আজকের কানজি “বই” এর কানজি … উচ্চারণ “হোন/ মোতো” .. বই ছাড়াও এটার আরো মিনিং আছে ” root,origin,main ” …
“হোন” মানে “বই” …
“নিহোন” মানে জাপান… এখানে “সূর্য” ও “বই” এর কানজি পাশাপাশি বসে.. জাপানকে যেহেতু সূর্যোদয়ের দেশ বলা হয় … সূর্যের উৎপত্তি (origin of sun) .. এখান থেকে জাপানের কানজি আসছে ..
“হোন তেন” মানে “main office”
“এ হোন” মানে “picture book”
“ইয়ামামোতো” নামে অনেক মানুষের নাম হয় জাপানে .. এখানে “পাহাড়” আর “বই” এর কানজি ইউজ করা হয় ..পাহাড়ের অরিজিন/পাহাড়ের বই …
এগুলা ছাড়াও long slender objects count করার জন্য counter হিসেবেও ইউজ হয় “হোন”..তখন “হোন” ছাড়াও “বোন”..”পোন” এসব উচ্চারণও হয়… long slender objects বলতে কলা,কলম এই আকারের বস্তু বুঝায়.. এর কিছু উদাহরণ দেই.. যেমনঃ
বানানা নি হোন – কলা ২ টা .. পেন ইপ্পোন-কলম ১ টা..
“বানানা তো পেন নান বোন দেসু কা? – কলা এবং কলম কয়টা লাগবে?
বানান সান বোন তো পেন গো হোন- কলা ৩ টা এবং কলম ৫ টা”
ইপ্পোন- ১টা, নি হোন-২টা, সান বোন-৩টা,ইয়োন হোন-৪ টা, গো হোন – ৫ টা , রোপ্পোন- ৬ টা , নানা হোন- ৭ টা, হাপ্পোন- ৮ টা , কিউ হোন-৯টা, জুপ্পোন- ১০ টা.. নান বোন? – কয়টা?
(কাউন্টারের লেসনে পড়ান হইছিল একবার)
কানজি টা মনে রাখাও সোজা… গাছ কাইটা দিলে বই এর কানজি হয়.. আজকে এ পর্যন্তই..মাতা নে 🙂
আজকের পর্বে থাকছে এমন এক স্টুডিও নিয়ে গল্প, যা আনিমের একদম প্রথম দিক থেকে শুরু করে বর্তমান যুগেও দাপটের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আজ থাকছে তোয়েই অ্যানিমেশনের গল্প।
Toei Animation
১৯৪৮ সালে প্রথম যখন স্টুডিওটি প্রতিষ্ঠিত হয় তখন এর নাম ছিল Japan Animated Films (Nihon Douga Eiga, সংক্ষেপে Nichidou Eiga)। ১৯৫৬ সালে Toei Company Ltd. এটি কিনে নেবার পর নাম হয়ে যায় Toei Douga, তবে তখনও ইংরেজি নাম ছিল Toei Animation Co. Ltd., ১৯৯৮ সাল থেকে পুরাপুরিভাবে স্টুডিওটির নাম পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান নামের রূপ নেয়। ১৯৫৬ সালে তোয়েই দৌগা নামে যাত্রা শুরু পর সে সময়ে অনেক নামীদামী ও গুণী ব্যক্তি এখানে কাজ করে। Osamu Tezuka, Hayao Miyazaki, Isao Takahata, Yoichi Kotabe, Leiji Matsumoto, Yasuo Otsuka-এর মত নামকরা ব্যক্তিদের কর্মজীবনের শুরুর দিকটা কাটিয়েছিল তোয়েই দৌগায়। তোয়েই অ্যানিমেশনের ম্যাস্কট হিসাবে যেই বিড়ালটা দেখা যায় তার নাম Pero, তোয়েই-এর এক আনিমে ফিল্ম Puss in Boots (1969)-এর এই বিড়াল চরিত্রটিই তাদের ম্যাস্কট হিসাবে ব্যবহৃত হয়। আনিমে দেখার জন্যে দর্শকদের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল Animax-এর শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অন্যতম বড় নাম তোয়েই অ্যানিমেশন [সাথে আরও রয়েছে Sunrise, TMS Entertainment, Sony, Nihon Ad Systems]। আনিমে ইন্ডাস্ট্রিকে আসলে তোয়েই অ্যানিমেশনে কাছে ঋণী হয়ে থাকতে হবে আজীবন, কারণ বিশালাকার মেকা, স্পেস অপেরা, শৌনেন, ম্যাজিকাল গার্ল-এর যে বর্তমান ধারণা সেটাকে জনপ্রিয় করার জন্যে তোয়েই অ্যানিমেশনই সবচেয়ে বড় দাবীদার।
তোয়েই অ্যানিমেশনের উপহার দেওয়া কিছু “প্রথম”:
The Tale of the White Serpent: প্রথম রঙিন আনিমে মুভিই শুধু নয়, এটি একইসাথে ছিল প্রথম রঙিন আনিমে। আমেরিকাতে প্রথম ৩টি আনিমে ফিল্ম হিসাবে যেগুলি মুক্তি পায় তার মধ্যে অন্যতম এই মুভিটি।
Mazinger Z: মাজিঙ্গার যি-কে প্রথম সফল মেকা আনিমে হিসাবে ধরা হয়। এর আগেও মেকা আনিমে ছিল, কিন্তু ১৯৭২ সালে শুরু হওয়া এই সিরিজই প্রথম মেকা জনরাকে জনপ্রিয় করে তুলে।
এবার আসি তোয়েই অ্যানিমেশন সবচেয়ে জনপ্রিয় যেসব কাজের জন্যে দর্শকদের কাছে পরিচিত সেই প্রসঙ্গে। এক দৃষ্টিতে নিচের নামগুলি পড়ে যেতে থাকুন, তাহলেই বুঝবেন দর্শক মহলে জনপ্রিয় হবার কারণ হিসাবে তোয়েই অ্যানিমেশনের সবচেয়ে বড় শক্তি কোথায়:
Dragon Ball
Dragon Ball Z
Sailor Moon
Kinnikuman (Muscleman)
Transformers
Pretty Cure
Saint Seiya
One Piece
Yu-Gi-Oh!
