B: The Beginning [রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

B The Beginning

অ্যানিমে জগতে নেটফ্লিক্স বড় ধরণের এক বিপ্লবই ঘটিয়ে ফেলতে যাচ্ছে বলে আমার ধার‍ণা। এই অ্যানিমেটা নিয়ে আগে থেকে কোন ধারণা ছিলো না। গত পরশু টরেন্ট সার্ফ করতে গিয়ে পোস্টারে নেটফ্লিক্স দেখেই নামিয়ে দেখা শুরু করে দিয়েছিলাম।

MAL আর IMDb তে দেয়া সিনোপ্সিস খুবই অস্পষ্ট মনে হলো। যা হোক, শুরু থেকেই কেমন যেন একটা এলোমেলো ভাব ছিলো স্টোরিতে। ফলো করা কষ্টকর। সিরিজের মাঝামাঝি এসে পাজলগুলোকে কিছুটা জোড়া লাগানোতে অনেক কিছুই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্পেশালি B এর ব্যাকস্টোরি আর কারেক্টারদের seemingly মোটিভহীনতার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

জনরায় সায়েন্স ফিকশন দেয়া থাকলেও এটা অনেকটাই ফ্যান্টাসি ধাঁচের। কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর পাশাপাশি অনেক পার্শ্বচরিত্র থাকাতেই কিনা চরিত্র নির্মাণটা অতটা পোক্ত হয়নি। ডিটেক্টিভ ওয়র্ক কিছু জায়গায় overly done লাগতে পারে। ২৫ এপিসোডে করা গেলে দারুণ একটা অ্যানিমে পাওয়া যেতো।

পুলিশ ওয়ার্ক আর ডিটেক্টিভ এলিমেন্ট দেখে এটায় কিছুটা Psycho-Pass ভাইব পাওয়া গেলেও সাইকোলিজক্যাল যে দ্বন্দ্ব দেখা যায় তা কিছুটা Death Note এর কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। তবে অ্যানিমেটা এ দুটোর কোনটার দিকেই ঘেঁষেনি।

গল্পবিচারে প্লটটাকে ইউনিকই বলা চলে, তবে অনেক fast paced. সাবপ্লটগুলো ঠিকভাবে সিকোয়েন্স করা হয়নি বলেই আমার ধারণা। অ্যানিমের সবচেয়ে পজিটিভ যে দিকটি ছিলো তা হলো এটি intriguing. আপনার মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করতে পারে তবে বোরড হবেন না। আর এন্ডিংটাও যথেষ্ট মানানসই ছিলো।

অ্যানিমেশন, বিশেষ করে ফাইটিং স্যিনগুলো টপ নচ ছিলো। সাউন্ডট্র‍্যাক মোটামুটি। আর আমি অবশ্যই dubbed ভার্সন দেখতে বলবো। ভয়েস বেশি lively লেগেছে dubbed ভার্সনে। আর যেহেতু ইন্টারন্যাশনাল প্লাটফর্মে নেটফ্লিক্স দিয়ে রিলিজ করা হয়েছে সেক্ষেত্রে dubbed ভালো হওয়াই স্বাভাবিক।

Overall, it’s a good watch. Doesn’t quite win your heart but keeps you guessing. I’d rate it 7.5 out 10.

Hibike! Euphonium [রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

Hibike! Euphonium 1

~Hibike! Euphonium~

Cute girls doing cute things— দেখার আগে তা-ই মনে করেছিলাম। এছাড়া কোন পুরুষ প্রধান চরিত্র না থাকায় (আমাকে সেক্সিস্ট মনে করবেন না, যে কোন এক লিঙ্গের প্রধান চরিত্রের অ্যানিমেগুলো আমি বরাবরই এড়িয়ে চলতাম, অন্তত এটা দেখার আগপর্যন্ত) এবং গ্রুপে তেমন আলোচনায় থাকতে না দেখে সেভাবে ভরসা পাচ্ছিলাম না। ওয়েল, কি আর বলা যায়? না দেখলে অনেক ভালো একটা জিনিস মিস করে ফেলতাম। আমি কিছুটা সারপ্রাইজড এ ভেবে যে গ্রুপ পোলে এ অ্যানিমের উপস্থিতি এত নীরব ছিল কেন।

মিউজিক নিয়ে অ্যানিমেগুলো বরাবরই ভালো লাগে। তবে কমেডি খুব একটা ভালো না লাগায় মিউজিক ট্যাগ থাকা সত্ত্বেও অনেকগুলো সিরিজ এড়িয়ে গেছি। কিন্তু অন্যান্য মিউজিক রিলেটেড অ্যানিমেগুলো থেকে এটি একটু ভিন্ন। তাই বলে ফানি মোমেন্ট যে নেই তা নয়। অনেক আছে; কিছু দৃশ্যে হাসি থামিয়ে রাখতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছ। আবার কিছু ক্ষেত্রে যে চোখে (অলমোস্ট) পানি চলে এসেছে। যা-হোক, এখানে মিউজিক সাব-জনরা নয়। পুরো অ্যানিমের প্রধান ফোকাস মিউজিক এবং তার সাথে জড়িত মানুষগুলো।

প্রতিযোগিতা, অধ্যবসায়, ব্যক্তিগত দ্বন্ধ– এগুলোর উপস্থিতি দেখে কারো কাছে অ্যানিমেটি টিপিক্যাল মনে হতে পারে। কিন্তু বিশেষ কয়েকটি জিনিসের কারণে এটি আমার কাছে অনন্য। সোলো মিউজিকাল, যেমন পিয়ানো, গিটার, ভায়োলিন, এগুলোর নিয়ে না হয়ে Ensemble নিয়ে হওয়ায় অনেক কিছু নিরীক্ষা করার সুযোগ ছিল সিরিজটিতে। এবং শেষ করার পর বলতেই হচ্ছে, সিরিজটি অনেক নতুনত্ব দিতে সক্ষম হয়েছে।

‘হিবিকে! ইউফোনিয়াম’ সিরিজটির মূল কাহিনী এক হাইস্কুলের Wind Ensemble নিয়ে। কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে অন্যতম প্রধান চরিত্র ঔমায়ে কুমিকো-র দৃষ্টিকোণ থেকে, যদিও প্রয়োজনে অন্যান্য চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও দেখানো হয়েছে। মিডল স্কুল শেষে নতুন করে শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে বন্ধুহীন কিতাউজি হাইস্কুলে ভর্তি হয় কুমিকো। অন্যান্য চরিত্রগুলোর মধ্যে আছে কুমিকোর বন্ধু কাতৌ হাজুকি, কাওয়াসিমা স্যাফায়ার -থুক্কু মিদোরি- এবং রেইনা কৌসাকা (এ চরিত্রটি বেশ এলিগ্যান্ট এবং ক্লাসি; স্ক্রিন টাইম তুলনামূলক কম হলেও আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র)।

মিউজিক গ্রুপ নিয়ে হওয়ায় এখানে টিমওয়ার্কের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে বেশ ভালোভাবেই। যখন একটা গ্রুপে ৬০ জন মানুষ থাকে, সমস্যার সম্মুখীন হওয়াটা স্বাভাবিক। এর মধ্যে কেউ হয়তো মিউজিকের প্রতি সত্যিই প্যাশনেট এবং বেশ সিরিয়াস, অনেকেই হয়তো নেয় ফান হিসেবে, আবার কারো উদ্দেশ্য হয়তো হাইস্কুলের সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চরিত্রগুলোর মধ্যকার অনিশ্চয়তা, প্রত্যয় যেভাবে তুলে আনা হয়েছে তা খুবই রিলেটেবল।

So, what makes this anime different?

একেবারে শুরুতেই চাপা একটা আর্জেন্সি টের পাওয়া যায় যার কারণে একবার দেখা শুরু করলে ছেড়ে ওঠা মুশকিল। প্রথম এপিসোডেই দেখি যে It is never too late to try something new. ইচ্ছা থাকলে এবং ভালোবাসা খুঁজে নিতে পারলে মানুষের দ্বারা যেকোন কিছুই সম্ভব। যেমন মিডল স্কুলে টেনিস ক্লাবে থাকা হাজুকি এবার যোগ দিয়েছে মিউজিক ক্লাবে। বাদ্যযন্ত্র ছুঁয়ে দেখার পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও কেবল ভালোবাসা দিয়ে কেউ কিভাবে মিউজিককে আপন করে নেয় তা সত্যিই টাচ করার মত। অ্যাডভাইজর তাকি-সেনসেই এর ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার লক্ষণীয়। শুরুতে এ ফিল্ডে আসার ইচ্ছে না থাকলেও, উপভোগ করে এমন কিছুকে জব হিসেবে নেয়া কতটুকু সুখকর তা শুরু না করলে বোঝার উপায় নেই। টিমওয়ার্কের কথা বলেছিলাম। গ্রুপ মিউজিকে টিউনিং এবং সিঙ্ক্রোনিসিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে দু-এক জনের অবহেলায় পুরো গ্রুপকেই ভুগতে হয়। এর ফলে যে অভ্যন্তরীণ অসামঞ্জস্যতা এবং পলিটিক্স এর কমতি হয় না তা দেখেছি আমরা। এটি কিভাবে একটি গ্রুপকে ধ্বংস করে দিতে পারে বা কিভাবে একাত্ন করে তুলতে পারে- দুই-ই উঠে এসেছে সিরিজটিতে। একজনের সমস্যা কিভাবে পুরো গ্রুপের মোর‍্যাল কমিয়ে দেয় বা অন্যদের পারফর্মেন্সে প্রভাব ফেলে; ব্যক্তিগত অনুভূতি কিভাবে জাজমেন্টে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, একগুঁয়েমি আর denial কতটুকু মাত্রাছাড়া হয় তাও দেখেছি। একসাথে কাজ করার ফলে ক্লাসমেট, এমনকি জুনিয়ররাও, যে শ্রদ্ধা এবং অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে তার আদর্শ উদাহরণ সম্ভবত এ সিরিজটি।

