Girls und Panzer: Anime Review — ইমামুল কবির রিভু

Girls und Panzer
জনরা: মিলিটারি, স্কুল

স্টোরি: গার্লস উন্দ পানযারের কভারটা দেখলে অনেকেই ধারণা করতে পারেন হয়তো ললি দিয়ে ভরা সাধারণ কোন মোয়ে আনিমে। যদি তা ভেবে থাকুন, তাইলে বলব আপনার ধারণা কিছুটা ভুল । আনিমেটার কাহিনী মূলত ন্যাশনাল ট্যাঙ্কয়োন্দো চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরেই । বেশ সাধারণ কাহিনী, তবে বিস্ময়কর বিষয়গুলো হল ম্যাচের মাঝে মূল চরিত্রের ব্যবহার করা ট্যাকটিক্সগুলো । ম্যাচ যখন তাদের প্রতিকুলে তখন বেশ অসাধারণ ভাবে ম্যাচকে নিজেদের অনুকুলে নিয়ে আসার উপায়গুলো সত্যি অসাধারণ ছিল। আর বেশি কিছু বলব না, মাত্র ১২ পর্বের বেশ ভালো আনিমে আর বাকিটুকু আপনার দেখে নেওয়ার দায়িত্ব।

আর্ট: আনিমেটার আর্ট বেশ ভালোই । কিছু কিছু জায়গায় CG এফেক্টের কাজও ছিল, সাধারণত CG এফেক্ট একটুও ভাল্লাগে না । তবে আমার এই পর্যন্ত দেখা কোন আনিমের মধ্যে এই আনিমেটায় সবচেয়ে অসাধারণ CG এফেক্টের কাজ ছিল এই আনিমেতে । এই CG এফেক্টের ব্যবহারের জন্যই হয়তো এই ট্যাঙ্কগুলোর চলাচল নির্ভুলভাবে আনিমেটিতে তুলে ধরতে পেরেছে ।

gnp 1
সাউন্ড: আনিমেটার ওএসটি অত্যন্ত সুন্দর । ওপেনিং-এন্ডিংগুলাও বেশ ভালো । এন্ডিং-এর ‘Enter Enter MISSION!’ গানটা বেশ ভালো লেগেছে । এছাড়া ইন্সার্ট মিউজিকগুলাও অসম্ভব রকমের ভালো । আনিমেটায় ট্যাঙ্কের মাঝে লড়াইয়ের সময় যুদ্ধের থিম ব্যবহার করেছে, যা একেবারেই পরিস্থিতির সঙ্গে বেশ মানানসই ছিল । ইন্সার্ট মিউজিকের মধ্যে ‘কাৎয়ুশা’ (https://goo.gl/rH32AY) বেশ ভালো লেগেছিল । আর এই ভিডিওটি দেখার পর বলে দেওয়া লাগবে না যে ভুলেও আনিমেটির ইংরেজি ডাব্ড ভার্সন ধরতে না । আনিমেটার ভয়েস আক্টিং বেশ ভালো ছিল । বিশেষ করে কায়ানো আই, ইগুচি ইয়ূকা, কানেমোতো হিসাকো, তানাকা রিয়ে, নাবাতামে হিতোমি, কাওয়াসুমি আয়াকো, কিতামুরা এরি এদের কণ্ঠ-অভিনয় অসম্ভব রকমের ভালো ছিল আনিমেটিতে । এছাড়া আরও অনেক ভালো কণ্ঠ-অভিনেত্রীরাও আনিমেটিতে ছিল, যেমন ফুকুয়েন মিসাতো,আয়া হিরানো, উয়েসাকা সুমিরে, উয়েদা কানা । আকেসাকা সাতোমি, কোমাৎসু মিকাকো এবং ইসে মারিয়াও ছিল কিন্তু বেশ মাইনোর রোলে অবশ্য ।

চরিত্র: আনিমেটাতে অনেক রকমের চরিত্র ছিল । বিশেষ করে অনেক চরিত্র-ই দ্বীতিয় বিশ্ব যুদ্ধের রণ নায়কদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন । আনিমেটার ন্যাশনাল ট্যাঙ্কয়োন্দো চ্যাম্পিয়নশিপে একেক স্কুল একেক জাতিকেই প্রতিনিধিত্ব করেছেন, আপনি আনিমেটি দেখলে সহজেই বিষয়টি ধরতে পারবেন এবং কারা কোন জাতির প্রতিনিধি তাও বুঝতে পারবেন। ওয়ারাই গার্ল্স হাইস্কুলের চরিত্রদের মধ্যে বেশ ভালো রকমের ক্যারাক্টার ডেভেলপমেন্ট ঘটেছে, যদিও তা অন্য চরিত্রগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না অবশ্য তারা মূল চরিত্রও না । এত্তগুলো চরিত্রর মাধে কেউ কে না কেউ আপনার ভালো লাগবেই, আমার ব্যক্তিগত পছন্দ কাৎয়ুশা, নিশিযুমি মাহো এবং তাকেবে সাওরি এই তিনটি চরিত্র।

gnp 2

শেষে যা বলব, সবমিলিয়ে আনিমেটি বহুত উপভোগ করেছি । ট্যাঙ্ক ফাইটের মাঝে ব্যবহার করা ট্যাকটিক্সগুলো বেশ ভালো লেগেছিলও । প্রাভডা গার্ল্স হাইস্কুলের বিপক্ষে সেমি-ফাইনাল ম্যাচটা আমার মতে সেরা ম্যাচ ছিল । আনিমেটি দেখার সময় কেন জানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপর ভিত্তি করে কিছু ফার্স্ট পার্সন শুটিং গেমের ভাইব পেয়েছি, যদিও আনিমের আক্শনগুলো পুরোটাই ট্যাঙ্কের মধ্যে লড়াইয়ের উপর ভিত্তি করে । ম্যাচের টুইস্টগুলো দেখে অনেকটা আইশিল্ড ২১-এর কথাও মনে পরেছিল । আনিমেটায় অনেক শিক্ষণীয় জিনিশপত্র ছিল । ট্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন যুদ্ধ সম্পর্কে প্রচুর ধারণা পাবেন আনিমেটি দেখলে। আমার যেই বিষয়টি বিস্ময়কর লেগেছিল তা হল, এত দিন জানতাম পোর্শে একটি গাড়ির কোম্পানি কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে তারা অনেক ভয়ানক ট্যাঙ্কও তৈরি করেছে তা হয়তো এই আনিমেটি না দেখলে জানতামও না। ট্যাঙ্কয়োন্দো চ্যাম্পিয়নশিপের প্রত্যেকটি ম্যাচই অনেক প্রতিযোগিতামূলক ছিল । মাত্র ১২ পর্বের আনিমে কিন্তু অনেক ভালো । মিলিটারি জনরার কথা উঠলেই মানুষ সাধারণত কানতাই কালেকশনের কথা মাথায় আনে তবে বলতে পারবো যে কানতাই কালেকশন এবং স্ট্রাইক উইচেসের চেয়ে তুলনামূলক-ভাবে এই আনিমেটি বেশি ভালো । আনিমেটির ৩ টি পর্ব ধৈর্য ধরে দেখুন, যদি ভালো লেগে যায় তাইলে বলতে পারবো এক টানে শেষ না করে উঠতে পারবেন না । আর ট্যাঙ্কয়োন্দো যদি ভালো লেগে থাকে তাইলে ওভিএটিও দেখতে পারুন ওইখানেও আরেকটি স্কুলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আছে আর একটি সিকুয়েল মুভিও আছে আনিমেটির কিন্তু মুভিটির সাব এখনও বাইর হয় নি। যাই হোক, আশা করি সময় নিয়ে আনিমেটি দেখবেন এবং হয়তো ভালোও লাগবে।

Behind the Voices – 07

আজকের সেগমেন্ট শুরু করার আগে বলে নেই, আজ যে দুইজনকে নিয়ে লেখছি তাদের দুজনের-ই আজকে জন্মদিন । 


তাৎসুহিসা সুযুকি

তাৎসুহিসা সুযুকি একজন অসাধারণ কণ্ঠ-অভিনেতা, তার কণ্ঠটা শুনতে বেশ ভালো লাগে এবং চরিত্রগুলো ভালোভাবে তুলে ধরতে পারেন । তবে আমার কাছে একজন কণ্ঠ অভিনেতার চেয়ে তাকে একজন গায়ক হিসেবেই তুলনামূলক বেশি ভালো লাগে । OLDCODEX এই ব্যান্ডটার সাথে আপনারা সকলেই কম-বেশি পরিচিত এবং হয়তো এটাও জানেন যে তিনি কিন্তু এই ব্যান্ডের লিড ভোকাল ।

