Beastars [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

এই উপমহাদেশের লোকগল্পের একটা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এতে প্রচুর পরিমাণে anthropomorphic চরিত্র ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের জীবনের নানা কাহিনীর বর্ণায়ন করা হয়। ছোটবেলায় শেয়াল পণ্ডিত আর কুমিরের বাচ্চাদের সেই কাহিনী শুনে নি এমন কেউ বোধহয় নেই। এই গল্পে পশুপাখির মাধ্যমে যেভাবে মানব চরিত্রের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে সেটাকেই anthropomorphism বলে। লোকগল্পে এই উপাদানটার ব্যবহার বেশ পুরনো। অনেক অনেক আগের পঞ্চতন্ত্রে যেমন এর ব্যবহার আছে, আমাদের সুপরিচিত ঠাকুরমার ঝুলিতে আম-সন্দেশ নামের একটা অধ্যায়ই আছে পশুপাখির মাধ্যমে বলা রূপকথাগুলো নিয়ে। আধুনিক সাহিত্যেও এর ব্যবহার আছে। লর্ড অফ দ্যা রিংসের কথা উল্লেখ করা যায় আর জর্জ অরওয়েলের অ্যানিমেল ফার্মের কথা তো সবারই জানা।

তো জাপানিজ পপ কালচারে জিনিসটা যেভাবে ব্যবহার করা হয় সচরাচর তাকে আর যাই হোক সুশীল কিছু বলা যায় না। ইন্টারনেটে furry কমিউনিটির কার্যকলাপ অনেক দেখা যায়, তা নিয়ে আমার কোন আপত্তি নেই। অন্যকে বিরক্ত না করে সবাই যার যার আগ্রহের জিনিস চর্চা করা মোটেই খারাপ কিছু নয়।

তো এই গতানুগতিক ধারায় একটা নতুন হাওয়া নিয়ে আসা এনিমের নাম Beastars. সিরিজটা একই নামের একটা মাঙ্গা থেকে অ্যাডাপ্ট করা হয়েছে। সেই ২০১৬ সাল থেকে মাঙ্গাটা চলছে, অথচ এতদিন এটা নজরেই পড়ে নি কখনো।

বিস্টার্সের দুনিয়া আমাদের দুনিয়ার মতই এক দুনিয়া যেখানে পশুপাখিরা মানুষের মত সামাজিক জীবনযাপন করে। মানবসমাজে সাধারণত যা দেখা যায় তার সবই আছে সেখানে শুধু মানুষই নেই। সেখানে নগর, বন্দর, সভ্যতা যা বলা যায় সবই আছে। এখানে পশুপাখি মানুষের মত নয়টা-পাঁচটা অফিস করে বাসায় এসে সন্তানের কপালে চুমু খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। তারা সুখ পেলে হাসে, দুঃখ পেলে কান্নাও করে। ধর্ম, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সবগুলা superstructure ই সেখানে দারুণভাবে বিদ্যমান।

তবে মানবসমাজের হাজার বছরের পুরনো অভিশাপ বর্ণবাদ বিস্টার্সের দুনিয়াতে এখনও প্রবলভাবে নিজের আসন গেঁড়ে বসে আছে। বিস্টার্সের সমাজ মোটা দাগে তৃণভোজী ও মাংসাশী; এই দুই জাতিতে বিভক্ত। সমাজে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় এখানে তৃণভোজী আর মাংসাশীরা একই সাথে বসবাস করে। তারপরেও সর্বদা একটা অদৃশ্য টেনশন কাজ করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। মাংসাশীরা কোন একদিন নিজেদের মধ্যকার
শিকারী সত্ত্বার কাছে হার মানবে এই ভয়ে তৃণভোজী প্রাণীরা সবসময়েই তটস্থ থাকে।

সেই দুশ্চিন্তায় জ্বালানি যুগিয়ে দেয় এনিমের শুরুতেই ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা। তেম নামের এক মেষকে মৃত ও আধাখাওয়া অবস্থায় আবিষ্কার করা হয় চেরিংটন হাইস্কুলের অডিটোরিয়ামে। ধারণা করা হয় তেমের কোন মাংসাশী সহপাঠীই খুনটা করেছে। পুরো স্কুলে একটা আতংকের জোয়ার বয়ে যায়। তৃণভোজী প্রাণীরা রাত ও অন্ধকার এড়িয়ে চলতে শুরু করে আর তাদের মাংসাশী বন্ধুদের অবিরাম সন্দেহের চোখে রাখা শুরু করে।

তো এসব ঘটনার সাক্ষী চেরিংটন হাইস্কুলের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমাদের প্রোটাগনিস্ট লেগোসি। এই স্কুলের সবাই ডরমিটরিতে থেকে পড়াশুনা করে। লেগোসি একজন নেকড়ে, লম্বা একহারা তার গড়ন; চালচলনে একজন স্বাভাবিক নেকড়ের পুরো উল্টো সে। ক্লাসের সবাই লেগোসিকে ধোয়া তুলসি পাতা বলেই জানে, কারোর সাত-পাঁচ কোনটাতেই নেই সে। তেম নামের সেই মেষ ছিল ড্রামা ক্লাবে তারই ক্লাসমেট, তাই মানসিকভাবে সেও কিছুটা মুষড়ে পড়ে।
তার পরের দিনই লেগোসির জীবনে একটা মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে যায়। ড্রামা ক্লাবের একটা কাজের জন্য সে যখন ক্যাম্পাসে রাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে তখন তার চোখে একাকী এক খরগোশকে চোখে পড়ে। দেখামাত্রই চকিতে তার মধ্যের শিকারী মনোভাব জেগে উঠে। সারাজীবনেও সে যে কাজ করার কথা ভাবে নি সে তাই করে বসে, প্রচণ্ড এক লাফে সে সেই খরগোশটার উপর ঝাপিয়ে পড়ে…

থিমের দিক দিয়ে চিন্তা করলে বিস্টার্স অসাধারণ একটা গল্প। সুক্ষ্ম ও স্থূল, দুই ভাবেই এখানে এই এনিমেতে বর্ণবাদের নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শ্রেণী বৈষম্যকে পশুপাখির মাধ্যমে বেশ বাস্তবভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই এনিমের গল্পে। আধুনিকায়ন যে আসলে আদিম সমাজের শিকারী ও শিকার মনোভাবকে দমিয়ে রাখতে পারে না তার সুন্দর চিত্রায়ণ ঘটেছে এই এনিমেতে। টুকরো টুকরো অনেক জায়গা আছে বিস্টার্সে যা আসলে মানবসমাজের অনেক অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এর ফলেই বিস্টার্স পরিণত হয়েছে একটা দারুণ সাইকোলজিকাল এনিমেতে। এখানে হাইস্কুলের একগাদা ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে পুরো সমাজব্যবস্থাটাকেই সুনিপুণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই জায়গায় মাঙ্গাকার প্রশংসা করতেই হবে, এরকম ভিন্নধর্মী চিন্তাভাবনা সচরাচর দেখা যায় না। কিশোর-কিশোরীরা গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় coming-of-age স্টোরি হিসেবেও বিস্টার্সকে অনবদ্য মনে হয়েছে আমার কাছে।

