Bungaku shoujo প্রতিক্রিয়া এবং র‍্যান্ট — Mehedi Hasan Himel

Bungaku Shoujo 4

Bungaku shoujo প্রতিক্রিয়া এবং র‍্যান্ট (কোনো রিভিউ না)

এনিমের উপরঃ

  • Bungaku Shoujo Movie

সিরিয়ালওয়াইজ প্রথমে আসে এই মুভি, কোনোহা আর তোহকোর প্রথম পরিচয় থেকে শুরু, তারপর একে একে আসতে থাকে অন্যান্য চরিত্ররা। তোহকো হচ্ছে বুক গার্ল, সহজ কথায় সে বই খায়, বই খাবার মাধ্যমেই সে তার খাবারের প্রয়োজন মেটায়, সাধারণ খাবারের কোন স্বাদ সে নিতে পারে না। আর তার রাইটার হচ্ছে কোনোহা, প্রতিদিন ক্লাসের পর বুক ক্লাবের রুমে তাকে ৩ টি শব্দের উপর ভিত্তি করে ৫০ মিনিটের মধ্যে তোহকোর জন্য খাবার ( 😛 ) তৈরি করতে হয়, আর তোহকো তার পুরাটা খায়, যতই না খারাপ হোক। আর খাবার খাওয়ার সময় যা বর্ণণা দেয় তা আরেক জিনিস।

কোনোহার আরেকটা পরিচয় আছে, ২ বছর আগে সে ছিলো এক নভেল কন্টেস্টের বিজয়ী, মাত্র ১৪ বছর বয়সে সে জয়ী হয় এবং তার নোভেল অন্যতম বেস্ট সেলার হয়। যদিও তার নোভেল লেখার উদ্দেশ্য ছিলো অন্য একটা, তার বাল্যবন্ধু আসাকুরা মিউ এর প্রতি তার অনুভূতির কথা জানানো। যদিও তা তার উপর ব্যাকফায়ার করে। আসাকুরা মিউ এতই মানসিকভাবে নির্যাতিত হয় যে সে আর সহ্য করতে না পারে কোনোহার সামনের তাদের স্কুলের ছাদ থেকে লাফ দেয়। এই ঘটনা কোনোহাকে এতই বিপর্যস্ত করে যে সে এক বছরের জন্য আর ঘর থেকে বের হতে পারে নি।

হাইস্কুলে এসে তার জীবন অনেক চেঞ্জ হয়, বুক ক্লাবে যোগদান করে আর তোহকোর সাহায্যে সে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠে এবং আরেক সহপাঠী নানাসের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক ( -_- ) গড়ে উঠে।

এদিকে তারপর আগমন ঘটে মিউ এর, ২ বছর পর, কোনোহার সুখ ভাঙ্গার এবং কোনোহাকে নিজের করে নিতে সে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালায়, অনেকাংশে সফল ও হয়।

বুঙ্গাকু শৌজো এর প্রতিটা ভলিউম ই একটি নির্দিষ্ট নোভেলকে ঘিরে আবর্তিত হয়, ঐ নোভেলের চরিত্র গুলোর সাথে সিরিজের চরিত্রগুলোর একটা মিল তৈরি করে কাহিনীকে পূর্ণতা দেয়া হয়। এই মুভির ভিত্তি ছিলো কেঞ্জি মিয়াকাওয়ার Night on the Galactic Railroad.

মুভিটার সবচেয়ে ভালো দিক ছিলো এনিমেশন, অসাধারণ এনিমেশন লেগেছে, ভাইব্র্যান্ট ছিলো, তারপর ট্রেনের সিনটা অনেক ভালোভাবে দেখিয়েছে। তারপর সাউন্ডট্র্যাক আর শেষের এন্ডিং সংটা। আর কানাজাওয়ার ভয়েস যা ছিলো <3 , তোহকোর সাথে কীবারে মিলে গিয়েসে, বোনাস হিসেবে ছিলো মিজুকি নানা।

এই মুভির অনেক কিছুই খাঁপছাড়া লাগবে। অনেক কিছুই হঠাৎ করে আনা হয়েছে বা করা হয়েছে, কিছু ব্যাখা যদিও Memoire তে দেয়া হয়েছে তাও আশানূরূপ নয়।

রেটিং: ৬.৫ / ১০

Bungaku Shoujo 3

  • Bungaku Shoujo Kyou no Oyatsu: Hatsukoi

১৫ মিনিটের একটা অভিএ, মুভির সাথে শুধু একটি কাহিনীরই মিল আছে, এছাড়া তেমন গুরুত্বপূর্ন না, দেখার জন্য দেখা আর কি।

Bungaku Shoujo 1

রেটিং: ৬/১০

  • Bungaku Shoujo Memoire

৩ পর্বের সিরিজ, ৩ টি পর্ব ৩ জন ভিন্ন নায়িকার উপর। প্রথম পর্ব তোহকো, ২য় পর্ব মিউ আর ৩য় পর্ব নানাসেকে নিয়ে।

মুভির কাহিনী অনেকাংশেই ব্যাখা করেছে পর্বগুলো। তোহকোর যে কোনোহার অতীত জানতো, সে যে তার প্রথম ফ্যান ছিলো, তাকে বুক ক্লাবে যোগদানে বাধ্য করাতে সে নাটকও সাজায় :3 । তার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ছিলো কোনোহাকে আবার নোভেল লিখাতে অনুপ্রাণিত করে এবং সে সার্থক হয়েছিলোও।

তারপর মিউ এর পর্ব। মিউ এর পারিবারিক দূর্দশা ই এখানেই প্রথম প্রকাশ পায়। তার বানোয়াট গল্পের প্রতি একমাত্র কোনোহাই আগ্রহ প্রকাশ করে, সে হয়ে উঠে কোনোহার প্রতি ওভারপ্রটেক্টিভ। কিন্তু যখন কোনোহা তাকে ছাড়িয়ে পুরস্কার জিতে নেয়, তখন সে চূড়ান্ত হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায়, শুধুমাত্র কোনোহাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য সে নিজে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে।

রেটিং: ৭.৫ / ১০

Bungaku Shoujo 2
র‍্যান্ট — নভেলের ভিত্তিতে (স্পয়লার এলার্ট)

প্রথমেই সবচেয়ে বড় ভুলটা হয়েছে মুভি করার সময়। ৮ ভলিউমের একটা সিরিজ। ২-৩ ভলিউম থেকে হয়তোবা শুরু করতে পারতো। নাহ একেবারে পঞ্চম ভলিউম!!!! জীবনেও দেখি নাই, অর্ধেক ম্যাটেরিয়াল পুরো স্কিপ। তাতে যা ক্ষতি হইলো প্রথম দিলের চরিত্রগুলোর। চিয়া ছিলো প্রথম ভলিউমের নায়িকা, তার কোনো ডেভেলপমেন্ট নাই, কিছু উল্লেখ ও করে নাই। অথচ এই হাসিখুশি মেয়েটাই নিজের বয়ফ্রেন্ডকে বুকে ছুরিকাঘাত করেছে, তাও ভরা রাস্তায়, সিরিজের সবচেয়ে টুইস্টেড ক্যারেক্টারগুলোর একটা।

তারপর রিইউতো। সিরিজের অন্যতম মেইন চরিত্র, শেষ ৩ ভলিউমের ভিলেইন আর কোনো উল্লেখই নাই এ ব্যাপারে। তোহকোর বাবা মা র সুইসাইডের পিছনে যে ওর হাত আছে তাও কেউ জানলো না। ও আর মাকি সিরিজের সবচেয়ে অসাধারণ কাপল, ২ জনকে অন্তত একবার সামনাসামনি হইলেও দাঁড় করাইতো এনিমেতে। অনেক আশা ছিলো যে মাকি কে নিয়ে একটা পর্ব কি, কিসের কি। পুরা সিরিজে ৫ মিনিটের বেশি টাইম ই পায় নাই। মাকি যে দৃঢ় মনোবল দেখিয়েছিলো শেষের দিকে, অন্তত একটি পর্ব তার পাওয়া উচিত ছিলো। টাইমলাইন তো এনিমে আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে, আর একটু করতো।

