Natsuyuki Rendezvous [রিভিউ] — Ahmed Samira Niha

Natsuyuki Rendezvous 1

নাতসুইউকি র্ঁদেভ্যু

মিষ্টি মিষ্টি প্রেমের মাঝে কড়া তেতো বাস্তবতা মেশানো অদ্ভুত রকমের সুন্দর এক জোসেই এনিমে । শুরুটা হয় খুবই হালকাভাবে কিছু কমেডি মেশানো দুষ্টু প্রেমের খুনসুটি দিয়ে। এনিমের মাঝে গিয়ে প্রচুর ভাবায়,কোনটা ঠিক,কোনটা ভুল-আবেগের কাছে ধরাশায়ী হওয়া উচিত নাকি অতীতের কথা মাথায় রেখে সামনে আগানো যাবেনা নাকি সব ছেড়েছুড়ে শেষ পন্থা হিসেবে আত্নহনন?

Natsuyuki Rendezvous 2
২২ বছরের হাযুকি প্রত্যেকদিন এক ফুলের দোকানের সামনে যায় মধ্যবয়স্কা রোক্কা-চানের সাথে শুধুমাত্র একটু আলাপের আশায়। রোক্কার গোল মুখ,অমায়িক হাসি আর একটুখানি মমতায় ভরা কথাবার্তাই বাকি দিন পার করে দেওয়ার জন্য হাযুকির কাছে যথেষ্ট। উপরওয়ালা যখন মুখ চেয়ে তাকালো,তখনই হাযুকি সুযোগ বুঝে পার্ট-টাইম চাকরি নিয়ে ফেললো রোক্কার দোকানে। কিন্তু বিধি-বাম,রোক্কাকে একদিন দেখে ফেললো আরেক ছেলের সাথে। ভগ্নহৃদয়ে যখন হাল ছেড়ে দিয়ে হাযুকি কেবলই সিগারেট ধরাতে উদ্যত,তখনই সে আবিষ্কার করলো যে লোকটি আর কেউই না,রোক্কার পরলোকগত স্বামী,আতসুশি শিমাও এবং ইনাকে হাযুকি ছাড়া আর কেউই চোখে দেখে না। এই শিমাও কুন বড্ড স্বার্থপর্। রোক্কাকে নিজের কাছে রাখতে চায়,মুভ অন করতে দেয়না। রোক্কা আর হাযুকির ইন্টিমেট মোমেন্টগুলোতে এসে ঝামেলা করে দেয়। কাউকেই প্রোগ্রেস করতে দেয়না। আপাতদৃষ্টিতে কথাগুলো হিউমারাস মনে হলেও,দেখতে বড়ই কষ্টের্। রোক্কার নিজের স্বামীর প্রতি ফিলিংস প্লাস হাযুকির জন্য নতুন নতুন সব অনুভুতিগুলো সামাল দেওয়া,মুভ অন করার যে আত্মদ্বন্দ- এসব দেখা বড়ই “heart-wrenching”

Natsuyuki Rendezvous 6 Natsuyuki Rendezvous 5

এন্ডিং এ কি হয় বলবো না,কিন্তু আমার দেখা অন্যতম প্রিয় এন্ডিংগুলোর মাঝে এইটা থাকবে। শেষ যখন “ইতাযুরা না কিস” দেখেছিলাম,তখন এরকম তৃপ্তি পেয়েছিলাম। জোসেই ফ্যানদের জন্য মাস্ট ওয়াচ। আর আপনার যদি সাকামিচি নো এপোলোন,নানা,কুরাগেহিমে,শৌওয়া রাকুগো ভাল্লাগে,তাহলে অবশ্যই এটা দেখবেন।

Natsuyuki Rendezvous 3 Natsuyuki Rendezvous 4
ওপেনিং আর এন্ডিং সং খুব বেশি সুন্দর্। একেবারে মন ঠান্ডা করে দেওয়ার মত। আর প্রত্যেকটা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুব বেশি সুথিং। অলস গ্রীষ্মের দুপুরে কিছু না করার থাকলে এক সিটিং এ শেষ করে দিতে পারেন ১১ এপিসোডের এই অসাধারন এনিমে।

আমার রেটিং ৯/১০

Natsuyuki Rendezvous 8 Natsuyuki Rendezvous 7

Behind the Voices – 17

নাকাই কাযুয়া

নাকাই কাযুয়া স্বীকৃত ভেটেরান কণ্ঠ অভিনেতাদের একজন । তার কণ্ঠটা বেশ ইউনিক এবং কিছুটা অ্যাগ্রেসিভ কিন্তু বেশ ম্যানলি শোনায় । সাধারণত মূল চরিত্রের প্রতিদ্বন্দ্বী এমন সব চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েই বেশ পরিচিত উনি ।

শৌনেন আনিমের জগৎের দুইজন বড় চরিত্র হল এক টুকরার রোরোনোয়া জোরো এবং গিন্তামার হিজিকাতা, এই দুই চরিত্রের জন্যই তার ৮০% খ্যাতি । এই দুইজনের জন্যই তিনি 5th Seiyu Awards-এ ‘Best Supporting Actor’-এর খেতাবটা জিতেছিলেন । কিন্তু তারপরও সামুরাই চাম্পলূর মূগেন রোলটার জন্যও তার একগাদা ভক্ত আছে । ১৯৯৬ সালে After War Gundam X-এ উইট্জ সৌ চরিত্রটি দিয়ে তার অভিষেক । তার প্রথম বড় রোল হল ওয়ান পিসের রোরোনোয়া জোরো এবং সে এই একটি রোল থেকেই সে আস্তে আস্তে ভালো সব চরিত্রের রোল পেতে থাকেন তিনি । তার ভক্তদের মাঝে এক বড় রকমের বিতর্ক রয়েছে, তা হল জোরো নাকি হিজিকাতা কোনটা সেরা রোল তা নিয়ে । আমার মতামত দিতে হলে বলবো, Samurai Champloo-র মুগেন আর Sengoku Basara-র দাতে মাসামুনে ।মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সাথে কোন সম্পর্কই নেই তার খালি Ixion Saga-র ওপেনিংটায় কণ্ঠ দিয়েছিলেন ।

Kazuya Nakai 1

আমার কাছে তার যে রোলগুলো বেশ পছন্দের তা হল Samurai Champloo-র মুগেন, Chihayafuru-র রেট্রো, Sengoku Basara-র দাতে মাসামুনে, Kuroko no Basket-র ইমায়োশি, xxxHOLiC-র দৌমেকি, Tegami Bachi-র জিগি পেপ্পার, Ao no Exorcist-র সুগুরো রিয়ূজি ।

তার জন্ম নভেম্বর 25, 1967 । এ বছরে Joker Game আনিমেটিতে ফুকুমোতো চরিত্রটির কণ্ঠ দিবেন । নাকাই কাযুয়া যে একজন দক্ষ এবং অভিঙ্গ কণ্ঠ অভিনেতা তা সবায় মানতে রাজি ।

Kazuya Nakai 2

 

উয়েসাকা সুমিরে

উয়েসাকা সুমিরে অনেকটা নতুন কণ্ঠ অভিনেত্রীদের কাতারেই পরে । যদিও ২০১১ থেকে কণ্ঠ অভিনয় করেন কিন্তু তুলনামূলক রোল অনেক কম । যদিও এই সিজনে তার ৫ টা রোল, যা অনেক অভিজ্ঞ সেইয়ূদের তুলনায় বেশি ।

উয়েসাকা সুমিরে প্রথমে সবার নজরে আসেন Chuunibyou demo Koi ga Shitai আনিমেটার দেকোমোরি রোলটা দিয়ে । দেকোমোরি চরিত্রটি বেশ মজার ছিল, আর তার এই ‘ডেস ডেস’-এর কারণে লোকজন তাকে আরও বেশি করে মনে রাখবে, এর আসল প্রশংসার প্রাপ্য তো সে-ই যে তার কণ্ঠ দিয়েছেন । তার পরেও বেশ কিছু রোল করেছেন কিন্তু দেকোমোরির মত আনিমে ভক্তদের মাঝে অতটা আলোরোন তৈরি করতে পারেনি, যদিও কাঙ্কোলের ফুবুকি রোলটা পেরেছে কিছুটা । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল চুনিবিয়োর দেকোমোরি, কাঙ্কোলের হিরয়ূ এবং গার্ল্স উন্ড পান্জারের নোন্না ।

তাকে লোকজন বিশেষ করে চেনে তার সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং রাশিয়ার প্রতি গভির টান সাথে রাশিয়ান ভাষার উপর দক্ষতার জন্য । সে রাশিয়ার ইতিহাশ, মিলিটারি, সাহিত্য এবং চারুকলার বিশাল ভক্ত । আনিমেতেও কয়েকটি রাশিয়ান চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি । এছাড়া তিনি কিন্তু আনিমেতেও রাশিয়ান চরিত্রদের কণ্ঠ দিয়েছেন । এদের মধ্যে আছে Girls und Panzer-এর নোন্না এবং The IdolM@ster-এর আনাস্টাসিয়া । তার আনিমের মাঝে রাশিয়ান শুনতে চাইলে https://goo.gl/fOQIhMএই ক্লিপটার ঠিক ৩:৪০ মিনিটে চলে যান তাহলেই দেখতে শুনতে । চরিত্র না চিনতে পারলে বলে রাখি কালো চুলের মেয়েটার কণ্ঠ সুমিরের । ক্লিপটা পুরাটাও দেখতে পারুন কেননা আর কয়েক দিন পর মুভিটার ব্লুরে আসছে আর এটা অনেক উপভোগ করার মত একটা সিরিজই । তবে এই গার্লস উন্ড পান্জারের ফিল্ম দেখার আগে ১২ পর্বের আনিমেটা দেখা আবশ্যক । যাই হোক, এবার প্রশঙ্গে আসি । এই মহিলার রাশিয়া সম্পর্কে অনেক আগ্রহ কেননা আপাতত তিনি Sophia University-তে ‘Department of Russian Studies’-এ ‘রেড আর্মির ইতিহাশের’ উপরই কোর্স করছেন একটা । এ সম্পর্কে আরও বেশি জানতে ইচ্ছে করলে এই আর্টিকেলটা পড়ে দেখতে পারেন http://goo.gl/u7rsyS । রাশিয়ানের পাশাপাশি ইংরেজি এবং চাইনিজেও তার দক্ষতা আছে । তার রাশিয়ার প্রতি আলাদা টানটা খানিকটা উপলবদ্ধি করতে পারি, দেশটির ফোক গানগুলো আসলেই সুন্দর (যদিও আমার জাপানের প্রতি টান বেশি 😛 )

Sumire Uesaka 1

উয়েসাকা একজন জে-পপ তারকাও । উয়েসাকার মিউজিক এবং সেইয়ূ ক্যারিয়ারের সব কাজ এক নজরে দেখে আসতে এই লিঙ্কে যেতে পারুন http://goo.gl/JlCnQ3 । উয়েসাকার গানগুলোর এক বিশেষ ক্ষ্যতি আছে তা হল গানগুলো বেশ উদ্ভট হয়, কথাটা আসলেই সত্য । সুমিরে Genshiken, Ore Twin Tails ni Narimasu, IDOLM@STER Cindrella Girls s2, Chuunibyou demo Koi ga Shitai, Muromi-san, Nobunagun, Shimoneta, Show by Rock আনিমের ওপেনিং/এন্ডিংগুলোতে একক নাহলে দলিয়ভাবে গেয়েছেন ।

মহিলার আনিমেতে কণ্ঠ দেওয়া ছাড়াও আনিমের প্রতি এক আলাদা টান আছে । তিনি বিশেষ করে জোজো এবং গলগো ১৩-এর ভক্ত । এছাড়া সুমিরের সবচেয়ে প্রিয় ট্যাঙ্ক BT-5 । তার জন্ম ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৯১ । উয়েসাকা সুমিরে সামনে যে সামনে বেশ বড় একজন কণ্ঠ-অভিনেত্রী হবেন তা বেশ পরিষ্কার । এখন পর্যন্ত সুমিরের অত একটা রোল দেখা হয়নি কিন্তু সামনে যে প্রতি সিজনেই তার একাধিক রোল দেখবো , তা বুঝা যাচ্ছে ।

