দা তাতামি গ্যালাক্সি [রিভিউ] — Safin Zaman

The Tatami Galaxy

The Tatami Galaxy Review
পর্ব সংখ্যাঃ ১১
জনরাঃ মিস্টেরি, সাইকোলজিকাল, রোমান্স

প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। বেশ ইন্টারেস্টিং একটা কনসেপ্ট। ভাবতে মজাই লাগে আমাদের এই জগতের বাইরেও আরো অনেক জগত আছে যেখানে প্রায় সবকিছু একই, দুই একটা ক্ষুদ্র জিনিস ছাড়া। হয়তো আপনি এখন এই রিভিউ পড়ছেন, কিন্তু অন্য জগতের আরেক আপনি এই রিভিউ দেখেই স্ক্রল করে চলে গেছে। তার মানে বলা যায় এখন দুইটা জগত বিদ্যমান। একটাতে আপনি রিভিউ পড়ছেন, আরেকটাতে পড়ছেন না। হয়তো এমনও একটা জগত আছে যেইখানে আমি এই রিভিউই লেখি নাই। সব মিলিয়ে মজার হলেও বেশ জগাখিচুড়ি একটা অবস্থা। কিন্তু এই জগাখিচুড়ি কনসেপ্টকে এতটা সুন্দর আর উপভোগ্যভাবে দর্শকের সামনে উপস্থিত করেছে তাতামি গ্যালাক্সি তার প্রশংসা না করলেই নয়।

তাতামি গ্যালাক্সি তোমিহিকো মোরিমির লেখা এক উপন্যাসের অ্যাডাপ্টেশন যা স্টুডিও ম্যাডহাউজ ২০১০ অ্যাডাপ্ট করে। উপন্যাসের পুরোটাই ফার্স্ট পারসন ন্যারেটিভে লেখা । তাই হয়তো এনিমের কোথাও প্রোটাগনিস্টের নাম উল্লেখ করা হয় নি। লেখার স্বার্থে ধরি প্রোট্যাগনিস্টের নাম ‘ওয়াতাশি’। এই ওয়াতাশি এক কলেজ ছাত্র। অন্যসব কলেজ ছাত্রদের মতও তার স্বপ্ন এক পার্ফেক্ট কলেজ লাইফের যেখানে বন্ধুবান্ধব, ভালবাসার মানুষ নিয়ে কাটবে তার দিনকাল। তার ভাষায় এক “গোলাপী রঙ এর ক্যাম্পাস জীবন”। এই পরম আরাধ্য ক্যাম্পাস জীবনের জন্য সে বিভিন্ন সার্কেল বেছে নেয় আর স্বপ্ল দেখে সে বন্ধুবান্ধব ঘেরা থাকবে, কৃষ্ণকালো চুলের এক রমণী তার প্রেমে পড়বে… কিন্তু ফ্যান্টাসি তো ফ্যান্টাসিই। বাস্তব জীবনের সাথে তার আকাশ পাতাল তফাৎ। কৃষ্ণকালো চুলের রমণী তো দূরের কথা, পুরো ক্যাম্পাস লাইফে তার পরিচয়ই হয় দুইজন মেয়ের সাথে। আর বন্ধুবান্ধব ঘেরা থাকার বদলে তার সংগী ‘ওযু’ নামক এক আজব প্রাণীর যাকে দেখলেই পাতাল থেকে বের হওয়া এক ভূতের কথা মনে পরে।