বিস্টার্সের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক নিঃসন্দেহে এর চরিত্রগুলো। এখানে মাঙ্গাকার প্রশংসা করে কুলানো সম্ভব নয়। তিনি রীতিমতো বাধ্য করেছেন আমাদের চরিত্রগুলোকে মানুষের মত বিবেচনা করতে। কল্পনাশক্তি ও বাস্তবতাবোধের পরিমিত মিশ্রণ না ঘটাতে পারলে বিস্টার্সের চরিত্রগুলো এত ইন্টারেস্টিং হতো না। নানা দ্বন্দ্বে ভোগা লেগোসি, জীবনের কোন অর্থ খুঁজে না পাওয়া খরগোশ হারু, অতি উচ্চাভিলাষী হরিণ লুই; এই তিনটি ক্যারেকটারের আচার-আচরণ যেন আমাদের জীবনের পাতা থেকেই তুলে আনা। ছোট ছোট চরিত্র যেমন লেগোসির কৌহাই আরেক নেকড়ে জুনো আর তার ড্রামা ক্লাবের ক্লাসমেটগুলো অনেক কম স্ক্রিনটাইম পেয়েও নিজেদের কাজ পুরোপুরি করতে সমর্থ হয়েছে। সাথে আছে বিপদের বন্ধু পান্ডা গিওর্নো-সান যে কিনা লেগোসির কমপ্লেক্স সাইকোলজির উপর আলোকপাত করতে সমর্থ হয়। চরিত্রগুলো একে অপরের প্রতি যে অনুভূতিগুলো ধারণ করে থাকে যেমন: লেগোসি-হারু-লুইয়ের ত্রিভুজ প্রেম দ্বন্দ্ব, বিলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা তৃণভোজীদের প্রতি ঘৃণা আর সে সুবাদে লুইয়ের প্রতিও সুপ্ত জিঘাংসা মনোভাব, জুনো আর হারুর মধ্যে লেগোসিকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা; এগুলো এত এত বাস্তব যে পশুপাখির মুখোশের আড়ালে যেন নিজেদের চেহারাই দেখতে পাই। শুধু নেতিবাচক ঘটনগুলোই মনে দাগ কাটে এমন নয়, কিছু ছোট ছোট ইতিবাচক ঘটনাও আমাকে দারুণ স্পর্শ করেছে। ব্ল্যাক মার্কেটে পথ হারানো লুই যখন শেষে দেখে তার মাংসাশী বন্ধু আওবা সৎবিৎ ফিরে পেয়ে তার মতই অন্ধকার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন লেগোসির মত আমিও সমান আনন্দিত হই এত এত আবর্জনার ভিড়ে এমন এক পদ্মফুল ফুটতে দেখে। আরেকটা ছোট গল্প খুব ভাল লেগেছিল, সেটা হল লেগোসির ক্লাসে তার পাশে বসা মুরগীর কাহিনী। এই মুরগীর মত মানবিক চরিত্র কমই আছে এই সিরিজে আর সেটা সে তার পাঁচ মিনিটের উপস্থিতিতেই বুঝিয়ে দিয়ে সক্ষম হয়েছে। মুরগীটা নিয়মিত উন্নতমানের ডিম পাড়ে যেন মাংসাশীদের পুষ্টির অভাব না হয় সাথে এটাও যেন না হয় যে মাংসাশীরা খাদ্যের অভাবে তাদের সুপ্ত প্রবৃত্তির কাছে হার না মেনে ফেলে। এরকম সর্বমুখী আদর্শবাদী কাজকর্ম সমাজে এখন বিরল।

বিস্টার্সের একটা বড় থিম হলো শিকারী প্রাণীদের শিকার করার প্রবৃত্তি ও তা নিবৃত্ত করার জন্য সমাজব্যবস্থার গ্রহণ করা নানা পদক্ষেপ। এই জায়গাটাতে এসে আমি চিন্তার খোরাক পেয়েছি অনেক। শিকার করা যদি মাংসাশীদের মজ্জার মধ্যে মিশেই থাকে তাহলে সেটাকে এভাবে নিয়মকানুন দিয়ে চাপিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টাটা আসলে কতটা সফল? আমরা মানুষেরা এভাবে নানা বেড়াজালের মধ্যে ক্রমাগত আটকে থেকে আসলেই নিজেরাই নিজেদের বন্দী করে রাখছি, বিপরীতে অন্যান্য সৃষ্টিকুল নিজেদের প্রবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত হয়ে একটা স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে; এরকম চিন্তা বিস্টার্স দেখে আবারও এসেছে আমার মাথায়। বিস্টার্সের দুনিয়ার নাগরিকরা মানুষের মত নিজেদের নানা নিয়মে আবদ্ধ রেখে এই অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। আর এই অস্বস্তিকর পরিবেশে তৈরি হওয়া টেনশনকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে মাঙ্গাকা এই ভাল ভাল গল্পগুলো উপহার দিয়েছেন আমাদের। এই জায়গায় আবারও মাঙ্গাকার ভূয়সী প্রশংসা করবো।

অ্যানিমেশনের প্রসঙ্গে আসি। কোন এনিমের সাথে সিজিকে এত সুন্দরভাবে খাপ খাওয়াতে খুব কমই দেখেছি বিস্টার্সের মত। দেখে মনে হয়েছে মাঙ্গাটা লেখাই হয়েছিল এভাবে থ্রিডি সিজিতে তৈরি করার জন্য। সিজির ব্যবহারে যে জড়তা তৈরি হয় অ্যানিমেশনে, সেটা ব্যবহার করে এনিমেটা আরো দশগুণ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। রটোস্কোপিক অ্যানিমেশনের কারণে যেমন আকু নো হানার এনিমে রীতিমতো জান্তব হয়ে উঠেছিল। এনিমেটা স্টুডিও অরেঞ্জের বানানো, যারা এর আগে Land of the lustrous বানিয়ে সিজির ঝলক দেখিয়েছিল। এই স্টুডিও কোন মাঙ্গা অ্যাডাপ্ট করার সিদ্ধান্ত নিলে সেটার এনিমে ভিন্ন একটা আবহ নিয়ে বের হয়ে আসে। সামনে তাদের আরো একক কাজের অপেক্ষায় রইলাম।

ওপেনিং সং Wild একটা অসাধারণ মিউজিক কম্পোজিশনের উদাহরণ। ইউটিউবে দেখলাম আর্টিস্ট ব্যান্ড ALI একটা মাল্টিন্যাশনাল গ্রুপ। জ্যাজ আর র‍্যাপ মিশিয়ে তারা দারুণ একটা গান তৈরি করেছে। আর এর সাথে সমানভাবে তাল মিলিয়েছে স্টপ মোশন অ্যানিমেশনে বানানো ওপেনিং ক্রেডিটটা। ওপেনিং ক্রেডিটটা সিরিজটাকে আরো জান্তব করে তুলেছে। বিশেষ করে That’s called Jazz বলার মুহূর্তে যে রক্তের দৃশ্যটা দেখানো হয় তার মত ক্রিপি দৃশ্য আমি কমই দেখেছি। এরকম অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়েছিল আরেক গ্রেট সাতোশি কনের এনিমে Paranoia Agent এর ওপেনিং ক্রেডিট দেখার সময়। চরম অস্বস্তিকর হওয়ার পরেও একবারও স্কিপ করতে পারি নি ওপেনিংটা।

২০১৯ সালের অনেকগুলো ভাল এনিমে দেখা বাকী পড়ে ছিল এতদিন, বিস্টার্স তার মধ্যে একটা। এখন আফসোস হচ্ছে আগে দেখে থাকলে টপচার্টে সাইকোলজিকাল পোলে একে ভোট দিতে পারতাম। বিস্টার্স নিঃসন্দেহে ম্যাচিউর ঘরানার এনিমে দর্শকদের জন্য বড় একটা উপহার। আবার নেটফ্লিক্সে সম্প্রচারিত হওয়ার কারণে অনেক নন-এনিমে দর্শকও এনিমের প্রতি ঝুঁকবে এর মাধ্যমে। সেকেন্ড সিজনের ঘোষণাও এসে গেছে শুনলাম। মাঙ্গাটা পড়বো কিনা ভাবছি। সিরিজের অ্যানিমেশনের স্টাইল নিয়ে মাঙ্গা ফ্যানদের বেশ কিছু আপত্তিও দেখলাম।

সবশেষে, ম্যাচিউরড ও কিঞ্চিৎ ডার্ক জিনিস পছন্দ করা দর্শকদের জন্য বিস্টার্স প্রচণ্ডভাবে রেকমান্ডেড। Furry জিনিস বলে একে এড়িয়ে যাবেন না।

Sakib’s Hidden Gems – Episode #12

আনিমে: Michiko to Hatchin (Michiko & Hatchin)

