The Anthem of the Heart [মুভি রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Anthem of the Heart 1

মুভি: The Anthem of the Heart (Kokoro ga Sakebitagatterunda)
জনরা: মিউজিক, ইয়ুথ ড্রামা
স্টুডিও: A-1 Pictures
দৈর্ঘ্য: ১২০ মিনিট
MAL রেটিং: ৮.৩

অ্যানথেম অফ দ্যা হার্ট।
একটি মুভির জন্য খুবই সুন্দর একটি টাইটেল। মূলত নামের জন্যই মুভি দেখার আগ্রহ জন্মেছিল। এনিমের পোস্টারের সুন্দর আর্ট সেই আগ্রহকে আরো তরান্বিত করে। অবশেষে বহুদিন পরে একটা নন-জিনবি আর নন-শিনকাই মুভি দেখা হল। মনের কথা দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখার দরুন পরিস্থিতি কেমন হতে পারে তার একটা ভাল উদাহরণ মুভিটা।
*
মুভির প্লট আরো বেশি আকর্ষণীয়। কথা বলায় সদাব্যস্ত কিশোরী নারুসে জুনের শৈশবকালে এমন একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যার কারণে সে রীতিমত আশেপাশের মানুষের সাথে কথা বলাই বন্ধ করে দেয়। আশেপাশের মানুষ বলতে নিজের মা-ক্লাসমেট থেকে শুরু করে আত্মীয়-প্রতিবেশী পর্যন্ত কারোর সাথেই নারুসে কথা বলে না। ঘটনাক্রমে স্কুলের এক সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের কমিটির সাথে নারুসেকে যুক্ত করা হয়। প্রতিবাদ করার জন্য নারুসে মুখ খোলার প্রচেষ্টা চালায় কিন্তু তার মুখ থেকে দুই-তিনটার বেশি শব্দ বের হতে পারে না। মজার ব্যাপার হল এই ঘটনার পর ক্লাসের অনেক ছেলেমেয়ে নিশ্চিত হয় যে নারুসে আসলে বোবা নয়, এতদিন অনেকে তাকে বোবাই মনে করে এসেছে। তারপর কমিটির আরেক সদস্য তাকুমি সাকাগুমির সাথে পরিচয় হয় হয় নারুসের এবং তাকুমিই প্রথম জানতে পারে নারুসে একটি অভিশাপে আক্রান্ত এবং এই অভিশাপের কারণে কথা বললেই তার পেটে মারাত্মক ব্যাথা হয়। তবে তাকুমি আবিষ্কার করে ফেলে যে, গান গাইলে নারুসের উপর এই অভিশাপ কাজ করে না আর সাথে এটাও লক্ষ্য করে যে, নারুসের কণ্ঠস্বর ভারী মিষ্টি। তাই কমিটির অন্য সদস্য আর ক্লাসমেটদের সাথে অনেক আলোচনার চড়াই-উৎরাই পার হবার পর একটি মিউজিকাল থিয়েটার (কাব্যনাট্য) আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আস্তে আস্তে অনুষ্ঠানের কাজ এগিয়ে যেতে থাকে এবং নারুসে সবার সাথে আরো বেশি সামাজিক হয়ে উঠতে থাকে। কিন্তু সেই অভিশাপ দিনে দিনে করাল থাবা বাড়াতে থাকে নারুসের হৃদয়ের উপর। কারণ নারুসের মুখ হয়তো এতদিন বন্ধ ছিল, কিন্তু তার অন্তর কখনোই চুপ করে ছিল না। এখন সঙ্গীত আর বন্ধুত্বের ছোঁয়া কি পারবে নারুসের অভিশাপ দূর করতে?
*
মুভি রিলিজ হয়েছে ২০১৫ সালে কিন্তু খোঁজ পেয়েছি অনেক দেরীতে। মুভির অ্যানিমেশন দেখেই টের পাচ্ছিলাম এটা A-1 Pictures এর তৈরি। অনেকটা আনোহানা+হিউকার স্টাইলের ছাপ ছিল মুভিটার ভিজুয়ালে। রাস্তাঘাট, গাছপালা, দিনের বিভিন্ন সময়ের আকাশের দৃশ্যগুলাতে সৌন্দর্য ছিল। নাইট সিনগুলাও মন্দ লাগে নি।
*
মুভিতে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো মুভিটাকে নারুসে জুনের মানসিক পরিবর্তনের চিত্র হিসেবে সহজেই অভিহিত করা যায়। এছাড়া কমিটির বাকী তিন সদস্যের মানসিক টানাপোড়েনের চিত্রায়নও খুব ভাল হয়েছে। আমার বেশি ভাল লেগেছে ইনজুরির কারণে বেসবল টিম থেকে ছিটকে পড়া দাইকি-কুনের চরিত্রটি। নিতো আর তাকুমির মিথস্ক্রিয়ার জায়গাগুলো প্রথম দিকে ভাল না লাগলেও পরে খারাপ লাগে নি। আর মুভির শেষের দিকের ঘটনাটা(শিপিংটা) একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। মাত্র চারটি চরিত্রকে ঘিরে কাহিনী চিত্রায়িত হলেও বিরক্তি লাগে নি কখনো।