তাতামি গ্যালাক্সির স্পেশালিটি এর গল্পকথন। কিংবা সোজা ভাষায় বললে, এর ন্যারেটিভ। এনিমের ১১টা এপিসোড ১১ রকমের পরিস্থিতি দেখায়, যার মুখোমুখি ওয়াতাশি হতে পারে। শেষ দুই পর্ব বাদে প্রত্যেক পর্ব শেষেই গল্প রিওয়াইন্ড হয়ে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ফেরত যায় যেইখানে ওয়াতাশি কোন গুরুত্বপূর্ণ ডিসিশন নিচ্ছিল। ফলাফল হিসেবে একেক এপিসোডে দর্শক ওয়াতাশির নেওয়া একেক ডিসিশনের ফলাফল দেখতে পারে। উদাহারণ হিসেবে এক এপিসোডে ওয়াতাশি ইংলিশ ক্লাবের সদস্য আরেক এপিসোডে সিনেমা ক্লাব। এই ডিসিশনের ভিন্নতার কারণে তৈরী ওয়াতাশির ভিন্ন ভিন্ন জীবন , আরেক কথায় প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। এক প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের ওয়াতাশি ইংলিশ ক্লাবের সদস্য, তার পরিচিত মানুষজন এক রকম, তার চিন্তাভাবনা এক রকম। আবার আরেক প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের ওয়াতাশি সিনেমা ক্লাবের সদস্য।তার জীবন ইংলিশ ক্লাবের ওয়াতাশি থেকে ভিন্ন। এইভাবে নয় এপিসোডে ওয়াতাশির নেওয়া নয় রকম ডিসিশনের ফলাফল হিসেবে নয় রকমের জীবন দেখানো হয়। কিন্তু একটা জীবনও ওয়াতাশির পছন্দ নয়। তার চাই সেই কল্পনার “Rose colored campus life”।ওয়াতাশি তার পরম আরাধ্য ক্যাম্পাস জীবনের পিছনে আজীবনই ছুটে যেত যদি না ৪.৫ তাতামির লুপহোলে পড়ে সে জীবনের চরম সত্যটা অনুধাবন না করত, “যা আছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা”।

ন্যারেটিভ বাদে তাতামি গ্যালাক্সির চরিত্রগুলো আর এর আর্টস্টাইলের কথা না বললেই নয়। চরিত্র এতে কম কিন্তু যেইগুলো আছে প্রত্যেকেই তাদের নিজস্বতায় পরিপূর্ণ। এমন কোন চরিত্র নাই যেইটা কেবল থাকার জন্য ছিল। প্রত্যেক চরিত্রেরই গল্পের পেছনে কিছুনা কিছু অবদান ছিল আর সেইটা চমৎকারভাবেই উপস্থাপন করেছে তাতামি গ্যালাক্সি।

তার পর আছে এর আর্টস্টাইল। এর আর্টস্টাইল শুরুতে কিছুটা অন্যরকম লাগলেও কাহিনী যত আগাবে তত মনে হবে এইরকম গল্পের জন্য এর চেয়ে ভালো আর্টস্টাইল হতেই পারে না। ডার্ক শেডেড কালার থেকে ভাইব্রেন্ট কালারের আর্টস্টাইলে শিফটগুলো অনেক সুন্দর ছিল। আর শেষ দুই পর্বে রিয়েল লাইফ ইম্যাজারি যোগ করেছে নতুন মাত্রা। সব মিলিয়ে এক অনবদ্য রঙের খেলা যেন এটা।

আমার কাছে এটা ১০/১০ এনিমে। তাই নেগেটিভ কোন পয়েন্ট থাকলেও খুঁজে পাচ্ছি না।আমার মতে এই এনিমে খারাপ লাগতে পারে একমাত্র যদি এই ধরণের এনিমে আপনার টেস্টের না হয়ে থাকে। এছাড়া তাতামি গ্যালাক্সি উপভোগ না করার কোন কারণ নেই। যদিও এর ন্যারেটিভ সাধারণ এনিমের তুলনায় একটু বেশিই দ্রুত তবে প্রথম ১০/১৫ মিনিটের পর অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। আর অভ্যস্ত না হলে স্লো করে দেখার অপশন তো আছেই।

সব মিলিয়ে এক কথায় মাস্টারপিস লেভেলের এক এনিমে তাতামি গ্যালাক্সি। একটা বড় পাজল অনেকখন ধরে মেলানোর চেষ্টা করার পর মিলালে যেমন আনন্দময় একটা অনুভূতি হয় ঠিক তেমন অনুভূতি পেয়েছি এই এনিমে শেষ করে। যাদের কাছে ব্রেইন টিজার টাইপের শো পছন্দ তাদের জন্য অবশ্যই রেকমেন্ডেড।

Comments

comments