Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিভিউ] — Safin Zaman

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu

শৌয়া গেনরোকু রাকুগো শিনজু সিজন ১+২ 
Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu
[স্পয়লারবিহীন রিভিউ]

ভালো একটা গল্প শুনতে কেই-ই বা পছন্দ করে না? সেই ছোটবেলায় দাদী-নানিদের কাছ থেকে রুপকথার গল্প শোনা থেকে বড় হবার পর মুভি, সিরিজ, অ্যানিমেতে ঝোঁকা- সবই একটা ভালো গল্পের আশায়। এই গল্পের পেছনে ছোটার মাঝে হয়তো চোখেই পরে না মানুষের জীবনেও কতশত গল্প,অণুগল্প লুকিয়ে আছে। এই জিনিসটাই চোখে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেয় Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu। একজন গল্পকথকের জীবনটা যে তার বলা গল্পগুলোর চেয়ে কোন অংশে কম নয় তাই এনিমটির উপজীব্য বিষয়। আর শৌগেন এই বিষয়টা এতটাই চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে তার প্রশংসা না করলেই নয়।

রাকুগো। আক্ষরিক অনুবাদ করলে হয় ‘পড়ন্ত শব্দ’। জাপানের এক ঐতিহ্যবাহী গল্পকথন মাধ্যম। সাধারণত একজন গল্পকথক মঞ্চে বসে দর্শকদের অনবরত গল্প বলে যান। গল্প বলার মাঝে গল্পের চরিত্রগুলোর কথাবার্তাও কথককে অভিনয় করে দেখাতে হয় যা মোটেও সহজ কাজ নয়। রাকুগো মেইজি পিরিয়ড এর মাঝামাঝি শুরু হয়ে পূর্ণ জনপ্রিয়তা লাভ করে শৌয়া পিরিয়ডে। কালের বিবর্তনে অনেকটাই বিলুপ্ত আজ একসময়কার জনপ্রিয় এ বিনোদন মাধ্যম।

শৌগেনের গল্প শুরু হয় সদ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়া ইয়োতারো এবং তার বিখ্যাত রাকুগো শিল্পী ইয়াকুমোর শিষ্য হিসেবে নিযুক্ত হবার মধ্য দিয়ে। ইয়োতারো আর কয়েকজন চরিত্রের সাথে পরিচয় হবার পরপরই গল্প চলে যায় ফ্ল্যাশব্যাকে যেখানে আমরা দেখতে পাই কিভাবে সামান্য এক কিকুহিকু জাপানের অন্যতম সেরা রাকুগো শিল্পী ইয়াকুমোতে পরিণত হয়। এর সাথে পরিচিত হই ইয়াকুমোর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মানুষ সুকেরোকো, মিয়োকিচি এবং আরো কিছু চরিত্রের সাথে যারা পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রথম সিজন প্রায় সবটুকুই ফ্ল্যাশব্যাক। প্রথম সিজন শেষে দ্বিতীয় সিজনে শুরু হয় এনিমের একেবারে শুরুতে দেখা ইয়োতারোর গল্প। মডার্ন জাপান, যেখানে হাত বাড়ালেই টেলিভিশন,রেডিওর মত বিনোদন মাধ্যম সেখানে রাকুগোকে বাঁচিয়ে রাখার মত অসম্ভব দায়িত্ব নিয়ে ইয়োতারোর প্রচেষ্টা । হয়তো ইয়োতারোর তার মাস্টারের মত প্রতিভা নেই, কিন্তু তার যা আছে তা হলো রাকুগোর প্রতি ভালবাসা। এই ভালবাসা আর তার কমেডিক রাকুগো দিয়ে সে চায় দর্শকদের মনে রাকুগোর প্রতি ভালবাসা তৈরী করতে।

এখন আসি এই এনিম কেন দেখবেন। শৌগেন দেখবেন এর গল্পের স্বাচ্ছন্দ্যময়তার জন্য। এত ভালো পেসিং এনিমেতে খুব কমই দেখেছি। খুব দ্রুতও না, আবার ধীরে ধীরে যেয়ে দর্শকদের বোর করে দেওয়ার মতনও না। দুইয়ের মাঝামাঝি এক সুন্দর গতিতে এগিয়ে চলে গল্প, যা দর্শকদের সম্মোহনী শক্তিতে আবদ্ধ করে ফেলতে সক্ষম। এমনো হয়েছে শৌগেন দেখে আমি এতটাই বুঁদ হয়ে গিয়েছি যে বৃষ্টির ঝাপটা খাতাপত্র ভিজিয়ে দিচ্ছে কিন্তু আমি কানে হেডফোন দিয়ে কিকুহিকুর রাকুগো শুনছি।

