মানহয়া রিভিউ: For the Sake of Sita — Rumman Raihan

মানহয়া রিভিউ

ফর দা সেইক অফ সীতা।

তালেজু দেবী একবার মর্ত্যে এসেছিলেন রমণী বেশে । নেপালের রাজা দেবতুল্য সেই রমণীর রুপ দেখে এক অন্ধ লালসায় মত্ত হয়ে কেরে নেন দেবীর সতীত্ব। দেবী এতে ক্রুদ্ধ হয়ে এক ভয়ঙ্কর অভিশাপ লিখে দেন রাজার কপালে। ফিরে জান স্বর্গালোকে। অতঃপর রাজা যখন নিজের পাপ সম্পর্কে বুঝতে পারেন, তখন তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তালেজু ভবানী গড়ে তুলেন দেবীর পূজার জন্য। ( কয়দিন আগে নেপালের ভূমিকম্পে যে তালেজু ভবানী ও কুমারি মন্দিরের ক্ষতি হয়েছিল।) দয়াময় দেবী তখন এক শর্ত দেন রাজাকে। একজন কুমারী মেয়ে শিশুকে বেছে আনতে। দেবী সেই শিশুর শরীরে আগমন করবেন আর সবাই এই কুমারির কাছে আরাধনা করবে।
না, গল্পটি কোনো মিথোলজিক্যাল গল্প নয়। কিন্তু, কুমারী পূজা, রি-ইঙ্কারনেশন এর ছায়া আছে গল্প টিতে।
গল্পের নায়িকার নাম ঝর্ণা সীতা। সব কুমারির নামই হয় সীতা। তবে সব সীতাই কুমারী হয় না। কোরিয়ান এক যুবক মেডিক্যাল স্টুডেন্ট হয়ে নেপালে আসে। প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলে সীতাকে। বিয়ে করে নিজের দেশে নিয়ে আসে সীতাকে। কিন্তু ভাগ্যের এক নির্মম পরিহাসে ভেঙ্গে যায় তাদের সুখের জীবন। এ কি সেই দেবীর মহাকালের অভিশাপ?

কুমারী প্রথার এক অন্য বিচিত্র রূপ ধরা পরেছে এই অসাধারন ভালোবাসার গল্পে। মানহাটির আর্টস্টাইল সম্পূর্ণ আলাদা। উপমহাদেশের সংস্কৃতির অনেক উপাদান আছে এখানে। পড়ে ফেলুন আজ তাহলে!

For the Sake of Sita
Art and Story: Haga
Genre: Mystery, Romance, Tragedy
Chapters: 14
Status: Completed
Published: From November 2014 to August 2015
LINE Webtoons Rating: 9.39

seeta 1 seeta 2

মাঙ্গা রিভিউঃ Kamisama ga Uso wo Tsuku / The Gods Lie — Rezo D. Skylight

Kamisama ga Uso wo Tsuku / The Gods Lie

Volumes: 1
Chapters: 5
Status: Finished
Published: Mar 25, 2013 to Jul 25, 2013
Genres: Drama, Romance, School, Slice of Life, Seinen
Authors: Ozaki, Kaori (Story & Art)
Serialization: Afternoon
MAL Score: 8.31
Ranked: 317

the gods lie

কাহিনীর শুরুটা হয় নাতসুরু নামের ১১ বছরের এক বালকের দৈনন্দিন জীবনের গল্প নিয়ে। সে ফুটবল খেলেতে খুব পছন্দ করত এবং মেয়েদেরকে সবসময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করত। বলতে গেলে মেয়েরাই তাকে ইগনোর করে চলতো। তার বাবা মারা যাওয়া সত্তেও, সে ও তার মা একসাথে বেশ সুখ-শান্তিতেই বসবাস করত। এভাবেই তার দিন কাটছিল। কিন্তুু গ্রীষ্মের বন্ধের কিছুদিন আগে প্রয়োজনে পড়ে সে তার ক্লাসের সুযুমুরা নামের এক মেয়ের সাথে কথা বলা শুরু করে। আস্তে আস্তে নাতসুরু সেই মেয়ের পারিবারিক কষ্টের জীবন সম্পর্কে জানা শুরু করে। এরপর গ্রীষ্মকালের ছুটিতে সে তার বন্ধুদের সাথে স্কুল ক্যাম্পিং এ না গিয়ে সুযুমুরার বাড়ি বেড়াতে যায়। কারণ সে নিজেও চায় তাদের অংশ হয়ে তাদের এই কষ্টকর পরিস্থিতি উপ্লব্ধি করতে।

আমারা অনেকেই দারিদ্রতা কি তা সহজে উপলব্ধি করতে পারিনা। যদি আমরা তাদের সমাজে গিয়ে বসবাস করি তাহলেই আমরা তাদের দুঃখ কষ্টের ব্যাপারটা বুঝতে পারব। আর ঠিক এই ব্যাপারটাই এই মাঙ্গায় খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে। এছাড়া এখানে রোমানস ও স্কুল-লাইফকেও ভালোভাবে তুলে ধরেছে।

ক্যারেক্টারের কথা বলতে গেলে সব ক্যারেক্টারকেই আমার বেশ ভালো লেগেছে। তবে বিশেষ করে সুযুমুরাকে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। কারণ এত কম বয়সের একজন মেয়ে হয়েও, সে পুরো পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিয়েছে। তার এই শক্তিশালী মনোবলের জন্যই মনে হয় তাকে অন্যান্য ক্যারেক্টারদের থেকে একটু আলাদা করে দেখেছি।

মাঙ্গার আর্টও যথেষ্ট ভালো। বিশেষ করে ক্যারেক্টার ডিজাইন আর ডিটেইলিং বেশ সুন্দর। এর মাঙ্গাকা হলেন Ozaki Kaori। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হল “Meteor Methuselah / Immortal Rain” মাঙ্গা। এছাড়াও তিনি Piano no Ue no Tenshi, Knife নামের আরও কিছু মাঙ্গা রচনা করেছেন।

