Alder from Pokemon Black and White Series character review লিখেছেন Hasnat Mohi

Anime: Pokemon Black and White Series
Game: Pokemon Black and White (1 and 2)

এইখানে অনেকেই আছেন Pokemon দেখছেন Diamond and Pearl Series পর্যন্ত, আবার অনেকে BW দেখে তার গেমও খেলে শেষ করেছেন অথবা শুধু এনিমে সিরিজটাই দেখেছেন।

এইবার রিভিউ তে আসা যাক:

Name: Alder
Title: Champion of Unova League in Pokemon BW anime, game and *spoiler alert for this sentense* Former Champion in game Pokemon BW2( Defeated by Dragon master Iris)

বিবরণ:

এল্ডারকে এককথায় নারুতোর জিরাইয়ার পোকেমন কাউন্টারপার্ট বলা যায়। ইকটু লুইচ্চামির স্বভাব থাকলেও খুবি ভালো ট্রেইনার :)। অন্য রিজনের চ্যাম্পিয়নদের থেকে অনেক বয়স্ক ও অভিজ্ঞ এই লোক। এল্ডার সাধারণত তার বাফোল্যান্ট ব্যবহার করে এ্যমেচারদের সাথে ব্যটল করার জন্য। উনার বাদবাকি পোকেমন গোপন রাখা হলো, যারা গেমটা শেষ করবে বা Bulbapedia ঘাটাবে তারাই খালি জানতে পারবে :p। ইউনোভা রিজনের অনেক ট্রেইনারের স্বপ্ন এলডারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তার মধ্যে এনিমে সিরিজের প্রোটাগনিস্ট এ্যস এর রাইভাল ট্রিপ অন্যতম। BW গেমে এল্ডারের সাথে ব্যাটল করা যায় গেম শেষ করে দ্বিতীয়বার ইউনোভা লীগ চ্যালেঞ্জ করলে। এবং BW2 তে গেম শেষ করে তার হোমটাউনে গিয়ে তাকে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

ইউনোভার সেরা ট্রেইনারদের মধ্যে এল্ডার অন্যতম একজন।

10533456_691535297593275_4922548745008228879_n

বাড়তি তথ্য:
Pokemon প্রথম সিরিজে Kanto Region ও দ্বিতীয় সিরিজে Johto region এর চ্যাম্পিয়ন থাকে Dragon Master Lance(পরবর্তীতে রেড)।

হোয়েন রিজনে Wallance যে আগে একজন Gym leader এবং Top Coordinator থাকে।

Sinnoh League এ চ্যাম্পিয়ন থাকে Cynthia নামের এক সুন্দরী ( _ )

courtesy : Anime Freaks of Khulna

ডেট্রয়েট মেটাল সিটি রিভিউ লিখেছেন Torsha Fariha

অ্যানিমে সাজেশন- ডেট্রয়েট মেটাল সিটি
জানরা- কমেডি, মিউজিক

এনিমখোরের ব্লগটাতে আমি এই অ্যানিমে নিয়ে সুন্দর একটা রিভিউ পাই। কন্টেন্ট খুবই ইন্টারেস্টিং তাই দেখার সিদ্ধান্ত নেই।

দেখার পর মনে হল আসলেই চরম একখনা জিনিস দেখসি।
সুইডিশ পপ, কান্ট্রি মিউজিক ইত্যাদি স্লো, শান্তিপূর্ন মিউজিকের ফ্যান (এবং নিজেও গান গায়) একসময় ঘটনাচক্রে হয়ে পড়ে ডেথ মেটাল ব্যান্ড DMC এর ভোকাল।

10509670_818384834840329_9156649322595260353_n

এমনিতে একদমই শান্ত শিষ্ট লেজ বিশিষ্ট কিন্তু Krauser এর কস্টিউম পড়ে পুরাই অ্যারোগেন্ট আর খিস্তি-খেউড় মার্কা কথা বার্তা ওয়ালা মানুষে পরিণত হয় নেগিচি কুন।

এই অ্যানিমেটা আসলে তার ডুয়েল ক্যারেক্টার এর কমেডি নিয়ে তৈরি। মাত্র ১২ এপিসোডের এই অ্যানিমেটা এক বসাতেই শেষ করা যায়।

আরেকটা কথা অ্যানিমের ওপেনিং সং ‘সাৎসুগাই’ (মার্ডারার) খুবই জোস একটা গান। লিরিকের মধ্যে অবশ্য একটু অশ্লীষ কন্টেন্ট আছে। ঐটা ওভারলুক করলে গানটা পুরাই বস।

যারা আগ্রহী তাদের বলব ব্লগে গিয়ে রিভিউ পড়ে নিবেন আর অবশ্যই দেখে ফেলবেন।

Kaiketsu Zorro/The Legend of Zorro রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

-blonde-hair-blue-eyes-flower-gloves-hat-kaiketsu-zorro-light-brown-hair-lolita-pulido-mask-pink-background-zorro--532b445ccc743.png

Kaiketsu Zorro/The Legend of Zorro:
স্মৃতিচারণমূলক রিভিউ

আমার শৈশব কেটেছে ঢাকার বাইরে, যেখানে কার্টুন নেটওয়ার্ক আসত না। কার্টুন দেখার একমাত্র ভরসা ছিল বিভিন্ন ইন্ডিয়ান চ্যানেলের হিন্দী ডাবড কার্টুন (পরে বুঝেছি তার অনেকগুলোই আসলে অ্যানিমে ছিল)।
সেই সময়ে দেখা অ্যানিমে দ্য লিজেন্ড অফ জোরো।

প্রথমে মাই অ্যানিমে লিস্ট থেকে কিছু তথ্য তুলে দিই-
Aired: Apr 5, 1996 to Apr 14, 1997
Producers: Mushi Productions
Genres: Adventure, Historical, Shounen
Score: 7.27
Ranked: #2117

