বিলি ব্যাট (Billy Bat) মাঙ্গা সাজেশন – ফরহাদ মহসিন

প্রসঙ্গ: নাওকি উরাসাওয়া’র অনগোইং মাঙ্গা ‘বিলি ব্যাট (Billy Bat)’

billy bat

যারা মন্সটার দেখেছেন বা 20th Century Boys পড়েছেন তাদের ধারণা থাকার কথা নাওকি উরাসাওয়ার গল্প বলার ঢং সম্পর্কে। অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে গল্প বলা শুরু করেন তিনি। অসাধারণ এই থ্রিলার লেখক অনেকবার পাঠকদের “tease” করেন এন্ডিং সম্পর্কে, অমুক চরিত্র আরেকটু হলেই যেন শেষের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। আর একটু হলেই যেন গল্পের সব জট খুলে যাবে, সব অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার লৌকিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে।

কিন্তু উরাসাওয়া পাঠকদের বসিয়ে রাখেন একদম কাহিনীর শেষ পর্যন্ত। একদম শেষে সবগুলো দিকে যেন সুতোয় শেষ টানটা পড়ে, সব জট খোলে একসাথে। সেই কারণেই একদম শেষ পর্যন্ত না পড়ে তার মাঙ্গা কাউকে পড়তে বলাটা কঠিন।

এবার, Billy Bat এ তার লেখার সব গুণাবলি যেন যোগ হয়েছে পুরোপুরি অন্য মাত্রায়। গল্প শুরু হয় বিখ্যাত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো আমেরিকান কমিক্স চরিত্র Billy Bat এবং তার লেখককে নিয়ে। সেখান থেকেই লেখক আমাদের নিয়ে চলে যান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী মিত্রশক্তির দখলে থাকা জাপানে। জাপানে কেন গ্রাফিটি হয় Billy Bat এর মত দেখতে বাদুড়ের সিম্বলের? সেই একই সিম্বল আবার কেন ছিল খোদ যীশু খ্রিস্টের আমলে, যীশুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা জুডাসের মননে? কত আগে থেকে অস্তিত্ব আছে এই অশরিরী বাদুড়ের? সে কেন আবার আবির্ভূত হয় পনের শতকের জাপানে, তেনশৌ ইগা যুদ্ধে?

আমি বলতে পারব না, এসব জানার জন্য পড়ে ফেলুন Billy Bat। কারণ উরাসাওয়ার কাজের সাথে পরিচিতি থাকার কারণে জানি একদম শেষের আগ পর্যন্ত কিছুই sense make করবে না। তবে উরাসাওয়া বলেই ভরসা পাই, শেষ পর্যন্ত পড়ে যাওয়াটা একটা rewarding experience হবে। এ বছরের জানুয়ারিতে মাঙ্গা প্রবেশ করেছে তার ফাইনাল আর্কে। বিলি ব্যাট পড়া শুরু করার আদর্শ সময় মনে হয় এটাই। শুরুতে স্লো-পেইসড মনে হওয়া, কিচ্ছু না বোঝা, অসংখ্য চরিত্রের মাঝে দিশেহারা হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকা সত্ত্বেও তাই বলি, পড়া শুরু করুন বিলি ব্যাট। আরও অনেকদিন পর যদি মানুষ ‘নিজের পড়া সেরা মাঙ্গা’র লিস্টে এটা এড করা শুরু করে, আপনি বলতে পারবেন “I read it first”.

ডেনগেকি ডেইযি [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Dengeki Daisyডেনগেকি ডেইযি
অন্য নামঃ ইলেকট্রিক ডেইযি
জানরাঃ মিস্টেরি, কমেডি, ড্রামা, রোমান্স, শৌজো
চ্যাপ্টারঃ ৮০
ভলিউমঃ ১৬
মাঙ্গাকাঃ মোতোমি কিয়োওসুকে
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৫৭
মাইআনিমেলিস্ট র‍্যাংকিং: ১০০
মাইআনিমেলিস্ট পপুলারিটিঃ ২২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯.৫

শৌজো-এই জানরাটার প্রতি ছেলে হোক, মেয়ে হোক, শৌজো ভক্ত হোক না হোক সবারই কেমন জানি একটা চুলকানি আছে! কেননা প্রায় প্রতিটা শৌজোতে একই কাহিনী। টানা দেখতে বা পড়তে থাকলে বিরক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। মানুষ যতই বলুক এটা আলাদা, অন্যরকম নায়িকা; শেষ পর্যন্ত এগুলো সেই বহুল ব্যবহৃত রোমান্স নির্ভর স্কুল জীবনের গল্প। শুধু কোনটা একটু ভাল কোনটা একটু খারাপ। কিছু নতুনত্ব আছে আকাতসুকি নো ইয়োনা, আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে, সাইয়ুনকোকু মোনোগাতারি’র মত সিরিজগুলোতে যেগুলো আবার সবই হিস্টোরিক্যাল রোমান্স। কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তির যুগেই কোন হাইস্কুল পড়ুয়া মেয়ের গল্প যেটাকে আমি “ওয়ান অফ এ কাইন্ড” বলতে বাধ্য হচ্ছি তা হল ডেনগেকি ডেইযি। হাইস্কুল পড়ুয়া নায়িকা থাকলেও এটি পুরোপুরি রোমান্স নির্ভর কোন মাঙ্গা নয়। এরকম কাহিনীর দ্বিতীয় কোন আনিমে বা মাঙ্গা বোধ হয় এখন পর্যন্ত খুঁজে পাবেন না।

কুরেবায়াশি তেরু যখন মিডেল স্কুলের ছাত্রী তখন তার একমাত্র আত্মীয় তার বড় ভাইটিও ক্যান্সারে মারা যায়। শেষ সম্বল হিসেবে তেরুকে দিয়ে যায় একটি সেলফোন। এই সেলফোনে রয়েছে ডেইজি নামের একজনের ই-মেইল এড্রেস। ডেইজির দায়িত্ব সকল বিপদে-আপদে তেরুকে তার সর্বস্ব দিয়ে রক্ষা করা। যদিও ডেইযি কে, দেখতে কেমন এসব বিষয়ে তেরু কিছুই জানে না। মাঙ্গার কাহিনী শুরু যখন তেরু হাইস্কুলে উঠেছে। একদিন ভুলে সে তার স্কুলের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে বল দিয়ে। স্কুলের পরিচারক কুরোসাকি তাসুকু তেরুকে ধরে নিয়ে যায় কারণ তেরু গরিব বলে টাকার বদলে তার দেহ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে…

ঠিক এখানে এসে লিখতে গিয়ে খুব হাসি আসছে। পুরা বাংলা সিনেমা বাংলা সিনেমা লাগছে! আসলে উপরের জানরাগুলো বা কাহিনীর বর্ণনা কোনটাই মাঙ্গাটি কি ধরনের বা কি নিয়ে তা নিয়ে তো ধারণা দেয়ই না বরং আরো চরম আকারের ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে বসে। তাই বাংলায় শুদ্ধভাবে লেখার চেষ্টাটা আপাতত বাদ দিলাম! এই সোনালী চুলের গুন্ডা ধরণের স্কুল জেনিটর কুরোসাকি তেরুকে তার সার্ভেন্ট বানিয়ে তেরুকে দিয়ে কামলা খাটায়। এই নিয়ে অতিষ্ঠ তেরু তাই যখন তখন কুরোসাকিকে বলে “গো বাল্ড কুরোসাকি”। মানে কুরোসাকি টাকলা হয়ে যাক! কিন্তু কুরোসাকির আসল লুকানো পরিচয় সে একজন হ্যাকার। শুধু যেন তেন হ্যাকার নয় তাও। সেই বিখ্যাত থুক্কু কুখ্যাত হ্যাকার ডেইযি!! কুরোসাকির সাথে পরিচয়ের পর থেকেই তেরুর জীবনে আমূল পরিবর্তন আসে। অচেনা সব মানুষের টার্গেট হয়ে দাঁড়ায় সে। যখন তখন ভয় কারো আক্রমণের, কিডন্যাপ হয়ে যাবার। এই সব মানুষ চায় শুধু একটি জিনিস। তেরুর সেলফোন। জিনিয়াস ইঞ্জিনিয়ার কুরেবায়াশি সোইচিরো মৃত্যুর আগে সেই সেলফোনে রেখে গেছে এমন গুরুত্বপুর্ণ কিছু যার পিছনে হন্য হয়ে সবাই ছুটছে। কিন্তু তেরু কুরোসাকি কিংবা বাকিদের সাহায্যেও সহজে তা খুঁজে বের করতে পারে না। কি এমন সেই তথ্য যার জন্য তেরুর স্বাভাবিক জীবন হয়ে উঠছে দুর্বিষহ?