Sumire Uesaka 2

Denpa Onna to Seishun Otoko [Review] — Santo Kun

রহস্য কার না পছন্দ?মানুষের জীবন এইদুনিয়া সবই রহস্যে ঘেরা। আপনি যদি বলেন আপনি ভয় পান না বা ভূত,এলিয়েন ইত্যাদিতেবিশ্বাস করেন না তাহলে আপনি মিথ্যা বলছেন। আপনি যতই বলেন না কেন বিশ্বাস করেন না মনেরভিতরে কোন এক অংশ জিনিসগুলোকে পুরোপুরি ভাবে ফেলে দিতে পারে না। ৯৯ শতাংশ যদিবাস্তবে মন দেয় তাহলে অন্তত ১ শতাংশ সমস্ত অবিশ্বাস্য জগতে বিশ্বাস করে। এবং তাসঠিক সময়ে বের হয়ে আসে।রিয়ালিটি এমনই কেমন জানি একটা বন্ধ ঘরে আটকানো। ঘরের মধ্যেরঘুরাঘুরি করা যায় কিন্তু অবাস্তবতাকে ওপারে কল্পনায় রেখে দিতে হয় যা শুধু অনুভবকরা যায়।

Denpa Onna to Seishun Otoko 1

ধরুন হঠাৎ করে কেও একজন নিজেকে এলিয়েনদাবি করে বসলো। আপনি কি পারবেন তাকে বিশ্বাস করতে? বা হেসে উয়িয়ে দিতে? মানুষের মনকল্পনা প্রেমি তাই কিভাবে জানি এসব বিষয় কে বিশ্বাস করতে গিয়ে নিজে নিজে বাস্তবেরসাথে মিলিয়ে অবাস্তবতাকে প্রকাশ করে। এইটাকেই আমরা “Coincident” বলি।

Denpa Onna to Seishun Otoko 2

তেমনি এক চরিত্র তউয়া এরিও যে নিজেকেএলিয়েন মনে করে।স্বাগতম আপনাকে এমন এক শহরে যেখানে এলিয়েন আনাগোনা বেশি বলে মনেকরা হয়। এ শহরে নাকি এলিয়েন দেখা যায় এবং এলিয়েন মানুষদের তুলে নিয়ে যায়।আপাদেনএরিও-চান নাকি তাদের মধ্যে একজন। এরিও চান প্রায় অর্ধেক বছর নিখোঁজ ছিল সমুদ্রেএবং এই অর্ধেক বছরে তার সাথে কি হয়েছে এসব তার কিছুই মনে নেই। সে মনে করে এসব তারসাথে এলিয়েন করেছে। এরিও চান একটু অদ্ভুত ধরনের নিজেকে ফুটনের মধ্যে জরিয়ে রাখেকাউকে তার চেহারা দেখতে দেয় না।তার ঘরে তাকে কেউ নোটিস করে না যা মাকতো কুন কে খুববিস্মিত করে।

Denpa Onna to Seishun Otoko 3

মাকতো কুন হল এরিও চান এর কাজিন। তার বাবামা বিস্নেস ট্রিপ এ গেলে তাকে তার অ্যান্টির বাসার শিফট হতে হয়।এবং সেখানে তাকেঅনেক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাতে হয়। কাহিনী মাকতো কুন কে ঘিরে। এরিও চানকে যখন সে প্রথম দেখে তখন তার চোখ কে বিশ্বাস করতে পারে না কেও এত সুন্দর কিভাবেহতে পারে। কে তুমি? এলিয়েন? নাকি এক সুপ্ত রাজকুমারি? আসলেই এরিও চান অনেকসুন্দরী।জ্যোৎস্না রাতে চাঁদেকে আরাল করে বাতাসে উরে যাওয়া আকাশী চুলের বাহার যেকারও মনকে কেড়ে নিবে। আপনি বোধহয়ই এমন সুন্দর এনিমে চরিত্র খুব কমই দেখেন।কাওাইনেস ওভারলোড তার চেহারা আর কণ্ঠে।

Denpa Onna to Seishun Otoko 4

সিরিজটা একটু স্লো হলেও প্রত্যেক মুহূর্তএঞ্জয় করার মত। স্লাইস অফ লাইফ এনিমে কিছুটা এমনই হয়। এনিমের ওপেনিং আর এন্ডিং হল সেরা কিউট ওপেনিং আর এন্ডিং। আমার মনে হয় না আর কোন এনিমেআছে যার ওপেনিং আর এন্ডিং।

ওপেনিং লিঙ্ক:

https://www.youtube.com/watch?v=i6fwe3EFTRQ

এন্ডিং লিঙ্ক:

https://www.youtube.com/watch?v=IJ5dcnP87oE

Denpa Onna to Seishun Otoko 5

এনিমেটি এনিমেশন করে Shaft Studios। সাফট স্টুডিও  কিছু পপুলার কাজ হল মনোগাতারি সিরিজ,নিসেকই, মাদোকা মেজিকাইত্যাদি। তাহলে বুজতেই পারছেন এনিমেশন কোয়ালিটি কেমন হবে এবং প্রত্যেকটি চরিত্রকেকত সুন্দর করে উপস্থাপন করা হবে।তাই এরিও চান সহ অন্যান্য মেয়ে চরিত্রের দিক থেকেচোখ সরানো মুশকিল।এনিমে স্লাইস অফ লাইফের সাথে কিছু সাইফাই মিশানো তাই তাইঅন্যান্য স্লাইস অফ লাইফ থেকে একটু ভিন্ন তা আপনারা এনিমের কনসেপ্ট পড়ে বুঝে গেছেনআই হোপ।

ধন্যবাদ।

এনিমে ডাউনলোড লিঙ্ক= https://kissanime.to/Anime/Denpa-Onna-to-Seishun-Otoko

Anime information:
Name: Denpa Onna to Seishun Otoko
Episode:12+1 special
Status: Complete
Source: Light novel
Genres: Comedy, Sci-Fi, Seinen, Slice of Life
Mal Score: 7.37
Personal Score: 8

Studio Monogatari: Episode 05

আজকের স্টুডিও নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে একটি ছোট্ট গল্প থাকলো:

জাপানে একটি বেশ জনপ্রিয় সাইন্স ফিকশন কনভেনশন আছে, নাম Nihon SF Taikai (Japan SF Convention), যেটি বিভিন্ন বছর বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হয়। যেই শহরে অনুষ্ঠিত হয় সেই শহরের নাম অনুযায়ী এই কনভেনশনের ডাকনাম দেওয়া হয়। যেমন, টোকিও শহরে হলে সেবারেরটির নাম হয় TOKON, ওসাকা শহরে হলে নাম হয় DAICON, নাগোয়াতে হলে MEICON ইত্যাদি। কনভেনশনগুলি তাদের এই ডাকনামেই বেশি পরিচিত।

১৯৮১ সালে অনুষ্ঠিত হয় DAICON 3 [অর্থাৎ দাইকনের ৩য় আসর], এবং সেইবার কনভেনশনটির ওপেনিং গান তৈরির দায়িত্ব নেয় একদল শৌখিন অ্যানিমেটর, যারা Daicon Films নামের একটি অপেশাদার অ্যানিমেশন দল তৈরি করেছিল। তারা একটি মিউজিক ভিডিও তৈরি করে অনুষ্ঠানটির জন্যে, যেখানে দেখানো হয় স্পেসশিপ থেকে কয়েকজন লোক এসে ছোট একটি মেয়েকে এক বোতল পানি দেয় এবং সেটি একটি মূলা গাছে ঢেলে দিতে হবে যেন। মেয়েটি সেই পানির বোতল নিয়ে যেতে থাকে, কিন্তু পথে বিভিন্ন শত্রু তাকে আক্রমণ করে। রোবট, স্পেসশিপ ইত্যাদি বিভিন্ন সাই-ফাই উপকরণ নিয়ে আসে এই ভিডিওতে, এবং মেয়েটি সবার মারামারি করে অবশেষে সেই মূলা গাছটির কাছে যেতে পারে। গাছটিতে সেই পানি ঢালবার সাথে সাথে সেটি একটি বিশাল স্পেসশিপে পরিণত হয়, এবং মেয়েটি ক্যাপ্টেন হয়ে যায় সেটির। অবশেষে স্পেসশিপটি নিয়ে মেয়েটি মহাকাশে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়। ভিডিওটি দিয়েই উদ্বোধনি হয় কনভেনশনের। এখানে বলে রাখা ভাল, মূলা জিনিসটি দেখানোর কারণ pun হিসাবে ব্যবহার করেছে [Daicon ~ Daikon = Radish]!

অপেশাদার কয়েকজন অ্যানিমেটরের তৈরি এই ভিডিওটি দেখে সবাই অবাক হয়ে যায়, প্রশংসায় ভাসানো হয় তাদের। তাদের উন্নতমানের অ্যানিমেশন কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে Studio Nue তাদের দুইজনকে একটি কাজের জন্যে প্রস্তাব দেয়, তাদের পরবর্তী আনিমে Macross-এ কাজ করার প্রস্তাব!

সময়ের সাথে সাথে কিছুদিনের মধ্যেই তাদের খ্যাতি ছড়িয়ে পরে, DAICON 4 এর জন্যেও তারা এরকম আরেকটি ভিডিও বানায়, যা আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠে মূলত এবার তাদের কাজের কোয়ালিটির উন্নতি ঘটায়। ৬ জনের সেই শৌখিন অ্যানিমেটরের তৈরি Daicon Films নতুন নাম নিয়ে আসে অ্যানিমেশন স্টুডিওর জগতে, আর প্রতিষ্ঠা করে Gainax স্টুডিও।

Gainax

1. Gainax logo

আশির দশকের শুরুর দিকে তরুণ অ্যানিমেটর Hideaki Anno, Yoshiyuki Sadamoto, Hiroyuki Yamaga, Takami Akai, Toshio Okada, Yasuhiro Takeda এবং Shinji Higuchi গড়ে তুলেন Daicon Films নামের একটি প্রতিষ্ঠান, এটিই ছিল গাইনাক্সের প্রথম রূপ। DAICON 3 এর খ্যাতির পর Studio Nue তাদের পরবর্তী আনিমে Macross-এ কাজ করার প্রস্তাব দেয় হিদেয়াকি আন্নো আর হিরোয়ুকি ইয়ামাগাকে। এই আনিমেতে কাজ করার মাধ্যমে প্রফেশনাল আনিমের জগতে পা ফেলার সুযোগ পায় তারা। আর এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা ১৯৮৩ সালের DAICON 4-এর ওপেনিং ভিডিও তৈরি করে সবাইকে আরও বেশি অবাক করে দেয়। এই ভিডিও তৈরির জন্যে তারা একটি আনিমে স্টুডিও ভাড়া করে যেন প্রফেশনাল কাজ উপহার দিতে পারে। এবারের মিউজিক ভিডিওতে আগের ভিডিওর সেই মেয়েটিকেই দেখায়, কিন্তু এবার সে বয়সে বড় থাকে। একটি playboy bunny suit পরে বিভিন্ন শত্রুদের সাথে মারামারি করতে দেখা যায় তাকে, যেসব শত্রুর মধ্যে Darth Vader, Power Rangers-দের দেখা যায়, এমনকি ভিডিওটিতে আরও দেখা যায় গান্দাম, ম্যাক্রস ভ্যালকাইরি, Alien, সুপারম্যান, ব্যাটম্যান, স্পাইডারম্যানসহ অনেক জনপ্রিয় ওয়েস্টার্ন চরিত্র থাকে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে Electric Light Orchestra-এর জনপ্রিয় মিউজিক “Twilight” [যেটি সম্ভবত অফিসিয়াল উপায়ে অনুমতি নিয়ে করা হয় নি]।

