কিও নো কিরা কুন(Kyou no Kira-kun) [মাঙ্গা রিভিউ] — Ahmed Samira Niha

কিও নো কিরা কুন (Kyou no Kira-kun)
জন্রা:শৌজো,রোমান্স,হাইস্কুল,স্লাইস অফ লাইফ,কমেডি,ট্রাজেডি

প্রত্যেকটা শৌজো বেসিকালি হালকা একটু ঊনিশ বিশ করলেও প্রায় সেইম প্লট ফলো করে। পপুলার/আনপপুলার ছেলে/মেয়ের সাথে পরিচয় হয় পপুলার/আনপপুলার আরেক ছেলে/মেয়ের সাথে। প্রথম প্রথম একজনের সাথে আরেকজনের দা-কুমড়া সম্পর্ক থাকলেও কাহিনির মাঝপথে যেয়ে একজন আরেকজনের প্রতি নিজের আকর্ষণের কথা টের পেলেও তা আর বলতে পারেনা।বাংলা সিনেমার ভাষায় “বুক ফাটে তো মুখ ফাটেনা” টাইপ অবস্থা। এরকম করে প্রায় কয়েক শতাব্দী কেটে যায় নিজের ফিলিংস এক্সপ্রেস করতে করতে,অবশেষে কাহিনীর সমাপ্তি ঘটে বহু প্রতিক্ষিত চুম্বনের মাধ্যমে।

KnKK 1
যে মাঙা নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি সেটা টিপিকাল স্টোরিলাইন ফলো করলেও নট সো টিপিকাল।
নায়িকা নিনো ওকামুরার ছোটকালে বুলিইং এর শিকারের ফলে কপালে মস্ত একটা কাটা দাগ থেকে যায়। তারপর থেকে সে হয়ে যায় বিশিষ্ট ইন্ট্রোভার্ট,অগোছালো, অপ্রস্তুত এক মেয়ে যার কপালের উপরের বিশাল ব্যাংস তার কাটা দাগ সহ মুখের অর্ধেকখানি ঢেকে রাখে। ষোলকলা পূর্ণ করতে তার সাথে সবসময় একটা পাখি থাকে,যে আসলে কিনা সুপার জিনিয়াস এবং কথা বলতে ও বুঝতে সক্ষম। যার কারণে স্কুলে নিনোর নাম হয়ে যায় “ক্ষ্যাত bird woman”।
নায়ক কিরা ইয়ুজি স্কুলের পপুলার+ইতর প্রজাতির এক ছেলে যে কিনা আবার নিনোর সামনের বাসায়ই থাকে। নিনো এবং ইয়ুজির ব্যালকনি এত কাছাকাছি যে ছোটখাটো একটা লাফ দিলে অনায়াসেই একজন আরেকজনের রুম ভিজিট করতে পারবে। দুজনের কেউই কোনোদিন কারো সাথে ইহকালে একটা বাক্যবিনিময় করেনি প্লাস নিনোর রুমের এপাশ থেকে ওপারে কিরার রুমে বিভিন্ন মেয়ের সাথে ইতরামির সমস্ত সাক্ষী হওয়াতে নিনো কখনো তার প্রতিবেশীর সাথে আলাপ করতে আগ্রহী হয়না।

KnKK 2
হঠাতই একদিন নিনোকে তার মা জানালো যে পাশের বাড়ির ছেলের হয়েছে এক মরণব্যাধি,যার কারনে কিরার হাতে আছে কেবল এক বছর্। কিরাকে স্কুলে দেখাশোনা করার সমস্ত দায়িত্ব দেওয়া হলো নিনোকে। একটু একটু কৌতূহলী নিনো যখন সত্যতা যাচাই করতে যায়,তখন ব্যাড বয় কিরার অন্য রূপ আবিষ্কার করে সে। বহু ঘটনার মধ্য দিয়ে একজন আরেকজনের কাছাকাছি আসে,ভাল বন্ধু হয়,এবং বন্ধুত্ব একসময়ে প্রেমে পরিণত হয়। কিন্তু কিরার টাইম লিমিট ছাড়াও তাদের দুজনের মাঝে আসে অনেক প্রতিবন্ধকতা। নিনো আর কিরা কি শেষ পর্যন্ত পারবে দুজন দুজনের হতে?যদি আগ্রহ জাগাতে পারি,তাহলে অবশ্যই মাঙ্গাটা আপনি পড়বেন।
কেন পড়বেন?

KnKK 3
টিপিকাল শৌজো হলেও কাহিনী খুব একটা টিপিকাল না।
মেইন নায়িকা অনেক কিউট,মোয়ে টাইপ,কিন্তু ক্রাইবেবি না বা এনয়িং না। হ্যাঁ,সে কাঁদে। যেসব জায়গায় কাঁদতে হবে সেসব জায়গায় কাঁদে। কিন্তু তাছাড়া সে যেভাবে লজ্জা-জড়তা কাটিয়ে কিরাকে সাহায্য করার জন্য নিজেকে চেঞ্জ করে,সেটা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। আর নায়ক পুরাই ক্রাইবেবি। এরকম ক্যারেক্টার দেখে খুবই মজা পেয়েছি। নায়ক উপরি উপরি শক্ত ভাব দেখালেও একটুখানি ভাল ব্যবহার কিংবা নিনোর দয়ালু কাজকর্মে পুরোই গলে যায় এবং লিটারেলি আবেগে কেঁদে দেয়। আর তাছাড়া কিরার ফ্রেন্ড,ইয়াবে,সাইড ক্যারেক্টার নাম্বার ওয়ান,কাহিনীর পেস চেঞ্জ করার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। মাঝে মাঝে সাইড ক্যরেক্টারদের স্ট্রাগলদের কাহিনি,হতে হতেও হয়নি একটা লাভ ট্রায়াঙ্গল,ক্লিশে শৌজো ভুল বুঝাবুঝি-এসবের জন্যই এই মাঙ্গাটি এঞ্জয়েবল হয়েছে। মাঙ্গার আর্ট অনেক সুন্দর। আহামরি ডিটেইল্ড না,কিন্তু ভাললাগার মত ভাল।
আর সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো -জায়গামত দোকি দোকি মোমেন্টস,যা সত্যিই মন ছুঁয়ে যাবার মত।

KnKK 4
না পড়ার কারন-
আপনি যদি এক্সট্রিম খুঁতখুঁতে হয়ে থাকেন জন্রা কিংবা শৌজোর ব্যাপারে,তাহলে এটা না পড়াই ভাল। “unpopular girl meets bad popular boy and they change each other life” টাইপ কাহিনি অনেক কমন।এটাও ব্যতিক্রম না।
চ্যাপ্টার ৩৬ কিন্তু সবকয়টা এখনো স্ক্যানটেলেড হয়নি। সবখানে ২২ পর্যন্তই আছে। সে হিসেবে এখনো অনগোয়িং।
আর মাঙ্গাকার নাম মিকিমোতো রিন। ইনার আর কোনো কাজ কখনো পড়া হয়নি কিন্তু এই মাঙ্গা পড়ার পরে ইনার অন্য মাঙ্গা পড়ার আগ্রহ হয়েছে।
আপনি যদি লাইট হার্টেড কিছু পড়তে চান,কিংবা শৌজো পছন্দ করে থাকেন,তাহলে পড়ে দেখতে পারেন । আপনার সময় বৃথা যাবেনা।
পার্সোনাল রেটিং: ৯/১০
ম্যাল রেটিং: ৮.১৬/১০

KnKK 5

xxxHOLIC [রিভিউ] — Anirban Mukherjee

এক্স এক্স এক্স হোলিক-জাপানের অতিপ্রাকৃতিক জগতের অন্দরমহলে
আনিমে সিরিজের পরিচালক:- ত্সুতমু মিজুশিমা ।
সিরিজের গল্প লিখেছেন:- নানাসে ওকাওয়া এবংমিচিকো ইয়োকোতে(টিম ক্লাম্পের সদস্য)।
এপিসোড সংখ্যা:- 24 টি।

