইয়ু চিনি না; কেয়ারও করি না; সো এর বেশি কিছু আসলে বলার নাই)।

সিরিজের একটা সমস্যা হচ্ছে অনেক পান এবং প্যারোডি আসলে ধরা সম্ভব না; কারণ রেফারেন্স গুলা সমন্ধে আইডিয়ায় সবারই কম বেশি ঘাটতি থাকার কথা। প্লাস আমার মতন ম্যারাথন দিলে কিছু কিছু জোকস হয়ত ক্লিশে লাগতে পারে; আহামরি তেমন কিছু না।

ওভারঅল; চমৎকার একটা সিরিজ, যারা দেখেন নাই সবার জন্যই রিকমেন্ডেড।

Joker Game [রিঅ্যাকশন পোস্ট] — Tahsin Faruque Aninda

joker game 1

Joker Game
Genres: Drama, Historical, Military, Seinen
Episode: 12
Source: Novel
Studios: Production I.G

গত সিজনে যেসব আনিমে দেখার প্ল্যান ছিল, তার মধ্যে সবচাইতে বেশি হাইপওয়ালা সিরিজগুলির মধ্যে এইট আমার কাছে একদম উপরে ছিল। কারণ এই না যে গল্প কী হবে তা জানি, সত্যি বলতে গেলে আনিমেতে কী হতে পারে না পারে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। হাইপ ছিল যে দুইটা কারণে – স্পাই গল্প, এবং নোভেল অ্যাডাপশন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ মুহুর্তের সময়কালের গোয়েন্দাদের নিয়ে গল্প, এরকম লোভনীয় প্লট দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে যথেষ্ট।
আর হাজার হাজার লাইট নোভেল থেকে আনিমে অ্যাডাপশনের ভিড়ে সত্যিকারের নোভেলের আনিমে অ্যাডাপশন অনেক বেশি করে চাচ্ছিলাম, সেটাও এই সিরিজের মাধ্যমে সত্যি হয়ে এল।

প্রশ্ন হল, সিরিজটা কি এক্সপেক্টেশন পুরন করতে পেরেছে আমার?
উত্তর দিতে গেলে বলতে হবে, কী ধরণের জিনিস হতে পারে এটা সেটা নিয়ে একদমই ধারণা ছিল না তাই সেই অনুযায়ী এক্সপেক্টেশনও তেমন শক্তপোক্ত ছিল না। যা ছিল তা উপরের দুইটা পয়েন্টে উল্লেখ করা জিনিসগুলাই ছিল। আর সে হিসাবে, দেখে বেশ মজা পেয়েছি বলতে গেলে। আনিমেটার যেসব ব্যাপার ভাল লেগেছে সেগুলি কিছু উল্লেখ করি:

+ ম্যাচিউর স্টোরি [যেটা আজকাল বের হওয়া সব আনিমের মধ্যে খুব বেশি করে অনুপস্থিত বলে মনে হয়]।
+ গোয়েন্দা গল্প আর চমৎকার একেকটি জোকার-গেম; এই অংশগুলি খুব বেশি করে উপভোগ করেছি।
+ একেক পর্বে একেকজন নিয়ে গল্প, তবে আলাদা সব গল্প একটি সেন্ট্রাল গল্প নিয়ে গড়ে উঠে
+ ইউকি আর তার ব্যাডাস সব ব্যাপারস্যাপার! [This guy’s a monster] এই বছরের অন্যতম সেরা Male Character.
+ OST

তবে এত ভাল কিছু জিনিসের ভিড়েও নেগেটিভ পয়েন্ট বের করতে বাধ্য হচ্ছি:

