সাইতামা x ইটাচি উচিহা [ফ্যান ফিকশান ক্রসওভার(প্যারোডি)] — Rahat Rubayet

সুপার হিরোরা ভিলেইনদের সাথে মারামারি করবে, পিটিয়ে লাশ বানিয়ে প্যাকেট করে দেবে এটাই অলিখিত নিয়ম। একা একা না পারলে আরো দশটা হিরোর সাহায্য নিবে। এটলিস্ট জাস্টিস লিগ আর এভেঞ্জারস থেকে তাই শিখেছি আমরা। কিন্তু, এক হিরোকে আরেক হিরোর সাথে লড়তে সচরাচর দেখা যায় না। Assosiation of Super-heroes Fans নামক এক সংগঠন আবার এক কাঠি সরেস। তারা প্রায় সকল এনিমে, মাঙ্গা, কমিক থেকে সবচাইতে শক্তিশালী একজন হিরো/ক্যারেক্টার কে আমন্ত্রন জানিয়ে এক কম্পিটিশানের আমন্ত্রন জানিয়েছে।
সেই কম্পিটিশানের ফাইনাল আজ। ফাইনালে উঠেছে নারুটো থেকে উচিহা ইটাচি আর অভাররেটেড পাঞ্চ ম্যান থুক্কু, ওয়ান পাঞ্চ ম্যান থেকে সাইতামাতামা।
ওয়েল, নারুটো থেকে সবচাইতে শক্তিশালী হিসেবে জুবি মাদারা তার ব্যাগ আর রিনেঙ্গান প্যাক করে রেডি হচ্ছিল। নারুটো আর সাস্কে বাইরে দাড়িয়ে উশখুশ করলেও কিছু বলার সাহস পাচ্ছিল না। এমন সময়, ইতাচি এসে মাদারার মাথায় এক চাটি মেরে বসিয়ে দিয়ে তার হাত থেকে সেই ইনভাইটেশান কার্ড নিয়ে হাঁটা শুরু করলো। মাদারা ভয়ে ভয়ে বলতে শুরু করে,
“ইটাচি সেনপাই, আপনি কেন কষ্ট করে আসতে গেলেন? আমি নিজেই আপ্নার বাসায় গিয়ে দিয়ে আসতাম।”
ইটাচি মুখে কিছু না বলে অগ্নিদৃষ্টি হানলো জুবি রিকোডু সেন্নিন মাদারার ওপর, যা আক্ষরিক অর্থেই ছিল অগ্নিদৃষ্টি। কারন, ইটাচির আমাতেরাসুর আগুন ধরে গেল মাদারার গায়ে। টেন টেইল সমেত ইটাচির আমাতেরাসুতে ভস্মীভূত হল রিকোডু সেন্নিন মাদারা। মারা যাবার সময় শুধু বলল,”মাথ্যে ইথা যো হাশিরামা!”
ইটাচি ইনভাইটেশান কার্ড টা নিয়ে সাস্কের দিকে ঘুরেই বলল, “সাস্কে, তোমার জন্যে আমি এই চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটা এনে দেব। এরপর আর কেউ এডওয়ার্ড এলরিককে আমার থেকে সেরা ভাই বলতে পারবে না।”
এতো গেল ইটাচির কম্পিটিশানে আসার ফিলার। সাইতামার আসার কারনটা বলা যাক এবার। ওর বিষয়টা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারন, এই কম্পিটিশান জিতলেই, সে C র‍্যাঙ্ক থেকে এক লাফে S র‍্যাঙ্ক হিরো হয়ে যাবে। এতে ওর এলাউন্সও বাড়বে। আর তার ফলে ওকে ছাড়সমেত কেনাকাটার জন্যে শপিং মল চষে ফেলতে হবে না। সাইতামাকে চিয়ার আপ করার জন্যে গ্যালারিতে বসে আছে মুমেন রাইডার, অত্যন্ত সুপুরুষ পুরিপুরি প্রিজনার আর সাইতামার একমাত্র শিষ্য জেনোস।
পুরিপুরি প্রিজনার চুপচাপ বসে থাকলেও মুমেন রাইডার সাইতামার জন্যে “হিরো হিরো” বলে চিৎকার করে কি এক জ্ঞান গেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জেনোসের এসব দিকে মন দেবার সময় নেই মোটেই। সে ব্যস্ত তার সেন্সের অপোনেন্টকে স্ক্যান করতে। ইটাচির ফুলবডি স্ক্যান করে এসে চোখের কাছে আস্তেই চারদিকে এরোর ম্যাসেজ দেখতে পায় জেনোস। কিছু বুঝে উঠার আগেই ইটাচির গেনজ্যুতসুতে তলিয়ে যায় রোবোটিক দেহসম্পন্ন জেনোস। যদিও যারা চাকরা ইয়্যু করে না, তাদের ওপর গেনজ্যুতসু কাজ করে না। তবুও সামহাউ তা কাজ করল।
ওদিকে ইটাচিকে সমর্থন দিতে গ্যালারীতে দেখা যাচ্ছে সাস্কে আর শিসুই উচিহাকে। বুড়ো ধামরা এক ছোকরা যদি এক গাড়ির কোম্পানির নাম বলে চিৎকার করতে থাকে, তবে তাকে অস্বাভাবিক বলে ধরে নেয়ার নিয়ম। শিসুই আর থাকতে না পেরে, সাস্কেকে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা সাস্কে। তোমার কি মনে হয়, কে জিতবে?”
-“কেন? নি-সান। ওই টেকো লোকটাকে হারাতে এক মিনিট টাইম লাগবে না নি-সানের।”
“কেন তোমার এমন মনে হল সাস্কে?” কিছুটা বিরক্তি মিশিয়ে জানতে চাইল শিসুই।
-“কেন আবার? কিশিমোটো সেন্সেই হিমসেলফ সেইড দ্যাট,……”
মাঝপথেই হাত তুলে ওকে থামিয়ে দেয় শিসুই। তারপর বলে,”আচ্ছা সাস্কে। তোমার নি-সান যেন আমার সাথে ব্যাটেলে কয়বার জিতেছে?”
সাস্কে হাতের কড় গুনতে থাকে,”১,২,৩,৪,…” হটাতই মুখ টা কালো হয়ে যায় ওর। কিন্তু, দৃঢ় গলায় বলল, “তাই বলে ওই টাকলুটা নি-সানের জন্যে কোন ম্যাচই না”
-“বাকা,… আই মিন, বোকা! ওই চকচকে টাকটাই ইটাচির গেনজ্যুতসুর বিরুদ্ধে ওর প্রধান অস্ত্র। ইটাচি এর জন্যেই গেনজ্যুতসু কাস্ট করতে পারবে না। কারন, তা সাইতামার ওই চকচকে টাকে লেগে রিফ্লেক্ট করবে। উলটো ইটাচি নিজেই নিজের জ্যুতসুর স্বীকার হবে।”
সাস্কে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সাইতামার দিকে।
ওদিকে ব্যাটল শুরু ইঙ্গিত দিল রেফারি ইযায়া ওরিহারা। ম্যাচ হচ্ছে একটা বিশাল উপত্যকার মতন জায়গায়, যার চারিপাশে স্টেডিয়ামের মতন করে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জায়ান্ট স্ক্রিনও আছে দর্শকের সুবিধার জন্য। কমেন্ট্রির দায়িত্ব রয়েছে হিসোকা আর গিনতোকির ওপর। আজকের ফাইনাল ম্যাচের আগে এবারের এইচ.এস.সি পরীক্ষার মতোই ২৮ দিনের মতো গ্যাপ পায় ওরা প্রিপারেশানের জন্যে। সে জাজ্ঞে।
লড়াই শুরু হয়ে গেল। কিন্তু, একি!! সাইতামা তখন তার বেল্ট ঠিক করছে। ইটাচি থমকে দাড়িয়ে ওকে জাজ করতে থাকে ওর শারিঙ্গান দিয়ে। এর পরে অ্যাটাকে যাবে কেয়ারফুল্লি।
সাইতামা বেল্ট পরিষ্কার করতে থাকে।

