Violet Evergarden [রিভিউ] — Naziur Rahman Nayem

 

খুব সুন্দর একটি এনিমে। মূলত দেখতে বসেছিলাম ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো শোনার জন্য। কিন্তু এখান থেকে কিছু ইন্টারেস্টিং বিষয় শিক্ষা করা গেলও বটে।

মানুষের চরিত্রগুলো রহস্যময় হয়ে ওঠে তার ভাবের কারণে। যৌক্তিকভাবে সব সোজাসাপটা কথা বলে দিলে মানুষে মানুষে সম্পর্কটা কেমন পানসে হয়ে ওঠে। আমরা যখন একে অপরের সাথে কথা বলি তখন এর শব্দের মাঝের অর্থ বুঝতে হয়। অথচ এটা যদি বলে দেওয়া হয় তখন সে ম্যাজিক আর কাজ করেনা।

এরজন্য যে দক্ষতাটার প্রয়োজন হয় তা হল ইনটুইশনাল দক্ষতা। তোমাকে আমি যা বলছি তা হুবুহু বলছি না বরং এর মাঝের আমার ভাবটা তোমায় দেখতে হবে এবং তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেখতে হবে তবেই না তুমি একটি সুন্দর চিঠি, সুন্দর বার্তালাপ করতে পারবে। অতিরিক্ত বুদ্ধিপ্রবনতা তথা মেকানিকাল প্রবণতা দিয়ে হৃদয়গত ইনটিউশন ধরা যায় না; যেমনটা এই এনিমের শুরুতে ধরতে পারেনি ভায়োলেট এভারগার্ডেন। কিন্তু ধীরে ধীরে “I Love You” বাক্যটির অর্থ খুঁজতে গিয়ে সে যে বিষয়গুলো অতিক্রম করে অবশেষে খুঁজে পায় তার উত্তর তা সত্যিই চমৎকার।

যন্ত্রগত ধাঁচে গড়ে ওঠে মানুষ তার হৃদয়টাকেই খুইয়ে বসে। এখানে সেই খুইয়ে বসা হৃদয়কেই পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেছে ভায়োলেট তার মেজর গিলবার্টের ভালোবাসার অর্থ অনুসন্ধান করতে যেয়ে।

এই এনিমেতে যে চিঠি লেখার যে প্রফেশন দেখানো হয়েছে তা সত্যিই বেশ সৃষ্টিশীল। একজন মানুষের বাক্যের মাঝের ভাবগুলোকে বুঝে তার হয়ে চিঠি লেখা সত্যিই দারুণ।

এরজন্য প্রচুর এমপ্যাথিক্যাল(সহমর্মিতাসম্পন্ন) হৃদয় লাগে। একটা আনন্দও আছে। অন্যের ঘটনাগুলোকে নিজের মাঝে প্রবেশাধিকারের অনুমতি দিয়ে সেই ঘটনাগুলির, ভাবগুলির আনন্দ, সুখ, বেদনা, দুঃখ ইত্যাদি দেখা, অনুভব করা ও তাতে সমৃদ্ধ হওয়া; এই শত মানুষের জানালা দিয়ে দেখা পৃথিবী আমাদের ভেতর যখন আমরা দেখতে পাই আমরা সহমর্মী হয়ে উঠি, অন্যের মাঝে আমাকে খুঁজে নিই। তখন যাকে হারিয়েছে তাকেও মনে হয় সে কখনো চলে যায়নি আমার কাছ থেকে আমার পাশেই সে দাড়িয়ে আছে; যেমনটা ভায়োলেট উপলব্ধি করেছিল এই এনিমেটির শেষে।

এজন্যই হয়তো মাঝে মাঝে ভাব প্রকাশের জন্য বড় বড় লেখা, কঠিন শব্দ কিংবা বাক্য এসব নয় খুব ছোট্ট করে, এক লাইন কিংবা এক শব্দেও গভীর অনুভূতি বলে দেওয়া যায়। যা হয়তো লক্ষ, কোটি মানুষ পেরিয়ে দুজন মানুষকে কাছে এনে দেয়, নিঃশব্দতায় ফেলে দেয়।

Comments