Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিভিউ] — Safin Zaman

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu

শৌয়া গেনরোকু রাকুগো শিনজু সিজন ১+২ 
Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu
[স্পয়লারবিহীন রিভিউ]

ভালো একটা গল্প শুনতে কেই-ই বা পছন্দ করে না? সেই ছোটবেলায় দাদী-নানিদের কাছ থেকে রুপকথার গল্প শোনা থেকে বড় হবার পর মুভি, সিরিজ, অ্যানিমেতে ঝোঁকা- সবই একটা ভালো গল্পের আশায়। এই গল্পের পেছনে ছোটার মাঝে হয়তো চোখেই পরে না মানুষের জীবনেও কতশত গল্প,অণুগল্প লুকিয়ে আছে। এই জিনিসটাই চোখে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেয় Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu। একজন গল্পকথকের জীবনটা যে তার বলা গল্পগুলোর চেয়ে কোন অংশে কম নয় তাই এনিমটির উপজীব্য বিষয়। আর শৌগেন এই বিষয়টা এতটাই চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে তার প্রশংসা না করলেই নয়।

রাকুগো। আক্ষরিক অনুবাদ করলে হয় ‘পড়ন্ত শব্দ’। জাপানের এক ঐতিহ্যবাহী গল্পকথন মাধ্যম। সাধারণত একজন গল্পকথক মঞ্চে বসে দর্শকদের অনবরত গল্প বলে যান। গল্প বলার মাঝে গল্পের চরিত্রগুলোর কথাবার্তাও কথককে অভিনয় করে দেখাতে হয় যা মোটেও সহজ কাজ নয়। রাকুগো মেইজি পিরিয়ড এর মাঝামাঝি শুরু হয়ে পূর্ণ জনপ্রিয়তা লাভ করে শৌয়া পিরিয়ডে। কালের বিবর্তনে অনেকটাই বিলুপ্ত আজ একসময়কার জনপ্রিয় এ বিনোদন মাধ্যম।

শৌগেনের গল্প শুরু হয় সদ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়া ইয়োতারো এবং তার বিখ্যাত রাকুগো শিল্পী ইয়াকুমোর শিষ্য হিসেবে নিযুক্ত হবার মধ্য দিয়ে। ইয়োতারো আর কয়েকজন চরিত্রের সাথে পরিচয় হবার পরপরই গল্প চলে যায় ফ্ল্যাশব্যাকে যেখানে আমরা দেখতে পাই কিভাবে সামান্য এক কিকুহিকু জাপানের অন্যতম সেরা রাকুগো শিল্পী ইয়াকুমোতে পরিণত হয়। এর সাথে পরিচিত হই ইয়াকুমোর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মানুষ সুকেরোকো, মিয়োকিচি এবং আরো কিছু চরিত্রের সাথে যারা পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রথম সিজন প্রায় সবটুকুই ফ্ল্যাশব্যাক। প্রথম সিজন শেষে দ্বিতীয় সিজনে শুরু হয় এনিমের একেবারে শুরুতে দেখা ইয়োতারোর গল্প। মডার্ন জাপান, যেখানে হাত বাড়ালেই টেলিভিশন,রেডিওর মত বিনোদন মাধ্যম সেখানে রাকুগোকে বাঁচিয়ে রাখার মত অসম্ভব দায়িত্ব নিয়ে ইয়োতারোর প্রচেষ্টা । হয়তো ইয়োতারোর তার মাস্টারের মত প্রতিভা নেই, কিন্তু তার যা আছে তা হলো রাকুগোর প্রতি ভালবাসা। এই ভালবাসা আর তার কমেডিক রাকুগো দিয়ে সে চায় দর্শকদের মনে রাকুগোর প্রতি ভালবাসা তৈরী করতে।

এখন আসি এই এনিম কেন দেখবেন। শৌগেন দেখবেন এর গল্পের স্বাচ্ছন্দ্যময়তার জন্য। এত ভালো পেসিং এনিমেতে খুব কমই দেখেছি। খুব দ্রুতও না, আবার ধীরে ধীরে যেয়ে দর্শকদের বোর করে দেওয়ার মতনও না। দুইয়ের মাঝামাঝি এক সুন্দর গতিতে এগিয়ে চলে গল্প, যা দর্শকদের সম্মোহনী শক্তিতে আবদ্ধ করে ফেলতে সক্ষম। এমনো হয়েছে শৌগেন দেখে আমি এতটাই বুঁদ হয়ে গিয়েছি যে বৃষ্টির ঝাপটা খাতাপত্র ভিজিয়ে দিচ্ছে কিন্তু আমি কানে হেডফোন দিয়ে কিকুহিকুর রাকুগো শুনছি।