Digimon
Toriko
World Trigger
নামগুলি দেখে এতক্ষণে হয়তো জেনে গিয়েছেন আসল কাহিনী। সব ক্যাশকাউ ফ্র্যাঞ্চাইজির বেশিরভাগই তোয়েইয়ের দখলে। উপরের সবগুলি নাম সমান জনপ্রিয় না হলেও একটা দিক থেকে ভাল মিল আছে এদের মধ্যে – সবগুলি সিরিজই অনেকগুলি পর্বের এবং এদের অনেকগুলিই একাধিক সিজনে বিভক্ত যার প্রত্যেকটিতেই রয়েছে ৫০ থেকে ১০০ করে পর্ব। লম্বা সময় ধরে এয়ার হয়ে গিয়েছে বা এয়ার হচ্ছে এগুলি, এবং দর্শক জনপ্রিয়তা না পেলে সেটা ঠিকমত সম্ভব হতও না।
তবে শুধু এগুলিই তোয়েই অ্যানিমেশনের সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজ ভাবলে ভুল করবেন। দেখে নিন গত প্রায় ৫৫ বছরের সময়কালে তোয়েইয়ের রেখে যাওয়া জনপ্রিয় কিছু কাজ:
১৯৬০ এর দশক: এই সময়টাতে তাদের বেশিরভাগ কাজই ছিল ডিজনি ধাঁচের বা ডিজনি অনুপ্রাণিত, শুধু কাহিনীর পটভূমি ছিল ট্রেডিশনাল জাপানিজ কালচার: Arabian Nights: Sinbad no Bouken, Samurai Kid, Space Patrol Hopper, Rainbow Sentai Robin, Cyborg 009, Mahou Tsukai Sally, GeGeGe no Kitaro series, Akane-chan, Himitsu no Akko-chan, Tiger Mask
১৯৭০ এর দশক: Kick no Oni, Mahou no Mako-chan, Sarutobi Ecchan, Devilman, Mazinger Z, Cutie Honey series, Getter Robo series, Candy Candy, Space Pirate Captain Harlock, Galaxy Express 999, Dangard Ace, Jetter Mars, The Guardian of Space
১৯৮০ এর দশক: Mahou Shoujo Lalabel, Ganbare Genki, Dr. Slump, Galactic Whirlwind Braiger, Asari-chan, Patalliro!, Ai Shite Knight, Kinnikuman, Stop!! Hibari-kun!, Hokuto no Ken (Fist of the North Star), Dragon Ball, Dragon Ball Z, Ginga Nagareboshi Gin, Saint Seiya, Bikkuriman series, Transformer series, Sakigake!! Otokojuku
১৯৯০ এর দশক: Sailor Moon series, Marmalade Boy, Dragon Ball GT, Aoki Densetsu, Kindaichi Shounen no Jikenbo, Slam Dunk, Yu-Gi-Oh!, Phantom Thief Jeanne, Ojamajo Doremi series, One Piece, Digimon series
২০০০ এর দশক: Kanon (কিয়োঅ্যানির আগে ২০০২ সালে তোয়েই কানোনের একটি আনিমে অ্যাডাপশন নিয়ে আসে), Air Master, Nadja of Tomorrow, Bobobo-bo Bo-bobo, Pretty Cure series, Air Gear, Lovely Complex, Ayakashi: Samurai Horror Tales, Mononoke, Demashita! Powerpuff Girls Z
২০১০ ও এর পরবর্তী সময়: Toriko, Kyousou Giga, Marvel Disk Wars: The Avengers, Majin Bone, World Trigger
মুভি: The Tale of the White Serpent, Magic Boy, Alakazam the Great, Arabian Nights: The Adventures of Sinbad, The Little Prince and the Eight-Headed Dragon, Gulliver’s Travels Beyond the Moon, The Puss in the Boots trilogy, Himitsu no Akko-chan, 30000 Miles Under the Sea, Flying Phantom Ship, Ali Baba and the Forty Thieves, Interstella 5555, এবং তাদের প্রায় সব বড় ফ্র্যাঞ্চাইজগুলির প্রত্যেকটির একগাদা মুভি।
তোয়েই অ্যানিমেশন অনেকগুলি ওয়েস্টার্ন অ্যানিমেশন ও কার্টুন সিরিজ নির্মাণে সহযোগিতা করে, যেমন: The Smokey the Bear Show (1969), Spider-Man (1981), The Pink Panther (1981), The Wizard of Oz (1981), G.I. Joe: A Real American Hero (1983–1986), Inspector Gadget (1983), Dungeons and Dragons (1983–1985), My Little Pony (specials) (1984–1985), The Transformers (1984–1987), Defenders of the Earth (1986–1987), The Smurfs (1987–1988), Dennis the Menace (1988), Superman (1988) ইত্যাদি। তাছাড়া তোয়েই অ্যানিমেশনের নিজস্ব ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির গেমসহ বেশ কিছু গেমের অ্যানিমেশনেও কাজ করেছে। এসব গেমের মধ্যে রয়েছে One Piece-এর গেমগুলি, Dragon Ball-এর গেমগুলি, Sailor Moon-এর গেম, Chrono Trigger, Ninja Hayate, Cobra Command ইত্যাদি।
তোয়েই আনিমেশনের কাজের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
ক্যাশকাউ ফ্র্যাঞ্চাইজ: One Piece, Sailor Moon, Dragon Ball, Transformers, Digimon, Pretty Cure ইত্যাদি জনপ্রিয় সব ফ্র্যাঞ্চাইজি তোয়েইয়ের জন্যে আর্থিক দিক থেকে বেশ লাভজনক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। একারণে সিরিজ শেষ হয়ে গেলেও আমরা সেইলর মুনের রিব্যুট পেলাম গতবছর, সামনে এর আরও অনেক সিকোয়েল আসবে; ড্রাগন বল জি পুরাটা নতুন করে ড্রাগন বল কাই আকারে বের করা হয়েছে এবং এখন চলছে ড্রাগন বল সুপার; অনেক বছর চোখের আড়ালে থেকে আবার জেগে উঠলো ডিজিমন ফ্যাঞ্চাইজ; আর ওয়ান পিস তো সামনের আরও ১০-১৫ বছর আরামসে চলবে, সাথে প্রায় প্রতি এক-দুই বছরের মধ্যে এর একটি করে মুভিও রিলিজ হয়ে থাকে।
অ্যানিমেশন কোয়ালিটির পতন: Dragon Ball, One Piece, World Trigger, Sailor Moon – প্রায় সব বড় বড় সিরিজগুলিতে অ্যানিমেশন কোয়ালিটির অবনমন চোখে পরার মত। এর কারণও অবশ্য সিরিজগুলির পর্বের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। শত-শত পর্বের একেকটা সিরিজ বলে এগুলির প্রতি পর্বের পিছে বাজেটের পরিমাণও আর দশটা স্বাভাবিক আনিমের চাইতে কম থাকে।
লং রানিং আনিমে: অন্যান্য স্টুডিওগুলি যেখানে দুই কোরের বড় আনিমে সিরিজ করার কথা ভাবেই না সাধারণত, কপাল ভাল থাকলে নতুন সিজন পাওয়া যায় কোন আনিমের, সেখানে তোয়েই অ্যানিমেশন দোর্দন্ড প্রতাপে এখনও শতাধিক পর্বের একেকটি সিরিজ নিয়ে আসছে। World Trigger এখন ৭৩ পর্বে শেষ হয়ে গেলেও কিছুদিন পরেই হয়তো সিকোয়েলের ঘোষণা আসবে। ড্রাগন বল সুপার তো ১০০ পর্বের সিরিজ হবে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ওয়ানপিস তো আর কয়েক বছর পরেই হাজার পর্বের ক্লাবে পা রাখবে।
লাইসেন্সে অনাগ্রহ: বেশ অনেক বছর থেকেই তোয়েই অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় নিজেদের সিরিজগুলির বাইরের দেশে লাইসেন্স দেওয়াতে অনীহার ব্যাপারটা। Sailor Moon-এর ক্ষেত্রে প্রায় বিশ্বের অনেক দেশেই লাইসেন্স দেবার পর দেখা যায় লংকাকান্ড। একেক দেশে একেকধরণের ট্রান্সলেশন কোয়ালিটি, সেন্সরিং, ভুল ট্রান্সলেশন, ইচ্ছামত এডিটিং ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের কারণে লাইসেন্সিং-এর উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলে তোয়েই অ্যানিমেশন। আবার One Piece-এর 4kids ডাবিং ও এডিটিং ভয়াবহ অবস্থায় রূপ নেয়। এই নতুন এডিটিং করার পর দেখা যায় তলোয়ার মানুষকে কাটে না, সিগারেটের জায়গায় চরিত্ররা ললিপপ “ফুঁকে”! মদ জাতীয় পানীয়র জায়গায় জ্যুস, পিস্তলের জায়গায় হাতুড়ি, এমনকি কোন চরিত্রের মৃত্যুর ব্যাপারটা পরিবর্তিত করে দেখানো হয় তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। বাচ্চাদের মনে আঘাত যেন না দেয় এই অজুহাতে এরকম এডিটিং করার ব্যাপারটা অনেক সমালোচিত হয়। এসব বিভিন্ন কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তোয়েই অ্যানিমেশন বাইরের দেশে নিজেদের শো-গুলি লাইসেন্সিং-এর ব্যাপারে তেমন বেশি আগ্রহ দেখায় না।
স্পেস অপেরা: তোয়েই আনিমেশের প্রস্তুত করা আনিমে সিরিজের অনেকগুলি স্পেস অপেরা: Space Pirate Captain Harlock, Galaxy Express 999 ও এর মুভিগুলি, Space Patrol Hopper, Captain Future, Space Emperor God Sigma ইত্যাদি।
মেকা আনিমেপ্রীতি: মেকা জনরার আনিমে তৈরিতে তোয়েই অ্যানিমেশনের আগ্রহ চোখে পরার মত: Mazinger Z, Transformers, Getter Robo, Gaiking, Magne Robo Gakeen, RoboDz Kazagumo Hen, Space Emperor God Sigma, Robot Girls Z ইত্যাদি।
তোয়েই অ্যানিমেশন ছেড়ে দিয়ে এর বিভিন্ন প্রাক্তন স্টাফ-মেম্বাররা পরে যেসব আনিমে স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন:
Mushi Production: কন্ট্রাক্ট শেষ হয়ে যাবার পর ওসামু তেজুকা তোয়েই অ্যানিমেশন ছেড়ে চলে আসেন এবং ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মুশি প্রোডাকশন।
Studio Ghibli: ১৯৮৫ সালে তোয়েই-এর প্রাক্তন সদস্য হায়াও মিয়াজাকি ও ইসাও তাকাহাতা প্রতিষ্ঠা করেন স্টুডিও ঘিবলি।
তুলনামূলক খারাপ কোয়ালিটির অ্যানিমেশনের জন্যে তোয়েইয়ের কিছুটা বদনাম থাকলেও এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, অল্প বাজেট নিয়েও একের পর এক বিশালাকার এবং জনপ্রিয় আনিমে তৈরি করে যাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়, তাও আবার ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে, যেখানে কিনা অনেক জনপ্রিয় স্টুডিও হলেও বেশ কিছু স্টুডিও সময়ে সময়ে দেউলিয়া ঘোষিত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়!
