সাতৌগাশি নো দানগান ওয়া উচিনুকেনাই: এ ললিপপ অর এ বুলেট [রিকমেন্ডেশন] — Fatiha Subah

সাতৌগাশি নো দানগান ওয়া উচিনুকেনাই: এ ললিপপ অর এ বুলেট
ইংরেজি নামঃ সুগার ক্যান্ডি বুলেটস ক্যান্ট পিয়ারস এনিথিং
জানরাঃ সাইকোলজিক্যাল, শৌনেন, ড্রামা, স্কুল
ভলিউমঃ ২টি
চ্যাপ্টারঃ ১৩টি
অবস্থাঃ সমাপ্ত
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.২৩
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

সাধারণত আমি রেকমেন্ডেশন লেখার চেয়ে রিভিউ লেখাটা ভালো মনে করি। একটা সিরিজ নিয়ে যদি লিখবই তবে ভাল-খারাপ সব খুঁটিনাটি নিয়ে একটা রিভিউই লিখি। রেকমেন্ডেশনের কাজটা তো ওটার সাথেই হয়ে যায়। কিন্তু এই মাঙ্গাটার ক্ষেত্রে কথাটা খাঁটাতে পারছি না। সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার-স্যাপার এর আগেও কিছু দেখেছি, পরেছি। মনস্তত্বের উদ্ভট সব জিনিস সম্পর্কে জেনেছি। কিন্তু কোনটাই আমাকে এই মাঙ্গাটার মত বাকরুদ্ধ করতে পারেনি। এতটাই বাকরুদ্ধ হয়েছি যে আজো সেই বাকরুদ্ধ ভাব থেকে বেড়িয়ে আসতে পারিনি। এরকম একটা মাঙ্গা নিয়ে ঠিক কিভাবে রিভিউ লিখলে সেটার একটা সুন্দর বিশ্লেষণ পাঠকদের কাছে পৌঁছাবে তা আমার জানা নেই। তাই বলে এত ভালো একটা মাঙ্গা সবার চোখের আড়ালে থেকে যাওয়াটাও হবে দুঃখজনক। তাই এটা নিয়ে একটা রেকমেন্ডেশনই লিখে ফেললাম।

গল্পের শুরুটা হয় সাদামাটা ভাবে। আমাদের খুব বেশি পরিচিত একটা প্রেক্ষাপটঃ ক্লাসে বদলি হয়ে আসা নতুন স্টুডেন্ট প্রধান চরিত্রের সাথে কোনভাবে জড়িয়ে যাবে। ক্লাসের সব ছেলেমেয়েরা যখন পড়ালেখা করবে না কিন্তু সুন্দর ইউনিফর্ম পড়ে কোন হাই স্কুলে যাবে এই স্বপ্নে বিভোর তখন নাগিসা ইয়ামাদা’র সময় কিংবা ইচ্ছা কোনটাই নেই সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেবার। একই বয়সের বাকি সবাই যখন কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতে ব্যস্ত তখন নিষ্ঠুর বাস্তবতা নাগিসাকে বাধ্য করে তার পরিবার আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে। নাগিসার বাবা মারা গেছেন। বাবার রেখে যাওয়া ইনস্যুরেন্সের টাকা ফুরিয়ে গেছে। তার পুরো পরিবার তার মায়ের একার পার্ট-টাইম জবের আয়ের উপর নির্ভরশীল। পুরো পরিবার বলতে আর আছে নাগিসার বড় ভাই তোমোহিকো যার কিনা কথা ছিল পরিবারের দেখাশোনা করার। হাই স্কুলে থাকাকালে উজ্জ্বল ছাত্র হলেও তোমোহিকো পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে ঘরকুনো হয়ে যায়, সে এখন শুধু অদ্ভুত সব জিনিস সংগ্রহ করে আর বই পড়ে। ভাইয়ের এই দ্বায়িত্বহীনতার কারণে সব চাপ নাগিসার ঘাড়ে এসে পড়লেও সে তবু তার ভাইকে অনেক শ্রদ্ধা করে এবং ভালোবাসে। তার এখন লক্ষ্য শুধু একটাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মিডেল স্কুল পাশ করে তার ছোট্ট শহরের সীমান্তে অবস্থিত সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সে যোগদান করবে। সে হতে চায় “বুলেট”। বুলেটের মত সজরে নিজের শক্তিতে বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে ছুটে যাবে। সাধারণ মেয়েরা যে মিষ্টি মিষ্টি বা “সুগারি” ধরণের বিলাসিতা করে সেসব তার জন্য নয়।