xxxHOLIC 1

জাপানে “ইয়োকাই” শব্দটির অর্থ বাংলায় আত্মা এবং বা ইংরেজিতে স্পিরিট খুব কাছাকাছি। “আয়াকাশি” হলো এমন এক ধরনের “ইয়োকাই” যারা জলে বা জলের উপরে অবস্থান করে।
হয়ত কোন সকালে পথে হাঁটতে হাঁটতে দেখছেন ,কেউ আপনার সামনে দিয়ে কোনো কারন ছাড়াই চিৎকার করতে করতে দৌড়ে পালাচ্ছে, যেন কেউ বা কারা তাকে তাড়া করেছে–( “ছেড়ে দে -আমি বলছি, ছেড়ে দে,আমি কী কোন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা ?” ইত্যাদি ইত্যাদি) এবং কোন কারন ছাড়াই ছুটতে ছুটতে রাস্তাতে পড়ে কাতরাতে লাগল,গড়াগড়ি খেতে লাগল ,যেন তার উপরে কোন জগদ্দল বোঝা চেপে আছে এবং সে বোঝা থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইছে।স্বাভাবিক ভাবেই আপনি তাকে কোন পাগল -ছাগল- স্কিজোফ্রেনিক বলে পাশ কাটাবেন ।সত্যিই তো ,এমন কত পাগল আমাদের চারপাশে,হাওয়ার সঙ্গে কথা বলে ,হাওয়ায় বিনুনি কাটে আঙুল দিয়ে ।কিন্তু এই কেসটা সেরকম নয়,ইনি হচ্ছেন আমাদের কাহিনীর “বেচারা” নায়ক কিমিহিরো ওয়াতানুকি, সেইরকম বিরল মানুষের একজন যে শুধু নিয়মিত ইয়োকাই বা আয়াকাশি দেখতে পায় না ,বরং সেগুলো তার জীবনকে জ্বালিয়ে ছাড়ছে ।যেখানে যাচ্ছে ,জেলির মতো বিশাল বড় উদ্ভট আকৃতির ইয়োকাইগুলো তার পিছু ছাড়ে না ।তো সেদিনও সেই কাহিনীর রিপিট হচ্ছে, বেচারা ওয়াতানুকি দৌড়াচ্ছে, পেছনে সেই ইয়োকাইগুলো দৌড়াচ্ছে ,একসময় তার উপর চেপে বসল ইয়োকাইগুলো,বেচারা ওয়াতানুকি মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে ,মাটিতে হাত ঠুকছে ।মাটিতে হাত ঠুকতে ঠুকতে তার হাতটা গেয়ে পড়ল একটা বড় কাঠের প্রাচীরের গায়ে ।ব্যাস,সঙ্গে সঙ্গে জেলির মত আকৃতিহীন ইয়োকাইগুলও ভ্যানিশ !!মাঝ রাস্তা থেকে সে কীভাবে এখানে টপকে পড়ল ?
ওয়াতানুকি তো অবাক ।

xxxHOLIC 2
হাত ঝেড়ে ওঠে সে দেখল ,একটা বড় উদ্ভট ডিজাইনের বাড়ির সামনে সে দাঁড়িয়ে ।বাড়িটার ডিজাইন না ইউরোপীয়ান ,না জাপানি কায়দায় ,আবার বাড়ির দুটো ছাদে অর্ধগোলাকৃতি
চাঁদের প্রতীক ।ওয়াতানুকি সদর্পনে একটু উঁকি দিতেই দেখল বাড়িটা তাকে চুম্বকের মত টানছে ,প্রচণ্ড টান ,সত্যিই টান।এমন সময় বাড়ির সদর দরজা খুললো এবং দুজন অদ্ভুত হেয়ারস্টাইলের ছোট মেয়ে বেড়িয়ে এল,বয়স হবে হয়ত বারোর কাছাকাছি ,একজনার বিশাল গোটানো চুল মাটি ছুঁয়েছে , আর একজনের ছোট গোলাপি কালারের চুল কাঁধ ছাড়ায়নি ।তারা ওয়াতানুকিকে ওয়েলকাম করল ,এটা একটা কোনও দোকান !!
সেই রহস্যময় মেয়েদুটো ওয়াতানুকিকে টানতে টানতে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেল । তারা বিশাল সৌজি দরজাটা খুললো এবং ওয়াতানুকি ওপার থেকে একরাশ ধোঁয়া ছাড়িয়ে একটা বড় কেদারার উপর ধূমপানরত ,লাল কিমোনো পড়া ইউকো সানের দেখা পেলো ।সে তার জন্যই অপেক্ষা করছিলো

xxxHOLIC 3

এবার ইউকোর পরিচয় কীভাবে দি ? পুরোনো বঙ্গিম-কালীদাস মার্কা বাংলাতে বললে “বৃহৎবক্ষা-ক্ষীনকটি-গুরু নিতম্ব” ইত্যাদি ইত্যাদি অথবা আমার চলিত চিন্তাতে বললে ইউকো একজন কঠিন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মেয়ে ,যে আবার সময়ে সময়ে মেজাজের দিক থেকে ছোট বাচ্চাদের মত হয়ে যায় । চেন -স্মোকার পর্যায়ে ,পান করে প্রচুর,ওয়াতানুকিকে খাটিয়ে মারে কিন্তু গোটা সিরিজের একাংশে তার অন্যতম সেরা বন্ধু,পোশাক,খাবার এবং স্টাইল সচেতন ,নিজের জীবনটা ভালোভাবে উপভোগ করে,স্বাধীন । আবার এই ইউকোই তার ম্যাজিকের দোকানের কাস্টমারদের সামনে হয়ে যায় নম্র,বিনয়ী এবং নিজের রহস্যপূর্ণ দিকটা কাস্টমারের সামনে রেখে তাদের সমস্যার সমাধান যথাসম্ভবভাবে করে ।ইউকো ডাইমেনশন ভাঙার ক্ষমতা রাখে ,সেজন্য হোলিক সিরিজ ছাড়াও ৎসুবাসা সিরিজেও তার দেখা মেলে ।ইউকো কিন্তু অনেক দিন আগেই মারা গেছে ,ৎসুবাসা ইউনিভার্সের এক যাদুকর ইউকোর নিজস্ব বাস্তবতার টাইম জোনকে থামিয়ে দিয়েছে,সেজন্য সে হোলিক দুনিয়ায় বেঁচে আছে ।যদিও শেষ অবধি সে আর থাকবে না ,যাকে ম্যাজিকের ভাষাতে বলে ভ্যানিশ ।মৃত্যু ।

টিম ক্লাম্প ইউকোকে বানানোর পর মনে করেছিলো সেই হবে সিরিজের প্রধান চরিত্র ।তারপর মনে করে ,আরও একটা চরিত্র তৈরি করা যাক ,যে ইউকোর মতই আত্মা,দেবতা,অতিপ্রাকৃতিক জিনিস দেখতে পারে ।তো ,সেইমত তৈরি হলো ওয়াতানুকি ।ইউকো আর ওয়াতানুকির মধ্যে সম্পকটা অনেকটা ডোরিমনের ডোরিমন-নোবিতার সম্পকের মত ।যদিও ডোরিমন ছোটদের জন্য বানানো ।
ওয়াতানুকি ,অনেকটা সেইরকম চরিত্রের ,যে নিজের ইমোশনকে নিজের মনের মধ্যে বেঁধে রাখে না,বাইরে প্রকাশ করে দেয় ।আর তার ইমোশনকে প্রকাশ করে বিভিন্ন উদ্ভটভাবে হাত পা শরীর নাড়ানোর মাধ্যমে, জোরে কথা বলে ।যাতে ওয়াতানুকিকে হাস্যকর লাগে ।কিন্তু ওয়াতানুকির সহজাত বুদ্ধির দিকটা ঝলসে ওঠে কোন চরম বিপদের সময় ..আবার প্রচণ্ড কৌতুহলী মন,তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।

xxxHOLIC 4
হিমাওয়ারি, যার বাংলা অর্থ হবে সূর্যমুখী , ওয়াতানুকির ক্রাশ ।সে যদিও ইউকোর থেকে অনেকটা আলাদা ,এইরকম সরল,সাধাসিধে মেয়ে চরিত্র অনেক আনিমে সিরিজেই থাকে ।ওয়াতানুকি, দৌমেকি এবং ইউকোর ভালো বন্ধু হিমাওয়ারি, যখনই কোনও খাবার আনে দৌমেকি আর ওয়াতানুকির মধ্যে ভাগ করে দেয়,দৌমেকির অন্যতম প্রীয় বান্ধবী হওয়ার জন্য তারও কেয়ার নেয়, তীরন্দাজী প্রতিযোগিতায় তাকে চিয়ারস করে ,এবং এসব দেখে ওয়াতানুকির জ্বলে ।
দৌমেকি আবার ওয়াতানুকির চেয়ে অনেকটা আলাদা , একেবারে বিপরীত মেরুর । হ্যান্ডসাম ,কুল এবং কম সিরিয়াস ।যেখানে ওয়াতানুকি প্রচুর বকে,সেখানে দৌমেকি খুবই কম কথা বলে। সে বহু মেয়ের আকর্ষণের কেন্দ্র, যেটা দেখেও ওয়াতানুকির জ্বলে ।কিন্তু দৌমেকি ওয়াতানুকির খুব ভালো বন্ধু, কেয়ার নেয় অনেক ,যার প্রমান সিরিজের বহু এপিসোডে ।
আর যার কথা ছাড়া হোলিক গ্যাং এর কথা শেষ হয় না ,অবশ্যই মোকোনা ।খরগোশের মত দেখতে কালো আর সাদা রঙের এই দুটো কিউট প্রানীটা হোলিক ইউনিভার্স ছাড়াও ক্লাম্পদের বানানো আরও দুটো ইউনিভার্সে হাজির,ৎসুবাসা সিরিজ আর ম্যাজিক নাইট রেআর্থ ।দেখলে মনে হয় চোখ বন্ধ করে আছে,লম্বা লম্বা কান আর মাথার কাছে বড় একটা নীল রঙের গোলাকৃতি বস্তু -এই হচ্ছে প্রধান বৈশিষ্ট্য মোকোনার ।কালো মোকোনা ওরফে লার্গ বা রাগু হচ্ছে ইউকো-সানের অন্যতম প্রিয় বন্ধু,দাবা খেলা আর ড্রিঙ্কস পার্টনার ।