এত কিছু ছাপিয়েও যে ব্যাপারটি আমাকে সবচেয়ে নাড়া দিয়ে গেছে, তা হল কঠিন একটা সত্যের চমৎকার উপস্থাপনা। খেলায় বা কোন প্রতিযোগিতায় আমরা পারফর্মেন্সটাই দেখি। বিজয়ীদের নিয়ে উল্লাস করি; পরাজিতদের ভুলে যাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। হয়তো তাদের প্রচেষ্টাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করি, কিন্তু দিনশেষে আমাদের কাছে কে জয়ী হলো তা-ই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। পরাজিতরাও যে স্বপ্ন নিয়ে আসে এবং তা অর্জনের লক্ষ্যে বিজয়ীদের চেয়ে কোন অংশেই কম পরিশ্রম করে না তা অনুধাবন করতে পারলে বিজয়ীদের নিয়ে উল্লাস করাটা অনেক অনেক কঠিন হয়ে যেতো। যেমন কাওরি আর কৌসাকার ক্ল্যাশে দর্শকরা সবাই নিশ্চিতভাবেই কৌসাকার পক্ষ নিলেও কাওরি-র ডেডিকেশন অ্যাপ্রিশিয়েট না করে পারা যায় না। তার হয়তো এটা শেষ সুযোগ সোলো পারফর্ম করার, কিন্তু তাই বলে আবেগী হয়ে কৌসাকা তাকে ছাড় দিলে তা হত আমার কাছে ক্ষমার অযোগ্য। দিনশেষে যে আবেগের স্থান খুব একটা নেই তাই তুলে আনা হয়েছে। It is the better one that wins, or should win.

কতটুকু প্যাশনেট হলে সামান্য সেলফ-ডাউটের কারণে মৃত্যুকামনা করতে পারে কেউ? Higher Target যে আসলেই মানুষকে বেটার হতে সাহায্য করে তা দেখা যায় শুরু থেকেই সংশয়ে ভুগেও পরবর্তীতে dead serious হয়ে যাওয়া কুমিকো-র চরিত্র থেকে। হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে না দিয়ে কুমিকো-র ইম্প্রুভ করার চেষ্টা করে যাওয়াটা এ গল্পের সবচেয়ে প্রেরণাদায়ক দৃশ্য। রেইনা কৌসাকা-র ভাষায়, নিজেকে স্পেশাল ভাবলেই হবে না, নিজের লক্ষ্যে সফল হতে চাইলে স্পেশাল হতে হবে, হওয়ার চেষ্টা করতে হবে, এতে অন্যদের চক্ষুশূল হতে হলেও।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার অ্যাড্রেস করা হয়েছে, যা আমাদের দেশে প্রায়শই দেখা যায়। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। পড়ালেখা করে ভালো ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগেরই অটোমেটিক চয়েস, যেজন্য বাধ্য হয়ে অনেকই প্যাশনকে দূরে ঠেলে দেয়।। কিন্তু এর উল্টোটাও হয়। আওই-এর অংশটুকুর মাধ্যমে এ ব্যাপারটি বেশ সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রায়োরিটি ঠিক করা, যতই আউট অফ প্লেস হোক, স্রোতের বিপরীতে গিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যথেষ্ট সাহস থাকা চাই। সমাজ বা অন্যরা যতই আপসেট হোক না কেন, ফার্ম ডিসিশন নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে কোন রিগ্রেট থাকবে না।

You know it’s a good anime when you finish all episodes in one sitting and re-watch your favorite moments over and over. বিশেষভাবে কোন দুর্বল দিক আমার চোখে পড়েনি। একটা মিউজিক গ্রুপ কিভাবে এক হয়ে বেড়ে ওঠে তা এরচেয়ে ভালোভাবে দেখানো সম্ভব না। আর কিছুটা রোমান্স-এর ছোঁয়া থাকলেও কোন সাব-প্লট না রেখে সম্পূর্ণরূপে মিউজিকে ফোকাস করার কারণে সন্তুষ্টি আরো বেড়ে গেছে। মিউজিক জনরা পছন্দ করে এমন যে কারো জন্য একটা মাস্ট-ওয়াচ অ্যানিমে।

দেখতে গিয়ে আমার বারবার Whiplash মুভিটির কথা মনে হয়েছে। I wouldn’t compare the two, but I kind of liked Hibike! Euphonium more.

Hibike! Euphonium 2

Space Battleship Yamato 2199 [রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

Space Battleship Yamato 2199

Space Battleship Yamato 2199 || Uchuu Senkan Yamato 2199

Episodes: 26
Genres: Action, Drama, Military, Sci-Fi, Space
MAL Score: 8.56/10
Personal Score: 9/10 (Story: 8.5; AnA: 9.5; Character: 8.5: Sound: 9; Enjoyment: 9.5/10)

নামের মধ্যেই একটা গ্রেটনেস আঁচ করা যায়। ইয়ামাতো নামের যে ব্যাটলশিপ নিয়ে এ অ্যানিমের কাহিনী তা শাব্দিক এবং আক্ষরিক- দু অর্থেই ‘গ্রেট’। ৩৬৬ মিটার লম্বা এ যুদ্ধজাহাজ আর তার নাবিকদের ওপরই নির্ভর করছে মানবসভ্যতার ভবিষ্যত। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আগে মানুষের হাতে সময় আছে এক বছর।

এ অ্যানিমের অরিজিনাল রান শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। তখন এর নাম থাকে স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো। পরবর্তীতে ২০১২ সালে আসে এর সফল রিমেইক, নাম দেয়া হয় স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো ২১৯৯। ষাট-সত্তরের দশকে তখন স্পেস অপেরার জয়জয়কার। ১৯৬৬ সালে শুরু হয় স্টার ট্রেক, ১৯৭৭ সালে আসে স্টার ওয়ার্স। আশি-নব্বই দশকের দিকে আরো কিছু শর্ট সিরিজ আসে। ২০০৪ সালে আসে ব্যাটলস্টার গ্যালাক্টিকা, মোবাইল স্যুট গান্ডাম। অ্যানিমের ইতিহাসে স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো-র গুরুত্ব অনেক। ১৯৭৯ সালে Star Blazers নামে আমেরিকায় এয়ার শুরু হয় এ অ্যানিমের। প্রথম স্পেস রিলেটেড অ্যানিমে হিসেবে এর জনপ্রিয়তা পরবর্তীতে এ ধরণের শতাধিক অ্যানিমে সিরিজ আর মুভির জন্য পথ খুলে দেয়। পরবর্তীতে আমরা পাই আরো কিছু সফল আর জনপ্রিয় সিরিজ যার মধ্যে Legend of Galactic Heroes, Macross, Cowboy Bebop বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাই দ্য ওয়ে, আমার এ পোস্ট ২০১২ সালে রিলিজ হওয়া একই অ্যানিমের রিমেইক নিয়ে।

একটি আদর্শ স্পেস অপেরায় যা থাকে তার সবই আছে ইয়ামাতো ২১৯৯-এ। সায়েন্স ফিকশন, আন্তঃগ্রহ এবং আন্তঃগ্যালাক্টিক ওয়ারফেয়ার, রোমান্স, মিলিটারি, রাজনীতি তার সবই পাওয়া যায় এটিতে। প্লাসপয়েন্ট হলো অন্যান্য স্পেস অপেরার তুলনায় এ অ্যানিমেতে মেলোড্রামা নেই বললেই চলে।

সময়টা ২১৯৯ সালের। এর আট বছর আগেই মানবজাতির সাথে যোগাযোগ হয় গামিলাস (Gamilas) নামক ভিনগ্রহবাসীর। তারপর থেকেই তাদের উপর্যুপরি আক্রমণে হুমকির মুখে পড়ে যায় পুরো পৃথিবীবাসীর ভবিষ্যত। গামিলানদের প্লুটো বেইজ থেকে একের পর এক রেডিওঅ্যাক্টিভ বম্বার্ডিং এর ফল হিসেবে পুরো পৃথিবী ওয়েস্টল্যান্ড-এ পরিণত হয়। বিলীন হয়ে যায় বেশিরভাগ জীবনের অস্তিত্ব, প্রাণের অভাবে নীলসবুজ গ্রহটি লালচে রংধারণ করে। সারফেস বসবাসের অনুপোযগী হয়ে পড়ে; মানুষ বাধ্য হয় আন্ডারগ্রাউন্ডে আশ্রয় নিতে। বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতবাণী করেন এভাবে চললে আর এক বছরের মধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে মানবজাতি।
এরকম সময়েই ইস্কান্দার নামক এক বন্ধুভাবাপন্ন এলিয়েন গ্রহ থেকে এগিয়ে আসে সাহায্যের হাত। তারা মানুষকে এমন প্রযুক্তি দেয় যা দিয়ে পৃথিবীবাসী তৈরি করে ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো, যেটি কিনা ১৬৮০০০ আলোকবর্ষ পাড়ি দিয়ে সুদূর ইস্কান্দার থেকে ‘কসমো রিভার্স সিস্টেম’ নামক এক ডিভাইস আনার ক্ষমতা রাখে। এ ডিভাইস পৃথিবীকে রিস্টোর করে দেবে পুরোনো সজীব রূপে। প্রস্তুত করা হয় প্ল্যান ইয়ামাতো। অবশেষে ২১৯৯ সালে ইস্কান্দারের রাণী স্টারশা তার বোনকে দিয়ে পাঠান প্ল্যানের ফাইনাল পিস ‘ওয়েভ মোশন ইঞ্জিন’। মঙ্গল গ্রহ থেকে এটি উদ্ধার করে পৃথিবীতে নিয়ে যায়, এ অ্যানিমের অন্যতম প্রোটাগনিস্ট, দুই বন্ধু সুসুমু কোদাই আর দাইসুকে শিমা। স্বল্পসময় পরই গামিলানদের আক্রমণের মুখেই যাত্রা শুরু হয়, ইয়ামাতো-র, নেতৃত্বে আন্তঃগ্রহ যুদ্ধের হিরো কমান্ডার ওকিতা।

