অ্যানিমের কাছে আসার গল্প — রুফিয়াস মিলেনিয়াম

অ্যানিমের কাছে আসার গল্প
(লাইক এনিবডি কেয়ারস্‌)

আমার একটা সমস্যা আছে। আমার সহজে ঘুম ভাঙ্গে না। যখন আমি অনেক ছোট, কেবল নার্সারিতে অথবা ক্লাস ওয়ানে পড়ি, তখন থেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হত, এবং স্কুলে যাওয়ার সময় হলে আমাকে ঘুম থেকে উঠানোর জন্য যথারীতি পীড়াপীড়ি করতে হত। এখনো করতে হয়। যাইহোক, তা একদিন সকালে আমাকে ঘুম থেকে উঠানোর খুব সহজ এক পদ্ধতির আবিষ্কার করা হল। সকাল বেলায় বিটিভি তে স্যামুরাই এক্স প্রচার করা হত। টিভি ছেড়ে দেয়া হল আর উদো জিনে নামের সেই ভিলেন কে দেখে আমি যে ভয় পেয়েছিলাম তাতে আমার ঘুম শেষ। আর কামিয়া কাওরু কে কেনশিন কিভাবে উদ্ধার করবে সেটা দেখার জন্য আর তর সইছিল না। এর পর অনেক দিন বিটিবি তে প্রতি বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টার সময় স্যামুরাই এক্স দেখার জন্য বসে থাকতাম।

আমাদের বাসায় তখনও ক্যাবল নেটওয়ার্ক নেয়া হয়নি, ক্লাস টু/ থ্রি তে পড়ি, এরকম সময়ে একদিন পাশের বাসায় গিয়ে দেখি সেখানের পিচ্চি ছেলেটা খুব উত্তেজিত হয়ে কি জানি দেখছে আর কিছুক্ষণ পর পর লাফাচ্ছে, চিৎকার করছে (ঠিক ইউরোপিয়ান ফুটবল ফ্যান্ দের মত)। সেখানে কত্তসব কত আকারের আজগুবি প্রাণী! (না ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেল না)।দেখি কার্টুনের নাম কার্টুন নেটওয়ার্ক! কি আজব! ক্লাস ফোর বাঁ ফাইভে পড়ার সময় ক্যাবল নেটওয়ার্ক আসার পরে জানলাম এটার নাম, পকিমন!… আই অয়ানা বি দা ভেরি বেস্ট! লাইক নো ওয়ান এভার অয়াজ!… ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পাইনি বলে ক্যাবল নেটওয়ার্ক আবার সরিয়ে নেয়া হল। আমার চাইনিজ কার্টুন দেখার ক্ষান্ত হল।

ক্লাস সেভেনে আবার ক্যাবল নেটওয়ার্ক নেয়া হল। একদিন বিকেলে কার্টুন নেটওয়ার্কে দেখলাম ড্রাগন বল জি। যখন আসে পাশে কেউ না থাকে, তখন গোকুর সাথে আমিও বিছানার উপরে লাফালাফি করতাম। কা মে হা মে হাআআআআআআ!

ক্লাস এইটে যখন পড়ি, কার্টুন নেটয়ার্ক কেন যেন হটাত অ্যানিমে দেখানো বন্ধ করে দিল।তার বদলে দেয়া হত ইন্ডিয়ান (ফালতু) কার্টুন। অ্যানিম্যাক্স চ্যানেলে কোনো সাবটাইটেল ছাড়া অ্যানিমে দেখে কিছুই বুঝতাম না। পরিসমাপ্তি ঘটল অ্যানিমে দেখার আরেকটি অধ্যায়ের।
আমার স্কুলের বন্ধুরা খালি হিন্দি সিনেমা দেখতো। আমি বলতাম, ভাই তোরা ইংলিশ ভার্সানে পরস, পারলে ইংলিশ ফিল্ম দেখ” কিন্তু কে শোনে কার কথা। তা এরমাঝেও কয়জন ছিল যারা কিনা, ব্লিচ, পকিমন, ফেইরি টেইল নামের কার্টুন নিয়ে কথা বলত। আমি কান পেতে সেসব গল্প শুনে যেতাম। তখন অনেক পকিমন কার্ড জমাতাম।

এন্টার আমার এস এস সি পরীক্ষার পরে ছুটির সময়। মোবাইলে ফ্রি মেগাবাইট নিয়ে ইউটিউবে আবার দেখলাম স্যামুরাই এক্স। আমার বন্ধু তানভির আমাকে ফোন করে বলল, “দোস্ত অ্যানিমে দেখস? জাপানিজ কার্টুন?” আমি বললাম, “হোয়াট এ কোইন্সিডেন্স! আমি একটু আগাই স্যামুরাই এক্স দেখতেছিলাম।” তানভির বলল, “ আমি নারুতো দেখতেছি। জাস্ট অসাম!”… মোবাইলের সেই ছোট স্ক্রিনে নারুতোর প্রথম দুইটি পর্ব দেখার পরে আর দেখা হল না।আমার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে যাওয়া হল।

(স্কিপ দিস প্যারা ইফ ইউ অয়ান্ট টু )তারপর… আমি বিদেশে চলে আসলাম। লন্ডনে আমি একা হয়ে গেলাম। ছোট্ট একটা ঘরে বন্দী হয়ে ভাবতে লাগলাম, ইশ , জাফর ইকবাল আর হুমায়ুন আহমেদ এর বইগুলো নিয়ে আসতাম যদি! পুরো ৬ মাস আমি ঘরে থাকতাম, বাইরে বের হতাম না।বাইরে গেলেই ইংরেজিতে কথা বলতে হয়, আর নার্ভাস ফিল করি।আমার ঘরের একটা বড় জানালা ছিল। সেখানে সারাক্ষন দাঁড়িয়ে থাকতাম। বাংলাদেশে বন্ধুদের সাথে কথা বলতাম মোবাইল ফোনে। আব্বু বলেছেন, বাংলাদেশের বন্ধুদের সাথে শেষ কথা বলে নিতে। কারণ আমার এখানে নতুন জীবন শুরু হয়েছে। তাদের কথা আসতে আসতে ভুলে যেতে হবে।শীতের একদিনে ঘরের বড় জানালাটা বন্ধকরে ইন্টারনেট আর ফেসবুকের জানালা খুলে দিলাম।

নারুতো আমার প্রথম দেখা “অ্যানিমে”। নারুতোর মাঝে খুঁজে পেলাম আমি একাকিত্ত, অদক্ষতা, দুষ্টুমি, অবহেলা, বন্ধুত্ব… অনেক কিছু। একটা ছেলে, বাবা মা নেই, কোনও বন্ধু নেই, কিচ্ছু পারেনা, কিন্তু কিভাবে সে তার অটল আত্মবিশ্বাসে সকল প্রতিবন্ধকতা গুলোকে পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তা দেখে আমি অভিভূত হলাম। একটা অ্যানিমে যে একজন মানুষ কে কিভাবে প্রভাবিত করতে পারে তা নারুতো দেখে শিখেছি।

তা এখানে প্রথম যখন স্কুলে গিয়েছি, সেই একদিন এর কথা। অঙ্ক ক্লাসে গিয়ে দেখি আমার পাশের সিটে একটা মেয়ে ঋষিদেরদের মতন আসন করে বসে আছে। আমি জিজ্ঞেস না করে পারলাম না, বললাম, “ আয়শা, কি করছ?” মেয়েটা বলল, “ আমি সেইজ মোডে যাওয়ার চেষ্টা করছি”…

বৃহস্পতিবার, কম্পিউটার ক্লাসে দেখি একটা ছেলে নারুতো দেখছে। নতুন পর্ব বের হয়েছে এই মাত্র তাই। ইংলিশ ক্লাসের একটা অ্যাসাইন্মেন্টে আমি প্লানেটারি ডিভাস্টেশন কথাটি ব্যাবহার করেছিলাম, পাশে বসে থাকা ছেলেটি সেটা পরে বলে উঠলো, “ ওওওওওও! আমি জানি তুমি এইটা কোথা থেকে পাইসো!”…

এই ছিল আমার অ্যানিমের কাছে আসার গল্প। অ্যানিমের জগতে আমি এখনো নতুন।

nertu

নিনগিও শিরিযুউ (মারমেড ফরেস্ট) — Anirban Mukherjee

নিনগিও শিরিযুউ (মারমেড ফরেস্ট)
আনিমে টিভি সিরিজ পরিচালক:- মাসাহারু ওকুয়াকি

mf 1

পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক সভ্যতার মিথোলজির দিক থেকে দুটো মিল আমাদের চোখে পরে ।হোক না সেই সভ্যতা মূল ইউরেশিয়ান ভূপৃষ্ঠ থেকে হাজার হাজার বছর ধরে বিচ্ছিন্ন, তবুও মহাপ্লাবন আর মৎসকন্যা বা মারমেডের(মারপিপলস) মিথ সেখানকার মিথোলজিতে পাওয়া যাবে,হয়ত কিছু ব্যাতিক্রম থাকবে ।মহাপ্লাবনের মিথের কথাই ধরা যাক, প্রাচীন সুমেরদের “ইরিডু জেনেসিস”,প্রাচীন ব্যাবিলনে গিলগামেশের মহাকাব্যে বর্নিত মহাপ্লাবন,বাইবেলের নোয়ার আর্ক, গ্রীক পুরানে বর্নিত তিনটি মহাপ্লাবন, আইরিশদের লেবর গ্যাবালা স্যাসার এর বর্নিত মহাপ্লাবন,নর্সদের বের্গেল্মির দানব আর মহাপ্লাবনের কাহিনী, মধ্য আমেরিকায় মায়ানদের “পোপোল ভূ”তে বর্নিত মহাপ্লাবনের কাহিনী, দক্ষিন আমেরিকার উনু পাচাকুটি বা (ভিরাকোচার অভিশাপে)লেক টিটিকাকায় মহাপ্লাবন, হাওয়াই মিথোলজির নু’উ আর মহাপ্লাবনের কাহিনী, হোপিদের উপকথায় ,মাউরি উপকথায় -মহাপ্লাবনের মিথ আছে পৃথিবীর সব সভ্যতার প্রান্তে ,ভারতীয় উপমহাদেশেই আছে তিন চারটে আলাদা মহাপ্লাবনের কাহিনী (তারমধ্যে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য হলো আন্দামানের আদিবাসীদের মিথটা ,যারা উপমহাদেশের মূল ভূপৃষ্ঠ থেকে হাজার হাজার বছর বিচ্ছিন্ন)।