তার যে সকল রোলগুলো ভালো লেগেছে সেগুলো হল ‘Baka to Test’ আনিমের ইয়ূজি, ‘Tonari no Kaibutsu-kun’ আনিমের হারু, ‘Free!’ আনিমেটির মাকোতো, ‘Sora no Otoshimono’ আনিমেটির সুগাতা এইশিরো, ‘Servant x Service’ আনিমেটির হাসেবে, ‘Owari no Seraph’ আনিমেটির হীরাগি শিনইয়া এবং ‘Kuroko no Basket’ আনিমেটির তাকাও । তার আরও অনেক অসাধারণ সব রোল আছে । এখানে http://goo.gl/XYXbAv গিয়ে দেখে নিতে পারুন তার সব রোলগুলো ।

tatsuhisa suzuki 1

তার গায়ক হিসেবে খ্যাতি আছে ভালোই, জিনিশটা প্রথম লাইনেই বলে দেওয়া হয়েছে । OLDCODEX আমার দেখা অন্যতম অসাধারণ ব্যান্ডগুলার একটা । এই পর্যন্ত তাদের ৩টি অ্যালবাম এবং ১১টি সিঙ্গেল্স বের হয়েছে । এছাড়া ‘God Eater’, ‘Kuroko no Basket’, ‘Free’, ‘Arata Kangatari’ এই আনিমেগুলোর ওএসটিতে তাদের গান আছে । ব্যান্ডটির যে কয়টি গান শুনেছি প্রায় সব-ই ভালো লেগেছে । এর মধ্য থেকেও প্রিয় গানগুলো হল ‘WALK’ ( https://goo.gl/Vnqgww ), ‘Catal Rhythm’ ( https://goo.gl/glrTft), ‘Lantana’ ( https://goo.gl/AbVIxb ) যা যথাক্রমে কুরোকো নো বাস্কেটের ১ম সিজনের ২য়, ২য় সিজনের ১ম এবং ৩য় সিজনের শেষ এন্ডিং । সুধু তাই নয় ফ্রি আনিমেটির দুটি ওপেনিং ‘Rage On’ (https://goo.gl/tDelQ1 ) এবং ‘Dried up Youth Flame’ ( https://goo.gl/NGtY0O ) এই দুটি গানও আমার বেশ প্রিয় এবং তাদের-ই গাওয়া । আমার মতে তাদের গানগুলো স্পোর্টস আনিমে অথবা কোন বেশ হার্ডকোর অ্যাকশন আনিমের সাথে বেশ মানায় । এই ব্যান্ডটির অন্য মেম্বাররা হল YORKE, রিয়ো ইয়ামাগাতা, তাইযো নাকামুরা, শিন্জি ঔমুরা । সাবেক মেম্বাররা হল ইয়োশিরো নাকাও, হিরোমিৎসু কাওয়াশিমা, Sae, YoHsKe, R.O.N ।

সে আনিমেতে প্রথম রোল পান ২০০৩ সালে এবং এখন পর্যন্ত খুব অসাধারণ কণ্ঠ-অভিনয় করে যাচ্ছেন । আশা করি সামনেও আরও অনেক ভালো রোল পাবেন ।

tatsuhisa suzuki 2

কোমাৎসু মিকাকো

কোমাৎসু মিকাকো আমার দেখা ভালো কণ্ঠ অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন এবং আমার মতে ইনৌয়ে মারিনার পর হয়তো সে-ই সবচেয়ে ভালো টমবয়িশ চরিত্রগুলার রোল সুন্দর করে তুলে ধরতে পারেন । তার কণ্ঠটা একটু উঁচু-পর্দার হলেও তার কণ্ঠ-অভিনয় শোনার সময় এই স্বরটি বেশ ভালো লাগে ।

মাত্র ২০১০ সালে অভিষেক করে এই ৫ বছরের মধ্যে ভালো পরিমাণ রোল পেয়েছেন তিনি । তার যে রোলগুলো খুব ভালো লেগেছে সেগুলো হল ‘K-Project’-এর নেকো, ‘Nisekoi’-এর সুগুমি সেইশিরো, ‘Aldnoah.Zero’-ইঙ্কো, ‘Aoharu x Kikanjuu’-এর তাচিবানা হোতারু, ‘Oregairu’-তোৎসুকা সাইকা :3 । এরপরের সিজনের বেশ হাইপ্ড আনিমে ‘Ajin’ আনিমেটির শিমোমুরা ইযুমি চরিত্রটির কণ্ঠ দিবেন তিনি। তার আরও অনেক রোল আছে । এখানে গিয়ে এক নজরে দেখে নিতে পারেন তার সব রোলগুলোhttp://goo.gl/XYrR43 । সে Dragon Quest:Heroes, Kantai Collection (গেমটির নতুন দুটি চরিত্র), Tales of Zestiria এই গেমগুলোতেও কণ্ঠ দিয়েছেন ।

তার গানগুলাও বেশ ভালো কেননা তিনি একসময় আইডোল-ও ছিলেন । K-Project, Kamisama no Inai Nichiyoubi, Aoharu x Kikanjuu, Nisekoi, Mouretsu Pirates, Senki Zesshou Symphogear এই সব আনিমেগুলার ওএসটিতে তার কাজ আছে । তার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে আমার পছন্দের গানগুলো হল ‘Trick Box’ (https://goo.gl/nGbQRx) এবং ‘Tsumetai Heya, Hitori’ (https://goo.gl/oCWLSW) এগুলো যথাক্রমে Nisekoi-এর পঞ্চম এন্ডিং এবং K-Project-এর প্রথম এন্ডিং ।

একজন কণ্ঠ অভিনেত্রীর পাশাপাশি তিনি একজন অভিনেত্রীও। তার ভবিষ্যৎে অন্যতম সেরা কণ্ঠ-অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন হয়ে ওঠার প্রতিভা আছে, তাই সে সামনে আরও রোল পাবো এটাই আশা করি ।

 

কোমাৎসু মিকাকো

Behind the Voices – 06

শিমোনো হিরো

শিমোনো হিরো আমার দেখা অসাধারণ কণ্ঠ-অভিনেতাদের মধ্যে একজন। তার কণ্ঠটা বেশ বিরল এবং তিনি বেশিরভাগ সময় কিশোর বয়সী চরিত্রদের কণ্ঠ দিয়ে থাকেন । আর তিনি তার চরিত্রগুলোকে এমনভাবে কণ্ঠ দেন যে অন্য কারও কণ্ঠে চরিত্রগুলোকে কল্পনা করা যায় না।

তার অনেক ভালো ভালো রোল আছে । তবে সেগুলোর মধ্যে আমার বেশ পছন্দের হল ‘Kami nomi zo Shiru Sekai’ আনিমেটির কেইমা কাৎসুরাগি চরিত্রটি, এই চরিত্রটির ক্ষেত্রে সে যে অসাধারণভাবে কণ্ঠ-অভিনয় করেছেন আমার মতে অন্য কারও কণ্ঠ-অভিনয়ের সাথে হয়তো বা চরিত্রটিকে এত ভালো লাগতো না । আরও আছে ‘SKET Dance’ সুবাকি সাস্কে চরিত্রটি, এর ক্ষেত্রে খুব অসাধারণভাবে গম্ভীর স্বরে কণ্ঠ-অভিনয় করেছেন তিনি বিশেষ করে চরিত্রটির বারবার ‘ওরোকামোনো’ বলার ধরণটা বেশ মজা লেগেছে । আরও পছন্দের রোলগুলো হল ‘Baka to Test’-এর আকিহিসা, ‘Senyuu’-এর আলবা, ‘Unbreakable Machine Doll’-এর রাইশিন, ‘Binbougami ga’-এর ইনুগামি, ‘Ace of Diamond’-এর কাওয়াকামি এবং ‘Tonari no Seki-kun’-এর সেকি-কুন ( যদিও চরিত্রটাকে পুরা সিরিজের মধ্যে একটুও কথা বলতে দেখি নাই ) । এই বছরও কিছু নতুন রোল পেয়েছেন তিনি, যেমন দুরারারার দ্বিতীয় সিজনের আওবা নামক নতুন চরিত্রটি। http://goo.gl/Fih7AV এখানে যেয়ে এক নজরে দেখেনিন তার আনিমে এবং গেম্সের সব চরিত্রগুলো ।

শিমোনো হিরো 1

তার জন্ম ২১ এপ্রিল, ১৯৮০ এবং ২০০২ সালে তিনি তার প্রথম রোল পান ‘RahXephon’ আনিমেটির কামিনা আয়াতো চরিত্র হিসেবে । তার কন্ঠ-অভিনয় নিঃসন্দহে অনেক সুন্দর । তাই সামনেও তিনি আরও কিছু ভালো ভালো রোল পাবেন এটা ধরে নেওয়াটাই স্বাভাবিক।