Anthem of the Heart 2
*
মুভির মিউজিকের কথা বলতেই হবে। যেহেতু চরিত্রগুলোর প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল একটা মিউজিকাল থিয়েটার করার তাই অনেকগুলা শ্রুতিমধুর গান পরিবেশিত হয়েছে মুভির শেষাংশে একই সাথে। মোট সাতটার মত সঙ্গীতের সাহায্যে পুরো কাব্যনাট্যটি মঞ্চায়িত করা হয়। পুরো মুভিতে মোট গান ছিল এগারটা। তবে বেশিরভাগই মৌলিক নয়, বিভিন্ন ট্র‍্যাডিশনাল গানের পরিমার্জিত সংস্করণ। কাহিনীর সাথে গানগুলো এত সুন্দর করে মিশে গিয়েছিল যে আলাদা করে খেয়াল করার সুযোগ পাই নি। পুরো মুভির অনেক কাহিনীই বর্ণিত হয়েছে শুধুমাত্র গানের কথার মাধ্যমে যা অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটা দিক ছিল। পরবর্তিতে সাউন্ডট্র‍্যাক অ্যালবাম নামানোর পর পুরো মজাটা পাই তবে ঝামেলাও পোহাতে হয়েছে অনেকটা। অ্যালবামের সব গুলো ট্র‍্যাকের নাম জাপানিজ অক্ষরে দেওয়া হয়েছিল তাই বারবার গুগল ট্রান্সলেটে কপি-পেস্ট করে ইংরেজি অর্থ জেনে নিতে হয়েছে। তাই মিউজিক ইনফরমেশন এডিটের পেছনে ভাল সময় দিতে হয়েছে তবে লাভই হয়েছে। কারণ অনেকগুলা গানই গেয়েছেন আমাদের কিছু পরিচিত আর প্রিয় সেইয়ু এবং মিউজিশিয়ানরা। kiyoura natsumi এর গাওয়া Over the Rainbow গানটা অনেক শ্রুতিমধুর ছিল। তবে সবচেয়ে ভাল লেগেছিল খোদ নারুসের সেইয়ুর গাওয়া ‘Watashi no koe’ (My Voice) গানটা। এই গানের সুর আবার নেওয়া হয়েছে ইংরেজি লোকগান ‘Greensleeves’ থেকে। একই গানের সুর The last Naruto the movie এর প্রোলোগে ব্যবহৃত হয়েছিল তাই চেনা চেনা লাগছিল মিউজিকটা। গান গাইতে গাইতে ক্লোকে আবৃত নারুসের স্টেজে উঠার জায়গাটা অনেকদিন মনে থাকবে।
*
সব মিলিয়ে খুবই এনজয়েবল একটা মুভি। হয়তো মুভির শেষের জায়গাটা কিছুটা ক্লিশে ছিল তবে আবেগের জায়গাগুলো ভালভাবেই ছুঁয়ে গেছে। এবং মুভিটা ভাল রকমের শিক্ষণীয়ও বটে। নিজেকে প্রকাশ না করার অক্ষমতার অসুবিধা সম্পর্কে ভাল ভাবেই অবগত করে দেয় মুভিটা। নারুসের ভয়েস অ্যাক্টিং খুব উপভোগ করেছি। বিশেষ করে কথা বলতে না চাওয়া নারুসের আকার-ইঙ্গিত, জোরে জোরে মাথা নাড়ানো আর অস্ফুট অব্যক্ত ধ্বনিগুলোর ব্যবহার খুবই কিউট(দুঃখিত, এখানে কোন জুতসই ভারী শব্দ ব্যবহার করতে পারছি না ছিল। সেন্সেইয়ের একটা কথা খুব ভাল লেগেছিল,
“Music and miracles go hand in hand”.Anthem of the Heart 3

আর মুভির শেষের এই স্বগোতক্তিগুলো ভাল ছিল,
“What’s inside the egg?
All kinds of feelings locked inside…
Then, unable to keep them locked in…
It explodes…
And the world that’s created then…
It is more beautiful than I ever thought”.

রেটিং: ৮/১০

Comments