“শৌওয়া ও গেনরোকু আমলের ভালবাসার যুগ্ম মৃত্যু- রাকুগোর মাধ্যমে”; রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

rakugo

আমার এক বান্ধবী মাঝেমাঝে একটা কথা বলত, “পরীক্ষার সময় দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বসে থাকাও অনেক ইন্টারেস্টিং একটা কাজ বলে মনে হয়।” কথাটা শতভাগ সত্যি। এবং এই কথামতই, সারাটা বছর পার করে অবশেষে এই ডিসেম্বর মাসে এসে দেখলাম “শৌওয়া ও গেনরোকু আমলের ভালবাসার যুগ্ম মৃত্যু- রাকুগোর মাধ্যমে”।

আমি সাধারণত কমফোর্টেবল ফিল করি দুই ধরণের আনিমে নিয়ে কথা বলতে গেলে, একটা হল যেখানে কিছুই ঘটেনা, আরেকটা যেখানে আসলেই কিছু ঘটে না :3 সত্যি কথা, হাইস্কুলের পোলাপান দৌড়াদৌড়ি করে বেড়াচ্ছে, মজা করে বেন্তো খাচ্ছে; বা র্যান্ডম কিশোর বালক অ্যাডভেঞ্চার করতে বেরিয়ে দুনিয়া জয় করে ফেলছে, কিংবা খুব থ্রিলিং কম্পিটিশন বা মারামারি চলছে, এমন আনিমে নিয়ে কথা বলাটা আমার কাছে বেশি সহজ মনে হয়। কিন্তু যেখানে আসলেই কিছু ঘটছে, এবং জিনিসটা বাস্তবের খুব কাছাকাছি, সেটা নিয়ে কথা বলাটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। তারওপর যখন আনিমেটার মূল থিমই হয় গল্প বলা নিয়ে, সেখানে অনেক খুঁটিনাটি ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করাটা গিভেন হয়ে যায়, আর সেটা করতে গেলে গবেষণা করা লাগবে একগাদা, যেটা খুবই বিরক্তিকর একটা বিষয় (আমার জন্য)।

তাহলে কথা যেটা ওঠে এখানে, আমি তাও শৌওয়া নিয়ে লিখছি কেন, আর লিখছিই যখন, কোনরকম গবেষণা না করেই বা লিখছি কেন।

কারণ একটাই, আনিমেটা বেশ ভাল লেগেছে। শুধু ভাল লাগলে হয়ত লিখতে ইচ্ছে হত না, ইচ্ছেটা জেগেছে কারণ আনিমেটার প্লট খুব ইউনিক লেগেছে। বর্তমানের “ইসেকাই”, “তাইমু তোরাবেরু”, “আইদোরু”, বা অযথা এচ্চি দিয়ে ভরে রাখা আনিমের যুগে হাতেগোণা যে কয়টা আনিমে দেখলে মনে হয়, “নাহ! এ জিনিস তো আগে কোনদিন দেখিনি!”- তার মাঝে শৌওয়া অন্যতম।

কাহিনী মূলত জাপানের পটভূমিতে রাকুগো শিল্পের উত্থান পতন নিয়ে, কিন্তু এর পাশাপাশি খুব সুন্দরভাবে এগিয়ে চলেছে এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত একদল মানুষের জীবনের কাহিনী; তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও রাকুগো মিলেমিশে যেন একাকার হয়ে গেছে।

আনিমেটা আমি এতদিন শুরু করতে পারছিলামনা কারণ টাইটেলটা পড়ে এবং মানু্ষের রিভিউ পড়ে একটু ভয় কাজ করছিল যে সেই শৌওয়া আমলের প্লট, তাও আবার জাপানের বিবর্তন টাইপ জিনিস নিয়ে কারবার, যদি বোর হয়ে যাই! অনেকেই হয়ত এটা ভেবে “ভারী” এই আনিমেটা দেখেননি, বা আমি একাই হয়ত “ইয়োতারো”, কিন্তু আনিমেটার ৪৭ মিনিটের প্রথম এপিসোড দেখেই আমার সেই ধারণা ভেঙে গিয়েছিল। আর যাই হোক, শুরুটা খুবই ইন্টারেস্টিং। কেবল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এনার্জেটিক এক ছেলে গিয়ে সরাসরি পায়ে পড়ল রাকুগো শিল্পীর- দ্যাটস সামথিং ইউ ডোন্ট গেট টু ওয়াচ এভ্রিডে!!

আনিমের কাহিনী বেশ ভাল লেগেছে, অনেক কিছুই দেখার সময় আগে থেকেই আন্দাজ করে ফেলা যায়, তা মিলেও যায়, কিন্তু মজাটা এখানেই। আপনি জানবেন এরপর এটা আসছে, কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব তা আপনি ঠাহর করতে পারবেননা। তারপর যখন জিনিসটা ঘটবে, তখন অবাক হয়ে ভাববেন যে এটাই ঘটার কথা ছিল আসলে। এই ব্যাপারটা আমার কাছে আনিমের একটা প্লাস পয়েন্ট বলে মনে হয়েছে। আর সাথে তো রাকুগোর স্কিলফুল পারফরমেন্স গুলো আছেই, যা নিয়ে আমার আগেও অনেকে অনেক কিছু বলেছেন, ভয়েস একটরদের মুন্সিয়ানা গবেষণা করে বা অ্যানিমেশন আর মিউজিকের কম্বিনেশন কিভাবে নিখুঁতভাবে ম্যাচ করানো হয়েছে তা নিয়ে তথ্যবহুল পোস্ট দিয়েছেন, তাই আমি আর কষ্ট করলাম না। খালি দুটো কথা বলব, অ্যানিমেশন এখানে গৌণ ব্যাপার, কাহিনীতে একবার ঢুকে গেলে কিসের অ্যানিমেশন, কিসের কি! ওপেনিং গানটা বেশ ভাল লেগেছে, জাদুভরা কণ্ঠ।

“শৌওয়া গেনরোকু রাকুগো শিনজু” হয়ত আমার টপ ফেভারিট বা এমন কিছু হয়ে ওঠেনি, কিন্তু তাতে কি, ভাল তো লেগেছে, সেটাই যথেষ্ট। আর আমার মনে হয় একবার দেখা শুর করলে আনিমেটা যে কারও ভাল লাগবে।

Comments

comments