2. Daicon

দাইকনের সাফল্যের পর এই কজন অ্যানিমেটর ঠিক করে এবার তারা বড় কোন কাজের দিকে হাত বাড়াবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ, যোগাযোগ করে Bandai Entertainment-এর সাথে। Bandai তাদের কাজে মুগ্ধ হয়ে একটি মুভি তৈরির প্রস্তাব দেয়, Royal Space Force-এর মুভির কাজের প্রস্তাব ছিল এটি। এই কাজের জন্যে ৮০০ মিলিয়েন ইয়েনের প্রস্তাব দেয় তারা। দাইকন ফিল্মস এতে রাজী হয়ে যায়, এবং প্রফেশনাল কাজ শুরুর জন্যে ১৯৮৪-১৯৮৫ সালের দিকে নাম পরিবর্তন করে Gainax নাম নিয়ে হাজির হয়।

3. creators

 

নামকরণ

Gainax নামটি ঠিক করার জন্যে তারা বেছে জাপানিজ শব্দ Gaina, যার অর্থ বড়, বিশাল, বা দৈত্যাকৃতির, আর তার সাথে শেষে একটি X লাগিয়ে দেয়, যেন নামের মধ্যে একটা ভাব আসে, দেখতে ভাবচক্করওয়ালা লাগে। ব্যস, অফিসিয়ালি Gainax নামের স্টুডিও তৈরি করে ফেলল সেই অ্যানিমেটররা। যদিও তখন তারা ধরে নিয়েছিল পার্মানেন্ট নয় বরং অল্প কিছুদিনের জন্যে এই নাম থাকবে তাদের, কিন্তু কন্ট্র্যাক্ট সংক্রান্ত কারণে এই নাম আর পরিবর্তন করার সুযোগ পায় নি তারা।

গাইনাক্স নামে আত্মপ্রকাশের পরবর্তী সময়ে তাদের কাজের কিছু অংশ উল্লেখ করা হল এখানে-

  • ১৯৮৯ সাল: বান্দাই এন্টারটেইনমেন্টের প্রস্তাবনা নেবার পর ১৯৮৭ সালে গাইনাক্স তাদের প্রথম কাজ Royal Space Force: The Wings of Honneamise মুভিটি নিয়ে আসে। মুভিটি ছিল তখনকার সময়ের সাধারণ আনিমের আইডিয়া থেকে একদমই আলাদা। গল্পের ধরণ, আর্টস্টাইল, অনেক দিক থেকেই মুভিটি অন্যরকম ছিল, আর জনপ্রিয়তাও পায় প্রচুর। এমনকি পশ্চিমাবিশ্বেও এটি প্রকাশিত হয় পরে।
  • ১৯৮৮ সাল: এই সাফল্যের পর বান্দাই আরেকটি প্রস্তাবনা নিয়ে আসে – এমন একটি সিরিজ তৈরি করতে হবে যার সাফল্য পেতে তো হবেই, একই সাথে অন্তত ১০ হাজার কপি বিক্রয় করতেও সক্ষম হবে। তাদের এই প্রস্তাবে সাড়া দেয় গাইনাক্স, এবং বান্দাইয়ের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেয়। ১৯৮৮ সালে নিয়ে আসে OVA সিরিজ Gunbuster, যেটি গাইনাক্সের অন্যতম বড় একটি মাইলফলক সিরিজ। প্রথমে কথা ছিল শিনজি হিগুচি সিরিজটি পরিচালনা করবেন, কিন্তু অন্যান্য কিছু প্রোজেক্ট নিয়ে ব্যস্ততার কারণে তা হয়ে উঠে না। ফলে পরিচালনার দায়িত্ব যায় হিদেয়াকি আন্নোর ঘাড়ে, আর এভাবেই ডিরেক্টর হিসাবে হিদেয়াকি আন্নোর অভিষেক হয়।
  • ১৯৮৯ সাল: ডেইলি সিরিজ Sakyo Komatsu’s Animation Theater নিয়ে আসে গাইনাক্স, তবে সিরিজটি তেমন সাড়া ফেলতে পারে নি।
  • ১৯৯০ সাল: বছরটি গাইনাক্সের জন্যে অনেক বিশেষ ছিল। এই বছরে তারা একটি নতুন প্রোজেক্ট নিয়ে আসে, নাম Nadia: Secret of Blue Water. সিরিজটি কে পরিচালনা করবে সেটি নিয়ে অনেক জটিলতা থাকলেও শেষপর্যন্ত হিদেয়াকি আন্নোকেই পরিচালক হিসাবে ঠিক করা হয়, আর গাইনাক্স নিজেরাই সিরিজটির প্রডিউসার হয়। প্রোজেক্টটি অনেক ব্যয়বহুল ছিল, আর এটি তৈরি করতে গিয়ে গাইনাক্সকে অনেক দেনার মধ্যে পরতে হয়েছিল। তবে সিরিজটির জনপ্রিয়তা মূলধারার আনিমে দর্শকদের কাছে গাইনাক্সকে পরিচিত করে তুলে।
  • ১৯৯১ সাল: এই বছর গাইনাক্স নিয়ে আসে OVA সিরিজ Otaku no Video, যা ওতাকুদের জীবন-যাপন নিয়ে একটি প্যারোডি সিরিজ হিসাবে তৈরি করা হয়। আনিমের ফাঁকে ফাঁকে বাস্তবের এক ওতাকুর ইন্টারভিউ দেখায়, আরও এখানে গাইনাক্সের নিজেদের স্টুডিওরই প্যারোডি তুলে ধরে তারা।
  • ১৯৯৫ সাল: এরকম সময়ে ধারদেনা নিয়ে বেশ কিছু সমস্যায় পরতে হয় গাইনাক্সকে, আর একই সাথে বেশ কয়েকজন স্টাফ গাইনাক্স ছেড়ে চলে যায়। গাইনাক্স তখন বেশ কিছু এডাল্ট ভিডিও গেম বের করে, যেগুলির বিক্রয় তাদের ধারদেনার অনেক অংশই শোধ করতে সাহায্য করে। নিজেদের এসব সমস্যার অনেকগুলিই মিটিয়ে ফেলবার পর ১৯৯৫ সালের দিকে এসে হিদেয়াকি আন্নো একটি প্রোজেক্ট হাতে নেয়, যা আনিমের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবেই চিরকাল থেকে যাবে। সময়টা গাইনাক্সের জন্যে এবং আন্নোর নিজের জন্যেও ভাল যাচ্ছিল না। স্টুডিওর ধারদেনার সমস্যা, দিন-কে-দিন আনিমের জন্যে বরাদ্য বাজেট কমে আসা, এবং কাজ সংক্রান্ত কারণে আন্নোর বিষণ্ণতা সব মিলিয়ে অনেক ধকলের একটা সময় যাচ্ছিল। এরকম সময়ে আন্নো নতুন এক প্রোজেক্টের আইডিয়া নিয়ে আসে, যেই প্রোজেক্টের ব্যাপারে শুধু আন্নো নিজেই নয়, বরং পুরা গাইনাক্সও আত্মবিশ্বাসী ছিল এই প্রোজেক্টের সাফল্যের ব্যাপারে। প্রোজেক্টটি হল Neon Genesis Evangelion, আনিমের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়।
  • Neon Genesis Evangelion: শুরুর দিকে ইভাঞ্জেলিয়নের ভাগ্যের শিকে ছিড়তে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয় গাইনাক্সকে। প্রথম প্রথম কেউই সিরিজটির মার্চেন্ডাইজ লাইসেন্স কিনতে চাচ্ছিল না, এর মাঙ্গার ফান্ডিং-এর জন্যে কেউ এগিয়ে আসছিল না। এতকিছুর পরেও গাইনাক্স স্টাফদের মধ্যে সিরিজটি নিয়ে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা যায় নি। এমন কি হিদেয়াকি আন্নো প্রতিশ্রুতিই দিয়ে দেয় ইভাঞ্জেলিয়ন ব্যবসাসফল হবে। ১৯৯৫ সালে সিরিজটি প্রচার হওয়া শুরু করলে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয় নি প্রোজেক্টটি নিয়ে, ইভাঞ্জেলিয়ন মানেই যেন তখন রমরমা ব্যবসা! ইভাঞ্জেলিয়নের নাম থাকলে যেকোন জিনিসই দেদারসে বিক্রয় হচ্ছে। যদিও শেষের দিকে এসে সিরিজটির বাজেট নিয়ে টানাটানি শেষ দুই পর্বে আনিমে ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কমূলক এন্ডিং-এর জন্ম দেয়, তারপরেও ইভাঞ্জেলিয়ন নামটা এত বেশিই জনপ্রিয় হয়ে উঠে যে সেই নাম ভাঙ্গিয়ে এই ২০১৬ সালে এসেও যেকোন জিনিসের ব্যবসা সফল হয়ে থাকে।
  • ১৯৯৭ সাল: বাজেটের ঘাটতির কারণে ঠিকমত এন্ডিং দেখাতে না পারলেও এরপর ১৯৯৭ সালে আন্নো দুইটি মুভি নিয়ে আসে ইভাঞ্জেলিয়নের এন্ডিং নিয়ে। সেগুলিও একই সাথে জনপ্রিয় এবং বিতর্কিত হয়ে উঠে।
  • ১৯৯৮-১৯৯৯ সাল: ইভাঞ্জেলিয়নের এরকম মারমার কাটকাট ব্যবসার জন্যে আর এত ভাল সময় কাটাবার পরেও তাদের উপর এরপর বেশ বড় রকমের এক ধাক্কা এসে লাগে। ১৯৯৮ সালের শেষের দিকে এসে ধরা পরে গাইনাক্স বিশাল পরিমাণ কর ফাঁকি দিয়েছে। পরিমাণটাও অবাক করার মত বড়: ৫৬০ মিলিয়ন ইয়েন!! অনেক তদন্তের পর ১৯৯৯ সালে গাইনাক্স প্রেসিডেন্ট Takeshi Sawamura-কে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
  • কর ফাঁকি দেওয়া নিয়ে এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে গাইনাক্সে অনেক বড় ঝড় যায় একটা, তবে গাইনাক্স স্টাফরা নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করতে খুব বেশি সময় নেয় নি।
  • ২০০০ সাল: Production I.G-এর সাথে গাইনাক্সের সম্পর্ক বেশ ভাল ছিল সবসময়েই। তাদের সহযোগিতায় গাইনাক্স ২০০০ সালে আনে স্টুডিওর আরেকটি বড় সাফল্য পাওয়া সিরিজ Fuli Kuli বা FLCL, যা কিনা মডার্ন আনিমের সূচনা করা সিরিজগুলির অন্যতম। এটি তৈরি করা হয়েছিলি এই উদ্দেশ্যে যে সিরিজটি যেন তথাকথিত আনিমে থেকে একদম আলাদা হয়। ইংরেজি ভার্শনের জন্যে প্রায় সব জোক্স নতুন করেও লেখে তারা। FLCL দর্শকরা অনেক ভালভাবেই গ্রহণ করে।
  • ২০০৪ সাল: প্রতিষ্ঠানের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে তারা নিয়ে আসে Gunbuster-এর সিকোয়েল সিরিজ
  • ২০০৬ সাল: হিদেয়াকি আন্নো গাইনাক্স ছেড়ে চলে যান। একই সাথে পরবর্তী কিছু সময়ে অনেক অরিজিনাল স্টাফরাও গাইনাক্স ছেড়ে অন্য স্টুডিওতে চলে যায়।
  • ২০০৭ সাল: পরিচালক Hiroyuki Imaishi নিয়ে আসে গাইনাক্সের অন্যতম সেরা সিরিজ Tengen Toppa Gurren Lagann. সিরিজটির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠে, কিন্তু এই সিরিজ চলাকালীন গাইনাক্সের অরিজিনাল মেম্বারদের একজন Takami Akai একই সাথে গুরেন লাগান-এর টিম ছেড়ে এবং গাইনাক্স ছেড়ে চলে যান।
  • ২০১০ সাল: Hiroyuki Imaishi আরেকটি বহুল জনপ্রিয় এবং বিতর্কিত এন্ডিং-এর জন্যে বিখ্যাত সিরিজ নিয়ে আসেন: Panty & Stocking with Garterbelt. এই সিরিজটিও ছিল গাইনাক্সের আরেকটি আনিমে যা “আনিমে” ধারণা থেকে অনেক দূরে থেকেছে। আর্টস্টাইল দেখলে ওয়েস্টার্ন কার্টুন মনে না হবার কোন কারণ নেই।
  • পরবর্তী সময়: পরবর্তী সময়টা গাইনাক্সের জন্যে খুব ভাল কাটেনি ঠিক। বেশিরভাগ অরিজিনাল স্টাফ গাইনাক্স ছেরে চলে যাবার পর যেই ধরণের কাজের জন্যে গাইনাক্স বিখ্যাত তেমন কোন কিছু আর নিয়ে আসে নি। তবে এই সময়ে অনেক মাঙ্গা আর লাইট নোভেল এডাপশন করে তারা।

