‘শিকড়ের সন্ধানে’- পর্ব ১: প্রসঙ্গঃ সামুরাই কোড, বুশিডোঃ দ্যা সোল অব জাপান

 

জাপানের সামরিক ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ‘সামুরাই’ শব্দটি, এর মূল অর্থ (those who serve), সামুরাইদের উদ্ভব হয়েছিল ফিউডাল এইজে (প্রায় ৭০০ বছর ধরে এই যুগ চলেছে জাপানে, কামাকুরা থেকে শোগনেট, মেজির আগ পর্যন্ত…), মূলতঃ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বডিগার্ড হিসাবে, কিন্তু ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, কর আদায়, বিদ্রোহ দমন ইত্যাদিতে ছড়িয়ে পরে সামুরাইদের কাজের পরিধি, ধীরে ধীরে সামুরাই হয়ে উঠে জাপানের সামরিক শক্তির প্রতীক আর মূলশক্তি।

সামুরাইদের মূল ব্যাপার তাদের শক্তিমত্তায় নয়, বরং তাদের ব্যতিক্রমধর্মী লাইফস্টাইল আর বিশ্বাসে, সামুরাইদের সম্পূর্ণ নিজস্ব জীবনধারা আছে, যা ওয়ারিয়র কোড কিংবা ‘বুশিডো’ নামে পরিচিত, যাদের আগ্রহ আছে দেখে নিতে পারেন নিতোবে ইনাযোর ইন্টারন্যাশনাল বেস্ট সেলার “বুশিডোঃ দ্যা সোল অব জাপান” বইটি।

এই বুশিডোর মূলতঃ আটটি ভার্চু আছেঃ
১-রেকটিচিউডঃ এটা হলো বুশিডোর মেরুদন্ড, এর উপর বাকিসবগুলো ভার্চু ডিপেন্ডেন্ট, সামুরাইদের কাছে এর অর্থ হলো খুব সহজ, ‘the power to decide upon a course of conduct in accordance with reason’, সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে পারার দৃঢ়তা…
২-কারেজঃ কারেজ আর ব্রেভারির মধ্যে পার্থক্য আছে, কারেজ হলো সঠিক কাজ করতে পারার সাহস।
৩- বেনেভোলেন্স-মার্সিঃ নেতৃত্বদানকারী ক্ষমতাশীল ব্যক্তির যে ব্যাপারটি থাকা খুব জরুরী সেটা হলো সবাইকে সমানভাবে কমপেশন আর দয়া দেখাতে পারা, কনফুসিয়াসের মতে এটা হলো একজন শাসকের সর্বোচ্চ রিকোয়ারমেন্ট।
৪-পোলাইটনেস- চাটুকারিতা আর বিনয়ের মধ্যে বিরাট কিন্তু পার্থক্য আছে, সামুরাই চরিত্রের অন্যতম স্তম্ভ হলো পোলাইটনেস।
৫-অনারঃ সামুরাই নিজের বিশ্বাস ও ভালবাসার প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সম্মান রক্ষার্থে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে সবসময় প্রস্তুত, তার কাছে জীবনের চাইতে মানের দাম বেশি।
৬- লয়ালিটিঃ সামুরাই সুপারিয়র ও জাতির প্রতি প্রতিমুহূর্তে শ্রদ্ধাশীল আর বিশ্বস্ত, কোন অবস্থাতেই সে বিট্রে না করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
৭- অনেস্টি-সিন্সিয়ারিটি…
৮-ক্যারেক্টার- সেলফ কনট্রোল…
সামুরাইদের এই ৮টি কোড পুরো বিশ্বের সকল যোদ্ধাদের জন্য একটা আদর্শের মত, তবে ঠিকভাবে চিন্তা করলে বুঝা যায় এ শুধু যোদ্ধাদের নয় সর্বস্তরের মানুষের জন্য আদর্শ হতে পারে। সামুরাই শুধু সৈন্যদের নাম নয়, একটা বড় সোশাল ক্লাস।

যাইহোক, বুশিডোর যেকোন লঙ্ঘনের জন্য সামুরাইদের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়, আর সেটা হলো ‘সেপ্পুকো’, কখনো ‘হারিকিরি, যেটা হলো নিজের সোর্ড দিয়ে পেট কেটে আত্মহত্যা করা সবার সামনে… (দেখতে পারেন Carl Rinch এর মুভি ‘৪৭ রনিন)..