একদিন নাগিসার ক্লাসে আসে একটি নতুন মেয়ে। মেয়েটির নামটা অদ্ভুত, উমিনো মোকোযু। “উমি নো মোকোযু” এর অর্থ হল সামুদ্রিক শৈবালের ক্ষুদ্র বর্জ্য অংশ। আর শুধু “মোকোযু” শব্দটার মানে “সাগরে মৃত্যু”। এই অদ্ভুত নামের মেয়েটা তার চেয়েও অদ্ভুত। সে সোজা সবাইকে বলে দেয় সে নাকি কোন মানুষ না। সে একজন মৎস্যকন্যা! সে তার পরিবার, জাপানের সাগরের মাছদের কাছে শুনেছে মানুষ নাকি একটা বোকা, মুর্খ প্রজাতির প্রাণী যারা অনুভূতির বশে হারিয়ে যায়। কিন্তু মানুষেরা ঠিক কতটা বোকা? তাদের জীবনের কি কোন মূল্য আছে? তারা মরে গেলেই কি বেশি ভালো হত? এসবের উত্তর জানতেই সে সাগর থেকে মানুষের পৃথিবীতে চলে এসেছে। সবাই বলাবলি করতে থাকে মোকোযু এক সময়ের জনপ্রিয় একজন সেলেব্রিটি উমিনো মাসাচিকার মেয়ে যেটা মোকোযু অস্বীকার করে। বাস্তববাদী নাগিসা স্বভাবতই পাগলাটে মোকোযুকে পাত্তা দেয়না। কিন্তু বিধিবাম। মোকোযু নাগিসার পিছে লাগে। তাকে অনুসরণ করতে থাকে। সে নাগিসাকে বলে যে তার আসল লক্ষ্য নাকি অন্য। সে একটি সত্যিকারের বন্ধু খুঁজতে এসেছে। একজন ভালো বন্ধু যে কিনা তার জন্য সবকিছু করতে রাজি থাকবে। যদি তার এই ইচ্ছা পূরণ না হয় তাহলে সে সামুদ্রিক শৈবালে পরিণত হয়ে ফেনায় হারিয়ে যাবে। নাগিসার শহরটায় প্রতি ১০ বছরে একটা করে বড় ঝড় হয় যেটা আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয় না। শীঘ্রই আসছে সে ঝড়ের আগেই মোকোযুকে খুঁজে বের করতে হবে একজন বন্ধু। সে চায় নাগিসাই হবে সেই বন্ধুটা। একে তো মোকোযু আবলতাবল অবাস্তব সব কথা বলে তার উপরে ঠিক ১০বছর আগে এমন এক ঝড়ই কেড়ে নিয়েছিল নাগিসার বাবাকে। প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে নাগিসা মোকোযুকে এড়িয়ে যেতে থাকে। তবু মোকোযু নাগিসার পিছু ছাড়ে না। “সুগার বুলেটের” মত মোকোযুর কথাগুলো বিঁধতে থাকে নাগিসাকে। অনেক অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু কারণে নাগিসাকে জড়িয়ে যেতে হয় মোকোযুর সাথে। নিজের ভাইয়ার সাথে মোকোযুকে নিয়ে কথা বলে, মানুষের মানসিকতার কিছু আজব তথ্য জানে। এরপর সে নিজের অজান্তেই জড়িয়ে যায় মোকোযুর জীবনের সাথেও। সবসময় হাসিখুশি, আজগুবি আর পাগলামো আচরণ করা মেয়েটার পেছনের কারণটা কি? আর মোকোযুর বাবা মাসাচিকার মৎস্যকন্যা নিয়ে গাওয়া প্রথমে রোমান্টিক কিন্তু পরে পাশবিক হয়ে যাওয়া ওই গানটারই বা রহস্য কি?

মাঙ্গাটি একই নামের একটি লাইট নোভেল থেকে রূপান্তরিত। মাঙ্গাটির আর্ট ভালো আছে। তবে স্লাইস অফ লাইফের মত কাহিনী খুব ধীর গতিতে শুরু হয়। প্রথমে এমনও মনে হয় যে এতে তো কোন নতুনত্ব নেই। কিন্তু এরপরে গিয়ে আস্তে আস্তে সব প্রকাশ হতে থাকে। আর শেষে যা অপেক্ষা করছে ওটা একটা বিশাল বড় ধাক্কা। একদম লাইটহার্টেড মাঙ্গাটা শেষে গিয়ে ডার্ক হয়ে যায় যেটা হতভম্ব করে দিবে। তাই শুরুতে বোরড হলেও ড্রপ করবেন না। মাত্র ১৩টি চ্যাপ্টারই তো।

শেষ করব তোমোহিকোর একটি ধাঁধা দিয়ে। একজন লোকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তার এক সহকর্মীর সাথে তার স্ত্রীর দেখা হয়। খুব তাড়াতাড়ি তাদের মাঝে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। বরং বলা উচিত তাদের মাঝে পারস্পরিক আকর্ষণ তৈরি হয়। ঠিক সেই রাতেই মৃত লোকটির ছেলেটিও খুন হয়। জানা যায় খুনিটি ছিল সেই স্ত্রী। সে হঠাৎ করেই তার ছেলেকে খুন করল। কিন্তু কেন? আপনি কি ভাবছেন তা আমি ধারণা করতে পারি। কিন্তু উত্তরটা তা না। তোমোহিকোর ভাষ্যমতে ভুল উত্তর দেওয়ার মানে হল আপনি একজন স্বাভাবিক মানুষ। আর যারা ঠিক ধারণা করেছেন তারা হতে পারেন ভবিষ্যতের বড় বড় খুনি!! কিন্তু কি সেই উত্তরটা? মানসিকতায় কি এমন তফাৎ? জানতে হলে পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি।

Lollipop or Bullet

মাঙ্গাকা কথন – ০১

উরাসাওয়া নাওকি

1

উরাসাওয়া নাওকির নাম শুনলেই যে জিনিসটি আমাদের চোখের সামনে ফুটে উঠে তা হল “মনস্টার”। মূলত সে তার মনস্টার মাঙ্গার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। কিন্তু মনস্টার ছাড়াও তার লেখা অনেক উল্লেখযোগ্য মাঙ্গা রয়েছে। তো তার কাজ সম্পর্কে পরে জানছি। তার আগে চলুন তার সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে আসি।

উরাসাওয়া নাওকির জন্ম ০২ জানুয়ারি, ১৯৬০ সালে। খুব ছোটকাল থেকেই তার মাঙ্গাকা হয়ার স্বপ্ন ছিল। যখন তার বয়স পাঁচের ঘরে, তখন থেকেই সে ওসামু টেজুকার আঁকা বিভিন্ন চিত্রকল্প নিজে নিজে আঁকার চেষ্টা করত। এছাড়া তার আঁকা-আকি করার অনুপ্রেরণার জেগেছিল ফরাসি চিত্রশিল্পী মবিয়াসের কাজগুলো দেখে। এভাবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার মাঙ্গা আঁকার প্রতি আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়। কিন্তু জীবনের এক পর্যায়ে এসে সে হতাশায় ভুগে তার মাঙ্গাকা হয়ার স্বপ্নকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে সে “মেইসেই বিশ্ববিদ্যালয়” থেকে ইকোনমিক্সে ডিগ্রি লাভ করে তার শিক্ষাজীবনের অবসান ঘটান। ঠিক তখনকার ঘটনা, হটাৎ একদিন মাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রির একজন এডিটর এসে তার সাথে যোগাযোগ করেন। সেই এডিটর আগে থেকেই উরাসাওয়ার প্রকাশিত কিছু চিত্রকল্প দেখেছিল। আর সেখান থেকেই তার উরাসাওয়ার সাথে কাজ করার প্রতি উৎসাহ জাগে। উরাসাওয়া চিন্তা ভাবনা করে তার প্রস্তাবে রাজি হয় এবং ১৯৮১ সালে Return ও ১৯৮৩ সালে Beta!! নামক এই দুইটি ওয়ান-সট পাব্লিশ করার মধ্য দিয়ে ‘মাঙ্গাকা জগতে’ উরাসাওয়ার যাত্রা শুরু হয়।

