এফ এ সি ৪৫

রান্ডম টপিক

রিয়াজু[Riajuu]

 

রিয়াজু হচ্ছে ওতাকুদের ব্যবহার করা স্ল্যাং। এই গালি তাদের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় যারা নরমাল জীবনযাপন করছে, বন্ধুমহলে জনপ্রিয়, বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড আছে ইত্যাদি। ওতাকুরা যেহেতু ভয়াবহ ধরনের লুজার, তারা এই নরমাল লোকদের দেখতে পারে না, তাই তাদের সম্বোধন করে রিয়াজু বলে.

 

আনিমে সাজেশন

স্পাইস অ্যান্ড উলফ[Spice and Wolf/Ookami to Koushinryou]

শস্যের দেবতা হরো ভ্রমণসঙ্গী হল ব্যবসায়ী লরেন্সের। হরো কি শুধুই এক ছলনাময়ী, নাকি সে আসলেই লরেন্সের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে?

 

কেন দেখবেনঃ ভালো স্লাইস অব লাইফ, অ্যাকশান না হয়েও কিছু জায়গায় ভালো সাসপেন্স, আর তাদের সম্পর্কও খুব ইন্টারেস্টিং। দুজনেই ম্যাচিউর, দুজনেই জানে তারা একজন আরেকজনেক ভালবাসে, কিন্তু কেউই এই কথা স্বীকার করে না, কারণ স্বীকার করার প্রয়োজন নেই।

 

কেন দেখবেন নাঃ ডায়লগ বেইসড আনিমে, গ্যাগ বা কমেডি রিলিফ কম, দর্শক ধরে রাখার মতো এমন দুর্দান্ত কোন ক্লিফহ্যাঙ্গার নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৩৮+৮.৪৭

আমার রেটিং ৮+৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

জুনাই ব্রাইড[Junai Bride]

চারটা ওয়ান শট নিয়ে এই মাঙ্গা, প্রত্যেকটাই দারুন রোমান্টিক সব গল্পে ভরা।

 

কেন পড়বেনঃ আকর্ষণীয় আঁকা, স্টোরিটেলিং ভালো, প্রত্যেক চ্যাপ্টার পড়েই একটা তৃপ্তি লাগে।

কেন পড়বেন নাঃ তেমন কোন কারণ নেই, চারটা ওয়ান শটই তো।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৭৮

আমার রেটিং ৮

 

এফ এ সি ৪৪

রান্ডম টপিক

মানজাই[Manzai]

ওসাকা অঞ্চলে এক ধরনের স্ট্যান্ড আপ কমেডি খুব জনপ্রিয়, একে বলে মানজাই। দুই পার্টনার এতে অংশ নেই, একজনকে বলে “বোকে”,  সে যত বোকার মত কাজ করবে, আরেকজনকে বলে “সুক্কোমি”, সে বোকের ভুলগুলো ধরে দেবে। মানজাই এ থাকে প্রচুর রেফারেন্স, আর পান.

বোকে-সুক্কোমি এক্ট অনেক আনিমেতেও পাবেন, যেমন: লাভলী কমপ্লেক্স, নিচিজৌ, আজুমান্গা দাইওহ, সেইতোকাই ইয়াকুইনদোমো ইত্যাদি।

 

আনিমে সাজেশন

 ওতোনা জোশী নো আনিমে টাইম[Otona Joshi no anime Time]

আওই বুনগাকুর সাথে আমরা মোটামুটি পরিচিত। তেমনি একটা লিটারেচার বেইসড সিরিজ হলো এই আনিমে, যাতে ফোকাস করা হয়েছে মহিলাদের সংসার, প্রেম, টানাপোড়েন ইত্যাদি।

কেন দেখবেন: তুলনামূলকভাবে অন্যরকম, শিল্পায়িত, সেই সাথে চমত্কার কিছু গ্রউন আপ মোমেন্ট আছে.

কেন দেখবেন না: স্লাইস অব লাইফ আর জোসেই জনরা, সবার জন্য না.