যাই হোক এখন দেরি না করে মাত্র ৫ চ্যাপ্টারের এই ছোট মাঙ্গাটি পড়ে ফেলুন। আশা করি পড়ে বেশ ভালো লাগবে।

ব্যক্তিগত রেটিং – ৮.৫/১০

লিঙ্ক- http://kissmanga.com/Manga/Kamisama-ga-Uso-o-Tsuku

মাঙ্গা রেকমেন্ডেশনঃ Apocalypse no Toride (Fortress of the Apocalypse) — Rezo D. Skylight

Apocalypse no Toride (Fortress of the Apocalypse)
Chapter: 45
Status: Complete
Genres: Action, Mystery, Horror, Sci-Fi, Shounen, Psychological
Authors: Kuraishi, Yuu (Story), Inabe, Kazu (Art)
Serialization: Shounen Rival
MAL Score: 8.08
Personal Score: 8/10

ant 1

ধরুন আপনি প্রতিদিনের মতো স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছেন। তখন বাড়ি ফিরার পথেই দেখতে পেলেন একজন মানুষের লাশ আপনার ঘরের সিঁড়িতে পড়ে আছে। অথচ এই হত্যা কে করেছে, তাকে আপনি চিনেন না; অপরদিকে আপনি যে এই হত্যা করননি সেই কথাও কেউ বিশ্বাস করছে না। সেই মিথ্যা হত্যার দায় ঘাড়ে নিয়ে জোরপূর্বক আপনাকে কারাগারে পাঠানো হল; আপনার উপর জারি করা হল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তখন আপনার মানুষিক পরিস্থিতি কেমন হবে একবার ভেবে দেখুন। ঠিক এইরকমই এক অমানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় মাঙ্গার মূল নায়ক “মায়েদা ইয়শিআকি”। এখান থকেই তার জীবনের সবচেয়ে কষ্টকর মুহূর্ত শুরু হয়। তবে সে ধীরে ধীরে তার কারাগারের রুমমেটদের সাথে বন্ধুতপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে। তার এই নতুন বন্ধুরা তার পরিস্থিতির কথা উপলব্ধি করতে পেরে তার সহায়তায় এগিয়ে আসে। ঠিক এমন সময় একধরনের মারাত্মক ভাইরাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যা মানুষকে ইনফেক্টেড করলে পরিণত হয় মানুষখেকো জীব তথা যম্বিতে। এইরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে কারাগারবাসিদের জন্য রয়েছে জেল থেকে পালানোর সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তুু কারাগার থেকে বের হয়ে, এইরূপ পরিস্থিতিতে তারা কি পারবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে?

ant 2

আরও জানতে পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি। এর কাহিনী ডার্ক থিম আর রহস্যে ভরপুর। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, বিশ্বাস, ধোঁকা এককথায় মানুষের সাইকোলজি খুব ভালোভাবে দেখানো হয়েছে। মাঙ্গাকা ক্যারেক্টারগুলো খুব যত্নসহকারে বানিয়েছে। প্রতিটি চরিত্রেরই দেখানো হয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট। আর হরর মাঙ্গা হিসেবে আর্টও যথেষ্ট ভালো। মাঙ্গার প্রতিটি প্যানেলই খুব স্পষ্ট এবং সহজেই কি হচ্ছে তা বুঝা যায়। শুধু একটাই সমস্যা মাঙ্গার এন্ডিংটা অনেক রাসড। এছাড়া পুরো মাঙ্গাটাই আমার ভালো লেগেছে।

ant 3

সুতরাং যারা কোন যম্বি মাঙ্গা খুঁজে বেড়াচ্ছেন তারা এই মাঙ্গাটি পড়ে দেখতে পারেন। বিশেষ করে যারা হরর-সাইকোলজিকাল জনরার ফ্যান তাদের এই মাঙ্গাটি খুব ভালো লাগবে বলে আশা করা যায়। তাই দেরি না করে পড়া শুরু করে দিন এবং হারিয়ে যান যম্বির দুনিয়ায়।

পড়ার লিঙ্ক – http://kissmanga.com/Manga/Apocalypse-no-Toride

ant 4

অনন্য মাঙ্গা আসর – ১ (Major)

এনিমে বের হয়েছে,নিউ সিজন,এই এনিমের গ্রাফিক্সের কাজ,কোনটা ভাল কোনটা মন্দ তা নিয়ে মাতামাতি,আলোচনার অন্ত নেই।অথচ যেই মেধাবী শিল্পীদের হাতে তৈরি মানগা হতে এনিমের এডপ্টেশন হয়,তারা গুরুত্ব পান বটে,তবে মানগা পড়ার প্রতি আকর্ষণ কম।অথচ মাঙ্গাতে কাহিনীর সুসজ্জিত বিবরণ আর সুন্দর উপস্থাপনা পাওয়া যায় যার অনেকাংশ এনিমেতে কেটে ফেলে দেওয়া হয়।

তাই,গ্রুপে মানগা নিয়ে আলোচনা করা হয় মাঝে মধ্যে,একটু আধটু।তাই মানগা পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে মানগার প্রতি ফ্যানডম এর প্রসারে হাজির হলাম “অনন্য মানগা আসর” নিয়ে। অনেক শ্রদ্ধেয় সেনপাইরা অনেক মানগা পড়েছেন,জানেন অনেক কিছু। তাই যেকোন ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর ১৮ বছরের ছোট্ট জীবনে নিয়মিত কিছু করতে পেরেছি বলে মনে পড়ে না,তাই এই সেগমেন্টের কোন নিয়মিত ডেটলাইন দিতে পারছি না।