2

উরাসাওয়া ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাঙ্গাকা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। তাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা মাঙ্গাকা বলা হয়ে থাকে এবং তার কাজগুলো মাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিতে এক নতুনত্বের প্রভাব ফেলেছে। সে তার মাঙ্গাকা ক্যারিয়ারে রোমান্টিক-কমেডি, স্পোর্টস, থ্রিলার, মিষ্টেরি, সাইকোলজিক্যাল, সাই-ফাই সহ বিভিন্ন ধরণের জনরা নিয়ে কাজ করেছে। Monster এর পাশাপাশি তার আরেকটি নামকরা মাঙ্গা রয়েছে আর তা হল 20th Century Boys। আবার সে ওসামু টেজুকার সাথে Pluto নামক মাঙ্গা নিয়েও কাজ করেছে। এছাড়া তার অন্যান্য কাজগুলোর মধ্যে Yawara!, 21st Century Boys, Master Keaton, Master Keaton Remaster, Happy!, Billy Bat এগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া NASA, Dancing Policeman, Jigoro!, Pineapple Army ও Shoki no Urasawa নামক কিছু ছোট মাঙ্গাও রচনা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে সেরা কাজগুলো হল Monster, 20th Century Boys এবং Pluto। পার্সোনালি আমার কাছে তার Monster ও 20th Century Boys এই মাঙ্গা দুইটি সবচেয়ে ভাল লেগেছে। Big Comic Original ও Big Comic Spirits ম্যাগাজিন দুইটি দীর্ঘদিন ধরে তার প্রকাশিত মাঙ্গাগুলোর এক বিশাল অংশ পাব্লিশ করে এসেছে।

এখন পর্যন্ত উরাসাওয়ার প্রকাশিত Yawara!, Master Keaton এবং Monster এই তিনটি মাঙ্গা এনিমে অ্যাডাপটেড হয়েছে। এছাড়া তার 20th Century Boys মাঙ্গাটি ৩ পার্টের লাইভ-অ্যাকশান মুভি হিসেবে অ্যাডাপটেড হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতে তার মনস্টার মাঙ্গার টিভি সিরিজ অ্যাডাপশনও হতে পারে (http://goo.gl/iIv7uj)। আর উরাসাওয়া নিজে Tibet Inu Monogatari নামের একটি এনিমে মুভির ক্যারেক্টার ডিজাইনেও কাজ করেছেন।

উরাসাওয়া নাওকির কাজগুলোর মধ্যে এক ধরণের বিশেষত্ব রয়েছে। তার সব কাজগুলো বাস্তবধর্মী এবং গভীরভাব সম্পন্ন। বিশেষ করে তিনি থ্রিলার-মিস্টেরি মাঙ্গা খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারে, আর তার বাস্তব উদাহরণ হল তার Monster ও 20th Century Boys মাঙ্গা। সে তার কাজগুলোর জন্য এখন পর্যন্ত তিনবার “সোগাকুকান মাঙ্গা অ্যাওয়ার্ড”, দুইবার “টেজুকা ওসামু কালচারাল প্রাইজ” এবং একবার “কোদানসাহ মাঙ্গা অ্যাওয়ার্ড” পেয়েছে।

3

উরাসাওয়া নাওকি কিন্তু মাঙ্গাকা ক্যারিয়ারের পাশাপাশি একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। সে “বব লেনন” স্টেজ নামে “কেঞ্জি নো উতা” নামের একটি গানও রচনা করেছেন (https://goo.gl/3KxP7y)। তিনি ২০১২ সালের জাপান এক্সপোতে “হেমেনওয়ে” নামের এক রক ব্যান্ডের সাথে লাইভ পারফর্মও করেছেন (https://goo.gl/SqBm6B)। আর তার শিক্ষাকতার ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৮ সালে “নাগোয়া জোকেই” বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট-টিচার হিসেবে। সেখানে তিনি মাঙ্গা নিয়ে একটি কোর্সের উপর শিক্ষকতা করেন।

“উরাসাওয়া নাওকি” মাঙ্গা জগতের এক অনবদ্য নাম। তিনি যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে তার কাজগুলোর মাধ্যমে বেঁচে থাকবে। বর্তমানে সে তার Billy Bat মাঙ্গার কাজ নিয়ে ব্যাস্ত। আশা করি, তিনি ভবিষ্যতে আমাদের আরও অনেক দারুন দারুন মাঙ্গা উপহার দিবেন।

ইয়োতসুবাতো! (Yotsubato!) [মাঙ্গা রিভিউ] — Zuhayer Anjun Dhruba

মাঙ্গা:ইয়োতসুবাতো! ( Yotsubato! )
ভলিউম : ১৩
চ্যাপ্টার : ১০১
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং :৮.৯
আমার রেটিং : ৯
র‍্যাংক : ১৭
জনরা: Comedy, Shonen, S­­­lice of Life

মাঙ্গাটির প্রধান চরিত্র ইয়োতসুবা কোইওয়াই (Yotsuba Koiwai)। প্রতিটি দিনকে সবচেয়ে মজাদার ও উপভোগ্য করে তোলে সে। প্রতিটি কাজকে মজার সাথে করা, নতুন নতুন জিনিস শেখা, বড়দের মত ভাব করা এসব দেখে না হেসে থাকা যায় না।