 

## কিছু এনিমে যেখানে সামুরাইদের লাইফ কমবেশি ফিচার করা হয়েছেঃ

১ রুরোনি খেনশিন (সামুরাই এক্স)- এই বিখ্যাত এনিমে ত কমবেশি সবাই দেখেছেন, শোগনেট যুগের এক কুখ্যাত ম্যানস্লেয়ারের স্বাভাবিক জীবনের ফিরে আসার চেষ্টা, যুদ্ধ আর মৃত্যুর দুঃস্বপ্ন যেখানে তাকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায়, মেজি যুগে সামুরাইদের জীবনধারা অনেকটাই ফুটে উঠেছে, অস্থির ক্লাসিক এনিমে, না দেখে থাকলে আজকেই শুরু করা উচিত, রেটিং- ৯/১০

২ সামুরাই চ্যাম্পলু- তকুগাওয়া পিরিয়ড (১৬০০-১৮৬০) এর অনেক ব্যাপার চলে আসছে, তবে মডার্ন রেফারেন্স বেশি, ঠিক উনিশ শতাব্দীর টিপিক্যাল কিছু নাহ, তবে এনিমে অনেক ভাল, অবশ্যই দেখার মত, রেটিং- ৮-সাড়ে ৮
৩ আফ্রো সামুরাই- রেটিং সাড়ে ৭-৮
৪ সেনগোকু বাসারা- ফিউডাল এরাকে ফিচার করা হয়েছে এ এনিমেতে, ১১৭০ এর দিকে কামাকুরা জাপান দখল করার পর বিভিন্ন অঞ্চলের ফিউডাল লর্ডরা অনেক ক্ষমতাশালী হয়ে উঠে, তাদের প্রভাব বিস্তারে তৎপর হয়ে উঠে, বিখ্যাত সামুরাই লর্ড ওদা নবুনাগা আর দাতে মাসামুনের কাহিনী চলে এসেছে এই এনিমেতে, রেটিং- ৮
৫ গিনতামা- মূলতঃ প্যারোডিটাইপ এই এনিমেতে ঠিক জাপানিজ হিস্ট্রির আগামাথা না থাকলেও সামুরাইদের লাইফস্টাইল অনেকটাই ফিচার করেছে, ধরে নেওয়া যায় এদো পিরিয়ডের পর, ১৯-২০ শতকের জাপানে সামুরাইদের জীবনধারার একটা চিত্র এতে পাওয়া যাবে। আর এনিমে হিসাবে খুব বেশি ভালো, রেটিং- ৯/১০
৬ সামুরাই ৭- কুরোসাওয়া আকিরার বিখ্যাত মুভি সামুরাই সেভেনের দ্বারা কিছুটা প্রভাবান্বিত, সামুরাইদের সাথে মেকা-সাইফাই এর একটা মিক্সার, ভালই। রেটিং- ৮

## কয়েকটা মুভি যা সামুরাইদের জীবনধারা তুলে এনেছে সুন্দরভাবে-
১ দ্যা লাস্ট সামুরাই
২ সেভেন সামুরাই (১৯৫৪)
৩ ৪৭ রনিন, সেইম কন্সেপ্টে আরেকটা হলো ১৯৬২ এর চুশিনগুরা
৪ গোস্ট ডগঃ দ্যা ওয়ে অব দ্যা সামুরাই
৫ সামুরাই এসাসিন
৬ হিউম্যানিটি এন্ড পেপার ব্যালুন (১৯৩৭)
৭ হারিকিরি (১৯৬২)

Comments