আজকের মানগা মেজর। স্পোর্টস সিরিজ নিয়ে আলোচনায় স্লামডাঙ্ক,কুরোকো,হাজিমে নো ইপ্পো,ক্রস গেম,এইস অফ ডায়মন্ড ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হলেও এই মাস্টারপিস নিয়ে তেমন আলোচনা পাই নি। তাই আজকে কথা হোক Major নিয়ে।

magur

গোরোউ হোন্ডা নামের এক কিন্ডারগার্টেন পড়ুয়া ছেলের বেসবল খেলার আদ্যোপান্ত গল্পের মূল অংশ। এদিক দিয়ে উপরোক্ত যেকোন স্পোর্টস সিরিজের মধ্যে ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্টের ব্যাপারে এটা চ্যাম্পিয়ন। কিন্ডারগার্টেন এর প্লেগ্রাউন্ড থেকে ডিস্ট্রিক্ট ,ডিস্ট্রিক্ট থেকে ন্যাশনাল এভাবে মারাত্নক উদ্দীপনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই মাঙ্গাটি। আর্টের ধরন ভালো কি না বলব না,বরংচ বলি এথলেটিক। খেলার মাঝে কি হচ্ছে তা বোঝার জন্য আর্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

অনেকেই বলেন মেইন ক্যারেকটার এর খেলা শেষ হয়ে গেলে গল্পও শেষ,এটা তাদের পছন্দ না।তাদের জন্য একট ছোট্ট ——- স্পয়লার (((((হোন্ডার পর হোন্ডার ছেলেকেও দেখতে খেলায় দেখতে পাবেন এখানে))))))

মানগা প্রথম সিজনে ৭৮ টি ভলিউম আছে। কিন্তু সিজন ২ এখনো অনগোয়িং…

রচয়িতা- তাকুয়া মিতসুদাজেনরা – কমেডি,শোউনেন,স্পোর্টস MAL রেটিং- ৮.৩৯খেলাগুলোর মধ্যে সেইশুর সাথে ম্যাচ আর বেসবল বিশ্বকাপ এর ম্যাচগুলো উল্লেখ করার মত। মাঙ্গাতে খেলাগুলোর উপস্থাপন ভালো হলেও এনিমেতে স্পোর্টস থিমের চেয়ে শোউনেন বা ইন্টিমিডেটিং কিছু দৃশ্য দেওয়া হয়েছে যা মাঙ্গাতে নাই।মেজর মাঙ্গাতে ধাপে ধাপে বেসবল বিশ্বকাপ,মেজর লিগ,হাইস্কুল টুর্নামেন্ট এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে স্পোর্টস এর আসল থিম বা চেতনাকে।

সবচেয়ে মজার বিষয় ক্লাবের নয় দেশে দেশের মধ্যকার খেলাও রয়েছে এই মাঙ্গাতে। আরো আছে সলিড ডিটেইলিং যা খেলার উত্তেজনা বারিয়ে দিয়েছে।শিগেহারু,হোশিনো সেনসেই,সাতো এবং শিমিজুর মত কিছু চরিত্র থাকায় মানগাটির চরিত্রে বৈচিত্র্য ও চোখে পড়ার মত।আলোচিত এক চরিত্র হল জো গিবসন। মাঙ্গাটি পড়লেই বুঝতে পারবেন Major না পড়লে ওনেক কিছু মিস ;-)আজকের মত মাঙ্গা আসর এ পর্যন্তই থাকুক…সামনে ভালো কোন মাঙ্গাতে নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে।লেখা লম্বা করলাম না,কারন তাতে স্পয়লার মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে।মানগা পড়ুন,অন্যকেও পড়তে বলুন 🙂

Gyo [মাঙ্গা রিভিউ] — Rumman Raihan

সমুদ্রের তলদেশে লুকিয়ে আছে কত প্রাণী, কত উদ্ভিদ, কত কালের হারানো রহস্য। সাগর যা ছিনিয়ে নেয় তা কখনো ফিরিয়ে দেয় না। ডুবে যাওয়া জাহাজ তীরে আসে না। আসে চার পা ওয়ালা মাছ, হাঙর, অক্টোপাস, তিমি, ইত্যাদি…
কি? কিছু ভুল বললাম নাকি?

>মাঙ্গা রিভিউ<
_______

“গিয়ো” মাঙ্গাটির মাঙ্গাকা হলেন জুনজি ইতো। গল্পেটির মূল চরিত্র তাদাশি নামের এক যুবক। গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদাশি তার গার্লফ্রেন্ড কাওরি কে সঙ্গে নিয়ে অকিনাওয়া সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়েছে। তার আঙ্কেলের অনেক প্রাচুর্য আছে এখানে। হলিডে কাটানোর সামার হাউজ, আর বোটে করে সমুদ্রে স্কুবা ডাইভিং এসব নিয়ে তাদাশির সময় ভালোই কাটছিল। কিন্তু, কাওরি মোটেও স্বস্তি বোধ করছে না। সে সাগরের গন্ধ, তীরে মাছের বাজারের ঘ্রাণ একদম সহ্য করতে পারে না। কাওরির ঘ্রাণশক্তি প্রখর। এমনকি তাদাশির মুখের গন্ধ নিয়েও অভিযোগ করে সে। এ নিয়ে দুজনের মাঝে মনমালিন্যও হয়। তা, এই কাওরি হটাত খুব তীব্র পচা গন্ধ পেতে লাগল। ঘরের মাঝেই কোথা থেকে গন্ধ টা আসছে, যেন কোনো মৃতদেহের পচা গন্ধ। গন্ধের উৎস বের করতে গিয়ে তারা আবিষ্কার করলো অবিশ্বাস্য এক জিনিস এর। জিনিষটা কিলবিল করে খুব তারাতারি ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড়ে ছুটে যায়। একটি চার পা ওয়ালা মাছ, তার মাকড়শার মত পাগুলোর নিচ দিয়ে বেরিয়ে আছে দু-তিনটি শুঁড়।

