দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুনিয়া কাঁপানো ট্যাঙ্ক , আর একবিংশ শতকের দুনিয়া কাঁপানো মোয়ে এবং ললি চরিত্রগুলোর সংমিশ্রণ একটাই,গার্লস উন্দ পানজার । এম ফোর শের্মান,পানজার ফোর বা পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট মাউস এর মতো শক্তিশালী ট্যাঙ্ক গুলোর পাশাপাশি মিশো,সাউরি বা হানার মতো কাওয়ায়ি চরিত্রগুলো কল্পনা করতে হয়ত এতদিন বেমানান লাগতো , কিন্তু গার্লস উন্দ পানজারে নয়। এনিমখোরে যেহেতু রিভুর একটা ভালো রিভিউ আছে, সেজন্য সেদিকে না গিয়ে আমি এই লেখাতে ট্যাঙ্ক, ট্যাঙ্ক সম্পকে ব্যাবহৃত পরিভাষা এবং গার্লস উন্দ পানজারে ব্যাবহৃত ট্যাঙ্ক গুলোর বৈশিষ্ট্য এবং ইতিহাস সম্পকে আলোকপাত করবো।
ইতিহাসের দিকে……….
যারা প্রেমেন্দ্র মিত্রের সৃষ্টি ঘনাদা চরিত্রের একনিষ্ঠ ভক্ত তাদের বলতে হবে না ট্যাঙ্ক কার প্রথম আবিষ্কার ।ঘনাদা তখন বনমালী নস্কর লেনের মেসবাড়ির মজলিশ ছেড়ে লেকের ধারে জমিয়ে বসেছেন ।এখানে তিনি আর ঘনাদা নন,বরং ঘনশ্যাম বাবু ।এবং তার গল্পের বিষয় তার “তস্য তস্য পূর্বপুরুষ”গন ।সেইরকম এক পূর্বপুরুষ ঘনরাম দাস ওরফে গানাদো , বাংলা সাহিত্যে ক্লাসিক প্রতিম “সূর্য কাঁদলে সোনা” উপন্যাসে ইনকা সভ্যতার আর রাজা আতাহুয়াল্পার পতনে যোগ দেওয়ার আগে ,একটা ছোট গল্প “দাস হলেন ঘনাদা”তে তার পরিচয় পায় ।সেখানে দেখি মায়ানদের খপ্পর থেকে বাঁচার জন্য স্পেনীয় অভিযাত্রী এবং টেনচটিটলান বিজয়ী এর্নান কোর্তেস গানদোর হাতে পায়ে ধরছে।আর গানদো তৈরি করল “মান্টা” ।”রথের মত মোটা তক্তায় তৈরি দোতলা সাঁজোয়া গাড়ি ।সে ঢাকা সাজোঁয়া গাড়ির তলাতেই বন্দুক নিয়ে থাকবে সৈনিকরা ।নিজেরা কাঠের দেওয়ালের আড়ালে তীর বল্লম আর ইট পাটকেলের ঘা বাঁচিয়ে নিরাপদে বন্দুক ছুড়তে পারবে শত্রুপক্ষের উপর ।” ঘনাদার দাবী এই মান্টাই হলো পৃথিবীর প্রথম ট্যাঙ্ক ,যার সাহায্যে এর্নান কোর্তেস আর তার সৈনিকরা ,মায়ার দ্বীপ-নগরী টেনটচটিটলান থেকে জানে-প্রানে বেঁচেছিলো ।
কিন্তু ঘনাদা মানেই গুল,একেবারে শিল্পসম্মত গুল ।তাই ফিকশনের দুনিয়া ছেড়ে আমাদের খোঁজ করতে হবে বাস্তবের দুনিয়াতে । পৃথিবীর প্রথম ট্যাঙ্কের কনসেপ্ট সেই এর্নান কোর্তেস এর মেক্সিকো বিজয়ের কয়েক দশক আগেই আসে ।ইতালিয়ান পলিম্যাথ এবং মোনা লিসা বা লা জকোন্দা খ্যাত লিওনার্দো দা ভিঞ্চির নোটবই এ পাওয়া যায় তাঁবু বা ছুঁচলো ইএফও মতো এর কাঠের তৈরি এক ধরনের বাহনের নকশা ,সেটাই নাকী আদি ট্যাঙ্কের কনসেপ্ট ।
[লিওনার্দো দা ভিঞ্চির “আদি” ট্যাঙ্ক কনসেপ্ট]
