মাঙ্গা রিভিউ: ফ্যাশন মডেল — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মাঙ্গা রিভিউ: ফ্যাশন মডেল
মাঙ্গাকা: জুনজি ইতোও

ফ্যাশন মডেলদের সাথে আমরা সবাই খুব পরিচিত । তারা হচ্ছে একদল সুন্দরী যাদের মাধ্যমে ফ্যাশন ডিজাইনরা তাদের সুন্দর বা উদ্ভট কাপড় উপস্থনার দায়িত্ব প্রদান করে ! অনেকসময় ৪০কেজি ওজনের মডেলকে ২০কেজি সমপরিমাণ পোশাকের টর্চারও সইতে হয় ! তো জুনজি হয়তো ভাবলেন যে সবজায়গায় যেহেতু হররের সোনার কাঁঠি ছুইয়েছি তো ফ্যাশনমডেলরাও বাদ যাবে কেন ! তার ফল হল এই হরর এবং হাল্কা গোর মাঙ্গা ফ্যাশন মডেল ।
কাহিনী: এর কাহিনী শুরু হয় এক ফ্লিম এবং বিঙ্গাপনের স্টুডেন্ট ইওয়াসাকিকে দিয়ে । এই ইওয়াসাকি বেশ স্ট্রং ইনট্যুইশনের অধিকারী । তো হ্ঠাত্‍ একদিন সকাল থেকে তার মাথায় এক প্রবল বিপদের সতর্কসংকেত বেজে উঠলো , তার মনে হচ্ছে তার দিন আজকে বেশ খারাপ যাবে , পথে ছোটখাট দুটো বাড়ি খেয়ে তার ধারণা আরো বদ্ধমূল হলো । তো একটা কফিশপে ঢুকে মাথা ঠান্ডা করার জন্য কফির অর্ডার দিয়ে একটা ফ্যাশন ম্যাগাজিনের পাতা ওল্টাতো লাগলো । কিন্তু তার চোখে হঠাত্‍ করে পড়লো ম্যাগাজিনে এক ভয়াব্হ নারী মূর্তির ছবি , তার দৃষ্টি এমনই ভয়ানক যা আপনার আত্নাকে কাঁপিয়ে দেবে । এবং সে নারী কিনা একজন মডেল ! কয়েকসপ্তাহ পর্যন্ত ওই ভয়ঙ্কর নারী মূর্তি তাকে দুঃস্বপ্নতে হানা দিতে থাকে , কিন্তু যখনই সে ওই চেহারা ভুলে যেতে শুরু করে তখনি সে সরাসরি ওই বিকটিনীর সামনে পড়ে যায় ! কি হয় তার পড়ে ?! জানতে চাইলে মাঙ্গা পড়ে ফেলুন না !!
যারা জুনজি ইতোর ভক্ত তারা তো অবশ্যই এটা পড়েছে বা পড়বেন । কিন্তু যদি হররের জগতে প্রবেশ করতে চান তাহলে এই মাঙ্গা দিয়েই শুরু করে দিন না !? ভয় পাওয়ায় একধরনের মজা ! তো সময় থাকলে পড়ে ফেলুন ফ্যাশন মডেল !
আমার রেটিং: ৭/১০

Fashion Model

মুভি রিভিউ: Kiki’s Delivery Service (কিকির পরিবহন সেবা) — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

সবার এনিমের টেস্ট এক না , কেউ একশান , কেউ রহস্য এবং কেউবা রোমান্স । কিন্তু অনেকসময় টানা একটাইপের কিছু দেখতে দেখতে ক্লান্তি বা বিরক্তি আসতে পারে । তখন টেস্ট পরিবর্তন করার জন্য এমন কিছু চাই যা মনকে ফ্রেশ করে দেবে এবং মনের স্ট্রেস দূর করে দেবে এবং আপনাকে কয়েকদিনের জন্য মুগ্দ্ধ করে রাখবে !!!? এবং সে কাজ করতে পারে গিবলি স্টুডিওর মুভি । এই লেজেন্ডারি স্টুডিওর সৃষ্ট অন্যতম এক মাস্টারপিস হচ্ছে কিকির ডেলভারি সার্ভিস ! অসাধারন এই মুভি অতিরিক্ত আবেগ বা ফ্ল্যাশি কোন কিছু না দেখিয়েই সিম্পল স্টোরিলাইন দিয়ে আপনাকে মুগ্দ্ধ করে দেবে !!!