এরপর আছে এর চরিত্র আর তাদের চরিত্রায়ন। শৌগেনের প্রত্যেকটা চরিত্রই তাদের নিজেদের দিক থেকে অনন্য। কাকে রেখে কার কথা বলব। কিকুহিকু, ছোটবেলা থেকেই যে তার বন্ধু সুকেরোকোর সহজাত রাকুগো প্রতিভা দেখে হীনম্মন্যতায় ভুগত নাকি মিয়োকিচি, ভুল সময়ে ভুল দেহে জন্ম নেওয়া এক নারী যে কিনা কোন তৎকালীন সময়ে কোন পুরুষের সাহায্য ছাড়াই স্বাধীন জীবনযাপন করার স্বপ্ন দেখে। এনিম দেখে এমন চরিত্র পাওয়া কঠিন যাদেরকে ভালো না বেসে পারা যায় না। এতটাই চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তাদের।
প্রথম সিজন আর দ্বিতীয় সিজন আলাদা আলাদা করে বিচার করলে শৌগেন ভাল একটা এনিমে, কিন্তু যখন দুইটা একত্রে বিচার করা হয় এইটা একটা মাস্টারপিস হয়ে উঠে। প্রথম সিজনের ক্যারেক্টারগুলো দ্বিতীয় সিজনে না থেকেও যে কত বিশাল প্রভাব ফেলে তা না দেখলে বোঝা সম্ভব না। দুই সময়ের, দুই জেনারেশনের কতকগুলো মানুষ রাকুগোর মধ্য দিয়ে যেন এক অবিচ্ছেদ্য সুতোয় বাধা। কিছু মানুষ সুতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার পরেও যে সুতোয় হঠাৎ টান পড়ে।

সত্যিই এই এনিম নিয়ে বলার জন্য নেগেটিভ কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। যদি কিছু বলতেই হয় বলার স্বার্থে বলবো এর দীর্ঘ রাকুগো পারফরমেন্স গুলো। কিছুটা বোরিং হলেও আমার কাছে ওইগুলো অনেক ভাল লেগেছে এবং মনে হয়েছে প্রত্যেক চরিত্রের নিজস্ব রাকুগোর ধরণ দেখানোর জন্য জরুরী ছিল এইই পার্ফরমেন্সগুলো। এনিমটাই যেখানে রাকুগো নিয়ে সেখানে রাকুগো না থাকলে কিভাবে কি!
তবে সবারই যে একই মতামত থাকবে তা আশা করা বোকামি। তাই যদি শো এর মাঝে দীর্ঘ রাকুগো দেখে বোর হয়ে ড্রপ দেবার চিন্তা করেন তবে কি জিনিস মিস করতে যাচ্ছেন না ঘুনাক্ষরেও বুঝবেন না। আমার দেখা কিছু সেরা প্লট টুইস্ট এই এনিমেতেই আছে।

পরিশেষে, ভালো কিছু দেখবেন হা-হুতাশ করছেন কিন্তু খুঁজে পাচ্ছেন না অথবা নতুন কোন এনিম দেখবেন ভাবছেন। এইক্ষেত্রে শৌগেন হাইলি রেকমেন্ডেড। এইরকম এনিম পাঁচ বছরে দুই একটা আসে। না দেখে ফেলে রাখলে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই দেখে ফেলুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই মাস্টারপিস।

Ping Pong The Animation [রিভিউ] — Safin Zaman

Ping Pong

Ping Pong The Animation
পর্ব সংখ্যাঃ ১১
জনরাঃ সাইকোলজিকাল, সেইনেন, স্পোর্টস

“৯ ফিট বাই ৫ ফিট একটা টেবিল। টেবিলের দুই পাশে ঘর্মাক্ত দুই বালক। হাতে তাদের টেবিল টেনিস র‍্যাকেট। অনবরত বলটাকে এক পাশ থেকে আরেক পাশে সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করছে তারা। ঠাস, ঠাস, ঠাস, ঠাস। অদ্ভুত এক ছন্দ তৈরী হয়েছে খেলার মধ্যে। দর্শকদের চাহনী একবার এই পাশে, তো আরেকবার অপর পাশে। বলার উপায় নেই দুইজনের মধ্যে কে জিতবে। একি! একজন বালকের চোখে পানি কেন? চোখে পানি নিয়েও এত নিখুঁতভাবে খেলছে যেন সে জানেই বল কোথায় এসে পড়বে। ঠোঁটের কোনে খানিকটা হাসিও যেন দেখা যাচ্ছে তার!”
..
..
..

