মাঙ্গা রিভিউ : Ibitsu — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মাঙ্গা রিভিউ : Ibitsu ( ইবিতসু )

মানুষের মন বড়ই বিচিত্র । কখোনো তা কল্পানপ্রবন , শিশুতোষ এবং শিল্পমনার প্রকাশ এবং কখোনো তা অবসেসিভ এবং স্যাডিসটিক এবং তা কখোনো বাইরের রুপ দেখে বোঝা যায় না । ধরুন বাসে এক সুন্দরী মেয়ে আপনার পাশে বসল , আপনার সাথে গায়ে পড়ে আলাপ করা শুরু করল এবং একসপ্তাহ পর আপনার লাশ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ড্রেনে খুঁজে পাওয়া গেল । মানুষের মন সত্যিই বড় বিচিত্র । ইবিতসু তেমনি এক সাধারন পরস্থিতি থেকে নারকীয় পরিস্থিতিতে মোড় নেওয়া কাহিনী ।

Ibitsu 1

কাহিনী : কাজুকি একজন তরুন মাঙ্গাকা । বাবা-মা এবং ছোটবোন নিয়ে তার সুখী পরিবার । একদিন রাতে আবর্জনা ডাস্টবিন ফেলার সময় খেয়াল করে ডাস্টবিনে কসপ্লের পোশাক পড়ে এক মেয়ে বসে আছে । যথারীতি পাগল ভেবে কাজুকি ময়লা ফেলে ফিরতি পথ ধরে বসল তখন হঠাত্‍ মেয়েটা জিঙ্গাসা করল “তোমার কি ছোটবোন আছে ? .. তখন কাজুকি উত্তর না দিতে গিয়েও বলল আছে । কাজুকি কি জানে সে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করেছে এই উত্তর দিয়ে এবং প্রবেশ করেছে এক স্যাডিসটিক সাইকোপ্যাথ মেয়ের ভ্রাতাশিকার তালিকায় । বাকি কাহীনি জানতে হলে শুরু করে দিন মাঙ্গা পড়া ।

আমার পড়া সাইকোপ্যাথ হররের মধ্য সেরাগুলোর একটি । মাঙ্গার আর্ট বেশ ভালো । ১৪ চ্যাপ্টারের ছোটমাঙ্গা । এবং এর মধ্য দুটো সাইডস্টোরি আছে । প্রচলিত ভৌতিক গুজব যদি সত্যি হয় তাহলে যে তার মাত্রা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা রিয়ো হারুকা এ মাঙ্গায় দেখিয়েছেন । সময় থাকলে পড়ে ফেলুন ইবাসুকি !
আমার রেটিং : ৮/১০

Ibitsu 2

Homunculus রিভিউ — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মাঙ্গা রিভিউ : Homunculus