Kiki 1
কাহিনী : এই মুভির প্রধান চরিত্র হল কিকি , এবং সে একজন ডাইনী । এখন ডাইনী বললেই রুপকথার যে বিদঘুটে ডাইনির কথা মনে আসে কিন্তু এখানে তা উল্টো । কিকি যে রিয়েলিটির বাসিন্দা , সেখানে ডাক্তার , ইন্জিনিয়ারের মত ডাইনীবিদ্যা বা উইচক্রাফর্ট একটা সাধারণ জিনিস । কোন ডাইনীর ১৩বছর পূর্ণ হলে তাকে একলা একবছরের ট্রেইনিং এর জন্য তাকে বাইরে যেতে হয় এবং কিকি সে বয়স এ পৌছেছে । কিকির মাও একজন ডাইনী যদিও বাবা মানুষ । কিকি ১৩বছরে পৌছেই ট্রেনিং এবং বাইরের দুনিয়াকে জানা দেখার জন্য বেরিয়ে পড়ে তার ছিমছাম গ্রামের সকলের কাছ খেকে বিদায় নিয়ে এবং তার সঙ্গী হল পোষা বিড়াল জিজি এবং বাবার রেডিও । পথে নানা ঝামেলায় পড়ে এবং তা এড়িয়ে সে পৌছায় এক ব্যাস্ত শহরে । কিকি যদিও প্রথমে অনেক উত্‍সাহি থাকে নতুন জায়গায় আসার থ্রিলে । কিন্তু শহরের ব্যাস্ত মানুষদের উপেক্ষা কিকির জন্য প্রথমে কষ্টকর হয়ে দাড়ায় । কিন্তু পরে এক দয়ালু ম্হিলা ওসোনোর সাথে পরিচয় হয় যে একটি বেকারী চালায় । ওসোনো তাকে আশ্রয় দেয় এবং সেই সাথে কিকি সেখানে তার উড়ার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ডেলিভারি সার্ভিসের ব্যাবসাও শুরু করে । প্রথম ডেলিভারিতেই বেশ ঝামেলায় পড়ে কিন্তু ঠিকই উত্‍রে যায় । এভাবে শুরু হয় কিকির শহরে জীবন ।সেখানে তার পরিচয় হয় টমবোর সাথে যে আপাতদৃষ্টিতে কিকির উপর ছোটখাট ক্রাশ খাওয়া , উরসুলা নামক এক মেয়ে যে একজন মেধাবী আর্টিস্ট আরও অনেক ভালো মন্দ চরিত্র । কিকি কি পারবে নির্বীন্ঘে তার ডেলিভারী সার্ভিস চালু রাখতে ? তাহলে সময় থাকলে দেখে ফেলুন কিকির ডেলিভারী সার্ভিস !!
এর সাউন্ডট্র্যাক খুবই সুন্দর ।এর ল্যান্ডস্কেপ আর্ট অতিরিক্ত সুন্দর । এটার সাব এবং ডাব দুটোই অস্থির যদিও আমার কাছে ডাব বেশি ভালো লেগেছে । এই মুভিতে যদিও মাথা ঘুরিয়ে দেবার মতো প্লট নেই কিন্তু এটা দেখার পর এর রেশ ছুটাতে আপনাকে অনেক বেগ পেতে হবে !!!
আমার রেটিং : ৮.৫/১০ ।

Download link: http://www.animeout.com/majo-no-takkyuubin/

Watch online: https://kissanime.to/Anime/Kiki-s-Delivery-Service-Dub/Movie?id=49370