পরদিন তাদাশি দেখতে পেলো বাড়ির বাইরে একটা বিশাল শার্ক লোহার মত বড় পা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। কাওরির চিৎকারে হিংস্র শার্কটি তেড়ে আসে তাদের দিকে। এদিকে অকিনাওয়ার সমুদ্র তীরের সব মাছগুলো এভাবে উঠে আসছে মাটিতে। কিলবিল করে দ্রুত গতিতে হাজার হাজার সামুদ্রিক প্রাণী মানুষের লোকালয়ে হামলা চালাচ্ছে। পুলিশের ব্যারিকেড ও আটকাতে পারছেনা মাছের আক্রমণ।

শুনতে যেমন অদ্ভুত লাগছে, মাঙ্গাটি পড়তে গেলে তার চেয়েও উদ্ভট লাগবে। মাঙ্গার প্যানেলে প্যানেলে বিদঘুটে আর কিম্ভুতকিমাকার প্রাণীগুলোর অংকনে আশ্চর্য হতে হয়। কুৎসিত দৃশ্যগুলোর ডিটেইলস এ একটুও কমতি পরেনি। মাঙ্গাটির চরিত্রগুলি সাদামাটা। তাদাশি চরিত্রটির প্রতি সহানুভুতি থাকলেও, কাওরি চরিত্রটি আমার কাছে খুব একটা আকর্ষণীয় লাগে নি। কিন্তু কাওরিকেই গল্পে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে। এর চাইতে তাদাশির আঙ্কেলের চরিত্র ডক্টর কায়ানাগি, একজন ম্যাড সায়েন্টিস্ট হিসেবে ভালোই ফুটে উঠেছে।

২ ভলিয়মের এই মাঙ্গাটিতে বিশেষ যেই ত্রুটি রয়েছে তা হল গল্পের প্রথমে সায়েন্স ফিকশন দিয়ে ঘটনাক্রমের বিস্লেশন করা হয়েছে। কিন্তু শেষের অংশে মাঙ্গাকা সেই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির সাথে অতিপ্রাকিতিক উপাদান জুড়ে দিয়েছেন। এবং গল্পে মাছগুলোর এই আচরণের ব্যাখ্যাটি এমন ভাবে দেয়া হয়েছে যে, এটি গোপন রাখলেই গল্পের সাসপেন্স টিকে থাকত। মাঙ্গার শেষ ভাগে সার্কাসের একটি দৃশ্য আছে যেটি কিনা গল্পের সাথে খুবই বেমানান লেগেছে আমার কাছে।

এছাড়া মাঙ্গাটিতে তেমন কোনো ত্রুটি খুঁজে পাইনি। “উজুমাকি” মাঙ্গাতে যেমন রহস্য উদ্ঘাটনের আবহ ছিল, ক্লাইম্যাক্স ছিল, এখানে সেরকম না থাকলেও, এখানে যেসব চিত্র দেখানো হয়েছে তা দেখে অস্বস্তি লাগবে। যাকে বলে সুন্দর বীভৎসতা। আমি একজনকে বলতে শুনেছি যে, “আপনি কি কখনো গন্ধ চোখে দেখেছেন? এই মাঙ্গাতে গন্ধ দেখা যাবে।” এবং সত্যিই তাই। মাঙ্গাটি অত বড় না। এক বসাতেই পড়ে শেষ করতে পারবেন। তবে পড়ার সময় কিছু খেতে বসবেন না কিন্তু।

মাঙ্গাটির ২ ভলিয়মের শেষে একটি করে ওয়ানশট মাঙ্গা আছে। প্রথমটির নাম “দা স্যাড টেল অফ দা প্রিন্সিপাল পোষ্ট”, গল্পটি হরর কমেডি বলতে পারেন। দ্বিতীয় গল্পটির নাম “দা এনিগমা অফ আমিগারা ফল্ট”, এখানে জুনজি ইতোর ঠিক আগেকার মত আদিভৌতিক আবহ পাওয়া যাবে।

গিয়ো মাঙ্গাটি একবার পড়েছি। আবার পড়তে চাইনা। এক্কেবারে খাপছাড়া দুঃস্বপ্নের মত বলতে পারেন। গিয়োর উপর ভিত্তি করে একটি এনিমে তৈরি হয়েছে। তবে এনিমেটাতে মাঙ্গার কাহিনী বদলে দেয়া হয়েছে এবং (আমার মতে) মাঙ্গার মতন বীভৎসতা ফুটে উঠেনি।

Name: Gyo
Alternative Name: Gyo: The Death-Stench Creeps, Gyo Ugomeku Bukimi
Art & Story: Junji Ito
Genre: Horror, Sci-fi, Supernatural, Psychological, Seinen, Tragedy, Mystery, Drama.
Volumes: 2
Chapters: 20 + 2 oneshots
Status: Completed
Published: Feb 28, 2002 to May 30, 2002
MAL score: 7.38Gyo

Jigokusei Remina [মাঙ্গা রিভিউ] — Rumman Raihan

শুধু হরর আর সায়েন্স ফিকশান বললেই চলে না। “জিগোকুসেই রেমিনা” মাঙ্গাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা জনরা হিসেবে বলা যায় স্বয়ং মাঙ্গাকার নাম, জুনজি ইতো। মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর “ট্রাইটন একটি গ্রহের নাম” বা “অন্ধকারের গ্রহ” পড়েছেন? তাহলে এই গল্পের কাহিনী বুঝতে বেশি অসুবিধা হবে না।