শিমোনো হিরো 2

নাযুকা কাওরি

আমার দেখা সবচেয়ে নরম এবং শ্রুতিমধুর কণ্ঠওয়ালা কণ্ঠ অভিনেত্রী নাযুকা কাওরি । সে শুধু একটি সুন্দর কণ্ঠেরই অধিকারী নয়, একজন অসাধারণ দক্ষ কণ্ঠ অভিনেত্রীও ।

তার পেশাগত জীবনে অনেক চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি, বলতে গেলে ৯০% কণ্ঠ অভিনেত্রীদের তুলনায় তার চরিত্রের পরিমাণ বেশি । শুধু তাই নয়, তার করা মূল চরিত্রের সংখ্যা পার্শ্বচরিত্রের চেয়ে বেশি । তার কণ্ঠ দেওয়া পছন্দের রোলগুলো হল ‘Eureka 7’-এর এউরেকা, ‘Soul Eater’-এর সুবাকি, ‘The World God Only Knows’-এর তেন্রি, ‘Kampfer’-এর সাঙ্গোউ শিযুকু, ‘Akame ga Kill’-এর চেলসি, ‘Fullmetal Alchemist Brotherhood’-এর মারিয়া রস, ‘To Love Ru’-এর কোতেগাওয়া ইউই, ‘Haikyuu’-এর কিয়োকো এবং ‘Code Geass’-এর নানালি । এছাড়া তার আরও অনেক রোল আছে বিভিন্ন আনিমে এবং গেমে, সেই রোলগুলো সব এক নজরে এই লিঙ্কে http://goo.gl/SKwl0S গিয়ে দেখে আসতে পারুন ।

 

নাযুকা কাওরি 1

তার জন্ম ২৪ এপ্রিল, ১৯৮৫ এবং আনিমেতে প্রথম রোল পান ১৯৯৯ সালে । তিনি ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিবাহিত হন এবং তার একটি কন্যাও আছে । সেই ছোটবেলা থেকে অসাধারণ কণ্ঠ-অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি এবং সামনে তিনি আরও ভালো রোল পাবেন এটা আশা রইলো ।

নাযুকা কাওরি 2

Behind the Voices – 05

জুন ফুকুয়ামা

একজন মানুষ সাধারণত এক ধাঁচের কণ্ঠেই কথা বলে অভ্যস্ত। খুব কম মানুষই একাধিক স্বরে কথা বলতে পারে, এমনকি দক্ষ কণ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যেও হাতে গোনা কয়েকজন এই কাজটা পারে। জুন ফুকুয়ামা হলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি একাধিক স্বরে নির্ভুলভাবে কণ্ঠ অভিনয় করে যেতে পারেন। এমনকি একটি আনিমেতে ভিন্ন স্বরের একাধিক চরিত্রকে অসাধারণ ভাবে তুলে ধরার নমুনাও আছে; উদাহরণ: আমাগি ব্রিলিয়ান্ট পার্ক, ব্লিচ ।

জুন ফুকুয়ামা এখন পর্যন্ত অনেকগুলো চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয় করেছেন, যার মাঝে এমন সব চরিত্রও আছে যার সাথে তারআরেকটি কণ্ঠ দেওয়া চরিত্রের কণ্ঠের মধ্যে মিল পাবেন না। এমনকি নিজে থেকেই প্রশ্ন করবেন ” আরে, এই দুইটা চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছে একই মানুষ, কেমনে কি ?”। এছাড়া সে যে কত সহজ ভাবে কণ্ঠ বদলাতে পারে সেটার এক নমুনা দেখুন এই ভিডিওটিতে https://goo.gl/mN9uxM

যাই হোক, আমার দেখা জুন ফুকুয়ামার সেরা রোল হল xxxHOLiC-এর ওয়াতানুকি কিমিহিরো এবং নুরারিহিয়োন নো মাগোর রিকুও চরিত্র দুটি । তার আরও অনেক চরিত্র আমার কাছে ভালো লেগেছে তবে এই দুইটা চরিত্রকে সেরার তালিকায় রাখার মূল কারণ হল এই দুইটি চরিত্র আমার মতে জুন ফুকুয়ামা ছাড়া আর কেউ মনে হয় এত অসাধারণ ভাবে তুলে ধরতে পারতো না । হাইস্কুলের চঞ্চল ওয়াতানুকি এবং প্রাপ্ত বয়স্ক ওয়াতানুকি; তারপর সাধারণ রিকুয়ো এবং ইয়োকাই রিকুয়ো। শুধু তাই নয়, আনসাৎসু কিয়োশিৎসুর কোরো সেনসেই, তেগামি বাচির গশে, কোড গিয়াসের লেলুশ প্রত্যেকটা চরিত্রের কণ্ঠে তফাৎ ছিল কিন্তু সবাইকেই ত্রুটিহীন ভাবেই জুন ফুকুয়ামা তুলে ধরেছেন। এই চরিত্র বাদেও তার অনেক চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয় আমার ভালো লেগেছে, যেমন ওয়ার্কিং-এর তাকানাশি, ব্লিচের ইয়ুমিচিকা, চুনিবিওর ইয়ূতা, কুরোকো নো বাস্কেটের হানামিয়া মাকোতো, দুরারারার শিনরা, ব্লু এক্সোরসিস্টের ইউকিও, বুসৌ রেঙ্কিনের কাযুকি, কে-প্রজেক্টের ইয়াতা এবং আরও অনেক । তবে সে যে সব চরিত্রেই অসাধারণ কণ্ঠ অভিনয় করেন এই বিষয়ে আমি ঠিক একমত না কারণ স্পাইস এন্ড উল্ফ আনিমেটিতে আমার মতে তার লরেন্স চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয়টি ঠিক তেমন ভালো ছিল না, তার বদলে অন্য কেউ হয়তো আরও সুন্দর করে চরিত্রটিকে তুলে ধরতে পারতো। তার এতোগুলো চরিত্র সব এক নজরে দেখে নিতে পারেন।

জুন ফুকুয়ামা 1

আনিমের ওএসটিতেও তার অনেক কাজ রয়েছে। বিভিন্ন আনিমের ওপেনিং এবং এন্ডিং তার গাওয়া আছে । তার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে আমার ব্যক্তিগতভাবে প্রিয় ‘Wild Crow'( https://goo.gl/gCiH2y ), ‘Dedicate’ (https://goo.gl/BGJWQ0 ), ‘Regeneration’ ( https://goo.gl/NB9WdJ ) যেটা লেলুশের ক্যারেক্টার সং । এছাড়া তার গাওয়া ‘ Bamboo☆Scramble’ ( https://goo.gl/eHZmK0 ) গানটা বেশ মজা লাগে । তার ৪ টা এলবাম রিলিজ আছে, সেই গানগুলোও সুন্দর, শুনে দেখতে পারেন।

তার জন্ম ২৬ নভেম্বর, ১৯৭৮ । ১৯৯৬ সালে তার অভিষেক । একজন কণ্ঠ অভিনেতা এবং গায়ক হিসেবে তিনি নিঃসন্দেহে সফল। 1st Seiyuu Awards-এ তিনি ‘Best Voice Actor’ খেতাবটা অর্জন করেছিলেন লেলুশ ভি ব্রিটানিয়া চরিত্রটির জন্য। এখনো তিনি অনেক চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয় করে যাচ্ছেন এবং সামনেও তা করবেন এই আশা রইলো। আমার মতে তাকে কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে কিংবদন্তী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিৎ ।

জুন ফুকুয়ামা 2

কোশিমিযু আমি

আমার সবচেয়ে প্রিয় কণ্ঠ অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন কোশিমিযু আমি। প্রায় সব ধাঁচের চরিত্র সে অনেক সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারেন তিনি ।

তার কণ্ঠ-অভিনয় করা চরিত্রগুলো আমার বরাবর-ই ভালো লাগে । তবে যে রোলগুলো সবচেয়ে ভালো লেগেছে সেগুলো হল স্কুল রাম্বলের সুকামোতো তেনমা কারণ চরিত্রটির কণ্ঠ খুব-ই কিউট লেগেছে আমার কাছে, পার্সোনা ৪-এর আমাগি ইউকিকো, এউরেকা ৭-এর আনেমোনে, কোড গিয়াসের কালেন, তেগামি বাচির আরিয়া লিঙ্ক, কিল লা কিলের মাতোই রিউকো, মাওয়ূ মাওউ ইয়ূশার মাওউ, স্পাইস অ্যান্ড উল্ফের হোলো এবং A certain scientific railgun S-এর মুগিনো শিযুরি। এছাড়া আরও যেই চরিত্রগুলো ভালো লেগেছে সেগুলো হল ওরেগাইরুর কাওয়াসাকি সাকি, কামি নোমি দ্বিতীয় সিজনের কাসুগা সেনপাই, ব্লাড +-এর মাও, ওমামোরি হিমারির হিমারি, ব্লাক বুলেটের শিবা মিওরি, D-Frag!-এর মিনামি সেনসেই Dog Days-এর লিওনমিশেল্লি, মারিয়া-সামা গা মিতেইরুর কানাকো । তার কণ্ঠ-অভিনয় অনেক ভালো কিন্তু কেন জানি এই বছর সহ বিগত কয়েক বছর ধরেই তিনি পার্শ্বচরিত্র-এর রোল পেয়ে যাচ্ছে । এছাড়া তার অনেক গেমে জাপানি ডাব-এ অনেক ভালো রোল আছে। এই লিঙ্কে  http://goo.gl/JbcHBj যেয়ে এক নজরে দেখে নিতে পারেন তার আনিমে এবং গেমের সব রোলগুলো ।