Homunculus কথাটা শুনলেই প্রথমে দুটা জিনিস মনে আস । প্রথম হল এর আসল অর্থ যার মানে হল কৃত্রিমভাবে তৈরি মিনিয়েচার মানুষ , আর আমরা যারা কম বেশি এনিমে দেখসি তাদের মনে আসে ফুলমেটাল এলকেমিস্টের ৭মহাপাপের Homunculus . এখন এই মাঙ্গায় আমাদের সাইকোলজিকাল হোমানকুলাস নিয়েই কাহিনী ।
কাহিনীর কেন্দ্র হচ্ছে সুসুমু নাকাশি যাকে কাহিনীর শুরুতে দেখা যাবে একজন বেকার সহায় সম্বলহীন মানুষ হিসেবে । তার সম্বল বলতে একটা ছোট গাড়ি যেটার মধ্যেই সে থাকে । অর্থাত্‍ মাথায় ছাদ নাই কিন্তু গাড়ি আছে ! তো একদিন আরামসে ঘুমানোর আয়োজন করার সময় এক অদ্ভুত্‍ বেশধারী লোক তার সাথে দেখা করে . এবং প্রস্তাব দেয় যদি নাকাশি তার নিজের মাথায় সেই ব্যাক্তি যার নাম মানাবু ইতো কে পরীক্ষা করতে দিতে রাজি হয় তাহলে সে তাকে ৭মিলিয়ন ইয়েন দেবে । আর পরীক্ষটা হলো তার মাথার খুলিতে সে একটি ফুটো করে দেবে , এর ফলে মস্তিকে রক্ত চলাচল বাড়বে এবং যার ফলে হয়তোবা সুসুমু তার ষষ্ঠইন্দ্রিয়কে আবিষ্কার করতে পারবে । হ্যাঁ , এই অদ্ভুত দেখতে মেডিকেল স্টুডেন্ড মানাবুর আগ্রহ হচ্ছে মানুষের সিক্সথ সেনস নিয়ে গবেষনা করা । যা হোক প্রথমে নাকাশি রাজি না হলেও , পড়ে পেটের দায়ে রাজি হয় । অপারেশন সফল হলেও প্রথমে তার কোন সিক্সথ সেনসই টের পায় না । তো কয়েকদিন পর রাস্তায় হঠাত্‍ করে চলার সময় তার বা চোখে বালি ঢোকে এবং বাঁ চোখ বন্দ্ধ করার সাথে সাথে দেখে যে তার চারপাশের মানুষের চেহারা বডি ফিগার অদ্ভুত হয়ে যাচ্ছে । কেউ কাগজের মত পাতলা , কেউ বালুর বডি দিয়ে তৈরি আবার কেউ নরমালই আছে । এটাই কি তার নতুন পাওয়া ক্ষমতা ? পরে মানাবু ইতোর সাথে যোগাযোগ করার পর যে হাইপোথিসিস দাড়া করানো যায় তা হলো নাকাশির চোখে তার আশেপাশের সানারন মানুষগুলো বাইরের খোলস ভেদ করে তাদের ভিতরকার বেদনা , কামনা এবং অবদমিত অনুভূতি তার চোখে মানসিক Homunculus হয়ে ধরা দিচ্ছে । এরপর কি হয় ? নাকাশির আসল কাহিনী কি ? জানতে হলে পড়া শুরু করে দিন Homunculus ।
মাঙ্গার কাহিনী খুবই ভালো এবং মাঙ্গার আর্টও উন্নত মানের । তবে এর মধ্যে যথেষ্ট ম্যাচিউর এবং বেশ কিছু ডিস্টার্বিং সিন আছে যা অনেকের কাছে খারাপ লাগতে পারে । তবে মাঙ্গাটা ধৈর্য ধরে পড়লে ভালোই লাগবে । ভলিউম সংখ্যা মাত্র ১৬টি । তা হলে সময় থাকলে পড়ে ফেলুন ইয়ামাতা হিদেওর সৃষ্ট Homunculus .
আমার রেটিং : 8/10 ।

Homunculus

এনিমে রিভিউ: Pet Shop Of Horror — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মানুষের একাকিত্ব বেশি হয়ে গেলে তা ঘোচানোর জন্য মাঝে মধ্যে মানুষের সাহচার্য ছাড়াও অনেক সময় গৃহপালিত প্রানীর সাহচার্যের প্রয়োজন হয়ে থাকে । এবং এসব প্রানী পাওয়ার উপায় হল পেটশপ , কিন্তু সেখান থেকে কেনা প্রানী হয় যদি কোন মিথলজিকাল জন্তু যা তার জাতের একমাত্র এবং তা আপনার পাপ পুণ্য , অদমিত ইচ্ছা এবং লালসার প্রতিচ্ছবি হয় তাহলে কি হবে ? পেট শপ অফ হরর সেইরকম একটি এনিমে , যেখানে মডার্ন যুগের সাথে মিথলজি , সাইকোলজির এবং হররেরমিশেল ঘটানো হয়েছে এবং তার সফল উপস্থাপন করা হয়েছে ।
কাহিনী : আমেরিকার লাসভেগাসের চায়না টাউনে আছে এক অদ্ভূত পেট শপ । যেখানে বহু ক্ষমতাধর ব্যাক্তিদের প্রায়ই দেখা যায় । এবং সন্দেহের বিষয় হল এ দোকানের কিছু ক্রেতা প্রায়ই শহরের মধ্যে খুন হয় এবং তা আপাতদৃষ্টিতে বন্যপ্রানীর আক্রমনে । সুতরাং এক ডিটেকটিভ যোগাযোগ করে পেট শপের দোকানদার কাউন্ট ডি এর সাথে । তখন কাউন্ট ডি ই তাকে সোজা কাহিনী বলে দেয় । প্রত্যেকটি প্রানী বিক্রির সময় কিছু শর্ত মানতে হবে , যার মধ্যে প্রধান শর্ত হল জন্তুটি কাউকে দেখানো যাবে না । এরপর থাকে প্রানীভেদে আলাদা শর্ত । কেউ যদি এই শর্ত ভঙ্গ করে তাহলে তার ফলাফলের জন্য ক্রেতাই দায়ী থাকবে এই মর্মে চুক্তিপত্র সই করতে হবে । কিন্তু এই বিক্রি হওয়া প্রানীগুলো কি এবং এই মৃত্যুর পেছনের কাহীনি কি জানতে হলে এনিমেটি দেখা শুরু করে দিন ।
এনিমেটির মাত্র চার পর্ব । এবং একেকটি পর্ব একেকটি পুরো গল্প । ওপেনিং সং এই এনিমেতে নেই , আর্টস্টাইল মোটামুটি সুন্দর এবং কাহিনী বর্ননার ধরন বেশ ভালো । আর এটার ডাব ও সাবের , দুটোর মানই ভালো । সুতরাং হাতে সময় থাকলে চট করে দেখে ফেলুন পেট শপ অফ হররস।
আমার রেটিং: ৮/১০