এরপর আছে এর চরিত্র আর তাদের চরিত্রায়ন। শৌগেনের প্রত্যেকটা চরিত্রই তাদের নিজেদের দিক থেকে অনন্য। কাকে রেখে কার কথা বলব। কিকুহিকু, ছোটবেলা থেকেই যে তার বন্ধু সুকেরোকোর সহজাত রাকুগো প্রতিভা দেখে হীনম্মন্যতায় ভুগত নাকি মিয়োকিচি, ভুল সময়ে ভুল দেহে জন্ম নেওয়া এক নারী যে কিনা কোন তৎকালীন সময়ে কোন পুরুষের সাহায্য ছাড়াই স্বাধীন জীবনযাপন করার স্বপ্ন দেখে। এনিম দেখে এমন চরিত্র পাওয়া কঠিন যাদেরকে ভালো না বেসে পারা যায় না। এতটাই চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তাদের।
প্রথম সিজন আর দ্বিতীয় সিজন আলাদা আলাদা করে বিচার করলে শৌগেন ভাল একটা এনিমে, কিন্তু যখন দুইটা একত্রে বিচার করা হয় এইটা একটা মাস্টারপিস হয়ে উঠে। প্রথম সিজনের ক্যারেক্টারগুলো দ্বিতীয় সিজনে না থেকেও যে কত বিশাল প্রভাব ফেলে তা না দেখলে বোঝা সম্ভব না। দুই সময়ের, দুই জেনারেশনের কতকগুলো মানুষ রাকুগোর মধ্য দিয়ে যেন এক অবিচ্ছেদ্য সুতোয় বাধা। কিছু মানুষ সুতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার পরেও যে সুতোয় হঠাৎ টান পড়ে।

সত্যিই এই এনিম নিয়ে বলার জন্য নেগেটিভ কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। যদি কিছু বলতেই হয় বলার স্বার্থে বলবো এর দীর্ঘ রাকুগো পারফরমেন্স গুলো। কিছুটা বোরিং হলেও আমার কাছে ওইগুলো অনেক ভাল লেগেছে এবং মনে হয়েছে প্রত্যেক চরিত্রের নিজস্ব রাকুগোর ধরণ দেখানোর জন্য জরুরী ছিল এইই পার্ফরমেন্সগুলো। এনিমটাই যেখানে রাকুগো নিয়ে সেখানে রাকুগো না থাকলে কিভাবে কি!
তবে সবারই যে একই মতামত থাকবে তা আশা করা বোকামি। তাই যদি শো এর মাঝে দীর্ঘ রাকুগো দেখে বোর হয়ে ড্রপ দেবার চিন্তা করেন তবে কি জিনিস মিস করতে যাচ্ছেন না ঘুনাক্ষরেও বুঝবেন না। আমার দেখা কিছু সেরা প্লট টুইস্ট এই এনিমেতেই আছে।

পরিশেষে, ভালো কিছু দেখবেন হা-হুতাশ করছেন কিন্তু খুঁজে পাচ্ছেন না অথবা নতুন কোন এনিম দেখবেন ভাবছেন। এইক্ষেত্রে শৌগেন হাইলি রেকমেন্ডেড। এইরকম এনিম পাঁচ বছরে দুই একটা আসে। না দেখে ফেলে রাখলে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই দেখে ফেলুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই মাস্টারপিস।

“শৌওয়া ও গেনরোকু আমলের ভালবাসার যুগ্ম মৃত্যু- রাকুগোর মাধ্যমে”; রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

rakugo

আমার এক বান্ধবী মাঝেমাঝে একটা কথা বলত, “পরীক্ষার সময় দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বসে থাকাও অনেক ইন্টারেস্টিং একটা কাজ বলে মনে হয়।” কথাটা শতভাগ সত্যি। এবং এই কথামতই, সারাটা বছর পার করে অবশেষে এই ডিসেম্বর মাসে এসে দেখলাম “শৌওয়া ও গেনরোকু আমলের ভালবাসার যুগ্ম মৃত্যু- রাকুগোর মাধ্যমে”।

আমি সাধারণত কমফোর্টেবল ফিল করি দুই ধরণের আনিমে নিয়ে কথা বলতে গেলে, একটা হল যেখানে কিছুই ঘটেনা, আরেকটা যেখানে আসলেই কিছু ঘটে না :3 সত্যি কথা, হাইস্কুলের পোলাপান দৌড়াদৌড়ি করে বেড়াচ্ছে, মজা করে বেন্তো খাচ্ছে; বা র্যান্ডম কিশোর বালক অ্যাডভেঞ্চার করতে বেরিয়ে দুনিয়া জয় করে ফেলছে, কিংবা খুব থ্রিলিং কম্পিটিশন বা মারামারি চলছে, এমন আনিমে নিয়ে কথা বলাটা আমার কাছে বেশি সহজ মনে হয়। কিন্তু যেখানে আসলেই কিছু ঘটছে, এবং জিনিসটা বাস্তবের খুব কাছাকাছি, সেটা নিয়ে কথা বলাটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। তারওপর যখন আনিমেটার মূল থিমই হয় গল্প বলা নিয়ে, সেখানে অনেক খুঁটিনাটি ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করাটা গিভেন হয়ে যায়, আর সেটা করতে গেলে গবেষণা করা লাগবে একগাদা, যেটা খুবই বিরক্তিকর একটা বিষয় (আমার জন্য)।

তাহলে কথা যেটা ওঠে এখানে, আমি তাও শৌওয়া নিয়ে লিখছি কেন, আর লিখছিই যখন, কোনরকম গবেষণা না করেই বা লিখছি কেন।

কারণ একটাই, আনিমেটা বেশ ভাল লেগেছে। শুধু ভাল লাগলে হয়ত লিখতে ইচ্ছে হত না, ইচ্ছেটা জেগেছে কারণ আনিমেটার প্লট খুব ইউনিক লেগেছে। বর্তমানের “ইসেকাই”, “তাইমু তোরাবেরু”, “আইদোরু”, বা অযথা এচ্চি দিয়ে ভরে রাখা আনিমের যুগে হাতেগোণা যে কয়টা আনিমে দেখলে মনে হয়, “নাহ! এ জিনিস তো আগে কোনদিন দেখিনি!”- তার মাঝে শৌওয়া অন্যতম।

কাহিনী মূলত জাপানের পটভূমিতে রাকুগো শিল্পের উত্থান পতন নিয়ে, কিন্তু এর পাশাপাশি খুব সুন্দরভাবে এগিয়ে চলেছে এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত একদল মানুষের জীবনের কাহিনী; তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও রাকুগো মিলেমিশে যেন একাকার হয়ে গেছে।

আনিমেটা আমি এতদিন শুরু করতে পারছিলামনা কারণ টাইটেলটা পড়ে এবং মানু্ষের রিভিউ পড়ে একটু ভয় কাজ করছিল যে সেই শৌওয়া আমলের প্লট, তাও আবার জাপানের বিবর্তন টাইপ জিনিস নিয়ে কারবার, যদি বোর হয়ে যাই! অনেকেই হয়ত এটা ভেবে “ভারী” এই আনিমেটা দেখেননি, বা আমি একাই হয়ত “ইয়োতারো”, কিন্তু আনিমেটার ৪৭ মিনিটের প্রথম এপিসোড দেখেই আমার সেই ধারণা ভেঙে গিয়েছিল। আর যাই হোক, শুরুটা খুবই ইন্টারেস্টিং। কেবল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এনার্জেটিক এক ছেলে গিয়ে সরাসরি পায়ে পড়ল রাকুগো শিল্পীর- দ্যাটস সামথিং ইউ ডোন্ট গেট টু ওয়াচ এভ্রিডে!!

আনিমের কাহিনী বেশ ভাল লেগেছে, অনেক কিছুই দেখার সময় আগে থেকেই আন্দাজ করে ফেলা যায়, তা মিলেও যায়, কিন্তু মজাটা এখানেই। আপনি জানবেন এরপর এটা আসছে, কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব তা আপনি ঠাহর করতে পারবেননা। তারপর যখন জিনিসটা ঘটবে, তখন অবাক হয়ে ভাববেন যে এটাই ঘটার কথা ছিল আসলে। এই ব্যাপারটা আমার কাছে আনিমের একটা প্লাস পয়েন্ট বলে মনে হয়েছে। আর সাথে তো রাকুগোর স্কিলফুল পারফরমেন্স গুলো আছেই, যা নিয়ে আমার আগেও অনেকে অনেক কিছু বলেছেন, ভয়েস একটরদের মুন্সিয়ানা গবেষণা করে বা অ্যানিমেশন আর মিউজিকের কম্বিনেশন কিভাবে নিখুঁতভাবে ম্যাচ করানো হয়েছে তা নিয়ে তথ্যবহুল পোস্ট দিয়েছেন, তাই আমি আর কষ্ট করলাম না। খালি দুটো কথা বলব, অ্যানিমেশন এখানে গৌণ ব্যাপার, কাহিনীতে একবার ঢুকে গেলে কিসের অ্যানিমেশন, কিসের কি! ওপেনিং গানটা বেশ ভাল লেগেছে, জাদুভরা কণ্ঠ।

“শৌওয়া গেনরোকু রাকুগো শিনজু” হয়ত আমার টপ ফেভারিট বা এমন কিছু হয়ে ওঠেনি, কিন্তু তাতে কি, ভাল তো লেগেছে, সেটাই যথেষ্ট। আর আমার মনে হয় একবার দেখা শুর করলে আনিমেটা যে কারও ভাল লাগবে।

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিএকশন] — Abdullah Ar Rayhan

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu

[স্পয়লার-ফ্রি প্রতিক্রিয়া]

অ্যানিমেটা ওয়াচলিস্টে ছিল আগে থেকেই। গ্রুপের কভার ফটো দেয়ার সাথে সাথেই দেখা শুরু করে দিয়েছিলাম। শেষ করে মনে হলো কিছু অন্তত বলা উচিত।

এপিসোড সংখ্যাঃ ১৩
জনরাঃ জোসেই, ড্রামা
MAL স্কোরঃ ৮.৬৫/১০
ব্যক্তিগত স্কোরঃ ৯/১০

অ্যানিমেটি দেখার সময় যা মনে হচ্ছিলো, গ্রীষ্মের এ তপ্ত গরমে এ যেন এক পশলা ঠান্ডা বাতাস। এক্সাম শেষ করে মূড ঠিক করতে এমন পারফেক্ট একটা অ্যানিমে দরকার ছিল।

শুরুতে একটি গম্ভীর মনে হলেও হতে পারে; তবে তা বিরক্তি তো জাগায়ই না, বরং আরো ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। ৪৭ মিনিটের পাইলট এপিসোডটা প্লট সেটিং এর জন্য একদম যথার্থ। শুরুতেই দেখা যায় কারাগার থেকে বের হওয়া এক লোক যে কিনা ভেতরে থাকা অবস্থায় “শিনিগামি” নামে একটি রাকুগো শুনে এর পারফর্মার প্রবীণ ইয়াকুমো ইউরাকুতেই এর ভক্ত বনে যায় এবং তার শিষ্য হওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। ইয়াকুমো, যিনি কিনা কখনো শিষ্য নেননি এবং নেবেন না বলে পণ করেছিলেন, কি মনে করে একে শিষ্য হিসেবে নিয়ে নেন এবং নাম দেন ‘ইয়োতারো’। মাস্টারের ওখানেই তার সাথে দেখা হয় ‘কোনাতসু’ এর যে কিনা আরেক নামী রাকুগো পারফর্মার ‘সুকেরোকু’র একমাত্র মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই ইয়াকুমো’র কেয়ারে আছে কোনাতসু। ট্রেইনিং চলাকালে মাস্টার লক্ষ্য করেন সুকেরোকু’র স্টাইলের প্রতি ইয়োতারো’র ঝোঁক; আর সে সাথে আমরা দেখি কোনাতসু’র সাথে মাস্টারের শীতল সম্পর্ক যে তার বাবার মৃত্যুর জন্য ইয়াকুমো-কে দায়ী করে। এক রাতে মাস্টার ঠিক করেন দুজনকেই তাঁর আর সুকেরোকু’র অতীত শোনাবেন। এ হলো সংক্ষেপে পাইলট এর কাহিনী।
পরের এপিসোডেই আমরা চলে যাই অতীতে, মাস্টারের জবানিতে, যেখানে আমরা দেখি কিভাবে ইয়াকুমো আর সুকেরোকুর পরিচয় হয়, কিভাবে তারা একই মাস্টারের অধীনে বেড়ে ওঠে। মাঝে মাঝেই নাতিদীর্ঘ ‘রাকুগো’ পারফর্মেন্স। [রাকুগো এক প্রকার স্টোরিটেলিং যাতে একজন পারফর্মার স্টেজে বসে একা একা পারফর্ম করে যান। স্টোরিতে সবসময়ই একাধিক ক্যারেক্টার থাকে যা পারফর্মার নিজেই ভিন্ন ভয়েস আর অঙ্গভঙ্গি দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন।]

এ অ্যানিমে কেবল দু’জন মানুষের গল্পই নয়। কেবল রাকুগোর গল্পই নয়। এতে আমরা দেখি কিভাবে ট্রানজিশন পিরিয়ডে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে একটা শিল্প (বিশেষ করে টেলিভিশন এর আবির্ভাবের কারণে রাকুগোর জনপ্রিয়তা নিয়ে শংকা দেখা দেয়)। আমরা দেখি শিল্পের চিরাচরিত দ্বন্ধ। কিকুহিকো-র (ভবিষ্যতের ইয়াকুমো) ট্রেডিশন আর পারফেকশনের প্রতি ঝোঁক, সিরিয়াস আর পরিশ্রমী মনোভাব; বিপরীতে সুকেরোকু’র ফান-লাভিং আর সময়ের সাথে মানিয়ে নেয়ার প্রবণতা। একজন মাস্টারদের প্রিয়, আরেকজন দর্শকদের। সে সাথে এটি জীবনের গল্পও। আমরা দেখি কিভাবে বিপরীতমুখী দুটি চরিত্র বাধা পড়ে যায় একে অপরের সাথে, কিভাবে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে আবেগময় গভীর বন্ধুত্ব (এপিসোড ৩ এর শেষের অংশটা পার্টিকুলারলি ইমোশনাল; চোখে পানি এনে দেয়)।

অ্যানিমের নামটা নিয়েই কিছু বলা যাক। Shouwa আর Genroku হচ্ছে দুইটা টাইম পিরিয়ড। Genroku ইরা (১৬৮৮-১৭০৩) থেকে রাকুগো জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে [সম্ভবত], আর Shouwa ইরা (১৯২৬-১৯৮৯) এর মাঝামাঝি এসে এসে ‘রাকুগো’ টার্মটি পরিচিতি পায়। Shinjuu বা ডাবল সুইসাইড দেখেই শেষটা অনুমান করে ফেলা যায় (বিশেষ করে এপিসোড ৭ এর দিকে); তবে এটাকে ঠিক প্রেডিক্টিবিলিটি বলা যায় না। যে নিপুণ দক্ষতায় অনিবার্য সমাপ্তির দিকে দর্শককে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় তা-ই এ অ্যানিমের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

শুরুর দিকে কিছুটা স্লো। এ অংশগুলো কারেক্টার বিল্ডিং এ ব্যয় করা হয় এবং অ্যানিমেটি তাতে বেশ সফল হয় সন্দেহাতীতভাবেই। স্টোরি আর কারেক্টার বিল্ডিং এ অ্যানিমের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। এমন ইনটেন্স আর সলিড স্টোরি খুব একটা দেখা যায় না, সে সাথে কিছু মন হালকা করে দেয়ার মুহুর্ত যে নেই তা নয়। পুরো অ্যানিমেতেই স্ক্রিন থেকে মনোযোগ সরানো কঠিন, তবে এপিসোড ৭ এর দিকে এসে গতি বেড়ে যায়।

আর্ট নিয়ে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। ডিটেইলের দিকে বেশ মনোযোগ দেয়া হয়েছে। যেমন একটা দৃশ্যে মুহুর্তের জন্য দেখা যায় লাইটবাল্বের মৃদু আলোতে কিভাবে পোকামাকড় ভিড় করে, আরেকটা দৃশ্যে আমরা পানিভর্তি গ্লাসের মধ্য দিয়ে দেখতে পাই কিকুহিকো আর মিয়োকিচি কে। ইনসিগনিফিক্যান্ট একেকটা দৃশ্য কিন্তু মনে ছাপ ফেলে যায়।

মিউজিক আমাকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়ে গেছে এ অ্যানিমেতে। Shamisen এর চিয়ারফুল টুংটাং যতবারই শুনেছি ততবারই মনে হয়েছে শহরের যান্ত্রিকতা ফেলে দূরে কোথাও চলে গিয়েছি, মন ভালো হয়ে গেছে প্রতিবারই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও মন ভরিয়ে দেয়ার মত। একটা দৃশ্যের কথা বলতেই হয়। ‘টেনেসি’ নামক একটা বারের দৃশ্য। কিকুহিকো আর সুকেরোকু আলোচনা করছিলো ভবিষ্যত নিয়ে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে জ্যাজ মিউজিক। এ ছোট্ট দৃশ্যেও যে মনোযোগ দেয়া হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
ওহ, যেটা ভুলে গিয়েছিলাম; ভয়েস অ্যাক্টিং নিয়ে আমি খুব একটা মাথা ঘামাইনি কখনোই এবং তেমন কিছু জানিও না তবে আমার মনে হয়েছে অ্যানিমেটিতে অসাধারণ কাজ দেখিয়েছেন ভয়েস অ্যাক্টররা। রাকুগো তে এমনিতেই একজনকে বেশ কয়েক ভয়েসে কথা বলতে হয়, এক্ষেত্রে ভয়েস অ্যাক্টররাও কম দেখাননি। কন্ঠে এত বৈচিত্র্য দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম ভিন্ন ভিন্ন অ্যাক্টর দিয়ে করানো হয়েছে কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখলাম ইয়াকুমো’র বিশেষ অংশ ছাড়া বাকিদের ক্ষেত্রে প্রত্যেক কারেক্টারে একজনই কাজ করেছেন।

সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা সিরিজ। হয়তো বুক মোচড়ানো ইমোশন নেই, হার্ট অ্যাটাক করানোর মত ক্লাইম্যাক্স বা সারপ্রাইজ নেই, তবে ড্রামা হিসেবে একটা অ্যানিমের কাছে যা আশা করা যায় তার সবই আছে। হ্যাপি ওয়াচিং।

Shouwa Genroku-তে আত্নহত্যা, আর রাকুগোর মঞ্চায়ন — Fahim Bin Selim

 

[Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu স্পয়লার সতর্কতা]

ShouwaGen 2

রাকুগো [落語, Rakugo] – আক্ষরিক অর্থ “পড়ন্ত শব্দ(Falling Words)”। মূলতঃ মঞ্চে বসে কেবল এক-দুটো সরঞ্জাম দিয়ে(অধিকাংশ সময়ই একটা কাগজের পাখা একটা ছোট কাপড়ের টুকরো) গল্পবর্ণনার বাচনিক শিল্পমাধ্যম। যদিও এই ধারা বেশ আগে থেকেই জাপানে চলে আসছিলো, তবে মেইজি এরাতে এসে প্রথম “রাকুগো” শব্দটার প্রচলন হয় আর শৌয়া পিরিয়ডে এসে সাধারণের বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। যদিও শেষ পর্যন্ত রাকুগো একটি নিশ(Niche) বিনোদন মাধ্যমই থেকে গেছে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে। একাকীই পুরো অভিনয়টা করতে হয় বলেই রাকুগো করার জন্য প্রয়োজন বেশ বড় পরিসরের কন্ঠবৈচিত্রতা আর বডি-ফেস এক্সপ্রেশনের ছোটখাটো পরিবর্তন দিয়ে বড় ধরনের ভাব আদানের দক্ষতা। এই রাকুগো পারফর্মারদের – যাদের ডাকা হয় “Deshi” বলে – বড় থিয়েটারগুলোতে, বড় উপলক্ষগুলোতে সুযোগ পাওয়ার জন্য পার হয়ে আসতে হয় বেশ কয়েকটি ধাপ। পেতে হয় কমিটির অন্যান্য রাকুগো মাস্টারদের সমর্থন। বিভিন্ন ঘরানার রাকুগো দেখা গেলেও একে সাধারণভাবে ভাগ করা যায় কমেডি, হরর(কাইদান) আর ট্র্যাজেডিতে।

আর Shouwa Genroku-’র গল্পটাতে যে ট্র্যাজিক-ড্রামা তা প্রথম পর্বেই ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়, যা লাফিয়ে বেড়ায় শৌয়া পিরিয়ডের সময়টাতেই, একই সাথে অতীত(চল্লিশের দশক) আর বর্তমানে(সত্তরের দশক)। গল্পের শুরুটা উদীয়মান রাকুগো “অভিনেতা” ইয়োতারোকে দিয়ে ‘৭০ এ হলেও, অন্তত অ্যানিমের প্রথম সিজনের অধিকাংশ সময়টাই তার গুরু কিকুহিকোর সাথে কাটানো, ‘৪০ এর যুদ্ধকালীন আর যুদ্ধপরবর্তী জাপানে। Shouwa Genroku-’র প্রথম পর্বটা, যেটা আগে বেরোনো দুটো OAD-’র পুনর্বণনা আর ৪০ মিনিটেরও বেশি দীর্ঘ, একটা আদর্শ “পাইলট” এপিসোড, পুরো অ্যানিমেটারই একটা খন্ডচিত্র; তা এসথেটিক দিক দিয়েও, গল্পের মেজাজ আর গতির দিক দিয়েও। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর সমাপ্তী, যা আগে থেকেই বলে দেওয়া; বারবার শোনা কোন রাকুগোর মত যেন। আর একারণেই Shouwa Genroku-’র মূল বিশেষত্ব “কী হবে” তাতে নয়, বরং “কীভাবে হবে”-তে আবদ্ধ। মাঙ্গার প্যানেল-বাই-প্যানেল থেকে বেরিয়ে অ্যানিমেশন/সিনেমা মাধ্যমে গল্পের মঞ্চায়নে পরিচালকের নিজস্বতার শুরুটা এখান থেকেই। অনেকটা পার্থক্য তুলে ধরার চেষ্টাতেই যেন, “ভার্বাল স্টোরিটেলিং”-কে কেন্দ্র করে আবর্তিত এক গল্পে তার চরিত্ররা প্রথম থেকেই ভাব প্রদানে ব্যবহার করেছে খুবই কম শব্দ। রহস্য আর নাটকীয় মুহূর্তে সংলাপগুলোকে দমিয়ে দিয়ে বরং মনোযোগ দেওয়া হয়েছে ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং আর নুয়ান্সের উপর।

vlcsnap-2016-04-20-21h11m08s220

vlcsnap-2016-04-20-21h11m14s20

 

পিরিয়ড ড্রামা হিসেবে Shouwa Genroku-’র অর্ধেক আকর্ষন যুগ পরিবর্তনের সাথে সময় রাকুগোর টিকে থাকা, তার সাথে জড়িত মানুষদের টিকে থাকার গল্প; প্রতিভা, সাফল্য, ব্যর্থতা, ভালোবাসা, তাদের টানাপোড়েনের গল্প। আগের থেকেই জনপ্রিয়তা নিয়ে ধুঁকতে থাকা এই মাধ্যম বড় একটা ধাক্কা খায় টেলিভিশন, রেডিও আর সিনেমার মত নতুন বিনোদন মাধ্যমগুলোর আবির্ভাবে। আরও একটা বড় কারণ সম্ভবত এর ঐতিহ্য আর প্রচলিত ধারার বাইরে যাওয়ার বিপক্ষে একগুঁয়েমি। অ্যানিমের পুরোটা জুড়েই শিল্পের এই চিরচেনা অন্তর্দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। দুই মূলচরিত্র সুকেরেকু আর কিকুহিকোর রাকুগো পরিবেশনার বৈপরীত্যটা সামগ্রিক রাকুগো জগতের অবস্থার সাথেই সমান্তরাল টানার চেষ্টা। কিকুহিকো, একজন সহজাত অভিনেতা; সূক্ষ্ণ আর নিখুঁত, ক্রিটিকালি অ্যাক্লেইমড, পিয়ার(peer)-দের ঈর্ষা আর অগ্রজদের প্রশংসার পাত্র; কিন্তু দর্শকদের সাথে তার সংযোগটা, যেটা আর যেকোনো মঞ্চপ্রদর্শনের মতই রাকুগো পারফর্মেন্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কখনোই তার কাছে সহজাত ছিলো না। সুকেরেকুর অবস্থানটা পুরো বিপরীত। তাকে বলা যায় জনগণের রাকুগো পারফর্মার। কমেডি ধারাতেই তার বিচরণ, আর দর্শকদের বিনোদনের জন্য, তাদের সখ্যতা পাওয়ার জন্য কমেডির চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! কিন্তু প্রতিভা থাকলেও তা টিকিয়ে রাখার চাপ সামলাতে সুকেরেকু বারবার ব্যর্থ হয়।

sho Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu 09.mkv_snapshot_11.52_[2016.03.10_17.08.26]

Shouwa Genroku বেশ বড় একটা সময় মঞ্চের বাইরের জীবনের নাটকীয়তা নিয়ে কাটালেও, এর বাকি সময়টা কেবলই মঞ্চের রাকুগো নিয়ে। রাকুগো, এমন একটা শিল্পমাধ্যম যা ধৈর্য্যের পরীক্ষা নেয় বেশ ভালোভাবেই – তা যেমন তার পারফর্মারের, তেমনি এর শ্রোতারও। আর Shouwa Genroku প্রথম থেকেই আমাদের থিয়েটারের ভেতর বসিয়ে দেয়, বেশ কয়েকটি রাকুগো পারফর্মেন্সের পুরোটা দেখিয়ে, যার সবচেয়ে বড়টি প্রায় ১৫ মিনিট।

গঠনগতভাবে, রাকুগো শুরুটা হয় বড় একটা বিল্ডআপের নিয়ে, আর তার শেষটা হয় হঠাৎ কোন সমাপ্তী নিয়ে – কমেডির ক্ষেত্রে কোন রানিং জোক অথবা ওয়ার্ডপ্লে আর ট্র্যাজেডির ক্ষেত্রে পতনের অনিবার্যতার নিয়ে। বিল্ড-আপের মূহুর্তটা ধীরে ধীরে শ্রোতাকে গল্পের ভেতর টেনে আনার প্রচেষ্টা। বক্তা, কেবল শব্দের মাধ্যমেই যে কিনা সকল শ্রোতার কল্পনাশক্তিকে একসাথে চালিত করে ইনডিভিজুয়াল কনশাসনেসকে ছড়িয়ে দিবে সবার মাঝে। Shouwa Genroku-’র পারফর্মেন্সের দৃশ্যগুলোকে এক্ষেত্রে নিখুঁতই।

shogen

পারফর্মেন্সগুলো আমরা দেখতে পাই বক্তা-শ্রোতা দুই পরিপ্রেক্ষিত থেকেই। রাকুগো পারফর্মারকে দূর থেকে দেখা যায়, দর্শকের চোখ দিয়ে, আসন গেড়ে বসা, বিচলিত অথবা আত্নবিশ্বাসী, স্পটলাইটের কেন্দ্রবিন্দুতে। দর্শকের দেখা যায়, বক্তার চোখ দিয়ে, অনিশ্চয়তা অথবা আগ্রহ নিয়ে তাকানো, আধো আলো-ছায়ায়। কিন্তু যতই গল্প এগোতে থাকে, আর যতই গল্পের আবহ আচ্ছন্ন করা শুরু করে, ততই বাস্তবতা বিলীন হয় আর প্রবেশ ঘটে পরাবাস্তবতার জগতে। আমাদের চোখের সামনেই দর্শকরা হারিয়ে যায় অন্ধকারে। অথবা বক্তার নিয়মিত বদলে যাওয়া গলা আর বৈচিত্র্যতা থাকা অঙ্গভঙ্গিগুলো প্রাণ নিয়ে যেন মঞ্চে হাজির হ্য় আলাদা আলাদা সব চরিত্র হিসেবে। শৌয়া পিরিয়ডের টোকিওর কোন থিয়েটারের মঞ্চ রুপান্তরিত হয় এডোর কোন পতিতালয়ের ঘরে। আমরা শ্বাসবন্ধ করে বসে থাকি, দর্শকদের সাথেই, তার যখন হঠাৎ কোন কৌতুকে হেসে ঊঠে তখন আমরাও হাসি। অথবা আঁতকে উঠি শিনিগামির আগমনে।

vlcsnap-2016-04-20-21h10m34s128

কিন্তু কেবল রাকুগোর নিখুঁত মঞ্চায়নই না, তার চেয়েও বেশি কিছু, Shouwa Genroku এক অনবদ্য সিনেমাও। সামনে থেকে না দেখতে পাওয়া পারফর্মারের দেহের অঙ্গভঙ্গিগুলো আমরা দেখি, পারফর্মারের পাশে বসে, আসলেই মিশে একাকার হই, শুধু রাকুগোগুলোর গল্পের সাথেই না, তার পেছনের মানুষটার গল্পগুলোতেও। কোন মোনোলোগ না, কোন আলাদা সংলাপ না – কিন্তু পারফর্মারের মনের ভেতর ঢুকে যেতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না। হয়তো ছোট একটা শট-ফ্রেমিং – পায়ের আড়ষ্টতা বা ঠোটের কোনের সূক্ষ্ণ হাসি – Shouwa Genroku-’র ছোট ছোট দৃশ্যগুলোই হাজার শব্দের একটা ভাব বহন করে।

Shouwa Genroku-’র মূল গল্পের পুরোটাতেও আমরা বসে থাকি অধীর আগ্রহে, এর অনিবার্য ট্র্যাজেডির জন্য। তার চিরচেনা ভাব-গাম্ভীর্য নিয়েই কিকুহিকো যখন বলে যায় আত্নহত্যা অথবা পতনের গল্প – সুকেরেকু, মিয়োকিচি আর…রাকুগোর।

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিভিউ] — Asiful Alam Ayon

ShouwaGen 1

এনিম: Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu/ Shouwa and Genroku Era Lovers’ Suicide Through Rakugo
(দাঁড়ান, দাঁড়ান, নাম দেখেই উল্টো দিকে দৌড় দিবেন না। আগে পুরোটা পড়ুন তারপর সিদ্ধান্ত নিন।)

জনরা: হিস্টোরিকাল, ড্রামা, জোসেই
এপিসোড: ১৩
ম্যাল রেটিং: ৮.৭
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮.৮
রিলিজ: জানুয়ারি, ২০১৬- এপ্রিল, ২০১৬
উৎস: মাঙ্গা
স্টুডিও: Studio Deen

প্লট: একসময়ের জনপ্রিয় রাকুগো আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। রাকুগো হল এক ধরনের শিল্প যার মাধ্যমে একজন শিল্পী একটি গল্পকে এবং গল্পের বিভিন্ন চরিত্রগুলোর সংলাপ উত্তম পুরুষে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেন। বর্তমানে রাকুগোর অষ্টম প্রজন্মের প্রধান হলেন Yurakutei Yakumo VIII যিনি বন্ধুর কাছে Bon প্রেয়সীর কাছে Kiku-san নামে পরিচিত। হঠাৎ একদিন Yotaro নামের এক তরুণ তার কাছে এসে বলে সে ইয়াকুমো সেনসেই এর রাকুগোর পাঁড় ভক্ত এবং প্রচুর অনুনয় বিনয় করে তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য। সারা জীবন অসংখ্য মানুষের এমন অনুরোধকে প্রত্যাখান করে আসলেও কেন জানি এই তরুণের অনুরোধ ফেলতে পারলেন না তিনি। গ্রহণ করলেন শিষ্য হিসেবে, থাকতে দিলেন নিজের বাড়িতে। রাকুগোর প্রতি তরুণটির ভালোবাসা আর তার প্রতি তার পালিত কন্যার ঘৃণা দেখে একদিন ঠিক করলেন নিজের জীবনের কাহিনী খুলে বলবেন তাদেরকে। রাকুগোর মাধ্যমে শুরু করলেন তার জীবনের গল্প বলা, রাকুগো শিল্পী হয়ে উঠার জন্য তার সংগ্রাম আর জীবনযুদ্ধের এক গল্প… তার জীবনের এ গল্প নিয়েই এগোতে থাকে কাহিনী…

হারুকো কুমোতার লেখা অনন্য এই প্লটটির উপরে ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয় এনিমটি। এই এনিমের মজার একটি বিষয় হলো বর্তমান থেকে কিভাবে যে আপনাকে অতীতে নিয়ে যাবে আপনি টেরই পাবেন না। এনিমের পথিমধ্যে আপনার হঠাৎ মনে হবে “একি! গল্পতো বর্তমান দিয়ে শুরু হয়েছিল…!”
এনিমের মূল আকর্ষণ আর
চমকগুলা এই অংশেই।

চরিত্র: এনিমটাতে আপনি পাবেন অসাধারণ সব চরিত্র। একদিকে কিকুর সংগ্রামময় জীবন আর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, আবার অন্যদিকে ফ্রি স্টাইল জীবন যাপন করা বন্ধু সুকেরোকুর সম্পূর্ণ বিপরীত ব্যক্তিত্ব। আর আছে সুন্দরী ললনা মিয়োকিচি যাকে আপাতদৃষ্টিতে বাজে বিরক্তিকর একটা চরিত্র মনে হলেও তাকে ছাড়া গল্পের পূর্ণতা আসে না। প্রচুর ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট রয়েছে এনিমটাতে।

রাকুগো শিল্প আর একেক সময়ে একেক দিকে মোড় নেওয়া চমকে ভরা কিকুর জীবন এনিমটাকে নিয়ে গেছে সম্পূর্ণ অন্য এক স্তরে।

আর্টওয়ার্ক: খুব সুন্দর আর্ট লক্ষ্য করা যাবে এখানে যা মোটেই মার্কামারা বা সস্তা না। দেখলেই বুঝতে পারবেন এনিমটার আর্টওয়ার্ক আর দশটা এনিম থেকে একটু আলাদা। ব্যাকগ্রাউন্ড গুলি যেন জাপানের ঐতিহাসিক পিরিয়ডের ভাইব দিয়ে যাবে…

মিউজিক: মিউজিক নিয়ে খুব বেশিকিছু বলার নেই। ওপেনিং আর এন্ডিং সং এক কথায় পারফেক্ট ছিল। শুনলেই বুঝতে পারবেন কেন একথা বলা.. . বিভিন্ন সময়ের সাউন্ডট্র্যাক আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুলোও ছিল ভালো লাগার মতো।

এনিমটাতে পাবেন মেধাবী কিছু কণ্ঠ অভিনেতাদের, যাদের নাম না উল্লেখ করলেই নয়। আছেন সহকারী চরিত্রের রোলের জন্য বিখ্যাত এবং অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সেইয়ু আকিরা ইশিদা যিনি গিনতামার Katsura Kotaro এর ভয়েস দিয়েছেন । কণ্ঠ অভিনয় ছাড়াও অন্যান্য আরো অনেক ক্ষেত্রে মেধার পরিচয় দেওয়া কইচি ইয়ামাদেরা এবং ইয়োতারোর কণ্ঠ দিয়েছেন অনেক বিখ্যাত চরিত্রের (যেমন: Gilgamesh, Kogami Shinya) কণ্ঠ দেওয়া অভিজ্ঞ ও গুণী সেইয়ু তোমোকাজু সেকি।

গল্পের গাম্ভীর্যতার কারণে অনেকের কাছে এনিমটা ভালো নাও লাগতে পারে। তবে এনিমটাতে দেখানো বিলুপ্তপ্রায় রাকুগো আর এতে যুক্ত শিল্পীদের সংগ্রাম আপনাকে নতুন করে ভাবাবে, আধুনিক নানা বিনোদন মাধ্যমের ভীড়ে কি বিলুপ্ত হতে চলেছে না আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিগুলোও? কত শিল্পীর পরিশ্রমের ফসলে সমৃদ্ধ এককালের জনপ্রিয় আমাদের দেশীয় শিল্প সংস্কৃতিগুলোকে বাঁচানোর জন্য কি করতে পারি আমরা? আপনার এই চিন্তার দ্বার খুলে দিতে সাহায্য করবে Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu. অতএব, সময় নষ্ট না করে দেখে ফেলুন উইন্টার ২০১৬ এর অন্যতম এই সেরা এনিমটি।

ShouwaGen 2