Perfect Blue [মুভি রিভিউ] — শতদ্রু তালুকদার

perfect-blue

চিন্তা করুন, আপনি মানসিকভাবে এতোটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে আপনার পক্ষে ঠিক কল্পনা আর বাস্তবতা আলাদা করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। প্রতিটা দিনই আপনার কাছে বাস্তবতা আর কল্পনা মিলেমিশে ঘুরপাক খেয়ে যাচ্ছে। যতই দিন যাচ্ছে ততটাই আপনি এই কল্পনা-বাস্তবতার ঘুরপাকের অতলে তলিয়ে যাচ্ছেন।

Perfect Blue মুভিটার কাহিনীও মূলত তেমনই। মুভিটার প্রোট্যাগনিস্ট Mima Kirigoe একজন পপ আইডল গ্রুপের মেম্বার, নিজের ক্যারিয়ারকে আরও গড়ে তোলার করার জন্য সে পপ গ্রুপ ছেড়ে নিজেকে একজন এক্ট্রেস হিসেবে মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তই তার কাল হয়ে দাঁড়ায়। একে একে তার সাথে এবং তার পরিচিতদের চারপাশে নানান রহস্যময় ঘটনা ঘটতে থাকে। এক পর্যায়ে Mima মানসিকভাবে এতোটাই ভেঙ্গে পড়ে যে তার পক্ষে আর কল্পনা-বাস্তবতা আলাদা করা সম্ভব হয় না। ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ থেকে খারাপতর হতেই থাকে। তার মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হওয়া কিংবা তার মানসিক বিপর্যস্ততা থেকে কাটিয়ে ওঠা, তার চারপাশের রহস্যময় ঘটনাগুলোর খোলাসা করা নিয়েই “Perfect Blue” অত্যন্ত চমৎকার একটা এনিমেটেড মুভি।

আপনি যদি অনেকদিন ধরে বেশ ভালো কোন থ্রিলার দেখার অপেক্ষায় থাকেন তাহলে আপনার জন্য Perfect Blue হাইলি রিকমেন্ডেড। মুভিটার টুইস্ট এন্ড টার্নগুলো আপনাকে ভাবাবে, মুভি শেষ হওয়ার পরও বেশ ভাবাবে। প্লাস বোনাস হিসেবে মুভিটা Paprika বা Millennium Actress এর জন্য সুপরিচিত Satoshi Kon এর ডিরেক্ট করা মুভি।

আমার রেটিং -

স্টোরি – ১০/১০
মুভিটার স্টোরি এতোই সুন্দর করে বিল্ডাপ করা হয়েছে যে আপনি না চাইলেও নিজেকে Mima’র অবস্থায় চিন্তা করবেন। Mima’র প্রতিটা চিন্তা আপনি চিন্তা করবেন, ওর প্রতিটা অবস্থা আপনাকে ভাবাবে। মোটকথা Mima’র সাথে আপনি সারা মুভি জুড়ে বলা যায় এক প্রকার একাত্ম হয়ে থাকবেন।

এনিমেশন – ৯/১০
১৯৯৭ এ রিলিজ হওয়া মুভির এনিমেশনের সাথে আজকের এনিমেশনের আলবত কিছু পার্থক্য থাকবেই, তবুও মুভিটা দেখার সময় আপনি স্টোরিতে এতোই ঢুকে থাকবেন যে এনিমেশন তেমন কোন ম্যাটার করবে না।

ক্যারেক্টার – ১০/১০
প্রোট্যাগনিস্ট হিসেবে Mima’র ক্যারেক্টার বিল্ডাপ আমার কাছে এতোটাই ফ্ললেস লেগেছে যে তা নিয়ে ঠিক নতুন কিছু বলার নেই। পাশাপাশি আরও নানান সাপোর্টিং ক্যারেক্টারদেরও চমৎকারভাবে মুভিটাতে উপস্থাপন করা হয়েছে। Satoshi Kon এর ডিজাইন করা ক্যারেক্টার, এটা বললেই আর ঠিক অন্য কিছু বলা লাগে না।

মিউজিক – ৯/১০

মুভিটার সাউন্ডট্রাকগুলো, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার খুবই চমৎকারভাবে করা হয়েছে। মুভিটার ভৌতিক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো মুভিটা শেষের পরও আপনার কানে বাজতে থাকবে । (Three cheers for Masafumi Mima!!!)

ওভারঅল – ৯.৫/১০
ইয়েপ মুভিটা নিঃসন্দেহে ৯.৫ থেকে ১০ পাওয়ার দাবিদার।

বিঃদ্রঃ মুভিটাতে কিছু নুডিটি, কিছুটা ভায়োলেন্স আছে। তাই ইয়ঙ্গার ভিউয়ারদের জন্য viewer discretion is advised.

Comments

comments