এতটুকু পড়ে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন মাঙ্গাটি একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। অল্প অল্প করে পুরো মাঙ্গা জুড়েই রহস্য উদঘাটন হতে থাকে। তাই কাহিনী ঝুলে যায়নি কোথাও। এখানে শৌনেন মাঙ্গার মত কিছু সিরিয়াস কাহিনী চলে তারপর আবার লাইটহার্টেড হয়ে যায় একটু আনন্দ দেওয়ার জন্য। অনেকটা আর্কের মতই। আসলে এই মাঙ্গাটি যদি একটু পরিমার্জন করে প্রধান চরিত্রকে মেয়ে না হয়ে ছেলে বানান হত তবে এটাকে শৌনেন কিংবা সেইনেন ট্যাগ দিলেও বোধ হয় আমি অবাক হতাম না। মাঝে মাঝে ভুলেই যেতে হয় যে এটি একটি শৌজো মাঙ্গা! আর তার অন্যতম একটি কারণ হল এর রোমান্টিক অংশটা অনেক স্লো। রোমান্স যে অনেক কম ঠিক তা না কিন্তু খুব ধীরে ধীরে সময় নিয়ে এখানে রোমান্সের অগ্রগতি হয়। যখনই চোখে পড়ার মত অগ্রগতি হতে যায় ঠিক তখনই আটকে যায় তা। তাই রোমান্টিক শৌজো ফ্যানদের মাঝেই মাঝেই হতাশায় মাথার চুল ছিঁড়তে বা টেবিল উল্টাতে ইচ্ছা করলেও কিছু করার নেই! তবে ধীরে আগানটা আসলে গল্পটার জন্য ভালো ছিল। যখন যেটার জন্য উপযুক্ত সময় ঠিক তখনই সেটা হয়েছে। তাই বলে ভাবার কারণ নেই এটা সবসময় খুব গুরুগম্ভীর ধরণের। এখানে কমেডি দৃশ্যগুলো দেখলে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়। কমেডি সবচেয়ে কমন একটা জানরা হলেও এতটা হাসাতে পারে না সব আনিমে, মাঙ্গা। মাঙ্গাকা মোতোমি কিয়োওসুকে মাঙ্গার পেজে সাইড নোট হিসেবে অনেক কিছু লেখেন তার পাঠকদের জন্যে। এই সাইড নোটগুলো আরও হাসির খোরাক যোগায়।

তবে একটি জিনিস বলে রাখা ভালো। চ্যাপ্টার ৪০ এর দিকে গিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ পায়। এবং ঠিক এখানেই অনেকগুলো চ্যাপ্টারের ট্রান্সলেশন ভয়াবহ বাজে। এই চ্যাপ্টারগুলো রিপ্লেস করা হয়েছে বা দ্বিতীয় কোন ট্রান্সলেশন আছে কিনা আমার জানা নেই। যদি থাকে তো বেঁচে গেলেন। না থাকলে এখানে কাহিনী বুঝতে অনেক সমস্যা হবে। কিন্তু চিন্তার কারণ নেই। সামনের চ্যাপ্টারগুলোতে ওই ঘটনাগুলো আবার উঠে আসে তাই এখন না বুঝলেও পরে সব বুঝতে পারবেন।

অনেক দিক দিয়েই কুরোসাকির সাথে মেইড-সামা’র উসুই তাকুমির মিল পাওয়া যায়। আবার দুজনে দেখতেও অনেকটা একই রকম যে কারণে কেউ কেউ চিনতে ভুল করে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার কুরোসাকিকে উসুইয়ের চেয়েও বেশি ভালো লেগেছে। তার কারণ হল কুরোসাকি “মানুষের মতই একজন চরিত্র”। শৌজো হিরোদের বাস্তবতার কাছাকাছি লাগে খুব কম। তারা শুধু যেন রোমান্স নিয়েই ব্যস্ত। সেখানে কুরোসাকির জীবন, সংগ্রাম, আবেগ, অনুভূতি, ব্যক্তিত্ব, স্বভাব-চরিত্র সবকিছুই অন্যরকম আর বাস্তবধর্মী। একজন মানুষ হিসেবে কুরোসাকির অনুভূতিগুলো আসলেই অনুভব করা যায়। তেরুও পছন্দনীয় একটা মেয়ে। তেরুকে যেসব ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় এসবের কিছুর মধ্যে দিয়েই যেতে হয় না সাধারণ শৌজো মাঙ্গার প্রধান মেয়ে চরিত্রগুলোকে। তাও তারা “ড্যামসেল ইন ডিস্ট্রেস” খেতাব পেয়ে যায়। সেখানে তেরুকে অগণিত বার কুরোসাকি আর বাকিদের বাঁচাতে হলেও কখনই তাকে অকর্মা মনে হবে না। আবার সে যে খুব শক্তিশালী, একাই ১০০ টাইপ তাও না। কিন্তু তারপরেও তেরু নিজের মত করে যা পারে করে যায়। কাণ্ডজ্ঞান নামক জিনিসটা তার মাঝে আছে! তেরুকে আমার কাছে খুবই ইউনিক লেগেছে। তাই বিরক্ত হওয়ার সুযোগ খুব কম। সাধারণ মাঙ্গার মত প্রধান দুই চরিত্রের কচকচানিতে এখানে বাকি চরিত্রগুলোও হারিয়ে যায়নি। বরং আশেপাশের মানুষগুলোও কমবেশি সমান গুরুত্ব পেয়েছে এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজ নিজ রোল প্লে করেছে। তার মাঝে আছে রিকো, মাসুদা, আনদোও, হারুকা, কিয়োশি, রেনা, সোইচিরো এবং অবশ্যই আকিরা।

মোতোমি কিয়োওসুকে’র আঁকার নিজস্ব স্টাইল আছে। আর্ট দেখে শৌজো মাঙ্গা বুঝা গেলেও বাকি শৌজো মাঙ্গার মত সব একই রকম লাগে না। ডেনগেকি ডেইযির শুরুতে আর্ট মোটামোটি ভালই ছিল। শুধু প্রথম চ্যাপ্টারের প্রথম পেজেই কভারে তেরুর ছবিটা দেখে কোন না কোন ফালতু মাঙ্গা ভেবে উড়ায় দিতে ইচ্ছা করেছিল। তারপর যত চ্যাপ্টার গেছে আর্ট ভালো থেকে আরও ভালো হয়ে উঠেছে। খুবই সুন্দর এবং ওয়েল ডিটেইল্ড আর্ট। তবে আর্টের বিষয়ে একটা কথা উল্লেখ না করলেই নয়। কমেডির জন্য চিবি নয় বরং নানান ধরণের আজব এবং মজার সব ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন আর পোজ ব্যবহার করে হয়েছে। ডায়ালগগুলো এমনিতেই হাসির তার উপর এই ড্রয়িংগুলো ব্যাপারগুলোকে আরও বেশি হাস্যকর আর নাটকীয় করে তুলে। একেকটি চরিত্রের অঙ্গভঙ্গি দেখার পর হাসি থামান কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্য শৌজো মাঙ্গাগুলোর মত এত নামডাক না শুনলেও মাঙ্গার ওয়েবসাইটগুলোতে শৌজো জানরা সার্চ দিলে এবং হট রিড মাঙ্গার তালিকায় ডেনগেকি ডেইযির নাম দেখতে পাবেন। সবচেয়ে ভালো শৌজো মাঙ্গাগুলোই আনিমে অ্যাডাপ্টেশন পায় না। আনিমে না আসলেও এই মাঙ্গা চোখের আড়ালে থেকে গেলে তা হবে দুঃখজনক। আপনার যাই পছন্দ হোক এরকম ইউনিক একটা মাঙ্গা মিস করলে নিজেই পস্তাবেন। তাই মাস্ট রিড মাঙ্গার তালিকায় অবশ্যই এই মাঙ্গাটি রাখবেন। আর মাঙ্গাটি পড়ার সময় সিন্ডি লপারের টাইম আফটার টাইম গানটি শুনতে পারেন। এই গানটির সাথে ডেনগেকি ডেইযির যোগসূত্র আছে। আশা করা যায় আপনি সময়টা দারুণ উপভোগ করবেন। আর এটি অনায়াসে আপনার সেরা মাঙ্গা তালিকায় ঢুকে গেলেও তা অবাক করার মত কিছু হবে না!