Where do we come from?
What are we?
Where are we going?
২০৩৯ সাল…
প্রকৃতির বিরুপ পরিবরতন,বিশ্ব উষ্ণায়ন এর কারণে সমুদ্রের কর্তৃত্ব হারিয়েছে মানব্জাতি।দেশে দেশে সামুদ্রিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন,আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বন্ধ,পুরো পৃথিবী যেন কারাগারে বন্দী।আর তার কারণ নতুন এক পরাশক্তির উত্থান — “Fleet of Fog”
কারা এই “Fleet of Fog” ,কোথা থেকে এদের উতপত্তি,কেউ জানে না।কিন্ত এটুকু সবাই জানে মুক্তভ্রমণ হোক আর বাণিজ্য হোক,কোন নৌযান সমুদ্রে নামলে তাকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে এই ফ্লিটের জাহাজগুলো। “Admiralty Code” কোন এক সংবিধান অনুসরণ করে চলা এই বাহিনী পুরো পৃথিবীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে।কোনকিছুই “Across The Sea” হতে দেওয়া যাবে না ,হোক সেটা বাণিজ্য,যোগাযোগ বা অন্যকিছু……
এখন লিখছি এনিমে নিয়ে তাহলে এর নিশ্চয়ই কোন প্রোটাগনিস্ট থাকবে যে মানবজাতিকে ফ্লিট অফ ফগের হাত থেকে রক্ষা করার ব্রত নিয়েছে। আবেগের বাত্তি বা মশাল নিয়ে ফ্লিট অফ ফগদের বিনাশের জন্য লম্ফঝম্ফ করছে। না চরমপন্থা বা প্রতিশোধ ছাড়াও পরিবর্তনের তৃতীয় রাস্তা থাকে যা হল সহাবস্থান।ব্যাপারটা পরিষ্কার করার জন্য কোড গিয়াসের রেফারেন্স আনা যেতে পারে।কোড গিয়াসে লেলুশ ছিল চিরায়ত চরমপন্থার প্রতীক,যদিও পরবর্তীতে তার পরিবর্তন হয়েছে।আর সুজাকু কুরুরুগি ছিল উল্লিখিত তৃতীয় রাস্তার অনুসারী। এখন অনেকেই বলবেন সুজাকুর মত মেইন ক্যারেক্টার হলে তো এই এনিমে দেখবোই না।ব্যাপারটা খোলাসা করি,সুজাকু মোটেই একটা পছন্দসই ক্যারেক্টার নয়,আর আমাদের গল্পের নায়ক “চিহায়া গুনজৌ” মোটেই সেরকম নয়।সে তৃতীয় রাস্তায় বিশ্বাসী হলেও দেখে দেখে মার খাওয়া বা সমঝোতার অবকাশ না থাকলেও ব্যর্থ চেষ্টা করে না…
চিহায়া গুনজৌ,একদিন তার ক্লাসরুমে এসে একটি মেয়ে তার খোঁজ করতে থাকে।নাম তার ইওনা,চোখদুটো বড় বড়,তাতে যেন কি একটা নেই,দেখতে মানুষ অপেক্ষা রোবটের মতই লাগে বেশি।আর চিহায়ার মুখোমুখি হওয়ার পর তার কথাগুলো ছিল এরকম – “চিহায়া গুনজৌর খোঁজে এসেছি।তার আদেশ মেনে চলাই আমার লক্ষ্য”
মুশকিল তো,কোত্থেকে এক মেয়ে এসে আপনার স্ত্রীর মত কথা বলে যাচ্ছে— স্বাভাবিকভাবেই বিব্রতকর অবস্থায় পরে যায় চিহায়া। পরে ঐদিন রাতেই চিহায়ার সাথে ইওনার দেখা হয় ডকইয়ার্ডে। সেখানেই নাটকীয়ভাবে জানতে পারে সে ইওনার পরিচয়,ইওনা মানবী নয়,সাবমেরিন I401 এর মেন্টাল মডেল…
তারপরেরটুকু এনিমেটা দেখে ফেললেই বোঝা যাবে। পুরো এনিমেতে ইওনা ছাড়াও আরও দুটো সাবমেরিন এবং বেশ কয়েকটি ব্যাটলশিপ আর হেভি ক্রুইজার দেখা যাবে।এনিমেটির অধিকাংশ সময়টুকুই সমুদ্রে যুদ্ধগুলো নিয়ে।ইওনা ও চিহায়া ছাড়াও ফগের নিজস্ব শিপগুলোর মাঝেও বিধ্বংসী যুদ্ধ দেখা গেছে। আশ্চর্য!! ফগরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়াবে কেন? এই কেন’র উত্তর এনিমেটা দেখলেই পেয়ে যাবেন……
তবে কঙ্গো ছাড়া বাকি শিপগুলোর স্ট্রাকচার,আক্রমণের প্যাটার্ন একইরকম লেগেছে,বোমা বের হওয়া,সুপারগ্রাভিটি ক্যানন ফায়ার করার সময়ের সাউন্ড—কোনটায় পার্থক্য নেই।আর I401 ছাড়া অন্যান্য শিপগুলোর ইন্টেরিয়র এবং ফাংশনাল সিস্টেমের খুটিনাটি কিছুই দেখায়নি……
ভয়েস এক্টিং মনে ধরেছে মাকো সাকুরাই এর…
হেভি ক্রুইজার মায়ার “কার্নিভ্যাল দায়ো” তো অন্য লেভেলের কিউটনেস।পুরো এনিমেটায় মায়ার সংলাপ এলেই বেশ কয়েকবার রিপিট করে শুনতাম।আর মাকো সাকুরাই নাতসু ড্রাগনিলের শৈশবকালের কন্ঠ দিয়েছেন।BON BON BLANCO ব্যান্ডের একজন সদস্য তিনি,এই ব্যান্ডই ওয়ান পিসের ওপেনিং “BON VOYAGE” এর আর্টিস্ট।
যারা মিলিটারি সাইন্স,যুদ্ধাস্ত্র ইত্যাদি সম্পর্কে আইডিয়া রাখেন,তাদের কাছে Ars Nova বেশ কম রেটিং পাবে,কারণ কিছু কিছু ঘটনা বেশ Illogical আরস নোভার, উদাহরণস্বরূপ – কঙ্গোর পানির তলদেশে গিয়ে সুপারগ্র্যাভিটি ক্যানন ফায়ার করা…
আর এনিমের অন্যতম বিশেষত্ব হল ইওনা (I401) র শক্তি ও সমরাস্ত্রে পিছিয়ে থেকেও কেবল স্ট্রাটেজি ও রণকৌশলের বদৌলতে ফগের শিপদের বিরুদ্ধে কঠিন যুদ্ধ করা…
OST খুব বেশি অরডিনারি,তবে খারাপ বা বেমানান নয়। আর ওপেনিং টা বেশ ভালো,SAVIOR OF SONG নামের এই গানটি শুনে ফেলুন ……
Aoki Hagane no Arpeggio Ars- Nova
১২ এপিসোড
জনরা – একশন,মিলিটারি,সেইনেন
MAL রেটিং – ৭.৫৮
ব্যক্তিগত রেটিং – ৭.৪৫
অনেকেই কুরকোকে সুপার নেচারাল এনিমে বলে। আমি শুধুমাত্র স্পয়লারের জন্য কিছু বলতে চাই না। আসলে কুরকো কোন সুপার নেচারাল এনিমের ধারে কাছেও না তার ব্যাখ্যা দিব। কিভাবে দিব? যেইগুলাকে সুপার ন্যাচারাল মমেন্ট ধরা হয় ঐগুলা আসলে কি সেটা বুঝাব। কারন উনাদের বুঝার ক্ষমতা নাই দেখার পরেও।
কুরকো নো বাসুকেতে যেসব আবিলিটি ব্যবহার করা হয় সেগুলো হল মিসডিরেকসন, ফেন্টম সর্ট,ভানিশিং ড্রাইব,মিসডিরেকসন ওভারফ্লো, জোন ,ট্রু জোন, এম্পেরর আই,এঙ্কেল ব্রেক,পারফেক্ট কপি । পুরো সিরিজ জুড়ে এগুলোর ব্যবহার আমরা আস্তে আস্তে দেখতে পাই।
মিসডিরেকসনঃ নাম শুনেই বুঝার কথা এটা কি? মিসডিরেকসন হল মানুষের এটেনসনকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা মূলত আপনার চোখকে ধোঁকা দেওয়াটাই এর মূল কাজ। ম্যাজেসিয়ান ম্যাজিক সফল করার জন্য এই টেকনিক ইউস করে। কুরোকো মানুষদের অব্জার্ব করে এবং তার weak presence তার মিসডিরেকসনকে সফল করে তোলে।