আবার সায়েন্স ফিকশনের দুনিয়াতে গেলে পাবো 1903 খ্রিস্টাব্দে এইচ .জি ওয়েলসের লেখা ছোটগল্প “দ্যা ল্যান্ড আইরন ক্লাদ্স ” ,যেখানে বর্ননা দেওয়া আছে এমন একধরনের লোহার তৈরি ক্যানন আর মেশিনগান যুক্ত বাহনের ,যেটা লোহা আর ইস্পাতের শক্ত বর্ম দ্বারা আচ্ছাদিত ।
[এইচ.জি ওয়েলস এর গল্প অনুযায়ী ট্যাঙ্ক কনসেপ্ট]
তবে পৃথিবীকে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হলো না ,এর তেরো চোদ্দ বছর পর ,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ব্রিটিশ মার্ক ওয়ান,টু ,থ্রি থেকে আরম্ভ করে টেন পযন্ত সিরিজের ট্যাঙ্কের লড়াই দেখলো পৃথিবী ।ব্রিটেনের শত্রু-মিত্র সবার কাছে ছিলো এই সিরিজের ট্যাঙ্ক । ব্রিটেনের কাছে ছিলো মার্ক ওয়ান থেকে টেন অবধি সব শ্রেণীর ট্যাঙ্ক , জার্মানের কাছে ছিলো মার্ক ফোর শ্রেণীর ট্যাঙ্ক , জাপানের কাছেও ছিলো মার্ক ফোর শ্রেণীর ট্যাঙ্ক ।তবে ফরাসি ট্যাঙ্ক রেনাউল্ট এফ টি হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম মর্ডান ট্যাঙ্ক ।এটাই পৃথিবীর প্রথম ট্যাঙ্ক ,যার মাথায় একটা 360○ ঘূর্ণমান উঁচু গান টারেট ছিলো ,যেখান থেকে 37 মিমি শর্ট ব্যারেলের একটা ক্যানন বন্দুক শত্রুর ঢেরা ছিন্নভিন্ন করে দিতো । রেনাউল্ট একটা হাল্কা শ্রেণীর ট্যাঙ্ক হলেও এটা ব্রিটেনের মার্ক সিরিজের ট্যাঙ্কগুলো থেকে একটা জায়গায় এগিয়ে ছিলো ,উঁচু গান টারেট ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জার্মান এ সেভেন ভি(A7V) সিরিজের ট্যাঙ্ক গুলো ছিলো একটা ছোটখাটো চলন্ত দূর্গ,এরও কোন উঁচু টারেট ছিলো না ।
[জার্মান এ সেভেন ভি, যেন একটা চলন্ত দূর্গ]
পরিভাষাসমূহ…….
1. ট্যাঙ্ক টারেট:-
টারেট বা গান টারেট হচ্ছে ট্যাঙ্কের প্রচন্ড প্রয়োজনীয় অংশ ।এই শব্দটার বাংলা অনুবাদ করলে পাবো চূড়া অথবা কামান রাখিবার ঘূর্ণিমান মঞ্চবিশেষ ।প্রধানত ট্যাঙ্কের উপরে যে উঁচু অংশটায় ট্যাঙ্কের প্রধান কামানটি থাকে তাকে ট্যাঙ্কের টারেট বলে,এটি 360○ ঘুরতে পারে,ফলে ট্যাঙ্কের গতিমুখের সমকোনে ঘুরে গোলা দাগতে সক্ষম হয় ।প্রথম যে ট্যাঙ্কে টারেট ব্যাবহৃত হয় সেটি ফ্রান্সের রেনাউল্ট এফ টি,সেটা আগেই বলেছি ।টারেট এর ওজনও ট্যাঙ্কের একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, যেমন আধুনিক কালের জার্মানের লেপার্ড টুএফোর (2A4) এর টারেটের ওজন 16 টন এবং আরও কিছু ফাংশান (বৈশিষ্ট্য )যোগ হওয়া লেপার্ড টুএসিক্স(2A6) এর ওজন 21 টন।
[পৃথিবীর প্রথম আধুনিক ট্যাঙ্ক ,ফ্রান্সের রেনাউল্ট]
টারেট একবার 360○ ঘুরতে যতটা সময় নেয় সেটাও যুদ্ধের ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ ।যেমন জার্মান লেপার্ড টু সিরিজের সমস্ত ট্যাঙ্কের টারেট একবার পূর্ণ 360○ ঘুরতে সময় নেয় নয় সেকেন্ড।
2. ট্যাঙ্ক আর্মর বা ট্যাঙ্কের বর্ম:-