 

 

গাইনাক্স স্টাফরা অন্যত্র গিয়ে যেসব জনপ্রিয় স্টুডিও তৈরি করে-

  • Gonzo: ১৯৯২ সালে কিছু সংখ্যক প্রাক্তন গাইনাক্স সদস্য স্টুডিও গঞ্জো প্রতিষ্ঠা করেন।
  • Khara: ২০০৬ সালে হিদেয়াকি আন্নো গাইনাক্স ছেড়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন স্টুডিও খারা। এখানে এসে তিনি নতুন করে ইভাঞ্জেলিয়ন সিরিজ শুরু করেন এবং মুভি আকারে এগুলি নিয়ে আসেন।
  • Trigger: ২০১১ সালে Hiroyuki Imaishi এবং Masahiko Ohtsuka গাইনাক্স ছেড়ে দিয়ে এসে স্টুডিও ট্রিগার প্রতিষ্ঠা করেন। এ কারণে এখনকার সময়ে গাইনাক্সের কাজে “গাইনাক্স” ভাবটা পাওয়া না গেলেও ট্রিগারের কাজে মাঝেমধ্যেই পাওয়া যায় সেই স্বাদ। তাদের কাজ Kill la Kill, Inferno Cop, Ninja Slayer জাতীয় সিরিজগুলির মধ্যে সেই “গাইনাক্স” এর আমেজ পাওয়া যায়।

 

গাইনাক্সের নিজস্বতা আছে অনেক। তাদের সৃষ্ট কাজগুলিতে এমন কিছু জিনিস পাওয়া যায় যার কারণে কোন আনিমে গাইনাক্সের তৈরি এটি শুনলেই দর্শকরা নেড়েচড়ে বসে, কিছু অস্বাভাবিক কিন্তু চমৎকার common idea-এর জিনিস পাওয়া যাবে তাদের আনিমেতে, এই চিন্তাই সবার আগে দর্শকদের মাথায় খেলে যায়। গাইনাক্সের এরকম নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা রইলো-

 

  • Gainax Ending: এক NGE দিয়েই গাইনাক্স আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে রেখে যায় এমন এক অবদান, যার কারণে দর্শকেরা অনেক সিরিজ দেখার সময়েই অস্বস্তিতে থাকে এন্ডিং-এ এসে সব ওলটপালট করে দেওয়া কিছু হবে না তো! সোজা ভাষায় Gainax Ending হল গল্পের এমন এক এন্ডিং যা শুধু অপ্রত্যাশিতই নয়, বরং এমন জিনিস যা কয়েকবার না দেখলে মাথায় ঢুকবে না, কিংবা ঢুকলেও হতবিহবল করে রেখে দিবে দর্শককে। Gainax Ending হল এমন এক এন্ডিং যা দর্শকের Mind Screw করে রেখে যাবে, যা দেখার পর দর্শক মুখে মুখে না হলেও মনে মনে WTF! WTF! বলে চিৎকার করতে থাকবে। Gainax Ending বেশ কয়েকপ্রকার হতে পারে। যেমন – হাসিখুশি এন্ডিং বা দুঃখের এন্ডিং নয়, বরং ৩য় আরেক ধরণের এন্ডিং নিয়ে আসা। আবার অস্পষ্ট ক্লিফহ্যাঙ্গার দিয়ে এন্ডিং হতে পারে। অথবা এমন এন্ডিং হতে পারে যা ধরণে-বলনে এর আগে পুরা সিরিজের সাথে বিন্দুমাত্র মিল রাখে না। অথবা এমন এন্ডিং যা পুরা গল্পটাকে অন্য আঙ্গিকে অন্য দৃষ্টিতে দেখতে বাধ্য করবে আপনাকে। এরকম অদ্ভুতুরে আর ধাক্কা লাগানো এন্ডিং যে পৃথিবীর ইতিহাসে গাইনাক্স শুরু করেছে তা নয়, আরও অনেক আগ থেকেই অনেক গল্পে, মুভিতে ছিল এমন এন্ডিং। কিন্তু ইভাঞ্জেলিয়নের এন্ডিং ব্যাপারটাকে এমন শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে যে Mind-Fu*k ending বুঝাতে গেলে বেশিরভাগ দর্শকই, বিশেষ করে আনিমে দর্শকেরা Gainanx Ending কথাটি ব্যবহার করে থাকে। গাইনাক্সদের নিজেদের যেসব আনিমেতে Gainax Ending রয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকটি: Neon Genesis Evangelion [Gainax Ending শব্দটির উদ্ভাবক], Mahoromatic, Gunbuster, He Is My Master, Magical Shopping Arcade Abenobashi, Panty & Stocking with Garterbelt, Tengen Toppa Gurren Lagann [উল্টাভাবে জিনিসটা নিয়ে আসে, যেখানে সিরিজের শুরুটা এরকম উল্টাপাল্টা হয়, কিন্তু 4. Gainax Endingবাকি সিরিজ সেরকম হয় না], Royal Space Force: The Wings of Honnêamise, Houkago no Pleiades, FLCL [উল্টাভাবে দেখায়, যেখানে পুরা সিরিজটা ওলটপালট হয়ে চলতে থাকে, কিন্তু এন্ডিং থাকে একদম সাধারণ আর স্বাভাবিক]। গাইনাক্স ছাড়া অন্যান্য স্টুডিওর আনিমে যেগুলিতে Gainax Ending দেখা যায় তার কয়েকটি উদাহরণ: Berserk, Mirai Nikki, Chobits, Revolutionary Girl Utena, Dragon Ball GT, Air, Clannad, Kanon, Robotics;Notes, Xam’d: Lost Memories, Gantz, Darker Than Black, Serial Experiments Lain, Mahou Shoujo Madoka★Magica, Mahou Shoujo Madoka★Magica: Rebellion, Guilty Crown, Eureka Seven AO ইত্যাদি। আবার Gainax Ending-এর প্যারোডি দেখা যায় Gintama-এর মাঝের এক পর্বে, Carnival Phantasm-এর প্রথম পর্বে, আবার Kill la Kill-এ এটা নিয়েও শেষের আগের পর্বে মজা করে ভয় দেখানো হয় দর্শকদের। Inferno Cop-এ পুরা Gainax Ending-কে একরকমের উপহাস করা হয় শেষের কয়েকটি পর্বে।
  • Gainaxing: ভদ্র ভাষায় এই ব্যাপারটাকে বুঝাতে গেলে বলতে হবে, কোন নারী চরিত্রকে এমনভাবে উপস্থিত করা হয় যেন তার শরীরে bounce effect অনেক বেশি দেখা যায়। নারীদেহের এক অংশে physics-এর lawগুলি কাজ করে না। গাইনাক্সের আনিমে মানেই যেন তাতে অল্প হলেও Gainaxing থাকবে।
  • Gainax Pose: Gainax Pose বা Gunbuster Pose হল এমন এক অঙ্গভঙ্গি, যেখানে গল্পের প্রোটাগোনিস্ট নায়কোচিত ভাব নিয়ে arms-crossed অবস্থায় থাকবে, শারীরিক ভাষায় একটা গর্বভাব থাকবে, আর আশেপাশে ভিজুয়াল ইফেক্ট হিসাবে বাতাসের প্রবাহ, ধোঁয়া উড়তে দেখা, আগুন জ্বলতে দেখা, আলোর খেলা ইত্যাদি দেখা যাবে। গাইনাক্সের নিজেদের কাজের মধ্যে শুধুমাত্র Gunbuster, Diebuster আর Gurenn Lagann-এই এমন জিনিস দেখা গেলেও এই পোজটির খ্যাতি দুনিয়াজুরে ছড়িয়ে গিয়েছে। নেট জুড়ে দেখা যায় অনেক আর্টিস্ট তাদের পছন্দমত কোন আনিমের নায়ক-নায়িকাকে এরকম Gainax Pose-এ রেখে এঁকেছে।

5. Gainax Pose

  • Mecha: মেকা আনিমে তৈরির প্রতি গাইনাক্সের ঝোঁকটা দেখার মত। সেই DAICON III ও IV থেকে শুরু করে এরপর Gunbuster, NGE, FLCL, Diebuster, Gurren Lagann একে একে অনেকগুলি মেকা আনিমে দিয়ে গিয়েছে গাইনাক্স, এবং তাদের প্রায় সব মেকা আনিমেই তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
  • Deconstruction and Reconstruction: গল্পে একটা আইডিয়া দেখানো, তারপর পুরা জিনিসটাকে ভেঙ্গে আবার নতুন করে গড়ে তুলা, এই ব্যাপারটা গাইনাক্সের বেশ পছন্দের এক আইডিয়া।
  • Shoutout: গাইনাক্সের অনেক আনিমেতেই দেখা যায় অন্যান্য বিভিন্ন জিনিসের প্রতি রেফারেন্স দেখানো। যেমন, FLCL-এ প্রায় প্রতি পর্বেই একগাদা রেফারেন্স থাকতো, বিশেষ করে Lupin III এর রেফারেন্স একটু পরপরই থাকতো। এক পর্বে আর্ট স্টাইল South Park-এর মত করে ফেলে কিছুক্ষণের জন্যে। এমনকি গাইনাক্সের নিজেদের গাইনাক্স-পূর্ব কাজ DAICON-এর প্রতিও ছোট্ট একটি ট্রিব্যুট রাখে এক পর্বে।

গাইনাক্সের কিছু জনপ্রিয় আনিমে-

  • TV Series: Nadia: The Secret of Blue Water (1990-1991), Neon Genesis Evangelion (1995-1996), His and Her Circumstances (1998-1999), Oruchuban Ebichu (1999), Mahoromatic (2001-2003, 2009), Magical Shopping Arcade Abenobashi (2002), Gurrenn Lagann (2007), Corpse Princess (2008), Hanamaru Kindergarten (2010), Panty & Stocking with Garterbelt (2010), The Mystic Archives of Dantalian (2011), Medaka Box (2012), Wish Upon the Pleiades (2015)
  • OVA: Appleseed (1988), Gunbuster (1988-1989), Otaku no Video (1991), FLCL (2000), Re: Cutie Honey (2004), Diebuster (2004) etc.
  • Films: Royal Space Force: The Wings of Honnêamise (1987), Evangelion: Death and Rebirth (1997), The End of Evangelion (1997), Revival of Evangelion (1997), Gunbuster vs. Diebuster (2006), Gekijōban Tengen Toppa Gurren Lagann (2008-2009) etc.
  • Collaborations with Other Studios: Cowboy Bebop: Knockin’ on Heaven’s Door (2001), Rebuild of Evangelion movies (2007-present)

6. Gainax Collage

গাইনাক্সের গল্পটা একটা রূপকথার গল্প থেকে কোন অংশে কম হয় না আসলে। অল্প কয়েকজন আনিমে পাগল তরুণ মিলে তৈরি করে ফ্যান অ্যানিমেশন, সেখান থেকে বড় স্টুডিও এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ডাক, সেখান থেকে আনিমের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় এক আনিমে স্টুডিও নির্মাণ করে ফেলা, কর কেলেংকারি নিয়ে বিশাল খবর ঘটানো, আনিমের ইতিহাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করে দেবার মত কিছু আনিমে তৈরি, দাপটের সাথে ২৫-২৬ বছর রাজত্ব করে ফেলার পর সেই মূল প্রতিষ্ঠাতাদের অনেকেরই প্রস্থান এবং এখন স্টুডিওটির বেহাল দশা – রূপকথার চাইতে অনেক বেশি ঘটনাবহুল গাইনাক্সের জীবনকাহিনী! যদিও এখনও গাইনাক্সে বেশ সক্রিয় ও উৎসাহী অনেক স্টাফ আছে, যারা তাদের মেধার পরিচয় দিয়ে মাঙ্গা ও লাইট নোভেল এডাপশন তৈরি করে যাচ্ছে, তবে গাইনাক্সকে যারা গাইনাক্স বানিয়ে গিয়েছে, তাদের অনুপস্থিতি এখনকার কাজে ভালমতই ফুটে উঠে।