 

হোলিক ইউনিভার্স প্রচণ্ড রহস্যময় ,ওয়াতানুকি প্রতি এপিসোডে নতুন নতুন অতিপ্রাকৃতিক জিনিসের সঙ্গে মুখোমুখি হয়,কখনও রহস্যময় আঙটি আর তার ইয়োকাই ,কখনও এমন কিছু অতিপ্রাকৃতিক উপাদান যা স্কুলে উদ্ভট ঘটনা ঘটাচ্ছে ,কখনও মানুষের মত কথাবলা শিয়াল পরিবার,বৃষ্টি আত্মা, আত্মা আর অতিপ্রাকৃতিক প্রানীদের দীর্ঘ মিছিল অথবা এমন এক পূর্ণিমার চাঁদ, যা ওয়াতানুকিকে এই বাস্তবতার গভীরে ঢুকতে সাহায্য করবে ।
কোন পূর্ণিমার রাত্রে,যখন বিশাল বড় বহুরঙা চাঁদ একদিকে ওঠে,তাদের মধ্যে দিয়ে কোন ঝাঁটায় উড়ন্ত যাদুকর ছাতা হাতে নেমে আসে বা মৃতদের উদ্ভট মিছিল দিগন্ত পেরোয় অথবা অমাবস্যার শেষে যখন অন্ধকার দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় ,সেই পথ দিয়ে ইয়োকাইরা জেলির মত ওয়াতানুকির পেছন নেয় অথবা বসন্তের চেরিব্লসম ঝড়া সন্ধ্যায়, কোন শিন্তো শ্রাইনের চত্বরে উদ্ভট প্রানীদের আনাগোনা শুরু হয়,এ রকমই হোলিকের প্রকৃতি, সঙ্গে অবশ্যই কমেডির মিশেল একে অন্য একটা চেহারা দেয়।

হোলিক আমাদের এটাও দেখায় যে সবার একটা নিজস্ব বাস্তবতা আছে,হয়ত কারও সেটা প্রচণ্ড একান্ত ,কোন গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ দিয়ে সবার বাস্তবতা এবং বোধ এক কাতারে ফেলা যায় না ।

xxxHOLIC 5

হোলিক হচ্ছে আনিমে জগতের ছোট্ট আরব্য রজনী ,সঙ্গে অবশ্যই কমেডির মিশেল ।অথবা হোলিককে কোনও কিছুর সঙ্গে তুলনাই করা উচিত নয়,হোলিক ইউনিভার্স এবং এর প্রত্যেক লৌকিক এবং অতিপ্রাকৃতিক চরিত্রগুলো অথবা গল্পের চরিত্রগুলো এবং দিকপ্রকৃতি এটতাই আলাদা আলাদা,উদ্ভট যে একে অন্য কোন কিছুর সঙ্গে তুলনা করতে ইচ্ছা করে না,এমনকী টিম ক্লাম্প এর অন্য কাজগুলোর সঙ্গে ও নয় ।

আনিমে সিরিজের অন্যতম অর্জন হচ্ছে এর এনিমেশন, পরিচালক ৎসুতমু মিজুশিমা একেবারে ক্লাম্পের মেজাজে পরিচালনা করেছেন ।
এছাড়া এর ওপেনিং আর এন্ডিং থিমও ব্যাপক ।বিশেষ করে এপিসোড 24 অবধি চলা ওপেনিং সং “19 সাই” আমার অন্যতম প্রিয় আনিমে ওপেনিং ,গান সমেত ভিডিওতে একটা যাদু বাস্তবতার আবেশ আছে ।এছাড়া এপিসোড 37 অবধি চলা “নোবডি নোওজ” ও খুব প্রিয় ।দুটোই গেয়েছে শুনা(শুগা) শি(ই)কো ।তেমনি 37 এপিসোড ধরে চলা এন্ডিং সং “রিসন” যেন সিরিজ সম্পকেই কথা বলে ।

যারা পরাবাস্তব,অ অথবা অতিপ্রাকৃতিক অথবা যাদু বাস্তবতাধর্মী এবং কমেডি ধাঁচের কাজ পছন্দ তার অবশ্যই এক্স এক্স এক্স হোলিক সিরিজ ভালো লাগবে,আশা করি ।এরপরও এর একটা ভালো সিনেমাও আছে ।
ব্যাক্তিগতভাবে এই সিরিজটা আমার প্রিয় দশটা আনিমে সিরিজের অন্যতম ।পাঁচ বছর আগে আনিম্যাক্সে দেখার পরও অনলাইনে একাধিক বার দেখেছি ।আর হ্যাঁ, ড্রয়িং আর এনিমেশনে সরু সরু হাত পা টিম ক্লাম্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।

xxxHOLIC 6

Anime Suggestion: Joshiraku — Imamul Kabir Rivu

শৌয়া গেনরোকু রাকুগো দেখে অনেকেরই হয়তো রাকুগো নিয়ে আগ্রহ জেগেছে । রাকুগো নিয়ে আরেকটি আনিমে আছে কিন্তু, তা জোশিরাকু । তবে এটা নামে মাত্র রাকুগো নিয়ে যদিও, কেননা রাকুগো নিয়ে বলার চেয়ে ৫ জন রাকুগো পারফর্মারের দৈনন্দিন জীবনের কাহিনী বলাটা বেশি মানানসই । পুরা আনিমেতে রাকুগোর দেখা পাবেন সুধু প্রতি পর্বের শুরুর দিকে । এরপর থেকে মারি, তেতোরা, কিগু, গান-চান এবং কুকুরুরা মিলে কি করে সেটাই পুরা পর্ব জুড়ে দেখানো হয় ।

Joshiraku

দেখতে মনে হয় কিউট গার্ল্স ডুইং কিউট থিংস তবে ঔ কাতারের আনিমের তুলনায় এই আনিমেটির কমেডিক এলিমেন্ট বেশ ম্যাচিউর । এছাড়া নানা বিষয় নিয়ে প্যারোডিও করা হয়েছে আনিমেটির মধ্যে । এই প্যারোডিগুলা ঠিক আনিমের চেয়ে বাস্তব জিনিশের পরিমান বেশি ।

ওপেনিং-এন্ডিং দুটা দেখেই বেশ মজা পাবেন । এটার এন্ডিংটা নিয়ে বহু প্যারোডিও আছে, যা ইউটিউবে গেলেই পাবেন ।

৫ জনের সেইয়ূও এখন বেশ পরিচিত নাম হলেও এই আনিমের রোলগুলা দিয়েই উঠে আসার পথ চলা, যদিও গান-চানের কণ্ঠ অভিনেত্রী নানজৌ ইয়োশিনো এর আগেই কাতেকিয়ো হিটম্যান রিবর্নের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ইউনির কণ্ঠ দিয়েছেন এবং এখন হয়তো লাভ লাইভ আর এর সাথে ফ্রিপসাইডের জন্যই বেশি পরিচিত । ওহ্ আর বাকি ৪ জন হল গোতৌ সাওরি, কোয়াই কোতোরি, সাকুরা আয়ানে এবং ইয়ামামোতো নোযোমি ।

১২ পর্বের হালকা ধাঁচের স্লাইস অফ লাইফ-কমেডি আনিমে । সময় নিয়ে দেখে ফেলতে পারুন । ওহ্, আর এই আনিমে এবং সায়োনারা যেৎসুবৌ সেনসেই-এর অথর কিন্তু একই ব্যক্তি ।

মাঙ্গা রিএকশান: The Flowers Of Evil — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

এ মাঙ্গা নিয়ে আগে বেশ কয়েকটা পোস্ট দেখে আমি আগ্রহী হয়ে পড়তে শুরু করলাম আকু নো হানা। পড়া শেষ করার পর আমার মনে হলো অসাধারণ কিছু পড়া শুরু করেছি এবং তা ছিলোও কিন্তু শেষে গিয়ে ভাবলাম যে আরো অস্থির কিছু হতে পারত ।