ট্যাঙ্কের বর্ম ,ট্যাঙ্ককে বিভিন্ন গুলি,বোম ,শেলের হাত থেকে রক্ষা করে ।বিভিন্ন ধরনের বর্ম আবিষ্কার হয়েছে ট্যাঙ্ককে রক্ষা করার জন্য ।যেমন স্লোপেড আর্মর ,রিয়াকটিভ আর্মর , সল্ট আর্মর ইত্যাদি ।গোটা ট্যাঙ্ক আর্মর কে দুভাগে ভাগ করতে পারি,হুল আর্মর এবং টারেট আর্মর ।
3. হুল আর্মর :-
টারেট বাদে অন্য কাঠামোর আর্মর বা বর্ম ।যেমন পানজার ফোরের সামনে আর্মর আশি মিলিমিটার মোটা,দুপাশে ত্রিশ এবং পেছনে কুড়ি মিলিমিটার মোটা ।
4. টারেট আর্মর :-
শুধু টারেটকে আলাদা ভাবে বাঁচানোর জন্য একটা বর্ম আঁটানো হয় ।পানজার ফোরে সামনের টারেট আর্মরটা 50 মিলিমিটার ঘনত্বের এবং পাশের এবং পেছনের আর্মরের ঘনত্ব ত্রিশ মিলিমিটার ।
পানজারের ট্যাঙ্কসমূহ………
ভূমিকাতে কিছু আলোচনা করে এবার মূল বিষয়ে ফিরি । গার্লস উন্দ পানজারের জগতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ট্যাঙ্কগুলো এখন খেলা এবং প্রতিযোগিতার বিষয় ।একসময়ের বিভিষকা, বর্তমান সময়ে রোমাঞ্চ এবং উত্তেজনার বিষয় । গার্লস উন্দ পানজারে মোট আট ধরনের ট্যাঙ্ক, প্রধানত দেখা পেয়েছি ।নামগুলো হলো জার্মানের পানজার ফোর, পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট “মাউস”, পোর্সে টাইগার, স্তুগ ত্রি,জাপানের টাইপ এইটটি নাইনবি আই গো অতসু, টাইপ নাইনটিন সেভেন চি হা,আমেরিকার এম ফোর শের্মান, ফ্রান্সের রেনাউল্ট বি ওয়ান ।এছাড়া আছে আরও কিছু ট্যাঙ্ক, যেগুলো নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা হবে ।
1. পানজার ফোর:-
পানজার ফোর বা পানজারক্যাম্পফাওগেন ফোর হচ্ছে জার্মান মাঝারি শ্রেনির ট্যাঙ্ক, যেটা 1930 থেকে 1945 অবধি বানানো হয়েছিলো ।এইসময় প্রায় 8569 টা পানজার ফোর বানানো হয়।এর মোট দশটা ভারসন ছিলো ।পোল্যান্ড আক্রমণের সময় এবং ফ্রান্সের যুদ্ধের সময় এই ট্যাঙ্ক প্রচন্ড ব্যাবহৃত হয় ।পোল্যান্ড আক্রমণের সময় 211 টা পানজার ফোর ব্যাবহার করে জার্মানি ।সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে কুর্স্কের যুদ্ধে 841 টা পানজার ফোর হারায় জার্মান ।সব মিলিয়ে পূর্ব সীমান্তে দুহাজারের উপর পানজার ফোর হারায় জার্মান ।
[পানজার ফোর]
2. পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট “মাউস”:-
পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট মাউস হচ্ছে জার্মানির “সুপার হেভি ট্রাঙ্ক” ।অনেকে একে এখনও পযন্ত সবচেয়ে ভারী “আর্মর ফাইটিং ভেহিকলস” বলে ।কিন্তু এর মাত্র দুটো প্রোটোটাইপ তৈরি হয়েছিলো(v1 আর v2)।188 টন ওজন নিয়ে সবচেয়ে বেশি কুড়ি কিলোমিটার গতিবেগে যেতে পারতো,গড়ে তেরো থেকে আঠরো কিলোমিটার ।এর আর্মরের ঘনত্বও ছিলো প্রচণ্ড ।হুল আর্মর আর টারেট আর্মরের সামনের দিকে ঘনত্ব ছিলো 220 মিলিমিটার ।