Behind the Voices – 20

 

Shimazaki Nobunaga

অনেক সেইয়ূই বলে “ঠাণ্ডা মেজাজের অথবা চুপচাপ চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়া বেশ সহজ কাজ, কোন ব্যাপার না” । তবে এই ধরণের চরিত্র তুলে ধরতেও যে এক ধরণের আলাদা দক্ষত্যা লাগে তা দেখিয়েছেন শিমাজাকি নোবুনাগা । অনেক ধরণের চরিত্র করলেও সাধারণত চুপচাপ স্বভাবের চরিত্রগুলো অসাধারণভাবে তুলে ধরার জন্যই তার খ্যাতি মূলত ।

তার কণ্ঠ অভিনয় শুরু ২০০৯ থেকে, যদিও সে বছর মাত্র একটা রোল পায় সে । ২০১২ থেকে শুরু হয় তার সফলতা, সে বছর ৪ টা রোল পায় তিনি যার মধ্যে ২টা মূল চরিত্র এবং আরেকটি ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র । এর বছরগুলো থেকেই সে কম-বেশি ভালো রোল পেতে থাকে । তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোলগুলো হল হারু (Free!), ইজুমি শিনিচি (Parasyte), ফুরুয়া (Ace of Diamond) এবং শিদৌ ইৎসুকা (Date a Live) । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল হারু (Free!), সাকুরাই (Kuroko no Basket), সৌজি (Ore, Twintails ni Narimasu) এবং ফুরুয়া (Ace of Diamond) । Ace of Diamond, Free!, Nijiro Days এই আনিমেগুলোর এন্ডিং তিনি আনিমেগুলোর বাকি সেইয়ূদের সাথে গেয়েছেন এবং Tari Tari আনিমেটিতে একটা ইন্সার্ট সং তার গাওয়া ।

তার জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৮। সামনে আরও ভালো ভালো রোল পাবেন তিনি সেই আশায় রইলাম।

Shimazaki Nobunaga

 

Kishio Daisuke

কিশিয়ো দাইস্কের তার পুরো ক্যারিয়ার জুরে সব ধাঁচের রোলই অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন কম-বেশি । কিন্তু তিনি সাধারণত প্লে-বয় স্বভাবের অথবা সুদর্শন পুরুষ এসকল চরিত্রগুলোতে কাজ করার জন্যই বেশ পরিচিত । তার কণ্ঠ বলার স্বরের মাঝেই একরকম কেমন জানি আলাদা ভাব আছে ।

তার কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে অভিষেক ১৯৯৬ সালে এবং তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোল হল Vampire Knight-এর কানামে কুরান । সে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তার শৌজো এবং রিভার্স হারেম আনিমের রোলগুলো দিয়েই । তবে অন্য জনরার আনিমেগুলোতেও তার বেশ ব্যতিক্রমি চরিত্র আছে যেমন ক্রাউযার-সানের সাধারণ ভার্শন (Detroit Metal City), ইতাকু (Nurarihyon no Mago), আওনো সুকুনে (Rosario + Vampire) ।

আমার মতে তার সেরা রোল হল নেগিশি (Detroit Metal City), চরিত্রটিকে সাধারণত ভয়ঙ্কর ব্যক্তিত্বেই ( ক্রাউজার-সামা ) চিনে থাকি আমরা তবে তার সাধারণ সেই হাস্যকর ব্যক্তিত্ব যেভাবে তুলে ধরেছে কিশিয়ো দাইস্কে, কাজটা বেশ অসাধারণ ছিল । এছাড়া তার আরও কিছু রোল আমার বেশ পছন্দের সেগুলো হল ইমাদোরি (School Rumble), ইতাকু (Nurarihyon no Mago), নাৎসুমে (Beelzebub), কুরামা (Kamisama Hajimemashitae), হাওয়ার্ড লিঙ্ক (D.Gray-Man), যাজি (Tegami Bachi) ।

তিনি La Corda D’Oro, Kamisama Hajimemashita, Shounen Hollywood, Rosario + Vampire, Cluster Edge, Diabolik Lovers এই আনিমেগুলোতে উইনিটের সাথে ওপেনিং/এন্ডিং অথবা তার চরিত্রের হওয়ে ইন্সার্ট সংগুলো গেয়েছেন ।

তার জন্ম ২৮ মার্চ, ১৯৭৪ । আজ কাল আর নতুন করে কোন রোল করেন না তিনি আর তিনি ভেটেরান সেইয়ূ হিসেবেই পরিচিত এখন সবার কাছে । তিনি এখন নতুন কণ্ঠ অভিনেতাদের কাছে রোল-মডেল ।

Kishio Daisuke

 

Ishihara Kaori

ম্যাজাই আনিমেটি যারা দেখেছেন তাদের নিশ্চই আলাদিন চরিত্রটির কণ্ঠ বেশ কিউট লেগেছেন, এরকম একটা কণ্ঠের নৈপুণ্যতার কারণেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত হল ইশিহারা কাওরি । তার কণ্ঠে তীক্ষ্ণ টান রয়েছে এবং বেশির ভাগ সময়ই পার্শ চরিত্রের রোল করে থাকলেও, যে কয়টা করেছেন ওর মাঝেই নানা রকম চরিত্রই ছিল ।

তার কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে অভিষেক ২০১০ সালে এবং সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন আলাদিন(Magi) চরিত্রটি দিয়েই । আলাদিন বাদে তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য রোল হল তানিগাওয়া কান্না (Ano Natsu de Matteiru) । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল সাকুরাদা কানাদে (Joukamachi no Dandelion), আলাদিন (Magi) এবং রোজালি (Cross Ange) ।

তার গানের ক্যারিয়ারের এক বড় অংশ ‘YuiKaori’ এই সেইয়ূ ইউনিটটি যার আরেক মেম্বার ওগুরা ইয়ুই । YuiKaori-র অংশ হয়ে তিনি Joukamachi no Dandelion-এর ওপেনিং এবং Kiss x Sis-এর এন্ডিং গেয়েছেন । Kono Naka ni Hitori, Imouto ga Iru! এবং Rinne no Lagrange এই দুইটি আনিমের এন্ডিং তিনি গেয়েছিলেন এবং আরেকটি সেইয়ূ গ্রুপ Stylips-এর মেম্বারও ছিলেন তিনি যাদের হয়ে তিনি Highschool DXD-এর এন্ডিং এবং Saki:Episode of Side-A-এর ওপেনিম গেয়েছিলেন । তিনি Stylips-এর হয়ে একটা এবং YuiKaori-এর হয়ে তিনটা অ্যালবাম এই পর্যন্ত রিলিজ করেছেন ।

তার জন্ম ৬ আগস্ট, ১৯৯৩ । তার কণ্ঠটা বেশ কিউট, তার আরো রোল পাওয়া দরকার ।

Ishihara Kaori

 