মিসডিরেকসন ওভারফফ্লোঃ যখন মিসডিরেকসনের কার্জকারিতা শেষ হয়ে যায় তখন শুরু হয় মিসডিরেকসন ওভারফফ্লো। মিসডিরেকসন ওভারফফ্লো আসলে মিসডিরেকসনের মতই কিন্তু একটু ভিন্ন।শুধু মিসডিরেকসনে কুরকো নিজেকে অন্যদের কাছ থেকে আড়ালে রাখত কিন্তু এবার নিজের প্রেজেন্সকে ঠিক রেখে তার নিজের টিম মেটদের আড়ালে রাখা। এটা করা সম্ভব কুরকো করতে পারে কারন কুরকো তার সারাজীবন মিসডিরেকসন ব্যবহার করে এসেছে। এখানে ঘটনাটা হল সব আটেন্সন কুরকো কেড়ে নিচ্ছে এতে যা ফলাফল পাওয়া যায় সেটা অসাধারণ। হ্যাঁ, মিসডিরেকসন ওভারফফ্লো। এটাই মিসডিরেকসনের আসল শক্তি এটেন্সন কেড়ে নেওয়া বা দূরে সরিয়ে দেওয়া।
জোন এবং ট্রু জোনঃ সবার প্রশ্ন এটাই “জোন”। আসলে জোন হচ্ছে মানুষের ব্রেনের চরম পর্যায়ে ফোকাস। কুরকো নো বাসুকেতে জোন তখনি ব্যবহার হয় যখন খেলা চরম পর্যায়ে দাড়ায়। জোন আস্তে আস্তে গভীর হয় কিন্তু জোন মানুষের ৮০ শতাংশ ফোকাস অ্যাবিলিটি কার্জকর করতে সক্ষম। এর পরেই আসে ট্রু জোন। ট্রু জোন ইউজারকে তার ১০০ শতাংশ কার্যকর করতে সক্ষম এবং প্লেয়ারদের মধ্যে যোগাযোগকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। ট্রু জোন টিমমেটদের সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়। এগুলোকে কি সুপার ন্যাচারাল মনে হচ্ছে? না। এগুলো বাস্তবিক ব্যাপার আপনি নিজেকে যত ফোকাস করতে পারবেন তত বেশি ভাল ফলাফল আসা করা যায়। বিভিন্ন ধরনের খেলার সময় জোন ট্রু জোন দেখতে পাওয়া যায়। একটা কথা জেনে রাখা ভাল যে কেউ জোনে যেতে পারবে শর্ত হল এক্সট্রিম মোমেন্ট । যেমনঃ মৃত্যু ভয় বা এক্সট্রিম মোমেন্টে অনেকে অনেক অসম্ভব কাজ করে ফেলতে পারে (প্রমাণিত)
ভানিশিং ড্রাইবঃএটি একটি টেকনিক ছাড়া কিছুই না। কুরকোর অব্জার্বেসন ক্ষমতা এবং কাগামির সাহায্যে টেকনিকটি সফল হয়েছে। এটার জন্য কুরকোকে নতুন করে কিছুই শিখতে হয়নি। শুধু একটু ফাস্ট হতে হয়েছে। ধরুন আপনার সামনে একটা খরগোস আর তার পিছনে একটি বাঘ আছে আপনি কাকে নিয়ে ১ম এ চিন্তা করবেন অবশ্যই বাঘকে নিয়ে কারন বাঘ আপনাকে মেরে ফেলতে পারে।ঠিক এই ব্যাপারটাই হল ভানিশিং ড্রাইব। কুরকোকে যদি খরগোস আর কাগামিকে যদি আপনি বাঘ ধরেন তাহলে ব্যপারটা পানির মত পরিস্কার।করুকোর ভানিশিং ড্রাইব সফল হওয়ার জন্য কাগামিকে প্রয়োজন কারন কাগামি টিমের সবচেয়ে টার্গেটেড প্লেয়ার কাগামি কুরকোর পিছনে থাকলে প্লেয়ারের এটেন্সন কিছু মুহূর্তের জন্য কাগামির দিকে চলে যায় ব্যাস এইতো চান্স এখন কুরকে শুধু ভালমতো অব্জার্ব করে তাড়াতাড়ি প্লেয়ারকে পিছনে ফেলে দিতে হবে। এজন্য কিছু মুহূর্তের জন্য কুরকোকে অনেক অনেক ফাস্ট হতে হয় ।তাই বলের উপর এত প্রেসার পড়ে। একারনেই কুরকোর প্রাক্টিসের সময় এতগুলো বল ফেটে যায়।
ফেন্টম সর্টঃ ফেন্টম সর্ট একটি চমৎকার টেকনিক।এটি মিদরিমার ৩ স্টার সর্ট থেকেও অসাধারণ। কুরকো নো বাসুকেতে একটা জিনিস খেয়াল করে দেখবেন যে কুরকোর সমস্ত প্লেতে “ভ্যানিশিং” জুড়ে আছে। এটাও তার ব্যাতিক্রম না। ফেন্টম সর্ট এর জন্য দরকার অনেক অনেক প্রাকটিস। ফেন্টম সর্ট নরমাল সর্ট থকে একটু ভিন্ন নরামাল যেকোন সর্ট বাস্কেটে বল ২০-৭০ ডিগ্রিতে(আনুমানিক)পড়ে কিন্তু ফেন্টম সর্টে বাস্কেটে বল ৯০ ডিগ্রির অথবা তার একটু কমে পড়ে। মূল মন্ত্র হল থ্রোতে থ্রো এর সময় বলকে ৯০ ডিগ্রিতে ধরতে হয়। তাই কুরকোর বল ধরাটা ভিন্ন সর্ট এর সময়। ফেন্টম সর্ট ছবিতে এক্সপ্লেইন করা হলঃ
এজন্য মুরাসাকিবারার ব্লক কোন কাজে আসে নি। কিন্তু ফেন্টম সর্ট ইনভিন্সিবল না। সঠিক টাইমিং এবং প্রেডিকশন দ্বারা ফেন্টম সর্ট আটকানো সম্ভব।এজন্যই কিসে কুরকোর ফেন্টম সর্ট আটকাতে পেরেছিল।
এম্পেরর আইঃ একটা কথা জেনে রাখা ভাল যে এম্পেরর আই ফিউচার দেখতে পারে না বরং ফিউচার প্রেডিক্ট করতে পারে। এম্পেরর আই মিসডিরেকসন এর মতই। অপনেন্টকে প্রেডিক্ট করা খেলার ভিতরে নতুন কিছুই না। আকাসি শুধু অন্যদের থেকে এগিয়ে বা বেটার অপনেন্টকে প্রেডিক্ট করার সময়। ধরুন আপনি আকাশে একটি বল ছুড়ে মারলেন আপনি কিন্তু প্রেডিক্ট করতে পারবেন বলটি কোথায় পড়বে। এখন এর সাথে যদি জোন জুড়ে দেন তাহলে আকাসিতো ইনভিন্সিবল।
এঙ্কেল ব্রেকঃ এম্পেরর আইকে কাজে লাগায়ে যে টেকনিক তৈরি হয় তা হল এঙ্কেল ব্রেক। যদি আপনি অপনেন্টকে মুভমেন্ট প্রেডিক্ট করতে পারেন তাহলে এঙ্কেল ব্রেক সবচেয়ে সোজা টেকনিক।
কৌশলঃ অপনেন্ট যেদিকে মুভ করবে তার বিপরীত দিকে মুভ করতে হবে। অপনেন্ট এর রিফ্লেক্স যতই ভাল হোক না কেন সে তার ব্যালেন্স ধরে রাখতে পারবে না।
পারফেক্ট কপিঃ কিসে প্রচণ্ড পরিমাণে ট্যালেন্টেড তা দেখলেই বুঝা যায়। কিসে তার অপনেন্টের মুভ কপি করতে পারে এবং অপনেন্টের থেকে ভাল ব্যবহার করতে পারে। পারফেক্ট কপি এক্সপ্লেইন করা আসলে সবচেয়ে কঠিন কিন্তু বুজতে পারলে কঠিনের কিছু নেই। আসলে জেনারেসন অফ মিরাকেল এর মেম্বারদের প্রতেকেরই একটি করে বিশেষ ট্যালেন্ট রয়েছে।যেমনঃ আওমিনের খেলার স্টাইল হল Street basketball,কুরকো মিসডিরেকসন, কিসে কপি,মুরাসাকিবারার হাইট হল একধরনের ওয়েপেন(ডিফেঞ্চ),মিদরিমার থ্রো,আকাসির প্লেডিকসন।শুধু যেটা জানা দরকার তা হল কিসেকেন জেনারেসন অফ মিরাকেল কে আগে কপি করতে পারে নি বা হঠাৎ করে আবার করতে পারল কেন?