পৃথিবী থেকে বহু আলোকবর্ষ দূরে এক ওয়ার্মহোল এর ভেতর দিয়ে কিছু একটা এই মহাজগতে প্রবেশ করেছে। অন্য ডাইমেনশন এর জগত থেকে আসা এটি এক নক্ষত্র যা কিনা পদার্থবিজ্ঞান অথবা মহাকাশবিজ্ঞানের যেকোনো নিয়মের বাইরে আচরন করছে। এমনকি এই নক্ষত্র অনেক দূরের গ্যালাক্সির গ্রহ গিলে ফেলছে। পৃথিবীর এক মহকাশবিজ্ঞানী এই আজব নক্ষত্রের আবিষ্কার করেন। নিজের একমাত্র মেয়ের নামে এই নক্ষত্রের নাম দিলেন “লেমিনা”… থুক্কু… “রেমিনা”।

নরক-নক্ষত্র রেমিনা অসম্ভব গতিতে ধেয়ে আসছে সৌরজগৎ এর দিকে। না, এ কোনো নক্ষত্র নয়, নয় গ্রহ। এ এক জীবন্ত প্রাণী।

পৃথিবী ধ্বংস হবার ঠিক আগে দুনিয়া জুড়ে মানুষ উন্মাদ হয়ে গেল। তাদের অস্তিত্ব মুছে যাবে মহাজগতের পৃষ্ঠা থেকে। কিন্তু এর জন্য দায়ী কে? না, এখনো সময়ে ফুরায়নি। সেই দায়ী মানুষটিকে উৎসর্গ করতে হবে। রেমিনা নামের ডাইনীকে হত্যা করে রেমিনা নামের জিন্দা নক্ষত্র কে তুষ্ট করতে হবে। শহর এর সব লোক তাই রেমিনাকে শিকার করতে বেরিয়ে পরল।
রেমিনা কি আসলেই পৃথিবীর এই দুর্ভাগ্যের রচয়িতা?

বাঁধছাড়া কল্পনার এক অদ্ভুত গল্প হল্ জিগোকুসেই রেমিনা। মাঙ্গার পাতাতে আঁকা কেয়ামতের দুঃস্বপ্ন!

জিগোকুসেই রেমিনার পর একই মাঙ্গাতে আছে একটি ওয়ানশট, “আর্মি অফ ওয়ান”।

Name: Jigokusei Remina
Alternative Name: Jigokusei Lemina, Hellstar Remina, Hellstar Lemina, Army of one.
Art & Story : Junji Itou
Genre: Horror, Sci-fi, Psychological, Mystery, Seinen, Tragedy, Drama
Chapters: 6 + 1 oneshot
Status: Completed
Published: Aug 16, 2005

Jigokusei Remina

Ashita Dorobou [মাঙ্গা রিভিউ] — শাহরিয়ার শুভ

Manga: Ashita Dorobou
Other name: 再見明日; 明日泥棒; Ashita’s Thief; Tomorrow’s Thief
Genres: Action, Drama, Mature, Romance, Seinen, Supernatural
Author: Hokazono Masaya, Betten Court
Status: Completed

Summary: গল্পের নায়ক,কিয়শি মিয়াসাকো একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করে। সারাক্ষণ নিজেকে কাজের মধ্যে ডুবিয়ে রাখে।এমনকি কাজের জন্য প্রায়ই অফিসে রাত কাটায়। নিজেও জানেনা কেন সে নিজেকে সারাক্ষণ কাজে ব্যাস্ত রাখে, কিন্তু সে সবসময় তার Ex-Girlfriend কথা চিন্তা করে এবং তাকে অনেক মিস করে। কিয়শির GF আশিতার সাথে কিয়শির নয়বছর আগে Break Up হয় আশিতার হবির কারনে। কিন্তু নয় বছর হয়ে যাবার পরও আশিতাকে ভুলতে পারেনা। আশিতাকে আরেকবার দেখতে চায় ক্ষমা চাওয়ার জন্য।
হঠাৎ একদিন আকাশে একটা অলক্ষুনে রহস্যময় বলয় উদয় হয়। সেই অলক্ষুনে রহস্যময় বলয় থেকে আশিতার আবর্তন ঘটে এবং সেখান
থেকেই কিয়শির জীবন বদলাতে শুরু হয়।

ভাল ছিল মাঙ্গাটা 😀 অনেকদিন পর ভাল একটা রোমান্স মাঙ্গা পড়লাম।
বাট পুরা কাহিনীটাই নাইকার জন্য হইছে! আগে জানতাম Yandere নাইকাগুলাই বেশি ঝামেলা পাকাইতো। বাট Tsundere নাইকাও যে এইরকম ঝামেলা করতে পারে জানতাম না । এর থেকে বেশি বললে স্পয়লার হয়ে যাবে। তাই পড়ে দেখতে পারেন। বেশি বড় না মাঙ্গাটা। মাত্র ৩১টা চ্যাপ্টার 😀 পড়ার পর সময় নষ্ট হবে না এইটার গ্যারান্টি দিতে পারি 😀

My Rating:
for storyline:5.5/10
for Romance: 9/10
for feelings: 7/10
overall rating: 7.5/10

ashita dorobou

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৪০: GOTH — Kazi Rafi

মাঙ্গা- GOTH
জন্রা- সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, হরর।
মাঙ্গাকা- Otsuichi
Art- Kenji Ooiwa
চ্যাপ্টার- 5
স্ট্যাটাস- কমপ্লিট

আপাতদৃষ্টিতে ইতসুকি কামিয়ামা বেশ হাসিখুশি, বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের মনে হলেও  ছোটবেলা থেকেই সে আর দশটা সাধারণ ছেলের থেকে সম্পুর্ণ আলাদা। তাই, প্রথম যেদিন ক্লাসের সবচেয়ে চুপচাপ,‌ নিঃসঙ্গ মেয়েটি, ইয়োরো মরিনোর ডান হাতের কব্জির কাঁটা দাগটা চোখে পরে কামিয়ামার, সেদিন থেকেই ওর মনে জেঁকে বসে এক সুপ্ত বাসনা, যেভাবেই হোক তাঁর পেতে হবে মরিনোর ডান হাতটি! অন্যদিকে, সেই সময়ে পুরা শহরে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এক ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলিং এর ঘটনা! জনসাধারণের মনে প্রচণ্ড ভীতির সৃষ্টি করে অজ্ঞাত অপরাধীর অপহৃত ব্যক্তিদের কব্জিহীন লাশের দেখা মিলতে লাগলো একের পর এক!! এদিকে হঠাৎ করেই একদিন, রীতিমত অপ্রত্যাশিতভাবেই কামিয়ামার সামনে হাজির হয়ে যায় এক সুবর্ণ সুযোগ! সেই সুযোগ এর সদ্ব্যবহার করতেই প্ল্যান মাফিক কাজে নেমে পরল কামিয়ামা। অবশেষে সে পেতে চলেছে তাঁর কাঙ্ক্ষিত, মরিনোর ডান হাতটি!