এবার স্টোরিতে আসা যাক।
কাহিনীর নায়ক ডন ডিয়েগো ডে লা ভেগা, পড়াশোনা শেষ করে নিজের দেশে ফিরে আসতে থাকে জাহাজে করে। বাইরে থাকার সময় বাবা এবং বাল্যকালের বন্ধু ললিটার চিঠি থেকে সে জানতে পারে দেশে আর্মি একনায়কতন্ত্র চালু করেছে, সাধারণ মানুষ আর্মির অন্যায় অত্যাচারের কাছে মাথা নত করে রেখেছে প্রাণের ভয়ে। কেউ সাহস করে মাথা উঁচু করতে চেষ্টা করলে তাকে বিনা বিচারে প্রাণ হারাতে হয় সবার চোখের সামনে। ডিয়েগো ফিরে আসার পর নিজের চোখে আর্মির স্বেচ্ছাচারিতা দেখতে পায় প্রতি মূহুর্তে। তার মনে চিন্তা আসে যে করেই হোক, এই স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটাবে।
আর্মির অন্যায়ের বিরূদ্ধে মাথা তুলে দাড়ানো একজন ব্যাক্তি ও তার পরিবারের মানুষদের কোর্টমার্শালের দিনে স্যানটেসকোবাসীরা তাই দেখতে পায় এক মাস্কড হিরোকে, কালো পোষাক, কালো ক্লোক এবং মাস্ক পরে, সাদা ঘোড়ার পিঠে চড়ে যে আউট অফ নো হোয়্যার এসে হাজির হয় এবং প্রথমবারের মত আর্মির ষড়যন্ত্রকে কেউ তছনছ করে বন্দীদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। শহরবাসীর মনে একটা আশার আলো জাগিয়ে যায়, যে আলোর নাম, জোরো।

কাহিনীটা ন্যায় অন্যায়ের কিছুটা ছেলেমানুষী একটা কনসেপ্ট নিয়ে এগিয়ে যায়, যেখানে বেশিরভাগ সময় “হিরো সেভস দ্য ডে” কনসেপ্টটাই প্রাধান্য পায়। ডিয়েগো/জোরো পুরোটা সময় নিজের দ্বৈত সত্ত্বা খুব ভালভাবে বজায় রাখে।
ডিয়েগো হিসেবে নিজেকে খুব বোকাসোকা আলসে একটা ছেলে হিসেবে প্রমাণ করে সবসময়, এবং এই কাজটা সে খুবই ভালভাবে করে।
অন্যদিকে জোরো হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সে কখনো পিছপা হয়না। ডিয়েগো তার ব্যাক্তিত্বের জন্যে তার বাল্যকালের বন্ধু ললিটার ভালবাসা পেতে ব্যর্থ হয়, কারণ ললিটা জোরোকেই তার স্বপ্নের নায়কের আসনে বসায়।

অ্যানিমেটার ব্যাপারে ম্যালে একজনের কমেন্ট ভাল লেগেছে- “This is hardly the type of anime you’d come across, even while searching randomly. Nor is it something you would give a second look or thought about.” আমার মতামতও একই। কিন্তু ওই আমলে যারা জোরো দেখেছে, নিঃসন্দেহে তারা এটাকে তাদের ফেভারিট লিস্টে রাখবেই। ১৮ বছর আগের একটা অ্যানিমে, কিন্তু এর কাহিনী, আর্টওয়ার্ক, ওএসটি এখনও আমাকে মুগ্ধ করে (আবেগের কারণে হতে পারে অস্বীকার করছিনা)। একেকটা পর্ব দেখার জন্য প্রতিদিন আমি সাড়ে ছয়টা বাজার জন্য অপেক্ষা করে থাকতাম।

আশা করি আমার অত্যন্ত পছন্দের এই অ্যানিমেটি আরও অনেকেই দেখেছেন, আর যারা দেখেননি, আশা করব যদি কখনো দেখেন তাহলে ভাল লাগবে। অ্যানিমেটির (এবং রিভিউটির ব্যাপারে) মতামত
জানালে খুশি হব। পড়ার জন্য ধন্যবাদ !!

Diego.De.La.Vega.full.359557

Tenkuu Danzai Skelter Heaven ট্রল রিভিউ লিখেছেন মোঃ আসিফুল হক

কি করছেন? এনিম দেখছেন নিশ্চয়ই। কোন সিরিজ দেখছেন?

নারুতো? বন্ধ করুন এখনই।
ওয়ান পিস? ধুরো; এটা দেখে কি লাভ?
হান্টার এক্স হান্টার? ছ্যা ছ্যা।

এইসব হাইপওয়ালা সিরিজ দেখে দেখে সময় নষ্ট করে কত লুক্কায়িত সোনার টুকরা সিরিজ মিস করছেন জানেন? জি হ্যা; আজকের রিভিউ তেমনই একটা এনিম নিয়ে। “Tenkuu Danzai Skelter Heaven” – মাত্র ১৯ মিনিটের একটা পর্ব; অথচ এই এক পর্ব দেখেই আপনি খুব সম্ভবত আপনার পছন্দের সিরিজের লিস্ট উলট পালট করতে বাধ্য হবেন !

মেকা এবং সাই ফাই ঘরানার এই ওভা এর শুরু নিকট ভবিষ্যতে। একদিন সুন্দর এক সকালে হটাত করেই আকাশে এক রহস্যময় বস্তু এসে হাজির হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টা সমাধান করতে দায়িত্ব তুলে দেয় “Alta Mira Agency” বা সংক্ষেপে এএ’র হাতে। “Hunagai Otsuya.” রোবট প্রশিক্ষণ সেন্টারের প্রধান। তার ইউনিটের হাতেই এসে পড়ে এই রহস্যময় বস্তু চিহ্নিতকরন এবং একে প্রতিরোধের গুরু দায়িত্ব। মানব সভ্যতা তখন অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে ! মানবতাবোধ সম্পন্ন রোবটকে যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যাবহার করা হচ্ছে যুদ্ধ সহ নানা ক্ষেত্রে। এইরকম একদল স্যাক্রিফিশিয়াল রোবট টিম নিয়ে অতসুইয়া ঝাঁপিয়ে পড়ে শহর রক্ষায়। তারপর? তারপর কি হল; সেইটা না হয় নিজেই দেখে নিন !