Kiki 2

মাঙ্গা রিভিউ:GOTH — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আমরা যারা হরর জানরার ভক্ত , তাদের কাছে ভূত বা অশিরীরি কোন সত্ত্বার ভৌতিক কাহিনীর চেয়ে সাইকোপ্যাথখুনিদের আবেদন বেশি । কেননা সাইকো কিলাররা হয় চতুর এবং টর্চার ও মার্ডারিংকে এরা শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে যায় । এইরকম কিছু সাইকোপ্যাথদের ছোট ছোট গল্প নিয়েই ওতসুচির ৫চ্যাপ্টারের মাঙ্গা Goth .
এই গল্পের প্রধান চরিত্র কামিইয়ামা ইতসুকি যে গম্ভীর এবং বুদ্ধিমান হাইস্কুল বালক । এখন আবার ভেবে বসবেন না যে এ গড়পড়তা নায়ক ডিটেকটিভ ! সে হল স্বয়ং একজন স্যাডিসটিক সাইকোপ্যাথ এবং তার আনন্দের প্রধান উত্‍স সাইকোপ্যাথ মার্ডারের কেস স্টাডি । এবং তার সঙ্গী হল অনেকটা তার মতই পারসোনালিটি যুক্ত গম্ভীর বালিকা মরিনো ইয়ুরু এবং একইসাথে সে সাইকোপ্যাথদের জন্য ম্যাগনেটের মতো । এই ইয়ুরুর সুন্দর সাদা হাত পরোক্ষভাবে সংগ্রহ করতে গিয়ে ইতসুকি ব্যার্থ হয় এবং পরে মরিনোর সাথে ভাব জমায় ।তারা ২জনে মিলে নিছক আগ্রহ এবং আনন্দের জন্য আশেপাশের সাইকোপ্যাথদের খুজে বের করতে থাকে এবং একইসাথে তাদের অতীতের কিছু রহস্য তাদের সামনে চলে আসে ।
মাত্র ৫চ্যাপ্টারের এই মাঙ্গা সময় থাকলে পড়া শুরু করে দিন । রহস্য ও হররের মিশেল আপনাদের অবশ্যই ভালো লাগবে !!
আমার রেটিং : ৮/১০

Goth

মাঙ্গা রিভিউ: Intersection’s Pretty Boy — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

জুনজি ইতোর মাঙ্গা কালেকশনে এত অসাধারন গল্প রয়েছে তার মধ্যে আমার অন্যতম পছন্দ হলো ইন্টারসেকশন প্রিটি বয় । নরমাল ভাগ্যগণণাকে জুনজি যথারীতি নারকীয় রুপ দিয়েছেন !
কাহিনী : জাপানের এক কানাঘুপচি শহরে এক আজব খেলা চালু আছে । এই খেলার নাম হল ইন্টারসেকশন ফরচুন টেলিং বা গলির চৌমাথার ভাগ্যগননা । এই খেলার নিয়ম হল আপনি কোন গলির মাথায় দাড়িয়ে মুখ ঢেকে পথচারীর জন্য অপেক্ষা করবেন । পথে যে প্রথম পথচারীকে পাবেন , তাকে অনুরোধ করবেন আপনার ভাগ্য সম্পর্কে কিছু বলতে , সে যা বলবে আপনার ভাগ্য সে রকমেরই হবে । সবই ঠিকঠাক চলছিল যতদিন না পর্যন্ত এক গর্ভবতী নারীর লাশ পাওয়া গেলো শহরের এক রাস্তার মোড়ে । আসল ঘটনা শুরু হয় যখন রিয়ুসকে নামক এক সুদর্শন তরুন তার ছোটবেলার শহরে ফিরে আসে । নতুন স্কুলে ভর্তি হবার পর সে খুজে পায় তার ছোটবেলার বান্দ্ধবী মিডোরিকে এবং সুদর্শন এবং সদালাপী হওয়ায় সে দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে , বিশেষ করে মেয়ে ম্হলে । কিন্তু হঠাত্‍ করেই তার এক মেয়ে সহপাঠীর ভয়াব্হ মৃত্যু হয় চৌরাস্তার মোড়ে এবং জানা যায় যে সে ইন্টারসেকশন ভাগ্য গণণা করতে গিয়ে সে এক কালোপোশাকধারী সুদর্শন যুবকের দেখা পায় যে তাকে বলে তার জীবনে কখোনো ভালবাসা আসবে না । এরপরই মেয়েটি আত্নহত্যা করে । এরপরই শুরু হয় রিয়ুসকের জীবনের এক নারকীয় অধ্যায় । এই কালোসুদর্শন যুবকের সাথে রিয়ুসকের সম্পর্ক কি তা জানতে হলে শুরু করে দিন মাঙ্গা পড়া !
এটার আর্টওয়ার্ক এবং কাহিনী দুটোই অস্থির । পড়তে গিয়ে আপনার একধরনের ভয় ও রহস্যের উত্তেজনা মিশানো অনুভূতি কাজ করবে । তো সময় থাকলে পড়ে ফেলুন Intersection pretty boy !
আমার রেটিং: 9/10

pretty boy

এনিমে মুভি রিভিউ: Wolf Children — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আপনার কি কথোনো এমন অনুভূতি হয়েছে যে কোন কিছু দেখে বা পড়ে শেষে করে উঠেছেন কিন্তু তার ঘোর লেগে রয়েছে , যেন এক সুন্দর স্বপ্নরাজ্য থেকে ভ্রমন করে বাস্তবে ফিরে আসলেও তার মোহ কেটে না যাওয়া ? আমি সেই অনুভূতির সম্মুখীন হয়েছি এই উলফ চিলড্রেন দেখে শেষ করার পড় । এক অসাধারন আনিমে চলচিত্র যা হাজারবার দেখলেও পুরানো হবে না ।