কিসে তার খেলার স্টাইল ডেবেলপ করেছে কপি করে। কিন্তু জেনারেশন অফ মিরাকেল এর ট্যালেন্ট কিসে কপি করলে তার শরীরের উপর প্রচন্ড চাপ পড়বে। প্রত্যেকটি টেকনিক খুবই হাই লেবেলের যা কিসের বডি সহ্য করতে পারবে না। তাই একটা নির্দিষ্ট টাইম লিমিট রয়েছে পারফেক্ট কপির। এজন্যই আওমিনেকে কপির করার সময় কিসের পা প্রায় ভেঙ্গেই যাচ্ছিল।কুরকোর সাথে তার প্রথম হারের হতাসা,টিমমেট এর উপর বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস তাকে জেনারেশন অফ মিরাকেলকে কপি করতে সাহায্য করেছে। কিসে সব সময় টেকনিকগুলো কপি করতে পারবে কিন্তু তার শরীরকে আনবিলিবেবল পর্যায়ে ফিট থাকতে হবে,যাতে সে টেকনিক গুলোর সাথে কিপ আপ করতে পারে।
অন্যান্য ব্যাপার সমুহঃ অনেই ভাবছেন যদি কুরকো সুপার ন্যাচারাল এনিমে নাই হয় তাহলে ভানিশিং ড্রাইবের সময় কুরকোকে আমরা ভ্যানিস হয়ে যেতে দেখি কেন অথবা জোনের সময় চোখ এমন হয় কেন বা আকারিস চোখের কালার চেঞ্জ হয় কেন ইত্যাদি। আসলে বাস্তবে এগুলো কিছই ঘটে না সিরিজটা দর্শকদের কাছে ড্রামাটিক আর আকর্ষণীয় করতে এই ধরনের ইলিমেন্ট অ্যাড করা হয়েছে। কুরকো যখন ভানিশিং ড্রাইব করে তখন স্টেডিয়ামে উপস্থিতদর্শক ও অন্যান্য প্লেয়াররা দেখে কুরকো একজন প্লেয়ার কে পাস করে গেল কিন্তু প্লেয়ার কিছুই করতে পারে নি। অন্যান্য টেকনিকও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। জোনের সময় চোখ আসলে এমন হয় না এবং আকাসির ২ চোখ সবসময় লাল ছিল আগেই বলেছি এগুলো দর্শকদের কাছে ড্রামাটিক আর আকর্ষণীয় করতে অ্যাড করা হয়েছে। তারপর কুরকোর সাইক্লোন পাস জাস্ট আনাদার কুইক পাস বাট একটু জোরে । আর বাদ বাকি যা আছে ওই ব্যাপার গুলো যারা এনিমে দেখে এমনিতেই বুজতে পারবে। ঐগুলো না বুঝার কিছু নেই।
মাঙ্গা রিভিউ : HEADS
মাঙ্গাকা : হিগাশিনো কেইগো
“তোমার ঘরে বাস করে কারা ও মন জানোনা
,তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা ,,
মানুষের মন ডেডেলাসের তৈরি ল্যাবিরিন্থের চেয়েও জটিল । যেই মন একটা প্রজাপতিকে দেখে মুগ্দ্ধ হয় আবার সেই মনই ফ্রিজের ভেতর মানুষের কাঁটা অঙ্গ সংগ্রহ করে । এখন এই মন মানে মগজে যদি আরেকজন ভাগ বসায় তাহলে ব্যাপারটা ভেজালের উপর আরো ভেজাল । তো এই মাঙ্গার কাহিনী মানুষের মনের বিচিত্রতা নিয়েই ।
এই গল্পের নায়ক লাজুক এবং বিনয়ী চরিত্রের অধিকারী জুন নারুসে । সত্ ,হাসিখুশি এবং ভীতু , এককথায় ভালোমানুষ । ইলেকট্রিকাল কোম্পানিতে চাকরি এবং ছবি আকার শখ নিয়ে শান্তিতেই জীবন কাটছিল তার । এরমধ্যে মেগুমি নামক এক হাসিখুশি মেয়ের সাথে সে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পরে ।সব মিলিয়ে সুখেই ছিল । কিন্তু একদিন ব্যাংকে গিয়ে সে পরে ডাকাতের কবলে । ডাকাতের কবল থেকে ছোট এক মেয়েকে বাচাতে গিয়ে সে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় এবং কোমায় চলে যায় । কয়েকসপ্তাহ পর কোমা থেকে উঠে সে জানতে পারে , সেই বিশ্বের প্রথম ব্যাক্তি যার আংশিক ব্রেইন ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে । সে সুস্থও হয়ে ওঠে । কিন্তু ধীরে ধীরে সে বদলে যেতে থাকে । যে ফ্যান্টাসি মুভি দেখে সে রাতে ঘুমাতে যেত তা এখন বিরক্ত লাগে ,হঠাত্ খেপে যাওয়া আর যে মেগুমিকে সে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালবাসত তাকেও আগের মত ভাল লাগছে না । কি হচ্ছে তার । কে হানা দিচ্ছে তার মনোজগতে ?বাকি কাহিনী মাঙ্গাতে ।
মাঙ্গার আর্টওয়ার্ক খুবই ভালো এবং ডিটেইলড । কাহিনীর টুইস্ট এবং টার্ণগুলো অস্থির লেগেছে । কাহিনী কোন জায়গাতেই স্লো হয়ে যায়নি । আকর্ষন পুরোদমে ধরে রাখতে পেরেছে । তো অপেক্ষা কেন , পড়ে ফেলুন ৩৬চ্যাপ্টারের মাঙ্গাটি । আশা করি ভালো লাগবে !