এ সুদীর্ঘ যাত্রাপথের ক্ষণেই ক্ষণেই মুখোমুখি হতে হয় গামিলান যুদ্ধজাহাজের। হয় অনেকগুলো খন্ড খন্ড যুদ্ধ। দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগে এত বাধা অতিক্রম করে ইয়ামাতো কি পৌঁছুতে পারবে তার গন্তব্যে? গামিলানরা নিশ্চয়ই এত সহজে ছেড়ে দেবে না। যুদ্ধ করে এগিয়ে যাওয়াই কি একমাত্র উপায়? বন্ধুত্ব স্থাপনের সুযোগ কি আছে? গন্তব্যের দিকে ইয়ামাতো-র এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা দেখি কিভাবে আনফোল্ড করে অ্যানিমের কাহিনী। শুরুতে কিছুটা এপিসোডিক হলেও শীঘ্রই ইন্টেন্সিটি বাড়তে থাকে। বিশ্বাসঘাতকতা, গামিলানদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, চরিত্রগুলোর সাইকোলজি এবং কনশাইন্সের এক্সপ্লোরেশন, ক্ষেত্রবিশেষে দার্শনিকতা, শেষের দিকের কিছু চমক- সবকিছুই অন্যমাত্রা দেয় সিরিজটিকে। কাহিনীতে একবার ঢুকে গেলেই বোরড হওয়ার ন্যুনতম সুযোগ পাওয়া যায় না।

২৬ এপিসোডের অ্যানিমেটি চরিত্র নির্মাণের কাজটি বেশ ভালোভাবেই করে। এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ মিশনেও চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত এজেন্ডা কিভাবে তাদের চালিত করে তা দেখি আমরা। মিলিটারি মানেই যে আবেগ বিবর্জিত রোবট নয়, অতি অভিজ্ঞরাও যে ভুল করতে পারে, মানুষ মানেই যে নীতিনিষ্ঠ আর শত্রু এলিয়েন মানেই খারাপ এ ট্রেডিশনাল অ্যাপ্রোচের বাইরে গিয়ে গিয়ে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে এর কাহিনীতে। অল্প সময় ধরে রোবটের মনস্তত্ত্ব আর চেতনা নিয়েও এক্সামিন করা হয়েছে। What makes us human? Is it our heart or our consciousness? কেবল মানবচরিত্রগুলোই নয়, ভালো ডেভেলপমেন্ট করা হয়েছে শত্রুপক্ষের বেশ কিছু চরিত্রেরও, বিশেষ করে Domel এর চরিত্রটি অসাধারণ।

অ্যানিমেশন এ অ্যানিমের সবচেয়ে স্ট্রং স্যুট। এত ভালো কাজ লাইভ অ্যাকশন স্পেস অপেরাগুলোতেও দেখা যায় না। প্রথম দৃশ্যটিই আমার মন জয় করে নিয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, ফাইটারগুলোর ডিজাইন এত নিখুঁত যে মাঝে মাঝে এটা যে অ্যানিমেশন তা-ই বোঝা যায় না। পরিপূর্ণ মজা নিতে চাইলে দেখতে হবে ১০৮০-পিক্সেল রেজোল্যুশনে।

মিউজিক নিয়ে বলতে গেলেই আসে এন্ডিং গুলোর কথা। দশটা এন্ডিং এর সবগুলোই অসাধারণ মনে হয়েছে আমার কাছে। এ প্রথম আমি ২৬টা এপিসোডের সবগুলোরই এন্ডিং একাধিকবার করে শুনেছি। ঘটনাপ্রবাহের সাথে মিল রেখে কোথাও ব্যবহার করা হয়েছে হাই টেম্পো, বিশেষ করে ব্যাটলের শেষে, কোথাও স্লো মিউজিক এনে দিয়েছে বিষণ্নতা। সে সাথে ওল্ড স্কুল মিউজিক একটা নস্টালজিয়া সৃষ্টি করে দেয়। দুর্ভাগ্যবশত আমার ডাউনলোড করা সিরিজটায় ওপেনিং ছিল না একটা এপিসোডেও তাই বলা যাচ্ছে না ওপেনিং কেমন। কিছুক্ষণ আগে ইউটিউবে শুনে খুব একটা ভালো না লাগলেও টেরিবল বলা যায় না ঠিক। এখানে একটা ব্যাপার উল্লেখ করতে হয়। রিমেইক অ্যানিমের কোন একটা (যেটা অরিজিনালে ছিল) স্কোরের কম্পোজিশন করেছেন অরিজিনাল সিরিজের কম্পোজারেরই ছেলে। স্কোরশীট হারিয়ে যাওয়ায় নিজের স্মৃতি থেকেই পুনরুদ্ধার করে স্কোরটি কম্পোজ করতে হয়েছে তাকে।

আয়রনিক ব্যাপার হচ্ছে অক্ষশক্তি হওয়া সত্ত্বেও এ অ্যানিমের গঠনপ্রকৃতিতে গামিলানদের মধ্যে একটা নাৎসী ভাইব পাওয়া যায়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কণ্ঠস্বর এবং কথা বলার ভঙ্গীতে নাৎসী নেতাদের প্রভাব স্পষ্ট। এদের ইউনিফর্ম, অনেকটা স্বস্তিকা টাইপের লোগো, স্যাল্যুটের ধরণ, তাদের নামগুলোও -যেমন, Goer, Domel, Schultz- উচ্চপদস্থ নাৎসী নেতাদের মেটাফর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গামিলান শাসক Dessler এর চরিত্রটি হিটলারের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা অ্যানিমে। সাই-ফাই ভালো লাগে এমন যে কারো জন্যই আদর্শ একটা সিরিজ। আমার খুব ভালো লেগেছে বলেই পোস্টে সব পজিটিভ কথাবার্তা বলেছি, যা বায়াসড মনে হতে পারে। কিন্তু ছোটখাটো কিছু ফ্যানসার্ভিসের কথা বাদ দিলে আসলেই এর কোন ডাউনসাইড নেই। খুব বেশি ইন্টেন্সিটি নেই যা কিনা মাথা ধরিয়ে দিতে পারে (তবে এপিসোড ১৪-তে বাড়তে মনোযোগ দিতে হবে), আবার এমন হালকাও নয় যে ভালো লাগবে না। স্ট্র্যাটেজিকাল এলিমেন্ট আর ক্লাইম্যাক্স আরেকটু বেশি থাকলে আমি একে ১০/১০ দিতাম। এখন খুব করে অপেক্ষায় আছি স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো ২২০২ এর যা সম্ভবত আগামী বছরেই আসবে।

যতটুকু বুঝলাম অ্যানিমেটি অরিজিনাল সিরিজের সোর্স ম্যাটেরিয়াল খুব একটা চেঞ্জ করেনি। অনেক নতুন কারেক্টার যুক্ত হয়েছে। কিছু মাইনর চেঞ্জ করা হয়েছে যুদ্ধগুলোর ক্ষেত্রে। ইয়ামাতো-র শেইপে পরিবর্তন করা হয়েছে কিছু। সায়েন্টিফিক ফ্যাক্ট আপডেটেড করা হয়েছে যেখানে দরকার। আরও কিছু পার্থক্য দেখা যায়।

[এটা স্কিপ করলেও চলবে; পুরাই nerdy ব্যাপার-স্যাপার]
এত কিছুর বাইরেও যেটা আমাকে বিশেষভাবে ইম্প্রেস করেছে তা ছিল এ অ্যানিমের বৈজ্ঞানিক রেফারেন্সগুলো এবং বাস্তবসম্মত সেটিং। যদিও অবৈজ্ঞানিক দিকও কম না, সায়েন্স ফিকশনে এগুলো থাকবেই, তারপরও স্টার এবং প্ল্যানেটগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব এমন একটা ইল্যুশন সৃষ্টি করে যে মনে হয় এমনটা বুঝি সত্যিকার অর্থেই ঘটছে। যেমনঃ

১. প্রথম এপিসোডে দেখানো প্ল্যানেট বম্বগুলো বস্তুত Kuiper Belt Objects কে রিফার করে।

২. এপিসোড তিন এ মঙ্গল গ্রহ অতিক্রম করার সময় একটা সাগর দেখানো হয় যা মঙ্গল গ্রহে থাকা অ্যামাজনিস প্ল্যানিশিয়া (Amazonis Planitia) এর অনুরূপ।

৩. এপিসোড আট এ ইয়ামাতো Gliese 581 নামক একটি রেড ডোয়ার্ফ এর আয়োনাইজড গ্যাস এর মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য হয় যা কিনা আসলেই এক্সিস্ট করে। এবং আমাদের সূর্যের মতই একটা গ্রহ হওয়ায় এতে অনুরূপ ঘটনা ঘটা খুবই সম্ভব।

৪. এপিসোড ১৩ তে দেখানো হয় একটা প্রোটোপ্ল্যানেটারি সিস্টেম। আমাদের সোলার সিস্টেম ৫ বিলিয়ন বছর আগে এমনই ছিল।

৫. এপিসোড ১৫ তে দেখানো হয় একটা নিউট্রন স্টার। নামটা বানানো হলেও বিজ্ঞানীরা এমন স্টারের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন।

৬. Large Magellanic Cloud (LMC), যেখানে ইস্কান্দার গ্রহের অবস্থান, বাস্তব একটি গ্যালাক্সি। এটি মিল্কিওয়ের পাশেই অবস্থিত এবং মিল্কিওয়ের একটা স্যাটেলাইট।