কিন্তু মজার কথা হল, গাইনাক্সের জন্যে আসলে খুব ফাটাফাটি নতুন কিছু নিয়ে আসাও খুব দরকারি না। এক ইভাঞ্জেলিয়নের মার্চেন্ডাইজই এখনও গাইনাক্সকে উপরে তুলে রাখতে যথেষ্ট। কিন্তু আয়ের কথা বাদ দিয়ে বরং দর্শকদের কথা ভাবলে গাইনাক্সের কাছ থেকে চমক জাগানিয়া কোন সিরিজের আশা করাটা এখন হয়তো দুরূহ ব্যাপার। বরং সেরকম কোন আনিমে দেখতে হলে এখন দর্শকদের আগ্রহ থাকে Trigger বা Khara-এর প্রতি, যেখানে গাইনাক্সের প্রতিষ্ঠাতাদের বড় অংশ চলে গিয়ে কাজ করছে এবং গাইনাক্সীয় জিনিস উপহার দিচ্ছে মাঝেমধ্যেই।

7. Gainax chars - Production IG

[Production I.G –এর পক্ষ থেকে গাইনাক্সের জনপ্রিয় চরিত্রদের নিয়ে এই কোলাজটি এঁকেছেন Shigeto Koyama]

অরেঞ্জ [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Orange

অরেঞ্জ
জানরাঃ ড্রামা, সাই-ফাই, স্কুল, শৌজো, রোমান্স
ভলিউমঃ ৫
চ্যাপ্টারঃ ২৭
মাঙ্গাকাঃ তাকানো ইচিগো
মাইআনিমেলিস্ট র‍্যাঙ্কিং: ২৩
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৮২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

অনুশোচনা-শব্দটি বলা যতটা সহজ অনুভব করা বোধ হয় ততটা সহজ নয়। প্রত্যেক মানুষই জীবনে ভুল করে। ছোট্ট একটা কর্ম বা সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের বড় একটা অংশ নির্ধারন করে ফেলতে পারে। কখনও তা হয় মঙ্গলজনক কখনও বা নিজের অজান্তেই আমরা জীবনটিকে অশুভ কিছুর দিকে ঠেলে দেই। তারপর অসহনীয় অনুশোচনার আগুনে পুড়ি। বারবার মনে হয়; যদি ফিরে যেতে পারতাম অতীতে, শুধরে নিতে পারতাম ভুলগুলো। দুঃখের বিষয় সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। কিন্তু কেমন হত যদি আপনার অতীতের সত্তাকে আগেভাগে জানিয়ে দিতে পারতেন সামনে কি আসতে যাচ্ছে, কি করা উচিৎ? কিংবা বলা যাক, আপনার ভবিষ্যতের সত্তা আপনাকে হঠাৎই জানিয়ে দিল সামনে কি হবে এবং আপনার কি করা উচিৎ?

তাকামিয়া নাহোর জীবনে ঠিক এমনটিই ঘটে। হঠাৎ একদিন নাহো তার ১০ বছর পরের ভবিষ্যতের নাহোর কাছ থেকে একটি চিঠি পায়। স্বাভাবিকভাবেই সে ধরে নেয় কেউ তার সাথে ঠাট্টা করছে। কিন্তু নাহো অবাক হয়ে লক্ষ্য করে চিঠির কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে ফলছে। চিঠির কথা মতই তার ক্লাসে আসে একজন নতুন ছেলে, যার নাম নারুসে কাকেরু। এবং সে নাহোর পাশের সিটে বসে ঠিক যেমনটা চিঠিতে বলেছে। এরপর একের পর এক ঘটনা সাক্ষ্য দিয়ে দেয় যে আর যাইহোক চিঠিটিতে মিথ্যা কিছু বলা নেই। কিন্তু তবু নাহোর মন থেকে সন্দেহ আর দ্বিধা দূর হয় না। ভবিষ্যতের নাহোর অনুরোধ সে শুরুতে রাখতে পারে না। এই চিঠি যেহেতু তার ভাগ্যের কথাই বলে দেয় তাই তার মনে চিঠিটি পড়তে এক প্রকার ভয় তৈরী হয়। কিন্তু কাকেরু যখন স্কুলে আসে না অনেক দিন তখন নাহো ভাবে চিঠিতে হয়ত এর উত্তর পাওয়া যাবে। এরপর চিঠিতে পাওয়া অনুরোধগুলো মেনে চলে নাহো দেখল এতে বরং ভালো ফলাফল পাচ্ছে সে। এভাবে চিঠি পড়তে পড়তেই সে আবিষ্কার করল কেন ভবিষ্যৎ থেকে সে নিজেকে এভাবে লিখেছে। ১০ বছর পরে কাকেরু আর তাদের সাথে থাকবে না। চিরতরে সে চলে যায় পৃথিবী ছেড়ে। কাকেরুকে চিরতরে হারিয়ে ফেলাসহ জীবনের ছোট ছোট কিন্তু মূল্যবান অনেক মুহুর্ত হেলায় হারিয়ে ফেলে নাহো অনুতপ্ত বোধ করে। তাই সে অতীতে নিজের কাছে চিঠি লেখে যাতে অতীতের নাহো ভবিষ্যতের নাহোর মত একই ভুলগুলো না করে। নিজের কাছেই নাহোর একটাই অনুরোধ, জীবনের মূল্যবান সময়গুলোকে আক্ষরিক অর্থেই মূল্য দিয়ে এবং কাকেরুকে রক্ষা করে নিজেকে অনুশোচনামুক্ত করা।

এ পর্যন্ত পড়ে যে কেউই বুঝতে পারবে অরেঞ্জ মাঙ্গাটির কেন এত সুনাম আর ভালো স্কোর। আর তা হল শৌজো মাঙ্গা হিসেবে এর গল্পে রয়েছে নতুনত্ব। আজব ধরণের মেয়ে সুন্দর ছেলের প্রেমে পড়বে কিংবা একটু দুঃখের অতীত, মানসিক আঘাত, বুলিং, বিষণ্ণতা ইত্যাদি হয়তোবা খুব অপরিচিত গল্প নয়। কিন্তু প্রধান চরিত্র ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছে আগেভাগে সামনে কি হবে জেনে এরকম গল্প অহরহ দেখা যায় না। আর দেখে গেলেও এ ধরণের গল্পগুলো হয় খুব আকর্ষণীয়। অরেঞ্জও তার বাইরে নয়। এই মাঙ্গার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হল এর কাহিনীটি। একদম শুরু থেকেই আপনি গল্পে বুঁদ হয়ে যাবেন। আর সামনে কি হতে যাচ্ছে এই প্রশ্নটা আপনাকে একের পর এক চ্যাপ্টার টানা পড়ে যেতে বাধ্য করবে। বিশেষ করে শেষের দিকের চ্যাপ্টারগুলো একটু বেশিই উত্তেজনাপূর্ণ। তাই শৌজো হলে কি হবে, অরেঞ্জকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে না পড়লে আপনি নিজেই পস্তাবেন। এই মাঙ্গাটি অনেক বেশি রোমাঞ্চকর।

তবে গল্পের কথাই যদি বলা হয় তো আমি কিছু কথা তুলতে চাই। মানুষকে শৌজো মাঙ্গা নিয়ে ‘শৌজো মাঙ্গায় কোন নতুনত্ব নেই’, ‘শৌজো মাঙ্গায় নাটকীয়তা বেশি’, ‘শৌজো মাঙ্গা একঘেয়ে”, শৌজো এই শৌজো সেই ইত্যাদি সমালোচনা করতে দেখা যায় খুব। শুধু অরেঞ্জের বেলায় সবার মুখে মুখে প্রশংসা শোনা যায়। ব্যাপারটা দেখে বরং আমার হাসিই পায়। কেন জানেন? কারণ অরেঞ্জ মোটেও নতুন কিছু না!! ভাবছেন কিভাবে এটা সম্ভব যখন একটু আগেও বললাম এটার গল্পে নতুনত্ব আছে? ব্যাখাটা এই যে এটার নতুনত্ব শুধু ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করা এই অংশটুকু। বাদ বাকি নতুন কিছুই না। আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণ শৌজো মাঙ্গা পড়ে থাকেন তবেই এই কথাটার মর্ম বুঝবেন। কাকেরুর যে কাহিনী রয়েছে তা ইতিমধ্যেই আমার আও হারু রাইড, বকুরা গা ইতা, ওওকামি শৌজো তো কুরো ঔজি ইত্যাদি মাঙ্গায় পড়া শেষ। কাকেরুর পরিস্থিতি কৌ, ইয়ানো বা কিওয়ার থেকে একটুও আলাদা নয়। সে জনপ্রিয় শৌজো মাঙ্গার নায়কদের মতই ছকে বাঁধা। অন্য মাঙ্গায় এই অবস্থাটা মানিয়েছিল কিন্তু কাকেরুর গল্প যতটা রাশভারী ধরণের তাতে তার পেছনের গল্পটায় আরও গভীরতা থাকলে ভালো হত। তাই আপনি যদি হন শৌজো মাঙ্গার ভক্ত তবে একটু আশাহত হলেও হতে পারেন।

এই মাঙ্গার দ্বিতীয় বড় সমস্যাও এর গল্পে। পুরো কাহিনী শুরু হয় যেদিন নাহো প্রথম চিঠিটা পায়। ভবিষ্যতের নাহোর যদি এতটাই অনুশোচনা থাকে তবে কেন সে প্রথম দিনেই সবকিছু খোলাসা করে ঠিক মত যুক্তি দিয়ে বা জোর দিয়ে কাকুতিমিনতি করে অতীতের নাহোকে বোঝালো না যাতে সে তার কথা অনুযায়ী কাজ করে? শুরুতেই সব ঠিক করে দিলে হয়ত মাঙ্গার গল্পটাই আর থাকত না যেটা সত্য। কিন্তু তারপরেও ব্যাপারটা যুক্তিযুক্ত হত। তখন পুরোপুরি আলাদাভাবে অতীতের ঘটনাগুলো ঘটত যেটা মাঙ্গাটিকে আরও বেশি অনিশ্চিত আর রোমাঞ্চকর করে তুলত। এবং এই মাঙ্গার তৃতীয় ও সবচেয়ে বড় ত্রুটিও এর গল্পে!! চিঠিটা ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে আসল কিভাবে? অরেঞ্জ পড়ার আগেই আমার সন্দেহ ছিল একটি শৌজো মাঙ্গায় আদৌ এটার ভালো ব্যাখা থাকবে না। অত্যন্ত দুঃখের সাথেই জানাচ্ছি যে আমার সন্দেহ শতভাগ সত্যি হয়েছে! এটার সাই-ফাই ব্যাখাটি ছিল নিতান্তই হাস্যকর। আর সাই-ফাইই যদি বানাবে তবে মাঙ্গাকা মাঙ্গাটি সম্পূর্ণরূপে সাই-ফাই করলেই পারত। কিংবা বিষয়টা ফ্যান্টাসি বা সুপারন্যাচারাল বানালেও হত। কিন্তু কাহিনী বানাতে হবে বলে গাঁজাখুরি যাচ্ছেতাই ঢুকানো আমার মোটেও পছন্দ নয়। গোঁড়ায় গলদ না থাকলে মাঙ্গাটি প্রায় ত্রুটিহীন হত।