সেই রকম মারমেড বা মৎসকন্যা জাতীয় প্রানীর মিথ,চিত্র বা দেওয়াল চিত্র কিংবা গুহাচিত্র গোটা পৃথিবীর সব সভ্যতার প্রান্তে প্রচলিত ,সেটা পেরুর কুসকোর প্রাচীন পাথুরে দেওয়ালে অঙ্কিত মারমেড রিলিফ হোক,বা প্রাচীন আসিরিয়ার উপকথা পুরানের দেবী আট্রাগেটিস,এমনকী আলেকজান্দারের বোন থেসালোনিকা , গ্রীক উপকথা মতে যে মরার আগে একটা মৎসকন্যায় রুপান্তর হয়।আরব্য রজনীর আবদুল্লাহর অদ্ভুত জলজগৎএ ভ্রমনের গল্প, বা ব্রিটেনের প্রাচীন উপকথায় ,যেখানে মৎসকন্যা অশুভ জিনিস,আবার সেই পশ্চিম ব্রিটেনের জেনোরের কোন এক গ্রামে,আটলান্টিকের তীরে,ম্যাথু নামে এক মানুষের সঙ্গে এক মৎসকন্যার প্রেম হয়, এই ভাবেই বিভিন্ন লোককথায় মৎসকন্যারা বেঁচে থাকে ।

জাপান সমুদ্র দিয়ে ঘেরা দেশ,সেখানে মৎসকন্যার উপকথা থাকবে না এমন নয়।”নিনগিও”(উচ্চারনটা আবার বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন দেখলাম,ফ্রেঞ্চ এ একরকম,ইংরেজিতে অন্যরকম ,আমার এটাই সঠিক মনে হলো , “人魚”) হচ্ছে সেখানকার মৎসকন্যাদের জাপানিজ নাম, “人魚”কে যদি গুগল ট্রান্সলেটর এর সাহায্যে বাংলায় অনুবাদ করা হয় তবে ফলাফল দিচ্ছে মৎসনারী।
জাপানের বিখ্যাত মৎসকন্যার গল্প “ইয়াও কিকুনি”,যার সঙ্গে আজকের আলোচ্য বিষয় মারমেড ফরেস্ট (বা সাগার) মিল প্রচন্ড ।

“ইয়াও বিকুনি” বা “আটশ বছর বয়সী বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী” গল্পে একজন ধীবর জাপান সাগরের তীরে ওয়াকাসা এলাকায় থাকতো, একদিন সে একটা অদ্ভুত ধরনের মাছ ধরলো তার জালে ,এমন মাছ সে কোনদিনই ধরেনি ,দেখেওনি।সে তার বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানালো তার বাড়িতে, মাছটা সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়ার জন্য ।

তার একজন বন্ধু একটু কৌতুহল হয়ে ধীবরের রান্নাঘরে ঢুকলো ,এবং দেখলো ঐ মাছটার মাথাটার জায়গায় পুরো একটা মানুষের মাথা, সে তো অবাক । তারাতারি তার অন্য বন্ধুদের বললো ঐ মাছটা যেন তারা না খায় ।

যথাসময়ে ধীবর লোকটা মাছটাকে রান্না করে নিয়ে এল এবং সাকের সঙ্গে আমন্ত্রিত অতিথি বন্ধুদের পরিবেশন করল।অতিথি বন্ধুরা বললো এই মাছটা তারা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খেতে চায়,সেইমত কাগজ দিয়ে মুড়ে দিতে ।ধীবর তাই করল এবং বন্ধুরা বাড়ি যাওয়ার পথে রাস্তাতে মাছগুলো ফেলে দিলো ।

কিন্তু একজন বন্ধু একটু বেশিই সাকে খেয়ে ফেলেছিলো,সে মদের ঘোরে মাছটাকে বাড়িতে নিয়ে এলো ।তার ছোট মেয়ে তার কাছ থেকে উপহার চেয়ে বসলে সে মদের ঘোরে কাগজে মোড়া মাছটা তাকে দিলো ।কিছুক্ষণ পরেই তার মদের ঘোর কেটে গেলে সে দেখল একি করলাম,তার মেয়েকে সঙ্গে সঙ্গে নিরস্ত করতে গেল যাতে সে মাছটা না খায়।কিন্তু কে কার কথা শোনে,নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আগ্রহ সবার বেড়ে যায় ,সে ছোট হোক বা বড় ।বাচ্চা মেয়েটা মহাআগ্রহে মাছটা খাওয়ার পর তার বাবা মেয়েটা মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে লাগে ।সময় যায়,মেয়েটার কিছুই হয় না,বরং আরও বেশি সময় যায় ,বাচ্চা মেয়েটা যুবতী হয়,বিয়ে হয় এবং আরও সময় যায়, মেয়েটার স্বামী বুড়ো হতে থাকে এবং একসময় মরেও যায় ,কিন্তু মেয়েটার বয়স বাড়ে না ,যুবতীই থেকে যায় এবং এভাবে ক্রমশ আটশ বছর বহুবার বিধবা হওয়ার পর সে সংসারের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসে,নিজের অমরতাকে বোঝা মনে হতে লাগে এবং শেষে একটু শান্তির খোঁজে বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী হয়ে যায়।

ইনুইয়াসা, রান্মা 1/2 এবং ওয়ান পাউন্ড গসপেল খ্যাত মাঙ্গাকার রুমিকো তাকাহাসি তার দেশেরই এই বিখ্যাত উপকথাকে তার তৃতীয় মাঙ্গার প্লট নির্মানের জন্য ব্যাবহার করলেন ,এবং মাঙ্গা শেষ হওয়ার নবছর পর আমরা পেলাম এর আনিমে এডাপশন ।মাসাহারু ওকুয়াকি যার পরিচালক ।

মারমেড ফরেস্টের মূল নায়ক ইয়োটা,ইয়াও বিকুনির সেই মেয়েটার মতোই অমরতার অভিশাপে সে জর্জরিত ।পাঁচশ বছর আগে সে ও তার কিছু বন্ধু ধীবর ছিলো ,তারাও মৎসকন্যা শিকার করেছিলো,একসঙ্গে খেয়েছিলো ।কিন্তু কয়েকজন বন্ধু সঙ্গে সঙ্গে বিষাক্রান্ত হয়ে মরে যায়,কিছু বন্ধু প্রচন্ড কুৎসিত এক দানবে পরিনত হয়,যাদের নাম আমরা দেখতে পায় “লস্ট সোল” হিসেবে ।ইয়োটা ভয় পেয়ে যায় তারও কিছু এরকম হবে একদিন ।কিন্তু সেই “একদিন ” কোন দিনও আসে না ।সময় যায় ,সে এসব কিছু ভুলে যায় ,বিয়ে করে সংসার পাতে ।আরও সময় যায়,তার স্ত্রী অভিযোগ করে সে বৃদ্ধ হচ্ছে কিন্তু ইয়োটা সেই একই যুবক আছে ।ক্রমশ সে উপলব্ধি করে সে অমর হয়ে গেছে,কিন্তু সে স্বাভাবিক ভাবে মরতে চায় ,সংসার ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে আবার মারমেডের সন্ধানে ।সে শুনেছে আবার যদি সে মারমেডের মাংস খায় তবে সে মরনশীল মানুষে পরিনত হবে ।
প্রথম এপিসোডে দেখি ,ইয়াটো পাঁচশ বছর পর এই আধুনিক জগৎ এ শেষ অবধি মারমেডদের এক আস্তানার সন্ধান পায়।জাপানের কোনও সূদূর কোনে এক সমুদ্র ঘেরা পাহাড়ি গ্রামে ,যেখানে একই রকম দেখতে যুবতী আর একই রকম বৃদ্ধারা গ্রামের অধিবাসী ।তারাই আসলে মারমেড ।মারমেডরাও ক্রমশ বৃদ্ধ হয়,কিন্তু তারা আবার যৌবন ফিরে পেতে কোনও মানুষের মেয়েকে ছোটবেলায় ধরে আনে,তাকে পনেরো বছর ধরে পায়ে বেড়ি পরিয়ে মানুষ করে ,এবং একসময় তাকে মারমেডের মাংস খাওয়ায় ।ফল হয় দুটো ,সে হয়ত বেঁচে যায় এবং অমর হয়ে যায় ,নাহলে বিষের কারনে মরে যায় কিংবা লস্ট সোলে পরিনত হয় ।

যে বেঁচে যায় সে কিন্তু আর অমরতার স্বাদ অনুভব করতে পারে না ।সে ঐ বৃদ্ধ মারমেডদের খাবারে পরিনত হয়,এবং ঐ বৃদ্ধ মারমেডরা আবার যৌবন ফিরে পায় ।

মানা,এইরকমই একজন মেয়ে ,যাকে মারমেডরা বন্দি করে রেখেছিলো খাবে বলে,ইয়োটা তাকে বাঁচায়,যদিও ততক্ষন সে অমর ।