বলছি মাঙ্গা GOTH এর কথা! ৪টি সংযুক্ত কাহিনী (৫টি চ্যাপ্টার) নিয়ে রচিত এই ছোট্ট মাঙ্গাটি গড়ে উঠেছে হাই স্কুল পড়ুয়া দুই চরিত্র কামিয়ামা ইতসুকি এবং ইয়োরো মরিনোকে ঘিরে! হাসিখুশি, বন্ধুত্বসুলভ ও অমায়িকতার মুখোশে ঢাকা কামিয়ামা আদতে প্রখর বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এবং নিষ্ঠুর প্রকৃতির, যার মনের গভীরে লুকিয়ে আছে এক সুপ্ত বাসনা, অন্যদিকে কমনীয় চেহারার ইতসুকি বেশ চুপচাপ ও নিঃসঙ্গ স্বভাবের, যার কারনে নেই কোন বন্ধুবান্ধবও। বেশীরভাগ সময় একাকি বই পড়ে সময় কাটায়। তাঁর এই আবেগহীন আচার আচরনের পেছনে রয়েছে এক অন্ধকার অতীত যা তাকে মাঝেমধ্যেই তাড়া করে ফেরে! কিন্তু এই দুজনের ভিতরেই রয়েছে একটি বিশেষ মিল! মাত্র একটি বিষয়, যা নিয়ে তাদের দুইজনের ভিতরেই কাজ করে একধরনের প্রচণ্ড মোহ, যা এই দুজনকে অমোঘ নিয়তির মতন কাছে টেনে এনে গেঁথেছে এক সুতোয়, আর তা হল- মৃত্যু! এর প্রচণ্ড আকর্ষণে তারা একত্রিত হয়ে  সমাধান করতে থাকে তাদের আশপাশে ঘটতে  থাকা বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের রহস্য!

মজার কথা হচ্ছে, প্রতিটি গল্পে কেইস সমাধান করে অপরাধীকে হাজতে প্রেরণের চেয়ে বরং এর প্রত্যেকটা হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন কারণসমূহ, ভিক্টিম ও হত্যাকারীর মধ্যকার যোগসূত্র, তাদের অতীত জীবনের কথা এবং মাঙ্গার মূল দুই চরিত্রের নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা কাহিনীর অন্যসব রেখার সঙ্গে একসঙ্গে কীভাবে এসে মিলিত হয় তাইই এই মাঙ্গার মূল উপাদ্যে হিসেবে পরিবেশন করেছেন মাঙ্গাকা!

মাঙ্গার আর্ট ভিন্ন একজনের করা যা বেশ চমৎকার এবং স্পষ্ট, প্রত্যেকটি দৃশ্যপট আলাদা করে নির্ণয় করে যায়। কাহিনীর সঙ্গে মিল রেখে, শিল্পী প্রতিটি গল্পে একটি বেশ ভৌতিক এবং বিষণ্ণতার ছোঁয়া ফুটিয়ে তুলেছে সার্থকতার সঙ্গে!

সবশেষে এইটাই বলব যে, মানবসম্প্রদায়ের সবচেয়ে অন্ধকারাছন্ন বৈশিষ্ট্যের জাজ্বল্যমান উদাহরণই লেখক তাঁর এই সাইকলজিকাল-থ্রিলার ঘরানার মাঙ্গা GOTH এর মাধ্যমে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করেছেন! এই জন্রার ভক্তরা চাইলেই দ্রুত পড়ে শেষ করতে পারবেন এই ছোট্ট সিরিজটি! আশাকরি এটি আপনাদের হতাশ করবে নাহ! ধন্যবাদ!

40 GOTH Manga

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২২: Naruto (Manga) — Uchiha Aoitizhho

[Spoiler Alert] – {Given on request of the participant}

 

মাঙ্গাঃ নারুতো
ভলিউমঃ ৭২
চ্যাপ্টারঃ ৭০০
জনরাঃ একশন, অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি, মার্শাল আর্টস
মাই এনিমে লিস্ট স্কোরঃ ৮.১৪/১০
আমার স্কোরঃ ৯.৮/১০

 