চরিত্রায়নের দিক থেকে কাকেরু সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যেহেতু পুরো গল্পটি তাকে ঘিরেই। তবে সেই গুরুত্ব এতই বেশি যে যত যাইহোক অন্যান্য চরিত্রদের অনেকটা উপেক্ষা করেই পুরো মনোযোগ তার উপরে দেওয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে এতে একটু খারাপ লাগলেও কাকেরুকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টার কারণে বুঝাই যায় কেন বাকি চরিত্রগুলো গুরুত্ব পায়নি। চিনো, মুরাসাকা, হাগিতা প্রধান ফ্রেন্ড সার্কেলের অংশ হলেও এরা পার্শ্ব চরিত্র হিসেবেই ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এদের বন্ধুত্বটা সত্যিই খুব সুন্দর। ওদের দেখলে ক্ষণে ক্ষণেই আপনার মনে হবে ‘এত বেশি ভালো বন্ধু যদি আমার জীবনেও থাকত!’। তবে নাহোকে আমার নায়িকা হিসেবে অযোগ্য লেগেছে বেশ। নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির জীবন যখন মৃত্যুর মুখে তখন এই মেয়ে কিভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে আর প্রায়ই কোন পদক্ষেপ না নিয়ে চুপচাপ থাকে তা আমি ভেবে পাই না।

এখন বলব এই মাঙ্গার সেই জিনিসটার কথা যেটা না বললেই নয়। কি সেটা? সুওয়া হিরোতো! সুওয়া হল এখানে তৃতীয় প্রধান চরিত্র এবং দ্বিতীয় নায়ক। তবে সেটা তার আসল পরিচয় না। তার আসল পরিচয় হল সে এই মাঙ্গার সেরা চরিত্র এবং খুব সম্ভবত শৌজো মাঙ্গার ইতিহাসেও সেরা একজন চরিত্র। আপনি হয়ত উসুই(মেইড-সামা), কেই(স্পেশাল এ), কুরোসাকি(ডেনগেকি ডেইযি) ইত্যাদি অবাস্তবতার কাছাকাছি সুদর্শন সব তথাকথিত “মিস্টার পার্ফেক্ট” ছেলে দেখেছেন। কিন্তু যা দেখেননি তা হল সুওয়ার মত ছেলে। সে সুদর্শন কোন নিখুঁত ছেলে না। কিন্তু তার মন এবং হৃদয়টা অনেক বড়। কথাটা শুনে এখন আহামরি কিছু নাও মনে হতে পারে কিন্তু মাঙ্গাটা পড়ার সময় বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা আসলে কত বড়। সুওয়ার জন্য মেয়েরা হয়তবা সেই পরিমাণ পাগলামি করে না কিন্তু মন থেকে তার জন্য শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা চলে আসবে ঠিকই। আমি নিজে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যার জীবনে সুওয়ার মত মানুষ আছে তার কপালটা অনেক ভালো। সুওয়া এতটাই অসাধারণ! কাকেরুর জন্য নয় বরং সুওয়ার জন্যেই অরেঞ্জ পড়া উচিৎ।

অনেক কিছুই তো জানলেন অরেঞ্জ নিয়ে। এবার কি ভাবছেন এটা পড়বেন কি পড়বেন না? আপনি শৌজো ভক্ত হোন বা না হোন অরেঞ্জ অবশ্যই পড়বেন। কম হলেও খুঁত তো সবকিছুরই থাকে। অরেঞ্জের খুঁত এড়িয়ে যেতে পারলে মাঙ্গাটি অনেক উপভোগ করবেন। টাইম প্যারাডক্স, সুন্দর আর্ট, দারুণ বন্ধুত্ব, সুওয়ার মত চরিত্র, অল্প কিছু চ্যাপ্টার- আর কি লাগে?! সামনেই সামার ২০১৬ সিজনে আসছে এর আনিমে। আনিমে যে সাধারণত মাঙ্গার ধারের কাছেও যেতে পারে না তা তো এখন জানা কথা। তাই তাড়াতাড়ি পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি। আর ২৭ চ্যাপ্টার হলেও ২২ চ্যাপ্টারেই মূল গল্প শেষ। বাকি ৫টি চ্যাপ্টার এখনো স্ক্যানলেশনের অপেক্ষায়। তবে শেষটা কেমন হবে তা জিজ্ঞেস করবেন না। ওটার জন্যেই না এত প্রতীক্ষা! অরেঞ্জ পড়ে চোখের কোণে অশ্রু আসতেও পারে নাও আসতে পারে। কিন্তু অন্যরকম বিষাদময় ভালোলাগার এক তৃপ্তি অনুভব করবেন। কেননা “অরেঞ্জ” নামেই তো লুকিয়ে আছে এর ভাবার্থ। কমলা-শত হতাশার মাঝেও হার না মেনে ঝুঁকি নিয়ে হলেও আশাবাদী হয়ে, আস্থার সাথে, উদ্দ্যমতা নিয়ে জীবনে এগিয়ে চলার প্রতীকী রঙ!

চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান -৪ – Saito Hajime — Shifat Mohiuddin

 

Saito Hajime 1

চরিত্রঃ Saito Hajime
এনিমে: Rurouni Kenshin, Rurouni Kenshin: Trust and Betrayal
ভূমিকাঃ মধ্যপন্থী
আসল নামঃ Yamaguchi Hajime/Saito Hajime
জন্মঃ ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪৪
মৃত্যুঃ ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯১৫
কর্মস্থলঃ শিনসেনগুমির তৃতীয় স্কোয়াড(জাপানিজ সামরিক সরকারের বিশেষ পুলিশ বাহিনী)
পদবিঃ ক্যাপ্টেন

 

¤
আমরা যারা রুরুনি কেনশিন এনিমেটা দেখেছি তারা সকলেই সাইটো চরিত্রটির সাথে পরিচিত।দুর্বিনীত,অহংকারী,অতি-আত্মবিশ্বাসী কিন্তু তলোয়ারবাজিতে অত্যন্ত দক্ষ;সর্বোপরি ব্যাডঅ্যাস এই চরিত্রটি আমাদের মনে ভালোই দাগ কেটেছে।গ্রুপের অধিকাংশ মেম্বারই বোধহয় জানেন যে সাইটো একটি ঐতিহাসিক চরিত্র হতে অনুপ্রানিত।কেনশিনের লেখক নবুহিরু ওয়াতসুকি একজন স্বঘোষিত শিনসেনগুমি ফ্যান এবং তাঁর অনেকগুলো চরিত্রই শিনসেনগুমির সদস্যদের হতে অনুপ্রানিত।সাইটোও তাদের মধ্যে একজন।এনিমের মতো বাস্তব জীবনের সাইটোও সেইরকম ব্যাডঅ্যাস ছিলেন এবং তার জীবন কোন অংশেই কেনশিনের চেয়ে কম বৈচিত্রপূর্ণ নয়।সাইটোই সেই অল্পসংখ্যক যোদ্ধাদের মধ্যে একজন যারা বাকুমাতসুর রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম থেকে বেঁচে ফিরে আসতে পেরেছিলেন।
¤
সাইটো বর্তমান টোকিওতে জন্মগ্রহন করেন।Saito Hajime 2 তার পিতার নাম Yamaguchi Yusuke যিনি কিনা একজন পদাতিক সৈন্য ছিলেন।তার আরও এক ভাই এবং এক বোন ছিল।পারিবারিক সূত্র হতে জানা যায় যে, দুর্ঘটনাবশত একজন যোদ্ধাকে হত্যা করায় সাইটোকে ১৮৬২ সালে গৃহত্যাগ করতে হয়।তিনি কিয়োটোতে চলে যান এবং yoshida নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে তলোয়ারবিদ্যার শিক্ষা নেন।তার পূর্বজীবন সম্পর্কে এর থেকে বেশি কিছু জানা যায় না।
¤
একজন দক্ষ তলোয়ারযোদ্ধা হওয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই সাইটো শিনসেনগুমিতে পদোন্নতি পান।সাইটো,Okita soji এবং todo heisuke এই তিনজন ছিলেন শিনসেনগুমির সবচেয়ে কম বয়স্ক এবং দক্ষ যোদ্ধা।১৮৬৪ সালে সাইটোকে শিনসেনগুমির চতুর্থ স্কোয়াডের প্রধান করা হয় এবং পর্যায়ক্রমে ১৮৬৫ সালের এপ্রিলে তিনি তৃতীয় স্কোয়াডের প্রধান হন।তার দক্ষতা প্রথম স্কোয়াডের লিডার Okita soji[এই চরিত্রটিকে ট্রাস্ট এন্ড বিট্রেয়ালে দেখানো হয়েছে]এর সমকক্ষ ছিল এবং বলা হয় যে ওকিটা,সাইটোকে ভয় পেতেন।
¤
শিনসেমগুমিতে সাইটো মূলত ভাইস কমান্ডারের সহকারি হিসেবে কাজ করতেন।এছাড়াও তলোয়ারবিদ্যা শেখানোর কাজটাও তিনি করতেন।১৮৬৭ সালে সাইটো এবং তার শিনসেনগুমির অন্য সদস্যরা Hatamote(এমন সৈন্য যারা জাপান সামরিক সরকারের সরাসরি অধিনস্থ থাকতো)পদে পদোন্নতি পান।বুশিন ওয়ার(১৮৬৮-১৮৬৯) চলাকালিন সময়ে সাইটো Battle of toba-fusimi এবং battle of koshu-katsunuma তে অংশগ্রহন করেন।যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর সাইটো অবশিষ্ট যোদ্ধাদের নিয়ে জাপানের আইজু এলাকায় পলায়ন করেন।
¤
Utsunomiya দুর্গের লড়াইয়ে শিনসেনগুমির কমান্ডার Hijikata Toshizo মারাত্মক আহত হন।ফলশ্রুতিতে ১৮৬৮ সালের ২৬ মে তারিখে সাইটো আইজু শিনসেনগুমির কমান্ডার হন।Bonari pass এর লড়াইয়ের পর Hijikata আইজু হতে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিলেও সাইটো থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং আইজু আর্মিকে সঙ্গে নিয়ে battle of aizu এর শেষপর্যন্ত লড়াই করেন।(এই বিচ্ছেদের ব্যাপারে বিতর্ক আছে।অনেকের মতে সাইটো হিজিকাতার কাছ থেকে আলাদা হন নি।)
সাইটো এবং তার অনুসারিরা Nyorai-do টেম্পলে ইমপেরিয়াল বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন।যুদ্ধে তারা মারাত্মকভাবে outnumbered হন এবং সকলে ধরে নেয় যে এই যুদ্ধে সাইটো মৃত্যুবরণ করেছেন।কিন্তু সাইটো পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং আইজুতে ফিরে এসে আইজুর সৈন্যবাহিনীতে যোগদান করেন।আইজু দুর্গের পতনের পর সাইটো কিছু সহযোদ্ধাদের নিয়ে takada এলাকায় যান কিন্তু সেখানে তারা যুদ্ধবন্দী হন।আটক হওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকায় সাইটোকে Ichinose Denpachi নামে অর্ন্তভুক্ত করা হয়।
¤
মেইজি পুনরুত্থানের পর সাইটো,Fujita Goro ছদ্মনাম নিয়ে Tonami অঞ্চলে চলে যান।সেখানে তিনি তার এক পুরনো বন্ধু Kurasawa Heijiemon এর বাসায় অবস্থান করেন।সেখানে,সাইটোর সাথে শিনোদা ইয়াসো নামক এক নারীর পরিচয় হয়।কুরাসাওয়ার ঘটকালিতে ১৮৭১ সালে সাইটোর সাথে ইয়াসোর বিবাহ সম্পন্ন হয়।তারা কুরাসাওয়ার বাড়িতেই থাকতেন।ধারনা করা হয় তখনই সাইটো পুলিশ বিভাগের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন।১৮৭৪ সালে সাইটো tonami ছেড়ে টোকিও চলে যান।দুই বছর পরে সাইটো fujita goro নাম নিয়েই টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
¤
এর পর সাইটো Takagi Tokio নামক আরেক নারীকে বিয়ে করেন।তোকিও এর পিতা আইজুর একজন সম্ভ্রান্ত পুরুষ ছিলেন।সাইটো এবং তোকিওর ঘরে Tsutomu,Tsuyoshi এবং Tatsuo নামের তিন সন্তানের জন্ম হয়।Tsutomu এর সন্তানরা এখনও সাইটোর বংশধারা বজায় রেখেছেন।
¤
তিনি মেইজি সরকারের আমলে Satsuma বিদ্রোহ দমনে পুলিশ বাহিনীর হয়ে জাপানিজ সেনাবাহিনীকে সাহায্য করেন।পুলিশ বাহিনীতে তিনি অত্যন্ত সুনামের সহিত কাজ করেন এবং বীরত্বসূচক অনেক পুরষ্কারও পান।১৮৯০ সালে তিনি পুলিশ বাহিনী হতে অবসর গ্রহন করেন।পরবর্তিতে এক বন্ধুর সহায়তায় Tokyo Education Museum এ তিনি গার্ডের দায়িত্ব পালন করেন।তারপর তিনি টোকিও নরমাল হাই স্কুলে সাত বছর চাকরি করেন।১৯০৯ সালে তিনি এই চাকরি হতে অবসর গ্রহন করেন।
¤
শিনসেনগুমির অন্যান্য সদস্যদের মতই সাইটো ছিলেন অর্ন্তমুখী এবং রহস্যময় স্বভাবের।তিনি খুবই কম কথা বলতেন এবং খেজুরে আলাপে তার কোন আগ্রহ ছিল না।সবসময় বিশেষ করে জীবনের শেষের দিকে তিনি অত্যন্ত গর্বিত ভাবে জীবনযাপন করতেন।অবসর সময়ে সর্বদাই তাকে সেইজা(জাপানিজদের হাঁটু ভেঙ্গে বসার স্টাইল)রত অবস্থায় দেখা যেত।মেইজি যুগে সাইটোই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যাকে কাতানা বহনের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।সাইটোর উচ্চতা ছিল ৫’ ১১” অর্থ্যাৎ এনিমের মত বাস্তব জীবনেও তিনি অত্যন্ত লম্বা ছিলেন।তিনি সর্বদাই অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় থাকতেন যেন যেকোন সময়ে যেকোন পরিস্হিতির মোকাবেলা করতে পারেন।
সাইটো অত্যন্ত বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন।তীক্ষ্ণ বিচারবুদ্ধির কারণে শিনসেনগুমির অভ্যন্তরের গুপ্তচর ধরায় তার জুড়ি মেলা ভার ছিল।সদস্যরা সকলেই তাকে সমঝে চলতো।ফলে অনেকে তাকেই স্পাই মনে করতো।সাইটোর অন্যান্য সংস্হার ইন্টিলিজেন্স এবং গতিবিধির উপর নজর রাখাই ছিল তাদের সন্দেহের কারন।সাইটোর হাতে শিনসেনগুমির কতিপয় দুর্নীতিবাজ সদস্যের মৃত্যু তাকে আরোও বিতর্কিত করে তুলেছিল।
¤
সাইটোর তলোয়ারবাজির স্টাইলের নাম ছিল Mugai Ryu যার উৎপত্তি হয়েছিল তার পারিবারিক স্টাইল Yamaguchi Itto-ryu হতে।সাইটো প্রচুর sake পান করতেন এবং পানরত অবস্থায় অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির কাছে তিনি তার পূর্বকথা বলতেন।সাইটো তার কোন স্মৃতিকথাই লিখে রাখতেন না।
¤
এনিমেতে সাইটো যে গাটুটসু টেকনিকের ব্যবহার করতেন সেটা তার আসল তলোয়ারবিদ্যার সাথে মিল থাকলেও পুরোপুরি কল্পিত।’Aku Soku Zan’ অর্থ্যাৎ “Slay Evil Immediatly” নামক যে নীতিতে তিনি বিশ্বাস করতেন তা কাল্পনিক হলেও বাকুমাতসুর সময়ের শিনসেনগুমির এক সাধারন চিন্তাভাবনাই ছিল।কেনশিন ব্যতিত আরো কিছু শিল্পমাধ্যমেও সাইটোর উপস্হিতি আছে।
¤
অতিরিক্ত সাকে পান করার কারণেই স্টমাক আলসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯১৫ সালে ৭২ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।মৃত্যুর সময়ও তিনি সেইজা অবস্হাতেই বসে ছিলেন।
¤
source:wikipediaB-)