স্টোরিটা হয়ত একেবারে ইউনিক কিছু না; কিন্তু যেভাবে পুরো গল্পটা সাজানো হয়েছে; উপস্থাপনা, দৃষ্টিকোণ এবং সম্পাদনা – তা আসলেই চমৎকারিত্বের দাবি রাখে। একটা টিপিকাল মেকা প্লটের মাঝেও অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বে পূর্ণ চরিত্রগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, লড়াই এবং একত্রে একে অপরের পাশে থাকার যে প্রবণতা; নিজেদের অনুভুতির উপরে টিমের জন্য, নাকামার জন্য তাদের যে আত্মত্যাগ – তা এই সিরিজকে দিয়েছে অন্য এক মহিমা।

10453362_890744910952406_6447399023851041128_n

TDSH এর সবচেয়ে শক্তিশালি দিক বোধহয় এর চরিত্রগুলো। এতো অল্প সময়ের মাঝে খুব অল্প কিন্তু শক্তিশালি এক গুচ্ছ চরিত্রের internal conflict এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আচার আচরণ, তাদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া যে এতো সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তার জন্য পরিচালক অবশ্যই একখানা হাততালি পাবার অধিকার রাখেন।

সাউন্ড ট্র্যাক অত আহামরি কিছু না হলেও সিরিজের আবহ ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে চমৎকার দক্ষতায়।

সিরিজটার এনিমেশন স্টাইলও আলাদা করে বলার মতন। ডায়লগ বেইজড দৃশ্যগুলোতে কিঞ্চিত ঘাটতি থাকলেও চমৎকার ফ্লুইড ফাইট সিনগুলো যেন চোখের জন্য ট্রিট।

ওভারঅল; কিছু ক্ষুদ্র ঘাটতি মেনে নিলে TDSH বোধহয় আমার অত্যন্ত পছন্দের সিরিজগুলোর একদম উপরের দিকেই থাকবে।

ডাউনলোড লিঙ্কঃ টরেন্টঃ http://bakabt.me/127724-tenkuu-danzato-skelter-heaven-angelic-anime.html

ইউটিউবঃ https://www.youtube.com/watch?v=sJxJh7zObec

নিওন জেনেসিস ইভাঙ্গেলিওন ট্রল রিভিউ লিখেছেন Fahim Bin Selim

শিনজি ইকারি যোগ দিল “এঞ্জেল” নামক পৃথিবী আক্রমনকারী অ্যালিয়েন দমন প্রতিষ্ঠান নার্ভে। পিতার কাছ থেকে চিরকালই অবহেলার শিকার শিনজি কি পারবে ইভাঙ্গেলিয়ন ইউনিট ওয়ানের অতিমানবিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দুষ্ট ‘অ্যালিয়েন’-দের হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে? তার বাবার সমীহ পেতে? কেই বা হবে বেস্ট ‘গার্ল’? নাগিসা, আয়ানামি, ল্যাংলী নাকি কাৎসুরাগি?

অ্যাকশন, পেট ফাটানো হাসির, হারেম আর সাইফাই ভালোবাসেন; আর নিওন জেনেসিস ইভাঙ্গেলিওন দেখবেন না তা কি হয়? রোমান্স আর ইনটেনস ইমোশন – ক্ল্যাসিক এক রোমান্টিক অ্যানিমে হতে আর কি লাগে। আর অসাধারণ এন্ডিংটা আপনাকে ফিলের ‘সাগরে’ ভাসিয়ে দিবে, চোখের কোনে পানি না আসলে বলতে হবে আপনি অন্য ধাতের মানুষ।

10484617_786011101430709_8801167921370553859_nরোমান্টিক অ্যানিমের গুরু হিদেয়াকি আনোর এই অ্যানিমেটা বদলে দিয়েছিল অ্যানিমে জগতের গতিপথই। যার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে পরে তৈরী হয়েছে সিরি য়ারু জিকেন রেইনু আর তাকু নো রাইজের মত অসাধারণ সব অ্যানিমে। এই বন্ধতে গা এলিয়ে দিয়ে রিলাক্স হয়ে দেখার মত অ্যানিমে এটার মত আর একটাও পাবেন না। তাহলে অপেক্ষা কেন?

“Durarara!!” রিভিউ লিখেছেন Adnan Shafiq Ricky

প্রথমবার একটি রিভিউ লেখার চেষ্টা করলাম । সকল ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাই । আশা করি সবার ভালো লাগবে । যতটুকু পারা যায় ততটুকু স্পয়লারমুক্ত রাখার চেষ্টা করেছি ।

“Durarara!!” রিভিউ

Genre : Action,Mystery,Drama,Shounen,Supernatural

মাই এনিমে লিস্ট রেটিং : ৮.৫১

পর্ব সংখ্যা : ২৪

অদ্ভুতুড়ে ও বিভ্রান্তিকর চরিত্রগুলো থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের কাহিনী ও উদ্ভট নাম ,আমার কাছে “ডুরারারা !!” অদ্ভুতুড়ে বিশেষণটির যথার্থ সংজ্ঞা । উদ্ভট কিছু কি সব সময় ভালো মানায় ? না । কিন্তু এই ক্ষেত্রে ? আমার মতে উত্তরটা অবশ্যই হ্যাঁ । মারাত্মক সব প্লট টুইস্ট , অনন্য সব চরিত্র এবং একটি ইন্টারেস্টিং কনসেপ্ট । বলতে গেলে একটি দ্রুত চলা থ্রিলারে যা যা থাকা দরকার সেই সব উপাদান এখানে উপস্থিত । এখানে আমাদের দেখা মিলে মিথ থেকে উঠে আসা চরিত্রের , অতিমানবীয় শক্তিধর মানুষ , গ্যাংস্টার ,ডিমনিক পজেসন , পারতপক্ষে একজন সর্বশক্তিমান ইনফর্মেশন ব্রোকার যে সবার মাঝে মানসিক এক যুদ্ধ লাগিয়ে রেখেছে এবং এছাড়াও আরও অনেক কিছু । বলতে গেলে সম্পূর্ণ পাগলামি ! নিখুঁত ? না । আনন্দদায়ক ? অবশ্যই ।