স্টোরিঃ

‘নারুতো’র কাহিনী গড়ে উঠেছে নিনজা ভিলেজ কোনোহার ছোট্ট বালক নারুতোকে কেন্দ্র করে। নারুতোর জন্মের সময় ওর মধ্যে সিল করে দেয়া হয় ভয়ংকর শক্তিশালী নাইন টেইলস ফক্স কিউবিকে। বাবা-মাবিহীন নারুতো সবসময় লক্ষ্য করতো ভিলেজের সবাই ওকে অবহেলা এবং একই সাথে ভয় করে, যার ফলে নারুতোর মাঝে নিজের অস্তিত্ব ফুটিয়ে তোলার প্রবল প্রচেষ্টা জেগে উঠে। তাই ওর জীবনের একমাত্র অভীষ্ট লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় হোকাগে অর্থাৎ সবচেয়ে শক্তিশালী নিনজা ও ভিলেজের লিডার হয়ে উঠার। অনেক সময়ই দেখা যায়, মেইন চরিত্র রাতারাতি দুর্বল থেকে বিশাল শক্তিশালী হয়ে যায়। কিন্তু নারুতোতে এমন অবাস্তব জিনিস দেখানো হয়নি। নারুতোর মাঝে কিউবির পাওয়ার লুকানো থাকা সত্ত্বেও নারুতো পাওয়ারফুল হয়েছে নিজের চেষ্টায়, ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে। প্রথমে কাগে-বুনশিন, তারপর রাসেঙ্গান, অতঃপর রাসেন-শুরিকেন, সবশেষে সাগে ও কিউবি মোড। এভাবেই নারুতো কপর্দকহীন থেকে শক্তিশালী হয়ে উঠে এবং হোকাগে হওয়ার পথে এগিয়ে চলে। তবে এর মাঝে ঘটে যায় অনেক কিছু। চুনিন এক্সাম, অরচিমারুর কোনোহা আক্রমণ, নারুতোর টীমমেট ও বেস্ট ফ্রেন্ড সাসকের ভিলেজ ত্যাগ, আকাৎসুকি ও তবির আবির্ভাব, পেইন এর আক্রমণ ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় কাহিনী। সবশেষে নাটকীয়ভাবে আসে নিনজা ওয়ার ও মাদারার আবির্ভাব।

একাকীত্ব কী তা জানতো বলেই নারুতো বন্ধুত্বকে অগ্রাধিকার দিত। সাসকেকে ফিরিয়ে আনার জন্যে এমনকিছু নেই যা নারুতো করেনি। নারুতোর অন্যকে বোঝানোর ক্ষমতাও অনেক। গারা, নেজি, পেইন, তবি সবাই নারুতোর সংস্পর্শে এসেই ভালো হয়ে যায়। এটা কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও ভালো লেগেছে যে মেইন ভিলেন মাদারা শেষ পর্জন্ত নিজ বিশ্বাসে অবিচল ছিল।

নিনজা দুনিয়া নিয়ে গড়ে উঠা ‘নারুতো’তে নিনজাদের বিভিন্ন কলা-কৌশল এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে একসময় নিজেকেই নিনজা মনে হচ্ছিল। পুরো মাঙ্গা জুড়ে দেখা যায় প্রচুর নিনজা ফাইট এবং প্রত্যেকটি ফাইটই একটির থেকে অন্যটি ভিন্ন ও টুইস্টে পরিপূর্ন। প্রতিটি মিশনও ছিল অ্যাডভেঞ্চারে ভরপুর। তাই যাদের একশন ও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় তাদের জন্যে নারুতো সেরা।

 

ক্যারেক্টারঃ

নারুতো মাঙ্গাটা যেহেতু অনেক বড়, তাই এতে ক্যারেক্টারও আছে প্রচুর, সংখ্যার দিক দিয়ে যা অন্য যেকোনো মাঙ্গার চাইতে বেশী এবং স্যার কিশিমতো প্রতিটি চরিত্রকেই গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেছেন। প্রায় প্রতিটি চরিত্ররই ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড, দুঃখ-কষ্ট, বিলিফ এত সুন্দর করে দেখনো হয়েছে যে সবার অনুভূতিই স্পর্শ করবে এবং প্রত্যেকের বিশ্বাস ও যুক্তিকেই সঠিক বলে মনে হবে। যেমন, ইতাচির নিজ ক্লানকে ধ্বংস করা, নাগাতো থেকে পেইন হয়ে উঠা, অবিতোর প্রতিশোধ, মাদারার নিনজা ওয়ার্ল্ড ধ্বংস করার পরিকল্পনা এমনকি সাসকের প্রতিশোধস্পৃহা সবগুলোর পিছনেই এত সুন্দর করে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে প্রতিটি চরিত্রকেই শক্তিশালী করে তুলেছে।

 

আর্টঃ

নিনজা ওয়ার্ল্ড হিসেবে নিনজাদের মুখোশ, বিশেষ ধরনের পোশাকের পাশাপাশি স্যার কিশিমতো একটু ভিন্নতারও ছুঁয়া লাগিয়েছেন, যেমন নারুতোর গায়ে দেখা যায় কমলা রঙের এক জাম্পস্যুট যা তাকে কিন্তু ভালোই মানিয়েছে।

 

১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৪ এই দীর্ঘ ১৭ বছরের পথচলায় ‘নারুতো’-র সাথে কেটেছে অসংখ্য ভক্তের শৈশব ও কৈশোর। নারুতোর সাথে সাথেই বড় হয়ে উঠেছে অনেকে। আমি যদিও নারুতোর শুরুর সময়টায় নারুতোর পাশে ছিলাম না, তবে নারুতোর শেষ সময়টায় নারুতোর পাশে থাকতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি। নারুতো দেখা শুরু করার পর হতে এই পর্যন্ত সবসময় নারুতো আমার পাশে বন্ধুর মতো ছিল। কখনো মন খারাপ হলে বা হতাশা কাজ করলে নারুতো থেকেই আমি অনুপ্রেরণা-উৎসাহ পেয়েছি। নারুতো থেকে সবচেয়ে বড় যেই শিক্ষাটা পেয়েছি তা হোল “Never give up” । সত্যি বলতে কি, নারুতোর জন্ম নেওয়া থেকে শুরু করে একটু একটু করে বড় হওয়া, নতুন নতুন জিনিস শিখা, নতুন বন্ধু বানানো এগুলো দেখতে দেখতে একসময় নারুতোকে বন্ধুর চাইতেও বেশী কিছু মনে হয়েছে। Really Naruto came as a story and left as a legend. নারুতো গল্প হিসেবে আসলেও হিরো-মহানায়ক হয়েই আমাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

22 Naruto manga

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৪: Hajime no Ippo — Arnab Basu

“এনিমখোর রিভিউ কন্টেস্ট [২০১৫] – তৃতীয় স্থান অধিকারী এন্ট্রি”