Ogura Yui

ললি জিনিশটা এখন আনিমের চরিত্রগুলোর মাঝে একটা আলাদা আইকন হয়ে দারিয়েছে, এই কথা সবাই মানে । এই চরিত্রগুলোর কথা-বার্তার ধরণই অনেক সময় সাধারণ চরিত্রগুলোর তুলনায় আলাদা হয়, আর এদের আনিমের মাঝে দেখা না পাওয়ায় আজ-কাল বিরল একটা বিষয় । এই ধরণের চরিত্র নির্ভুলভাবে তুলে ধরায় যাদের দক্ষ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাদের একজন ওগুরা ইয়ুই । তার কণ্ঠটা বেশ নরম, অনেকটা হিদাকা রিনার কণ্ঠের মতই শুনাবে । সুধু কণ্ঠ দিয়ে নয়, তার ললি চরিত্রগুলো তুলে ধরার দক্ষতা দিয়েও অনেকে তাকে হিদাকা রিনার সাথে তুলনা করেন । “হিদাকা রিনা কে ?”, তিনি হল এমন একজন যাকে ধরা হয় যে ললি চরিত্রগুলো সবচেয়ে ভালো করে তুলে ধরতে পারেন এমন এক কণ্ঠ-অভিনেত্রী । তবে আজ-কাল আনিমেগুলোতে মিনাসে ইনোরি তার নাম-ডাক সব কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে ।

তার কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক ২০০৯ সালে । এরপর বেশ কিছু আনিমেতে মূল চরিত্র হিসেবে রোল করে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন, যেমন আলিস (Kamisama no Memochou), সুৎসুকাকুশি সুকিকো (Hentai Ouji to Warawanai Neko) । তার কণ্ঠটা আমার কাছে বেশ কিউট লাগে এবং তার করা পছন্দের রোলগুলো হল কোকোনা (Yama no Susume), হিনাতা (Ro-Kyu-Bu), ফুসে মিদোরি (Black Bullet), আথেনা (Campione!), সাকুরাদা হিকারি (Joukamachi no Dandelion) এবং ক্রিস (Cross Ange) ।

তার গানের ক্যারিয়ারের এক বড় অংশ ‘YuiKaori’ এই সেইয়ূ ইউনিটটি যার আরেক মেম্বার ইশিহারা কাওরি । YuiKaori-র অংশ হয়ে তিনি Joukamachi no Dandelion-এর ওপেনিং এবং Kiss x Sis-এর এন্ডিং গেয়েছেন । Aquarion Evol, Campione, Oreimo 2, Unbreakable Machine Doll, Saikin Imouto no Yousu ga Chotto Okashiinda ga, Ro-Kyu-Bu!, Seiken Tsukai no World Break এই আনিমেগুলোর ওপেনিং/এন্ডিং/ইন্সার্ট সং-এ তার কণ্ঠ ছিল । তিনি আরেকটি সেইয়ূ গ্রুপ Stylips-এর মেম্বারও ছিলেন এবং ইশিহারা কাওরির সঙ্গে একসাথেই Stylips ত্যাগ করেছিলেন, তাদের হয়ে তিনি Highschool DXD-এর এন্ডিং এবং Saki:Episode of Side-A-এর ওপেনিম গেয়েছিলেন । তিনি Stylips-এর হয়ে একটা এবং YuiKaori-এর হয়ে তিনটা অ্যালবাম এই পর্যন্ত রিলিজ করেছেন ।

তার জন্ম ১৫ আগস্ট, ১৯৯৫ । তার সবচেয়ে বড় পরিচিতি কিন্তু সেইয়ূ নয় বরং আইডল হিসেবে । আজকাল ললি চরিত্রগুলোর কণ্ঠ-অভিনয়ে দক্ষ এরকম সব কণ্ঠ-অভিনেত্রীদের পরিমান বেড়ে যাচ্ছে, ওগুরা ইয়ুই এবং তাদের মাঝে রোল পাওয়ার রেসটা দেখতে বেশ ইন্টারেস্টিং হবে ।

Ogura Yui

মাঙ্গা এবং আনিমে সাজেশন: Ajin — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Ajinঅমরত্ব! মানুষের জীবধনের সবচেয়ে আকাঙ্খিত জিনিস। প্রাচীনকালে নরবলি, রক্তপান, দেবতার পূজা, শয়তানের পূজা, আলকেমি কত কিছুর না মানুষ আশ্রয় নিয়েছে অমরত্ব পাবার জন্য। কিন্তু একদল লোক দুনিয়াতে জন্ম নিল যারা অমর। রোলার দিয়া চাপা দিন, বড় ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন, পুড়িয়ে দিন। লাভ নেই, আবার বেচে উঠবে। এদের আর্সেনালে আরেক অস্ত্র আছে। কালো ভূত যা সাধারণ মানুষের কাছে অদৃশ্য। তো এই আজিনদের অমরত্বের কারণে তাদের মানুষ বলে বিবেচনা করা হয় না। এদের ধরে টর্চার চালানো হয় যা সবচেয়ে স্যাডিস্ট সাইকোও ভেবে বের করতে পারবে না। তো এইরকম একজন আজিন কেই কে নিয়েই কাহিনী যে সদ্য ট্রাকচাপা পড়ে আবিষ্কার করে সে আজিন।
তো এসব বকর বকর বাদ দিয়ে আসল কথায় আসি। আপনি আজিন দেখবেন বা পড়বেন কেন!? পড়বেন সাতোউয়েয় জন্য। দেখতে নিরীহ বুড়ো ভালমানুষ। যেন এইমাত্র মর্নিংওয়াক করে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরবে। কিন্তু এই ভালো মানুষ সাউতো একজন স্যাডিস্ট সাইকো যার হাতে ইমারটলিটির গিফট এবং ক্ষুরধার বুদ্ধি আছে। কেই কে রিসার্চ সেন্টার থেকে বের করে আনা, ভালো মানুষ মার্কা অভিনয়, এবং রক্তপিপাসা আপনার কাছে ভালো লাগতে বাধ্য। মাঙ্গায় তার প্লেন নিয়ে তেলেসভাতি কখোনো ভুলবো না। সাউতোর লক্ষ্য কি?! আসলে কোন লক্ষ্য নাই। নোলানের ডার্ক নাইটে আলফ্রেডের এক বিখ্যাত উক্তি “কিছু লোক দুনিয়াতে খালি জ্বলতে দেখেতে চায়, আর কিছু না,,। সাইতো আর জোকার একই ঘরের মানুষ। ভায়োলেন্স এদের প্রেরণা।

এনিমেটা CGI বলে অনেকে পছন্দ করছে না কিন্তু এই ইফেক্টই আজিনের উপযোগি। বিশেষ করে এনিমের হরর বা গোথিক টাইপের সাউন্ডট্র্যাক। বিষেষ করে আজিন প্রাণ ফিরে পাবার সময় যে কড় কড় শব্দ হয়। এই এনিমের মেইন ক্যারেকটার কেই আর অন্যগুলোও অস্থির। মাঙ্গাটা অবশ্যই ফলো করবেন। আর্ট কাহিনী অনেক ভালো। টোকিও ঘুউল রে এর পরে সবচেয়ে অস্থির সাইকো হরর মাঙ্গা পড়ছি আজিন!
মাঙ্গা অনগোয়িং, আনিমে কমপ্লিট তবে এন্ডিং চেইন্জ কর দিসে। ফলো করার মত জিনিস এটা।
দশে এটা নয় সহজেই পাবে। আশা করি সবার ভালো লাগবে!