ম্যাল রেটিং ৭.৫৩
আমার রেটিং ৮

 

মাঙ্গা সাজেশন

হাফ এন্ড হাফ[Half and Half]

 

একইদিনে মারা গেল দুই ছেলেমেয়ে, কিন্তু তারা আবার বেঁচে উঠলো। নিশ্চই ব্যাপারটা এত কনভেনিয়েন্ট কিছু না, এর পিছনে কোনো কাহিনী আছে. ঠিক তাই, ৭ দিন পর মারা যাবে দুজনের একজন, আর এই ৭ দিন তারা বুঝতে পারবে আরেকজনের যত অনুভূতি আছে, সব!

কেন পড়বেন: কোয়ালিটি এচি কন্টেন্ট, মান্গাকা কিমি নো ইরু মাচির রাইটার।

কেন পড়বেন না: ক্লিশে, অনেক দিন পরপর আপডেট হয়.

ম্যাল রেটিং ৭.২৯
আমার রেটিং নেই, কারণ অন্গিং।

এফ এ সি ৪৩

রান্ডম টপিক

 কান্সাই[|Kansai]

 

আমাদের দেশে যেমন সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ইত্যাদি এলাকায় আঞ্চলিক ভাষা প্রচলিত, তেমনি জাপানেও কিন্তু আঞ্চলিক ভাষা আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সম্ভবত কান্সাই ডায়ালেকট। ওসাকা-কিওতো অঞ্চলে এই রীতি অনুসৃত হয়।

কান্সাই ভাষারীতি দিয়ে একটা পুরো আনিমেই আছে, লাভ্লি কমপ্লেক্স, আপনারা চাইলে দেখতে পারেন। লম্বু মেয়ে আর বেঁটে ছেলের প্রেম কাহিনী।

 

 

আনিমে সাজেশন

বকুরা গা ইতা[Bokura ga Ita]

অদ্ভুতুড়ে জুটির অদ্ভুতুড়ে প্রেম।

 

কেন দেখবেনঃ বেশ আনলাইক্লি জুটি, আমার তাদের রসায়ন ভালো লেগেছে।

কেন দেখবেন নাঃ বাজে একটা জুটি, সময়ে সময়ে এদের উপর ভয়াবহ রকম মেজাজ খারাপ হয়েছে। সেই সাথে সৌজো রোমানস্, বুঝে নিন কার দেখা উচিত।

 

বি.দ্রঃ বিশাল বৈপরীত্য মনে হচ্ছে? নিজে দেখুন, তাহলেই বুঝবেন আমি কি বোঝাতে চাচ্ছি।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৭০

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

গিগান্তো মাখিয়া[Giganto Makhia]

ভবিষ্যতের পৃথিবী হয়েছে রাজ্যের অদ্ভুত প্রজাতির বাসস্থল, মানুষকে টিকে থাকতে হচ্ছে অনেক সংগ্রাম করে। এমনি এক অবস্থায় এক গ্রামে গিয়ে হাজির হল বাচ্চা এক মেয়ে, আর তার সঙ্গী এক বিশালাকৃতির লোক। এরপর?

 

কেন পড়বেনঃ মিউরা কেন্তারোর আঁকা, এটুকু বলাই যথেষ্ট।

কেন পড়বেন নাঃ ৭ চ্যাপ্টারের এক সিরিজ, কাজেই সেটিং বেশ  ইন্টারেস্টিং হলেও পরিপূর্ণতা পায়নি। মিউরা মাঝে মাঝেই এসব শর্ট সিরিজ লেখেন বারসারক থেকে ব্রেক নিয়ে, তাই মাঙ্গাটাকে মিউরার আর্ট উপভোগ করার একটা মাধ্যম হিসেবে ভেবে নেয়াই শ্রেয়।

 

ম্যাল রেটিং ৭.২৯

আমার রেটিং ৮[৭ হত, আর্টের জন্য বাড়তি ১.]