সুকিমতো মাকোতো। ভাঙ্গা পরিবার থেকে আসা এক ইন্ট্রোভার্টেড বালক। চুপচাপ,কখনো না হাসা, কোন কিছুতেই অভিব্যক্তি না দেখানোর কারণে রোবট,স্মাইল বিভিন্ন ধরণের ডাকনাম পেয়েও নির্বিক সে। জগতের কোন কিছুতেই যেন তার কোনরকম আগ্রহ নেই।
অপরদিকে ইয়োতাকা হোশিনো ওরফে পেকো এক হাসিখুসি উচ্ছল বালক। টেবিল টেনিসে দারুণ ট্যালেন্টেড। ছোট বয়সেই বড় বড় পিংপং টুর্নামেন্টে খেলে পুরষ্কারের ঝুলি ভারী করা এই বালক তার সহপাঠিদের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়।
দুইজন সম্পুর্ণ ভিন্ন পার্সোনালিটির মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব হতো না যদি টেবিল টেনিসের প্রতি দুইজনের ভালবাসা না থাকত। সেই ছোটবেলায় পেকোর সুকিমতোকে টেবিল টেনিসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার পর থেকে তাদের বন্ধুত্ব হাইস্কুল পর্যন্ত চলে আসছে। হাইস্কুল এ উঠার পর পুরো টিমের কাছে তারা দুজন এক অপরাজেয় ট্যালেন্টেড ডুয়ো হিসেবেই পরিচিত।
কিন্তু আসলেই কি তাই? এই জগতের এক অলিখিত নিয়মই হলো একজন যত ট্যালেন্টেডই হোক না কেন, তার চেয়ে ট্যালেন্টেড আরেকজন অবশ্যই আছে। আর এই নিয়ম প্রমাণ করার জন্য আছে কং ওয়েং, কাজামা রিয়ুইচি, সাকুমা মানাবোর মতো খেলোয়াড় যাদের খেলা এই ডুয়োকে বহুগুণে ছাপিয়ে যায়। এতসব ‘মন্সটার’ দের ভীড়ে সামান্য পেকো আর স্মাইল কিই বা করতে পারবে?

পিংপং দি এনিমেশন হলো এক বন্ধুত্বের গল্প, গুটিকয়েক মানুষের জীবনের টানাপোড়েনের গল্প, স্মাইল আর পেকো কিভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করে সামনে আগানোর পথ বাতলে দেয় তার গল্প। মাত্র ১১ পর্বের এই গল্পে যেই পরিমাণ চরিত্রের গাঁথুনি আর তাদের গভীরতা দেখানো হয়েছে তা অবিশ্বাস্য রকমের ভাল। এনিমের প্রত্যেকটা চরিত্র আর পিংপং নিয়ে তাদের মনোভাব দর্শকদের কাছে সুন্দরভাবে পৌছাতে পেরেছে যার জন্য ‘তাতামি গ্যালাক্সি’খ্যাত ডিরেক্টর ইউয়াসা মাসাকি একটা বড় ধরণের ধন্যবাদ প্রাপ্ত ।

এনিমের আর্টস্টাইল বেশখানিকটাই ‘অন্যরকম’। এতটাই যে আর্টস্টাইল দেখেও ড্রপ দেবার কথা মনে আসতে পারে। কিন্তু ড্রপ দিলে কি মাস্টারপিস মিস করবেন তা কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই আর্টস্টাইলের চিন্তা বাদ দিয়ে দেখা শুরু করে দিন । কয়েক মিনিটের মধ্যেই অভ্যস্ত হয়ে যাবেন আর্টস্টাইলের সাথে।
তাই যদি এমন কোন এনিমে চান যা একই সাথে স্পোর্টস আর সাইকোলজিকাল অ্যাস্পেক্ট গুলোর উপর গুরুত্ব দেয় তাহলে পিংপং দি এনিমেশন হাইলি রেকমেন্ডেড। এই এনিম শেষে আমি হা-হুতাশ করেছি যে মাত্র ১১ পর্বে শেষ হয়ে গেল। ১০০ পর্ব হলেও দেখতে বিনা ক্লান্তিতে দেখতে পারতাম এই মাস্টারপিস।