সবচেয়ে খারাপ দিক ছিলো মুভির এন্ডিংটা। প্রথমে মিউ এর প্রতি কোনোহার কনফেশন পুরো বাদ। কোনোহা নোভেল এ এটা লিখছিলো যদিও ফাইনাল সিলেকশনে এই অংশ বাদ পড়ে যায়। কিন্তু তোহকো পুরো পার্টটা প্লানেটারিয়মে পরে শোনায়। আর এনিমতে শুধু শেষ ২ টা লাইন মনে হয় দেখালো।

তারপর হলো মুভির এন্ডিং। মুভি ছিলো ভলিউম ৫ এর, এরপর শেষ ৩ মিনিট মানে এণ্ডিং টা আসলো ভলিউম ৮ এর থেকে, এইটা অবিশ্বাস্য। ৩ ভলিউম স্কিপ করে এন্ডিং দেখানো!!!! ওয়াও। আর এই সময় কোনোহার সাথে তোহকোর কোন রিলেশন কি, কেউ কাউকে পছন্দ করার বিন্দুমাত্র চিহ্ন ছিলো না, কোনোহার তখন কোতোবুকির সাথে প্রেম করতেছিলো। পুরাতন ভালবাসাকে অনুভূতির কথা জানিয়ে বর্তমান প্রেমিকাকে ফেলে আরেকজন মেয়ের পিছনে দৌড়ানো। ওয়াও, ৩ ভলিউমের ডেভেলপমেন্ট ৫ মিনিটে বিসর্জন।

Bungaku Shoujo 5

গানগ্রেভ (Gungrave) [রিভিউ] — Barkat Hridoy

Gungrave

এনিমে: গানগ্রেভ (Gungrave)
জনরা:অ্যাকশন, ড্রামা, সাই-ফাই, সুপারন্যাচারাল, সেইনেন
পর্ব: ২৬
লেখক: ইয়াসুহিরো নাইতো (Trigun, Kekkai Sensen)
স্টুডিও: ম্যাডহাউস

‘বন্ধুত্ব ‘। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বন্ধনের মধ্যে একটি। এ বন্ধনটির গভীরতা বোঝাতে আমরা প্রায়ই বলে ফেলি যে, ” বন্ধুর জন্য জীবনও দিতে পারি।” কিন্তু আদতেই কি তা আমরা করতে পারি?

Synopsis: হ্যারি ম্যাকডয়েল ও ব্রান্ডন হিট শৈশবকালের দুই বন্ধু। তারা দুজন ও সাথের আরো তিন বন্ধু মিলে তাদের ছোট একটি গ্যাং যাদের কাজ শহরের মানুষের জিনিশপত্র চুরি করা এবং স্থানীয় অন্য গ্যাং এর সাথে মারামারি করা।কিন্তু ঘটনাচক্রে ও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, এক রাতে তারা সম্মুখীন হয় পৃথিবীর নির্মমতার।এতে তাদের সকলের জীবন পাল্টে যায়। ঘটনাক্রমে হ্যারি ও ব্রান্ডন যুক্ত হয়ে যায় সেখানকার সবচেয়ে প্রভাবশালী মাফিয়া ‘মিলেনিয়ন’ এর সাথে।যার মূলমন্ত্র “বিশ্বাঘাতকতা মানেই মৃত্যু “। হ্যারি যে কিনা উচ্চাভিলাষী, তার স্বপ্ন সে এই মাফিয়া গ্রুপের ‘বস’ হবে এবং সে তার বন্ধু ব্রান্ডনকেও এ স্বপ্নের সারথি হবার আহ্বান জানায়। ব্রান্ডন কি তার বন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিবে? সে কি নিজের জীবন বন্ধু হ্যারি এর জন্য উৎসর্গ করবে?

গানগ্রেভ একই সাথে একটি বন্ধুত্বের গল্প, একটি ভালবাসার গল্প এবং একটি বিশ্বাসঘাতকতার গল্প….।

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
গানগ্রেভ এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর শিহরণ জাগানো স্টোরি এবং স্টোরি টেলিং।পুরো এনিমের স্টোরিকে দুভাগে ভাগ করা যায়।প্রথম ভাগ(২-১৫)
এক কথায় দূর্দান্ত। গল্প শুরু হবার সাথে সাথেই গল্পের অসাধারন পেসিং ও গভীরতায় আপনি ডুবে যাবেন ।গল্পটি চুম্বকের মত আপনাকে স্ক্রিনের সাথে আটকে রাখবে।কিভাবে যে একের পর এক এপিসোড দেখে যাবেন টের ও পাবেন না।
তবে দ্বিতীয় ভাগ অর্থাৎ ১৬তম এপিসোডের পর এর পেসে কিছুটা ভাটা পড়ে।তাছাড়া সুপারন্যাচারাল কন্টেন্টগুলো একটু খাপছাড়া মনে হলেও শেষটুকু আপনাকে একধরনের অভাবনীয় তৃপ্তি দিতে বাধ্য।যা অনেকটা ‘Bittersweet’ এন্ডিং হিসেবেও ধরে নেওয়া যায়।

ক্যারেক্টার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট:
এনিমেতে মূলচরিত্র দুজন হলো হ্যারি এবং ব্রান্ডন। চারিত্রিক বৈশিষ্টে্যর দিক দিয়ে দুজন দুই মেরুর।হ্যারি ধূর্ত, বাচাল,উচ্চাভিলাষী,নারীপ্রেমী।অসাধারন বুদ্ধিমত্তা, কুটিলতা এবং তার মাল্টিলেয়ারড পারসোনালিটি, তাকে করেছে অনন্য। অন্যদিকে, ব্রান্ডন স্বল্পভাষী,সৎ,সাহসী। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ব্রান্ডন হ্যারির বিপরীত হলেও তার চিন্তাধারা আপনাকে ভাবাতে বাধ্য করবে।

এছাড়াও এনিমেতে পার্শ্বচরিত্র হিসেবে অনেক চরিত্র দেখা যায়।মারিয়া,বিগ ড্যাডি,ব্যালার্ডবার্ড লি, বেয়ার ওয়াকেন, বব, বুনজি দের পার্শ্বচরিত্র হিসেবে দেখালেও এদের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা মূলচরিত্র হতে কোনো অংশেই কম ছিল না। এবং প্রত্যেকটি চরিত্রের ডেভেলপমেন্ট ছিল চোখে পড়ার মত।যা এনিমেটিকে করেছে আকর্ষনীয়।

আর্ট ও আ্যনিমেশন:
গানগ্রেভ স্টুডিও ম্যাডহাউসের নির্মিত হলেও এতে স্টুডিও ম্যাডহাউসের চকচকে আ্যনিমেশন নেই।বরং এতে রয়েছে ক্লাসিক ধাঁচের আ্যনিমেশন। ব্যাকগ্রাউন্ড ইউরোপীয় ধাঁচের।হয়ত অতটা আহামরি আ্যনিমেশন নয় তবে এনিমের সাথে মানানসই।তাছাড়া গান ফাইটিং সিনগুলো যথেষ্ট ভালো।

ক্যারেক্টার ডিজাইন ও আর্টের ক্ষেত্রেও একি কথা। ক্লাসিক ক্যারেক্টার ডিজাইন ও আর্টওয়ার্ক। তবে ফিমেইল ক্যারেক্টারদের তুলনায় মেইল ক্যারেক্টারদের বিশাল দেহ (মারিয়া বাদে) একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে।এছাড়া সুপিরিয়রদের ক্যারেক্টার ডিজাইনও অনেকটা উদ্ভট ছিল।