The Flowers Of Evil 1
মাঙ্গার মেইন ক্যারেকটার তাকাও কাসুগা , এক মাধ্যমিক পড়ুয়া বইপোকা । ছেলে সবদিক দিয়ে ভালো এবং ক্লাসের এক সুন্দরী সহপাঠী নানাকো সায়েকির উপর ক্রাশ খাওয়া । তো একদিন ক্লাস থেকে বের হবার সময় দেখে যে নানাকোর জিমের পোশাক নিচে পরে আছে এবং কেমন করে জানি এই ভালো ছেলে তাকাও সেই পোশাক অনিচ্ছাকৃত ভাবে চুরি করে ফেলে । তো ভালো ছেলে হওয়ায় আত্নগ্লানিতে সে প্যারনয়েড হয়ে ওঠে এবং মড়ার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে সে নজরে পরে যায় ক্লাসের পাগলী স্যাডিস্ট মেয়ে সাওয়া নাকামুরার খপ্পরে যে তাকে পোশাক চুরি করতে দেখেছে এবং তাকে সেটা নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে গিয়েও না করে একধরনের মানসিক টর্চার শুরু করে !তাকাও পাগলপ্রায় হয়ে উড়াধুরা কাজ শুরু করে এবং অবস্থা আরও খারাপ হয় যখন নানাকো তাকাওর কাছে আসতে চায় ।

The Flowers Of Evil 2
মাঙ্গার ফেস্টিভালের ইনসিডেন্ট পর্যন্ত আমার অস্থির লেগেছে । কিন্তু তাকাও এর চেইন্জ আর ভালো লাগেনি । আর লাস্ট পর্যন্ত সবশেষে ওই হ্যাপি এন্ডিং । আমি ভাবছিলাম পরে নাকামুরা আরও অস্থির বা ডেন্জারাস কিছু হবে । তবে স্বপ্নের ব্যাপারটা অস্থির ছিল । আর নাকামুরাকে ভাল লাগসে কারন সে ছিল ট্রু স্যাডিস্ট । আমি যখন জ্বলবো তখন আশেপাশের সবাইকে নিয়ে জ্বলবো । এরকম সোসাইটি থেকে বিচ্ছিন্ন স্যাডিস্টদের মানসিকতা নাকামুরার মধ্য দিয়ে দেখেছি ।
সবশেষে মাঙ্গাটা সত্যি খুবই ভালো লেগেছে । এরকম থ্রিলিং জিনিস পড়তে খুবই ভালো লাগে । আর্ট কোয়ালিটিও যথেষ্ট ভালো ! এবং ক্যারেক্টার গুলো যে মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে ,তা মাঙ্গায় ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ।যারা পড়েননি তারা পড়ে ফেলুন , আপনার সময়টা নষ্ট হবে না বলতে পারি!!

The Flowers Of Evil 3

সাতৌগাশি নো দানগান ওয়া উচিনুকেনাই: এ ললিপপ অর এ বুলেট [রিকমেন্ডেশন] — Fatiha Subah

সাতৌগাশি নো দানগান ওয়া উচিনুকেনাই: এ ললিপপ অর এ বুলেট
ইংরেজি নামঃ সুগার ক্যান্ডি বুলেটস ক্যান্ট পিয়ারস এনিথিং
জানরাঃ সাইকোলজিক্যাল, শৌনেন, ড্রামা, স্কুল
ভলিউমঃ ২টি
চ্যাপ্টারঃ ১৩টি
অবস্থাঃ সমাপ্ত
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.২৩
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

সাধারণত আমি রেকমেন্ডেশন লেখার চেয়ে রিভিউ লেখাটা ভালো মনে করি। একটা সিরিজ নিয়ে যদি লিখবই তবে ভাল-খারাপ সব খুঁটিনাটি নিয়ে একটা রিভিউই লিখি। রেকমেন্ডেশনের কাজটা তো ওটার সাথেই হয়ে যায়। কিন্তু এই মাঙ্গাটার ক্ষেত্রে কথাটা খাঁটাতে পারছি না। সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার-স্যাপার এর আগেও কিছু দেখেছি, পরেছি। মনস্তত্বের উদ্ভট সব জিনিস সম্পর্কে জেনেছি। কিন্তু কোনটাই আমাকে এই মাঙ্গাটার মত বাকরুদ্ধ করতে পারেনি। এতটাই বাকরুদ্ধ হয়েছি যে আজো সেই বাকরুদ্ধ ভাব থেকে বেড়িয়ে আসতে পারিনি। এরকম একটা মাঙ্গা নিয়ে ঠিক কিভাবে রিভিউ লিখলে সেটার একটা সুন্দর বিশ্লেষণ পাঠকদের কাছে পৌঁছাবে তা আমার জানা নেই। তাই বলে এত ভালো একটা মাঙ্গা সবার চোখের আড়ালে থেকে যাওয়াটাও হবে দুঃখজনক। তাই এটা নিয়ে একটা রেকমেন্ডেশনই লিখে ফেললাম।

গল্পের শুরুটা হয় সাদামাটা ভাবে। আমাদের খুব বেশি পরিচিত একটা প্রেক্ষাপটঃ ক্লাসে বদলি হয়ে আসা নতুন স্টুডেন্ট প্রধান চরিত্রের সাথে কোনভাবে জড়িয়ে যাবে। ক্লাসের সব ছেলেমেয়েরা যখন পড়ালেখা করবে না কিন্তু সুন্দর ইউনিফর্ম পড়ে কোন হাই স্কুলে যাবে এই স্বপ্নে বিভোর তখন নাগিসা ইয়ামাদা’র সময় কিংবা ইচ্ছা কোনটাই নেই সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেবার। একই বয়সের বাকি সবাই যখন কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতে ব্যস্ত তখন নিষ্ঠুর বাস্তবতা নাগিসাকে বাধ্য করে তার পরিবার আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে। নাগিসার বাবা মারা গেছেন। বাবার রেখে যাওয়া ইনস্যুরেন্সের টাকা ফুরিয়ে গেছে। তার পুরো পরিবার তার মায়ের একার পার্ট-টাইম জবের আয়ের উপর নির্ভরশীল। পুরো পরিবার বলতে আর আছে নাগিসার বড় ভাই তোমোহিকো যার কিনা কথা ছিল পরিবারের দেখাশোনা করার। হাই স্কুলে থাকাকালে উজ্জ্বল ছাত্র হলেও তোমোহিকো পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে ঘরকুনো হয়ে যায়, সে এখন শুধু অদ্ভুত সব জিনিস সংগ্রহ করে আর বই পড়ে। ভাইয়ের এই দ্বায়িত্বহীনতার কারণে সব চাপ নাগিসার ঘাড়ে এসে পড়লেও সে তবু তার ভাইকে অনেক শ্রদ্ধা করে এবং ভালোবাসে। তার এখন লক্ষ্য শুধু একটাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মিডেল স্কুল পাশ করে তার ছোট্ট শহরের সীমান্তে অবস্থিত সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সে যোগদান করবে। সে হতে চায় “বুলেট”। বুলেটের মত সজরে নিজের শক্তিতে বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে ছুটে যাবে। সাধারণ মেয়েরা যে মিষ্টি মিষ্টি বা “সুগারি” ধরণের বিলাসিতা করে সেসব তার জন্য নয়।

একদিন নাগিসার ক্লাসে আসে একটি নতুন মেয়ে। মেয়েটির নামটা অদ্ভুত, উমিনো মোকোযু। “উমি নো মোকোযু” এর অর্থ হল সামুদ্রিক শৈবালের ক্ষুদ্র বর্জ্য অংশ। আর শুধু “মোকোযু” শব্দটার মানে “সাগরে মৃত্যু”। এই অদ্ভুত নামের মেয়েটা তার চেয়েও অদ্ভুত। সে সোজা সবাইকে বলে দেয় সে নাকি কোন মানুষ না। সে একজন মৎস্যকন্যা! সে তার পরিবার, জাপানের সাগরের মাছদের কাছে শুনেছে মানুষ নাকি একটা বোকা, মুর্খ প্রজাতির প্রাণী যারা অনুভূতির বশে হারিয়ে যায়। কিন্তু মানুষেরা ঠিক কতটা বোকা? তাদের জীবনের কি কোন মূল্য আছে? তারা মরে গেলেই কি বেশি ভালো হত? এসবের উত্তর জানতেই সে সাগর থেকে মানুষের পৃথিবীতে চলে এসেছে। সবাই বলাবলি করতে থাকে মোকোযু এক সময়ের জনপ্রিয় একজন সেলেব্রিটি উমিনো মাসাচিকার মেয়ে যেটা মোকোযু অস্বীকার করে। বাস্তববাদী নাগিসা স্বভাবতই পাগলাটে মোকোযুকে পাত্তা দেয়না। কিন্তু বিধিবাম। মোকোযু নাগিসার পিছে লাগে। তাকে অনুসরণ করতে থাকে। সে নাগিসাকে বলে যে তার আসল লক্ষ্য নাকি অন্য। সে একটি সত্যিকারের বন্ধু খুঁজতে এসেছে। একজন ভালো বন্ধু যে কিনা তার জন্য সবকিছু করতে রাজি থাকবে। যদি তার এই ইচ্ছা পূরণ না হয় তাহলে সে সামুদ্রিক শৈবালে পরিণত হয়ে ফেনায় হারিয়ে যাবে। নাগিসার শহরটায় প্রতি ১০ বছরে একটা করে বড় ঝড় হয় যেটা আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয় না। শীঘ্রই আসছে সে ঝড়ের আগেই মোকোযুকে খুঁজে বের করতে হবে একজন বন্ধু। সে চায় নাগিসাই হবে সেই বন্ধুটা। একে তো মোকোযু আবলতাবল অবাস্তব সব কথা বলে তার উপরে ঠিক ১০বছর আগে এমন এক ঝড়ই কেড়ে নিয়েছিল নাগিসার বাবাকে। প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে নাগিসা মোকোযুকে এড়িয়ে যেতে থাকে। তবু মোকোযু নাগিসার পিছু ছাড়ে না। “সুগার বুলেটের” মত মোকোযুর কথাগুলো বিঁধতে থাকে নাগিসাকে। অনেক অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু কারণে নাগিসাকে জড়িয়ে যেতে হয় মোকোযুর সাথে। নিজের ভাইয়ার সাথে মোকোযুকে নিয়ে কথা বলে, মানুষের মানসিকতার কিছু আজব তথ্য জানে। এরপর সে নিজের অজান্তেই জড়িয়ে যায় মোকোযুর জীবনের সাথেও। সবসময় হাসিখুশি, আজগুবি আর পাগলামো আচরণ করা মেয়েটার পেছনের কারণটা কি? আর মোকোযুর বাবা মাসাচিকার মৎস্যকন্যা নিয়ে গাওয়া প্রথমে রোমান্টিক কিন্তু পরে পাশবিক হয়ে যাওয়া ওই গানটারই বা রহস্য কি?