গ্রীষ্মের রোদে মুখে হাসি নিয়ে সে শহরে পৌঁছাল। ৫ বছরে এর পিচ্চি মেয়েটি দাদীর বাসা থেকে বাবা ইয়োসকে কোইওয়াই (Yousuke Koiwai) এর সাথে শহরে আসে তাদের নতুন ঘরে। রাস্তায় বড় বিল্ডিং, স্কুল আর শহরের পরিবেশ দেখে সে খুশিতে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। নতুন বাসায় পৌঁছানোর পর দেখা হয় তার বাবার ছোটকালের বন্ধু জাম্বোর (Jumbo) সাথে। আস্তে আস্তে তাদের প্রতিবেশীদের সাথে পরিচিত হয় এবং নিমিষের মধ্যেই তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে ইয়োতসুবা। সাধারানত ইয়োতসুবার দিনের বেশিরভাগ মুর্হুত কাটে তার প্রতিবেশীদের সাথে। ইয়োতসুবার প্রতিবেশী হলো আয়াসে পরিবার (Ayase Family)। বাবা-মা আর ৩ বোন এর পরিবারে ইয়োতসুবাও একজন সদস্য। বড় বোন আসাগি আয়াসে (Asagi Ayase) দেখতে যত সুন্দর কাজকর্মেও তত ফাজিল। সবাইকে বিরক্ত করে বেড়ানো আর ইয়োতসুবার সাথে মজা করায় এক্সপার্ট। মেজো বোন ফুকা আয়াসে (Fuuka Ayase) পড়ালেখায় ভালো, কর্মঠ, দায়িত্বশীল এবং স্কুলে ভাইস প্রেসিডেন্ট। ফুকার দিন কাটে অন্যদের সেবা করে আর অড ধরনের T-shirt পরে। ছোট বোন এনা আয়াসে (Ena Ayase) ইয়োতসুবার কাছের বয়সের হওয়ায় সে আর তার বান্ধবী মিউরা হায়াসাকা (Miura Hayasaka) ইয়তসুবার সবচেয়ে ভাল খেলার সঙ্গী। স্বভাবে সবচেয়ে ভাল আর ইয়োতসুবাকে নানা ধরণের ভাল জিনিস সেখানো মাধ্যমে তাদের দিন আর মজার করে তোলে। ইনা আর মিউরার তৈরি কার্ডবোর্ড রোবট ডানবো (danbo) ইয়োতসুবার অনেক কাছের বন্ধু।

মাঙ্গাটি পড়ে প্রত্যকটি মুহুর্ত হেসেছি আর পরের চ্যাপ্টারে এই পিচ্চি কী কী মজা করবে তা জানার জন্য আগ্রহে পরের চ্যাপটার পড়ে ফেলেছি। বাবার সাথে ইয়োতসুবার মজা করা, তার জন্য আয়াসে পরিবারের ভালবাসা দেখে অনেক ভাল লাগে। এভাবে ইয়োতসুবার সাথে আরও অনেকজনের পরিচয়, তাদের সাথে মজা করা আর নতুন নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো ইয়োতসুবার প্রিয় কাজ, নতুন নতুন এডভেঞ্চারে যাওয়া সবই উপভোগ্য।

# মাঙ্গাটি কেন পড়বেন? “ইয়োতসুবাতো!” মাঙ্গাটার ভাষা সহজ, যে কেউই পড়তে পারবে। সবচেয়ে গুরত্বপুর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রত্যকটা চ্যাপ্টার মজার মজার জোক্স দিয়ে ভরা আর ইয়োতসুবার ভুল জাপানিজ ভাষা দেখে না হেসে থাকা যাবে না। আর্ট অনেক ভাল। ইয়োতসুবার কিউট কিউট কাজকর্ম আর নানান উৎসবে নানান ধরণের পোশাকে দেখে স্ন্যাপশট নেওয়া ছাড়া আর উপায় নাই। সময় নিয়ে মাঙ্গাটি পড়ে ফেলবেন। আর স্কেচটা কেমন হয়েছে বলবেন। ε( ε ˙³˙)з.。oO

yotsubato

মাঙ্গা সাজেশন: The Climber — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

বারসার্ক পড়ে এবং এর আর্ট এবং কাহিনী দ্বারা স্পেলবাউন্ড হবার পরে এর মতো আরো কিছু মাঙ্গার খোঁজ করসিলাম । তো রেজো গোটা বিশেক সাজেশন দিসে এর মধ্যে Vagabond আর দ্যা ক্লাইম্বার ২টা একেবারে জ্যাকপট ! অসাধারন আর্টের সাথে অতিঅসাধারণ কাহিনী! একজন সাহিত্য প্রেমিকের কাছে আর কি চাই !!
তো দ্যা ক্লাইম্বার মাঙ্গা নিয়ে প্রথম কথা হল এটার জানরা হল স্পোর্টস আর সেইনেন । স্পোর্টস মাঙ্গা পড়ার সমস্যা হল একশন গুলা বা টেনশনটা এনিমের মত ঠিক আসে না , কিন্তু ক্লাইম্বার এমন একখানা মাঙ্গা ,যেখানে ক্লাইম্বিং নামক ভয়ঙ্কর খেলাখানাকে আপনার চোখের সামনে চলচ্চিত্রের মতো তুলে ধরবে । এই মাঙ্গার কাহিনী একখানা উপন্যাস হিসেবে লেখলেও সেই অসাধারণ হতো । ব্যাক্তি এবং বন্দ্ধুর উথাধ পতন , মনস্তাত্বিক দ্বন্দ এককথায় আপনি যা চান তাই আছে এই মাঙ্গায়া । কিন্তু অলক্ষ্যে থাকা রত্নের মত এই মাঙ্গা রুপি রত্ন অনেকে পড়েনি । আমি এটা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলছি না কেননা রেজো ডি আকাশআলো XD ! এটা নিয়ে ইন্টারের পর এক তথ্যবহুল রিভিউ দেবে , আমি শুধু বলছি যারা , অসাধারন কিছু পড়তে চান তো ক্লাইম্বার মাঙ্গাটি পড়া শুরু করুন ।

tc 1 tc 2

মাঙ্গা রিভিউ: Hyouryuu Kyoushitsu (The Drifting Classroom) — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