জানরা: একশন, অ্যাডভেঞ্চার
এপিসোড সংখ্যা: ২২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/4087/Michiko_to_Hatchin

গল্পের মূল চরিত্র দুইটি – নয় বছরের মেয়ে হানা মরেনোস ওরফে হাচিন আর যুবতী মহিলা মিচিকো ম্যালান্ড্রো। মা-মরা হাচিনের বাবা হলো কুখ্যাত গ্যাং লীডার হিরোশি মরেনোস, যে পুলিশের থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আর ওদিকে হাচিন পড়ে আছে ওকে দত্তক নেওয়া এক পরিবারের কাছে, যারা ওর জীবন দুর্বিষহ করে ফেলেছে। অন্যদিকে স্বাধীনচেতা মিচিকো হল বারবার জেল পালানো আসামী। প্রথম জীবনে সে হিরোশির প্রেমে মজে গিয়েছিল। পরে সে বহু খুঁজেও ওর দেখা পায় নি। কিন্তু জেলে থাকা অবস্থায় সে হিরোশির মেয়ে হাচিনের কথা জানতে পায়, আর ওর সাহায্যে হিরোশিকে খোঁজার আরেকটা চেষ্টা চালায়। এই জন্য সে আবার জেল পালিয়ে হাচিনকে দত্তক নেওয়া পরিবারের ওখানে হামলা করে হাচিনকে নিয়ে আসে। এরপর চলতে থাকে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ওদের হিরোশিকে খোঁজার অভিযান।

বেশ সিমপ্লিস্টিক সেটিং হলেও আনিমেটি খুব মজার। ল্যাটিন আমেরিকার সেটিং-ওলা আনিমেটি ক্যারাক্টার ডিজাইন, রং, ও সাউন্ডের ব্যবহারের দিক দিয়ে যথেষ্ট ব্যতিক্রমধর্মী ও স্টাইলিশ। অরিজিনাল আনিমেটির শেষটাও যথেষ্ট ভাল। মিচিকো ও হাচিন দুজনই ভালো লাগার মতো চরিত্র।

হালকা স্বাদের, দ্রুতলয়ের ও মজাদার আনিমের খোঁজে থাকলে এটি চেখে দেখতে পারেন। আর এটি ইংলিশ ডাব-এ দেখাই বোধহয় ভালো।

Chainsaw Man [মাঙ্গা রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Chainsaw Man

জনরা: অ্যাকশন, ডার্ক ফ্যান্টাসি

১৬ বছরের অনাথ কিশোর দেনজি। সদ্য সে নিজের একটা কিডনি বারো লাখ ইয়েনে, একটি চোখ তিন লাখ ইয়েনে আর নিজের একটি অণ্ডকোষ বিক্রি করেছে এক লাখেরও কম ইয়েনে। গাছ কেটে সে কষ্টেসৃষ্টে আরো হাজার ষাটেক ইয়েন যোগাড় করেছে। তারপরেও ইয়াকুজার কাছে তার ঋণ শোধ করা বাকী আছে আরো তিন কোটি আশি লাখ চল্লিশ ইয়েনের মতো। অযোগ্য বাবা মরে গিয়ে তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে গেছে এই ভার। প্রিয়জন বলতে তার আছে শুধু পোষা কুকুর পোচিতা যে আসলে একটা চেইন-স সদৃশ ডেভিল।
তো পোচিতাকে নিয়ে ঋণ শোধের জন্য ডেভিল হান্ট করে দেনজি। জীবনের সব মৌলিক চাহিদা থেকে বলতে গেলে বঞ্চিতই দেনজি। স্কুলে যায় নি সে কখনো, থাকে একটা নড়বড়ে ঘরে, যা পায় তাই খায়। বুক ভরে তার স্বপ্ন একটা সুন্দর জীবনযাপন করার, হয়তোবা সুন্দরী কোন এক মেয়ের সঙ্গও পাওয়ার আশা করে দেনজি।

বিন্দু বিন্দু শিশির দিয়ে দীঘি পূর্ণ করার আশা রাখা দেনজিকে একদিন তার ইয়াকুজা বস ডেকে নেয় বিশেষ কাজে। এক পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাওয়া দেনজিকে ডেভিল হান্ট করার জন্য। সেখানে ইয়াকুজার সাঙ্গপাঙ্গরা পোচিতাসহ তাকে টুকরো টুকরো করে কেটে ময়লার ড্রামে ভরে রাখে। আসলে ইয়াকুজারা সবাই এক ম্যানিপুলেটিং ডেভিলের আদেশ মানছিল এতক্ষণ। বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়া দেনজি অবচেতন মনে পোষা কুকুর পোচিতার সাথে চুক্তি করে, সে নিজের পুরো দেহ দান করবে পোচিতাকে বিনিময়ে পোচিতা তাকে দেবে স্বাভাবিক মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণের সুযোগ।

লাইফ লাইন পেয়ে দেনজি আবির্ভূত হয় চেইন-স ম্যান হিসেবে। চেইন-সর নির্মম আঘাতে সে কেটে টুকরো টুকরো করে ডেভিল আর তার চেলাপেলাদের। সরকারি ডেভিল হান্টাররা ঘটনাস্থলে এসে রক্ত-মাংসের স্তুপের মাঝে দেনজিকে আবিষ্কার করে। উচ্চতর অফিসার মাকিমার নজরে পড়ে যায় দেনজি আর মাকিমা তাকে সরকারি ডেভিল হান্টারদের দলে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে তিনবেলা খাবার আর একটা শোয়ার জায়গার প্রস্তাব পেয়ে খুশীমনে রাজি হয়ে যায় দেনজি।

তো চেইন-স ম্যানের কাহিনী শুরু এখানেই। মাঙ্গাটা ২০১৯ সাল থেকে উইকলি শোউনেন জাম্পে প্রকাশিত হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত বের হয়েছে ৭২ চ্যাপ্টার। বেশ জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে এর মাঝে। Mangaplus এ টপ টেনে থাকে প্রতি সপ্তাহেই।

চেইন-স ম্যান মাঙ্গাটার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সম্ভবত এর আন-অর্থোডক্স অ্যাপ্রোচ। মাঙ্গাটা আসলেই শোউনেন জাম্পে কিভাবে এত ভালভাবে ছাপানো হচ্ছে সেটা আসলে চিন্তার বিষয়। জাম্পে সাধারণত এত ব্রুটাল আর grotesque আর্টের মাঙ্গা সহজে দেখা যায় না। শোউনেন হিসেবে ধরলে এর স্টোরি, ক্যারেকটার ডিজাইন, আর্টস্টাইল আর সংলাপ সবই অত্যন্ত প্রথাবিরোধী। পুরো মাঙ্গাটাতেই গোছানো জিনিস খুঁজে পেলাম না তেমন, সবকিছুই প্রচণ্ড রকমের অগোছালো। যেন কেউ চেইন-স দিয়েই এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে মাঙ্গাটাকে আগাগোড়া।