Reading link :http://kissmanga.com/Manga/Heads
আমার রেটিং :৮.৫/১০
Anime – Giant Killing
Genre – Sports, Seinen,Drama
Episodes – 26
জায়ান্ট কিলিং বেশির ভাগ স্পোর্টস জনরার আনিমেগুলোর তুলনায় যে দিক থেকে একে উপরে রাখবো তা হল কাহিনীটা বেশ বাস্তবধর্মী । সাধারণত, স্পোর্টস আনিমেগুলো জমজমাট করে তুলে ধরার জন্য সুপারন্যাচুরাল উপাদানের আশ্রয় নেয়, অনেকেই তা নেতিবাচক দিক হিসেবে ধরে নেয় । যদিও আমার এ নিয়ে কোন অভিযোগ নেই । ঠিক তাদের জন্যই আসল স্পোর্টসের উত্তেজনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই আনিমেটি মূলত, তবে এ বিষয়ে কিছু দিক থেকে আনিমেটি সফল আবার কিছু দিক থেকে ব্যর্থ ।
কাহিনী মূলত তাৎসুমি তাকেশি চরিত্রটিকে ঘিরে । বেশিরভাগ স্পোর্টসে যেখানে খেলোয়াড়রাই মূল চরিত্র, এখান থেকে আনিমেটা ব্যতিক্রমী । কেননা মূল চরিত্র হল, দলে কোচ যারাই ঠিক ম্যাচটা নিয়ন্ত্রন করে খেলোয়াড়দের নিজেদের দাবার গুটির মত । যাই হোক, তাৎসুমি তাকেশি একজন নামকরা খেলোয়াড় ছিলেন যে কি না এসে জোগ হয় ETU ( East Tokyo United ) নামক এক ছোট দলের ম্যানেজার হিসেবে । তার ঘাড়ের উপর চেপে পরে এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তা হল ETU-কে ঠিক জাপানি লিগের এক ভালো অবস্থান করানোর জন্য । তার এ যাত্রাটাই মূলত তুলে ধরে পুরা আনিমেটিতে ।
আনিমের আর্টটি তেমন আহামরি কিছু নয়, তবে খুব খারাপ যে তাও না । একেবারে অতি সাধারণ মানের । চরিত্রের ডিজাইনটা ঠিক বলব চেহারাগুলো বেশ চোখ্যা করে বানানো নাইলে বেশ গোলগাল করে । তবে যে জিনিশটা খুব একটা চোখে বাঁধবে তা না । আর ইনসার্ট মিউজিকগুলা বেশ দারুন । জমজমাট মুহূর্তগুলো আরও জমজমাট করে তুলে । ওপেনিং-এন্ডিংটা ছিল মোটামোটি, এটা ভালো লাগতেও পারে আবার না-ও পারে বিষয়টা সম্পূর্নভাবে আপনার রুচির উপর নির্ভর করবে জিনিশটা । জাপানির পাশাপাশি জার্মান, পর্তুগিজ এবং ফরাসি ভাষার প্রয়োগ পাবেন আনিমেটাতে অবশ্য তা ব্যবহার করবে সুধু সে জাতির চরিত্ররাই । এ এক ভালো দিক ছিল, অ্যাক্সেন্টটাও সুন্দর ছিল আর সাধারণ আনিমের মত সব জাতিরাই জাপানিতে কথা বলে এই পথ অনুসরন করে নাই । আনিমের প্রথমেই ইংরেজি শুনতে পাবেন তবে বুঝবেন না, সাবটাইটেলের সাহাজ্য নিতে হবে কারণ ইংরিশ ।
এখানে চরিত্র অনেক থাকলেও সে তুলনায় ভালো লাগার মত চরিত্র কম । মূল চরিত্র হিসেবে তাৎসুমি মনে রাখার মত চরিত্র । সবসময় সে অনেক রিলযাক্সড মুডে থাকে । দেখলে মনে হবে যে দলের ব্যপারে তার কোন চিন্তা নেই কিন্তু আসল বিষয় ঠিক উলটো । আর এরকম এক ব্যতিক্রমী চরিত্রকে তুলে ধরার ক্রেডিট সেকি তোমোকাজুর । সেইয়ূ হিসেবে সে যে বেশ অসাধারণ এর পরিচয় তিনি অনেক আগেই দিয়েছেন । আসলে তিনি অহংকারী, সিরিয়াস, অলস, প্রায় সব রকমের চরিত্রের সেরা কণ্ঠটাই দিতে পারেন বেশ সহজেই, তার কণ্ঠ দেওয়া চরিত্রগুলোর লিস্টের দিক তাকালেই বিষয়টা সম্পর্কে এক পরিষ্কার ধারণা হয়ে যাবে আপনার । একটা ফুটবল দলে ১১ জন থাকলেও ETU থেকে সবচেয়ে বেশি স্ক্রিনটাইম পেয়েছে জিনো, সুবাকি, সেরা, কুরোদা এবং মুরাকোশি । কম বেশি ৫ জনকে আপনার বেশ ভালো লাগবে । জিনোর ঠিক ভাব নেওয়া চরিত্রটি নির্ভুলভাবে ওনো দাইস্কে তুলে ধরেছেন । এসাথে সুবাকির মত চরিত্র তুলে ধরাই হল মিজুশিমা তাকাহিরোর সেরা দিক তাই এর কণ্ঠ অভিনয় নিঃসন্দেহে ভালো ছিল । কুরোদার মত চিল্লাপাল্লা করে এমন চরিত্র ইতৌ কেন্তারোকে নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে আগেও দেখেছি, এখানেও দেখলাম । ওকিয়ায়ূ রেন্তারোও সুন্দরভাবে মুরাকোশির রোলটা করেছেন । আর সব মিলিয়ে আনিমের সেরা চরিত্রটা ছিল সেরা (Sera, セラ) আমার মতে । তার কণ্ঠতেও কায়ানো তাকেতোশি বেশ ভালো কাজ করেছেন, যদিও এর সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই । সিরিজে মিলবে আরও ক্লাবের ভক্ত এবং অনেক রকম চরিত্র । ঠিক একটা ক্লাবকে ঘিরে যেরকম চরিত্র থাকে, প্রায় সবারই দেখা পাবেন আনিমেটায় ।
কোন আনিমেই নিঁখুত নয়, সে বিষয় এই আনিমেটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য । আনিমেটির নেতিবাচক দিকগুলো (আমার কাছে), মূলত পুরা লিগে তাদের যাত্রার কাহিনী নিয়ে হলেও তেমনভাবে ভালো পরিমান স্ক্রিনটাইম পেয়েছে মাত্র ৩টি ম্যাচ । বাকি ম্যাচগুলো অনেকটা পর্বের মাঝেই দেখায় চলে গিয়েছে । পেসিংটা বেশ বেখাপ্পা ছিল, কিছু সময় অধিক তারাতারি কাহিনী আগায় আবার কিছু সময় অনেক ধীর গতিতে । কাহিনী মূলত তাদের জাপান লিগের যাত্রা তুলে ধরা নিয়ে হলেও কাহিনীর সারাংশ হল ‘ ক্লাব প্রথমে খারাপ খেলে, সবায় তাৎসুমির উপর আশা হারায়ে ফেলতে গিয়েও ফেলে না । এরপর ঠিক লিগের মাঝে তাদের এক অসাভাবিক পূর্ণ জাগরম ‘ । অবশ্য এ বিষয়টা নেতিবাচক-ইতিবাচক দুই ভাবেই নেওয়া যায় । শেষমেশ, কাহিনীর সমাপ্তিটা ছিল অসমাপ্ত ।
সবমিলিয়ে ভালো লাগার মত এক আনিমে । ম্যাচগুলোর মাঝে থ্রিল পাবেন । অনেক ভালো আনিমে, দেখে ফেলুন ।
[ সমাপ্তি ]
আমার নিজের স্পোর্টস জনরার মাঝে ইয়োমুশি পেডাল আর গার্লস উন্ড পান্জার (স্পোর্টস ট্যাগ নেই, তবুও এক হিসেবে ধরা যায়), এ দুটো আনিমের পর এটায় সবচেয়ে বেশি থ্রিল পেয়েছি ।
কামিয়া হিরোশি, ওনো দাইসকে এদের এখনকার সেইয়ূদের মাঝে আইকন হিসেবে ধরা হয় । হয়তো আরও ৪-৫ বছর পরে তাদের মত আইকন হয়ে উঠতে পারেন, এরকম একজন ওসাকা রিয়োতা । ২০১১-তে তার অভিষেক এবং একাধিক ভালো চরিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার সুযোগ পান তিনি ২০১২ থেকেই । ওসাকা রিয়োতার কণ্ঠটা বেশ সাধারণ, অনেকটা কিশোরদের মত। তার বেশিরভাগ চরিত্রগুলোও এই বয়সী, তাই তিনি কণ্ঠটা এত অসাধাণভাবে মিশিয়ে নিতে পারেন যে আলাদা করে তার কণ্ঠ ধরাটা বেশ কঠিন।