লার্নিং কানজি উইথ বাকারিন সামা – ৩২তম পাঠ

আজকের কানজি “bright”এর কানজি …. উচ্চারণ “আকারুই/আকেরু/মেই”

Mei 2

১মে এই কানজি টা কিভাবে আসছে সেটা বলি..অনেক কানজি আছে বিভিন্ন কানজির সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়..যারা কানজির লেসন ফলো করছে নিয়মিত তাদের চাঁদ আর সূর্যের কানজি মনে থাকার কথা..সূর্য আর চাঁদ এই ২ টা কানজি একসাথে লিখলে এই কানজি টা হয়..সূর্য আর চাঁদ ২ টাই আলো দেয়.. সেই থেকে bright এর কানজি এসছে..

 

Mei 1

এমনিতে “আকারুই” মানে bright…অনেক ক্ষেত্রে light ও বুঝায়..
“আকারুই” মানে cheerful ও হয় .. “আকারুই হিতো”-cheerful person..
“আকেরু” মানে “ভোর হওয়া”… “মেইহাকু”-obvious..

sun আর moon এর কানজি লিখতে শিখলে এটা লিখাও কোন ব্যপার না, মাতা নে 🙂

”জাপানিজ শিখুন,জীবন গড়ে তুলুন” – ৫৬ তম পার্ট By অরিন শারমিন

জাপানিজ শিক্ষাকার্যক্রমের ৫৬ তম লেসন

আজকের লেসনে থাকছে “জাপানিজদের নাম” নিয়ে আলোচনা…

জাপানিজদের নামের মধ্যে বিভিন্ন কানজির সমাহার থাকে..এক কানজির সাথে আরেক কানজির কম্বিনেশনে একটা নাম হল তো অন্য আরেক কানজির সাথে কম্বিনেশনে নতুন আরেকটা নাম হল..কম্বিনেশন চেঞ্জ করে বিভিন্ন নাম বানান যায়..এসব নামের মিনিং যদি লিটারেলি করা যায় তাইলে শুনতে মজাই লাগে..জাপানিজদের কিছু সারনেম এবং তাদের নামের কানজি ও মিনিং নিয়ে আজকে কিছু আলোচনা করব..

১মে কিছু নাম বলি ইয়ামামোতো,ইয়ামাদা,ইয়ামাশিতা,ইয়ামাকাওয়া,কানেদা,তসুচিদা,তানাকা,কিমুরা,তাকেদা,কানেকো,তাকেশিতা…

ইয়ামামোতো…এই নামের মধ্যে আছে ২ টা কানজি …পাহাড়ের কানজি আর বই এর কানজি…পাহাড় আর বই একসাথে মিলে হয়ে গেল ইয়ামামোতো..

ইয়ামাদা…এর মধ্যে আছে পাহাড় আর মাঠের কানজি…পাহাড় আর মাঠ একসাথে মিলে হল ইয়ামাদা..

ইয়ামাশিতা…পাহাড়ের নিচে…পাহাড় আর down এর কানজি একসাথে মিলে হয় ইয়ামাশিতা…

ইয়ামাকাওয়া..এখানে আছে পাহাড় আর নদীর কানজি…পাহাড়,নদী একসাথে মিলে হল ইয়ামাকাওয়া…

নাম দেখে বুঝা যাচ্ছে পাহাড় দিয়ে জাপানে মানুষের নামের অভাব নাই…

কানেদা..এর মিনিং করলে kind of সোনার মাঠ হয়ে যায়..এর মধ্যে আছে সোনা আর মাঠের কানজি ..

তসুচিদা..মাটির কানজি আর মাঠের কানজি একসাথে মিলের হয় তসুচিদা…মাটির মাঠ ..

তানাকা…এর মিনিং করলে হয় মাঠের মধ্যে…মাঠের কানজি আর inside এর কানজি একসাথে বসে হয় তানাকা…

কিমুরা..গাছের গ্রাম..গাছের কানজি আর গ্রামের কানজি মিলে হল কিমুরা…

তাকেদা…বাঁশের মাঠ…বাঁশের কানজি আর মাঠের কানজি একসাথে মিলে হল তাকেদা..

কানেকো…সোনার বাচ্চা…সোনার কানজি আর কোদোমোর কানজি একসাথে মিলে হয় কানেকো…

তাকেশিতা..বাঁশের নিচে…বাঁশের কানজি আর down এর কানজি মিলে হয় তাকেশিতা…

আজকে অনেকগুলা নামই তো শিখালাম…নেক্সট দিন আরো কিছু নাম নিয়ে হাজির হব নে …(কতদিন পর যে আসব গ্যারান্টি নাই 😛 )..মাতা নে 🙂

Behind the Voices – 16

 

এগুচি তাকুয়া

এগুচি তাকুয়া এমন একজন সেইয়ূ যার রোল প্রায় সিংহভাগ সেইয়ূদের তুলনায় কম তবে তার কিছু কিছু রোল আছে যা হয়তো অনেক আনিমে ফ্যানের কাছেই সবসময় এক্সেপশনাল লাগবে । তার কণ্ঠটা ঠিক সাধারণ ধাঁচের কিন্তু তার ভেতর রয়েছে একটা এক্সেপশনাল টান । প্রায় সব ধরণের রোল করেছেন, যা করেছেন ওর মাঝে । সাধারণত কিশোর বয়সী চরিত্রদেরই কণ্ঠ দিয়ে থাকেন তিনি ।

এগুচি তাকুয়ার ৩ টি রোল বেশ বহুলভাবে স্বীকৃত । এর মাঝে সবচেয়ে বেশি ভক্ত পেয়েছেন যে চরিত্রের জন্য তা হিকিগায়া হাচিমান । আনিমে জগতে এক্সেপশনাল চরিত্রগুলোর একজন তিনি এবং তার ভক্তও কম না, অনেকেই অনেকভাবে তাকে অনুসরণ করে । তবে যাই হোক, চরিত্রটির কথা বলার ধরণ বেশ আলাদা রকম এবং প্রত্যেক কথার সাথে ব্যবহৃত কণ্ঠটাও । এমন এক অসাধারণ এক রোলের জন্য তো প্রশংসারই প্রাপ্য তিনি । হিকিগায়ার পর তার আরেকটি এক্সেপশনাল রোল যাকে বলা হয়ে থাকে সে ওরে মোনোগাতারির গৌদা তাকেয়ো । আনিমেটি আমার দেখা নেই তাই জানি না পুরা সিরিজ যুরে কেমন করেছে তবে তার কম্পাইলেশন রোল্স এর এক ভিডিওতে যা দেখেছিলাম ওখানে বাকি রোলগুলার কণ্ঠ অভিনয়ের তুলনায় আসলেই আলাদা রকমের ছিল এই চরিত্রটি । আর বাকি রোলটি হল গসিকের কুজৌ, আনিমেটার বেশ সুনাম আছে তো বটেই এর সাথে ভিকটোরিকার মত এক চরিত্রের জন্য সঠিক এক মেইন লিড দরকার ছিল তা নিঃসন্দেহে কুজৌ এবং এই রোলটির এক নির্ভুল কণ্ঠ দিয়ে এভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য এগুচি তাকুয়ার কৃতিত্ব তো আছেই । কুরোকো নো বাস্কেটে কণ্ঠ দেওয়া তার কোগানেই শিন্জি চরিত্রটাও বেশ পরিচিত সবার কাছে, কিন্তু কণ্ঠের চেয়ে এখানে তার চেহারার সফলতাই বেশি :3 ।

Eguchi Takuya 1

 

তার করা প্রধান চরিত্রের রোল যেগুলা দেখেছি সবই মোটামোটি ভালো লেগেছে । এদের মাঝে সবচেয়ে প্রিয় রোলটা হল Gosick-এর কুজৌ কাযুয়া, তার করা সবচেয়ে প্রিয় রোলটাও এটি । এর ‘ভিক্টোরিকাআআআআআ’ ডাকটা শুনতেই অনেক ভাল্লাগতো । এছাড়া Oda Nobuna no Yabou-এর সাগারা, Inu x Boku SS-এর ওয়াতানুকি, Campione-এর ডনি সালভাটোরে, Kuroko no Basket-এর কোগানেই শিন্জি এই রোলগুলো বেশ প্রিয় সাথে Oregairu-এর হিকিগায়া হাচিমান তো আছেই ।