চেইন-স ম্যানের ক্যারেকটারগুলো চরম ব্যতিক্রম। শোউনেন মাঙ্গার নিয়মিত বৈশিষ্ট্য যে বন্ধুত্বের জয়গান তার ছিটেফোঁটাও নেই ক্যারেকটারগুলোর মাঝে। ক্যারেকটারগুলো এমন একটা দুনিয়ায় বসবাস করে যেখানে যেকোন মুহূর্তে জীবন চলে যেতে পারে ডেভিলের হাতে। তার প্রভাবে ক্যারেকটারগুলো হয়ে উঠেছে প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রীক, নিষ্ঠুর আর বাস্তববাদী। দিনে এনে দিনে খেতে খেতে ক্যারেকটারগুলো মানুষ মানুষের জন্য এই প্রবাদটা যেন সবাই ভুলেই গেছে। আর মাঙ্গাকাও যেন এই জিনিসটা লুকানোর কোন চেষ্টাই করেন নি। পাবলিক ডেভিল হান্টাররা বেশিরভাগই জনগণের সেবার জন্য কাজে যোগ দেয় নি। বেশীরভাগই ডেভিলদের হাতে কোন না কোনভাবে ক্ষতির স্বীকার তাই প্রতিশোধস্পৃহাই তাদের কাজে লেগে থাকার মোটিভেশন। হিরোইজমের ছিটেফোঁটাও নেই তাদের মাঝে। মানুষও তাদের অত মহান কিছু মনে করে না। এই বৈশিষ্ট্যটা মাঙ্গাটার ডার্ক ফ্যান্টাসি হওয়ার পেছনে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে যে জিনিসটা Shueisha এর অন্য দুই মাঙ্গা হিরো অ্যাকাডেমিয়া আর ওয়ান পাঞ্চ ম্যান সযত্নে পরিহার করেছে। ক্যারেকটারগুলো মারাও যায় ধুপধাপ, এমনকি টেরও পাওয়া যায় না কখন কে মারা গেল। বেঁচে থাকা মানুষগুলোও মারা যাওয়া মানুষগুলো নিয়ে অত চিন্তিত না। বিশাল একটা ম্যাসাকারের মাধ্যমে বড় একটা পেইজ শেষ হয়ে গেলে দেখা যায় পরের পেইজেই সবাই দৈনন্দিন জীবনযাপন করছে, যেন সবকিছু সয়ে গেছে তাদের। এই জায়গাটাতে মাঙ্গাকা তাতসুকি ফুজিমোতোকে রীতিমত ‘uncensored’ বলবো আমি।

মাঙ্গার শ্রেষ্ঠ দিক নিঃসন্দেহে এর brutal, gritty, grotesque আর্টস্টাইল। কালো কালির অত্যধিক ব্যবহারের কারণে প্যানেলগুলো আরো ভয়াবহ রকমের ভায়োলেন্ট হয়ে উঠে। বিশেষ করে কিছুটা মানুষের মত দেখতে (হিউমনয়েড) ডেভিলগুলার আর্টগুলো সবচেয়ে ভয়াবহ। দেনজির প্রতিটা ট্রান্সফরমেশন গায়ে কাঁটা দেয়। এনিমে আসবে নিঃসন্দেহে তবে এই gory পরিবেশটা কিভাবে স্টুডিও ধরে রাখবে সেটা একটা দেখার মত বিষয়। অ্যাকশন প্যানেলগুলো সব দুর্দান্ত আর প্রচণ্ড ফাস্ট-পেসড। ইউসুকে মুরাতার আঁকার সাথে মিল পাওয়া যায়, তবে মুরাতার মত অত ডিটেইলড না। ক্যারেকটারগুলোর ভয়ার্ত, আতংকিত আর নিষ্ঠুর ভাবলেশহীন চাহনি মাঙ্গাটাতে হরর এলিমেন্টের আমদানী করেছে সুন্দরভাবে।

তারমানে মাঙ্গাতে কমেডি নেই এমন না। দেনজির জীবন-দর্শনটাই একটা বিশাল কমেডি। বিশেষ করে ভয়ংকর ভয়ংকর কাজ করার পেছনে তার হাস্যকর স্বার্থসিদ্ধিগুলো সবচেয়ে মজার। বিস্তারিত বলে পাঠকদের মজা নষ্ট করতে চাচ্ছি না এখানে। তবে বেশীরভাগ কমেডিগুলাই কেমন জানি অস্বস্তিকর। এচ্চি কিছু ম্যাটেরিয়াল দেয়া হয়েছে তবে সেগুলাও সস্তা বিনোদনের যোগান দেয় না। বিন্দুমাত্র কামভাব জাগায় নি এচ্চি সিচুয়েশনগুলা। বরং বয়ঃসন্ধিকালের অস্বস্তিকর মানসিক টানাপোড়েন উঠে এসেছে আকু নো হানার মতো। পাওয়ার আর দেনজির এক বাথটাবে শুয়ে সময় পার করার দৃশ্যটা ভিন্ন এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। এই সাইকোলজিকাল দিকগুলো মাঙ্গাটাকে বেশ মৌলিক করে তুলেছে আমার মতে। শোউনেন জাম্পের পাতায় এমন জিনিস দেখতে পাবো ভাবি নি।

সব মিলিয়ে বিধ্বংসী এক অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে আমাকে চেইন-স ম্যান আমাকে। দুইদিনেই পড়ে ফেলেছি সবগুলা চ্যাপ্টার। আস্তে আস্তে ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিংও হচ্ছে মাঙ্গাটাতে। গান ডেভিলই সম্ভবত সিরিজের মেইন ভিলেন, দারুণ একটা মিথ গড়ে উঠেছে তাকে ঘিরে। সবাই কেন চেইন-সর হার্ট শিকার করতে চাইছে তাও একটা দারুণ সাসপেন্স জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথাবিরোধী এই মাঙ্গার সাফল্য কামনা করছি, আশা করি জাম্পের টপ ফাইভে উঠে আসবে সামনে। (যেহেতু Kimetsu no yaiba শেষ ও The Promised Neverland শেষের দিকে)

Sakib’s Hidden Gems – Episode #11

আনিমে: Fune wo Amu (The Great Passage)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, জোসেই, ড্রামা
এপিসোড সংখ্যা: ১১
 
আজ আলোচনা করব একটি বাহুল্যবর্জিত ও ধীরলয়ের রিল্যাক্সিং আনিমে নিয়ে। গল্পের প্রধান চরিত্র মাজিমে – যে কিনা প্রথমে কাজ করত গেনবু পাবলিশিং কোম্পানির সেলসম্যান হিসাবে। কিন্তু কিছুটা অন্তর্মুখী প্রকৃতির হওয়ার কারণে সে এই কাজে সুবিধা করছিল না। মানুষের সাথে ভাবের আদান-প্রদানে দক্ষতা আনবার চেষ্টায় সে বেশি বেশি বই পড়ে, নতুন শব্দ শেখে, আর তার অর্থ জেনে রাখে। এখন ভাগ্যের ফেরে সে গেনবু কোম্পানির ডিকশনারি পাবলিশিং ডিপার্টমেন্টের একজনের চোখে পড়ে য়ায় এবং ওনার সুপারিশে ওখানে বদলি হয়। শেষমেষ এই ডিপার্টমেন্টে সে একদম তার মনের মতো কাজ পায়। এরপর এই ডিপার্টমেন্টের লোকজনদের নিয়ে নতুন একটি ডিকশনারি একদম শুরু থেকে বানানো নিয়েই কাহিনী এগোতে থাকে।
এই আনিমেটি বেশ সংক্ষিপ্ত পরিসরের হওয়ায় কোনরকম তাড়াহুড়ো নেই। আনিমেটি সবসময় টপিকের মধ্যেই থেকেছে। তার পরেও সংক্ষিপ্ত পরিসরে খুব সুন্দর একটি রোমান্স আছে, বেশ কিছু লাইফ লেসন আছে। মাজিমে ছাড়াও অন্যান্য চরিত্রগুলিকে একান্ত আপন বোধ হয়। ভিজুয়াল আর সাউন্ডট্র্যাক খুব ভালো, ওপেনিং আর এন্ডিং গানদুটোও ভালো।
এই আনিমের মতো এমন শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশের মধ্যেও মোটামুটি সিরিয়াস ও ম্যাচিওর থীম আমি পাইনি খুব একটা। তাই আমার অত্যন্ত প্রিয় এটি।
ধীরলয়ের রিল্যাক্সিং আনিমে দেখতে আপত্তি না থাকলে অবশ্যই এটি দেখবেন।
 