 

এফ এ সি ৪২

রান্ডম টপিক

 অন্সেন[Onsen]

 

 

অনসেন হচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে [জিওথার্মালি] উত্তপ্ত পানির উৎস, যার মধ্যে থাকে বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদান। আউটডোরে প্রাকৃতিক উত্সেই এটা থাকে। এর সাথে পাবলিক বাথের তফাত হলো, সেখানে পানি কৃত্তিমভাবে গরম করা হয়, আর তাতে খনিজ নাও থাকতে পারে. অন্সেন আগেকার দিনে মিক্সড ছিল[হে হে], এখনো বেশ কিছু মিক্সড অন্সেন আছে, তবে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা অন্সেনই বেশি দেখা যায়.

 

 

আনিমে সাজেশন

 ম্যাজিক কাইতো[Magic Kaito]

রাতের বেলায় উড়ে বেড়ায় সে শহরে, চুরি করে মহামুল্যবান রত্ন! ফ্ল্যাশি, রহস্যময়, ড্যাশিং, ঝলমলে সাদা কোট-প্যান্ট! মনোকলের ওপাশে বুদ্ধিদীপ্ত চোখ! নাম তার কাইতো কিড!

 

কেন দেখবেনঃ ডিটেকটিভ কোনানের একটা ক্যারেক্টার নিয়ে বারো পর্বের এই স্পিন অফ সিরিজ, বুঝতেই পারছেন, একটা ক্যারেক্টার কত জনপ্রিয় হলে নিজের একটা আলাদা সিরিজ পায়। ক্যারেক্টার ডিজাইন আকর্ষণীয়, শউনেন জন্রায় ফেলা যায়, সময় কাটানোর জন্য বেশ ভালো।

 

কেন দেখবেন নাঃ এখানে জাদু বলতে শুধুই চোখের ধাঁধা নয়, নিয়ে আসা হয়েছে অতিপ্রাকৃত শক্তির ব্যবহার, যেটা আমার বাজে লেগেছে। বেশিরভাগ জাদুই উদ্ভট টাইপ, সম্ভবত বাস্তব জগতে ইমপ্লিমেন্ট করা সম্ভব না।

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৩৭

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন 

 প্যারাসাইট[Parasyte]

পরজীবী এলিয়েনরা আমাদের অজান্তে নেমে এসেছে পৃথিবীতে, ঢুকে পড়ছে আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে। আপনিও তার শিকার নন তো?

 

কেন পড়বেনঃ যতটুকু পড়লাম, প্রমিসিং কনসেপ্ট, আঁকার ধরন ডার্ক, ইতউ জুঞ্জির মতো, হরর-গোর জন্রার বেশ ভালো উদাহরণ।

কেন পড়বেন নাঃ শিউর না, আগে পুরোটা পড়ে নিই, তারপর আপডেট করব।

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৩২

আমার রেটিং নেই, আগে পড়ে নিই.

 

এফ এ সি ৪১

রান্ডম টপিক

 উইয়াবু[Weeaboo]

 

এরা এমন এক প্রজাতি, যাদের সংজ্ঞা দেয়া খুব সহজ না, তবে নিচের কয়েকটা বৈশিষ্ট্য এদের মধ্যে দেখা যায়। [মূলত বাংলাদেশের বেসিসে দেয়া হল]

১। এরা প্রধানত নারুটো আর গকুর ফ্যান, যে কোন আলোচনায়ই তারা এই ক্যারেক্টারগুলো নিয়ে আসে[কার্টুন নেটওয়ার্কে নারুটো আর ড্রাগনবল জি দেখানোর ফল আর কি]।

২। এরা শউনেন আর এচি ছাড়া তেমন কিছু দেখে না।

৩। বাবা-মার প্রদত্ত নাম বাদ দিয়ে তারা আজব আজব সব জাপানি ফেসবুক নাম দেয়।

৪। জাপানী পারে না, তবুও খিচুড়ি কথাবার্তা বলে, যেমনঃ মিন্না, ওয়াতাশি হাংরি দেসু, পিজ্জা খাব দেসু বা হ্যাপি তানজবি ইত্যাদি।