সাউন্ড ও মিউজিক:
গানগ্রেভে হয়ত সেরকম আহামরি মিউজিক নেই কিন্তু মিউজিকগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

পুরো এনিমেতেই ওয়েস্টার্ন ধাঁচের মিউজিকের ব্যবহার দেখা যায়।ওপেনিং সং হিসেবে আছে সুনেও ইমাহোরি এর
“Family” যা এই ধরনের এনিমের জন্য উপযুক্ত।এন্ডিং সং হিসেবে আছে ‘Scoobie Do’ এর “Akaneiro ga Moerutoki “। কিন্তু এই এনিমের অসাধারন দিক এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো চমৎকার ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, স্পেশালি ইমোশনাল মুহূর্তগুলোতে ব্যবহৃত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো আপনার মনে গেথেঁ যাবে।

এন্জয়মেন্ট:
পুরো এনিমেটা আমার কাছে অসাধারন লেগেছে। প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি।শিহরন জাগানো স্টোরি, দূর্দান্ত চরিএ, জোস ফাইটিং সিন, অসাধারন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, গল্পের উপস্থাপন এনিমেটিকে অন্য ৮-১০টি এনিমের তুলনায় করেছে অনন্য।’ট্রাইগান’ কিংবা মাফিয়া বেসড এনিমে পছন্দ হলে এটি মাস্ট ওয়াচ। তাছাড়া রোজকার স্কুল সেটআপ এনিমে থেকে মুক্তি পেতে চাইলে অর্থাৎ একটু ম্যাচিউর (এচ্চি নেই) এনিমে দেখতে চাইলে ‘গানগ্রেভ ‘ আপনার জন্য আদর্শ এনিমে। তাহলে আর দেরী না করে দেখে ফেলুন ইয়াসুহিরো নাইতোর অসাধারন সৃষ্টি ‘গানগ্রেভ’!!

MyAnimelist Rating: 7.98
Personal Rating: 8.5

P.S: এনিমেটির প্রথম এপিসোড দেখবেন না!!! কেননা বিশাল স্পয়লার পেয়ে যাবেন।
তাই দ্বিতীয় এপিসোড থেকে দেখা শুরু করুন

Seirei no Moribito [রিভিউ] — Urmi Nishat Nini

Seirei no Moribito

এনিমে রিভিউ
নামঃ Seirei no Moribito / Guardian of the Spirit
Genre: Action, Adventure, Fantasy, Historical
MAL ranking: 8.25
personal rating: 9
Episode number : 26
Release year: 2007

শিন ইয়োগো রাজ্যের ইতিহাস হল, প্রথম রাজা, সাথে আরও ৮ জন সৈনিক মিলে এক পানির অপদেবতাকে হারায় , রাজ্যকে ভবিষ্যতের খরা এর হাত থকে বাঁচাতে। এর পর এর ই উপর ভিত্তি করে এই রাজ্য গড়ে উঠে। কিন্তু, ইতিহাস অনুযায়ী, আরেকবার এই অপদেবতা আবার ফিরে আসবে এই রাজ্যে।
বর্তমান রাজা মিকাডোর ছোট ছেলে চাগুম। তার মধ্যে একদিন এই পানির অপদেবতা ভর করে অথবা বলা যায় এই অপদেবতার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই রাজপুত্রের মাঝে বেড়ে উঠতে দেখা যায়। রাজা এবং রাজ্যের জ্ঞানী ব্যাক্তিরা ব্যাপারটা জানার পর রাজ্যের ভবিষ্যতের কথা ভেবে রাজপুত্রকে মেরে ফেলার নির্দেশ দেয়।

বালসা নামের এক রহস্যময়ি নারী ,যে মূলত একজন দেহরক্ষীর কাজ করে, ঘটনাক্রমে তাঁর দেখা হয় রাজপুত্র চাগুম এর সাথে, এক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে যেয়ে। পরবর্তীতে চাগুমের মা বা দ্বিতীয় রানী বালসাকে রাজপ্রাসাদে ডাকে এবং বলে তাঁর ছেলের বিপদের কথা। বালসাকে দায়িত্ব দেয় তাঁর ছেলের জান বাঁচানোর জন্য। বালসা প্রথমে না করলেও পরবর্তীতে বালসার নিজস্ব কিছু কারনে দায়িত্ত্ নিতে রাজি হয়।

এর পর শুরু হয় বালসা আর চাগুম এর কাহিনি। একে তো রাজ প্রাসাদের পক্ষ থেকে বিপদ আছেই, তাঁর উপর চাগুম এর কাছে বাইরের পৃথিবীর একদম নতুন। বালসা আর চাগুম একের পর এক বিপদ এর মোকাবেলা করতে থাকে, চাগুম শিখে পৃথিবীতে মানিয়ে চলতে। এর মধ্যে নতুন কতগুলো প্রশ্ন দেখা দেয়, আসলেই কি শিন ইয়োগো রাজ্যের ইতিহাস সঠিক? নাকি কাহিনি পুরই ভিন্ন বা বানানো? বালসা এর অতীত কি ? বালসা কেনই বা চাগুম এর দায়িত্ব নিতে রাজি হল?
কাহিনিতে বালসা আর চাগুম, এই ২জনের সম্পর্কের বেড়ে উঠা , তাঁদের যাত্রা আপনাকে টানবে এই গল্পের দিকে। সময়ে সময়ে উত্তেজনা কাজ করবে যা পরবর্তীতে কি হবে তা জানতে অনেকটা বাধ্য করে। পুরো এনিমে দেখে মনে হয়েছে এ এক সুন্দর ছোট কাহিনি যাতে ভালোবাসা, কল্পনা , প্রাচীন পৌরাণিক বিশ্বাস, ইতিহাস সব মিশে এক হয়ে গেছে।এছাড়া পুরো এনিমেতে দৃশ্য গুলো দেখার মত। গ্রাম থেকে শুরু করে পাহাড়ি এলাকা, নদী , বন সব নজরকারা দৃশ্য একরকম প্রশান্তি এনে দেয়।

যদি আপনি এই ধরনের গল্পের ভক্ত হন, তাহলে এই এনিমেটা দেখে ফেলুন।

Tomo chan wa onnanoko! [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Tomo chan wa onnanoko!

মাঙ্গা রিভিউ: তোমো চান তো দেখি মেয়ে ! (Tomo chan wa onnanoko!)

যাদের বাসায় প্রথমআলো রাখা হয় তাদের প্রত্যেকদিন সকালে উঠিয়া একটা কমন কাজ হল তাড়াতাড়ি মধ্যের পৃষ্ঠায় গিয়ে বেসিক আলী আর ন্যান্সি চেক করা। তো এই মাঙ্গা ডেইলি এক পৃষ্ঠা করে আপডেট হয় এবং সকালে উঠেই চেক করি যে এই মাঙ্গার আপডেট এসেছে কিনা! প্রাত্যহিক বিনোদোনের জন্য এক অসাধারণ মাঙ্গা।

এই মাঙ্গার মেইন চরিত্র হল তোমো আওয়িযাওয়া। সে হাইস্কুলে উঠে তার ছোটবেলার বন্দ্ধু এবং ক্রাশ জুনচিরোর কাছে প্রেম নিবেদন করে এবং উত্তর পায় ” কি যে বলিস দোস্ত! আমিও তোকে অনেক ভালোবাসি, আমরা বেস্ট ফ্রেন্ড! ,, ! এই উত্তরের রহস্য কি!? তোমো চান পুরোদস্তর টমবয়। ভয়ানক শক্তি, ভয়ের ছিটেফোটা নাই এবং সবধরণের ন্যাকামি বিবর্জিত। জনচিরো কেবল মিডলস্কুলে উঠে আবিষ্কার করে যে তোমো মেয়ে কিন্তু তোমোকে অন্য সব ছেলেদের মত জিগরী দোস্ত হিসিবে দেখে। তোমো নানা উপায়ে জুনচিরোর মন গলাতে চায়। তাদের এই খেলা উপভোগ করে মিচকি পিচকি ডেভিল ইন নারীরুপ গান্ডোও এবং তাদের সাথে পরে যুক্ত হয় হাওয়াই মিঠাই, ননীর পুতুল গুল্লু ক্যারল। তাদের কথাবার্তা কাজকর্ম দেখে হাসবে না এমন লোক পাওয়া দুষ্কর।
আর্ট বেশ পরিষ্কার। চেহারার ভঙ্গীগুলো সেইই!! এবং এই মাঙ্গার সবচেয়ে ভালো জিনিস ডেইলী এক চ্যাপ্টার বা কখোনো ২ চ্যাপ্টার করে আপডেট হয়। চ্যাপ্টার ৩৩৯+ এবং অনগোয়িং। এইরকম হাইস্কুল রোমান্স কমেডি মাঙ্গা পাওয়া দুষ্কর। সকালটা তাই এক পশলা হাসি দিয়ে শুরু হোক 😀 !!! তো পড়া শুরু করে দিন তোমো চান তো দেখি মেয়ে!