সাইতামা বেল্ট পরিষ্কার করে ওর দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে একটু মাথা ঝাকায় । যার অর্থ, সে রেডি। এরপর, হটাতই ইটাচির একেবারে সামনে এসে পরে। সাইতামা নিরাসক্ত শুরে শুধু বলল, “কঞ্জিকিউটিভ নরমাল পাঞ্চো”
ইটাচি দেখলো সাতামা লুফির থার্ড গিয়ার ইয়্যুজ করলো যেন। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখালেও সাইতামার শক্তি আর এজিলিটি দেখে প্রশংসার সুরে বলল, “উইদ আউট অ্যা ডাউট ইয়্যু আর স্ট্রং, বাট নট ম্যাচিউরড”। বলেই কাক হয়ে উড়ে যেতে থাকে ও। ওদিকে সাইতামা কঞ্জিকিউটিভ নরমাল পাঞ্চ দিতে গিয়েই বোকা বনে যায়। কাকে পাঞ্চ করবে এই মহাশক্তিধর এক ঘুষি-মানব? ইটাচি তার আগেই স্রেফ উড়ে গেছে ওখান থেকে। শুধু অবাক হওয়ার এক্সপ্রেশান দেখা যায় সাইতামার চোখেমুখে। মুখে শুধু বলল, “ও……..”
পাঞ্চ থামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সাইতামা। ইটাচি বুঝলো এটাই তার মোক্ষম সময় আঘাত হানার একই সাথে অপনেন্টকে রিড করার। হ্যান্ড সাইন ওয়েভ করে বল্লল, “ফায়ার স্টাইল, ফিনিক্স ফ্লাওার জ্যুতসু”
অবাক হয়ে পুরো গ্যালারী দেখল, ফিনিক্স পাখির মতোই ইটাচির মুখ দিয়ে বিশাল আগুনের গোলা ছুটে গেল সাইতামার দিকে। ওদিকে কিছু বুঝে উঠবার আগেই সাইতামা দেখলো তার দিকে ভয়ঙ্কর রকমের আগুন তেড়েফুড়ে আসছে। ইটাচি দেখল, মুহূর্তের নোটিসে হাওয়া হয়ে গেছে সাইতামা। ও জানে এই সুযোগ হাতছাড়া করবে না ওই টেকো লোকটা। আক্রমনে যাবেই। তাই সাথে সাথেই সুসানো এরাইজ করলো ও। ওর লাল রঙ্গা সুসানোর এক হাতে ইয়াটা মিরর অন্য হাতে টোতস্কা ব্লেইড।
চোখের কোনে হালকা নড়াচড়া ধরা পরতেই, ইয়াটা মিরর টা সেদিকে পেতে দিল ও। ইয়াটা মিররের বিশেষত্ব হল, তা যে কোন নিনজ্যুতসুকেই কাউন্টার করতে পারে তার আরেকটা চাকরা নেচার দিয়ে। কিন্তু, পিউর এনার্জির কথা আলাদা। তবে এক ঘুষি মানবের ভয়ানক “নরমাল পাঞ্চ” তা ঠেকিয়ে দিতে পারল কোনোমতে। তবে এর পেছনে ইটাচি ফ্যানদের কারসাজি ছিল নাকি সাইতামার ঘুষি আসলেই অতটা পাওয়ারফুল না, সে বিতর্কে না যাই।
ঘুষিটা ঠেকিয়ে দিতে দাতে দাত বাড়ি খায় ইটাচির। কিন্তু, একি!! পুরো গ্যালারি লক্ষ্য করলো একটা ঝোড়ো বাতাসের গতিতে কিছু একটা প্রচন্ড গতিতে ছুটে বেড়িয়ে যায় গ্যালারী থেকে। সবাই তাকিয়ে দেখল, সাইতামার টিকিটিও নেই ব্যাটেল গ্রাউন্ডে।
নিয়মানুযায়ী মঠে প্রতিযোগী ১০ সেকেন্ডের বেশি সময় অনুপস্থিত থাকলে সে ডিস্কোয়ালিফাইড হয়ে যাবে। রেফারি, ইযায়া অরিহারা গুনতে শুরু করে, “১,…..২” দুই গুনে শেষও করতে পারে না, তার আগেই ঠিক ইটাচির পেছনে ধুমকেতুর বেগে হাজির হল সাইতামা। দ্রুত নড়াচড়া ধরা পড়ল ক্যামেরায়। ইটাচির ব্রেইন নড়াচড়া করার জন্যে শরীরে সিগ্ন্যাল পাঠানোর সময়টুকু পায় না। এইটুকুন সময়ের ভিতরেই পুরো পৃথিবী একবার প্রদক্ষিণ করে এসেছে এই C র‍্যাঙ্ক হিরো সাইতামা। তার ডান হাতটা ওর পিঠের ৪ ফিট দূরে এনেই থামিয়ে দিল সাইতামা।
প্রচন্ড ধাক্কায় ইটাচি যেন স্রেফ উড়ে গেল, গ্যালারীর কাছাকাছি জায়গায় মাটিতে আছাড় খেয়ে পড়ল। সুসানো আগেই ভেঙে গেছে ওর। ঊঠে দাঁড়াতে গিয়ে টলতে থাকে। অনেকটাই বিধ্বস্ত লাগছে ওকে। আর রেফারি ইযায়া তখন মিটিমিটি হাসছে। হাঁসতে হাঁসতেই মনে মনে বলল, “অয়েল নাউ। ডাজেন্ট হী রিমাইন্ড মি এবাউট শিজ্যু-চান?”
পরবর্তী ৫মিনিট ইটাচি ক্রমাগত তাইজ্যুতসু স্কিল এর প্রদর্শনী দেখিয়ে গেল। সাইতামা ওর একের পর আঘাতগুলো ঠেকিয়ে দিতে থাকে। কিন্তু, পালটা কোন আঘাত ইচ্ছে করেই হানছে না, নাকি তার ফুসরত পাচ্ছে না, তা নিয়ে খুনোখুনি বেধে গেছে গ্যালারিতে।
তবে, ওদিকে ইটাচি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। যেভাবেই হোক এডওয়ার্ড এলরিক কে পেছনে ফেলে সেরা ভাইয়ের তকমা তার চাই-ই চাই। তার জন্যে ট্রফিটা সাস্কে কে উপহার দেবে। এতে যদি তার ইজানামি ইয়্যুজ করতে হয়, তবে তাই করবে ও। হুম, ইযানামিই ইয়্যুজ করবে ও। ইজানামি তে একটা চোখ হারাবে সে। কিন্তু তাতে কি? নাগাটোর কাছে থেকে তার রিনেঙ্গান টা ছিনিয়ে নেয়া ওর জন্যে 1-2 এর ব্যপার।
ইটাচি দাড়িয়ে দাড়িয়ে চিন্তা করছিল। ওকে দাঁড়াতে দেখেই, সাইতামাও দাঁড়িয়ে পড়লো। এক আঙ্গুল দিয়ে কান চুলকাতে থাকে ও। তারপর সে আঙ্গুল দিয়ে আবার নাক চুলকাতে শুরু করল, সবশেষে পশ্চাতদেশ। ঠিক সে মুহূর্তেই ইজানামি কাস্ট করল ইটাচি।
এতে যা হবার তাই হল। সাইতামা, কান, নাক আর পশ্চাতদেশ চুলকানোর ভেতর একটা লুপে আটকে গেল। বাড়বার ঘুরে ফিরে একই কাজ করতে থাকল সে। মনে মনে হাসলো ইটাচি। ওর কাছে হার স্বীকার না করা পর্যন্ত এই লুপ থামবে না। বাস্তব জগতে স্থির হয়ে দাড়িয়ে থাকাতেই, হটাত সাইতামা লক্ষ্য করলো ওর গালে একটা মশা বসে রক্ত খেতে শুরু করে দিয়েছে। আর যাই হোক, সাইতামা মশা সহ্য করতে পারে না। সঙ্গে সঙ্গেই টাশশশশ! করে চড় বসাল নিজের গালেই। মশাটা মারা পড়ল তৎক্ষণাৎ।
আর ওদিকে ইটাচি অবাক হয়ে দেখল, স্রেফ মশা মারতে গিয়ে ওর ইজানামি ব্রেক করে ফেলেছে ওই C র‍্যাংক হিরো সাইতামা। আর ইজানামি ইয়ুজ করার সাথে সাথেই ওর এক চোখ সাদা হয়ে গেছে। তার সাথে সাইতামার সেই চার ফিট দূরে থামিয়ে দেয়া ঘুষির এফেক্ট দুইয়ে মিলে কাবু করে ফেলেছে ইটাচিকে। মুখ থেকে গলগল করে রক্ত বেরুতে থাকে ওর। হাটু গেরে বসে পড়ল।
দেখতে পেয়েই ছুটে এল সাইতামা। “তুমি অসুস্থ! ওয়ে, জেনোসে! ওকে হাস্পাতাল নিতে হবে!” বলে চিৎকার করে ও। ফিরল, ইটাচির দিকে।
ইটাচি যেন মৃদুস্বরে বলতে থাকে,”বাস্টার্ড! ইয়্যু অয়্যারন্ট ইভেন ফাইটিং!”
ম্যচ রেফরি ম্যাচ সমাপ্ত গোষনা করতেই গ্যালারী চঞ্চনল হয়ে উঠলো আবার।
আর ওদিকে কমেন্টেটোর গিন্তোকি বলতে থাকে, “ইভেন ইফ আর দ্যা মেইন ক্যারেক্টার অফ ইয়োর শো, ইয়্যু স্টিল মেয় ডাই। আই বেটার বি কেয়ারফুলাত্তাবায়ো”
——————–­সমাপ্ত————–­———–
বিঃদ্রঃ সকল ইটাচিটারডদের জন্যে ফিকশানটা উৎসর্গ করা হল!
(আই বেটার বি কেয়ারফুল, দাত্তেবায়ো wink emoticon )