গ্লাসলিপ রিএকশন; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

12961176_197382797313440_1846287170956684497_o

কাল রাতে (তর্কসাপেক্ষে) এই দশকের সবচেয়ে বিতর্কিত অ্যানিমে গ্লাসলিপ দেখে শেষ করলাম। অ্যানিমেটার ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কোনদিন কোন পজেটিভ কথা শুনিনি, অনেকটা ঝোঁকের মাথায় দেখা শুরু করেছিলাম এই ভেবে যে, ভাল না লাগলে দেখা বাদ দিয়ে দেব।

কিন্তু দেখা শুরু করার পর আবিষ্কার করলাম, আমি মোটেই বোর হচ্ছিনা। শুরুর এপিসোডে কাকেরু এসে তৌকোকে যখন বলল, “তুমি যা দেখ, আমিও তাই দেখি”, তখন একটু লেইম লেগেছিল ব্যাপারটা, পরে বুঝলাম সেটার কারণ ছিল। রোমান্স পার্টটা অতটা খারাপ ছিল না, তবে সুপারন্যাচারাল ব্যাপারটা ঢুকানোর প্রয়োজন ছিল না। ওটা ছাড়া কাহিনীটা জমত ভাল।

Screenshot_2016-04-11-22-12-11

অ্যানিমেটা খারাপ লাগার কারণ খুঁজে বের করতে আমার সত্যিই কষ্ট হয়েছে, নিজে বের করতে পারিও নি খুব বেশি, অন্যদের রিভিউ ঘাটাঘাটি করে বের করতে হয়েছে। আমি তারচেয়ে পয়েন্ট আকারে কিছু কথা বলি, বুঝতে সুবিধা হবে।

– প্রথমেই উল্লেখ করতে হবে আর্টওয়ার্ক। পিএ ওয়ার্কস এর অ্যানিমেশন, কিও অ্যানির পরে এই স্টুডিওর আর্ট আমার সবচেয়ে পছন্দ। প্রতিটা ছোট ছোট ডিটেইলের দিকে নজর রাখে তারা, উজ্জ্বল চোখজুড়ানো ল্যান্ডস্কেপ থাকে, শহরের দৃশ্য হোক বা গ্রাম, সমুদ্র হোক বা পাহাড়, সব কিছু অসম্ভব যত্ন নিয়ে আঁকে। ক্যারেক্টার ডিজাইনও সুন্দর হয়, পিএ ওয়ার্কস এর কাজ যে, সেই ছাপ থাকে। এই স্টুডিওর যত অ্যানিমে আমি দেখেছি, তার মাঝে গ্লাসলিপের আর্ট সেরা।

Screenshot_2016-04-11-20-59-27

– স্টোরি খারাপ ছিল না। আমি জানি অনেকে আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন, তাও বলছি, স্টোরি ভালই ছিল। সুপারন্যাচারাল পার্টটা যদি বাদ দেই, বাকিটা কিন্তু বাস্তব জীবনের সাথে বেশ মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে। ক্যারেক্টারগুলো বিরক্তিকর – এই কথাটার প্রেক্ষিতে আমি বলব, এই ধরণের বিরক্তিকর ক্যারেক্টার আমাদের আশেপাশে খুঁজলেই পাওয়া যায়। এই কারণেই বরং গ্লাসলিপ স্লাইফ অফ লাইফ হিসেবে সফল। সুনদেরে ইয়ানদেরে না দেখিয়ে তারা অন্তত কিছু রিলেটেবল ক্যারেক্টার দেখাতে পেরেছে, যারা ভুল করে, জেলাসও হয়, কিন্তু সেটাকে ওভারকামও করতে পারে।

– সুপারন্যাচারাল পার্টটার কথা এবার বলি, কোন দরকার ছিল না এটার। শুরুর দিকে ভালই লাগছিল, কিন্তু এপিসোড ১২-১৩ তে শুধুশুধু টুইস্টের মত কিছু একটা দেখাতে গিয়ে এন্ডিংয়ে খামাখা কাকেরুকে ভ্যানিশ করে দিল। পিএর কাজ অবশ্য এমনই, পারফেক্ট হ্যাপি এন্ডিং বোধহয় ওদের সহ্য হয়না। তবে ওইটুকু অতৃপ্তির জন্য পুরো অ্যানিমেটাকে খারাপ বলাটা খুবই অন্যায় হবে, কারণ আমি এর চেয়ে অনেক খারাপ অ্যানিমে দেখেছি। গ্লাসলিপের দোষ হল এটা স্লাইস অফ লাইফ রোমান্স, কাজেই খুব এক্সাইটিং কিছু ঘটেনা।

সবমিলিয়ে আমার মনে হয়েছে এটা দেখার যোগ্য অ্যানিমে, বাকিটা আপনারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিন। কাউকে দেখতে সাজেস্ট করব না, যেহেতু এটা এত এত মানুষের ভাল লাগেনি, যার দেখার ইচ্ছা নিজ দায়িত্বে দেখবেন, তবে খুব এক্সাইটমেন্ট পাবেন না এমনটা জেনে দেখতে বসলে ভাল লাগবে, এটা বলতে পারি।

I didn’t survive Glasslip, I enjoyed it.

12973375_197382847313435_8237480134203561675_o

Boku dake Ga Inai Machi (Erased) [Review] — Ashraful Ribat

Erased 1

অ্যানিমে: Boku dake Ga Inai Machi (Erased)
এপিসোড: 12 (complete)
জন্রা: fantasy/thriller/Seinen

গার্লফ্রেন্ড এর কন্টিনিউয়াস রিকুয়েস্ট এর জালায় শেষ পর্যন্ত দেখতে বসি বর্তমানে বিখ্যাত এবং বছরের অন্যতম সেরা অ্যানিমে *Boku dake Ga Inai Machi* বা ইংরাজিতে *Erased*
যদিও *Boku dake ga inai machi (僕だけがいない街 ..এর মানে হল :- The Town Where Only I am Missing).

 

 

 

কাহিনীঃ মাংগাকা Kei Sanbe এর মাস্টারপিস মাংগা *বোকু দাকে গা ইনাই মাচি* অবলম্বনে নির্মিত। ২৯ বছর বয়সি ফুজিনামা সাতোরু কে কেন্দ্র করে কাহিনী গড়ে ওঠে যার এক আশ্চর্য ক্ষমতা আছে। তার আশেপাশে কোনো মারাত্মক কিছু ঘটলে সে টের পায় আর সে অতীতে সেটা ঘটার ঠিক পূর্বমুহূর্তে চলে যায়, আর সেই ঘটনাটাকে পরিবর্তন করে। সে তার এই টাইম ট্রাভেলিং-কে Revival বলে। প্রত্যেকবার এই revival হওয়ার ঠিক আগে তার আশেপাশে একটা নীল মথ/প্রজাপতি উড়তে দেখা যায়। তার এই revival হতে থাকে ততোক্ষন পর্যন্ত, যতোক্ষন পর্যন্ত ওই মারাত্মক ঘটনা ঘটার কারণটা মুছে না যায়। (হয়তো এজন্যই এর আরেক নাম Erased?)

Erased 2

তো সাতোরু সান একদিন তার *ইয়োকাই* মা-এর সাথে বাজার করে বাড়ি ফিরতে থাকে ( সাতোরু তার মা কে *ইয়োকাই/ ভূত বলে… কারন তার মা ৫২ বছর বয়সী হলেও দেখতে ঠিক যেন ১৮ বছর আগের মতো… চেহারায় বয়সের কোন ছাপ নেই।) বাজার থেকে মা-র সাথে ফিরছে… হঠাৎ তার revival হল। সাতোরু খোঁজা শুরু করল কি সমস্যা, কি এমন ঘটতে চলেছে, কিন্তু এতো খুঁজেও পেল না কেন revival টা হল। কিন্তু সাতোরুর মা ঠিকই কিছু একটা টের পেল। শুধু তাই নয়, সাতোরুর মা তখনি খুঁজে পেল কে আসল খুনি, যে আজ থেকে ১৮ বছর আগে ৩ টা বাচ্চাকে খুন করেছিল। আর এ জন্যই সাতোরুর অনুপস্থিতি তে খুনি এসে খুন করে গেল সাতোরুর মা কে। সাতোরু বাসায় ফিরে দেখল তার *ইয়োকাই মা মরে মেঝেতে পরে আছে। লাশ উল্টাতেই রক্ত তার হাতে লেগে গেল। আর এমন সময় এলো তার প্রতিবেশী মহিলা, যিনি তা দেখে সাতোরু কে খুনি ভেবে পুলিশ ডাকলেন। সাতোরুর revival ঘটল… কিন্তু এইবার সে চলে গেল ১৮ বছর আগে। যেখানে সে এলিমেন্টারি স্কুলবয়। সেখানে সে দেখা পেল তার পুরনো বন্ধুদের, কেনয়া, হিরোমি, কুমি, সাচিকো আর অবশ্যই হিনাজুকি কায়ো।
সাতোরু নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করে, সে শুধু তার মাকে বাচাঁবেই না, সেই সাথে ১৮ বছর আগে খুন হওয়া ৩ জনকে বাঁচাবে… সেই সাথে তাদের খুনিকেও খুঁজে বের করবে। প্রচন্ড করুন ও নির্মম ভাগ্যের অধিকারিণী হিনাজুকি কায়ো কে বাচাঁনোর চেষ্টা শুরুর মধ্যদিয়েই সে শুরু করে তার মিশন। এর পর চলতে থাকে কাহিনী যা বাঁকে বাঁকে মোড় নিতে থাকে বিভিন্ন দিকে। এই পুরো সময় তার বিশ্বস্ত বন্ধুদের সাথে সাথে তাদের সাহায্য করতে থাকে *ফাদারলি ফিগার* Yashiro সেনসেই। এই অমায়িক পিতৃতূল্য সেনসেই টি তাদের কতই না সাহায্য করেন।

