একটি অনিয়মিত সেগমেন্ট তাদের জন্য যারা পড়ার মত মাঙ্গা খুজছেন কেবল তাদেরই জন্য …
একটি গল্পের শুরু বা শেষ থাকতেই হবে – এটা কোন ধর্মগ্রন্থ প্রদত্ত বিধান নয়। ঠিক তেমনি একটি মাঙ্গা হোশি মামোরু ইনু – যার ইংরেজি প্রতিশব্দ দাঁড়ায় Star Protector Dog…
বিভিন্ন ধর্মে একটি প্রাণী হিসেবে কুকুরকে একটু খাটো করে দেখার প্রবণতা দেখা যায় . কিন্ত আমার ধ্যানধারণা ঠিক উল্টো। যেখানে মানুষ বিড়ালকে পোষা প্রাণী হিসেবে বেশি Prefer করে থাকে সেখানে আমার কাছে কুকুরের চেয়ে বড় সহযোগী/বন্ধু আর কিছু নেই। এর পেছনে একটি ব্যাক্তিগত কারণও আছে বৈকি – ছোটবেলায় আমার এক খালুর মারা যাওয়ার পর তার পোষা কুকুরটি ৪ দিন টানা তার কবরের সামনে বসে অনাহারে প্রাণত্যাগ করে ওকে ঠিক খালুর পাশেই কবর দেয়া হয়।
সুতরাং বলে রাখা ভালো, কুকুরের প্রতি ভালোবাসা বা আসক্তি থাকলে এই মাঙ্গাটি আপনার কাছে আদতপক্ষেই মাস্টারপিস মনে হবে.যেমনটি আমার ক্ষেত্রে হয়েছে …
তাকাশি মুরাকামি নামটি দেখে প্রিয় লেখক হারুকি মুরাকামির সাথে যোগসূত্র আছে কি না ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে দেখা মিললো আর্ট এর ব্যাপারে এই শিল্পীর পারদর্শিতা দেখে – কিছু Abstract আর Metaphoric পেইন্টিং দেখে রীতিমত অবাক হয়েছিলাম। মাঙ্গাটি ভালো লাগার একটি অন্যতম কারণ হলা আর্ট – না এখানে আর্ট মানে মিউরা কেন্তারৌ র মত চোখ ধাঁধানো আর্ট নয় বরং খুবই সহজাত শীতল আর্ট। প্রথম নজরে দেখে মনে হবে এ আর এমন কি এতো আমিই আঁকতে পারি কিন্ত পরমুহূরতে উপলব্ধি হয় যে না প্রতিটি স্কেচের মাঝে Message লুকিয়ে আছে – আর যত আগাতে থাকবেন সামনে বুঝতে পারবেন মাঙ্গাটির আর্ট কতটা অসামান্য….
এই মাঙ্গাটিতে মানুষের সংলাপের অবদান ক্ষীণ বা গৌণ – সমস্ত সংলাপ গুলো অবলা জীব কুকুরের। একটি প্রানী মানুষের ভাষা বোঝে না কিন্ত তার ভাবাবেগ মানুষের চেয়ে কম সূক্ষ্ম নয় – যেটা তাকাশি মুরাকামি পুরো মাঙ্গাটা জুড়ে আমাদের বোঝাতে চেয়েছেন….