কাহিনী :৮

আমাদের এই গল্পের শুরু টোকিওর ইকেবুকুরোতে যেখানে সবকিছু এক রহস্যময়তার চাদরে ঢাকা । কাহিনীটি কমেডি ,অ্যাকশন,ড্রামা ও ফ্যান্টাসির মিশ্রণ । প্রথম অংশ জুড়ে গল্পের বিভিন্ন চরিত্রের ভাষায় পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে সব চরিত্রের এবং ধীরে ধীরে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আমরা গল্পের আরও গভীরে যেতে থাকি । গল্পের এই সেটিং বেশ ইউনিক ও আকর্ষণীয় হলেও আমার মতে কিছুটা হলেও সঙ্গতির অভাব থেকে গেছে । প্রথমে কিছুটা ঢিলে ঢালা ভাবে শুরু হলেও প্রাথমিক পরিচয় শেষে ৯ বা ১০ পর্বের দিকে যখন মুল গল্পের শুরু
হয় তখন থেকেই মুল মজা শুরু । পরবর্তীতে কি ঘটতে যাচ্ছে তা ধারনা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পরে । শেষের সাত-আটটা পর্বে গল্পের মুল লক্ষ্য বেশ খানিকটা পরিস্কার হলেও বেশ কিছু প্রশ্ন থেকে যায় । এইখানে শহরের ব্যাকড্রপ আকর্ষণ ধরে রাখার মতো এক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে । সাথে রয়েছে প্রত্যেক পর্বের শেষে মারাত্মক সব ক্লিফহ্যাঙ্গার । সর্বোপরি , সম্পূর্ণ প্লট দর্শকের মনে বেশ কৌতূহল জাগানোর জন্য এবং শেষ পর্যন্ত আকর্ষণ ধরে রাখার মতো আদর্শ ।

আর্ট :৮

ডুরারারা এর আর্ট বেশ চমৎকার এবং সম্পূর্ণ গল্পে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে । বেশ উজ্জ্বল রঙের মাধ্যমে ইকেবুকুরো শহর এবং এই গল্পের সব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকে দেখানো হয়েছে ; বাকি সবকিছুকে দেখানো গ্রে সেইডে । শহরের বিভিন্ন গ্যাং নিজেদের পরিচয় দেয় কিছু নির্দিষ্ট রঙের মাধ্যমে যেমন , ব্লু স্কোয়ার এবং ইয়েলো স্কারভস । আবার , ডলারস এর মেম্বাররা নিজেদের কালারলেস হিসেবে দাবি করে । প্রত্যেক চরিত্রের ডিজাইন আহামরি কিছু না হলেও বেশ ভালো লাগার মতো । এটি গুরুত্বপূর্ণ যে গল্প এবং আর্ট একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে , কেননা আর্ট সম্পূর্ণ প্লট এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ।

সাউন্ড :৯

আমার মতে , দুটি ওপেনিং বেশ চমৎকার এবং ভালো লাগার মতো , গানের লিরিকগুলো গল্পের সাথে বেশ ভালই মানিয়ে গেছে । এন্ডিং দুটিও ভালো , যদিও এই বিষয় সবার মত এক না হতেও পারে । বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো ইউনিক এবং গল্পের আমেজ সেট করেছে ভালভাবে । ভয়েস অ্যাক্টিং অসাধারণ , অনেক প্রখাত ও সফল ভয়েস অ্যাক্টর মূল চরিত্রগুলোর ভয়েস দিয়েছেন।

10334278_838150269546493_8410561451866901808_n

চরিত্রসমূহ :৯

ইকেবুকুরোর মতো রহস্যময় শহরের ব্যাকড্রপে এই গল্পে অনেক বৈচিত্র্যময় চরিত্রের দেখা মেলে । আমরা দেখতে পাই প্রোটাগোনিস্ট রিউগামিনে মিকাডো , একটি শান্তশিষ্ট ও চুপচাপ ছেলে বন্ধুর কথায় যে প্রথমবারের মত টকিয়োতে থাকতে এসেছে এক রোমাঞ্চকর জীবনের আশায় কিন্তু তারও রয়েছে একটি মারাত্মক সিক্রেট । রয়েছে তার বন্ধু , কিদা মাসাওমি , এক হাসিখুসি ও চঞ্চল ছেলে কিন্তু তারও রয়েছে এক কষ্টকর অতীত । সুনোহারা আনরি, যাকে কিনা মিকাডো ও কিদা দুজনেই পছন্দ করে কিন্তু তার মনের কথা এবং তার চারপাশের সবকিছুই কেমন যেন ধোয়াটে । হেইওাজিমা শিজুও , একজন সর্ট-টেমপারড ও অবিশ্বাস্য শক্তিধর লোক । ওরিহারা ইযায়া , এক অতি ধুরন্ধর লোক যে কিনা “মানুষদের খুব ভালবাসে”, পছন্দ করে তাদের আচার-আচরণ নিয়ে গবেষণা করতে এবং তাদের মস্তিষ্ক নিয়ে খেলতে । এছাড়া ব্ল্যাক রাইডারের মতো আরবান লেজেন্ডের উপস্থিতিতে গল্পটি খানিকটা সুপারন্যাচারাল মোড় নেয় । এছাড়া আরও অনেক ইন্টারেস্টিং ও মজাদার অনেক চরিত্রের আগমন ঘটে পুরো কাহিনী জুরে । অনেক বড় কাস্ট , গল্প অনেক খানিকটা ক্যারেক্টার-ড্রিভেন হলেও তা সম্পূর্ণ গল্পের মান না কমিয়ে বরং তা বৃদ্ধি করেছে ।

ওভারঅল : ৮.৫

এই এনিমেতে অতীতের সাথে আধুনিক যুগের মিশ্রণ ঘটেছে ,পুরাতন লেজেন্ডের দেখা মিলেছে মডার্ণ সেটিং এ । এখানে টোকিয়োর মতো শহরের প্রাণবন্ত ও গতিশীল দিক দেখানো হয়েছে এক রহস্যময় আমেজে । সম্পূর্ণ গল্প যেন একটি রোলারকোস্টার রাইড ,এই শহরে যেন যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে । এটির মতো শক্তিশালী ও মজবুত সেটিং এ বন্ধুত্ব ও শত্রুতা যেন এক ভিন্ন রূপে , আরও গভীরভাবে দেখানো হয়েছে ।