রুফিয়াসের মাঙ্গা থিওরি- পর্ব ৩: বারসার্ক- কাস্‌কার অনুপস্থিতিতে গাটস্‌ এর ব্যাভিচার

Berserk Guts
ইয়ে মানে, আমি জানি আমি বারসার্কের ফ্যানডম এ নতুন। কিন্তু তার পরেও একটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই। অনেকের কাছেই এই কথাটি শুনেছি এবং বিরক্ত হয়েছি। কথাটি হল, গাটস্‌ কাস্‌কার সাথে চিট করেছে।
বারসার্ক মাঙ্গার প্রথম ভলিউম এর প্রথম চ্যাপটার এর প্রথম দৃশ্যটি কি? দৃশ্যটি হল গাটস্‌ একজন নারীর এর সাথে মিলিত হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষনেই সেই নারীটি একজন অ্যাপোস্টল/রাক্ষসীর রূপ নেয় এবং গাটস্‌ কে বলে যে সে তার ফাঁদে বন্দী হয়েছে। তখন গাটস্‌ বলে , ফাঁদে আমি বন্দী হইনি, হয়েছ তুমি। আর তার বাম হাতের লুকানো গোলা দিয়ে উড়িয়ে দেয় রাক্ষসীটার চেহারা। দৃশ্যটি আসলেই ব্যাডঅ্যাস। কিন্তু গাটস্‌ তো কাস্‌কাকে ভালোবাসে। তার পরেও সেই অ্যাপোসটল এর সাথে কিভাবে মিলিত হতে পারল?
গাটসের জীবনের একমাত্র পণ হল সকল অ্যাপোস্টল হত্যা করা। তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য গাটস্‌ যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত। আগুনের উপর ঝাপিয়ে পরে, শত্রুর তলয়ার কামড়ে ধরে, শত ফিট উপর থেকে মাটিরে পরে, যেভাবেই হোক সে লক্ষ্য হাসিল করে ছাড়বে।আরে ভাই, বারসার্কের দুনিয়াটা হল এমন এক ব্যাভিচারের জায়গা, সেখানে গাটসের এই আর অ্যাপোস্টলের সাথে মিলিত হওয়া, এইটা তো কিছুই ছিল না। এভ্রিথিং ইয ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার। গাটসের ওয়ার হল অ্যাপস্টলদের সাথে ।
যেই অ্যাপস্টলটির সাথে গাটস মিলিত হয়েছিল সেটি ছিল সম্ভবত একটি সাকিউবাস। সাকিউবাস হল এক ধরণের মহিলা শয়তান :P। অথবা অপদেবী, যে কিনা পুরুষদেরকে রাতের বেলা সিডিউস করে ক্ষতি করার চেষ্টা করে। এক্লিপস্‌ এর সময় করকাস এর মৃত্যু হয়ে ছিল ঠিক এই রকম এক সাকিউবাস এর হাতে। সাকিউবাস দের ক্ষমতাই হল সিডিউস করা। গাটস্‌ কে সিডিউস করার পরেই হয়ত তারা মিলিত হয়েছিল এবং গাটসের সেখানে হয়ত কোনোই ইচ্ছা ছিল না।
আর গাটস্‌ তো শুধুই কাসকাকেই ভালোবাসে। যেই গাটস্‌ কখনো কাউকে তার নিজের গায়ে ছুঁতেই দিতে চায় না, সে কিভাবে কাসকার সাথে চিট করবে। আর শেষ কথা হল, end justifies the means। গ্রিফিথ সারাজীবন অন্যের চোখে ভালো হয়ে থাকলেও শেষে যা করেছে তার জন্যই সবাই তাকে ঘৃণা করে। গাটস্‌ তাই যতই হিংস্রতার অবলম্বন করুক, তার শেষ কাজটা সম্পন্ন হলেই হল।

Kokou no Hito [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Kokou no Hito 9

কল্পনা করুন, দুর্ভেদ্য তুষারঝড় ভেদ করে বেয়ে চলছেন এক দুর্গম পাহাড়ের খাজ। আপনি পুরোই একলা , তাপামাত্রা মাইনাসের ডিগ্রি চল্লিশেরও নিচে । অসহ্য অমানুষিক পরিশ্রম করে আপনি অবশেষে পৌছালেন পাহাড়ের চূড়ায় । ভোর হয়েছে , হাইপোর্থামিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আপনার হাত পায়ের আঙ্গুল অবশ হয়ে গিয়েছে কিন্তু আপনার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই । আপনার চোখের সামনে সূর্য উঠছে এবং তার আলো পাহাড়ের তুষারে প্রতিফলিত হয়ে চারিদিকে এক মুগ্দ্ধকর আবহ তৈরী করছে । আপনি যেন সারা পৃথিবীর রাজা , আরোহন করেছেন আপনার সিংহাসন । এই অনুভূতির সাথে পরিচিত একমাত্র পাহাড় বাহকরা যাদের আমারা ক্লাইম্বার বলে চিনি । এটাকে একধরণের স্পোর্টসও বলা যায় , কিন্তু এ খেলা হল জীবণ মরনের খেলা , একটি সুতোর ডগায় আপনার জীবন ঝুলছে । কিন্তু যাদের শরীরে এই ভয়ঙ্কর খেলার নেশা ঢুকে যায় তখন তাকে আর কিছুতেই থামানো যায় না । এইরকম অসাধারণ এক স্পোর্টস নিয়ে Shinichi Sakamoto এবং Yoshirō Nabeda এর লেখা আর সাকামতোর আঁকা সেইরকমই এক অসাধারণ মাঙ্গার কথা বলব যার নাম কোকু নো হিতো মানে THE CLIMBER ।

Kokou no Hito 7 Kokou no Hito 12
মাঙ্গার কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম মোরি বুনটারো । রিসেন্টলি সে এক নতুন স্কুলে ট্রান্সফার হয়ে এসেছে । প্রথম দেখায় তাকে মনে হবে এন্টিসোশ্যাল টাইপের কিন্তু ভাল করে লক্ষ্য করে দেখা গেলে বোঝা যায় যে সে আসলে নিসঃঙ্গ নেঁকড়ে মানে লোন উলফ । তো প্রথম দিনই ক্লাসের বুলি প্লাস ক্লাইম্বার মিয়ামটো এর সাথে ঝামেলা পাকিয়ে বসে এবং তার ছুড়ে দেওয়া চ্যালেন্জ নিয়ে খালি ড্রেনেজ পাইপ বেয়ে স্কুলের ছাদে উঠতে যায় , তীরে এসে তরী ডুবতে বসে যখন ছাদের কাছে এসে তার শক্তি ফুড়িয়ে যায় , কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করার আগেই সব শক্তি জড়ো করে দেয় এক লাফ এবং লাফ দিয়েই ছাদের কার্নিশ ধরে ফেলে । তার এই সহজাত ক্লাইম্বিং ক্ষমতা চোখে পড়ে এক শিক্ষক যোগ ক্লাইম্বার ওনিশি সেন্সের এর চোখে । তখন সে মোরিকে বলে এক ক্লাইম্বিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে । ক্লাইম্বিং এর খুটিনাটি শিখায় । এখন আপনার ভাবছেন ” এই আবার এল , আরেকটা নরমাল গতবাধা স্পোর্টস মাঙ্গা ,, কিন্তু আপনি বিশ্বাস করবেন না এর কিছু চ্যাপ্টার পরই কাহিনীর অসাধারণ ৩৬০ ডিগ্রি টার্ণ । সাইড ক্যারেকটারগুলোর ইউনিক ডেভলপমেন্ট এবং বিস্ময়কর পরিণতি । মোরির ধীরে ধীরে হওয়া বিবর্তন । ওর ডে টু ডে লাইফ । বাকি কাহিনীর টুইস্ট মাঙ্গা পড়ে জানতে হবে ।
এই মাঙ্গাকে খালি স্লাইস অফ লাইফ মাঙ্গা হিসেবে পড়া যয় । জীবনের নির্মম বাস্তবতাকে বেশ নিখুত ভাবেই মাঙ্গাকা দেখিয়েছেন ! কাহিনীর পেসিং , ক্যারেকটার ডেভলপমেন্ট , বব মার্লির উপস্থিতি সব মিলিয়ে এক কথায় অসাধারণ একটি মাঙ্গা । মাঙ্গার আর্ট বলতে গেলে বার্সাক , ভ্যাগাবন্ডের কাছাকাছি লেভেলের। অতিরিক্ত ডিটেইলড , চেহারার ইম্প্রেশন গুলো এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দগুলোকে প্রতীকি আর্টের মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন যা এক কথায় অসাধারণ । কাহিনীর মধ্যে একবার ডুবে গেলে সহজে বের হতে পারবেন না । ১৭০ চ্যাপ্টারের এই অসাধারণ মাঙ্গাটি একবার একটু ট্রাই করে দেখুন । আপনার অবশ্যই ভালো লাগবে ।
এই মাঙ্গাকে আমি ১০ এ ১০ দেব ।

