Dimension W [রিভিউ] — মোহাম্মদ ইফতেখার

Dimension W 1

এনিমে – মাত্রা ডব্লিউ (Dimension W)
জনরা – একশন, সাই-ফাই, সেইনেন
পর্ব – ১২

বিজ্ঞান কথাসাহিত্য বিশ্বের সম্ভাবনার সব রাজ্যকে ভাঙ্গার এবং আপনার মনের ইচ্ছাগুলোকে পূর্ণতা দান করতে সক্ষম হয় । বিভিন্ন মাত্রা দ্বারা বিভিন্ন সম্ভাবনা প্রকাশ পায়,কিন্তু আপনাকে যদি বলা হয় এমন এক মাত্রা সম্পর্কে যেখানে বিশ্বের সকল সম্ভাবনা বিদ্যমান,তখন কি করবেন?

STORY
অদূর ভবিষ্যতে, মানুষ মাত্রা এক্স ,ওয়াই,জেড এর পরে ডব্লিউ নামক আরেকটি মাত্রা আবিস্কার করে,যেখানে অসীম শক্তি রয়েছে। মাত্রাটির আবিষ্কারক কোম্পানি, নিউ টেসলা এনার্জি “কয়েল” নামক এক ধরনের ডিভাইস নির্মাণ করে যা নতুন মাত্রার শক্তি ব্যবহার করতে পারে । মাবুচি কিয়োমা হল একজন প্রাক্তন সৈনিক,যে কিনা সব ধরনের কয়েল ভিত্তিক প্রযুক্তি হতে সাবধানে থাকে। বর্তমানে সে একজন সংগ্রাহক,নিউ টেসলা এনার্জির দ্বারা যারা বাধাপ্রাপ্ত হতে চায় না তাদের কাছ হতে অবৈধ কয়েল সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ যার কাজ। তার সংগ্রহ মিশনের এক সময়ে মিরা ইউরিজাকি নামক এক অ্যান্ড্রয়েড এর সাথে দেখা হয়,যে নিজেও কিয়োমার পাশাপাশি সংগ্রাহক এর দায়িত্ব নেয়। তবে কিয়োমার অতীত তাকে তাড়া করা শুরু করে যখন সে নাম্বার তদন্তের মিশনে যায় । নাম্বার হল প্রথম দিকের বিশেষ একধরনের কয়েল যার মানুষের স্মৃতি নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা আছে। এই নাম্বারই কিয়োমা ও মিরাকে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষার সম্মুখীন করে যেখানে মাত্রা ডব্লিউ এর সকল রহস্যের উন্মোচন ঘটে ।

CHARACTER
গল্পের দুই মেইন চরিত্র হল মাবুচি কিয়োমা এবং মিরা ইউরিজাকি। কিয়োমা স্বাধীনচেতার অধিকারী যার মধ্যে শীতল মনোভাব রয়েছে ।সে স্বল্পভাষী,সৎ,সাহসী ও কর্তব্যপরায়ণ কিন্তু যার পিছনে রয়েছে মর্মান্তিক ইতিহাস। মিরা গল্পটির প্রধান মেয়ে চরিত্র যে একটি রোবট, যার মধ্যে একটি পূর্ণ মানুষের ব্যক্তিত্ব আছে। সে মজার, বুদ্ধিমান এবং সর্বোপরি একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ চরিত্র রয়েছে।
এছাড়া গল্পের অন্যান্য চরিত্রগুলো হল- ম্যারি ,কোরগি,অ্যালবারট শুমান,মিয়াবি,লুজার ,সাল্ভে এনে তিবেস্তি ,লুওয়াই আউরা তিবেস্তি, লাসিথি, হারুকা শিমায়ার,শিদউ ইউরিজাকি,সেইরা ইউরিজাকি। এরা পার্শ্বচরিত্র হিসেবে থাকলেও এদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা কম ছিল না। যদিও ১২ পর্বের সিরিজটিতে চরিত্রগুলোর উন্নয়ন খুব একটা চোখে পড়ার মতো ছিল না ।

Dimension W 2

ART & ANIMATION
মাত্রা ডব্লিউ এর আর্টওয়ার্ক অবশ্যই বৈচিত্র্যময়।অন্ধকার এবং বালুকাময় শহরের রাস্তা থেকে শুরু করে ,আনন্দময় রৌদ্রজ্জ্বল দিন , উচ্চ প্রযুক্তির বিকল্প মাত্রা , এই আনিমেটি খুব অল্প সময়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায় । প্রতিটি দৃশ্য এতোটাই চমৎকার ভাবে আঁকা হয়েছে যা আপনাকে মাত্রা ডব্লিউ এর দুনিয়ায় আকৃষ্ট করতে বাধ্য করবে ।

SOUND & MUSIC
এই আনিমেতে আহামরি সাউন্ডট্র্যাক না থাকলে যা ছিল মোটামোটি ভালই ছিল। সঙ্গীত গুলো অনেকটা ফ্ল্যাট বলার মতো । স্টেরিও ডাইভ ফাউন্ডেশন এর “জেনেসিস” ওপেনিং টা মানুষের মন কাড়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। তাছাড়া ফক্স’টেইলস এর “কন্ট্রাস্ট” ছিল এন্ডিং সং হিসেবে। আনিমেটিতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো চমৎকার ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

OVERALL THOUGHTS
মাত্রা ডব্লিউ এমন একটি সিরিজ যা আপনার মনে জটলা পাকাবে কিন্তু একই সাথে আপনাকে আকৃষ্ট করে রাখবে। সিরিজটিতে এর ইতিবাচক দিক গুলোর জন্য এর ত্রুটি খমার উপযোগী ।ইউজি ইওয়াহারা এর সৃষ্টি সিরিজটির সাথে ডার্কার দ্যান ব্ল্যাক সিরিজটির কিছু মিল রয়েছে যেমন উভয় সিরিজ এই ঠিকাদার ব্যবহার করা হয় এবং একই সাথে কোন বিস্ময়কর ঘটনার কারনে স্মৃতিবিলোপ হওয়া।বলা বাহুল্য ২৫ পর্বের সিরিজটিকে ১২ পর্বে এনে অনেক কিছুই খাপছাড়া অবস্থায় সিরিজটির সমাপ্তি ঘটানো হয়।তবুও বলা যায় একশন,সাই-ফাই,সেইনেন ফ্যানদের জন্য সিরিজটি পারফেক্ট।আশা করি সবাই সময় নিয়ে দেখবেন। 🙂

PERSONAL RATING- 08.00

Dimension W 3

Comments