ম্যাল রেটিংঃ ৮.৬৬/১০
আমার রেটিংঃ ৯.৭/১০

দা তাতামি গ্যালাক্সি [রিভিউ] — Safin Zaman

The Tatami Galaxy

The Tatami Galaxy Review
পর্ব সংখ্যাঃ ১১
জনরাঃ মিস্টেরি, সাইকোলজিকাল, রোমান্স

প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। বেশ ইন্টারেস্টিং একটা কনসেপ্ট। ভাবতে মজাই লাগে আমাদের এই জগতের বাইরেও আরো অনেক জগত আছে যেখানে প্রায় সবকিছু একই, দুই একটা ক্ষুদ্র জিনিস ছাড়া। হয়তো আপনি এখন এই রিভিউ পড়ছেন, কিন্তু অন্য জগতের আরেক আপনি এই রিভিউ দেখেই স্ক্রল করে চলে গেছে। তার মানে বলা যায় এখন দুইটা জগত বিদ্যমান। একটাতে আপনি রিভিউ পড়ছেন, আরেকটাতে পড়ছেন না। হয়তো এমনও একটা জগত আছে যেইখানে আমি এই রিভিউই লেখি নাই। সব মিলিয়ে মজার হলেও বেশ জগাখিচুড়ি একটা অবস্থা। কিন্তু এই জগাখিচুড়ি কনসেপ্টকে এতটা সুন্দর আর উপভোগ্যভাবে দর্শকের সামনে উপস্থিত করেছে তাতামি গ্যালাক্সি তার প্রশংসা না করলেই নয়।

তাতামি গ্যালাক্সি তোমিহিকো মোরিমির লেখা এক উপন্যাসের অ্যাডাপ্টেশন যা স্টুডিও ম্যাডহাউজ ২০১০ অ্যাডাপ্ট করে। উপন্যাসের পুরোটাই ফার্স্ট পারসন ন্যারেটিভে লেখা । তাই হয়তো এনিমের কোথাও প্রোটাগনিস্টের নাম উল্লেখ করা হয় নি। লেখার স্বার্থে ধরি প্রোট্যাগনিস্টের নাম ‘ওয়াতাশি’। এই ওয়াতাশি এক কলেজ ছাত্র। অন্যসব কলেজ ছাত্রদের মতও তার স্বপ্ন এক পার্ফেক্ট কলেজ লাইফের যেখানে বন্ধুবান্ধব, ভালবাসার মানুষ নিয়ে কাটবে তার দিনকাল। তার ভাষায় এক “গোলাপী রঙ এর ক্যাম্পাস জীবন”। এই পরম আরাধ্য ক্যাম্পাস জীবনের জন্য সে বিভিন্ন সার্কেল বেছে নেয় আর স্বপ্ল দেখে সে বন্ধুবান্ধব ঘেরা থাকবে, কৃষ্ণকালো চুলের এক রমণী তার প্রেমে পড়বে… কিন্তু ফ্যান্টাসি তো ফ্যান্টাসিই। বাস্তব জীবনের সাথে তার আকাশ পাতাল তফাৎ। কৃষ্ণকালো চুলের রমণী তো দূরের কথা, পুরো ক্যাম্পাস লাইফে তার পরিচয়ই হয় দুইজন মেয়ের সাথে। আর বন্ধুবান্ধব ঘেরা থাকার বদলে তার সংগী ‘ওযু’ নামক এক আজব প্রাণীর যাকে দেখলেই পাতাল থেকে বের হওয়া এক ভূতের কথা মনে পরে।