Kokou no Hito 1 Kokou no Hito 2 Kokou no Hito 3 Kokou no Hito 4 Kokou no Hito 5

Tamayura – Let’s Photo!! রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

আচ্ছা, ফটোগ্রাফি জিনিসটা আপনাদের কেমন লাগে? কয়েক হাজার মেগাপিক্সেলের মোবাইল ক্যামেরা বা কয়েক কোটি টাকা দামের ডিএসএলআর এর যুগে ছবি তোলা ব্যাপারটা অনেক মামুলি হয়ে গেছে এখন, কিন্তু সেই সময়টার কথা একবার মনে করুন, যখন ফিল্ম ক্যামেরা প্রচলিত ছিল। একটা ফিল্মের লিমিট মাত্র ৩৬ টা ছবি, তাও ছবিগুলো দেখতে হলে আপনাকে টাকা খরচ করে প্রিন্ট করাতে হবে! তখন ছবি তোলার একটা চার্ম ছিল, কারণ মানুষ তখন শুধুমাত্র তাদের জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলোই বন্দী করত ক্যামেরায়। একেকটা ছবি হয়ে থাকত একেকটা গল্পের সাক্ষী।

যে অ্যানিমেটার কথা বলছি, সেটার মূল থিমও তাই, ছবির মাধ্যমে সকলের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয়া।

Screenshot_2016-04-12-07-58-42

তামাইউরা- অ্যানিমেটির নামটি বেশ অদ্ভুত। কিন্তু এই নামের পেছনে রয়েছে সুন্দর একটা অর্থ। বলা হয়ে থাকে, যখন কোন ছবিতে মানুষের মনের উষ্ণতা, তাদের সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ধরা পড়ে, তখন ছবিতে অনেকগুলো সাদা স্ফটিক দেখা যায়। একেই বলে তামাইউরা। আমাদের গল্পের মূল চরিত্র ফু-চান চায়, তার তোলা ছবিগুলোতে যেন এই তামাইউরা ধরা পড়ে।

Screenshot_2016-04-22-13-29-45

ফু-চান একজন হাইস্কুল ফ্রেশম্যান। বাবাকে হারিয়ে অনেকদিন পর্যন্ত সে শকের মধ্যে ছিল, যে কারণে সে তার বাবার কথা মনে করায় এমন সব জিনিস নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল, এমনকি তার বাবার পছন্দের ক্যামেরাটাও।

কিন্তু একদিন বাবার তোলা ছবিগুলো দেখে ফু উপলব্ধি করে, শোক করে নয়, বরং বাবার সাথে কাটানো সুন্দর সময়গুলোকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তোলাটাই হল বাবার প্রতি সন্মান দেখানোর সঠিক উপায়। তাই ফু-চান ঝেড়ে ফেলে সব দুঃখ, আর বাবার প্রিয় ফিল্ম ক্যামেরাটাকে সঙ্গী করে চলে আসে তাকেহারাতে; যেখানে তার বাবার যাত্রা শুরু হয়েছিল।

Screenshot_2016-04-22-13-32-04

তামাইউরা অ্যানিমেটিকে বলা যায় আরেকটি টিপিকাল কিউট গার্লস ডুয়িং কিউট থিংস অ্যানিমে, যেখানে মূল থিম হল ফটোগ্রাফি। কিন্তু এখানে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির দিকে তেমন একটা ফোকাস করা হয়নি, বরং ছবির সাথে আবেগের সম্পর্কটাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যেকারণে ডিজিটাল ক্যামেরার যুগেও ফু-চান ব্যবহার করে ফিল্মের ক্যামেরা, কারণ এটাই তার বাবার সবচেয়ে সুন্দর মেমেন্টো। হাইস্কুল বালিকাদের মজার জীবন, একেকজনের জীবনের লক্ষ্য, হাসিকান্নার মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে এগিয়ে চলে ফু-চানের ফটোগ্রাফি, যে ছবিগুলোতে প্রায়ই সন্ধান পাওয়া যায় তামাইউরার।

অ্যানিমেটির থিম যেহেতু ফটোগ্রাফি, সেই অনুযায়ী সেটিং তৈরি করা হয়েছে খুব সুন্দর দৃশ্য আর উৎসবমুখর পরিবেশ দিয়ে। পর্বের পর পর্ব ওরা শুধু মজা করে যাবে, সেগুলো দেখে আপনারও ইচ্ছে হবে ওদের দলে ভীড়ে যেতে। ফু-চানের তোলা ছবিগুলো দেখানোর সময়টার অ্যানিমেশন অনেক সুন্দর। আর এই অ্যানিমের প্রতিটা ওপেনিং এন্ডিং এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আমার খুবই ভাল লেগেছে।

অ্যানিমেটার একগাদা পার্ট আছে, তাই সকলের সুবিধার্থে আমি সিকোয়েন্সটা লিখে দিচ্ছি-

Tamayura OVA- ৪ টি পর্ব
Tamayura Hitotose- ১২ টি পর্ব
Tamayura Hitotose OVA- ১ টি পর্ব
Tamayura More Aggressive- ১২ টি পর্ব
Tamayura More Aggressive OVA- ১ টি পর্ব

এছাড়া এই অ্যানিমের ৪ টি মুভি আছে।

যদি মনকে শান্তি দেয়া কোন হাসিখুশি দৈনন্দিন জীবন ফোকাস করা অ্যানিমে দেখতে চান, তামাইউরাকে সুযোগ দিতে পারেন।

Screenshot_2016-04-22-18-23-29

Shouwa Genroku-তে আত্নহত্যা, আর রাকুগোর মঞ্চায়ন — Fahim Bin Selim

 

[Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu স্পয়লার সতর্কতা]

ShouwaGen 2

রাকুগো [落語, Rakugo] – আক্ষরিক অর্থ “পড়ন্ত শব্দ(Falling Words)”। মূলতঃ মঞ্চে বসে কেবল এক-দুটো সরঞ্জাম দিয়ে(অধিকাংশ সময়ই একটা কাগজের পাখা একটা ছোট কাপড়ের টুকরো) গল্পবর্ণনার বাচনিক শিল্পমাধ্যম। যদিও এই ধারা বেশ আগে থেকেই জাপানে চলে আসছিলো, তবে মেইজি এরাতে এসে প্রথম “রাকুগো” শব্দটার প্রচলন হয় আর শৌয়া পিরিয়ডে এসে সাধারণের বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। যদিও শেষ পর্যন্ত রাকুগো একটি নিশ(Niche) বিনোদন মাধ্যমই থেকে গেছে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে। একাকীই পুরো অভিনয়টা করতে হয় বলেই রাকুগো করার জন্য প্রয়োজন বেশ বড় পরিসরের কন্ঠবৈচিত্রতা আর বডি-ফেস এক্সপ্রেশনের ছোটখাটো পরিবর্তন দিয়ে বড় ধরনের ভাব আদানের দক্ষতা। এই রাকুগো পারফর্মারদের – যাদের ডাকা হয় “Deshi” বলে – বড় থিয়েটারগুলোতে, বড় উপলক্ষগুলোতে সুযোগ পাওয়ার জন্য পার হয়ে আসতে হয় বেশ কয়েকটি ধাপ। পেতে হয় কমিটির অন্যান্য রাকুগো মাস্টারদের সমর্থন। বিভিন্ন ঘরানার রাকুগো দেখা গেলেও একে সাধারণভাবে ভাগ করা যায় কমেডি, হরর(কাইদান) আর ট্র্যাজেডিতে।