কাহিনী : কাহিনীর প্রধান চরিত্র হল এক হাস্যোজ্বল , প্রাণশক্তিতে ভরপুর তরুনী হানা । অন্যসব বাবা মা হারা তরুনীর মত সেও খন্ডকালীন চাকরি এবং পড়াশোনার মাধ্যমে উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করছে । তো একদিন ইউনিভার্সিটিতে ক্লাসে সে এক নতুন তরুনের দেখা পেলো যে কোন টেক্সট বইয়ের সাহায্য ছাড়াই নোট নিচ্ছিল । হানা আগ্রহী হয়ে ছেলেটির সাথে পরিচিত হয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো যে সে কোন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র না । এই গম্ভীর আকর্ষনীয় তরুনের প্রতি হানা দুর্বল হয়ে পড়লো এবং তাদের মধ্যে প্রনয় হতেও বেশি টাইম নেয়নি । একদিন সেই যুবক হানাকে তার আসল পরিচয় দিল যে সে একজন নেঁকড়ে মানব । কিন্তু হানা সেই তরুনকে অন্তর দিয়ে ভালবেসেছে , বাহ্যিক ছবি কিছু না । তাদের সংসার শুরু হয় , তারা ২সন্তানের জনকও হয় । কিন্তু হানার স্বামীর মৃত্যু সবকিছুকে যেন বদলে দেয় । দুই অর্ধমানব অর্ধনেকড়ে সন্তান আমে এবং য়ুকিকে নিয়ে হানা শুরু করে তার জীবন সংগ্রাম । তাদের পরিচয় গোপনরেখে বড় করার জন্য সে তার স্বামীর জন্মান্চলে চলে যায় এবং সেখানে তাদের বড় করতে থাকে ।সে তার সন্তানদের পথ তাদের হাতেই ছেড়ে দেয় যে তার মানব জীবন না নেঁকড়ে জীবন বেছে নেবে । এই সদাহাস্য তরুনী হানার স্ট্রাগল নিয়েই এর কাহিনী ।

এই এনিমের আর্টস্টাইল ও গ্রাফিক্স মনোমুগ্দ্ধকর ও প্রশান্তিদায়ক । পাহাড়ে হানা যে বাড়ি ভাড়া নেয় তার বেসিনটার ছবি আমি ওয়ালপেপার হিসেবে ইউজ করেছি ! আমে এবং য়ুকির দুষ্টুমি আপনাকে যেমন আপনাকে হাসাবে তেমনি তাদের মানব সত্ত্বা ও নেকড়ে সত্ত্বার দোঁটানা এবং হানার একার সংগ্রাম আপনার হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যাবে । এটা একটা অবশ্য দেখা কর্তব্য মুভি । আপনি একবার দেখুন বা বারবার দেখুন , আপনি মুগ্দ্ধ হতেই থাকবেন !!
আমার রেটিং : 10/10

Wolf Children

এনিমে রিভিউ: বেক: মঙ্গোলিয়ান চপ স্কোয়াড — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আজকালকার যান্ত্রিকযুগে সবাই ব্যাস্ত । কেউ অফিসে , কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবাই কোন না কোন কাজে ব্যাস্ত । ফলে স্বভাবতই স্ট্রেস , ক্লান্তি , হতাশা এগুলো বড়সমস্যা । কিন্তু এগুলো কাঁটানোর সবচেয়ে ভালো উপায় কি তাহলে ? তা হল সঙ্গীত । মিউজিকের চেয়ে স্ট্রসরিলিভার আর কিছু হয় না । গল্পের বই পড়ছেন পাশে চলছে হেমন্ত অথবা মান্নাদের ক্ল্যাসিকাল ধ্রুপদ গান । বাসে দাড়িয়ে আছেন কানে বাজছে এড শিরান অথবা কোল্ডপ্লে আবার সারাদিনের ঝামেল শেষ করে স্ট্রেস থেকে মুক্তির জন্য আমার মতো মেটালহেডরা ডুব দি আয়রন মেইডন অথবা এলুভিটির দুনিয়ায় । এখন এই মিউজিকাল স্লাইস অফ লাইফ নিয়ে বহুত এনিমে হয়েছে , কিন্তু তার ৯০শতাংশ ক্ল্যাসিকাল ।রকব্যান্ড নিয়ে যে কয়টি এনিমে হয়েছে তার মধ্যে সেরা এবং সম্ভবত মিউজিকাল জানরার মধ্যে অন্যতম সেরা এনিমে হল বেক ।