আনিমের ওএসটিতেও তার কাজ আছে। মাই-ওতোমে, স্কুল রাম্বল, ওমামোরি হিমারি, স্ট্রাইক উইচেস এই আনিমেগুলার এন্ডিং এবং লেডিস ভার্সাস বাটলার আনিমেটির ওপেনিং-এ তার কণ্ঠ আছে। তার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে আমার ‘Hari no Sora'( https://goo.gl/e1mrfY ) গানটা বেশ প্রিয়।

তার জন্ম ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ এবং তার কণ্ঠ-অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক ২০০৩ সালে । তিনি 1st seiyuu awards-এ ‘Best Actress in supporting roles’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তার কণ্ঠ-অভিনয় অনেক বেশি ভালো তাই আশা করি সামনে সে আরও অনেক আনিমেতে ভালো রোল পাবে।

কোশিমিযু আমি 1

 

ওহ! আর এই দুইজনের আনিমেতে অনেকগুলা কাপলের রোল আছে। কাপলগুলো হল তেগামি বাচির গশে x আরিয়া, স্পাইস এন্ড উল্ফের লরেন্স x হোলো, মাওয়ূ মাওউ ইয়ূশার ইয়ূশা x মাওউ।

কোশিমিযু আমি 2

Behind the Voices – 04

আজকের সেগমেন্টটা বলতে পারেন একটু স্পেশাল। কারণ আজকে যে দুইজনকে নিয়ে লেখছি তারা বাস্তব জীবনেও বিবাহিত দম্পতি। আনিমে জগতে তাদের দুজনের কণ্ঠ দেওয়া এমন কাপল হল কারা নো কিয়োকাই মুভি সিরিজের মিকিয়াxশিকি । যাই হোক, আজকের সেগমেন্টটি পড়ে দেখুন এবং কোন মতামত থাকলে প্রকাশ করুন।

btv 1

সুযুমুরা কেনিচি

এক অনন্য কণ্ঠ নিয়ে খুব অসাধারণ কণ্ঠ অভিনয় করেন যারা তাদের মধ্যে সুযুমুরা কেনিচি একজন। আমার প্রিয় কণ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যেও তিনি একজন। তিনি সাধারণত দর্শকের নজরে পরে এবং তাদের প্রিয়ও হয়ে উঠে এমন সব চরিত্রের কণ্ঠ দেন। কারণ এক অনন্য চরিত্রের সাথে তো আর সাধারণ কণ্ঠ মানায় না।

আমার কাছে তার যে চরিত্রগুলো ভালো লেগেছে তা হল ডি.গ্রে ম্যানের লাভি, কারা নো কিয়োকাই মুভি সিরিজের মিকিয়া, কুরোকো নো বাস্কেটের মুরাসাকিবারা, প্রিজন স্কুলের শিঙ্গো, ম্যাজাই-এর কা কৌবুন এবং ঔরান হাইস্কুল হোস্ট ক্লাবের হিকারু( যদিও চরিত্রটার কিছু সমস্যা আছে :v ) । তার আরো অনেক অসাধারণ রোল আছে তা তো নিঃসন্দেহে বলা যায়। এছাড়া তার পোকেমন, ডিজিমন, বেইব্লেডেও রোল ছিল, মূখ্য কোন চরিত্র না অবশ্য । সাধারণত তার কণ্ঠ আমাদের বাচ্চাকালেই শুনার কথা কিন্তু দঃখের বিষয়, এই আনিমেগুলোতো আমরা ইংরেজি ডাব্ড দেখেছি ।

kenichi suzumura

তার গাওয়া গানগুলাও অসাধারণ। বিশেষ করে শিরোই কারাসু (https://goo.gl/XQk3y2 এইটা কিন্তু কোড ব্রেকারএ এন্ডিং ) এবং মেসেন্জার ( https://goo.gl/5Atsyy ) এই দুইটা গান আমার খুব প্রিয়। এছাড়া তার আসুনারো ( https://goo.gl/YnnqL6 ) এবং ইন্টেনশন( https://goo.gl/2r8DmH ) এই দুইটা গানও আমার অনেক ভালো লাগে। তার আরও অনেক ভালো গান আছে শুনে দেখতে পারেন।

১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে তার জন্ম। কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তার অভিষেক ১৯৯৪ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে। এই বছরও অনেক ভালো রোল পেয়েছেন তিনি আর আসা করি সামনেও পাবে।

kenichi suzumura 2

সাকামোতো মায়া

দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্র তুলে ধরতে পারেন এমন কণ্ঠ অভিনেত্রী, এই ক্ষেত্রে আমার মতে যাকে শ্রেষ্ঠ বলা উচিৎ তিনি হলেন সাকামোতো মায়া। তিনি সুধু একজন অসাধারণ কণ্ঠ অভিনেত্রী না সাথে দক্ষ গায়িকাও।

আমার দেখা তার যে রোলগুলো খুব ভালো লেগেছে তা হল কারা নো কিয়োকাই ফ্র্যানচাইজের রিয়োগি শিকি, মোনোগাতারি সিরিজের শিনোবু, ঔরান হাইস্কুল হোস্ট ক্লাবের ফুজিওকা হারুহি, কুরোশিৎসুজির সিয়েল ফ্যান্টোমহাইভ, সোউল ইটারের ক্রোনা, ম্যাজাই-এর শেহেরযাদে এবং আর্স্লান সেঙ্কির ফারাঙ্গিস। এছাড়াও তার আরও অনেক ভালো রোল আছে ।

maaya sakamoto 1

আনিমের ওএসটিতেও তার কাজ আছে। তামায়ুরা, গোস্ট ইন দ্যা শেল: অ্যারাইজ অল্টারনেটিভ আর্কিটেকচার, সোরেদেমো মাচি ওয়া মাওয়াত্তেইরু এই আনিমেগুলার ওপেনিং এবং এই সিজনের নতুন আনিমে গাকুয়েন তোশি আস্টেরিস্কের একটি এন্ডিং তার গাওয়া। এছাড়া সাধারণত তার গাওয়া গানগুলাও আমার খুব ভালো লাগে। এর মধ্যে আছে ‘Melt the snow in me'( https://goo.gl/WTXnR3 ), আই সুরু কোতো ( https://goo.gl/JsXg92 ), ‘Gravity’ ( https://goo.gl/7c58f4 ) এবং ‘Platinum’ (https://goo.gl/SrwE6T ) । জাপানির পাশাপাশি ভালো পরিমাণ ইংরেজি গান তার আছে এবং তার ইংরেজি গানগুলো সুদ্ধ উচ্চারণ-ভঙ্গিতেই গাওয়া ।

যেখানে সাধারণ কণ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিষেক ঘটে ১৮-২১ বছর বয়সে সেই তুলনায় তার কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে অভিষেক মাত্র ১২ বছর বয়সে । ১৯৮০ সালের ৩১ মার্চ তার জন্ম। অনেক দক্ষ একজন কণ্ঠ অভিনেত্রী তিনি, আশা করি সামনে তার আরও ভালো রোল পাবো।

maaya sakamoto 2

Behind the Voices – 03

তোশিয়ুকি মোরিকাওয়া

ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্র কম বেশি সবার-ই ভালো লাগে আর এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্রের আকর্ষণীয় দিকগুলার একটি হল তার কণ্ঠ। এই সকল চরিত্রের ক্ষেত্রে সেরা কণ্ঠ দিতে পারেন এমন একজন হল তোশিয়ুকি মোরিকাওয়া। অনেক অসাধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি, এর মধ্যে বলতে পারেন আনিমে জগত-এর দুই জনপ্রিয় শৌনেন হিরো নারুতো উজুমাকি এবং কুরোসাকি ইচিগোর পিতা মিনাতো এবং ইশ্শিন এই দুইটি চরিত্র।