তাতামি গ্যালাক্সিতে কিয়োটো — Fahim Bin Selim

তাতামি গ্যালাক্সি দেখতে গেলে প্রিয় চরিত্র খুঁজতে বেগ পেতে হবে না। ওয়াতাশি আর আকাশি তো প্রত্যাশিতই। ওয়াতাশির দুই বছরের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের টানাপোড়েনে আমরা পরিচিত হই ওযু, আর হিগুচি-সেনসেই, বা তাদের সাথে জুড়ে যাওয়া জৌগাসাকি আর হানুকির সাথে। একেক পর্বে একেক জনের সাথে কাটাই। তাদের সাথে পরিচিত হই দূর বা কাছ থেকে, নিজের চোখে আর মানুষের বর্ণনায়, ভিন্ন দৃষ্টিকোণ নিয়ে। শুধু পর্দায় থাকা কোন ছবি না, সম্পূর্ণ গভীরতা নিয়ে;স্ব স্ব আকাঙ্ক্ষা আর হতাশা থাকা, ভালো আর খারাপের মিশেলে, ত্রিমাত্রিক মানুষ হিসেবে। এমনকি স্বল্প সময়ে পর্দায় থাকলেও সবসময়ই নেকো রামেন বিক্রেতা, জ্যোতিষী বৃদ্ধা কিংবা কোহিনাতার উপস্থিতিও অনুভব করা যায়। তবে এই সবগুলো চরিত্রকে একসাথে জুড়ে আনার ক্ষেত্রে যেটার অবদান, অ্যানিমের মূল উপন্যাসের লেখক তোমিহিকো মোরিমির বাকি কাজেও(যেমন- উচুতেন কাযোকু) যেটার প্রভাব লক্ষণীয়, সেটা কোনো রক্তমাংসের মানুষও না – সব ঘটন আর অঘটনের মঞ্চ, একই সাথে আধুনিক আর পুরাণের জাপান যেখানে একত্রিত হয়, সেই কিয়োটো শহর!

কিয়োটোর একাংশ

ওয়াতাশির সাড়ে চার তাতামির ঘরটার কথাই চিন্তা করা যাক, এর অবস্থান শিমোগামো ইউসুইসৌ বোর্ডিং হাউজে। ওয়াতাশি যেটার তুলনা করে হংকং এর কোওলুন ওয়ালড সিটির সাথে। ১৯৯৩-এ ধ্বংসের আগে কোওলুন ওয়ালড সিটি তো ছিলো এরকম এক ঘিঞ্জি এলাকাই – আলো-বাতাসের প্রবেশ এখানে সীমিত, রঙচটা আর নোটিশ-বিজ্ঞাপনে ঢাকা দেওয়াল, আগোছালো আধোয়া জামাকাপড়ের স্তুপ, এবং তার মাঝে পরজীবী বিড়াল, তেলাপোকা আর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের বসবাস।

এইযান দেমাচিইয়ানাগি স্টেশন

 

ওয়াতাশির ঘরের জানালার কাঁপন আর ভেসে আসা শব্দে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়ে যায় এইযান দেমাচিইয়ানাগি স্টেশনের আগত আর বিদায়ী ট্রেনেরা। কামো নদীর পূর্ব পাড়ের এইযান দেমাচিইয়ানাগি স্টেশনের নাম হয়েছে এপাশে ইয়ানাগি আর পশ্চিমে দেমাচি এলাকার নাম জুড়ে দিয়ে। এই স্টেশনের ভূতলে চলে কেইহান রেলওয়ে; বয়স আর অবস্থানে তার উচ্চাসনে এইযান ইলেকট্রিক রেলওয়ে। ১৯২৫ সালে বসানো এই এইযান ইলেক্ট্রিক রেলওয়ের যাত্রাপথ অবশ্য কেবল কিয়োটোর সাকিও ওয়ার্ডের ভিতরেই বিদ্যমান; দেমাচিইয়ানাগি থেকে উত্তরে গিয়ে তাকারাগাইকেতে দুইভাগে ভাগ হয়ে – পূর্বে ইয়াসে-হেইযানগুচি আর পশ্চিমে কুরামা স্টেশন – সর্বসাকুল্যে ১৪.৫ কিলোমিটার এর মধ্যে। ট্রেনেদের আনাগোনাও তাই খুব নিয়মিত।

শিমোগামো ইউসুইসৌ বোর্ডিং হাউজের আরেক বাসিন্দা আট বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরে থাকা হিগুচি। কখনো বাড়ির পাশের রাস্তায়, কখনো বা দেমাচিইয়ানাগি স্টেশন থেকে ১০ মিনিটের হাঁটা দুরত্বে শিমোগামো মন্দিরের পাশের তাদাসু নো মোরিতে হাজির হয় রহস্যময় নেকো-রামেনের ফেরি; সেখানে সাক্ষাৎ মিলে তার। হিগুচি নিজের পরিচয় দেয় কামো তাকেৎসুনোমি হিসেবে, এই শিমোগামো মন্দিরের দেবতা। তাদাসু নো মোরি, শিমোগামো মন্দির আর কিছুটা উত্তরে তার যুগল কামিগামো মন্দিরের সাথে কিয়োটোর সম্পর্ক তো হাজার বছরের।

শিমোগামো মন্দির

 

সহস্রবর্ষী এক আদিবনের অবশেষ হিসেবে পরে আছে এই তাদাসু নো মোরি। মধ্যযুগ আর মেইজিকালের অনুশাসনের সময় এর আকৃতি কমে এলেও, কিয়োটোর সব যুদ্ধ আর ধ্বংসযজ্ঞের শিকার এবং সাক্ষী হিসেবে মানবহস্তের সাহায্য ছাড়াই বারবার পুনোরুত্থান ঘটেছে তার। এই বনের ভেতরেই ষষ্ঠ শতাব্দীতে শিমোগামো মন্দিরের সূচনা, তারও কিছুকাল পর কামিগামো মন্দিরের। এমনকি কিয়োটোও তো তখনো জাপানের প্রাচীন রাজধানী হয়ে ওঠেনি! শিমোগামো মন্দিরে এসে মানুষ অর্চনা করে দুজনের – তামাইয়োরি-হিমে আর তার পিতা দেবতা তাকেৎসুনোমির। তামাইয়োরি-হিমে আর আগুন-ও-বিদ্যুতের দেবতা হোনোইকাযুচি-নো-মিকোতোর ভালোবাসার ফসল কামো ওয়াকাইকাযুচির জন্য বিদ্যমান কামিগামো মন্দির। তামাইয়োরি-হিমে আর হোনোইকাযুচি-নো-মিকোতোর মিলনের এই পুরাকথার রেশ ধরেই রোজ পাণিপ্রার্থীদের আগমন শিমোগামো মন্দিরে।

তাদাসু নো মোরি
 
ভালোবাসার লাল বন্ধন জোড়া লাগাতে এমনকি অযাচিত সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটাতে হলেও হাজির হওয়া যায় ইয়াসুই কনপিরাগু মন্দিরে, যার অবস্থান কিছুটা দক্ষিণে হিগাশিইয়ামা ওয়ার্ডের গিওন কর্ণারে। অন্যান্য মন্দিরে যেখানে এমা আকৃতির ফলকে নিজের মনোবাসনা লিখে ঝুলিয়ে দিতে হয়, সেখানে এই মন্দিরে আছে এমা আকৃতির বিশাল আকারের একটি এনমুসুবি(সম্পর্ক জোড়া লাগানো) পাথরই। সাদা কাগজে নিজের বাসনা লিখে এই পাথরের ভেতরে গর্ত দিয়ে একবার ঢুকে আবার বেরোতে হয়, তারপর আরো হাজার হাজার কাগজের পাশে নিজেরটা জুড়ে দিতে হয় পাথরের গায়ে, দেবতার প্রতি আবেদন হিসেবে। এই মন্দিরের মূল উৎসব হয় অক্টোবরে, শুকি কনপিরা তাইসাই(বৃহৎ কনপিরা শরৎ উৎসব)। এর এক উল্লেখযোগ্য অংশ হলো মিকোশি নামক কাঠের তৈরি নৌকা-সদৃশ বহনীয় মন্দির নিয়ে শহরের রাস্তাগুলো প্রদক্ষিণ করা।
 
 
ইয়াসুই কনপিরাগু মন্দির

 

এই কনপিরাগু আর শিমোগামো আর কামিগামোর, সর্বজাপানেরই দেবতাদের তাদের মন্দিরগুলোতে অবশ্য পাওয়া যাবে না দশম চন্দ্রমাসে, যেটাকে বলা হয় কান্নাযুকি(দেবতাশূন্য মাস)। দেবতারা তাদের ভক্ত আর উপাসকদের সকল ইচ্ছা-আকাঙ্খা-কামনা-বাসনা-আর্জি নিয়ে হাজির হয় ইযুমো শহরের ইযুমো-তাইশা মন্দিরে। পরবর্তী বছরের জন্ম-মৃত্যু আর বিয়ের ভাগ্য লিখন নিয়ে দেবতাদের সম্মেলন বসে সেখানে। সে শহরের অবশ্য এই মাসেরই নাম আবার কামিআরিযুকি(দেবতাদের মাস)। সম্পর্ক জুড়তে চাইলে এটাই তো সময়!