৫। এরা কোন যুক্তি ছাড়া বাজে তর্ক করতে খুব পছন্দ করে। গকুর গ্রহ ধ্বংসের যুক্তি এদের অন্যতম পছন্দের যুক্তি।

আরও বৈশিষ্ট্য আছে, সেগুল আপাতত মনে পড়ছে  না।

 

 

আনিমে সাজেশন

 এমা-আ ভিক্টরিয়ান রোমান্স[Eikoku Koi Monogatari Emma]

এক হাউজমেইডের প্রেমে পড়ে গেলো এরিস্টোক্র্যাট পরিবারের এক তরুণ। এই অসম প্রেমের পরিণতি কি হবে?

 

কেন দেখবেনঃ শউনেন সিরিজ না, কিন্তু কাহিনী যথেষ্ট গতিময়, টানটান একটা ব্যাপার আছে, ঝুলে যায়নি কোথাও। ক্যারেক্টারগুলোর পোরট্রেয়িং বেশ আকর্ষণীয়, সেই সাথে আছে উনবিংশ শতাব্দীর ইংল্যান্ডের আবহ।

কেন দেখবেন না: বুঝতেই পারছেন, বাংলা সিনেমা গোছের একটা ভাইব আছে [অবশ্যই অতটা লেইম নয়]।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৮৭+৮.১০

আমার রেটিং ৮+৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন 

স্কুল নিঙ্গিও[School Ningyo]

 

গুজব আছে, স্কুলে গভীর রাতে হাজির হয় মৎস্যকন্যারা, যাদের মাংস খেলে পাওয়া যাবে ভালবাসার খোঁজ। দুই বান্ধবী যখন এই উদ্দেশ্যে স্কুলে রয়ে গেলো, এর পরিণতি কি হল?

কেন পড়বেনঃ বেশ ভালো হরর, আঁকাও ভালো, এন্ডিঙটা পুরোই অপ্রত্যাশিত। এছাড়া মাত্র ৩ চ্যাপ্টার, এক বসায় পড়ে ফেলার মতো।

কেন পড়বেন নাঃ ক্লিশে মনে হলেও হতে পারে।

 

ম্যাল রেটিং ৬.৭৮

আমার রেটিং ৮

 

এফ এ সি ৪০

রান্ডম টপিক

ধর্ম

 

জাপানের বেশিরভাগ মানুষ শিন্তো আর বৌদ্ধ ধর্মের সংকরের অনুসারী। খ্রিস্ট ধর্ম আছে এর পরেই, তবে তারা বড়দিন সামাজিকভাবে পালন করে. মুসলিমও আছে, যারা বেশিরভাগই অন্য দেশ থেকে মাইগ্রেট করেছেন। আছে হাতে গোনা ইহুদী আর হিন্দু ধর্মের অনুসারীও।

 

আনিমে সাজেশন

কিংডম[Kingdom]

গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে ছোটবেলার বন্ধুকে চোখের সামনে মরতে দেখল জিন। কিন্তু দমে গেলো না সে, তার বন্ধুর স্বপ্ন হৃদয়ে রেখেই পথ চলা শুরু করল সে। কি সেই স্বপ্ন? চীনের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ওয়ার জেনারেল হওয়া।

কেন দেখবেনঃ ঐতিহাসিক টাচ আছে, খুব ভালো সেইনেন, শউনেন ভাইবও আছে, মানে দুর্বল অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হওয়া। একবার শুরু করলে শেষ না করে ওঠার জো নেই।

কেন দেখবেন নাঃ এনিমেশন একটু অদ্ভুত গোছের।

 

ম্যাল রেটিং ৮.২৮+৮.৬৫

আমার রেটিং ৮+৯

 

মাঙ্গা সাজেশন

 লাইচি হিকারি ক্লাব[Litchi☆Hikari Club]

মানসিকভাবে বিকৃত কয়েকজন জার্মান তরুণের এক ক্লাবে ঘটনাচক্রে এসে হাজির হল ভাগ্যাহত এক তরুণী। এতে ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে কি পরিবর্তন আসল? আর ক্লাবের রেসিডেনট রোবটের মেয়েটাকে ভালবেসে ফেলার পরিণতিই বা কি হবে?