Erased 3

অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর সাতোরু তার মিশন সাকসেসফুলি শেষ করে…কিন্তু…

নাহ্… কিন্তুটা নাহয় নাই বললাম যারা দেখেনি তাদের খাতিরে..? *sigh*
কাহিনীর আরেক চমকপ্রদ ক্যারেকটার কাতাগিরি আইরি যার প্রয়োজনীয়তা আমরা শেষ মুহূর্তে দেখতে পাই ।

অনেকের মতে এই অ্যানিমে টার এন্ডিং ভালো হয়নি। আমি বলব এর এমন চমৎকার এবং কম্পলিকেটেড এন্ডিং এর জন্যই বরং সবাই একে মনে রাখবে অনেকদিন। এমন দুঃখ মেশানো বাস্তবতার বেড়াজালে ঘেরা এই ফ্যান্টাসি অ্যানিমেটি, যা গল্পের মুল নায়কের ফিলিংসগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করে, যেন প্রটাগনিস্টের ফিলিংসগুলো আপনার নিজের ফিলিংস। যা হয়তো আমার মতোই আপনারো চোখের কোনে আপনারি অজান্তে এনে দিতে পারে অশ্রুবিন্দু।
ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট প্রশংসনীয়… আর স্টোরির কথা আলাদা করে নাই বললাম।আর অবশ্যই opening এবং ending সং দুটো সত্যিই *heart touching*..বিশেষ করে ending song টা (সায়ুরি-র : Sore wa Shiisana Hikari no Youna) যা আমার অশ্রুবিন্দুর কারন ছিল।

Erased 4

অ্যানিমেটা দেখে এতোই আবেগভুত হয়ে পরলাম যে লিখে ফেললাম রিভিউটি। যারা এখনো দেখেননি তারা দ্রুত দেখুন। আর যারা দেখেছেন তাদের জন্য আরেকটি বিষয়। কেউ কি পুরনো opening এবং নতুন opening খেয়াল করেছেন? প্রথমে opening song এ সাতোরু ছিল… কিন্তু পরে তাকে opening song এর ভিডিওটি থেকে মুছে দেয়া হয়।
[link of comparison between old Op & new Op :https://www.youtube.com/watch?v=wJ2ZteesF5Y]

সবশেষে আমার বাকা জিএফ-কে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই এই অ্যানিমেটি সাজেস্ট করার জন্য।
আমার পার্সোনাল রেটিং: ১০/১০

Erased 5

Jin-Roh: The Wolf Brigade [Movie Review] — Rafiul Alam

Jin-Roh 1

“That’s the nature of counterintelligence. The side which correctly anticipates the moves of the other and strikes first has the advantage.”

৯০ দশকের মুভি, মামোরু ওশি, প্রোডাকশন আইজি। রিংস এনি বেল?
-ঘোস্ট ইন দ্যা শেল?
-ঠিক। কিন্তু আজকে যে আনিমের কথা বলব, তা উপরের তিনটি শর্তই পূরণ করেছে, কিন্তু Gits এর মত দর্শকপ্রিয় হতে পারেনি একদমই।
জিন রো (উলফ ব্রিগেড) মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে। জাপানে তার পরের বছর।রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণ , সিম্বোলিজমের ব্যাবহার ও এবং ওশির নিজস্ব স্টাইলের দৃশ্যায়নের কারণে মুভিটি অনন্য শৈল্পিকতা লাভ করেছে, যার কারণে আর দশটি এনিমের সাথে সরাসরি তুলনায় যাওয়া কঠিন। এনিমেটির সিনেমাটোগ্রাফি, ক্যারেক্টার ডিজাইন এবং এবস্ট্রাক্ট শটগুলো খুবই রিয়েলিস্টিক ছিল। একই সাথে আমার কাছে “ফুড ফর থট” ধরনের কোন এনিমে সাজেশন চাওয়া হলে জিন রো এর নাম সবার আগে বলব, নির্দ্বিধায়।

Synopsis : সময়টা ৫০ এর দশক। অল্টারনেটিভ হিস্টেরিক টাইমলাইন, যেখানে জাপান জার্মানির কাছে পরাধীন । ঘটনার শুরুতে ছোট্ট করে একটা ন্যারেশন দেয়া হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাপান ঘুরে দাড়ানোর জন্য কি করে এবং তার সামগ্রিক ফলাফল কি ধরনের হয় তার উপর। যাতে বলা হয় জাপানের দ্রুত, আগ্রাসী অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাপক শ্রেণি বৈষম্য ও বেকারত্ব দেখা দেয়। ফলে সরকার বিরোধী দাঙ্গা দেখা দেয় নিয়মিতভাবে, এবং সময়ের সাথে সাথে বিপ্লবীরা আরও সংগঠিত হতে থাকে। চূড়ান্ত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে গঠন করা হয় “Kerberos Panzer Cops” বা এলিট পুলিশ স্কোয়াড। তো একদিন দাঙ্গা ভয়াবহ রূপ নেয়। স্ক্রীণে একটি বাচ্চা মেয়েকে দেখা যায়, যে কিনা বিপ্লবীদের স্পাই। মেয়েটির সহায়তায় পুলিশের উপর বোমা নিক্ষেপ করে দাঙ্গাবাজরা। যাতে পরিস্থিতি আরও এলোমেলো হয়ে যায়, কেরবেরস স্কোয়াড আন্ডারগ্রাউন্ডে হামলা চালাতে বাধ্য হয়। জার্মান অস্ত্র MG-13 মেশিনগান, নাইট ভিশন গগলস ও পুরু আর্মরের নিচে প্রশিক্ষিত যোদ্ধাদের সামনে বিপ্লবীদের অবস্থা হয় ফাদে পড়া ইঁদুরের মত। গোলাগুলির মাঝে সেই মেয়েটি পালিয়ে যাওয়ার চেস্টা করে, কিন্তু কেরবেরস বাহিনীর এক সদস্যের হাতে পড়ে যায়। এখন মুক্তির একমাত্র উপায় হিসেবে আত্নঘাতী বোমা বিস্ফোরণ করে সে। এরপর ন্যারাটিভ বিপরীত দিকে ঘুরে যায়। সেই কেরবেরস পুলিশ,যার কাছে মেয়েটি ধরা খেয়ে যায়, সে তার মুখোশ খুলে। হতবাক, বিভ্রান্ত। জানা যায় তার নাম কাজুকি ফুসে। উপরের থেকে তার উপর নির্দেশ ছিল মেয়েটিকে গুলি করার জন্য। তার বিবেকের কারণে সে পারেনি। কিন্তু দিনশেষে এটা একটি ভুল। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পুরো স্কোয়াডকে তার খেসারত দিতে হত। ভাগ্য খুবই ভাল থাকায় শুধু সামান্য চোট পায় কাজুকি। কিন্তু মনের ভিতর ঝাঁকুনি দিয়ে যায়। সে বোঝার চেস্টা করে, “কেন?”। এতসব সহিংসতা, এত দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, কিসের আশায়? যা জীবনের চেয়েও মুল্যবান?
আত্না শান্ত করতে সে মেয়েটির ধ্বংসাবশেষে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। সেখানে পরিচিত হয় মেয়েটির বড় বোন কেই আমেমিয়ার সাথে। তাদের মাঝে এক অন্যরকম সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এইখানেই সবচেয়ে ইন্টেরেস্টিং মেটাফরের আগমণ ঘটে। সিনেমার মূল স্টোরির সমান্তরালে Little Red Riding hood গল্পটির বর্ণনা করা হয়। সময়ের সাথে দর্শক বুঝতে পারবেন যে তা দিয়ে কি বোঝানো হচ্ছে।