দ্বিতীয় এবং তৃতীয় এপিসোডে,ইয়োটার অতীতকে আমরা দেখি,যেখানে সে টোবা দ্বীপের (নামেমাত্র) জলদস্যুদের নেতার মেয়ে রিনের সঙ্গে শাকাগামি দ্বীপের জলদস্যুদের বিরুদ্ধে যায়।দুপক্ষই মারমেড মাংসের জন্য একে অপরের উপর চরাও হয় ।রিনের বাবা , শাকাগামি দ্বীপের জলদস্যুদের প্রধানের স্ত্রী ইশাগো দ্বারা আহত হয়,রিন আর ইয়োটা মনে করে রিনের বাবা মারা যাবে ,সেজন্য মারমেড মাংসের খোঁজে সমুদ্রে পারি দেয় দুজনে ।তারা মারমেডের খোঁজ পেলেও ,শাকাগামি দ্বীপের জলদস্যুরা তা কেড়ে নেয় ,ইয়োটাকে মেরে ফেলে এবং মারমেডের মাংস আর রিনকে শাকাগামি দ্বীপের জলদস্যু প্রধানের কাছে নিয়ে আসে ।সবাই মাংস খায় এবং একে একে লস্ট সোলে পরিনত হয় ।অমর ইয়োটা মরেও মরে না! রিনকে উদ্ধার করে,এবং সব শেষে জানতে পারে ইশাগোও একজন মারমেড ।

এর পরের এপিসোড থেকে আবার বর্তমানে ফিরে আসে সিরিজের গতিপথ,আমরা ক্রমে মাসাতো, মিশা,ওমানাকো প্রভৃতি চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হয় ।মাসাতো,একজন সাতশো বছর বয়সী “বাচ্চা ছেলে”।যে খুব ছোট বয়সে মারমেডের মাংস খেয়েছিলো,তারপর তার আর বয়স বাড়েনি ।আসল বাবা মাকে হারানোর পর সে গত সাতশো বছরে বহু বাবা মা পেয়েছে,আবার তাদের হারিয়েছে বিভিন্ন যুদ্ধে,দুভিক্ষে অথবা স্বাভাবিক ভাবে ।ক্রমশ সে একজন ছোটখাটো স্যাইকোপ্যাথে পরিনত হয়েছে ,তবুও শেষ অবধি মিশাকে তার মা বানিয়েছে ।মিশাও তার আসল ছেলে এবং স্বামীকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হারিয়েছে ।এরপর তার সঙ্গে মাসাতোর আলাপ হয়,সে তাকে এক অদ্ভুত মাংস খেতে দেয় ।খাওয়ার অনেক দিন পর মিশা উপলব্ধি করে সে আর তার পালিত ছেলে মাসাতো কেউ বয়সে বাড়ছে না ।সে ভয় পেয়ে যায় ।

শেষের এপিসোডটা প্রচন্ড রক্তিম হিংস্র (ব্রুটাল)।মাসাতো শেষ এপিসোডে নিজের হিংস্রতাকে খুব শান্তভাবেই প্রদর্শন করেছে,যেটা যেকোনো সাইকোর খুব স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য । আবার এই শেষ এপিসোডেই এন্ডিং সংএর আগে শেষ তিন চার মিনিট প্রচন্ড ভালো লেগেছে ।
পরিচালক মাসাহারু ওকুয়াকি খুব ভালোভাবেই গোটা প্রজেক্টটা সামলেছেন ।সুন্দর অ্যানিমেশন,আমার বরাবরই গত দশকের প্রথমদিকের আনিমের অ্যানিমেশন ভালো লাগে ।কালারফুল ব্যাকগ্রাউন্ড, ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রয়োজনমত প্রচুর নীল এবং গাঢ় নীল আর কমলা রঙের দুর্দান্ত ব্যাবহার আর প্রচন্ড ভালো ডিটেলিং যা প্রাচীন বা আধুনিক দু ধরনের জাপানকেই সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে ।এবং প্রচন্ড ভালো চরিত্র রুপায়ন ।ইয়োটা আর মানা প্রাতেক্য এপিসোডে প্রয়োজন মত আলাদা আলাদা জামা কাপড় পড়েছিল,একটা জামা পড়ে গোটা সিরিজ কাটায় নি (এটা নিশ্চয়ই দেখেছেন কীভাবে লুফি বা নোবিতা বছরের পর বছর প্রায় একই জামা পড়ে কাটিয়ে দেয়) ।এটা বাস্তব বুদ্ধিযুক্ত ডিটেলিং এর একটা ছোট উদাহরণ ।

মারমেড বা মৎসকন্যা,এই ধরনের মিথোলজিক্যাল জীবের সঙ্গে বাচ্চা বয়সে আমরা পরিচয় হয় হানস এন্ডারসনের লিটিল মারমেড বা তার অতিসফল ডিজনির অ্যানিমেশন এডাপটেশনের সঙ্গে ,বা কোন শিশুপাঠ্য বাংলা পাক্ষিক পত্রিকার পাতায় রুপকথার গল্পে(আমার ছোটবেলায় আনন্দমেলাতে বা ঐ টাইপের ছোটদের পত্রিকাতে পড়া কিছু নাম ভুলে যাওয়া রুপকথা এক্ষেত্রে মনে আসছে) বা অবশ্যই মিয়াজাকির পোরনিওতে ।কিন্তু পরে বড় হয়ে একই মিথোলজিক্যাল জিনিসকে এইরকম হিংস্র অথবা ভয়ঙ্কর সুন্দর ভাবে পরিচয় লাভ করা যায় আনিমের পর্দাতে ।
এই আনিমেতে কিছু মারমেড হোমারের ওডিসির সাইরেনদের কথা মনে পড়িয়ে দেয়।শান্ত হিংস্র ।

ওপেনিং সংটাও দুর্দান্ত (ও প্লিজ কাম ডাউন লাইক এন অ্যাঞ্জেল)।

mf 2

Arslan Senki [Reaction] — Rezo D. Skylight

Arslan Senki:
পর্ব: ২৫
স্টুডিও: SANZIGEN, LAIDENFILMS
জনরা: Action, Adventure, Drama, Fantasy, Historical, Supernatural
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৯১

কিছুদিন আগে দেখে শেষ করলাম Arslan Senki। এনিমের শুরুটা বেশ ভালোই ছিল। কিছুটা Kingdom এনিমের ভাইব পাচ্ছিলাম আবার প্লটের সাথে Akatsuki no Yona-র মিল ছিল। কিন্তু পরে কাহিনী বহুত স্লো মনে হয়েছে। আর অ্যাকশনের পরিমান যতটা আশা করেছিলাম ততটা পাইনি, তবে যা ছিল খারাপ ছিল না। আর ওয়ার সিনগুলো আরও কিছুটা ডিটেইল করে দেখাতে পারতো। কিন্তু প্রত্যেক ওয়ার খুব তাড়াতাড়ি শেষ করে ফেলেছে। এছাড়া মাঝখানে সিন্দুরিয়ানদের নিয়ে যে আর্কটি ছিল তা মোটেই ভালো লাগেনি। আর মেইন ক্যারেক্টার হিসেবে আরস্লানকে মোটামুটি লেগেছে, তবে বাকি ক্যারেক্টারগুলো বেশ ভালো ছিল।

এতক্ষণ ধরে খালি খারাপ দিক আলোচনা করলাম। এখন কিছু ভালো দিকও তুলে ধরি। Arslan Senki-র আর কিছু ভালো না হোক OST ও Soundtrack গুলো ছিল অসাধরন। এনিমেশন কোয়ালেটি বেশ সুন্দর ছিল। স্টোরি স্লো মনে হলেও, মেইন প্লট খুব ভালো লেগেছে। আর মেইন ভিলেন হিসেবে Silver Mask এর চরিত্রও খুব ভালো ছিল। এছাড়া মেইন ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যে Daryun এর যুদ্ধকৌশল, Narsus এর স্ট্রাটেজি, Gieve এর চতুর কাজকর্ম সবই ভালো লেগেছে। তবে আরস্লানের আর কিছু না হলেও তার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ভালোভাবে দেখানো হয়েছে। কাহিনীর টুইস্ট, মিস্টেরি স্টোরি ব্যাকগ্রাউন্ডও যথেষ্ট ভালো ছিল। আর অ্যাকশনের মধ্যে Daryun এর সাথে Silver Mask এর ফাইটটা ভালো লেগেছে। যদিও মাঝে কাহিনী খুব স্লো ছিল বটে তবে শেষ কয়েক এপিসোড খুবই ভালো ছিল।

যাই হোক, Arslan Senki ওভারঅল খুব ভালো একটা ওয়ার-ড্রামা এনিমে। যদিও শেষমেশ কাহিনী অসমাপ্ত রেখেছে, এখন সেকেন্ড সিজনের জন্য বসে থাকতে হবে। আশা করি সেকেন্ড সিজন আরও ভালো হবে।

রেটিং – ৮/১০

[যাদের Arslan Senki ভালো লেগেছে তারা একবার Kingdom এনিমেটা পরখ করে দেখতে পারেন। Kingdom এর ইন্টেনসিটি, প্লট, ক্যারেক্টার ও যুদ্ধকৌশল আমার কাছে Arslan Senki থেকে ভালো লেগেছে।]

AS

Anime of The Year 2015 as Baka-kun Says — Maruf Raihan

প্রাচীনকালে যখন এক দেশের রাজা অন্য রাজ্যের সাথে সন্ধিতে আবদ্ধ হতে চাইতেন তখন ভোজসভায় আহবান করাই ছিল পন্থা।অর্থাৎ ভোজনরস মন জয় করার সর্বোত্তম উপায়।বাস্তবিকই খাবারের স্বাদের কাছে পৃথিবী অসহায়।আর যখন এই খাবার বানানোর কৌশল শিল্পে রূপ নেয় তখন তার চেয়ে মোক্ষম অস্ত্র আর কি হতে পারে!!

