|| Ping Pong the Animation নিয়ে আমার নিজের ইন্টারপ্রিটেশন ||
এক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে চার জন হাই স্কুল ছাত্রকে নিয়ে আবর্তিত একটি কামিং-অফ-এজ স্টোরি বলা যায় যেখানে আমরা দেখি কিভাবে পিংপং তাদের লাইফকে শেইপ করে। কিন্তু কিছুদূর দেখলেই যে কেউ বুঝবে যে এ অ্যানিমে তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু।
শুরুটা হয় দুজন হাই স্কুল ফ্রেশার দিয়ে– ‘পেকো’ আর ‘স্মাইল’। পেকো-কে আপনি এক ধরণের ওয়ান্ডারবয় বলতে পারেন; আপাতদৃষ্টিতে খুব বেশি এফোর্ট দেয়া ছাড়াই যে গ্রেড স্কুল থেকেই প্রতিপক্ষদের নিয়মিত হারিয়ে আসছে, তার চরিত্র বেশ ইগো-সেন্ট্রিক। অন্যদিকে স্মাইল যদিও ভালো খেলে, সে পেকো-র ছায়ায়ই থেকেছে সবসময়। অথচ তাদের প্রথম ইন্টারস্কুল প্রিলিমিনারি টুর্নামেন্টে নজরটা স্মাইল-এর ওপরই বেশি পড়ে। চরিত্রগত দিক দিয়ে পেকো-র বিপরীত মেরুতে এর অবস্থান। সবসময় শান্ত, অনুত্তেজিত, রোবটিক। বাকি প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কাজামা এবং চীন থেকে নির্বাসিত হওয়া কং।
এটুকু থেকে এটা স্পষ্ট যে অ্যানিমের সেটিং হাইস্কুল পিংপং but don’t let me fool you, it’s much more than that. You see, এটা কোন টিপিক্যাল স্পোর্টস অ্যানিমে না। পিংপংকে এখানে কেবল অনুঘটক বলা যেতে পারে। আপনি নরমাল স্পোর্টস অ্যানিমের মত এখানে কোন বিশেষ ট্রিক পাবেন না, কোন আগুনে rivalry পাবেন না (যদিও একেবারে যে নেই তা-ও নয় কিন্তু মূল গল্পের তুলনায় তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়)। এটি যতটা না খেলা নিয়ে, তার চেয়েও বেশি জীবন নিয়ে, নিজেকে খুঁজে পাওয়া নিয়ে। তবে এর মানে এই না যে এটায় স্পোর্টস এলিমেন্ট নেই। যথেষ্ট এক্সাইটিং মোমেন্টস আছে। স্পোর্টস এলিমেন্টগুলো ফিলোসফিক্যাল আর সাইকোলজিক্যাল অ্যাস্পেক্টগুলোর সাথে এত সুন্দরভাবে ব্যালেন্স করা হয়েছে যে বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না।
যে তিনটা বৈশিষ্ট্য সিরিজটিকে ইউনিক করে তা হলো আর্ট স্টাইল, চরিত্রায়ন আর গল্পের গভীরতা। প্রথমেই মনে হবে যেন জীবন্ত একটা স্কেচবুক দেখছি। সাথে ওয়াটারকালার ব্যাকগ্রাউন্ড একটা পেইন্টিং ভাব এনে দেয়। যে আর্টিস্টিক অ্যাপ্রোচে অ্যানিমেশন করা হয়েছে তা থেকেই বোঝা যায় কত এফোর্ট দেয়া হয়েছে এর পেছনে। অনেকেই এমন আর্টস্টাইলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারে কিন্তু আমার জন্য এটা ছিল একটা ভিজ্যুয়াল ট্রিট। এমন একটা অ্যানিমের জন্য এরকম আর্ট পারফেক্ট মনে হয়েছে আমার কাছে। চরিত্রগুলোর মুভমেন্ট বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে উঠেছে; আর এ প্রথম কোন অ্যানিমে দেখে আমার কারেক্টারগুলোকে জাপানীজ মনে হলো। 😛 আর্ট ভালো না লাগলেও একবার স্টোরিতে ঢুকে গেলে আর bother করবে না এটা গ্যারান্টিড।
এত অল্প সময়ে এত পরিপূর্ণ চরিত্রায়ন সত্যিই ইম্প্রেস করার মত। আপনি এদের ওপর ক্রাশ খাবেন না, দিবাস্বপ্নও দেখবেন না; কিন্তু প্রতিটা চরিত্রের সাথেই আমরা কেউ না কেউ রিলেট করতে পারবো। এ চরিত্রগুলো বাস্তব থেকে তুলে আনা, আপনার আমার মতই মানুষ এরা, এবং এখানে তাদের দেখানোও হয়েছে মানুষ হিসেবেই। স্টোরি এগুনোর সাথে সাথে আমরা চরিত্রগুলোকে চিনতে শিখি, তাদের মনস্তত্ব ধরতে পারি, আর পিংপং খেলার মধ্য দিয়ে তাদের ডেভেলপমেন্ট দেখি। যেটা উল্লেখযোগ্য তা হলো, ছোটখাটো চরিত্রগুলোকেও বেশ ভালোভাবে ডেভেলপ করা হয়েছে, তাদের জীবন নিয়েও আমরা জানার সুযোগ পাই। অন্যান্য অ্যানিমের মত, এখানে দর্শককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয় নি। ভালো-মন্দের কোন রেখা দেখানো হয়নি। কোন চরিত্রকে অপছন্দ করা যায় না, বরং যত ছোটই হোক, সবাই নিজ আলোয় উজ্জ্বল এবং আপনি তাদের অ্যাপ্রিশিয়েট করবেন।
মূলত character driven হলেও সিরিজের প্লট শুরু থেকেই মনোযোগ ধরে রাখে। গল্প নির্দিষ্ট কোন সরলরেখায় না এগিয়ে চরিত্রগুলোর ওপর ফোকাস করে। তাদের সমস্যা, তাদের মোটিভেশন, প্যাশন, সাইকোলজি এগুলোই বেশি গুরুত্ব পায় কাহিনীতে।
What drives us to be what/where we are? প্যাশন? উচ্চাকাংক্ষা? নিজেকে সবার ওপরে দেখতে চাওয়ার মনোবাসনা? নাকি যা করি তার প্রতি ভালোবাসা? অনেকটুকু সময় ধরেই এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হয়।