৭. এপিসোড ১৯ এ দেখানো ট্যারান্টুলা নেবুলা LMC এরই একটি H2 রিজিয়ন।

Ping Pong the Animation ও এর ইন্টারপ্রিটেশন — Abdullah Ar Rayhan

Ping Pong

|| Ping Pong the Animation নিয়ে আমার নিজের ইন্টারপ্রিটেশন ||

এক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে চার জন হাই স্কুল ছাত্রকে নিয়ে আবর্তিত একটি কামিং-অফ-এজ স্টোরি বলা যায় যেখানে আমরা দেখি কিভাবে পিংপং তাদের লাইফকে শেইপ করে। কিন্তু কিছুদূর দেখলেই যে কেউ বুঝবে যে এ অ্যানিমে তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু।

শুরুটা হয় দুজন হাই স্কুল ফ্রেশার দিয়ে– ‘পেকো’ আর ‘স্মাইল’। পেকো-কে আপনি এক ধরণের ওয়ান্ডারবয় বলতে পারেন; আপাতদৃষ্টিতে খুব বেশি এফোর্ট দেয়া ছাড়াই যে গ্রেড স্কুল থেকেই প্রতিপক্ষদের নিয়মিত হারিয়ে আসছে, তার চরিত্র বেশ ইগো-সেন্ট্রিক। অন্যদিকে স্মাইল যদিও ভালো খেলে, সে পেকো-র ছায়ায়ই থেকেছে সবসময়। অথচ তাদের প্রথম ইন্টারস্কুল প্রিলিমিনারি টুর্নামেন্টে নজরটা স্মাইল-এর ওপরই বেশি পড়ে। চরিত্রগত দিক দিয়ে পেকো-র বিপরীত মেরুতে এর অবস্থান। সবসময় শান্ত, অনুত্তেজিত, রোবটিক। বাকি প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কাজামা এবং চীন থেকে নির্বাসিত হওয়া কং।

এটুকু থেকে এটা স্পষ্ট যে অ্যানিমের সেটিং হাইস্কুল পিংপং but don’t let me fool you, it’s much more than that. You see, এটা কোন টিপিক্যাল স্পোর্টস অ্যানিমে না। পিংপংকে এখানে কেবল অনুঘটক বলা যেতে পারে। আপনি নরমাল স্পোর্টস অ্যানিমের মত এখানে কোন বিশেষ ট্রিক পাবেন না, কোন আগুনে rivalry পাবেন না (যদিও একেবারে যে নেই তা-ও নয় কিন্তু মূল গল্পের তুলনায় তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়)। এটি যতটা না খেলা নিয়ে, তার চেয়েও বেশি জীবন নিয়ে, নিজেকে খুঁজে পাওয়া নিয়ে। তবে এর মানে এই না যে এটায় স্পোর্টস এলিমেন্ট নেই। যথেষ্ট এক্সাইটিং মোমেন্টস আছে। স্পোর্টস এলিমেন্টগুলো ফিলোসফিক্যাল আর সাইকোলজিক্যাল অ্যাস্পেক্টগুলোর সাথে এত সুন্দরভাবে ব্যালেন্স করা হয়েছে যে বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না।

যে তিনটা বৈশিষ্ট্য সিরিজটিকে ইউনিক করে তা হলো আর্ট স্টাইল, চরিত্রায়ন আর গল্পের গভীরতা। প্রথমেই মনে হবে যেন জীবন্ত একটা স্কেচবুক দেখছি। সাথে ওয়াটারকালার ব্যাকগ্রাউন্ড একটা পেইন্টিং ভাব এনে দেয়। যে আর্টিস্টিক অ্যাপ্রোচে অ্যানিমেশন করা হয়েছে তা থেকেই বোঝা যায় কত এফোর্ট দেয়া হয়েছে এর পেছনে। অনেকেই এমন আর্টস্টাইলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারে কিন্তু আমার জন্য এটা ছিল একটা ভিজ্যুয়াল ট্রিট। এমন একটা অ্যানিমের জন্য এরকম আর্ট পারফেক্ট মনে হয়েছে আমার কাছে। চরিত্রগুলোর মুভমেন্ট বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে উঠেছে; আর এ প্রথম কোন অ্যানিমে দেখে আমার কারেক্টারগুলোকে জাপানীজ মনে হলো। 😛 আর্ট ভালো না লাগলেও একবার স্টোরিতে ঢুকে গেলে আর bother করবে না এটা গ্যারান্টিড।

এত অল্প সময়ে এত পরিপূর্ণ চরিত্রায়ন সত্যিই ইম্প্রেস করার মত। আপনি এদের ওপর ক্রাশ খাবেন না, দিবাস্বপ্নও দেখবেন না; কিন্তু প্রতিটা চরিত্রের সাথেই আমরা কেউ না কেউ রিলেট করতে পারবো। এ চরিত্রগুলো বাস্তব থেকে তুলে আনা, আপনার আমার মতই মানুষ এরা, এবং এখানে তাদের দেখানোও হয়েছে মানুষ হিসেবেই। স্টোরি এগুনোর সাথে সাথে আমরা চরিত্রগুলোকে চিনতে শিখি, তাদের মনস্তত্ব ধরতে পারি, আর পিংপং খেলার মধ্য দিয়ে তাদের ডেভেলপমেন্ট দেখি। যেটা উল্লেখযোগ্য তা হলো, ছোটখাটো চরিত্রগুলোকেও বেশ ভালোভাবে ডেভেলপ করা হয়েছে, তাদের জীবন নিয়েও আমরা জানার সুযোগ পাই। অন্যান্য অ্যানিমের মত, এখানে দর্শককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয় নি। ভালো-মন্দের কোন রেখা দেখানো হয়নি। কোন চরিত্রকে অপছন্দ করা যায় না, বরং যত ছোটই হোক, সবাই নিজ আলোয় উজ্জ্বল এবং আপনি তাদের অ্যাপ্রিশিয়েট করবেন।

মূলত character driven হলেও সিরিজের প্লট শুরু থেকেই মনোযোগ ধরে রাখে। গল্প নির্দিষ্ট কোন সরলরেখায় না এগিয়ে চরিত্রগুলোর ওপর ফোকাস করে। তাদের সমস্যা, তাদের মোটিভেশন, প্যাশন, সাইকোলজি এগুলোই বেশি গুরুত্ব পায় কাহিনীতে।

What drives us to be what/where we are? প্যাশন? উচ্চাকাংক্ষা? নিজেকে সবার ওপরে দেখতে চাওয়ার মনোবাসনা? নাকি যা করি তার প্রতি ভালোবাসা? অনেকটুকু সময় ধরেই এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

আমরা দেখি পেকো-র নিজেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রূপে দেখার বাসনা, কং-এর জাপানে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাংক্ষা, কাজামা-র নিজের এবং স্কুলের সম্মান ধরে রাখার দায়িত্ব, নিখাদ কঠোর পরিশ্রম আর চর্চা দিয়ে সাকুমা-র মেধাহীনতাকে ওভারকাম করার প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি। কিন্তু এগুলোই কি সব? তবে স্মাইল কিসের দ্বারা তাড়িত হয়? এখানে এক্সপ্লোর করা কে হয় চরিত্রগুলো আসলে কারা, তারা কি করতে পারে, কি তাদের পরিচালনা করে। একেকটা এপিসোড যাওয়ার সাথে সাথে আমরা বুঝতে পারি। আমরা অনুধাবন করি যে পেকো, কাজামা, কং, সাকুমা- এরা আসলে আমরা নিজেরাই। প্রতিদ্বন্ধিতার মধ্য দিয়েও চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে ইন্টার-অ্যাকশন করার মধ্য দিয়ে এক অদ্ভুত রকমের বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে দেখি আমরা। শুনতে ক্লিশে মনে হলেও, এর ডায়নামিক্স অন্যরকম।

এত অল্প সময়ের মধ্যে এত কিছু কভার করা আসলেই দুঃসাধ্যের মত এবং অ্যানিমেটি এতে বিস্ময়কর রকমের সফল। ১১ এপিসোডেই কভার করা হয়েছে প্রায় দু বছরের স্টোরি, প্রধান চরিত্রগুলোর ব্যাকস্টোরি, জীবনের প্রতি তাদের ফিলোসফিক্যাল এবং সাইকোলজিক্যাল টেইক।

সাউন্ড আর মিউজিকের দিক দিয়েও কিন্তু বেশ ভালোভাবে উতরে যায় পিং পং দ্য অ্যানিমেশন। বিশেষ করে এন্ডিং সংটা স্কিপ করা এক প্রকার দুঃসাধ্য হয়ে উঠে পড়েছিল। আর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাউন্ড মিক্সিং নজর কেড়েছে বিশেষভাবে। মেঝেতে প্লেয়ারদের জুতো ঘষার শব্দ, বলের আওয়াজ, খেলার সময় মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া শব্দ, ভয়েস অ্যাক্টিং- সব কিছুই পারফেক্টলি সিঙ্কড মনে হয়েছে।

মনোযোগ কেড়েছে এপিসোডের নামগুলোও। এগুলোর কোন আলাদা অর্থ আছে কিনা তা আমার স্বল্পজ্ঞানের কারণে বুঝে উঠতে পারিনি কিন্তু টাইটেলগুলো আসলেই বেশ আকর্ষণীয়, একটা লিটারারি ভাব আছে। দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করে।

খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে এটি একটি deeply personal, philosophically surreal এবং visually metaphorical একটা কাহিনী যা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে টেবল টেনিসের মত বোরিং একটা স্পোর্টস দিয়ে ‘আন-বোরিং’ উপায়ে। এ অ্যানিমের অন্যতম প্লাস-পয়েন্ট হলো একে পরিপূর্ণ্রূপে উপভোগ করার জন্য পিংপং এর ‘পি’ ও জানতে হবে না দর্শককে।