কিন্তু বারবার যে ভজকট পাকিয়ে ফেলে ওয়াতাশি! আকাশির সাথে কচ্ছপ-মাজনী খুঁজতে ঘুরে বেড়ায় কাওয়ারামাচিতে। শিমানামি বাইকরেস চলার মাঝে তাদের দেখা হয় কেয়াগে ঢালের পাশের রাস্তায়। আবার কখনো ওযুর ফাঁদে পরে, কখনো বা সত্যি সত্যিই চেরী সাইকেল ক্লিনার কর্পসের নেতা হিসেবে এখানেই ধরা পরে যায় আকাশির হাতে। মজার ব্যাপার হলো কেয়াগে ঢাল ঘুরতে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ সময় হলো বসন্তকাল, যখন এই ৫৮২ মিটার দীর্ঘ আর উপর থেকে নিচে ৩৬ মিটার উঁচু ঢাল দিয়ে হেঁটে গেলে দেখা মিলবে সারি বেধে দাঁড়িয়ে থাকা গাছের ডালে ডালে ফুটতে থাকা চেরী ফুলের। ঢালটির উপর দিয়ে চলে গেছে রেললাইন, যাতে করে একসময় নিচে বিওয়া হ্রদের ক্যানেল থেকে উপরে কেয়াগে স্টেশন পর্যন্ত জলযান উঠানো নামানোর হতো। সেই পানিপথ অনেক কাল যাবত বন্ধ দেখেই কিনা বার্ডম্যান সঙ্ঘের উড়োজাহাজ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার কাজে চেরী সাইকেল ক্লিনার্স কর্প সেটা ব্যবহার করা শুরু করলো! ঢাল বেয়ে নামতে নামতে উড্ডয়ন হলো ওয়াতাশির…তারপরই তো আবার পানিতে মুখ থুবড়ে পড়া।

কেয়াগে ঢাল
 
দুই বছরের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে দগ্ধ ওয়াতাশিকে তাই বারবার ফিরে আসতে দেখি কিয়ামাচি সরণিতে। এক পাশে তাকাসে আর আরেক পাশে কামো নদীকে আলাদা করে রেখেছে এ সড়কটিই। তবে তার সকল সমস্যার সমাধানটাও বাতলে দেয় জ্যোতিষী বৃদ্ধা।
কিয়ামাচি সড়ক

 

কামো ওওহাশি ব্রিজ ও কামোগাওয়া ডেল্টা
 
চোখের সামনে দুলতে থাকা সুযোগটা হাত বাড়িয়ে নিতে হবে। তারপর পদক্ষেপ নিয়ে নদীকে পাশে রেখে সামনে এগিয়ে গেলেই তো হয়। সেখানেই তো – এই যে দেমাচিইয়ানাগির পাশেই কামোগাওয়া ডেল্টা; সাকিও ওয়ার্ড আর কামিগিয়ো ওয়ার্ডের মেলবন্ধন করতে এখানেই কোন এমার মত ঝুলে আছে কামো ওওহাশি ব্রিজ। হিগুচির গান কিংবা জীবন সম্পর্কিত গভীর বয়ান শুনতে হলে এখানেই ফিরে আসতে হবে চক্র পূরণ করে। গোজান উৎসবের রাতে পাঁচ-পাহাড়ে জ্বলা অগ্নি প্রতীক দেখতে শহরের মানুষজনও হামলে পড়বে এখানেই। আর নিচ দিয়ে কামো নদী বইতে বইতে তাদাসু নো মোরিকে সাক্ষী হিসেবে রেখে মিলিত হবে তাকাসে নদীর সাথে, তাকেৎসুনোমির আশীর্বাদেই কি?
হাতে মোচিগুমান নিয়ে আকাশির সাথে সাক্ষাতের জন্যও তো তাই আসা চাই এখানেই।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #10

আনিমে: Gallery Fake

জানরা: সেইনেন
এপিসোড সংখ্যা: ৩৭
 
গল্পের কাহিনী আবর্তিত হয় নিউ ইয়র্ক মেট্রোপলিটান আর্ট মিউজিয়ামের সাবেক কিউরেটর ফুজিতাকে কেন্দ্র করে। পেইন্টিং সম্পর্কে এত ওয়াকিবহাল লোক আর খুঁজে পাওয়া ভার। এখন সে জাপানে “গ্যালারি ফেইক” নামে একটি আর্ট গ্যালারির মালিক। এই গ্যালারিতে সে বিখ্যাত সব চিত্রকর্মের নকল বিক্রি করে কম দামে, কিন্তু তার আড়ালে সে নাকি আসল চিত্রকর্মও উঁচুদরে বিক্রি করে থাকে। এপিসোডিক আনিমেটিতে সে তার আর্ট সম্পর্কে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আর্ট নিয়ে চোরাকারবারিদের হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেয় আর জেনুইন চিত্রকর্মটি খুঁজে বের করে।
এই আনিমের স্ট্রেংথ তার অনন্য গল্প ও সেটিংএ। আর্ট নিয়ে এত তথ্যবহুল আনিমে আর দ্বিতীয়টি নেই। এখনকার সময়ে আর্ট নিয়ে যে একটি বিশাল ও জটিল বাণিজ্য গড়ে উঠেছে, তার স্বরূপ আপনি এই আনিমেতে জানতে পারবেন। ভিজুয়াল, এনিমেশন, আর সাউন্ড মোটামুটি।
কিছুটা পুরনো ধাঁচের এপিসোডিক আনিমেটি অন্য কিছুর ফাঁকে ধীরেসুস্থে দেখলে ভালো লাগবে আশা করি।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #09

আনিমে: Whistle!

জানরা: স্পোর্টস, শৌনেন
এপিসোড সংখ্যা: ৩৯
 
ফুটবল নিয়ে যে কয়েকটি আনিমে দেখেছি, তাদের মধ্যে এইটা আমার কাছে সবচেয়ে রিয়ালিস্টিক ও সবার সেরা মনে হয়েছে। গল্পের নায়ক কাজামাতসুরি। জন্ম থেকেই ওর ফুটবলের প্রতি আগ্রহ। মিডল স্কুলে থাকতে সে বেশ শক্তিশালী ফুটবল টিমওয়ালা এক স্কুলে ভর্তি হয়। কিন্তু মূলত উচ্চতা কম হওয়ার কারণে ও কখনও দলে জায়গা পায়নি, আর রেগুলার প্র্যাকটিসেরও সুযোগ পায়নি। তাই বাধ্য হয়ে সে স্কুল পরিবর্তন করে। তারপর এই দুর্বল টিম নিয়েই সে এগিয়ে চলে।
 