Beck 1
কাহিনী : এই কাহিনী যাকে ঘিরে , তার নাম য়ুকিয়ো তানাকা বা সংক্ষেপে কোয়ুকি । সে একজন অষ্টম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছাত্র এবং তার দৈনন্দিন জীবনের উপর বিরক্ত , কোন শখ বা টার্গেট না থাকলে যা হয় আর কি ! তো একদিন একটি অদ্ভূত দেখতে কুকুরকে শয়তান ছোকরাদের হাত থেকে বাঁচানোর সময় পরিচয় হয় বেক নামক কুকুরের মালিক মিউজিশিয়ান গিটারিস্ট রিয়ুসকের সাথে । এবং এই রিয়ুসকেই ধীরে ধীরে বদলে দেয় কোয়ুকির জীবন । রিয়ুসকের ফলে কোয়ুকি ধীরে ধীরে পশ্চিমা রক সঙ্গীতের দিকে আকর্ষিত হতে থাকে । সে একসময় গিটার শেখা শুরু করে এবং তার সুন্দর কন্ঠ এবং নিষ্ঠার ফলে একসময় রিয়ুসকের নবগঠিত ব্যান্ড বেকে যোগদেয় । এবং এর সদস্য চিবা , টারিয়া ,সাকুরাই এবং রিয়ুসকের সত্‍ বোন মাহোর সাথে কোয়ুকির দৈনন্দিন জীবন এবং বেকব্যান্ডের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা নিয়েই এই এনিমে । একটা রকব্যান্ডকে যে কত বাধাবিপত্তি সমস্যার মুখে পড়তে পারে এবং মিউজিশিয়ানদের স্ট্রাগল এবং ব্যান্ডের ভাঙ্গাগড়া নিয়েই এই এনিমের প্লটলাইন ।

Beck 2
প্রথম কথা হল ব্যাকের এনিমে এডাপ্টেশন করেছে ম্যাডহাউজ ,সুতরাং এনিমেশন কোয়ালিটি ভালো । এবং এর মূল আকর্ষন হল এর রিয়েলিস্টিক স্টোরিলাইন । সাধারনত মিউজিকাল এনিমেতে কিছু ফ্ল্যাশি সিন থাকে কিন্তু বেক দেখিয়েছে বাস্তবতাকে এবং সকল প্রকার ফ্ল্যাশি সিন বিবর্জিত আরও যে ব্যান্ড গঠন করলেই সব হয় না , তা ধরে রাখতে হয় । এখানে প্রত্যেক ক্যারেকটারের দৈনন্দিন জীবন নিখুত ভাবে দেখানো হয়েছে । এখন আসি সাউন্ডট্রাকের কথায় । এ ব্যান্ড হল ওয়ের্স্টান রকসঙ্গীত দ্বারা প্রভাবিত . তো বেকের ট্র্যাকগুলো ইংরেজিতে । তত্‍কালিন জাপানে ফ্রেডি , বিটলস , জিমি হেনড্রিক্স , লেড জ্যাপলিন এদের সঙ্গীত যে প্রভাব বিস্তার করেছিল তা এই এনিমে দেখলেই বোঝা যাবে । এবং এরা এই এনিমেতে একবার দেখাও দেয় !ট্রাকগুলো খুবই সুন্দর তবে আহামরি নয় । কোন ব্যান্ড গঠিত হলেই যে অসাধারন গান করতে হবে এমন কোন কথা আছে নাকি !?
এনিমে পর্ব মাত্র ২৬টি । এবং এই এনিমে অবশ্যই ডাবে দেখার চেষ্টা করবেন । আর এই এনিমে দেখার পর যখন অর্থহীন , শূন্য ,আর্টসেলের বা অন্য ব্যান্ডের গান শুনতে যাবেন , তখন হয়ত এই ব্যান্ডগুলোর শুরুর দিকে কি স্ট্রাগল করতে হয়েছে তা আপনার কল্পনায় উঁকি দিয়ে যাবে এবং সাক্ষী হবেন এক মিউজিশিয়ানের বেড়ে ওঠা , তো সময় থাকলে দেখে ফেলুন বেক মঙ্গোলিয়ান চপ স্কোয়াড !
আমার রেটিং ৯/১০