জাপানে হরর মাঙ্গার রাজপুত্র বলা হয় জুনজি ইতোকে । তার প্রত্যেকটি মাঙ্গাই তার এই উপাধির পক্ষে সাক্ষ্য দেয় । জুনজির পরে আরেকজন মাঙ্গাকার কথা আসে নাকাইয়ামা মাসাকি যিনি ফুয়ান নো তানেসহ আরও অসাধারন কিছু মাঙ্গা লিখেছেন । কিন্তু জাপানে হরর মাঙ্গার দিকপাল বা শক্ত ভিত দাঁড় করাতে যে সাহায্য করেছে এবং স্বয়ং জুনজি ইতো যার কর্ম দ্বারা অনুপ্রাণীত ,অনেকের অলক্ষ্যে থাকা এক মাঙ্গাকা কাজুও উমেযু এর মাস্টারপিস ড্রিফটিং ক্লাসরুম নিয়ে কথা বলবো ।
কাহিনী :তাকামাতসু ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া এক চঞ্চল চিত্তের বালক । কোন দুষ্ট ছেলে এবং তার মায়ের মধ্যকার এক কমন বাক্য হচ্ছে ” আম্মু আমি ঘর ছেলে চলে যাব ,এবং মায়ের কথা “যখন ক্ষুধা লাগলে তখন দেখা যাবে ,, । তো এরকম কিছু কথা বলে রাগ করে তাকামাতসু তার স্কুলে চলে যায় , কিন্তু তাকামাতসু কি জানতো এটাই তার স্নেহময়ী মায়ের সাথে শেষ কথা !?।এই নিরবিলি শহরে হঠাত্‍ করে এক বিশাল বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে । স্কুলের সবাই অবাক নয়নে দেখে তাদের আশেপাশের পুরো দুনিয়া উড়ে গিয়েছে এবং এলাকার লোকজন খেয়াল করে তাদের স্কুলখানা পুরো অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে । স্কুলের ছাত্র এবং শিক্ষকরা প্রাথমিক শক কাঁটিয়ে তাদের অবস্থা অনুধাবন করার সাথে সাথে পুরো জাহান্নাম ভেঙ্গে পড়ে । কিছু শিক্ষক পাগল হয়ে যায় , কেউবা হয়ে যায় সাইকো । বড়রা নিজেরাই শেষ হয়ে যাবার পর ছাত্রদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় । তখন ক্লাসের সবচেয়ে চঞ্চল বালক তাকামাতসু লিডারশিপ নিয়ে এগিয়ে আসে নিজের এবং অন্য সকলের জীবন রক্ষার জন্য এবং তাকে সঙ্গ দেয় নিশি , সাকিকো , ওতোমো প্রমুখ । এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে শান্ত করতে এবং সবার জীবন রক্ষা করতে গিয়ে যে টানাপোড়েন এবং যে ইনস্যানিটির বীজ অনেকের মন গেথে গিয়েছে তা মোকাবেলা কি করতে পারবে তাকামাতসু ও তার দল !!?

Drifting Classroom 1
টাইম ট্রাভেলিং , সাইকোলজি , মাস ইনস্যানিটি , সারভাইবেল এবং সর্বোপরি হরর ও গোরের মিক্সচার এই অসাধারন মাঙ্গা । এটা এমন এক মাঙ্গা যা একবার পড়া শুরু করলে আর না পড়ে থাকা যাবে না । এই মাঙ্গায় শিশুমৃত্যু এবং তাদের মধ্যকার হিংস্রতাকে বেশ নরমাল ভাবেই অনেকবার দেখানো হয়েছে তাই এটা অনেকের কাছে খারাপ লাগতে পারে । দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষের পরিবর্তন যে কত তাড়াতাড়ি হয় তা এই মাঙ্গা না পড়লে বোঝা যাবে না । তো সময় থাকলে পড়া শুরু করুন এই অসাধারন মাঙ্গা ড্রিফটিং ক্লাসরুম ।
আমার রেটিং : ৯/১০

Read online : http://kissmanga.com/Manga/Hyouryuu-Kyoushitsu

Drifting Classroom 2

মাঙ্গা রিভিউ: Emerging — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মাঙ্গা রিভিউ : Emerging
মাঙ্গাকা : হোকাজোনো মাসাইয়া

দুনিয়াতে যে কত ধরনের হররের ক্ষেত্র আছে তা আর হিসাব করা যায় না । ভূত পেত্নী, সাইকো, নানা ফোবিয়া এমন অনেক কিছু । মাঝখানে বিভিন্ন হরর মুভি বা গল্পের জন্য একটি কমন প্লট ছিল মহামারী রোগ। কোয়ারেনটিন, ওয়ার্ল্ড ওয়ার জি মুভি বা বিখ্যাত প্লেগ উপন্যাসের বিষয় বস্তু ছিল এই মহামারী এবং সত্যি কথা বলতে এটাই সব হরর জেনারের মধ্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত । তো এই মহামারী নিয়ে যে কয়টি ভালো মাঙ্গা লেখা হয়েছে , তার মধ্যে এমার্জিং অন্যতম ।

Emerging 1
কাহিনী: একদিন সুন্দর সকাল দেখে প্রত্যেকদিনের মতোই আপনি কলেজের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়লেন । বন্দ্ধুদের সাথে আড্ডা , প্রিয়জনের সাথে দেখা করে আপনার একটা ভালই দিন কাটলো । আপনি বাসায় যাবেন বলে রাস্তার ওপারে দাড়িয়ে আছেন ,হঠাত্‍ করে একজন লোক আপনার পাশে রাস্তায় ছটফট করতে করতে পড় গেলো এবং তার শরীর ফেটে চারিদিকে রক্ত ছড়িয়ে পড়লো । দিনটা আপনার বেশ খারাপভাবে শেষ হলো কিন্তু আপনি কি জানেন আপনার ভাগ্যে আরো ভয়াবহ কি অপেক্ষা করছে ।আপনি কি জানতেন সে ব্যাক্তি শরীরে বহন করছে প্রাণঘাতী এবং শরীরে পঁচিয়ে দেওয়া এক ভাইরাস !? ৩দিন যেতে না যেতেই সব হাসপাতালে প্রচুর রোগী ভিড় করতে লাগলো যাদের সবার উপসর্গ একই , এবং তা হলো প্রচন্ড জ্বর , রক্তক্ষরন এবং শরীরের আর্টারী ফুলে যাওয়া ইত্যাদি । তখন তরুন ডাক্তার ওনতেরা ও সেকুগিচি একে প্রথমে ইবোলা ধরে নিয়ে আগাতে থাকে , কিন্তু আসলে কি তাই ? এশিয়ার চিকিত্‍সা ক্ষেত্রে অন্যতম সেরা দেশ আসলে কিসের সম্মুখীন হচ্ছে !? মহামারীর সময় একটি দেশের জনগণ ও সরকার কি পরিস্থিতি হয় ,সে সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা এই মাঙ্গা দিতে পারবে ।

Emerging 2
মাঙ্গার প্লট খুবই কমন হলেও প্রথম দিককার চ্যাপটার গুলো খুবই সাসপেন্স যুক্ত । কিন্তু সবচেয়ে হতাশাজনক হচ্ছে এর এন্ডিং যা খুবই তাড়াহুরা করে শেষ করা হয়েছে । এর কাহিনী আরও ভালো করা যেত এবং এ মাঙ্গা পড়ার সময় অনেকেই হয়তো এর শেষে কি হবে তা আগেই ধরে ফেলতে পারবো । কিন্তু যারা ঠিক বেশি হরর বা ট্র্যাজিক এন্ডিং পছন্দ করে না কিন্তু হরর বা সাসপেন্সের স্বাদ নিতে চায় , তারা মাঙ্গাটি ট্রাই করে দেখলে মন্দ লাগবে না আশা করি !
আমার রেটিং : 7/10

Emerging 3

মাঙ্গা রিভিউ: ফ্যাশন মডেল — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মাঙ্গা রিভিউ: ফ্যাশন মডেল
মাঙ্গাকা: জুনজি ইতোও

ফ্যাশন মডেলদের সাথে আমরা সবাই খুব পরিচিত । তারা হচ্ছে একদল সুন্দরী যাদের মাধ্যমে ফ্যাশন ডিজাইনরা তাদের সুন্দর বা উদ্ভট কাপড় উপস্থনার দায়িত্ব প্রদান করে ! অনেকসময় ৪০কেজি ওজনের মডেলকে ২০কেজি সমপরিমাণ পোশাকের টর্চারও সইতে হয় ! তো জুনজি হয়তো ভাবলেন যে সবজায়গায় যেহেতু হররের সোনার কাঁঠি ছুইয়েছি তো ফ্যাশনমডেলরাও বাদ যাবে কেন ! তার ফল হল এই হরর এবং হাল্কা গোর মাঙ্গা ফ্যাশন মডেল ।
কাহিনী: এর কাহিনী শুরু হয় এক ফ্লিম এবং বিঙ্গাপনের স্টুডেন্ট ইওয়াসাকিকে দিয়ে । এই ইওয়াসাকি বেশ স্ট্রং ইনট্যুইশনের অধিকারী । তো হ্ঠাত্‍ একদিন সকাল থেকে তার মাথায় এক প্রবল বিপদের সতর্কসংকেত বেজে উঠলো , তার মনে হচ্ছে তার দিন আজকে বেশ খারাপ যাবে , পথে ছোটখাট দুটো বাড়ি খেয়ে তার ধারণা আরো বদ্ধমূল হলো । তো একটা কফিশপে ঢুকে মাথা ঠান্ডা করার জন্য কফির অর্ডার দিয়ে একটা ফ্যাশন ম্যাগাজিনের পাতা ওল্টাতো লাগলো । কিন্তু তার চোখে হঠাত্‍ করে পড়লো ম্যাগাজিনে এক ভয়াব্হ নারী মূর্তির ছবি , তার দৃষ্টি এমনই ভয়ানক যা আপনার আত্নাকে কাঁপিয়ে দেবে । এবং সে নারী কিনা একজন মডেল ! কয়েকসপ্তাহ পর্যন্ত ওই ভয়ঙ্কর নারী মূর্তি তাকে দুঃস্বপ্নতে হানা দিতে থাকে , কিন্তু যখনই সে ওই চেহারা ভুলে যেতে শুরু করে তখনি সে সরাসরি ওই বিকটিনীর সামনে পড়ে যায় ! কি হয় তার পড়ে ?! জানতে চাইলে মাঙ্গা পড়ে ফেলুন না !!
যারা জুনজি ইতোর ভক্ত তারা তো অবশ্যই এটা পড়েছে বা পড়বেন । কিন্তু যদি হররের জগতে প্রবেশ করতে চান তাহলে এই মাঙ্গা দিয়েই শুরু করে দিন না !? ভয় পাওয়ায় একধরনের মজা ! তো সময় থাকলে পড়ে ফেলুন ফ্যাশন মডেল !
আমার রেটিং: ৭/১০

Fashion Model

মাঙ্গা রিভিউ:GOTH — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আমরা যারা হরর জানরার ভক্ত , তাদের কাছে ভূত বা অশিরীরি কোন সত্ত্বার ভৌতিক কাহিনীর চেয়ে সাইকোপ্যাথখুনিদের আবেদন বেশি । কেননা সাইকো কিলাররা হয় চতুর এবং টর্চার ও মার্ডারিংকে এরা শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে যায় । এইরকম কিছু সাইকোপ্যাথদের ছোট ছোট গল্প নিয়েই ওতসুচির ৫চ্যাপ্টারের মাঙ্গা Goth .
এই গল্পের প্রধান চরিত্র কামিইয়ামা ইতসুকি যে গম্ভীর এবং বুদ্ধিমান হাইস্কুল বালক । এখন আবার ভেবে বসবেন না যে এ গড়পড়তা নায়ক ডিটেকটিভ ! সে হল স্বয়ং একজন স্যাডিসটিক সাইকোপ্যাথ এবং তার আনন্দের প্রধান উত্‍স সাইকোপ্যাথ মার্ডারের কেস স্টাডি । এবং তার সঙ্গী হল অনেকটা তার মতই পারসোনালিটি যুক্ত গম্ভীর বালিকা মরিনো ইয়ুরু এবং একইসাথে সে সাইকোপ্যাথদের জন্য ম্যাগনেটের মতো । এই ইয়ুরুর সুন্দর সাদা হাত পরোক্ষভাবে সংগ্রহ করতে গিয়ে ইতসুকি ব্যার্থ হয় এবং পরে মরিনোর সাথে ভাব জমায় ।তারা ২জনে মিলে নিছক আগ্রহ এবং আনন্দের জন্য আশেপাশের সাইকোপ্যাথদের খুজে বের করতে থাকে এবং একইসাথে তাদের অতীতের কিছু রহস্য তাদের সামনে চলে আসে ।
মাত্র ৫চ্যাপ্টারের এই মাঙ্গা সময় থাকলে পড়া শুরু করে দিন । রহস্য ও হররের মিশেল আপনাদের অবশ্যই ভালো লাগবে !!
আমার রেটিং : ৮/১০