 
কাজামাতসুরিকে আপনার ভালো লাগবেই। ও অত্যন্ত পসিটিভ মাইন্ডেড ও হাসিখুশি চরিত্র। ও নিজের সীমাবদ্ধতা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল এবং তা কাটিয়ে উঠতে বদ্ধপরিকর। তাছাড়া আনিমেটার ক্যারাকটার ডেভেলপমেন্ট খুব ভালো, পার্শ্ব চরিত্রদেরও বেশ আপন মনে হয়। ম্যাচগুলি রিয়ালিস্টিক হলেও বেশ জমাটি। ভিজুয়াল খারাপ না। বেশ কিছু মন ভালো করা মিউজিক আছে। আর এপিসোডের শেষে ফুটবল নিয়ে ছোটখাট টিপস থাকে, ঐটাও খুব ভালো লাগে।
রিয়ালিস্টিক স্পোর্টস আনিমে ফ্যানদের অবশ্যই আনিমেটি দেখতে বলব।

Sakib’s Hidden Gems – Episode #08

আনিমে: Nejimaki Seirei Senki: Tenkyou no Alderamin (Alderamin on the Sky)

জানরা: একশন, অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি, মিলিটারি
এপিসোড সংখ্যা: ১৩
 
এই আনিমেটি ম্যাডহাউজ স্টুডিওর আরেকটি দারুণ সৃষ্টি। গল্পের নায়ক ইক্তা, যে খুবই অলস কিন্তু মাথায় বুদ্ধি রাখে আর কিছুটা প্লেবয় টাইপের। সে, তার ছোটবেলার বান্ধবী ইয়াতোরি আর পথে জুটে যাওয়া আরও কিছু বন্ধুবান্ধব কিছুটা ভাগ্যের ফেরে আর কিছুটা নিজেদের ইচ্ছাতেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ চলতে থাকে ইক্তাদের দেশ কাজভারনা সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কিওকার।
 
 
গল্পটি মিলিটারি আনিমে হিসেবে বেশ উপভোগ্য। গল্পে পাবেন মিলিটারি স্ট্রাটেজিস্ট হিসেবে ইক্তার বুদ্ধির ঝিলিক। গল্পে ফ্যান্টাসি আর মিলিটারির সংমিশ্রণ আছে – সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্রে স্পিরিট বা একরকম যাদুকরী জীবের সাহায্য নেয়। এক দুইটা খন্ডযুদ্ধ আর একটি বড় যুদ্ধ পাবেন আনিমেটিতে। ভিজুয়াল খুবই চমকপ্রদ, ক্যারাকটার ডিজাইন মনকাড়া, মিউজিক ভালই, ওপেনিং গানটা স্কিপ করা কঠিন – এইসব দিক দিয়ে ম্যাডহাউজ কার্পণ্য করেনি।
আনিমেটি মূলত ম্যাডহাউজ স্টুডিওর আরেকটি অ্যাডাপটেসন – যেইটা মাঝপথে শেষ হয়ে গেছে আর পরের সিজনের কোন খবর নেই। আমি নেট ঘেঁটে যা পেলাম তাতে এইটার পরের সিজনের কোন আশা নেই বললেই চলে। তাই এটা আগে থেকেই জেনে রাখুন আর আনিমেটা এঞ্জয় করুন।

Sakib’s Hidden Gems – Episode #07

আনিমে: Lupin III (Lupin the Third)

জানরা: একশন, কমেডি, সেইনেন, অ্যাডভেঞ্চার
এপিসোড সংখ্যা: অনেক (হেঁহেঁ)
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/1412/Lupin_III [শুধু অরিজিনালটা দিলাম, আরও আছে]
 
আজ আলোচনা করছি একটি ক্লাসিক আনিমে সম্পর্কে, যেটি সত্যিকার অর্থেই আজও পুরনো হয়নি। আনিমের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিশিষ্ট চোর আরসেনে লুপান। সে রীতিমত আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে চুরি করায় এক্সপার্ট। অসাধারণ বুদ্ধি ও ছদ্মবেশ ধরার কৌশলে সে প্রতিবার পুলিস ও গোয়েন্দাদের কলা দেখিয়ে কাজ হাসিল করে নেয়। তার আছে এক অসামান্য গুণ, সে অন্য মানুষদের আকৃষ্ট করে ওর Charisma দিয়ে। তাই ওর সঙ্গ নেয় কুইক ড্রতে পারদর্শী জিগেন, সামুরাই গোএমন, ও অনিন্দ্যসুন্দরী সিডাকট্রেস মিনে ফুজিকো। কখনও একলা, আবার কখনও বা এদের সাহায্যে লুপান তার কাজ হাসিল করে। আনিমেটি মূলত এপিসোডিক।
 
 
 
এই আনিমেতে যেই পুরনো দিনের ছোঁয়া পাওয়া যায়, তা বেশিরভাগ আনিমেতেই পাওয়া যায়না। হায়াও মিয়াজাকির মত বিখ্যাত লোক এই আনিমের কয়েকটি এপিসোড ডাইরেক্ট করেছেন। অসাধারণ Jazz মিউজিকের ব্যবহার হয়েছে এইখানে। হাল্কা কামোত্তেজনার স্বাদও আছে, অ্যাডভেঞ্চার এর থ্রিলও আছে। আনিমেটাতে আইডিয়া একদম ঠাসা। যেমনঃ একটি এপিসোডে লুপান একটি টাকশালে ঢুকে টাকা ছাপিয়ে আনে (জি ভাই, মানি হাইস্ট সিরিজের আগের কথা এইটা)। আনিমেটা কিন্তু আস্তে আস্তে দেখার জিনিস। যেহেতু এপিসোডিক আনিমে, তাই যখন মুড আসবে তখন দেখবেন।
লুপান ফ্র্যানচাইজটা বিশাল। একেকটা সিরিজের আরটস্টাইল ভিন্ন ভিন্ন। যারা শুরু করতে চায়, তাদের অনেকেই বুঝে উঠতে পারে না কোত্থেকে শুরু করা। তাদের আমি বলব “The Castle of Cagliostro” মুভিটা আগে দেখতে। এইটা মিয়াজাকির করা, জিবুরির বানানো ফিল্মগুলির মত ভাইব পাবেন। এইটা ভালো লাগলে “The Woman Called Fujiko Mine” দেখতে পারেন [নুডিটি আছে কিন্তু]। তারপর দেখুন তিনটি সিকুয়েল মুভি। প্রথমটির নাম Jigen Daisuke no Bohyou। এইগুলো দেখে যদি ভালো লাগে, কেবল তবেই অন্যান্যগুলি দেখা যেতে পারে। তবে আমি পরামর্শ দিব https://www.animenewsnetwork.com/feature/2016-01-22/lupin-the-third-where-to-start-and-what-worth-watching/.97834 এবং https://www.animenewsnetwork.com/feature/2016-01-27/lupin-the-third-the-complete-guide-to-films-tv-specials-and-ovas/.98031 গাইডগুলি ফলো করতে।

Violet Evergarden [রিভিউ] — Loknath Dhar

I want to know what ‘I love you’ means.
– Violet Evergarden.
 
মানুষ – অদ্ভুত, জটিল একটা প্রাণী। সহজ, সরল আবেগগুলোকে কি জটিল করেই না উপস্থাপন করে! মাঝে মাঝে মনে হয়, সকল অসুন্দর আর সুন্দর -এর জন্ম এই সহজ আর জটিলতার মাঝে। আমার মনে পড়লো, একদিন ছোটভাইয়ের সাথে আমার রেগে যাওয়ার কথা, কোন একটা কারণে রেগে গিয়ে ফোনে বললাম, আবারও ফোন করলে তোর খবর আছে। রাতে আবিষ্কার করলাম, গাধাটায় সত্যি সত্যিই আর ফোন দেয় নি – ভয়ে হোক অথবা আমার কথা মেনে নিয়ে। অথচ আমি মানুষ, হয়তো ফোন দিয়ে ‘ভুল হয়ে গেছে’ বললেই কপট রাগে আমি বলতাম, হইছে, পড়তে যা। ফোনটা রেখে হয়তো একটু হেসে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম নিজের পৃথিবীতে। মানুষের শব্দই সবকিছু না। শব্দের বাইরেও বলার মত বিশাল পৃথিবী থাকে। মানুষ সবকিছু বুঝে উঠতে পারেও না। যেমন আমি, আমি বুঝি না পৃথিবীর অনেককিছুই। এই বিশাল, না বোঝার পৃথিবীতে আমার একলা একলা লাগে। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি, গল্পগুলো দেখি। মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামে, মাঝে মাঝে অসহ্য রোদ। ক্লান্ত বিকেলের পরে যে সন্ধ্যেগুলো বাতাস বয়ে নিয়ে আসে একটা ফিসফিসানি, একটু চোখ মেলে তাকানোর; তাতে সজোরে শ্বাস নিয়ে আমি বোঝার চেষ্টা করি, সমগ্র অস্তিত্বটাকে হাচড়ে পাঁচড়ে আঁকড়ে ধরে, বেঁচে থাকাটা আসলে কি? ঠিক যেমন, ভায়োলেটের যাত্রার মত, আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ কি?
 