Ending theme: http://www.youtube.com/watch?v=HFOnL-XnCEM

মাঙ্গা রিভিউ: Tales Of The Unusual — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

যারা রেগুলারলি হরর মাঙ্গা পড়েন বা শর্ট হরর মাঙ্গার ভক্ত তাদের কাছে The Red Book এবং Fuan no Tame মাঙ্গা পরিচিত নাম । এদুটো মাঙ্গার বৈষিট্য হচ্ছে ১-২ পৃষ্ঠার মধ্যে একেকটি হরর কাহিনী এবং প্রায় সংলাপহীন । এর মধ্যে দ্যা রেড বুক আবার কালারড । এখন দ্যা টেলস অফ দি আনইউজুয়াল এই টাইপের মাঙ্গা তবে এর কাহিনী বড় এবং সংলাপযুক্ত ।
এই মাঙ্গার কাহিনী বিভিন্ন ধরনের হরর নিয়ে । সবগুলোতেই ভূতপ্রেত নিয়ে কাহিনী না বরং এর মধ্যে সায়েন্সফিকশনাল হররও আছে । যেমন স্বপ্নে হত্যার অর্ডার দেয়া , নতুন ধরনের বিউটি লোশন যা আপনাকে সুন্দর কর তুলবে কিন্তু অতিরিক্ত ব্যাবহার আপনাকে পুরোই বদলে দেবে , ফ্রান্সিস কাফকার মেটামরফসিস গল্পের ছায়া নিয়েও একটা গল্প আছে আরও আছে স্কন্দ্ধকাঁটা যাদুকরসহ আরও অনেক কিছু ।
মাঙ্গার আর্টস্টাইলকে ঠিক সুন্দর বলা যাবে না ,কিন্তু হররমাঙ্গার আর্ট সুন্দর আশা করা কি উচিত !? কালারিং মাঙ্গা হওয়ায় পড়ে মজা আছে । এটা অনগোয়িং মাঙ্গা এবং এর সর্বশেষ ১০৭টি চ্যাপ্টার বের হয়েছে । আপনি যদি ফুয়ান নো তামে এবং রেড বুকের ভক্ত হন . তাহলে অবশ্যই এই মাঙ্গাটি ট্রাই করে দেখবেন । আশা করি কিছু হলেও ভয় লাগবে !
আমার রেটিং : 7/10

tou 1tou 2

এনিমে রিভিউ: Time of Eve — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আমাদের মানুষদের মধ্যে একটা এরোগ্যান্ট ভাব আছে যে , মানুষ ছাড়া অন্য কোন কিছু ইমোশন অনুভব করতে পারবে না । মানুষ হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরী করতে পারবে এবং মনে করতে পারে যে এই বুদ্ধিমত্তাকেও আমারা নিয়ন্ত্রনও করতে পারবে । কিন্তু সবসময় সবকিছু প্ল্যান অনুয়ায়ী হয় না । এখন এই এনিমের কাহিনী আগায় ভবিষ্যত নিয়ে যেখান এন্ড্রয়েড রোবট প্রাত্যহিক জীবনে সহজলভ্য ,এন্ড্রয়েড থেকে মানুষকে আলাদা করা যায় শুধু তাদের মাথার উপরকার হলোগ্রাফিক রিং দেখে । এদের মধ্যকার অজানা অনুভূতি নিয়েই এনিমের কাহিনী ।