 

কেন পড়বেনঃ একটু অন্যরকম কাহিনী, ডার্ক, গোর। এর একটা আনিমে ছিল, সেটা মাঙ্গাকে কোনোভাবেই জাস্টিফাই করতে পারেনি।

কেন পড়বেন নাঃ কেন পড়বেন অংশটার দিকে তাকান। ক্লাবের সদস্যরা সবাই মানসিকভাবে বিকৃত। খুবই জঘন্য গোছের কিছু প্যানেল আছে।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৮০

আমার রেটিং ৮

 

এফ এ সি ৩৯

রান্ডম টপিক

সুইকাওয়ারি

 

আনিমেতে বীচ এপিসোডগুলোতে একটা আবশ্যিক অনুসঙ্গ হলো তরমুজ ফাটানো। গ্রীষ্মকালে তরমুজ ফাটানো জাপানের ঐতিহ্যগুলোর একটা। একজনের চোখ বেঁধে হাতে একটা লাঠি দেয়া হয়, অন্যরা ডিরেকশন দেয়, আর সে আন্দাজে ফাটানোর চেষ্টা করে। তবে এর চেয়ে ভালো উপায় আছে। একটা তরমুজ নিন. সেটার সাথে একটা পেন্সিল বেঁধে খানিকক্ষণ গড়াতে দিন. একটু পরে সেটাকে থামিয়ে দিন একটা ঘুষি মেরে। তারপর এর নাজুক অংশে দুই বুড়ো আঙ্গুল ঢুকিয়ে চাপ দিতে থাকুন। ব্যস, “মাইন্ড ব্লোইং” ব্যাপারস্যাপার দেখার জন্য রেডি হয়ে যান.

 

 

 

আনিমে সাজেশন

গা-রেই জিরো[Ga-Rei Zero]

ভালবাসার মানুষকে কি খুন করা সম্ভব, ভালবাসার কারণেই?

 

কেন দেখবেনঃ ধুমধাড়াক্কা প্রথম পর্বের পরে কয়েক পর্ব দেখে মনে হবে ইয়ুরি স্লাইস অব লাইফ, তারপরেই ক্লাইম্যাক্স। আবার ধুমধাড়াক্কা অবস্থা। বেশ অনেকখানি ডিফরেন্ট টেস্টের একটা আনিমে।

কেন দেখবেন নাঃ চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্সের আগে তুলনামূলক স্লো এবং ক্লিশে বিলড আপ।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৯৩

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

কারনিভোরাস প্রিন্সেস ইয়েগ্রিনা[Carnivorous Princess Yegrinna]

আনিম্যাল কিংডম থেকে রাজকুমারী ইয়েগ্রিনাকে পাঠানো হল মানবজাতিকে শাস্তি দিতে, বদমাশের দল সব প্রাণীকে কষ্ট দিয়ে বেড়াচ্ছে। ইয়েগ্রিনা প্রথমেই যে মানুষটার বাড়িতে এসে ঢুকল, সে হচ্ছে মহা আঁতেল, পড়াশুনা ছাড়া পৃথিবীর আর কোন ব্যাপারে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তাদের সংঘর্ষের ফলাফল?