————————————————————————————————————-

এনিম/মাঙ্গা : হাজিমে নো ইপ্পো
মাঙ্গাকা : জর্জ মোরিকাওয়া
জনরা : স্পোর্টস, কমেডি, একশন, ড্রামা, শৌনেন

হাজিমে নো ইপ্পো দেখেছে অথচ জ্যাব প্র্যাক্টিস করে নাই এমন মানুষ বোধহয় খুব একটা নেই। এটা এমন একটা এনিম যা দেখে খুব সহজেই অনুপ্রাণিত হওয়া যায়, “পরিশ্রমের ফল কখনও বৃথা যায় না” এ কথা সহজেই বিশ্বাস করা যায়। হাজিমে নো ইপ্পো তাই শুধুমাত্র বক্সিং এর গল্প না, জীবনের গল্প, বাধা ও বাধা অতিক্রমের গল্প এবং সর্বোপরি, অণুপ্রেরণার গল্প।

মাকুনৌচি ইপ্পো সহজ সরল ছেলে, যার জীবন স্কুল আর তার মাকে মাছ ধরার জাহাজের ব্যবসায় সাহায্য করার মাঝেই গণ্ডীবদ্ধ। স্কুলে সহপাঠীদের হাতে রোজকার মত অপদস্থ হওয়ার সময় তাকে রক্ষা করে তাকামুরা। এই তাকামুরাই তাকে পরিচয় করিয়ে দেয় বক্সিং এর জগতের সাথে। ইপ্পো যখন বক্সিং শিখতে চায় তখন তাকামুরা তাকে এক কঠিন শর্ত দেয়। তাকামুরাকে অবাক করে সেই শর্ত পূরণ করে ইপ্পো। তাকামুরা তখন তাকে নিয়ে আসে কামোগাওয়া বক্সিং জিমে যেখানে অভিজ্ঞ মিয়াতার সাথে প্রথমবার রিং এ ঢোকা ইপ্পোর হার না মানা মনোভাব জয় করে নেয় কোচ কামোগাওয়ার মন। শুরু হয় বক্সার হিসাবে তার পথচলা। তবে গল্প শুধুমাত্র ইপ্পোর ম্যাচগুলোর মধ্যেই শেষ না, প্রতিটি ম্যাচের আগে প্রস্তুতি, প্রতিপক্ষের কাহিনী, অন্যান্য চরিত্রদের কাহিনী, তাদের লড়াইগুলো সমান গুরুত্ব পেয়েছে। বক্সারদের জীবনের কষ্ট, আত্নত্যাগ আর সীমাবদ্ধতাগুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে কাহিনীতে।

হাজিমে নো ইপ্পোর সবচাইতে শক্তিশালী দিক এর চরিত্রগুলো। মিয়াতা, মাশিবা, ভর্গ, সেন্দো, দাতে এইজি, সাওয়ামুরার মত চরিত্রগুলোকে শুধুমাত্র ইপ্পোর প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখানো হয়নি, দেখানো হয়েছে তাদের জীবনের সংগ্রাম আর বক্সিং নিয়ে তাদের একাগ্রতা। তাকামুরার ম্যাচগুলা দেখার সময় মনে হবে এই লোকটাই বোধহয় নায়ক। প্রায় প্রতিটি চরিত্রকে কেন্দ্র করেই একটা মাঙ্গা বা এনিম তৈরি করা সম্ভব। এ থেকেই প্রতিটি চরিত্রের গভীরতা বোঝা যায়। তার পরেও এই গল্পের নায়ক ইপ্পো। সে এমন একটা চরিত্র যার শুরু শূন্য থেকে, যার প্রতিটি ম্যাচের পিছনে রয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রম, যে রিং এর বাইরে নিতান্তই সহজ সরল। ইপ্পোর থেকে অনেক ক্যারিশম্যাটিক চরিত্র থাকার পরেও সেই এই গল্পের নায়ক, কারণ তার সাথে খুব সহজেই একাত্নতা প্রকাশ করা যায়। রিং এর বাইরে কোচ কামোগাওয়ার কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। ইপ্পো বা তাকামুরার উত্থানের পিছনে এই মানুষটির অবদান সবচেয়ে বেশি। বক্সিং আর দশটা স্পোর্টস থেকে আলাদা। অধিকাংশ স্পোর্টস এনিমগুলো হাইস্কুল ভিত্তিক, যা জাপানের সীমানারর মধ্যেই গণ্ডীবদ্ধ। ব্রায়ান হক, ডেভিড ঈগল আর রিকার্ডো মারটিনেজ এর মত চরিত্রগুলো এটাই প্রমাণ করে যে ইপ্পোর কাহিনী জাপানের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত।

এনিমের আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এর কমেডি। ডায়লগ তো আছেই, চরিত্রগুলোর বিভিন্ন অভিব্যক্তিই হাসির খোরাক হওয়ার জন্য যথেষ্ট। অসাধারণ সব ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছাড়াও আছে দুর্দান্ত কিছু ওপেনিং আর এন্ডিং সং। ১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া এই মাঙ্গার এখন পর্যন্ত ১০০০ এর উপর চ্যাপ্টার বের হয়ছে। ২০০০ সালে আসে এনিমের প্রথম সিজন। এর পর আরো দুই সিজনসহ আছে একটি মুভি আর একটি ওভিএ।

দুর্দান্ত একশন, টানটান উত্তেজনা কিংবা দমফাঁটানো কমেডি, বিনোদনের জন্য প্রয়োজন সবকিছুর সাথে আছে সাবলীল কাহিনী। কোন ধরণের অতিপ্রাকৃত কিছু ছাড়াই এ কারণে হাজিমে নো ইপ্পো অনন্যসাধারণ। তাই অসাধারণ কিছু থেকে বঞ্চিত হতে না চাইলে দেখে ফেলুন হাজিমে নো ইপ্পো।

4 Hajime no Ippo