তাতামি গ্যালাক্সির স্পেশালিটি এর গল্পকথন। কিংবা সোজা ভাষায় বললে, এর ন্যারেটিভ। এনিমের ১১টা এপিসোড ১১ রকমের পরিস্থিতি দেখায়, যার মুখোমুখি ওয়াতাশি হতে পারে। শেষ দুই পর্ব বাদে প্রত্যেক পর্ব শেষেই গল্প রিওয়াইন্ড হয়ে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ফেরত যায় যেইখানে ওয়াতাশি কোন গুরুত্বপূর্ণ ডিসিশন নিচ্ছিল। ফলাফল হিসেবে একেক এপিসোডে দর্শক ওয়াতাশির নেওয়া একেক ডিসিশনের ফলাফল দেখতে পারে। উদাহারণ হিসেবে এক এপিসোডে ওয়াতাশি ইংলিশ ক্লাবের সদস্য আরেক এপিসোডে সিনেমা ক্লাব। এই ডিসিশনের ভিন্নতার কারণে তৈরী ওয়াতাশির ভিন্ন ভিন্ন জীবন , আরেক কথায় প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। এক প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের ওয়াতাশি ইংলিশ ক্লাবের সদস্য, তার পরিচিত মানুষজন এক রকম, তার চিন্তাভাবনা এক রকম। আবার আরেক প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের ওয়াতাশি সিনেমা ক্লাবের সদস্য।তার জীবন ইংলিশ ক্লাবের ওয়াতাশি থেকে ভিন্ন। এইভাবে নয় এপিসোডে ওয়াতাশির নেওয়া নয় রকম ডিসিশনের ফলাফল হিসেবে নয় রকমের জীবন দেখানো হয়। কিন্তু একটা জীবনও ওয়াতাশির পছন্দ নয়। তার চাই সেই কল্পনার “Rose colored campus life”।ওয়াতাশি তার পরম আরাধ্য ক্যাম্পাস জীবনের পিছনে আজীবনই ছুটে যেত যদি না ৪.৫ তাতামির লুপহোলে পড়ে সে জীবনের চরম সত্যটা অনুধাবন না করত, “যা আছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা”।

ন্যারেটিভ বাদে তাতামি গ্যালাক্সির চরিত্রগুলো আর এর আর্টস্টাইলের কথা না বললেই নয়। চরিত্র এতে কম কিন্তু যেইগুলো আছে প্রত্যেকেই তাদের নিজস্বতায় পরিপূর্ণ। এমন কোন চরিত্র নাই যেইটা কেবল থাকার জন্য ছিল। প্রত্যেক চরিত্রেরই গল্পের পেছনে কিছুনা কিছু অবদান ছিল আর সেইটা চমৎকারভাবেই উপস্থাপন করেছে তাতামি গ্যালাক্সি।

তার পর আছে এর আর্টস্টাইল। এর আর্টস্টাইল শুরুতে কিছুটা অন্যরকম লাগলেও কাহিনী যত আগাবে তত মনে হবে এইরকম গল্পের জন্য এর চেয়ে ভালো আর্টস্টাইল হতেই পারে না। ডার্ক শেডেড কালার থেকে ভাইব্রেন্ট কালারের আর্টস্টাইলে শিফটগুলো অনেক সুন্দর ছিল। আর শেষ দুই পর্বে রিয়েল লাইফ ইম্যাজারি যোগ করেছে নতুন মাত্রা। সব মিলিয়ে এক অনবদ্য রঙের খেলা যেন এটা।

আমার কাছে এটা ১০/১০ এনিমে। তাই নেগেটিভ কোন পয়েন্ট থাকলেও খুঁজে পাচ্ছি না।আমার মতে এই এনিমে খারাপ লাগতে পারে একমাত্র যদি এই ধরণের এনিমে আপনার টেস্টের না হয়ে থাকে। এছাড়া তাতামি গ্যালাক্সি উপভোগ না করার কোন কারণ নেই। যদিও এর ন্যারেটিভ সাধারণ এনিমের তুলনায় একটু বেশিই দ্রুত তবে প্রথম ১০/১৫ মিনিটের পর অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। আর অভ্যস্ত না হলে স্লো করে দেখার অপশন তো আছেই।

সব মিলিয়ে এক কথায় মাস্টারপিস লেভেলের এক এনিমে তাতামি গ্যালাক্সি। একটা বড় পাজল অনেকখন ধরে মেলানোর চেষ্টা করার পর মিলালে যেমন আনন্দময় একটা অনুভূতি হয় ঠিক তেমন অনুভূতি পেয়েছি এই এনিমে শেষ করে। যাদের কাছে ব্রেইন টিজার টাইপের শো পছন্দ তাদের জন্য অবশ্যই রেকমেন্ডেড।