[অতিকায় “মাউস”]
3. পোর্সে টাইগার:-
আর একটা হেবি ট্যাঙ্ক যেটা জার্মানরা প্রোটোটাইপ অবধিই সীমাবদ্ধ রেখেছিলো সেটা হলো পোর্সে টাইগার ।এর সামনের হুল আর্মর আর টারেট আর্মর এর ঘনত্ব একশ মিলিমিটার ।
[অতিকায় “টাইগার”]
4. স্তুগ ত্রি:-
জার্মানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে বেশি বানানো ট্যাঙ্ক হচ্ছে স্তুগ ত্রি ।এগারো হাজারের উপর বানানো হয় ।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়াও ইজরায়েল আর মিশরের মধ্যে 1964 এ সংগঠিত ছয় দিনের যুদ্ধেও এটা ব্যাবহৃত হয় ।নাজি জার্মান ছাড়াও বুলগেরিয়া,কিংডম অফ রোমানিয়া, কিংডম অফ বুলগেরিয়া ,ফিনল্যান্ড,ইটালি,সিরিয়া ব্যাবহার করে ।সোভিয়েত এটা টেস্টিং এর জন্য ব্যাবহার করে ।এর এগারোটা ভারসন বানানো হয় ।যেহেতু এটা একটা ট্যাঙ্ক ডেসট্রয়ার ,সেজন্য এখানে টারেট ব্যাবহৃত হয়নি ,সেজন্য এটা ট্যাঙ্ক কম ,বড় আর্টিলারী বন্দুক বেশি মনে হয়।
[স্তুগ থ্রি]
5. টাইপ এইটটি নাইন বি আই গো অতসু:-
জাপান এই ট্যাঙ্কটা ডিজাইন করেছিলো 1928 এ ।এটা দ্বিতীয় সিনো জাপান যুদ্ধে চীনের বিরুদ্ধে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যাবহৃত হয় ।এর দুটো ভারসন ছিলো ।
[টাইপ এটটি নাইন]
6. টাইপ নাইনটি সেভেন চি হা:-
এই ট্যাঙ্কটা ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের জাপানের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ট্যাঙ্ক ।একটা মেন গান ছাড়াও দুটো মেশিনগান থাকতো ।1162 টা ট্যাঙ্ক প্রস্তুত করা হয় মোট ।
[টাইপ নাইনটি সেভেন]
এম ফোর শের্মান :-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্রপক্ষের অন্যতম সেরা বাজি ছিলো এম ফোর শের্মান ।আসলে এটি পূর্বতন এম থ্রি লি এর উন্নত সংস্করন।এম থ্রি লি এর মাথার উপর একটা রোটিং টারেট বসিয়ে এবং সেখানে আরও উন্নত এম থ্রিফোর এ ওয়ান ক্যানন গান চরিয়ে তৈরি করা হয় এম ফোর শের্মান ।শুধু আমেরিকা নয়,ব্রিটিশরাও এই ট্যাঙ্ক ব্যাবহার করেছে ।তারা চাইছিলো শের্মান এর মত আমেরিকান ট্যাঙ্কের উপর ব্রিটিশ ট্যাঙ্ক গান বসাতে ।তো তৈরি হয়ে গেল এম ফোর শের্মান ফায়ার ফ্লাই ।এই ট্যাঙ্কের সবচেয়ে বিখ্যাত বৈশিষ্ট্যটি হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে এর ব্যাবহারকারী পরস্পরের শত্রু মিত্র দেশ ।যেমন দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর জাপান,ইতালি,বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন,কানাডা,ফ্রান্স এমনকী নাজি জার্মান ।এছাড়া বাংলাদেশ,ভারত,পাকিস্তান, ইরাক,ইরান,ইজরায়েল, লেবানন,ভিয়েতনাম ।