 

কেন পড়বেনঃ মানহুয়া আর্টিস্টরা আঁকে দারুন সুন্দর, বিশেষ করে মেয়েদের, সেটা তো জানেনই। কাহিনীও ভালো, বেশ ভালো একটা টাইম পাস ম্যাটেরিয়াল। কয়েকটা ভালো ফাইট সিনও আছে।

কেন পড়বেন নাঃ নুডিটি, আনিম্যাল গার্ল, স্লাইস অব লাইফ, এগুলোতে এলারজি  থাকলে পড়বেন না।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৪৭

আমার রেটিং ৭

 

এফ এ সি ৩৮

রান্ডম টপিক

কাজিউরান

 

ইউকি কাজিউরার নামের সাথে অপরিচিত এমন কেউ বোধ হয় গ্রুপে নেই। কাজিউরা তার কাজে প্রায়ই ল্যাটিন ভাষা ব্যবহার করে থাকেন। আপনি কি জানতেন, এটাকে “কাজিউরান” বলা হয়?

কাজিউরানের একটা খুব ভালো উদাহরণ হলো এটা http://www.youtube.com/watch?v=Jxnf5uaeRDE

 

 

আনিমে সাজেশন

ডিটেকটিভ কোনান[Detective Conan]

এক অপরাধী চক্রের পাল্লায় পড়ে ১৭ বছর বয়সী জিনিয়াস গোয়েন্দা কুদো শিনিচি হয়ে গেল ৭ বছরের এক বাচ্চা! কিন্তু তাতেই কি সে দমে গেল? প্রফেসর হিরোশির তৈরী বিভিন্ন গ্যাজেট, আর চাইল্ডহুড সুইটহার্ট রানের সাথে মিলে শিনিচি হয়ে উঠলো এক অপ্রতিরোধ্য গোয়েন্দা, নাম নিল এদোগাওয়া কোনান! সাবধান অপরাধীরা, সাবধান!

 

কেন দেখবেন: খুব অল্প পিউর ডিটেকটিভ আনিমের মধ্যে এটা একটা। ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, গ্যাগ, এবং সর্বোপরি বেশ ভালো ভালো কেস. এপিসোডিক, কাজেই টানা দেখার ঝক্কি নেই.

কেন দেখবেন না: কোনো কারণ নেই.

 

ম্যাল রেটিং ৮.২৬

আমার রেটিং নেই, কারণ অনগোয়িং।

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

 দ্য প্রিন্স’স ক্যাকটাস[The Prince’s Cactus]

বোনের বিয়েতে গিয়ে দানিয়া পরিচিত হলো তার নতুন ভাগ্নে, মানে বোনের সৎ ছেলের সাথে। সেই ছেলে এক রাজপুত্র, মহা এরোগ্যান্ট, সারাক্ষণ দানিয়াকে তাচ্ছিল্য করে বেড়াচ্ছে। এই দুইয়ের অসম জুটি কি আসলেই সম্ভব?

 

কেন পড়বেনঃ বুঝতেই তো পারছেন, অসম প্রেমের এক উদ্দাম কাহিনী, হেহে।

কেন পড়বেন না: এখানে যে রিলেসনশিপ দেখানো হয়েছে সেটা সবার মনোপূত হবে না, আগে  কয়েকটা রিভিউ পড়ে শিউর হয়ে নেবেন।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৬৯

আমার রেটিং ৮[বায়াস্ড রেটিং]

All Fiction 1: Random Topic

র‍্যান্ডম টপিক

স্পিরিচুয়াল সাকসেসর/Spiritual Successor

কোন সাহিত্যকর্ম বা কল্পকাহিনীর সাথে অপর একটি সাহিত্যকর্মের কাহিনিসুত্রে মিল না থাকা সত্ত্বেও উভয়েই একই ভাব বহন করে, অথবা অনেক কিছুতেই সাদৃশ্য থাকে , এরূপ একটি কাহিনীকে পূর্ববর্তী কাহিনীর স্পিরিচুয়াল সাকসেসর বলা হয়ে থাকে। একে স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়ালও বলা হয়। দেখা যায় যে উভয় কাহিনীর সুপারন্যাচারাল ব্যাপারগুলো, অথবা কাহিনীর অগ্রগতিতে অনেকখানি মিল থাকে, কিন্তু তাকে সম্পূর্ণ এক বলা যায়না। গতানুগতিক সিক্যুয়ালগুলোতে যেমন একই কাহিনীধারাই বজায় রাখা হয়, এটা ঠিক সেরকম না।