তিনি অনেক ভালো লাগার মত চরিত্রের কণ্ঠ অভিনেতা এবং আমার কাছে তার যে সকল রোল ভালো লেগেছে তা হল ইনু ইয়াশার নারাকু, ডি.গ্রে-ম্যানের টিকি মিক, নারুতোর মিনাতো এবং কিমিমারো, ব্লিচে তৌসেন এবং ইশ্শিন, বার্যার্কের গ্রিফ্ফিথ ( অবশ্য মুভিগুলোতে তিনি চরিত্রটির কণ্ঠ-অভিনেতা ছিলেন না ), ব্ল্যাক ল্যাগুনের চ্যাঙ, সেঙ্গোকু বাসারার কৌজিরো। এছাড়া দেখতেই পাচ্ছেন আরও কত চরিত্রের কণ্ঠ তিনি দিয়েছেন।

তোশিয়ুকি মোরিকাওয়া

তার আনিমে ওএসটিতে তুলনামুলকভাবে কম কাজ আছে। এছাড়া তার সফলতা সুধু আনিমের চরিত্রের মধ্য দিয়েই নয় বরং গেম এবং হলিউড মুভির জাপানি ডাব-এও তার বড় রোল আছে।

তার জন্ম ১৯৬৭ সালের ২৬ জানুয়ারি। সে Axl One এই সেইয়ূ অ্যাজেন্সীর প্রতিষ্ঠাতা, এই অ্যাজেন্সির অংশ জুন ফুকুয়ামা, সাতোশি হিনো, নোরিয়াকি সুগিয়ামা, তাচিবানা শিন্নোসকে, নাকামুরা চিয়ে, কোশিমিজু আমি এদের মত নামকরা কণ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রী । শুধু তাই নয় তিনি সেকি তোমোকাজু, কোনিশি কাৎসুইয়ুকি এবং হিরাকাওয়া দাইসকে এই ৩ জন দক্ষ কণ্ঠ-অভিনেতাদের পর্যন্ত প্রশিক্ষন দিয়েছেন। ১৯৯২ সালে তার অভিষেক এবং আজকে সফল কণ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যে তিনি একজন।

তোশিয়ুকি মোরিকাওয়া 2

আসুমি কানা
 
আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক ব্যাতিক্রম কণ্ঠের অধিকারী কণ্ঠ অভিনেত্রী আছে,যাদের রোলও অনেক কিন্তু জনপ্রিয়তা কম। তাদের মধ্যে একজন আসুমি কানা। এক অনন্য কণ্ঠ দিয়ে অনেক অসধারণ চরিত্রদের তুলে ধরায় সক্ষম তিনি। তার কণ্ঠটা বেশ প্রাণবন্ত এবং সাধারণ মোএ আনিমের চরিত্রগুলার জন্য মানানসই। তবে কিছু সিরিয়াস চরিত্র সে অনেক ভালো ভাবেও তুলে ধরেছেন।
তার যে সকল রোল আমার কাছে খুব অসাধারণ লেগেছে তা ওয়ার্কিং-এর তানেশিমা পোপুরা, নিসেকোই-এর তাচিবানা মারিকা, কামি নোমি যো শিরু সেকাইয়ের চিহিরো এবং হানামোনোগাতারির নুমাচি রিয়োকা। তার আরো কিছু রোল অনেক ভালো লেগেছে সেগুলা হল মেকাকুসিটি অ্যাক্টর্সের এনে, হাইয়োরে নিয়ারুকো-সানের নিয়ারুকো, গুরেন লাগানের কিয়াল, ইয়ামা নো সুসুমেতে হিনাতা, মেইড সামার হোনোকা, ক্যাম্পফারের মিকোতো, নুরারিহিয়নের মাকি, রিয়ুগাজৌ নানানা নো মাইযৌকিনের ইক্কিউ তেনসাই এবং আরো অনেকে। তার আরো অনেক ভালো রোল আছে,যার মাঝে আপনার কোন পছন্দের চরিত্রকেও পেতে পারেন ।
আসুমি কানা 1
আনিমের ওএসটিতেও তার কাজ আছে। ওয়ার্কিং, হাইয়োরে নিয়ারুকো-সান, নিসেকোই, কামি নোমি যো শিরু সেকাই, বুসৌ শিঙ্কি, হিদামারি স্কেচ এই আনিমেগুলার ওপেনিং-এন্ডিং এ তার কাজ আছে। এছাড়া কামি নোমির তৃতীয় সিজন মেগামি আর্কের শেষে স্কুল ফেস্টের শেষে চিহিরো তার ব্যান্ডের সাথে গায়,’হাজিমেতে কোই য়ো শিতা কিয়োকু’ এই গানটা আমার বেশ ভালো লেগেছে (https://goo.gl/KkZg0j) ।
আগস্ট ১২,১৯৮৩ সালে তার জন্ম। সবার কাছে কানা আসুমি হিসেবে পরিচিত হলেও জন্মগত নাম কানা হারাদা। তিনি বিবাহিত এবং বিয়ে করেছেন জানুয়ারি,২০১৪ সালে। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম সেইয়ূ অ্যাওয়ার্ডসে তিনি ‘Best Lead Actress’ খেতাব জিতেছিলেন। তার কণ্ঠ অভিনয় আমার বরাবর-ই ভালো লাগে এবং চাই যাতে সামনেও সে আরো ভালো ভালো চরিত্র পাবেন।
আসুমি কানা 2

Behind the Voices – 02

কিমুরা রিয়োহেই
যে কোন অবস্থায় চরিত্রের ঠিক সেই অবস্থার মুডটি নির্ভুলভাবে তুলে ধরার দক্ষতা খুব কম মানুষের-ই থাকে,এমনকি হাতে-গোনা কয়েকজন দক্ষ কণ্ঠ-অভিনেতা বাদে আর কেউ-ই এতো সুন্দরভাবে কাজটি উপস্থাপন করতে পারে না। তবে এই বিষয়ে সবচেয়ে সেরা যিনি সে হল কিমুরা রিয়োহেই। সাধারণত হাসি-খুশি,উচ্ছল কিন্তু সিরিয়াস মোমেন্টে দৃঢ় এই সকল চরিত্র কণ্ঠ দিয়ে প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন তিনি। তবে আরও নানা রকম ব্যক্তিত্বের চরিত্র কণ্ঠ-অভিনয় নির্ভুলভাবে তুলে ধরার সুনাম আছে তার।

আমার দেখা তার সেরা চরিত্র হল কুরোকো নো বাস্কেটের কিসে রিয়োতা, এডেন অফ দ্যা ইস্টের তাকিযাওয়া আকিরা,মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রামের তাকাকুরা শৌমা, হাগানাই-এর হাসেগাওয়া কোদাকা এবং গেক্কান শোজো নোযাকি-কুন আনিমেটির ওয়াকামাৎসু। আরও যে সকল চরিত্র আমার ভালো লেগেছে তা হল কাকুমেইকি ভাল্ভরেভের এল-এল্ফ, সাইকো পাস ২য় সিজনের কামুই কিরিতো, টকিয়ো রাভেন্সের তৌজি, ম্যাজাই-এর জুদাল, সাঙ্কারেয়া-এর ফুরুয়া চিহিরো অ্যান্জেল বিট্সের হিনাতা, ব্লাড ল্যাড-এর ব্র্যায ডি.ব্লাড, কুরোশিৎসুজি: বুক অফ মার্ডারের চার্লেস গ্রে এবং নাৎসুমে ইয়ুজিনচৌ-এর একটি ছোট্ট চরিত্র নিশিমুরা। আরও যে সকল রোল আছে তার তা হল গিন নো সাজির হাচিকেন, কিমি তো বকু-এর আসাবা ইয়ুকি, কামিসামা ডল্স-এর কুগা আকি, রোবোটিক নোট্সের ইয়াশিও কাইতো, সাকামিচি নো আপ্যোলোনের নিশিমি কাওরু।

তার ইনসার্ট সং এবং ক্যারাক্টার সং-এও অসাধারণ কাজের নমুনা আছে। এর মধ্যে যা যা ভালো লেগেছে তা হল ‘FLOWER’ গানটা,যেটা হাগানাই আনিমেটিতে ইনসার্ট সং হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং জুদাল চরিত্রটির ক্যারাক্টার সং ‘Black Sun(কুরোই তাইয়ো)’ গানটি। এই দুইটি গান শুনে দেখতে পারেন https://goo.gl/5k6bi6 এবং https://goo.gl/96GJwp এই দুইটি লিঙ্কে প্রবেশ করে।

তার জন্ম ৩০ জুলাই,১৯৮৪ সালে। ২০১২ সালের Seiyu Awards-এ “Best Supporting Actor” খেতাব জিতেছেন তিনি। তার দক্ষতা অনুজায় আরও ভালো ভালো চরিত্র পাওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি। সামনে আরও অসাধারণ চরিত্রের কণ্ঠে তার অবদান থাকবে এই আশা রইলো।

কিমুরা রিয়োহেই

 