আমার রেটিং: 9/10

Read Here: http://kissmanga.com/Manga/Tomo-chan-wa-Onnanoko

Download Cbr file: https://drive.google.com/folderview?id=0B6WGbrzJ5FC3UnU2Mk10LWVPdTg&usp=sharing

 

দেনপা তেকি না কানোজো (Denpa Teki na Kanojo) রিভিউ — Rafiul Alam

Denpa Teki na Kanojo

এনিমেটির টাইটেল ইংরেজি করলে হয়, ‘electromagnetic girlfriend’. শুনতে অদ্ভুত শোনালে রাইটার সার্থক। অদ্ভুত ধরনের স্লাইস অফ লাইফ/ থ্রিলার জানরার এনিমে এটি। অনেকগুলো দিক থেকে আমার অনেক প্রিয়। তার একটি হল “ক্রাফটিং”। মাত্র ২ টা ৪৫ মিনিটের এপিসোডে যে চমৎকারভাবে গল্প সাজিয়ে একাধিক টুইস্ট ডেলিভারি করেছে, তা সত্যিই উঁচু মানের প্ল্যানিং এর ফসল। ব্রেইনস বেইস স্টুডিও থেকে ২০০৯ এর ফেব্রুয়ারিতে আসে প্রথম পর্ব, ডিসেম্বরে দ্বিতীয়টি।

Synopsis: বৃষ্টিভেজা রাত, চেহারায় রক্তের ছিটাসহ এক উভ্রান্ত তরুণ, *ফ্ল্যাশকার্ড*, একটি বৈশিষ্ট্যবিহীন ম্যানিকুইন। *ফ্ল্যাশকার্ড*। এবার কোন স্কুলের ছাদে মারামারি হচ্ছে। একাই দুইজনকে কুপোকাত করল যে রাগচটা ছেলেটি, তার নাম জু’উযাওয়া জু। জু তার লকারে একটি চিঠি পেল, একজন তার সাথে দেখা করতে চায়। চিঠির প্রেরক ওচিবানা আমে নামের চোখ ঢাকা চুলের অদ্ভুত এক মেয়ে। জুর সাথে দেখা হলে সে বললো আগের জন্মে জু রাজা ছিল এবং সে (আমে) ছিল তার নাইট। আমে বললো, সে জুর সার্ভেন্ট হিসেবে নিজেকে সমর্পণ করবে। স্বাভাবিকভাবেই জু অবাক এবং বিরক্ত হয়। কিন্তু আমে, জুর পিছু ছাড়ে না। একসময় মানসিক বিকারগ্রস্ত আমেকে জু মেনে নিতে বাধ্য হয়। এরপর ঘটনায় আসে সিরিয়াল কিলিং, জুর এক ক্লাসমেট যার শিকার হয়। পরে? বাকি অংশ বরং এনিমেতেই দেখুন।

Theme setup, Animation and Music: টিপিকাল জাপানের কোন শহর আর হাইস্কুল। দা ভেরি ডেফিনিশন অফ ক্লিশে। একই সেটাপে হাজারটা এনিমে থাকলেও দেনপা তেকি না কানোজো কে আলাদা বলার প্রধান কারণ এর সিনেমাটোগ্রাফি। এত্ত ফ্লুইডভাবে ঘটনার পরিস্থিতি ফ্রেম বাই ফ্রেম তুলে ধরা হয়েছে যে বিষয়টাকে নজর দিন বা না দিন, এর নান্দনিকতা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আরবিটারী কোন জিনিসের ইন্সার্ট শট, জলি শট এবং সময়মত কাটপেপার লেটারের ফ্ল্যাশকার্ড ইত্যাদি এর ব্যবহার কাহিনীর প্রতি দর্শকের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দিয়েছে।আর্টওয়ার্ক, এনিমেশনে কোন কিছু অভারডু করার চেস্টা করা হয়নি। বরং এনভায়রনমেন্টকে জীবন্ত করার ক্ষেত্রে একটা চেষ্টা লক্ষণীয়। মিউজিকের ব্যাবহার ছিল ঝোপ বুঝে কোপ দেয়ার মত। সিনগুলোর ইমোশনাল পিককে হাইলাইট করেছে।

Characters setup: আপাত দৃষ্টিতে প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারই খুবই সাধারণ মনে হবে। ক্যারেকটার ডিজাইনও অনেক কমন টেমপ্লেট কাটআউট। কিন্তু মূল আকর্ষণ হল এদের উদ্ভ্রান্ত সাইকোলজিক্যাল দশা। ফলে দর্শক সেন্টিমেন্ট তৈরী হবে, কিন্তু অভারল কোন চরিত্রের সবগুলো কাজকে নিজের যুক্তিতে জাস্টিফাই করতে পারবেন না। দেনপা তেকি না কানোজো এমন একটি গল্প, যেখানে সবাই মানসিকভাবে টার্বুলেন্সড, কিন্তু সেদিকে নজর দেয়ার কোন প্রয়োজনও তৈরী হয় না। বিষয়টি একটু কেমন জানি, অসুস্থ কিন্তু সুন্দর।