— অসম্ভব কনফিউজিং ক্যারেক্টার ডিজাইন
এই ব্যাপারটা নিয়ে মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছা করছিল এক পর্যায়ে। ৯ জন গোয়েন্দার ১-২ জন বাদে কারওই মনে রাখার মত ক্যারেক্টার ডিজাইন ছিল না। আর এই সিরিজটাতে যেখানে একেক পর্বে একেক গোয়েন্দার গল্প দেখানো হয় আর কোন জন কে সেটা মনে রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেখানে এই আইডিয়াটা মুখ থুবড়ে পরে। চেহারা তো মনে রাখা যায়-ই না, নামও মনে রাখার মত না। শেষমেশ এই চার্ট সাথে নিয়ে দেখতে হয়েছে একেকটা পর্ব [ছবিটি বড় করে দেখতে অন্য ট্যাবে ওপেন করে দেখুন]:

joker-game-characters

কেউ দেখার সময়ে এই চার্টটা সাথে রেখে দেখলে অনেক সুবিধা পাবেন। আর নিচে উল্লেখিত character appearance serial-টা মিলিয়ে নিবেন।
— সিজন ফিনালে পর্বটা দেখে মনে হয় না যে এইটা কোন সিরিজের শেষ পর্ব। ওপেন এন্ডেড ভাবে রেখে দেওয়া এক জিনিস, আর দেখে যেন বুঝা যায় যে এই পর্বের পর গল্প আপাতত শেষ – সেটা আলাদা ব্যাপার। অবশ্য আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ডিভিডি/ব্লুরের সাথে দুইটি এক্সট্রা পর্ব বের হবে, তারপরেও সেটা সিরিজের বাইরের পর্ব, এন্ডিং পর্ব না।
— এতগুলা আলাদা আলাদা ছোট গল্প যে একটি সেন্ট্রাল গল্পকে ঘিরে গড়ে উঠলো, সেই মূল গল্পটি কী সেটা বুঝে উঠতে পারা একটা হ্যাপা।

গতানুগতিক আনিমের মত না এটি, তাই অনেকেরই বুঝতে কষ্ট হতে পারে। তবে আপনি যদি ম্যাচিউর স্টোরির আনিমে খুঁজে থাকেন, আর ছোট ছোট চমৎকার কিছু গোয়েন্দাগিরি দেখার ইচ্ছা রাখেন, সিরিজটি অবশ্যই দেখে নিবেন যত জলদি সম্ভব।

*************************************************************************************************

দেখার সুবিধার জন্যে কোন পর্বে কোন প্রধাণ চরিত্রকে দেখানো হয়েছে তা উল্লেখ করে দেওয়া হল:

Ep. 1, 2: Lt. Sakuma
Ep. 3: Hatano
Ep. 4: Fukumoto
Ep. 5: Kaminaga
Ep. 6: Tazaki
Ep. 7: Amari
Ep. 8: Jirou Gamou
Ep. 9: Jutsui
Ep. 10: ~
Ep. 11: Miyoshi
Ep. 12: Odagiri (main) + everyone else

প্রতিটি অ্যানিমে ভক্তের জন্য যে দুটো অ্যানিমে দেখা বাধ্যতামূলক; অ্যানিমে সাজেশন দিয়েছেন ইশমাম আনিকা

PicsArt_08-14-04.21.40

অ্যানিমে গ্রুপে যারা নিয়মিত ঘোরাঘুরি করেন, এই দৃশ্যগুলোর সাথে তারা সবাই মোটামুটি পরিচিত –

“নারুতো না দেখলে জীবন বৃথা”
“ওয়ান পিস দেখনি মানে তুমি কিছুই দেখনি”
“ড্রাগন বল ভাল লাগেনা? তুমি অ্যানিমে বুঝই না”

এছাড়াও জনরাভিত্তিক, পার্সোনাল চয়েস ভিত্তিক, এমন আরও অনেকভাবে সর্ট আউট করে অনেক মানুষ বিভিন্ন অ্যানিমেকে অবশ্য দেখনীয় (জানিনা শব্দটা ঠিক হল কিনা) বলে দাবি করে থাকেন।

আমি মোটামুটি নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ (হেহে, বিশ্বাস করার দরকার নেই, তবে কথাটা সত্যি), কোনদিন নিজের পছন্দের অ্যানিমেকে বিশ্বসেরা বলে দাবি করার দুঃসাহস দেখাইনি। তবে আমার নজরেও এমন দুটো অ্যানিমে এসেছে, যে দুটো হয়ত আমি টপ ১০, ২০ লিস্ট বানালে সেখানে স্থান পাবে না, তারপরেও বলব, কেউ যদি অ্যানিমে ভক্ত হয়ে থাকে, অর্থাৎ বিনোদনের এই মাধ্যমের সাথে তার মোটামুটি পরিচয় থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই তার এই অ্যানিমে দুটো দেখা উচিৎ। অ্যানিমে দুটো হল বাকুমান এবং শিরোবাকো।