এই ‘স্পিরিচুয়াল সাকসেসর’ টার্মটাতে বুঝানো হয় যে কোন সাহিত্যকর্মের স্পিরিট অপর কোন সাহিত্যকর্মে পরবর্তীতে সঞ্চালিত হয়, কিন্তু কাহিনীসূত্র হুবহু থাকেনা।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, জনপ্রিয় “প্রিন্স অফ পার্সিয়া” সিরিজের স্পিরিচুয়াল সাকসেসর হল “অ্যাসাসিন্স ক্রিড”। অ্যাসাসিনস ক্রিড গেমটিকে প্রিন্স অফ পার্সিয়ার গতানুতিক সিক্যুয়াল বানানোর কথা থাকলেও পরবর্তীতে তাকে একই ভাবধারার একটি গেম সিরিজ হিসেবে তৈরি করা হয়, সরাসরি সিক্যুয়াল নয়।

যুগে যুগে অনেক সাহিত্যকর্মই প্রকাশিত হয়েছে। হয়তোবা দেখা গেছে, এক প্রজন্মের সাহিত্যিকরা পূর্ববর্তী সাহিত্যিকদের লেখায় অনুপ্রাণিত হয়ে কিছু সাহিত্য রচনা করেছেন, তাই তাতে পূর্বসুরির প্রভাব রয়ে গেছে।

অনেক জায়গাতেই দেখা যায়, মানুষজন তাদের প্রিয় সিরিজের ভাবধারার সাথে মিল থাকা অপর কোন সিরিজকে নকল বলছে। কিন্তু আদতে তা হল পূর্ববর্তী সিরিজটির স্পিরিচুয়াল সাকসেসর, নকল নয়।

All Fiction 1 – Character Spotlight: Kumagawa Misogi

ক্যারেক্টার স্পটলাইট –

কুমাগাওয়া মিসোগি / Kumagawa Misogi

মাঙ্গা : মেদাকা বক্স / Medaka Box

মেদাকা বক্স (Medaka Box) মাঙ্গার সবচেয়ে ডার্ক ক্যারেক্টার কুমাগাওয়া মিসোগি (Kumagawa Misogi)। ‘Born Loser’ বলতে যা বুঝা যায় , কুমাগাওয়া তার যথার্থ উদাহরণ। ভয়ংকর অ্যাবিলিটির অধিকারী বিকৃত মানসিকতার এই ক্যারেক্টারটি জীবনে সবকিছুতেই ব্যর্থ , সকলের কাছে সকল বিষয়ে হেরেছে , এমন একটি মানুষ।

মেদাকা বক্স মাঙ্গাতে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের এবং ক্ষমতার(অ্যাবিলিটি) উপর ভিত্তি করে ক্যারেক্টার দের ‘Plus’, ‘Minus’, ‘Special’, ‘Normal’ ও ‘Not Equal’ এই কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যারা নেতিবাচক মানসিকতার ও ক্ষমতার অধিকারী , তাদের বলা হয় ‘Minus’। এবং এই মাইনাসদের মধ্যে সবচেয়ে মাইনাস , সবচেয়ে শক্তিশালী/নেতিবাচক হল কুমাগাওয়া। একজন মানুষের পক্ষে যতটা নেতিবাচক হওয়া সম্ভব , কুমাগাওয়া ঠিক ততটাই বিকৃত , নেতিবাচক মানসিকতার অধিকারী।

বলা হয় যে , কুমাগাওয়া জীবনে যত মানুষের সাথে মেলামেশা করেছে , তাদের সব নেতিবাচক দিকগুলোই সে নিজের করে নিয়েছে।

নাস্তিবাদি এই ক্যারেক্টারটির প্রধান ‘Ability’ হল ‘All Fiction’ , যার সাহায্যে সে যেকোনো কিছুর অস্তিত্ব পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলতে পারে , নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে নিমেষেই । হাসতে খেলতে সে মানুষকে খুন করতে পারে। যেকোনো কিছুকে নাই করে দেওয়ার মত এই ক্ষমতার সৃষ্টি হয়েছে তার নেতিবাচক মানসিকতা থেকেই।