আর Shouwa Genroku-’র গল্পটাতে যে ট্র্যাজিক-ড্রামা তা প্রথম পর্বেই ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়, যা লাফিয়ে বেড়ায় শৌয়া পিরিয়ডের সময়টাতেই, একই সাথে অতীত(চল্লিশের দশক) আর বর্তমানে(সত্তরের দশক)। গল্পের শুরুটা উদীয়মান রাকুগো “অভিনেতা” ইয়োতারোকে দিয়ে ‘৭০ এ হলেও, অন্তত অ্যানিমের প্রথম সিজনের অধিকাংশ সময়টাই তার গুরু কিকুহিকোর সাথে কাটানো, ‘৪০ এর যুদ্ধকালীন আর যুদ্ধপরবর্তী জাপানে। Shouwa Genroku-’র প্রথম পর্বটা, যেটা আগে বেরোনো দুটো OAD-’র পুনর্বণনা আর ৪০ মিনিটেরও বেশি দীর্ঘ, একটা আদর্শ “পাইলট” এপিসোড, পুরো অ্যানিমেটারই একটা খন্ডচিত্র; তা এসথেটিক দিক দিয়েও, গল্পের মেজাজ আর গতির দিক দিয়েও। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর সমাপ্তী, যা আগে থেকেই বলে দেওয়া; বারবার শোনা কোন রাকুগোর মত যেন। আর একারণেই Shouwa Genroku-’র মূল বিশেষত্ব “কী হবে” তাতে নয়, বরং “কীভাবে হবে”-তে আবদ্ধ। মাঙ্গার প্যানেল-বাই-প্যানেল থেকে বেরিয়ে অ্যানিমেশন/সিনেমা মাধ্যমে গল্পের মঞ্চায়নে পরিচালকের নিজস্বতার শুরুটা এখান থেকেই। অনেকটা পার্থক্য তুলে ধরার চেষ্টাতেই যেন, “ভার্বাল স্টোরিটেলিং”-কে কেন্দ্র করে আবর্তিত এক গল্পে তার চরিত্ররা প্রথম থেকেই ভাব প্রদানে ব্যবহার করেছে খুবই কম শব্দ। রহস্য আর নাটকীয় মুহূর্তে সংলাপগুলোকে দমিয়ে দিয়ে বরং মনোযোগ দেওয়া হয়েছে ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং আর নুয়ান্সের উপর।

vlcsnap-2016-04-20-21h11m08s220

vlcsnap-2016-04-20-21h11m14s20

 

পিরিয়ড ড্রামা হিসেবে Shouwa Genroku-’র অর্ধেক আকর্ষন যুগ পরিবর্তনের সাথে সময় রাকুগোর টিকে থাকা, তার সাথে জড়িত মানুষদের টিকে থাকার গল্প; প্রতিভা, সাফল্য, ব্যর্থতা, ভালোবাসা, তাদের টানাপোড়েনের গল্প। আগের থেকেই জনপ্রিয়তা নিয়ে ধুঁকতে থাকা এই মাধ্যম বড় একটা ধাক্কা খায় টেলিভিশন, রেডিও আর সিনেমার মত নতুন বিনোদন মাধ্যমগুলোর আবির্ভাবে। আরও একটা বড় কারণ সম্ভবত এর ঐতিহ্য আর প্রচলিত ধারার বাইরে যাওয়ার বিপক্ষে একগুঁয়েমি। অ্যানিমের পুরোটা জুড়েই শিল্পের এই চিরচেনা অন্তর্দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। দুই মূলচরিত্র সুকেরেকু আর কিকুহিকোর রাকুগো পরিবেশনার বৈপরীত্যটা সামগ্রিক রাকুগো জগতের অবস্থার সাথেই সমান্তরাল টানার চেষ্টা। কিকুহিকো, একজন সহজাত অভিনেতা; সূক্ষ্ণ আর নিখুঁত, ক্রিটিকালি অ্যাক্লেইমড, পিয়ার(peer)-দের ঈর্ষা আর অগ্রজদের প্রশংসার পাত্র; কিন্তু দর্শকদের সাথে তার সংযোগটা, যেটা আর যেকোনো মঞ্চপ্রদর্শনের মতই রাকুগো পারফর্মেন্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কখনোই তার কাছে সহজাত ছিলো না। সুকেরেকুর অবস্থানটা পুরো বিপরীত। তাকে বলা যায় জনগণের রাকুগো পারফর্মার। কমেডি ধারাতেই তার বিচরণ, আর দর্শকদের বিনোদনের জন্য, তাদের সখ্যতা পাওয়ার জন্য কমেডির চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! কিন্তু প্রতিভা থাকলেও তা টিকিয়ে রাখার চাপ সামলাতে সুকেরেকু বারবার ব্যর্থ হয়।

sho Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu 09.mkv_snapshot_11.52_[2016.03.10_17.08.26]

Shouwa Genroku বেশ বড় একটা সময় মঞ্চের বাইরের জীবনের নাটকীয়তা নিয়ে কাটালেও, এর বাকি সময়টা কেবলই মঞ্চের রাকুগো নিয়ে। রাকুগো, এমন একটা শিল্পমাধ্যম যা ধৈর্য্যের পরীক্ষা নেয় বেশ ভালোভাবেই – তা যেমন তার পারফর্মারের, তেমনি এর শ্রোতারও। আর Shouwa Genroku প্রথম থেকেই আমাদের থিয়েটারের ভেতর বসিয়ে দেয়, বেশ কয়েকটি রাকুগো পারফর্মেন্সের পুরোটা দেখিয়ে, যার সবচেয়ে বড়টি প্রায় ১৫ মিনিট।

গঠনগতভাবে, রাকুগো শুরুটা হয় বড় একটা বিল্ডআপের নিয়ে, আর তার শেষটা হয় হঠাৎ কোন সমাপ্তী নিয়ে – কমেডির ক্ষেত্রে কোন রানিং জোক অথবা ওয়ার্ডপ্লে আর ট্র্যাজেডির ক্ষেত্রে পতনের অনিবার্যতার নিয়ে। বিল্ড-আপের মূহুর্তটা ধীরে ধীরে শ্রোতাকে গল্পের ভেতর টেনে আনার প্রচেষ্টা। বক্তা, কেবল শব্দের মাধ্যমেই যে কিনা সকল শ্রোতার কল্পনাশক্তিকে একসাথে চালিত করে ইনডিভিজুয়াল কনশাসনেসকে ছড়িয়ে দিবে সবার মাঝে। Shouwa Genroku-’র পারফর্মেন্সের দৃশ্যগুলোকে এক্ষেত্রে নিখুঁতই।

shogen

পারফর্মেন্সগুলো আমরা দেখতে পাই বক্তা-শ্রোতা দুই পরিপ্রেক্ষিত থেকেই। রাকুগো পারফর্মারকে দূর থেকে দেখা যায়, দর্শকের চোখ দিয়ে, আসন গেড়ে বসা, বিচলিত অথবা আত্নবিশ্বাসী, স্পটলাইটের কেন্দ্রবিন্দুতে। দর্শকের দেখা যায়, বক্তার চোখ দিয়ে, অনিশ্চয়তা অথবা আগ্রহ নিয়ে তাকানো, আধো আলো-ছায়ায়। কিন্তু যতই গল্প এগোতে থাকে, আর যতই গল্পের আবহ আচ্ছন্ন করা শুরু করে, ততই বাস্তবতা বিলীন হয় আর প্রবেশ ঘটে পরাবাস্তবতার জগতে। আমাদের চোখের সামনেই দর্শকরা হারিয়ে যায় অন্ধকারে। অথবা বক্তার নিয়মিত বদলে যাওয়া গলা আর বৈচিত্র্যতা থাকা অঙ্গভঙ্গিগুলো প্রাণ নিয়ে যেন মঞ্চে হাজির হ্য় আলাদা আলাদা সব চরিত্র হিসেবে। শৌয়া পিরিয়ডের টোকিওর কোন থিয়েটারের মঞ্চ রুপান্তরিত হয় এডোর কোন পতিতালয়ের ঘরে। আমরা শ্বাসবন্ধ করে বসে থাকি, দর্শকদের সাথেই, তার যখন হঠাৎ কোন কৌতুকে হেসে ঊঠে তখন আমরাও হাসি। অথবা আঁতকে উঠি শিনিগামির আগমনে।