Overall Rating:
MyAnimeList.net: 7.82 / 10
My Rating: 9 / 10

Fullmetal Alchemist Brotherhood (FMAB) ফ্যান ফিকশন #1 — Rahat Rubayet

——Fullmetal Alchemist brotherhood (FMAB) ফ্যান ফিকশন ——–
Part 1
———————————-
উইনরি রান্নার কাজে ব্যস্ত। বাচ্চাকে তাই এডওয়ার্ডই স্কুলড্রেস পড়িয়ে রেডি করছে। ঘাসপাতা রঙের ব্যাগে বইখাতাগুলো আগেই ভরে নিয়ে টেবিলের পাশে নামিয়ে রেখেছে। যদিও তাতে আরও একটা জিনিষ নেয়া বাকি। তাই ব্যাগের চেইনটা আটকায়নি এড। দেরি দেখে রান্নাঘরের উদ্দেশ্যে হাঁক ছাড়ে আরেকবার।
-‘উইনরি, আমরা বের হব’খন।
সস্প্যান আর বড় এক কাঠের চামচ হাতে ছুটতে থাকে উইনরি। টিফিন বক্সে খাবারটা পুরে দিয়েই ছুটে গেল হ্যাঙ্গারে ঝোলানো ওভারকোটটার দিকে। তারপর ওয়ারড্রব থেকে বাবুর গলার মাফলার। ঘরের একোন থেকে ওকোন- প্রজাপতির মতো উড়ছে যেন ও। বাবুর গলায় মাফলার জরিয়ে এসেই ওভারকোট টা নিয়ে এডের পিছনে গিয়ে দাঁড়ায়। এড হাত পিছনে বাড়িয়ে দিতেই তা গলে ওর গায়ে চড়িয়ে দেয় ওভারকোটটা।
তারপর গিয়ে দাঁড়াল এডের ঠিক সামনেই। শেলীকে বলে দিতে হল না। তার আগেই সে রূটিন মাফিক চোখ বন্ধ করেছে দু’হাত দিয়ে। উইনরি দাঁড়িয়ে থাকলেও মাথা নিচু করল না এড। এক কালে ওর হাইটের খোঁটা দেয়ার পূর্ণ শোধ তুলছে এখন ও। মুখ টিপে হাসছে সেই সাথে। কপট রাগে চোখ পাকায় উইনরি। একটু হেঁসে ওর ঠোঁটে ঠোঁট নামায় এডওয়ার্ড, তারপর সোজা হয়ে দাঁড়ায়। দেখল, ঝলমল করছে উইনরির চোখ। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে একটা গাঢ় শ্বাস ফেলে। নাহ, কোন অপ্রাপ্তি নেই আর ওর জীবনে অপ্রাপ্তির জায়গাটুকু পূরন করে দিয়েছে উইনরি। ওর জীবনের সবথেকে আনন্দময় মুহূর্তও ও-ই ওকে উপহার দিয়েছে। শেলিকে সেদিন প্রথমবার কোলে নিয়ে আনন্দে কেঁদেই ফেলেছিল এড।
জীবনে এর থেকে আর বেশি আর কিছু কি আশা করতে পারত ও? বোধ হয় না। প্রশান্তির একটা উপলব্ধি নিয়েই শেলির ব্যাগটা এক হাতে নিয়ে অন্য হাতটা বাড়িয়ে দেয়। ওদিকে তখনও ওর মা স্কুলে কিভাবে থাকবে তা নিয়ে ওকে ছোটখাট এক লেকচার দিয়ে চলেছে। লেকচার শেষ হতেই হাসিমুখে ওদের বিদায় জানায় দোরগোড়ায় গিয়ে। এক হাতে ওর বাবার তর্জনী মুঠো করে ধরে রেখে পিছনে ফিরে হাত নাড়তে থাকে শেলি। চোখমুখ ঝলমল করছে ওর, আনন্দে।
ওদের বিদায় দিয়ে হাতের কাজগুলো সেরে ফেলে।
তারপর রেডিও সেটটা নিয়ে এসে ঠাস করে বাড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলে। ভাঙ্গা টুকরোগুলো মেঝে থেকে কুড়িয়ে এনে নিজের সামনে জড়ো করল। তারপর হাত সামনে প্রসারিত করে মনযোগ কেন্দ্রিভূত করল রেডিওর অবশিষ্টাংশের ওপর। ট্রান্সমিউটেশান সার্কেল তার আগেই একেছে মেঝের ওপর। উইনরি এডের কাছে থেজে এল্কেমি শিখলেও কখনও ইলেকট্রিক কোন যন্ত্রে এল্কেমি প্রয়োগ করে নি এর আগে। একটু নার্ভাস থাকলেও ভালভাবেই রেডিওটা তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে নিয়ে গেল।
ঝকঝকে রেডিওটা নিয়ে চেরেচেরে দেখলো। খুশিতে ভরে গেছে মনটা। প্রথম চেষ্টায়ই পেরেছে ও। ঝকঝকে টেবিলটার ওপর নামিয়ে রেখে পুরো ঘরটার দিকে তাকায় একবার। কোথাও কোন আসবাবে ময়লা কিছু চোখে পড়ছে কি না,… না। সবকিছুই নতুনের মতো লাগছে। প্রতিটা জিনিষপত্রই ও মাসে অন্তত একবার করে হলেও ট্রান্সমিউট করিয়ে নতুনের মতন করবে।
মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার ওদের উইনরির মা গত হয়েছেন আজ প্রায় আড়াই বছর। ওদিকে আলফন্সও বিয়ে থা করে অন্য শহরে ঘর বেধেছে। ওদের ঘর আলো করেও ফুটফুটে একটা বাবু এসেছে। ওরাও সুখে শান্তিতে আছে। মাসে অন্তত একবার বেড়াতে আসে ওরা। সেই সময়টা অসম্ভব আনন্দে কাটে ওদের। হাসি ঠাট্টা আর গল্পে মশগুল হলেও ওরা প্রত্যেকেই উপলব্ধি করতে পারে কত অদ্ভুত শান্তি আর ভারসাম্য বিরাজ করছে ওদের ফ্যামিলিতে।
এসব ভাবতে ভাবতেই এডের কথা ভাবতে শুরু করে উইনরি। মানুষটাকে কি ও সুখী করতে পেরেছে? ওর এল্কেমি হারানোর পর উইনরি নিজে কিছুটা শঙ্কিত ছিল। যে এল্কেমির পিছনে এত এত পড়াশুনা আর পরিশ্রম করেছে তা বিসর্জন দিয়ে ওর লাইফ কতটা এফেক্টেড হবে?
তবে উইনরি নিজের কাছে করা প্রমিজ রেখেছে। এডকে এ নিয়ে বিন্দুমাত্র আফসোস করবার অবকাশ ও দেয় নি। ওকে ঘিরে গড়ে তুলেছে দু’জনের ছবির মতন সুন্দর একটা সংসার। শুরুর দিকে মাঝে মাঝেই দেখতে পেত এড পুরোনো বইপত্র খুলে বসে আছে। শেষে তাই ওর ক্ষতে প্রলেপ লাগাবার জন্যেই এদের কাছে এল্কেমি পড়া ও শেখা শুরু করে ও। প্রবল উৎসাহে ওকে শেখাতে শুরু করে এড।
ওর উৎসাহ দেখে ধীরে ধীরে এল্কেমি শিখতে থাকে উইনরি। এখন ওর নিজেরও ভালোই লাগে। এক ধরণের মজার খেলা যেন। এসব চিন্তা করতে করতেই বাইরের থেকে কাপড়গুলো নিয়ে আসতে থাকে ও। আজ শীত একটু মনে হচ্ছে। খেয়াল করল, বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতন কুয়াশা পড়ছে । কিছুক্ষনের জন্যে থমকে দাড়াল যেন। লোপ পেল ওর সময় জ্ঞান। হটাত ঘোর ভাংলো। সম্বিৎ ফিরে পেল শেলির ডাকে। পেভমেন্ট ধরে ছুটে আসছে ও। স্কুল ছুটি হতেই এডওয়ার্ড ওকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আবার ওর কাজে চলে গেছে।
শেলিকে নিয়ে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে জিগ্যেস করতে থাকে আজ স্কুলে কি কি ঘটল- ক্লাস শুরুর আগেই বা কি কি মজা করল- কে কে পড়া শিখে আসে নি বলে স্যরের বকুনি খেয়েছে, সব গড়গড় করে বলে যায় ও। হাসিমুখে সব শুনতে শুনতেই সাথে কথা জোগাতে থাকে উইনরি। কিন্তু থেকে থেকেই কি যেন খোচাতে থাকে ওর মনে। কি যে-তা ঠিক ধরতে পারে না ও। কিন্তু সারাদিন আর কোন কাজে মন দিতে পারল না।
ওর মা মারা যাবার আগেও এমন অনুভূতি হয়েছিল ওর থেকে থেকে।
জোর করে মাথা থেকে চিন্তাটা ঠেলে দূরে সরিয়ে দিতে চাইল। কিন্তু থেকে থেকে কি এক অমঙ্গলের আশঙ্কা যেন ওকে তাড়া করতে থাকে। সেদিন রাতেও ভাল ঘুম হয় না ওর। এডওয়ার্ডের নজর এড়ায় নি উইনরির অস্থিরতা। কিন্তু, পরিষ্কার করে কিছুই জানতে পারেনি ও। তবে, ওর মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম এনে দেয়। ঠিক যেমন করে ঘুম পাড়িয়ে দেয় ছোট্ট শেলিকে।
সেদিন রাতে ঘুমের ভেতর এক ভয়ঙ্কর বিষণ্ণ এক দুঃস্বপ্ন দেখে ও। উইনরি দেখে চারিদিকে কোথাও কিছু নেই, ও একা একা এক বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে পা মেলে বসে আছে। ডুবে যাবার কথা থাকলেও ও ডুবে যাচ্ছে না। হটাত, একটু দূরেই ঝপ করে কিছু একটা শব্দ হতেই অবাক হয়ে লক্ষ্য করল শেলি পানিতে ছটফট করছে আর ডাকছে, মাম্মি মাম্মি বলে। উইনরি কাছে যেতে পারে না, তার আগেই ডুবে যেতে থাকে ও। এ অবস্থায় ঘুম ভাঙ্গে ওর। ঘুম ভেঙ্গে দেখে জামা পুরোটাই ঘামে ভিজে জবজব করছে। দ্রুত চশমা গলিয়ে ডিম লাইটের আবছা আলোয় শেলির খোঁজে তাকাতেই দেখল, এড্‌কে জড়িয়ে ধরে ঘুমুচ্ছে শেলি।
———————-
(বিঃদ্রঃ মূল কাহিনীতে এডওয়ার্ডের ১ টি ছেলে ও ১টি মেয়ে দেখানো হয়। আমি আমার গল্পের প্রয়োজনে সেখানে ১ টি মেয়ে দেখিয়েছি।)