তাই যদি আপনি যদি কোন উদ্ভট কিছুর খোঁজে থাকেন , যেখানে থাকবে অনেক গল্পের অদ্ভুত সুন্দর সংমিশ্রণ এবং অনেকগুলো ইন্টারেস্টিং চরিত্র ও ধাঁধাঁয় পূর্ণ এক জাকযমক শহর , তাহলে আপনি অবশ্যই দেখতে পারেন এই এনিমেটি যা আপনাকে অতুলনীয় কিছু মুহূর্ত উপহার দিবে যা আপনি আর কোথাও পাবেন না । ধন্যবাদ ।

History’s Strongest Disciple: Kenichi মাঙ্গা রিভিউ লিখছেন তাওসিফ তান

 

historys-strongest-disciple-kenichi-4496349

হিষ্টোরিস স্ট্রংগেষ্ট ডিসাইপল : কেনিচি
(History’s Strongest Disciple: Kenichi)
( 2002-running )

GENRE: action, martial arts, comedy, romance, high school

মার্শাল আর্টস! মানবসৃষ্ট এবং যুগ যুগ ধরে চর্চাকৃত এমন এক শিল্প যা দ্বারা মানুষ চাইলে খালি হাতে যেকোন অস্ত্রধারী বা তারচে বেশি শক্তিশালী মানুষ থেকে নিজেকে ও নিজের আশপাশের মানুষদের রক্ষা যেমন করতে পারে…তেমনি চাইলে তা ব্যবহার করে সংঘটিত করতে পারে ভয়ঙ্কর সব অপরাধ! নিজেকে পরিণত করতে পারে একটি “মানব মারণাস্ত্রে”। নাড়িয়ে দিতে পারে মনুষ্যত্ব ও সভ্যতার ভিত! মার্শাল আর্টিষ্ট দের মাঝে যারা এক বা একাধিক মার্শাল আর্টে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন তাঁদের বলা হয় “মাষ্টার ক্লাস”, আর যারা সেইসব মাষ্টারদের কাছে মার্শাল আর্ট শিক্ষা নেয় তাদের বলা হয় “ডিসাইপল ক্লাস” মার্শাল আর্টিষ্ট…

তো আমাদের কাহিনীর মূল চরিত্র কেনিচি শিরাহামা, একজন শীর্ণকায় ভীতুর ডিম সোশ্যালি অকওয়ার্ড জাপানী স্কুলছাত্র, যে কিনা প্রতি পদে পদে তার ক্লাসমেট এবং উচু ক্লাসের ছাত্রদের Bullying এর শিকার!! সে সবসময় চায় শক্তিশালি হতে, এসব অন্যায় bullying এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে, নিজের ও তার আশেপাশের সকল তারমত ভুক্তভোগীদের রক্ষা করতে…. এবং পরিণতিতে আরো মার খায়!

সব দেখে শুনে কেনিচির রহস্যময়ী বান্ধবী মিউ ফুরিনজি একদিন কেনিচিকে নিয়ে যায় তার পরিবার, “রিওজানপাকু ডোজো” তে। এমন একটি মার্শাল আর্ট স্কুল যেখানে একত্রিত হয়েছেন বিশ্বের সেরা সেরা “গ্র্যান্ড মাষ্টার”গণ (এমন মাষ্টারক্লাস, যারা নিজেদের মার্শাল আর্ট স্কিলকে নিয়ে গেছেন প্রায় অতিমানবীয় পর্যায়ে ) ! রয়েছেন দার্শনিক জুজুৎসু মাষ্টার আকিসামে কোয়েৎসুজি, ১০০ ডিগ্রী কারাতে ব্ল্যাক বেল্ট শিও সাকাকি, সকল চাইনিজ মার্শাল আর্টের গুরু মা কেনসেই, আন্ডারগ্রাউন্ড মুয়ায় থাই এর “ডেথগড” খ্যাত আপাচাই হোপাচাই এবং সকল অস্ত্রনির্ভর মার্শাল আর্টের প্রডিজি কোসাকা শিগুরে! আরো আছেন বুড়ো হায়াতো ফুরিনজি, মিউর দাদা, যিনি কিনা “ইনভিন্সিবল সুপারম্যান” নামে মার্শাল আর্ট জগতে সুবিদিত একজন লেজেন্ড!
এদের খপ্পরে পড়ে কেনিচির দুনিয়াই পাল্টে যায়! কোনপ্রকার ন্যাচারাল ট্যালেন্টবিহীন কেনিচির দিনের একাংশ এখন কাটে তার পাঁচ মাষ্টারের উপর্যুপরি নারকীয় এবং অমানুষিক ট্রেনিং গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করে এবং অন্য অংশ কাটে মিউর সাথে স্কুল এবং স্কুলের বাইরে Ragnarok নামক একটা ভয়ঙ্কর কিশোর অপরাধী দলের মার্শাল আর্টিষ্ট সদস্যদের সাথে যুদ্ধ করে এবং তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে! এক সময় কেনিচি এতে সফলকামও হয় এবং দল থেকে তার অনেক বন্ধুবান্ধবও জুটে যায়…কিন্তু তারপরই সে জড়িয়ে পড়ে আরো ভয়ঙ্কর বিপদে!
কেনিচির মার্শাল আর্ট স্কিলের খ্যাতি শুনে তার উপর নজর পড়ে YAMI নামক বিশ্বের সবচে কুখ্যাত মার্শাল আর্ট সংস্থার এলিট গ্রুপ “ওয়ান শ্যাডো নাইন ফিষ্ট” এর! যাদের লক্ষ্য হচ্ছে নিজেদের ডিসাইপলদের দিয়ে রিওজানপাকুর ডিসাইপলকে পরাজিত করা এবং রিওজানপাকুর পতন ঘটিয়ে শুধুমাত্র মার্শাল আর্ট দ্বারা বিশ্বে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘটানো!

কেনিচি কি পারবে তার মাষ্টারগণ এবং বন্ধুদের সাথে মিলে ইয়ামিকে প্রতিহত করতে?? সে কি পারবে ইয়ামির ছাত্রদের হারিয়ে নিজের “ষ্ট্রংগেস্ট ডিসাইপল” খেতাবটি রক্ষা করতে??