vlcsnap-2016-04-20-21h10m34s128

কিন্তু কেবল রাকুগোর নিখুঁত মঞ্চায়নই না, তার চেয়েও বেশি কিছু, Shouwa Genroku এক অনবদ্য সিনেমাও। সামনে থেকে না দেখতে পাওয়া পারফর্মারের দেহের অঙ্গভঙ্গিগুলো আমরা দেখি, পারফর্মারের পাশে বসে, আসলেই মিশে একাকার হই, শুধু রাকুগোগুলোর গল্পের সাথেই না, তার পেছনের মানুষটার গল্পগুলোতেও। কোন মোনোলোগ না, কোন আলাদা সংলাপ না – কিন্তু পারফর্মারের মনের ভেতর ঢুকে যেতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না। হয়তো ছোট একটা শট-ফ্রেমিং – পায়ের আড়ষ্টতা বা ঠোটের কোনের সূক্ষ্ণ হাসি – Shouwa Genroku-’র ছোট ছোট দৃশ্যগুলোই হাজার শব্দের একটা ভাব বহন করে।

Shouwa Genroku-’র মূল গল্পের পুরোটাতেও আমরা বসে থাকি অধীর আগ্রহে, এর অনিবার্য ট্র্যাজেডির জন্য। তার চিরচেনা ভাব-গাম্ভীর্য নিয়েই কিকুহিকো যখন বলে যায় আত্নহত্যা অথবা পতনের গল্প – সুকেরেকু, মিয়োকিচি আর…রাকুগোর।

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিভিউ] — Asiful Alam Ayon

ShouwaGen 1

এনিম: Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu/ Shouwa and Genroku Era Lovers’ Suicide Through Rakugo
(দাঁড়ান, দাঁড়ান, নাম দেখেই উল্টো দিকে দৌড় দিবেন না। আগে পুরোটা পড়ুন তারপর সিদ্ধান্ত নিন।)

জনরা: হিস্টোরিকাল, ড্রামা, জোসেই
এপিসোড: ১৩
ম্যাল রেটিং: ৮.৭
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮.৮
রিলিজ: জানুয়ারি, ২০১৬- এপ্রিল, ২০১৬
উৎস: মাঙ্গা
স্টুডিও: Studio Deen

প্লট: একসময়ের জনপ্রিয় রাকুগো আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। রাকুগো হল এক ধরনের শিল্প যার মাধ্যমে একজন শিল্পী একটি গল্পকে এবং গল্পের বিভিন্ন চরিত্রগুলোর সংলাপ উত্তম পুরুষে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেন। বর্তমানে রাকুগোর অষ্টম প্রজন্মের প্রধান হলেন Yurakutei Yakumo VIII যিনি বন্ধুর কাছে Bon প্রেয়সীর কাছে Kiku-san নামে পরিচিত। হঠাৎ একদিন Yotaro নামের এক তরুণ তার কাছে এসে বলে সে ইয়াকুমো সেনসেই এর রাকুগোর পাঁড় ভক্ত এবং প্রচুর অনুনয় বিনয় করে তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য। সারা জীবন অসংখ্য মানুষের এমন অনুরোধকে প্রত্যাখান করে আসলেও কেন জানি এই তরুণের অনুরোধ ফেলতে পারলেন না তিনি। গ্রহণ করলেন শিষ্য হিসেবে, থাকতে দিলেন নিজের বাড়িতে। রাকুগোর প্রতি তরুণটির ভালোবাসা আর তার প্রতি তার পালিত কন্যার ঘৃণা দেখে একদিন ঠিক করলেন নিজের জীবনের কাহিনী খুলে বলবেন তাদেরকে। রাকুগোর মাধ্যমে শুরু করলেন তার জীবনের গল্প বলা, রাকুগো শিল্পী হয়ে উঠার জন্য তার সংগ্রাম আর জীবনযুদ্ধের এক গল্প… তার জীবনের এ গল্প নিয়েই এগোতে থাকে কাহিনী…

হারুকো কুমোতার লেখা অনন্য এই প্লটটির উপরে ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয় এনিমটি। এই এনিমের মজার একটি বিষয় হলো বর্তমান থেকে কিভাবে যে আপনাকে অতীতে নিয়ে যাবে আপনি টেরই পাবেন না। এনিমের পথিমধ্যে আপনার হঠাৎ মনে হবে “একি! গল্পতো বর্তমান দিয়ে শুরু হয়েছিল…!”
এনিমের মূল আকর্ষণ আর
চমকগুলা এই অংশেই।

চরিত্র: এনিমটাতে আপনি পাবেন অসাধারণ সব চরিত্র। একদিকে কিকুর সংগ্রামময় জীবন আর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, আবার অন্যদিকে ফ্রি স্টাইল জীবন যাপন করা বন্ধু সুকেরোকুর সম্পূর্ণ বিপরীত ব্যক্তিত্ব। আর আছে সুন্দরী ললনা মিয়োকিচি যাকে আপাতদৃষ্টিতে বাজে বিরক্তিকর একটা চরিত্র মনে হলেও তাকে ছাড়া গল্পের পূর্ণতা আসে না। প্রচুর ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট রয়েছে এনিমটাতে।

রাকুগো শিল্প আর একেক সময়ে একেক দিকে মোড় নেওয়া চমকে ভরা কিকুর জীবন এনিমটাকে নিয়ে গেছে সম্পূর্ণ অন্য এক স্তরে।

আর্টওয়ার্ক: খুব সুন্দর আর্ট লক্ষ্য করা যাবে এখানে যা মোটেই মার্কামারা বা সস্তা না। দেখলেই বুঝতে পারবেন এনিমটার আর্টওয়ার্ক আর দশটা এনিম থেকে একটু আলাদা। ব্যাকগ্রাউন্ড গুলি যেন জাপানের ঐতিহাসিক পিরিয়ডের ভাইব দিয়ে যাবে…

মিউজিক: মিউজিক নিয়ে খুব বেশিকিছু বলার নেই। ওপেনিং আর এন্ডিং সং এক কথায় পারফেক্ট ছিল। শুনলেই বুঝতে পারবেন কেন একথা বলা.. . বিভিন্ন সময়ের সাউন্ডট্র্যাক আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুলোও ছিল ভালো লাগার মতো।

এনিমটাতে পাবেন মেধাবী কিছু কণ্ঠ অভিনেতাদের, যাদের নাম না উল্লেখ করলেই নয়। আছেন সহকারী চরিত্রের রোলের জন্য বিখ্যাত এবং অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সেইয়ু আকিরা ইশিদা যিনি গিনতামার Katsura Kotaro এর ভয়েস দিয়েছেন । কণ্ঠ অভিনয় ছাড়াও অন্যান্য আরো অনেক ক্ষেত্রে মেধার পরিচয় দেওয়া কইচি ইয়ামাদেরা এবং ইয়োতারোর কণ্ঠ দিয়েছেন অনেক বিখ্যাত চরিত্রের (যেমন: Gilgamesh, Kogami Shinya) কণ্ঠ দেওয়া অভিজ্ঞ ও গুণী সেইয়ু তোমোকাজু সেকি।

গল্পের গাম্ভীর্যতার কারণে অনেকের কাছে এনিমটা ভালো নাও লাগতে পারে। তবে এনিমটাতে দেখানো বিলুপ্তপ্রায় রাকুগো আর এতে যুক্ত শিল্পীদের সংগ্রাম আপনাকে নতুন করে ভাবাবে, আধুনিক নানা বিনোদন মাধ্যমের ভীড়ে কি বিলুপ্ত হতে চলেছে না আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিগুলোও? কত শিল্পীর পরিশ্রমের ফসলে সমৃদ্ধ এককালের জনপ্রিয় আমাদের দেশীয় শিল্প সংস্কৃতিগুলোকে বাঁচানোর জন্য কি করতে পারি আমরা? আপনার এই চিন্তার দ্বার খুলে দিতে সাহায্য করবে Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu. অতএব, সময় নষ্ট না করে দেখে ফেলুন উইন্টার ২০১৬ এর অন্যতম এই সেরা এনিমটি।