তাই বছর ২০১৫ কে নিজের করে নিতেই বোধহয় J.C. Staff  বেছে নিল ইয়ুতো সুকুদা’র মাঙ্গা শোকুগেকি নো সোমা’কে।আর তাদের হাত ধরেই এল বছরের কমবেশি সবার দেখা,সবারই ভালো লাগা আর ক্ষুধা উদ্রেক এক এনিমে সিরিজ “Shokugeki no Souma:Food Wars”

Shokugeki

 

২৪ এপিসোডের এই এনিমেটির এয়ারিং শেষ হয় ’১৫ এর সেপ্টেম্ব্রে।বের হওয়ার পর পরই বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়।যদিও এচ্চি হেটাররা এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি,কিন্ত পরবর্তীতে তারাও স্বীকার করেছেন “এনিমেটা মন্দ নয়”

গল্প শুরু এক বরাবরই এক ছেলে যে সেই ছোট্টবেলা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত রান্নার মাধ্যমে তার ফ্যামিলি রেস্টুরেন্টের ক্রেতাদের খুশি করাকেই জীবনের মূলমন্ত্র বলে শেখে।আর বাবার কাছে রান্না শেখা,কিন্তু বাবার সাথে প্রতি সপ্তাহে রান্নার লড়াই করত সে,যদিও একবারও বাবাকে হারানো হয়নি তার।

এই ছেলের নাম ইউকিহিরা সোউমা।বাবা ইউকিহিরা জোউইচিরো।শহরতলীর একপ্রান্তে থাকা তাদের ফ্যামিলি রেস্তোরাঁ ইউকিহিরা থেকে বাবার সাহচর্যে(চাপে বলাই ভাল) পাড়ি জমায় সোউমা ততসুকি কালিনারি একডেমিতে,যা কিনা জাপানের সবচেয়ে বিখ্যাত রন্ধন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এই একাডেমি কে ঘিরেই গল্প অন্য দিকে মোড় নেয়,একডেমিতে প্রবেশের পরপরই আলোড়ন সৃষ্টি করে সে।তবে বাধা-বিপত্তিও কম ছিল না এই পথে।আর এভেবেই শুরু হয় সোউমার ততসুকিতে টিকে থাকার যাত্রা……

রান্না নিয়ে এনিমে – খাবারের লোভনীয় উপস্থিতির মধ্যেই কেবল সীমাবদ্ধ নয়,প্রতিটি ডিশের প্রণালী ও এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োগও দেখানো হয়েছে এতে।আর “Shokugeki” বা রান্নার প্রতিযোগিতাই পুরো এনিমের উল্লেখযোগ্য হাইপ হওয়ার মত অংশ।রান্নায় বিশ্বভ্রমণের দেখাও মেলে এতে, শুধু জাপানি নয় আমেরিকান হার্ডকোর বিফ কুকিং,ইটালিয়ান পরিছন্ন রেসিপি,ফ্রেঞ্চ কুইসিনের জাদুকরি ছোঁয়া এমনকি ভারতবর্ষের মসলা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর উপস্থাপনা এক কথায় অতুলনীয়………

চরিত্রের বাহারি সমাহারও আছে।নাকিরি এরিনা(যার নাম অনেক এনিমেখোরের ক্রাশলিস্টে উঠে আছে),তাদোকোরো মেগুমি(২০১৫ এর সেরা ওয়াইফু),নাকিরি এলিস,আরাতো হিসাকো(২য় ওয়াইফু)ইত্যাদি……

আর ইউকিহিওরা সোউমা ছাড়াও ইশিকি সাতোশি(দ্যা Cool Dude অফ ২০১৫),আলদিনি ব্রাদার্স,দোউজিমা গিন এর মত কিছু হেভিওয়েট চরিত্র দেখা গেছে।

আর আর্ট ও এনিমেশন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।এনিমেশন ও আর্টের ব্যাপারে পুরো সিরিজে ব্রিলিয়ান্সি ও Consistency  থাকায় সিরিজটিকে প্লাস পয়েন্ট দিতেই হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল খাবারগুলো এমন সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে দেখে সত্যিকারের খাবার মনে হয়েছে।তবে একটা জিনিসই Awkward  লেগেছে আর তা হল ক্যারেক্টারগুলোর শরীরে রেড স্পট।

আর এনিমেটি খুবই খুবই এন্টারটেইনিং,আর চরিত্রগুলোর Interaction  এত ভালোভাবে স্টোরিলাইনের সাথে খাপ খেয়েছে যে যতক্ষণ এনিমেটি দেখবেন বোর হবেন না অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায়……

এচ্চি নিয়ে অনেকেই এনিমেটাকে কিছু মাইনাস পয়েন্ট দিয়েছেন আবার অনেকে বলছেন “এচ্চির জন্যই বেশি ভালো লেগেছে”।যাই হোক আমি মধ্যমপন্থীর মত দিয়েই বলি—“শুরুতে এচ্চি বেশি থাকলেও গল্প যতই এগিয়েছে এচ্চি গল্পের সাথে একাকার হয়ে গেছে”

আর ওপেনিং এর সময় জানিনা কয়জন খেয়াল করেছেন রাইস প্লেটের কারি’র ডিজাইন প্রায় প্রতি এপিসোড অন্তরই চেঞ্জ হয়ে যায়,আর এ কারণেই আমি আর আমার ছোট বোন একবারও ওপেনিং স্কিপ মারতাম না,এনিমের চেয়েও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত আজ প্লেটে কি ডিশ দেখায় সেটা।১ম ওপেনিং টা এক নজরে দেখে ফেলুন—

https://www.youtube.com/watch?v=rCvvjpzQkyY

ব্যাকগ্রাঊন্ড মিউজিক খুবই ভাল, বিশেষ করে শোকুগেকি চলার সময় ওস্তাদের শেষ মার(অর্থাৎ লড়াই এর উইনিং মুভ) এর সময় যে মিউজিক টা দেয় তা এখনো কানে বাজে।

MAL রেটিং – ৮.৬৭
ব্যক্তিগত রেটিং – ৯.২

যদি এখনো দেখে না থাকেন তবে এখনই দেখে ফেলুন বছরের অন্যতম সেরা এনিমে Shokugeki no Souma

 

Studio Monogatari: Episode 01

প্রথম পর্বেই থাকছে এমন একটি স্টুডিওর কথা যেটি বর্তমান যুগের আনিমের পথ মসৃণ করে তুলবার পিছনে রেখেছে যুগান্তকারী অবদান। আজকের স্টুডিও হল-

Mushi Production (or Mushi Pro)
1. mushi

 

আনিমে জগতে মুশি প্রোডাকশনের অবদান অনস্বীকার্য। স্টুডিওর শুরুটি হয় আনিমে/মাঙ্গার গডফাদার ওসামু তেজুকার হাত ধরে, যখন ১৯৬১ সালে চুক্তি শেষ হয়ে যাবার কারণে তিনি তোয়েই অ্যানিমেশন ছেড়ে চলে আসেন এবং নিজের মত করে তৈরি করেন এই মুশি প্রোডাকশন। আর হ্যাঁ, এই তোয়েই অ্যানিমেশন সেই স্টুডিও যেটি বিশাল পর্বের অনেক জনপ্রিয় কিছু আনিমে এখনও আমাদের উপহার দিয়ে আসছে। তবে এর গল্প আরেকদিন হবে। তোয়েই অ্যানিমেশনের সাথে পাল্লা দেবার জন্যে প্রতিপক্ষ স্টুডিও হিসেবেই গড়ে উঠে মুশি প্রোডাকশন, এবং এরপর স্টুডিওটি এমন কিছু জিনিস উপহার দেয় আমাদের যা পুরা আনিমের ধারণাকেই পালটে ফেলে!

2. Osamu Tezuka[ওসামু তেজুকা]

আসুন এক নজরে দেখে ফেলি আনিমে জগতকে কিছু “প্রথম” উপহার দেওয়া তাদের কাজগুলি-

  • Astro Boy (1963-1966): বর্তমান যুগের আনিমে বলতে আমরা যা বুঝে থাকি তারই শুরুটা হয় এই সিরিজ দিয়ে। বিশাল বিশাল চোখ ও চোখা চোখা গুচ্ছ চুলের স্টাইলের আনিমে ক্যারেক্টার দেখা যায় এতে, যা কিনা এখনও আনিমে চরিত্রদের আঁকার ধরণের একটা কমন স্টাইল হয়ে আছে। মুশি প্রোডাকশনের আরও কয়েকটি সিরিজের সাথে এটিও প্রথমবারের মত অ্যামেরিকান দর্শকদেরকে আনিমে জিনিসটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
  • Kimba the White Lion [Jungle Taitei] (1965-1966): জাপানের টিভিতে দেখানো প্রথম রঙিন আনিমে সিরিজ। শুধু তাই নয়, এই সিরিজ থেকে অনেক কিছু “inspiration” নিয়ে ভবিষ্যতে তৈরি হয় ডিজনির বিখ্যাত Lion King মুভিটি। দেখার মত এসব inspiration-এর কিছু অংশ-
    3. Kimba - Simba
  • Princess Knight [Ribbon no Kishi] (1967-1968): ম্যাজিকাল গার্ল বা মাহৌ শৌজো আনিমের প্রোটোটাইপ সিরিজ, অর্থাৎ এক কথায় এটি প্রথম ম্যাজিকাল গার্ল আনিমে।
  • 1001 Nights (1969) ও Cleopatra [Cleopatra: Queen of Sex] (1970): নাম দেখেই হয়তো আন্দাজ করতে পারছেন কিছুটা। এগুলি ছিল একদম প্রথম দিকের X-rated animated film [শুধু আনিমে নয় কিন্তু!]। অবশ্য তখনকার যুগে হেন্তাই হবার যা “যোগ্যতা” ছিল তা এখনকার যুগের স্বাভাবিক এচ্চি সিরিজের থেকেও অনেক কম। তাই এখনকার হিসাবে এগুলিকে হয়তো এচ্চি আনিমে বলে ধরে নেওয়া যায়।
  • Belladona of Sadness [Kanashimi no Belladonna] (1973): এই মুভিটিকে প্রথম avant-garde আনিমে হিসাবে ধরে নেওয়া যায়। ধরে নেওয়া যায় – এই কথা বলার কারণ সেই সময়ে স্বাভাবিক আনিমে টিভিতে নিয়ে আসাই বিশাল বড় যুদ্ধ ছিল, সেখানে একটা uncommercial কাজ নিয়ে এসে অনেক বড় সাহসের পরিচয় ছিল। এরকম সাহস দেখানো কাজ তখনও কোন স্টুডিও করে উঠে নাই। বাণিজ্যিকভাবে চরম ব্যর্থ হয় এটি, আর এই মুভির ব্যার্থতা মুশি প্রোডাকশনের বন্ধ হবার অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটিও মুশি প্রোডাকশনের আরেকটি X-rated আনিমে।