One Punch Man [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

One Punch Man

এনিমেঃ One Punch man
Genre: অ্যাকশন,প্যারোডি,সুপারপাওয়ার,সেইনেন
এপিসোডঃ ১২+৭ OVA
স্টুডিওঃ Madhouse
উৎসঃ One punch man নামক ওয়েবকমিক
¤
ওয়ান পাঞ্চ ম্যান এনিমেটি গত বছরের ফল সিজনে মুক্তি পায়।সম্প্রচারের সাথে সাথেই ভক্তরা হাইপের বন্যায় ভাসতে শুরু করে।অসংখ্য OPM সম্পর্কিত মেমে ও পোস্টে গ্রুপের ওয়ালকে ছেয়ে যেতে দেখা যায়।আমিও দূর থেকে এই হাইপকে অনুসরণ করতে থাকি।অবশেষে দেখেও ফেললাম এবং স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি,এই হসচ পরীক্ষার প্যারার মধ্যে এর চেয়ে ভালো এন্টারটেইনিং এনিমে আর কিছু হতে পারে না।
¤
কাহিনীর পটভূমি একটা ফিউটারিস্টিক পৃথিবী যাতে মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে নানা ধরনের দানবরা ক্রমান্বয়ে আক্রমন চালিয়েই যাচ্ছে।ফলে উদ্ভব ঘটেছে হিরোজ অ্যাসোসিয়েশনের যাদের কাজ হল মানবজাতিকে হুমকির হাত থেকে রক্ষা করা।কাহিনীর নায়ক ২৫ বছরের বেকার যুবক সাইতামা যে কিনা হিরোইজমকে তার জীবনের পরমব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছে।তবে সে হিরোগিরি শুধুমাত্র নিজ খেয়ালেরই বশে।কিন্তু নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিদের নিয়ে সাইতামা একদমই সন্তুষ্ট নয় কারণ তার মাত্র এক ঘুষিই সব ভিলেনকে হারানোর জন্য যথেষ্ট।ভাগ্যের ফেরে সাইতামার সাথে দেখা হয়ে যায় সাইবর্গ জেনোসের যে কিনা প্রতিশোধস্পৃহার আগুনে প্রজ্বলিত।সাইতামার অতিমানবিক শক্তির নমুনা পেয়ে জেনোস সাইতামার শিষ্যত্ব গ্রহণ করে।পরে জেনোসের পরামর্শেই সাইতামা হিরোজ অ্যাসোসিয়েশনে যোগদান করে।অতিব শক্তিশালী হওয়ার পরও খুব কম মানুষই সাইতামার প্রতিভা সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।বীরত্বসূচক কর্মকান্ডের অভাবে সাইতামাকে তার সহকর্মী এবং জনগণের সম্মান পেতে প্রচুর সংগ্রাম করতে হয়।এই C ক্লাস হিরো কি পারবে সাফল্যের চূড়ায় আরোহণ করতে?সাইতামা কি পারবে সকলের মন জয় করতে?
¤
মাত্র বারো পর্বের এনিমে হলেও OPM এ অসংখ্য চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে।একমাত্র শিষ্য জেনোস,আইনের সাইক্লিস্ট মুমেন রাইডার,প্রবীণ হিরো সিলভার ফ্যাং, tsundere টর্নেডো,গর্বিত তলোয়ারবাজ অ্যাটমিক সামুরাই,রহস্যময়ী মেটাল নাইট,আরো রহস্যময়ী ড্রাইভ নাইট,ঘাড়ত্যাড়া আমাই মাস্ক এবং হিরোজ অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য হিরোরা যথেষ্ট বিনোদনদায়ক ছিল।তাদের ভিন্নধর্মী চরিত্র ও আদর্শ আমাদেরকে যথেষ্ট হাসির খোরাক জুগিয়েছে।আর ভিলেনদের কথা তো বলাই বাহুল্য।তাদের লেকচারের তুবড়ির মুখে সাইতামার হতাশাগ্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য আপনার মুখে হাসি আনবেই।তাছাড়া অনেক ভিলেনের মধ্যেই অন্য শৌনেন এনিমের ভিলেনদের প্রতি করা ব্যঙ্গ আপনি স্পষ্ট ধরতে পারবেন।মাত্র বারো এপিসোডে এতগুলো চরিত্রকে অবশ্য ভালো করে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয় নি।আশা করি স্যিকুয়েলে এ ঘাটতিটা পূরণ করা হবে।
¤
এনিমেটার সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিকের একটি হলো ফাইট সিনগুলা।যদিও সাইতামার এক ঘুষিতেই ফাইটগুলা দ্রুতই শেষ হয়ে যায়।কিন্তু শেষের দিকের দুইটি বস ফাইট আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।শেষ ফাইটটিতে অসাধারন গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে।মুহুর্মুহু টুডি আর থ্রিডি গ্রাফিক্সের ছড়াছড়িতে চোখ ঝলসে যাওয়ার মত অবস্থা।এছাড়া জেনোসের ফাইটগুলো খুবই ফ্ল্যাশি এবং মেইনস্ট্রিম মনে হয়েছে আমার কাছে।এনিমেটাতে কেউই আজাইরা নীতিকথার বুলি কপচাবে না,ফ্ল্যাশব্যাকও নেই আর ফিলার তো নেই ই।ফাইটের মধ্যে সাইতামার ভাবলেশহীন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাটা প্রথমে অস্বাভাবিক মনে হলেও আস্তে আস্তে মানিয়ে নিতে পারবেন।
¤
এনিমেটার সাউন্ডট্র্যাক অনেক ভালো ছিল।সাইতামা আর মুমেন রাইডারের অ্যাপিয়ারেন্সের সময় বাজা হেভি মেটাল মিউজিক আমার খুবই ভালো লেগেছে।আর জ্যাম প্রজেক্টের গাওয়া opening song ‘The Hero’ আপনার রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে বাধ্য করবে।মূলত ওপেনিং সংয়ের এই দুইটি লাইন “I don’t want applause, or people praising my name” যেন সাইতামার মাহাত্ম্যকে পুরোপরি ঘোষণা করে।এন্ডিং সংটা আশ্চর্যজনকভাবে অনেক soothing ছিল।লাস্ট ফাইটের সময় অস্থিরভাবে The hero এর ফুল ভার্সন বেজে উঠে আর আমিও পারলে লাফ দিয়ে উঠি।(লাস্ট ফাইটে গানের ফুল ভার্সন দেওয়া মেবি একটা ভালো ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে।)
¤
আপাতদৃষ্টিতে OPM কে একটি প্যারোডি শো ব্যতিত কোন কিছু আপনার মনে নাও হতে পারে।আমিও প্রথম পাঁচ-ছয় পর্বে রিভিউ লেখার মত কোন উপাদান খুঁজে পাচ্ছিলাম না।কিন্তু Deap sea king এর সাথে লড়াইয়ের পর সাইতামার স্বেচ্ছায় কৃতিত্ব বিসর্জনের জায়গাটা আমার অন্তরাত্মায় আঘাত করে।আমিও চিন্তা করতে শুরু করি, সাইতামা কি আসলেই মানুষের প্রতিক্রিয়াকে কেয়ার করে না?সেকি এতটাই ইস্পাতকঠিন স্নায়ুর অধিকারী?কৃতিত্ব দিবি না ভালো কথা তাই বলে প্রতারক বলে অপমান করবি?এইসব জিনিস এখনও আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।আমার কেন জানি মনে হয়,মানুষের এই প্রতিক্রিয়া সাইতামার মনে বিশাল দুঃখবোধের জন্ম দিচ্ছে।সাইতামা কিন্তু এই জেদকে সঙ্গী করেই সামনে এগিয়ে যায়।কিন্তু সাইতামা কি বাধ্য হবে মানুষের এই আবেগের সামনে হার মানতে?
¤
এখন এনিমের দ্বিতীয় সিজনের প্রতীক্ষায় আছি।সাইতামার best male character হওয়াতে এখন আর অত্যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না।এখনই এটাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা বলাটা বোকামি হলেও একেবারে ফালতু সিরিজ বলাটাও হবে চরম বোকামি।তাই আবেগকে দমিয়ে রেখে এনিমে দেখুন এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