অস্বাভাবিক আর্ট দেখে হয়তো অনেকেই অ্যানিমেটি দেখে না, which is a great shame, because it is one of the anime I truly enjoyed watching, and thinking and writing about. It has 8.68/10 on MAL but I somehow still think that it is underrated. আরো অনেক কিছুই লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু মাথায় আসলেও আঙ্গুলের ডগায় আসছে না। গুছিয়ে লেখা আমার কম্ম নয়। অনেক ল্যাকিংস আছে আমার লেখায়, গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই বাদ পড়ে গেছে, কিন্তু এত ভালো লেগেছে যে না লিখেও পারিনি। এনিমখোরদের প্রতি আমার রিকমেন্ডেশন হচ্ছে, আপনি যে জনরা-ই পছন্দ করুন না কেন এটি দেখুন।

[স্পয়লার সতর্কতা]
শুরুতে উদ্ধত দেখালেও শেষের দিকে গিয়ে পেকো-কে যেভাবে ‘হিরো’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে -যে কিনা জীবনের বাঁকেবাঁকে একটু একটু করে কয়েকজনের জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে- তা সত্যিই ভালো লেগেছে আমার। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে যেভাবে আত্নোন্নয়ন করেছে তা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। I liked that they didn’t make a big deal out of Peco and Smile’s final. ভালো লেগেছে লাস্ট এপিসোডে কাজামা আর স্মাইল এর রিইউনিয়ন। সত্যিই, নির্দিষ্ট একটি চরিত্রকে বিশেষভাবে পছন্দ বা অপছন্দ করা আসলেই কঠিন ছিল। কাজামা, সাকুমা, পেকো, স্মাইল- প্রত্যেক চরিত্রের সাথে রিলেট করতে পারাটা নিঃসন্দেহে এ অ্যানিমে ভালো লাগার অন্যতম কারণ।

Piano no Mori [মুভি রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

Piano no Mori 1

Piano no Mori || Piano Forest || The Perfect World of Kai

শিগাতসু এর ভূত মাথা থেকে তাড়াতে না পেরে নিয়মিতই খুঁজতে থাকি সিমিলার কিছু। আর এভাবেই পেয়ে গেছি এ মুভিটি। প্লটে কোন মিল না থাকলেও শেষের দিকে এসে শিগাতসু এর সাথে কিছু সিমিলারিটিজ লক্ষ করা যায়। বারবার কাওরি আর আরিমা-র স্টেজ পারফর্মেন্সের কথা মনে করিয়ে দেয়।

যা-হোক, অসাধারণ, ভিন্নরকম একটা মুভি দেখলাম। কেন্দ্রে থাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া দুই বালক যারা একই সাথে ঘনিষ্ট বন্ধু এবং প্রতিদ্বন্ধী।

প্রথমেই আছে মিউজিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা ধনী পরিবারের সন্তান আমামিয়া সুহেই। বাবা বিখ্যাত কনসার্ট পিয়ানিস্ট। বাবার পায়ের ছাপ অনুসরণ করবে বলে খুব ছোটবেলা থেকেই স্ট্রিক্ট লেসন এর মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে আমামিয়া। মুভির শুরুতেই দেখা যায় দাদীর অসুস্থতা উপলক্ষ্যে টোকিও থেকে গ্রামে শিফট করে আমামিয়া-র পরিবার। আরেকটি ছেলে হচ্ছে ইচিনোসে কাই। সবসময় কেয়ার-ফ্রি; সে মনের আনন্দে জঙ্গলের ভেতর একটি পুরোনো পিয়ানো বাজায়; ব্যাকগ্রাউন্ড খুবই ভিন্ন, অসচ্ছ্বল পরিবার। একজন এমনভাবে পিয়ানো বাজায় যেন তার জীবন নির্ভর করে এর ওপর, আরেকজন বাজায় অসাধারণ স্মৃতি আর পর্যবেক্ষণ থেকে।

শুরু থেকেই রহস্যময় প্লট আগ্রহ বাড়াতে থাকে। নতুন স্কুলে প্রথম দিনেই সহপাঠীরা আমামিয়া-কে চ্যালেঞ্জ ছূঁড়ে দেয় জঙ্গলের পিয়ানোটি বাজানোর জন্য। বলা হয়ে থাকে পিয়ানোটি অভিশপ্ত। বাজালেও এতে কোন শব্দ হয় না। স্কুল শেষে, একই স্কুলের ছেলে, কাই আমামিয়া-কে নিয়ে যায় জঙ্গলে। আমামিয়া ব্যর্থ হলেও কাই অদ্ভুত সুন্দর সুর তোলে একই পিয়ানোতেই। আর এভাবেই শুরু হয় এক শক্তিশালী বন্ধুত্বের। সাথে আরেক প্রধান চরিত্র, ওদেরই স্কুলের মিউজিক টিচার, আজিনো সোসুকের উপস্থিতিতে ভিন্ন মাত্রা পায় ওদের সম্পর্ক। গল্পটি এ দু’ বালকের বন্ধুত্ব, বন্ধন আর সাময়িক প্রতিদ্বন্ধিতার। ছোট্ট দুই মিউজিশিয়ানের নিজেদের পিয়ানো খুঁজে পাওয়ার গল্প।

2D মুভি হলেও অ্যানিমেশনে অসাধারণ কাজ দেখিয়েছে Madhouse. চরিত্রগুলো জীবন পেয়েছে নিখুঁত অ্যানিমেশনের কল্যাণে; ইমোশনগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যথার্থভাবে। এক্সপ্রেশনগুলো ছিল অলমোস্ট রিয়েল (কাই-এর প্রাণখোলা হাসি দেখে আমি নিজেই হাসি থামিয়ে রাখতে পারিনি বেশ কয়েকবার– এতই প্রাণবন্ত ছিল চরিত্রগুলো)। সে সাথে জেলাসি, হতাশা, হিউমার আর বিষণ্নতাও ছিল যেখানে যতটুকু দরকার।

নামের মধ্যেই পিয়ানো দেখে অনেকেই হয়তো দ্বিধা করতে পারেন। কিন্তু আসলে সেভাবে না বোঝার মত কিছুই নেই এ মুভিতে। আমি নিজে মিউজিক তেমন বুঝি না, পিয়ানো তো নয়ই– তা-ও দারুণ উপভোগ করেছি মুভিটি। কিছু মুভি আছে না? মনের কোণে লুকিয়ে থাকা হালকা মাপের ইমোশনগুলো ছোটখাটো নাতিদীর্ঘ একটা রোলার কোস্টারে চড়ানোর মত করে জাগিয়ে তোলে আর শেষ হলেই ভালোলাগায় মনটা পরিপূর্ণ করে দেয়? এটি সেরকমই একটা মুভি।

বাই দ্য ওয়ে, ম্যাল স্কোর দেখে মুভিটাকে জাজ করবেন না। মুভিটা আন্ডাররেটেড। গ্রুপে কোন পোস্ট/মেনশন না দেখে একটু অবাকই হয়েছি।

Download link 560MB [1080p]: https://kat.cr/kamigami-piano-no-mori-bd-x264-1920-1080-aac-sub-gb-big5-jap-eng-dut-ger-fre-ita-mkv-t7059503.html

Piano no Mori 2

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিএকশন] — Abdullah Ar Rayhan

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu

[স্পয়লার-ফ্রি প্রতিক্রিয়া]

অ্যানিমেটা ওয়াচলিস্টে ছিল আগে থেকেই। গ্রুপের কভার ফটো দেয়ার সাথে সাথেই দেখা শুরু করে দিয়েছিলাম। শেষ করে মনে হলো কিছু অন্তত বলা উচিত।

এপিসোড সংখ্যাঃ ১৩
জনরাঃ জোসেই, ড্রামা
MAL স্কোরঃ ৮.৬৫/১০
ব্যক্তিগত স্কোরঃ ৯/১০

অ্যানিমেটি দেখার সময় যা মনে হচ্ছিলো, গ্রীষ্মের এ তপ্ত গরমে এ যেন এক পশলা ঠান্ডা বাতাস। এক্সাম শেষ করে মূড ঠিক করতে এমন পারফেক্ট একটা অ্যানিমে দরকার ছিল।

শুরুতে একটি গম্ভীর মনে হলেও হতে পারে; তবে তা বিরক্তি তো জাগায়ই না, বরং আরো ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। ৪৭ মিনিটের পাইলট এপিসোডটা প্লট সেটিং এর জন্য একদম যথার্থ। শুরুতেই দেখা যায় কারাগার থেকে বের হওয়া এক লোক যে কিনা ভেতরে থাকা অবস্থায় “শিনিগামি” নামে একটি রাকুগো শুনে এর পারফর্মার প্রবীণ ইয়াকুমো ইউরাকুতেই এর ভক্ত বনে যায় এবং তার শিষ্য হওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। ইয়াকুমো, যিনি কিনা কখনো শিষ্য নেননি এবং নেবেন না বলে পণ করেছিলেন, কি মনে করে একে শিষ্য হিসেবে নিয়ে নেন এবং নাম দেন ‘ইয়োতারো’। মাস্টারের ওখানেই তার সাথে দেখা হয় ‘কোনাতসু’ এর যে কিনা আরেক নামী রাকুগো পারফর্মার ‘সুকেরোকু’র একমাত্র মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই ইয়াকুমো’র কেয়ারে আছে কোনাতসু। ট্রেইনিং চলাকালে মাস্টার লক্ষ্য করেন সুকেরোকু’র স্টাইলের প্রতি ইয়োতারো’র ঝোঁক; আর সে সাথে আমরা দেখি কোনাতসু’র সাথে মাস্টারের শীতল সম্পর্ক যে তার বাবার মৃত্যুর জন্য ইয়াকুমো-কে দায়ী করে। এক রাতে মাস্টার ঠিক করেন দুজনকেই তাঁর আর সুকেরোকু’র অতীত শোনাবেন। এ হলো সংক্ষেপে পাইলট এর কাহিনী।
পরের এপিসোডেই আমরা চলে যাই অতীতে, মাস্টারের জবানিতে, যেখানে আমরা দেখি কিভাবে ইয়াকুমো আর সুকেরোকুর পরিচয় হয়, কিভাবে তারা একই মাস্টারের অধীনে বেড়ে ওঠে। মাঝে মাঝেই নাতিদীর্ঘ ‘রাকুগো’ পারফর্মেন্স। [রাকুগো এক প্রকার স্টোরিটেলিং যাতে একজন পারফর্মার স্টেজে বসে একা একা পারফর্ম করে যান। স্টোরিতে সবসময়ই একাধিক ক্যারেক্টার থাকে যা পারফর্মার নিজেই ভিন্ন ভয়েস আর অঙ্গভঙ্গি দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন।]