২০১২-এর ফল সিজনে তিনি প্রথম কোন আনিমেতে মূল চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার সুযোগ পান, চরিত্রটি ছিল হিমেনোকৌজি আকিতো (OniAi) । এরপর ২০১৩-তে বেশ ভালো ভালো চরিত্রের রোল পান, যেমন মাও সাদাও (Hataraku Maou-sama), ভালি লুসিফার (High School DXD s2), স্ট্যাজ চার্লি ব্লাড (Blood Lad), সাওয়ামুরা এইজুন (Ace of Diamond) , তোকিশিমা হারুতো (Kakumeiki Valvrave), কিদৌ এইতা (Oreshura), ইসাকি কানামে (Nagi no Asukara) এবং স্ফিনটাস (Magi s2) । সে বছর জোজোতেও একটি রোল ছিল তার- মার্ক; চরিত্রটি স্ট্রোহাইমের অধীনে এক নাৎজি সৈনিক ছিল। মাত্র ১ অথবা ২ পর্ব স্ক্রিন-টাইম পান তিনি। ৩ বছরেরও কম সময়ে তিনি নিজেকে প্রফেশনাল কণ্ঠ অভিনেতাদের কাতারে নিয়ে গিয়েছেন, এত দ্রুতগতিতে সফলতা খুব কম কণ্ঠ অভিনেতাই পেয়েছেন। তিনি মাও সাদাও (Hataraku Maou-sama), যেন ওয়াস্তালিয়া (Akagami no Shirayuki hime), ইয়ামাদা রিয়ূ (Yamada-kun and the 7 witches) এবং নাগাতে তানিকাজে (Sidonia no Kishi) এই চরিত্রগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
তার যে রোলটি আমার সর্বপ্রথমে ভাল লাগে সেটি হল Blood Lad-এর স্ট্যাজ, যদিও তখন তাকে চিনতামই না। তার প্রথম সন্ধান পাই কাতৌ কিরি চরিত্রটি দিয়ে । SKET Dance বেশ প্রিয় একটি আনিমে আমার, তাই ওটার কাস্ট নিয়ে আনিমেটি দেখার সময় কম বেশি ঘাটাঘাটি করেছিলাম। তখন থেকে ওসাকা রিয়োতাকে চিনি। এটি ২০১৪ এর মাঝের দিকের কথা, তখনও তিনি তেমন একটা জনপ্রিয় ছিলেন না। তার বাকি পছন্দের রোলগুলো হল মাও সাদাও (Hataraku Maou-sama), তোকিশিমা হারুতো (Kakumeiki Valvrave), ওয়াতারি রিয়োতা (Shigatsu wa Kimi no Uso), মায়ুজুমি চিহিরো (Kuroko no Basket), তাচিবানা সুগানে (Gatchaman Crowds), কিদৌ এইতা (OreShura), লুসিফার ভালি (Highschool DXD), মুরাকামি রিয়ৌতা (Brynhildr in the Darkness) এবং সাসাহারা সৌহেই (Tonari no Kaibutsu-kun) । আর তার Ace of Diamond-এ সাওয়ামুরা চরিত্রটিতে দেওয়া কণ্ঠটা একটুও ভালো লাগেনি, বেশ চিল্লাপাল্লা করে কান ব্যাথা করে দেয়, তবে চরিত্রটির সাথে মানিয়েছে।
তিনি শুধু কণ্ঠ অভিনয়ের মাঝেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, তবে Ace of Diamond-এর কয়েকটা এন্ডিং Shounen Hollywood এবং Assassination Classroom এই দুই আনিমের ওপেনিং-এ আনিমেগুলোর নিজস্ব কাস্টদের নিয়ে তৈরি ইউনিটের সঙ্গে গাওয়া গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন ।
তার জন্ম ২য় আগস্ট, ১৯৮৬ । ২০১৫-তে অনুষ্ঠিত ‘9th Seiyuu Awards’-এ তিনি Best Male Newcomer অ্যাওয়ার্ডটি জিতেছেন । গত কয়েক বছরের মত এই বছরও তিনি বেশ ভালো পরিমাণ রোল পেয়েছেন এই পর্যন্ত । সামনে যে আরও বড় মাপের কণ্ঠ অভিনেতা হবেন তিনি, বিষয়টা বেশ সুস্পষ্ট ।
ইগুচি ইয়ুকা
ইগুচি ইয়ুকা সাধারণত বেশ চঞ্চল স্বভাবের ইমোতৌ টাইপের চরিত্র অথবা ললিদের কণ্ঠের জন্যই বেশ পরিচিত । তবে যে ধাঁচের চরিত্র করাতেই সে শুধু দক্ষ তা কিন্তু নয়, বরং এর বিপরীত ধাঁচের চরিত্রদের কণ্ঠ দিয়েও অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন ইগুচি ইয়ুকা, এর এক ভালো উদাহরণ ছিল Girls und Panzer-এর রেইযেই মাকো । সোজা কথায় কম বেশি সবরকম চরিত্র করা আছে উনার । তার কণ্ঠটা বেশ হাই পিচের এবং ওর উপর চিল্লাচিল্লি করে এমন সব চরিত্র করলে অনেক সময় তার কণ্ঠটায় বেশ মাথা ধরে, যে কারণে তার প্রতি অনেকের নেতিবাচক মতামতও রয়েছে । তবে আমার কাছে বেশ অসাধারণ কণ্ঠ অভিনেত্রীদের একজন তিনি ।
কণ্ঠ অভিনয়ের সাথে তার পরিচয় ২০০৩ থেকে । সে বছর তিনি G.G.F-এর জন্য অডিশনে জিতেছিলেন । এটা একটা গেমারদের মাস্কট চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য অডিশন ছিল, সেখানে সাফায়ার রোলটির অধীনে ছিলেন তিনি । একই বছরে Di Gi Charat Nyo!-এর উসাদা আকারি চরিত্রটি দিয়ে তার আনিমেতে কণ্ঠ অভিনয়ের অভিষেক । তখন থেকেই গোতৌ সাওরির সাথে তার পরিচয় এবং তার সাথে মিলে airyth নামক এক ভয়েস অ্যাক্টিং ইউনিটও ছিল তাদের । G.G.F ভেঙ্গে যায় ২০০৬-এ এবং তখন থেকেই Office Osawa এজেন্সিটির সদস্য তিনি । ৬ষ্ঠ ‘Seiyuu Awards’-এ ‘Best Personality’ অ্যাওয়ার্ডটি তিনি জিতেছিলেন । সে সবচেয়ে বেশি যে দুইটি চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য পরিচিত তা হল ইনডেক্স (To aru Majutsu no Index) এবং সুকিহি (Monogatari Series) ।
ইগুচি ইয়ুকাকে সাধারণত ৩ রকম চরিত্রে কণ্ঠ অভিনয় করতে দেখা যায় । তিনি চঞ্চল স্বভাবের চরিত্রগুলোতে বেশ উচ্চ স্বরে, কিছু টমবয়িশ চরিত্রগুলোতে বেশ উদ্ধত স্বরে এবং চুপচাপ ঠাণ্ডা স্বভাবের চরিত্রগুলোর ক্ষেত্রে বেশ নীরব স্বরে অভিনয় করেন। কেন যেন চরিত্রগুলোর সঠিক প্রতিচ্ছবিটা তিনি বেশ অসাধারণভাবেই তুলে ধরতে পারেন । তার যে রোলটা সবার আগে পছন্দ হয় তা হল তাকায়ামা মারিয়া (Haganai) এবং উসামি হানি (SKET Dance) । ঠিক এই চরিত্রর সেইয়ূকে তা দেখতে গিয়েই তার সন্ধান পাই । এরপর তার আরও অনেক রোল পছন্দ হয়েছে যেগুলো হল রেইজেই মাকো (Girls und Panzer), কাগা (KanColle), কোনোয়ে সুবারু (Mayo Chiki!), সুকিহি (Monogatari Series), সাঙ্গু মিৎসুবা (Owari no Seraph), কুরোসাকি মেয়া (To-Love-Ru:Darkness) এবং আয়োই (Yama no Susume) ।
কণ্ঠ অভিনেত্রীর পাশাপাশি একজন গায়িকাও । Index, Danmachi, Nisemonogatari, Ro-Kyu-Bu, Haganai, Girls und Panzer, Symphogear, Tamayura, Strike the Blood, Yama no Susume, KanColle, Kami nomi zo Shiru Sekai, Valkyre Drive এ আনিমেগুলার ওপেনিং/এন্ডিং/ইন্সার্ট সং তিনি স্বতন্ত্রভাবে অথবা উইনিটের সঙ্গে গেয়েছেন । তার গাওয়া দুটি পছন্দের ‘Strike my Soul’ (https://goo.gl/QpGPAv ) এবং ‘Kaga Misaki’ ( https://goo.gl/ajqN3H )। এছাড়া মোনোগাতারি সিরিজের সবচেয়ে আলোচিত ওপেনিং ‘Platinum Disco’ ( https://goo.gl/XrBBmA ) কিন্তু তার গাওয়া । তার গানগুলো বেশ সুন্দর, শুনে দেখতে পারুন ।
ইগুচা ইয়ুকা এখনকার আইকোনিক কণ্ঠ অভিনেত্রীদের একজন । তার সামনে যে আরও ভালো ভালো চরিত্র দেখতে সেটুকু তো বলাই যায় ।
আগের লেসনে বলেছিলাম জাপানিজদের নাম বিভিন্ন কানজির সমাহারে বানায়..আজকেও কিছু জাপানিজ নাম,তাদের কানজি ও মিনিং নিয়ে আলোচনা করব …
“সাকুরাগি হানামিচি” ক্যারেক্টার তো যারা স্লাম ডাঙ্ক দেখছে সবাইই চিনি.. নাম যদি কানজি দিয়ে বিশ্লেষণ করি তাইলে মিনিং কেমন দাঁড়ায় দেখি …
“সাকুরাগি” তে “সাকুরা” আর “গাছ” এর কানজি আছে.. তাইলে মিনিং দাঁড়াল cherry tree..সাকুরার গাছ …
“হানামিচি” নামের মধ্যে “ফুল” আর “পথ”এর কানজি আছে …তাইলে মিনিং হল ফুলের পথ..