Taro the Dragon Boy [মুভি রিভিউ] — Bashira Akter Anima

Taro 1

ফ্রেঞ্চ এনিমেশন মুভি খুঁজতে গিয়ে এটাকে পেয়ে গেলাম হঠাত করে। এটা যে জাপানিজ তাও বুঝি নি প্রথমে।
১৯৭৯ সালে নির্মিত মুভি “Taro the Dragon Boy” প্রথম থেকেই কিছুটা জিবিলি, বেয়ারফুট জেন বা প্রথমদিকের দেখা এনিমে গুলোর ভাইব দিচ্ছিলো। গ্রামের পরিবেশ, বা হেলতে দুলতে গান গাওয়া দেখে কেনো জানি “The Tale of the Princess Kaguya” এর কথাও মনে পড়লো। মুভিটি জাপানের এক বিখ্যাত লোকগাঁথা এর অবলম্বনে করা।
গল্পের মূল চরিত্র ছোট ছেলে তারো হলো সারাদিন পড়ে পড়ে ঘুমোনোর দলের লোক। বুড়ো নানী আর সে মিলেই তাদের ছোট্ট সংসার। জীবনে তার নেই কোনো লক্ষ্য নেই কোনো কাজ। সারাদিন হয় পড়ে পড়ে ঘুমোয় সে নয়তো উঠে নানান খাবার নিয়ে সে নিজে খায় এবং বনের পশুপাখিদের খাওয়ায়। তার সব বন্ধু হলো বনের পশুপাখি, তাদের সাথে খেলে বেড়ায়, সুমো রেসলিং করে। এর মাঝে সে একদিন এক বর পায়, যার কারণে সে একাই ১০০ জন মানুষের শক্তি অর্জন করে কিন্তু তা শুধু সে ব্যয় করতে পারবে মানুষের কল্যানেই নিজের জন্য নয়। পরিচয় হয় চমৎকার এক মেয়ের সাথে, খুব সুন্দর বাঁশী বাজায় সে, পাহাড়ের বনের সব পশুপাখি সে সুরে মোহিত হয়ে ছুটে আসে তার সাথে।

Taro 2
এভাবে ভালোই চলছিলো সবকিছু কিন্তু একরাতে সে এক তীব্র সত্যের সম্মুখীন হয়। জানতে পারে যে তার মা হয়তো বেঁচে আছে কোথাও, এই ই সব নয়। সে জানতে পারে তার মা কোনো এক অজ্ঞান কারণে ড্রাগনে পরিণত হয়েছিলো তার জন্মের সময়ই। কিন্তু সে থাকতে পারে নি এখানে চলে গেছে বহুদূরে শুধু বৃদ্ধ মা কে বলে গেছে তার ছেলেকে দেখে রাখতে এবং সে চিরজীবন তারোর অপেক্ষা করবে। তারো এ শুনে আর নিজেকে আঁটকে রাখতে পারে না। কেনো তার মা ড্রাগন হলো, তার মাকে দেখার জন্য এবং ফিরিয়ে আনার জন্য সে ঘরছাড়া হয়।
তখনো সে বুঝে উঠতে পারে নি যে তার সামনে অপেক্ষা করছে এক দীর্ঘ এডভেঞ্চার। কিন্তু এই এডভেঞ্চার, একেকটা গ্রাম দেখা, নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হওয়ার মাধ্যমে তারো যেনো আরো বড় হয়ে উঠে, বুঝতে পারে তার জীবনের লক্ষ্য কি। আরো বুঝতে পারে যদি মনে আশা থাকে এবং তীব্র ইচ্ছা থাকে তাহলে যেকোনো বাঁধা পার হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়। তারো আসলেই তার মা কে খুঁজে পায় কিনা বা কেনো তার মা ড্রাগনে পরিণত হয়েছিলো তা জানতে হলে দেখে ফেলুন মুভিটি।
মুভিটি হয়তো অনেকে বাচ্চাকাচ্চাদের জিনিস বলতে পারে কিন্তু আমার ভালো লেগেছে। আমার ধারণা যারা জিবিলী মুভি পছন্দ করে তাদের এটা ভালো লাগবে।

Taro 3

Akatsuki no Yona [রিএকশন] — Zahin Mobashshir

Akatsuki no Yona
২৪ এপিসোডের একটা এনিমে যার জেনারগুলা হল : Action, Adventure, Comedy, Fantasy, Romance, Shoujo.
এত্তগুলা জেনার দেখেই বুঝতে পারছেন যে এই এনিমেটা আসলে মিশ্রজাতীয় কিছু উপহার দেয়ার চেস্টা করতেছে এবং আসলেই এমন কিছু উপহার দিতে সক্ষম হয়।

কাহিনী সংক্ষেপ:
Princess Yona নামক এক মেয়েকে নিয়ে কাহিনী যে মাত্র ১৬ বছরে পদার্পণ করে। মা মারা যাওয়ার পর বাবা অনেক আদর সোহাগ দিয়ে বড় করে তুলে তাই স্বভাবতই একটু বেশি আদুরে এবং সামান্যতেই কেঁদে দেওয়া মানে ছিঁচকাঁদুনী হয়ে বড় হয়ে উঠে। এরপরে এক দুঃখজনক ঘটিনার কবলে পড়ে এবং বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে তাকে একেবারে রাস্তায় এসে পড়তে হয়। যেই মেয়ে কখনওই রাজপ্রাসাদের বাহিরেই বের হয় নাই তার জন্যে সামনের পিচঢালা রাস্তাও বরই কাঁটা বিছানো পথ বলেই মনে হবে। তার সেই কাঁটা বিছানো রাস্তায় তার ছোটবেলার সাথীকে সংগী হিসেবে নিয়ে সে কিভাবে নিজেকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে শক্ত করে তুলে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত হয়ে উঠে এটিই এই এনিমের মূল কাহিনী।

এবার আমি কিছু পয়েন্ট বলব যে কারনে এনিমেটি অনেক ড্রপ দিয়ে থাকেন, :—

১. এনিমের প্রথম সিনেই একটা যুদ্ধক্ষেত্র দেখায় এবং এটা দেখার সাথে সাথেই আপনার মনে হবে আররে এনিমেটা তো Action জেনারের, এই বুঝি শুরু হল এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ।

কিন্তু আসলে এই এক সিন যে আসলে এনিমেটার কোন সময় দেখাবে তা আপনি ১,২,৩,৪……. এপিসোড ধরে খালি চিন্তাই করতে থাকবেন এবং এক সময় ভাববেন যে আররে এত অপেক্ষা করার কি দরকার?!!! এনিমে ড্রপড।।।।

২. আগেই বলেছি যে প্রধান চরিত্র কিছুটা ছিঁচকাঁদুনে, আসলে কিছুটা বললে ভুল হবে। এনিমেতে এই ক্যারেকটারকে যতবারই দেখবেন ততবারই দেখবেন কেঁদে কেঁদে সাগর বানাচ্ছে, তখনই আপনার মনে হতে পারে যে এই মেয়ে নিজের সাগর বানাক আর আমি গিয়ে আমার সাগর পরিমাণ না দেখা এনিমে শেষ করে হার্ডডিস্কটাকে একটু ক্ষান্ত দিই।

এনিমে ড্রপড।।।।

৩.
৪.
৫.
……..