Theme setup, Animation and Music : আনিমেতে সরাসরি একবারও বলা হয়নি যে জাপানকে জার্মানি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু আকারে ইংগিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। মুভিটিতে ৫০ দশকের জাপান, তখনকার চূড়ান্ত শাসন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছেন ডিরেক্টর হিরুয়ুকি। তৎকালীন সমাজের বাস্তবতা ভিন্ন পরিস্থিতিতে কিরকম হতে পারে, তার উপাস্থাপনা এক কথায় ইনজিনিয়াস ছিল। ল্যান্ডস্কেপ ও এবস্ট্রাক্ট সিনগুলো ছিল ক্ষুরধার। যেন কোন গল্প বলতে চাচ্ছে। আরও অবাক লেগেছে জেনে, যে এত মুগ্ধকর সিনেমাটোগ্রাফির সিনেমার ফ্রেমগুলি নাকি হাতে আঁকা। এবার আসি মিউজিকে, দায়িত্বে ছিলেন সবার প্রিয় ইয়োকো কানো। সিনগুলোর সাথে মিউজিক খাপ খাওয়ানো হয়েছে, কোন জোরাজুরি নেই। কথোপকথনের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন শব্দ ছিল না, বরং সাইলেন্ট পজ ছিল। ফলে দর্শককে আরও মনযোগী হতে হয়।

Characters Setup : নায়ক, নায়িকা আর দুই পক্ষের লোকজন। অনেক বেশি এলিমেন্ট নেই। কিন্তু এই কয়েকজন মানুষের সম্পর্ক চমৎকারভাবে দেখানো হয়েছে। চরিত্রগুলো বাস্তব। তারা টু ডাইমেনশনাল, স্টেরিওটিপিকাল, ক্লিশে কোন ফিলসফির কারণে গতিশীল না। সবারই এজেন্ডা আছে, ইচ্ছা আছে, নিজস্ব মোরালিটি আছে। তাদের মাঝে ভাল আর খারাপের দাগ টানতে পারবেন না। জিন রো আপনাকে এমন একটা জগতে নিয়ে যাবে, যেখানে দিনশেষে কোন এট্যাকার আর ভিক্টিম নেই। যেখানে মানুষের না পাওয়ার তিক্ততা আছে। কিন্তু কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবেন না। কারণ আপনি ক্লান্ত।

Overall Rating :
MyAnimeList.net: 7.87/10
IMDb:  7.6 /10

Jin-Roh 2

Behind the Voices – 19

 

Yonaga Tsubasa

ইয়োনাগা সুবাসা সাধারণত ছোট ছেলে অথবা কিশোর এরকম চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য ব্যপকভাবে পরিচিত । তার কণ্ঠতেই আলাদা একটা বাচ্চাদের মত টান আছে এবং এর জন্যেই এরকম চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ায় তার এত দক্ষতা । তার ট্র্যাপ চরিত্রেরও কণ্ঠ দেওয়ার খ্যাতি আছে । তবে ইয়োনাগা সুবাসা কিন্তু অনেক পরিচিত কণ্ঠ অভিনেতাদের তুলনায় বয়সে বড় ।

ইয়োনাগা সুবাসা সবচেয়ে বেশি পরিচিত তার Free! আনিমেটিতে নাগিসা চরিত্রটির জন্য । তবে এছাড়া তার আরও বেশ কিছু চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য পরিচিতি আছে, চরিত্রগুলো হল Cardfight Vanguard!-এর সেন্দৌ আইচি, Ookiku Furikabutte-এর রেন মিহাশি, Chihayafuru-এর ডেস্কতোমু এবং Arcana Familia-এর নোভা । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল Yowamushi Pedal-এর মানামি, Tasogare Otome x Amnesia-এর তেইচি নিয়া, Free!-এর নাগিসা Chihayafuru-এর ডেস্কতোমু এবং Donten ni Warau-এর চূতারৌ ।

তিনি এখনও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকেন নাই । তবে Free!, Arcana Familia এবং Yowamushi Pedal এই আনিমেগুলোর কাস্টের সঙ্গে দলীয়ভাবে আনিমেগুলোর কয়েকটি এন্ডিং গেয়েছেন ।

তার জন্ম জানুয়ারি ১৫, ১৯৮৪ এবং সেইয়ূ ইয়ুকা নিশিগাকির সঙ্গে তিনি বিবাহিত । তার কণ্ঠ অভিনয়ের কাজ বেশ ভালোই লাগে, তাই সামনে তার আরো ভালো ভালো রোল দেখবো এ নিয়ে আশাবাদী ।

Yonaga Tsubasa

 

Tanaka Rie

তানাকা রিয়ে তার আবেদনময়ী কণ্ঠের জন্য ভক্তদের সবচেয়ে বেশি পরিচিত । একসময় প্রতি সিজনেই ভালো পরিমাণ রোল পেলেও আজকাল তার রোল একেবারেই নেই । তবে একজন দক্ষ কণ্ঠ অভিনেত্রীর ভাবমূর্তি সে আগেই গরে নিয়েছেন ।

তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোলগুলো হল Mobile Suit Gundam Seed-র ল্যাকাস ক্লাইন, Chobbits-র চি এবং ফ্রেয়া, Hayate no Gotoku-র মারিয়া, Rozen Maiden-র সুইগিন্তৌ । কিছু আনিমেতে একাধিক রোলও দিয়েছেন তিনি, তার এক উদাহরণ হল Katekyo Hitman Reborn! । এই আনিমেটিতে মূলত বিয়াঙ্কির কণ্ঠ দিলে পাশাপাশি হিবার্ড এবং উরির কিউট কণ্ঠও সে দিয়েছে । এছাড়া কুকুর এবং বিড়াল পালার জন্যও তার খ্যাতি আছে । তার অনেক রোলই আমার বেশ পছন্দ । আনিমে ইন্ডাস্ট্রির সাথে সে জড়িত ১৯৯৭ সাল থেকে । হাইস্কুল শেষ করার পরপরই, সে টোকিয়োর এক নামকরা আনিমেশন কম্পানির সাথে কাজ করে এবং তার কিছু চরিত্রের গানের রোলটাও সে নেয় ।

তবে সবচেয়ে পছন্দের রোল হল ৩ টা Katekyo Hitman Reborn!-এর বিয়াঙ্কি, Girls und Panzer-এর নিশিযুমি মাহো এবং Hayate the Combat Butler-এর মারিয়া । এছাড়া Chobbits-এর চি এবং Tears to Tiara-এর ওক্টাভিয়া এই দুইটা রোলও বেশ পছন্দ ।

অনেক আনিমের ইন্সার্ট সং, ওপেনিং এবং এন্ডিং গেয়েছেন তিনি । তবে এমনে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত হয়ে তিনি তেমন একটা সাফল্য পায় নাই । সে এই পর্যন্ত 24 Wishes এবং Garnet নামক এই দুইটা অ্যালবাম বের করেছেন । এছাড়া তিনি Steel Angels নামক এক গায়িকাদের গ্রুপের সদশ্য, যার বাকি দুইজন সদশ্য এনোমোতো আৎসুকো এবং কুরাতা মাসায়ো এই দুইজন সেইয়ূ ।