এ অ্যানিমে কেবল দু’জন মানুষের গল্পই নয়। কেবল রাকুগোর গল্পই নয়। এতে আমরা দেখি কিভাবে ট্রানজিশন পিরিয়ডে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে একটা শিল্প (বিশেষ করে টেলিভিশন এর আবির্ভাবের কারণে রাকুগোর জনপ্রিয়তা নিয়ে শংকা দেখা দেয়)। আমরা দেখি শিল্পের চিরাচরিত দ্বন্ধ। কিকুহিকো-র (ভবিষ্যতের ইয়াকুমো) ট্রেডিশন আর পারফেকশনের প্রতি ঝোঁক, সিরিয়াস আর পরিশ্রমী মনোভাব; বিপরীতে সুকেরোকু’র ফান-লাভিং আর সময়ের সাথে মানিয়ে নেয়ার প্রবণতা। একজন মাস্টারদের প্রিয়, আরেকজন দর্শকদের। সে সাথে এটি জীবনের গল্পও। আমরা দেখি কিভাবে বিপরীতমুখী দুটি চরিত্র বাধা পড়ে যায় একে অপরের সাথে, কিভাবে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে আবেগময় গভীর বন্ধুত্ব (এপিসোড ৩ এর শেষের অংশটা পার্টিকুলারলি ইমোশনাল; চোখে পানি এনে দেয়)।

অ্যানিমের নামটা নিয়েই কিছু বলা যাক। Shouwa আর Genroku হচ্ছে দুইটা টাইম পিরিয়ড। Genroku ইরা (১৬৮৮-১৭০৩) থেকে রাকুগো জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে [সম্ভবত], আর Shouwa ইরা (১৯২৬-১৯৮৯) এর মাঝামাঝি এসে এসে ‘রাকুগো’ টার্মটি পরিচিতি পায়। Shinjuu বা ডাবল সুইসাইড দেখেই শেষটা অনুমান করে ফেলা যায় (বিশেষ করে এপিসোড ৭ এর দিকে); তবে এটাকে ঠিক প্রেডিক্টিবিলিটি বলা যায় না। যে নিপুণ দক্ষতায় অনিবার্য সমাপ্তির দিকে দর্শককে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় তা-ই এ অ্যানিমের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

শুরুর দিকে কিছুটা স্লো। এ অংশগুলো কারেক্টার বিল্ডিং এ ব্যয় করা হয় এবং অ্যানিমেটি তাতে বেশ সফল হয় সন্দেহাতীতভাবেই। স্টোরি আর কারেক্টার বিল্ডিং এ অ্যানিমের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। এমন ইনটেন্স আর সলিড স্টোরি খুব একটা দেখা যায় না, সে সাথে কিছু মন হালকা করে দেয়ার মুহুর্ত যে নেই তা নয়। পুরো অ্যানিমেতেই স্ক্রিন থেকে মনোযোগ সরানো কঠিন, তবে এপিসোড ৭ এর দিকে এসে গতি বেড়ে যায়।

আর্ট নিয়ে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। ডিটেইলের দিকে বেশ মনোযোগ দেয়া হয়েছে। যেমন একটা দৃশ্যে মুহুর্তের জন্য দেখা যায় লাইটবাল্বের মৃদু আলোতে কিভাবে পোকামাকড় ভিড় করে, আরেকটা দৃশ্যে আমরা পানিভর্তি গ্লাসের মধ্য দিয়ে দেখতে পাই কিকুহিকো আর মিয়োকিচি কে। ইনসিগনিফিক্যান্ট একেকটা দৃশ্য কিন্তু মনে ছাপ ফেলে যায়।

মিউজিক আমাকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়ে গেছে এ অ্যানিমেতে। Shamisen এর চিয়ারফুল টুংটাং যতবারই শুনেছি ততবারই মনে হয়েছে শহরের যান্ত্রিকতা ফেলে দূরে কোথাও চলে গিয়েছি, মন ভালো হয়ে গেছে প্রতিবারই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও মন ভরিয়ে দেয়ার মত। একটা দৃশ্যের কথা বলতেই হয়। ‘টেনেসি’ নামক একটা বারের দৃশ্য। কিকুহিকো আর সুকেরোকু আলোচনা করছিলো ভবিষ্যত নিয়ে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে জ্যাজ মিউজিক। এ ছোট্ট দৃশ্যেও যে মনোযোগ দেয়া হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
ওহ, যেটা ভুলে গিয়েছিলাম; ভয়েস অ্যাক্টিং নিয়ে আমি খুব একটা মাথা ঘামাইনি কখনোই এবং তেমন কিছু জানিও না তবে আমার মনে হয়েছে অ্যানিমেটিতে অসাধারণ কাজ দেখিয়েছেন ভয়েস অ্যাক্টররা। রাকুগো তে এমনিতেই একজনকে বেশ কয়েক ভয়েসে কথা বলতে হয়, এক্ষেত্রে ভয়েস অ্যাক্টররাও কম দেখাননি। কন্ঠে এত বৈচিত্র্য দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম ভিন্ন ভিন্ন অ্যাক্টর দিয়ে করানো হয়েছে কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখলাম ইয়াকুমো’র বিশেষ অংশ ছাড়া বাকিদের ক্ষেত্রে প্রত্যেক কারেক্টারে একজনই কাজ করেছেন।

সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা সিরিজ। হয়তো বুক মোচড়ানো ইমোশন নেই, হার্ট অ্যাটাক করানোর মত ক্লাইম্যাক্স বা সারপ্রাইজ নেই, তবে ড্রামা হিসেবে একটা অ্যানিমের কাছে যা আশা করা যায় তার সবই আছে। হ্যাপি ওয়াচিং।

Reaction Post: Tsuritama (2012) — Abdullah Ar Rayhan

প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত ফুজিসাওয়া শহরের অন্তর্ভুক্ত ছোট্ট একটি দ্বীপ এনোশিমা। মেইনল্যান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মনোমুগ্ধকর এ দ্বীপটি ৬০০মিটার লম্বা একটি ব্রিজ দিয়ে ফুজিসাওয়া-র সাথে যুক্ত। অপূর্ব সামুদ্রিক সৌন্দর্য দেখলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়; ইচ্ছে করে স্ক্রিনের ভেতর ঢুকে যাই। দাদির চাকুরির সুবাদে এখানকার স্থানীয় স্কুলে ট্রান্সফারড হয়ে আসে ইউকি। কোন বন্ধুবান্ধব নেই ওর। মানুষের সাথে কমিউনিকেট করতে জানে না। কারো সাথে কথা বলতে গেলেই মনে হয় ডুবে যাচ্ছে, সে সাথে নার্ভাস হয়ে চেহারা এমন হয়ে যায় যে দেখে মনে হয় সাক্ষাত দানব, রাগে এখুনি খেয়ে ফেলবে। প্রথমদিনেই তার সাথে দেখা হয় হাতে রহস্যময় ওয়াটার-গান নিয়ে ঘুরে বেড়ানো অদ্ভুত এক ছেলের। হারু নামের সরল সিধে এ ছেলেটি নিজেকে এলিয়েন বলে দাবি করে। মানুষকে কাছে টানার আশ্চর্য এক গুণ আছে ওর। শুরুতে অসহ্য লাগলেও ক্রমেই হারু ইউকি-র সবচেয়ে কাছের বন্ধুতে পরিণত হয়। ওদের সাথে একই ক্লাসে পড়া আরেকটি ছেলে নাতসুকি। গোমড়ামুখো নাতসুকি মাছ ধরায় তুখোড় দক্ষতার সুবাদে স্কুলের বাইরে প্রিন্স নামে পরিচিত। আর এদেরকেই সবসময় দূর থেকে লক্ষ্য রাখে কোলে হাঁস নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ইয়ামাদা নামের এক ভারতীয়। সিরিজের প্রধান চারটি চরিত্রের সবারই নিজস্ব একটা গল্প আছে। আছে বৈপরিত্য। তারপরও কিভাবে তারা এক বিন্দুতে মিলিত হয়? কিভাবে কাছের বন্ধু হয়ে ওঠে একেকজন? উত্তর মিলবে শুরুতেই। হারুর চাপে মাছ ধরতে রাজি হয় ইউকি। এখানেই এসে পড়ে নাতসুকি, যে এ দুজনকে মাছ ধরা শেখায়।

আপাতদৃষ্টিতে সিরিজটি হাসি, রাগ আর মাছধরার মধ্য দিয়ে চার স্ট্রেঞ্জারের বন্ধু হয়ে ওঠার গল্প। সমুদ্রে মাছ ধরা আর হারু-র অদ্ভুত কিন্তু নির্দোষ কর্মকান্ড দেখতে দেখতে নিজের অজান্তেই মন ভাল হয়ে যাবে। ঈর্ষা হবে। একেবারে আদর্শ কমেডি – স্লাইস অফ লাইফ মিক্স। তাহলে এর মাঝে সায়েন্স ফিকশনটা কোথায়? মনে কি আছে কি হারু-র ইউকি-কে মাছ ধরতে চাপাচাপির কথা? এর কারণ কি? হারু-ই বা কোত্থেকে এসেছে? ইয়ামাদা-র উদ্দেশ্য কি? সামান্য মাছ ধরার সাথে দুনিয়া বাঁচানোর যোগসূত্র কোথায়?