কেন এ দুটো অ্যানিমেকে এত গুরুত্ব দিচ্ছি? কারণ আছে। আপনাদের সকলেরই তো জানা আছে, অ্যানিমের সিংহভাগ তৈরি হয় কোন একটা মাঙ্গার গল্পকে কেন্দ্র করে। আগে মাঙ্গা বা জাপানী কমিক বের হয়, সেটা মোটামুটি জনপ্রিয়তা পেলে সেখান থেকে অ্যানিমে বানানো হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে মাঙ্গার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেও অ্যানিমে বানানো হয়। তো এই যে মাঙ্গাকে ঘিরে এত কাহিনী, সেই কাহিনীটার বাস্তব চিত্রটা আসলে কেমন, আপনাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করে! যে ব্যক্তি মাঙ্গা লিখছে, তার জীবনটা আসলে কেমন, বা মাঙ্গা যে প্রকাশনী থেকে বের করা হয়, তারা কিভাবে কাজ করে, কিভাবে একটা মাঙ্গা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, বা কিভাবে একটা মাঙ্গার অজনপ্রিয়তা দুর্ভাগ্য ডেকে আনে, এসব কিছুর চিত্র অসম্ভব নৈপুণ্য এবং যত্নের সাথে তুলে ধরা হয়েছে যে অ্যানিমেতে, তার নাম বাকুমান। “বাকুমান” শব্দটি দুটো শব্দের সমষ্টি; বাকুচি+মাঙ্গা। বাকুচি অর্থ গ্যাম্বল বা জুয়াখেলা; মাঙ্গা লিখে জীবিকা অর্জন করা জুয়াখেলার মত বিপদজনক একটা পেশা, এখানে সেটিই তুলে ধরা হয়েছে।

আবার একইভাবে এটাও চিন্তা করুন, এই যে এত স্টুডিও পিয়েরট বা তোয়েই অ্যানিমেশন এর ওপর আপনারা মহা বিরক্ত, কিংবা শ্যাফট, পিএ ওয়ার্কস, কিয়োটো অ্যানিমেশন বা সিলভার লিঙ্কের আর্টের মহাভক্ত আমি; বা ব্যতিক্রমধর্মী অ্যানিমে বানানোর জন্য পরিচিত স্টুডিও ম্যানগ্লোবের যে করুণ দশা- এদের পেছনের কাহিনীটা কী? কারা এই স্টুডিওগুলোতে রাতদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যাচ্ছে প্রোপার ফিডব্যাক ছাড়া, কেন এখনকার অ্যানিমেগুলোতে অযথা ফ্যানসার্ভিস দিয়ে ভরিয়ে তোলা হচ্ছে, বা কি উপায়ে এক টুকরো কাগজে আঁকা একটা সাদাকালো চরিত্র আমাদের চোখের সামনে হেটে বেড়াচ্ছে; কিভাবে প্রাণ পাচ্ছে সেই জড়পদার্থগুলো, যারা এই আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কাজটাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের জীবনটা কেমন – সেটা নিশ্চয়ই কখনো না কখনো জানতে ইচ্ছে করে! এই প্রতিটি কৌতুহল নিবারণ করবে যে অ্যানিমে, তার নাম শিরোবাকো।

অসম্ভব সুন্দর আর্ট আর ওএসটি রয়েছে দুটি অ্যানিমেতেই, আর মূল যে ব্যাপারটা রয়েছে, অ্যানিমেদুটি দেখার পর নিশ্চিতভাবে আপনি একটা অ্যানিমে/মাঙ্গাকে ট্র্যাশ বলার আগে দুবার ভেবে নেবেন। আপনি যদি এই ইন্ডাস্ট্রিকে সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করতে চান, এ দুটি অ্যানিমে দেখা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক!