Summer Wars [Movie Review] — Mizbahuddin Rafat

Summer Wars

Summer Wars
Directed by: Mamuro Hosoda
Studio: Madhouse

Summer wars নামটা শুনলেই মনে হয় গ্রীষ্মের যুদ্ধ বা Star wars জাতীয় কিছু। মুভির শুরুতে দেওয়া মিউজিকটা শুনলে Star wars ফিলিংসই পাওয়া যায়। মুভির নাম শুনে কাহিনী কিছু একটা প্রেডিক্ট করেছিলাম কিন্তু এই মুভিটা দেখার এক্সপেরিয়েন্স সম্পূর্ণ অন্যরকম ছিল।

মুভিটা শুরু হয় Oz নামক একটি ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড দিয়ে। মুভির প্রথম দৃশ্যেই এমন সাইবার ওয়ার্ল্ড আর ভার্চুয়াল কণ্ঠস্বর শুনে একেবারে অন্যরকম লাগলো। Oz নামক ভার্চুয়াল দুনিয়াটি আলাদিনের চেরাগের মতো। যা ইচ্ছা তা করার সুযোগ রয়েছে এখানে। শপিং, ফাইটিং, বিজনেস, যোগাযোগ, বিনোদন থেকে শুরু করে বলতে গেলে সব। সোজা ভাষায় বলতে গেলে মুভিটিতে সম্পূর্ণ জাপানের মানুষের কাজকর্ম চলে এখানেই। মুভিটির প্রধান চরিত্র কেনজি কইসো নামের এক হাইস্কুল ছাত্র। সে জাপানের ম্যাথ অলিম্পিয়াডের রানার-আপ। সে ও সাকুমা নামের তার এক বন্ধু ওজের দুনিয়াতে তাদের সময় কাটায়। কেনজির হাইস্কুলের একজন আপারক্লাসম্যান নাতসুকি শিনোহারা হঠাৎ তাদের একটা অতি অদ্ভুত জব অফার করে। সেটা আর কিছুই নয় বরং নাতসুকিকে তার পৈত্রিক নিবাসে যাওয়ার পথে সঙ্গ দেওয়া। হুট করে এমন অভূতপূর্ব প্রস্তাব পেয়ে কেনজি লাফ দিয়ে রাজী হয়ে যায় নাতসুকির বাড়ির দিকে তার যাত্রা শুরু হয়। নাতসুকির বাড়িটি প্রাচীন জাপানিজ ঐতিহ্যবাহী বাড়ির মত। নাতসুকির এর বিশাল ম্যানশন আকারের বাড়িটির ডিজাইন করা হয়েছে জাপানের Ueda Castle থেকে। এনিমেতে নাতসুকির পৈত্রিক নিবাসও উয়েদা শহরে। বাস্তব ওয়েদা প্রাসদটি জাপানের ওয়েদা শহরেই অবস্থিত যা আবার ডিরেক্টর মামোরু হোসোদার নিবাসের অতি কাছে। এই Ueda Castleটির মালিক ছিল Sanada clan যারা কিনা জাপানের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নাতসুকির বাড়িতে আসার কারণ ছিল তার গ্রেইট-গ্র‍্যান্ডমাদারের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালন। আর এই উপলক্ষে নাতসুকির পুরো পরিবারই জড়ো হয় তাদের পারিবারিক বাসস্থানে। Natsuki এর পরিবার বিরাট বড়। তাদের সম্পূর্ণ পরিবার দেখলে আমাদের একান্নবর্তী যৌথ পরিবারের কথা মনে পড়ে যায়। তাদের পরিবারের বিস্তৃতি পুরো জাপানে ছড়িয়ে আছে। কেনজি, নাতসুকির পরিবারের সাথে বেশ ভালো সময় কাটাতে থাকে যতক্ষণ না সেই কালোরাত্রিটা আসে। ছুটির প্রথম রাতেই তার মোবাইলের ওজ আইডিতে হঠাৎ একটি বিরাট কোড আসে যেটি সে পাগলামিবশত (এবং ঘুম না ধরায়) এক রাতের ভিতরেই কমপ্লিট করে বসে। তারপরের ঘটনাটা একেবারেই অন্যরকম। তার এই ডিকোডকে কাজে লাগিয়ে একটি ভাইরাস পুরো ওজের সিস্টেমে নিজের আধিপত্য ফলিয়ে একের পর এক অপকর্ম করতে থাকে। প্রায় চল্লিশ কোটি ওজ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়ে যায় যার মধ্যে রয়েছে কেনজির অ্যাকাউন্টটিও। যেহেতু কেনজির অ্যাকাউন্ট থেকে কোডটা ডিকোড করে পাঠানো হয়েছে তাই পরেরদিনেই সে মোস্ট ওয়ান্টেড আসামী হয়ে যায়! তারপর ঘটনাক্রমে এই পরিবার তরফ থেকেই শুরু হয় ভয়ংকর সেই ভাইরাসের বিপক্ষে এক সম্মিলিত লড়াই।

পরিচালক মামোরু হোসোদা Oz এর আইডিয়াটি নিয়েছেন একটি সুপার মার্কেট থেকে। যদিও এর সাথে Oz এর কোনো প্রকার মিল নেই। মুভির ফাইট সিন অর্থাৎ Oz এর ব্যাটেল সিস্টেমটি মুভির ডিরেক্টর Nintendo DS এর গেইমিং সিস্টেম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করেছেন। ভাল রকমের একটি স্টোরি এবং অনেক উত্তেজনা উপভোগ করতে চাইলে এই মুভিটা একটা অসাধারণ চয়েস। রেটিং এর ক্ষেত্রে মুভিটিকে A+ দেওয়া যায়। হালকা রোমান্টিসিজমের ছোঁয়াও পাওয়া যায় মুভিটিতে। অনেকগুলো গভীর পারিবারিক মুহূর্তের সমষ্টি সামার ওয়ারস আর এটাই মুভির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। মামোরু হোসোদার মুভিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এঞ্জয় করেছি এই মুভিটিই। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া মুভিটির ঝুলিতে আছে জাপান মিডিয়া আর্টস ফেস্টিভ্যাল ও জাপান অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের বেস্ট অ্যানিমেশনের পুরস্কার। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছিল মুভিটি।

Comments

comments