বিতর্কের খাতিরে বলতে গেলে, কুমাগাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী মাঙ্গা ক্যারেক্টার, কারণ তার রয়েছে যেকোনো কিছুর অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করে দেবার ক্ষমতা।

তার কাছে মানুষের জন্মমৃত্যুর কোন মুল্য নেই। বেঁচে থাকার , জীবনকে উপভোগ করার অর্থ সে জানেনা। মাইনাসদের ছাড়া সে অন্য কোন মানুষকে বিশ্বাস করেনা , কারন শুধু মাইনাসরাই বুঝতে পারে অপর মাইনাস দের দুঃখ। মাইনাসদের সচরাচর অনুভূতি (emotion) প্রকাশ করতে দেখা যায়না , তারা হাসিমুখে সব অপমান , অপবাদকে অগ্রাহ্য করে।

স্বঘোষিত সবচেয়ে দুর্বল ক্যারেক্টার, কিন্তু আদতে শক্তিশালী , ভয়ংকর এবং আনপ্রেডিকটেবল ক্যারেক্টার কুমাগাওয়া মিসোগির হৃদয়েও রয়েছে নমনীয়তা। সে যাদের বিশ্বাস করে তাদের জন্য যেকোনো কিছুই করতে পারে। মাঙ্গার এক পর্যায়ে গিয়ে তার চরিত্রের নমনীয় এই দিকগুলোর পরিচয় পাওয়া যায়। তার নিজের ব্যর্থতা থেকে অন্যদের অনুপ্রেরণা দিয়ে মানুষকে সামনে অগ্রসর হবার কথা বলে সে…

কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে কুমাগাওয়ার দারুণ কিছু পান (Pun) যা পড়ে আপনারা না হেসে পারবেননা।

পারভার্টনেস তার অনন্য বৈশিষ্ট্য । পুরো মাঙ্গা জুড়েই রয়েছে তার এরোগিরি । কৌহাইদের নিয়ে সে গঠন করেছিল ‘Naked Apron Alliance’ নামক সংঘ। নাম শুনেই বুঝতে পারবেন সংঘটি কেমন :v ।

কিছু কিছু জায়গায় তার মাত্রাতিরিক্ত পারভার্টনেস নির্মল আনন্দের উৎস হিসেবে কাজ করবে।

তার অ্যাবিলিটিগুলোর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য অ্যাবিলিটি হল ‘Hundred Gauntlet’ , যার মাধ্যমে কতগুলো বড় বড় স্ক্রু নিয়ে কুমাগাওয়া তার শত্রুদের আক্রমন করে। এই স্ক্রুগুলো কোন ক্ষতের সৃষ্টি করেনা , তবে যার গায়ে বিঁধে , তার মনটা কুমাগাওার মতই নেতিবাচক মানসিকতায় ভরে ওঠে। আর তার এই অ্যাবিলিটির মাধ্যমে শ্লেষাত্মকভাবে সে যেন মুণ্ডুপাত করে, স্ক্রুগুলো তারই বহিঃপ্রকাশ (He sarcastically screws others with his large screws)।

মেদাকা বক্সের লেখক নিশিও ইশিন, যিনি মোনোগাতারি সিরিজের জন্য বিখ্যাত , সুপারন্যাচারাল কাহিনীসূত্র ও পাগলাটে ক্যারেক্টার সৃষ্টিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। আমার মতে কুমাগাওয়াই তাঁর সৃষ্ট সর্বোৎকৃষ্ট ক্যারেক্টার।

তাই পড়ুন মেদাকা বক্স মাঙ্গা , নিজেই উপভোগ করুন অসাধারণ, পাগলাটে ক্যারেক্টার কুমাগাওয়ার অবিশ্বাস্য সব কাণ্ডকারখানা।