স্টুডিওটি নিয়ে কয়েকটি তথ্য-

  • পোকা সংগ্রহের প্রতি ছোটকাল থেকেই মারাত্মক ঝোঁক ছিল ওসামু তেজুকার, আর এর প্রভাগ তার কাজকর্মেও দেখা যেত। ওসামুশি [গ্রাউন্ড বিটল] এর নামের সাথে তার নামের মিল – এই ব্যাপারটা তার এত মনে ধরে যে নিজের ছদ্মনাম হিসেবেই ওসামুশি শব্দটি বেছে নেন তিনি। মুশি প্রোডাকশনের নামকরণের কারণটাও কিছুটা আন্দাজ করা যায় এ থেকে।
  • ওসামু তেজুকার বিপক্ষে একটা বড় অভিযোগ রয়েছে যে তিনি অকল্পনীয় রকমের অল্প বাজেট নির্ধারণ করতেন আনিমে নির্মাণের ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র আনিমে তৈরির কম্পিটিশনে প্রতিদন্দ্বীদের পরাস্ত করা যায় যেন। আর তার এই অল্প বাজেট নির্ধারণের ব্যাপারটিই মডেল হিসাবে নিয়ে নিয়েছে ভবিষ্যতের আনিমে স্টুডিওগুলি। আনিমে তৈরির পিছনের মানুষদের ধুঁকে ধুঁকে এগিয়ে যাবার পিছনে এটিকে অনেক বড় কারণ হিসাবে দেখা হয়। 
  • মুশি প্রোডাকশন ছেড়ে দেবার পর কয়েকজন প্রাক্তন স্টাফ এরপরে নির্মাণ করেন কয়েকটি বিখ্যাত আনিমে স্টুডিও। এগুলি হল Madhouse [ওসামু দেজাকি, মাসাও মারুইয়ামা, ইয়োশিয়াকি কাওয়াজিরি, রিন্তারো], Kyoto Animation [হিদেয়াকি হাত্তা, ইয়োক হাত্তা] এবং Tezuka Productions [ওসামু তেজুকা]।
  • প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবার জন্যে অল্প বাজেটে আনিমে তৈরি, আনিমের ইন্ডাস্ট্রি ঠিকমত উঠে না দাঁড়ানো অবস্থায় একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট হাতে নেওয়া এবং এসব প্রজেক্টের চরম ব্যার্থতা – এসব কিছুই কাল হয়ে দাঁড়ায় মুশি প্রোডাকশনের জন্যে। ১৯৬৮ সালে মুশি প্রোডাকশন ছেড়ে চলে যান ওসামু তেজুকা এবং তৈর করেন তেজুকা প্রোডাকশন। অবশেষে ১৯৭৩ সালে দেউলিয়া ঘোষিত হয়ে বন্ধ হয়ে যায় এই স্টুডিও। অবশ্য এরপর ১৯৭৭ সালে আবার নতুন করে মুশি প্রোডাকশন চালু হয় এবং আজ অবধি তা কাজ করে আসছে, কিন্তু ততদিনে সোনালী দিন অনেক পিছে ফেলে এসেছে মুশি প্রোডাকশন।

মুশি প্রোডাকশনেই কর্মজীবনের শুরু হয় ৭০-এর দশকে আনিমের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া নামকরা কয়েকজন আনিমে নির্মাতাদের। বেশ কিছু আইকনিক আনিমে নির্মাণ করেন এদের অনেকেই-

  • 4. Yoshiyuki TominoYoshiyuki Tomino: বিখ্যাত আনিমে ফ্র্যাঞ্চাইজ Gundam-এর জনক, অবশ্য সেই কাজ তিনি শুরু করেন স্টুডিও সানরাইজে গিয়ে। তার কাজের একটি বড় অংশের মধ্যে “Everybody Dies” এই আইডিয়াটার বাস্তবায়ন দেখা যায়।

 

 

 

 

 

  • 5. Osamu DezakiOsamu Dezaki: বক্সিং আনিমের মধ্যে কাল্ট ক্লাসিক সিরিজ Ashita no Joe এর ডিরেক্টর তিনি, সিরিজটি মুশি প্রোডাকশন থেকেই তৈরি হয়। এছাড়াও আরেকটি বিখ্যাত সিরিজ The Rose of Versailles এর একটি বড় অংশের ডিরেক্টর তিনি। নিজস্ব ধরনের অ্যানিমেশন স্টাইল ও আর্টস্টাইলের জন্যে তিনি বিখ্যাত- split screen, stark lighting, pastel-chalked freeze frame ইত্যাদি। তার অনেক ট্রেডমার্ক অ্যানিমেশন স্টাইল এরপর অনেক নামকরা অ্যানিমেটররা ব্যবহার করেছেন।

 

 

  • 6. RintaroRintaro: সাই-ফাই জনরার ভক্ত নামকরা ডিরেক্টর রিন্তারোর বিখ্যাত কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে Metropolis, Galaxy Express 999, The Dagger of Kamui ইত্যাদি।

 

 

 

 

 

মুশি প্রোডাকশনের কিছু জনপ্রিয় আনিমে-

7. Mushi-Pro anime

যদিও এখনকার মুশি প্রোডাকশন বিভিন্ন আনিমে তৈরিতে সহায়তা করে থাকে (প্রোডাকশন কাজ, অ্যানিমেশন কাজে সহায়তা, ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট, ফটোগ্রাফি ইত্যাদি) তারপরেও নিজস্ব কাজ হিসাবে তেমন কিছুই করে না তারা। ১৯৭৩ সালেই আসলে সত্যিকার মুশি প্রোডাকশন শেষ হয়ে যায়, এখন যা আছে তা খোলসমাত্র।

মাঙ্গা সাজেশন: The Climber — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

বারসার্ক পড়ে এবং এর আর্ট এবং কাহিনী দ্বারা স্পেলবাউন্ড হবার পরে এর মতো আরো কিছু মাঙ্গার খোঁজ করসিলাম । তো রেজো গোটা বিশেক সাজেশন দিসে এর মধ্যে Vagabond আর দ্যা ক্লাইম্বার ২টা একেবারে জ্যাকপট ! অসাধারন আর্টের সাথে অতিঅসাধারণ কাহিনী! একজন সাহিত্য প্রেমিকের কাছে আর কি চাই !!
তো দ্যা ক্লাইম্বার মাঙ্গা নিয়ে প্রথম কথা হল এটার জানরা হল স্পোর্টস আর সেইনেন । স্পোর্টস মাঙ্গা পড়ার সমস্যা হল একশন গুলা বা টেনশনটা এনিমের মত ঠিক আসে না , কিন্তু ক্লাইম্বার এমন একখানা মাঙ্গা ,যেখানে ক্লাইম্বিং নামক ভয়ঙ্কর খেলাখানাকে আপনার চোখের সামনে চলচ্চিত্রের মতো তুলে ধরবে । এই মাঙ্গার কাহিনী একখানা উপন্যাস হিসেবে লেখলেও সেই অসাধারণ হতো । ব্যাক্তি এবং বন্দ্ধুর উথাধ পতন , মনস্তাত্বিক দ্বন্দ এককথায় আপনি যা চান তাই আছে এই মাঙ্গায়া । কিন্তু অলক্ষ্যে থাকা রত্নের মত এই মাঙ্গা রুপি রত্ন অনেকে পড়েনি । আমি এটা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলছি না কেননা রেজো ডি আকাশআলো XD ! এটা নিয়ে ইন্টারের পর এক তথ্যবহুল রিভিউ দেবে , আমি শুধু বলছি যারা , অসাধারন কিছু পড়তে চান তো ক্লাইম্বার মাঙ্গাটি পড়া শুরু করুন ।

tc 1 tc 2

Kingdom [এনিমে রিভিউ] — Rezo D. Skylight

এনিমে রিভিউঃ
Kingdom
জনরাঃ অ্যাকশান, হিস্টোরিকাল, মিলিটারি, সেইনিন
স্টুডিওঃ Pierrot
এপিসোডঃ ৭৭ (৩৮+৩৯)
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ১ম সিজন (৮.২৫), ২য় সিজন (৮.৫৯)
আমার রেটিংঃ ১ম সিজন (৯/১০), ২য় সিজন (১০/১০)