তার জন্ম ৩ জানুয়ারি, ১৯৭৯ এবং কণ্ঠ অভিনেতা কৌইচি ইয়ামাদেরার সঙ্গে বিবাহিত । তিনি একজন অসাধারণ কণ্ঠ অভিনেত্রী এবং অনেক নতুন তাকে রোল-মডেল হিসেবে দেখে ।

Tanaka Rie

অ্যানিমে সাজেশন- কামিসামা হাজিমেমাশিতা; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

দেখে শেষ করলাম কামিসামা হাজিমেমাশিতা সিজন ১। বাবার খামখেয়ালিপনার কারণে গৃহহারা হওয়া নানামি হঠাৎ করে পেয়ে বসে আস্ত একটা শ্রাইন আর সেইসাথে আর্থ গড হবার সম্মান। সেই শ্রাইনের হেরাল্ড তোমোয়ের সাথে নানামির সম্পর্কের ধীরে ধীরে উন্নতি, তাদের দৈনন্দিন জীবন ও অন্যান্য হেরাল্ড এবং ইয়োকাইদের সাথে তাদের ইন্টের‍্যাকশন নিয়ে এগিয়ে চলে অ্যানিমের কাহিনী, এবং অবশ্যই সাথে রোমান্সের খুনসুটি।

Screenshot_2016-04-07-17-55-50

প্রথমেই যে কথাটা মাথায় এল শেষ করার পর, শৌজো অ্যানিমের ক্লিশে- কোন একটা ছুতা বাইর করাই লাগবে সবকয়টা বিশৌনেনের সাথে রোমান্টিক মোমেন্ট দেখানোর। -_- এই কন্ট্র‍্যাক্ট সিল করার ছুতায় যে কত কাহিনী করল :v :v যাহোক, সেটা বড় কোন সমস্যা না, কারণ ওভার অল অ্যানিমেটা অনেক ভাল লেগেছে আমার। আর্ট ডিসেন্ট, কমেডি অনেক ভাল, হেসেছি অনেক; সবচেয়ে বড় কথা একেবারেই ফোর্সড কমেডি লাগেনি।

Screenshot_2016-04-07-13-34-31

এবার বলি যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে – ওএসটি। আমি সাধারণত ওপেনিং এন্ডিং স্কিপ করে যাই, এই অ্যানিমেটার ক্ষেত্রে একটাও স্কিপ করতে পারিনি। গান দুটো যতবার শুনেছি, আমার নাচতে ইচ্ছা করেছে!! আর অ্যানিমের ভেতরের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও সুন্দর; বিশেষ করে একেবারে শেষ এপিসোডের কাগুরা ডান্সটা অসম্ভব ভাল লেগেছে, রিপিট করে করে দেখেছি। কাহিনীটা কোথাও থমকে যায়নি, একটা নির্দিষ্ট পেসিং ধরে রেখেছে। আর তোমোয়ে যেভাবে নিজের জেদ বিসর্জন দিয়ে নানামিকে মন থেকে আসা কথাটা বলে দিল, এটা আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে।

Screenshot_2016-04-07-19-39-01

সবমিলিয়ে বেশ ভাল একটা শৌজো অ্যানিমে ছিল এটি, চাইলে ট্রাই করে দেখতে পারেন।

Screenshot_2016-04-07-19-42-27

 

Behind the Voices – Special Episode 01

 

Akasaki Chinatsu

আকাসাকি চিনাৎসুর অভিষেক কায়ানো আই, মায়া উচিদা এবং তানেদা রিসা তাদের সঙ্গে প্রায় কাছাকাছি সময়েই। রোলের পরিমাণ তুলনা করলে তাদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আকাসাকি চিনাৎসু। তাদের তুলনায় নাম-ডাকও তেমন নেই । তবে চিনাৎসুর কিছু কিছু সলিড রোল আছে যার মাঝে তিনি নিজের সেরাটা দিয়েই পার্ফম করেছে এবং এমনভাবে তুলে ধরেছে যে সেই চরিত্রটি তার চেয়ে আর কেউ ভালোভাবে তুলে ধরতে পারবে না। অন্তত এই রোলগুলোর জন্য আকাসাকি প্রশংসনীয়।

তার সেরা রোলগুলো হল Shokugeki no Souma-র অ্যালিস নাকিরি এবং Chuunibyou demo Koi ga Shitai-র নিবুতানি শিঙ্কা। তার করা রোলগুলোর মাঝে আমার সবচেয়ে পছন্দ Love Lab-এর মাকি নাৎসুয়ো। চরিত্রটা তার চেয়ে সুন্দর করে তুলে ধরতে পারবে না আর কেউ, অন্তত আমার তা মনে হয়। এছাড়া Oreshura-র হারুসাকি চিওয়া এবং Gingitsune-র ইকেগামি ইয়ুমি এই দুটো রোল বেশ পছন্দের সাথে Shokugeki no Souma-র অ্যালিস নাকিরি এবং Chuunibyou demo Koi ga Shitai-র নিবুতানি শিঙ্কা তো আছেই।

মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সাথে তেমনভাবে জড়িত নয়। তবে Chuunibyou demo Koi ga Shitai, Fantasia Doll এবং Oreshura-র ওপেনিং/এন্ডিং সেই আনিমেগুলোর কাস্টের সাথে গেয়েছেন।

তার জন্ম August 10, 1987। এতদিন পর্যন্ত খুব বেশি একটা ক্ষ্যাতি না থাকলেও আজ-কাল বেশ নামডাক শুনা যাচ্ছে তার।

Akasaki Chinatsu

 

Takamori Natsumi

তাকামোরি নাৎসুমি এমন একজন সেইয়ূ যার নামডাক একেবারেই নেই বললে চলে । তার মাত্র হাতেগোনা কয়েকটা মানুষ মনে রাখবে এরকম রোল আছে আর খুব কমই এমন সব রোল পান তিনি। তবে তার যে কয়টা চরিত্র চিনি ওর থেকে যাচাই করলে বেশ ভালো কণ্ঠ অভিনয়ই করেন তিনি সাথে তার কণ্ঠটা কিছুটা ব্যতিক্রমী।

তার জনপ্রীয় রোলগুলো হল Another-র মিসাকি মেই, Sakurasou no Pet na Kanojo-র কামিগুসা মিসাকি এবং Highschool DXD-র সৌনা সিট্রি। অথচ এই তিনটা চরিত্রের স্বভাব তিন রকম, আনিমে ৩টি দেখা থাকলেই বুঝতে পারবেন কি বুঝাইসি। তার সবচেয়ে পছন্দের রোল আমার Sakurasou no Pet na Kanojo-র কামিগুসা মিসাকি আর ১ পর্বের জন্য হলেও SKET Dance-এ মিসাকি নামের চরিত্রটিও আমার বেশ ভালো লেগেছে (এই মহিলা কয়টা মিসাকি করে, মাত্তাকু) সাথে Highschool DXD-র সৌনা সিট্রি রোলটাও ভালো লাগসে। Jojo’s Bizzare Adventures: Stardust Crusaders-এর কোন এক পর্বে পলনারেফের সাথে কিছুখনের জন্য জৌতারোও ছোট হয়ে যায় তখন সেই পিচ্চি জৌতারোর কণ্ঠও দিয়েছিলেন তিনি, তবে জৌতারোর আসল সেইয়ূ হল ওনো দাইস্কে। Girls und Panzer-এর মুভিতেও তার একটি রোল আছে, St.Gloriana-এর নতুন সদশ্য রোজ হিপ (Blu-ray বাইর হইয়া গেসে নেটে এখনো আসে না কেন)।

Sakurasou no Pet na Kanojo, Houkago no Pleiades, Denki ga Honya-san, Pretty Rhythm এই আনিমেগুলোর ওপেনিং অথবা এন্ডিংয়ে তার কণ্ঠ ছিল। তার জন্ম February 14, 1987। সব মিলিয়ে ভালো কণ্ঠ-অভিনেত্রী, সামনে তার আরও রোল দেখতে চাই।

Takamori Natsumi