“মোরিতাকা” নামের মধ্যে “most” আর “high” এর কানজি আছে …মিনিং হল তাইলে “highest”..এই কারণে আকিতো ওরে “সাইকো” বলে ডাকত :3
“আকিতো”র নামের মধ্যে “autumn”আর “person”এর কানজি আছে …মিনিং করলে দাঁড়ায় শরতের মানুষ … “শুজিন” মানেও তাই..এই জন্য মাশিরো ওকে এই নামে ডাকত..বাকুমান যারা দেখছে বুঝার কথা 😉
আনিমের ক্যারেক্টার তো কিছু বললাম এবার র্যান্ডম কিছু নামের মিনিং শিখাই …
“কিনোশিতা” এর মধ্যে “গাছ” আর “নিচ” এর কানজি আছে..মানে হয় গাছের নিচে..
“কাওয়াকামি” এর মানে হয় নদীর উপরে..এর মধ্যে “নদী” আর “উপর” এর কানজি আছে..
“তাকেনাকা” এর মিনিং হয় বাঁশের মধ্যে.. এখানে “বাঁশ” আর “inside” এর কানজি আছে..
“নাকাগাওয়া” এর মধ্যে “inside” আর “নদী”র কানজি আছে.মিনিং হয় নদীর মধ্যে..
একই ভাবে “নাকাইয়ামা” মানে হয় পাহাড়ের মধ্যে..”নাকামুরা” মানে হয় গ্রামের মধ্যে..
“ইশিকাওয়া” এর মধ্যে “পাথর” আর “নদী”র কানজি আছে..মিনিং হয় পাথরের নদী..
আজকের কানজি “rest” এর কানজি ….উচ্চারণ হল “ইয়াসু(মি/মু),কিউ….
[মানুষ গাছের পাশে শুয়ে রেস্ট নিচ্ছে এখান থেকেই এই কানজির উৎপত্তি]
এই কানজি টাও ২ টা কানজির কম্বিনেশনে তৈরী হয়…মানুষের কানজি আর গাছের কানজি একসাথে লিখলে rest এর কানজি হয়.. একটা মানুষ গাছের ছায়াতে বসে রেস্ট করতেছে কানজি টা দিয়ে সেটাই বুঝান হইছে …কানজিটার উৎপত্তি এভাবেই হইছে..
[কানজি “ইয়াসুমি”]
“ইয়াসুমু” মানে হইল “to rest/to be absent”
ইয়াসুমি-break/vacation
কিউজিতসু-holiday (এখানে rest আর day এর কানজি পাশাপাশি বসে)
নাতসুইয়াসুমি-summer vacation (summer আর rest এর কানজি পাশাপাশি বসে)
হারুইয়াসুমি-spring vacation (spring আর rest এর কানজি পাশাপাশি বসে)
হিরুইয়াসুমি-lunch break… (noon আর rest এর কানজি পাশাপাশি বসে)
Square Enix-এর ফাইটিং গেম গানস্লিঙ্গের স্ট্র্যাটোসের উপর ভিত্তি করে তৈরি আনিমে। ফাইটিং গেমের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা আনিমেগুলি সাধারণত ভয়াবহ খারাপ হয়, সেটা থেকেই আন্দাজ করা যায় কিরকম হতে পারে। ২টা ছবি দিয়েছি এখানে, গেমের ভার্শনের তুলনায় আনিমের আর্ট স্টাইলের অবনতি চোখে পড়ার মত। তবে সব মিলিয়ে শুরুর দিকে গল্পের কোয়ালিটি মনে ধরার মত না হলেও surprisingly শেষের দিকে এসে গল্পটা একদম খারাপ হয় নি।
[গেম ভার্শন]
Story:
২১১৫ সালের ঘটনা, Degradation নামের এক ধরণের রোগ ছড়িয়ে পরেছে, যার ফলে কথা নাই বার্তা নাই হঠাত যে কেউ এক নিমিষে ধুলার মত হয়ে গিয়ে উড়ে যেতে পারে, অস্তিত্ব একদম নাই হয়ে যায় যেন।
গল্পের নায়ক তোহরু কাজাসুমি একদম হঠাত নিজেকে এমন জায়গায় নিজেকে আবিষ্কার করে যেখানে বিল্ডিং, গাড়িঘোরা, মানুষ, সবকিছু একদম পুরানো পুরানো; আর এর মধ্যে হঠাত গোলাগুলির মধ্যে পরে সে। বিস্ময় নিয়ে আবিষ্কার করে তার দিকে যে গুলি ছুড়ছে সে আর কেউ না, নিজেই!
পরে আকস্মিক বিপদ থেকে উদ্ধার হবার পর জানতে পারে দুই প্যারালাল পৃথিবীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে, যেখানে দুই পৃথিবীর প্রতিনিধিরা নেমে পরে নিজেদের দুনিয়া বাঁচাতে। Degradation-এর হাত থেকে মুক্তির জন্যে একমাত্র উপায় কোন এক পৃথিবীর ধ্বংস হয়ে যাওয়া।
গল্পের মূল থিম বেশ ইন্টারেস্টিং হলেও প্রথম দিকে আনিমেটা দেখতে একটু বোরিং লাগছিল। তবে শেষের কয়েক পর্বের দিকে গিয়ে আনিমেটাকে একটা মোটামুটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছে।
Art:
২০১৫ সালের এই সিরিজের আগে ২০১৪ সালে একটা প্রোমোশনাল ভিডিও বের করে, সেইটার আর্ট স্টাইল অনেক বেশি ভাল ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের সিরিজটার আর্টস্টাইল মনে ধরার মত না। বিশেষ করে চোখগুলা আর মুখের গড়ণ আগেই দেখার ইচ্ছা অনেক কমিয়ে দিতে পারে। তবে এইটুক অংশ বাদ দিলে সব মিলিয়ে আর্টস্টাইল একদম খারাপ না। একশন দৃশ্যগুলি সুন্দর আছে।
Music and Songs:
মিউজিক চমৎকার ছিল, এখনকার যুগের একটা ট্রেন্ড যেন হয়ে গিয়েছে অল্পস্বল্প বা একদমই খারাপ সিরিজের OSTগুলি যেন খুবই ভাল হয়ে যায়! এখানেও সেরকমই অবস্থা, মিউজিকগুলা আনিমেটি দেখার মুহুর্তগুলি বেশ অনেক অংশে উপভোগ্য করতে পেরেছে। আর ওপেনিং ও এন্ডিং গান দুটি গত বছরের অন্যতম দুটি সুন্দর গান ছিল।
Ending:
স্পয়লার না দিয়ে এন্ডিং নিয়ে আলাদা করে বলছি, কারণ সিরিজটা শেষ হবার সময়ে দুটি এন্ডিং বের হয়েছিল। টিভিতে এয়ার হবার সময়ে এক এন্ডিং, এবং একই দিনে nico-তে alternate ending এয়ার হয়েছিল। অরিজিনাল এন্ডিং গল্পের টোন ঠিক রেখেই হয়েছিল, কিন্তু অলটারনেট এন্ডিংটা কিছুটা অবাক করতে পারে। অবশ্য “alternate” ending, অবাক করার জন্যেই বানানো হয়েছিল।
পরিশেষে, আপনার যদি sci-fi ধাঁচের একটা survival আনিমে দেখতে ইচ্ছা করে, সিরিজটি ট্রাই দিয়ে দেখতে পারেন। একদম উচ্চাশা নিয়ে না বসে বরং এক্সপেক্টেশন একটু কমিয়ে নিয়ে দেখতে গেলে উপভোগ করতে পারবেন। তবে আপনার যদি খুব ভাল ভাল আনিমে ছাড়া কোন কিছু দেখার সময় না থাকে বা আগ্রহ না থাকে, সিরিজটি ইগ্নোর করতে পারেন।