মাঙ্গাটি একই নামের একটি লাইট নোভেল থেকে রূপান্তরিত। মাঙ্গাটির আর্ট ভালো আছে। তবে স্লাইস অফ লাইফের মত কাহিনী খুব ধীর গতিতে শুরু হয়। প্রথমে এমনও মনে হয় যে এতে তো কোন নতুনত্ব নেই। কিন্তু এরপরে গিয়ে আস্তে আস্তে সব প্রকাশ হতে থাকে। আর শেষে যা অপেক্ষা করছে ওটা একটা বিশাল বড় ধাক্কা। একদম লাইটহার্টেড মাঙ্গাটা শেষে গিয়ে ডার্ক হয়ে যায় যেটা হতভম্ব করে দিবে। তাই শুরুতে বোরড হলেও ড্রপ করবেন না। মাত্র ১৩টি চ্যাপ্টারই তো।

শেষ করব তোমোহিকোর একটি ধাঁধা দিয়ে। একজন লোকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তার এক সহকর্মীর সাথে তার স্ত্রীর দেখা হয়। খুব তাড়াতাড়ি তাদের মাঝে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। বরং বলা উচিত তাদের মাঝে পারস্পরিক আকর্ষণ তৈরি হয়। ঠিক সেই রাতেই মৃত লোকটির ছেলেটিও খুন হয়। জানা যায় খুনিটি ছিল সেই স্ত্রী। সে হঠাৎ করেই তার ছেলেকে খুন করল। কিন্তু কেন? আপনি কি ভাবছেন তা আমি ধারণা করতে পারি। কিন্তু উত্তরটা তা না। তোমোহিকোর ভাষ্যমতে ভুল উত্তর দেওয়ার মানে হল আপনি একজন স্বাভাবিক মানুষ। আর যারা ঠিক ধারণা করেছেন তারা হতে পারেন ভবিষ্যতের বড় বড় খুনি!! কিন্তু কি সেই উত্তরটা? মানসিকতায় কি এমন তফাৎ? জানতে হলে পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি।

Lollipop or Bullet

কামিচু! [রিভিউ] — Anirban Mukherjee

কামিচু!
আনিমে টেলিভিশন সিরিজের পরিচালক :- কোজি মাসুনারী
এপিসোড সংখ্যা:- 16 টি ।

Kamichu 3

গল্পের আরম্ভ অনেক আগে, যখন আমাদের জীবনটা কোন স্মার্ট ফোনের হাতে ফেলে দিয়নি, ফেসবুক আমাদের আর একটা জীবন হয়ে ওঠেনি, পার্সোনাল কম্পিউটারে ছেয়ে যায়নি পৃথিবী ।অথবা আমাদের তখন অস্তিতই ছিলো না, গল্পের শুরু যে বছরে, সে বছরে মোটোরোলা প্রথম বানিজ্যিক মোবাইল ফোন মোটোরোলা ডায়না টিএসি ৮০০০এক্স বাজারে ছাড়ে,আবার অ্যাপলের ম্যাকিনটোশ পার্সোনাল কম্পিউটার আসতেও একবছর দেরী, সেই বছরই আবার ইন্টারনেটের অফিসিয়াল জন্মবছর,সেই বছরই পৃথিবীর চ্যালেঞ্জার মহাকাশ ফেরির প্রথম যাত্রা, যা ছয়বছর তার শেষ যাত্রা সমাপ্ত করবে তার দশ নম্বর উড়ানে, সাত জন মহাকাশচারীর জীবন সঙ্গে নিয়ে। জাপানের প্রথম টোকিও ডিজনিল্যান্ড সেই বছরেই খোলে, বছরটা 1983 ।আরও ভালো করে বলতে গেলে 1983 এর এক রঙিন বসন্ত গল্পের শুরু, শেষ হয় পরের বসন্তে।

জাপানের শিন্তো ধর্ম খুবই প্রাচীন। অন্যসব প্যাগান ধর্মের মতই এই শিন্তো ধর্মও প্রকৃতি থেকে নিজের উপাদান, দার্শনিক মত, মিথোলজি নিয়েছে। অন্য সব ধর্মের মতনও শিন্তো প্রভাবিত করেছে জাপানের অন্যান্য কালচারাল মাধ্যমকে, প্রভাবিত করেছে জাপানের চিত্রকলা, উপকথা, কবিতা বা বর্তমানে আনিমে, ভিডিওগেম, মাঙ্গা, সাহিত্য সব জায়গায়। শিন্তো ধর্মে দেবতা এবং দেবী, উভয়দেরই কামি বলা হয়। এটা একটি উভয় লিঙ্গ শব্দের উদাহরন। আবার আত্মা, সর্বোচ্চ ঈশ্বর বোঝাতেও কামি শব্দটা ব্যাবহার হয়। একটা শব্দের অনেক অর্থ।

Kamichu 4

টোকিও থেকে সাতশো চৌত্রিশ কিলোমিটার দূরে হিরোসিমা প্রিফেকচারে শিটো ইনল্যান্ড সমুদ্রের ধারে অনমিচি একটা সুন্দর শহর। শহরকে দুভাগ, তিনভাগ করেছে নদীর মতো সমুদ্রের কয়েকটা অংশ, সৃষ্টি করেছে ছোটবড় বেশ কয়েকটা সুন্দর দ্বীপের। দ্বীপগুলোর মধ্যে যাওয়া আসার জন্য আছে ফেরি সার্ভিস।
গল্পের মূল চরিত্র, ইয়ুরি হিতত্সুবাসী,শহরের একটা মিডল স্কুলের ছাত্রী ,হটাৎ একদিন টিফিনের সময়ে, তার অন্যতম প্রিয় বান্ধবী মাত্সুরিকে বলেই ফেলল কথাটা “সে একজন কামি(দেবী)।”

নিজের হাতে দুধের প্যাকেটের মধ্যে স্ট্র ঢোকাতে ঢোকাতে মাৎসুরি অতি স্বাভাবিকভাবে জিজ্ঞাসা করলো “কিসের দেবী ?”

আনিমের এই শুরুটা যেকোনো মনোযোগী এনিমখোরকে অবাক করে দিতে পারে ।অথবা সিরিজে দুই বান্ধবীর মধ্যে কথোপোকথন দিয়ে শুরুটা অনেকটা ফ্রান্ৎস কাফকার মেটামরফোসিসের প্রথম বাক্যটা মনে করিয়ে দিতে পারে, গ্রেগর সামসার এক স্বপ্নবহুল ঘুম থেকে জেগে উঠে নিজেকে এক বিশাল পোকায় পরিনত লাভ করা যেমন গ্রেগরের কাছে অতি স্বাভাবিক ব্যাপার,তবুও সে অফিসের যাওয়ার জন্য ভেবে যাচ্ছে। সেইরকমই নিজেকে বা কোন বান্ধবীকে একজন দেবী হিসাবে জানা অতি স্বাভাবিক, রোজকেরে ব্যাপার ।