 
অজস্র প্রশ্নে জর্জরিত পৃথিবীতে মানুষ সেই আদিকাল থেকেই খুঁজে বেড়াচ্ছে নিজের স্বত্তাকে অনুভব করার, বুঝে ওঠার; আমাদের অস্তিত্বের সাথেই, একেবারে পাশেই বসে থাকা প্রেম, এই ভালোবাসার অনুসন্ধান করে নি, এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর হতেও পারে। হয়তো বুঝে, হয়তো না বুঝে তবু সন্ধান করেছে সবাইই। তবুও, শব্দ সবকিছু বলে না, কথার বাইরেই কথা থাকে, থাকে আস্ত একটা পৃথিবী, ভালোবাসি তো মোটে ভাষার একটা শব্দ, একটা অনুভূতিকে নির্দেশ করে কিন্তু এই অনুভূতিটা কি? এই ছোট্ট শব্দটার বিস্তৃতি কতটুকু? এই শব্দটার সত্যিকারের অর্থ কি? প্রিয় ভায়োলেটের সাথে হাঁটতে হাঁটতে বিষণ্ণ, পরিচিত পৃথিবীতে ফিরে গিয়েছি অসাধারণ, অন্য পৃথিবী থেকে উঠে আসা সুরগুলোর সাথে, প্রিয় ভায়োলেট, তোমার উত্তর কি? একটা বিষণ্ণ কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর একটা হাসি!
 
হয়ত‌ো ওটাই ভালোবাসা?
ছোট্ট, বিষণ্ণ হাসি কত গল্প ধারণ করতে পারে, ভাবা আছে?
 
গল্পঃ বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি থেকে উঠে আসা গল্পের চরিত্র ভায়োলেট আবিষ্কার করে নতুন, একটা সম্পূর্ণ অপরিচিত পৃথিবী যেখানে সে আক্ষরিক অর্থেই একা। যুদ্ধে ভায়োলেট ছিলো খুনে একটা অস্ত্রের প্রতীক, যে শুধু খুন করতেই জানে, অন্য কোন অনুভূতির সাথে সে পরিচিত নয়। সে যুদ্ধের পৃথিবীতে তার একটাই মানুষ ছিলো, মেজর গিলবার্ট, যার অর্ডারে সে করতে পারতো না এমনকিছু নেই। যুদ্ধে মেজর গিলবার্ট মারা যাবার ঠিক আগে ভায়োলেটকে অর্ডার দিয়ে যায় বাঁচতে এবং, এবং, অনুভূতির এই জটিল, অপরিচিত পৃথিবীতে ভায়োলেটকে উপহার দিয়ে যায় তিনটি শব্দ, আমি তোমাকে ভালোবাসি।
 
আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ কি, ভায়োলেট?
 
আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ খুঁজতেই শুরু হয় ভায়োলেটের গল্প, যুদ্ধের পর যুদ্ধাবশেষের উপর গড়ে ওঠা নতুন একটা পৃথিবীতে। শুরু হয় এক ভ্রমণ, ভালোবাসার অর্থ খোঁজা যার মূল লক্ষ্য। অটো মেমোরি ডল হিসেবে জীবন শুুরু করে সে, যার কাজ হলো প্রিয়জনকে চিঠি লেখা। চিঠি লেখার মাধ্যমে মানুষের এই অসহ্যকর, অসহনীয় জটিল অথচ সহজ আর সুন্দর অনুভূতিকে তুলে আনা। সম্পূর্ণ অপরিচিত পৃথিবীতে ভায়োলেট তিনটি শব্দের অর্থ কি খুঁজে পাবে?
 
অনুভূতিকে বুঝতে হলে ছুঁতে হয় অন্যকে, আঙুলের, হাতের স্পর্শে নয় – খেয়াল করতে হয় মানুষটাকে; শব্দের সাথে সাথে খেয়াল করতে হয় চোখ, গলার কম্পন, হেঁটে চলে যাবার ভঙ্গি। শুনতে হয় তার গল্প, নিজেকে খুলে দিতে হয় তার কাছে, তার চোখ দিয়ে দেখা পৃথিবীটাকে গড়ে নিতে হয় নিজের ভেতর, তার জীবনের চরিত্রগুলোকে বুঝতে হয় তার চোখ দিয়ে, নিজের অনুভূতির অনেকটা অংশ বরাদ্দ দিতে হয় সেই পৃথিবীটার কাছে। মানুষ এমনই জটিল, এমনই সুন্দর!
 
ভালোবাসা কি শুধুই একটা শব্দ? বেঁচে থাকার কারণ, এগিয়ে যাবার কারণ, সুখ, দুঃখ, ব্যথা, হাসি, কান্নার কারণ – কত রহস্য ধারণ করে একট শব্দ? শব্দটা আসলে কি?
 
ভায়োলেটের উত্তর খুঁজে পাওয়ার সাথে সাথে উত্তর খুঁজে পাক সেই সকল মানুষ, যারা এই সুন্দর শব্দটার কাছে এসে বসেছে, বুঝতে চেয়েছে তার গতিপ্রকৃতি। উত্তর হোক যার যার নিজের মত, যতটা সুন্দর মানুষ হয়।
 
অসাধারণ এনিমেশন, চমৎকার গল্প (একটু ধীরগতির), চমৎকার সাউন্ডট্র্যাক আর অজস্র ব্যথা আর কান্নায় মোড়ানো এবং প্রবল বৃষ্টির পর দিনশেষে মেঘের আড়াল হতে বেরিয়ে আসা মিষ্টি রোদের মতন ছোট্ট একটু হাসি – এটা হচ্ছে আনিমে, ভায়োলেট এভারগার্ডেন।
 
সাজেশনঃ ভায়োলেট এভারগার্ডেনে অবর্ণনীয় একটা সৌন্দর্য আঁকা হইছে পুরোটা গল্প জুড়ে, যা বুঝতে হলে দেখতে হবে, বুঝিয়ে বলার কোন ভাষা নাই। আমার কাছে, ভায়োলেট এভারগার্ডেন একটা ক্লাস। এস্থেটিক কিছু একটা।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime : Violet Evergarden
  • Type : Series
  • Genre : Slice of life, Drama, Fantasy
  • Studio : Kyoto animation
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০
 
(বিঃদ্রঃ -০১: আনিমের ভেতর প্রিয় অনেক কথা আছে, অনেক দৃশ্যের ব্যক্তিগত গল্প আছে। বলতে গেলেই স্পয়লার হয়ে যাবে। সামলে রাখা পুরোটাই। দেখতে দেখতে উপলব্ধি হোক। উপলব্ধিতে ছুঁইতে পারলে পৃথিবী আরও সুন্দর হোক। এই আনিমের স্পয়লার দেয়া মারাত্মক অপরাধ। কারণ, অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড়ানো হোক নিজ থেকেই। চোখ জুড়ে কান্না আসুক, ঠোঁটে আসুক মিষ্টি একটু হাসি।
 
বিঃদ্রঃ -০২: কথাটা ইউটিউবের কমেন্ট থেকে পাওয়া; যারা আনিমেটা দেখেছেন, তারা কি উপলব্ধি করেছেন, শুরুর গানটা ভায়োলেটের, মেজর গিলবার্টের প্রতি?)