ShouwaGen 2

Children who chase Lost voices [মুভি রিভিউ] — Urmi Nishat Nini

Children who chase Lost voices

মুভিঃ Children who chase Lost voices
Director: Makoto Shinkai
IMBD rating: 7.3/10
Personal rating : 7.9/10
Production company: CoMix Wave

জীবনের একটা অংশ হল মৃত্যু। কিন্তু হঠাৎ করে প্রিয় কেউ মারা গেলে সেটা মেনে নেওয়া কঠিন। তারপরও, যারা বেঁচে আছে তাদের নিয়ে জীবনে খুশি থাকা উচিত, এই বার্তাটাই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা এই ছবিতে।

Director Makoto Shinkai, যিনি “Garden of Words”, ” Five centimeters per second” তৈরি করেছেন। ছবির শুরু আসুনা নামের এক middle স্কুলের মেয়েকে দিয়ে, যে তার মা’র সাথে থাকে, বাবা মারা গিয়েছে। মা হাসপাতালে কাজের জন্য বাসায় থাকেন না প্রায় সময় ই। আসুনা একা থাকে, একাই সব কাজ করে। তার বাসার পাশে পাহাড়ে নিজস্ব একটা জায়গা আছে, যেখানে সে তার অবসর সময় কাটায়। হঠাৎ একদিন আসুনা স্কুল থেকে আসার পথে মুখমুখি হয় এক প্রানির, যা আকারে বিশাল, উদ্ভট। সুন নামের এক অদ্ভুত ছেলে তাকে বাঁচায় এই প্রানির হাত থেকে। পরে আসুনা জানতে পারে , সুন এসেছে “Agartha” নামক এক জায়গা থেকে। ওইদিন ই সুন মারা যায়। সুন মারা যাওয়ার পর স্কুলের নতুন আসা শিক্ষক মরিসাকি সেন্সেই এর কাছ থেকে খবর মিলে “Agartha” নামক জায়গা আসলেই আছে, যা মাটির নিচে, মৃত মানুষকে ফিরে পাওয়া যায় ওখানে। এই শিক্ষক মরিসাকি সেন্সেই তাঁর স্ত্রিকে হারিয়েছেন ১০ বছর আগে। তিনি তাঁর স্ত্রী কে ফিরিয়ে আনতে চান। এর মধ্যে ঘটনাপ্রবাহে আসুনা, মরিসাকি সেন্সেই প্রবেশ করে “Agartha” তে। আসুনা ফিরিয়ে আনতে চায় সুন কে, আর মরিসাকি সেন্সেই তাঁর অকালে মৃত্যুবরণ করা স্ত্রী কে। শুরু হয় ২ জনের adventure.

নানা ঘটনা, আর উত্তেজনার মধ্যে চলে পুরো সময় কাহিনি। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক শোনার মত। দেখে ভালো লাগে। সময় থাকলে দেখে ফেলতে বলব এইটা।

Atama Yama [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Atama Yama

Atama Yama (Mount Head)- ৭৫তম এ্যাকাডেমি এওয়ার্ড এ শর্ট ফিল্ম এনিমেশন ক্যাটাগরি তে মনোনয়নপ্রাপ্ত ১০ মিনিটের মুভি। গতানুগতিক ধারা থেকে অনেকটাই আলাদা এই মুভি। গ্রাম-গঞ্জে যেমন সুর করে পুঁথিপাঠ করা হয়, অনেকটা তেমনই করেই রাকুগো-টেলার তাকেহারু কুনিমোতো তার দরাজ কন্ঠে গল্পের কাহিনী এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সাথে পুরো মুভি জুড়ে শামিশেনের সুর অন্যরকম আবহের সৃষ্টি করে। মুভিটায় আমরা মানবমনের গভীর ভয়,উৎকন্ঠা কিংবা আত্মগ্লানির এক মিশেল দেখতে পাই।
ছোটবেলায় আমরা কম-বেশি সবাই বড়দের বলতে শুনেছি ফলের বিচি খেলে নাকি মাথায় গাছ উঠবে। যার কারণে কোনসময় ভুল করে খেয়ে ফেললে ভয়ে সারারাত ঘুম হতো না। এই মুভির প্রধান চরিত্র এক মধ্যবয়সী কৃপণ লোক যিনি কিনা কাউকে ধার দেন না এবং কোন জিনিস যতই ফেলনা হোক না কেন তা ব্যবহার করতে চান। যার কারণে তার বাড়িভর্তি আবর্জনার স্তূপ। যাই হোক একদিন তিনি কিছু চেরীফল মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি সেগুলো ঝুড়ি করে বাসায় নিয়ে আসেন। তো একটি চেরী খাওয়ার পর তিনি চিন্তা করেন, বিচিটা শুধু শুধু নষ্ট হবার চেয়ে বরং খেয়েই ফেলি। তো কিছুক্ষণ পর দেখলেন তার মাথায় চেরীফলের গাছ উঠছে। তিনি একবার কাটেন। কিন্তু লাভ হয়না বরং গাছটি বেড়ে উঠতে থাকে। তো একসময় তিনি ব্যাপারটা মেনে নেন। গাছটি চেরীফুলে ভর্তি হয়ে যায় এবং এর খ্যাতি চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। তখন লোকটির মাথা হয়ে উঠে পিকনিক স্পট। সব ভালই চলছিল। একদিন ভীড় বেড়ে যায়। লোকটির মন-মেজাজও খারাপ হতে থাকে। একসময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে তিনি গাছটিকে উপড়িয়ে ফেলেন। এরপরের কাহিনী নিজেকেই জানতে হবে। এটা লিখে বোঝানো সম্ভব না।

এবার গূঢ় অর্থটি ব্যাখ্যা করি। লোকটির মাথা যখন প্রথম পিকনিক স্পটে পরিণত হয় তখন কিন্তু লোকটির লাভ ই হয়। কারণ দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ জায়গাটি দেখতে আসে। যার ফলে লোকটি ফায়দা নিতে পারে। একসময় দেখা যায় মানুষ ঐ জায়গাটি যথেচ্ছ ব্যবহার করছে, ফলস্বরূপ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এবং একসময় লোকটি গাছটি উপড়ে ফেলতে বাধ্য হয়। এখন চেরীব্লসমের জায়গায় নিজেদের মেধা ও মননের কথা একটু চিন্তা করি। আমাদের প্রত্যেকের মেধা আলাদা। এই মেধা যদি মানবজাতির কল্যাণে কাজে আসে তবেই সার্থক। অনেকসময় দেখা যায় এই কল্যাণের পথ পাড়ি দেবার সময় আমাদের অন্য কোন মাধ্যমের দ্বারস্থ হতে হয়। অর্থাৎ আমাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোন মাধ্যম মানব কল্যাণকর কাজে তৎপর হয়। একসময় এই মেধা তাদের স্বেচ্ছাসারীতার কাছে বলি হয়। অনেকটা আমাদের মেধাস্বত্ব কিনে নেবার মত। কিন্তু এর ফলাফল হয় মারাত্মক। যার কারণে আমরা এমন সব হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই যা কখনই কাম্য নয়। একসময় নিজের মেধা নিজের কাছেই অচেনা মনে হয়। ফলে আমরা ক্রমাগত অন্ধকারে ডুবতে থাকি। মানবমনের এই অন্তর্কলহ ফুটে উঠেছে এই মুভিতে।
ওয়েল, আমি এই মুভির সব রিভিউ দেখেছি। কিন্তু আমার চিন্তা-ভাবনার সাথে এর অন্যান্য রিভিউগুলোর কোন সাদৃৃশ্যই নেই। তাই নিজের কাছে নিজের প্রশ্ন আমি কি আসলেই এর তাৎপর্যটা ধরতে পেরেছি?