সিরিজটি শুরু হয়েছে দারুণভাবে। চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশ ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে আর্টওয়ার্কে। ব্যক্তিগতভাবে ইউকি-র ফেইসটা আমার পছন্দ হয়েছে। উঠতি বয়সের সব বৈশিষ্ট্যের সাথে লাল চুল যোগ করাটা ভাল লেগেছে কেন জানি বেশ। আর মিউজিক নিয়ে অভিযোগ করার কোন উপায় নেই। ওপেনিং-এন্ডিং এত্ত চিয়ারফুল যে একটাও স্কিপ করার মত না। খুব সম্ভাবনাময় এ অ্যানিমেটি কিছুটা ট্র্যাক হারিয়ে ফেলে শেষের দিকে এসে, সায়েন্স ফিকশন রিলেটেড ব্যাপারগুলো বোঝা দায়। যেগুলা কোন সেন্স তৈরি করে না উল্টো কেমন যেন একটা ভজকট পাকিয়ে দেয়। সিরিজটি এ জনরার প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। এন্ডিংটা বেশ অদ্ভুত। অ্যানিমের কাহিনী নিয়ে কিছু জটিলতা থাকলেও আমি বলবো কমেডি-র ক্ষেত্রে সুবিচার করেছে, সে সাথে কিছুটা থ্রিলিংও বটে! বিশেষ করে ইউকির প্রথম মাছ ধরার সময়টায় আমি নিজেও উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলাম। শেষের দিকের অংশটুকু ঠিক বুঝে কুলিয়ে উঠতে না পারলেও ওভারঅল দেখার মত একটা অ্যানিমে।

Episodes: 12
Genres: Comedy, Sci-Fi, Slice of Life, Sports
MAL Score: 7.88
Personal Rating: 7.5

Tsuritama

মুভি রিভিউ: Redline (2009) — Abdullah Ar Rayhan

মুভি রিভিউ — Redline (2009)

Director: Takeshi Koike
Producers: Madhouse, Anchor Bay Films
Genres: Action, Cars, Sci-Fi, Sports
Rating: R+
MAL Score: 8.35

Redline

জনরা দেখেই মুভির প্লট সম্পর্কে কিছুটা আঁচ পেয়ে যাওয়ার কথা। এ এক দূর ভবিষ্যতের গল্প। মানুষ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে। এলিয়েনদের সাথেই সহাবস্থান তাদের। অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি হোভার-কার যখন স্বাভাবিক গাড়িগুলোর স্থান দখল করে নিচ্ছে, কেউ কেউ তখনও সর্বস্ব দিয়ে রেস করে যাচ্ছে। জেপি (JP) এমনই একজন রেসার। এই রেসে তার টিমমেট বন্ধু ফ্রিসবি (Frisbee) যার কাজ জেপি-র গাড়ি প্রস্তুত করে দেয়া। মুভির শুরু হয় ইয়েলো লাইনে হওয়া অ্যাকশনে ভরপুর এক রেস দিয়ে যেখানে দেখা যায় শুরুতে পিছিয়ে থাকা সত্তেও শেষ কোয়ার্টারে সবাইকে পেছনে ফেলে ঠিকই এগিয়ে যায় জেপি। কিন্তু বিধিবাম, মাফিয়ার চাপে আগে থেকেই ফিক্স করা রেসে জয়ী হওয়া তার সাধ্যে নেই। জিতে গিয়ে পরবর্তী রেডলাইন রেসে নিজের জায়গা করে নেয় মুভির আরেক কেন্দ্রীয় চরিত্র সোনোশি (Sonoshee), ছোটবেলা থেকেই যার লক্ষ্য রেডলাইন রেসে জেতা। রেডলাইন, গ্যালাক্সির সবচেয়ে বিখ্যাত আন্ডারগ্রাউন্ড রেস, তাদের পরবর্তী ভেন্যু ঠিক করে বিপজ্জনক রোবোওয়ার্ল্ডে। হেরে গিয়েও কয়েকজনের ড্রপআউটের সৌজন্যে জেপি-ও জায়গা পেয়ে যায় রেডলাইনে। প্রশ্ন হল ফিক্সিং বাধা অতিক্রম করে জেপি কি রেডলাইন জিততে পারবে? তাহলে সোনোশি-র আজন্ম লালিত স্বপ্নের কি হবে? রোবোওয়ার্ল্ডের কর্তাব্যক্তিরাও বা কেন তাদের গ্রহে এ রেস হতে দিতে নারাজ?

এ মুভি নিয়ে কিছু লিখতে হলে প্রথমেই আসবে আর্টওয়ার্কের কথা। এখানে উল্লেখ্য, মুভিটি প্রোডাকশনে সময় লেগেছে সাত বছর আর এতে ব্যবহার করা হয়েছে হাতে আঁকা ১ লক্ষেরও বেশি ড্রয়িং। নিঃসন্দেহে বলা যায়, All those hard works paid off in a beautiful, mind blowing way. প্রথম দৃশ্য থেকেই আর্টস্টাইল নজর কেড়ে নেবে যা দেখলে একটা কথাই মনে আসে– ‘চোখ ধাঁধানো’। দেখে মনে হবে একেবারে কমিকবুক থেকে তুলে আনা। এত কালারফুল আর ভিন্নধর্মী আর্টওয়ার্ক আর কোথাও চোখে পড়েনি। আর্টস্টাইলই একে অন্য যেকোন অ্যানিমেশন থেকে আলাদা করে রাখবে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন অ্যাকশন। এক অর্থে পুরো মুভিই অ্যাকশনে ভরপুর, আর তা ফুটিয়ে তোলাও হয়েছে যথোপযুক্ত ভাবে। বারবার দেখার মত। এত ফাস্ট-পেসড যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্লো-মোশনে দেখার দরকার পড়ে। ভিন্নধর্মী আর্টস্টাইল আর দুর্দান্ত অ্যাকশন সিকোয়্যেন্সের এ মুভিটি এক কথায় একটি ভিজ্যুয়াল ট্রিট। এতই যে, রেসে কে জিতবে বা হারবে সে চিন্তা বাদ দিয়ে শুধু অ্যাকশন দেখাতেই নিমগ্ন হয়ে যাবেন। [এখানে একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার শেয়ার করি। মুভিটা আমি প্রথমে ডাউনলোড করেছিলাম নরমাল 1080p Bluray প্রিন্টে যা সাইজে ছিল ১.৬১জিবি, কিন্তু সাথে আরেকটু ভালো কোয়ালিটি পাওয়ার আশায় ৭.২১জিবি-র আরেকটি ফাইল ডাউনলোড দিয়ে রেখেছিলাম। মুভি দেখার মাঝপথে এসে দ্বিতীয় ফাইলটি ডাউনলোড কমপ্লিট হয়; আমিও বেটার কোয়ালিটি পেয়ে আবার প্রথম থেকে দেখা শুরু করি। এ কথা বলার একটাই কারণ, মুভিটি ভিজ্যুয়ালি এতই সুন্দর যে ইমিডিয়েটলি আবার প্রথম থেকে দেখতে একটুও দ্বিধা করিনি।]

আর্ট আর অ্যানিমেশনের পাশাপাশি সাউন্ডের কথাও বিশেষ করে বলতে হয়। কিছুটা ইলেক্ট্রিক ঘরানার মিউজিক রেস আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে পুরোপুরি মানিয়ে গেছে। আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে কানফাটানো সাউন্ডের সিঙ্ক্রোনাইজেশনও পারফেক্ট। এখানে আরেকটি ব্যাপার উল্লেখ করতে হয়। মূল চরিত্রগুলোর ভয়েস দেয়ার ক্ষেত্রে সত্যিকারের অ্যাক্টরদের উপরে জোর দেয়া হয়েছে। জেপি-র কন্ঠ দিয়েছেন জাপানি টিভি অভিনেতা Takuya Kimura, সোনোশি-র কন্ঠ দিয়েছেন নামী অভিনেত্রী Yû Aoi আর ফ্রিসবি-র কন্ঠ দিয়েছেন বিখ্যাত Tadanobu Asano যিনি হলিউডেও নিজেকে চিনিয়েছেন। বোঝাই যায়, আর্ট আর সাউন্ডে কোন ছাড় দেয়া হয়নি।

মুভিটির স্টোরি নিয়ে মতামত ব্যক্ত করতে গেলে একই সাথে বলতে হয় দুর্বল কিন্তু মানানসই। দুর্বল দিকগুলোর মধ্যে আছে রোবোওয়ার্ল্ডে দেখানো কিছু সাব-প্লট যার সাথে মূল কাহিনীর সরাসরি কোন যোগাযোগ নেই, উদ্দেশ্যহীনতা এবং ক্লিশে ভাব। একই সাথে মানানসই বলার কারণ হচ্ছে রেসিং মুভিটিতে মূল ফোকাস এন্টারটেইনধর্মী অ্যাকশন বলে এর বেশি কিছু যোগ করার সুযোগও নেই। তবে রেসগুলো দেখার সময়কার অ্যাড্রেনালিন-রাশ আপনাকে এ দুর্বলতা অনেকাংশেই ভুলিয়ে দেবে। অপ্রয়োজনীয় সাব-প্লট বাদ দিয়ে দৈর্ঘ্যে আরেকটু কমিয়ে দিলে মুভিটি আরো উপভোগ্য হত, সন্দেহ নেই।