K 1

আমরা ছোট থাকতে কমবেশি সবাই অনেক রাজা-বাদশার গল্প পড়েছি। আর এসব গল্পতে বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহের যে কাহিনীগুলো ছিল সেগুলো কিন্তু বেশ মজারই ছিল। যাদের ইতিহাসের প্রতি লোভ বেশি, তাদের আবার এইসব টপিক আরও বেশি পছন্দের। হ্যাঁ! আমি এখন সেই ‘রাজা-বাদশার’ ও ‘যুদ্ধ-বিগ্রহের’ কাহিনীসম্পর্কিত এক এনিমের কথা বলতে যাচ্ছি, যার নাম ‘কিংডম’। তবে তা কোন কাল্পনিক গল্প না বরং ইতিহাসের সত্য কাহিনীর উপর নির্ভর করে এর কাহিনী রচিত।

অনেকদিন (৪৭৫-২২১ খ্রিষ্টপূর্ব) আগের কথা। তৎকালীন চীন সাম্রাজ্য সবসময় যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত। আর তখন সমাজে দাস প্রথা থেকে শুরু করে নানাধরেণের প্রথা প্রচলিত ছিল। সেই যুগে, চীনের কিন (Qin) সাম্রাজ্যের দাস প্রথার স্বীকার দুই বালক শিন (Li Xin) আর হিও (Piao) এক বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তাদের স্বপ্ন ছিল “Great Generals of the Heavens” তথা চীনের অন্যতম শক্তিশালী জেনারেল হওয়ার। কিন্তু তা হওয়া চারটে খানিক কথা না?! সমাজের অনেক প্রভাবশালী ব্যাক্তিরাও এই পদে কিন্তু সহজে যেতে পারে না। এই দাসের কাজ খেটে বেড়ানো এতিম ছেলে দুইজন জানত তাদের জন্য এই স্বপ্ন অসম্ভব। তারপরেও তারা তাদের এই অসম্ভব স্বপ্নকে সম্ভব করতে দৃঢ়প্রত্যয়ই ছিল। যাই হোক একদিন হটাৎ করেই রাজার লোকজন হিওকে কোন এক অজ্ঞাত কাজের জন্য ধরে নিয়ে যায়। হিও চলে যাবার পর শিন আবার নিজের মতো করে গ্রামে কাজ করা শুরু করে। এভাবে কয়েক মাস পার হয়ে গেল। এরপর একদিন হিও মৃত্যুমুখে হুট করেই আবার গ্রামে এসে হাজির হল শিনের সাথে দেখা করতে। সে বেশি কথা না বাড়িয়ে শিনকে এক নির্দিষ্ট ঠিকানায় যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। এরপর তার অনুরোধে শিন সেখানে গিয়ে দেখতে পেল ঠিক হিওর মতো দেখতে এক বালককে যার নাম জেং (Ying Zheng), যে কিনা, কিন (Qin) সাম্রাজ্যের রাজপুত্র। কিন্তু এখন সে নিজের ক্ষমতা হারিয়ে জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যে তার ভাইয়ের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এরপর ঘটনাক্রমে শিন, জেং এর সাথে যোগ দেয়। আর দুইজনে দুইধরণের শপথ গ্রহণ করে। জেং শপথ গ্রহণ করে “Unifying China” গড়ে তুলতে তথা সকল সাম্রাজ্য মিলে একটি মাত্র যুক্তরাষ্ট্র গড়ে তুলতে; আর অপরদিকে শিন শপথ গ্রহণ করে জেংকে তার স্বপ্নবাস্তবায়নে সাহায্য করে শুধুমাত্র “Great Generals of the Heavens” না বরং “Great General of the World” হতে। এভাবে দুই বালকের শপথ গ্রহণ মাধ্যমেই শুরু হয় ‘কিংডম’ এনিমের গল্প।

K 2

‘কিংডম’ এনিমে নিয়ে আমার নিজের অনুভূতি প্রকাশের আগে কয়েকটা মন্দ কথা বলে নেই। কিংডম এনিমের যে জিনিসটি আমার কাছে প্রথমত বিরক্তিকর লেগেছে তা হল “CGI animation” বা থ্রিডি ইফেক্টের ব্যাবহার। শুধু আমি না, আমার মতো অনেকেই হয়ত এই একই কারণে প্রথম এপিসোড শুরু করার সাথে সাথেই ড্রপ মারেবে। একে তো থ্রিডি ইফেক্ট তার উপর আবার হিস্টোরিকাল-সেইনিন এনিমে। তাই এই সিরিজ দেখার আগ্রহ বেশিরভাগ মানুষই হারিয়ে ফেলে। আর এখানেই আমাদের বোকামি। আমরা সিরিজটা ভালভাবে যাচাই না করেই, আর দ্বিতীয়বার না দেখার সিদ্ধান্তটা নিয়ে বসি। ইংরেজিতে আমরা একটা প্রবাদ প্রায়ই শুনে থাকি – “Don’t judge a book by its cover.”। ‘কিংডম’ এনিমের ক্ষেত্রেও কিন্তু সেই একই প্রবাদ খাটে। প্রথম প্রথম থ্রিডি ইফেক্ট কিছুটা বিরক্তিকর লাগবে কিন্তু একবার কাহিনীর মধ্যে আপনার মন ঢুকে পড়লে আর সহজে কিংডম দেখা ছাড়তে পারবেন না। ১১-১২ এপিসোড পার হবার পর দেখেবেন এই থ্রিডি ইফেক্টের মাত্রা আস্তে আস্তে কমে গেছে। আর ২য় সিজনে বলতে গেলে কোনই থ্রিডি ইফেক্ট নেই। তাই শুরুতে থ্রিডি ইফেক্ট দেখে বিরক্ত না হয়ে নিশ্চিন্তে ‘কিংডম’ দেখা শুরু দিন।

এই একটা কারণ ছাড়া কিংডম এনিমের আর কোন ত্রুটি দেখি নি। এখন যদি প্রশ্ন করে বসেন যে, কিংডমে ভাল লাগার মতো কি আছে? আমি বলব যে ভাল লাগার মতো নাই কি। বরং আরও বলতে পারি কিংডমের মতো আরও দু-চারটা এনিমে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল প্রথম এপিসোড থেকেই আপনার আকর্ষণ ধরে রাখবে। কিভাবে যে একটার পর একটা এপিসোড দেখে যাবেন টেরই পাবেন না। আর এখানেই কিংডমের সার্থকতা। কাহিনী থেকে শুরু করে প্রতিটা চরিত্রই কিন্তু মারাত্মক। আর শিনের স্বপ্নযাত্রা দেখতে দেখতে আপনি নিজেও অন্যান্য ক্যারেক্টারের ভক্ত হয়ে যাবেন। বিশেষ করে শিনের বীরত্ব আর জেংএর আত্মপ্রত্যয়ই মন যে কাউকেই অবাক করে দিবে।

K 3

কিংডম এনিমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হল এর যুদ্ধক্ষেত্রগুলো। প্রতিটা যুদ্ধ এত সুন্দরভাবে ডিটেইলস করে দেখানো হয়েছে তা আর বলার মতো না। আর যুদ্ধ-স্ট্রাটেজিগুলাও অসাধরন। যুদ্ধে স্ট্রাটেজিগুলো এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে যেন দেখার সময় আপনি একটার পর একটা টুইস্ট পান। আর যুদ্ধেক্ষেত্রের ইন্টেনসিটিও অনেক তীব্র। বিশেষ করে যখন একপক্ষের জেনারেলের সাথে অপরপক্ষের জেনারেলের ফাইট শুরু হয়, তখন আপনার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে। কিংডমে আরও রয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা, আপন মানুষ হারানোর বেদনা, প্রতিশোধ, বীরত্ব, ধ্বংসলীলাসহ এইরকম অনেক থিম। কখনো হয়ত শিনের বীরত্ব দেখে আপনার শরীরের রক্ত গরম হয়ে যাবে, আবার কিছু কিছু বীর-আত্মদান দেখে অনায়সে আপনার চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়বে। এভাবে মানুষের মনের আবেগ টেনে আনার মতোই এনিমে হল কিংডম।

এখন এনিমের সাউন্ডট্রাক নিয়ে কিছু কথা বলি। এই কিছুক্ষণ আগে মনের আবেগ নিয়ে যে কথা বলেছিলাম তার পিছনে কিন্তু সাউন্ডট্রাকগুলোর দারুন ভূমিকা রয়েছে। কেননা, কিংডমে সঠিক দৃশ্য অনুযায়ী সঠিক সাউন্ডট্রাক ব্যাবহার করা হয়েছে। ও.এস.টি গুলো মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দের “Shin Main Theme” (https://goo.gl/ndBWBw)। এই ও.এস.টি শুনে মনে অন্যরকম প্রশান্তি আসে। আর কিংডমের ওপেনিং আর এন্ডিং সংএর পিছনে রয়েছে Nothing’s Carved In Stone, The Sketchbook ও D☆DATE এর মতো ব্যান্ডগুলো। প্রতিটা গানই দারুন কিন্তু আলাদা করে ওপেনিং সং এর মধ্যে “Pride” by Nothing’s Carved In Stone (https://goo.gl/hIaAA2) আর এন্ডিং সং এর মধ্যে “21” by The Sketchbook (https://goo.gl/UQK1dS) বেশি ভাল লেগেছে। তারপরেও “Voice of Soul” by Takumi Ishida (https://goo.gl/SOqo24) এবং “Destiny Sky” by Yuki Wakai (https://goo.gl/DlVUL1) গান দুইটাও কিন্তু মারাত্মক সুন্দর। সবমিলিয়ে কিংডমে খুবই চমৎকার চমৎকার গান ব্যাবহার করা হেয়েছে।