এই মুভি একেকজনের কাছে একেকরকম লাগতে পারে। তাই আপনার জীবনে যদি সময়ের মূল্য না থাকে এবং গভীর ভাবনায় ডুবে যেতে চান তাহলে আপনার জন্য একদম পারফেক্ট এই মুভি।

Ajin [এনিমে রিভিউ] — Amor Asad

Ajin 1

Ajin: অসাধারণ! মাইন্ডব্লোয়িং!
*** (স্পয়লার নেই ) ***

মানবজাতির টলারেন্সের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। যেকোন যুগে যখনই কোন অজ্ঞাত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, কঠোর, ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্ধযুগ আগে ইউরোপজুড়ে উইচ হান্টের স্বীকার হয়েছিল হাজারে হাজারে নারী; বিভিন্ন নতুন নতুন রোগ আর মহামারীর পিছে জাদুটোনার কালোহাত দেখিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে তাঁদের – তাও চার্চের সম্মতি বা ইশারা থাকায় পবিত্র দায়িত্ব মনে করে।
বিজ্ঞানের যাত্রার শুরু থেকেই প্রাচীন বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের অত্যাচার থেকে হত্যা পর্যন্ত করা করেছে। এ উপমহাদেশেও অতীতে বহুত প্রচলিত রীতি ছিলো যা এখন শুনলে গা শিউড়ে ওঠে। বর্তমান পৃথিবীতে এমনকি আমাদের দেশেই কাছাকাছি ঘটনা থেকে সাদৃশ্যতা দেখানো যাবে – সেদিকে আর না যাই।

মোট কথা, মানুষ যেটা বোঝে না – সেটাকে দুমড়ে মুচড়ে ধ্বংস করে ফেলতে উপক্রম হয়; অনেকে এতে তুষ্টিও খুঁজে পায়। ব্যপারটা আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ঠুর আর অবিবেচক বলে মনে হলেও; এই রেসপন্সের মূল কারণ হচ্ছে – ভয়।
অগ্রসরমান সভ্যতা আর সামাজিক শুভবোধের দোঁহাই দিয়ে নিজেদের আসল বৈশিষ্ট্য ধামাচাপা দিয়ে রাখি বটে, কিন্তু আদতে আমরা এই গ্রহের টপ প্রিডেটর। তাই যদি অন্য কোন স্পেসিস বা এনটিটি আমাদের অবস্থানের জন্যে হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায় – সম্মিলিত ভয় থেকে সমস্বরে ‘kill them all” উচ্চারিত হওয়া আমাকে অবাক করবে না।

এধরণের একটা প্লটে নির্মিত Ajin, পার্থক্য হচ্ছে এখানে মানবজাতির জন্যে হুমকিস্বরূপ প্রজাতি আসলে মানুষের বিবর্তিত একটা রূপ, যেখানে এই আলাদা মানুষরা অমরনশীল – না, ঠিক অমর নয়, মৃত্যুর পর পরই পুনঃজীবন লাভ করে। এদের আলাদা একটা ক্ষমতাও রয়েছে।

ইমরটালিটি বা অমরনশীলতা অর্জনের চেষ্টা প্রাচীনকাল থেকে বহু সভ্যতার বিভিন্ন কাল্ট, ব্লাক ম্যাজিক চর্চাকারীদের মধ্যে প্রচলিত। স্বভাবতই সাহিত্য, সিনেমা বা অন্যান্য শিল্প মাধ্যমেও উঠে এসেছে। স্রেফ অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রিতে থেকেই বহুত রেফারেন্স দেয়া যাবে। Ajin কোন দিক দিয়ে আলাদা?

ইমরটালিটির বেশীরভাগ চিত্রায়নের সাথে আজিনের পার্থক্য হচ্ছে এটা ভিত্তিহীন ফ্যান্টাসি না; বরঞ্চ সাইন্স ফিকশন – এবং গল্পকথন একেবারেই স্বতন্ত্র। পরিচালক এবং লেখক খুব যত্নের সাথে সবকিছু ব্যাখ্যা করতে না গিয়ে অর্ধেকটা দর্শকের দুয়ে দুয়ে চার মেলানোর ক্ষমতার উপর ছেঁড়ে দিয়ে গল্পের প্রয়োজন অনুসারে কাহিনী এগিয়েছেন। এধরণের অ্যানিমেতে এই চর্চাটা খুব উপভোগ্য হয়।
সেই সাথে প্রতি এপিসোডের মেকিং প্রায় নিখুঁত বলা যায় – সাসপেন্স/মিস্টেরি আর সাই-ফাই সিরিজ হিসেবে প্রতি এপিসোডে টান টান উত্তেজনা বজায় রেখেছে Ajin. সেই সাথে যোগ হয়েছে রক্তে দোলা দেয়া ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।

এছাড়াও Ajin পছন্দ করার আরো কিছু কারণ আছে।
অপ্রয়োজনীয় চরিত্র একেবারেই নেই বলতে গেলে, পার্শ্ব চরিত্রগুলোর প্রতি ফোকাস করা হয়নি বিনা দরকারে, প্রধান চরিত্রকে দুনিয়ার সেরা মানব আর শুভবুদ্ধির ডিপো হিসেবে দেখানো হয়নি, হাঁটতে চলতে দুধের বাচ্চাদের কড়া জীবনবোধ মার্কা দর্শন চিপকাতেও দেখা যায় না। এসব জিনিষ অ্যানিমেতে কষ্ট করে সহ্য করে যাই; বলাই বাহুল্য Ajin দেখতে গিয়ে তৃপ্তির হাঁসি কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আমার রেটিং – ৮.৫/১০

পুনশ্চঃ সিরিজের ভিলেনকে আমার কাছে অ্যান্টিহিরো মনে হয়। তাঁর দৃষ্টিকোণ একেবারে ফেলনা না এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারি।
পুনশ্চ ২ঃ Don’t care about the art style, never did, never will. This is a trivial issue and we really don’t watch animes to praise animation style, do we?

Ajin 2

Ping Pong The Animation রিভিউ — Zahin Mobashshir

Ping Pong

কোন এনিমেকে পার্ফেক্ট কখন বলবেন?

যদি এনিমেটি দেখে আপনার খায়েশ মিটে?

যদি এনিমেটি দেখে তৃপ্তি পান?

যদি এনিমেটি দেখার সময় অন্যসব কিছু ভুলে যান এবং এরপরের এপিসোড না দেখে উঠতে পারেন না?

সবার উত্তর কখনওই এক হবে না, হওয়াটাই বরং অস্বাভাবিক।

Ping Pong The Animation

এপিসোড সংখ্যা: ১১

Genre: Psychological, Seinen, Sports.

এনিমেটির কাহিনী একদমই সাধারণ। দুই বন্ধু পিং পং তথা টেবিল টেনিস খেলতে ভালবাসে। তাই দুইজনেই স্কুলের টেবিল ট টেনিস ক্লাবে অংশ নেয়। একজন অনেকদিন হইল টেবিল টেনিস খেলে যার নাম Yukata Hoshino। তার প্রতিভা নিয়ে ক্লাবের কারও কোন সন্দেহ নেই কিন্তু প্রতিভা থাকলে যা হয়, অহংকারে পরিপূর্ণ Hoshino এর মন। তার মতে তার থেকে ভাল কোন প্লেয়ার থাকতেই পারে না। অহংকারবশত তাই সে নিয়মিত প্রাক্টিসে যায় না এবং খবরদারি করে ঘুরে বেড়ায়। অন্যদিকে তারই বন্ধু Makoto Tsukimoto। এই ব্যক্তি টেবিল টেনিস খেলা নতুন শুরু করলেও সে কখনওই প্রাক্টিস ফাকি দেয়া না এবং নিয়মিত খেলেই যায়।

দুই বন্ধুর পিং পং খেলার কাহিনী নিয়েই এনিমেটি এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইন্টার হাই টেবিল টেনিসে গিয়েই তাদের জীবনের ঘুড়ি পালটায় যায়।

এবার আগের কথায় ফিরে আসি।
এনিমেটি দেখার পরে অনেককেই রিকমেন্ড করেছিলাম। কেউই এখন পর্যন্ত বলল না যে এনিমেটি অসাধারণ ছিল।
সবার মতামত মিলবে তা হওয়া সম্ভবপরও নয়।

এনিমেটি যে কারনে আমার কাছে মাস্টারপিস লেগেছে তার প্রধান কারন ছিল এর জনরা। একটা স্পোর্টস এনিমেতে কি করে সাইকোলজিক্যাল জনরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?!!!

এই প্রশ্নের উত্তর যারা খুঁজে পেয়েছেন তাদের কাছেই কেবল এনিমেটির স্বার্থকতা ধরা পড়েছে।

এনিমেটির জনরায় সাইকোলজিক্যাল অন্তর্ভুক্ত করার কারন খুঁজে পাওয়ার কারনেই এটা আমার কাছে মাস্টারপিস লেগেছে।

এবার আপনারাও এই ১১ পর্বের এনিমেটি দেখে যাচাই করে দেখতে পারেন।