Eve 1

এই এনিমের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে রিকোও সাকিসাকা । সে একজন মেধাবী ছাত্র এবং ট্যালেন্টেড পিয়ানোবাদক । কিন্তু এক অনুষ্ঠানে একটি রোবটের পিয়ানো বাজানো শুনে সে একই সাথে মুগ্দ্ধ এবং বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে । তার বাসায় অন্যসবার মতোও একটি এন্ড্রয়েড কাজ করে । এই এন্ড্রয়েড এর প্রত্যেকদিনকার কর্মকান্ড চেক করতে গিয়ে একদিন সে খাপছাড়া কিছু লক্ষ্য করে । একটি নির্দিষ্ট টাইমের জন্য তাদের স্যামি নামের এন্ড্রয়েড রোবটটি অনুপস্থিত ছিল এবং সে সময়কার জাগায় একটি অদ্ভুত কথা লেখা ” Are you enjoying the time of eve ? ,, এবং তার বন্দ্ধুকে নিয়ে খুজে বের করে এক ক্যাফে যার নাম ” Time of eve ,, এবং সেখানের নিয়ম হচ্ছে মানুষ এবং রোবটের মধ্যে পার্থক্য করা যাবে না । সেখানে গিয়ে সে আবিষ্কার করে যে রোবটদের মধ্যেও মনুষ্য আবেগ আছে এবং রোবোটিক্সের ৩ আইনের মধ্যকার কয়েকটি ফাকাফোকড় এর ফলে রোবটরাও মালিকের কাছ থেকে মিথ্যা বলে তথ্য গোপন রাখতে পারে ।রিকোও এটা প্রথমে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না । কেননা রিকোওর আশংকা রোবটরা মানুষকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যাবে । কিন্তু তা কি সত্যিই , নাকি রোবটরা শুধু চায় একটু স্নেহ , ভালবাসা পেতে ? কি হয় সামনে ?
এটি একটি অসাধারন সায়েন্স ফিকশন স্লাইস অফ লাইফ । এটার মাত্র ৬টি এপিসোড এবং একেকটি ১৫মিনিটের । এটাকে আবার মুভি হিসেবেও রিলিজ দেওয়া হয়েছে । এই এনিমের আর্ট এবং গ্রাফিক্স খুবই সুন্দর এবং বেশ ঠান্ডা ধরনের এনিমে । যদিও এন্ডিংটা কিছু প্রশ্ন রেখে যায় মনে ।সময় থাকলে এবং মাথা ঠান্ডা করা নরমাল কিছু দেখতে চাইলে শুরু করে দিন দেখা Time of Eve !
আমার রেটিং: 7/10

Eve 2

মাঙ্গা রিভিউ: A Bride’s Story — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আমার সাধারনত রোমান্স বা সেইনেন টাইপের মাঙ্গা বেশি ভালো লাগেনা । কিন্তু সব রোমান্স মাঙ্গাই যে একরকম নয় তা এই মাঙ্গা পড়ার পরে বুঝতে পেরেছি । হিস্টোরি , রোমান্স এবং স্লাইস অফ লাইফ এর অপূর্ব সংমিশ্রন এবং আরব বেদুঈনদের জীবন কাহিনী নিয়ে খুবই সুন্দর মাঙ্গা ।
এই মাঙ্গার কাহিনীর পটভূমি ১৮০০ শতকের শেষের দিককার । এই কাহিনীর মূল ক্যারেকটার হচ্ছে আমিরা হালগাল । সে একজন ২০ বছর বয়সী যাযাবর নারী এবং তার স্বামী কারলুক তার চেয়ে বয়সে ৮ বছরের ছোট । তখনকার যুগে এইজ ডিফারেন্স কোন ব্যাপার ছিল না । আমিরা এবং কারলুকের বিয়ের আগে কেউ কাউকে চিনতো না , এখন হয়তো অনেকে ভাবছেন তাদের মধ্যকার ঝামেলা নিয়ে কাহিনী , কিন্তু আসলে তা নয় । ২জনের কারও এইজ ডিফারেন্স নিয়ে মাথাব্যাথা নেই এবং তাদের মধ্যকার যে ভালবাসা তাতেও কোন খাদ নেই । আমির এবং কারলুক ও তাদের পরিবারের দৈনন্দিন জীবন নিয়েই এই কাহিনী । এর মধ্যে কিছু সাইড স্টোরি আছে এবং তাও যথেষ্ট সুন্দর ।

এই মাঙ্গার চোখে পড়ার মতো প্রথম জিনিস হলো আর্ট । অতিরিক্ত সুন্দর এবং ডিটেইলড আর্ট আপনার চোখকে মাঙ্গায় আঁটকে রাখবে । আরব ক্যালিগ্রাফী এবং ডিজাইন এলিমেন্টের সুন্দর ব্যাবহার মাঙ্গায় করা হয়েছে । এবং আরব বেদুঈনদের দৈনন্দিন জীবন যাপন সম্পর্কে রিয়েলস্টিক ধারনা পাবেন ।কিছু ইচি এলিমেন্ট আছে এবং ২একটা সাইড স্টোরি কিছুটা খাপ ছাড়া লেগেছে কিন্তু সবদিকদিয়ে মাঙ্গাটা আমার খুবই ভালো লেগেছে । যারা হাইস্কুল টিনএজার রোমান্স বা গতবাধা লাভস্টোরি পড়ে ক্লান্ত তারা অবশ্যই এই মাঙ্গাটা ট্রাই করে দেখবেন । তাহলে পড়তে শুরু করুন , চ্যাপ্টার ৫০টা বের হয়েছে এবং অনগোয়িং ।আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে ।