Kamichu 2

প্রথম এপিসোডে দেখব , ইয়ুরি তার দুই প্রিয় বান্ধবী মাত্সুরি আর মিত্সুএ এর সঙ্গে মাৎসুরিদের পারিবারিক শিন্তো মঠে যায় ,সে কোন বিষয়ের দেবী জানার জন্য ।আবার নিজেদের স্কুলের ছাদেও চলে তিন বন্ধু র পরীক্ষা ,তারা দেখতে চায় ইয়ুরির কীরকম শক্তি, টিভির সুপারহিরোদের মত পরীক্ষার ব্যবস্থা, কিন্তু কিছুই হয়না ।যদিও তখনই পরিচালক আমাদের দৃষ্টিকে শিটো উপসাগরের তীরের শহর থেকে দূর প্রশান্তের বুকে নীল জলের উপর ভাসমান একটা নৌকাতে নিয়ে গিয়ে ফেলে, কোনও অজানা কারনে সেই নৌকার পালে টাঙানো একটা কাপড়ের টুকরো দুলে ওঠে, কাকতালীয় ভাবে, হয়ত হাওয়ায়!!!!
সেই ছাদেই পরিচয় হয় কেনজি আর ইয়ুরির।কেনজি স্কুলের ক্যালিগ্রাফি ক্লাবের একমাত্র সদস্য (এবং প্রেসিডেন্ট)।
সেই রাত্রিতেই ইয়ুরি তার দেবীত্বের পরিচয় পেয়ে যায়, তৈরি করে ফেলে বিশাল একটা টাইফুন,কেনজি আবার সেই টাইফুনের কবলে পড়লে তাকে ইয়ুরি বাঁচায়।

পরের এপিসোডে, মাত্সুরি, আর তার বোন ঠিক করে তাদের নতুন দেবীর সম্মানে একটা উৎসব আয়োজন করবে তাদের শিন্তো মঠে। কিন্তু দেখে মঠের আরাধ্য দেবতা য়াশিমা নেই!! তো, ইয়ুরি যায় দেবতাদের জগতে, য়াশিমাকে ফিরিয়ে আনতে।

Kamichu 5

এইরকম আরও ভালো ভালো গল্প দিয়ে এগিয়েছে 2005 এ তৈরি কামিচুর পরবর্তী এপিসোডগুলো, এসেছে নতুন নতুন চরিত্রের সঙ্গে। যেমন য়াশিমা সামা, শহরের লোকাল কামি বা দেবতা। বা বিন চান, আর এক কামি, যে ইয়ুরির বিড়াল তামার শরীরে আশ্রয় নেবে।
গোটা আনিমেটা আমার কাছে মিথোলজি, ম্যাজিক রিয়ালিজম আর কমেডির সুন্দর সংমিশ্রণ লেগেছে। এনিমেশন খুবই ভালো, বেশ সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড দৃশ্য। ঐ ব্যাকগ্রাউন্ড দৃশ্যে যেসব শিন্তো মঠ মন্দির, প্রতিষ্ঠান দেখা গেছে সেগুলো অনমিচি শহরে আজও দেখা যাবে।
ইয়ুরির গলা দিয়েছে ভয়েস একট্রেস মাকো, এটা তার প্রথম কাজ ছিলো।
আনিমেটা কোনও মাঙ্গা থেকে তৈরি নয় বরং আনিমে সিরিজ থেকেই একট সমনামী মাঙ্গা তৈরি হয়েছে। শিন্তো ধর্মের মিথ ব্যাবহার করে কামিসামা কিস, নোরোগামীর মত জনপ্রিয় আনিমে তৈরি হয়েছে। যাদের এগুলো পছন্দ, তাদের আশাকরি অবশ্যই কামিচু পছন্দ হবে।

Kamichu 1

দেনপা তেকি না কানোজো [রিভিউ] — Imamul Kabir Rivu

—রিভিউ—

আনিমে – দেনপা তেকি না কানোজো
পর্ব – ২
জনরা – মিস্টেরি, থ্রিলার

দেনপা তেকি না কানোজো মূলত একটি ২ পর্বের এক এক্সেপশনাল ওভিয়ে । এবং এর কাহিনী এক বাক্যে, দুই প্রধান চরিত্র জুযাওয়া জূ এবং ওচিবানা আমের ২ পর্ব ধরে ২ টি কেস সল্ভ করার কাহিনী । তবে এর কিন্তু কোন ডিটেক্টিভ ডুয়ো না বরং বুঝতে উঠে পারার আগেই তারা কেসটির সাথে জড়িয়ে যায় ।

কাহিনীর শুরু হয় ঠিক কিভাবে জুযাওয়া জূ-এর সঙ্গে ওচিবানা আমের মিল হয় ও থেকে । ওচিবানা আমে হঠাৎ এসে হাজির হয় জূ-এর সামনে এবং সে বলে সে জূ-এর সাথে তার পূর্ব জন্মে পরিচিত ছিল তাই তাকে এখন থেকে সার্ভেন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে । প্রথমে জূ বিষয় এটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ঘটনাক্রমে মেনে নেয় ।

এবার আসি মূল কাহিনীতে । আগেই বলেছি, ২ পর্বে ২ টি ভিন্ন কেস । প্রথমটা বেশ টিপিকাল, দ্বিতীয় বেশ এক্সেপশনাল । প্রথমটার কাহিনী ঠিক এক সিরিয়াল কিলারকে নিয়ে । এই সিরিয়াল কিলার জ-এর নজরে আসে তার এক ঘনিষ্ট বন্ধের খুনের পর । প্রথমে ওচিবানা আমেকে সন্দেহ করলেও ঘটনাক্রমে বের হয়ে আসে আসল দোষী কে, তবে তা দেখে নেওয়ার কাজ আপনার । দ্বিতীয় পর্বটির কাহিনী ঠিক একটি মেয়ের ট্রমাকে ঘিরে । তার ট্রমার সাথে খানিকটা ওয়ারিমোনোগাতারির দ্বিতীয় আর্কে ঔকুরা সোদাচির ট্রমার সাথে কিছুটা মিল আছে, যাদের ওয়ারিমোনোগাতারি দেখা আছে তারা হয়তো কিছুটা ধরতে পেরেছেন । এ কাহিনীটা আমার বেশ ভালো লেগেছিল । কাহিনীটির মাঝে এক বড় টুয়িস্ট আছে । এবং সুধু তাই নয় ঠিক শেষের দিকে আরেকটি টুইস্ট । আগেই বলে দেই ওভিয়েটির এন্ডিংটা বেশ শকিং ।

আর্টটা বেশ ভালো ছিল । তবে এখানে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড ডিটেইলিং-এর উপর । ক্যারেক্টার ডিজাইনটা মোটামোটি তবে ব্যাকগ্রাউন্ড এবং চারপাশে পরিবেশ বেশ অসাধারণ ছিল । এর কোন ওপেনিং তবে ২ পর্বে ২ টি ভিন্ন এন্ডিং । ২ টি এন্ডিংই বেশ সুন্দর ছিল, বিশেষ করে দ্বিতীয় এন্ডিংটা বেশ সুন্দর এবং ইমোশোনাল ছিল ।

চরিত্রগুলোকেও বেশ ভালো লাগবে । কোন এক্সেপশনাল চরিত্র নেই । আর বাকি সাধারণ আনিমেগুলোর চরিত্রের ব্যক্তিত্বই এই আনিমের চরিত্রেগুলোর মাঝে বিদ্যমান । ২ পর্বে চারিত্রিক উন্নতি দেখানো প্রায় অসম্ভব, তাই তেমন কোন চারিত্রিক উন্নতি ২ টা পর্বে নজরে পরবে না ।

এবার আসি সেইয়ূদের কথায় । হিকারু এবং ফুজিশিমা কানাকো বাদে বাকি সবার সেইয়ূই ছিল অভিজ্ঞ এবং খ্যাতিমান । আমার কার কোন সেইয়ূ তা বের করতে নেটের কোন সাহাজ্যই লাগে নাই । না দেথেই বলে দেওয়া যায় যে জুযাওয়া জূর কণ্ঠ দিয়েছেন হোসোয়া ইয়োশিমাসা এবং ওচিবানা আমের কণ্ঠ দিয়েছেন হিরোহাশি রিয়ৌ । এছাড়া কাস্টে আরও ছিল কোশিমিযু আমি, উয়েদা কানা, সাইগা মিৎসুকি, কোবায়াশি ইয়ূ, নাকাহারা মাই এবং কিতামুরা এরিদের মত অসাধারণ কণ্ঠ অভিনেত্রীরা । মাত্র ২ পর্বের জিনিশে এরকম নামি-দামিদের দিয়ে কাজ করানো বেশ ভালো জিনিশ । শেষমেশ, সাইগা মিৎসকি বাদে বাকি সবায়ই আমার প্রিয় সেইয়ূ ।

৪ পর্বের সমান মাত্র ২ পর্বের ওভিয়ে, কেননা প্রতি পর্ব ৪০ মিনিট করে । অল্প সময়ের মধ্যে কোন ভালো মিস্টেরি আনিমে দেখতে চাইলে দেখে ফেলুন দেনপা তেকি না কানোজো ।

denpa teki no kanojo

মাঙ্গাকা কথন – ০১

উরাসাওয়া নাওকি

1

উরাসাওয়া নাওকির নাম শুনলেই যে জিনিসটি আমাদের চোখের সামনে ফুটে উঠে তা হল “মনস্টার”। মূলত সে তার মনস্টার মাঙ্গার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। কিন্তু মনস্টার ছাড়াও তার লেখা অনেক উল্লেখযোগ্য মাঙ্গা রয়েছে। তো তার কাজ সম্পর্কে পরে জানছি। তার আগে চলুন তার সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে আসি।