কতগুলো কুকুরের জীবনকাহিনীর সাথে তাদের পালক মানুষের কমপ্লেক্সিটি; পালক বদল, ঘটনাচক্র, সমাজের কিছু দৃশ্যকল্প আর তার মাঝে ড্রামা – ট্রাজেডি। একসাথে এত কিছু একটি উপন্যাসে ফুটিয়ে তোলা মাঙ্গার চেয়ে বেশ সহজ কিন্ত ছবি এঁকে এঁকে এক ছবি দিয়ে হাজার লাইনের অভিব্যাক্তির প্রকাশ ঘটানো দুঃসাধ্য। প্রথম অংশে পুরোপুরি সফল না হলেও Zoku তথা সিকুয়েল মাঙ্গাটির জন্য তাকাশি মুরাকামি পেরেছেন সেটা করতে; এজন্য MyAnimeList এ Zoku কে ১০/১০ দিতে বাধ্য হয়েছি।
গল্পের মাঝে একজন চরিত্র এসেছে; তার পরিবার আর পরিপার্শ্ব ও তার সাথে একটি কুকুরের সম্পর্ক বা বলা যেতে পারে কুকুরের চোখে সেই মানুষের জীবনযাত্রা বা পরিবার কিরকম তার বর্ণনা দিয়ে শুরু। কুকুরের ভাবনা হয়ত সহজ সরল এবং কিছুটা নির্বুদ্ধিতা কিন্ত তাতে কোন দোষ নেই; কারণ কুকুর বোঝেনা কেন বাচ্চারা টিনেজার হয়ে গেলে বাবা মাকে মধ্যাঙ্গুলি দেখায়; সে বোঝেনা কেন ভালোবাসা আর মায়ার পরও Unemployed বলে একটি দম্পতির ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়. আর তাই কুকুরের কাছে তার পালকের জীবনের ব্যাখাটা অনেকটা সহজ ভাষ্য – “হুম সে এটা করে তারপর এটা হয় আর তারপর থেকে এটা রোজই হয়”আর এটাই এই মাঙ্গার সৌন্দর্য – কুকুরের বুদ্ধিবৃত্তি ইতর প্রাণীর পর্যায়ে থাকায় যে বাস্তবিক অনুভুতি একজন পাঠক হিসেবে পাওয়া সম্ভব তা পাওয়া গেছে।
এক মুহূর্তের জন্যও ফিকশন বা রূপকথার মত টিপিক্যাল হয়ে যায় নি ব্যাপারটা।
আবেগে আঘাত হানতেও ছাড়েননি তাকাশি মুরাকামি; প্রয়োজনে হিউম্যান Perspective থেকেও সংলাপ আর ভাবনাকে তুলে ধরেছেন।
আর বারেবারে মনে করিয়ে দিয়েছেন “Ignoring Dogs is a CRIME”.
তারপর আসা যাক গল্পের ফিনিশিং নিয়ে – এখানে প্রথমে অনেকগুলো কুকুরের জীবনকাহিনী বিচ্ছিন্ন ভাবে উপস্থাপিত হলেও শেষে এসে লেখক ঘটনাকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যে রীতিমত চোখ বড় বড় করে শেষ দুই চাপ্টার গল্ধঃকরন করেছি ই বলা শ্রেয়।
মাত্র ৯ চাপ্টারের এই মাঙ্গাটি যতটা আর্টিস্টিক আর ইমোশনাল ছিল হয়তো অনেক দীর্ঘকায় মাঙ্গাতেই তা নেই; মাঙ্গাটি সবার পড়া উচিত; বিশেষ করে আপনি যদি প্রাণীপ্রেমী হন – মাঙ্গাটি পড়ার পর হলেও মনে কুকুরদের প্রতি একটু সফট কর্নার তৈরি হবে বলে আমার বিশ্বাস। আর চিৎকার চেচামেচির আগেই বলে রাখা ভাল উপরের কোন ছবিই স্পয়লার নয় সুতরাং ঘাবড়ে যাবার কোন কারণ নেই।
পরিশেষে একটাই কথা বলবো, যদি ব্যস্ততার কারণে পোষা প্রাণীকে সময় দিতে না পারেন তবে অন্য কাউকে দিয়ে দিন বা ঘরে দেখাশোনা করার জন্য লোক রাখুন। ফেলে রাখবেন না বা অবহেলা করবেন না; কারণ সে আপনার অবহেলা বুঝবে না – আর তখন তার চেয়ে বড় পাপ আর কিছু থাকে না…..