সবিস্তারে এই হচ্ছে কেনিচির কাহিনী! মাঙ্গা মূল যেসব জিনিস আমার ভালো লেগেছে তা হল, এর সুন্দর গোছানো একটি কাহিনী, অসাধারণ সব চরিত্রের সমাবেশ, নাকামা পাওয়ার এবং মাথা ঘুরায় দেওয়া সব ফাইট, প্লট টুইষ্ট এবং ট্র্যাজেডি!! এই গল্পে বিভিন্ন দেশের মার্শাল আর্ট সম্পর্কে একেবারে খাঁটি তথ্য দেওয়া হয়েছে, এবং কোন মার্শাল আর্ট ফর্মকেই কোনটার চেয়ে দুর্বল দেখানো হয়নি!

এছাড়াও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গল্পের চরিত্রদের শক্তিসামর্থ্যকে একটা নির্দিষ্ট লিমিটের মাঝে রাখা হয়েছে… অন্যান্য কাহিনীতে যেমন দেখানো হয় যে শিক্ষানবিশ চরিত্ররা মাঝে মাঝে চেইতা টেইতা এমন পাওয়ার দেখায় যে তাদের চেয়ে শতগুন শক্তিশালী শিক্ষক লেভেলের অপনেন্ট কে কোপায় ফেলে! এখানে তা নাই! যত যাই হোক, ডিসাইপল সবসময়ই ডিসাইপল, মাষ্টার রা সবসময়ই মাষ্টার!!

মাত্রাতিরিক্ত নগ্নতা, শুরুর দিকে কাহিনীর স্লো পেস এবং বাজেটের অভাবে এর অ্যানিমে টা বেশিদিন চলে নি, কিন্তু ধৈর্য্য ধরে যদি কেউ মাঙ্গা টা পড়ে যান….বুঝতে পারবেন এই গল্পের “বিগ থ্রি বিগ ফোর” না হলেও তাদের কাছাকাছি আসার সামর্থ্য ছিল… মার্শাল আর্ট জেনারের আমার সবচে প্রিয় মাঙ্গা হল “হিষ্টোরিস স্ট্রংগেষ্ট ডিসাইপল : কেনিচি”!

MAL rating : 8.5/10
my rating : 8/10

kenichiova

 

Phantom: Requiem for the Phantom লিখেছেন Itmam Hasan Dipro

10438320_859811104049051_465811355338982306_n

Phantom: Requiem for the Phantom (Review)

বিংশ শতাব্দী এর শেষের দিকের কথা,নিউ ইয়র্ক সিটি অপরাধ জগতের এক রহস্যময় নাম Inferno।নিউ ইয়র্ক সিটির অপরাধ জগত কে নতুন করে সাজানো Inferno এর উদ্দেশ্য।আর সেই উদ্দেশ্য উদ্ধার এর হাতিয়ার জগত এর ত্রাস Phantom ।নৃশংস খুনি Phantom যার পরিচয় আজো কেউ জানেনা।Phantom এর উপাধি ধারণকারি Ein নামক এক মেয়ে আর তার প্রশিক্ষক Scythe Master এর কাজ Inferno এর সকল শত্রুকে ধ্বংস করা।ঘটনাচক্রে এক জাপানিজ পর্যটক Ein এর হত্যাকান্ড দেখে ফেলে। জীবন বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করে সে Phantom এর কাছ থেকে।কিন্তু মৃত্যুদূত Phantom তাকে ঠিক খুঁজে পায়।পর্যটক এর সামনে ২ টি পথ এক Phantom হাতে মারা যাওয়া অথবা নিজের অতীত কে ভুলে Phantom এর সহকারী হয়ে বেঁচে থাকা । কি করবে পর্যটক ?

10151974_859811167382378_3727098802755080194_nGen Urobuchi এর সৃষ্টি আরেকটি মাস্টারপিস এই আনিমে।সাসপেন্স,অ্যাকশান,টুইস্ট এ ভরা এই আনিমে এর প্রতিটি ক্যারেকটার এর অসাধারণ উপস্থাপন এবং এর ভিন্ন ধারার OST এই আনিমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
আশা করি আনিমেটা সবার ভালো লাগবে।
Genres: Action, Drama, Thriller, Seinen, Crime

10464376_859811130715715_5407769490697119979_n

Clannad লিখেছেন Sumaiya Kabir

আমার প্রথম রিভিও:
“Clannad” – নামটা একটু অদ্ভুত। ইন্টারনেটে সার্চ দিলে দুটো জিনিস পাবেন, একটা গেম, আরেকটা আইরিশ ব্যান্ড। মেইন সিনারিও রাইটার ধারণা করেছিলেন যে আইরিশ ভাষায় “Clan” বা বংশ কিংবা পরিবার থেকে “Clannad”। কিন্তু আসলে সেটা ভুল ধারণা ছিল। অ্যানিমের Genre মূলত রোম্যান্টিক কমেডি, ট্র্যাজেডি, স্লাইস অফ লাইফ, গ্রয়িং উপ, ফ্যান্টাসি এবং হাল্কা সাই-ফাই।
নামের আদিকথা থেকেই বুঝতে পারছেন, অ্যানিমেটা আসলে পরিবারকে নিয়ে। সব ধরনের পরিবারকেই এখানে হাইলাইট করা হয়েছে। নাগিসা’র দুটি পারফেক্ট পরিবার, তোমোয়া’র দুটি সিঙল প্যারেন্ট পরিবার, ফুকো ও তার বড় বোনের ছোট্ট পরিবার, কোতোমি’র শূন্য পরিবার, তোমোয়ো সাকাগামি’র সবাই থেকেও নেই পরিবার, ক্যো এবং রিও এই দুই জমজ বোনের সম্পর্ক এবং সোনোহারা ও তার বোন মেই এর সম্পর্ক। এমন হতেই পারে না যে এ অ্যানিমেতে দেখানো পরিবার, ও পারিবারিক নানা সম্পর্কের একটির সাথেও আপনি রিলেট করতে পারবেন না। এখানে নাগিসা ও তোমোয়া’র দুটো করে পরিবার কেন বলা হল, অ্যানিমেটা দেখলেই বুঝতে পারবেন। তাছাড়া দাঙ্গো দাইকাযোকু তো আছেই! এই সীমিংলী চাইল্ডিশ থিমটার তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। অ্যানিমেতে দাঙ্গো দাইকাযোকু’র গান শুনে একবার হলেও আপনার কান্না আসবে।