pet shop of horror

মাঙ্গা রিভিউ :উযুমাকি (Uzumaki) — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মাঙ্গা রিভিউ :উযুমাকি (Uzumaki)
আমাদের যদি প্রশ্ন করা হয় যে , ছোটবেলায় কোন জেনারের বই সবচেয়ে বেশি কেনা হয়েছে? তাহলে আমার ধারনা বেশিরভাগই বলবে ভূতের । ছোটবেলায় টম সাহেবের বাংলো , সতীনাথ ভাদূড়ি ,বনফুল এর লেখা ভূতের গল্প ছোটবেলায় লেপের নিচে পড়ার অভিঙ্গতা আমাদের অনেকেরি আছে । এরপর আসে সত্যজিত্‍ রায়ের অসাধারন মাস্টারপিসগুলো যেমন ফ্রিত্‍স , খগম , ভূতো , বৃহচন্চু ইত্যাদি । এসব গল্পের বিল্ডিং এবং কাহিনী বর্ননা অসাধারন। এখন আসব মাঙ্গাকার কথায় । জুনজি ইতো জাপানের সের হরর মাঙ্গাকার মধ্যে একজন । এবং তার মাঙ্গাগুলোর স্বাদ অনেকটাই সত্যজিত্‍ রায়ের ভৌতিক ছোট গল্পের মত । উযুমাকি সেরকমের একটি গল্প । এবং এই গল্পের মেইন বিষয় হলো রহস্যময় স্পাইরাল । জ্বী এই কাহিনীর অভিশাপ কোন জীবের নয় বরং একটি জ্যামিতিক কার্ভের ।

কাহিনী : জাপানের উপকূলের একটি ছোট শহর কুরোজো । এই শহরের দুই অধিবাসী হল কিরি গোশিমা এবং তার বয়ফ্রেন্ড সুইচি সাইতো । কাহিনী শুরু হয় এই সুইচির বাবাকে নিয়েই , যে স্পাইরালে আসক্ত । সে স্পাইরালের প্যাটার্নযুক্ত কিছুই সংগ্রহ করত । এবং তার জীবনের শেষ হয় নিজেকে স্পাইরালে পরিনীত করতে গিয়ে । এবং পরে সুইচির মায়েরও মৃত্যু হয় স্পাইরাল ভীতিতে । তখন থেকে শহরে শুরু হয় স্পাইরালের কার্স ।শহরের যে কোন শবদাহ করার পর যে ধোয়া বের হয় স্পাইরাল আকৃতির । আরও শুরু হয় খুলির স্পাইরাল ভোয়েডে হারিয়ে যাওয়া , মানুষ শামুকে পরিনত হওয়া , গর্ভবতী ভ্যাম্পায়ার মায়ের দল এবং প্রেমিক সাইক্লোন যা কিরিকে নিয়ে যেতে চায় । বাকি কাহিনী মাঙ্গা পড়েই জেনে নিন ।

