Anohana: The Flower We Saw That Day [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Anohana 1

এনিমে: Anohana: The Flower We Saw That Day
পর্ব: ১১
স্টুডিও: A-1 Pictures
মুক্তি: ২০১১
MAL রেটিং: ৮.৬

কাহিনী সংক্ষেপ: সিক্সস্থ গ্রেডে পড়া ছয় কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে কাহিনীর শুরু। ছয় বন্ধুর তিনজন ছেলে, তিনজন মেয়ে। তারা একে অপরকে ডাক নামেই ডাকে। নাম: জিনতা, মেনমা, আনারু, সুরুকু, ইয়োকিয়াতসু ও পোপ্পো। সমবয়সী আর সব ছেলেমেয়েদের মত তারাও মাঠে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। পুরাতন এক কাঠের কেবিনে তাদের সংগঠনের হেডকোয়ার্টার। তাদের দলের নাম: Super Peace Busters.

অনেকটা তিন গোয়েন্দা বা ফেমাস ফাইভের কথা মনে পড়ছে না? চলুন দেখে আসি এরপর কী হয়।

হুট করে দলের সবচেয়ে উচ্ছল সদস্য মেনমা রহস্যজনক ভাবে মারা যায়। মনমালিন্যে ভেঙ্গে যায় সুপার পিস বাস্টারস। বাকী পাঁচ বন্ধুকে জোড়া দেবার জন্য মেনমা আর রইলো না, সবাই চলে গেল যার যার পথে।

কিন্তু কাহিনীর এখানেই শেষ নয়। দলের নেতা জিনতা হাইস্কুল ফাঁকি দিয়ে অলস দুপুর কাটাচ্ছিল একদিন বসে বসে। হুট করে তার ঘরে এসে হাজির হয় মেনমা! জিনতা তো অবাক, প্রথমে ভেবেছিল অতিরিক্ত গরমের কারণে মরীচিকা বুঝি। পরে ভূত মনে করে ভয়ই পেয়েছিল!

মেনমা আসলে ভূতই বটে। পরকাল থেকেই এসেছে সে। তবে কেনই বা তার পরকাল থেকে এই ইহলোকে আসার দরকার পড়লো! কারণ একটাই: মেনমার শেষ আবদার! মেনমা জানায় যে বেঁচে থাকতে তার একটা অপূর্ণ শখ ছিল। সেটা পূরণ না হওয়ায় সে পরকালে ফিরে যেতে পারছে না অতৃপ্ত আত্মা বলে। জিনতার প্রতি তার একটাই অনুরোধ, যেভাবেই হোক তার এই উইশ পূরণ করতে হবে। মজার ব্যাপার হল সেই ইচ্ছের কথা মেনমা নিজেই মনে করতে পারছে না!

অনুরোধটা কঠিন হয়ে যায় জিনতার কাছে। সুপার পিস বাস্টারসের সবাই প্রায় বিচ্ছিন্ন। সবাইকে একই ছাতার নিচে আনা সম্ভব হবে না সহজে। আরো বড় বিপদ হল মেনমাকে জিনতা ছাড়া আর কেউ দেখতে পায় না। এখন কিভাবে জিনতা বাকী চারজনকে মেনমার কথা বিশ্বাস করাবে! তাই বলে কী বেচারী মেনমার শেষ ইচ্ছাটা পূরণ হবে না!

জানতে হলে এনিমেটার এগারোটা পর্ব পেরিয়ে যেতে হবে মন শক্ত করে।

Anohana 2

প্রতিক্রিয়া:

রোমান্টিক এনিমে তো এই জীবনে কম দেখা হল না। বেশীরভাগ এনিমেতে বন্ধুত্ব জিনিসটা প্রধান থিম থাকে না। বন্ধুতা একপর্যায়ে রাইভাল বা প্রেমের সম্পর্কে গিয়ে গড়ায় জাপানিজ কালচারে। সেই জায়গায় আনোহানা একটি উজ্জ্বল ব্যতিক্রমী উদাহরণ। আনোহানার আগাগোড়া থিমটাই গড়ে উঠেছে বন্ধুত্বকে নিয়ে।

বাকী চার বন্ধুকে একত্র করতে গিয়ে জিনতা আর মেনমাকে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তা অত্যন্ত বাস্তবিক। না বলা অনেক কথা-আবেগ-অনুভূতি অনেক সময় বন্ধুত্বের কাল হয়ে দাঁড়ায়। সুপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাও অনেক সময় দেয়াল তুলে দেয় বন্ধুত্বের মধ্যে। অতিরিক্ত অনুরক্ততা ও লুকিয়ে রাখা ভালবাসা যথেষ্ট একটা সার্কেলের জমাট দেয়ালে ফাটল ধরাতে। কুড়ে কুড়ে খাওয়া অপরাধবোধের কারণে যে অনেকে নিজের বন্ধুদের ছেড়ে চলে যায় তার উদাহরণ অনেক আছে। আর হীনম্মন্যতার মত বড় শত্রু বুঝি বন্ধুত্বের আর নেই।