Goth

মাঙ্গা রিভিউঃ Pandora Hearts — Rezo D. Skylight

Pandora Hearts

Volumes: 24
Chapters: 107
Status: Finished
Published: May 18, 2006 to Mar 18, 2015
Genres: Adventure, Fantasy, Shounen, Supernatural
Authors: Mochizuki, Jun
MAL Score: 8.69
Ranked: 52

Pandora Hearts

“Instead of sighing about the past, I’d rather be happy to face the present.” – Oz Vessalius

“Don’t try to excuse yourself by saying you’re doing it for someone else’s sake.” – Xerxes Break

এতদিন যতই মাঙ্গা পড়েছি না কেন Pandora Hearts এর মতো মাঙ্গা এখন পর্যন্ত আর পাইনি। আমার কাছে Pandora Hearts মাস্টারপিস। কেননা এই একমাত্র মাঙ্গা যার কাহিনী কোনভাবেই প্রেডিক্ট করা সম্ভব নয়। কাহিনী যে কোনদিক থেকে কোনদিকে মোড় নিবে তা বুঝাই মুশকিল। এখন মূল কথায় আসি।

Pandora Hearts এর প্লট রচিত হয়েছে ভিক্টোরিয়ান যুগে ইউরোপিয়ান সেটিংসের এক কাল্পনিক দেশে। যেই দেশের শাসন ক্ষমতা মূলত নিয়ন্ত্রণ করে প্যান্ডরা নামের এক সঙ্ঘটন। আর প্যান্ডরার সকল কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে সেই দেশের বড় বড় চারটি রাজপরিবার। সেইরকম একটি সম্ভ্রান্ত রাজপরিবার হল ‘Vessalius Family’। এই পরিবারের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম হল ‘Oz Vessalius’। অজের বয়স যখন পনেরোর ঘরে তখন সেই দেশের রীতি অনুযায়ী ‘Coming of age ceremony’ নামের এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অজকে পরিবারের পরবর্তী শাসক হিসেবে স্বীকৃত করা হয়। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের দিনই নতুন এক ট্রাজেডির সৃষ্টি হয়। কিছু গুপ্তঘাতক এসে সবাইকে হত্যা করা শুরু করে আর অজকে মৃত্যুর দুয়ারে দাড়া করিয়ে তারা বলে ‘Your sin is your existence.’। অজ কি পারবে এই মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে? সে কি জানতে পারবে তার সিন কি? জানতে হলে মাঙ্গাটা পড়ুন।

অনেক মাঙ্গারই শুরুর কাহিনী দেখে আসলে কাহিনীর গভীরতাটুকু কেমন তা বুঝা যায় না। একইভাবে প্যান্ডরার কাহিনীর গভীরতাও ঠিক প্রথম প্রথম বুঝা যাবে না। মাঙ্গার প্রথম দিকটা কিছুটা লাইট-হার্টেড, তবে কাহিনী আগানোর সাথে সাথে আরও ডার্ক হতে শুরু করে। এই মাঙ্গায় বেশ ভাল পরিমাণে মিষ্টেরি রয়েছে। তবে প্রথমে এত মিষ্টেরি দেখে কিছুটা বোরিং লাগতে পারে। কিন্তুু যখন এক একটা টুইস্ট এসে সামনে হাজির হবে ঠিক তখনই প্যান্ডরার কাহিনী অসাধরণ লাগবে। মূলত প্যান্ডরার টুইস্টগুলোই প্যান্ডরার সবচেয়ে উপভজ্ঞ বিষয়।

প্যান্ডরা হার্টসের যে জিনিসটি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে তা হল এর গল্প উপস্থাপন করার কৌশল। প্যান্ডরার মাঙ্গা পড়ার সময় মাথায় নানা ধরণের প্রশ্ন এসে হাজির হতে পারে। কিন্তুু মজার ব্যাপার হল প্যান্ডরার মাঙ্গা পড়তে পড়তেই নিজের অজান্তেই সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে জাবেন; যা অনেকটা পাজেলের মতো। এর আরেকটা প্লাস পয়েন্ট হল এতে কোন ধরণের প্লট হোলের উপস্থিতি নেই। আবার এর মতো এত বিশাল কাস্টের ক্যারেক্টার খুব কম মাঙ্গাতেই আছে। কিন্তুু প্রতিটি ক্যারেক্টারই ইউনিক আর ইন্টারেস্টিং। তবে আমার সবচেয়ে ফেভরাইট ক্যারেক্টার হল Xerxes Break।

প্যান্ডরা হার্টসের মাঙ্গায় এলিস ইন ওন্ডারল্যান্ডের অনেক রেফারেন্স আছে। মনে হয় মাঙ্গাকা জুন ফেইরিটেলের খুব ভক্ত ছিল। এজন্যই তার মাঙ্গায় এলিস ইন অন্ডারল্যান্ডের অনেক এলিমেন্ট ব্যাবহার করেছে। আর প্যান্ডরার ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর, আর্টও যথেষ্ট ভালো।