10552550_516192525180488_4591367537532376086_nপ্রথমে যখন অ্যানিমেটা শুরু হল, নায়কের ভইস-অভার শুনে একটু ভ্রু কুচকে তাকালাম। “কোনো মাচি গা কিরাইদা। ” অর্থাৎ , “এ শহরকে আমি ঘৃণা করি। কারণ, এ শহর ভর্তি সেসব স্মৃতিতে যা আমি ভুলে যেতে চাই। ” সিনগুলি প্রায় সাদাকালো, দেখেই মনে হচ্ছে কত না জানি মেলাংকলি কাহিনী। আমি বিরক্ত। এসব কি তাহলে প্রথম থেকেই অ্যানিমেটাকে কাক্কোই বানানোর ব্যর্থ প্রয়াস? হাটতে হাটতে নায়ক এক সাকামিচি (স্লোপ) এর নিচে এসে দাঁড়ালো। কাছেই আবার পটেনশিয়াল নায়িকা। নায়িকার উদ্ভট ভঙ্গিতে নিজের সাথে কথা বলা দেখে নায়ক থমকে গেল। এরপর নায়িকার সে কথাগুলো শোনা, এবং নায়িকার কথার চকিত উত্তর। নায়িকা নাগিসা ফুরুকায়া যখন ফিরে তাকালো, স্ক্রিন ফ্লিকার করে উঠল। যখন প্রথম কথা বলল, তখনই প্রথম রঙ্গিন হল আমার মনিটর, এবং নায়ক, অকাযাকি তোমোয়া’র জীবন। কানে ভেসে এলো অপূর্ব বাকগ্রাউন্ড মিউসিক। প্রথমবারের মত, অ্যানিমেটা নিয়ে আশাবাদী হলাম। শুরু হল নাগাই, নাগাই ( দীর্ঘ, অতি দীর্ঘ ) ঊর্ধ্ববর্তী যাত্রা।
অ্যানিমের এই প্রথম কয়েকটি সিনের এত বিশদ বিশ্লেষণ এর কারণ দুটো।
১। সিনগুলো অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ। অ্যানিমেতে বারবার ফিরে আসবে এ সিনগুলো।
২। সিনগুলো দেখে প্রথমে আমার মত অনেকেই ইম্প্রেসড হননি। হয়ত প্রথমেই অ্যানিমেটার উপর গিভ উপ করে দারুণ ভুল করেছেন।

এরপর তোমোয়া আর নাগিসা দুজনের স্কুললাইফে বন্ধুত্ব, আরো অনেক বন্ধু পাবার কাহিনী, তাদের জীবনের সবচেয়ে প্রেসিং প্রব্লেমগুলো একে একে সল্ভ করার মিলিত প্রয়াস।
এসবের মাঝে আবার অন্য আরেক জগতের ঝলক। শেষ হয়ে যাওয়া এক পৃথিবীতে, একা একটি মেয়ের একাকি অস্তিত্ব। সে জগতে ভেসে বেরায় কোটি কোটি রহস্যময় আলো, যা নাকি অন্য কোনো অলটারনেট পৃথিবীর ছায়া। সেসব আলোর মধ্যে একটি আলো মেয়েটিকে লক্ষ্য করে, মেয়েটির ঘরে এসে ঢুকে। মেয়েটি সে আলোকে একটি রোবট-সদৃশ দেহ তৈরি করে দেয়। শুরু হয় তাদের একে অপরকে সঙ্গ দেওয়া অদ্ভুত এক জীবন। এরপর পাশাপাশি চলতে থাকে এ দুটি সীমিংলী উনরিলেটেড কাহিনী।
ফুকো, কোতোমি, ক্যো, রিও , তোমোয়ো এবং সব শেষে নাগিসা। একে একে সবার আলাদা আলাদা গল্প আমাদের সামনে আসে। Clannad – এর শেষে মনে হয় আমরা যেন জেনে গেলাম সব রহস্যের সমাধান। কিন্তু না! অ্যানিমের প্রধান চরিত্র, তোমোয়া’র কাহিনী যে বাকি!
Clannad অনেকের কাছেই বোরিং মনে হয়েছে। অনেকেই গিভ উপ করেছেন।
কিন্তু আমার কাছে লাগেনি। ফুকো আর কোতোমি’র গল্প ব্যথিত করেছে, তোমোয়া আর তার বেস্ট ফ্রেন্ড য়্যোহেই এর কমেডি দেখে হোহো করে হেসে উঠেছি। মাঝে মাঝে প্রেসিং কোনো স্টোরি লাইন এর অভাব হয়ত আমিও অনুভব করেছি, কিন্তু দমে যায়নি। দমে না যাওয়ার রিওয়ার্ড আমি পেয়েছি। নাগিসা’র পারফেক্ট পরিবারের পিছনের সাক্রিফাইস, অ্যাক্টিং ক্লাবের পরিণতি সিজন ফিনালে হিসেবে অসাধারণ ছিল।

এরপর আসি “Clannad After Story” তে। এর প্রথম দিকে সাগারা’র কাহিনী, য়্যোশিনো য়্যুস্কে’র কাহিনী অসম্ভব ভাল লেগেছে। এরপর শুরু হয় সিজন ২ এর প্রধান কাহিনী। নাগিসা’র সাথে তোমোয়া’র এক নতুন জীবনের আরম্ভ। ছোট্ট এক এপার্টমেন্টে থেকে, দুজনেরই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ। নানা প্রতিকুলতা পার হয়ে নাগিসা আর তোমোয়া পারফেক্ট একটি ফ্যামিলি তৈরিতে মশগুল। এরপর পরিবারে নতুন একটি সদস্যের আবির্ভাব ঘটে। এতে তো তোমোয়া আর নাগিসা’র পরিবারিক জীবন পূর্ণতা লাভ করারই কথা, কিন্তু তাই হয় কি? তোমোয়া’র ঘৃণিত এ শহর কি তার জীবন, তার পরিবার নিয়ে কখনই খেলা বন্ধ করবে না?
তারই ফাঁকে ফাঁকে আবার সেই রহস্যময় পৃথিবী থেকে একসাথে পালিয়ে যাবার চেষ্টা মেয়েটি এবং রোবটটির। পুরো পৃথিবী বরফে ঢেকে গেলে মুক্তির আর কোনো আশা থাকবে না। তারা কি পারবে, জন-মানব পূর্ণ পৃথিবীতে কোনোভাবে ফিরে যেতে? নাকি দুটি সীমিংলী উনরিলেটেড জগতের মধ্যে কোন সম্পর্ক স্থাপিত হবে?
জানতে হলে দেখে ফেলুন Clannad.