মাঙ্গার আর্টস্টাইল যথেষ্ট রিয়েলিস্টিক এবং ডিটেইলড , বিশেষ করে হরর পার্টগুলো । কাহিনী শেষের দিকে যথেষ্ট প্যাচালো । কিন্তু তাও না পড়ে থাকা যায় না ।
আমার রেটিং : 9/10
সুতরাং গভীর রাতে পড়া শুরু করে দিন ২০ চাপ্টারের উযুমাকি । আশা করি শৈশবের সেই গা ছমছমে অনুভূতি ফিরে আসবে ।

uzumaki

Mushishi রিভিউ — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

এনিমে রিভিউ : Mushishi (মুশিশি)
এই ছোট জীবনে আমার বহুরকম এনিমে দেখার সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য হয়েছে । নানা জনরার এনিমে দেখসি যেমন মেকা , সাইকোলজিকাল , শৌনেন , স্লাইস অফ লাইফ ইত্যাদি ইত্যাদি । কিন্তু এটা এমন এক এনিমে যাকে আমি কোন ভাগেই ঠিকমতো ফেলতে পারিনি । কোনরকম ফ্ল্যাশি মুভ , মাথা ঘুরিয়ে দেবার মত প্লট বা কোন রোমান্স কিছুই এই এনিমেতে নেই , কিন্তু তারপরও এই এনিমে একবার দেখার পর মাথা থেকে কিছুতেই বের করা যায় না । এটা দেখার পর একটা মায়াবী বা হিপনোটিক ভাব সারা মনকে ঘিরে রাখে । কি আছে এই এনিমেতে তাহলে ?

কাহিনী : এই এনিমের প্রধান বিষয়বস্তু হল মুশি । মুশিরা হল একধরনের সত্ত্বা । এরা জীবও না বা এরা আত্নাও না । এরা হল এক ধরনের পিউর লাইফ ফর্ম এবং এদের অনেক প্রকারভেদ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতা আছে । আর সাধারন মানুষের খালি চোখে মুশি দেখতে পারে না কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া ।এদের বেশিরভাগই নিরীহ তবে কিছু কিছু মুশি আছে যারা মানুষের জীবনে ছোটখাট থেকে ভয়াব্হ ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে । এখন আসে আমাদের প্রধান কেন্দ্রীয় চরিত্রের কথা যার নাম হশ গিঙ্কো ( Ginko ) । সে পেশায় হল মুশি মাস্টার বা মুশির ওঝা । সে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মানুষদের ক্ষতিকর মুশির হাত থেকে বাঁচায় এবং সাথে মুশিদের উপর গবেষনা করে বেড়ায় । তার এই ভ্রমনে নানা অভিগ্ঙতার সম্ভুখীন হয় ।
এই এনিমের প্রত্যেকটি পর্বই একেকটি আলাদা কাহিনীর মতো ।প্রত্যেকটি গল্পই হৃদয় ছোঁয়া । এরপর আছে এর অসাধারন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক । জাপানের প্রাচীন ক্ল্যাসিকাল ফোক মিজজের ইন্সট্রুমেন্টের কাজ আপনাকে এনিমের দৃশ্যগুলো জীবন্ত করে তুলবে । এবং প্রধান আর মেইন আকর্ষন হলো এর আর্টওয়ার্ক , মুশিশির যে কোন সিন পজ করে দেখলেও চোখে শান্তি লাগে । এই এনিমের হালকা ভৌতিক এবং একই সাথে মুগ্দ্ধকর আব্হাওয়া এই আর্টস্টাইল সফলভাবেই তুলে ধরেছে ।
বর্তমানে যারা গত্‍বাধা কাহিনীর এনিমে দেখে ক্লান্ত ,তারা এই এনিমে অবশ্যই ট্রাই করবেন । এবং এই এনিমে দেখার পর এক অদ্ভূত মুগ্দ্ধকর অনুভূতি নিয়ে থাকবেন ।
এনিমের পর্ব সংখ্যা প্রথম সিজনে ২৬ টি ।আমার মতে সাব না দেখে ডাব দেখলেই ভালো হবে বেশি , কেননা ডাবে গিঙ্কোর গলার ভাবই আলাদা । সাথে এর ফুল সাউন্ডট্র্যাক আলাদা নামিয়ে নিলে আরো ভালো হয় ।
আমার রেটিং :১০/১০
সুতরাং হাতে সময় থাকতে দেখে ফেলুন মুশিশি ।

mushishi