যারা প্যান্ডরা হার্টসের এনিমে দেখেছেন তারা চ্যাপ্টার ৩৩ থেকে পড়া শুরু করতে পারেন। আরেকটা কথা, এনিমের লাস্ট কয়েক এপিসোডের সাথে মাঙ্গার কোনই মিল নেই। আর কেউ যদি ক্লাম্পের Tsubasa: RESERVoir CHRoNiCLE মাঙ্গার ভক্ত হয়ে থাকেন এবং এ ধরণের মাঙ্গা খুঁজছেন তারা Pandora Hearts এর মাঙ্গা পড়ে দেখতে পারেন। কারণ এই দুই মাঙ্গার মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে।

আশা করি রিভিউটি পড়ে ভাল লেগেছে এবং আপনারা হাতে সময় নিয়ে Pandora Hearts এর মাঙ্গাটি পড়ে দেখবেন। পরিশেষে আমি এইটুকু বলতে পারি, আপনি যদি পুরো মাঙ্গাটা পড়ে শেষ করেন তাহলে Pandora Hearts নিশ্চয়ই আপনার অন্যতম পছন্দের মাঙ্গার তালিকায় স্থান পাবে।

আমার রেটিং – ১০/১০

অনন্য মাঙ্গা আসর — ৩ (Our Happy Hours)

জীবনে মানুষ যখন চলে যায় মধ্যবয়সে তখন চাওয়া পাওয়ার হিসেব করতে শুরু করে সবাই। কিন্তু যাদের জীবনটা এতটা স্বাভাবিক নয়,তাদের গল্পটা কেমন? তা আড়ালে থেকে যায় । অনিয়মিত “অনন্য মাঙ্গা আসরে” আরেকবার স্বাগতম । জানি অনেকেই ভুলেও গেছেন সেগমেন্টটার কথা । আজকেও আয়তনে অতি ছোট এক মাঙ্গা নিয়ে কথা বল্ব।বিখ্যাত কোরিয়ান লেখিকা Gong Ji-Young এর লেখা উপন্যাস “Our Happy Hours” এর জাপানি অনুবাদ করেন হাইসুকে কারোউ । আর সেই অনূদিত উপন্যাসের সারমর্ম রূপে মাঙ্গা অঙ্কনের কাজ করেন সাহারা মিজু । MAL এ গিয়ে মাঙ্গা টপ  সাজেশনের মধ্যে “Watashitachi no Shiawase na Jikan” নামে একটা মাঙ্গা খুঁজে পাবেন । বলছি সেই মাঙ্গার কথাই।

দৃশ্যপট

একবার নয়,দুবার নয়,তিন তিন বার সুইসাইড করার চেষ্টা করেও মরতে পারেননি জুরি মুতোউ । জীবনের প্রতি ঘেন্না চলে এসেছিল । কিন্ত কেন?……………………………

একজন বা দুজন নয়,তিন তিন জন জলজ্যান্ত মানুষকে খুন করেছে ইউ। আর এজন্য সে আফসোসও করে না বিন্দুমাত্র । কিন্ত কেন?…………………………………

কি হয়েছিল তাদের জীবনে ,তা নিয়েই শুরু হয় গল্পের । সিস্টার মনিকার সাহচর্যে কারগারে ইউউ এর কাউন্সেলিং এর দায়িত্ব পায় জুরি । কিন্ত যে নিজেই জীবনকে গলা টিপে নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিল সে একজন খুনিকে কিভাবে জীবন চেনাবে ??

মনে জমে থাকা কষ্ট আছে দুজনেরই , যেন একে অন্যের প্রতিবিম্ব …………

এই সুবাদে ইউউ আর জুরি এর প্রতি  বৃহস্পতিবার দেখা হত। ছিন্ন ভিন্ন কিছু কথা আর অনুভূতি ভাগাভাগি আর কি………………

safe_image

জনরা

রোমান্স, মিউজিক, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা, সেইনেন ।

কেন পড়বেন

খুদে হলেও মাঙ্গাটি ব্যাপক প্রশংসার দাবিদার । জীবন নিয়ে ধারণাই পাল্টে দেওয়ার মত মোটিভেটিভ এটি । তবে আবেগের জায়গা আছে ব্যাপক । আপনি যদি এটাকে শোউজো স্টাইলের রোমান্স মনে করে থাকেন তবে বড় ভুল করবেন। রোমান্টিক হলেও মনে রেখাপাত করার মত ।কারণ অনেকেই একটানা মাঙ্গা পড়তে পছন্দ করেন না । কিন্তু আয়তন ছোট হওয়ায় পড়তে কোন বাঁধা নেই। তবে এন্ডিং কেমন সেটা না হয় পাঠকদের জন্যই থাকুক………

আর্টওয়ার্ক

আঁকা ব্যতিক্রমী না হলেও খারাপ নয়। মানে আঁকা খুব বেশি দৃষ্টিনন্দন না হলেও একেবারে খ্রাপ নয়।

অনুভূতি

Exaggerating নয় সত্যিই অনেক ভালো লাগার মত একটা মাঙ্গা । শর্ট মাঙ্গার থেকে এর বেশি আশা করাটাই যেন অন্যায়। আর মাঙ্গাটিতে এমন কিছু Quote আছে যা দেখেই বোঝা যায় এ কোন জ্ঞানী লেখকের কাজ। আর সবাইকেই বলব পড়ে ফেলতে কারণ মাত্র ৮ চাপ্টারের মাঙ্গাটি পড়তে কতক্ষণই বা লাগবে…… অল্প সময় খরচ করে পড়ে ফেলুন ,সময়ের দাম উসুল হয়ে যাবে। মাঙ্গা পড়বেন,অন্যকেও পরতে বলবেন এই প্রত্যাশা রইল ।

মাঙ্গাটি পড়েছিলাম অনেক আগে , তবে উপন্যাসটা পরখ করে না দেখে লিখতে চাইছিলাম না তাই যা দেরি । আর সাহারা মিজু-সানের উপন্যাসটি পড়ার পর অনুভূতি দিয়েই আজকের লেখা শেষ করছি ………

“I remember the time when I first read the original novel.  It was the beginning of summer in 2007. I feel as though it taught me that,because of mankind we are burdened by terrible hurt,but the way we’re able to find relief from this hurt is also through mankind……….”

                                                                        —-Sahara Mizu                                                                                                                              November,2008