তার গাওয়া Inu x Boku-তে ওয়াতানুকির এন্ডিংটা আমার বেশ প্রিয় । Ixion Saga-এর ওপেনিং এবং Prince of Stride, Rainbow Days, Devils and Realists এই ৩ টা আনিমের এন্ডিংয়ে তার কণ্ঠ আছে । এছাড়া কিমুরা রিয়োহেই এবং সুবাসা ইয়োনাগার সাথে মিলে তাদের এক মিউজিক গ্রুপও আছে যার নাম ‘Trignal’ ।

তার জন্ম ২২ মার্চ, ১৯৮৭ । তার উচ্চতাও সাধারণ জাপানিদের তুলনায় বেশ লম্বা ( ৬ ফিট ১ ) । তার কণ্ঠ অভিনয় বরাবরই ভালো লাগে, সামনে আরো রোল পাবো তার তা অবশ্যই কামনা করি ।

Eguchi Takuya 2

 

উচিদা মায়া

উচিদা মায়া সুধু একজন কণ্ঠ অভিনেত্রীই নয় এর পাশাপাশি একজন অভিনেত্রী, গায়িকা, মডেল এবং গ্র্যাভিয়ুর মডেল । সে গত বছরে সবচেয়ে বেশি রোল করার ক্রেডিট কিন্তু তার, যদি এই সিজনে রোল মাত্র ২টা । সাধারণত অত আলাদা রকম টান নেই তার গলায়, বেশ সাধারণ কণ্ঠেই প্রায় সব ধরনের চরিত্রগুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরেন তার রোলগুলি ।
২০১০ সালে তিনি কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে তার প্রবেশ, তার হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন (২০০৯) এর পরপরই । ২০১২ সালে সাঙ্কারেয়া আনিমেটিতে মূল চরিত্র রেয়ার রোল করে তিনি প্রথম বারের মত খ্যাতি অর্জন করে । এবং তার পরপরই তাকানাশি রিক্কার রোল করে তার নাম উঠে যায় । এখন পর্যন্ত সেটা তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোল । ২০১৩ থেকে আস্তে আস্তে ভালো পরিমান রোল পেতে থাকেন তিনি এবং গত বছর এসে সেই বছরের সবচেয়ে বেশি রোল করেছে । তার বাকি জনপ্রিয় রোলগুলো হল ইকি হিয়োরি ( Noragami ), ইরিনা শিদৌ ( Highschool DXD ), ইচিনোসে হাজিমে ( Highschool DXD ), নিশিমোরি ইয়ুসা ( Charlotte ), ইয়োশিয়োকা ফুতাবা ( Ao Haru Ride ) এবং আলুকা যলডিক (Hunter x Hunter )।

Uchida Maaya 1

তার করা অনেক রোলই আমার বেশ পছন্দের । তার প্রিয় রোলগুলো হল Chuunibyou demo Koi ga Shitai-এর তাকানাশি রিক্কা, Highschool DXD-এর ইরিনা শিদৌ, Sankarea-এর রেয়া সাঙ্কা, Hunter x Hunter-এর আলুকা, Gate-এর কুরেবায়াশি শিনো, Noragami-এর হিয়োরি, Shokugeki no Souma-এর ইয়োশিনো ইয়ুকি এবং Gochuumon wa Usagi desu ka-এর শারো । এছাড়া Gatchaman Crowds-এর ইচিনোসে হাজিমে, Vividred Operation-এর কুরোকি রেই এবং Rail Wars-এর কৌমে হারুকা এই ৩টি রোলও ভালো ছিল ।

কণ্ঠ অভিনয়ের পাশাপাশি J-pop এর জগতেও অ্যাক্টিভ তিনি । এ পর্যন্ত ৩ টি সিঙ্গেল্স-এর পাশাপাশি রিলিজ করেছেন একটি অ্যালবাম । Akuma no Riddle, Ai Mai Mi, Ore Twin tails ni narimasu, IDOLM@STER Cinderella Girls (TV 2), Gochuumon wa Usagi Desu Ka, Robot Girls Z এই আনিমেগুলোর ওপেনিং এবং Chaos Dragon, Etotama, Gatchaman Crowds, Seiken Tsukai no World Break, Chuunibyou demo Koi ga Shitai! আনিমেগুলোর এন্ডিং, ব্যক্তিগতভাবে নাহলে কোন গ্রুপের সাথে গেয়েছেন । আরও কিছু আনিমেতে ইন্সার্ট সং তিনি গেয়েছেন । তার গাওয়া সৌশৌ ইনোসেন্স [ https://goo.gl/lpz5dj] এবং ইন্সাইড আইডেন্টিটি [https://goo.gl/tWe5Qn] ( তার পাশাপাশি উয়েসাকা সুমিরে, আকাসাকি চিনাৎসু এবং কুমিন সেনপাইয়ের সেইয়ূও ছিল ) এ দুটো গান আমার বেশ পছন্দের ।

তার জন্ম ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ । এত কিছুর পাশাপাশি তিনি কিন্তু একজন নারুটো ভক্ত । কণ্ঠ অভিনয় তার অসাধারণ এবং সামনের বছরগুলোতে যে মূলধারার কণ্ঠ অভিনেত্রিগুলোর একজন হবে তা খুব সহজেই বলা যায় ।

Uchida Maaya 2

Studio Monogatari: Episode 04

Tezuka Productions

Tezuka Logo.ai

১৯৬৮ সালে মুশি প্রোডাকশন ছেড়ে বের হয়ে এসে ওসামু তেজুকা প্রতিষ্ঠা করেন তেজুকা প্রোডাকশনস। মুশি প্রোডাকশন ছেড়ে দিয়ে তেজুকা প্রোডাকশন তৈরির কারণ কিন্তু এই না যে সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, বরং তেজুকা নিজের মত করে কাজ করবার জন্যে মুশি প্রোডাকশনের একটি স্পিন-অফ প্রতিষ্ঠান হিসাবে তেজুকা প্রোডাকশন প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুর দিকে স্টুডিওটি মুশি প্রোডাকশনের বিভিন্ন অ্যানিমেশন কাজের সাবকন্ট্রাক্ট নিয়ে কাজ করতো। ১৯৭৩ সালে মুশি প্রোডাকশন দেউলিয়া হয়ে যাবার পর তেজুকা প্রোডাকশনের পূর্ণ উদ্যোমে ব্যবসা শুরু করে এবং মুশি প্রোডাকশনের আনিমে ও মাঙ্গার কপিরাইট নিয়ে নেয়।

তেজুকা প্রোডাকশনের একদম প্রথম দিকের নিজস্ব কাজের মধ্যে অন্যতম হল Fushigi na Merumo (Marvelous Melmo), যা সেই সময়ের অন্যতম বিতর্কিত টিভি সিরিজ ছিল। আনিমেতে “panchira” জিনিসটি নিয়ে আনার পিছনে যেসব আনিমের অবদান রয়েছে তার মধ্যে একদম শুরুর দিকে ছিল এই সিরিজটি, একই সাথে বাচ্চাদের উদ্দেশ্য করে বানানো হলেও ওসামু তেজুকার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল সিরিজটিকে শিশুদের জন্যে introductory sex education হিসেবে নিয়ে আনা। বলার অপেক্ষা রাখে না সেই সময়ে সিরিজটি নিয়ে বাবা-মাদের মধ্যে অনেক ঝড় তুলে।

মুশি প্রোডাকশন অ্যাস্ট্রো বয় সিরিজটি নিয়ে আনলেও তাদের অ্যাস্ট্রো বয় মুভিটি নিয়ে ওসামু তেজুকা বেশ অসন্তুষ্ট ছিল, একারণে তেজুকা প্রোডাকশনের হয়ে ১৯৮০-১৯৮১ সালে নতুন করে আবার অ্যাস্ট্রো বয়-এর আনিমে নিয়ে আসে।

তেজুকা প্রোডাকশনের কিছু আনিমে-

  • ১৯৭০-১৯৮০: Marvelous Melmo, Jetter Mars
  • ১৯৮০-১৯৯০: Astro Boy, Aoi Blink, The New Adventures of Kimba the White Lion
  • ১৯৯০-২০০০: The Three-Eyed One, Oniisama e…, Black Jack OVA, Black Jack the Movie
  • ২০০০-২০১০: Astro Boy (2003-2004), Hi no Tori, Black Jack (TV)
  • ২০১০-বর্তমান: Sengoku Musou, Young Black Jack, The Life of Budori Gusuko, Kumi to Tulip

এছাড়াও Madhouse-এর সাথে যৌথভাবে Mokke, TMS Entertainment-এর সাথে Genji Monogatari Senneki এবং MAPPA এর সাথে Sakamichi no Apollon তৈরি করে তারা।

Tezuka Collage 3

 

 

Shin-Ei Animation (Shin-Ei Douga)

shinei

 

অনেক বেশি পর্বের কিছু আনিমের কথা কল্পনা করুন, যেগুলি অনেক অনেক বছর ধরে সব শ্রেণীর দর্শকের মন জয় করে আসছে… খুঁজে পেয়েছেন এমন কিছু সিরিজ?

 

ডোরেমন, নিঞ্জা হাতোরি, পারম্যান, হাগেমারু, আতাশিন’চি, ক্রেয়ন শিন-চান… আনিমে দর্শকদের একটা বড় অংশের ক্ষেত্রেই শৈশবকাল থেকে দেখে আসা এসব সিরিজ তৈরি করেছে যেই স্টুডিওটি তা হল শিন-এই দৌগা। ১৯৭৬ সালে তোয়েই অ্যানিমেশনের একজন প্রাক্তন অ্যানিমেটর, দাইকিচিরো কুসুবে শিন-এই দৌগা স্টুডিওটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই ১৯৭৯ থেকে ডোরেমন এবং ১৯৯২ থেকে ক্রেয়ন শিন-চান যে চলা শুরু করেছে তা এখনও থামার নাম নেই। ডোরেমনের তো সিরিজের পাশাপাশি মুভিও বের হয় অনেক। আর শুধু এগুলোই নয়, বরং একের পর এক শতাধিক পর্বের সব বয়সী দর্শকের উপযোগী আনিমে বানিয়ে আসা এবং একই সাথে সেগুলি খুব জনপ্রিয় করে তুলতে পারার ক্ষমতা আসলেই বিশেষ কিছু!

 

শিন-এই দৌগার কিছু জনপ্রিয় আনিমে-

  • ১৯৭০-১৯৯০: Doraemon, Kaibutsu-kun, Ninja Hattori-kun, Fukuchan, Perman, Obake no Q-taro, Hagemaru-kun
  • ১৯৯০-২০০০: Crayon Shin-chan, Dororonpa!, Manmaru the Ninja Penguin, 21 Emon
  • ২০০০-বর্তমান: Atashin’chi, Ninja Hattori-kun (2004-2008), Ninja Hattori-kun (2013-বর্তমান), Tonari no Seki-kun, Denkigai no Honya-san, Kaitou Joker
  • মুভি: Summer Days with Coo, Crayon Shin-chan-এর ২৫টার মত মুভি এবং Doraemon-এর ২০-২৫টা মুভি

 

 

আর কিছু হোক না হোক, অনেকের শৈশবকাল গড়ে তুলার পিছনে শিন-এই দৌগার ভূমিকা কোনভাবেই অগ্রাহ্য করা যায় না। শিন-এই দৌগার তৈরিকৃত আনিমেগুলি দেখলে বুঝা যায় বাচ্চাদের টার্গেট করে তৈরি সিরিজই তাদের কাজের প্রধান অংশ। যদিও এসব সিরিজ এমনই যে বড়রাও তা উপভোগ করতে পারে [যেমন টম-এন্ড-জেরি, লুনি টুন্স সব বয়সী দর্শকদের জন্যেই, এগুলিও তেমনই]।

Shin-Ei Collage 3