K 4

কিংডমের ভয়েস অ্যাক্টিং রোলগুলাও কিন্তু চমৎকার। যেমন, এনিমের মূল চরিত্রগুলো – Li Xin, Ying Zheng, Lei Qiang ও He Liao Diao এর ভয়েস অ্যাক্টিং রোলে ছিলেন যথাক্রমে Masakazu Morita, Jun Fukuyama, Yoko Hikasa ও Rie Kugimiya। এছাড়া বাকি ক্যারেক্টারগুলোতেও বেশ ভাল ভাল ভয়েস অ্যাক্টিং রোল আছে।

কিংডম এনিমে দেখে কিন্তু প্রাচীন চীনের অনেক ঐতিহাসিক ধারণাও পাওয়া যায়। এই এনিমের ক্যারেক্টারগুলো সব হিস্টরিকাল ক্যারেক্টার। সম্রাট Ying Zheng এর চীন রিইউনাইটেড করার সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কিংডম মাঙ্গা/এনিমে তৈরি করা হয়েছে। (আরও জানতে – https://goo.gl/DmnZjr)

K 5

যাই হোক, ‘কিংডম’ নিয়ে অনেক কথাই লিখালাম। এখন পর্যন্ত আমার দেখা সেরা হিস্টোরিকাল এনিমে হল কিংডম। আমার মতে এটি ‘মাস্টারপিস’ এনিমের কাতারে পড়ে। আপনারা যারা এর আগে কখনো হিস্টরিকাল এনিমে দেখেন নি বা দেখতে চান না তারা একবার হলেও এটা দেখার চেষ্টা করুন। একসময় আপনার ঠিকই ভাল লাগবে। আশা করি রিভিউটা পড়ে ভাল লেগেছে, আর অবশ্যই কিংডম দেখবেন। তাহলেই আমার রিভিউটি লেখা সার্থক হবে।

K 6

 

Behind the Voices – 13

কাজি ইয়ূকি

কাজি ইয়ুকির কণ্ঠটা তার বয়সের তুলনায় বেশ ইম্মেচিউর । তবে সব কণ্ঠ অভিনেতারই যে সবসময় অধিক ম্যানলি চরিত্র করতে হবে তা তো আর নয় । সে তার এই কণ্ঠটাই নিজের সুভিধায় লাগিয়ে, নিজের ধাঁচের চরিত্রকেই কণ্ঠ দেওয়ায় নিজের দক্ষতা বারিয়েছে । এবং এখন আর বলা লাগে না যে আনিমে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সফল কণ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যে তিনি একজন ।

কাজি ইয়ুকি বরাবরই কিশোর চরিত্রগুলোর কণ্ঠ দেওয়ার জন্য বেশ নামকরা, তবে কিছু কিছু অন্য রকম চরিত্রেরও কণ্ঠ দেওয়ার নমুনা আছে তার । সে আমার পছন্দের সেইয়ূর তালিকায় না থাকলেও তার বেশ কিছু রোল খুব ভালো লেগেছে তা মানতে রাজি । তার পছন্দের রোলগুলো হল ম্যাজাই-এর আলিবাবা, শিঙ্গেকি নো কিয়োজিনের এরেন ইয়েগার, হাইস্কুল DXD ইস্সেই, এস অফ ডায়ামন্ডের নারুমিয়া মেই, ব্ল্যাক বুলেটের রেনতারো, গিল্টি ক্রাউনের ঔমা শূ, নিসেকোই-এর মাইকো শূ, দুরারারার ওয়াকার, নোরাগামির ইউকিনে, হেন্তাই ঔজির হেন্তাই ঔজি, হাইকিউ-এর কেনমা, বাকুমানের তাৎসুরৌ এবং কুরোশিৎসুজির ফিনিয়ান । এছাড়া একজন গায়ক হিসেবেও তার ক্ষ্যতি আছে ।

1

তার জন্ম ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫ । একজন সেইয়ূ হিসেবে তিনি ২০০৬ থেকে অ্যাক্টিভ । তার সামনে আরও আরও ভালো রোল আসবে এ আশা করি ।

2

সাকুরা আয়ানে

কণ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে অধিক পটেনশিয়ালের অধিকারীদের একজন সাকুরা আয়ানে । তার গলায় এক ইউনিক টান থাকলেও প্রায় সব ধাঁচের চরিত্র করাতেই দক্ষ তিনি ।

মাত্র ২০১০-এ অভিষেক হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ নাম করে ফেলেছেন তিনি । এবং গত বছর থেকে যদি কোন হটশট কণ্ঠ অভিনেত্রীর নাম বলতে হয় তাহলে তার নাম নিঃসন্দেহে বলা হবে । ২০১১ থেকেই কম পক্ষে প্রতি বছর ১০ টা রোল আছে তার, তবে ২০১৩-এর আগ পর্যন্ত তার বেশির ভাগই ছিল গুরুত্বহীন সাইড ক্যারেক্টার । ২০১৪ থেকে হঠাৎ একাধিক ভালো ভালো রোল পাওয়া শুরু তার এবং তা ২০১৫ তেও বিদ্যমান ছিল ।

তার যে রোলগুলো আমার বেশ পছন্দ তা হল গোচিউসার কোকোয়া, ট্রিনিটি সেভেনের লেভি, সাইকো পাসের শিমোৎসুকি, ওরেগাইরুর ইশ্শিকি ইরোহা, ভিভিডরেড ওপেরেশনের আকানে, শিগাৎসুর সুবাকি এবং সাথে একটা পচা গেমের সেন্দাই, নাগাতো, মুৎসু এবং শিমাকাযে । এছাড়া তার হাইস্কুল DXD-এর গ্যাস্পার রোলটাও বেশ ভালো ছিল :v ।

3

তার কাজ করা বেশ কিছু আনিমেগুলার ওপেনিং-এন্ডিং এও তার অবদান রয়েছে যেমন হিদান নো আরিয়া, জোশিরাকু, নন নন বিয়োরি ইত্যাদি ।

কয়েকদিন আগেই তার জন্মদিন ছিল ২৯ জানুয়ারি । তার বয়স মাত্র ২২ এবং সামনে যে তার এক উজ্জ্বল ক্যারিয়ার আছে, তা তার পারফর্মেন্সই বলে দেয় ।

4

Behind the Voices – 12

উচিয়ামা কৌকি

উচিয়ামা কৌকির কণ্ঠটায় ঠিক অচঁচল এবং ‘ Don’t know, Don’t care’ ভাব আসে তার কণ্ঠের মাঝে । তাই সে সাধারণত এই ধাঁচের চরিত্রেরই কণ্ঠ দিয়ে থাকে এবং ৯০% কিশোর অথবা তরুণ চরিত্র । সে বেশির ভাগ সময়ই কণ্ঠ অভিনয় ছাড়া মিডিয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখেন ।

তার রোলগুলা বেশ ইউনিক হয় । আমার তার অনেক রোলই বেশ প্রিয় সেগুলো হচ্ছে সৌল ইটারের সৌল, হান্টার হান্টারের মেরেউয়েম, আমাগি ব্রিলিয়ান্ট পার্কের কানিয়ে সেইয়া, নিসেকোই-এর ইচিজৌ রাকু, বারাকামনের হিরোশি, হোতারুবি নো মোরি য়ে-এর গিন, হাইকিউর সুকিশিমা, বিনবৌগামি গা-এর কেইতা, সি-এর কিমিমারো, ডেথ প্যারেডের ক্লাভিস এবং যেতসুয়েন নো টেম্পেস্টের ইয়োশিনো । মজার ব্যাপার হল, নিসেকোই-এর ইচিজৌ রাকু এবং ইনফিনিট স্ট্রাটোসের ওরিমুরা ইচিকাকে চরিত্রের ক্ষেত্রে এক কাতারেই ফেলানো হয়, তাদের দুজনেরই সেইয়ূও কিন্তু এই লোক । কিংডম হার্টসের রক্সাস এবং রিবর্নের অ্যাডাপ্ট না হওয়া চ্যপ্টারগুলোতে কোযাতো এন্মার কণ্ঠও কিন্তু তিনি দিসেন ( কোন স্টুডিও অ্যাডাপ্ট করে না কেন >_< ) ।

1

তার জন্ম ১৬ আগস্ট, ১৯৯০ । কণ্ঠ অভিনয়ে তার অভিষেক ২০০৭-এ হলেও তিনি তার আগে টেলেভিশন ড্রামায় অভিনয় করতেন । ২০১১ সালের 5th Annual Seiyuu Awards-এ ‘Best New Actor’ পদক তিনি জিতেছেন । সামনে আরও ভালো ভালো রোল করবেন তিনি, সেটা তার দক্ষতা দেখেই বুঝা যায় ।

2

 

তৌয়ামা নাও

জাপানের কণ্ঠ অভিনয়ের ইন্ডাস্ট্রিতে যদি কেউকে সেরা ইংরেজি বলার খেতাব দেওয়া হয়ে থাকে, তবে আমি বিশ্বাস করি তার অধিকারি হবেন তৌয়ামা নাও । একজন কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনি প্রখর, ঠিক তার ইংরেজি বলার দক্ষতার মতই । তার কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে আবির্ভাব ২০১০-এ । এবং তার প্রথম রোলই ছিল কামি নোমি যো শিরু সেকাই-এর কানোন যিনি বেশ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন পুরা ফ্র্যান্চাইজে ।

কণ্ঠ অভিনয়ে তার গলার স্বর ধরা সহজ, তাই অনেকের কাছেই একটা ব্যাপার অজানা হয়ে থাকে যে সে সহজেই স্বর পরিবর্তন করতে পারেন । এটা হয়তো অনেক কণ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই পারে তবে গানের মধ্যে এই দক্ষতা প্রয়োগ করতে পারে, এরকম খুব কম জনকেই দেখেছি ( https://goo.gl/uaG4xlএইটা শুনে দেখতে পারেন ) । তার কণ্ঠটা প্রথমে প্রথমে পছন্দ হত না । আমার এখনো মনে আছে ২০১৪-এর দিকে আমি আর আমার এক বন্ধু মিলে তাকে ব্যাশ করতাম, যদিও সে সাওয়াশিরো মিয়ুকির বেশ বড় ভক্ত :3 । তবে ঠিক একটা গেম খেলার পর এবং তার আগে কিছু কিছু আনিমে দেখে আমার মতামত পরিবর্তন হয়েছে ।