মনোযোগী দর্শক হয়ত স্টাইনস;গেট এর সাথে অ্যানিমেটির কাঠামোগত মিল ধরতে পারবেন। দুটোই রোল প্লেয়িং গেম বা ভিসুয়াল নভেল এর উপর বেসড। এ ধরণের গেম এ অনেক গুলো এন্ডিং থাকে তাই Clannad বা Clannad After Story এর শেষ এপিসোড দেখে ভড়কে যাবেন না।

Clannad After Story দেখে কাঁদেনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। অডস আর, শেষ করতে পারলে আপনিও কাঁদবেন। তাই এই অ্যানিমেটাকে আরেকটা সুযোগ দিন, আপনাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যাবার।

Short review of Major by Farsim Ahmed

 

দেখলাম মেজর, যেটাকে বলা হয় বেসবলের উপরে সেরা আনিমে, ভাবলাম তার উপরে একটা শর্ট রিভিউ লিখে ফেলি।

বিশাল সিরিজ, ৬ সিজন, ২৬*৪+২৫*২=১৫৪ পর্ব।

এর অনেক সমালোচনা করব, কাজেই আগে কিছু ভালো ভালো কথা বলে নেই।

মূল চরিত্র গোরো শিগেনো, বেসবলের মহা ভক্ত। বেসবল অবশ্য তার রক্তেই, তার বাবা জাপানের একজন প্রো বেসবল খেলোয়াড়, যে ইনজুরির কারনে পিচার থেকে ব্যাটার হয়ে গেছে। গোরোর বাবার অসাধারণ কীর্তি হল আমেরিকার মেজর লিগ প্লেয়ার গিবসনের ১০০ মাইল/ঘণ্টা বেগের এক বলকে আছড়ে স্ক্রিনের উপর ফেলে হোম রান করা। কিন্তু সেই ম্যাচেই এক দুর্ঘটনার কারনে বিলম্বিত মৃত্যু হয় ভদ্রলোকের, আর গোরো বড় হতে থাকে পালক মায়ের কাছে, তার লক্ষ্য গিবসন আর তার বাবার মতো অসাধারণ খেলোয়াড় হওয়া।

প্রমিসিং সেটিং, বেশ ভালো ভালো কিছু ম্যাচ আছে, বাচ্চা ছেলের ছোটবেলা থেকে বড়বেলা পর্যন্ত কঠোর সংগ্রামের ছবি আছে, আছে একটুআধটু রোমান্স, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক, মোটামুটি স্পোর্টস জন্রার ফ্যানরা যা চায়, সবই আছে এতে। আমারও বেশ ভালো লাগতে পারত, যদি না পুরো ব্যাপারটাকে একঘেয়ে মনে হত। খুলে বলি।

বেসবল আমার কাছে কোন পছন্দের খেলা না, কিভাবে স্কোরিং হয় তাও ভালমত বুঝি না, তবে মোটামুটি এটুকু ধারনা পেয়েছি যে একজন পিচার শুধু ফাস্টবল নিয়ে অনেক দূরে যেতে পারে না। কাহিনীর নায়ক আমেরিকায় মাইনর লিগ খেলে ফেলল কোন ভ্যারিয়েশন ছাড়া শুধু ফাস্টবলের উপরে ভিত্তি করে, ব্যাপারটা কেমন জানি লাগল।অবশ্য মেজর লিগ খেলতে গিয়ে সে ফর্কবল শিখেছে।

সাধারণত পিউর স্পোর্টস জন্রার আনিমে হয় না, সেখানে অন্য কিছু এলিমেন্ট বেশ ভালো পরিমানেই থাকে, যেমন রোমান্স[ক্রস গেম], কমেডি[প্রিন্স অব টেনিস], স্কুল লাইফ[বেবি স্টেপস], গ্যাম্বলিং[ওয়ান আউটস] ইত্যাদি। এসব এলিমেন্ট মেজরে তেমন একটা নেই, রোমান্টিক পর্ব হাতে গোনা, মোটে দুয়েকটা। সেজন্য পুরো ব্যাপারটা পানসে হয়ে গেছে, একই জিনিস বারবার।

এবং এবং এবং, সবচেয়ে বড় যে সমস্যা, সেটা হল মূল চরিত্র নিজে। সে মারাত্মক প্রতিভাবান, দুর্দান্ত পিচার, ফিল্ডার, ব্যাটেও ভালো। একই সাথে সে হচ্ছে মহা হিপোক্রেট, স্বার্থপর, ঘাড়ত্যারা, হিপোক্রেট[হ্যাঁ, দুবার বলেছি, জানি।] সে তার টিমমেটদের বলছে আমরা নাকামা হ্যান ত্যান, এর পরের মুহূর্তেই তার কাজে বোঝা যাচ্ছে এই “নাকামারা” তার কাছে স্রেফ স্টেপিং স্টোন। সে ফ্ল্যাশি, জেদি, একগুঁয়ে, দলের ভালো না ভেবে বরাবরই নিজের ভালো ভাবে। ফ্র্যাঙ্কলি, এত বড় আনিমেতে আমি ভালো লাগার মতো ক্যারেক্টার পেয়েছি মোটে দুটো, কীন[মেম্ফিস ব্যাটস এর ক্যাচার] আর গিবসন। অন্য ক্যারেক্টারগুলকে খুব শ্যালো মনে হয়েছে।

অভারঅল রেটিং ৮, তাও অনেক রাউন্ডিঙ আপ করে।
ম্যাল রেটিং অবশ্য বেশ ভালো, ট্রাই করে দেখতে পারেন।