ইনৌয়ে মারিনা
আমার সবচেয়ে প্রিয় কণ্ঠ অভিনেত্রীদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে যাকে রাখবো সে হল ইনৌয়ে মারিনা। আমার দেখা সবচেয়ে দক্ষ কণ্ঠ অভিনেত্রীদের মাঝে একজন হলেন তিনি এবং তার কণ্ঠ অভিনয়ও আমার বেশ অসাধারণ লাগে। তার কণ্ঠ অভিনয়ের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিক হল তার যেমন অনেক কিউট কণ্ঠ দেওয়া চরিত্রও আছে ঠিক তার টমবয়িশ কণ্ঠ দেওয়া চরিত্রের পরিমাণও কম না। তার চরিত্রগুলোতে রাগের স্বরে কথা বলার ধরণটা সে এতো সুন্দর করে তুলে ধরে,এই পর্যন্ত আমার দেখা আর কোন কণ্ঠ অভিনেত্রী সেটা এত সুন্দর করে তুলে ধরতে পারে নাই।

তার যেই দুইটা রোল আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে তা হল স্কেট ডান্সের কিবিৎসু মোমোকা এবং হাগানাই আনিমেটির ইয়োযোরা চরিত্রটি। তবে তার আরও কিছু রোল আমার অনেক ভালো লেগেছে তা হল গুরেন লাগানের ইয়োকো লিটনার, H.O.T.D-এর রেই, স্কিপ বিটের মোগামি কিয়োকো, ওরেগাইরুর ইউমিকো, মাহৌকা কৌকৌ নো রেত্তোসেই-এর ওয়াতানাবে মারি, ক্যাম্পফারে নাৎসুরু,ফ্রিজিং-এর শিফন ফেয়ারচাইল্ড, ইনফিনিট স্ট্রাটোসের লউরা এবং সায়োনারা যেৎসুবৌ সেনসেই-এর চিরি-চান। তার আরও যে সকল ভালো ভালো চরিত্রের কাজ আছে তা হল শিঙ্গেকি নো কিয়োজিনের আরমিন, ডেট আ লাইভের তোহ্কা, হায়াতে দ্যা কম্ব্যাট বাটলারের ওয়াতারু, ব্রেক ব্লেডের নার্ভি,লগ হোরিজনের কানামি এবং আরও অনেক। আর এবার ওয়ারিমোনোগাতারিতে যেই নতুন চরিত্রটি আসলো ওইকুরা সোদাচি এবং গিনতামার নতুন সিজনের নতুন চরিত্র ইকেদা আসাএমোন তাদের কণ্ঠও দিয়েছেন মারিনা ইনৌয়ে।

আনিমের ওপেনিং-এন্ডিংগুলাতেও তার অবদান আছে। তবে যা করেছে তার বেশির ভাগ আরও অনেক কণ্ঠ অভিনেত্রীদের সাথে মিলে। তবে তার গাওয়া হাগানাই আনিমেটির প্রথম সিজনের এন্ডিং ‘ওয়াতাশি নো কিমোচি’ গানটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। আর তার কিছু কিছু ইভেন্টে গাওয়া গানগুলো আমার ভালো লেগেছে। যেমন মিকুনি শিমোকাওয়ার সাথে এই লাইভ ইভেন্টে তিনি নিওন জেনেসিস এভান্জেলিওনের ওপেনিং ‘যাংকোকু না তেনশি’ গানটা গেয়েছিল এবং তাদের গাওয়া গানের এই ভার্শনটাও আমার ভালো লেগেছে। দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন https://goo.gl/zReKKg

তার জন্ম ২০ জানুয়ারি,১৯৮৫। কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে তার অভিষেক ২০০৪ শালে। এরপর থেকে বেশ ভালো ভালো চরিত্রের রোল পেয়েছেন তিনি। সামনে আরও ভালো ভালো চরিত্রের কণ্ঠ দিবেন তিনি এই প্রত্যাশা রইলো।

ইনৌয়ে মারিনা

Behind the Voices – 01

কোনিশি কাৎসুইয়ুকি

কণ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যে বড় বড় নাম মামোরু মিয়ানো, হিরোশি কামিয়া, ওনো দাইসুকে, জুন ফুকুয়ামা, সাকুরাই তাকাহিরো। তাদের মতই বেশ অভিজ্ঞ এবং বিপুল সংখ্যক রোল করেছেন কোনিশি কাৎসুইয়ুকি। কামিনা, ওগা, হিসাগি শুহেই, ল্যাক্সাস এদের মত ভালো ভালো চরিত্রের কণ্ঠদাতা এই ভদ্রলোক। কিন্তু পাবলিক হাইপ এই লোকটিকে নিয়ে যত হওয়া দরকার তার চেয়ে অনেক কম।

যাই হোক, আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে তার অভিষেক ১৯৯৭ সালে। তার জন্ম ২১ এপ্রিল, ১৯৭৩। আমার কাছে তার সেরা রোল ওগা তাতসুমি, কামিনা আর কমুই লি এছাড়া আরো অনেক রোল ভালো লেগেছে তা হল D-frag!- এর কাযামা কেন্জি, হেতালিয়ায় আমেরিকা যেই রোলটিতে তার ভয়েস শুনার জন্য হেটালিয়ায় আমেরিকার পার্ট এলেই জাপানিজ ডাব্ডটা শুনতাম (ডুয়াল অডিও নামিয়েছিলাম BTW), প্রিজন স্কুলের গাকুতো হিসেবে তার “গোযারু গোযারু” বলার ধরনটা বেশ মজা লেগেছে আর নুরারিহিয়নে রিয়ুজি চরিত্রটিতে তার সিরিয়াস টোন বেশ ভালো লেগেছে।

তার আরো অনেক ভালো ভালো রোল আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য টোকিও ঘুলে আমোন, তেগামি বাচিতে লার্গো লয়েড, ব্লিচে আরেকটি রোল আসানো কেইগো (এই চরিত্রটিকে আমার বেশ মজা লাগছিলো), আকামে গা কিলে বুলাত, দুরারারার তানাকা টম, স্কিপ বিটে সুরুগা রেন, ব্লাড +-এ হাজি, কিল লা কিলে মোহক থুক্কু কিনাগাসে সুমুগু আর গিন নো সাজির হাচিকেন। এছাড়াও দক্ষতার সাথে আরো অনেক চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

তার গাওয়া কোন গান আমার শুনা হয় নি। কোন আনিমেতেও ওপেনিং-এন্ডিং তার গাওয়া গান শুনিও নাই, সুধু হেটালিয়ায় আমেরিকা চরিত্রটির পরিপ্রেক্ষিতে গাওয়া এন্ডিংটি বাদে।

তার বয়স বর্তমানে ৪২ কিন্তু এখনো অসাধারণ কণ্ঠ অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। আশা করি ভবিষ্যতে আরো অসাধারণ চরিত্রের কণ্ঠ দিয়ে যাবেন এই সেইয়্যু।

konishi katsuyuki

 

কিতামুরা এরি

আয়া হিরানো, নোতো মামিকো, হোরিয়ে ইয়ুই, কুগিমিয়া রিয়ে, পাকু রোমি এদের মত অনেক ভালো ভালো কণ্ঠ অভিনেত্রী আছে সেগমেন্ট শুরু করার জন্য, তবে আমি কিতামুরা এরিকে দিয়েই শুরু করছি কারণ আমার সবচেয়ে প্রিয় কণ্ঠ অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন তিনি।

আমার কাছে তার কণ্ঠটা বেশ ব্যতিক্রমধর্মী এবং কিউট মনে হয়, আর তার কণ্ঠ দেওয়া চরিত্রগুলির কণ্ঠ শুনলেই বেশ সহজেই ধরা যায়। তার কণ্ঠ দেওয়া আমার দেখা চরিত্রগুলোর মধ্যে যেই কমন ফিচার পেয়েছি তা হল, চরিত্রগুলো সাধারণত প্রাণবন্ত হয় নাইলে বেশ ঢঙ্গী হয়। অবশ্য এক্সেপশনাল কিছু চরিত্র আছে যেমন ওয়ার্কিং আনিমের ইয়াচিও চরিত্রটি।

আর তার গাওয়া কিছু গান আমার বেশ ভালো লাগে, যার মধ্যে আছে নিসেমোনোগাতারির দ্বিতীয় ওপেনিং মার্শম্যালো জাস্টিস এবং সিডোনিয়া নো কিশিএর প্রথম এন্ডিং তেনোহিরা শো। এছাড়া তার গাওয়া বার্থ এবং রি-স্টোরি গান দুটাও আমার বেশ পছন্দের।

১২ আগস্ট,১৯৮৭ শালে তার জন্ম। তার কণ্ঠ অভিনয়ে অভিষেক ২০০৩ সালে। আর এখন মাত্র ২৮ বছর বয়সে এই ট্যালেন্টেড ভয়েস এক্ট্রেস এখন আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে সেরা কণ্ঠ নায়িকাদের মধ্যে একজন। তার সর্বপ্রথম বড় রোল হল ব্লাড + আনিমেটির প্রধান চরিত্র ওতোনাশি সায়া।