উরাসাওয়া নাওকির জন্ম ০২ জানুয়ারি, ১৯৬০ সালে। খুব ছোটকাল থেকেই তার মাঙ্গাকা হয়ার স্বপ্ন ছিল। যখন তার বয়স পাঁচের ঘরে, তখন থেকেই সে ওসামু টেজুকার আঁকা বিভিন্ন চিত্রকল্প নিজে নিজে আঁকার চেষ্টা করত। এছাড়া তার আঁকা-আকি করার অনুপ্রেরণার জেগেছিল ফরাসি চিত্রশিল্পী মবিয়াসের কাজগুলো দেখে। এভাবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার মাঙ্গা আঁকার প্রতি আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়। কিন্তু জীবনের এক পর্যায়ে এসে সে হতাশায় ভুগে তার মাঙ্গাকা হয়ার স্বপ্নকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে সে “মেইসেই বিশ্ববিদ্যালয়” থেকে ইকোনমিক্সে ডিগ্রি লাভ করে তার শিক্ষাজীবনের অবসান ঘটান। ঠিক তখনকার ঘটনা, হটাৎ একদিন মাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রির একজন এডিটর এসে তার সাথে যোগাযোগ করেন। সেই এডিটর আগে থেকেই উরাসাওয়ার প্রকাশিত কিছু চিত্রকল্প দেখেছিল। আর সেখান থেকেই তার উরাসাওয়ার সাথে কাজ করার প্রতি উৎসাহ জাগে। উরাসাওয়া চিন্তা ভাবনা করে তার প্রস্তাবে রাজি হয় এবং ১৯৮১ সালে Return ও ১৯৮৩ সালে Beta!! নামক এই দুইটি ওয়ান-সট পাব্লিশ করার মধ্য দিয়ে ‘মাঙ্গাকা জগতে’ উরাসাওয়ার যাত্রা শুরু হয়।

2

উরাসাওয়া ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাঙ্গাকা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। তাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা মাঙ্গাকা বলা হয়ে থাকে এবং তার কাজগুলো মাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিতে এক নতুনত্বের প্রভাব ফেলেছে। সে তার মাঙ্গাকা ক্যারিয়ারে রোমান্টিক-কমেডি, স্পোর্টস, থ্রিলার, মিষ্টেরি, সাইকোলজিক্যাল, সাই-ফাই সহ বিভিন্ন ধরণের জনরা নিয়ে কাজ করেছে। Monster এর পাশাপাশি তার আরেকটি নামকরা মাঙ্গা রয়েছে আর তা হল 20th Century Boys। আবার সে ওসামু টেজুকার সাথে Pluto নামক মাঙ্গা নিয়েও কাজ করেছে। এছাড়া তার অন্যান্য কাজগুলোর মধ্যে Yawara!, 21st Century Boys, Master Keaton, Master Keaton Remaster, Happy!, Billy Bat এগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া NASA, Dancing Policeman, Jigoro!, Pineapple Army ও Shoki no Urasawa নামক কিছু ছোট মাঙ্গাও রচনা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে সেরা কাজগুলো হল Monster, 20th Century Boys এবং Pluto। পার্সোনালি আমার কাছে তার Monster ও 20th Century Boys এই মাঙ্গা দুইটি সবচেয়ে ভাল লেগেছে। Big Comic Original ও Big Comic Spirits ম্যাগাজিন দুইটি দীর্ঘদিন ধরে তার প্রকাশিত মাঙ্গাগুলোর এক বিশাল অংশ পাব্লিশ করে এসেছে।

এখন পর্যন্ত উরাসাওয়ার প্রকাশিত Yawara!, Master Keaton এবং Monster এই তিনটি মাঙ্গা এনিমে অ্যাডাপটেড হয়েছে। এছাড়া তার 20th Century Boys মাঙ্গাটি ৩ পার্টের লাইভ-অ্যাকশান মুভি হিসেবে অ্যাডাপটেড হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতে তার মনস্টার মাঙ্গার টিভি সিরিজ অ্যাডাপশনও হতে পারে (http://goo.gl/iIv7uj)। আর উরাসাওয়া নিজে Tibet Inu Monogatari নামের একটি এনিমে মুভির ক্যারেক্টার ডিজাইনেও কাজ করেছেন।

উরাসাওয়া নাওকির কাজগুলোর মধ্যে এক ধরণের বিশেষত্ব রয়েছে। তার সব কাজগুলো বাস্তবধর্মী এবং গভীরভাব সম্পন্ন। বিশেষ করে তিনি থ্রিলার-মিস্টেরি মাঙ্গা খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারে, আর তার বাস্তব উদাহরণ হল তার Monster ও 20th Century Boys মাঙ্গা। সে তার কাজগুলোর জন্য এখন পর্যন্ত তিনবার “সোগাকুকান মাঙ্গা অ্যাওয়ার্ড”, দুইবার “টেজুকা ওসামু কালচারাল প্রাইজ” এবং একবার “কোদানসাহ মাঙ্গা অ্যাওয়ার্ড” পেয়েছে।

3

উরাসাওয়া নাওকি কিন্তু মাঙ্গাকা ক্যারিয়ারের পাশাপাশি একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। সে “বব লেনন” স্টেজ নামে “কেঞ্জি নো উতা” নামের একটি গানও রচনা করেছেন (https://goo.gl/3KxP7y)। তিনি ২০১২ সালের জাপান এক্সপোতে “হেমেনওয়ে” নামের এক রক ব্যান্ডের সাথে লাইভ পারফর্মও করেছেন (https://goo.gl/SqBm6B)। আর তার শিক্ষাকতার ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৮ সালে “নাগোয়া জোকেই” বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট-টিচার হিসেবে। সেখানে তিনি মাঙ্গা নিয়ে একটি কোর্সের উপর শিক্ষকতা করেন।

“উরাসাওয়া নাওকি” মাঙ্গা জগতের এক অনবদ্য নাম। তিনি যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে তার কাজগুলোর মাধ্যমে বেঁচে থাকবে। বর্তমানে সে তার Billy Bat মাঙ্গার কাজ নিয়ে ব্যাস্ত। আশা করি, তিনি ভবিষ্যতে আমাদের আরও অনেক দারুন দারুন মাঙ্গা উপহার দিবেন।

ইয়োতসুবাতো! (Yotsubato!) [মাঙ্গা রিভিউ] — Zuhayer Anjun Dhruba

মাঙ্গা:ইয়োতসুবাতো! ( Yotsubato! )
ভলিউম : ১৩
চ্যাপ্টার : ১০১
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং :৮.৯
আমার রেটিং : ৯
র‍্যাংক : ১৭
জনরা: Comedy, Shonen, S­­­lice of Life

মাঙ্গাটির প্রধান চরিত্র ইয়োতসুবা কোইওয়াই (Yotsuba Koiwai)। প্রতিটি দিনকে সবচেয়ে মজাদার ও উপভোগ্য করে তোলে সে। প্রতিটি কাজকে মজার সাথে করা, নতুন নতুন জিনিস শেখা, বড়দের মত ভাব করা এসব দেখে না হেসে থাকা যায় না।

গ্রীষ্মের রোদে মুখে হাসি নিয়ে সে শহরে পৌঁছাল। ৫ বছরে এর পিচ্চি মেয়েটি দাদীর বাসা থেকে বাবা ইয়োসকে কোইওয়াই (Yousuke Koiwai) এর সাথে শহরে আসে তাদের নতুন ঘরে। রাস্তায় বড় বিল্ডিং, স্কুল আর শহরের পরিবেশ দেখে সে খুশিতে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। নতুন বাসায় পৌঁছানোর পর দেখা হয় তার বাবার ছোটকালের বন্ধু জাম্বোর (Jumbo) সাথে। আস্তে আস্তে তাদের প্রতিবেশীদের সাথে পরিচিত হয় এবং নিমিষের মধ্যেই তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে ইয়োতসুবা। সাধারানত ইয়োতসুবার দিনের বেশিরভাগ মুর্হুত কাটে তার প্রতিবেশীদের সাথে। ইয়োতসুবার প্রতিবেশী হলো আয়াসে পরিবার (Ayase Family)। বাবা-মা আর ৩ বোন এর পরিবারে ইয়োতসুবাও একজন সদস্য। বড় বোন আসাগি আয়াসে (Asagi Ayase) দেখতে যত সুন্দর কাজকর্মেও তত ফাজিল। সবাইকে বিরক্ত করে বেড়ানো আর ইয়োতসুবার সাথে মজা করায় এক্সপার্ট। মেজো বোন ফুকা আয়াসে (Fuuka Ayase) পড়ালেখায় ভালো, কর্মঠ, দায়িত্বশীল এবং স্কুলে ভাইস প্রেসিডেন্ট। ফুকার দিন কাটে অন্যদের সেবা করে আর অড ধরনের T-shirt পরে। ছোট বোন এনা আয়াসে (Ena Ayase) ইয়োতসুবার কাছের বয়সের হওয়ায় সে আর তার বান্ধবী মিউরা হায়াসাকা (Miura Hayasaka) ইয়তসুবার সবচেয়ে ভাল খেলার সঙ্গী। স্বভাবে সবচেয়ে ভাল আর ইয়োতসুবাকে নানা ধরণের ভাল জিনিস সেখানো মাধ্যমে তাদের দিন আর মজার করে তোলে। ইনা আর মিউরার তৈরি কার্ডবোর্ড রোবট ডানবো (danbo) ইয়োতসুবার অনেক কাছের বন্ধু।