আমার রেটিং : ৮/১০a bride's story

এনিমে রিভিউ : Parasyte The Maxim — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

you guys do not notice
that we are gifted just
by being humans,
we are absolute predator
এনিমের ওপেনিং যদি এইরকম লাইন দিয়ে শুরু হয় তাহলে আপনা আপনিই এই এনিমে দেখার জন্য আপনার মন ছটফট করা শুরু করবে । এই ওপেনিং শুরুই হয়েছে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষনা দিয়ে । আমরা অন টপ অফ দা ফুড চেইন । এই নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই । কিন্তু সত্যিই কি আমরা শ্রেষ্ঠ ? এখন আমরা যদি পৃথিবীকে একটি জীবন্ত বস্তু বলে বিবেচনা করি তাহলে আমরা পৃথিবীর কাছে কি ? ভাইরাস , ব্যাকটেরিয়সহ আরও নানা ধরনের পরজীবি জীব কোন প্রাণীর শরীরে বাসা বাধে , বংশবৃদ্ধি করে লক্ষ লক্ষ হারে শরীরে ছড়িয়ে পরে এবং পোষকদেহকে রোগাক্রান্ত করে ফেলে । তাহলে দেখা যায় যে মানুষরাও একধরনের পরজীবিই । আমাদের পৃথিবীকে রোগাক্রান্ত করে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছি । কিন্তু প্রকৃতি কি প্রতিরোধ করবে না ?
এখন আসি এনিমের কাহিনীতে । প্যারাসাইটের মূল নায়ক ইজুমি শিনচি একজন হাইস্কুল স্টুডেন্ট । প্রত্যেকদিনের মতোই ঘুম থেকে উঠে স্কুলে গেলেন , কিন্তু খেয়াল হলো তার ডান হাত কিছুটা অবশ । তো অসুস্থ বোধ করে বাসায় ফেরার পথে চোখের সামনে দেখতে পেলেন একটি বাচ্চা গাড়ির নিচে চাপা পড়তে যাচ্ছে । কিছু বোঝার আগেই ইজুমি বাচ্চাটাকে আগলে ডান হাত দিয়ে গাড়ি থামিয়ে দিল এবং আবিষ্কার করল তার ডান হাত আসলে ডান হাত নেই । পরিনত হয়েছে আরেকটি জীবন্ত সত্ত্বায় । এই প্যারসিটিক সত্ত্বার নাম সে দিল মিগি যার অর্থ ডান হাত । এবং এই মিগির কাছ থেকে জানতে পারলো যে মিগির উদ্দেশ্য ছিল তার ব্রেইন দখল করা যা করতে মিগি ব্যার্থ হয়েছে এবং মিগি শুধু একলাই নয় , আরও প্যারাসাইট আছে যাদের জন্মমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ হত্যা । কে এই প্যারাসাইটদের পাঠিয়েছে ? এদের উদ্দেশ্য কি ? এরাই কি প্রকৃতির ডিফেন্স মেকানিজম । এবং শিনচির জীবনে কি নারকীয় কান্ড ঘটতে যাচ্ছে ? জানতে হলে দেখা শুরু করুন।

Parasyte 1
প্যারাসাইটের পর্ব সংখ্যা ২৪টি । এর ওপিনেং সং ই বলতে গেলে এর ৫০% আকর্ষন । পাঙ্ক মেটালকোর টাইপের ব্যান্ড Fear and lothin in lusvegas এর ট্র্যাক Let me hear গানটি একবারও কেটে যেতে পারবেন না বলে আমি মনে করি । আর্ট এবং গ্রাফিক্স খুবই সুন্দর । তবে কাহিনী শেষের দিকে কিছুটা ইনকম্প্লিট লেগেছে । এর সাইড ক্যারেকটারগুলোও আকর্ষনীয় যেমন : তামুরা রিওকো , কানা এবং গৌটো । এই সাইকোলজিকাল হরর আপনাকে নিরাশ করবে না বলে দিতে পারি ।
আমার রেটিং : 8/10
Op:

Parasyte 2