তো আনোহানার চরিত্রগুলোকে উপরের মোটামুটি সবগুলা সমস্যাতেই ভুগতে দেখা যায়। এনিমেটা শুধুই বন্ধুত্বকে নিয়ে। এনিমেটা শুধুমাত্র এক মৃত বন্ধুর অসম্ভব ইচ্ছাকে পূরণ করার অনেকগুলা মানুষের আত্মগরিমা বিসর্জনের গল্প। ভুল বোঝাবুঝি হতে হতে যখন জিনতার সব প্রচেষ্টা যখন ভেঙে পড়ার যোগাড় তখন বন্ধুত্বের সুতোর টানে সবাই এক হয়। সেই এক হওয়া কি ক্ষণস্থায়ী হবে নাকি চিরস্থায়ী হবে তা বলে দেবে এনিমের গল্পটা। মেনমার অপূর্ণ ইচ্ছা কি আসলেই তাদের এত এত বিসর্জনের যোগ্য কিনা তাও বলে দেবে গল্পটা। সাথে বের আসবে ছয় বন্ধুর মনে লুকিয়ে থাকা যত খেদ-ক্ষোভ-অভিযোগ-বিরাগ আর ভালবাসা।

ব্যক্তিগতভাবে বন্ধুত্ব জিনিসটা মূল থিম হওয়ায় আনোহানা দেখতে আমি আগ্রহী হয়েছিলাম। যদিও চেইন রিয়্যাকশনের মত প্রেমের ব্যাপার ছিল তবে তা বেশী বাঁধা দেয় নি গল্পটা উপভোগের রাস্তায়। এনিমেটা দেখার পর ভয়ানক ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল অন্তরের ভেতরটা। ইচ্ছে করছিল বন্ধুদের সাথে এতদিন যা যা অন্যায় করেছি তার জন্য করজোরে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আসলেই আনোহানা আপনাকে এই চিন্তার যোগান দেবে, ইচ্ছে করবে লুকিয়ে রাখা সকল অপরাধবোধের কথা বন্ধুদের বলে দিতে। সেটা যে অবশ্যই একটা খাঁটি কাজ তা শেষ পর্বের সমাপ্তির পর একটা অদ্ভুত পূর্ণতা অনুভবের মাধ্যমে উপলদ্ধিও হবে। দু ফোঁটা অশ্রু গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লেও একে চেপে রাখা উচিত হবে না।

এনিমের গল্প লিখে দিয়েছেন মারি ওকাদা যিনি True Tears, Nagi no Asukara, Anthem of the Heart, Hanasaku Iroha ইত্যাদি এনিমের গল্প লিখে দেবার জন্য খ্যাত। গাদা গাদা মিডিওকোর এনিমের মধ্যে আনোহানার মত কিছু এনিমেই A-1 Pictures এর সবেধন নীলমণি। ভাল কাজ দেখিয়েছে A-1 তা বলতেই হবে। পুরো এনিমেটার অ্যানিমেশনেই একটা আলোকিত ভাব ছিল। বিশেষ করে দিনের বেলার দৃশ্যগুলা ছিল উজ্জ্বল ও মনমাতানো। জঙ্গল, কেবিন, নদী, ব্রিজ, মাঠঘাটের দৃশ্যের অ্যানিমেশন এনিমেটার ইমোশনাল সাইডটাকে ভালভাবে সাহায্য করেছে। রাতের দৃশ্যগুলা আরেকটু ভাল হতে পারতো বলে আমার মতামত। তবে ফায়ারওয়ার্কসের পর্বটার বেলায় এই অভিযোগ খাটবে না।

আর আনোহানা যে জিনিসটার জন্য বিখ্যাত তা হল এর ওপেনিং আর এন্ডিং সং। Aoi Shiori
ওপেনিং সংটা বারবার দেখতাম, বিশেষ করে বাকী পাঁচ বন্ধুর মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা মেনমার ফুল হয়ে যাওয়ার জায়গাটা। গ্যালিলিও গ্যালিলাই ব্যান্ডটা আর নেই, তাদের ভোকালের আরো দুয়েকটা গান শুনেছি, তবে আওই শিয়োরিই সেরা আমার মতে।

এখন আসি এন্ডিং সংয়ের বেলায়। Secret Base Kimi ga Kureta mono- 10 years after ver. নামের এই গানটা শুনে অন্তর কাঁদে নাই এমন দর্শক মনে হয় আর পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্রতিটা পর্বের একেবারে শেষে এমন জায়গায় গানটা বাজানো শুরু করে দিত যে বুকটা কেঁপে উঠতো প্রতিবারই। শেষ পর্বে ফুল ভার্সনটাই ছেড়ে দেওয়ার পর আর সহ্য না করতে পেরে পজ করে দিয়েছিলাম ভিডিও প্লেয়ার। এনিমের তিন নারী চরিত্রের তিন হেভিওয়েট ভয়েস অ্যাক্ট্রেস কায়ানো আই, তোমাতসু হারুকা আর হায়ামি সাওরির গাওয়া এই জাদুকরী গানের তালে তালে পিচ্চি মেনমা, আনারু আর সুরুকোকে দেখতে খুব ভাল লাগতো। একটা লাইভ পারফরমেন্স আছে এই গানের, দেখলে আবেগে ভেসে যেতে হয়।

আসলে আনোহানা ঐ ধরণের এনিমে যার হয়তো বিধ্বংসী কোন প্লট নেই, ডিরেক্টর সাহেবের ক্যামেরার কারিকুরিও নেই অতটা, মাকাতো শিনকাইয়ের মত সিনেমাফটোগ্রাফি নেই, সিরিয়াস বা ম্যাচিউরড থিমও অল্পই। তারপরেও ইমোশনাল রাইড আর সুন্দর সমাপ্তির জন্য এনিমেটা ভক্তদের মনে মনে অনেক অনেক দিন অক্ষয় হয়ে থাকবে তা নিশ্চিত হয়েই বলা যায়।

Anohana 3

Comments

comments