Seikaisuru Kado/Kado: The Right Answer [রিভিউ] — Safin Zaman

Kado

Seikaisuru Kado / Kado: The Right answer 
পর্ব সংখ্যাঃ ১২
জনরাঃ সাই-ফাই
ম্যাল রেটিংঃ ৭.১৭

অন্যসব দিনের মতই সাধারণ আরেকটা দিন। সব ঠিকই চলছে। কিন্তু হঠাত করেই আকাশ থেকে এক অজানা উড়ন্ত বস্তু নামলো, সেই অজানা বস্তুর ভেতর থেকে বের হলো কিম্ভুতাকার কিছু প্রাণী……অতিপরিচিত একটা সিনারিও।

‘ফার্স্ট কনট্যাক্ট’ বা এলিয়েনদের সাথে মানবজাতির দেখা সাক্ষাত নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। এ নিয়ে অজস্র মুভি,বই হয়েছে । কিছু জায়গায় এলিয়েনরা মানবজাতির ভাল চায়, আবার কিছু জায়গায় এলিয়েনদের কাজ হলো পিউ পিউ শব্দ করা লেজার গান নিয়ে মানবজাতি নির্মূল করা। তবে এত জনপ্রিয় হওয়ার পরেও এনিমেতে এই কনসেপ্টের উপর ভিত্তি করে এনিম ছিল না বললেই চলে। আর এই অভাব পুরন করতেই এল গত স্প্রিং ২০১৭ সিজনের এনিমে Seikaisuru Kado/ Kado: The Right Answer.

এনিমের শুরু অন্যসব ফার্স্ট কনট্যাক্টের মত করেই। একদিন হঠাত করে জাপানের এক এয়ারপোর্টের উপর আগমন ঘটে এক রহস্যময় কিউবের । ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ,প্রস্থ ও উচ্চতার এই পার্ফেক্ট কিউবের ভেতর আটকা পড়া প্যাসেঞ্জার প্লেন উদ্ধারে যখন দেশের উচ্চপদস্থরা ব্যস্ত তখন তাদের হতবাক করে দীয়ে কিউবের ভেতর থেকে বের হয়ে আসে সাদা চুলের এক রহস্যময়ী ব্যক্তি যে নিজের পরিচিয় দেয় Yaha kui zaShunina নামক এক ‘হাইয়ার ডাইমেনশনাল’ সত্বা হিসেবে। শুধু তাই নয়, সে তার সাথে এমন কিছু প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে যা মানবসভ্যতাকে কয়েক লক্ষ বছর সামনে এগিয়ে দিতে সক্ষম।

কিন্তু মানুষ মানুষই, এই হাইয়ার ডাইমেনশনাল বিইং আর এর প্রযুক্তি তারা কোনভাবেই ভালো মত নিতে পারল না। একদিকে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে কে প্রযুক্তিগুলোর মালিক হবে তা নিয়ে বাগড়া বাধল, আরেকদিকে মানবসভ্যতার এই আকস্মিক অগ্রগতির বিরুদ্ধেও মতামতও দেখা গেল। সব মিলিয়ে পুরো বিশ্ব এই বিষয় নিয়ে পড়ল চরম বিশৃংখলায়। আর এভাবেই এগিয়ে চলে এনিমের কাহিনী।

সেইকাইসুরু কাডোর অন্যতম ভালো দিক হচ্ছে এটি কিভাবে অন্য জগত থেকে আসা এক প্রাণির সাথে মানবজাতির কনট্যাক্টকে বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলেছে। এলিয়েনরা মানবসভ্যতাকে তাদের প্রযুক্তি অফার করলে আমরা যে তা হাসিমুখে না নিয়ে সেইটা নিয়ে রাজনীতি শুরু করব তা ভালোভাবেই দেখানো হয়েছে। অযথা কথাবার্তা নাই, মোটামুটি ফাস্ট পেইসড এই এনিমে একেবারে প্রথম এপিসোড থেকেই দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম।