তার যে রোলগুলা আমার বেশ ভালো লেগেছে তা হল মোনোগাতারি সিরিজের আরারাগি কারেন, ব্লাড +-এর সায়া ওতোনাশি, ওয়ার্কিং-এর ইয়াচিয়ো তোদোরোকি এবং মাদোকা মাজিকার মিকি সায়াকা। তার আরও কিছু ভালো রোল তোরাডোরার কাওয়াশিমা আমি, H.O.T.D-এর তেনসাই শোজো তাকাগি সায়া, ইয়ামাদা-কুনের ওদাগিরি নেনে, Angel Beats-এর ইয়ুই, ব্লু এক্সোরসিস্টের ইযুমো, দুরারার ওরিহারা মাইরু, ফেইরি টেইলের কানা এবং একুইরিয়াস, তাসোগারে ওতোমে আম্নেশিয়ার কিরিয়ে কানোএ, ব্ল্যাক রক শুটারের কাগারি।

ওহ আর তার শখ হল মাঙ্গা আঁকা,তিনি ছোট বেলা অভিনয়ের পাশাপাশি মাঙ্গাও আঁকতেন। তার আরেকটা জিনিস আমার ভাল্লাগে সেটা হল সে কিন্তু ভয়েস এক্টিং শুধু বেতনের জন্য করে না তার এই পেশার প্রতি ছোট বেলা থেকেই একটা আলাদা টান ছিল এবং এর জন্য তার কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে অনেক। সামনেও যাতে সে আরও ভালো ভালো চরিত্রের রোল পায় সেটাই আমার আশা রইল। একটা জিনিশ খেয়াল করলাম তার রোলগুলার মধ্যে দেখি সায়ায় ভরা মানে দুইটা সায়া আর একটি সায়াকা।

kitamura eri

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩৫: Fairy Tail — Imamul Kabir Rivu

অ্যানিমে: ফেইরি টেইল
পর্বসংখ্যা: ২৪২(চলমান)
জনরা: অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার, ম্যাজিক, কমেডি, শৌনেন, এচি।

মানব ইতিহাসের অন্যতম ওভার-রেটেড অ্যানিমে এটি। একটি শৌনেন অ্যানিমে যার কোন সুনির্দিষ্ট কাহিনী নেই। এটির কাহিনী মূলত আর্ক-নির্ভর, মানে প্রতিটি আর্কে নতুন একটি কাহিনী শুরু হয়। অ্যানিমেটায় অ্যাকশনের পরিমান বেশ ভালো; যেখানে শত্রু যতই শক্তিশালী হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত নায়ক অবশ্যই জিতবে। এমনকি, প্রথমে সবাই মিলে শত্রুকে না হারাতে পারলেও শেষে দেখা যাবে নায়ক একাই তাকে উড়িয়ে দেবে। এছাড়া এই অ্যানিমেতে রয়েছে ফ্যানসার্ভিস। অ্যানিমেটা দেখার সময় আমার বারবার মনে হয়েছে, নায়িকাদের কাপড় স্পর্শ করলেই যদি তা এভাবে ছিড়ে যায়, তাহলে এই কাপড় পরার মানেটা কি?! এই অ্যানিমেতে সবচেয়ে বেশি যেটা দেখানো হয়েছে, সেটা হল তাদের “নাকামা পাওয়ার” (বন্ধুত্বের শক্তি)। এ অ্যানিমেটাতে নাকামা পাওয়ার দিয়ে শত্রুকে হারানো থেকে শুরু করে মুদ্রাস্ফীতি, দুর্নীতি এবং আরও নানা রকম সমস্যা সমাধান করে ফেলে আমাদের নায়ক ও তার বন্ধুরা। অ্যানিমেটিতে কোন ফিলার নেই, কিন্তু পুরো কাহিনীটাকেই আপনার কাছে একটি ফিলার বলে মনে হবে। ওহ, আর এখানে আবার প্রেমকাহিনীও আছে, যা আসলে খুব দুর্বলভাবে লেখা এক প্রেমকাহিনী (আমি নিশ্চিত এখন নালুর পাগল ভক্তরা আমাকে বকাঝকা করছে)।

এবার আসি আর্টের কথায়। তেমন কোন আহামরি আর্ট নেই এই অ্যানিমেটির। আমরা সাধারণ কোন অ্যানিমেতে যেমন রঙিন ব্যাকগ্রাউন্ড দেখতে পাই, এখানে তাও নেই। সত্যি কথা বলতে কি, চারপাশের ডিটেইলিং দেখে মনে হবে যেন কোন এক বাচ্চার হাতে রং করা এক ছবি। ক্যারেক্টার ডিজাইন তেমন ভালো ছিল না। সবমিলিয়ে বলব, অ্যানিমেটির আর্টওয়ার্ক সাধারণের তুলনায় একটু খারাপ।

এই অ্যানিমেটার অনেক নেতিবাচক দিকের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে, তার মধ্যে একটি হল এর মিউজিক। অ্যানিমেটা যেমনই লাগুক না কেন, এতে ব্যবহৃত মিউজিকগুলো যে অসাধারণ তা বলতে যে কেউ বাধ্য হবে। অ্যানিমের ওএসটিতে ব্যবহৃত সেলটিক ফোক মিউজিকগুলো বেশ দারুণ ছিল। কাকিহারা তেতসুয়া, আয়া হিরানো, নাকামুরা ইউইচি, ওহারা সায়াকা, কিতামুরা এরি, নামিকায়া দাইসকে, কুগিমিয়া রিয়ে, সাতোমি সাতো,সাওয়াশিরো মিয়ুকি,হোরিয়ে ইউই- এদের মত অভিজ্ঞ সেইউরা কণ্ঠ দিয়েছেন অ্যানিমেটিতে, তাই ভয়েস-অ্যাক্টিং খারাপ ছিল না। তবে আমার মতে, কাকিহারা তেতসুয়া নাতসুর চেয়ে ইওয়ামুশি পেডালে তোউদো জিনপাচির রোল বেশি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং আয়া হিরানোরও হারুহি সুজুমিয়ার রোলটি লুসির রোলের চেয়ে অনেক বেশি ভালো ছিল। কিন্তু নাকামুরা ইউইচি এবং ওহারা সায়াকা সুন্দর করে গ্রে এবং এর্যার চরিত্রটি উপস্থাপন করতে পেরেছেন।

অ্যানিমেটাতে কিছু কিছু চরিত্রকে বেশ ভালো লেগেছে আমার। তবে প্রধান চরিত্র হিসেবে নাতসুর ব্যক্তিত্ব অনেক দুর্বল ছিল। অনেকে হয়ত বলবে নাতসু বেশ মজাদার একটি চরিত্র, তবে তার কাজকর্ম মজাদারের চেয়ে বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে রীতিমত বিরক্তিকর লেগেছে আমার কাছে। আরেক ওভার-রেটেড চরিত্র হল এর্যা। অনেক ওভার-পাওয়ার্ড একজন ওয়েপন মাস্টার সে। এই চরিত্রটিকে কম-বেশি আপনারা সবাই হয়ত চেনেন, কারণ অ্যানিমে কমিউনিটিতে একে নিয়ে বেশ হাইপ রয়েছে; সর্বজনীন “ওয়াইফু তালিকা”য় এর্যার স্থান বেশ ওপরে। এছাড়া লুসি এবং গ্রে- এই দুজনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র অ্যানিমেটির। আরও চরিত্র পাবেন অ্যানিমেটিতে যেমন মিরাজেইন, কানা, ম্যাকারভ, ল্যাক্সাস, এল্ফমান, জেলাল, উলটিয়ার, যেরেফ ইত্যাদি।

অ্যানিমেটা শুরু হয় একেবারে বাচ্চাদের অ্যানিমের মত, যদি ম্যাজিক নিয়ে অন্য কোন অ্যানিমে আপনি না দেখে থাকেন, অন্তত হ্যারি পটার মুভিগুলা তো দেখেছেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন এই অ্যানিমেটা ম্যাজিকের নামে আসলে কি করেছে। তবে এই বাচ্চাদের অ্যানিমেতে ঢেলে দেওয়া হয়েছে এক গাদা ফ্যানসার্ভিস। তাহলে কথা হল, এখানে নির্ধারিত দর্শকরা আসলে কারা? এর উত্তর যাই হোক না কেন, এ ক্ষেত্রে আমি বলব হিরো মাশিমা যাদের টার্গেট করি কাহিনীটি বানিয়েছেন, তাদের বেশির ভাগেরই মনমত একটি কাহিনী বানাতে তিনি ব্যর্থ। প্রতিটি আর্ক শুরু হয় অনেক ধীরগতিতে, যেটা একটি শৌনেন অ্যানিমের ক্ষেত্রে অনুপযোগী। অ্যানিমেটাকে অনেকেই মাস্টারপিস বলে ঘোষণা দেয়, তাদের মধ্যে বেশিরভাগকেই দেখবেন মাত্র ১০-১২ টা অ্যানিমে দেখে এটিকে নিয়ে পাগলামো শুরু করে দেয়। আমার মতে, এমন পাগল ভক্তদের পরামর্শ শুনলে পরে নিজেকেই পস্তাতে হবে।