৪ বছরে সে এক গাদা রোল করেছেন, এবং ২০১৩-এর শেষের দিক থেকে সে স্পটলাইটে আসতে শুরু করেন । কিনিরো মোজাইকের কুজৌ কারেন, গেট-এর লালেনা, কামি নোমি-এর কানন, ট্রিনিটি সেভেন-এর শার্লক লিসেলট্টে, ওরেশুরার নাৎসুকাওয়া মানা তার এই রোলগুলা আমার বেশ পছন্দ । সুধু তাই নয় কানকোলেতে তিনি একা ৬ টা রোল করেছেন কঙ্গৌ, হিয়েই, হারুনা, কিরিশিমা, মায়া, আতাগো এবং সবগুলাই আমার বেশ ভালো লেগেছে । এছাড়া তিনি গেমে মায়া এবং চৌকাই-এর কণ্ঠও দিয়েছেন যারা এ বছরে ফ্র্যান্চাইজটির মুভিতেই আসবে ।

3

তার গানগুলো এবং লাইভ পার্ফোমেন্স গুলোর বেশ বড় ভক্ত আমি । কামি নোমিতে কানোনের হইয়ে সে বেশ কয়েকটি গান গিয়েছেন, যার মধ্যে Love Kanon (https://goo.gl/NlpjRy) এবং All for you (https://goo.gl/xyfHVn) আমার বেশ প্রিয় শুনে দেখতে পারেন । এছাড়া Gate, Ikoku Meiro no Crosiee, Nisekoi, Military, Sabagebu, Oregairu, Zettai Karen Children-Unlimited, Symphogear এবং আরও কিছু আনিমেতে তার গাওয়া গান ওপেনিং অথবা এন্ডিং হিসেবে ব্যাবহৃত হয়েছে ।

তার জন্ম ১১ মার্চ, ১৯৯২ । তার শিক্ষিকা হওয়ারও যোগ্যতা আছে, কারণ সে ইংরেজি এবং ইতিহাশের উপর উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রি অর্জনের খেতাব আছে । এছাড়া তিনি কিন্তু একজন জোজো ভক্ত ।

4

JoJo’s Bizarre Adventure: Stardust Crusaders [এনিমে রিভিউ] — Rezo D. Skylight

এনিমে রিভিউঃ
JoJo’s Bizarre Adventure: Stardust Crusaders
জনরাঃ অ্যাকশান, অ্যাডভেনচার, শৌনেন
এপিসোডঃ ৪৮ (২৪+২৪)
স্টুডিওঃ David Production
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ১ম সিজন (৮.২৩), ২য় সিজন (৮.৬২)
পার্সোনাল রেটিংঃ ৯/১০

JoJo

JoJo’s Bizarre Adventure সিরিজের তৃতীয় পার্ট হল Stardust Crusaders। প্রথম দুই পার্টের সূত্র ধরেই Stardust Crusaders এর কাহিনী শুরু। তাই এনিমের প্রথম সিরিজের কাহিনী টেনে না এনে সরাসরি Stardust Crusaders কাহিনী ব্যাখ্যা করছি।

যারা জোজোর প্রথম দুই পার্ট দেখেছেন তাদের নিশ্চয়ই ডিয়োর কথা মনে আছে। হ্যাঁ, সেই ডিয়োই ঠিক ১০০ বছর পর জোনাথান জোস্টারের শরীর নিয়ে জেগে উঠেছে। আর এই ডিয়োর বিরদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জোসেফ জোস্টার তার একমাত্র পৌত্র কুজো জৌতারোর সাহায্য নিতে জাপানে আগমন করে। ততদিনে জোজো পরিবারের বংশধররা ‘স্ট্যান্ড’ ইউজারে পরিণত হয়েছে। আর তার সূত্র ধরেই জৌতারোর মাও ‘স্ট্যান্ড’ ইউজার হয়ার হাত থেকে রক্ষা পাইনি। ‘স্ট্যান্ড’ এর আবির্ভাব হয়ার সাথে সাথেই জৌতারোর মা ডিয়োর অভিশাপের কারণে এমন এক অসুখের স্বীকার হয় যা তাকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেয়। এখন উপায়?! একটাই উপায়; আর তা হল ডিয়োর বিরুদ্ধে লড়ে তাকে হত্যা করা। আর সেই উদ্দেশেই জৌতারো কুজো তার দাদা জোসেফ জোস্টারের সাথে তার সঙ্গীদের নিয়ে রওনা হয় মিশরের উদ্দেশ্যে। আর এখান থেকেই শুরু হয় Stardust Crusaders এর যাত্রা।

এখন প্রশ্ন হল ‘স্ট্যান্ড’ কি? স্ট্যান্ড হল একধরণের ইউনিক স্পিরিট যা যে কোন মানুষ নিজেকে রক্ষা করতে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে কিংবা অন্যকোন কাজে ব্যাবহার করতে পারে। আর যারা স্ট্যান্ড ব্যাবহার করতে পারে তারা ‘স্ট্যান্ড ইউজার’ হিসেবে পরিচিত। এই স্ট্যান্ডের অরিজিন নিয়ে Stardust Crusaders-এ আর কিছু ব্যাখ্যা করা হয়নি; পরবর্তী পার্টের কাহিনী সম্পর্কে কিছু না জেনে তাই আর কিছু বলতে পারছি না।

জোজোর আগের পার্ট দুইটা যারা দেখেছেন তারা জানেনই জোজো সিরিজ কেমন। জোজোর ক্যারেক্টারগুলো খুব সিম্পলিস্টিক এবং কাহিনীও অনেকটা সরল প্রকৃতির। কিন্তু তারপরেও জোজো এত ভাল লাগার কারণ কি?! ভাল লাগার অনেক কারণই আছে। প্রথমত, জোজোর ক্যারেক্টারগুলো সিম্পলিস্টিক হলেও বেশ ইন্টারেস্টিং। দেখতে দেখতে কখন যে আপনার ক্যারেক্টারগুলো আপনার ভাল লেগে যাবে টেরই পাবেন না। এছাড়া তাদের যাত্রাপথে বাধা অতিক্রম করার জন্য লড়াই করতে হয় বিভিন্ন স্ট্যান্ড উইজারদের সাথে। আর প্রতিটি লড়াই অনেক উপভোগ্য। এছাড়া কমেডিকাল মোমেন্টেরও অভাব নেই। জোজো দেখার সময় যে কতবার হাসছি তারও ঠিক নেই। আর জোজোর যে জিনিসটি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে আর তা হল ‘ইন্টেনস মোমেন্ট’ ক্রিয়েট করা। কিভাবে তারা এক একটি বাধা অতক্রম করবে তা কিছুতেই বলা যাবে না। সময় সময় আপনার মনে হবে “এখন উপায়?!”, “কিভাবে সম্ভব?!” এরকম ধরণের যতসব প্রশ্ন। কিন্তু আপনার সকল প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে আপনাকে এমন এক টুইস্ট উপস্থাপন করবে তাতে আপনি না চমকে বসে থাকতে পারবেন না। এমনকি আপনিও মাঝে মাঝে জোসেফ জোস্টারের মতো “Ohhh my god!!” বলে বসতে পারেন। এছাড়া জোজোতে রয়েছে রক্তগরম করা অনেক ‘হিরোয়িক মোমেন্ট’। সাথে আছে চমৎকার চমৎকার কিছু সাউন্ডট্র্যাক। আর মেইন ভিলেন হিসেবে ডিয়ো কিন্তু খুবই ইন্টারেস্টিং একজন চরিত্র। আবার মেইন প্রোটাগনিস্ট হিসেবে জৌতারোর কোনভাবেই ডিয়োর থেকে পিছিয়ে নেই। বরং অন্যান্য জোজোদের তুলনায় জৌতারো বেশি ভায়োলেন্ট। সবমিলিয়ে বলা যায়, যেকোনো অ্যাকশানপ্রেমিক এনিমেভক্তদের জোজো অবশ্যই দেখা উচিত।

জোজোর আর্টস্টাইল অন্যান্য এনিমের তুলনায় কিছুটা ব্যতিক্রম। লোকজন সাধারণত জোজোর আর্টস্টাইলকে ‘ম্যানলি আর্টস্টাইল’ বলে। মূলত জোজোর মাঙ্গাকা Hirohiko Araki-র আর্টস্টাইল এনিমেতে ফলো করা করা হয়েছে। অনেকেই হয়ত এই ‘ম্যানলি আর্টস্টাইল’ এর জন্য জোজো দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। কিন্তু কয়েক এপিসোড দেখার ট্রাই করলে আপনার কাছে আর্টটা একসময় মানানসই হয়ে যাবে। তাই ভুলেও আর্টের কারণ দেখিয়ে জোজো দেখা ড্রপ মারবেন না।

এখন পর্যন্ত জোজোতে আমার দেখা সেরা পার্ট হল Stardust Crusaders। বিশেষ করে ২য় সিজনের থ্রিলিং মোমেন্ট আর এক একটা ব্যাটেল ছিল সেই জোশ। আর এন্ডিংও অসাধরণ। তাই দেরি না করে হাতে সময় থাকলে জোজো Stardust Crusaders দেখতে বসে জান। তবে অবশ্যই আগে প্রথম পার্টগুলো দেখে নিবেন। আশা করি রিভিউটি পড়ে ভাল লেগেছে এবং আপনিও জোজো দেখার সময় বেশ উপভোগ করবেন।