আমার প্রথম ৮-৯ এপিসোড অনেকটা ভালোই লেগেছিল তবে সমস্যা শুরু হলো এপিসোড ১০ থেকে। এনিমে তার স্বাভাবিক রুপ বাদ দিয়ে হঠাত করেই যেন এক সেমি-রোমান্টিক, সেমি-একশন, হাইয়ার ডাইমেনশনাল বিইংদের ঠুকাঠুকিতে পরিণত হয়। কয়েকটা প্লট টুইস্ট ছিল যার কোন প্রয়োজনই ছিল না বলে আমি মনে করি। আর সিরিজটা যে তার নিজস্বতা বাদ দিয়ে অন্য পথ ধরে দৌড়ানো শুরু করে তা দেখে কিছুটা হতাশই হয়েছি বলা যায়। কাল্ট ক্লাসিক কিছু হওয়ার ভাল সম্ভাবনা ছিল।

তবে মনমত না হলেও যে এঞ্জয় করিনি তা বলা ভুল হবে। ভাগ্য ভাল যে শেষের দিকে গিয়ে যে এর কোয়ালিটি ড্রপ করা শুরু করে তার আন্দাজ আগে থেকেই ছিল। তা না হলে অনগোয়িং যারা দেখেছে তাদের মতই হতাশ হওয়া লাগত। মোটকথা, শুরু থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত কাডো আমি এঞ্জয় করেছি। এঞ্জয়মেন্টের হিসেবে স্কোর দিলে ইজিলি ৮/১০ দিয়ে দেওয়া যায়। খুব বেশি খুতখুতে না হয়ে স্রেফ এঞ্জয়মেন্টের জন্যও কাডো দেখা যায় চাইলে।

একটা জিনিস বলে রাখা ভাল যে এনিমেতে সিজির ব্যবহার ছিল কিন্তু তা যথেষ্ট ভাল। মুলত একশন সিরিজ না হয়ে ডায়ালগ বেইসড সিরিজ হওয়ায় এই সিজি অতটা চোখে লাগে নাই। সিজি সহ্য না করতে পারলেও এই সিজি খারাপ লাগবে না। সিজি হওয়া সত্বেও এর ভিজ্যুয়াল চমৎকার ছিল।বিশেষ করে কাডো এর ভেতরকার দিকের সিনগুলো।

সবশেষে যদি কোন সাই-ফাই জনরার এনিমে খুঁজে থাকেন তবে কাডো রেকমেন্ডেড।গতানুগতিক এনিমে বাদ দিয়ে একটু ম্যাচিউর ধরনের এনিমে খুঁজলে কাডো দেখতে পারেন। মাত্র ১২ পর্বের এই সিরিজ ভালো লাগবে আশা করি।

Yuri!!! on Ice [রিভিউ] — Safin Zaman

Yuri on Ice
গত বছর (২০১৬) সবচেয়ে সমালোচিত/আলোচিত এনিম ইউরি অন আইস নিয়ে এনিমে সমাজ দুইভাগে বিভক্ত। একদল এইটাকে অলিখিতভাবে মাস্টারপিস ঘোষণা দিয়ে ভিক্টর কত হট, ভিক্টিউরি কত কাওয়াই হ্যান ত্যান নিয়ে ফ্যানিগার্লিং করতে ব্যস্ত আর আরেকদল তো এনিমে না দেখেই গে বলে এই এনিম গার্বেজের খাতায় ফেলে দেয়। দুর্ভাগ্যজনত এইই দুই দলের চুলাচুলির মাঝে খুব কমই মানুষ ছিল এনিমেটা নিয়ে নিউট্রাল কিছু বলার। ভাগ্য ভাল এমন কিছু পোস্ট চোখে পড়ছিল, নাইলে দেখাই হত না এই জিনিস।