যাই হোক, সব মিলিয়ে বলব, অ্যানিমেটি দেখা মানে সময় নষ্ট। সময় অনেক মূল্যবান একটি জিনিস, সেটি এই অ্যানিমের এতগুলো পর্বের পেছনে খরচ না করে আপনি বরং অন্য অনেক ভালো কাজের পেছনে ব্যয় করতে পারবেন। হয়ত আমি একটু বেশি বলে ফেলেছি, এখন হয়ত অনেক ফেইরি টেইল ভক্তরা আমাকে মনে মনে অভিশাপ দিচ্ছেন। আবার এই অ্যানিমের অনেক হেটারও আছেন, তারা আমাকে “বাহ বাহ” বলছেন। আমি অ্যানিমেটি নির্ভানার কাহিনী পর্যন্ত দেখে বাদ দিয়েছি এবং আমার মতামতের ওপর আমি এই লেখাগুলো লিখেছি। আমার মতামত শোনার পর অ্যানিমেটি আসলেই এতটা খারাপ কিনা, এটা পরীক্ষা করার জন্য যদি ফেইরি টেইল দেখতে চান, নিজ দায়িত্বে দেখতে পারেন।

35 Fairy Tail

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৮: Saekano: How to Raise a Boring Girlfriend — Imamul Kabir Rivu

Anime- Saekano: How to Raise a Boring Girlfriend

জানরাঃ কমেডি, স্কুল, রোমান্স, এচি, হারেম
মাই অ্যানিমে লিস্ট রেটিং: 7.82
ব্যাক্তিগত রেটিং: 8.5

একজন অ্যানিমে ভক্ত হিসেবে জীবনে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনাকে ঘিরে কোন অ্যানিমে, নভেল, মাঙ্গা অথবা গেম বানানোর ইচ্ছা- এটা অনেকেরই থাকে| একজন ওতাকুর এই ইচ্ছাগুলো বাস্তবায়নের যাত্রা এই অ্যানিমেটাতে সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে|

কাহিনী (৮/১০):

অ্যানিমের প্রধান চরিত্র তোমোইয়া আকি, যিনি একজন হার্ডকোর ওতাকু। এক বসন্তের সকালে সাইকেলে চড়ে ঢাল থেকে নামার সময় দমকা হাওয়ায় তার সামনে উড়ে এসে পড়ে একটি মেয়েদের হ্যাট। হ্যাটটি হাতে নিয়ে এদিক ওদিক তাকাতেই সে দেখতে পায়, বসন্তের বাতাসে সাকুরার পাপড়িতে ভরা পরিবেশে ঢালের ওপর সাদা ফ্রক পরা এক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেই দৃশ্য নায়কের কাছে অপরূপ লাগে। সে ঠিক করে ফেলে, এই দৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সে এমন এক ডেটিং সিম তৈরি করবে, যা সবার মন গলিয়ে দেবে। এ নিয়ে সে তৈরি করে তার নিজের দৌজিন সার্কেল। তাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে এই অ্যানিমেটি। খুব হালকা ধাঁচের বাস্তবসম্মত এবং হাস্যরসে ভরা কাহিনী এই অ্যানিমেটির।

ক্যারেক্টার ডিজাইন (৭/১০):

আমাদের প্রধান চরিত্র তোমোইয়া আকি হল একজন টিপিক্যাল ওতাকু। তিনি প্রকৃতিগতভাবে বোকা,তার চারপাশ সম্বন্ধে উদাসীন এবং নিজের সিদ্ধান্ত করা পথ  অনুসরণ করে।

অ্যানিমের আরেক চরিত্র কাসুমিগাওকা উতাহা সেনপাই; একজন ‘পারফেক্ট গার্ল’। সে সুন্দরী, মেধাবী, স্কুলের জনপ্রিয় ছাত্রী এবং একজন ভালো লেখিকা। আকির দৌজিন সার্কেলের জন্য স্টোরি লেখার দায়িত্ব তার ওপর। আপনার যদি “ওনেসামা” টাইপের চরিত্র পছন্দ হয়, তবে আপনার এই চরিত্রটিকে অনেক বেশি ভাল লাগবে।

এছাড়াও রয়েছে সাওয়ামুরা স্পেনসার এরিরি, আকির ছোটবেলার বান্ধবী ও একজন প্রতিভাধর দৌজিন চিত্রশিল্পী এবং সেইসাথে সুনদেরে। কাতৌ মেগুমি, সিরিজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। সে আকির গেমের হিরোইনের মডেল। নরম এবং ক্লুলেস স্বভাবের এই মেয়েটিকে যে কারও পছন্দ হবে। সবশেষে বলব হিয়োদৌ মিচিরুর কথা, আকির চাচাতো বোন সে। অ্যানিমেতে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এছাড়াও বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে অ্যানিমেটিতে, তবে তারা মনে রাখার মত তেমন কিছু করে না। ১২ পর্বের অ্যানিমেটিতে তেমন কোন ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট হয়নি; এত কম পর্বের মাঝে তা আসলে সম্ভবও নয়।

সাউন্ড এফেক্ট (৭/১০):

আমার মতে, অ্যানিমেটির ওএসটি বেশ ভালোই ছিল। খুব আহামরি কিছু না, আজকালকার আর দশটা স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমের মতই; তবে সিনগুলার সাথে মানানসই ছিল। ওপেনিং এবং এন্ডিং, দুটিই হালকা ধাঁচের গান, অ্যানিমের থিমের সঙ্গে মানানসই। বিশেষ করে মিকু সাওয়াই এর গাওয়া ‘কালারফুল’ গানটা অনেক সুন্দর এবং আমার প্রিয় এন্ডিংগুলোর একটি। অ্যানিমেটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মাৎসুওকা ইয়োশিৎসুগু এবং কায়ানো আই এর মত অভিজ্ঞ সেইয়ুরা।

আর্টওয়ার্ক (৯/১০):

অ্যানিমেটি এ-ওয়ান পিকচার্সের তৈরি, তবে শ্যাফট স্টুডিওর আর্টের সাথে এর প্রচুর মিল। এ-ওয়ান পিকচার্সের আর্ট আমার বরাবরই ভালো লাগে, তবে তাদের অন্যান্য কাজের তুলনায় সায়েকানোর আর্ট একটু অন্যরকম। ব্যাকগ্রাউন্ড এবং চরিত্রগুলো অনেক উজ্জ্বল করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে; অনেকটা নিসেকোই অথবা ওরেগাইরু যোকু শো-এর মত। এর আর্টের সবচেয়ে অনন্য দিকটি হল, বিশেষ কোন মূহুর্ত দেখানোর সময় যে কোন একটা রং এর ওপর বেশি ফোকাস করা হয়- এই ব্যাপারটি আমার বেশ দারুন লেগেছে।

বিনোদন (১০/১০):

হালকা ধাঁচের রসাত্মক অ্যানিমেটি যে কোন দিনেই আপনার মন ভালো করে দিতে পারবে। তবে এটি একটি টিপিক্যাল হারেম অ্যানিমে, তাই হারেম ভালো না লাগলে অ্যানিমেটি ভাল লাগার সম্ভাবনা কম। আর এই অ্যানিমেটিতে ফ্যানসার্ভিসের পরিমাণ একটু বেশি; কাজেই আপনি যদি ফ্যানসার্ভিস সহ্য করতে না পারেন তাহলে অ্যানিমেটি না দেখাই ভালো বলে আমি মনে করি।

ত্রুটি:

আমার চোখে অ্যানিমেটির বেশ কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। যেমন, অ্যানিমেটা শুরু হয় ধীর গতিতে, যা একটা স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমের জন্য মানানসই, কিন্তু শেষে খুব তাড়াহুড়ো করা হয়েছে। এছাড়া কাহিনীটা কিছুদূর আগানোর পর একটু খাপছাড়া হয়ে গিয়েছে।

আমার কাছে অ্যানিমেটা ভালো লাগার এক অন্যতম কারণ হল এর প্রতিটি মূহুর্ত আমি উপভোগ করেছি। আপনি যদি মনে করেন অ্যানিমেটি আপনার ভালো লাগতে পারে, তাহলে সময় নিয়ে দেখে ফেলুন সায়েকানো, আশা করি ভালো লাগবে।

8 Saekano