মাঙ্গাটি পড়ে প্রত্যকটি মুহুর্ত হেসেছি আর পরের চ্যাপ্টারে এই পিচ্চি কী কী মজা করবে তা জানার জন্য আগ্রহে পরের চ্যাপটার পড়ে ফেলেছি। বাবার সাথে ইয়োতসুবার মজা করা, তার জন্য আয়াসে পরিবারের ভালবাসা দেখে অনেক ভাল লাগে। এভাবে ইয়োতসুবার সাথে আরও অনেকজনের পরিচয়, তাদের সাথে মজা করা আর নতুন নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো ইয়োতসুবার প্রিয় কাজ, নতুন নতুন এডভেঞ্চারে যাওয়া সবই উপভোগ্য।

# মাঙ্গাটি কেন পড়বেন? “ইয়োতসুবাতো!” মাঙ্গাটার ভাষা সহজ, যে কেউই পড়তে পারবে। সবচেয়ে গুরত্বপুর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রত্যকটা চ্যাপ্টার মজার মজার জোক্স দিয়ে ভরা আর ইয়োতসুবার ভুল জাপানিজ ভাষা দেখে না হেসে থাকা যাবে না। আর্ট অনেক ভাল। ইয়োতসুবার কিউট কিউট কাজকর্ম আর নানান উৎসবে নানান ধরণের পোশাকে দেখে স্ন্যাপশট নেওয়া ছাড়া আর উপায় নাই। সময় নিয়ে মাঙ্গাটি পড়ে ফেলবেন। আর স্কেচটা কেমন হয়েছে বলবেন। ε( ε ˙³˙)з.。oO

yotsubato

Behind the Voices – 14

হোসোয়া ইয়োশিমাসা

হোসোয়া ইয়োশিমাসা সাধারণত তার এক্সেপশনালি ম্যানলি কণ্ঠের জন্য পরিচিত । সে সুধু মাত্র তার কণ্ঠ দিয়েই তার চরিত্রগুলার মধ্যে এক ইউনিক ভাইব তুলে ধরে । বেশির ভাগ সময়ে তার চরিত্রগুলো একটা ম্যানলি ইম্প্রেশন ফেলে যায় ফ্যানদের মাঝে, মূলত তার এই ম্যানলি কণ্ঠের জন্যেই । এমনে তিনি আমার সবচেয়ে প্রিয় সেইয়ূগুলার মাঝে তিনি একজন ।

২০০৪ থেকে ভয়েস অ্যাক্টিং-এর সাথে জরিত থাকলেও, তার স্ক্রিনটাইম পাওয়া কোন ভালো রোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০১০ পর্যন্ত । তার প্রথম মেজর রোল হল কাতানাগাতারির ইয়াসুরি শিচিকা । ঠিক তারপর থেকেই প্রতি বছর কোন না কোন অসাধারণ রোল পেয়েই যাচ্ছেন তিনি ।

আমি প্রথমে তার ভক্ত হই চিহায়াফুরুর ওয়াতায়া আরাতা, কুরোকো নো বাস্কেটের হিয়ূগা জুনপেই এবং স্ট্রাইক দি ব্লাডের আকাৎসুকি কোজৌ এই তিনটি রোলের জন্য । এরপর তার আরও যত রোল দেখি প্রায় সবই ভালো লাগা শুরু করে, সাধারণত কোন কণ্ঠ-অভিনেতার কাজ দেখে আমি এতটা ইম্প্রেস্ড হই নাই । যাই হোক তার আরও কিছু পছন্দের রোলগুলো হল কাতানাগাতারির ইয়াসুরি শিচিকা, আকামে গা কিলের ওয়েইভ, এস অফ ডায়ামন্ডের ইয়ুকি তেৎসুয়া, ডেথ প্যারেডের গিনটি, হাইস্কুল DXD-এর মিকাইল, ম্যাজাইয়ের মাস্রুর, ফ্রি-এর ইয়ামাযাকি সৌস্কে এবং হাইকিউয়ের আসাহি ।

1

তার গানের কণ্ঠও বেশ প্রখর । ইনু এক্স বকু, ফ্রি, কিমি নো ইরু মাচি, প্রিন্স অফ টেনিস এবং আরও কিছু আনিমের ওপেনিং অথবা এন্ডিং-এ অবদান আছে তার ।

তার কণ্ঠ অভিনয় বরাবরই বেশ ভাল্লাগে এবং তিনি তার কণ্ঠ অভিনয়ের মাঝে কেমন জানি এক ইউনিক ফিল আনতে পারে, যা অনেক নামকরা কণ্ঠ অভিনেতারাও পারে না । এছাড়া বছরের পর বছরের তার রোলের পরিমান বেড়েই চলছে । এই বছরেও আজিন, বুঙ্গৌ স্ট্রে ডগ্স, বকু নো হিরো অ্যাকাডেমিয়ার মত আনিমেতে কণ্ঠ দিবেন তিনি । সামনে যে ভালো ভালো রোল পাবেন তিনি তা একেবারে স্বচ্ছ । ওহ্, আর আজকে কিন্তু তার ৩৪ তম জন্মদিন 😉 ।

2

 

কানায়ে ইতৌ

কানায়ে ইতৌর কণ্ঠ নিয়ে যদি কোন মন্তব্য করতেই হয় তবে ‘অধিক কিউট’ বাদে আর কিছু মাথায় আসে না । এই পর্যন্ত তার যত রোল দেখেছি সবগুলা চরিত্রতেই তার কাজ এত সূক্ষ ছিল যে চরিত্রটির কিউটনেস হয়তো তার কণ্ঠের জন্যেই বেশ বেড়ে গিয়েছে । তার কণ্ঠে বেশ ফেমিনিন ভাব আছে এবং শুনতেও বেশ ভাল্লাগে ।

তার বেশ ভালো পরিমানেরই রোল আছে, যদিও আমি মনে করি তার আরও বেশি রোল থাকা উচিৎ । তার যে রোলগুলো বেশ ভালো লেগেছে তা হল বকু ওয়া তোমোদাচি গা সুকুনাই-এর নিকু ইয়ে মানে কাশিওয়াযাকি সেনা ( আমার মতে তার সেরা রোল এবং জনগণের মতেও ), কামি নোমি যো শিরু সেকাই-এর এলশি, ওদা নোবুনা নো ইয়াবৌ-এর ওদা নোবুনা, হাতারাকু মাও সামার সুযুনো, রেইলগান-এর সাতেন রুইকো, ওকামি-সান তো শিচিনিন নো নাকামাতাচি-এর আকাই রিঙ্গো, টু-লাভ রু-এর নানা ডেভিলিউক ।

3

তার গানগুলার সংখ্যাও বেশ বড় । আসোবি নি ইকু ইয়ো, বকু ওয়া তোমোদাচি গা সুকুনাই, কামি নোমি যো শিরু সেকাই, মায়োই নেকো, কুইন্স ব্লেড, শিনরিয়াকু ইকা মুসুমে, তাইশৌ ইয়াকিউ মুসুমে এবং আরও কিছু আনিমের ওপেনিং অথবা এন্ডিং অথবা ইনসার্ট সং হিসেবে তার গান ব্যবহার করা হয়েছে । ইচ্ছা থাকলে ইউটিউব ঘেটে শুনে নিতে পারেন, তার গানের গলাও বেশ সুন্দর ।

তার জন্ম নভেম্বর ২৬, ১৯৮৬ । ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আকি তোয়োসাকির বেশ ভালো বন্ধু যেহেতু তারা একসাথে বেশ অনেকগুলো আনিমেতেই কাজ করেছে ( আকি তোয়োসাকিকে অনেকেই চিনেন হিরাসাওয়া ইয়ুইর জন্য এছাড়া তাকে নিয়ে সেগমেন্টে না লিখলেও কোন একদিন পোস্ট দিসিলাম, সার্চ করে নিতে পারেন না দেখে থাকলে ) । কানায়ে ইতৌ সামনে আরও রোল পাবে এই আশা রইলো ।

4