ইউরি অন আইসের কাহিনী অতি সাধারণ। জাপানিজ স্কেটার ইউরি কাৎসুকি কিভাবে তার কোচ ভিক্টর নিকিফরভ এর সহায়তায় একজন Nobody থেকে আইস স্কেটিং জগৎের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠে তার গল্পই ইউরি অন আইস। ইউরির চলার পথে তার সামনে আসে অসংখ্য বন্ধু, প্রতিদ্বন্দ্বী যাদের অর্ধেকের বেশির একমাত্র কাজ হলো স্কেট করা, স্কেট করে কতগুলা ডায়লগ মারা আর দর্শকদের মন থেকে ভ্যানিশ হয়ে যাওয়া। ক্যারেক্টারগুলা এম্নিতেই কম প্রভাব ফেলে তার উপর এই এনিমে তার স্পটলাইটের অধিকাংশই ইউরি কাৎসুকির ফেলে রাখে যার কারণে ক্যারেক্টারগুলা আরো মলিন হয়ে যায়। একমাত্র জেজে ছাড়া আর কোন সাইড ক্যারেক্টার নাই যার মনস্তাত্ত্বিক দিকটা এনিমে তুলে ধরসে, তার উপর সেইটাও ছিল ফোর্সড। ক্রিয়েটররা মনে হয় ফুজোশিরা যাতে টাম্বলার ভরায় ফ্যানার্ট আঁকতে পারে সেই চিন্তা করে সব গুড লুকিং, হ্যান্ডসাম ক্যারেক্টার বানাইসে। একটা ক্যারেক্টারের জন্য নুন্যতম যে ডেপথ লাগে তা চিন্তাও করে নাই।

সাইড ক্যারেক্টার বাদ দেই, মেইন ভিক্টর আর ইউরির কথায় আসি। এরা গে, আর এই বিষয় এনিমেতে খুব পরিষ্কার করেই বুঝাইসে আর এই বিষয় নিয়ে আমার কোন নাঁক সিটকানো ব্যাপার নাই। এনিমের মেইন ক্যারেক্টার সাইকোপ্যাথ হয়,ম্যাস মার্ডারার হয় সেই তুলনায় গে তো অনেক নিরীহ প্রজাতি(!) সিরিজের শুরুর দিকে এই ‘ড্যাম্প গে’ নেস দেখানোর জন্য কিছুটা ম্যানসার্ভিস ছিল যা খানিকটা অস্বস্তিকর হলেও পরে এনিমে ফোকাস ম্যানসার্ভিস থেকে স্কেটিং এর দিকে সরায় নিসে যার জন্য ডাইরেক্টরকে ধন্যবাদ। ইউরি, রাশিয়ান ইউরি আর ভিক্টর এদের ক্যারেক্টার নিয়ে আমার কোন সমস্যা নাই। বেশ ভালভাবেই তুলে ধরা হইসে এদেরকে আর ইউরিদের ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট স্মুথ ছিল। প্লাসপয়েন্ট।

আইস স্কেটিং এনিমে হিসেবে এই এনিমেতে আইস স্কেটিং যতটা প্রাধান্য পাওয়ার কথা ততটা পাইসে বলে মনে হয় নাই। তারপরেও যতটুকু ছিল ভালই ছিল। বিশেষভাবে এর OST গুলা। স্কেটিং যতটা না মনোযোগ নিয়ে দেখসি তার চেয়ে বেশি মনোযোগ নিয়ে শুনসি ব্যাকগ্রাউন্ড এ বাজতে থাকা মিউজিক। YOI এর সবচেয়ে স্ট্রং পয়েন্ট যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে তবে আমি বলবো এর OST। এর প্রত্যেকটা OST আমি ঘন্টার পর ঘন্টা শুনে কাটায় দিতে পারব কোনরকম ক্লান্তি ছাড়াই। এতটাই অসাধারণ।

সব মিলায় ইউরি অন আইস আমার কাছে মোটামুটি এঞ্জয়েবল একটা এনিমে ছিল। মাস্টারপিসের ধারে কাছেও না, আবার সম্পুর্ণ গার্বেজও না। বিরক্তিকর ফ্যান প্রত্যেকটা এনিমেরই থাকে আর তাদের থেকে যত দূরত্ব বজায় রাখা যায় ততই ভাল। জাস্ট বিকজ একটা ‘গে’ এনিমে একগাদা এওয়ার্ড জিতসে দেখে তা বাতিলের খাতায় ফেলে দিবেন তা নিতান্তই হাস্যকর।, মানুষের কথায় কান না দিয়ে নিজে শো দেখে নিজে জাজ করুন। সবার টেস্ট একরকম না। যে এনিমে একজনের কাছে গার্বেজ সেই এনিম আপনার টপ টেন লিস্টেও জায়গা করে নিতে পারে।

ওভারল,যদি দেখার মত কোন এনিমে খুজে না পান। অথবা এঞ্জয় করার মত কিছু দেখতে চান এবং প্লেলিস্টে কিছু অসাধারণ OST যোগ করতে তবে ইউরি অন আইস অবশ্যই রেকমেন্ডেড।