কারেক্টার ডেভেলপমেন্ট সেভাবে করা হয়নি। কেবল জেপি আর সোনোশি-র কিছু ফ্ল্যাশব্যাক দেখানো হয়েছে। চরিত্রগুলোর গভীরতা আরেকটু বাড়ানো যেত কিন্তু মুভিটি-তে সম্ভবত ইচ্ছে করেই কোন সিরিয়াসনেস আনা হয়নি।

শেষ কথা হচ্ছে সিরিয়াস বা ইন্টেন্স কোন কিছুর আশা করলে হতাশ হতে হবে কিন্তু পিওর ফান আর উত্তেজনাময় অ্যাকশন দেখার ম্যূডে থাকলে ১০০ মিনিট পুরো ১০০ভাগই উসুল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে একটি কথা– যত ভালো কোয়ালিটি আর বেশি সাউন্ড নিয়ে দেখা যাবে তত ভালো লাগবে।
রেটিংঃ ৭.৭৫/১০ (কাহিনী আর চরিত্রায়ন আরেকটু ভাল হলে ৯ দেয়া যেত।)

IMDb(7.5): http://www.imdb.com/title/tt1483797/

Torrent Link: http://extratorrent.cc/torrent/2484482/%5BBSS%5D+REDLINE+%5B1080p%5D.mkv.html

Direct Download+Streaming Link: http://kissanime.com/Anime/Redline/Movie-BSS?id=66166

MEGA Link: https://mega.nz/#!lsh21a7D!NvlnGBfw71xdKIRR6eomXUhYqpkZ5mLiUC5EEIDgKfs

 

Arslan Senki (TV) [আনিমে রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

 

~অ্যানিমে রিভিউ~

Anime Name: Arslan Senki (TV) AKA The Heroic Legend of Arslan
Genre: Action, Adventure, Drama, Fantasy, Historical, Supernatural
Episodes: 25
MAL Rating: 7.90

মুভি, বই, মাঙ্গা বা সিরিজ যা-ই বলুন বর্তমানে ফ্যান্টাসির জয়জয়কার। এ যেন আমাদের ছোটবেলার স্বপ্নকেই একের পর এক স্ক্রিনে রূপ দেয়া। রূপকথার গল্প পড়ে নিজেকে যেমন কল্পনা করতাম অজানা কোন এক রাজ্যের সর্বজয়ী প্রিন্স হিসেবে যে কিনা রাজ্য থেকে সব খারাপ দূর করবে, মানুষ যাকে হিরোর আসনে বসাবে। আরস্লান সেনকি সেরকমই একটি ফ্যান্টাসি সিরিজ যাতে দেখানো হয়েছে এক প্রিন্সের হিরো হয়ে ওঠার গল্প।

The Heroic Legend of Arslan হচ্ছে মূলত ইয়োশিকি তানাকা-র লেখা ফ্যান্টাসি নভেল সিরিজ যা পরে দুইবার মাঙ্গায় অ্যাডাপ্ট করা হয়। এর মধ্য থেকে হিরোমু আরাকাওয়া-র ইলাস্ট্রেট করা মাঙ্গা থেকে অ্যাডাপ্ট করা হয় ২৫ এপিসোডের আরস্লান সেনকি সিরিজটি।

প্লটঃ

মধ্যযুগের ঠিক আগেকার সময়। পূর্ব আর পশ্চিমের মধ্যবর্তী মহাদেশীয় হাইওয়ের পাশে আছে পার্স(Pars) নামের সম্পদশালী এক দেশ যা শাসন করেন প্রতাপশালী রাজা ৩য় অ্যান্ড্রাগোরাস। রাজ্যের একমাত্র প্রিন্স, আরস্লান, যে কিনা রাজার একমাত্র উত্তরাধিকারী, এ সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র। প্রিন্সের ১৪বছর বয়সে, পার্স ইরা ৩২০ সালে, শত্রুরাজ্য লুসিতানিয়ানদের সাথে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাজিত হয় রাজা অ্যান্ড্রাগোরাস। পার্স চলে যায় লুসিতানিয়ানদের দখলে। কি এমন হয়েছিল যার কারণে অজেয় পার্স সেনাবাহিনীর এ অসহায় আত্নসমর্পণ? দারিয়ুন, আরস্লানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রক্ষী ও সঙ্গী এবং এবং তার বন্ধু নারসাস যাত্রা করে এক অ্যাডভেঞ্চারে যার মূল লক্ষ্য হারানো রাজধানী পুনরুদ্ধার করা এবং ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের সাথে যুক্ত হয় আরো অনেকেই যারা ক্রমে আরস্লানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচরে পরিণত হয়। সামনে বাধা হয়ে আছে লুসিতানিয়ানরা আর সিলভার মাস্ক পরে থাকা রহস্যময় এক যুবক। ইতোমধ্যে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, ‘শক্তিশালী বাধা উপেক্ষা করে রাজ্যোদ্ধার করতে পারবে কি আরস্লান ও তার সঙ্গীরা? পারলে কিভাবে? এ জন্য যে আর্মি লাগবে তা-ই বা কোথায় পাবে?

বুঝতেই পারছেন এটি যুদ্ধ আর রাজ্যজয়ের এক চিরাচরিত গল্প। এমন কিছুই নেই যা আমরা আগে কোথাও দেখিনি। কাহিনীর গতি শুরুতে বেশ ভাল হলেও মাঝে এসে এত ধীর হয়ে যায় যে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার যখন শেষের দিকে এসে যুদ্ধের সময়গুলো দেখায় তখন বেশ ফাস্ট হয়ে যায় যে যুদ্ধের দৃশ্যগুলো ঠিক বুঝে ওঠা যায় না। তাছাড়া প্রায় সব জায়গায়ই নারসাস-কে এমন এক স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে দেখানো হয়েছে যার কিনা কখনো ভুল হতে পারে না। মূলত স্ট্র্যাটেজিগুলো খুবই সাধারণ মানের এবং কোন চমক জাগাতে পারেনি। খানিক অবাস্তবও। আরো যেটার অভাব অনুভব করেছি তা হল ইনটেনসিটি। আপনি যুদ্ধ, রাজ্য, বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে কিছু একটা দেখবেন আপনি একটা টানটান উত্তেজনা আশা করতেই পারেন। এছাড়াও গল্পের সাথে রাজনীতির যে ব্যাপারটা জড়িয়ে আছে তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি বলেই আমি মনে করি। মনে হয়েছে কাহিনীর স্রোতটা মাঝে এসে কেমন যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে। ছোটখাটো কিছু চমক অবশ্য আছে, তবে এগুলো আরো ভালভাবে দেখানো যেত পারতো বলে আমার বিশ্বাস।

আর্ট ও অ্যানিমেশনঃ

আর্ট আর অ্যানিমেশন এ সিরিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। মাঙ্গার ডিজাইন করেছেন Fullmetal Alchemist আর Silver Spoon এর ইলাস্ট্রেটর হিরোমু আরাকাওয়া। সাথে প্রোডাকশনে ছিল Universal Studio-র জাপানি অঙ্গসংঠন। আর্ট ভালো হওয়াটা প্রত্যাশিতই ছিল। ইনডিভিজ্যুয়াল ফাইটগুলো খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে যুদ্ধের দৃশ্যগুলো আরেকটু বেশি দেখালেই ভাল হত মনে হয়। তাছাড়া কিছু হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট দেখানো দরকার ছিল। যাই হোক, কিছু কিছু জায়গায় অ্যানিমেশন কোয়ালিটি একটু ফল্টার করলেও পুরো সিরিজের তুলনায় তা একেবারেই নগণ্য।

মিউজিক ও সাউন্ডঃ

Uverworld এর গাওয়া প্রথম ওপেনিং আর Eir Aoi এর গাওয়া এন্ডিং আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। ২য় ওপেনিংটিও মোটামুটি কিন্তু এক্ষেত্রে এন্ডিংটা কেন যেন ভাল লাগেনি। সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও ভাল করেছে। আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে সাউন্ডের মেলবন্ধন বিশেষ করে যুদ্ধের ক্ষেত্রে যেভাবে করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়।

চরিত্রায়নঃ

অগভীর চরিত্রায়ন এ অ্যানিমের আরেকটি দুর্বল দিক। মূল চরিত্র আরস্লানের চরিত্রায়নটা বেশ ভাল হলেও পার্শ্বচরিত্রগুলোর সেভাবে কোন গভীরতা দেখানো হয়নি। কেবল তাদের ভূমিকাটাই দেখানো হয়েছে। মাঝে কাহিনীকে টেনে লম্বা না বানিয়ে এ সময়টা চরিত্রায়নে ব্যয় করলে দুর্বুল স্টোরি সত্তেও খুব সুন্দর একটা অ্যানিমে হতে পারতো।

ওভারঅল, এটি কনভেনশনাল এক কাহিনী আর অসাধারণ CGI works এর সমন্বয়ে করা মোটামুটি দেখার মত একটি অ্যানিমে। রেট করলে আমি এটিকে দু’ভাবে রেট করব। এক, নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে; দুই, পার্টিকুলারলি হিস্টোরিকাল আর ওয়ার ড্রামার ভক্ত হিসেবে।

নিরপেক্ষঃ ৬.৫/১০
বায়াসডঃ ৮/১০ (অর্থাৎ আপনি ‘বিশেষভাবে এ জনরার’ অ্যানিমের ভক্ত হলে নির্দ্বিধায় দেখে ফেলুন।)

পরিশেষে, আশা করি Season-2 তে ভুলগুলো শুধরিয়ে আমাদের ক্লাসিক একটা ওয়ার ড্রামা উপহার দেবে।

Arslan Senki (TV) AKA The Heroic Legend of Arslan