আমরা দেখি পেকো-র নিজেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রূপে দেখার বাসনা, কং-এর জাপানে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাংক্ষা, কাজামা-র নিজের এবং স্কুলের সম্মান ধরে রাখার দায়িত্ব, নিখাদ কঠোর পরিশ্রম আর চর্চা দিয়ে সাকুমা-র মেধাহীনতাকে ওভারকাম করার প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি। কিন্তু এগুলোই কি সব? তবে স্মাইল কিসের দ্বারা তাড়িত হয়? এখানে এক্সপ্লোর করা কে হয় চরিত্রগুলো আসলে কারা, তারা কি করতে পারে, কি তাদের পরিচালনা করে। একেকটা এপিসোড যাওয়ার সাথে সাথে আমরা বুঝতে পারি। আমরা অনুধাবন করি যে পেকো, কাজামা, কং, সাকুমা- এরা আসলে আমরা নিজেরাই। প্রতিদ্বন্ধিতার মধ্য দিয়েও চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে ইন্টার-অ্যাকশন করার মধ্য দিয়ে এক অদ্ভুত রকমের বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে দেখি আমরা। শুনতে ক্লিশে মনে হলেও, এর ডায়নামিক্স অন্যরকম।
এত অল্প সময়ের মধ্যে এত কিছু কভার করা আসলেই দুঃসাধ্যের মত এবং অ্যানিমেটি এতে বিস্ময়কর রকমের সফল। ১১ এপিসোডেই কভার করা হয়েছে প্রায় দু বছরের স্টোরি, প্রধান চরিত্রগুলোর ব্যাকস্টোরি, জীবনের প্রতি তাদের ফিলোসফিক্যাল এবং সাইকোলজিক্যাল টেইক।
সাউন্ড আর মিউজিকের দিক দিয়েও কিন্তু বেশ ভালোভাবে উতরে যায় পিং পং দ্য অ্যানিমেশন। বিশেষ করে এন্ডিং সংটা স্কিপ করা এক প্রকার দুঃসাধ্য হয়ে উঠে পড়েছিল। আর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাউন্ড মিক্সিং নজর কেড়েছে বিশেষভাবে। মেঝেতে প্লেয়ারদের জুতো ঘষার শব্দ, বলের আওয়াজ, খেলার সময় মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া শব্দ, ভয়েস অ্যাক্টিং- সব কিছুই পারফেক্টলি সিঙ্কড মনে হয়েছে।
মনোযোগ কেড়েছে এপিসোডের নামগুলোও। এগুলোর কোন আলাদা অর্থ আছে কিনা তা আমার স্বল্পজ্ঞানের কারণে বুঝে উঠতে পারিনি কিন্তু টাইটেলগুলো আসলেই বেশ আকর্ষণীয়, একটা লিটারারি ভাব আছে। দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করে।
খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে এটি একটি deeply personal, philosophically surreal এবং visually metaphorical একটা কাহিনী যা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে টেবল টেনিসের মত বোরিং একটা স্পোর্টস দিয়ে ‘আন-বোরিং’ উপায়ে। এ অ্যানিমের অন্যতম প্লাস-পয়েন্ট হলো একে পরিপূর্ণ্রূপে উপভোগ করার জন্য পিংপং এর ‘পি’ ও জানতে হবে না দর্শককে।
অস্বাভাবিক আর্ট দেখে হয়তো অনেকেই অ্যানিমেটি দেখে না, which is a great shame, because it is one of the anime I truly enjoyed watching, and thinking and writing about. It has 8.68/10 on MAL but I somehow still think that it is underrated. আরো অনেক কিছুই লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু মাথায় আসলেও আঙ্গুলের ডগায় আসছে না। গুছিয়ে লেখা আমার কম্ম নয়। অনেক ল্যাকিংস আছে আমার লেখায়, গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই বাদ পড়ে গেছে, কিন্তু এত ভালো লেগেছে যে না লিখেও পারিনি। এনিমখোরদের প্রতি আমার রিকমেন্ডেশন হচ্ছে, আপনি যে জনরা-ই পছন্দ করুন না কেন এটি দেখুন।
[স্পয়লার সতর্কতা]
শুরুতে উদ্ধত দেখালেও শেষের দিকে গিয়ে পেকো-কে যেভাবে ‘হিরো’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে -যে কিনা জীবনের বাঁকেবাঁকে একটু একটু করে কয়েকজনের জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে- তা সত্যিই ভালো লেগেছে আমার। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে যেভাবে আত্নোন্নয়ন করেছে তা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। I liked that they didn’t make a big deal out of Peco and Smile’s final. ভালো লেগেছে লাস্ট এপিসোডে কাজামা আর স্মাইল এর রিইউনিয়ন। সত্যিই, নির্দিষ্ট একটি চরিত্রকে বিশেষভাবে পছন্দ বা অপছন্দ করা আসলেই কঠিন ছিল। কাজামা, সাকুমা, পেকো, স্মাইল- প্রত্যেক চরিত্রের সাথে রিলেট করতে পারাটা নিঃসন্দেহে এ অ্যানিমে ভালো লাগার অন্যতম কারণ।