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়াও এই ট্যাঙ্ক লড়েছে 1965 এর ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধে,1971 এ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ এবং পশ্চিম ফ্রন্টে ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধে ,ইজরায়েল এর সিক্স ডে ওয়ার বা বিখ্যাত ছদিনের যুদ্ধে,ইরান-ইরাক যুদ্ধে,কিউবান বিপ্লবে, সুয়েজ ক্যানেল ক্রাইসিসে ।
ইনফ্রানটি ট্যাঙ্ক মার্ক থ্রি মাটিলডা:-
সাধারনত ইনফ্রানটি বাহিনীর সহায়ক হিসাবে এই ট্যাঙ্ক তৈরি করে ব্রিটিশরা ।এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিকে জার্মান ট্যাঙ্ক যেমন পানজার থ্রির বিরুদ্ধে ভালো পারফর্ম করেছিল ।এর এর 78 মিলিমিটার ঘনত্বের সামনের হুল আর্মর আর 75 মিলিমিটার ঘনত্বের টারেট আর্মর খুব মজবুত হলেও এটি কাছের টার্গেটের বিরুদ্ধে ভালো পারফর্ম করতে পারতো না ।এর আর একটি নাম ছিলো,কুইন অফ ডেজার্ট বা মরুভূমির রানি ।প্রধানত 1940-41 এ আফ্রিকার অপারেশন এ ইটালিয়ান ট্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ভালো পারফর্মের জন্য ।
টি চৌত্রিশ /টি থারট্রি ফোর/T-34:-
শুধু সোভিয়েত রাশিয়া নয়,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সবচেয়ে বেশি যে ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়েছিলো ।এই ট্যাঙ্কের মহিমা বহু কথাতেও শেষ করা যাবে না ।1930 সালে ডিজাইন করা এই ট্যাঙ্কটা আজও বহু দেশের আর্মিতে ব্যাবহার হয় ।টি সিরিজের অন্য ট্যাঙ্ক যেমন টি -62,টি-72 এবং টি-90 এর দিশারী ছিল এই টি-34 ট্যাঙ্ক ।সম্ভবত এখনও অবধি সবচেয়ে বেশি তৈরি করা ট্যাঙ্ক এই টি-34 ,এমনকী হালে 1996 অবধি এই ট্যাঙ্ক উৎপাদন করা হয়েছে ।তৈরি হয়েছে বহু ভারসন,উৎপাদন করা হয়েছে আশি হাজারেরও বেশি ।তখনকার দিনে তৈরি হলেও অনেক বিষয়ে এগিয়ে ছিলো এই ট্যাঙ্ক, এর আর্মর ছিলো প্রচণ্ড মজবুত ,পশ্চিম সীমান্তে নাৎসিদের সম্পূন ভাবে রুখে দিয়েছিলো এই ট্যাঙ্ক।নাৎসিদের বিভীষকা স্বরুপ এই ট্যাঙ্ক ব্যাবহার করেছে নাৎসি এবং ইটালিরাই ।এছাড়া অস্ট্রিয়া,বসনিয়া, লাউস,কিউবা,তৎালীন ইস্ট জার্মানি, লিবিয়া,পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া,গনচীন,প্যালেস্তাইন ।
এম থ্রি লি:-
পানজার সিরিজে যে কিউট পিঙক কালারের ট্যাঙ্ক টা ছিলো,যেটা দেখতে অনেকটা শের্মান এর মত ,সেটাই এম থ্রি লি ।আসলে একেই উন্নত করে তৈরি করাহয় শের্মান ।এটি কর্নেল রবার্ট. ই. লি এর সম্মানে নাম দেওয়া হয় ।ব্রিটিশরা এর নাম দেয় ইউনিয়ন জেনারেল এবং আঠোরো তম আমেরিকান রাষ্ট্রপতি ইউলিসিস গ্রান্টের নামে,এম থ্রি গ্রান্ট ।
তথ্যসূত্র :- পানজারউইকি,ট্যাঙ্কগুরু