আরও অনেক কারনেই আপনি হয়ত এনিমেটা ড্রপ দিয়ে থাকতে পারেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার। এখন আমি যদি পুরা এনিমেটা দেখে বলি এটা আসলে ড্রপ দেয়া উচিত ছিল তাহলে তো আর ভাল কিছু লেখার সুযোগই থাকে না

এবার তাহলে জেনে নিন এনিমেটি কেন দেখবেন, :—–

১. এনিমের প্রথম সিনেই আপনাকে যেই যুদ্ধের আভাস দিয়ে গেল সেটার পরেই শুরু হবে এক অসাধারণ মিউজিক যা শুনে আপনি বিমুগ্ধ না হয়ে থাকতেই পারেন না এবং পুরা এনিমে জুড়েই OST গুলা আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
এনিমেটার ওপেনিং আর এন্ডিংগুলাই এককথায় অসাধারণ। OST গুলার প্রয়োগ এত সুন্দর সময়ে করেছে যে আপনার মনকে ছুঁয়ে যাবেই।

২. এনিমেটার ক্যারেকটার ডিজাইনিং খুবই সুন্দর। প্রত্যেকটা চরিত্রকেই নিজেদের স্বভাব অনুযায়ী অসাধারণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আর যারা বিশৌনেন ক্যারেকটার খুঁজে বেড়ান তাদের জন্যে এটা একটা স্বর্নের খনি। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আপনি খালি হা আ আ আ আ আ করে দেখেই যাবেন এবং মুগ্ধ হবেন।

৩. এনিমেটার আরেকটা সুন্দর দিক হল এটার ক্যারেকটারগুলার ব্যাকস্টোরি। প্রত্যেকটা ক্যারেকটারের একেকটা সুন্দর ব্যাকস্টোরি রয়েছে যা দেখে আপনি খুব সহজেই ক্যারেকটারগুলার বর্তমান অবস্থার কারন যাচাই করতে পারবেন।

৪. এনিমেটার কাহিনী প্রথমে অগুছানো মনে হলেও ধীরে ধীরে বুঝতে পারবেন যে আসলে এনিমেটার কাহিনী খুবই গুছানো এবং এনিমেটা যে অবস্থায়ই শেষ করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত একটা সুন্দর গুছানো কাহিনী উপহার দিয়ে যায়।

৫. আপাতত এনিমেটাই দেখেছি এবং এখনও মাংগা পড়া শুরু করিনি কিন্তু এখন থেকেই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে যে কিছু কিছু ক্যারেকটারের এনিমেশন দেখতে পারব না। বিশেষ করে এখানের সবচেয়ে কিউট ক্যারেকটার হল একটা কাঠবিড়ালি, যার দেখা পাওয়ার পর থেকেই আপনি তার দেখা পাওয়ার জন্যে ব্যস্ত হয়ে থাকবেন।

এবার আপনারা নিজেরাই বিচার করতে পারেন যে এনিমেটা দেখবেন কিনা।

আর কারও কোন মতামত থাকলে কমেন্টে জানাবেন।

Densha Otoko [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Densha Otoko

ওটাকু বলতে জাপানে সাধারণত সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন , আনিমে , মাঙ্গা , ভিডিও গেমস নিয়ে দিনরাত ২৪ঘন্টা ডুবে থাকা লোককে বোঝায় । এরা সাধারণ লোকদের সাথে সহজে যোগাযোগ করতে পারে না । কিন্তু যদি কোন ওটাকু তার অবসেশন বিসর্জন দিয়ে বাস্তবতা ও সাধারণ জীবনে ফিরে আসে একটি ছোট্ট পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ? এইরকম এক বাস্তব কাহিনীকে কেন্দ্র করে আঁকা মাঙ্গা হল ডেনশা ওটোকো ।
এই মাঙ্গার কেন্দ্রীয় চরিত্র হল এক ওটাকু । মাঙ্গা , ফিগারিন তার দুনিয়া । চাকরি করে এসেই ডুব দেয় তার ভার্চুয়াল দুনিয়ায় । পরণে অতিরিক্ত ঝোলা শার্ট , উস্কোখুশকো চুল , চোখে হালকা পাওয়ারের চশমা । তো একদিন পছন্দের ফিগারিন কিনে ট্রেনে ওঠে সে । যে সিটে বসে সে সেখানেই সুন্দরী এক তরুণী বসা ছিল । তো সে অত মনোযোগ দেয়নি । কিন্তু কিছুক্ষন পরে এক মাতাল এসে ঐখানের যাত্রীদের হয়রানি করতে থাকে বিশেষ করে ওই তরুণীকে । আমাদের নায়ক প্রথমে স্বভাবমতো চুপ করে থাকলেও একসময় প্রতিবাদ করে ওঠে ! মাতাল তাকে এই মারে তো সেই মারে কিন্তু তার আগেই কালেক্টর মাতালকে ধরে বের করে দেয় । তো ওই তরুণীসহ যাত্রীরা তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ যায় এবং যোগাযোগ নম্বর ও ঠিকানাও টুকে নেয় কয়েকজন । তো একদিন হঠাত্‍ করে তার বাসায় ওই তরুণী যার নাম হার্মিস কিছু কাপ উপহার পাঠায় ধন্যবাদ স্বরুপ । ন নায়কও সাহস করে তাকে ধন্যবাদ স্বরুপ ট্রিটে নিমন্ত্রণ করে । একে অপরের সাথে তাদের ভালো করে পরিচয় হয় এবং ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে । আর আমাদের নায়কও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকে । এবং তার এই দৈনন্দিন ঘটনা সে একটি অনলাইন থ্রেডে শেয়ার করে এবং ওই থ্রেডের সবাই তাকে উত্‍সাহ দিতে থাকে । আমাদের নায়ক কি পারবে এই সম্পর্ককে ফল প্রদান করতে ? আর তার নিজেরসহ আশেপাশে সকলের কি পরিবর্তন হবে ?!
সাধারণ একটি রোমান্স মাঙ্গা তবে খুবই ভালো লেগেছে । কাহিনী সিম্পল ভাবে এগিয়েছে ,কোন অপ্রয়োজনীয় টুইস্ট নেই । বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে বলে বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক । একজন অবসেসড ওটাকু থেকে সাধারণ জীবনে ফিরে আসার ঘটনার অসাধারণ এক মাঙ্গা । আর্টস্টাইল সুন্দর! খুবই ভালো লেগেছে আমার কাছে , আশা করি আপনাদেরও ভালো লাগবে । সময় থাকলে পড়ে ফেলুন ২৭চ্যাপ্টারের মাঙ্গা ডেনশা ওতোকো ।
আমার রেটিং : ৭/১০

Read Online: http://kissmanga.com/Manga/Densha-Otoko-Net-Hatsu-Kakueki-Teisha-no-Love-Story